নারীদের ইকামত
🔴🔴🔴🔴নারীদের ইকামত🔴🔴🔴🔴
(অনেক বোনরাই মহিলাদোর ইকামত দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করে থাকেন। তাদের উদ্দেশ্যেই এই পোস্ট দেওয়া)
👉আমরা নারীরা অনেকেই ইকামত দেয়া জানিনা। ইকামত যে দিতে হয় সেটাও জানিনা। এদিকে মহিলারা ও যে বাড়িতে ২/৩ জন থাকলে জামাত করে নামায পড়তে পারে সে কথা আমাদের কে কেউ বলেই নি।
অনেকে নতুন করে এসব কথা শুনে হয়রান হয়ে যাচ্ছেন। তাই লেখা শেষে দলিল প্রমাণ পেশ করবো।
(ইন শা আল্লাহ্)
ইকামত দেয়া সুন্নত এবং সওয়াবের কাজ। আর প্রতি ফরয নামাযের আগে আমরা এই সুন্নত পালন করে সওয়াব লাভ করতে পারি।
আযানে যা বলা হয় ইকামতেও তাই বলতে হয়। তবে ইকামতে শব্দগুলো একবার করে বলতে হয়।
পুরো ইকামত এমন হবে।
আল্লাহু আকবার
আল্লাহু আকবার
আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুল উল্লাহ
হাইয়া আলাস সলাহ
হাইয়া আলাল ফালাহ
কাদকা মাতিস সলাহ
কাদকা মাতিস সলাহ
আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
অপর হাদিসে পাওয়া যায়, আযানের মত হুবুহু ইকামত ও দেয়া যায়, সেক্ষেত্রেঃ
আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার (২বার)
আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (২বার)
আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুল উল্লাহ (২বার)
হাইয়া আলাস সলাহ (২বার)
হাইয়া আলাল ফালাহ (২বার)
কাদকা মাতিস সলাহ
কাদকা মাতিস সলাহ
আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
দুইটি ই সহিহ হাদিস, যে কোন একভাবে ইকামত দিলেই হবে,
মাঝে মাঝে ১ বার মাঝে মাঝে ২বার দিতে ও পারেন।
তাই মহিলারা আপনারা বাড়িতে একাকী নামায পড়লে ও শুধু ফরয নামাযের অল্প শব্দে ইকামত দিবেন এবং এরপর আল্লাহু আকবার বলে নামায আদায় করবেন, ইনশাআল্লাহ।
দলীলঃ
আয়িশা (রা.) বর্ণিত, আয়েশা রা. এবং উম্মে সালামাহ মেয়েদের নামাজের জামায়াতে ইমামতি করেছেন এবং এমনকি মেয়েদের ফরজ নামাজে তিনি ইমামতি করেছেন।
((( বাইহাকি ৩/১৩১, দারে কুতনী ১/৪০৪, আব্দুর রাজ্জাক ৫০৮৬))))
উম্মে ওয়ারাক্বাহ বিনতে আব্দুল্লাহ ইবনিলহারিছ আল-আনসারী, যিনি ক্বুরআন মাজীদ জমা করেছিলেন/কুরআন মাজীদ পড়েছিলেন,নবী করীম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘরবাসীদের নামাজের ইমামতি করার জন্য উম্মে ওয়ারাক্বাহকে নির্দেশ দিয়েছিলেন এবংতিনি ঘরবাসীদের নামাজের ইমামতি করতেন৷
( দেখুন : ১.মুসনাদুল ক্বাবাইল, বাবু মা জা-আফী ইমামাতিল মারআহ, ২.সুনান আবূ-দাঊদ,কিতাবুস সালাহঃবাবুন ফী জিকরিলজামাআতি ওয়া আহলিহা ওয়া সিফাতিলইমাম৷ ৩.মুসনাদ ইমাম আহমদ)
ইবনে আবু লায়লা হতে আতা (রা.) বর্ণনা করেন, আয়েশা রা. আযান ও ইকামাত দিতেন এবং মেয়েদের নামাজের জামায়াতে ইমামতি করতেন এবং তিনি তাদের মধ্যে একই সারিতে দাড়াতেন।
(অর্থাৎ ছেলেদের ইমাম সামনের কাতারে একা দাঁড়াবেন, আর মহিলাদের ইমাম সকল মহিলার সাথে একই কাতারে পাশাপাশি দাঁড়াবেন)
(((ইবনে আবু শায়বাহ ২/৮৯)))
লাইস ইবনে আবু সুলাইম হতে আতা (রা.) বর্ণনা করেন, আয়েশা (রা.) আযান ও ইকামাত দিতেন এবং মেয়েদের নামাজের জামায়াতে ইমামতি করতেন এবং তিনি তাদের মধ্যে একই সারিতে দাড়াতেন ।
((( মুসতাদরাকে হাকিম))
এখানে আজান জোরে দিবে না। ঘরের মধ্যে যারা আছে তারা শুনতে পাওয়ার মতো আজান দিলেই মুয়াজ্জিনের যে মর্যাদা রয়েছে তা পেয়ে যাবেন। আর এরপর ইকামত দিবেন।
ইমাম নববী (রহ.) বলেন: নামাজে অন্য মহিলাদের ইমামতিকারিনীর জন্য সুন্নাহ হল সারির মাঝখানে দাঁড়ানো। কারণ বর্ণনায় এসেছে যে,আয়িশা (রাদিআল্লাহু আনহা) ও উম্মুসালামাহ (রাদিআল্লাহু আনহা) মহিলাদের নামাজে ইমামতি করেছেন এবং তাঁরা সারির মাঝখানে দাঁড়াতেন
যারা বলছেন হানাফি মাজহাবে একথা নাই। তাঁদের জন্য দলীল।
★হানাফি মাযহাবের মত :যদি কোন মহিলা শুধুমাত্র মহিলাদের জামায়াতে কোনো নামাজের ইমামতি করে তাহলে সে নামাজ সঠিক হবে । হিদায়া খন্ড : ১ পৃষ্ঠা : ৩০৫ । বাদাউস সানাইখন্ড ১ পৃষ্ঠা : ১৫৭ ।
★শাফেয়ী মাযহাবের মত :একজন মহিলাশুধুমাত্র মহিলাদের জামায়াতের ইমাম হতেপারবেন । তাদের এভাবে নামাজ পড়া মুস্তাহাব ।আল মুগনি খন্ড : ১২ পৃষ্ঠা : ১৯৯ । বাদাই খন্ড :১, পৃষ্ঠা : ১৫৭
মহান আল্লাহ্ আমাদের সকলকে সঠিকভাবে
জানার তোউফিক দান করুন, আমীন।
👉লেখাটি শেয়ার করে আন্যকে আমল করার সুযোগ করে দিলে অনেক বোনরা এ বিষয়ে অবগত হয়ে আমল করবে আর আপনিও আজীবন সওয়াব পেতে থাকবেন, তাই দেরী না করে দ্রুত শেয়ার করুন, অন্যদের জানার সুযোগ করে দিন।

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url