যুগ শ্রেষ্ঠ ভালোবাসার গল্প
যুগ শ্রেষ্ঠ ভালোবাসার গল্প
===============================
যখন ইমাম আহমেদ ইবনে হাম্বল (রহ) এর স্ত্রী মারা গেলন । তখন তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলতে লাগলেন, "আমি এ মহিলার সাথে ত্রিশ বছর যাবত সংসার করেছি । একটি বারের জন্য সে কখনো আমার সাথে তর্ক বা ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়নি ।” লোকজন জিজ্ঞেস করলেন, কিভাবে সম্ভব ? তিনি বললেন, ''যখনই আমি রাগান্বিত হতাম তখনই তিনি চুপ হয়ে যেতেন আবার যখন তিনি রাগান্বিত হতেন তখন আমিও চুপ করে যেতাম । তাই আমাদের মধ্যে কখনো তর্ক বা ঝগড়া হয়নি ।"
একে অপরের প্রতি ভালোবাসার বৃদ্ধির জন্য স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হতে হবে বন্ধুসুলভ । একটি সুখী স্বাচ্চন্দ্যের পরিবার গঠন করতে হলে স্বামী-স্ত্রীর প্রত্যেকেই তাদের দায়িত্ব কর্তব্য এবং অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে । বৈবাহিক জীবনের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানসিক শান্তি । যে পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মানসিক শান্তি বিরাজমান নেই সেই পরিবারকে কোনভাবেই সফল পরিবার বলা যাবে না । আল্লাহ তায়ালা সূরা রুমে ২১ আয়াতে বলেন, “আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জীবনসঙ্গিনী যাতে তোমরা তাদের নিকট শান্তি পাও এবং তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন । চিন্তাশীল সম্পদ্রায়ের জন্য ইহাতে অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে ।"
স্বামী স্ত্রীর মধ্যে থাকবে অফুরন্ত ভালবাসা । পৃথিবীতে স্বামী-স্ত্রীর ও সন্তান-সন্ততির মধ্যকার ভালবাসা আল্লাহার তায়ালার একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন । এই পৃথিবীতে পুরুষ যেমন নারীর উপর নির্ভরশীল ঠিক তেমনি নারীও পুরুষের উপর নির্ভরশীল । ইসলামে পরিবারের স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কের রুপরেখা টেনে আল্লামা শিবলী নোমানী (র) বলছেন, “পারিবারিক জীবনে নারী এবং পুরুষ অর্থাৎ স্বামী স্ত্রীর ভূমিকা সমতাভিত্তিক সমতলে অবস্থিত এবং উভয়েই সমান অধিকার ভোগ করবে । সংসারের সুখ ও সমৃদ্ধি উভয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল । স্বামীকে বাদ দিলে যেমন সংসার গঠিত হয় না, তেমনি স্ত্রীকে বাদ দিলেও সংসার অচল হয়ে পড়ে ।
যে সংসারে স্বামী স্ত্রীকে পরিপূর্ণ সাহায্য ও সহযোগীতা দান করবে এবং পারস্পরিক সৌহার্দপুর্ন সম্পর্ক বজায় রাখবে, তা হবে অবশ্যই জান্নাতের নন্দন কানন তুল্য । আল্লাহ তায়ালা বলেন, “নারীদের তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার আছে, যেমন আছে তাহাদের উপর পুরুষদের । ইসলাম সর্বোতভাবে স্ত্রীর প্রতি সদ্বব্যবহার করার প্রতি উৎসাহ এবং নির্দেশ প্রদান করেন । কোন ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীর সাথে উত্তম আচরণ করে না তাহলে সে ব্যক্তি ইসলামের দৃষ্টিতে উত্তম ব্যক্তিতে পরিনত হওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয় । রাসূল (সা) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যাক্তি সে, যে তার আপন স্ত্রীর কাছে সর্বোত্তম এবং আমি তোমাদের মধ্যে আমার ঘরওয়ালাদের জন্য বেশী উত্তম ।


আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url