হিজামা (حِجَامَة ) একটি নববী চিকিৎসা ব্যবস্থা।
#####হিজামা (حِجَامَة ) একটি নববী চিকিৎসা ব্যবস্থা। এটি আরবী শব্দ ‘আল-হাজম’ থেকে এসেছে। যার অর্থ চোষা বা টেনে নেওয়া। আধুনিক পরিভাষায় Cupping (কাপিং)।
হিজামার মাধ্যমে দূষিত রক্ত (Toxin) বের করা হয়। এতে শরীরের মাংসপেশী সমূহের রক্ত প্রবাহ দ্রুততর হয়। পেশী,চামড়া, ত্বক ও শরীরের ভিতরের অরগান সমূহের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। ফলে শরীর সতেজ ও শক্তিশালী হয়।
হিজামা বা Wet Cupping অতি প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি হিসাবে আরব বিশ্বেজনপ্রিয়। নির্দিষ্ট স্থান থেকে সূঁচেরমাধ্যমে নেগেটিভ প্রেশার দিয়ে (টেনে/চুষে) নিস্তেজ প্রবাহহীন দূষিত রক্ত বের করেআনা হয়। এ হিজামা থেরাপী ৩০০০ বৎসরেরও পুরাতন চিকিৎসা পদ্ধতি।
########মধ্যপ্রাচ্য থেকে উৎপত্তি হ’লেও চিকিৎসা পদ্ধতি হিসাবে চীন, ভারত ও আমেরিকায় বহু পূর্বে থেকেই এটি প্রচলিত ছিল। ১৮ শতক থেকে ইউরোপেও এর প্রচলন রয়েছে।
হিজামা তিবেব নববী : হিজামা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এরঅন্যতম চিকিৎসা পদ্ধতি। রাসূলুল্লাহ(ছাঃ) হিজামার উপকারিতা সম্পর্কে অবহিত করেছেন,নিজে ব্যবহারকরেছেন এবং হিজামা ব্যবহারে উৎসাহিত করেছেন। হিজামার ব্যবহার রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম(রাঃ)-এর মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হিজামা করেছেন তাঁর মাথা ব্যথার জন্য [1], পায়ে [2], পিঠে, পিঠের ব্যথার জন্য দুই কাঁধের মধ্যে [3], ঘাড়ের দু’টি রগে [4] ও হাড় মচকে গেলে। [5] আমর বিন আমির (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, নবী করীম (ছাঃ) হিজামা লাগাতেন এবং কোন লোকের পারিশ্রমিক কমদিতেন না।[6]
######হিজামার ফযীলত : হিজামার ফযীলত সম্বলিত বহু হাদীছরয়েছে। নিম্নে এ সম্পর্কে কিছু হাদীছউল্লেখ করা হ’ল।-
عَنْ حُمَيْدٍ قَالَ سُئِلَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ عَنْ كَسْبِ الْحَجَّامِ فَقَالَ احْتَجَمَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَجَمَهُ أَبُو طَيْبَةَ فَأَمَرَ لَهُ بِصَاعَيْنِ مِنْ طَعَامٍ وَكَلَّمَ أَهْلَهُ فَوَضَعُوا عَنْهُ مِنْ خَرَاجِهِ وَقَالَ إِنَّ أَفْضَلَ مَا تَدَاوَيْتُمْ بِهِ الْحِجَامَةُ أَوْ هُوَ مِنْ أَمْثَلِ دَوَائِكُم-
হুমাইদ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, আনাস বিন মালিক (রাঃ)-এর নিকটহিজামার উপার্জন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হ’লে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ(ছাঃ) হিজামা লাগিয়েছেন। আবু তায়বাতাকে হিজামা করেছেন। তিনি তাকেদুই ছা‘ (প্রায় ৫ কেজি) খাদ্যদ্রব্য দেওয়ার নির্দেশ দেনএবং তার মালিকদের সাথে আলোচনা করেন। এতে তারা তার উপর ধার্যকৃত কর কমিয়ে দেয়। তিনি আরও বলেন, তোমরা যেসবপদ্ধতিতে চিকিৎসা করাও হিজামা সেগুলোর মধ্যে উত্তম ব্যবস্থা অথবা (বলেছেন) এটিতোমাদের ঔষধের মধ্যে অধিক ফলদায়ক’।[7]
عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ حَدَّثَهُ أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ رضى الله عنهما عَادَ الْمُقَنَّعَ ثُمَّ قَالَ لاَ أَبْرَحُ حَتَّى تَحْتَجِمَ فَإِنِّىْ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ إِنَّ فِيْهِ شِفَاءًٌ-
আছেম বিন ওমর বিন ক্বাতাদা থেকে বর্ণিত আছে যে, জাবির বিনআবদুল্লাহ (রাঃ) অসুস্থ মুকান্নাকে দেখতে যান। এরপর তিনি বলেন,আমি সরব না, যতক্ষণ না তুমি শিঙ্গা লাগাবে। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই এর (হিজামার) মধ্যে নিরাময় রয়েছে’।[8]
ইবনু আববাস (রাঃ)-এর সূত্রে নবী করীম (ছাঃ) হ’তে বর্ণিত,তিনি বলেন, ‘রোগমুক্তি তিনটি জিনিসের মধ্যে নিহিত। শিঙ্গা লাগানো,মধু পানকরা এবং আগুন দিয়ে গরম দাগ দেয়ার মধ্যে। তবে আমি আমার উম্মাতকে আগুন দিয়ে গরম দাগ দিতে নিষেধ করি’।[9]
عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ قَالَ جَاءَنَا جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللهِ فِي أَهْلِنَا وَرَجُلٌ يَشْتَكِي خُرَاجًا بِهِ أَوْ جِرَاحًا فَقَالَ مَا تَشْتَكِي قَالَ خُرَاجٌ بِي قَدْ شَقَّ عَلَيَّ فَقَالَ يَا غُلَامُ ائْتِنِي بِحَجَّامٍ فَقَالَ لَهُ مَا تَصْنَعُ بِالْحَجَّامِ يَا أَبَا عَبْدِ اللهِ قَالَ أُرِيدُ أَنْ أُعَلِّقَ فِيهِ مِحْجَمًا قَالَ وَاللهِ إِنَّ الذُّبَابَ لَيُصِيبُنِي أَوْ يُصِيبُنِي الثَّوْبُ فَيُؤْذِينِي وَيَشُقُّ عَلَيَّ فَلَمَّا رَأَى تَبَرُّمَهُ مِنْ ذَلِكَ قَالَ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنْ كَانَ فِي شَيْءٍ مِنْ أَدْوِيَتِكُمْ خَيْرٌ فَفِي شَرْطَةِ مِحْجَمٍ أَوْ شَرْبَةٍ مِنْ عَسَلٍ أَوْ لَذْعَةٍ بِنَارٍ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا أُحِبُّ أَنْ أَكْتَوِيَ قَالَ فَجَاءَ بِحَجَّامٍ فَشَرَطَهُ فَذَهَبَ عَنْهُ مَا يَجِدُ-
আছেম বিন ওমর বিন ক্বাতাদা হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) আমাদের বাড়ীতে আসেন। বাড়ির একজন লোক তার ক্ষত রোগের কথা বলল। জাবির (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি সমস্যা?সে বলল, ক্ষত হয়েছে যা আমার কাছে অসহনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাবির (রাঃ) বলেন, বৎস! আমার কাছে একজন হিজামাকারী ডেকে নিয়ে এসো। সে বলল,হে আবুআবদুল্লাহ! হিজামাকারীকে দিয়ে কি করবেন?তিনি বললেন, ক্ষতস্থানে শিঙ্গা লাগাতে চাই। সে বলল, আল্লাহর শপথ! মাছি আমাকে উত্যক্তকরবে কিংবা (ক্ষতস্থানে) কাপড় লেগে গেলে আমার কষ্ট হবে। হিজামা করাতে তার অসম্মতি দেখে জাবির (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ‘যদি তোমাদের কোন ঔষধে কল্যাণ থেকে থাকে তাহ’লে তা আছে (১) হিজামা করানো (২)মধু পান করা এবং (৩) আগুনের টুকরা দিয়ে দাগ দেয়া’। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আরও বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে আগুন দিয়ে দাগলাগানো পসন্দ করি না। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি হিজামাকারীকে আনালেন। অতঃপর সে তাকে হিজামা করল। এতেই সে আরোগ্য লাভ করল’।[10]
হিজামার গুরুত্ব : জাবির (রাঃ) হ’তে বর্ণিত যে, নবী করীম (ছাঃ)-এর (পায়ে) যে ব্যথা ছিল, তার জন্য তিনি ইহরাম অবস্থায় হিজামা লাগিয়েছিলেন।[11]
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِيْنَ عُرِجَ بِهِ مَا مَرَّ عَلَى مَلَإٍ مِنْ الْمَلاَئِكَةِ إِلاَّ قَالُوْا عَلَيْكَ بِالْحِجَامَةِ-
ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মি‘রাজে যাওয়ার সময় তিনি ফিরিশতাদেরযে দলের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেন তারা বলেন,‘আপনিঅবশ্যই হিজামা করাবেন’।[12]
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ حَدَّثَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ لَيْلَةَ أُسْرِىَ بِهِ أَنَّهُ لَمْ يَمُرَّ عَلَى مَلإٍ مِنَ الْمَلاَئِكَةِ إِلاَّ أَمَرُوْهُ أَنْ مُرْ أُمَّتَكَ بِالْحِجَامَةِ-
ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, মি‘রাজের রাত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন যে, এই রাতে ফিরিশতাদের যে দলের সম্মুখ দিয়েই তিনি যাচ্ছিলেনতারা বলেছেন, ‘আপনার উম্মতকে হিজামার নির্দেশ দিন’।[13]
######হিজামা ফেরেশতাদের দ্বারা সুফারিশকৃত : হিজামা একটি প্রাচীন চিকিৎসাপদ্ধতি, যা আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও তাঁর উম্মতের জন্য এটিফেরেশতাদের দ্বারা সুপারিশকৃত একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। এজন্য কেউ বলতে পারে না যে, এই প্রাচীনচিকিৎসা পদ্ধতি বর্তমান আধুনিক যুগে অচল। বরং এটি সাফল্যপূর্ণ প্রতিষেধক সমস্ত বিশ্ববাসীর জন্য। কারণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে সমগ্র বিশ্ববাসীরজন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করা হয়েছে।[14]
হিজামার পদ্ধতি : হিজামার পূর্বে গোসল করে নেওয়াউত্তম। যদি গোসল না করেন, তবে হিজামার পূর্বে ঘণ্টা খানেক বিশ্রাম নেওয়া ভালো।
খালি পেটে হিজামা করা বা শিঙ্গা লাগানো ভাল : ইবনে ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘বাসি মুখেশিঙ্গা লাগালে তাতে নিরাময় ও বরকত লাভ হয় এবং জ্ঞান ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়’।[15]
#######হিজামার উত্তম সময় : সাধারণত হিজামার জন্য উত্তম সময়হচ্ছে চান্দ্র মাসের ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখ। আনাস বিন মালেক (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ঘাড়ের দুইপাশের শিরায় এবং ঘাড়ের কাছাকাছি পিঠের ফুলা অংশে হিজামা করাতেন। তিনি মাসের সতের, ঊনিশ ওএকুশ তারিখে হিজামা করাতেন।[16]
যদি অসুস্থতা বা ব্যথা অনুভূত হয় তবে উক্ত তারিখের অপেক্ষানা করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হিজামা করানো যাবে।
হিজামার জন্য উত্তম দিন হচ্ছে সোম,মঙ্গল ওবৃহস্পতিবার।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ ... فَإِنِّيْ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ فَاحْتَجِمُوْا عَلَى بَرَكَةِ اللهِ يَوْمَ الْخَمِيسِ وَاجْتَنِبُوا الْحِجَامَةَ يَوْمَ الْأَرْبِعَاءِ وَالْجُمُعَةِ وَالسَّبْتِ وَيَوْمَ الْأَحَدِ تَحَرِّيًا وَاحْتَجِمُوْا يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَالثُّلاَثَاءِ-
ইবনু ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ‘আল্লাহর বরকত লাভের আশায় তোমরা বৃহস্পতিবার হিজামা করাও এবংবুধ, শুক্র,শনি ওরবিবার বেছে নেওয়া থেকে বিরত থাক। আর সোম ও মঙ্গলবারে হিজামা করাও’।[17]
উল্লেখ্য যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হিজামা করেছেন মাসের বিভিন্নসময়ে। যেমন হজ্জের সময়, চান্দ্র মাসের প্রথমে। কারণ তিনি খারাপ মাথা ব্যথায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। এতে বুঝা যায়, প্রয়োজনেযে কোন সময় হিজামা করা যায়।
########হিজামা থেকে বিরত থাকা : অসুস্থ, হায়েয, অন্তঃসত্তা, নেফাস এবং দুর্বল শরীরের অধিকারীদেরকে শিঙ্গা লাগানো থেকেবিরত থাকা উচিত।
ছিয়াম বা ইহরাম বাধা অবস্থায় হিজামা লাগানো : আব্দুল্লাহ বিন আববাস (রাঃ)বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ইহরাম অবস্থায় আধ কপালিরকারণে তাঁর মাথায় শিক্ষা লাগান।[18]
ইবনু আববাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন,রাসূলুল্লাহ(ছাঃ) ছায়েম অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছিলেন।[19]
######হিজামা থেরাপী : রোগীকে আরামদায়ক অবস্থায় শুইয়েঅথবা বসিয়ে রাখতে হবে। যে স্থানেহিজামা করতে চান তা জীবাণুমুক্ত করতে হবে। জীবাণুমুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে। হাতে গ্লাবস পরে নেয়া উত্তম। অতঃপর হিজামার স্থানে ধারালো সুঁচ বা ব্লেডদ্বারা হালকাভাবে ছিদ্র করে নিতে হবে। অতঃপর কাপ সেট করে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এভাবে দূষিত রক্ত বের হয়ে কাপে জমতে থাকবে।
হিজামার পর সাধারণত ঐ স্থানে গোল চিহ্ন বা ফোলা অনুভব করবেন। যা সর্বোচ্চ এক, দুই বা তিনদিন থাকতে পারে। এটা দূষিত রক্ত বের হওয়ার চিহ্ন।
########হিজামার মাধ্যমে যেসব রোগ প্রতিরোধ হয় : ব্যাক পেইন, উচ্চ রক্তচাপ,পায়ে ব্যথা, হাঁটুর ব্যথা,মাথাব্যথা(মাইগ্রেইন), ঘাড়ে ব্যথা,কোমরেব্যথা, জয়েন্টে পেইন, আর্থ্যাইটিজ, যাদু, বাত, ঘুমের ব্যাঘাত,থাইরয়েডব্যঘাত, জ্ঞান এবং স্মৃতিশক্তিহীনতা, ত্বকের বর্জ্য পরিষ্কার,অতিরিক্তস্রাব নিঃসরণ বন্ধ করা, অর্শ, অন্ডকোষ ফোলা,পাঁচড়া, ফোঁড়া ইত্যাদি প্রতিরোধ হয়।
মাথাব্যথায় হিজামা : সালমা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, ‘যখন কেউ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাছে এসে মাথাব্যথার কথা বলত, তখন তিনি তাদের হিজামা করার কথা বলতেন’।[20]
জ্ঞান এবং স্মৃতিবর্ধক : ইবনে ওমর (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘খালি পেটেহিজামা লাগানো উত্তম। এতে শিফা ওবরকত রয়েছে। এতে জ্ঞান এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিপায়’।[21]
#######বিষ বা ব্যথা : আব্দুল্লাহ বিন আববাস (রাঃ)বর্ণনা করেছেন যে, এক ইহুদী মহিলা রাসূলুল্লাহ(ছাঃ)-কে বিষযুক্ত গোশত খেতে দিয়েছিল। তিনি তাকে সংবাদ পাঠিয়ে বললেন, কেন তুমি এ কাজ করলে?মহিলাটিউত্তরে বলল, যদি তুমি সত্যিই আল্লাহর রাসূল হও, তবে আল্লাহ তোমাকে জানিয়ে দিবেন। আর তুমি যদি তাঁর রাসূল না হও, তবে আমি মানুষকে তোমার থেকে নিরাপদ রাখব! যখন আল্লাহর রাসূল(ছাঃ) এর যন্ত্রণা অনুভব করতে লাগলেন,তিনিহিজামা ব্যবহার করলেন। একদা ইহরামঅবস্থায় তিনি ভ্রমণে বের হ’লেন এবং ঐ বিষের যন্ত্রণা বোধ করলেন, তখন তিনি হিজামা ব্যবহার করলেন’।[22]
#######যাদু : ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ(ছাঃ) যখন যাদু দ্বারা পীড়িত হন তখন তিনি মাথায় শিঙ্গা লাগান এবং এটাই সবচেয়ে উত্তমঔষধ, যদি সঠিকভাবে করা হয়।[23]
হিজামা করার স্থানসমূহ : আনাস বিন মালিক (রাঃ) বর্ণনাকরেছেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তিন স্থানে ঘাড়ের দু’টি রগে এবং কাঁধে হিজামা করিয়েছেন।[24]
আব্দুল্লাহ বিন আববাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন,রাসূলুল্লাহ(ছাঃ) তাঁর মাথায় হিজামা লাগিয়েছিলেন।[25]
আবু কাবশাহ আনমারী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ছাঃ) মাথার মাঝখানে এবং দুই কাঁধের মাঝে হিজামাকরতেন এবং বলতেন, যে ব্যক্তি নিজ শরীরের এ অংশে হিজামা করাবে, সে তার কোন রোগের চিকিৎসা না করালেও কোন ক্ষতি হবে না।[26]
জাবির (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হাড় মচকে গেলেতিনি এর জন্য হিজামা করান।[27]
আনাস বিন মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেছেন,রাসূলুল্লাহ(ছাঃ) ব্যথার কারণে ইহরাম অবস্থায় তাঁর পায়ের উপরিভাগে হিজামা করিয়েছেন।[28]
ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেছেন, ‘দাঁতে, মুখে এবং গলায় ব্যথা হ’লে থুতনির নীচে হিজামা লাগালে উপকার পাওয়া যায়, যদি তা সঠিক সময়ে করা হয়। এটা মাথা ও চোয়াল শোধন করে।
পায়ের সাফিনায় (যা গোড়ালির বড় শিরা) পাংচারিং করার পরিবর্তে পায়ের পাতারসম্মুখে হিজামা লাগানো যেতে পারে। থাই এবং পায়ের পিছনের গোশতের আলসারের চিকিৎসায় এটি উপকারী। তাছাড়া রক্তস্রাবে বাধা ও অন্ড কোষের চামড়ারক্ষতে তা ব্যবহারযোগ্য।
উরুতে ব্যথা, চুলকানী ও খোসপাঁচড়ার চিকিৎসা হিসাবে বুকেরনিচে হিজামা লাগানো উপকারী। এতে পিঠের গেঁটে বাত,অর্শ, গোদ রোগ, খোসপাঁচড়ার প্রতিরোধে সাহায্য করে।[29]
মহিলাদের জন্য হিজামা : জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ)বর্ণনা করেছেন, উম্মে সালামা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাছেহিজামা করার জন্য অনুমতি চাইলেন। ফলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাকে হিজামা লাগিয়ে দিতে আবু তাইবা(রাঃ)-কে আদেশ দিলেন। জাবির বিনআব্দুল্লাহ (রাঃ) বললেন, আমার মনে হয়, আবু তাইবা তার (উম্মে সালামার) দুধভাই অথবা একজনঅপ্রাপ্তবয়ষ্ক বালক ছিলেন।[30]
#######পরিশেষে বলা যায়,হিজামা নববী চিকিৎসা। এর মাধ্যমে অল্লাহর রহমতে ব্যাক পেইন, উচ্চ রক্তচাপ, পায়ে ব্যথা, হাঁটুর ব্যথা, মাথাব্যথা (মাইগ্রেইন), ঘাড়ে ব্যথা, কোমরে ব্যথা, জয়েন্টে পেইন, আর্থাইটিজ, যাদু, বাত, ঘুমের ব্যাঘাত, থাইরয়েড ব্যাঘাত, জ্ঞান এবং স্মৃতিশক্তিহীনতা, ত্বকের বর্জ্য পরিষ্কার, অতিরিক্ত স্রাব নিঃসরণথামানো, অর্শ, অন্ডকোষ ফোলা, পাঁচড়া, ফোঁড়া ইত্যাদি রোগ ভাল হ’তে পারে।
[1]. বুখারী হা/৫৭০০, ৫৭০১।
[2]. নাসাঈ হা/২৮৫২।
[3]. আবুদাঊদ হা/৩৮৫৯,সনদ ছহীহ।
[4]. আবুদাঊদ হা/৩৮৬০,সনদ ছহীহ।
[5]. আবুদাঊদ হা/৩৮৬৩,সনদ ছহীহ।
[6]. বুখারী হা/২২৮০।
[7]. মুসলিম হা/৩৯৩০।
[8]. বুখারী হা/৫৬৯৭।
[9]. বুখারী হা/৫৬৮১।
[10]. মুসলিম হা/৫৬৩৬।
[11]. নাসাঈ হা/২৮৫২।
[12]. ছহীহ তিরমিযী,হা/৩৪৬২।
[13]. ইবনু মাজাহ হা/৩৪৭৯;তিরমিযীহা/২০৫২; মিশকাত হা/৪৫৪৪, সনদ ছহীহ।
[14]. ছহীহ তিরমিযী হা/২০৫২,২০৫৩; ছহীহ ইবনু মাজাহ হা/৩৪৭৭।
[15]. ইবনে মাজাহ হা/৩৪৮৭,৩৪৮৮, সনদ হাসান।
[16]. তিরমিযী হা/২০৫১,২০৫৩; ছহীহ ইবনু মাজাহ হা/৩৪৮৩; আবুদাঊদহা/৩৮৬১, সনদ ছহীহ।
[17]. ইবনে মাজাহ হা/৩৪৮৭-৩৪৮৮, সনদ হাসান।
[18]. বুখারী হা/৫৭০১।
[19]. বুখারী হা/৫৬৯৪।
[20]. আবুদাঊদ হা/৩৮৫৮,সনদ হাসান।
[21]. ইবনে মাজাহ হা/৩৪৮৭,সনদ হাসান।
[22]. মুসনাদে আহমাদ ১/৩০৫,সনদ হাসান।
[23]. যাদুল মা‘আদ ৪/১২৫-১২৬।
[24]. আবুদাঊদ হা/৩৮৬০;ইবনে মাজাহহা/৩৪৮৩, হাদীছ ছহীহ।
[25]. বুখারী হা/৫৬৯৯।
[26]. আবুদাঊদ হা/৩৮৫৯;ইবনে মাজাহহা/৩৪৮৪, সনদ ছহীহ।
[27]. আবুদাঊদ হা/৩৮৬৩;ইবনে মাজাহহা/৩৪৮৫, সনদ ছহীহ।
[28]. আবুদাঊদ হা/১৮৩৭,সনদ ছহীহ।
[29]. যাদুল মা‘আদ ৪/৫৮।
[30]. আবুদাঊদ হা/৪১০৫;ইবনে মাজাহ হা/৩৪৮০, সনদ ছহীহ।
Price : *Happy Shopping

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url