ইবাদতের বিভিন্ন অবস্থা | শরিফ গাজী অফিসিয়াল

ইবাদতের বিভিন্ন অবস্থা

ইবাদতের বিভিন্ন অবস্থা >>>>

মহান আল্লাহর বাণীঃ
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
হে মানবসকল! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত কর, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন; যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে। (আল-বাকারাহ, ২/২১)

ইবাদত কখনো নেকী, কখনো সুন্নাহ, কখনো রিয়া, যা ছোট শির্ক, কখনো বড় শির্ক, কখনো বিদআত, আবার কখনো কুফরী।
ইবাদত নেকী তখনই হবে, যখন ইবাদতটি বিশুদ্ধ ঈমানসহ, একনিষ্ঠভাবে একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং রাসুলের তরিকা বা পদ্ধতিতে করা হবে। তাই
ইবাদত কবুলের শর্ত তিনটি;
১) ঈমান সহীহ-শুদ্ধ হওয়া।
২) একনিষ্ঠভাবে একমাত্র আল্লাহর জন্য ইবাদত করা।
৩) রাসুল (ﷺ) এর তারিকায় ইবাদত করা।
.
বিশুদ্ধ ঈমান নিয়ে আল্লাহর ইবাদত করতে হবে, মহান আল্লাহ বলেন;
وَمَنْ يَكْفُرْ بِالإيمَانِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ
আর যে কেউ ঈমানের (বিষয়াবলীর) সাথে কুফরী করবে তাহলে অবশ্যই তার আমল ধ্বংস হয়ে যাবে আর সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভু্ক্ত হবে। (আল-মায়িদাহ, ৫/৫)
.
যদি ঈমান সহীহ-শুদ্ধ না হয় তাহলে তার থেকে কুফরী আমল প্রকাশ পাবে আবার তার ইবাদতটি কুফরী তখন হবে যখন সে অহংকার করে আল্লাহর ইবাদত করতে অস্বীকৃতি জানায়। আল্লাহ বলেন;
وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ
তোমাদের রব বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয় যারা অহঙ্কার করে আমার ইবাদাত থেকে বিমুখ থাকে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে’। আল-মুমিন, ৪০/৬০
.
একনিষ্ঠভাবে একমাত্র আল্লাহর জন্য ইবাদত করা না হলে তা হবে লোক দেখানো ইবাদত আর লোক দেখানো ইবাদত রিয়া আর রিয়া হলো ছোট শির্ক এবং তা কাবিরা গুনাহ। আল্লাহ বলেন;
وَمَا أُمِرُوا إِلا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ
আর তারা আদিষ্ট হয়েছে যে, কেবলমাত্র তারা আল্লাহর ইবাদত করবে খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে তাঁরই আনুগত্যের মাধ্যমে এবং সালাত কায়েম করবে ও যাকাত প্রদান করবে; আর এটিই হল সুপ্রতিষ্ঠিত সঠিক দীন। আল-বাইয়্যিনাহ, ৯৮/৫
.
ইবাদত রাসুলের পদ্ধতিতে হলে তা হবে সুন্নাহ ইবাদত।
ইবাদত রাসুল (ﷺ) এর পদ্ধতিতে না হলে তা হবে বিদআতী ইবাদত আর তা আল্লাহ কবুল করেন না। রাসূল (ﷺ) বলেছেন;
مَنْ عَمِلَ عَمَلاً لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ
যে ব্যক্তি এমন আমল করল যার উপর আমাদের কোন নির্দেশনা নেই, তাহলে তা পরিত্যাজ্য হবে। (সহিহ মুসলিম: ৪৩৮৫)
.
ইবাদতটি বড় শির্ক তখন হবে যখন কেউ আল্লাহর জন্য ইবাদত করে আবার তার ইবাদত অন্য কাউকেও দিয়ে দেয়। যেমনঃ কেউ আল্লাহকে সিজদা করে আবার পীর কিংবা মাযারেও সিজদা করে তাহলে তার ইবাদতটি হবে বড় শির্কী ইবাদত। আর বড় শির্ককারী চিরস্থায়ী জাহা্ন্নামী। আল্লাহ বলেন;
اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ
আল্লাহর ইবাদত কর, যিনি আমার প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালক, নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শির্ক করে, অবশ্যই আল্লাহ তার উপর জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার আবাসস্থল জাহান্নাম আর যালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই। আল-মায়িদাহ, ৫/৭২
.
সেজদা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন;
لا تَسْجُدُوا لِلشَّمْسِ وَلا لِلْقَمَرِ وَاسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَهُنَّ إِنْ كُنْتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ
তোমরা সূর্যকে কিংবা চাঁদকে সেজদা করবে না আর তোমরা আল্লাহকেই সেজদা কর, যিনি এগুলোকে সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা প্রকৃতই তাঁর ইবাদত কর। (ফুসসিলাত, ৪১/৩৭)
.
সুতরাং আসুন আমরা সকলে বিশুদ্ধ ঈমান নিয়ে একনিষ্ঠভাবে একমাত্র আল্লাহর জন্য শির্কমুক্ত ও বিদআতমুক্ত হয়ে রাসুল (ﷺ) এর তরিকা বা পদ্ধতিতে মহান আল্লাহর ইবাদত করি তাইলে পরকালে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে আর আমরা সালাতের প্রতি রাকআতে বলি:
إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
আমরা শুধুমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই নিকট সাহায্য চাই। (আল-ফাতিহা ১/৫)


ইবাদতের বিভিন্ন অবস্থা
ইবাদতের বিভিন্ন অবস্থা

Price : *Happy Shopping
Order via whatsapp Order via Email

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Content copy is disabled! Default text copied.