রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সহনশীলতা ও ক্ষমাশীলতা | শরিফ গাজী অফিসিয়াল

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সহনশীলতা ও ক্ষমাশীলতা


>>> রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সহনশীলতা ও ক্ষমাশীলতা <<<

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 

خَدَمْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَشْرَ سِنِينَ بِالْمَدِينَةِ وَأَنَا غُلاَمٌ لَيْسَ كُلُّ أَمْرِي كَمَا يَشْتَهِي صَاحِبِي أَنْ أَكُونَ عَلَيْهِ مَا قَالَ لِي فِيهَا أُفٍّ قَطُّ وَمَا قَالَ لِي لِمَ فَعَلْتَ هَذَا أَوْ أَلاَ فَعَلْتَ هَذَا

আমি মদীনাতে দশ বছর যাবত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমত করি। এ সময় আমি বালক ছিলাম এবং আমার সব কাজ তাঁর ইচ্ছে মাফিক হতো না। কিন্তু তিনি কোন দিন আমার উপর বিরক্ত হয়ে উহ্‌ বলেননি এবং এরুপও কোন দিন বলেননি তুমি একাজ কেন করলে বা তুমি একাজ কেন করনি? (আবূ দাউদ ৪৭৭৪, সহীহ)

.

আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,

قَامَ أَعْرَابِيٌّ فَبَالَ فِي الْمَسْجِدِ فَتَنَاوَلَهُ النَّاسُ، فَقَالَ لَهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم‏ دَعُوهُ وَهَرِيقُوا عَلَى بَوْلِهِ سَجْلاً مِنْ مَاءٍ، أَوْ ذَنُوبًا مِنْ مَاءٍ، فَإِنَّمَا بُعِثْتُمْ مُيَسِّرِينَ، وَلَمْ تُبْعَثُوا مُعَسِّرِينَ

একদা জনৈক বেদুঈন দাঁড়িয়ে মসজিদে পেশাব করল। তখন লোকেরা তাকে বাধা দিতে গেলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন, তোমরা তাকে ছেড়ে দাও এবং তার পেশাবের উপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও। কারণ তোমাদেরকে কোমল ও সুন্দর আচরণ করার জন্য পাঠানো হয়েছে, রূঢ় আচরণ করার জন্য পাঠানো হয়নি। (সহীহুল বুখারী ২২০)

.

আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,

مَا ضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا قَطُّ بِيَدِهِ وَلاَ امْرَأَةً وَلاَ خَادِمًا إِلاَّ أَنْ يُجَاهِدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَمَا نِيلَ مِنْهُ شَىْءٌ قَطُّ فَيَنْتَقِمَ مِنْ صَاحِبِهِ إِلاَّ أَنْ يُنْتَهَكَ شَىْءٌ مِنْ مَحَارِمِ اللَّهِ فَيَنْتَقِمَ لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ

আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ ব্যতীত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কখনো কাউকে স্বহস্তে মারেননি, না কোন স্ত্রীকে, না কোন দাস-দাসীকে। আর তিনি কারো কাছ থেকে কষ্ট পেলে কষ্টদাতার নিকট থেকে প্রতিশোধ নেননি। হ্যা, যদি আল্লাহর হারামকৃত কোন বিষয়ে লংঘন করা হত (অর্থাৎ কেউ চুরি, ব্যভিচার ইত্যাদি কাজ করে ফেলত) তাহলে মহান আল্লাহর জন্যই প্রতিশোধ নিতেন (শাস্তি দিতেন)। (সহীহুল বুখারী ৫৯৪৪)

.

রাসূল (ﷺ) ছিলেন সর্বাধিক ক্ষমাশীল ব্যক্তি। তিনি মানুষকে ক্ষমা করে দিতে সদা প্রস্তত ছিলেন। তায়েফবাসীদের ক্ষমার কথা আমরা সবাই জানি। এছাড়া যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিজয়ী বেশে মক্কায় প্রবেশ করলেন, তখনও তিনি মক্কাবাসীদের ক্ষমা করে দিলেন। যারা রাসূলের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর যুদ্ধ করেছে, সাহাবাদের নির্যাতন করেছে, অনেককে হত্যা করেছে। তিনি সবাইকে ক্ষমা করে দিলেন, এমনকি হিন্দাকেও। যে হামজা রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে হত্যা করেছিল। হত্যার পর এই মহিলা তার দেহকে ক্ষতবিক্ষত করেছিল আর তার কলিজা চিবিয়েছিল। যখন সে ইসলাম গ্রহণ করল রাসূল (ﷺ) তাকেও ক্ষমা করে দিলেন। 

মহান আল্লাহ বলেন,

فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ ۖ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ

কাজেই তুমি তাদেরকে ক্ষমা কর এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর। এবং কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরার্মশ কর। অতঃপর যখন সংকল্প করবে তারপর তুমি আল্লাহর উপর নির্ভর কর। নিশ্চয় আল্লাহ (তাঁর উপর) নির্ভরকারীদের ভালবাসেন। (আলে-ইমরান: ৩/১৫৯)

وَمَنْ عَاقَبَ بِمِثْلِ مَا عُوقِبَ بِهِ ثُمَّ بُغِيَ عَلَيْهِ لَيَنْصُرَنَّهُ اللَّهُ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَعَفُوٌّغَفُورٌ

আর কোন ব্যক্তি নিপীড়িত হয়ে নিপীড়িন পরিমান প্রতিশোধ গ্রহণ করলে তারপর পুনরায় সে নিপীড়িত হলে আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন, আল্লাহ নিশ্চয় পাপমোচনকারী, পরম ক্ষমাশীল। (আল-হাজ্জ: ২২/৬০)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সহনশীলতা ও ক্ষমাশীলতা
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সহনশীলতা ও ক্ষমাশীলতা

Price : *Happy Shopping
Order via whatsapp Order via Email

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Content copy is disabled! Default text copied.