কুরআন ও সহীহ হাদীছে الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ সরল পথ | শরিফ গাজী অফিসিয়াল

কুরআন ও সহীহ হাদীছে الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ সরল পথ


>>>>> কুরআন ও সহীহ হাদীছে الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ সরল পথ <<<<<
اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ
আমাদেরকে সরল সঠিক পথ দেখান। তাদের পথ, যাদেরকে আপনি অনুগ্রহ দান করেছেন। আল-ফাতিহা, ১/৬-৭
পবিত্র কুরআনে সুরা ফাতিহায় আল্লাহ আমাদের الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ [সিরাত্বোল্ মুস্তাকিম্] তথা সরল পথ চাইতে বলেছেন। যা সালাতের প্রতি রাকাতে পাঠ করতে হয়, আর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ যে ব্যক্তি সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করে না তার সালাত হয় না (বুখারী ও মুসলিম)। صِرَاطٌ সিরাত্ মানে পথ, পন্থা, রাস্তা। مُسْتَقِيمٌ মুস্তাকিম্ মানে সহজ, সরল, সোজা, الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ [সিরাত্বোল্ মুস্তাকিম্] মানে সহজ পথ, সরল পথ, সোজা পথ।



>>> কোনটি সরল পথ? <<<
أَلَمْ أَعْهَدْ إِلَيْكُمْ يَا بَنِي آدَمَ أَنْ لا تَعْبُدُوا الشَّيْطَانَ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ وَأَنِ اعْبُدُونِي هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ
হে আদমের সন্তানেরা, আমি কি তোমাদেরকে নির্দেশ দেইনি? তোমরা শয়তানের এবাদত করো না, নিঃসন্দেহে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু আর আমারই এবাদত কর, এটাই সরল পথ। ইয়াসীন, ৩৬/৬০-৬১
إِنَّ اللَّهَ هُوَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ
নিশ্চয় তিনিই আল্লাহ, আমার রব ও তোমাদেরও রব, অতএব তাঁরই এবাদত কর, এটাই সরল পথ। আয্-যুখরুফ, ৪৩/৬৪
إِنَّ اللَّهَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ
নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার রব এবং তোমাদেরও রব তাই তাঁরই এবাদত কর, এটাই সরল পথ। আলে ‘ইমরান, ৩/৫১
وَإِنَّ اللَّهَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ
আর নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার রব এবং তোমাদেরও রব তাই তাঁরই এবাদত কর, এটাই সরল পথ। মারইয়াম, ১৯/৩৬
وَإِنَّهُ لَعِلْمٌ لِلسَّاعَةِ فَلا تَمْتَرُنَّ بِهَا وَاتَّبِعُونِ هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ
আর নিশ্চয় সে (ঈসা পুনরায় দুনিয়াতে আগমন) হবে কেয়ামতের সুনিশ্চিত আলামত, সুতরাং তোমরা তাতে (কেয়ামতে) সন্দেহ করো না এবং তোমরা আমারই অনুসরণ কর, এটিই সরল পথ। আয-যুখরুফ, ৪৩/৬১
>>> কাকে আল্লাহ সরল পথ দেখান? <<<
وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا صُمٌّ وَبُكْمٌ فِي الظُّلُمَاتِ مَنْ يَشَأِ اللَّهُ يُضْلِلْهُ وَمَنْ يَشَأْ يَجْعَلْهُ عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
আর যারা আমার আয়াত সমূহকে মিথ্যারোপ করেছে, তারা বধির ও বোবা, অন্ধকারের মধ্যে আছে; আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন আর যাকে ইচ্ছা সরল পথের উপর রাখেন। আল-আন‘আম, ৬/৩৯
لَقَدْ أَنْزَلْنَا آيَاتٍ مُبَيِّنَاتٍ وَاللَّهُ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
অবশ্যই আমি সুস্পষ্ট আয়াত সমূহ অবর্তীর্ণ করেছি আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিকে পথ দেখাবেন। আন-নুর, ২৪/৪৬
قُلْ لِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
আপনি বলুন, পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই; তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন।আল-বাকারা, ২/১৪২
كَانَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً فَبَعَثَ اللَّهُ النَّبِيِّينَ مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ وَأَنْزَلَ مَعَهُمُ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِيَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ فِيمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ وَمَا اخْتَلَفَ فِيهِ إِلا الَّذِينَ أُوتُوهُ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَاتُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ فَهَدَى اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا لِمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِهِ وَاللَّهُ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
সকল মানুষ একই উম্মত ছিল, অতঃপর আল্লাহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে নবীদেরকে প্রেরণ করলেন, এবং তিনি তাদের সাথে সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ্ করলেন, যেন মানুষের মাঝে পরস্পরের মতবিরোধ বিষয়গুলো মীমাংসা করে দেন, অথচ যারা কিতাবপ্রাপ্ত হয়েছিল স্পষ্ট প্রমান আসার পরও কেবলমাত্র পরস্পরের বিদ্বেষবশত মতবিরোধ করেছিল অতঃপর আল্লাহর নিজ ইচ্ছায় মুমিনদেরকে সত্যের দিকে পথ দেখালেন আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন। আল-বাকারা, ২/২১৩
وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحًا مِنْ أَمْرِنَا مَا كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلا الإيمَانُ وَلَكِنْ جَعَلْنَاهُ نُورًا نَهْدِي بِهِ مَنْ نَشَاءُ مِنْ عِبَادِنَا وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
আর অনুরূপভাবে আমি আপনার কাছে আমার নির্দেশে থেকে রূহকে (ফেরেশতাকে) ওহী যোগে পাঠিয়েছি; আপনি জানতেন না, কিতাব কি আর ঈমান কি? কিন্তু আমি একে আলো বানিয়েছি, যার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্য হতে যাকে ইচ্ছা পথ দেখাই; নিশ্চয় আপনি সরল পথের দিকে পথ দেখাচ্ছেন।আশ-শুরা, ৪২/৫২
وَإِنَّكَ لَتَدْعُوهُمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
আর নিশ্চয় আপনি তাদেরকে সরল পথের দিকে আহবান করছেন।আল-মু‘মিনূন, ২৩/৭৩
وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى دَارِ السَّلامِ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ وَلا يَرْهَقُ وُجُوهَهُمْ قَتَرٌ وَلا ذِلَّةٌ أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
আর আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহবান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিকে পথ দেখান। যারা সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ আর তারও চেয়ে বেশী এবং তাদের মুখমন্ডলকে মলিনতা কিংবা লাঞ্চনা আচ্ছন্ন করবে না, তারাই হবে জান্নাতের অধিবাসী, তারা সেখানে স্থায়ী হবে। ইউনুস, ১০/২৫-২৬
>>> কিভাবে সরল পথ পাব? <<<
إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا كَبِيرًا
নিশ্চয়ই এই কোরআন সেই দিকে পথ দেখায় যা সবচেয়ে সরল আর যে মুমিনগণ সৎকাজ করে তাদেরকে সুসংবাদ দেয়, নিশ্চয়ই তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। আল-ইসরা, ১৭/৯
وَكَيْفَ تَكْفُرُونَ وَأَنْتُمْ تُتْلَى عَلَيْكُمْ آيَاتُ اللَّهِ وَفِيكُمْ رَسُولُهُ وَمَنْ يَعْتَصِمْ بِاللَّهِ فَقَدْ هُدِيَ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
আর তোমরা কিভাবে অস্বীকার করছো অথচ তোমাদের সামনে আল্লাহর আয়াত সমূহ পাঠ করা হয় আর তোমাদের মাঝে রয়েছেন তার (আল্লাহর) রসূল, আর যে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ়ভাবে ধরণ করবে, তবে নিশ্চয় সে সরল সঠিক পথের দিকে পরিচালিত হবে। আলে ‘ইমরান, ৩/১০১
قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
নিশ্চয়ই তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ হতে একটি উজ্জল জ্যোতি (রাসূল) ও একটি সমুজ্জল গ্রন্থ (কুরআন) এসেছে। আল্লাহ তার মাধ্যমে তাদেরকেই নিরাপত্তার পথ প্রদর্শন করবেন, যারা তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে; আর তার অনুমতিতে তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনবেন এবং তাদেরকে সরল পথের দিকে পরিচালনা করবেন। আল-মায়েদা, ৫/১৫-১৬
فَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ أَنْ يَهدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلإسْلامِ وَمَنْ يُرِدْ أَنْ يُضِلَّهُ يَجْعَلْ صَدْرَهُ ضَيِّقًا حَرَجًا كَأَنَّمَا يَصَّعَّدُ فِي السَّمَاءِ كَذَلِكَ يَجْعَلُ اللَّهُ الرِّجْسَ عَلَى الَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ وَهَذَا صِرَاطُ رَبِّكَ مُسْتَقِيمًا قَدْ فَصَّلْنَا الآيَاتِ لِقَوْمٍ يَذَّكَّرُونَ لَهُمْ دَارُ السَّلامِ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَهُوَ وَلِيُّهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
সুতরাং আল্লাহ যাকে সঠিক পথ দেখাতে চান, তার বক্ষকে ইসলামের জন্যে প্রশস্ত্ করে দেন, এবং যাকে পথভ্রষ্ট করতে চান, তার বক্ষকে সঙ্গীর্ণ-সঙ্কুচিত করে দেন, যেন (তার মনে হবে) সে আকাশের মধ্যে আরোহণ করছে, এইভাবেই আল্লাহ তাদেরকে অপবিত্র রাখেন যারা ইমান আনে না। আর এই পথ হল তোমার রবের সরল পথ; আমি আয়াত সমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেছি সেইসব কওমদের জন্য যারা উপদেশ গ্রহন করে। তাদের জন্যেই তাদের রবের নিকটে রয়েছে শান্তির আবাস এবং তিনি তাদের অভিভাবক, তাদের আমলের (কর্মের) কারণে। আল-আন‘আম, ৬/১২৫-১২৭
>>> যাদেরকে আল্লাহ সরল পথে পরিচালিত করেছেন <<<
إِنَّ إِبْرَاهِيمَ كَانَ أُمَّةً قَانِتًا لِلَّهِ حَنِيفًا وَلَمْ يَكُ مِنَ الْمُشْرِكِينَ شَاكِرًا لأنْعُمِهِ اجْتَبَاهُ وَهَدَاهُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ وَآتَيْنَاهُ فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَإِنَّهُ فِي الآخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِينَ
নিশ্চয় ইব্রাহীম ছিলেন এক উম্মত, একনিষ্ট আল্লাহর অনুগত এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। তিনি তাঁর (আল্লাহর) অনুগ্রহের প্রতি শোকরকারী ছিলেন। আল্লাহ তাঁকে মনোনীত করেছিলেন ও সরল পথে পরিচালিত করেছিলেন। আমি তাঁকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করেছি আর নিশ্চয়ই পরকালেও সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভূক্ত। আন-নাহল, ১৬/১২০-১২২
الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الأمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ وَتِلْكَ حُجَّتُنَا آتَيْنَاهَا إِبْرَاهِيمَ عَلَى قَوْمِهِ نَرْفَعُ دَرَجَاتٍ مَنْ نَشَاءُ إِنَّ رَبَّكَ حَكِيمٌ عَلِيمٌ وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ كُلا هَدَيْنَا وَنُوحًا هَدَيْنَا مِنْ قَبْلُ وَمِنْ ذُرِّيَّتِهِ دَاوُدَ وَسُلَيْمَانَ وَأَيُّوبَ وَيُوسُفَ وَمُوسَى وَهَارُونَ وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ وَزَكَرِيَّا وَيَحْيَى وَعِيسَى وَإِلْيَاسَ كُلٌّ مِنَ الصَّالِحِينَ وَإِسْمَاعِيلَ وَالْيَسَعَ وَيُونُسَ وَلُوطًا وَكُلا فَضَّلْنَا عَلَى الْعَالَمِينَ وَمِنْ آبَائِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَإِخْوَانِهِمْ وَاجْتَبَيْنَاهُمْ وَهَدَيْنَاهُمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ ذَلِكَ هُدَى اللَّهِ يَهْدِي بِهِ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
যারা ঈমান এনেছে ও নিজ ঈমান যুলূম (মানে শিরক) দ্বারা মিশ্রিত করে নাই, তাদের জন্যেই রয়েছে নিরাপত্তা আর তারাই সরল পথ প্রাপ্ত। আমি এই দলীল, যা ইব্রাহীমকে দিয়েছিলাম তাঁর সম্প্রদায়ের মোকাবিলায়; আমি যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় উঁচু করি; নিশ্চয় আপনার রব প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী। এবং আমি তাঁকে (ইব্রাহীমকে) দান করেছি ইসহাক এবং এয়াকুব; প্রত্যেককেই আমি পথ দেখিয়েছি আর এর পূর্বে আমি নূহকেও পথ দেখিয়েছি এবং তাঁর বংশধরদের মধ্য হতে দাউদ, সুলাইমান, আইউব, ইউসুফ, মূসা ও হারুনকে আর এই ভাবেই আমি নেকলোকদেরকে প্রতিদান দেই। আর যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা ও ইলিয়াসকে; প্রত্যেকেই নেকলোকদেরকে অন্তর্ভুক্ত। আর ইসমাঈল, আল-ইয়াসা’, ইউনূস, লূতকে এবং প্রত্যেককেই আমি সারা বিশ্বের লোকদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।আর তাদের পিতৃপুরুষ, তাদের বংশধর আর তাদের ভ্রাতাদের মধ্য হতে আর আমি তাদেরকে মনোনীত করেছি ও তাদেরকে সরল পথের দিকে পরিচালিত করেছি। এটি আল্লাহর পথ; তিনি যাকে ইচ্ছা তার বান্দাদের মধ্য হতে এই সরল পথে পরিচালিত করেন; আর তারাও যদি শিরক করত, যা আমলসমূহ (কর্মসমূহ) তারা করেছিল, তা অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যেত। আল-আন‘আম, ৬/৮২-৮৮
وَهَدَيْنَاهُمَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ
এবং আমি তাদের দুইজনকে (মুসা ও হারুন) সরল পথে পরিচালিত করেছিলাম। আস-সাফফাত, ৩৭/১১৮
قُلْ إِنَّنِي هَدَانِي رَبِّي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ دِينًا قِيَمًا مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ
আপনি বলুন, নিশ্চয় আমার রব আমাকে সরল পথে পরিচালিত করেছেন, প্রতিষ্ঠিত দ্বীন, ইব্রাহীমের পথপন্থা, সে ছিল একনিষ্ট আর সে মুশরিকদের অন্তর্ভূক্ত ছিল না। আল-আন‘আম, ৬/১৬১
إِنَّكَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
নিশ্চয় আপনি রসূলদের অন্তর্ভুক্ত; সরল পথের উপর আছেন। ইয়াসীন, ৩৬/৩-৪
فَاسْتَمْسِكْ بِالَّذِي أُوحِيَ إِلَيْكَ إِنَّكَ عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
অতএব, আপনার প্রতি যা ওহী করা হয়েছে তা সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করুন; নিঃসন্দেহে আপনি সরল পথে রয়েছেন। আয-যুখ্রুফ, ৪৩/৪৩
إِنِّي تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ رَبِّي وَرَبِّكُمْ مَا مِنْ دَابَّةٍ إِلا هُوَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا إِنَّ رَبِّي عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
অবশ্যই আমি ভরসা করছি, আমার রব ও তোমাদের রব আল্লাহর উপর; এমন কোন বিচরণকারী প্রাণী নাই যা তাঁর র্পূণ আয়ত্তাধীন নয়: নিশ্চয় আমার রব সরল পথে আছেন। হূদ, ১১/৫৬
إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا لِيَغْفِرَ لَكَ اللَّهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ وَيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكَ وَيَهْدِيَكَ صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا
নিশ্চয় আমি আপনাকে সুস্পষ্ট বিজয় দিয়েছি। যেন আল্লাহ আপনার পূর্বের ও পরের পাপ ক্ষমা করেন এবং আপনার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করেন ও আপনাকে সরল পথে পরিচালিত করেন। আল-ফাতহ, ৪৮/১-২
وَعَدَكُمُ اللَّهُ مَغَانِمَ كَثِيرَةً تَأْخُذُونَهَا فَعَجَّلَ لَكُمْ هَذِهِ وَكَفَّ أَيْدِيَ النَّاسِ عَنْكُمْ وَلِتَكُونَ آيَةً لِلْمُؤْمِنِينَ وَيَهْدِيَكُمْ صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا
আল্লাহ তোমাদেরকে বিপুল পরিমাণে গনিমতের ওয়াদা দিয়েছেন, যা তোমরা গ্রহন করবে; অতঃপর এগুলো তোমাদের জন্যে আগেই দিয়েছেন; এবং মানুষের হাতগুলোকে তোমাদের থেকে ফিরিয়ে রেখেছেন, যেন এটা মুমিনদের জন্যে একটি নিদর্শন হয় আর তিনি তোমাদেরকে সরল পথ দেখান। আল-ফাতহ, ৪৮/২০
>>> যাদের আল্লাহ সরল পথ দেখাবেন <<<
وَلَهَدَيْنَاهُمْ صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا ذَلِكَ الْفَضْلُ مِنَ اللَّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ عَلِيمًا
আর অবশ্যই আমি তাদেরকেই সরল পথে পরিচালিত করি, যারা আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য করে অতঃপর তারা থাকবে ঐসব লোকদের সাথে যাদের উপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন, (তারা হল) নবীগন, সত্যবাদীগণ, শহীদগন ও সৎকর্মশীলদের মধ্য থেকে; আর সাথী হিসেবে তারা হবে উত্তম। এটাই হল আল্লাহর অনুগ্রহ আর আল্লাহর জ্ঞানই যথেষ্ট। আন-নিসা, ৪/৬৮-৭০
فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَاعْتَصَمُوا بِهِ فَسَيُدْخِلُهُمْ فِي رَحْمَةٍ مِنْهُ وَفَضْلٍ وَيَهْدِيهِمْ إِلَيْهِ صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا
অতঃপর যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং তাতে দৃঢ়তা অবলম্বন করেছে, শীঘ্রই তিনি তাদেরকে স্বীয় রহমত ও অনুগ্রহের মধ্যে প্রবেশ করাবেন ও তার সরল পথের দিকে পরিচালিত করবেন। আন-নিসা, ৪/১৭৫
وَلِيَعْلَمَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ فَيُؤْمِنُوا بِهِ فَتُخْبِتَ لَهُ قُلُوبُهُمْ وَإِنَّ اللَّهَ لَهَادِ الَّذِينَ آمَنُوا إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
আর এটা এ জন্যে যে, যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে, তারা যেন জানে, এটা আপনার রবের পক্ষ থেকে সত্য, অতঃপর তারা যেন এতে বিশ্বাস আনে ও তাদের অন্তরসমূহ যেন এর প্রতি অনুগত হয় আর নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্বাসকারীদেরকে সরল পথে পরিচালিত করেন। আল-হাজ্জ, ২২/৫৪
>>> সরল পথ পাবার দু‘আ <<<
اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلا الضَّالِّينَ
ইহ্দিনাস্ব্ স্বিরা-ত্বোল্ মুস্তাক্বি---ম্, স্বিরা-ত্বোল্লাযি-না আন্‘আম্তা আলাইহিম্ গাইরিল্ মাগ্দ্বু-বি আলাইহিম্ ওয়ালাদ্ব্ দ্বো---লি---ন্
আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন। তাদের পথ, যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন, যাদের উপর আপনার ক্রোধ আপতিত হয়নি এবং যারা পথভ্রষ্টও নয়। আল-ফাতিহা, ১/৬-৭
>>> আল্লাহর দেওয়া উপমা <<<
وَضَرَبَ اللَّهُ مَثَلا رَجُلَيْنِ أَحَدُهُمَا أَبْكَمُ لا يَقْدِرُ عَلَى شَيْءٍ وَهُوَ كَلٌّ عَلَى مَوْلاهُ أَيْنَمَا يُوَجِّهْهُ لا يَأْتِ بِخَيْرٍ هَلْ يَسْتَوِي هُوَ وَمَنْ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَهُوَ عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
আর আল্লাহ দুইজন ব্যক্তির দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন, তাদের একজন বোবা, যে কোন কিছুর করার ক্ষমতা রাখে না, সে তার মালিকের উপর বোঝা; যেদিকে তাকে পাঠানো হয় কোন কল্যান বয়ে আনতে পারে না; সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় সমান হবে কি? যে ব্যক্তি ন্যায়ের আদেশ দেয় আর সরল পথের উপর রয়েছে। আন-নাহল, ১৬/৭৬
أَفَمَنْ يَمْشِي مُكِبًّا عَلَى وَجْهِهِ أَهْدَى أَمْ مَنْ يَمْشِي سَوِيًّا عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
যে ব্যক্তি উপুড় হয়ে মুখে ভর দিয়ে চলে, সেই কি পথপ্রাপ্ত, নাকি সেই ব্যক্তি পথপ্রাপ্ত, যে সোজা হয়ে সরল পথে চলে? আল-মুল্ক, ৬৭/২২
>>> হাদীছে সরল পথ <<<
আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাঃ)এর বর্ণিত হাদীছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেছেন-
خَطَّ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا خَطًّا ثُمَّ قَالَ هَذَا سَبِيلُ اللَّهِ ثُمَّ خَطَّ خُطُوطًا عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ ثُمَّ قَالَ هَذِهِ سُبُلٌ عَلَى كُلِّ سَبِيلٍ مِنْهَا شَيْطَانٌ يَدْعُو إِلَيْهِ ثُمَّ تَلَا ( وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সামনে মাটিতে একটি রেখা টানলেন। সে রেখার উপর হাত রেখে বললেন, এটি হল আল্লাহর পথ। অতঃপর সে রেখার ডানে ও বামে আরো অনেকগুলো রেখা অঙ্কন করে বললেন, এ সবগুলোই পথ। তবে এ সব পথের মাথায় একটি করে শয়তান দাঁড়িয়ে আছে। সে সর্বদা মানুষকে ঐ পথের দিকে আহবান করছে। এ কথা বলার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআনের এই আয়াতটি পাঠ করলেন,
وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِه
“এটিই আমার সঠিক পথ। সুতরাং তোমরা এই সঠিক পথের অনুসরণ কর। অন্যান্য পথের অনুসরণ করনা। তাহলে সে সব পথ তোমাদেরকে আল্লাহর সঠিক পথ হতে বিপদগামী করে দিবে। সূরা আনআম, ৬/১৫৩
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ بَعْدِي فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الْمَهْدِيِّينَالرَّاشِدِينَ تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ
“আমার পরে তোমাদের মধ্য থেকে যারা জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে। সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাত এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়িয়ে ধরবে। তোমরা দ্বীনের মাঝে নতুন বিষয় আবিষ্কার করা থেকে বিরত থাকবে, কেননা প্রত্যেক নতুন বিষয়ই বিদআত। আর প্রতিটি বিদআতের পরিণাম গোমরাহী বা ভ্রষ্টতা।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আমার উম্মত তিয়াত্তর ফিরকায় বিভক্ত হবে, একটি ছাড়া অবশিষ্ট সবই জাহান্নামে প্রবেশ করবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ ঐ নাজাত প্রাপ্তদল কারা? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ যারা ঐ পথে থাকবে, যে পথে আমি ও আমার সাহাবাগণ রয়েছি”। তিরমিযী
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “আমার সুন্নাত ও খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত গ্রহন করা তোমাদের উপর ওয়াজিব”। ইবনে মাজাহ
কুরআন ও সহীহ হাদীছে الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ সরল পথ
কুরআন ও সহীহ হাদীছে الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ সরল পথ

Price : *Happy Shopping
Order via whatsapp Order via Email

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Content copy is disabled! Default text copied.