দৃষ্টিকে অনুসরণ করো না। প্রথম দৃষ্টি যা অনিচ্ছা সত্ত্বে পতিত হয় তা ক্ষমা করা হবে, কিন্তু পরবর্তী দৃষ্টি ক্ষমা করা হবে না। | শরিফ গাজী অফিসিয়াল

দৃষ্টিকে অনুসরণ করো না। প্রথম দৃষ্টি যা অনিচ্ছা সত্ত্বে পতিত হয় তা ক্ষমা করা হবে, কিন্তু পরবর্তী দৃষ্টি ক্ষমা করা হবে না।

‘দৃষ্টিকে অনুসরণ করো না। প্রথম
দৃষ্টি যা অনিচ্ছা সত্ত্বে পতিত হয়
তা ক্ষমা করা হবে, কিন্তু পরবর্তী
দৃষ্টি ক্ষমা করা হবে না।’


কোন মহিলা পর্দা না করে যদি বেপর্দাভাবে চলে
তাহলে এ কারণে সে এবং তার অভিভাবক মহল যারা
রয়েছে সকলেই দাইয়ূছের অন্তর্ভুক্ত হবে। শুধু তাই নয়,
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, ‘যে
পুরুষ দেখে এবং যে মহিলা দেখায় উভয়ের প্রতি মহান
আল্লাহ পাক তিনি লা’নত বর্ষণ করেন।’ অর্থাৎ
বেপর্দা মহিলা-পুরুষ উভয়ে লা’নতগ্রস্ত; যেরূপ ইবলিস
লা’নতগ্রস্ত। নাঊযুবিল্লাহ! এজন্য স্বয়ং নূরে
মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম তিনি পুরুষদেরকে সতর্ক করে দিয়ে
ইরশাদ মুবারক করেন, ‘দৃষ্টিকে অনুসরণ করো না।
প্রথম দৃষ্টি যা অনিচ্ছা সত্ত্বে পতিত হয় তা ক্ষমা
করা হবে, কিন্তু পরবর্তী দৃষ্টি ক্ষমা করা হবে না।’
এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় হযরত
মুহাদ্দিছীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিগণ উনারা
বলেছেন, বেগানা পুরুষ ও মহিলার প্রতি দৃষ্টিতে
একটি করে কবীরা গুনাহ লিখা হয়ে থাকে।
গবেষণা করে দেখা গেছে যে, প্রত্যেক মানুষ পুরুষ
কিংবা মহিলা হোক, সে প্রতি দু’সেকেন্ডে পাঁচটি
করে চোখের পলক বা দৃষ্টি ফেলে থাকে। সে হিসাবে
প্রতি মিনিটে ১৫০টি পলক বা দৃষ্টি করে থাকে। আর
ঘণ্টা হিসাবে প্রতি ঘণ্টায় ৯০০০ (নয় হাজার) পলক
বা দৃষ্টি করে থাকে। সে হিসাবে বেগানা পুরুষ ও
মহিলা পরস্পর পরস্পরের প্রতি দৃষ্টি দেয়ার কারণে
তাদের উভয়ের প্রতি এক মিনিটে তিনশটি এবং এক
ঘণ্টায় আঠারো হাজার কবীরা গুনাহ লিখা হয়। এ
হিসাব একজন পুরুষ ও একজন মহিলার ক্ষেত্রে। আর যদি
কোনো জনসমাবেশে উপস্থিত মহিলা-পুরুষের পরস্পর
পরস্পরের দৃষ্টির হিসাব করা হয় তাহলে গুনাহর
পরিমাণ আরো বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ধরা যাক, কমপক্ষে
৩ ঘণ্টা ব্যাপী কোন জনসমাবেশ হলো আর সেখানে
পুরুষ ও মহিলার সংখ্যা ১০০+১০০= ২০০ জন। এখন
একজন পুরুষ ও একজন মহিলা পরস্পর পরস্পরের প্রতি
দৃষ্টি করার কারণে এক ঘণ্টায় আঠারো হাজার কবীরা
গুনাহ হয় তাহলে একশ জন পুরুষ ও একশ জন মহিলা
পরস্পর পরস্পরের প্রতি দৃষ্টি দেয়ার কারণে কবীরা
গুনাহর পরিমাণ হবে ৩৬ লক্ষ এবং তিন ঘণ্টায় হবে ১
কোটি ৮ লক্ষ কবীরা গুনাহ।
অথচ একজন মানুষ যদি একশ বছর হায়াত পায়। মহান
আল্লাহ পাক না করুন সে যদি নামায, রোযা, হজ্জ,
যাকাত (ফরয হওয়া সত্ত্বেও) কিছুই না করে তারপরও
১ কোটি ৮ লক্ষ কবীরা গুনাহ হবে না। যেমন- একশ
বছরে অর্থাৎ জীবনে একবার হজ্জ করা ফরয, তা না
করার কারণে ১টা কবীরা গুনাহ। যাকাত একশ বছরে
একশটা ফরয, তা না দেয়ার কারণে ১০০টা কবীরা
গুনাহ। রোযা ২৯ বা ৩০টা। হিসাবের সুবিধার্থে যদি
৩০টা ধরে নেয়া হয় তবে তা না রাখার কারণে একশ
বছরে ৩,০০০ কবীরা গুনাহ। এরপর নামায দৈনন্দিন
পাঁচ ওয়াক্ত ফরয ৫টা, এক ওয়াক্ত ওয়াজিব ১টা,
সুন্নতে মুয়াক্কাদা- ফজরের ফরযের পূর্বে ১টা, যুহরের
ফরযের আগে-পরে ২টা, মাগরিবের ফরযের পর ১টা,
ইশার ফরযের পর ১টা মোট ৫টা; তা আদায় না করার
কারণে সবমিলে দৈনিক ১১টা কবীরা গুনাহ। আর
হিজরী বছরে ৫০ সপ্তাহ হিসেবে জুমুয়ার সুন্নাত যোগ
হবে ৫০টা। বছরে ত্রিশ তারাবীহ (সুন্নতে
মুয়াক্কাদা), তা আদায় না করার কারণে ৩০টা এবং
দু’ঈদের (ওয়াজিব) নামায, তা আদায় না করার কারণে
২টা; মোট ৩২টা কবীরা গুনাহ। হিজরী হিসেবে ধরে
৩৫৪ দিনে বৎসর। সে হিসেবে একশ বছরে নামায
তরক্ব করলে কবীরাহ গুনাহ হবে ৩৯,৭৬০০টা।  অর্থাৎ
১০০ বছর নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত তরক করলে
কবীরাহ গুনাহ হবে সর্বোমোট ৪০০৭০১টা।
অর্থাৎ একশ বছর কোনো ব্যক্তি নামায, রোযা, হজ্জ,
যাকাত না করলে তার সর্বোচ্চ কবীরা গুনাহর
পরিমাণ হলো মাত্র চার লাখ সাতশত একটা। আর একজন
পুরুষ কিংবা মহিলা যদি কোন জনসমাবেশে যোগ দেয়,
যে জনসমাবেশে পুরুষ বা মহিলার সংখ্যা কমপক্ষে
একশ জন এবং সেখানে একঘণ্টা অবস্থান করে তাহলে
শুধু চোখের দৃষ্টির কারণে তার কবীরা গুনাহর
পরিমাণ হবে আঠারো লক্ষ। আর লোক সংখ্যা বেশি হলে
এবং বেশি সময় অবস্থান করলে কত লক্ষ-কোটি কবীরা
গুনাহ যে হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাহলে
পর্দার কত গুরুত্ব রয়েছে তা চিন্তা-ফিকিরের বিষয়।
এটা তো শুধু চোখের গুনাহর কথা বলা হলো। এমনিভাবে
প্রত্যেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দ্বারা গুনাহ হয়ে থাকে।
যেমন- এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে
ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত আবু হুরাইরা
রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে
মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “চোখের
ব্যভিচার হলো দৃষ্টি করা, কানের ব্যভিচার হলো
শ্রবণ করা, মুখের ব্যভিচার হলো কথা বলা, হাতের
ব্যভিচার হলো স্পর্শ করা, পায়ের ব্যভিচার হলো
ধাবিত হওয়া, অন্তর চায় ও আকাঙ্খা করে এবং
লজ্জাস্থান সেটাকে সত্য অথবা মিথ্যায় প্রতিপন্ন
করে।” অতএব যে বা যারা সম্মানিত পর্দা উনার
বিরুদ্ধে বলবে এবং বিরোধীতা করবে তাদের প্রতি
মুরতাদের হুকুম বর্তাবে। আর তওবা না করলে তাদের
প্রতি মুরতাদের শাস্তিও বর্তাবে।
পর্দা করা ফরয আর বেপর্দা হওয়া শক্ত হারাম ও
কবীরা গুনাহ। অতএব, হারাম ও কবীরা গুনাহ থেকে
বাঁচার জন্য নিজে পর্দা করা এবং অধীনস্থদেরকে
পর্দা পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা
প্রত্যেক অভিভাবক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তির জন্য
ফরযের অন্তর্ভুক্ত।

দৃষ্টিকে অনুসরণ করো না। প্রথম
দৃষ্টি যা অনিচ্ছা সত্ত্বে পতিত হয়
তা ক্ষমা করা হবে, কিন্তু পরবর্তী
দৃষ্টি ক্ষমা করা হবে না।
দৃষ্টিকে অনুসরণ করো না। প্রথম দৃষ্টি যা অনিচ্ছা সত্ত্বে পতিত হয় তা ক্ষমা করা হবে, কিন্তু পরবর্তী দৃষ্টি ক্ষমা করা হবে না।

Price : *Happy Shopping
Order via whatsapp Order via Email

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Content copy is disabled! Default text copied.