আযানের মর্মার্থ
>>> আযানের মর্মার্থ <<<
আমরা প্রতিদিন পাচঁবার আযান শুনি, কেউ সালাত আদায় করি
কেউবা সালাত আদায় করি না। কুরআনে আল্লাহ বলেন-َّ
ﻥِﺇ
ﺍﻟﺼَّﻼﺓَ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻛِﺘَﺎﺑًﺎ ﻣَﻮْﻗُﻮﺗًﺎ
নিশ্চয় সালাত
মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরয। আন-নিসা, ৪/১০৩
মসজিদে মুয়াজ্জিন আযান দেয় কিন্তু আমরা ঐ আযানের
মর্মার্থ গুলি কি বুঝতে পারি? মুয়াজ্জিন আযান দেওয়া শুরু
করল---
ﺍﻟﻠﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ (‘
✔✔আল্লা-হু আক্ববার’) চারবার বলা হল যার অর্থ্
আল্লাহ সর্বশক্তিমান। এ কথা বলে আল্লাহর শ্রেষ্টত্ত্ব ও
মহাত্ত্ব ঘোষণা করা হল।
ﺃَﺷْﻬَﺪُ ﺃَﻥْ ﻵ ﺇﻟَﻪَ ﺇﻟَّﺎ ﺍﻟﻠﻪ (‘
✔✔আশ্হাদু আল্ লা---ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’)
দুইবার বলা হল যার অর্থ্ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ
ব্যতীত কোন (সত্য) ইলাহ নেই।
এই কথা বলার মানে একমাত্র্ আল্লাহর ইবাদত করতে হবে,
অন্য কারো ইবাদত করা যাবে না। সালাতে আমাদের বলতে
হয়
ﺇِﻳَّﺎﻙَ ﻧَﻌْﺒُﺪُ ﻭَﺇِﻳَّﺎﻙَ ﻧَﺴْﺘَﻌِﻴﻦُ “
আমরা শুধুমাত্র তোমারই ইবাদত
করি এবং শুধুমাত্র তোমারই নিকট সাহায্য চাই।”
আর ইবাদতে কাউকে শরীক করা যাবে না। হউক সে ওলী,
গাউস, কুতুব, পীর, মাযার বা অন্য যে কেউ। যদি ইবাদতে
কাউকে শরীক করা হয় তাহলে তার অতীতের সমস্ত আমল
বাতিল হয়ে যাবে এবং সে মুশরিকদের অর্ন্তভুক্ত হবে।
আল্লাহ বলেন-
ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺃُﻭﺣِﻲَ ﺇِﻟَﻴْﻚَ ﻭَﺇِﻟَﻰ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻣِﻦْ ﻗَﺒْﻠِﻚَ ﻟَﺌِﻦْ ﺃَﺷْﺮَﻛْﺖَ ﻟَﻴَﺤْﺒَﻄَﻦَّ
ﻋَﻤَﻠُﻚَ ﻭَﻟَﺘَﻜُﻮﻧَﻦَّ
ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺨَﺎﺳِﺮِﻳﻦَ
আর অবশ্যই তোমার কাছে এবং তোমার পূর্ববর্তীদের কাছে
ওহী পাঠানো হয়েছে যে, যদি তুমিও শির্ক কর তাহলে তোমার
কর্ম নিষ্ফল হবেই আর অবশ্যই তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত
হবে। আয-যুমার, ৩৯/৬৫
ﻭَﻟَﻮْ ﺃَﺷْﺮَﻛُﻮﺍ ﻟَﺤَﺒِﻂَ ﻋَﻨْﻬُﻢْ ﻣَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ
ﻳَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ
আর তারাও যদি শিরক করত, যা আমলসমূহ (কর্ম্সমূহ) তারা
করেছিল, তা অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যেত। আল-আন‘আম, ৬/৮৮
ﺃَﺷْﻬَﺪُ ﺃَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ (
✔✔‘আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূ-
লুল্লা---হ্’)
দুইবার বলা হল যার অর্থ্ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি
মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।
এই কথা বলার মানে আমি যে ইবাদত করব তা একমাত্র
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরিকা বা
পদ্ধতিতে করতে হবে। অন্য কারো তরিকা বা পদ্ধতিতে
ইবাদত করা যাবে না। যদি করা হয় তাহলে আল্লাহ তা কবুল
করবেন না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন-
ﻣَﻦْ ﻋَﻤِﻞَ ﻋَﻤَﻼً ﻟَﻴْﺲَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺃَﻣْﺮُﻧَﺎ ﻓَﻬُﻮَ
ﺭَﺩٌّ
যে ব্যক্তি এমন আমল করল যার উপর
আমাদের কোন নির্দেশ
নেই, তাহলে সেটি অগ্রহণযোগ্য।” সহীহ মুসসিম
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যত্র বলেছেন-
ﻣَﻦْ ﺃَﺣْﺪَﺙَ ﻓِﻲ ﺃَﻣْﺮِﻧَﺎ ﻫَﺬَﺍ ﻣَﺎ ﻟَﻴْﺲَ ﻓِﻴﻪِ ﻓَﻬُﻮَ ﺭَﺩٌّ
“যে ব্যক্তি আমাদের নির্দেশের মাঝে এমন কিছু নতুন সৃষ্টি
করল, যা তার (আমাদের নির্দেশের) মধ্যে নেই, তাহলে
সেটি পরিত্যজ্য”। (সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসসিম)
ﺣَﻰَّ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓِ (‘
✔✔হায়্যইয়া আলাছ্ ছালা---হ’) দুইবার বলা
হল যার অর্থ্ সালাতের জন্য এসো।
সালাত একটি শ্রেষ্ঠ ইবাদত। সালাত অবশ্যই আদায় করতে
হবে। সালাত পরিত্যাগ কারীর জন্য আল্লাহর আযাব
অপরিহার্য্।
আল্লাহ বলেন-
ﻓَﺨَﻠَﻒَ ﻣِﻦْ ﺑَﻌْﺪِﻫِﻢْ ﺧَﻠْﻒٌ ﺃَﺿَﺎﻋُﻮﺍ ﺍﻟﺼَّﻼﺓَ ﻭَﺍﺗَّﺒَﻌُﻮﺍ ﺍﻟﺸَّﻬَﻮَﺍﺕِ ﻓَﺴَﻮْﻑَ
ﻳَﻠْﻘَﻮْﻥَ ﻏَﻴًّﺎ
অতপর তাদের পরে স্থলাভিসিক্ত হল এমন বংশধর যারা
সালাত নষ্ট করল আর প্রবৃত্তির অনুসরণ করল, সুতরাং অচিরেই
তারা (জাহান্নামের) শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে। মারইয়াম,
১৯/৫৯
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
ﺑﻴﻦ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻭﺑﻴﻦ ﺍﻟﻜﻔﺮ ﻭﺍﻟﺸﺮﻙ ﺗﺮﻙ
ﺍﻟﺼﻼﺓ
নিমুম এবং শির্ক-কুফরীর মাঝে পৃথককারী
বিষয় হচ্ছে
সালাত ত্যাগ করা” (সহীহ মুসলিম)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যত্র বলেছেন-
ﺍﻟﻌﻬﺪ ﺍﻟﺬﻱ ﺑﻴﻨﻨﺎ ﻭﺑﻴﻨﻬﻢ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻓﻤﻦ ﺗﺮﻛﻬﺎ ﻓﻘﺪ ﻛﻔﺮ
“আমাদের ও তাদের মধ্যকার অঙ্গীকার হল সালাত। অতএব যে
ব্যাক্তি সালাত ত্যাগ করল তবে অবশ্যই সে কুফরী
করল।” (আত-তিরমিযী)
এই সালাতও আদায় করতে হবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরিকা বা পদ্ধতিতে। রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
ﺻَﻠُّﻮْﺍ ْﻛَﻤَﺎ ﺭَﺃَﻳْﺘُﻤُﻮْﻧِﻲ ﺃُﺻَﻠِّﻲْ
তোমরা সেভাবে সালাত আদায় কর, যেভাবে আমাকে সালাত
আদায় করতে দেখ। (সহীহুল বুখারী )
রাসুলের তরিকা ব্যথিত সালাত কবুল হবে না। যদি রাসুলের
তরিকায় সালাত আদায় করা হয় তাহলে তার ফলাফল পাওয়া
যাবে। যা পরে বলা হচ্ছে -
ﺣَﻰَّ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻔَﻼَﺡْ (
✔✔‘হায়্যইয়া আলাল্
ফালা---হ’) দুইবার বলা হল
যার অর্থ্ কল্যাণের জন্য এসো।
যদি সালাত আদায় করা হয় আর তা যদি রাসুলের তরিকায় হয়
তাহলেই দুনিয়া ও আখেরাতে সার্বিক কল্যাণ ও নিরাপত্তা
রয়েছে। আল্লাহ বলেন-
ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﻠْﺒِﺴُﻮﺍ ﺇِﻳﻤَﺎﻧَﻬُﻢْ ﺑِﻈُﻠْﻢٍ ﺃُﻭﻟَﺌِﻚَ ﻟَﻬُﻢُ ﻣُﻬْﺘَﺪُﻭﻥَ
ﺍﻷﻣْﻦُ ﻭَﻫُﻢْ
যারা ঈমান এনেছে ও নিজ ঈমান যুলূমের (মানে শিরক) সাথে
মিশ্রিত করে নাই, তাদের জন্যেই রয়েছে নিরাপত্তা আর
তারাই সরল পথ প্রাপ্ত। আল-আন‘আম, ৬/৮২
ﺍﻟﻠﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ (‘
✔✔আল্লা-হু আক্ববার’) দুইবার বলা
হল যার অর্থ্
আল্লাহ সর্বশক্তিমান। আবারও আল্লাহর শ্রেষ্টত্ত্ব ও
মহাত্ত্ব্ ঘোষণা করা হল।
ﻵ ﺇﻟَﻪَ ﺇﻟَّﺎ ﺍﻟﻠﻪُ (‘
✔✔লা---ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’)
একবার বলা হল
যার অর্থ্ আল্লাহ ব্যতীত কোন (সত্য) ইলাহ নেই। আবারও এই
কথা বলে বুঝান হল ইবাদতের হকদার একমাত্র আল্লাহ।
ফজরের আযানের সময় হায়্যইয়া আলাল্ ফালা---হ এর পরে
ﺃُﺻَّﻼَﺓُ ﺧَﻴْﺮٌ ﻣِّﻦَ ﺍﻟﻨَّﻮْﻡِ (‘
✔✔আসসালা-তু খায়আর-রূম মিনান নাউম’) ২
বার বলা হল যার অর্থ্ নিদ্রা হতে সালাত উত্তম।
এ থেকে বুঝা যায় সালাত সর্বোত্তম আমল। রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে “কোন আমল উত্তম”
জিজ্ঞাসা করা হলে তার প্রত্যুত্তরে তিনি বলেছেন-
ﺍﻟﺼﻼﺓ
ﻋﻠﻰ ﻭﻗﺘﻬﺎ ‘
সময় মত সালাত আদায় করা’। (সহীহুল বুখারী ও
সহীহ মুসসিম)
পরিশেষে বলা যায়, আল্লাহর বিধান অনুযায়ী, আল্লাহ ও
তাঁর রাসুলের আনুগত্যের মাধ্যমে, আল্লাহর ক্রোধ ও
যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য, সময়মত সালাত
আদায় করা প্রতিটি মুসলিমের অবশ্যই কর্তব্য। তাহলেই
সালাতের ফলাফল পাওয়া যাবে। আল্লাহ বলেন-
ﻭَﺃَﻗِﻢِ ﺍﻟﺼَّﻼﺓَ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﺼَّﻼﺓَ ﺗَﻨْﻬَﻰ ﻋَﻦِ ﺍﻟْﻔَﺤْﺸَﺎﺀِ
ﻭَﺍﻟْﻤُﻨْﻜَﺮِ
আর সালাত কায়েম কর, নিশ্চয় সালাত
অশ্লীল ও মন্দকাজ
থেকে বিরত রাখে। আল-আনকাবূত, ২৯/৪৫
আল্লাহ অন্যত্র বলেন-
ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﺍﺳْﺘَﻌِﻴﻨُﻮﺍ ﺑِﺎﻟﺼَّﺒْﺮِ ﻭَﺍﻟﺼَّﻼﺓِ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻣَﻊَ ﺍﻟﺼَّﺎﺑِﺮِﻳﻦَ
হে ঈমানদারগণ, তোমরা ধৈর্য্ ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য
চাও, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্য্শীলদের সাথে আছেন। আল-
বাকারাহ, ২/১৫৩

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url