প্রচলিত বিভিন্ন খতম: তাৎপর্য ও পর্যালোচনা ২য় পর্ব
প্রচলিত বিভিন্ন খতম: তাৎপর্য ও পর্যালোচনা (২য়
পর্ব)
খতম শব্দের অর্থ ও প্রয়োগ
‘খতম’ শব্দটি মূলত আরবী ‘ ﺧﺘﻢ ’ শব্দের
বাংলা ব্যবহার। যার মূল অর্থ হচ্ছে :
কোনো বস্তুতে মোহর লাগানো বা তাকে সিলযুক্ত
করা। কর্ম যুগে শব্দটির অর্থ হয়, কাজটি শেষ করা।
এভাবে বিভিন্ন শব্দযোগে তার বিভিন্ন অর্থ হয়
যেমন, মাটি দ্বারা মুখ বন্ধ করা, এড়িয়ে যাওয়া
, হৃদয়ে মোহর এঁটে দেওয়া তথা অবুঝ করে দেওয়া
, কোনো বস্তুর শেষে পৌঁছা ইত্যাদি। কিতাব
বা কুরআন শব্দযোগে তার অর্থ হয়: সম্পূর্ণটুকু
পড়ে শেষ করা। [30]
কুরআনে শব্দটি ক্রিয়ামুলে শুধুমাত্র হৃদয়ে মোহর
এঁটে দেওয়ার অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন :
﴿ ﺧَﺘَﻢَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻰٰ ﻗُﻠُﻮﺑِﻬِﻢۡ ﻭَﻋَﻠَﻰٰ ﺳَﻢۡﻋِﻬِﻢۖۡ ﻭَﻋَﻠَﻰٰٓ ﺃَﺏۡﺻَٰﺮِﻫِﻢۡ ﻏِﺸَٰﻮَﺓۖٞ ﻭَﻟَﻬُﻢ
ۡ ﻋَﺬَﺍﺏٌ ﻋَﻈِﻴﻢٞ ٧ ﴾ [ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ: ٧ ]
‘‘আল্লাহ তাদের হৃদয়ে ও কানে মোহর
এঁটে দিয়েছেন, আর তাদের চোখের উপর
রয়েছে আবরণ রয়েছে’’ ।[31]
তবে বিভিন্ন হাদীসে ‘ ﺧﺘﻢ’ শেষ
করা অর্থে ব্যবহার হয়েছে। যেমন আয়াতটি শেষ
পর্যন্ত পড়া, সুরাটি শেষ পর্যন্ত পড়া ইত্যাদি শব্দ
হাদীসে ব্যবহার হয়েছে। শেষ পর্যন্ত
পড়া বলতে যেমন
পুরোটা পড়া বুঝায়, তেমনি যে কোনো জায়গা
থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত পৌছলেও এ শব্দ ব্যবহার
হয়। এ ক্ষেত্রে পুরো সূরা পড়া উদ্দেশ্য নয়।
যেমন, ইবনে আব্বাস
রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদীসে
, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লামকে ঘুম থেকে উঠে মিসওয়াক ও ওযু
করার পর সূরা আলে ইমরানের ১৯০ নং আয়াত
থেকে পড়তে শুনেন, অতঃপর ইবনে আব্বাস
রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন :
" ﻓﻘﺮﺃ ﻫﺆﻻﺀ ﺍﻵﻳﺎﺕ ﺣﺘﻰ ﺧﺘﻢ ﺍﻟﺴﻮﺭﺓ ."... ( ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ، ﺑﺎﺏ ﺍﻟﺪﻋﺎﺀ ﻓﻲ
ﺻﻼﺓ ﺍﻟﻠﻴﻞ ﻭﻗﻴﺎﻣﻪ، ﺭﻗﻢ 1835: )
‘‘অতঃপর তিনি (রাসূল r ) এই
আয়াতগুলো পড়েন, এমনকি সূরা শেষ
করেন’’। [32]
এখানে সূরা খতম বলতে পুরো সূরা পড়া নয়, বরং ১৯০
নং আয়াত থেকে শুরু করে সূরার শেষ পর্যন্ত পড়া।
কুরআন সম্পূর্ণটা পড়ার ক্ষেত্রে খতম শব্দের
ব্যবহার সাহাবিদের মধ্যে ছিল। তবে ‘হাদীস
খতম’ বা ‘হাদীসটি খতম’ এমন কোনো ব্যবহার
বা প্রয়োগ তাদের মাঝে ছিল
বলে জানতে পারি নি। ‘খতমে বুখারী’র
আলোচনায় এমন ব্যবহার না থাকার কারণ
আমরা বুঝতে পারব ইন-শাআল্লাহ।
তবে হাদীসটি খতম বলতে তা পুরোটা পড়া বুঝাবে।
তাই কেউ একটি হাদীস পড়ে হাদীসটি খতম
করেছি বলতে কোনো বাধা নেই।
এভাবে খতমে দো‘আ ইউনুস বললে পুরো দো
‘আটা পড়া বুঝাবে, যদিও এমন বলার প্রচলন ছিল না।
কিন্তু খতমে ইউনুস বললে: এতবার পড়া, অমুক খতম
বললে: এতবার পড়া, তমুক খতম বললে এতবার পড়া
, এসব ব্যবহার সম্পূর্ণ নতুন মনগড়া বানানো।
খতম শব্দটি শেষ পর্যন্ত পৌঁছা বা পুরোটা পড়ার
অর্থে ব্যবহার হলেও ‘খতম করানো’ বা ‘খতম পড়ানো
’, এমন কোনো ব্যবহার বা প্রয়োগ না সাহাবিদের
যুগে ছিল, না খাইরুল ক্বুরুনে ছিল।
কেননা কুরআন, হাদীস, দো‘আ, দুরূদ, যিকর ইত্যাদির
আমলের এই সিস্টেম বা পদ্ধতিটি একেবারেই নতুন।
তাই ‘খতম’ শব্দের শাব্দিক অর্থ অভিধানে পেলেও
আমাদের সিস্টেমের তার পারিভাষিক
কোনো অর্থ আহলে ইলমদের
কোনো কিতাবে পাবেন না।
আমরা ‘খতম’ বলতে যা বুঝি এ সবকিছু সোনালীযুগ
দূরের কথা, মুহাক্কীক্ব কোনো আলেম থেকে এ
গুলোর আবিষ্কার হয়নি বলে পরিস্কার বুঝা যায়।
আমাদের জানামতে প্রচলিত
যে খতমগুলো রয়েছে সেগুলোর আলোচনায়
আমরা এগুলোর তাৎপর্য, যথার্থতা
, গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করব।
মহাগ্রন্থ আলকুরআন আল্লাহর কালাম
এবং প্রতিটি মানুষের জীবন বিধান। এর গুরুত্ব
কারো কাছে অজানা নয়। তাই সর্বপ্রথম আমাদের
সমাজে অধিকহারে প্রচলিত এই মহাগ্রন্থ আল
কুরআনের খতম দিয়েই শুরু করছি। নিজে কুরআন
না পড়ে, কুরআনের শিক্ষা নিজে গ্রহণ না করে
, যে কোনো কারণে অন্যকে ভাড়া করে কুরআন
পড়িয়ে নেওয়ার যথার্থতা কতটুকু
তা আলোচনা করলে বুঝতে পারব ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহর তওফিক কাম্য।
খতমে কুরআন
কুরআন প্রতিটি মুসলিমের জীবন বিধান। এই
কুরআন তাকে নিয়মিত তেলাওয়াত
করতে হবে এবং এর মর্ম বুঝে তদনুযায়ী জীবন
পরিচালনা করতে হবে। কুরআন শিক্ষা ও
তেলাওয়াতের ফযিলত বিভিন্ন হাদীসে বর্ণিত
হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এরশাদ করেন,
« ﺧﻴﺮﻛﻢ ﻣﻦ ﺗﻌﻠﻢ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻭﻋﻠﻤﻪ » (ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ، ﻛﺘﺎﺏ ﻓﻀﺎﺋﻞ
ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ، ﺑﺎﺏ ﺧﻴﺮﻛﻢ ﻣﻦ ﺗﻌﻠﻢ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻭﻋﻠﻤﻪ )
‘‘তোমাদের
মধ্যে সে ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে নিজে
কুরআন
শিক্ষা করে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়’’।
[33]
এভাবে কুরআন তেলাওয়াতের বেলায়
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ
করেন,
" ﻣﺜﻞ ﺍﻟﺬﻱ ﻳﻘﺮﺃ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻛﺎﻷﺗﺮﺟﺔ ﻃﻌﻤﻬﺎ ﻃﻴﺐ ﻭﺭﻳﺤﻬﺎ ﻃﻴﺐ . ﻭﺍﻟﺬﻱ
ﻻ ﻳﻘﺮﺃ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻛﺎﻟﺘﻤﺮﺓ ﻃﻌﻤﻬﺎ ﻃﻴﺐ ﻭﻻ ﺭﻳﺢ ﻟﻬﺎ ﻭﻣﺜﻞ ﺍﻟﻔﺎﺟﺮ ﺍﻟﺬﻱ
ﻳﻘﺮﺃ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻛﻤﺜﻞ ﺍﻟﺮﻳﺤﺎﻧﺔ ﺭﻳﺤﻬﺎ ﻃﻴﺐ ﻭﻃﻌﻤﻬﺎ ﻣﺮ . ﻭﻣﺜﻞ ﺍﻟﻔﺎﺟﺮ
ﺍﻟﺬﻱ ﻻ ﻳﻘﺮﺃ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻛﻤﺜﻞ ﺍﻟﺤﻨﻈﻠﺔ ﻃﻌﻤﻬﺎ ﻣﺮ ﻭﻻ ﺭﻳﺢ ﻟﻬﺎ." (ﺻﺤﻴﺢ
ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ، ﺑﺎﺏ ﻓﻀﻞ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻋﻠﻰ ﺳﺎﺋﺮ ﺍﻟﻜﻼﻡ )
‘‘কুরআন পাঠকারী (মুমিনের) উদাহরণ
সুস্বাদু সুগন্ধযুক্ত লেবুর ন্যায়। আর
যে (মুমিন) কুরআন পাঠ করে না তার
উদাহরণ এমন খেজুরের মত যা সুগন্ধহীন
তবে খেতে সুস্বাদু। আর যে ফাসিক
কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ রায়হান
জাতীয় গুল্মের মত যার সুগন্ধ
আছে কিন্তু খেতে বিস্বাদযুক্ত। আর
যে ফাসেক কুরআন তেলাওয়াত
করে না তার উদাহরণ ঐ মাকাল ফলের
মত যা খেতেও বিস্বাদ (তিক্ত) আবার
কোনো সুঘ্রানও নেই।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
আরো এরশাদ করেন,
" ﻣﻦ ﻗﺮﺃ ﺣﺮﻓﺎ ﻣﻦ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻠﻪ ﺑﻪ ﺣﺴﻨﺔ ﻭﺍﻟﺤﺴﻨﺔ ﺑﻌﺸﺮ
ﺃﻣﺜﺎﻟﻬﺎ ﻻ ﺃﻗﻮﻝ ﺁﻟﻢ ﺣﺮﻑ ﻭﻟﻜﻦ ﺃﻟﻒ ﺣﺮﻑ ﻭﻻﻡ ﺣﺮﻑ ﻭﻣﻴﻢ ﺣﺮﻑ
." ( ﺳﻨﻦ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ، ﺑﺎﺏ ﻓﻴﻤﻦ ﻗﺮﺃ ﺣﺮﻓﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻣﺎ ﻟﻪ ﻣﻦ
ﺍﻷﺟﺮ )
‘‘যে ব্যক্তি কুরআনের একটি অক্ষর
তিলাওয়াত করবে আল্লাহ তার
আমলনামায় একটি নেকী প্রদান
করেন, আর এই নেকীটি দশটি নেকীর
সমান। আমি বলি না,
‘‘ ﺍﻟﻢ ’’ একটি অক্ষর, বরং ‘‘ ﺃ ’’ একটি অক্ষর
, ‘‘ﻝ ’’ একটি অক্ষর, ‘‘ ﻡ ’’ একটি অক্ষর’’ ।
[35]
কুরআন তেলাওয়াতের এত মর্যাদা, গুরুত্ব, ছওয়াব
কুরআন হাদীস থেকে প্রমাণিত থাকা সত্বেও
প্রচলিত খতমের রূপরেখায় নবী আদর্শ ও
সাহাবা আদর্শের বৈপরিত্য থাকার কারণে এই
কুরআন খতমের হুকুম যদি না বাচক হয় তবে যার
কোনো অস্তিত্ব নবী জীবনে, নবীর শিক্ষা প্রাপ্ত
সাহাবিদের জীবনে নেই তার হুকুম
কী হবে তা সহজেই অনুমেয়।
রূপরেখায় বৈপরিত্য
বলতে যেমন, সাহাবায়ে কেরাম কুরআন
নিজে শিখতেন, নিজে পড়তেন। যিনি জানেন
না তিনি শিখতেন। এই শিক্ষাই তাদেরকে রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছেন।
অনেক সময় কেউ কুরআন অপরের
কাছে শুনতে চাইতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও
কোনো কোনো সাহাবী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু
থেকে শুনার আগ্রহ প্রকাশ করতেন, শুনতেন।
তবে অন্যকে এনে বাড়ীতে খতম করানোর
কোনো রেওয়াজ তাদের মাঝে ছিল না। কেউ
মারা গেলে তাদের যা করণীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিখিয়েছেন তারা শুধু
তাই করতেন। কেউ অসুস্থ হলে
, বিপদে পড়লে কী করণীয় তাও রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে দিয়েছেন। কেউ
মারা গেলে বা অন্য কোনো সমস্যায় পড়লে কুরআন
খতম করা বা খতম করানোর কথা রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
জীবনে একটিবার কাউকে বলেন নি নিজেও করেন
নি। তাই সাহাবিরা এমন কর্ম কখনো করেন নি।
এখন আমরা জানতে চেষ্টা করব প্রচলিত
খতমের হুকুম সম্পর্কে আদর্শবান আলেমদের কী মত।
এ ব্যাপারে আমাদের আলেম সমাজে অত্যন্ত
সুপরিচিত কিতাব ‘‘আহসানুল ফাতওয়া’’ এর লিখক
প্রসিদ্ধ ফক্বিহ রশিদ আহমদ রহ. তার
কিতাবে প্রচলিত কুরআন খতম সম্পর্কে এক প্রশ্নের
উত্তরে যে দলীলভিত্তিক
আলোচনা করেছেন, অসংখ্য আলেমের বক্তব্যের
উদ্ধৃতি পেশ করেছেন তার এই লেখাটির অনুবাদ
তুলে দেওয়াই যথেষ্ট মনে করছি। তার এ বক্তব্যের
পর এ ব্যাপারে আর কিছু লেখার কোনো প্রয়োজন
রয়েছে বলে মনে করি না। এতে আমরা প্রচলিত
খতমের তাৎপর্য যেমন বুঝতে পারব তেমনি অগণিত
আলেমের মতামত পেয়ে যাব। তার আলোচনা পড়ার
পর সত্য সন্ধানী মানুষের মনে আর
কোনো দ্বিধা থাকবে না বলে আশা করি।
নিম্নে তার কিতাবের প্রশ্ন ও উত্তর হুবহু
তুলে ধরছি।
প্রশ্ন: বর্তমানে কুরআন খতমের প্রচলন
ব্যাপক হয়ে গেছে। যেমন, নতুন ঘর ক্রয়
করা হলে কুরআন খতম করা হয়। দোকান
উদ্বোধন করা হলে খতম করা হয়।
কারো চল্লিশা হলে কুরআন খতম
করা হয়, কারো মৃত্যুর তৃতীয়
দিনে কুরআন খতম করা হয়; যাতে মৃত
ব্যক্তির কাছে ছওয়াব পৌঁছে।
কোনো সময় এর ঘোষণা পত্রিকায়
দেওয়া হয় এবং মানুষ দুর-দুরান্ত
থেকে শুধুমাত্র কুরআন খতমের জন্য
আসে । এমন কুরআন খতমের আমলের হুকুম
কী? কুরআন হাদীসের আলোকে এর
কোনো প্রমাণ আছে কি? এতে আমাদের
বন্ধু-বান্ধব বা পরিবারের লোক শরীক
হতে পারবে কি? আমরা নিজে কি এমন
কর্মে শরীক হয়ে গোনাহগার হচ্ছি না?
ﺑﻴﻨﻮﺍ ﺗﻮﺟﺮﻭﺍ - -
সুমতি দানকারীর নামে উত্তর
-1 ﻗﺎﻝ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﻣﺤﻤﺪ ﺇﺳﻤﺎﻋﻴﻞ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ
ﺗﻌﺎﻟﻰ: " ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻗﺘﻴﺒﺔ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺟﺮﻳﺮ ﻋﻦ ﻣﻨﺼﻮﺭ ﻋﻦ ﻣﺠﺎﻫﺪ ﻗﺎﻝ :
ﺩﺧﻠﺖ ﺃﻧﺎ ﻭﻋﺮﻭﺓ ﺑﻦ ﺍﻟﺰﺑﻴﺮ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻓﺈﺫﺍ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺭﺿﻲ
ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﺟﺎﻟﺲ ﺇﻟﻰ ﺣﺠﺮﺓ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﻭﺇﺫﺍ ﻧﺎﺱ ﻳﺼﻠﻮﻥ ﻓﻲ
ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﻀﺤﻰ ﻗﺎﻝ ﻓﺴﺄﻟﻨﺎﻩ ﻋﻦ ﺻﻼﺗﻬﻢ ﻓﻘﺎﻝ ﺑﺪﻋﺔ ."
) ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﺹ 238:ﺝ 1: )
(মুহাম্মদ ইসমাইল বুখারী রাহ.
বলেন: ...........মুজাহিদ (র)
থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং
উরওয়া ইবনু যুবাইর (র) মসজিদে প্রবেশ
করে দেখতে পেলাম, আব্দুল্লাহ ইবনু
উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর
হুজরার পাশে বসে আছেন।
ইতোমধ্যে কিছু লোক
মসজিদে সালাতুদ্দোহা আদায়
করতে লাগল । আমরা তাকে এদের
সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম।
তিনি বললেন, এটা বিদ‘আত। [36]
-2 ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺃﺑﻮ ﺍﻟﺤﺴﻴﻦ ﻣﺴﻠﻢ ﺑﻦ ﺍﻟﺤﺠﺎﺡ ﺑﻦ ﻣﺴﻠﻢ ﺍﻟﻘﺸﻴﺮﻱ
ﻭﺣﺪﺛﻨﺎ ﺇﺳﺤﺎﻕ ﺑﻦ ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﺃﺧﺒﺮﻧﺎ ﺟﺮﻳﺮ ﻋﻦ ﻣﻨﺼﻮﺭ ﻋﻦ ﻣﺠﺎﻫﺪ ﻗﺎﻝ ﺩﺧﻠﺖ
ﺃﻧﺎ ﻭﻋﺮﻭﺓ ﺑﻦ ﺍﻟﺰﺑﻴﺮ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻓﺈﺫﺍ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺟﺎﻟﺲ ﺇﻟﻰ ﺣﺠﺮﺓ
ﻋﺎﺋﺸﺔ ﻭﺍﻟﻨﺎﺱ ﻳﺼﻠﻮﻥ ﺍﻟﻀﺤﻰ ﻓﻰ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻓﺴﺄﻟﻨﺎﻩ ﻋﻦ ﺻﻼﺗﻬﻢ ﻓﻘﺎﻝ
ﺑﺪﻋﺔ.
(ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ ﺹ 409: ﺝ 1:
(এবং ইমাম আবুল-হুসাইন মুসলিম ইবন
হাজ্জাজ ইবন মুসলিম আল-
কুশাইরী বলেন: ........... মুজাহিদ (র)
থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং
উরওয়া ইবনু যুবাইর (র) মাসজিদে প্রবেশ
করে দেখতে পেলাম, আবদুল্লাহ ইবনু
উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা -
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর
হুজরার পাশে বসে আছেন। আর কিছু
লোক মসজিদে সালাতুদ্দোহা আদায়
করছে। আমরা তাকে এদের সালাত
সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম।
তিনি বললেন, এটা বিদ‘আত। [37]
-3 ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﻣﺤﻲ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﺃﺑﻮ ﺯﻛﺮﻳﺎ ﻳﺤﻴﻰ ﺑﻦ ﺷﺮﻑ ﺍﻟﻨﻮﻭﻱ ﺭﺣﻤﻪ
ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ: ﺍﻧﻬﻢ ﺳﺄﻟﻮﺍ ﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﻋﻦ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﺼﻠﻮﻥ
ﺍﻟﻀﺤﻰ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻓﻘﺎﻝ ﺑﺪﻋﺔ ) ﻫﺬﺍ ﻗﺪ ﺣﻤﻠﻪ ﺍﻟﻘﺎﺿﻲ ﻭﻏﻴﺮﻩ ﻋﻠﻰ
ﺃﻥ ﻣﺮﺍﺩﻩ ﺃﻥ ﺍﻇﻬﺎﺭﻫﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻭﺍﻻﺟﺘﻤﺎﻉ ﻟﻬﺎ ﻫﻮ ﺍﻟﺒﺪﻋﺔ ﻻ ﺃﻥ
ﺃﺻﻞ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﻀﺤﻰ ﺑﺪﻋﺔ ﻭﻗﺪ ﺳﺒﻘﺖ ﺍﻟﻤﺴﺄﻟﺔ ﻓﻲ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺼﻼﺓ.
( ﺷﺮﺡ ﺍﻟﻨﻮﻭﻱ ﻋﻠﻰ ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ ﺻﻔﺤﻪ ﻣﻨﺪﺭﺟﻪ ﺑﺎﻻ )
(এবং শাইখ মুহিউদ্দীন আবু
যাকারিয়া ইয়াহ্ইয়া ইবন শরফ
নববী রাহ. বলেন, তারা ইবনে উমর
রাদিয়াল্লাহু আনহুকে যারা মসজিদে
সালাতুদদ্বোহা আদায় করছিল তাদের
সালাত
সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিল, তিনি
বললেন বিদ‘আত । এটা ক্বাযী
[38] এবং অন্যান্যরা এর অর্থ
নিয়েছেন, তার উদ্দেশ্য
হলো সালাতকে মসজিদে প্রকাশ
করা এবং এর জন্য সমবেত হওয়াটাই
হচ্ছে বিদ‘আত। মূল
সালাতুদদ্বোহা বিদ‘আত নয়। সালাত
অধ্যায়ে মাসআলাটির
আলোচনা হয়েছে।) [39]
-4 ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻻﻣﺎﻡ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺷﻬﺎﺏ ﺍﻟﻤﻌﺮﻭﻑ ﺑﺎﺑﻦ ﺍﻟﺒﺰﺍﺭ ﺍﻟﻜﺮﺩﺭﻱ
ﺍﻟﺤﻨﻔﻲ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ : ﻭﻗﺪ ﺻﺢ ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻣﺴﻌﻮﺩ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ
ﺃﻧﻪ ﺳﻤﻊ ﻗﻮﻣﺎ ﺍﺟﺘﻤﻌﻮﺍ ﻓﻲ ﻣﺴﺠﺪ ﻳﻬﻠﻠﻮﻥ ﻭﻳﺼﻠﻮﻥ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺼﻼﺓ
ﻭﺍﻟﺴﻼﻡ ﺟﻬﺮﺍ، ﻓﺮﺍﺡ ﺇﻟﻴﻬﻢ ﻓﻘﺎﻝ ﻣﺎ ﻋﻬﺪﻧﺎ ﺩﻟﻚ ﻋﻠﻰ ﻋﻬﺪﻩ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
ﻭﻣﺎ ﺃﺭﺍﻛﻢ ﺇﻻ ﻣﺒﺘﺪﻋﻴﻦ، ﻓﻤﺎ ﺯﺍﻝ ﻳﺬﻛﺮ ﺫﻟﻚ ﺣﺘﻰ ﺃﺧﺮﺟﻬﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ.
( ﺑﺰﺍﺯﻳﺔ ﺑﻬﺎﻣﺶ ﺍﻟﻬﻨﺪﻳﻪ، ﺝ 6: ﺹ 378: )
(এবং ইমাম মুহাম্মদ ইবন শিহাব আল-
কুরদুরী আল-হানাফী রাহ.
[40] যিনি ইবনে বায্যার
নামে পরিচিত, তিনি বলেন, ইবনে
মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু
থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত যে
, তিনি শুনতে পান একদল লোক
মসজিদে সমবেত হয়ে উচ্চস্বরে তাহলীল
এবং নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দুরূদ
পড়ছে। অতএব তিনি তাদের
কাছে গেলেন
এবং বললেন, আমরাতো রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
যুগে এমনটি পাইনি।
আমিতো তোমাদেরকে বিদ‘আতি ছাড়া
কিছু দেখছি না।
তিনি একথা বলতে বলতে তাদেরকে
মসজিদ হতে বের করে দেন।) [41]
-5 ﻭﻗﺎﻝ ﻓﻲ ﻣﻮﺿﻊ ﺁﺧﺮ: ﻭﻳﻜﺮﻩ ﺍﺗﺨﺎﺫ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﻓﻲ ﺍﻟﻴﻮﻡ ﺍﻷﻭﻝ ﻭﺍﻟﺜﺎﻟﺚ
ﻭﺑﻌﺪ ﺍﻷﺳﺒﻮﻉ ﻭﺍﻷﻋﻴﺎﺩ ﻭﻧﻘﻞ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻘﺒﺮ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﻮﺍﺳﻢ ﻭﺍﺗﺨﺎﺫ
ﺍﻟﺪﻋﻮﺓ ﺑﻘﺮﺍﺀﺓ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻭﺟﻤﻊ ﺍﻟﺼﻠﺤﺎﺀ ﻭﺍﻟﻘﺮﺍﺀ ﻟﻠﺨﺘﻢ ﺃﻭ ﻟﻘﺮﺍﺀﺓ ﺳﻮﺭﺓ
ﺍﻷﻧﻌﺎﻡ ﺃﻭ ﺍﻹﺧﻼﺹ. ﻓﺎﻟﺤﺎﺻﻞ ﺃﻥ ﺍﺗﺨﺎﺫ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﻋﻨﺪ ﻗﺮﺍﺀﺓ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻷﺟﻞ
ﺍﻷﻛﻞ ﻳﻜﺮﻩ . ( ﺑﺰﺍﺯﻳﺔ ﺑﻬﺎﻣﺶ ﺍﻟﻬﻨﺪﻳﻪ، ﺝ 4: ﺹ 81: )
(এবং তিনি আরেক জায়গায়
বলেন, আর মৃত্যুর প্রথম দিন, দ্বিতীয়
দিন, সাপ্তাহ পর
এবং অনুষ্ঠানে খাবারের আয়োজন
করা, বিভিন্ন মৌসুমে কবরে খাবার
নিয়ে যাওয়া, কুরআন পড়ার জন্য
দাওয়াতের আয়োজন করা এবং সৎ
লোক ও ক্বারীদেরকে খতমের জন্য
বা সূরা আন‘আম অথবা সূরা ইখলাস
পড়ার জন্য সমবেত করা মাকরূহ।
মোটকথা, কুরআন পড়ার সময় খাওয়ার
জন্য দাওয়াতের আয়োজন
করা মাকরূহ।) [42]
-6 ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻟﻔﻘﻴﻪ ﺍﻟﻤﺨﺪﻭﻡ ﻣﺤﻤﺪ ﺟﻌﻔﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﻌﻼﻣﺔ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻜﺮﻳﻢ ﺍﻟﺒﻮﺑﻜﺎﻧﻲ
ﺍﻟﺴﻨﺪﻱ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻴﺮﻓﻴﺔ : ﻗﺮﺍﺀﺓ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻷﺟﻞ ﺍﻟﻤﻬﻤﺎﺕ
ﻭﺍﻟﺒﺄﺱ ﻣﻜﺮﻭﻩ . ( ﻭﺑﻌﺪ ﺻﻔﺤﺔ ) ﻳﻜﺮﻩ ﻟﻠﻘﻮﻡ ﺃﻥ ﻳﻘﺮﺃ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺟﻤﻠﺔ
ﻟﺘﻀﻤﻨﻬﺎ ﺗﺮﻙ ﺍﻻﺳﺘﻤﺎﻉ ﻭﺍﻹﻧﺼﺎﺕ ﺍﻟﻤﺄﻣﻮﺭ ﺑﻬﻤﺎ. ﻭﻗﻴﻞ ﻻ ﺑﺄﺱ ﺑﻪ . ﻓﻲ
ﺍﻟﺘﺘﺎﺭﺧﺎﻧﻴﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺤﻴﻂ: ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺸﺎﻳﺦ ﻣﻦ ﻗﺎﻝ : ﺇﻥ ﺧﺘﻢ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺑﺎﻟﺠﻤﺎﻋﺔ
ﺟﻬﺮﺍ ﻭﻳﺴﻤﻰ " ﺳﻴﺒﺎﺭﻩ ﺧﻮﺍﻧﺪﻩ" ﻣﻜﺮﻭﻩ، (ﺍﻟﻰ ﻗﻮﻟﻪ ) ﻓﻲ ﻋﻴﻦ ﺍﻟﻌﻠﻢ:
ﻭﻻ ﻳﺨﺘﻢ ﻓﻲ ﺃﻗﻞ ﻣﻦ ﺛﻼﺛﺔ ﺃﻳﺎﻡ ( ﻭﺑﻌﺪ ﺻﻔﺤﺔ ) ﻓﻲ ﻣﻔﻴﺪ ﺍﻟﻤﺴﺘﻔﻴﺪ ﻣﻦ
ﺍﻟﻨﺼﺎﺏ : ﻗﺮﺍﺀﺓ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺠﺎﻟﺲ ﻳﻜﺮﻩ، ﻷﻧﻪ ﻳﻘﺮﺃ ﻃﻤﻌﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ،
ﻭﻛﺬﻟﻚ ﻓﻲ ﺍﻷﺳﻮﺍﻕ، ﻭﻛﺬﻟﻚ ﻋﻠﻰ ﺭﺃﺱ ﺍﻟﻘﺒﺮ . ﻗﻴﻞ، ﻭﻟﻮ ﻗﺮﺃ ﻭﻻ ﻳﺴﺄﻝ
ﻭﺍﻟﻨﺎﺱ ﺃﻋﻄﻮﻩ ﻣﻦ ﻏﻴﺮ ﺳﺆﺍﻝ ﻗﺎﻝ ﻳﻜﺮﻩ ﺃﻳﻀﺎ، ﻷﻧﻪ ﺇﺫﺍ ﻟﻢ ﻳﻘﺼﺪ
ﺍﻟﺴﺆﺍﻝ ﻟِﻢَ ﻻ ﻳﺠﻠﺲ ﻓﻲ ﺑﻴﺘﻪ ﻳﻘﺮﺃ . ( ﺍﻟﻤﺘﺎﻧﺔ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺮﻣﺔ ﻋﻦ ﺍﻟﺨﺰﺍﻧﺔ،
632 ، 633، 634 )
(এবং ফক্বীহ মুহাম্মদ জাফর
....সিন্দি বলেন, সাইরাফিয়্যাহ
কিতাবে[44] ‘‘কঠিন বিষয় এবং অসুবিধার
কারণে কুরআন পড়া মাকরূহ’’ । (এবং এক
পৃষ্ঠা পর) মুফিদুল মুস্তাফিদ
কিতাবে এসেছে, ‘‘দলবদ্ধ
হয়ে বৈঠকে কুরআন
পড়া মাকরূহ, কেননা এতে শ্রবণ
করা এবং চুপ থেকে শোনা পরিত্যাগ
করা হয় অথচ এ দুটি বিষয়
নির্দেশিত।’’ কেউ কেউ বলেন,
‘‘এতে অসুবিধা নেই’’ ।
‘মুহিত’ কিতাবের
উদ্ধৃতিতে ‘তাতারখানিয়া
’ কিতাবে রয়েছে, ‘‘মাশায়েখের
মধ্যে কেউ কেউ বলেন, নিশ্চয় দলবদ্ধ
হয়ে উচ্চস্বরে কুরআন তেলাওয়াত
করা যাকে বলা হয় ‘সীপারা পড়া
’ তা মাকরূহ। (আরো বলেন) আইনুল
ইলমে রয়েছে, তিন দিনের কমে খতম
করবে না ’’ । (আরো এক পৃষ্ঠা পর), ‘‘মুফিদুল
মুসতাফিদে নেসাব
থেকে বলা হয়েছে
, সমাবেশস্থলে কুরআন
পড়া মাকরূহ, কেননা পাঠক তা দুনিয়ার
লোভে পড়ছে।
এভাবে বাজারে পড়া মাকরূহ। কবরের
কাছে পড়াকেও এভাবে মাকরূহ
বলা হয়েছে। যদি পড়ে কিন্তু
(কারো কাছে কিছু) না চায়, আর মানুষ
তাকে চাওয়া ব্যতীতই দান করে তবে তাও
মাকরূহ বলেছেন, কেননা চাওয়ার
ইচ্ছা না থাকলে সে কেন
ঘরে বসে পড়ছে না’’ ।
7 - ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻟﻌﻼﻣﺔ ﺍﺑﻦ ﻋﺎﺑﺪﻳﻦ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ : (ﺗﺘﻤﺔ ) ﺃﺷﺎﺭ ﺑﻘﻮﻟﻪ
ﻓﺮﺍﺩﻯ ﺇﻟﻰ ﻣﺎ ﺫﻛﺮﻩ ﺑﻌﺪ ﻓﻲ ﻣﺘﻨﻪ ﻣﻦ ﻗﻮﻟﻪ ﻭﻳﻜﺮﻩ ﺍﻻﺟﺘﻤﺎﻉ ﻋﻠﻰ ﺇﺣﻴﺎﺀ
ﻟﻴﻠﺔ ﻣﻦ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﻠﻴﺎﻟﻲ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺎﺟﺪ ﻭﺗﻤﺎﻣﻪ ﻓﻲ ﺷﺮﺣﻪ ﻭﺻﺮﺡ ﺑﻜﺮﺍﻫﺔ ﺫﻟﻚ
ﻓﻲ ﺍﻟﺤﺎﻭﻱ ﺍﻟﻘﺪﺳﻲ ﻗﺎﻝ ﻭﻣﺎ ﺭﻭﻱ ﻣﻦ ﺍﻟﺼﻠﻮﺍﺕ ﻓﻲ ﻫﺬﻩ ﺍﻷﻭﻗﺎﺕ
ﻳﺼﻠﻲ ﻓﺮﺍﺩﻯ ﻏﻴﺮ ﺍﻟﺘﺮﺍﻭﻳﺢ." ﻗﺎﻝ ﻓﻲ ﺍﻟﺒﺤﺮ : ﻗﺎﻝ ﻓﻲ ﺍﻟﺒﺤﺮ ﻭﻣﻦ ﻫﻨﺎ
ﻳﻌﻠﻢ ﻛﺮﺍﻫﺔ ﺍﻻﺟﺘﻤﺎﻉ ﻋﻠﻰ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﺮﻏﺎﺋﺐ ﺍﻟﺘﻲ ﺗﻔﻌﻞ ﻓﻲ ﺭﺟﺐ ﺃﻭ ﻓﻲ
ﺃﻭﻟﻰ ﺟﻤﻌﺔ ﻣﻨﻪ ﻭﺃﻧﻬﺎ ﺑﺪﻋﺔ ﻭﻣﺎ ﻳﺤﺘﺎﻟﻪ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺮﻭﻡ ﻣﻦ ﻧﺬﺭﻫﺎ ﻟﺘﺨﺮﺝ ﻋﻦ
ﺍﻟﻨﻔﻞ ﻭﺍﻟﻜﺮﺍﻫﺔ ﻓﺒﺎﻃﻞ ﺍ ﻫـ ﻗﻠﺖ: ﻭﺻﺮﺡ ﺑﺬﻟﻚ ﻓﻲ ﺍﻟﺒﺰﺍﺯﻳﺔ ﻛﻤﺎ
ﺳﻴﺬﻛﺮﻩ ﺍﻟﺸﺎﺭﺡ ﺁﺧﺮ ﺍﻟﺒﺎﺏ ﻭﻗﺪ ﺑﺴﻂ ﺍﻟﻜﻼﻡ ﻋﻠﻴﻬﺎ ﺷﺎﺭﺣﺎ ﺍﻟﻤﻨﻴﺔ ﻭﺻﺮﺣﺎ
ﺑﺄﻥ ﻣﺎ ﺭﻭﻱ ﻓﻴﻬﺎ ﺑﺎﻃﻞ ﻣﻮﺿﻮﻉ . ﻭﻟﻠﻌﻼﻣﺔ ﻧﻮﺭ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﺍﻟﻤﻘﺪﺳﻲ ﻓﻴﻬﺎ
ﺗﺼﻨﻴﻒ ﺣﺴﻦ ﺳﻤﺎﻩ ( ﺭﺩﻉ ﺍﻟﺮﺍﻏﺐ ﻋﻦ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﺮﻏﺎﺋﺐ ) ﺃﺣﺎﻁ ﻓﻴﻪ ﺑﻐﺎﻟﺐ
ﻛﻼﻡ ﺍﻟﻤﺘﻘﺪﻣﻴﻦ ﻭﺍﻟﻤﺘﺄﺧﺮﻳﻦ ﻣﻦ ﻋﻠﻤﺎﺀ ﺍﻟﻤﺬﺍﻫﺐ ﺍﻷﺭﺑﻌﺔ . (ﺭﺩ
ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ،ﺝ 2: ﺹ 26: )
(এবং আল্লামা ইবনে আবেদিন রাহ.
বলেন, (পরিশিষ্ট) মুসান্নিফ তার
কথা ‘‘একা একা
’’ বলে তিনি সেদিকে ইঙ্গিত করেন
যা একটু পরে তিনি তার মতনে (বইয়ের মূল
অংশে) এই বলে উল্লেখ করেন, ‘‘আর এই
রাতগুলো জাগ্রত থেকে কাটানোর জন্য
মসজিদে সমবেত
হওয়া মাকরূহ’’ পুরো আলোচনা তার
ব্যখ্যাগ্রন্থে রয়েছে। আল-হাবীল
ক্বুদসীতে তা মাকরূহ
বলে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। বলেছেন,
‘‘এই রাতগুলোতে যে সালাতের কথার
বর্ণনা রয়েছে তা একা একা পড়তে হবে
, একমাত্র তারাবীহ ব্যতীত’’ ।
আল-বাহরে বলেন,
‘‘এথেকে জানা যায় যে, সালাতুর রাগাইব
যা রজবের প্রথম জুমুআয় পড়া হয়, এর জন্য
সমবেত হওয়া মাকরূহ এবং এটি বিদ‘আত।
এটাকে নফল ও মাকরূহ থেকে বের করার
জন্য রোমবাসীরা এই সালাতের
মান্নতের যে হীলা অবলম্বন
করে তা বাতিল’’ ।
আমি বলি (ইবনে আবেদীন)
বায্যাযিয়ায় তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত
করা হয়েছে, যেমন ব্যাখ্যাকার অধ্যায়ের
শেষে উল্লেখ করবেন। আল-মুনইয়াহ এর দুই
ব্যাখ্যাকার এর উপর দীর্ঘ
আলোচনা করেছেন
এবং তারা উভয়ে স্পষ্ঠভাবে বলেছেন যে,
‘‘এ ব্যাপারে যা বর্ণনা করা হয় সব বাতিল
মনগড়া। আল্লামা নুরুদ্দীন মাক্বদিসীর
এ বিষয়ে একটি সুন্দর
রচনা রয়েছে তিনি এর নাম
দিয়েছেন ‘রাদ্উর রাগিব আন সালাতির
রাগাইব’ তিনি এখানে চার মাযহাবের
পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমেদের কথার
অধিকাংশ সংকলন করেছেন।
ﻭﻗﺎﻝ ﻓﻲ ﻣﻮﺿﻊ ﺁﺧﺮ : ﻭﻳﻜﺮﻩ ﺍﺗﺨﺎﺫ ﺍﻟﻀﻴﺎﻓﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻤﻴﺖ
ﻷﻧﻪ ﺷﺮﻉ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﺮﻭﺭ ﻻ ﻓﻲ ﺍﻟﺸﺮﻭﺭ ﻭﻫﻲ ﺑﺪﻋﺔ ﻣﺴﺘﻘﺒﺤﺔ
ﻭﺭﻭﻯ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺃﺣﻤﺪ ﻭﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﻪ ﺑﺈﺳﻨﺎﺩ ﺻﺤﻴﺢ ﻋﻦ ﺟﺮﻳﺮ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻗﺎﻝ
ﻛﻨﺎ ﻧﻌﺪ ﺍﻻﺟﺘﻤﺎﻉ ﺇﻟﻰ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻤﻴﺖ ﻭﺻﻨﻌﻬﻢ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﻴﺎﺣﺔ ﺍﻫـ ﻭﻓﻲ
ﺍﻟﺒﺰﺍﺯﻳﺔ ﻭﻳﻜﺮﻩ ﺍﺗﺨﺎﺫ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﻓﻲ ﺍﻟﻴﻮﻡ ﺍﻷﻭﻝ ﻭﺍﻟﺜﺎﻟﺚ ﻭﺑﻌﺪ ﺍﻷﺳﺒﻮﻉ
ﻭﻧﻘﻞ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻘﺒﺮ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﻮﺍﺳﻢ ﻭﺍﺗﺨﺎﺫ ﺍﻟﺪﻋﻮﺓ ﻟﻘﺮﺍﺀﺓ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ
ﻭﺟﻤﻊ ﺍﻟﺼﻠﺤﺎﺀ ﻭﺍﻟﻘﺮﺍﺀ ﻟﻠﺨﺘﻢ ﺃﻭ ﻟﻘﺮﺍﺀﺓ ﺳﻮﺭﺓ ﺍﻷﻧﻌﺎﻡ ﺃﻭ
ﺍﻹﺧﻼﺹ ﻭﺍﻟﺤﺎﺻﻞ ﺃﻥ ﺍﺗﺨﺎﺫ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﻋﻨﺪ ﻗﺮﺍﺀﺓ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻷﺟﻞ ﺍﻷﻛﻞ
ﻳﻜﺮﻩ ﻭﻓﻴﻬﺎ ﻣﻦ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻻﺳﺘﺤﺴﺎﻥ ﻭﺇﻥ ﺍﺗﺨﺬﻃﻌﺎﻣﺎ ﻟﻠﻔﻘﺮﺍﺀ ﻛﺎﻥ ﺣﺴﻨﺎ ﺍﻩ
ﻭﺃﻃﺎﻝ ﻓﻲ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﻤﻌﺮﺍﺝ ﻭﻗﺎﻝ ﻭﻫﺬﻩ ﺍﻷﻓﻌﺎﻝ ﻛﻠﻬﺎ ﻟﻠﺴﻤﻌﺔ ﻭﺍﻟﺮﻳﺎﺀ
ﻓﻴﺤﺘﺮﺯ ﻋﻨﻬﺎ ﻷﻧﻬﻢ ﻻ ﻳﺮﻳﺪﻭﻥ ﺑﻬﺎ ﻭﺟﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺍﻫـ (ﺭﺩ
ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ:ﺝ 2: ﺹ 240: )
(এবং তিনি আরেক জায়গায় বলেন, আর
মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ
থেকে যিয়াফত খাবারের আয়োজন
করা মাকরূহ। কেননা তা আনন্দের বেলায়
শরীয়ত সম্মত, অনিষ্টতার বেলায় নয়। আর
এটা মন্দ বিদ‘আত । ইমাম আহমদ
এবং ইবনে মাজাহ বিশুদ্ধ সনদে জারীর
ইবন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন,
জারীর বলেন, ‘‘মৃত ব্যক্তির
পরিবারের নিকট সমবেত
হওয়া এবং তারা খাবারের আয়োজন
করাকে আমরা নিয়াহাহ (বিলাপ) গণ্য
করতাম’’। বায্যাযিয়ায় রয়েছে, ‘‘আর মৃত্যুর
প্রথম দিন, দ্বিতীয় দিন, সপ্তাহ পর
এবং অনুষ্ঠানে খাবারের আয়োজন করা
, বিভিন্ন মৌসুমে কবরে খাবার
নিয়ে যাওয়া, কুরআন পড়ার জন্য
দাওয়াতের আয়োজন করা এবং সৎ লোক ও
ক্বারীদেরকে খতমের জন্য
বা সূরা আন‘আম অথবা সূরা ইখলাস পড়ার
জন্য সমবেত করা মাকরূহ। মোটকথা
, কুরআন পড়ার সময় খাওয়ার জন্য
দাওয়াতের আয়োজন
করা মাকরূহ’’ এবং উক্ত কিতাবের
ইসতেহসান অধ্যায়ে রয়েছে, ‘‘যদি দরিদ্র
মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন
করে তবে ভাল’’ । আর মি‘রাজে এ
বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন
এবং বলেছেন, ‘‘এই সবগুলো হচ্ছে লোক
দেখানো ও লোক শুনানো। তাই এ সব
থেকে বিরত থাকবে
, কেননা তারা এগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর
সন্তুষ্টি কামনা করে না’’ ।)
ﻭﻗﺎﻝ ﻓﻲ ﻣﻮﺿﻊ ﺁﺧﺮ: ﻭﻗﺪ ﺃﻃﻨﺐ ﻓﻲ ﺭﺩﻩ ﺻﺎﺣﺐ ﺗﺒﻴﻴﻦ ﺍﻟﻤﺤﺎﺭﻡ ﻣﺴﺘﻨﺪﺍ
ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻨﻘﻮﻝ ﺍﻟﺼﺮﻳﺤﺔ ﻓﻤﻦ ﺟﻤﻠﺔ ﻛﻼﻣﻪ ﻗﺎﻝ ﺗﺎﺝ ﺍﻟﺸﺮﻳﻌﺔ ﻓﻲ ﺷﺮﺡ
ﺍﻟﻬﺪﺍﻳﺔ ﺇﻥ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺑﺎﻷﺟﺮﺓ ﻻ ﻳﺴﺘﺤﻖ ﺍﻟﺜﻮﺍﺏ ﻻ ﻟﻠﻤﻴﺖ ﻭﻻ ﻟﻠﻘﺎﺭﻯﺀ ﻭﻗﺎﻝ
ﺍﻟﻌﻴﻨﻲ ﻓﻲ ﺷﺮﺡ ﺍﻟﻬﺪﺍﻳﺔ ﻭﻳﻤﻨﻊ ﺍﻟﻘﺎﺭﻯﺀ ﻟﻠﺪﻧﻴﺎ ﻭﺍﻵﺧﺬ ﻭﺍﻟﻤﻌﻄﻲ
ﺁﺛﻤﺎﻥ ﻓﺎﻟﺤﺎﺻﻞ ﺃﻥ ﻣﺎ ﺷﺎﻉ ﻓﻲ ﺯﻣﺎﻧﻨﺎ ﻣﻦ ﻗﺮﺍﺀﺓ ﺍﻷﺟﺰﺍﺀ ﺑﺎﻷﺟﺮﺓ ﻻ ﻳﺠﻮﺯ
ﻷﻥ ﻓﻴﻪ ﺍﻷﻣﺮ ﺑﺎﻟﻘﺮﺍﺀﺓ ﻭﺇﻋﻄﺎﺀ ﺍﻟﺜﻮﺍﺏ ﻟﻶﻣﺮ ﻭﺍﻟﻘﺮﺍﺀﺓ ﻷﺟﻞ ﺍﻟﻤﺎﻝ ﻓﺈﺫﺍ
ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻟﻠﻘﺎﺭﻯﺀ ﺛﻮﺍﺏ ﻟﻌﺪﻡ ﺍﻟﻨﻴﺔ ﺍﻟﺼﺤﻴﺤﺔ ﻓﺄﻳﻦ ﻳﺼﻞ ﺍﻟﺜﻮﺍﺏ ﺇﻟﻰ
ﺍﻟﻤﺴﺘﺄﺟﺮ ﻭﻟﻮﻻ ﺍﻷﺟﺮﺓ ﻣﺎ ﻗﺮﺃ ﺃﺣﺪ ﻷﺣﺪ ﻓﻲ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺰﻣﺎﻥ ﺑﻞ ﺟﻌﻠﻮﺍ
ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺍﻟﻌﻈﻴﻢ ﻣﻜﺴﺒﺎ ﻭﻭﺳﻴﻠﺔ ﺇﻟﻰ ﺟﻤﻊ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﺇﻧﺎ ﻟﻠﻪ ﻭﺇﻧﺎ ﺇﻟﻴﻪ ﺭﺍﺟﻌﻮﻥ
( ﻭﺑﻌﺪ ﺃﺳﻄﺮ ) ﻛﻤﺎ ﺻﺮﺡ ﺑﻪ ﻓﻲ ﺍﻟﺘﺎﺗﺎﺭﺧﺎﻧﻴﺔ ﺣﻴﺚ ﻗﺎﻝ ﻻ ﻣﻌﻨﻰ ﻟﻬﺬﻩ
ﺍﻟﻮﺻﻴﺔ ﻭﻟﺼﻠﺔ ﺍﻟﻘﺎﺭﻯﺀ ﺑﻘﺮﺍﺀﺗﻪ ﻷﻥ ﻫﺬﺍ ﺑﻤﻨﺰﻟﺔ ﺍﻷﺟﺮﺓ ﻭﺍﻹﺟﺎﺭﺓ ﻓﻲ ﺫﻟﻚ
ﺑﺎﻃﻠﺔ ﻭﻫﻲ ﺑﺪﻋﺔ ﻭﻟﻢ ﻳﻔﻌﻠﻬﺎ ﺃﺣﺪ ﻣﻦ ﺍﻟﺨﻠﻔﺎﺀ (ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ :ﺝ 6: ﺹ 56: )
(এবং তিনি আরেক জায়গায়
বলেন, তাবয়িনুল-মাহারিমের লিখক
স্পষ্ট উদ্ধৃতির মাধ্যমে এসব
প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে অনেক দীর্ঘ
আলোচনা করেন। তার বক্তব্যের মধ্য
থেকে রয়েছে,‘‘তাজুশ্-শরীয়াহ বলেন,
পারিশ্রামিকের মাধ্যমে কুরআন
পড়া ছওয়াবের উপযুক্ত হয় না
, না মৃতব্যক্তির জন্য, না পাঠকের জন্য’’।
হেদায়ার ব্যখ্যাগ্রন্থে আইনি
লিখেন, ‘‘দুনিয়ার জন্য কুরআন
পাঠককে বাধা দেওয়া হবে, দাতা
, গ্রহিতা উভয়ে গোনাহগার হবে’’।
মোটকথা, আমাদের যুগে পারিশ্রমিকের
মাধ্যমে কুরআনের অংশ পড়ার যে প্রচলন
বিস্তার লাভ করেছে তা জায়েয
নেই, কেননা এখানে পড়ার নির্দেশ
এবং ছওয়াব
নির্দেশদাতাকে দেওয়া রয়েছে, আর
পড়া হচ্ছে অর্থের কারণে। অতএব বিশুদ্ধ
নিয়্যাত না থাকার কারণে পাঠকই যখন
ছওয়াব পাচ্ছে না তাহলে কী-
ভাবে পাঠক নিয়োগকারীর কাছে ছওয়াব
পৌছবে। যদি পারিশ্রমিক না থাকত
তবে আজকাল কেউ
-10 ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻳﻀﺎ : ﻭﻧﻘﻞ ﺍﻟﻌﻼﻣﺔ ﺍﻟﺤﻠﻮﺍﻧﻲ ﻓﻲ ﺣﺎﺷﻴﺔ ﺍﻟﻤﻨﺘﻬﻰ
ﺍﻟﺤﻨﺒﻠﻲ ﻋﻦ ﺷﻴﺦ ﺍﻹﺳﻼﻡ ﺗﻘﻲ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﻣﺎ ﻧﺼﻪ ﻭﻻ ﻳﺼﺢ ﺍﻻﺳﺘﺌﺠﺎﺭ ﻋﻠﻰ
ﺍﻟﻘﺮﺍﺀﺓ ﻭﺇﻫﺪﺍﺅﻫﺎ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻤﻴﺖ ﻷﻧﻪ ﻟﻢ ﻳﻨﻘﻞ ﻋﻦ ﺃﺣﺪ ﻣﻦ ﺍﻷﺋﻤﺔ ﺍﻹﺫﻥ
ﻓﻲ ﺫﻟﻚ ﻭﻗﺪ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﺇﻥ ﺍﻟﻘﺎﺭﻯﺀ ﺇﺫﺍ ﻗﺮﺃ ﻷﺟﻞ ﺍﻟﻤﺎﻝ ﻓﻼ ﺛﻮﺍﺏ ﻟﻪ
ﻓﺄﻱ ﺷﻲﺀ ﻳﻬﺪﻳﻪ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻤﻴﺖ ﻭﺇﻧﻤﺎ ﻳﺼﻞ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻤﻴﺖ ﺍﻟﻌﻤﻞ ﺍﻟﺼﺎﻟﺢ
ﻭﺍﻻﺳﺘﺌﺠﺎﺭ ﻋﻠﻰ ﻣﺠﺮﺩ ﺍﻟﺘﻼﻭﺓ ﻟﻢ ﻳﻘﻞ ﺑﻪ ﺃﺣﺪ ﻣﻦ ﺍﻷﺋﻤﺔ ( ﻭﺑﻌﺪ ﺍﺳﻄﺮ )
ﻭﺣﻴﻨﺌﺬ ﻓﻘﺪ ﻇﻬﺮ ﻟﻚ ﺑﻄﻼﻥ ﻣﺎ ﺃﻛﺐ ﻋﻠﻴﻪ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻌﺼﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﻮﺻﻴﺔ
ﺑﺎﻟﺨﺘﻤﺎﺕ ﻭﺍﻟﺘﻬﺎﻟﻴﻞ ﻣﻊ ﻗﻄﻊ ﺍﻟﻨﻈﺮ ﻋﻤﺎ ﻳﺤﺼﻞ ﻓﻴﻬﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﻨﻜﺮﺍﺕ ﺍﻟﺘﻲ
ﻻﻳﻨﻜﺮﻫﺎ ﺇﻻ ﻣﻦ ﻃﻤﺴﺖ ﺑﺼﻴﺮﺗﻪ ﻭﻗﺪ ﺟﻤﻌﺖ ﻓﻴﻬﺎ ﺭﺳﺎﻟﺔ ﺳﻤﻴﺘﻬﺎ (ﺷﻔﺎﺀ
ﺍﻟﻌﻠﻴﻞ ﻭﺑﻞ ﺍﻟﻐﻠﻴﻞ ﻓﻲ ﺣﻜﻢ ﺍﻟﻮﺻﻴﺔ ﺑﺎﻟﺨﺘﻤﺎﺕ ﻭﺍﻟﺘﻬﺎﻟﻴﻞ ) ) ﺭﺩ
ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ: ﺝ 6: ﺹ 57: )
(তিনি আরো বলেন, আল্লামা হুলওয়ানী
‘আল-মুনতাহাল হান্বলী’ এর টিকায়
শায়খুল ইসলাম তাক্বী উদ্দীন
থেকে বর্ণনা করেন যার ভাষ্য হলো,
‘‘পড়ার জন্য পারিশ্রমিকের উপর নিয়োগ
দেওয়া এবং এর ছওয়াব
মৃতব্যক্তিকে পাঠানো শুদ্ধ
নয়, কেননা কোনো ইমাম থেকে এর
অনুমোদন পাওয়া যায় না। বরং আলেমগণ
বলেন, নিশ্চয় ক্বারী যখন সম্পদের
কারণে পড়বে তখন তার কোনো ছওয়াব
নেই, অতএব সে মৃতব্যক্তির
কাছে কি জিনিস পাঠাবে, মৃত ব্যক্তির
কাছে কেবল সৎকর্মই পৌঁছে। আর
শুধুমাত্র তেলাওয়াতের উপর
পারিশ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার
কথা কোনো ইমাম বলেননি’’।
(কয়েক লাইন পর) অতএব, এখন তোমার
কাছে খতম এবং তাহালিলের
অসিয়্যাত, যে দিকে মানুষ ঝুঁকেছে তার
অন্যান্য খারাবীর
দিকে দৃষ্টি দেওয়া ছাড়াই তা বাতিল
হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেল।
দৃষ্টিশক্তি লোপ করা হয়েছে এমন
ব্যক্তি ছাড়া যার খারাবী কেউ
অস্বীকার করতে পারবে না।
আমি এতে একটি পুস্তিকা সংকলন
করেছি যার নাম দিয়েছি ‘শিফাউল-
আলীল ও বাল্লু-গালীল ফি হুকমিল-
অসিয়্যাতে বিল-
খাতামাতে ওয়াত্তাহালীল’
এসমস্ত বর্ণনা থেকে প্রমাণিত হলো যে
, প্রচলিত কুরআন খতম বিদ‘আত এবং না-
জায়েয। কুরআন, হাদীস এবং কল্যাণের
সাক্ষ্যপ্রাপ্ত যুগে এর কোনো প্রমাণ
নেই। এতে অংশ নেওয়া জায়েয নয়।
এছাড়া প্রচলিত
খতমে কুরআনে আরো অসংখ্য
খারাবী রয়েছে যার কিছু
নিম্নে তুলে ধরছি:
1. ঘোষণা এবং বলপূর্বক
এতে লোকজনদের সমবেত
করা হয়, যাকে শরীয়তের
পরিভাষায় ‘‘তাদাঈ’’ (ডাকাডাকি)
বলা হয় যা নফল ইবাদতে নিষিদ্ধ। যেমন
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু
এর সামনে কিছু মানুষ
সালাতুদ্দ্বোহা জামাতের
আকারে পড়ছিল, যখন তার কাছে তাদের
সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো তিনি
তাদের আমলকে বিদ‘আত আখ্যা দিলেন।
অথচ
সালাতুদ্দ্বোহা একাকি পড়া প্রমাণিত।
এভাবে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ
রাদিয়াল্লাহু আনহু এক গোত্রের
ব্যাপারে শুনলেন, তারা উচ্চস্বরে
তাহলিল এবং দুরূদ পড়ছে, তখন
তিনি তাদেরকে বিদ‘আতি বলে মসজিদ
থেকে বের করে দিলেন। অথচ
একাকি তাসবীহ, তাহলীল এবং দুরূদ
পড়া পূণ্য ও ছওয়াবের কাজ।
2. ডাকার পর যদি কিছু মানুষ কুরআন
খতমে না আসে তাহলে তাকে
বিভিন্নভাবে তিরস্কার করা হয়। অথচ
মুস্তাহাব কাজ ছাড়ার উপর তিরস্কার
জায়েয নেই।
3. অনুপস্থিতদের
ব্যাপারে মনে বিদ্বেষ, ঘৃণা, ক্রোধ
বদ্ধমূল করা হয়।
4. কুরআন খতমের
আয়োজকরা বেশি লোকের
উপস্থিতিতে গর্ব করে।
5. প্রচলিত কুরআন খতম এত
জরুরী মনে করা হয় যে, যদি কোনো মানুষ
কুরআন খতম না করায় অথবা তার খতমের
আয়োজনে মানুষ কম হয়
তবে সে সমালোচনার
লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
6. পুরো কুরআন খতম
জরুরী মনে করা হয়, অথচ শরীয়তে বরকত
এবং ছওয়াবের জন্য কোনো পরিমাণ
নির্দিষ্ট নেই। কুরআন তেলাওয়াত
ছাড়া যিকর আযকার, তাসবীহাত, নফল
এবং সাদাকাত ইত্যাদি অন্যান্য
পদ্ধতিতেও এই উদ্দেশ্য অর্জন হয়।
7. যদি পড়ার জন্য মানুষ কম জমা হয় তখন
তার পুরো কুরআন খতমকে নিজের উপর
চাপ এবং বিষের ঢোক
মনে করে যে কোনভাবে তা গলা থেকে
সরানোর চেষ্টা করা হয়। অথচ
হাদীসে বর্ণিত হচ্ছে,
(ﺍﻗﺮﺅﻭﺍ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻣﺎ ﺍﺋﺘﻠﻔﺖ ﻗﻠﻮﺑﻜﻢ ﻓﺈﺫﺍ ﺍﺧﺘﻠﻔﺘﻢ ﻓﻘﻮﻣﻮﺍ
ﻋﻨﻪ ) (ﺻﺤﻴﺢ ﺑﺨﺎﺭﻱ :ﺝ 2: ﺹ 757: )
অর্থাৎ (ঐ সময় পর্যন্ত কুরআন পড়
যতক্ষন মনে বিরক্তিবোধ না হয় এবং যখন
ক্লান্ত হয়ে পড় তখন ছেড়ে দাও) [65]
৮. এই অবস্থায় তাজবীদের নিয়ম
কানুন, হুরূফের সিফাতের বিশুদ্ধ
আদায়, গুন্নাহ, ইখফা, ইজহার
এবং মদসমূহের প্রতি খেয়াল করা ব্যতীত
শব্দ ও অক্ষর কেটে প্রাণ পরিত্রাণের
চেষ্টা করা হয়।
9 প্রচলিত কুরআন খতমে এমন লোক
আসে যে কুরআন পড়া জানে না। তখন
সে কুরআন হাতে নিয়ে প্রত্যেক
লাইনে বিসমিল্লাহ পড়ে অথবা শুধু
আঙ্গুল ফিরিয়ে পারা রাখা দেয়।
একে আঙ্গুল এবং বিসমিল্লাহ খতম
বলা হয়, শরীয়তে যার কোনো প্রমাণ
নেই। বরং এতে কুরআনের অবমাননা।
10 খতমের শেষ পর্যন্ত
বসাকে জরুরী মনে করা হয়। তাই
কোনো ব্যক্তি নিজের পারা শেষ
করে কঠিন প্রয়োজন সত্বেও উঠার সাহস
করে না। কেননা এটাকে অত্যন্ত
দোষনীয় মনে করা হয়।
11 কোনো কোনো মানুষের
তেলাওয়াতে সেজদার জ্ঞান থাকে না
, ফলে সে সেজদার আয়াত
পড়ে এবং শোনে তেলাওয়াতে সেজদা
না করার কারণে নেকীর
পরিবর্তে ওয়াজিব ছাড়ার গোনাহ
নিজের মাথায় বহন করে।
12 কোনো কোনো জায়গায় কুরআন
খতমের আয়োজক সবার পক্ষ থেকে চৌদ্দ
সাজদা আদায় করে নেয়। এতে পাঠকদের
দায়িত্ব আদায় হয় না এবং শরীয়ত
বিরোধী কাজের
কারণে সাজদাকারী গোনাহগার হয়।
13 প্রচলিত কুরআন খতমে মিঠাইর
ব্যবস্থা করা হয়। ‘‘প্রচলিত নিয়ম শর্তের
ন্যায়’’ মূলনীতির
আলোকে এটা পাঠকদের
পারিশ্রমিক, আর কুরআন পড়ার
পারিশ্রমিকের দাতা, গ্রহিতা উভয়
গোনাহগার। তাহলে এখানে নেকীর
কী প্রত্যাশা করা যায়? আর
যেখানে পাঠকের নিজের ছওয়াব
হচ্ছে না, সেখানে মৃত ব্যক্তির জন্য তার
ঈসাল কিভাবে হতে পারে ?
14 দাওয়াত বা মিঠাইকে এমন
জরুরী করে রাখা হয়েছে যে
, যে ব্যক্তি এর ব্যবস্থা করে না তার উপর
অভিশাপ ও তিরস্কারের ঝুড়ি পড়ে।
15 প্রচলিত কুরআন খতমের জন্য
তিনদিনা, চল্লিশা ইত্যাদি বিশেষ
দিন নির্দিষ্ট করা হয়। আর অনির্দিষ্ট
ইবাদতের জন্য নিজের পক্ষ থেকে দিন
নির্দিষ্ট করা মাকরূহ, না-জায়েয
বরং বিদ‘আত ।
16 জারীর ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু
আনহু বলেন,
" ﻛﻨﺎ ﻧﻌﺪ ﺍﻻﺟﺘﻤﺎﻉ ﺇﻟﻰ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻤﻴﺖ ﻭﺻﻨﻌﻬﻢ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﻴﺎﺣﺔ ."
‘‘মৃতব্যক্তির পরিবারে সমবেত
হওয়া এবং তারা খাবারের আয়োজন
করাকে আমরা ‘নাওহা’ (বিলাপ) গণ্য
করতাম’’ আর বিলাপ করা হারাম।
17 প্রচলিত কুরআন
খতমে অংশগ্রহণকারী এবং যিনি
অংশগ্রহণ করান সবার উদ্দেশ্য
থাকে লোক দেখানো। লোকদেখানোর
কারণে মানুষের বড় বড় আমল নষ্ট
হয়ে যায়।
হাদীসে রয়েছে লোক
দেখানো আমলকারীর আমল এমন ধ্বংস
হয় যেমন আগুন লাকড়ি খেয়ে ফেলে
এবং আল্লাহর কাছে এমন আমল
প্রত্যাখ্যাত। অতএব যে আমলটি আল্লাহর
জন্য করার ছিল, বরকত এবং ছওয়াব
পৌছা উদ্দেশ্য ছিল, লোকদেখানোর
কারণে সমস্ত আমলে আগুন লেগে গেছে।
ছওয়াব কি মিলবে
? উল্টো লোকদেখানোর আযাব মাথার
উপর আসলো।
এই সমস্ত খারাবী শরীয়ত এবং সুন্নাত
থেকে চেহারা ফিরিয়ে নেওয়ার
ফলাফল। এর বিপরীত যদি শরীয়তের
পদ্ধতি অবলম্বন করা হত তাহলে আরাম
হত। এত কষ্ট উঠাতে হত না। ইখলাসের
সহিত ও আল্লাহর জন্য হত । যার
বদলে পাঠক ছওয়াব পেত। মৃত ব্যক্তির
কাছেও ছওয়াব পৌছত। লোক
দেখানো মারাত্মক গোনাহও মাথায়
নিতে হত না।
ঈসালে ছওয়াবে সঠিক পদ্ধতি
ঈসালে ছওয়াবের সঠিক পদ্ধতি এই যে
, মৌখিক এবং শারীরিক ইবাদতের
মধ্যে প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ
ঘরে একাকীভাবে যে ইবাদত করে, নফল
নামায পড়ে, নফল রোজা রাখে, তাসবীহ
আদায় করে, তেলাওয়াত করে, নফল হজ্ব
বা উমরা করে, তাওয়াফ
করে এগুলোতে শুধু এই নিয়্যাত
করে নিবে যে, এর ছওয়াবটুকু আমাদের
অমুক দোস্তের কাছে পৌঁছুক।
তা পৌঁছে যাবে। এটাই
হচ্ছে ঈসালে সওয়াব। যে ছওয়াবটুকু
তোমার নিজের পাবার কথা তা তোমার
জন্য অর্জিত হয়ে যাবে এবং যে সমস্ত
লোকদের নিয়্যাত করা হয়েছে তারাও
এর পুরো ছওয়াব পেয়ে যাবে।
আর্থিক সাদাকা খায়রাতের
সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি হলো, নিজের
সামর্থানুযায়ী নগদ অর্থ
কোনো কল্যাণমূলক
কাজে লাগিয়ে দিবে অথবা কোনো
মিসকিনকে দিয়ে দিবে।
এই পদ্ধতি এ জন্য উত্তম যে, এতে মিসকিন
নিজের প্রয়োজন পুরা করতে পারে।
যদি আজ তার কোনো প্রয়োজন না হয়
তবে কালকের জন্য রাখতে পারে।
তা ছাড়া এই
ব্যবস্থাটি লোকদেখানো হতে মুক্ত।
হাদীসে গোপনে সাদাকাকারীর এই
ফযিলত বর্ণিত হয়েছে যে, এমন
ব্যক্তিকে আল্লাহ কিয়ামত
দিবসে নিজের রহমতের ছায়ায়
জায়গা দিবেন, যখন আর
কোনো ছায়া থাকবে না এবং গরমের
কারণে মানুষ ঘামে ডুবে যাবে।
ফযিলতের দিক থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির
সাদাকা হচ্ছে, মিসকিনের প্রয়োজন
অনুসারে তাকে সাদাকা করবে। অর্থাৎ
প্রয়োজন দেখে তা পুরা করবে।
ঘর ও দোকানের বরকতের জন্যও মালিক
নিজে উপরোক্ত ব্যবস্থাগুলো অবলম্বন
করবে।
ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺳﺒﺤﺎﻧﻪ ﻭﺗﻌﺎﻟﻰ ﺃﻋﻠﻢ
১৪ রবিউল আওয়াল ১৪১৭ হিজরী।
পাঠক, এই হলো উনার বক্তব্য। আমরা লক্ষ্য
করেছি যে, উনার লেখায় অসংখ্য কিতাব ও
ফকীহের বক্তব্য ও তথ্য রয়েছে। এই লেখা পড়ার পর
আশা করি সত্যসন্ধানী আলেমের জন্য
বিষয়টি বুঝতে কোনো সমস্যা পেতে হবে না।
একমাত্র পেটপূজারী আলেম ছাড়া কেউই হিলার
বাহানা তালাশ করে উনার লিখার বিরুদ্ধে কলম
ধরবেন না। শরীয়তে বৈধ বা হালাল থাকা এক কথা
, আর বৈধ বানানো আরেক কথা। কুরআন
হাদীসে কোনো জিনিসের বৈধতা থাকা এক কথা
, কুরআন হাদীস দিয়ে বৈধ বানানো আরেক কথা।
তবে প্রথমটি আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাতের
আলেমদের গুণ। আর দ্বিতীয়টি গুমরাহ
পেটপূজারী আলেমদের গুণ। বিষয়টি সহজে বোঝার
জন্য একটি উপমা পেশ করছি। যেমন ধরুন, রাসূল
আলিমুল গাইব নন বিষয়টি কুরআন ও
হাদীসে দ্ব্যর্থহীনভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যিনি বলছেন রাসূল আলিমুল গাইব নন, তার দলীল
কুরআন ও হাদীসের একাধিক জায়গায় রয়েছে।
পক্ষান্তরে যে আলেম দাবী করছেন রাসূল আলিমুল
গাইব, তিনি কুরআন হাদীস থেকেই তার মতের
স্বপক্ষে দলীল দিচ্ছেন। তবে তার দাবীর
পক্ষে কোনো দলীল কুরআন বা হাদীসে নেই।
তিনি কিছু দ্ব্যর্থবোধক আয়াত ও হাদীসকে তার
মতের পক্ষে দলীল বানাচ্ছেন। এই দ্বিতীয়
বৈশিষ্ট্যের আলেম ছাড়া কেউই প্রচলিত
খতমে কুরআনের স্বপক্ষে ওকালতি করতে পারেন না
, কেননা এসবের অস্তিত্ব
কুরআন, হাদীস, সাহাবা জীবনে নেই, এমনকি
খাইরুল কুরুন তথা সোনালী প্রজন্ম
(রাসূল, সাহাবা ও তাবে‘ঈ) এর কোনো যুগেও এর
অস্তিত্ব খোঁজে পাবেন না।
প্রচলিত খতমের অস্তিত্ব খাইরুল
কুরুনে না থাকায় বিষয়টি বিদ‘আত হওয়ার
সাথে সাথে লেখক আরো অনেক
খারাবী তুলে ধরেছেন, যা উনার অভিজ্ঞতার
আলোকে। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে উল্লেখিত
কারণ ছাড়াও আরো যে সমস্ত খারাবী রয়েছে তার
কয়েকটি নিম্নে তুলে ধরছি। এই অভিজ্ঞতা সবার
নাও থাকতে পারে। আমি অধমের কাছে যে বাস্তব
অভিজ্ঞতা হয়েছে তার কয়েকটি উল্লেখ করব।
1. পরস্পর হিংসা বিদ্বেষ সৃষ্টি। মনের
হিংসার জ্বালা প্রকাশ্যে রুপ নিতে অনেকের
বেলায় দেখা গেছে। যেমন, একজন কোথাও দশজন
নিয়ে যাওয়ার কথা। বাস্তবতা হলো, দশজন হলে এক
প্রতিষ্ঠানের সবাইকে খতমের তালিকায়
রাখা সম্ভব নয়। এ থেকেই হিংসা ও সমালোচনার
সুত্রপাত। যা খতমের দু একদিন পর্যন্ত
বা আরো বেশি চলতে থাকে।
2. অন্যের মনে জ্বালা সৃষ্টির জন্য
অযথা ঠাট্টাস্বরূপ খতমের কথা বলা। অথচ
হাদীসের দৃষ্টিতে মিথ্যা বলা কাজে হোক
বা ঠাট্টায় হোক সর্বাবস্থায় হারাম। সাধারণ
নিমণ শ্রেণির উস্তাদ নয় বরং অনেক শ্রদ্ধাভাজন
আলেম যারা দাওরায়ে হাদীসে পড়ান তাদের
অনেকের কাছ থেকেও এ সব আচরণ
পাওয়া যায়, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
3. মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া। যেমন অনেক সময়
খতম না করেই খতমের আয়োজককে মিথ্যা বলা।
4. কুরআনের সাথে ব্যবসায়িক পণ্যের মত
লেনদেনের আচরণ করা এবং কুরআন
নিয়ে বেয়াদবীমূলক কথা বলা। যেমন, অহরহ
একথা বলতে শুনা গেছে
, সিলেটি ভাষায় ‘যেলা পয়সা ওলা খতম’ অর্থাৎ
টাকা হিসেবে খতমের মান নির্ণয় করা হয়।
অনেককে আগেই ‘কয়টেকি খতম’ অর্থাৎ কত টাকার
খতম, একথা বলতে শুনা যায়। এভাবে টাকার উপর
কুরআন পড়ার মান নির্ণয় করা কুরআনের সাথে কতটুকু
বেয়াদবী? তা পাঠক নিজেই বলুন। অসতর্কতায়
আমার মুখ থেকেও দু-একদিন এমন কথা বের হয়েছে।
আল্লাহর কাছে তওবা করেছি। আবারো করছি
, তিনি যেন আমাকে মাফ করেন।
5. কুরআন সামনে নিয়ে হাসি, তামাশা
, গল্পগুজবের মধ্য দিয়ে তেলাওয়াত করা। আয়োজক
সামনে থাকলে তার ভয়ে একটু মনোযোগ
দিয়ে পড়া। এ থেকে স্পষ্ট যে, টাকাই প্রচলিত
খতমের মূল টার্গেট।
6. টাকাই যে মূল টার্গেট তা সবার
মনে জানা রয়েছে। সবার আচরণে একথা স্পষ্ট। মূল
টার্গেট টাকা থাকাবস্থায় আল্লাহর কাছে এসব
খতমের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই, আলেম বলতেই
একথা জানেন। একথা জানা থাকা সত্বেও নিজের
পেট পালার তাগিদে দীন সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তির
অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তাকে ধোঁকা দেয়া।
তাকে রাসূলের শিক্ষার আদেশ না দিয়ে খতমের
কথা বলা, অথবা নিজ থেকে না বললেও তাকে তার
অজ্ঞতার উপর রাখা। সঠিক সুন্নাতের
দিশা না দেওয়া। অথচ সঠিক ইলম প্রকাশের সুযোগ
থাকা সত্বে তা গোপন রাখা অবৈধ। হাদীসে এর
উপর ধমকি এসেছে।
এছাড়া সমাজিকভাবে আরো অনেক বিষয়
রয়েছে যা আলেমদের জন্য লজ্জাজনক ও তাদের
মান সম্মানে আঘাত, এই খতমকে কেন্দ্র
করে হয়ে থাকে।
আহসানুল ফাতওয়ার লিখাটি অনুবাদ করার পর এ
বিষয়ে নিজ থেকে কিছু লিখার প্রয়োজন ছিল না।
যা নিজেই পূর্বে উল্লেখ করেছি, তথাপি দু-
একটি কথা না লিখে পারলাম না। আল্লাহ
প্রথমে আমাকে এবং আমাদের
সবাইকে হেদায়াতের উপর পরিচালিত করুন। সহীহ
সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনার তওফীক দান
করুন। আমীন ।
খতমে ইউনুস
ইউনুস আলাইহিস সালাম আল্লাহর প্রেরিত
একজন নবী। আল্লাহর নির্দেশের পূর্বে তিনি তাঁর
গোত্র থেকে হিজরত করে চলে যান। আল্লাহর
কাছে তাঁর এ কাজ অপছন্দনীয় হলে ইউনুস
আলাইহিস সালামকে মাছের পেটে যেতে হয়। যার
বিবরণ কুরআন পাকে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন।
কমবেশ আমাদের সবারই ঘটনাটি জানা আছে।
বিপদে পড়ে যে কেউ নিজের গোনাহের
স্বীকারোক্তি বা তওবা করে আন্তরিকভাবে
আল্লাহকে ডাকলে আল্লাহ তাঁর ডাক শুনেন। ইউনুস
আলাইহিস সালামের মাছের পেটে পড়ার বিপদ
থেকে উদ্ধারের এই কাহিনিটি থেকে আল্লাহ
আমাদেরকে এই খবরটি দেন। উদ্ধারের
কাহিনিটি আল্লাহ যেভাবে উল্লেখ করেন
তাতে বিষয়টি একেবারে স্পষ্ট। যেমন রাসূল
সাল্লাল্লাহ আলাইহি সাল্লামকে লক্ষ্য
করে আল্লাহ তা‘আলা কয়েকজন নবীর কথা স্মরণ
করিয়ে দিতে গিয়ে বলেন,
﴿ ﻭَﺫَﺍ ﺍﻟﻨُّﻮﻥِ ﺇِﺫ ﺫَّﻫَﺐَ ﻣُﻐَﺎﺿِﺒًﺎ ﻓَﻈَﻦَّ ﺃَﻥ ﻟَّﻦ ﻧَّﻘْﺪِﺭَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻓَﻨَﺎﺩَﻯ ﻓِﻲ ﺍﻟﻈُّﻠُﻤَﺎﺕِ
ﺃَﻥ ﻻ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻ ﺃَﻧﺖَ ﺳُﺒْﺤَﺎﻧَﻚَ ﺇِﻧِّﻲ ﻛُﻨﺖُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻈَّﺎﻟِﻤِﻴﻦَ ﻓَﺎﺳْﺘَﺠَﺒْﻨَﺎ ﻟَﻪُ ﻭَﻧَﺠَّﻴْﻨَﺎﻩُ
ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻐَﻢِّ ﻭَﻛَﺬَﻟِﻚَ ﻧُﻨﺠِﻲ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﴾ ( ﺳﻮﺭﺓ ﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀ: 88-87 )
‘‘আর আপনি মাছওয়ালার কথা স্মরণ
করুন, তিনি ক্রুদ্ধ
হয়ে চলে গিয়েছিলেন, অতঃপর
মনে করেছিলেন যে
, আমি তাকে আটকাবো না। অতঃপর
তিনি অন্ধকারের মধ্যে আহ্বান
করে বললেন, তুমি ব্যতীত কোনো উপাস্য
নেই। তুমি দোষমুক্ত, নিশ্চয়
আমি গোনাহগার। অতঃপর আমি তার
আহ্বানে সাড়া দিলাম।
এবং তাকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি
দিলাম। আমি এমনিভাবে মুমিনদের
মুক্তি দিয়ে থাকি’’ ।
এই ঘটনা থেকে আমরা কী শিক্ষা পাই? একটু
চিন্তা করলেই যে কেউ
বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারবে। অর্থাৎ
যে কোনো বিপদে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনই
একজন মুমিনের করণীয়।
সকাতরে আল্লাহকে ডাকলে তিনি তাঁর
ডাকে অবশ্যই সাড়া দিবেন।
এবার আমরা দেখি হাদীসে এ দো‘আর
ব্যাপারে আমাদের জন্য
কী দিকনির্দেশনা রয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
" ﺩﻋﻮﺓ ﺫﻱ ﺍﻟﻨﻮﻥ ﺇﺫﺍ ﺩﻋﺎ ﻭﻫﻮ ﻓﻲ ﺑﻄﻦ ﺍﻟﺤﻮﺕ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺃﻧﺖ
ﺳﺒﺤﺎﻧﻚ ﺇﻧﻲ ﻛﻨﺖ ﻣﻦ ﺍﻟﻈﺎﻟﻤﻴﻦ ﻓﺈﻧﻪ ﻟﻢ ﻳﺪﻉ ﺑﻬﺎ ﺭﺟﻞ ﻣﺴﻠﻢ ﻓﻲ ﺷﻲﺀ
ﻗﻂ ﺇﻻ ﺍﺳﺘﺠﺎﺏ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻪ ." ( ﺳﻨﻦ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ،ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺪﻋﻮﺍﺕ ﻋﻦ ﺭﺳﻮﻝ
ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ، ﺑﺎﺏ 82 ، ﺭﻗﻢ : 3505، ﻣﺴﻨﺪ ﺍﺣﻤﺪ،
ﻣﺴﻨﺪ ﺳﻌﺪ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﻭﻗﺎﺹ، ﺭﻗﻢ: 1462 )
‘‘মাছওয়ালা যখন মাছের
পেটে থাকাবস্থায় দো‘আ করেছিলেন
তখন তার দো‘আ ছিল,
ﻻ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻ ﺃَﻧﺖَ ﺳُﺒْﺤَﺎﻧَﻚَ ﺇِﻧِّﻲ ﻛُﻨﺖُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻈَّﺎﻟِﻤِﻴﻦَ
(তুমি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই।
তুমি দোষমুক্ত, নিশ্চয়
আমি গোনাহগার) অতএব যখনই
কোনো মুসলিম
ব্যক্তি কোনো বিষয়ে এর মাধ্যমে দো
‘আ করেছে আল্লাহ তার
ডাকে সাড়া দিয়েছেন।’’
কুরআন হাদীসের
শিক্ষা থেকে যে বিষয়টি উপলব্ধি হয় তা অত্যন্ত
স্পষ্ট। সাধারণ ব্যক্তিও
চিন্তা করলে বিষয়টি বুঝতে পারবেন। কুরআন
হাদীসের
শিক্ষা থেকে আমরা বুঝলাম, যে কোনো ব্যক্তি যে
কোনো বিপদে পড়লে এই দো‘আটি করতে পারে। এই
দো‘আ করলে আল্লাহ তাকে বিপদ মুক্ত করবেন
বলে আমরা পূর্ণ আশাবাদী হতে পারি। কিন্তু
কে বা কারা প্রথমে কুরআন হাদীসের এই শিক্ষার
পরিবর্তন ঘটিয়ে খতমে ইউনুস নামে খতম আবিষ্কার
করেছে তার ইতিহাস আমাদের কাছে না থাকলেও
অভিজ্ঞতার নামে আমরা কুরআন হাদীসের
শিক্ষার বিপরীত চলছি। সাধারণ মানুষের
অজ্ঞতাকে পূঁজি করে আমাদের স্বার্থ উদ্ধার
করার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষার প্রচার
না করা কতটুকু আমানতদারী তা প্রশ্নযোগ্য।
বিবেকের কাছে কি আমরা কখনো প্রশ্নের
সম্মুখীন হই না? না কি পেটের তাগিদে আমাদের
বিবেকই নষ্ট হয়ে গেছে?
এই খতমের বিবরণ যেভাবে দেওয়া হয়েছে:
‘‘কঠিন বিপদ মামলা-মোকাদ্দমা ও
সঙ্কটের সময় এই দো‘আ সোয়া লক্ষ বার
পড়িবে। প্রত্যেক একশতবার
পড়া হইলে শরীর বা মুখে পানি দিবে।
পাক অবস্থায় পাক বিছানায়
বসিয়া কেবলামুখী হইয়া পড়িবে। ৩,৭
কিংবা ৪০ দিনে শেষ করিবে। মাছের
পেটের ভিতর অন্ধকারের এই
দোয়া জন্মলাভ
করিয়াছে বলিয়া অন্ধকারে বসিয়া
পড়িলে আরও সত্বর ফল লাভ হয়। খতম
শেষ হইলে একবার এই আয়াত পড়িবেঃ
} ﻓَﺎﺳْﺘَﺠَﺒْﻨَﺎ ﻟَﻪُ ﻭَﻧَﺠَّﻴْﻨَﺎﻩُ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻐَﻢِّ ﻭَﻛَﺬَﻟِﻚَ ﻧُﻨْﺠِﻲ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ( ﺍﻻﻧﺒﻴﺎﺀ:
88 ) {
উচ্চারণঃ ফাসতাজাবনা লাহু
ওয়া নাজ্জাইনাহু মিনাল
গাম্মি ওয়া কাযালিকা নুনজিল
মুমিনীন। (১৭ পারা, সূরা আম্বিয়া
, আয়াত:৮৮)
অর্থঃ ‘‘তৎপর আমি তাঁহার (হযরত ইউনুস
নবীর) দোয়া কবুল করিয়াছিলাম
এবং তাঁহাকে কঠিন বিপদ হইতে উদ্ধার
করিয়াছিলাম
এবং এইরূপে আমি বিশ্বাসীগণকে
উদ্ধার করিয়া থাকি।’’ এই
তাদবীরকে খতমে ইউনুস বলা হয়।
ইহা প্রত্যেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত
কার্যকরী ও অব্যর্থ ফলপদ
বলিয়া প্রমাণিত হইয়াছে।’’[71]
এখানে আমরা কুরআন হাদীসের শিক্ষার
সাথে দুই ধরণের বৈপরীত্য দেখতে পাই।
এক: নির্দিষ্ট সংখ্যার ব্যাপারটি। যা কুরআন
হাদীসের শিক্ষার বিপরীত।
দুই: বিপদে যিনি পড়েন তিনি আল্লাহর
কাছে প্রত্যাবর্তন করে দো
‘আটি না পড়ে অন্যকে দিয়ে পড়ানো। যার
কোনো শিক্ষা কুরআন বা রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন থেকে আমরা পাই
না। সবচেয়ে হাসির ব্যাপার হলো, বিপদে পড়লাম
আমি, আর আরেকজনকে এনে তাকে দিয়ে দো‘আ
পড়াচ্ছি, সে তার দো‘আয় বলছে ‘নিশ্চয়
আমি গোনাহগার’ আমি বিপদে পড়ে অন্যকে
গোনাহগার বলানোর মাধ্যমে আমার নিজের
কী লাভ?
একটু ভেবে দেখলাম না। একদিন একজন সাধারণ
মানুষ আমাকে কথাটি বলে হাসিয়ে দিয়েছেন।
আলেম না হয়েও তার এই উপলব্ধি দেখে অত্যন্ত
আনন্দিত হলাম এবং নিজেকে ধিক্কার দিলাম এই
বলে যে, বুঝেও কেন এতে জড়িত রয়েছি। আল্লাহ
আমাকে মাফ করুন।
এভাবে এসব খতমের
মাধ্যমে সমাজে ‘পুরোহিততন্ত্র’ চালু হয়েছে।
ইসলামের নির্দেশনা মোতাবেক বিপদগ্রস্ত
ব্যক্তি নিজে সুন্নাত সম্মত দো‘আ পড়ে মনের
আবেগ নিয়ে আল্লাহর
কাছে কাঁদবে এবং বিপদমুক্তি প্রার্থনা করবে।
নেককার মানুষের কাছে দো‘আ চাওয়া যাবে।
তিনি তার মত করে তার জন্য দো‘আ করবেন।
অভিজ্ঞতার দোহাই দিয়ে বৈধ করা
এসব খতম বৈধ করার স্বার্থে অভিজ্ঞতার
কথা বলে ফতোয়া চালিয়ে দিতে দেখা যায়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
শিক্ষার বিপরীত কার অভিজ্ঞতা বা কার কথার
এত মূল্যায়ন যা রাসূলের শিক্ষাকেও হার
মানায়? আর যিনি এ নির্দিষ্ট সংখ্যার
অভিজ্ঞতার কথা বললেন, তিনি নিজে পড়ার
কথা বললেন, না কি অন্যকে দিয়ে পড়ানোর? যাই
হোক এর কোনটিই যেহেতেু রাসূলের শিক্ষা নয়
তাই আমরা এ সবের পিছনে পড়ার প্রয়োজন বোধ
করি না। এ সব কথাবার্তা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।
এতে করে শরীয়ত পরিবর্তন হয় বলে আমরা স্পষ্ট
দেখতে পাচ্ছি। একটি সহজ উদাহরণ
দিলে বিষয়টি বুঝতে সহজ হবে বলে আশা করছি।
যেমন ধরুন, রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের
আলোকে আমরা জানি, সাদাকা বা দানের
মাধ্যমে বালা মুসিবত দূর হয়। এবার মনে করুন
কোনো ব্যক্তি কোনো এক তারিখের নির্দিষ্ট
সময়ে, যেমন সে শাওয়াল মাসের ৬ তারিখ
শনিবার বিকাল ৫টার সময় ১০ টাকা দান করল।
আল্লাহর অনুগ্রহে তার একটি মুসিবত দূর হলো।
আমরা বলতে পারি এই সাদাকার ওসীলায় হয়ত
আল্লাহ তাঁর মুসিবত দূর করেছেন।
কেননা সাদাকায় মুসিবত দূর হয় বলে রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস
থেকে আমরা পেয়েছি। এমন কয়েকবার
হলে সে বলতে পারে, অভিজ্ঞতার
আলোকে দেখা গেছে সাদাকায় মুসিবত দূর হয়।
কিন্তু এ দানকারী লোকটি যদি বলে, অভিজ্ঞতার
আলোকে দেখা গেছে ১০ টাকা দান করলে মুসিবত
দূর হয় তাই সবাই দশ টাকা দান করাকে আমল
বানান। আরেকটু এগিয়ে যদি বলে, শাওয়াল
মাসে দশ টাকা দান করলে মুসিবত দূর
হয়, আরো বাড়িয়ে যেমন, শাওয়াল মাসের ৬
তারিখ দশ টাকা দান করলে মুসিবত দূর হয়, আরেকটু
এগিয়ে যেমন, শাওয়াল মাসের ৬ তারিখ শনিবার
বিকাল ৫টার সময় ১০ টাকা দান করলে মুসিবত দূর
হয়। তাই সবাই এভাবে আমল করুন। তাঁর এই
কথাগুলো একেবারে মুর্খ ছাড়া কেউ গ্রহণ করবেন
বলে জানি না। যদিও সে তার আমলের ফলাফল
এভাবে পেয়েছে। কিন্তু তার এই অনুভূতি রাসূলের
শিক্ষা বিবর্জিত। এতে শরীয়তের মূল
শিক্ষা পরিবর্তন হয়, তাই তার অনুভূতি কখনো গ্রহণ
করা যায় না বা অভিজ্ঞতার নাম দিয়ে এ ধরণের
আমল শুরু করা যায় না। এবার এর
আলোকে আমরা ‘খতমে ইউনুস’ নামের খতমের
কথাটি চিন্তা করি। আশাকরি এসবের
অসারতা বুঝতে আর
কারো কোনো দ্বিধা থাকবে না।
এতো হলো খতমের নামে রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষার পরিবর্তন। আর
এই পরিবর্তন থেকেই খতমকে কেন্দ্র করে অন্যান্য
খারাবী ও নাজায়েযের সুচনা।
যে কোনো সুন্নাতকেই তার স্বাভাবিক
অবস্থা তথা রাসূল সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আমলের
রূপরেখা থেকে সরিয়ে দিলে সুন্নাত নিমজ্জিত
হওয়ার সাথে সাথে আরো অনেক নাজায়েয যোগ
হয়। যার অনেকটা আমরা ইতোপূর্বে খতমে কুরআনের
শেষে উল্লেখ করেছি। অধিক সংখ্যক
পড়া নিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া, খতম
পাঠকারী হুজুর ও খতমের আয়োজকের
মাঝে সন্দেহ, মন কষাকষির সৃষ্টি হওয়া, টাকার
পরিমাণ হিসেবে খতমের সংখ্যায় কমবেশ করা
, আলেমদের সাথে জাহেলের বেয়াদবীমূলক আচরণ
ইত্যাদি। টাকার স্বার্থে বুঝে না বোঝার ভান
করে অনেক শ্রদ্ধাভাজন আলেমকে তাঁর সম্মান
বা নিজ অবস্থানের অনেক
নিচে নামতে দেখা যায়। আল্লাহ আমাদের
সবাইকে এ সব থেকে পরিত্রাণ দান করুন এবং হুবহু
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
তরীক্বার উপর চলার তওফিক দান করুন।
খতমে বুখারী
মুমিন ব্যক্তির জীবনে হাদীসের গুরুত্ব
অপরিসীম। হাদীস ছাড়া মুমিন তাঁর
ইসলামী জীবন কল্পনা করতে পারে না। কুরআন
হাদীস উভয় মিলেই তাঁর জীবন পরিচালিত। তাই
কুরআনের মতই হাদীস শিক্ষা করা, হাদীস
চর্চা করা মুমিনের জন্য অপরিহার্য।
প্রতিটি মুমিনের জন্য জ্ঞান শিক্ষা করা ফরয। আর
কুরআন ও হাদীসই হচ্ছে মুসলিমের মূল জ্ঞান
ভাণ্ডার। এই হাদীস শিক্ষা, চর্চা, মুখস্থ রাখা
, সংরক্ষণ করা ও প্রচার
প্রসারে সাহাবায়ে কেরাম থেকে শুরু
করে উম্মতের একদল আলেম তাদের জীবনের
পুরো অংশটিই ব্যয় করে দিয়েছেন। যাদের
মেহনত, শ্রমের বদৌলতে রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস
সঠিকভাবে আমাদের পর্যন্ত পৌছেছে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
« ﻧﻀﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻣﺮﺃ ﺳﻤﻊ ﻣﻨﺎ ﺣﺪﻳﺜﺎ ﻓﺤﻔﻈﻪ ﺣﺘﻰ ﻳﺒﻠﻐﻪ ﻓﺮﺏ ﺣﺎﻣﻞ ﻓﻘﻪ
ﺇﻟﻰ ﻣﻦ ﻫﻮ ﺃﻓﻘﻪ ﻣﻨﻪ ﻭﺭﺏ ﺣﺎﻣﻞ ﻓﻘﻪ ﻟﻴﺲ ﺑﻔﻘﻴﻪ » .
(ﺳﻨﻦ ﺃﺑﻲ ﺩﺍﻭﺩ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻌﻠﻢ، ﺑﺎﺏ ﻓﻀﻞ ﻧﺸﺮ ﺍﻟﻌﻠﻢ، ﺭﻗﻢ 3662 : ،
ﺳﻨﻦ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﻋﻦ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ، ﺑﺎﺏ
ﺍﻟﺤﺚ ﻋﻠﻰ ﺗﺒﻠﻴﻎ ﺍﻟﺴﻤﺎﻉ، ﺭﻗﻢ: 3656 )
‘‘আল্লাহ তাঁর চেহারাকে উজ্জল করুন
যে আমার কাছ থেকে কোনো হাদীস
শুনল, অতঃপর সে তা সংরক্ষন
করল, এমনকি তা অন্যের কাছে পৌছাল।
অনেক ফিক্বহ (হাদীস) এর ধারক এমন
রয়েছে, সে যার কাছে পৌছায় সেই
ব্যক্তি তাঁর চেয়ে অধিক ফক্বীহ। আর
অনেক ফিক্বহের ধারক নিজে ফক্বীহ
নয়।’’ [72]
হাদীসটির মর্ম হচ্ছে, অনেক সময় এমনও হয় যে
, যার কাছে পৌছানো হয় সে হাদীসের মর্ম
বা ভাব যিনি পৌছিয়েছেন তার
চেয়ে বেশি বুঝেন। আবার এমনও অনেক রয়েছেন
যিনি শুধুমাত্র হাদীসটি মুখস্থ রাখতে পেরেছেন
কিন্তু তার তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারেন নি
, হতে পারে যার কাছে পৌছাবেন তিনি এর
তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারবেন, তাই রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
হাদীসকে বেশি বেশি পৌছানো ও প্রচারের
দিকে উৎসাহিত করেছেন।
উলামায়ে কেরামের এই দল উক্ত হাদীসের
পুরোপুরি হক্ব আদায় করার চেষ্টা করেছেন।
এদিকে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় তাঁর
নামে মিথ্যা বানিয়ে বলার দু একটি বিচ্ছিন্ন
ঘটনা পাওয়া গেলেও সাধারণত কেউই সে সময় তাঁর
নামে মিথ্যা কথা বলার সাহস পেত না। কিন্তু
তাঁর মৃত্যুর পর মিথ্যা বানিয়ে বলা শুরু হয়।
মুনাফেক, ফাসেক্ব, স্বার্থান্বেষী তাদের
উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য রাসূলের
নামে মিথ্যা বানিয়ে বলত। রাসূল সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন
বলে সরলমনা মুসলিমদের ধোকা দেওয়া সহজ ছিল।
কিন্তু হাদীস গ্রহণে সাহাবিদের সতর্কতা ও
যাচাইয়ের কারণে তা তাদের মধ্যে খুব প্রসার লাভ
করতে পারে নি। প্রখ্যাত তাবিয়ী মুজাহিদ (রহ.)
[73] বলেন:
"ﺟﺎﺀ ﺑﺸﻴﺮ ﺍﻟﻌﺪﻭﻯ ﺇﻟﻰ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﻓﺠﻌﻞ ﻳﺤﺪﺙ ﻭﻳﻘﻮﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ
ﺍﻟﻠﻪ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ- ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ -ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ-
ﻓﺠﻌﻞ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﻻ ﻳﺄﺫﻥ ﻟﺤﺪﻳﺜﻪ ﻭﻻ ﻳﻨﻈﺮ ﺇﻟﻴﻪ ﻓﻘﺎﻝ ﻳﺎ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﻣﺎ
ﻟﻰ ﻻ ﺃﺭﺍﻙ ﺗﺴﻤﻊ ﻟﺤﺪﻳﺜﻰ ﺃﺣﺪﺛﻚ ﻋﻦ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ -ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ- ﻭﻻ ﺗﺴﻤﻊ . ﻓﻘﺎﻝ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺇﻧﺎ ﻛﻨﺎ ﻣﺮﺓ ﺇﺫﺍ ﺳﻤﻌﻨﺎ ﺭﺟﻼ ﻳﻘﻮﻝ
ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ -ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ- ﺍﺑﺘﺪﺭﺗﻪ ﺃﺑﺼﺎﺭﻧﺎ ﻭﺃﺻﻐﻴﻨﺎ ﺇﻟﻴﻪ
ﺑﺂﺫﺍﻧﻨﺎ ﻓﻠﻤﺎ ﺭﻛﺐ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺍﻟﺼﻌﺐ ﻭﺍﻟﺬﻟﻮﻝ ﻟﻢ ﻧﺄﺧﺬ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺇﻻ ﻣﺎ
ﻧﻌﺮﻑ ." ( ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ، ﻣﻘﺪﻣﺔ, ﺑﺎﺏ ﺍﻟﻨﻬﻲ ﻋﻦ ﺍﻟﺮﻭﺍﻳﺔ ﻋﻦ ﺍﻟﻀﻌﻔﺎﺀ،
10-1 )
‘‘(তাবিয়ী) বুশাইর আল-
আদাবী ইবনে আব্বাসের (রা)
কাছে আগমন করেন এবং হাদীস
বলতে শুরু করেন। তিনি বলতে থাকেন:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। কিন্তু
ইবনে আব্বাস (রা) তার দিকে কর্ণপাত
করলেন না। তখন বুশাইর বলেন: হে ইবনু
আব্বাস, আমার কি হলো!
আমি আপনাকে আমার হাদীস
শুনতে দেখছি না? আমি আপনার
কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস
বর্ণনা করছি, অথচ আপনি কর্ণপাত
করছেন না!? তখন ইবনু আব্বাস (রা)
বলেন: একসময় ছিল যখন
আমরা যদি কাউকে বলতে শুনতাম: ‘
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন’, তখনই
আমাদের দৃষ্টিগুলো তাদের
দিকে আবদ্ধ হয়ে যেত এবং আমরা পূর্ণ
মনোযোগ দিয়ে তাঁর প্রতি কর্ণপাত
করতাম। কিন্তু যখন মানুষ খানাখন্দক
ভালমন্দ সব পথেই চলে গেল তখন
থেকে আমরা আর শুধুমাত্র সুপরিচিত ও
পরিজ্ঞাত বিষয় ব্যতীত মানুষদের
থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করি না।’’ [74]
মুসলিম উম্মাহর
ভিতরে মিথ্যাবাদী হাদীস বর্ণনাকারীর
উদ্ভব হবে বলে নবী আলাইহি ওয়াসাল্লাম
উম্মতকে এ ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক করেন।
তার থেকে কিছু শুনেই যাচাই
ছাড়া নির্বিচারে গ্রহণ করা
, বর্ণনা করা থেকে উম্মতকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও
সাবধান করে দেন। মিথ্যা বা সন্দেহযুক্ত
হাদীস বর্ণনা করতে নিষেধ আরোপ করেন।
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনে:
« ﺳَﻴَﻜُﻮﻥُ ﻓِﻰ ﺁﺧِﺮِ ﺃُﻣَّﺘِﻰ ﺃُﻧَﺎﺱٌ ﻳُﺤَﺪِّﺛُﻮﻧَﻜُﻢْ ﻣَﺎ ﻟَﻢْ ﺗَﺴْﻤَﻌُﻮﺍ ﺃَﻧْﺘُﻢْ ﻭَﻻَ
ﺁﺑَﺎﺅُﻛُﻢْ ﻓَﺈِﻳَّﺎﻛُﻢْ ﻭَﺇِﻳَّﺎﻫُﻢْ » (ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ، ﺍﻟﻤﺮﺟﻊ ﺍﻟﺴﺎﺑﻖ )
‘‘শেষ যুগে আমার উম্মতের কিছু মানুষ
তোমাদেরকে এমন সব হাদীস
বলবে যা তোমরা বা তোমাদের
পিতামহগণ কখনো শুনেন নি। খবরদার!
তোমরা তাদের থেকে সাবধান থাকবে
, তাদের থেকে দূরে থাকবে।’’ [75]
আবু হুরাইরা (রা.)
থেকে আরেকটি হাদীসে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
« ﻛﻔﻰ ﺑﺎﻟﻤﺮﺀ ﻛﺬﺑﺎ ﺃﻥ ﻳﺤﺪﺙ ﺑﻜﻞ ﻣﺎ ﺳﻤﻊ »
‘‘একজন মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার
জন্য এতটুকু যথেষ্ট যে, সে যা শুনবে তাই
বর্ণনা করবে।’’[76]
এভাবে অগণিত হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে হাদীস গ্রহণের
ক্ষেত্রে উম্মতকে সর্বোচ্চ সতর্ক করেছেন।
একদিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের সতর্কবাণী
, অপরদিকে জালিয়াতদের জালিয়াতী উম্মতের
এই শ্রেষ্ঠ জাতি উলামাদল তথা মুহাদ্দিসীনের
শ্রমকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে বর্ণিত অগণিত
হাদীসের মধ্য হতে প্রকৃত হাদীসটি খোঁজে বের
করতে তাদেরকে অনেক শ্রম দিতে হয়েছে। হাদীস
মূলত কুরআনের
ব্যাখ্যা বা প্রজ্ঞা হিসেবে কুরআনের মতই তার
হেফাযত করতে আল্লাহ তা‘আলা এ ধরণের
আলেমের এক ঝাঁক তৈরী করে দেন। যারা তাদের
জীবনের সিংহভাগই হাদীস চর্চার পিছনে ব্যয়
করে রাসূলের প্রকৃত বাণীটি উম্মতের
হাতে তুলে দিতে সক্ষম হন। আর একেই আমরা সহীহ
হাদীস বা বিশুদ্ধ হাদীস বলে জানি।
উলামায়ে উম্মতের এই শ্রেণির অন্যতম ছিলেন
ইমাম বুখারী রাহ.। আরব
রীতি অনুযায়ী বংশধারা সহ তার পুরো নাম হলো
, মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল ইবন ইবরাহীম ইবন মুগীরাহ
ইবন বারদিযবাহ। তার মূল নাম মুহাম্মদ। তিনি ১৯৪
হিজরীর শাওয়াল মাসের ১৩ তারিখ রোজ শুক্রবার
(৮১০ খ্রিস্টাব্দ) খোরাসানের বুখারা এলাকায়
(বর্তমানে উজবেকিস্তানের অংশ) জন্মগ্রহণ
করেন। মাত্র ৯ বৎসর বয়সে কুরআন মুখস্থ শেষ করেই
১০ বৎসর বয়স থেকে হাদীস মুখস্থ, হাদীসের চর্চা
, হাদীস সংরক্ষণ করতে বিভিন্ন মুহাদ্দিসের
কাছে যাতায়াত শুরু করেন। তার মেধা ছিল
বর্ণনাতীত। তার মেধা, হাদীস গ্রহণে সতর্কতার
বিভিন্ন ঘটনা কিতাবাদিতে উল্লেখ রয়েছে। তার
জীবনের শ্রেষ্ঠতম কর্ম ‘সহীহুল বুখারী
’ নামে প্রসিদ্ধ হাদীসের এই গ্রন্থটির
রচনা বলে উল্লেখ করেছেন উলামায়ে কেরাম।
হাদীসের উপর পূর্ণ পাণ্ডিত্য অর্জনের পর ২১৭
হিজরী সনে তার বয়স যখন ২৩, তখন তিনি এই
গ্রন্থটির রচনা শুরু করেন। গ্রন্থটিতে শুধুমাত্র সহীহ
হাদীসকেই স্থান দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি দীর্ঘ ষোল
বছর সাধনার মধ্য দিয়ে ২৩৩ হিজরী সনে এর কাজ
সমাপ্ত করেন। রচনাকালে তিনি সর্বদা সওম পালন
করতেন এবং প্রতিটি হাদীস লিখতে গোসল করে দু
রাক‘আত সালাত আদায় করতেন বলে জানা যায়।
বিশুদ্ধতার উপর নিশ্চিত হওয়ার
আগে কোনো হাদীস লিখতেন না। বর্ণনায়
আরো জানা যায় যে, তিনি বিশুদ্ধ
থেকে বিশুদ্ধতম হাদীসের সংকলনের ইচ্ছায় তার
মুখস্থ অনুমানিক ছয় লক্ষ হাদীস থেকে বাছাই
করে একেবারে সহীহ বা বিশুদ্ধ হাদীসটিকেই এই
গ্রন্থে স্থান দেন। এত সংখ্যক হাদীস
থেকে বিভিন্ন হাদীস বারবার
বর্ণনা সহকারে মাত্র ৭২৭৫ বা তার সামান্য
কমবেশ[77] হাদীস তার কিতাবে স্থান পেয়েছে।
সহীহুল বুখারী হিসেবে কিতাবটির নাম সর্বজনের
কাছে পরিচিত। তবে তার মূল নাম হচ্ছে ‘আল-
জামি‘উস্-সহীহ’ । ২৫৬ হিজরীর
১লা শাওয়াল, মোতাবেক ৩১ আগষ্ট ৮৭০ খ্রিস্টাব্দ
শুক্রবার দিবাগত রাত্রে ৬২ বৎসর বয়সে এই মহান
ব্যক্তিত্ব মারা যান। [78]
পর্ব)
খতম শব্দের অর্থ ও প্রয়োগ
‘খতম’ শব্দটি মূলত আরবী ‘ ﺧﺘﻢ ’ শব্দের
বাংলা ব্যবহার। যার মূল অর্থ হচ্ছে :
কোনো বস্তুতে মোহর লাগানো বা তাকে সিলযুক্ত
করা। কর্ম যুগে শব্দটির অর্থ হয়, কাজটি শেষ করা।
এভাবে বিভিন্ন শব্দযোগে তার বিভিন্ন অর্থ হয়
যেমন, মাটি দ্বারা মুখ বন্ধ করা, এড়িয়ে যাওয়া
, হৃদয়ে মোহর এঁটে দেওয়া তথা অবুঝ করে দেওয়া
, কোনো বস্তুর শেষে পৌঁছা ইত্যাদি। কিতাব
বা কুরআন শব্দযোগে তার অর্থ হয়: সম্পূর্ণটুকু
পড়ে শেষ করা। [30]
কুরআনে শব্দটি ক্রিয়ামুলে শুধুমাত্র হৃদয়ে মোহর
এঁটে দেওয়ার অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন :
﴿ ﺧَﺘَﻢَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻰٰ ﻗُﻠُﻮﺑِﻬِﻢۡ ﻭَﻋَﻠَﻰٰ ﺳَﻢۡﻋِﻬِﻢۖۡ ﻭَﻋَﻠَﻰٰٓ ﺃَﺏۡﺻَٰﺮِﻫِﻢۡ ﻏِﺸَٰﻮَﺓۖٞ ﻭَﻟَﻬُﻢ
ۡ ﻋَﺬَﺍﺏٌ ﻋَﻈِﻴﻢٞ ٧ ﴾ [ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ: ٧ ]
‘‘আল্লাহ তাদের হৃদয়ে ও কানে মোহর
এঁটে দিয়েছেন, আর তাদের চোখের উপর
রয়েছে আবরণ রয়েছে’’ ।[31]
তবে বিভিন্ন হাদীসে ‘ ﺧﺘﻢ’ শেষ
করা অর্থে ব্যবহার হয়েছে। যেমন আয়াতটি শেষ
পর্যন্ত পড়া, সুরাটি শেষ পর্যন্ত পড়া ইত্যাদি শব্দ
হাদীসে ব্যবহার হয়েছে। শেষ পর্যন্ত
পড়া বলতে যেমন
পুরোটা পড়া বুঝায়, তেমনি যে কোনো জায়গা
থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত পৌছলেও এ শব্দ ব্যবহার
হয়। এ ক্ষেত্রে পুরো সূরা পড়া উদ্দেশ্য নয়।
যেমন, ইবনে আব্বাস
রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদীসে
, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লামকে ঘুম থেকে উঠে মিসওয়াক ও ওযু
করার পর সূরা আলে ইমরানের ১৯০ নং আয়াত
থেকে পড়তে শুনেন, অতঃপর ইবনে আব্বাস
রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন :
" ﻓﻘﺮﺃ ﻫﺆﻻﺀ ﺍﻵﻳﺎﺕ ﺣﺘﻰ ﺧﺘﻢ ﺍﻟﺴﻮﺭﺓ ."... ( ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ، ﺑﺎﺏ ﺍﻟﺪﻋﺎﺀ ﻓﻲ
ﺻﻼﺓ ﺍﻟﻠﻴﻞ ﻭﻗﻴﺎﻣﻪ، ﺭﻗﻢ 1835: )
‘‘অতঃপর তিনি (রাসূল r ) এই
আয়াতগুলো পড়েন, এমনকি সূরা শেষ
করেন’’। [32]
এখানে সূরা খতম বলতে পুরো সূরা পড়া নয়, বরং ১৯০
নং আয়াত থেকে শুরু করে সূরার শেষ পর্যন্ত পড়া।
কুরআন সম্পূর্ণটা পড়ার ক্ষেত্রে খতম শব্দের
ব্যবহার সাহাবিদের মধ্যে ছিল। তবে ‘হাদীস
খতম’ বা ‘হাদীসটি খতম’ এমন কোনো ব্যবহার
বা প্রয়োগ তাদের মাঝে ছিল
বলে জানতে পারি নি। ‘খতমে বুখারী’র
আলোচনায় এমন ব্যবহার না থাকার কারণ
আমরা বুঝতে পারব ইন-শাআল্লাহ।
তবে হাদীসটি খতম বলতে তা পুরোটা পড়া বুঝাবে।
তাই কেউ একটি হাদীস পড়ে হাদীসটি খতম
করেছি বলতে কোনো বাধা নেই।
এভাবে খতমে দো‘আ ইউনুস বললে পুরো দো
‘আটা পড়া বুঝাবে, যদিও এমন বলার প্রচলন ছিল না।
কিন্তু খতমে ইউনুস বললে: এতবার পড়া, অমুক খতম
বললে: এতবার পড়া, তমুক খতম বললে এতবার পড়া
, এসব ব্যবহার সম্পূর্ণ নতুন মনগড়া বানানো।
খতম শব্দটি শেষ পর্যন্ত পৌঁছা বা পুরোটা পড়ার
অর্থে ব্যবহার হলেও ‘খতম করানো’ বা ‘খতম পড়ানো
’, এমন কোনো ব্যবহার বা প্রয়োগ না সাহাবিদের
যুগে ছিল, না খাইরুল ক্বুরুনে ছিল।
কেননা কুরআন, হাদীস, দো‘আ, দুরূদ, যিকর ইত্যাদির
আমলের এই সিস্টেম বা পদ্ধতিটি একেবারেই নতুন।
তাই ‘খতম’ শব্দের শাব্দিক অর্থ অভিধানে পেলেও
আমাদের সিস্টেমের তার পারিভাষিক
কোনো অর্থ আহলে ইলমদের
কোনো কিতাবে পাবেন না।
আমরা ‘খতম’ বলতে যা বুঝি এ সবকিছু সোনালীযুগ
দূরের কথা, মুহাক্কীক্ব কোনো আলেম থেকে এ
গুলোর আবিষ্কার হয়নি বলে পরিস্কার বুঝা যায়।
আমাদের জানামতে প্রচলিত
যে খতমগুলো রয়েছে সেগুলোর আলোচনায়
আমরা এগুলোর তাৎপর্য, যথার্থতা
, গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করব।
মহাগ্রন্থ আলকুরআন আল্লাহর কালাম
এবং প্রতিটি মানুষের জীবন বিধান। এর গুরুত্ব
কারো কাছে অজানা নয়। তাই সর্বপ্রথম আমাদের
সমাজে অধিকহারে প্রচলিত এই মহাগ্রন্থ আল
কুরআনের খতম দিয়েই শুরু করছি। নিজে কুরআন
না পড়ে, কুরআনের শিক্ষা নিজে গ্রহণ না করে
, যে কোনো কারণে অন্যকে ভাড়া করে কুরআন
পড়িয়ে নেওয়ার যথার্থতা কতটুকু
তা আলোচনা করলে বুঝতে পারব ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহর তওফিক কাম্য।
খতমে কুরআন
কুরআন প্রতিটি মুসলিমের জীবন বিধান। এই
কুরআন তাকে নিয়মিত তেলাওয়াত
করতে হবে এবং এর মর্ম বুঝে তদনুযায়ী জীবন
পরিচালনা করতে হবে। কুরআন শিক্ষা ও
তেলাওয়াতের ফযিলত বিভিন্ন হাদীসে বর্ণিত
হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এরশাদ করেন,
« ﺧﻴﺮﻛﻢ ﻣﻦ ﺗﻌﻠﻢ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻭﻋﻠﻤﻪ » (ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ، ﻛﺘﺎﺏ ﻓﻀﺎﺋﻞ
ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ، ﺑﺎﺏ ﺧﻴﺮﻛﻢ ﻣﻦ ﺗﻌﻠﻢ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻭﻋﻠﻤﻪ )
‘‘তোমাদের
মধ্যে সে ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে নিজে
কুরআন
শিক্ষা করে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়’’।
[33]
এভাবে কুরআন তেলাওয়াতের বেলায়
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ
করেন,
" ﻣﺜﻞ ﺍﻟﺬﻱ ﻳﻘﺮﺃ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻛﺎﻷﺗﺮﺟﺔ ﻃﻌﻤﻬﺎ ﻃﻴﺐ ﻭﺭﻳﺤﻬﺎ ﻃﻴﺐ . ﻭﺍﻟﺬﻱ
ﻻ ﻳﻘﺮﺃ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻛﺎﻟﺘﻤﺮﺓ ﻃﻌﻤﻬﺎ ﻃﻴﺐ ﻭﻻ ﺭﻳﺢ ﻟﻬﺎ ﻭﻣﺜﻞ ﺍﻟﻔﺎﺟﺮ ﺍﻟﺬﻱ
ﻳﻘﺮﺃ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻛﻤﺜﻞ ﺍﻟﺮﻳﺤﺎﻧﺔ ﺭﻳﺤﻬﺎ ﻃﻴﺐ ﻭﻃﻌﻤﻬﺎ ﻣﺮ . ﻭﻣﺜﻞ ﺍﻟﻔﺎﺟﺮ
ﺍﻟﺬﻱ ﻻ ﻳﻘﺮﺃ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻛﻤﺜﻞ ﺍﻟﺤﻨﻈﻠﺔ ﻃﻌﻤﻬﺎ ﻣﺮ ﻭﻻ ﺭﻳﺢ ﻟﻬﺎ." (ﺻﺤﻴﺢ
ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ، ﺑﺎﺏ ﻓﻀﻞ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻋﻠﻰ ﺳﺎﺋﺮ ﺍﻟﻜﻼﻡ )
‘‘কুরআন পাঠকারী (মুমিনের) উদাহরণ
সুস্বাদু সুগন্ধযুক্ত লেবুর ন্যায়। আর
যে (মুমিন) কুরআন পাঠ করে না তার
উদাহরণ এমন খেজুরের মত যা সুগন্ধহীন
তবে খেতে সুস্বাদু। আর যে ফাসিক
কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ রায়হান
জাতীয় গুল্মের মত যার সুগন্ধ
আছে কিন্তু খেতে বিস্বাদযুক্ত। আর
যে ফাসেক কুরআন তেলাওয়াত
করে না তার উদাহরণ ঐ মাকাল ফলের
মত যা খেতেও বিস্বাদ (তিক্ত) আবার
কোনো সুঘ্রানও নেই।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
আরো এরশাদ করেন,
" ﻣﻦ ﻗﺮﺃ ﺣﺮﻓﺎ ﻣﻦ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻠﻪ ﺑﻪ ﺣﺴﻨﺔ ﻭﺍﻟﺤﺴﻨﺔ ﺑﻌﺸﺮ
ﺃﻣﺜﺎﻟﻬﺎ ﻻ ﺃﻗﻮﻝ ﺁﻟﻢ ﺣﺮﻑ ﻭﻟﻜﻦ ﺃﻟﻒ ﺣﺮﻑ ﻭﻻﻡ ﺣﺮﻑ ﻭﻣﻴﻢ ﺣﺮﻑ
." ( ﺳﻨﻦ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ، ﺑﺎﺏ ﻓﻴﻤﻦ ﻗﺮﺃ ﺣﺮﻓﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻣﺎ ﻟﻪ ﻣﻦ
ﺍﻷﺟﺮ )
‘‘যে ব্যক্তি কুরআনের একটি অক্ষর
তিলাওয়াত করবে আল্লাহ তার
আমলনামায় একটি নেকী প্রদান
করেন, আর এই নেকীটি দশটি নেকীর
সমান। আমি বলি না,
‘‘ ﺍﻟﻢ ’’ একটি অক্ষর, বরং ‘‘ ﺃ ’’ একটি অক্ষর
, ‘‘ﻝ ’’ একটি অক্ষর, ‘‘ ﻡ ’’ একটি অক্ষর’’ ।
[35]
কুরআন তেলাওয়াতের এত মর্যাদা, গুরুত্ব, ছওয়াব
কুরআন হাদীস থেকে প্রমাণিত থাকা সত্বেও
প্রচলিত খতমের রূপরেখায় নবী আদর্শ ও
সাহাবা আদর্শের বৈপরিত্য থাকার কারণে এই
কুরআন খতমের হুকুম যদি না বাচক হয় তবে যার
কোনো অস্তিত্ব নবী জীবনে, নবীর শিক্ষা প্রাপ্ত
সাহাবিদের জীবনে নেই তার হুকুম
কী হবে তা সহজেই অনুমেয়।
রূপরেখায় বৈপরিত্য
বলতে যেমন, সাহাবায়ে কেরাম কুরআন
নিজে শিখতেন, নিজে পড়তেন। যিনি জানেন
না তিনি শিখতেন। এই শিক্ষাই তাদেরকে রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছেন।
অনেক সময় কেউ কুরআন অপরের
কাছে শুনতে চাইতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও
কোনো কোনো সাহাবী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু
থেকে শুনার আগ্রহ প্রকাশ করতেন, শুনতেন।
তবে অন্যকে এনে বাড়ীতে খতম করানোর
কোনো রেওয়াজ তাদের মাঝে ছিল না। কেউ
মারা গেলে তাদের যা করণীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিখিয়েছেন তারা শুধু
তাই করতেন। কেউ অসুস্থ হলে
, বিপদে পড়লে কী করণীয় তাও রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে দিয়েছেন। কেউ
মারা গেলে বা অন্য কোনো সমস্যায় পড়লে কুরআন
খতম করা বা খতম করানোর কথা রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
জীবনে একটিবার কাউকে বলেন নি নিজেও করেন
নি। তাই সাহাবিরা এমন কর্ম কখনো করেন নি।
এখন আমরা জানতে চেষ্টা করব প্রচলিত
খতমের হুকুম সম্পর্কে আদর্শবান আলেমদের কী মত।
এ ব্যাপারে আমাদের আলেম সমাজে অত্যন্ত
সুপরিচিত কিতাব ‘‘আহসানুল ফাতওয়া’’ এর লিখক
প্রসিদ্ধ ফক্বিহ রশিদ আহমদ রহ. তার
কিতাবে প্রচলিত কুরআন খতম সম্পর্কে এক প্রশ্নের
উত্তরে যে দলীলভিত্তিক
আলোচনা করেছেন, অসংখ্য আলেমের বক্তব্যের
উদ্ধৃতি পেশ করেছেন তার এই লেখাটির অনুবাদ
তুলে দেওয়াই যথেষ্ট মনে করছি। তার এ বক্তব্যের
পর এ ব্যাপারে আর কিছু লেখার কোনো প্রয়োজন
রয়েছে বলে মনে করি না। এতে আমরা প্রচলিত
খতমের তাৎপর্য যেমন বুঝতে পারব তেমনি অগণিত
আলেমের মতামত পেয়ে যাব। তার আলোচনা পড়ার
পর সত্য সন্ধানী মানুষের মনে আর
কোনো দ্বিধা থাকবে না বলে আশা করি।
নিম্নে তার কিতাবের প্রশ্ন ও উত্তর হুবহু
তুলে ধরছি।
প্রশ্ন: বর্তমানে কুরআন খতমের প্রচলন
ব্যাপক হয়ে গেছে। যেমন, নতুন ঘর ক্রয়
করা হলে কুরআন খতম করা হয়। দোকান
উদ্বোধন করা হলে খতম করা হয়।
কারো চল্লিশা হলে কুরআন খতম
করা হয়, কারো মৃত্যুর তৃতীয়
দিনে কুরআন খতম করা হয়; যাতে মৃত
ব্যক্তির কাছে ছওয়াব পৌঁছে।
কোনো সময় এর ঘোষণা পত্রিকায়
দেওয়া হয় এবং মানুষ দুর-দুরান্ত
থেকে শুধুমাত্র কুরআন খতমের জন্য
আসে । এমন কুরআন খতমের আমলের হুকুম
কী? কুরআন হাদীসের আলোকে এর
কোনো প্রমাণ আছে কি? এতে আমাদের
বন্ধু-বান্ধব বা পরিবারের লোক শরীক
হতে পারবে কি? আমরা নিজে কি এমন
কর্মে শরীক হয়ে গোনাহগার হচ্ছি না?
ﺑﻴﻨﻮﺍ ﺗﻮﺟﺮﻭﺍ - -
সুমতি দানকারীর নামে উত্তর
-1 ﻗﺎﻝ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﻣﺤﻤﺪ ﺇﺳﻤﺎﻋﻴﻞ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ
ﺗﻌﺎﻟﻰ: " ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻗﺘﻴﺒﺔ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺟﺮﻳﺮ ﻋﻦ ﻣﻨﺼﻮﺭ ﻋﻦ ﻣﺠﺎﻫﺪ ﻗﺎﻝ :
ﺩﺧﻠﺖ ﺃﻧﺎ ﻭﻋﺮﻭﺓ ﺑﻦ ﺍﻟﺰﺑﻴﺮ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻓﺈﺫﺍ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺭﺿﻲ
ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﺟﺎﻟﺲ ﺇﻟﻰ ﺣﺠﺮﺓ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﻭﺇﺫﺍ ﻧﺎﺱ ﻳﺼﻠﻮﻥ ﻓﻲ
ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﻀﺤﻰ ﻗﺎﻝ ﻓﺴﺄﻟﻨﺎﻩ ﻋﻦ ﺻﻼﺗﻬﻢ ﻓﻘﺎﻝ ﺑﺪﻋﺔ ."
) ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﺹ 238:ﺝ 1: )
(মুহাম্মদ ইসমাইল বুখারী রাহ.
বলেন: ...........মুজাহিদ (র)
থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং
উরওয়া ইবনু যুবাইর (র) মসজিদে প্রবেশ
করে দেখতে পেলাম, আব্দুল্লাহ ইবনু
উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর
হুজরার পাশে বসে আছেন।
ইতোমধ্যে কিছু লোক
মসজিদে সালাতুদ্দোহা আদায়
করতে লাগল । আমরা তাকে এদের
সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম।
তিনি বললেন, এটা বিদ‘আত। [36]
-2 ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺃﺑﻮ ﺍﻟﺤﺴﻴﻦ ﻣﺴﻠﻢ ﺑﻦ ﺍﻟﺤﺠﺎﺡ ﺑﻦ ﻣﺴﻠﻢ ﺍﻟﻘﺸﻴﺮﻱ
ﻭﺣﺪﺛﻨﺎ ﺇﺳﺤﺎﻕ ﺑﻦ ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﺃﺧﺒﺮﻧﺎ ﺟﺮﻳﺮ ﻋﻦ ﻣﻨﺼﻮﺭ ﻋﻦ ﻣﺠﺎﻫﺪ ﻗﺎﻝ ﺩﺧﻠﺖ
ﺃﻧﺎ ﻭﻋﺮﻭﺓ ﺑﻦ ﺍﻟﺰﺑﻴﺮ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻓﺈﺫﺍ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺟﺎﻟﺲ ﺇﻟﻰ ﺣﺠﺮﺓ
ﻋﺎﺋﺸﺔ ﻭﺍﻟﻨﺎﺱ ﻳﺼﻠﻮﻥ ﺍﻟﻀﺤﻰ ﻓﻰ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻓﺴﺄﻟﻨﺎﻩ ﻋﻦ ﺻﻼﺗﻬﻢ ﻓﻘﺎﻝ
ﺑﺪﻋﺔ.
(ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ ﺹ 409: ﺝ 1:
(এবং ইমাম আবুল-হুসাইন মুসলিম ইবন
হাজ্জাজ ইবন মুসলিম আল-
কুশাইরী বলেন: ........... মুজাহিদ (র)
থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং
উরওয়া ইবনু যুবাইর (র) মাসজিদে প্রবেশ
করে দেখতে পেলাম, আবদুল্লাহ ইবনু
উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা -
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর
হুজরার পাশে বসে আছেন। আর কিছু
লোক মসজিদে সালাতুদ্দোহা আদায়
করছে। আমরা তাকে এদের সালাত
সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম।
তিনি বললেন, এটা বিদ‘আত। [37]
-3 ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﻣﺤﻲ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﺃﺑﻮ ﺯﻛﺮﻳﺎ ﻳﺤﻴﻰ ﺑﻦ ﺷﺮﻑ ﺍﻟﻨﻮﻭﻱ ﺭﺣﻤﻪ
ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ: ﺍﻧﻬﻢ ﺳﺄﻟﻮﺍ ﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﻋﻦ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﺼﻠﻮﻥ
ﺍﻟﻀﺤﻰ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻓﻘﺎﻝ ﺑﺪﻋﺔ ) ﻫﺬﺍ ﻗﺪ ﺣﻤﻠﻪ ﺍﻟﻘﺎﺿﻲ ﻭﻏﻴﺮﻩ ﻋﻠﻰ
ﺃﻥ ﻣﺮﺍﺩﻩ ﺃﻥ ﺍﻇﻬﺎﺭﻫﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻭﺍﻻﺟﺘﻤﺎﻉ ﻟﻬﺎ ﻫﻮ ﺍﻟﺒﺪﻋﺔ ﻻ ﺃﻥ
ﺃﺻﻞ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﻀﺤﻰ ﺑﺪﻋﺔ ﻭﻗﺪ ﺳﺒﻘﺖ ﺍﻟﻤﺴﺄﻟﺔ ﻓﻲ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺼﻼﺓ.
( ﺷﺮﺡ ﺍﻟﻨﻮﻭﻱ ﻋﻠﻰ ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ ﺻﻔﺤﻪ ﻣﻨﺪﺭﺟﻪ ﺑﺎﻻ )
(এবং শাইখ মুহিউদ্দীন আবু
যাকারিয়া ইয়াহ্ইয়া ইবন শরফ
নববী রাহ. বলেন, তারা ইবনে উমর
রাদিয়াল্লাহু আনহুকে যারা মসজিদে
সালাতুদদ্বোহা আদায় করছিল তাদের
সালাত
সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিল, তিনি
বললেন বিদ‘আত । এটা ক্বাযী
[38] এবং অন্যান্যরা এর অর্থ
নিয়েছেন, তার উদ্দেশ্য
হলো সালাতকে মসজিদে প্রকাশ
করা এবং এর জন্য সমবেত হওয়াটাই
হচ্ছে বিদ‘আত। মূল
সালাতুদদ্বোহা বিদ‘আত নয়। সালাত
অধ্যায়ে মাসআলাটির
আলোচনা হয়েছে।) [39]
-4 ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻻﻣﺎﻡ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺷﻬﺎﺏ ﺍﻟﻤﻌﺮﻭﻑ ﺑﺎﺑﻦ ﺍﻟﺒﺰﺍﺭ ﺍﻟﻜﺮﺩﺭﻱ
ﺍﻟﺤﻨﻔﻲ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ : ﻭﻗﺪ ﺻﺢ ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻣﺴﻌﻮﺩ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ
ﺃﻧﻪ ﺳﻤﻊ ﻗﻮﻣﺎ ﺍﺟﺘﻤﻌﻮﺍ ﻓﻲ ﻣﺴﺠﺪ ﻳﻬﻠﻠﻮﻥ ﻭﻳﺼﻠﻮﻥ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺼﻼﺓ
ﻭﺍﻟﺴﻼﻡ ﺟﻬﺮﺍ، ﻓﺮﺍﺡ ﺇﻟﻴﻬﻢ ﻓﻘﺎﻝ ﻣﺎ ﻋﻬﺪﻧﺎ ﺩﻟﻚ ﻋﻠﻰ ﻋﻬﺪﻩ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
ﻭﻣﺎ ﺃﺭﺍﻛﻢ ﺇﻻ ﻣﺒﺘﺪﻋﻴﻦ، ﻓﻤﺎ ﺯﺍﻝ ﻳﺬﻛﺮ ﺫﻟﻚ ﺣﺘﻰ ﺃﺧﺮﺟﻬﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ.
( ﺑﺰﺍﺯﻳﺔ ﺑﻬﺎﻣﺶ ﺍﻟﻬﻨﺪﻳﻪ، ﺝ 6: ﺹ 378: )
(এবং ইমাম মুহাম্মদ ইবন শিহাব আল-
কুরদুরী আল-হানাফী রাহ.
[40] যিনি ইবনে বায্যার
নামে পরিচিত, তিনি বলেন, ইবনে
মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু
থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত যে
, তিনি শুনতে পান একদল লোক
মসজিদে সমবেত হয়ে উচ্চস্বরে তাহলীল
এবং নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দুরূদ
পড়ছে। অতএব তিনি তাদের
কাছে গেলেন
এবং বললেন, আমরাতো রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
যুগে এমনটি পাইনি।
আমিতো তোমাদেরকে বিদ‘আতি ছাড়া
কিছু দেখছি না।
তিনি একথা বলতে বলতে তাদেরকে
মসজিদ হতে বের করে দেন।) [41]
-5 ﻭﻗﺎﻝ ﻓﻲ ﻣﻮﺿﻊ ﺁﺧﺮ: ﻭﻳﻜﺮﻩ ﺍﺗﺨﺎﺫ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﻓﻲ ﺍﻟﻴﻮﻡ ﺍﻷﻭﻝ ﻭﺍﻟﺜﺎﻟﺚ
ﻭﺑﻌﺪ ﺍﻷﺳﺒﻮﻉ ﻭﺍﻷﻋﻴﺎﺩ ﻭﻧﻘﻞ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻘﺒﺮ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﻮﺍﺳﻢ ﻭﺍﺗﺨﺎﺫ
ﺍﻟﺪﻋﻮﺓ ﺑﻘﺮﺍﺀﺓ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻭﺟﻤﻊ ﺍﻟﺼﻠﺤﺎﺀ ﻭﺍﻟﻘﺮﺍﺀ ﻟﻠﺨﺘﻢ ﺃﻭ ﻟﻘﺮﺍﺀﺓ ﺳﻮﺭﺓ
ﺍﻷﻧﻌﺎﻡ ﺃﻭ ﺍﻹﺧﻼﺹ. ﻓﺎﻟﺤﺎﺻﻞ ﺃﻥ ﺍﺗﺨﺎﺫ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﻋﻨﺪ ﻗﺮﺍﺀﺓ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻷﺟﻞ
ﺍﻷﻛﻞ ﻳﻜﺮﻩ . ( ﺑﺰﺍﺯﻳﺔ ﺑﻬﺎﻣﺶ ﺍﻟﻬﻨﺪﻳﻪ، ﺝ 4: ﺹ 81: )
(এবং তিনি আরেক জায়গায়
বলেন, আর মৃত্যুর প্রথম দিন, দ্বিতীয়
দিন, সাপ্তাহ পর
এবং অনুষ্ঠানে খাবারের আয়োজন
করা, বিভিন্ন মৌসুমে কবরে খাবার
নিয়ে যাওয়া, কুরআন পড়ার জন্য
দাওয়াতের আয়োজন করা এবং সৎ
লোক ও ক্বারীদেরকে খতমের জন্য
বা সূরা আন‘আম অথবা সূরা ইখলাস
পড়ার জন্য সমবেত করা মাকরূহ।
মোটকথা, কুরআন পড়ার সময় খাওয়ার
জন্য দাওয়াতের আয়োজন
করা মাকরূহ।) [42]
-6 ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻟﻔﻘﻴﻪ ﺍﻟﻤﺨﺪﻭﻡ ﻣﺤﻤﺪ ﺟﻌﻔﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﻌﻼﻣﺔ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻜﺮﻳﻢ ﺍﻟﺒﻮﺑﻜﺎﻧﻲ
ﺍﻟﺴﻨﺪﻱ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻴﺮﻓﻴﺔ : ﻗﺮﺍﺀﺓ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻷﺟﻞ ﺍﻟﻤﻬﻤﺎﺕ
ﻭﺍﻟﺒﺄﺱ ﻣﻜﺮﻭﻩ . ( ﻭﺑﻌﺪ ﺻﻔﺤﺔ ) ﻳﻜﺮﻩ ﻟﻠﻘﻮﻡ ﺃﻥ ﻳﻘﺮﺃ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺟﻤﻠﺔ
ﻟﺘﻀﻤﻨﻬﺎ ﺗﺮﻙ ﺍﻻﺳﺘﻤﺎﻉ ﻭﺍﻹﻧﺼﺎﺕ ﺍﻟﻤﺄﻣﻮﺭ ﺑﻬﻤﺎ. ﻭﻗﻴﻞ ﻻ ﺑﺄﺱ ﺑﻪ . ﻓﻲ
ﺍﻟﺘﺘﺎﺭﺧﺎﻧﻴﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺤﻴﻂ: ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺸﺎﻳﺦ ﻣﻦ ﻗﺎﻝ : ﺇﻥ ﺧﺘﻢ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺑﺎﻟﺠﻤﺎﻋﺔ
ﺟﻬﺮﺍ ﻭﻳﺴﻤﻰ " ﺳﻴﺒﺎﺭﻩ ﺧﻮﺍﻧﺪﻩ" ﻣﻜﺮﻭﻩ، (ﺍﻟﻰ ﻗﻮﻟﻪ ) ﻓﻲ ﻋﻴﻦ ﺍﻟﻌﻠﻢ:
ﻭﻻ ﻳﺨﺘﻢ ﻓﻲ ﺃﻗﻞ ﻣﻦ ﺛﻼﺛﺔ ﺃﻳﺎﻡ ( ﻭﺑﻌﺪ ﺻﻔﺤﺔ ) ﻓﻲ ﻣﻔﻴﺪ ﺍﻟﻤﺴﺘﻔﻴﺪ ﻣﻦ
ﺍﻟﻨﺼﺎﺏ : ﻗﺮﺍﺀﺓ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺠﺎﻟﺲ ﻳﻜﺮﻩ، ﻷﻧﻪ ﻳﻘﺮﺃ ﻃﻤﻌﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ،
ﻭﻛﺬﻟﻚ ﻓﻲ ﺍﻷﺳﻮﺍﻕ، ﻭﻛﺬﻟﻚ ﻋﻠﻰ ﺭﺃﺱ ﺍﻟﻘﺒﺮ . ﻗﻴﻞ، ﻭﻟﻮ ﻗﺮﺃ ﻭﻻ ﻳﺴﺄﻝ
ﻭﺍﻟﻨﺎﺱ ﺃﻋﻄﻮﻩ ﻣﻦ ﻏﻴﺮ ﺳﺆﺍﻝ ﻗﺎﻝ ﻳﻜﺮﻩ ﺃﻳﻀﺎ، ﻷﻧﻪ ﺇﺫﺍ ﻟﻢ ﻳﻘﺼﺪ
ﺍﻟﺴﺆﺍﻝ ﻟِﻢَ ﻻ ﻳﺠﻠﺲ ﻓﻲ ﺑﻴﺘﻪ ﻳﻘﺮﺃ . ( ﺍﻟﻤﺘﺎﻧﺔ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺮﻣﺔ ﻋﻦ ﺍﻟﺨﺰﺍﻧﺔ،
632 ، 633، 634 )
(এবং ফক্বীহ মুহাম্মদ জাফর
....সিন্দি বলেন, সাইরাফিয়্যাহ
কিতাবে[44] ‘‘কঠিন বিষয় এবং অসুবিধার
কারণে কুরআন পড়া মাকরূহ’’ । (এবং এক
পৃষ্ঠা পর) মুফিদুল মুস্তাফিদ
কিতাবে এসেছে, ‘‘দলবদ্ধ
হয়ে বৈঠকে কুরআন
পড়া মাকরূহ, কেননা এতে শ্রবণ
করা এবং চুপ থেকে শোনা পরিত্যাগ
করা হয় অথচ এ দুটি বিষয়
নির্দেশিত।’’ কেউ কেউ বলেন,
‘‘এতে অসুবিধা নেই’’ ।
‘মুহিত’ কিতাবের
উদ্ধৃতিতে ‘তাতারখানিয়া
’ কিতাবে রয়েছে, ‘‘মাশায়েখের
মধ্যে কেউ কেউ বলেন, নিশ্চয় দলবদ্ধ
হয়ে উচ্চস্বরে কুরআন তেলাওয়াত
করা যাকে বলা হয় ‘সীপারা পড়া
’ তা মাকরূহ। (আরো বলেন) আইনুল
ইলমে রয়েছে, তিন দিনের কমে খতম
করবে না ’’ । (আরো এক পৃষ্ঠা পর), ‘‘মুফিদুল
মুসতাফিদে নেসাব
থেকে বলা হয়েছে
, সমাবেশস্থলে কুরআন
পড়া মাকরূহ, কেননা পাঠক তা দুনিয়ার
লোভে পড়ছে।
এভাবে বাজারে পড়া মাকরূহ। কবরের
কাছে পড়াকেও এভাবে মাকরূহ
বলা হয়েছে। যদি পড়ে কিন্তু
(কারো কাছে কিছু) না চায়, আর মানুষ
তাকে চাওয়া ব্যতীতই দান করে তবে তাও
মাকরূহ বলেছেন, কেননা চাওয়ার
ইচ্ছা না থাকলে সে কেন
ঘরে বসে পড়ছে না’’ ।
7 - ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻟﻌﻼﻣﺔ ﺍﺑﻦ ﻋﺎﺑﺪﻳﻦ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ : (ﺗﺘﻤﺔ ) ﺃﺷﺎﺭ ﺑﻘﻮﻟﻪ
ﻓﺮﺍﺩﻯ ﺇﻟﻰ ﻣﺎ ﺫﻛﺮﻩ ﺑﻌﺪ ﻓﻲ ﻣﺘﻨﻪ ﻣﻦ ﻗﻮﻟﻪ ﻭﻳﻜﺮﻩ ﺍﻻﺟﺘﻤﺎﻉ ﻋﻠﻰ ﺇﺣﻴﺎﺀ
ﻟﻴﻠﺔ ﻣﻦ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﻠﻴﺎﻟﻲ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺎﺟﺪ ﻭﺗﻤﺎﻣﻪ ﻓﻲ ﺷﺮﺣﻪ ﻭﺻﺮﺡ ﺑﻜﺮﺍﻫﺔ ﺫﻟﻚ
ﻓﻲ ﺍﻟﺤﺎﻭﻱ ﺍﻟﻘﺪﺳﻲ ﻗﺎﻝ ﻭﻣﺎ ﺭﻭﻱ ﻣﻦ ﺍﻟﺼﻠﻮﺍﺕ ﻓﻲ ﻫﺬﻩ ﺍﻷﻭﻗﺎﺕ
ﻳﺼﻠﻲ ﻓﺮﺍﺩﻯ ﻏﻴﺮ ﺍﻟﺘﺮﺍﻭﻳﺢ." ﻗﺎﻝ ﻓﻲ ﺍﻟﺒﺤﺮ : ﻗﺎﻝ ﻓﻲ ﺍﻟﺒﺤﺮ ﻭﻣﻦ ﻫﻨﺎ
ﻳﻌﻠﻢ ﻛﺮﺍﻫﺔ ﺍﻻﺟﺘﻤﺎﻉ ﻋﻠﻰ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﺮﻏﺎﺋﺐ ﺍﻟﺘﻲ ﺗﻔﻌﻞ ﻓﻲ ﺭﺟﺐ ﺃﻭ ﻓﻲ
ﺃﻭﻟﻰ ﺟﻤﻌﺔ ﻣﻨﻪ ﻭﺃﻧﻬﺎ ﺑﺪﻋﺔ ﻭﻣﺎ ﻳﺤﺘﺎﻟﻪ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺮﻭﻡ ﻣﻦ ﻧﺬﺭﻫﺎ ﻟﺘﺨﺮﺝ ﻋﻦ
ﺍﻟﻨﻔﻞ ﻭﺍﻟﻜﺮﺍﻫﺔ ﻓﺒﺎﻃﻞ ﺍ ﻫـ ﻗﻠﺖ: ﻭﺻﺮﺡ ﺑﺬﻟﻚ ﻓﻲ ﺍﻟﺒﺰﺍﺯﻳﺔ ﻛﻤﺎ
ﺳﻴﺬﻛﺮﻩ ﺍﻟﺸﺎﺭﺡ ﺁﺧﺮ ﺍﻟﺒﺎﺏ ﻭﻗﺪ ﺑﺴﻂ ﺍﻟﻜﻼﻡ ﻋﻠﻴﻬﺎ ﺷﺎﺭﺣﺎ ﺍﻟﻤﻨﻴﺔ ﻭﺻﺮﺣﺎ
ﺑﺄﻥ ﻣﺎ ﺭﻭﻱ ﻓﻴﻬﺎ ﺑﺎﻃﻞ ﻣﻮﺿﻮﻉ . ﻭﻟﻠﻌﻼﻣﺔ ﻧﻮﺭ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﺍﻟﻤﻘﺪﺳﻲ ﻓﻴﻬﺎ
ﺗﺼﻨﻴﻒ ﺣﺴﻦ ﺳﻤﺎﻩ ( ﺭﺩﻉ ﺍﻟﺮﺍﻏﺐ ﻋﻦ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﺮﻏﺎﺋﺐ ) ﺃﺣﺎﻁ ﻓﻴﻪ ﺑﻐﺎﻟﺐ
ﻛﻼﻡ ﺍﻟﻤﺘﻘﺪﻣﻴﻦ ﻭﺍﻟﻤﺘﺄﺧﺮﻳﻦ ﻣﻦ ﻋﻠﻤﺎﺀ ﺍﻟﻤﺬﺍﻫﺐ ﺍﻷﺭﺑﻌﺔ . (ﺭﺩ
ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ،ﺝ 2: ﺹ 26: )
(এবং আল্লামা ইবনে আবেদিন রাহ.
বলেন, (পরিশিষ্ট) মুসান্নিফ তার
কথা ‘‘একা একা
’’ বলে তিনি সেদিকে ইঙ্গিত করেন
যা একটু পরে তিনি তার মতনে (বইয়ের মূল
অংশে) এই বলে উল্লেখ করেন, ‘‘আর এই
রাতগুলো জাগ্রত থেকে কাটানোর জন্য
মসজিদে সমবেত
হওয়া মাকরূহ’’ পুরো আলোচনা তার
ব্যখ্যাগ্রন্থে রয়েছে। আল-হাবীল
ক্বুদসীতে তা মাকরূহ
বলে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। বলেছেন,
‘‘এই রাতগুলোতে যে সালাতের কথার
বর্ণনা রয়েছে তা একা একা পড়তে হবে
, একমাত্র তারাবীহ ব্যতীত’’ ।
আল-বাহরে বলেন,
‘‘এথেকে জানা যায় যে, সালাতুর রাগাইব
যা রজবের প্রথম জুমুআয় পড়া হয়, এর জন্য
সমবেত হওয়া মাকরূহ এবং এটি বিদ‘আত।
এটাকে নফল ও মাকরূহ থেকে বের করার
জন্য রোমবাসীরা এই সালাতের
মান্নতের যে হীলা অবলম্বন
করে তা বাতিল’’ ।
আমি বলি (ইবনে আবেদীন)
বায্যাযিয়ায় তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত
করা হয়েছে, যেমন ব্যাখ্যাকার অধ্যায়ের
শেষে উল্লেখ করবেন। আল-মুনইয়াহ এর দুই
ব্যাখ্যাকার এর উপর দীর্ঘ
আলোচনা করেছেন
এবং তারা উভয়ে স্পষ্ঠভাবে বলেছেন যে,
‘‘এ ব্যাপারে যা বর্ণনা করা হয় সব বাতিল
মনগড়া। আল্লামা নুরুদ্দীন মাক্বদিসীর
এ বিষয়ে একটি সুন্দর
রচনা রয়েছে তিনি এর নাম
দিয়েছেন ‘রাদ্উর রাগিব আন সালাতির
রাগাইব’ তিনি এখানে চার মাযহাবের
পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমেদের কথার
অধিকাংশ সংকলন করেছেন।
ﻭﻗﺎﻝ ﻓﻲ ﻣﻮﺿﻊ ﺁﺧﺮ : ﻭﻳﻜﺮﻩ ﺍﺗﺨﺎﺫ ﺍﻟﻀﻴﺎﻓﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻤﻴﺖ
ﻷﻧﻪ ﺷﺮﻉ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﺮﻭﺭ ﻻ ﻓﻲ ﺍﻟﺸﺮﻭﺭ ﻭﻫﻲ ﺑﺪﻋﺔ ﻣﺴﺘﻘﺒﺤﺔ
ﻭﺭﻭﻯ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺃﺣﻤﺪ ﻭﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﻪ ﺑﺈﺳﻨﺎﺩ ﺻﺤﻴﺢ ﻋﻦ ﺟﺮﻳﺮ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻗﺎﻝ
ﻛﻨﺎ ﻧﻌﺪ ﺍﻻﺟﺘﻤﺎﻉ ﺇﻟﻰ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻤﻴﺖ ﻭﺻﻨﻌﻬﻢ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﻴﺎﺣﺔ ﺍﻫـ ﻭﻓﻲ
ﺍﻟﺒﺰﺍﺯﻳﺔ ﻭﻳﻜﺮﻩ ﺍﺗﺨﺎﺫ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﻓﻲ ﺍﻟﻴﻮﻡ ﺍﻷﻭﻝ ﻭﺍﻟﺜﺎﻟﺚ ﻭﺑﻌﺪ ﺍﻷﺳﺒﻮﻉ
ﻭﻧﻘﻞ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻘﺒﺮ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﻮﺍﺳﻢ ﻭﺍﺗﺨﺎﺫ ﺍﻟﺪﻋﻮﺓ ﻟﻘﺮﺍﺀﺓ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ
ﻭﺟﻤﻊ ﺍﻟﺼﻠﺤﺎﺀ ﻭﺍﻟﻘﺮﺍﺀ ﻟﻠﺨﺘﻢ ﺃﻭ ﻟﻘﺮﺍﺀﺓ ﺳﻮﺭﺓ ﺍﻷﻧﻌﺎﻡ ﺃﻭ
ﺍﻹﺧﻼﺹ ﻭﺍﻟﺤﺎﺻﻞ ﺃﻥ ﺍﺗﺨﺎﺫ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﻋﻨﺪ ﻗﺮﺍﺀﺓ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻷﺟﻞ ﺍﻷﻛﻞ
ﻳﻜﺮﻩ ﻭﻓﻴﻬﺎ ﻣﻦ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻻﺳﺘﺤﺴﺎﻥ ﻭﺇﻥ ﺍﺗﺨﺬﻃﻌﺎﻣﺎ ﻟﻠﻔﻘﺮﺍﺀ ﻛﺎﻥ ﺣﺴﻨﺎ ﺍﻩ
ﻭﺃﻃﺎﻝ ﻓﻲ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﻤﻌﺮﺍﺝ ﻭﻗﺎﻝ ﻭﻫﺬﻩ ﺍﻷﻓﻌﺎﻝ ﻛﻠﻬﺎ ﻟﻠﺴﻤﻌﺔ ﻭﺍﻟﺮﻳﺎﺀ
ﻓﻴﺤﺘﺮﺯ ﻋﻨﻬﺎ ﻷﻧﻬﻢ ﻻ ﻳﺮﻳﺪﻭﻥ ﺑﻬﺎ ﻭﺟﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺍﻫـ (ﺭﺩ
ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ:ﺝ 2: ﺹ 240: )
(এবং তিনি আরেক জায়গায় বলেন, আর
মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ
থেকে যিয়াফত খাবারের আয়োজন
করা মাকরূহ। কেননা তা আনন্দের বেলায়
শরীয়ত সম্মত, অনিষ্টতার বেলায় নয়। আর
এটা মন্দ বিদ‘আত । ইমাম আহমদ
এবং ইবনে মাজাহ বিশুদ্ধ সনদে জারীর
ইবন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন,
জারীর বলেন, ‘‘মৃত ব্যক্তির
পরিবারের নিকট সমবেত
হওয়া এবং তারা খাবারের আয়োজন
করাকে আমরা নিয়াহাহ (বিলাপ) গণ্য
করতাম’’। বায্যাযিয়ায় রয়েছে, ‘‘আর মৃত্যুর
প্রথম দিন, দ্বিতীয় দিন, সপ্তাহ পর
এবং অনুষ্ঠানে খাবারের আয়োজন করা
, বিভিন্ন মৌসুমে কবরে খাবার
নিয়ে যাওয়া, কুরআন পড়ার জন্য
দাওয়াতের আয়োজন করা এবং সৎ লোক ও
ক্বারীদেরকে খতমের জন্য
বা সূরা আন‘আম অথবা সূরা ইখলাস পড়ার
জন্য সমবেত করা মাকরূহ। মোটকথা
, কুরআন পড়ার সময় খাওয়ার জন্য
দাওয়াতের আয়োজন
করা মাকরূহ’’ এবং উক্ত কিতাবের
ইসতেহসান অধ্যায়ে রয়েছে, ‘‘যদি দরিদ্র
মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন
করে তবে ভাল’’ । আর মি‘রাজে এ
বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন
এবং বলেছেন, ‘‘এই সবগুলো হচ্ছে লোক
দেখানো ও লোক শুনানো। তাই এ সব
থেকে বিরত থাকবে
, কেননা তারা এগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর
সন্তুষ্টি কামনা করে না’’ ।)
ﻭﻗﺎﻝ ﻓﻲ ﻣﻮﺿﻊ ﺁﺧﺮ: ﻭﻗﺪ ﺃﻃﻨﺐ ﻓﻲ ﺭﺩﻩ ﺻﺎﺣﺐ ﺗﺒﻴﻴﻦ ﺍﻟﻤﺤﺎﺭﻡ ﻣﺴﺘﻨﺪﺍ
ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻨﻘﻮﻝ ﺍﻟﺼﺮﻳﺤﺔ ﻓﻤﻦ ﺟﻤﻠﺔ ﻛﻼﻣﻪ ﻗﺎﻝ ﺗﺎﺝ ﺍﻟﺸﺮﻳﻌﺔ ﻓﻲ ﺷﺮﺡ
ﺍﻟﻬﺪﺍﻳﺔ ﺇﻥ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺑﺎﻷﺟﺮﺓ ﻻ ﻳﺴﺘﺤﻖ ﺍﻟﺜﻮﺍﺏ ﻻ ﻟﻠﻤﻴﺖ ﻭﻻ ﻟﻠﻘﺎﺭﻯﺀ ﻭﻗﺎﻝ
ﺍﻟﻌﻴﻨﻲ ﻓﻲ ﺷﺮﺡ ﺍﻟﻬﺪﺍﻳﺔ ﻭﻳﻤﻨﻊ ﺍﻟﻘﺎﺭﻯﺀ ﻟﻠﺪﻧﻴﺎ ﻭﺍﻵﺧﺬ ﻭﺍﻟﻤﻌﻄﻲ
ﺁﺛﻤﺎﻥ ﻓﺎﻟﺤﺎﺻﻞ ﺃﻥ ﻣﺎ ﺷﺎﻉ ﻓﻲ ﺯﻣﺎﻧﻨﺎ ﻣﻦ ﻗﺮﺍﺀﺓ ﺍﻷﺟﺰﺍﺀ ﺑﺎﻷﺟﺮﺓ ﻻ ﻳﺠﻮﺯ
ﻷﻥ ﻓﻴﻪ ﺍﻷﻣﺮ ﺑﺎﻟﻘﺮﺍﺀﺓ ﻭﺇﻋﻄﺎﺀ ﺍﻟﺜﻮﺍﺏ ﻟﻶﻣﺮ ﻭﺍﻟﻘﺮﺍﺀﺓ ﻷﺟﻞ ﺍﻟﻤﺎﻝ ﻓﺈﺫﺍ
ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻟﻠﻘﺎﺭﻯﺀ ﺛﻮﺍﺏ ﻟﻌﺪﻡ ﺍﻟﻨﻴﺔ ﺍﻟﺼﺤﻴﺤﺔ ﻓﺄﻳﻦ ﻳﺼﻞ ﺍﻟﺜﻮﺍﺏ ﺇﻟﻰ
ﺍﻟﻤﺴﺘﺄﺟﺮ ﻭﻟﻮﻻ ﺍﻷﺟﺮﺓ ﻣﺎ ﻗﺮﺃ ﺃﺣﺪ ﻷﺣﺪ ﻓﻲ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺰﻣﺎﻥ ﺑﻞ ﺟﻌﻠﻮﺍ
ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺍﻟﻌﻈﻴﻢ ﻣﻜﺴﺒﺎ ﻭﻭﺳﻴﻠﺔ ﺇﻟﻰ ﺟﻤﻊ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﺇﻧﺎ ﻟﻠﻪ ﻭﺇﻧﺎ ﺇﻟﻴﻪ ﺭﺍﺟﻌﻮﻥ
( ﻭﺑﻌﺪ ﺃﺳﻄﺮ ) ﻛﻤﺎ ﺻﺮﺡ ﺑﻪ ﻓﻲ ﺍﻟﺘﺎﺗﺎﺭﺧﺎﻧﻴﺔ ﺣﻴﺚ ﻗﺎﻝ ﻻ ﻣﻌﻨﻰ ﻟﻬﺬﻩ
ﺍﻟﻮﺻﻴﺔ ﻭﻟﺼﻠﺔ ﺍﻟﻘﺎﺭﻯﺀ ﺑﻘﺮﺍﺀﺗﻪ ﻷﻥ ﻫﺬﺍ ﺑﻤﻨﺰﻟﺔ ﺍﻷﺟﺮﺓ ﻭﺍﻹﺟﺎﺭﺓ ﻓﻲ ﺫﻟﻚ
ﺑﺎﻃﻠﺔ ﻭﻫﻲ ﺑﺪﻋﺔ ﻭﻟﻢ ﻳﻔﻌﻠﻬﺎ ﺃﺣﺪ ﻣﻦ ﺍﻟﺨﻠﻔﺎﺀ (ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ :ﺝ 6: ﺹ 56: )
(এবং তিনি আরেক জায়গায়
বলেন, তাবয়িনুল-মাহারিমের লিখক
স্পষ্ট উদ্ধৃতির মাধ্যমে এসব
প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে অনেক দীর্ঘ
আলোচনা করেন। তার বক্তব্যের মধ্য
থেকে রয়েছে,‘‘তাজুশ্-শরীয়াহ বলেন,
পারিশ্রামিকের মাধ্যমে কুরআন
পড়া ছওয়াবের উপযুক্ত হয় না
, না মৃতব্যক্তির জন্য, না পাঠকের জন্য’’।
হেদায়ার ব্যখ্যাগ্রন্থে আইনি
লিখেন, ‘‘দুনিয়ার জন্য কুরআন
পাঠককে বাধা দেওয়া হবে, দাতা
, গ্রহিতা উভয়ে গোনাহগার হবে’’।
মোটকথা, আমাদের যুগে পারিশ্রমিকের
মাধ্যমে কুরআনের অংশ পড়ার যে প্রচলন
বিস্তার লাভ করেছে তা জায়েয
নেই, কেননা এখানে পড়ার নির্দেশ
এবং ছওয়াব
নির্দেশদাতাকে দেওয়া রয়েছে, আর
পড়া হচ্ছে অর্থের কারণে। অতএব বিশুদ্ধ
নিয়্যাত না থাকার কারণে পাঠকই যখন
ছওয়াব পাচ্ছে না তাহলে কী-
ভাবে পাঠক নিয়োগকারীর কাছে ছওয়াব
পৌছবে। যদি পারিশ্রমিক না থাকত
তবে আজকাল কেউ
-10 ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻳﻀﺎ : ﻭﻧﻘﻞ ﺍﻟﻌﻼﻣﺔ ﺍﻟﺤﻠﻮﺍﻧﻲ ﻓﻲ ﺣﺎﺷﻴﺔ ﺍﻟﻤﻨﺘﻬﻰ
ﺍﻟﺤﻨﺒﻠﻲ ﻋﻦ ﺷﻴﺦ ﺍﻹﺳﻼﻡ ﺗﻘﻲ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﻣﺎ ﻧﺼﻪ ﻭﻻ ﻳﺼﺢ ﺍﻻﺳﺘﺌﺠﺎﺭ ﻋﻠﻰ
ﺍﻟﻘﺮﺍﺀﺓ ﻭﺇﻫﺪﺍﺅﻫﺎ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻤﻴﺖ ﻷﻧﻪ ﻟﻢ ﻳﻨﻘﻞ ﻋﻦ ﺃﺣﺪ ﻣﻦ ﺍﻷﺋﻤﺔ ﺍﻹﺫﻥ
ﻓﻲ ﺫﻟﻚ ﻭﻗﺪ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﺇﻥ ﺍﻟﻘﺎﺭﻯﺀ ﺇﺫﺍ ﻗﺮﺃ ﻷﺟﻞ ﺍﻟﻤﺎﻝ ﻓﻼ ﺛﻮﺍﺏ ﻟﻪ
ﻓﺄﻱ ﺷﻲﺀ ﻳﻬﺪﻳﻪ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻤﻴﺖ ﻭﺇﻧﻤﺎ ﻳﺼﻞ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻤﻴﺖ ﺍﻟﻌﻤﻞ ﺍﻟﺼﺎﻟﺢ
ﻭﺍﻻﺳﺘﺌﺠﺎﺭ ﻋﻠﻰ ﻣﺠﺮﺩ ﺍﻟﺘﻼﻭﺓ ﻟﻢ ﻳﻘﻞ ﺑﻪ ﺃﺣﺪ ﻣﻦ ﺍﻷﺋﻤﺔ ( ﻭﺑﻌﺪ ﺍﺳﻄﺮ )
ﻭﺣﻴﻨﺌﺬ ﻓﻘﺪ ﻇﻬﺮ ﻟﻚ ﺑﻄﻼﻥ ﻣﺎ ﺃﻛﺐ ﻋﻠﻴﻪ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻌﺼﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﻮﺻﻴﺔ
ﺑﺎﻟﺨﺘﻤﺎﺕ ﻭﺍﻟﺘﻬﺎﻟﻴﻞ ﻣﻊ ﻗﻄﻊ ﺍﻟﻨﻈﺮ ﻋﻤﺎ ﻳﺤﺼﻞ ﻓﻴﻬﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﻨﻜﺮﺍﺕ ﺍﻟﺘﻲ
ﻻﻳﻨﻜﺮﻫﺎ ﺇﻻ ﻣﻦ ﻃﻤﺴﺖ ﺑﺼﻴﺮﺗﻪ ﻭﻗﺪ ﺟﻤﻌﺖ ﻓﻴﻬﺎ ﺭﺳﺎﻟﺔ ﺳﻤﻴﺘﻬﺎ (ﺷﻔﺎﺀ
ﺍﻟﻌﻠﻴﻞ ﻭﺑﻞ ﺍﻟﻐﻠﻴﻞ ﻓﻲ ﺣﻜﻢ ﺍﻟﻮﺻﻴﺔ ﺑﺎﻟﺨﺘﻤﺎﺕ ﻭﺍﻟﺘﻬﺎﻟﻴﻞ ) ) ﺭﺩ
ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ: ﺝ 6: ﺹ 57: )
(তিনি আরো বলেন, আল্লামা হুলওয়ানী
‘আল-মুনতাহাল হান্বলী’ এর টিকায়
শায়খুল ইসলাম তাক্বী উদ্দীন
থেকে বর্ণনা করেন যার ভাষ্য হলো,
‘‘পড়ার জন্য পারিশ্রমিকের উপর নিয়োগ
দেওয়া এবং এর ছওয়াব
মৃতব্যক্তিকে পাঠানো শুদ্ধ
নয়, কেননা কোনো ইমাম থেকে এর
অনুমোদন পাওয়া যায় না। বরং আলেমগণ
বলেন, নিশ্চয় ক্বারী যখন সম্পদের
কারণে পড়বে তখন তার কোনো ছওয়াব
নেই, অতএব সে মৃতব্যক্তির
কাছে কি জিনিস পাঠাবে, মৃত ব্যক্তির
কাছে কেবল সৎকর্মই পৌঁছে। আর
শুধুমাত্র তেলাওয়াতের উপর
পারিশ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার
কথা কোনো ইমাম বলেননি’’।
(কয়েক লাইন পর) অতএব, এখন তোমার
কাছে খতম এবং তাহালিলের
অসিয়্যাত, যে দিকে মানুষ ঝুঁকেছে তার
অন্যান্য খারাবীর
দিকে দৃষ্টি দেওয়া ছাড়াই তা বাতিল
হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেল।
দৃষ্টিশক্তি লোপ করা হয়েছে এমন
ব্যক্তি ছাড়া যার খারাবী কেউ
অস্বীকার করতে পারবে না।
আমি এতে একটি পুস্তিকা সংকলন
করেছি যার নাম দিয়েছি ‘শিফাউল-
আলীল ও বাল্লু-গালীল ফি হুকমিল-
অসিয়্যাতে বিল-
খাতামাতে ওয়াত্তাহালীল’
এসমস্ত বর্ণনা থেকে প্রমাণিত হলো যে
, প্রচলিত কুরআন খতম বিদ‘আত এবং না-
জায়েয। কুরআন, হাদীস এবং কল্যাণের
সাক্ষ্যপ্রাপ্ত যুগে এর কোনো প্রমাণ
নেই। এতে অংশ নেওয়া জায়েয নয়।
এছাড়া প্রচলিত
খতমে কুরআনে আরো অসংখ্য
খারাবী রয়েছে যার কিছু
নিম্নে তুলে ধরছি:
1. ঘোষণা এবং বলপূর্বক
এতে লোকজনদের সমবেত
করা হয়, যাকে শরীয়তের
পরিভাষায় ‘‘তাদাঈ’’ (ডাকাডাকি)
বলা হয় যা নফল ইবাদতে নিষিদ্ধ। যেমন
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু
এর সামনে কিছু মানুষ
সালাতুদ্দ্বোহা জামাতের
আকারে পড়ছিল, যখন তার কাছে তাদের
সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো তিনি
তাদের আমলকে বিদ‘আত আখ্যা দিলেন।
অথচ
সালাতুদ্দ্বোহা একাকি পড়া প্রমাণিত।
এভাবে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ
রাদিয়াল্লাহু আনহু এক গোত্রের
ব্যাপারে শুনলেন, তারা উচ্চস্বরে
তাহলিল এবং দুরূদ পড়ছে, তখন
তিনি তাদেরকে বিদ‘আতি বলে মসজিদ
থেকে বের করে দিলেন। অথচ
একাকি তাসবীহ, তাহলীল এবং দুরূদ
পড়া পূণ্য ও ছওয়াবের কাজ।
2. ডাকার পর যদি কিছু মানুষ কুরআন
খতমে না আসে তাহলে তাকে
বিভিন্নভাবে তিরস্কার করা হয়। অথচ
মুস্তাহাব কাজ ছাড়ার উপর তিরস্কার
জায়েয নেই।
3. অনুপস্থিতদের
ব্যাপারে মনে বিদ্বেষ, ঘৃণা, ক্রোধ
বদ্ধমূল করা হয়।
4. কুরআন খতমের
আয়োজকরা বেশি লোকের
উপস্থিতিতে গর্ব করে।
5. প্রচলিত কুরআন খতম এত
জরুরী মনে করা হয় যে, যদি কোনো মানুষ
কুরআন খতম না করায় অথবা তার খতমের
আয়োজনে মানুষ কম হয়
তবে সে সমালোচনার
লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
6. পুরো কুরআন খতম
জরুরী মনে করা হয়, অথচ শরীয়তে বরকত
এবং ছওয়াবের জন্য কোনো পরিমাণ
নির্দিষ্ট নেই। কুরআন তেলাওয়াত
ছাড়া যিকর আযকার, তাসবীহাত, নফল
এবং সাদাকাত ইত্যাদি অন্যান্য
পদ্ধতিতেও এই উদ্দেশ্য অর্জন হয়।
7. যদি পড়ার জন্য মানুষ কম জমা হয় তখন
তার পুরো কুরআন খতমকে নিজের উপর
চাপ এবং বিষের ঢোক
মনে করে যে কোনভাবে তা গলা থেকে
সরানোর চেষ্টা করা হয়। অথচ
হাদীসে বর্ণিত হচ্ছে,
(ﺍﻗﺮﺅﻭﺍ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻣﺎ ﺍﺋﺘﻠﻔﺖ ﻗﻠﻮﺑﻜﻢ ﻓﺈﺫﺍ ﺍﺧﺘﻠﻔﺘﻢ ﻓﻘﻮﻣﻮﺍ
ﻋﻨﻪ ) (ﺻﺤﻴﺢ ﺑﺨﺎﺭﻱ :ﺝ 2: ﺹ 757: )
অর্থাৎ (ঐ সময় পর্যন্ত কুরআন পড়
যতক্ষন মনে বিরক্তিবোধ না হয় এবং যখন
ক্লান্ত হয়ে পড় তখন ছেড়ে দাও) [65]
৮. এই অবস্থায় তাজবীদের নিয়ম
কানুন, হুরূফের সিফাতের বিশুদ্ধ
আদায়, গুন্নাহ, ইখফা, ইজহার
এবং মদসমূহের প্রতি খেয়াল করা ব্যতীত
শব্দ ও অক্ষর কেটে প্রাণ পরিত্রাণের
চেষ্টা করা হয়।
9 প্রচলিত কুরআন খতমে এমন লোক
আসে যে কুরআন পড়া জানে না। তখন
সে কুরআন হাতে নিয়ে প্রত্যেক
লাইনে বিসমিল্লাহ পড়ে অথবা শুধু
আঙ্গুল ফিরিয়ে পারা রাখা দেয়।
একে আঙ্গুল এবং বিসমিল্লাহ খতম
বলা হয়, শরীয়তে যার কোনো প্রমাণ
নেই। বরং এতে কুরআনের অবমাননা।
10 খতমের শেষ পর্যন্ত
বসাকে জরুরী মনে করা হয়। তাই
কোনো ব্যক্তি নিজের পারা শেষ
করে কঠিন প্রয়োজন সত্বেও উঠার সাহস
করে না। কেননা এটাকে অত্যন্ত
দোষনীয় মনে করা হয়।
11 কোনো কোনো মানুষের
তেলাওয়াতে সেজদার জ্ঞান থাকে না
, ফলে সে সেজদার আয়াত
পড়ে এবং শোনে তেলাওয়াতে সেজদা
না করার কারণে নেকীর
পরিবর্তে ওয়াজিব ছাড়ার গোনাহ
নিজের মাথায় বহন করে।
12 কোনো কোনো জায়গায় কুরআন
খতমের আয়োজক সবার পক্ষ থেকে চৌদ্দ
সাজদা আদায় করে নেয়। এতে পাঠকদের
দায়িত্ব আদায় হয় না এবং শরীয়ত
বিরোধী কাজের
কারণে সাজদাকারী গোনাহগার হয়।
13 প্রচলিত কুরআন খতমে মিঠাইর
ব্যবস্থা করা হয়। ‘‘প্রচলিত নিয়ম শর্তের
ন্যায়’’ মূলনীতির
আলোকে এটা পাঠকদের
পারিশ্রমিক, আর কুরআন পড়ার
পারিশ্রমিকের দাতা, গ্রহিতা উভয়
গোনাহগার। তাহলে এখানে নেকীর
কী প্রত্যাশা করা যায়? আর
যেখানে পাঠকের নিজের ছওয়াব
হচ্ছে না, সেখানে মৃত ব্যক্তির জন্য তার
ঈসাল কিভাবে হতে পারে ?
14 দাওয়াত বা মিঠাইকে এমন
জরুরী করে রাখা হয়েছে যে
, যে ব্যক্তি এর ব্যবস্থা করে না তার উপর
অভিশাপ ও তিরস্কারের ঝুড়ি পড়ে।
15 প্রচলিত কুরআন খতমের জন্য
তিনদিনা, চল্লিশা ইত্যাদি বিশেষ
দিন নির্দিষ্ট করা হয়। আর অনির্দিষ্ট
ইবাদতের জন্য নিজের পক্ষ থেকে দিন
নির্দিষ্ট করা মাকরূহ, না-জায়েয
বরং বিদ‘আত ।
16 জারীর ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু
আনহু বলেন,
" ﻛﻨﺎ ﻧﻌﺪ ﺍﻻﺟﺘﻤﺎﻉ ﺇﻟﻰ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻤﻴﺖ ﻭﺻﻨﻌﻬﻢ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﻴﺎﺣﺔ ."
‘‘মৃতব্যক্তির পরিবারে সমবেত
হওয়া এবং তারা খাবারের আয়োজন
করাকে আমরা ‘নাওহা’ (বিলাপ) গণ্য
করতাম’’ আর বিলাপ করা হারাম।
17 প্রচলিত কুরআন
খতমে অংশগ্রহণকারী এবং যিনি
অংশগ্রহণ করান সবার উদ্দেশ্য
থাকে লোক দেখানো। লোকদেখানোর
কারণে মানুষের বড় বড় আমল নষ্ট
হয়ে যায়।
হাদীসে রয়েছে লোক
দেখানো আমলকারীর আমল এমন ধ্বংস
হয় যেমন আগুন লাকড়ি খেয়ে ফেলে
এবং আল্লাহর কাছে এমন আমল
প্রত্যাখ্যাত। অতএব যে আমলটি আল্লাহর
জন্য করার ছিল, বরকত এবং ছওয়াব
পৌছা উদ্দেশ্য ছিল, লোকদেখানোর
কারণে সমস্ত আমলে আগুন লেগে গেছে।
ছওয়াব কি মিলবে
? উল্টো লোকদেখানোর আযাব মাথার
উপর আসলো।
এই সমস্ত খারাবী শরীয়ত এবং সুন্নাত
থেকে চেহারা ফিরিয়ে নেওয়ার
ফলাফল। এর বিপরীত যদি শরীয়তের
পদ্ধতি অবলম্বন করা হত তাহলে আরাম
হত। এত কষ্ট উঠাতে হত না। ইখলাসের
সহিত ও আল্লাহর জন্য হত । যার
বদলে পাঠক ছওয়াব পেত। মৃত ব্যক্তির
কাছেও ছওয়াব পৌছত। লোক
দেখানো মারাত্মক গোনাহও মাথায়
নিতে হত না।
ঈসালে ছওয়াবে সঠিক পদ্ধতি
ঈসালে ছওয়াবের সঠিক পদ্ধতি এই যে
, মৌখিক এবং শারীরিক ইবাদতের
মধ্যে প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ
ঘরে একাকীভাবে যে ইবাদত করে, নফল
নামায পড়ে, নফল রোজা রাখে, তাসবীহ
আদায় করে, তেলাওয়াত করে, নফল হজ্ব
বা উমরা করে, তাওয়াফ
করে এগুলোতে শুধু এই নিয়্যাত
করে নিবে যে, এর ছওয়াবটুকু আমাদের
অমুক দোস্তের কাছে পৌঁছুক।
তা পৌঁছে যাবে। এটাই
হচ্ছে ঈসালে সওয়াব। যে ছওয়াবটুকু
তোমার নিজের পাবার কথা তা তোমার
জন্য অর্জিত হয়ে যাবে এবং যে সমস্ত
লোকদের নিয়্যাত করা হয়েছে তারাও
এর পুরো ছওয়াব পেয়ে যাবে।
আর্থিক সাদাকা খায়রাতের
সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি হলো, নিজের
সামর্থানুযায়ী নগদ অর্থ
কোনো কল্যাণমূলক
কাজে লাগিয়ে দিবে অথবা কোনো
মিসকিনকে দিয়ে দিবে।
এই পদ্ধতি এ জন্য উত্তম যে, এতে মিসকিন
নিজের প্রয়োজন পুরা করতে পারে।
যদি আজ তার কোনো প্রয়োজন না হয়
তবে কালকের জন্য রাখতে পারে।
তা ছাড়া এই
ব্যবস্থাটি লোকদেখানো হতে মুক্ত।
হাদীসে গোপনে সাদাকাকারীর এই
ফযিলত বর্ণিত হয়েছে যে, এমন
ব্যক্তিকে আল্লাহ কিয়ামত
দিবসে নিজের রহমতের ছায়ায়
জায়গা দিবেন, যখন আর
কোনো ছায়া থাকবে না এবং গরমের
কারণে মানুষ ঘামে ডুবে যাবে।
ফযিলতের দিক থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির
সাদাকা হচ্ছে, মিসকিনের প্রয়োজন
অনুসারে তাকে সাদাকা করবে। অর্থাৎ
প্রয়োজন দেখে তা পুরা করবে।
ঘর ও দোকানের বরকতের জন্যও মালিক
নিজে উপরোক্ত ব্যবস্থাগুলো অবলম্বন
করবে।
ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺳﺒﺤﺎﻧﻪ ﻭﺗﻌﺎﻟﻰ ﺃﻋﻠﻢ
১৪ রবিউল আওয়াল ১৪১৭ হিজরী।
পাঠক, এই হলো উনার বক্তব্য। আমরা লক্ষ্য
করেছি যে, উনার লেখায় অসংখ্য কিতাব ও
ফকীহের বক্তব্য ও তথ্য রয়েছে। এই লেখা পড়ার পর
আশা করি সত্যসন্ধানী আলেমের জন্য
বিষয়টি বুঝতে কোনো সমস্যা পেতে হবে না।
একমাত্র পেটপূজারী আলেম ছাড়া কেউই হিলার
বাহানা তালাশ করে উনার লিখার বিরুদ্ধে কলম
ধরবেন না। শরীয়তে বৈধ বা হালাল থাকা এক কথা
, আর বৈধ বানানো আরেক কথা। কুরআন
হাদীসে কোনো জিনিসের বৈধতা থাকা এক কথা
, কুরআন হাদীস দিয়ে বৈধ বানানো আরেক কথা।
তবে প্রথমটি আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাতের
আলেমদের গুণ। আর দ্বিতীয়টি গুমরাহ
পেটপূজারী আলেমদের গুণ। বিষয়টি সহজে বোঝার
জন্য একটি উপমা পেশ করছি। যেমন ধরুন, রাসূল
আলিমুল গাইব নন বিষয়টি কুরআন ও
হাদীসে দ্ব্যর্থহীনভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যিনি বলছেন রাসূল আলিমুল গাইব নন, তার দলীল
কুরআন ও হাদীসের একাধিক জায়গায় রয়েছে।
পক্ষান্তরে যে আলেম দাবী করছেন রাসূল আলিমুল
গাইব, তিনি কুরআন হাদীস থেকেই তার মতের
স্বপক্ষে দলীল দিচ্ছেন। তবে তার দাবীর
পক্ষে কোনো দলীল কুরআন বা হাদীসে নেই।
তিনি কিছু দ্ব্যর্থবোধক আয়াত ও হাদীসকে তার
মতের পক্ষে দলীল বানাচ্ছেন। এই দ্বিতীয়
বৈশিষ্ট্যের আলেম ছাড়া কেউই প্রচলিত
খতমে কুরআনের স্বপক্ষে ওকালতি করতে পারেন না
, কেননা এসবের অস্তিত্ব
কুরআন, হাদীস, সাহাবা জীবনে নেই, এমনকি
খাইরুল কুরুন তথা সোনালী প্রজন্ম
(রাসূল, সাহাবা ও তাবে‘ঈ) এর কোনো যুগেও এর
অস্তিত্ব খোঁজে পাবেন না।
প্রচলিত খতমের অস্তিত্ব খাইরুল
কুরুনে না থাকায় বিষয়টি বিদ‘আত হওয়ার
সাথে সাথে লেখক আরো অনেক
খারাবী তুলে ধরেছেন, যা উনার অভিজ্ঞতার
আলোকে। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে উল্লেখিত
কারণ ছাড়াও আরো যে সমস্ত খারাবী রয়েছে তার
কয়েকটি নিম্নে তুলে ধরছি। এই অভিজ্ঞতা সবার
নাও থাকতে পারে। আমি অধমের কাছে যে বাস্তব
অভিজ্ঞতা হয়েছে তার কয়েকটি উল্লেখ করব।
1. পরস্পর হিংসা বিদ্বেষ সৃষ্টি। মনের
হিংসার জ্বালা প্রকাশ্যে রুপ নিতে অনেকের
বেলায় দেখা গেছে। যেমন, একজন কোথাও দশজন
নিয়ে যাওয়ার কথা। বাস্তবতা হলো, দশজন হলে এক
প্রতিষ্ঠানের সবাইকে খতমের তালিকায়
রাখা সম্ভব নয়। এ থেকেই হিংসা ও সমালোচনার
সুত্রপাত। যা খতমের দু একদিন পর্যন্ত
বা আরো বেশি চলতে থাকে।
2. অন্যের মনে জ্বালা সৃষ্টির জন্য
অযথা ঠাট্টাস্বরূপ খতমের কথা বলা। অথচ
হাদীসের দৃষ্টিতে মিথ্যা বলা কাজে হোক
বা ঠাট্টায় হোক সর্বাবস্থায় হারাম। সাধারণ
নিমণ শ্রেণির উস্তাদ নয় বরং অনেক শ্রদ্ধাভাজন
আলেম যারা দাওরায়ে হাদীসে পড়ান তাদের
অনেকের কাছ থেকেও এ সব আচরণ
পাওয়া যায়, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
3. মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া। যেমন অনেক সময়
খতম না করেই খতমের আয়োজককে মিথ্যা বলা।
4. কুরআনের সাথে ব্যবসায়িক পণ্যের মত
লেনদেনের আচরণ করা এবং কুরআন
নিয়ে বেয়াদবীমূলক কথা বলা। যেমন, অহরহ
একথা বলতে শুনা গেছে
, সিলেটি ভাষায় ‘যেলা পয়সা ওলা খতম’ অর্থাৎ
টাকা হিসেবে খতমের মান নির্ণয় করা হয়।
অনেককে আগেই ‘কয়টেকি খতম’ অর্থাৎ কত টাকার
খতম, একথা বলতে শুনা যায়। এভাবে টাকার উপর
কুরআন পড়ার মান নির্ণয় করা কুরআনের সাথে কতটুকু
বেয়াদবী? তা পাঠক নিজেই বলুন। অসতর্কতায়
আমার মুখ থেকেও দু-একদিন এমন কথা বের হয়েছে।
আল্লাহর কাছে তওবা করেছি। আবারো করছি
, তিনি যেন আমাকে মাফ করেন।
5. কুরআন সামনে নিয়ে হাসি, তামাশা
, গল্পগুজবের মধ্য দিয়ে তেলাওয়াত করা। আয়োজক
সামনে থাকলে তার ভয়ে একটু মনোযোগ
দিয়ে পড়া। এ থেকে স্পষ্ট যে, টাকাই প্রচলিত
খতমের মূল টার্গেট।
6. টাকাই যে মূল টার্গেট তা সবার
মনে জানা রয়েছে। সবার আচরণে একথা স্পষ্ট। মূল
টার্গেট টাকা থাকাবস্থায় আল্লাহর কাছে এসব
খতমের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই, আলেম বলতেই
একথা জানেন। একথা জানা থাকা সত্বেও নিজের
পেট পালার তাগিদে দীন সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তির
অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তাকে ধোঁকা দেয়া।
তাকে রাসূলের শিক্ষার আদেশ না দিয়ে খতমের
কথা বলা, অথবা নিজ থেকে না বললেও তাকে তার
অজ্ঞতার উপর রাখা। সঠিক সুন্নাতের
দিশা না দেওয়া। অথচ সঠিক ইলম প্রকাশের সুযোগ
থাকা সত্বে তা গোপন রাখা অবৈধ। হাদীসে এর
উপর ধমকি এসেছে।
এছাড়া সমাজিকভাবে আরো অনেক বিষয়
রয়েছে যা আলেমদের জন্য লজ্জাজনক ও তাদের
মান সম্মানে আঘাত, এই খতমকে কেন্দ্র
করে হয়ে থাকে।
আহসানুল ফাতওয়ার লিখাটি অনুবাদ করার পর এ
বিষয়ে নিজ থেকে কিছু লিখার প্রয়োজন ছিল না।
যা নিজেই পূর্বে উল্লেখ করেছি, তথাপি দু-
একটি কথা না লিখে পারলাম না। আল্লাহ
প্রথমে আমাকে এবং আমাদের
সবাইকে হেদায়াতের উপর পরিচালিত করুন। সহীহ
সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনার তওফীক দান
করুন। আমীন ।
খতমে ইউনুস
ইউনুস আলাইহিস সালাম আল্লাহর প্রেরিত
একজন নবী। আল্লাহর নির্দেশের পূর্বে তিনি তাঁর
গোত্র থেকে হিজরত করে চলে যান। আল্লাহর
কাছে তাঁর এ কাজ অপছন্দনীয় হলে ইউনুস
আলাইহিস সালামকে মাছের পেটে যেতে হয়। যার
বিবরণ কুরআন পাকে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন।
কমবেশ আমাদের সবারই ঘটনাটি জানা আছে।
বিপদে পড়ে যে কেউ নিজের গোনাহের
স্বীকারোক্তি বা তওবা করে আন্তরিকভাবে
আল্লাহকে ডাকলে আল্লাহ তাঁর ডাক শুনেন। ইউনুস
আলাইহিস সালামের মাছের পেটে পড়ার বিপদ
থেকে উদ্ধারের এই কাহিনিটি থেকে আল্লাহ
আমাদেরকে এই খবরটি দেন। উদ্ধারের
কাহিনিটি আল্লাহ যেভাবে উল্লেখ করেন
তাতে বিষয়টি একেবারে স্পষ্ট। যেমন রাসূল
সাল্লাল্লাহ আলাইহি সাল্লামকে লক্ষ্য
করে আল্লাহ তা‘আলা কয়েকজন নবীর কথা স্মরণ
করিয়ে দিতে গিয়ে বলেন,
﴿ ﻭَﺫَﺍ ﺍﻟﻨُّﻮﻥِ ﺇِﺫ ﺫَّﻫَﺐَ ﻣُﻐَﺎﺿِﺒًﺎ ﻓَﻈَﻦَّ ﺃَﻥ ﻟَّﻦ ﻧَّﻘْﺪِﺭَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻓَﻨَﺎﺩَﻯ ﻓِﻲ ﺍﻟﻈُّﻠُﻤَﺎﺕِ
ﺃَﻥ ﻻ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻ ﺃَﻧﺖَ ﺳُﺒْﺤَﺎﻧَﻚَ ﺇِﻧِّﻲ ﻛُﻨﺖُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻈَّﺎﻟِﻤِﻴﻦَ ﻓَﺎﺳْﺘَﺠَﺒْﻨَﺎ ﻟَﻪُ ﻭَﻧَﺠَّﻴْﻨَﺎﻩُ
ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻐَﻢِّ ﻭَﻛَﺬَﻟِﻚَ ﻧُﻨﺠِﻲ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﴾ ( ﺳﻮﺭﺓ ﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀ: 88-87 )
‘‘আর আপনি মাছওয়ালার কথা স্মরণ
করুন, তিনি ক্রুদ্ধ
হয়ে চলে গিয়েছিলেন, অতঃপর
মনে করেছিলেন যে
, আমি তাকে আটকাবো না। অতঃপর
তিনি অন্ধকারের মধ্যে আহ্বান
করে বললেন, তুমি ব্যতীত কোনো উপাস্য
নেই। তুমি দোষমুক্ত, নিশ্চয়
আমি গোনাহগার। অতঃপর আমি তার
আহ্বানে সাড়া দিলাম।
এবং তাকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি
দিলাম। আমি এমনিভাবে মুমিনদের
মুক্তি দিয়ে থাকি’’ ।
এই ঘটনা থেকে আমরা কী শিক্ষা পাই? একটু
চিন্তা করলেই যে কেউ
বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারবে। অর্থাৎ
যে কোনো বিপদে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনই
একজন মুমিনের করণীয়।
সকাতরে আল্লাহকে ডাকলে তিনি তাঁর
ডাকে অবশ্যই সাড়া দিবেন।
এবার আমরা দেখি হাদীসে এ দো‘আর
ব্যাপারে আমাদের জন্য
কী দিকনির্দেশনা রয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
" ﺩﻋﻮﺓ ﺫﻱ ﺍﻟﻨﻮﻥ ﺇﺫﺍ ﺩﻋﺎ ﻭﻫﻮ ﻓﻲ ﺑﻄﻦ ﺍﻟﺤﻮﺕ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺃﻧﺖ
ﺳﺒﺤﺎﻧﻚ ﺇﻧﻲ ﻛﻨﺖ ﻣﻦ ﺍﻟﻈﺎﻟﻤﻴﻦ ﻓﺈﻧﻪ ﻟﻢ ﻳﺪﻉ ﺑﻬﺎ ﺭﺟﻞ ﻣﺴﻠﻢ ﻓﻲ ﺷﻲﺀ
ﻗﻂ ﺇﻻ ﺍﺳﺘﺠﺎﺏ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻪ ." ( ﺳﻨﻦ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ،ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺪﻋﻮﺍﺕ ﻋﻦ ﺭﺳﻮﻝ
ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ، ﺑﺎﺏ 82 ، ﺭﻗﻢ : 3505، ﻣﺴﻨﺪ ﺍﺣﻤﺪ،
ﻣﺴﻨﺪ ﺳﻌﺪ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﻭﻗﺎﺹ، ﺭﻗﻢ: 1462 )
‘‘মাছওয়ালা যখন মাছের
পেটে থাকাবস্থায় দো‘আ করেছিলেন
তখন তার দো‘আ ছিল,
ﻻ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻ ﺃَﻧﺖَ ﺳُﺒْﺤَﺎﻧَﻚَ ﺇِﻧِّﻲ ﻛُﻨﺖُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻈَّﺎﻟِﻤِﻴﻦَ
(তুমি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই।
তুমি দোষমুক্ত, নিশ্চয়
আমি গোনাহগার) অতএব যখনই
কোনো মুসলিম
ব্যক্তি কোনো বিষয়ে এর মাধ্যমে দো
‘আ করেছে আল্লাহ তার
ডাকে সাড়া দিয়েছেন।’’
কুরআন হাদীসের
শিক্ষা থেকে যে বিষয়টি উপলব্ধি হয় তা অত্যন্ত
স্পষ্ট। সাধারণ ব্যক্তিও
চিন্তা করলে বিষয়টি বুঝতে পারবেন। কুরআন
হাদীসের
শিক্ষা থেকে আমরা বুঝলাম, যে কোনো ব্যক্তি যে
কোনো বিপদে পড়লে এই দো‘আটি করতে পারে। এই
দো‘আ করলে আল্লাহ তাকে বিপদ মুক্ত করবেন
বলে আমরা পূর্ণ আশাবাদী হতে পারি। কিন্তু
কে বা কারা প্রথমে কুরআন হাদীসের এই শিক্ষার
পরিবর্তন ঘটিয়ে খতমে ইউনুস নামে খতম আবিষ্কার
করেছে তার ইতিহাস আমাদের কাছে না থাকলেও
অভিজ্ঞতার নামে আমরা কুরআন হাদীসের
শিক্ষার বিপরীত চলছি। সাধারণ মানুষের
অজ্ঞতাকে পূঁজি করে আমাদের স্বার্থ উদ্ধার
করার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষার প্রচার
না করা কতটুকু আমানতদারী তা প্রশ্নযোগ্য।
বিবেকের কাছে কি আমরা কখনো প্রশ্নের
সম্মুখীন হই না? না কি পেটের তাগিদে আমাদের
বিবেকই নষ্ট হয়ে গেছে?
এই খতমের বিবরণ যেভাবে দেওয়া হয়েছে:
‘‘কঠিন বিপদ মামলা-মোকাদ্দমা ও
সঙ্কটের সময় এই দো‘আ সোয়া লক্ষ বার
পড়িবে। প্রত্যেক একশতবার
পড়া হইলে শরীর বা মুখে পানি দিবে।
পাক অবস্থায় পাক বিছানায়
বসিয়া কেবলামুখী হইয়া পড়িবে। ৩,৭
কিংবা ৪০ দিনে শেষ করিবে। মাছের
পেটের ভিতর অন্ধকারের এই
দোয়া জন্মলাভ
করিয়াছে বলিয়া অন্ধকারে বসিয়া
পড়িলে আরও সত্বর ফল লাভ হয়। খতম
শেষ হইলে একবার এই আয়াত পড়িবেঃ
} ﻓَﺎﺳْﺘَﺠَﺒْﻨَﺎ ﻟَﻪُ ﻭَﻧَﺠَّﻴْﻨَﺎﻩُ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻐَﻢِّ ﻭَﻛَﺬَﻟِﻚَ ﻧُﻨْﺠِﻲ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ( ﺍﻻﻧﺒﻴﺎﺀ:
88 ) {
উচ্চারণঃ ফাসতাজাবনা লাহু
ওয়া নাজ্জাইনাহু মিনাল
গাম্মি ওয়া কাযালিকা নুনজিল
মুমিনীন। (১৭ পারা, সূরা আম্বিয়া
, আয়াত:৮৮)
অর্থঃ ‘‘তৎপর আমি তাঁহার (হযরত ইউনুস
নবীর) দোয়া কবুল করিয়াছিলাম
এবং তাঁহাকে কঠিন বিপদ হইতে উদ্ধার
করিয়াছিলাম
এবং এইরূপে আমি বিশ্বাসীগণকে
উদ্ধার করিয়া থাকি।’’ এই
তাদবীরকে খতমে ইউনুস বলা হয়।
ইহা প্রত্যেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত
কার্যকরী ও অব্যর্থ ফলপদ
বলিয়া প্রমাণিত হইয়াছে।’’[71]
এখানে আমরা কুরআন হাদীসের শিক্ষার
সাথে দুই ধরণের বৈপরীত্য দেখতে পাই।
এক: নির্দিষ্ট সংখ্যার ব্যাপারটি। যা কুরআন
হাদীসের শিক্ষার বিপরীত।
দুই: বিপদে যিনি পড়েন তিনি আল্লাহর
কাছে প্রত্যাবর্তন করে দো
‘আটি না পড়ে অন্যকে দিয়ে পড়ানো। যার
কোনো শিক্ষা কুরআন বা রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন থেকে আমরা পাই
না। সবচেয়ে হাসির ব্যাপার হলো, বিপদে পড়লাম
আমি, আর আরেকজনকে এনে তাকে দিয়ে দো‘আ
পড়াচ্ছি, সে তার দো‘আয় বলছে ‘নিশ্চয়
আমি গোনাহগার’ আমি বিপদে পড়ে অন্যকে
গোনাহগার বলানোর মাধ্যমে আমার নিজের
কী লাভ?
একটু ভেবে দেখলাম না। একদিন একজন সাধারণ
মানুষ আমাকে কথাটি বলে হাসিয়ে দিয়েছেন।
আলেম না হয়েও তার এই উপলব্ধি দেখে অত্যন্ত
আনন্দিত হলাম এবং নিজেকে ধিক্কার দিলাম এই
বলে যে, বুঝেও কেন এতে জড়িত রয়েছি। আল্লাহ
আমাকে মাফ করুন।
এভাবে এসব খতমের
মাধ্যমে সমাজে ‘পুরোহিততন্ত্র’ চালু হয়েছে।
ইসলামের নির্দেশনা মোতাবেক বিপদগ্রস্ত
ব্যক্তি নিজে সুন্নাত সম্মত দো‘আ পড়ে মনের
আবেগ নিয়ে আল্লাহর
কাছে কাঁদবে এবং বিপদমুক্তি প্রার্থনা করবে।
নেককার মানুষের কাছে দো‘আ চাওয়া যাবে।
তিনি তার মত করে তার জন্য দো‘আ করবেন।
অভিজ্ঞতার দোহাই দিয়ে বৈধ করা
এসব খতম বৈধ করার স্বার্থে অভিজ্ঞতার
কথা বলে ফতোয়া চালিয়ে দিতে দেখা যায়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
শিক্ষার বিপরীত কার অভিজ্ঞতা বা কার কথার
এত মূল্যায়ন যা রাসূলের শিক্ষাকেও হার
মানায়? আর যিনি এ নির্দিষ্ট সংখ্যার
অভিজ্ঞতার কথা বললেন, তিনি নিজে পড়ার
কথা বললেন, না কি অন্যকে দিয়ে পড়ানোর? যাই
হোক এর কোনটিই যেহেতেু রাসূলের শিক্ষা নয়
তাই আমরা এ সবের পিছনে পড়ার প্রয়োজন বোধ
করি না। এ সব কথাবার্তা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।
এতে করে শরীয়ত পরিবর্তন হয় বলে আমরা স্পষ্ট
দেখতে পাচ্ছি। একটি সহজ উদাহরণ
দিলে বিষয়টি বুঝতে সহজ হবে বলে আশা করছি।
যেমন ধরুন, রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের
আলোকে আমরা জানি, সাদাকা বা দানের
মাধ্যমে বালা মুসিবত দূর হয়। এবার মনে করুন
কোনো ব্যক্তি কোনো এক তারিখের নির্দিষ্ট
সময়ে, যেমন সে শাওয়াল মাসের ৬ তারিখ
শনিবার বিকাল ৫টার সময় ১০ টাকা দান করল।
আল্লাহর অনুগ্রহে তার একটি মুসিবত দূর হলো।
আমরা বলতে পারি এই সাদাকার ওসীলায় হয়ত
আল্লাহ তাঁর মুসিবত দূর করেছেন।
কেননা সাদাকায় মুসিবত দূর হয় বলে রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস
থেকে আমরা পেয়েছি। এমন কয়েকবার
হলে সে বলতে পারে, অভিজ্ঞতার
আলোকে দেখা গেছে সাদাকায় মুসিবত দূর হয়।
কিন্তু এ দানকারী লোকটি যদি বলে, অভিজ্ঞতার
আলোকে দেখা গেছে ১০ টাকা দান করলে মুসিবত
দূর হয় তাই সবাই দশ টাকা দান করাকে আমল
বানান। আরেকটু এগিয়ে যদি বলে, শাওয়াল
মাসে দশ টাকা দান করলে মুসিবত দূর
হয়, আরো বাড়িয়ে যেমন, শাওয়াল মাসের ৬
তারিখ দশ টাকা দান করলে মুসিবত দূর হয়, আরেকটু
এগিয়ে যেমন, শাওয়াল মাসের ৬ তারিখ শনিবার
বিকাল ৫টার সময় ১০ টাকা দান করলে মুসিবত দূর
হয়। তাই সবাই এভাবে আমল করুন। তাঁর এই
কথাগুলো একেবারে মুর্খ ছাড়া কেউ গ্রহণ করবেন
বলে জানি না। যদিও সে তার আমলের ফলাফল
এভাবে পেয়েছে। কিন্তু তার এই অনুভূতি রাসূলের
শিক্ষা বিবর্জিত। এতে শরীয়তের মূল
শিক্ষা পরিবর্তন হয়, তাই তার অনুভূতি কখনো গ্রহণ
করা যায় না বা অভিজ্ঞতার নাম দিয়ে এ ধরণের
আমল শুরু করা যায় না। এবার এর
আলোকে আমরা ‘খতমে ইউনুস’ নামের খতমের
কথাটি চিন্তা করি। আশাকরি এসবের
অসারতা বুঝতে আর
কারো কোনো দ্বিধা থাকবে না।
এতো হলো খতমের নামে রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষার পরিবর্তন। আর
এই পরিবর্তন থেকেই খতমকে কেন্দ্র করে অন্যান্য
খারাবী ও নাজায়েযের সুচনা।
যে কোনো সুন্নাতকেই তার স্বাভাবিক
অবস্থা তথা রাসূল সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আমলের
রূপরেখা থেকে সরিয়ে দিলে সুন্নাত নিমজ্জিত
হওয়ার সাথে সাথে আরো অনেক নাজায়েয যোগ
হয়। যার অনেকটা আমরা ইতোপূর্বে খতমে কুরআনের
শেষে উল্লেখ করেছি। অধিক সংখ্যক
পড়া নিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া, খতম
পাঠকারী হুজুর ও খতমের আয়োজকের
মাঝে সন্দেহ, মন কষাকষির সৃষ্টি হওয়া, টাকার
পরিমাণ হিসেবে খতমের সংখ্যায় কমবেশ করা
, আলেমদের সাথে জাহেলের বেয়াদবীমূলক আচরণ
ইত্যাদি। টাকার স্বার্থে বুঝে না বোঝার ভান
করে অনেক শ্রদ্ধাভাজন আলেমকে তাঁর সম্মান
বা নিজ অবস্থানের অনেক
নিচে নামতে দেখা যায়। আল্লাহ আমাদের
সবাইকে এ সব থেকে পরিত্রাণ দান করুন এবং হুবহু
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
তরীক্বার উপর চলার তওফিক দান করুন।
খতমে বুখারী
মুমিন ব্যক্তির জীবনে হাদীসের গুরুত্ব
অপরিসীম। হাদীস ছাড়া মুমিন তাঁর
ইসলামী জীবন কল্পনা করতে পারে না। কুরআন
হাদীস উভয় মিলেই তাঁর জীবন পরিচালিত। তাই
কুরআনের মতই হাদীস শিক্ষা করা, হাদীস
চর্চা করা মুমিনের জন্য অপরিহার্য।
প্রতিটি মুমিনের জন্য জ্ঞান শিক্ষা করা ফরয। আর
কুরআন ও হাদীসই হচ্ছে মুসলিমের মূল জ্ঞান
ভাণ্ডার। এই হাদীস শিক্ষা, চর্চা, মুখস্থ রাখা
, সংরক্ষণ করা ও প্রচার
প্রসারে সাহাবায়ে কেরাম থেকে শুরু
করে উম্মতের একদল আলেম তাদের জীবনের
পুরো অংশটিই ব্যয় করে দিয়েছেন। যাদের
মেহনত, শ্রমের বদৌলতে রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস
সঠিকভাবে আমাদের পর্যন্ত পৌছেছে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
« ﻧﻀﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻣﺮﺃ ﺳﻤﻊ ﻣﻨﺎ ﺣﺪﻳﺜﺎ ﻓﺤﻔﻈﻪ ﺣﺘﻰ ﻳﺒﻠﻐﻪ ﻓﺮﺏ ﺣﺎﻣﻞ ﻓﻘﻪ
ﺇﻟﻰ ﻣﻦ ﻫﻮ ﺃﻓﻘﻪ ﻣﻨﻪ ﻭﺭﺏ ﺣﺎﻣﻞ ﻓﻘﻪ ﻟﻴﺲ ﺑﻔﻘﻴﻪ » .
(ﺳﻨﻦ ﺃﺑﻲ ﺩﺍﻭﺩ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻌﻠﻢ، ﺑﺎﺏ ﻓﻀﻞ ﻧﺸﺮ ﺍﻟﻌﻠﻢ، ﺭﻗﻢ 3662 : ،
ﺳﻨﻦ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﻋﻦ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ، ﺑﺎﺏ
ﺍﻟﺤﺚ ﻋﻠﻰ ﺗﺒﻠﻴﻎ ﺍﻟﺴﻤﺎﻉ، ﺭﻗﻢ: 3656 )
‘‘আল্লাহ তাঁর চেহারাকে উজ্জল করুন
যে আমার কাছ থেকে কোনো হাদীস
শুনল, অতঃপর সে তা সংরক্ষন
করল, এমনকি তা অন্যের কাছে পৌছাল।
অনেক ফিক্বহ (হাদীস) এর ধারক এমন
রয়েছে, সে যার কাছে পৌছায় সেই
ব্যক্তি তাঁর চেয়ে অধিক ফক্বীহ। আর
অনেক ফিক্বহের ধারক নিজে ফক্বীহ
নয়।’’ [72]
হাদীসটির মর্ম হচ্ছে, অনেক সময় এমনও হয় যে
, যার কাছে পৌছানো হয় সে হাদীসের মর্ম
বা ভাব যিনি পৌছিয়েছেন তার
চেয়ে বেশি বুঝেন। আবার এমনও অনেক রয়েছেন
যিনি শুধুমাত্র হাদীসটি মুখস্থ রাখতে পেরেছেন
কিন্তু তার তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারেন নি
, হতে পারে যার কাছে পৌছাবেন তিনি এর
তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারবেন, তাই রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
হাদীসকে বেশি বেশি পৌছানো ও প্রচারের
দিকে উৎসাহিত করেছেন।
উলামায়ে কেরামের এই দল উক্ত হাদীসের
পুরোপুরি হক্ব আদায় করার চেষ্টা করেছেন।
এদিকে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় তাঁর
নামে মিথ্যা বানিয়ে বলার দু একটি বিচ্ছিন্ন
ঘটনা পাওয়া গেলেও সাধারণত কেউই সে সময় তাঁর
নামে মিথ্যা কথা বলার সাহস পেত না। কিন্তু
তাঁর মৃত্যুর পর মিথ্যা বানিয়ে বলা শুরু হয়।
মুনাফেক, ফাসেক্ব, স্বার্থান্বেষী তাদের
উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য রাসূলের
নামে মিথ্যা বানিয়ে বলত। রাসূল সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন
বলে সরলমনা মুসলিমদের ধোকা দেওয়া সহজ ছিল।
কিন্তু হাদীস গ্রহণে সাহাবিদের সতর্কতা ও
যাচাইয়ের কারণে তা তাদের মধ্যে খুব প্রসার লাভ
করতে পারে নি। প্রখ্যাত তাবিয়ী মুজাহিদ (রহ.)
[73] বলেন:
"ﺟﺎﺀ ﺑﺸﻴﺮ ﺍﻟﻌﺪﻭﻯ ﺇﻟﻰ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﻓﺠﻌﻞ ﻳﺤﺪﺙ ﻭﻳﻘﻮﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ
ﺍﻟﻠﻪ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ- ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ -ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ-
ﻓﺠﻌﻞ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﻻ ﻳﺄﺫﻥ ﻟﺤﺪﻳﺜﻪ ﻭﻻ ﻳﻨﻈﺮ ﺇﻟﻴﻪ ﻓﻘﺎﻝ ﻳﺎ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﻣﺎ
ﻟﻰ ﻻ ﺃﺭﺍﻙ ﺗﺴﻤﻊ ﻟﺤﺪﻳﺜﻰ ﺃﺣﺪﺛﻚ ﻋﻦ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ -ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ- ﻭﻻ ﺗﺴﻤﻊ . ﻓﻘﺎﻝ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺇﻧﺎ ﻛﻨﺎ ﻣﺮﺓ ﺇﺫﺍ ﺳﻤﻌﻨﺎ ﺭﺟﻼ ﻳﻘﻮﻝ
ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ -ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ- ﺍﺑﺘﺪﺭﺗﻪ ﺃﺑﺼﺎﺭﻧﺎ ﻭﺃﺻﻐﻴﻨﺎ ﺇﻟﻴﻪ
ﺑﺂﺫﺍﻧﻨﺎ ﻓﻠﻤﺎ ﺭﻛﺐ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺍﻟﺼﻌﺐ ﻭﺍﻟﺬﻟﻮﻝ ﻟﻢ ﻧﺄﺧﺬ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺇﻻ ﻣﺎ
ﻧﻌﺮﻑ ." ( ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ، ﻣﻘﺪﻣﺔ, ﺑﺎﺏ ﺍﻟﻨﻬﻲ ﻋﻦ ﺍﻟﺮﻭﺍﻳﺔ ﻋﻦ ﺍﻟﻀﻌﻔﺎﺀ،
10-1 )
‘‘(তাবিয়ী) বুশাইর আল-
আদাবী ইবনে আব্বাসের (রা)
কাছে আগমন করেন এবং হাদীস
বলতে শুরু করেন। তিনি বলতে থাকেন:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। কিন্তু
ইবনে আব্বাস (রা) তার দিকে কর্ণপাত
করলেন না। তখন বুশাইর বলেন: হে ইবনু
আব্বাস, আমার কি হলো!
আমি আপনাকে আমার হাদীস
শুনতে দেখছি না? আমি আপনার
কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস
বর্ণনা করছি, অথচ আপনি কর্ণপাত
করছেন না!? তখন ইবনু আব্বাস (রা)
বলেন: একসময় ছিল যখন
আমরা যদি কাউকে বলতে শুনতাম: ‘
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন’, তখনই
আমাদের দৃষ্টিগুলো তাদের
দিকে আবদ্ধ হয়ে যেত এবং আমরা পূর্ণ
মনোযোগ দিয়ে তাঁর প্রতি কর্ণপাত
করতাম। কিন্তু যখন মানুষ খানাখন্দক
ভালমন্দ সব পথেই চলে গেল তখন
থেকে আমরা আর শুধুমাত্র সুপরিচিত ও
পরিজ্ঞাত বিষয় ব্যতীত মানুষদের
থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করি না।’’ [74]
মুসলিম উম্মাহর
ভিতরে মিথ্যাবাদী হাদীস বর্ণনাকারীর
উদ্ভব হবে বলে নবী আলাইহি ওয়াসাল্লাম
উম্মতকে এ ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক করেন।
তার থেকে কিছু শুনেই যাচাই
ছাড়া নির্বিচারে গ্রহণ করা
, বর্ণনা করা থেকে উম্মতকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও
সাবধান করে দেন। মিথ্যা বা সন্দেহযুক্ত
হাদীস বর্ণনা করতে নিষেধ আরোপ করেন।
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনে:
« ﺳَﻴَﻜُﻮﻥُ ﻓِﻰ ﺁﺧِﺮِ ﺃُﻣَّﺘِﻰ ﺃُﻧَﺎﺱٌ ﻳُﺤَﺪِّﺛُﻮﻧَﻜُﻢْ ﻣَﺎ ﻟَﻢْ ﺗَﺴْﻤَﻌُﻮﺍ ﺃَﻧْﺘُﻢْ ﻭَﻻَ
ﺁﺑَﺎﺅُﻛُﻢْ ﻓَﺈِﻳَّﺎﻛُﻢْ ﻭَﺇِﻳَّﺎﻫُﻢْ » (ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ، ﺍﻟﻤﺮﺟﻊ ﺍﻟﺴﺎﺑﻖ )
‘‘শেষ যুগে আমার উম্মতের কিছু মানুষ
তোমাদেরকে এমন সব হাদীস
বলবে যা তোমরা বা তোমাদের
পিতামহগণ কখনো শুনেন নি। খবরদার!
তোমরা তাদের থেকে সাবধান থাকবে
, তাদের থেকে দূরে থাকবে।’’ [75]
আবু হুরাইরা (রা.)
থেকে আরেকটি হাদীসে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
« ﻛﻔﻰ ﺑﺎﻟﻤﺮﺀ ﻛﺬﺑﺎ ﺃﻥ ﻳﺤﺪﺙ ﺑﻜﻞ ﻣﺎ ﺳﻤﻊ »
‘‘একজন মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার
জন্য এতটুকু যথেষ্ট যে, সে যা শুনবে তাই
বর্ণনা করবে।’’[76]
এভাবে অগণিত হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে হাদীস গ্রহণের
ক্ষেত্রে উম্মতকে সর্বোচ্চ সতর্ক করেছেন।
একদিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের সতর্কবাণী
, অপরদিকে জালিয়াতদের জালিয়াতী উম্মতের
এই শ্রেষ্ঠ জাতি উলামাদল তথা মুহাদ্দিসীনের
শ্রমকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে বর্ণিত অগণিত
হাদীসের মধ্য হতে প্রকৃত হাদীসটি খোঁজে বের
করতে তাদেরকে অনেক শ্রম দিতে হয়েছে। হাদীস
মূলত কুরআনের
ব্যাখ্যা বা প্রজ্ঞা হিসেবে কুরআনের মতই তার
হেফাযত করতে আল্লাহ তা‘আলা এ ধরণের
আলেমের এক ঝাঁক তৈরী করে দেন। যারা তাদের
জীবনের সিংহভাগই হাদীস চর্চার পিছনে ব্যয়
করে রাসূলের প্রকৃত বাণীটি উম্মতের
হাতে তুলে দিতে সক্ষম হন। আর একেই আমরা সহীহ
হাদীস বা বিশুদ্ধ হাদীস বলে জানি।
উলামায়ে উম্মতের এই শ্রেণির অন্যতম ছিলেন
ইমাম বুখারী রাহ.। আরব
রীতি অনুযায়ী বংশধারা সহ তার পুরো নাম হলো
, মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল ইবন ইবরাহীম ইবন মুগীরাহ
ইবন বারদিযবাহ। তার মূল নাম মুহাম্মদ। তিনি ১৯৪
হিজরীর শাওয়াল মাসের ১৩ তারিখ রোজ শুক্রবার
(৮১০ খ্রিস্টাব্দ) খোরাসানের বুখারা এলাকায়
(বর্তমানে উজবেকিস্তানের অংশ) জন্মগ্রহণ
করেন। মাত্র ৯ বৎসর বয়সে কুরআন মুখস্থ শেষ করেই
১০ বৎসর বয়স থেকে হাদীস মুখস্থ, হাদীসের চর্চা
, হাদীস সংরক্ষণ করতে বিভিন্ন মুহাদ্দিসের
কাছে যাতায়াত শুরু করেন। তার মেধা ছিল
বর্ণনাতীত। তার মেধা, হাদীস গ্রহণে সতর্কতার
বিভিন্ন ঘটনা কিতাবাদিতে উল্লেখ রয়েছে। তার
জীবনের শ্রেষ্ঠতম কর্ম ‘সহীহুল বুখারী
’ নামে প্রসিদ্ধ হাদীসের এই গ্রন্থটির
রচনা বলে উল্লেখ করেছেন উলামায়ে কেরাম।
হাদীসের উপর পূর্ণ পাণ্ডিত্য অর্জনের পর ২১৭
হিজরী সনে তার বয়স যখন ২৩, তখন তিনি এই
গ্রন্থটির রচনা শুরু করেন। গ্রন্থটিতে শুধুমাত্র সহীহ
হাদীসকেই স্থান দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি দীর্ঘ ষোল
বছর সাধনার মধ্য দিয়ে ২৩৩ হিজরী সনে এর কাজ
সমাপ্ত করেন। রচনাকালে তিনি সর্বদা সওম পালন
করতেন এবং প্রতিটি হাদীস লিখতে গোসল করে দু
রাক‘আত সালাত আদায় করতেন বলে জানা যায়।
বিশুদ্ধতার উপর নিশ্চিত হওয়ার
আগে কোনো হাদীস লিখতেন না। বর্ণনায়
আরো জানা যায় যে, তিনি বিশুদ্ধ
থেকে বিশুদ্ধতম হাদীসের সংকলনের ইচ্ছায় তার
মুখস্থ অনুমানিক ছয় লক্ষ হাদীস থেকে বাছাই
করে একেবারে সহীহ বা বিশুদ্ধ হাদীসটিকেই এই
গ্রন্থে স্থান দেন। এত সংখ্যক হাদীস
থেকে বিভিন্ন হাদীস বারবার
বর্ণনা সহকারে মাত্র ৭২৭৫ বা তার সামান্য
কমবেশ[77] হাদীস তার কিতাবে স্থান পেয়েছে।
সহীহুল বুখারী হিসেবে কিতাবটির নাম সর্বজনের
কাছে পরিচিত। তবে তার মূল নাম হচ্ছে ‘আল-
জামি‘উস্-সহীহ’ । ২৫৬ হিজরীর
১লা শাওয়াল, মোতাবেক ৩১ আগষ্ট ৮৭০ খ্রিস্টাব্দ
শুক্রবার দিবাগত রাত্রে ৬২ বৎসর বয়সে এই মহান
ব্যক্তিত্ব মারা যান। [78]
প্রচলিত বিভিন্ন খতম: তাৎপর্য ও পর্যালোচনা ২য় পর্ব
Price : *Happy Shopping

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url