প্রচলিত বিভিন্ন খতম: তাৎপর্য ও পর্যালোচনা ৩য় পর্ব
উলামায়ে উম্মতের মূলধারার আলেম
তথা আহলুস্সুন্নাহ ওয়াল জামাতের
আলেমদেরকে সর্বদা সহীহ হাদীসকেই গ্রহণ
করতে এবং অন্যান্য ভেজালযুক্ত
হাদীসকে চিহ্নিত করে প্রত্যাখ্যান
করতে দেখা গেছে। জানা অবস্থায় কেউই সহীহ
হাদীস ছাড়া অন্য কোনো হাদীস গ্রহণ করতেন না।
সহীহ হাদীস ছাড়া শরীয়তের বিষয়াদি প্রমাণ
করতেন না। ইমাম বুখারী তাঁর এই রচনায় সহীহ
গ্রহণের প্রচেষ্টায় পূর্ণ সফল হয়েছেন বলে সমস্ত
উলামায়ে মুহাদ্দিসীন যাচাই ও
পরীক্ষা নিরীক্ষার পর স্বীকৃতি দিয়েছেন।
তিনি তার চেষ্টায় সফল হওয়ায় সারা বিশ্বের
আনাচে কানাচে তাঁর কিতাবের সুনাম, সুখ্যাতি ও
মূল্যায়ন ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর কিতাব দল মত
নির্বিশেষে সর্বজনের কাছে ‘আসাহ্হুল কুতুব বা
‘দা কিতাবিল্লাহ’ বা কুরআনের পর সর্বোচ্চ বিশুদ্ধ
কিতাব হিসেবে ভূষিত হয়। এর মত
আরেকটি কিতাব ‘সহীহ মুসলিম’ ছাড়া অন্য সব
কিতাবের হাদীস যাচাই
করে নেওয়াকে মুহাদ্দিসীনে কেরাম
জরুরী মনে করলেও তাঁর এ কিতাবের
হাদীসগুলো নির্বিচারে গ্রহণের অনুমোদন দেন।
এই হলো ‘সহীহুল বুখারী’ বা আমাদের
মাঝে ‘বুখারী শরীফ’ হিসেবে পরিচিত কিতাবের
অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সারকথা। অত্যন্ত
সংক্ষেপে আমরা যে সার কথাটি জানলাম
তা হলো,
*‘সহীহুল বুখারী’ মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল বুখারীর
লিখিত একটি হাদীসের কিতাব।
* এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
বিপুল সংখ্যক বিশুদ্ধ হাদীসের এক বিশাল
ভাণ্ডার রয়েছে।
* তাঁর কিতাবের সমস্ত হাদীস বিশুদ্ধ
বলে মুহাদ্দিসীনে কেরামের
কাছে স্বীকৃতি পেয়েছে।
* যাচাই বা নিরীক্ষা ছাড়াও আমরা তাঁর
কিতাবের হাদীস গ্রহণ করতে পারি।
তাঁর কিতাবের হাদীসগুলো সহীহ জানার পর
এখন আমাদের করণীয় কী? এই প্রশ্নের উত্তর
আহলুস্সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আলেমদের
কাছে একটিই। আর তা হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
শিক্ষা মোতাবেক আমাদের করণীয়:
* হাদীসগুলো থেকে আমাদের জ্ঞান আহরণ
করতে হবে।
* বেশি বেশি এই হাদীসগুলোর চর্চা করতে হবে।
* হাদীসগুলো নিজে বুঝা এবং অপরকে বুঝানোর
চেষ্টা করতে হবে।
* হাদীসগুলো মুখস্থ করা, বর্ণনা করা, তার প্রচার
প্রসার করতে হবে। হাদীসের ক্ষেত্রে এই
হলো রাসূলের শিক্ষা। সাহাবায়ে কেরামের
জীবন থেকেও আমরা এই শিক্ষাই দেখতে পাই।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
স্বীকৃত খাইরুল কুরুনেও এই ছিল হাদীসের
ক্ষেত্রে তাদের আচরণ।
এর বিপরীত ঈসালে ছওয়াবের জন্য হাদীস
তেলাওয়াত করা, অসুস্থ
হলে বা যে কোনো বিপদে মুসিবতে পড়লে হাদীস
পাঠ করে দো‘আ করার কোনো নজীর না রাসূলের
শিক্ষায় রয়েছে, না সাহাবিদের জীবনে রয়েছে
, না খাইরুল কুরুনে রয়েছে। কিন্তু
কে বা কারা কুরআনের মত বিভিন্ন বাহানায় এই
কিতাবের হাদীসকে তাদের অর্থ উপার্জনের
জন্য ‘খতমে বুখারী’ নামে এই প্রসিদ্ধ ‘সহীহুল
বুখারী’ কিতাবের খতম বের করেছে তার
কোনো হদীস না থাকলেও আমাদের
মাঝে তা অত্যন্ত প্রসার লাভ করেছে। এই
কিতাবের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে দো‘আ
করলে নাকি দো‘আ কবুল হয়। রাসূলের
বাণী ছাড়া এমন কথা বলার সাহস আমরা কী-
ভাবে পাই তাতে অবাক লাগে। এর নাম আল্লাহ ও
তার রাসূলের উপর মিথ্যা অপবাদ নয় কি? আমাদের
বাস্তব জীবনে এই কিতাবের হাদীসের তেমন
একটা গুরুত্ব না দেখা গেলেও রাসূল সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শিক্ষার
উল্টো বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহ এবং এই
বিপরীতমুখি শিক্ষার দিকে মানুষকে উদ্বুদ্ধ
করতে দেখা যায়। পেটপূজারী বা আলেম
নামে অজ্ঞ কোনো ব্যক্তি হয়তো এর
সূচনা করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে খাইরুল কুরুনের
বিপরীত কর্ম কী-ভাবে বর্তমান আহলুস্সুন্নাহ
ওয়াল জামাত দাবীদার আলেমদের মাঝে প্রচলন
লাভ করে তা ভেবে পাওয়া মুশকিল। অর্থের লোভ
ছাড়া বাহ্যত আর কোনো কারণ না দেখে গেলেও
এতসব আলেমকে এদিকে সম্পৃক্ত করাটাও দুস্কর।
আল্লাহই ভাল জানেন।
কথিত রয়েছে, ইমাম বুখারী রাহ. না কি এই
কিতাব শেষ করে দো‘আ করেছিলেন। এই বাহানায়
এই কিতাবের খতমের দিকে উদ্বুদ্ধ করা হয়ে থাকে।
পাঠক, এই কথাকে আপনি নিজের বিবেক
খাটিয়ে একটু চিন্তা করে বুঝুন। ইমাম বুখারী রাহ.
এত বছরের সাধনায় যে কর্ম করেছেন তা তাঁর
একটি নেক আমল। কুরআন ও হাদীসের ভাষায়
যা ‘আমলে সালেহ’ । তাঁর
কর্মটি যে ‘আমলে সালেহ’ এতে কোনো সন্দেহ
নেই। হাদীসের মাধ্যমে আমরা তা প্রমাণ করেছি।
‘আমলে সালেহ’ বা নেক কর্মের
মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে।
আমলে সালেহের পর দো‘আ কবুল হয় বলে হাদীস
থেকে আমরা জানতে পারি। তাই বুখারী রাহ. এর
জন্য এটা করা স্বাভাবিক।
তবে একথা মনে রাখতে হবে যে,
‘আমল’ কোনটি সালেহ আর কোনটি সালেহ নয়
তা সম্পূর্ণ তাওক্বীফী বা নুসূস নির্ভর বিষয় ।
ওহির বাইরে যুক্তি দিয়ে এ বিষয়ে কিছু বলার
সুযোগ নেই। ইমাম বুখারী রাহ. এর
কর্মটি আমলে সালেহ হওয়ার বেলায় রাসূল
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর
বাণী রয়েছে। কিন্তু আমাদের এই কর্ম
কি তাই? তার কর্ম আর আমার কর্ম কি এক? রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
কখনো এমনটি করতে বলেছেন? সাহাবিরা কখনো
এমনটি করেছেন? এসবের উত্তর যদি ‘না’ হয়
তবে কোন বাহানায় আমরা এ ধরণের কর্মের
বৈধতা দেই? না কি উপার্জনের
স্বার্থে হালালকে হারাম করার মত পাণ্ডিত্য ও
যোগ্যতা আমরা অর্জন করেছি?
এই খতমের প্রতি উৎসাহিত করার জন্য
আরো বলা হয়ে থাকে যে, ইমাম বুখারী রাহ.
নাকি এই কিতাবের কাজ সমাপ্তির পরে আল্লাহর
কাছে দো‘আ করেছিলেন যে, যে ব্যক্তি তাঁর এই
কিতাবটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে দো‘আ
করবে আল্লাহ যেন তাঁর দো‘আ কবুল করেন। এ
থেকেই নাকি এই খতমের সুত্রপাত। পাঠক, এই
কথাটি আপনি কী হিসেবে দেখেন? বুখারী রাহ.
এর কিতাব রচনার প্রেক্ষাপটের নির্ভরযোগ্য
কোনো কিতাবে আপনি এমন কোনো কথা পাবেন
না। ‘সহীহুল বুখারী’ রচনার কয়েক শতাব্দী পর
পর্যন্ত ইমাম বুখারী রচিত এ গ্রন্থের চর্চা, তার
খেদমত অত্যন্ত ব্যাপক হারে হলেও খতমের নজীর
দেখবেন না। এ থেকেই এসব কিছু যে বানানো গল্প
তা অতি সহজে অনুমেয়। তা ছাড়া বুখারী রাহ. এর
মত বিশুদ্ধ আকীদার ধারক ব্যক্তির দিকে এমন
কথার অপবাদ দেওয়া কতটুকু গ্রহণযোগ্য
তা বিবেকের কাছে প্রশ্ন। ইমাম বুখারী রাহ.
তিনি কি শারি‘ তথা শরীয়ত প্রবর্তক? তিনি এমন
কথা বললে তা অনুসরণযোগ্য হবে? নাকি তার
আক্বীদা প্রশ্নবিদ্ধ হবে? যাই হোক
আমরা অযথা অনির্ভরযোগ্য কোনো কথার উপর
ভিত্তি করে ইমাম বুখারী রাহ. এর
ব্যক্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারি না। আমরা এই
কথাগুলোকেই অসার বলে ধরে নেই।
বুখারী পড়ে দো‘আ কবুল হলে রাসূলের অন্য সব
হাদীসের কি দোষ? নাকি আপনার অভিজ্ঞতায়
অন্য হাদীস পড়ে দো‘আ করলে তা কবুল হয় না, শুধু এই
কিতাবের হাদীস পড়লে দো‘আ কবুল
হয়? সাহাবিরা যে সব হাদীস জানতেন তা তাদের
কাছে হাদীস বলে সন্দেহ ছিল নাকি
? নাকি তারা এ ব্যাপারে অজ্ঞ
ছিলেন? নাকি তাদের কারো জীবনে কোনদিন
কোনো বিপদ মুসিবত আসে নি? তারা একটি দিনও
একটি হাদীস পড়ে দো‘আ করলেন না তার কারণ কি
?
মোটকথা, অভিজ্ঞতার নামে রাসূলের শিক্ষার
বাইরে আমাদের কিছু বলার অধিকার নেই।
পাঠক, আশা করি আমরা এই বুখারী খতমের
তাৎপর্য বুঝতে পেরেছি। এতো হলো শুধুমাত্র মূল
খতমের বিষয়। অর্থাৎ এটি একটি রাসূলের
শিক্ষা বিরোধী কর্ম। যার কোনো নজীর
বা দৃষ্টান্ত সোনালী যুগে নেই।
অপরদিকে খতমে কুরআনের বেলায়
তা খেলাফে সুন্নাহ হওয়া ছাড়া আরো যে সমস্ত
অতিরিক্ত খারাবী উল্লেখ করা হয়েছিল তার
অনেকটা এই খতমে বুখারীতেও রয়েছে।
কয়েকটি ক্ষেত্রে তা খতমে কুরআনের তুলনায়
অধিক। যেমন:
* কুরআন খতম করা বুখারী খতমের তুলনায় অনেক
সহজ। তাই কুরআন সাধারণত খতম তথা পড়ে শেষ
করা হয়। খতম না করে মিথ্যা বলার
ধোকা কুরআনের বেলায় কম হয়।
পক্ষান্তরে বুখারী পুরো পড়া অনেক কঠিন। তাই
এখানে খতমের আয়োজকের জিজ্ঞাসার
উত্তরে খতম হয়ে গেছে বলে মিথ্যার ধোকা প্রায়ই
অপরিহার্য বলে দেখা যায়।
* কুরআন সাধারণত আলেম বলতেই সবাই
পড়তে পারে। তাই তাজবীদ, সিফাত, হক্ব আদায়
করে তেলাওয়াত বা অতি দ্রুত তেলাওয়াতের
ত্রুটি ছাড়া সাধারণত শব্দ ভুলের ত্রুটি হয় না।
পক্ষান্তরে বিজ্ঞ আলেম ছাড়া অনেকেই হাদীস
পড়তে পারে না। টাকার স্বার্থে খতমে অংশ
নিয়ে সে আল্লাহর রাসূলের বাণীকে তার মনমত
ভুল উচ্চারণ করে। এমন ভুলকেও
মুহাদ্দিসীনে কেরাম রাসূলের উপর মিথ্যা বলার
অপরাধ বলে গণ্য করেছেন।
* ইতোপূর্বে বলেছি যে, বুখারী অধিকাংশ সময়ই
খতম হয় না। একজনের অংশ শেষ হলেও আরেকজন
তার নির্ধারিত অংশ শেষ করতে পারে না।
এক্ষেত্রে মানুষের
সাথে মিথ্যা বলা ধোকা দেওয়ার
সাথে সাথে দো‘আর সময় আল্লাহর
সাথে মিথ্যা বলতে অনেক দিন লক্ষ্য করা গেছে।
যেমন. দো‘আয় বলা হয়, ‘‘আল্লাহ, এই আমাদের
বুখারী খতমকে...’’ ‘‘ যে খতম
করা হয়েছে...’’ ইত্যাদি।
* হাদীসে রাসূল (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পড়া অবস্থায় অনর্থক
গল্পগুজব, হাসিঠাট্টা
, ঢং তামাশা থেকে সাধারণত কোনো মজলিসই
খালি থাকে না। একমাত্র খতমের আয়োজক
সামনে থাকলে তাঁর ভয় বা সম্মানে নিশ্চুপ
পড়া হয়। হাদীসের সাথে বেয়াদবী ছাড়া এ সবের
নাম কি দেওয়া যায়?
* এই খতমে মাঝে মধ্যে সবচেয়ে বড় আপত্তিকর
যে বিষয়টি সংঘটিত হয় তা হলো, আল্লাহ
ছাড়া অন্যের নাম জপের মাধ্যমে বরকত গ্রহণ
যা সম্পূর্ণরূপে শির্ক। কেননা বরকতের জন্য
কারো নাম জপ করা তাঁর ইবাদত বা আর্চনার
শামিল। বরকতের জন্য একমাত্র আল্লাহর নামই
নেওয়া যায়। তাই বরকতের জন্য আল্লাহ
ছাড়া কারো নাম এমনকি রাসূল সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিলেও শির্কের গোনাহ্
কাঁধে বহন করতে হবে। কিন্তু অনেক সময়
খতমে বুখারীর অনুষ্ঠানের
শেষদিকে আসহাবে বদরিয়্যিন অর্থাৎ বদর
যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবাগণ সম্বলিত
হাদীসটি সবাইকে শুনিয়ে পূনরায় পড়া হয়। তাদের
নাম নেওয়ার কারণ হিসেবে বরকতের কথা উল্লেখ
করা হয় এবং পরবর্তীতে তাদের নামের দোহাই
দিয়ে দো‘আ করা হয়। কারো দোহাই দিয়ে দো‘আর
ব্যাপারটি খতমে তাসমিয়াতে আমরা আরেকটু
বিস্তারিত জানব ইনশাআল্লাহ। এখানে শুধু এটুকু
বলতে চাই যে, বরকতের জন্য আল্লাহ
ছাড়া কারো নাম নেওয়া শির্ক।
সত্য সন্ধানী নিঃস্বার্থ ব্যক্তির জন্য এই
খতমের তাৎপর্য বুঝতে আর কোনো বেগ
পেতে হবে না বলে আশা করি। আল্লাহ সর্বপ্রথম
আমাকে অসংখ্য এসব মজলিসে শরীক হওয়ার
কারণে যে সব গুনাহ সংঘটিত
হয়েছে তা থেকে ক্ষমা করুন এবং আমি সহ
সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। স্বার্থের জন্য
দীনকে জলাঞ্জলি দেওয়া থেকে আমাকে এবং
সবাইকে বিরত রাখুন। আমীন।
খতমে না-রী
‘খতমে নারী’ বা ‘দুরুদে নারীয়াহ’ । মানুষের
বানানো দুরুদের নামে নির্দিষ্ট কিছু বাক্য। এই
বাক্যগুলো ৪৪৪৪ বার পড়লে এই খতম হয়। কথিত
আছে এই খতম পড়লে নাকি আগুন যেমন
কোনো বস্তুকে ভস্মীভূত করে দেয় ঠিক তদ্রূপ এই
খতমও বিপদ আপদকে ভস্মীভূত
করে দূরে সরিয়ে দেয়। তাই এই খতমের নাম
আরবী শব্দ ‘‘ ﻧﺎﺭ’’ যার অর্থ আগুন, এই অর্থের
দিকে সম্পৃক্ত করে এর নাম ‘খতমে নারী
’ বা ‘দুরুদে নারী’ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই খতমের
উৎপত্তি কোথা থেকে? এর প্রথম আবিষ্কারক কে
? এতে যে দো‘আ পড়া হয় তার মর্ম কী
? অনেকে একে দুরুদে নারী নাম দেন, একে দুরূদ
নামে নামকরণ করা অদৌ বৈধ কি না
? তা জানা না থাকলেও কারো কারো কথায়
আমরা এমন কাজের পিছে দৌড়াই। এতে যেমন
কান্না পায় আবার হাসিও পায়। অথচ দুনিয়ার
সাধারণ একটি বিষয় হলেও আমরা অনেক যাচাই
বাছাই করে অগ্রসর হই। ডাক্তারের কথা শুনলেই
দৌড়াই না, বরং পূর্বে তার সম্পর্কে অবগত হওয়ার
চেষ্টা করি। অথচ ধর্মীয়
বিশ্বাসে বিশ্বাসী হয়ে একটি আমল
করছি বা করাচ্ছি আর একবারও ভেবে দেখছি না।
এসব হচ্ছে ঈমান আক্বীদার বিষয়ে আমাদের
শৈথিল্য আচরণের বহিঃপ্রকাশ। প্রশ্ন হলো
, যিনি আমাকে এই খতম পড়ানোর জন্য উৎসাহিত
করলেন তিনি তার কতটি রোগ বালাই এই দুরূদ
দ্বারা সমাধান করেছেন? নাকি হাসপাতাল আর
ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়েছেন? এই দুরুদের এত
অ্যাক্শন হলে তিনি নিজে বিভিন্ন
সময়ে বিপদে জর্জরিত হয়ে তা দূর করার জন্য অন্য
পথ খোঁজেন কেন? জানা দো‘আটি পড়ে ফেললেই
তো হয়। আফসোস, যার নিজের আস্থা এই দুরূদের
উপর নেই, থাকার কথাও
নয়, তিনি কীভাবে মানুষকে এটি পড়ানোর উপদেশ
দেন? অপরদিকে আমাদের
পাগলামী দেখে আফসোস হয় যে, আমরা কী-
ভাবে এমন কথা গ্রহণ করি? ঔষধ মনে করলেও
খাবে একজন আর ভাল হবে আরেকজন? এইটুকু বোঝার
কি বিবেক আমাদের নেই?
যাই হোক এবার আমরা মূল
বিষয়ে আসি এবং জানার চেষ্টা করি খতমে না-
রী কী? এবং তা পড়া বা পড়ানো কতটুকু সমীচীন?
প্রথমেই মানুষের বানানো দো‘আটি ও তার
অর্থ উল্লেখ করছি। সত্যসন্ধানী ব্যক্তি অর্থের
দিকে একটু মনোনিবেশ করলেই দো‘আটির তাৎপর্য
এবং এমন দো‘আ পড়া কতটুকু সিদ্ধ
তা বুঝে নিতে পারবেন। দুরুদের
নামে আরবী যে বাক্যগুলো পড়া হয় তা নিম্নরূপ:
"ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺻَﻞِّ ﺻَﻼﺓً ﻛﺎﻣِﻠَﺔً ﻭﺳَﻠِّﻢْ ﺳَﻼﻣًﺎ ﺗﺎﻣًّﺎ ﻋﻠﻰ ﺳَﻴِّﺪﻧﺎ ﻣﺤﻤﺪٍ ﺍﻟﺬﻱ
ﺗَﻨْﺤَﻞُّ ﺑﻪ ﺍﻟﻌُﻘَﺪُ، ﻭﺗَﻨْﻔَﺮِﺝُ ﺑﻪ ﺍﻟﻜُﺮَﺏُ ﻭﺗُﻘﻀﻰ ﺑﻪ ﺍﻟﺤﻮﺍﺋﺞُ ﻭﺗُﻨﺎﻝُ ﺑﻪ
ﺍﻟﺮﻏﺎﺋﺐُ ﻭﺣُﺴْﻦُ ﺍﻟﺨﻮﺍﺗِﻢِ ﻭﻳُﺴْﺘﺴﻘﻰ ﺍﻟﻐﻤﺎﻡُ ﺑﻮﺟﻬﻪ ﺍﻟﻜﺮﻳﻢ، ﻭﻋﻠﻰ ﺁﻟﻪ
ﻭﺻﺤﺒﻪ ﻓﻲ ﻛﻞ ﻟﻤﺤﺔ ﻭﻧﻔﺲ ﺑﻌﺪﺩِ ﻛﻞ ﻣﻌﻠﻮﻡ ﻟﻚ."
‘‘হে আল্লাহ পরিপূর্ণ রহমত ও পূর্ণ
শান্তি বর্ষিত কর আমাদের সরদার
মুহাম্মদের উপর যার
মাধ্যমে সমস্যাসমূহ সমাধান হয়, দুঃখ
দুর্দশা তিরোহিত
হয়, প্রয়োজনাদি মিটিয়ে দেওয়া হয়,
পূণ্যাবলী ও সুন্দর শেষ পরিণাম
অর্জিত হয়, তার পবিত্র চেহারা/
সত্তার মাধ্যমে বৃষ্টি কামনা করা হয়।
আর রহমত বর্ষণ কর তার পরিবার ও তার
সাহাবায়ে কেরামের উপর তোমার
জানা সংখ্যানূযায়ী,
প্রতিটি মুহুর্তে ও নিঃশ্বাসে ’’
সচেতন ও সত্যসন্ধানী আলেমকে এ দুরুদের
সমস্যা ব্যাখ্যা করে বুঝাবার প্রয়োজন নেই।
জ্ঞানী ব্যক্তি মাত্র দুরূদটির শব্দ বা অর্থের
প্রতি একটু খেয়াল দিলেই এর
সমস্যা বুঝতে পারবেন। খতমটিতে যেহেতু অনেক
আপত্তিকর শব্দ বা বাক্য রয়েছে তাই এর
আপত্তিগুলো কোনো পর্যায়ের নিজ বিবেক
দিয়ে একটু গভীরভাবে চিন্তা করলেই বুঝা যাবে।
সবাই সহজে বোঝার জন্য প্রথমে প্রাসাঙ্গিক
কিছু কথা বলার প্রয়োজন বোধ করছি, যাতে করে এর
তাৎপর্য বুঝা আমাদের জন্য সহজ হয়।
আল্লাহতে বিশ্বাসী মানুষ বলতেই
একথা বিশ্বাস করেন যে, সবকিছুর মূল
সমাধানকারী বা পরিচালনাকারী একমাত্র
আল্লাহ তা‘আলা । আল্লাহতে বিশ্বাসী মুসলিম
অমুসলিম সকলেই এ বিশ্বাস পোষণ করেন।
তবে মুসলিম ব্যক্তির বিশ্বাস আর আস্তিক
বিধর্মীর বিশ্বাসের মাঝে পার্থক্য এই যে
, মুসলিম মনে করেন আল্লাহ কোনো কিছুর সমাধান
বা পরিচালনা করতে কারো মুখাপেক্ষী নন। তার
কাছে কিছু
চাইতে কোনো ব্যক্তিকে মিডিয়া বানাবার
দরকার পড়ে না। পক্ষান্তরে অমুসলিমের বিশ্বাস
হলো, বাদশা যেমন রাষ্ট্র পরিচালনায় বিভিন্ন
ব্যক্তির মুখাপেক্ষী থাকেন আল্লাহও এরকম
মুখাপেক্ষী । বিশেষ ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ যেমন
সরাসরি বাদশাহর কাছে কোনো কিছু
চাইতে পারে না, মিডিয়ার প্রয়োজন হয়, ঠিক
তদ্রূপ আল্লাহও সবাইকে চিনেন না, তাঁর
কাছে সরাসরি পৌছা যায় না, তাই তাঁর
কাছে কিছু চাইতে হলে বিশেষ
ব্যক্তিকে মিডিয়া বানানো প্রয়োজন। কুরআনের
অসংখ্য আয়াতে তাদের এসব বিশ্বাস
বর্ণনা করা হয়েছে, যেগুলো থেকে তাদের এমন
বিশ্বাসের প্রমাণ পাওয়া যায়। মক্কার সমস্ত
কাফের এ ধরণের বিশ্বাস পোষণ করত। মূল
পরিচালনায় তারা আল্লাহকে বিশ্বাস করত
বলে কুরআনের একাধিক আয়াতে এর প্রমাণ মিলে।
মূর্তির পূজা করলেও মূর্তিকে তারা মূল
পরিচালনাকারী বলে বিশ্বাস করত না। তাদের
নিজের মুখের কথা ছিল,
﴿ ﻣَﺎ ﻧَﻌْﺒُﺪُﻫُﻢْ ﺇِﻟَّﺎ ﻟِﻴُﻘَﺮِّﺑُﻮﻧَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺯُﻟْﻔَﻰ ﴾ ( ﺍﻟﺰﻣﺮ 188: )
‘‘আমরা তাদের ইবাদত কেবল এ জন্য
করি যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর
নিকটবর্তী করে দেয়’’ [79]
সবকিছুর ক্ষমতা, রক্ষা, সৃষ্টি
, রিযিক, পরিচালনা ইত্যাদির মূল কর্তৃত্ব আল্লাহর
হাতে বলে তাদের বিশ্বাস ছিল। কুরআনে অসংখ্য
জায়গায় এর আলোচনা করা হয়েছে। মূল কর্তৃত্ব
আল্লাহর হাতে স্বীকার করার পর অন্য কিছুর
ইবাদত বা অন্যকিছুকে আল্লাহর অংশীদার
করা অযৌক্তিক বলে কুরআনে বারবার
দেখানো হয়েছে।
মোটকথা তারা যে সমস্ত মাখলুক বা নেক
মানুষের ইবাদত করত ওসিলা হিসেবেই করত। কিন্তু
যা ওসিলা হওয়ার
যোগ্যতা রাখে না তাকে ওসিলা হিসেবে গ্রহণ
বা বিশ্বাস করাকে আল্লাহ তা
‘আলা কুরআনে শির্কের মাধ্যম বা শির্ক বলেই
আখ্যায়িত করেছন। অপরদিকে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম শির্কের সমস্ত পথকে বন্ধ
করেছেন। রাসূলকেও যাতে কেউ কোনো বাহানায়
আল্লাহ পর্যন্ত না পৌছায়, আল্লাহর
কোনো গুণাবলীতে শরীক না করে, এ
ব্যাপারে উম্মতকে সর্বোচ্চ সতর্ক করেছেন।
উম্মতকে এ ব্যাপারে সতর্ক করার নির্দেশ
স্বয়ং আল্লাহর পক্ষ থেকে ছিল। আল্লাহ বলেন,
﴿ﻗُﻞْ ﻻ ﺃَﻣْﻠِﻚُ ﻟِﻨَﻔْﺴِﻲ ﻧَﻔْﻌًﺎ ﻭَﻻ ﺿَﺮًّﺍ ﺇِﻻ ﻣَﺎ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ...﴾ (ﺍﻻﻋﺮﺍﻑ 188: )
‘‘হে নবী আপনি বলে দিন, আমি আমার
নিজের কল্যাণ সাধনের এবং অকল্যাণ
সাধনের মালিক নই...’’ [80]
অন্যত্র এরশাদ হয়েছে,
﴿ ﻭَﺇِﻥْ ﻳَﻤْﺴَﺴْﻚَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻀُﺮٍّ ﻓَﻠَﺎ ﻛَﺎﺷِﻒَ ﻟَﻪُ ﺇِﻟَّﺎ ﻫُﻮَ ﻭَﺇِﻥْ ﻳُﺮِﺩْﻙَ ﺑِﺨَﻴْﺮٍ ﻓَﻠَﺎ
ﺭَﺍﺩَّ ﻟِﻔَﻀْﻠِﻪِ ... ﴾ ( ﻳﻮﻧﺲ 107: )
‘‘আর আল্লাহ যদি আপনার উপর
কোনো কষ্ট আরোপ করেন
তবে তিনি ছাড়া কেউ তা খণ্ডাবার
নেই, পক্ষান্তরে যদি তিনি আপনাকে
কিছু কল্যাণ দান করেন তবে তার
মেহেরবানীকে রহিত করার মতও কেউ
নেই...’’ [81]
এ মর্মের আয়াত কুরআনে অসংখ্য জায়গায়
রয়েছে। আমাদের নবী ছাড়া অন্যান্য
নবী রাসূলেরও এই শিক্ষাই ছিল বলে কুরআনের
বিভিন্ন জায়গা থেকে আমরা জানতে পারি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার
বিষয়ে বাড়াবাড়ি করতে সর্বোচ্চ সতর্ক করেছেন।
আল্লাহর সাথে শির্ক দুরের কথা, তার প্রশংসায়
পর্যন্ত বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন। সহীহ
হাদীসে বর্ণিত রয়েছে, এক
ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, যা আল্লাহ
চেয়েছেন এবং আপনি চেয়েছেন, রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
" ﺃﺟﻌﻠﺘﻨﻲ ﻟﻠﻪ ﻋﺪﻻ ﺑﻞ ﻣﺎ ﺷﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺣﺪﻩ." ( ﻣﺴﻨﺪ ﺃﺣﻤﺪ، ﺣﺪﻳﺚ
ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ، ﺭﻗﻢ 1839: )
‘‘তুমি কি আমাকে আল্লাহর সমতুল্য
করেছ, বরং যা একমাত্র আল্লাহ
চেয়েছেন’’ [82]
" ﻭﻳﻠﻚ ﺍﺟﻌﻠﺘﻨﻲ ﻭﺍﻟﻠﻪ ﻋﺪﻻ ﻗﻞ ﻣﺎ ﺷﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺣﺪﻩ ." ( ﺳﻨﻦ
ﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ ، ﺑﺎﺏ ﺍﻟﻨﻬﻲ ﺃﻥ ﻳﻘﺎﻝ ﻣﺎﺷﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺷﺎﺀ ﻓﻼﻥ )
‘‘তোমার ধ্বংস
হউক, তুমি কি আমাকে আল্লাহর
সাথে সমতুল্য
করেছ? তুমি বল, যা শুধুমাত্র আল্লাহ
চেয়েছেন’’ । [83]
এক হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন,
" ﻻ ﺗﻄﺮﻭﻧﻲ ﻛﻤﺎ ﺃﻃﺮﺕ ﺍﻟﻨﺼﺎﺭﻯ ﺍﺑﻦ ﻣﺮﻳﻢ ﻓﺈﻧﻤﺎ ﺃﻧﺎ ﻋﺒﺪﻩ ﻓﻘﻮﻟﻮﺍ
ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺭﺳﻮﻟﻪ ." ( ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺘﻔﺴﻴﺮ، ﺑﺎﺏ : ﻭﺍﺫﻛﺮ
ﻓﻲ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﻣﺮﻳﻢ ... ﺭﻗﻢ 3261: )
‘‘তোমরা আমার প্রশংসায় সীমালংঘন
করো না, যেমনটি খৃষ্টানরা মারয়ামের
পুত্র ঈসার ক্ষেত্রে করেছে
, কেননা আমিতো আল্লাহর বান্দা
, তাই তোমরা বল আল্লাহর বান্দা ও
তাঁর রাসূল’’ ।[84]
এভাবে শির্কের আপনোদন করেছেন
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম । এবার
আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়াসাল্লামের
শিক্ষা ও ‘খতমে নারী’ নামক দো‘আটির
বাক্যগুলো নিয়ে একটু বিবেচনা করি।
আশা করি যিনি প্রকৃত সত্য জানার আগ্রহ রাখেন
এবং সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর
সাথে সাথে গ্রহণের মানসিকতা রাখেন তার
সামনে এই দো‘আর শির্কী শব্দগুলো অতি সহজেই
ধরা পড়বে। আর যার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে
, যা করছি আজীবন করেই যাব, আমি টলব তবে আমার
বিশ্বাস টলবে না, তার সামনে কুরআনের স্পষ্ট
আয়াত পেশ করলেও
একটি না একটি অজুহাতে তিনি তার মতকে অটুট ও
প্রতিষ্ঠিত রাখতে বর্ণিত দো‘আটি বা কুরআনের
আয়াতের বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
অন্যদের ভ্রান্তির ক্ষেত্রে তিনি আয়াতের
ব্যাখ্যা রাসূল সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী ও তাঁর আমল
অথবা সাহাবিদের আমল দ্বারা করলেও
এখানে এসে নিজের ভ্রান্ত মতকে অটুট
রাখতে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাতের
আদর্শে আদর্শবান আকাবীর আসলাফদের এই
উসূলটি ভুলে যাবেন। হানাফী হলেও আবু
হানিফা রাহ. এর মানহাজ ভুলে যাবেন। কুরআনের
আয়াত দলীল হিসেবে উপস্থাপনের
কারণে সাধারণ মহিলার কথায় উমর রাদিয়াল্লাহু
আনহুর মত খলীফার নিজ সিদ্ধান্ত
থেকে সরে আসার আদর্শ ভুলে যাবেন।
এখানে এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবিদের
আদর্শের চেয়ে নিজ পীর বা নিজের মতের
আলেমের কর্মই অগ্রাধিকার পাবে। যেমনটি রাসূল
গাইব জানেন বা রাসূল হাজির-নাজির এজাতীয়
শির্কী বিশ্বাস পোষণকারীরা তাদের ভ্রান্ত
আক্বীদা প্রতিষ্ঠিত রাখার বেলায় করে থাকে।
যদিও এ সব বিষয় কুরআনে দ্ব্যর্থহীনভাবে উল্লেখ
করা হয়েছে।
একেই আল্লাহ তা‘আলা প্রবৃত্তি ও আলেমকে প্রভু
বানিয়ে তাদের পূজা বলে আখ্যা দিয়েছেন।
কুরআনের আয়াত ও হাদীসের আলোকে এজাতীয়
কর্মকে ‘শিরক ফিল ইবাদত’ বা উপাসনাগত শির্ক
বলে আখ্যায়িত করেছেন আহলুস্-সুন্নাহ ওয়াল-
জামাতের আলেমগণ। আল্লাহ তা‘আলা এরশাদ
করেন,
﴿ ﺃَﻓَﺮَﺃَﻳْﺖَ ﻣَﻦِ ﺍﺗَّﺨَﺬَ ﺇِﻟَﻬَﻪُ ﻫَﻮَﺍﻩُ ﻭَﺃَﺿَﻠَّﻪُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻰ ﻋِﻠْﻢٍ ﻭَﺧَﺘَﻢَ ﻋَﻠَﻰ ﺳَﻤْﻌِﻪِ
ﻭَﻗَﻠْﺒِﻪِ ﻭَﺟَﻌَﻞَ ﻋَﻠَﻰ ﺑَﺼَﺮِﻩِ ﻏِﺸَﺎﻭَﺓً ﻓَﻤَﻦْ ﻳَﻬْﺪِﻳﻪِ ﻣِﻦْ ﺑَﻌْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻓَﻠَﺎ
ﺗَﺬَﻛَّﺮُﻭﻥَ ﴾ ( ﺍﻟﺠﺎﺛﻴﺔ 23: )
‘‘আপনি কি তাঁর প্রতি লক্ষ্য
করেছেন, যে তার প্রবৃত্তি তথা মনের
খেয়াল খুশিকে স্বীয় উপাস্য স্থির
করে নিয়েছে। আল্লাহ
জেনেশুনে তাকে পথভ্রষ্ট
করেছেন, তার কানে ও অন্তরে মোহর
এঁটে দিয়েছেন এবং তার চোখের উপর
রেখেছেন পর্দা। আল্লাহ
ছাড়া কে তাকে হেদায়াত করবে
? তোমরা কি চিন্তা ভাবনা করো না
?’’ [85]
অন্যত্র এরশাদ করেন,
﴿ ﺍﺗَّﺨَﺬُﻭﺍ ﺃَﺣْﺒَﺎﺭَﻫُﻢْ ﻭَﺭُﻫْﺒَﺎﻧَﻬُﻢْ ﺃَﺭْﺑَﺎﺑًﺎ ﻣِﻦْ ﺩُﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺍﻟْﻤَﺴِﻴﺢَ ﺍﺑْﻦَ ﻣَﺮْﻳَﻢَ
ﻭَﻣَﺎ ﺃُﻣِﺮُﻭﺍ ﺇِﻟَّﺎ ﻟِﻴَﻌْﺒُﺪُﻭﺍ ﺇِﻟَﻬًﺎ ﻭَﺍﺣِﺪًﺍﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﻫُﻮَ ﺳُﺒْﺤَﺎﻧَﻪُ ﻋَﻤَّﺎ
ﻳُﺸْﺮِﻛُﻮﻥَ ﴾ ( ﺍﻟﺘﻮﺑﺔ 31: )
‘‘তারা আল্লাহ ব্যতীত তাদের পণ্ডিত ও
সংসার-বিরাগীদের এবং মারয়াম তনয়
ঈসাকে তাদের পালনকর্তারূপে গ্রহণ করেছে, অথচ
তাদেরকে নির্দেশ করা হয়েছিল শুধুমাত্র এক প্রভুর
ইবাদত করতে। একমাত্র তিনি ছাড়া কোনো মা‘বুদ
নেই। তারা আল্লাহর যে সমস্ত শরীক সাব্যস্ত
করে তা থেকে তিনি পবিত্র’’[86] । এই
দুরুদে একমাত্র আল্লাহ করতে পারেন এমন যাবতীয়
সিফাত বা গুণাবলীতে রাসূলকে শরীক
করা হয়েছে। মাধ্যম হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিডিয়া বা মাধ্যম
হিসেবে আল্লাহর শরীক করা হয়েছে। তাই মাধ্যম
হিসেবে রাসূল সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নাম উল্লেখ করায়
শির্কের মাঝে কোনো তারতম্য সৃষ্টি হবে না।
কুরআনের অসংখ্য আয়াত এবং অগণিত হাদীস এর
প্রমাণ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বোঝার
তওফিক দান করুন এবং হেদায়াতের উপর অবিচল
রাখুন।
অজুহাত ও তার পর্যালোচনা
একটি দো‘আ বা আরবী বাক্যকে দুরূদ
বলতে উচিত ছিল এটা জানা যে, এই
দুরূদটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
পড়তেন কি না
, জীবনে কোনো সাহাবীকে শিক্ষা দিয়েছিলেন
কি না, অথবা কোনো সাহাবা দুরূদ হিসেবে এই
বাক্যগুলো পড়তেন কি না তা দেখা।
বিপদে আপদে তারা কোনোদিন এই দো
‘আকে আমলে এনেছেন কি না লক্ষ্য করা।
কোনো সাহাবা থেকে বিশুদ্ধ সুত্রে এই দুরূদ
পেলে আমরা ধারণা করে নিতাম, নিশ্চয়
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
তাকে এটি শিক্ষা দিয়েছেন।
কেননা আমরা বিশ্বাস করি যে
, সাহাবায়ে কেরাম ইবাদতের ক্ষেত্রে নিজ
থেকে কিছু বলেন না। এর কোনোটি না পেলে এই
দো‘আ বর্জনের জন্য আমাদের অন্য কিছু দরকার
পড়ে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর পড়ার জন্য
আমাদেরকে বিভিন্ন দুরূদ ফযিলত সহ
বর্ণনা করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের
শিখানো দুরূদগুলো কি আমাদের জন্য যথেষ্ট
নয়? মূলত যিনি ধর্মীয় বিশ্বাসের সকল
ক্ষেত্রে রাসূলের শিক্ষাকে যথেষ্ট মনে করেন
তার জন্য আর অন্য দুরূদের প্রয়োজন নেই। অন্য দুরূদ
জায়েয করতে তার মাথা ঘামাবার সময় নেই। তার
কথা হবে, আমার নবী করেন নি, নবীর
হাতেগড়া ছাত্ররা করেন নি, আমি তা করব না।
কিন্তু হুবহু সুন্নাতের উপর থাকার আসলাফের সেই
জযবা আমাদের থেকে হারিয়ে যাওয়ার
কারণে ইবাদতগত বা বিশ্বাসগত নতুন কিছু আসলেও
আমাদেরকে জায়েয না-জায়েযের বাহাসে লিপ্ত
হতে হয়। আবু হানিফা রাহ. এর
অনুসারী দাবী করলেও
হানিফী মানসিকতা হারিয়ে যাওয়ার
কারণে নতুন আলোচনার প্রয়াস পায়। বিভিন্ন
ওজুহাতে আমরা নব উদ্ভাবিত আমলকে জায়েয
করার চেষ্টা করি। খতমে না-রীও এর বিপরীত নয়।
বিভিন্ন সময় এই দো‘আটির আপত্তিকর
দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করলে যে অজুহাতগুলো
পেশ করতে দেখা গেছে শুধু সেগুলো নিয়ে একটু
পর্যালোচনা করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহর তওফিক কাম্য।
প্রথমেই যে অজুহাত পেশ করা হয় তা হলো
, আমরা রাসূলকে কেবল মাধ্যম মনে করি মাত্র।
এখানে শির্কের কোনো প্রশ্নই আসে না।
মাধ্যমে মনে করলেই শির্ক
হতে পারে না একথা কতটুকু
শুদ্ধ, তা আমরা ইতোপূর্বে জানতে পেরেছি।
আমরা অবশ্যই বুঝতে পেরেছি যে, মাধ্যম মূলতই
শির্ক অথবা শির্কের পথ।
কেননা কারো সমস্যা সমাধান করতে, দুঃখ
দুর্দশা দূর করতে, প্রয়োজন মিটাতে
, বৃষ্টি দিতে আল্লাহ কোনো মিডিয়ার
মুখাপেক্ষী নন। এবার আমাদের দো‘আটির
বিষয়ে আসা যাক। মোটকথা কর্মের যোগসূত্র যার
সাথেই রয়েছে সেটিই মাধ্যম, যে কোনোভাবে এই
যোগসূত্র থাকুক না কেন। যার
সাথে কোনো যোগসূত্র নেই তাকে মাধ্যম বলা যায়
না। উদাহরণস্বরূপ
মনে করুন, আপনি একটি অ্যাক্সিডেন্টের হাত
থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
কোনো ব্যক্তি আপনাকে তাঁর হাত দ্বারা টান
দিয়ে রক্ষা করেছে। আপনি বলতে পারেন, আল্লাহ
আমাকে রক্ষা করেছেন। আবার এও বলতে পারেন
যে, অমুক ব্যক্তির মাধ্যমে আল্লাহ
আমাকে রক্ষা করেছে। এ দ্বিতীয় বাক্যটির
ক্ষেত্রে মুমিন ব্যক্তির বিশ্বাস হলো, মূলত
আল্লাহই আমাকে রক্ষা করেছেন, অমুক
ব্যক্তি মাধ্যম মাত্র। এখানে লোকটি বলতে পারে
, আল্লাহর দ্বারা রক্ষা পেয়েছি। আবার এও
বলতে পারে যে, অমুকের মাধ্যমে আল্লাহ
রক্ষা করেছেন । এখানে তার কোনো কথাই শির্ক
হবে না। কিন্তু লোকটি যদি বলে, রাসূল
আমাকে রক্ষা করেছেন, অথবা রাসূলের
মাধ্যমে আমি রক্ষা পেয়েছি, তবে তার উভয় কথাই
শির্ক হবে। আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাতের
কোনো আলেম এতে সংশয় বা দ্বিমত পোষণ করবেন
না। এই একটি বিষয়ে রাসূলের মাধ্যম শির্ক
হলে আপনার জীবনের যাবতীয় বিষয়ের মাধ্যম
রাসূলকে বানিয়ে দিলে তা শির্ক হয় না এ কেমন
কথা? এবার আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের
আলেমগণের কাছে বিনীত আবেদন যে
, আপনারা একটু চিন্তা করলেই সমাজ
ধীরে ধীরে শির্কমুক্ত হতে থাকবে। তাই
চলে আসা প্রথাকে জায়েয বানাবার
চেষ্টা না করে সমাজকে শির্কমুক্ত করার
দিকে একটু মনোনিবেশ করুন।
জনৈক বিজ্ঞ আলেমের সাথে একবার এ
বিষয়ে আলোচনা করলে তিনি আমাকে
বালাগাতের কিতাবে উল্লেখিত উদাহরণ
দিয়ে বিষয়টি শির্ক নয় বলে বুঝাবার চেষ্টা করেন।
পরে আরো অনেককে এই উপমা পেশ
করতে দেখেছি।
উপমাটি হচ্ছে, ‘‘ ﺃﻧﺒﺖ ﺍﻟﺮﺑﻴﻊ ﺍﻟﺒﻘﻞ ’’ অর্থাৎ বসন্ত শষ্য
উৎপাদন করেছে। তারা বলে থাকেন, মুমিন
ব্যক্তি এই বাক্যটি বললে শির্ক হয় না, কারণ
সে এখানে রূপক অর্থ গ্রহণ করে। মুমিনের বিশ্বাস
মূল শষ্য দাতা আল্লাহ। বসন্তে তা উৎপাদিত হয়।
তাই সে বলে, বসন্ত শষ্য উৎপাদন করেছে।
বস্তুত তাদের এ কথাটি অগ্রহণযোগ্য আর এ ধরনের
উপমাও আল্লাহর সাথে অসামঞ্জশীল ।
কারণ কোনো কাজকে কার্যকারনের
দিকে সম্পর্কযুক্ত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের
জীবনে কিংবা সাহাবায়ে কিরাম
থেকে কোনো হাদীস বা আছার পাওয়া যায় না।
বরং এর বিপরীতটিই পাওয়া যায়, দেখুন
সাহাবায়ে কিরাম বলেন,
«ﻟﻮﻻ ﺍﻟﻜﻠﺐ ﻟﺠﺎﺀﻧﺎ ﺍﻟﻠﺺ »
‘যদি কুকুর না থাকত তবে চোর আসত’ এ জাতীয়
কথাকে শির্কে (আসগর) এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
তাই ‘‘ ﺃﻧﺒﺖ ﺍﻟﺮﺑﻴﻊ ﺍﻟﺒﻘﻞ ’’ অর্থাৎ ‘বসন্ত শষ্য উৎপাদন
করেছে’ এটা কোনোভাবেই কোনো মুমিনের
কথা হতে পারে না। কারণ মুমিন
জেনে বুঝে শির্কে আসগরে লিপ্ত হতে পারে না।
এখন বলতে পারেন তাহলে এ
কথাটি কোত্থেকে আসল? বস্তুত তা জানার জন্য
আমাদেরকে তথাকথিত বালাগত বিদ্যার
প্রবর্তকদের মন-মানষিকতা, আকীদা মাযহাব
দেখতে হবে। তাদের অনেকেই মু‘তাযিলা,
আশ‘আরিয়্যা ও মাতুরিদিয়া মাযহাবের লোক
থাকার কারণে তাদের গ্রন্থে সেটার অনুরনন
দেখতে পাওয়া যায়। তারা মাজায বা রূপক
বলে অনেক শির্ককে বালাগাত বানালেও
সত্যনিষ্ঠ আলেমগণ এ জাতীয় কথাকে কখনও
স্বীকৃতি দেন না। তাই এ জাতীয়
কথা কোনো মুমিন বলতে পারে না।
এ তো গেল বাস্তব কার্যকারণের দিকে সম্পর্কযুক্ত
করে বলার মাসআলা। বাস্তব কার্যকারণের
দিকে সম্পর্কযুক্ত
করে কোনো কথা বলা যদি শির্কে আসগার হয়,
তবে যেখানে বাস্তব কোনো কার্যকারণ নেই
সেখানে সেদিকে সম্পর্কযু্ক্ত
করা নিঃসন্দেহে শির্কে আকবারে পরিণত হবে।
যেমন, কেউ যদি বলে ‘‘রাসূল শষ্য উৎপাদন করেছেন
বা রাসূল ধান দেন’’ অথবা ‘‘রাসূলের মাধ্যমে শষ্য
উৎপাদন হয় বা রাসূলের মাধ্যমে ধান হয়’’ এর
কোনটি বলার কোনো সুযোগ নেই, কারণ
তা শির্কে আকবার হবে। আশা করি
, আশেকে রাসূল নামে রাসূলকে আল্লাহর
সাথে বিভিন্ন
গুণাবলীতে সমতুল্যকারী ছাড়া সবাই এ ধরণের
কথাটির মারাত্মক
পরিণতি সম্পর্কে জানতে পারলেন। এবার
আপনি নিজেই খতমে না-রীর
ব্যাপারে ফায়সালা দিন।
এখন উপরোক্ত অজুহাতটির অসারতা নিশ্চয়
বুঝতে পেরেছি। তবে এই অজুহাতটি যারা ব্যাকরণ
বা ভাষার জ্ঞান রাখেন তারা পেশ করেন। আর
যাদের ব্যাকরণের গভীরতা নেই তাদের সামনে এই
অভিযোগ তুলে ধরলে তারা প্রথমে অন্য অজুহাত
পেশ করেন। সেটি না টিকলে পরবর্তীতে আবার
ঘুরিয়ে পেচিয়ে কথা বলেন। প্রশ্ন হলো
, প্রথমে যখন নিজে শির্ক মেনে নিয়ে অন্য
অজুহাত দেখালেন তবে সেই অজুহাত
না টিকলে আবার পূর্ব কথাকে ব্যখ্যার
মাধ্যমে টিকানোর চেষ্টার কী প্রয়োজন।
অন্য অজুহাতের মধ্যে যেমন, একদিন জনৈক
আলেমের সাথে আলোচনা করলে তিনি বলেন
এখানে, ‘‘ ﺑﻪ ’’ শব্দের ‘‘ ﻩ ’’ সর্বনামটি ‘‘ ﺻﻼﺓ ’’ শব্দের
দিকে প্রত্যাবর্তিত। অতএব রাসূলের ওসিলায় নয়
বরং এই দুরুদের ওসিলায়। কিন্তু তিনি এটি লক্ষ্য
করেন নি যে, ‘‘ ﺻﻼﺓ ’’ শব্দের দিকে সর্বনাম
প্রত্যাবর্তিত হলে এখানে পুংলিঙ্গের
সর্বনাম ‘‘ﻩ ’’ ব্যবহার না হয়ে স্ত্রীলিঙ্গের
সর্বনাম ‘‘ﻫﺎ ’’ হত।
আরেকদিন এ বিষয়ে এক
সেমিনারে আলোচনায় এখানে সর্বনাম ‘সালাত’
শব্দের দিকে নেয়ার সুযোগ নেই বললে একজন
বলে উঠলেন ‘‘ﺻﻼﺓ ’’ শব্দটি মাসদার। আর আরবী ব্যকরণ
অনুযায়ী মাসদারের দিকে যে কোনো সর্বনাম
ব্যবহার করা যায়, কেননা মাসদার পুংলিঙ্গও নয়
আবার স্ত্রীলিঙ্গও নয়। একথা শুনে অত্যন্ত অবাক
লাগল। নিজের মতকে অটুট
রাখতে কোনদিকে খেয়াল
না করে যারা কথা বলেন, তাদের কথায় যেমন
হাসি পায় তেমনি তারা এ ধরণের
কথা বলে নিজের আস্থা নষ্ট করেন। আরবী ভাষায়
উনার জ্ঞানের পরিধি সম্পর্কে প্রশ্ন এসে যায়।
কেননা, প্রথমত: এখানে ‘‘ ﺻﻼﺓ ’’ স্ত্রীলিঙ্গ
ধরেই ‘‘ﻛﺎﻣﻠﺔ ’’ শব্দ স্ত্রীলিঙ্গ ব্যবহার করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: ‘‘ ﻣﺤﻤﺪ ’’ শব্দের পরেই ‘‘ ﺍﻟﺬﻱ ’’ ইসমে মাউসুল
নিয়ে আসা হয়েছে। জানা কথা ইসমে মাউসুলের
পরে বাক্য থাকা এবং তার মধ্যে একটি সর্বনাম
থাকা জরুরী যা মাউসুলের দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়।
সুতরাং এখানে ‘‘ ﻩ ’’ কে ‘‘ ﺍﻟﺬﻱ ’’ এর
দিকে না নিয়ে অন্য দিকে নেয়ার কথা বলা কতটুকু
গাফলতির পরিচয় একটু ভেবে দেখুন। তৃতীয়ত: দো
‘আটির শেষদিকে রয়েছে ‘‘ ﺑﻮﺟﻬﻪ ’’ তার
চেহারা বা তার স্বত্বার মাধ্যমে। অতএব
সর্বনামকে মুহাম্মদ ছাড়া অন্যদিকে নেওয়ার
কোনো সুযোগ নেই। সুযোগ থাকাবস্থায় বক্তার
কথা থেকে তার উদ্দেশ্যের বিপরীত অর্থ
নেওয়াকে আরবী প্রবচনে বলা হয়, ‘‘ ﺗﻮﺟﻴﻪ ﺍﻟﻘﻮﻝ ﺑﻤﺎ ﻻ ﻳﺮﺿﻰ
ﺑﻪ ﺍﻟﻘﺎﺋﻞ ’’ অর্থাৎ বক্তার কথার এমন
ব্যাখ্যা দেওয়া যা বক্তার নিজের উদ্দেশ্য নয়। আর
যেখানে কোনো সুযোগ নেই
সেখানে এমনটি নেওয়া কতটুকু অবান্তর ও
হঠকারিতা একটু ভেবে দেখেছি কি?
এবার ধরে নিন কেউ উপরোক্ত দুরূদটিকে সমান্য
পরিবর্তন করে সর্বনামগুলো দুরুদের
দিকে প্রত্যাবর্তন করে নতুন একটি দুরূদ বানাল। যার
মর্ম হল যেমন, ‘‘যে দুরুদের মাধ্যমে সব
সমস্যা সমাধান হয় .....’’ । রাসূল সাল্লাল্লাহু
আল্লাইহি ওয়াসাল্লামের
শিক্ষা বা বলে দেওয়া ছাড়া কারো এধরণের
কোনো কথা বলে বৈধ কি? বিভিন্ন দুরূদ
এবং তাতে কী লাভ, কী ফযিলত, কী উপকার সবই
আমাদের নবী আমাদেরকে বলে গেছেন।
ওহি ছাড়া এর বাইরে কিছু বলা বৈধ কি? ওহির
বিষয়ে ওহি ছাড়া যুক্তি দিয়ে কিছু বলার
নামইতো ভ্রষ্টতা বা গোমরাহী। মানুষের জ্ঞান
যেখানে শেষ সেখান থেকে ওহীর সুচনা। ওহীর
বিষয়ে যুক্তি দিয়ে বলার কারণেই বিভিন্ন বাতিল
দল উপদলের জন্ম। এসব জানা থাকা সত্বেও ওহির
মুখাপেক্ষী বিষয়ে আমরা কী-ভাবে দখল
দিতে পারি। এটি কি আল্লাহ ও তার রাসূলের উপর
মিথ্যাচার নয়?
আরেকটি অজুহাত কেউ কেউ পেশ করেন যে
, আমাদের বিশ্বাস তো সবকিছু আল্লাহ করেন।
রাসূল করেন বা মাধ্যম হন বলে আমাদের
আক্বীদা নয়। তবে এটি শির্ক কী-ভাবে হয়? আর
বেশিরভাগ লোক অর্থ না জেনেই পড়েন।
আলহামদুলিল্লাহ, এই বিশ্বাস বলেইতো এই দুরূদ
পড়লেই আপনাকে কাফের বা মুশরিক
বলা হচ্ছে না। আপনার বিশ্বাস এই দুরুদের
মর্মানূযায়ী হলে তো আপনি মুশরিক হয়ে যেতেন।
বলা হচ্ছে এখানে শির্কী কথাবার্তা রয়েছে।
শিরকী আক্বীদা পোষণ
ছাড়া শির্কী কথাবার্তা বলার হুকুম
কী প্রশ্নটি আপনাদের কাছে রেখেই ইতি টানছি।
পরিশেষে আরেকটি কথা এই যে, অনেককেই
বলতে শুনা যায়, খতমের বিপক্ষে এ সব
কথা বলে আমাদের পেটে লাথি মারবেন না।
আফসোস!! আপনি জাতির একজন কর্ণধার। আপনার
মুখ থেকে এমন কথা বের হলে ঘুষখোর, সুদখোরের
সামনে ঘুষ সুদের বয়ান করলে সে যখন
বলে উঠে হুজুর, আমাদের পেটে লাথি মারবেন না।
তার কথায় আর আপনার কথায় বেশ কম কী? সবার
রিযকের মালিক আল্লাহ। যে ব্যক্তি যে পথ
অবলম্বন করে আল্লাহ তার জন্য সেই পথকেই সহজ
করে দেন বলে আপনার আমার পূর্ণ বিশ্বাস।
হালালের উপর থাকতে বদ্ধপরিকর হলে আল্লাহ
আপনার আমার রিযকের ব্যবস্থা হালালের
মধ্যে থেকেই করবেন বলে আমরা পূর্ণ আস্থাশীল
ইনশা আল্লাহ। এর বিপরীত বিশ্বাসের পরিণাম
কী তা আপনার আমার সবারই নিশ্চয় জানা আছে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে বুঝা এবং হালালের
উপর থাকার তওফিক দান করুন। আমীন।
খতমে ইয়াসিন
কুরআন করীমের মোট ১১৪ টি সূরার একটি সূরার
নাম ইয়াসিন। সূরার ধারাবাহিক
ক্রমানুসারে এটি কুরআনের ৩৬ নং সূরা। কুরআনের
অন্যান্য আয়াত তেলাওয়াত
করলে প্রতিটি অক্ষরে যে পরিমাণ ছওয়াব
পাওয়া যায় এই সূরা তেলাওয়াত করলেও তার
প্রতিটি অক্ষরে সেই পরিমাণ ছওয়াব
পাওয়া যাবে। তবে কুরআনে মাত্র
কয়েকটি সূরা রয়েছে যেগুলোর অতিরিক্ত কিছু
ফযিলত রয়েছে যা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
সহীহ হাদীসে সূরা ইয়াসিনের অতিরিক্ত
কোনো ফযিলত বর্ণিত হয় নি। দু একটি দুর্বল ও
বিভিন্ন জাল বানোয়াট হাদীসে এ সূরার বিভিন্ন
ফযিলত বর্ণনা করা হয়েছে। দুর্বল হাদীসের
মধ্যে প্রসিদ্ধ হাদিসটি হচ্ছে:
" ﺇﻥ ﻟﻜﻞ ﺷﻲﺀ ﻗﻠﺒﺎ ﻭﻗﻠﺐ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻳﺲ ﻭﻣﻦ ﻗﺮﺃ ﻳﺲ ﻛﺘﺐ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻪ
ﺑﻘﺮﺍﺀﺗﻬﺎ ﻗﺮﺍﺀﺓ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻋﺸﺮ ﻣﺮﺍﺕ ." ( ﺳﻨﻦ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ، ﻓﻀﻞ ﻳﺲ،
ﺭﻗﻢ 2887: )
‘‘প্রত্যেক বস্তুর একটি হৃদয় রয়েছে, আর
কুরআনে হৃদয় হচ্ছে ‘ইয়াসিন’ ।
যে ব্যক্তি ‘ইয়াসিন’ পড়বে আল্লাহ তার
আমলনামায় দশবার পূর্ণ কুরআন পড়ার
নেকী দান করবেন।’’ [87]
ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনার পর
নিজেই হাদীসটির সনদ গরীব ও দুর্বল
বলে মন্তব্য বরং প্রমাণ করেছেন। তার মন্তব্য
মতে হাদীসটি একেবারেই দুর্বল।
অনেকে হাদীসটিকে বানোয়াট বলেও মন্তব্য
করেছেন। তিরমিযির আলোচনা থেকেও এমন
ইঙ্গিত পাওয়া যায়। মোটকথা ‘ইয়াসিন’ সূরার
আলাদা ফযিলতে কোনো নির্ভরযোগ্য
হাদীস নেই। [88]
এতে নাকি মুমূর্ষ ব্যক্তির কষ্ট হাল্কা হয়।
এসবের কোনো কিছুই সহীহ হাদীস নির্ভর নয়।
পক্ষান্তরে সহীহ হাদীসে মুমূর্ষ ব্যক্তির
পাশে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর তালক্বীনের
কথা এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
« ﻟﻘﻨﻮﺍ ﻣﻮﺗﺎﻛﻢ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ». ( ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ، ﺑﺎﺏ ﺗﻠﻘﻴﻦ ﺍﻟﻤﻮﺗﻰ ﻻ ﺍﻟﻪ ﺍﻻ
ﺍﻟﻠﻪ، ﺭﻗﻢ 2162: )
‘‘মৃত্যু উপস্থিত
ব্যক্তিকে তোমরা ‘লা ইলাহা
ইল্লাল্লাহ’ এর তালক্বীন করো।’’ [89]
এর বিপরীত মূমূর্ষ ব্যক্তির
পাশে ‘ইয়াসিন’ পড়ার কোনো আমল রাসূল
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম
থেকে প্রমাণিত নয়। নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন শিক্ষা সাহাবিদের
দেন নি। এ সম্পর্কে যা বলা সবই
অনির্ভরযোগ্য, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।
‘ইয়াসিন’ খতমের একটি বানোয়াট পদ্ধতি
‘নস’ তথা কুরআন হাদীসের
শিক্ষা একপাশে রেখে যুক্তি ও মনগড়া এবং সহীহ
ছেড়ে ভিত্তিহিনের উপর দিয়ে নিজের
মর্জি মোতাবেক শরী‘আত পরিবর্তনের কর্ম মূলত
শিয়া, খাওয়ারিজ ইত্যাদি ভ্রান্ত সম্প্রদায়
থেকেই শুরু হয়। পরবর্তীতে তাদের প্রভাব অনেক
আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের আলেমদের
মাঝে বিস্তার লাভ করে। নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর থেকে এ পর্যন্ত
ইতিহাসের পাতায় একটু গভীর দৃষ্টি দিলেই
বিষয়টি সবার কাছে ধরা পড়বে বলে আশা করি।
এবার শিয়াদের
বানানো একটি মনগড়া ‘খতমে ইয়াসিন’ দেখুন,
প্রয়োজন পূরণে ইয়াসিনের খতম যার
পদ্ধতি এই[90]
ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢِ
﴿ ﻳﺲ ﻭَﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥِ ﺍﻟْﺤَﻜِﻴﻢِ ﺇِﻧَّﻚَ ﻟَﻤِﻦَ ﺍﻟْﻤُﺮْﺳَﻠِﻴﻦَ ﻋَﻠَﻰ ﺻِﺮَﺍﻁٍ ﻣُّﺴْﺘَﻘِﻴﻢٍ ﺗَﻨﺰِﻳﻞَ ﺍﻟْﻌَﺰِﻳﺰِ
ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢِ ﻟِﺘُﻨﺬِﺭَ ﻗَﻮْﻣًﺎ ﻣَّﺎ ﺃُﻧﺬِﺭَ ﺁﺑَﺎﺅُﻫُﻢْ ﻓَﻬُﻢْ ﻏَﺎﻓِﻠُﻮﻥَ ﻟَﻘَﺪْ ﺣَﻖَّ ﺍﻟْﻘَﻮْﻝُ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻛْﺜَﺮِﻫِﻢْ
ﻓَﻬُﻢْ ﻟَﺎ ﻳُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ ﺇِﻧَّﺎ ﺟَﻌَﻠْﻨَﺎ ﻓِﻲ ﺃَﻋْﻨَﺎﻗِﻬِﻢْ ﺃَﻏْﻼَﻻً ﻓَﻬِﻲَ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻷَﺫْﻗَﺎﻥِ ﻓَﻬُﻢ ﻣُّﻘْﻤَﺤُﻮﻥَ
ﻭَﺟَﻌَﻠْﻨَﺎ ﻣِﻦ ﺑَﻴْﻦِ ﺃَﻳْﺪِﻳﻬِﻢْ ﺳَﺪًّﺍ ﻭَﻣِﻦْ ﺧَﻠْﻔِﻬِﻢْ ﺳَﺪًّﺍ ﻓَﺄَﻏْﺸَﻴْﻨَﺎﻫُﻢْ ﻓَﻬُﻢْ ﻻَ ﻳُﺒْﺼِﺮُﻭﻥَ
ﻭَﺳَﻮَﺍﺀ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺃَﺃَﻧﺬَﺭْﺗَﻬُﻢْ ﺃَﻡْ ﻟَﻢْ ﺗُﻨﺬِﺭْﻫُﻢْ ﻻَ ﻳُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ
ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺗُﻨﺬِﺭُ ﻣَﻦِ ﺍﺗَّﺒَﻊَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮَ ﻭَﺧَﺸِﻲَ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦ ﺑِﺎﻟْﻐَﻴْﺐِ ﻓَﺒَﺸِّﺮْﻩُ ﺑِﻤَﻐْﻔِﺮَﺓٍ ﻭَﺃَﺟْﺮٍ ﻛَﺮِﻳﻢٍ
ﺇِﻧَّﺎ ﻧَﺤْﻦُ ﻧُﺤْﻴِﻲ ﺍﻟْﻤَﻮْﺗَﻰ ﻭَﻧَﻜْﺘُﺐُ ﻣَﺎ ﻗَﺪَّﻣُﻮﺍ ﻭَﺁﺛَﺎﺭَﻫُﻢْ ﻭَﻛُﻞَّ ﺷَﻲْﺀٍ ﺃﺣْﺼَﻴْﻨَﺎﻩُ ﻓِﻲ
ﺇِﻣَﺎﻡٍ ﻣُﺒِﻴﻦٍ﴾
এরপর এই দো‘আ তিনবার পড়বে:
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻤُﻔَﺮِّﺝ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺤﺰُﻭﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍّْﻟﻤﺨَﻠِّﺺِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺸﺤُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ
ﺍْﻟﻤُﻨَﻔِّﺲِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺪﻳُﻮﻥٍ ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻌﺎﻟِﻢِ ﻋﻦ ﻛﻞ ﻣَﻜﻨُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺟَﻌَﻞَ
ﺧَﺰَﺍﺋِﻨَﻪُ ﺑَﻴﻦَ ﺍْﻟﻜَﺎﻑِ ﻭَﺍْﻟﻨُّﻮﻥِ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺇﺫَﺍ ﺃَﺭﺍﺩَ ﺷَﻴْﺌﺎً ﺃﻥ ﻳَﻘﻮﻝَ ﻟَﻪُ ﻛُﻦْ ﻓَﻴَﻜُﻮﻥُ
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟَّﺬﻱ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﻣَﻠَﻜُﻮﺕُ ﻛُﻞّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻭَﺇﻟَﻴْﻪِ ﺗُﺮﺟَﻌُﻮﻥ .
এরপর বল:
ﺍْﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺍْﻓﺘَﺢْ ﻟﻲ ﺃَﺑﻮَﺍﺏَ ﺭَﺣْﻤَﺘِﻚَ ﻭَﺃَﺑﻮَﺍﺏَ ﺧَﺰَﺍﺋِﻨِﻚَ ﺑِﺤَﻖِّ ﺳُﻮﺭَﺓ ﻳﺲ ﻭَﺑِﻔَﻀْﻠِﻚَ
ﻭَﻛَﺮﻣِﻚَ ﻳَﺎ ﺃَﺭْﺣَﻢَ ﺍْﻟﺮَّﺍﺣِﻤِﻴﻦَ
এরপর তুমি ১০০ বার বল
ﺇِﻟﻬِﻲ ﺑِﺤَﻖِّ ﺳِﺮِّ ﻫَﺬِﻩِ ﺍْﻷﺳْﺮَﺍﺭِ ﻭَ ﺑِﺤَﻖِّ ﻛَﺮَﻣِﻚَ ﺍﻟﺨَﻔِﻲِّ ﻭَﺑﺤَﻖِّ ﺍِﺳْﻤِﻚَ ﺍْﻟﻌَﻈﻴﻢِ ﺃَﻥْ
ﺗَﻘْﻀِﻲَ ﺣَﺎﺟَﺎﺗِﻨَﺎ ﻳَﺎﻗَﺎﺿﻲَ ﺍﻟﺤﺎﺟﺎﺕِ ﻳَﺎ ﺃَﺭﺣَﻢَ ﺍْﻟﺮَّﺍﺣِﻤِﻴﻦَ
﴿ﻭَﺍﺿْﺮِﺏْ ﻟَﻬُﻢ ﻣَّﺜَﻼً ﺃَﺻْﺤَﺎﺏَ ﺍﻟْﻘَﺮْﻳَﺔِ ﺇِﺫْ ﺟَﺎﺀﻫَﺎ ﺍﻟْﻤُﺮْﺳَﻠُﻮﻥَ ﺇِﺫْ ﺃَﺭْﺳَﻠْﻨَﺎ ﺇِﻟَﻴْﻬِﻢُ ﺍﺛْﻨَﻴْﻦِ
ﻓَﻜَﺬَّﺑُﻮﻫُﻤَﺎ ﻓَﻌَﺰَّﺯْﻧَﺎ ﺑِﺜَﺎﻟِﺚٍ ﻓَﻘَﺎﻟُﻮﺍ ﺇِﻧَّﺎ ﺇِﻟَﻴْﻜُﻢ ﻣُّﺮْﺳَﻠُﻮﻥَ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻣَﺎ ﺃَﻧﺘُﻢْ ﺇِﻻَّ ﺑَﺸَﺮٌ
ﻣِّﺜْﻠُﻨَﺎ ﻭَﻣَﺎ ﺃَﻧﺰَﻝَ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤﻦ ﻣِﻦ ﺷَﻲْﺀٍ ﺇِﻥْ ﺃَﻧﺘُﻢْ ﺇِﻻَّ ﺗَﻜْﺬِﺑُﻮﻥَ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﺭَﺑُّﻨَﺎ ﻳَﻌْﻠَﻢُ ﺇِﻧَّﺎ
ﺇِﻟَﻴْﻜُﻢْ ﻟَﻤُﺮْﺳَﻠُﻮﻥَ ﻭَﻣَﺎ ﻋَﻠَﻴْﻨَﺎ ﺇِﻻَّ ﺍﻟْﺒَﻼَﻍُ ﺍﻟْﻤُﺒِﻴﻦ﴾ . এরপর একবার
পড়বে
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻤُﻔَﺮِّﺝ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺤﺰُﻭﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍّْﻟﻤﺨَﻠِّﺺِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺸﺤُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ
ﺍْﻟﻤُﻨَﻔِّﺲِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺪﻳُﻮﻥٍ ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻌﺎﻟِﻢِ ﻋﻦ ﻛﻞ ﻣَﻜﻨُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺟَﻌَﻞَ
ﺧَﺰَﺍﺋِﻨَﻪُ ﺑَﻴﻦَ ﺍْﻟﻜَﺎﻑِ ﻭَﺍْﻟﻨُّﻮﻥِ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺇﺫَﺍ ﺃَﺭﺍﺩَ ﺷَﻴْﺌﺎً ﺃﻥ ﻳَﻘﻮﻝَ ﻟَﻪُ ﻛُﻦْ ﻓَﻴَﻜُﻮﻥُ
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟَّﺬﻱ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﻣَﻠَﻜُﻮﺕُ ﻛُﻞّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻭَﺇﻟَﻴْﻪِ ﺗُﺮﺟَﻌُﻮﻥ
. এরপর ১০০ বার বল ( ﻳﺎ ﻣﻔﺮﺝ ﺍﻟﻬﻢ )
এবং এই দো‘আ কর
ﺍﻟﻬﻲ ﺑﺤﻖ ﺳﺮ ﻫﺬﻩ ﺍﻻﺳﺮﺍﺭ ﻭﺑﺤﻖ ﻛﺮﻣﻚ ﺍﻟﺨﻔﻲ ﻭﺑﺤﻖ ﺍﺳﻤﻚ ﺍﻟﻌﻈﻴﻢ ﺍﻥ
ﺗﻘﻀﻲ ﺣﺎﺟﺎﺗﻨﺎ (ﻭﺣﺎﺟﺎﺕ ﺍﻟﺤﺎﺿﺮﻳﻦ ) ﻳﺎﻗﺎﺿﻲ ﺍﻟﺤﺎﺟﺎﺕ ﻳﺎ ﺍﺭﺣﻢ ﺍﻟﺮﺍﺣﻤﻴﻦ .
﴿ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﺇِﻧَّﺎ ﺗَﻄَﻴَّﺮْﻧَﺎ ﺑِﻜُﻢْ ﻟَﺌِﻦ ﻟَّﻢْ ﺗَﻨﺘَﻬُﻮﺍ ﻟَﻨَﺮْﺟُﻤَﻨَّﻜُﻢْ ﻭَﻟَﻴَﻤَﺴَّﻨَّﻜُﻢ ﻣِّﻨَّﺎ ﻋَﺬَﺍﺏٌ ﺃَﻟِﻴﻢٌ
ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻃَﺎﺋِﺮُﻛُﻢْ ﻣَﻌَﻜُﻢْ ﺃَﺋِﻦ ﺫُﻛِّﺮْﺗُﻢ ﺑَﻞْ ﺃَﻧﺘُﻢْ ﻗَﻮْﻡٌ ﻣُّﺴْﺮِﻓُﻮﻥَ ﻭَﺟَﺎﺀ ﻣِﻦْ ﺃَﻗْﺼَﻰ
ﺍﻟْﻤَﺪِﻳﻨَﺔِ ﺭَﺟُﻞٌ ﻳَﺴْﻌَﻰ ﻗَﺎﻝَ ﻳَﺎ ﻗَﻮْﻡِ ﺍﺗَّﺒِﻌُﻮﺍ ﺍﻟْﻤُﺮْﺳَﻠِﻴﻦَ ﺍﺗَّﺒِﻌُﻮﺍ ﻣَﻦ ﻻَّ ﻳَﺴْﺄَﻟُﻜُﻢْ ﺃَﺟْﺮًﺍ
ﻭَﻫُﻢ ﻣُّﻬْﺘَﺪُﻭﻥَ ﻭَﻣَﺎ ﻟِﻲ ﻻَ ﺃَﻋْﺒُﺪُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻓَﻄَﺮَﻧِﻲ ﻭَﺇِﻟَﻴْﻪِ ﺗُﺮْﺟَﻌُﻮﻥَ ﺃَﺃَﺗَّﺨِﺬُ ﻣِﻦ ﺩُﻭﻧِﻪِ
ﺁﻟِﻬَﺔً ﺇِﻥ ﻳُﺮِﺩْﻥِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦ ﺑِﻀُﺮٍّ ﻻَّ ﺗُﻐْﻦِ ﻋَﻨِّﻲ ﺷَﻔَﺎﻋَﺘُﻬُﻢْ ﺷَﻴْﺌًﺎ ﻭَﻻَ ﻳُﻨﻘِﺬُﻭﻥِ ﺇِﻧِّﻲ ﺇِﺫًﺍ
ﻟَّﻔِﻲ ﺿَﻼَﻝٍ ﻣُّﺒِﻴﻦٍ﴾
এরপর পড়বে
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻤُﻔَﺮِّﺝ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺤﺰُﻭﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍّْﻟﻤﺨَﻠِّﺺِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺸﺤُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ
ﺍْﻟﻤُﻨَﻔِّﺲِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺪﻳُﻮﻥٍ ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻌﺎﻟِﻢِ ﻋﻦ ﻛﻞ ﻣَﻜﻨُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺟَﻌَﻞَ
ﺧَﺰَﺍﺋِﻨَﻪُ ﺑَﻴﻦَ ﺍْﻟﻜَﺎﻑِ ﻭَﺍْﻟﻨُّﻮﻥِ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺇﺫَﺍ ﺃَﺭﺍﺩَ ﺷَﻴْﺌﺎً ﺃﻥ ﻳَﻘﻮﻝَ ﻟَﻪُ ﻛُﻦْ ﻓَﻴَﻜُﻮﻥُ
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟَّﺬﻱ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﻣَﻠَﻜُﻮﺕُ ﻛُﻞّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻭَﺇﻟَﻴْﻪِ ﺗُﺮﺟَﻌُﻮﻥ .
এরপর বল
ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺍﻓﺘﺢ ﻟﻲ ﺍﺑﻮﺍﺏ ﺭﺣﻤﺘﻚ ﻭﺍﺑﻮﺍﺏ ﺧﺰﺍﺋﻨﻚ ﺑﺤﻖ ﺳﻮﺭﺓ ﻳﺲ ﻭﺑﻔﻀﻠﻚ
ﻭﻛﺮﻣﻚ ﻳﺎ ﺍﺭﺣﻢ ﺍﻟﺮﺍﺣﻤﻴﻦ . এরপর ১০০ বার বল (ﻳﺎﻣﻔﺮﺝ ﺍﻟﻬﻢ )
এবং এই দো‘আ কর
ﺍﻟﻬﻲ ﺑﺤﻖ ﺳﺮ ﻫﺬﻩ ﺍﻻﺳﺮﺍﺭ ﻭﺑﺤﻖ ﻛﺮﻣﻚ ﺍﻟﺨﻔﻲ ﻭﺑﺤﻖ ﺍﺳﻤﻚ ﺍﻟﻌﻈﻴﻢ ﺍﻥ
ﺗﻘﻀﻲ ﺣﺎﺟﺎﺗﻨﺎ (ﻭﺣﺎﺟﺎﺕ ﺍﻟﺤﺎﺿﺮﻳﻦ ) ﻳﺎﻗﺎﺿﻲ ﺍﻟﺤﺎﺟﺎﺕ ﻳﺎ ﺍﺭﺣﻢ ﺍﻟﺮﺍﺣﻤﻴﻦ . ﴿
ﺇِﻧِّﻲ ﺁﻣَﻨﺖُ ﺑِﺮَﺑِّﻜُﻢْ ﻓَﺎﺳْﻤَﻌُﻮﻥِ ﻗِﻴﻞَ ﺍﺩْﺧُﻞِ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﻗَﺎﻝَ ﻳَﺎ ﻟَﻴْﺖَ ﻗَﻮْﻣِﻲ ﻳَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ ﺑِﻤَﺎ
ﻏَﻔَﺮَ ﻟِﻲ ﺭَﺑِّﻲ ﻭَﺟَﻌَﻠَﻨِﻲ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤُﻜْﺮَﻣِﻴﻦَ ﻭَﻣَﺎ ﺃَﻧﺰَﻟْﻨَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻗَﻮْﻣِﻪِ ﻣِﻦ ﺑَﻌْﺪِﻩِ ﻣِﻦْ ﺟُﻨﺪٍ
ﻣِّﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀ ﻭَﻣَﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻣُﻨﺰِﻟِﻴﻦَ ﺇِﻥ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﺇِﻻَّ ﺻَﻴْﺤَﺔً ﻭَﺍﺣِﺪَﺓً ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻫُﻢْ ﺧَﺎﻣِﺪُﻭﻥَ ﻳَﺎ
ﺣَﺴْﺮَﺓً ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻌِﺒَﺎﺩِ ﻣَﺎ ﻳَﺄْﺗِﻴﻬِﻢ ﻣِّﻦ ﺭَّﺳُﻮﻝٍ ﺇِﻻَّ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﺑِﻪِ ﻳَﺴْﺘَﻬْﺰِﺅُﻭﻥ ﺃَﻟَﻢْ ﻳَﺮَﻭْﺍ ﻛَﻢْ
ﺃَﻫْﻠَﻜْﻨَﺎ ﻗَﺒْﻠَﻬُﻢ ﻣِّﻦْ ﺍﻟْﻘُﺮُﻭﻥِ ﺃَﻧَّﻬُﻢْ ﺇِﻟَﻴْﻬِﻢْ ﻻَ ﻳَﺮْﺟِﻌُﻮﻥَ ﻭَﺇِﻥ ﻛُﻞٌّ ﻟَّﻤَّﺎ ﺟَﻤِﻴﻊٌ ﻟَّﺪَﻳْﻨَﺎ
ﻣُﺤْﻀَﺮُﻭﻥَ ﻭَﺁﻳَﺔٌ ﻟَّﻬُﻢُ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽُ ﺍﻟْﻤَﻴْﺘَﺔُ ﺃَﺣْﻴَﻴْﻨَﺎﻫَﺎ ﻭَﺃَﺧْﺮَﺟْﻨَﺎ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺣَﺒًّﺎ ﻓَﻤِﻨْﻪُ ﻳَﺄْﻛُﻠُﻮﻥَ
ﻭَﺟَﻌَﻠْﻨَﺎ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺟَﻨَّﺎﺕٍ ﻣِﻦ ﻧَّﺨِﻴﻞٍ ﻭَﺃَﻋْﻨَﺎﺏٍ ﻭَﻓَﺠَّﺮْﻧَﺎ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻌُﻴُﻮﻥِ ﻟِﻴَﺄْﻛُﻠُﻮﺍ ﻣِﻦ
ﺛَﻤَﺮِﻩِ ﻭَﻣَﺎ ﻋَﻤِﻠَﺘْﻪُ ﺃَﻳْﺪِﻳﻬِﻢْ ﺃَﻓَﻠَﺎ ﻳَﺸْﻜُﺮُﻭﻥَ ﺳُﺒْﺤَﺎﻥَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟْﺄَﺯْﻭَﺍﺝَ ﻛُﻠَّﻬَﺎ ﻣِﻤَّﺎ
ﺗُﻨﺒِﺖُ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽُ ﻭَﻣِﻦْ ﺃَﻧﻔُﺴِﻬِﻢْ ﻭَﻣِﻤَّﺎ ﻟَﺎ ﻳَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ ﻭَﺁﻳَﺔٌ ﻟَّﻬُﻢْ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞُ ﻧَﺴْﻠَﺦُ ﻣِﻨْﻪُ ﺍﻟﻨَّﻬَﺎﺭَ
ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻫُﻢ ﻣُّﻈْﻠِﻤُﻮﻥَ ﻭَﺍﻟﺸَّﻤْﺲُ ﺗَﺠْﺮِﻱ ﻟِﻤُﺴْﺘَﻘَﺮٍّ ﻟَّﻬَﺎ ﺫَﻟِﻚَ ﺗَﻘْﺪِﻳﺮُ ﺍﻟْﻌَﺰِﻳﺰِ ﺍﻟْﻌَﻠِﻴﻢِ
ﻭَﺍﻟْﻘَﻤَﺮَ ﻗَﺪَّﺭْﻧَﺎﻩُ ﻣَﻨَﺎﺯِﻝَ ﺣَﺘَّﻰ ﻋَﺎﺩَ ﻛَﺎﻟْﻌُﺮْﺟُﻮﻥِ ﺍﻟْﻘَﺪِﻳﻢِ ﻟَﺎ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲُ ﻳَﻨﺒَﻐِﻲ ﻟَﻬَﺎ ﺃَﻥ
ﺗُﺪْﺭِﻙَ ﺍﻟْﻘَﻤَﺮَ ﻭَﻟَﺎ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞُ ﺳَﺎﺑِﻖُ ﺍﻟﻨَّﻬَﺎﺭِ ﻭَﻛُﻞٌّ ﻓِﻲ ﻓَﻠَﻚٍ ﻳَﺴْﺒَﺤُﻮﻥَ ﻭَﺁﻳَﺔٌ ﻟَّﻬُﻢْ ﺃَﻧَّﺎ ﺣَﻤَﻠْﻨَﺎ
ﺫُﺭِّﻳَّﺘَﻬُﻢْ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻔُﻠْﻚِ ﺍﻟْﻤَﺸْﺤُﻮﻥِ ﻭَﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﻟَﻬُﻢ ﻣِّﻦ ﻣِّﺜْﻠِﻪِ ﻣَﺎ ﻳَﺮْﻛَﺒُﻮﻥَ ﻭَﺇِﻥ ﻧَّﺸَﺄْ
ﻧُﻐْﺮِﻗْﻬُﻢْ ﻓَﻠَﺎ ﺻَﺮِﻳﺦَ ﻟَﻬُﻢْ ﻭَﻟَﺎ ﻫُﻢْ ﻳُﻨﻘَﺬُﻭﻥَ ﺇِﻟَّﺎ ﺭَﺣْﻤَﺔً ﻣِّﻨَّﺎ ﻭَﻣَﺘَﺎﻋًﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺣِﻴﻦٍ ﻭَﺇِﺫَﺍ
ﻗِﻴﻞَ ﻟَﻬُﻢُ ﺍﺗَّﻘُﻮﺍ ﻣَﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﺃَﻳْﺪِﻳﻜُﻢْ ﻭَﻣَﺎ ﺧَﻠْﻔَﻜُﻢْ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢْ ﺗُﺮْﺣَﻤُﻮﻥَ ﻭَﻣَﺎ ﺗَﺄْﺗِﻴﻬِﻢ ﻣِّﻦْ ﺁﻳَﺔٍ
ﻣِّﻦْ ﺁﻳَﺎﺕِ ﺭَﺑِّﻬِﻢْ ﺇِﻟَّﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻋَﻨْﻬَﺎ ﻣُﻌْﺮِﺿِﻴﻦَ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻗِﻴﻞَ ﻟَﻬُﻢْ ﺃَﻧﻔِﻘُﻮﺍ ﻣِﻤَّﺎ ﺭَﺯَﻗَﻜُﻢْ ﺍﻟﻠَّﻪُ
ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮُﻭﺍ ﻟِﻠَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﺃَﻧُﻄْﻌِﻢُ ﻣَﻦ ﻟَّﻮْ ﻳَﺸَﺎﺀ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻃْﻌَﻤَﻪُ ﺇِﻥْ ﺃَﻧﺘُﻢْ ﺇِﻟَّﺎ
ﻓِﻲ ﺿَﻠَﺎﻝٍ ﻣُّﺒِﻴﻦٍ ﴾
এরপর পড়বে:
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻤُﻔَﺮِّﺝ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺤﺰُﻭﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍّْﻟﻤﺨَﻠِّﺺِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺸﺤُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ
ﺍْﻟﻤُﻨَﻔِّﺲِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺪﻳُﻮﻥٍ ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻌﺎﻟِﻢِ ﻋﻦ ﻛﻞ ﻣَﻜﻨُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺟَﻌَﻞَ
ﺧَﺰَﺍﺋِﻨَﻪُ ﺑَﻴﻦَ ﺍْﻟﻜَﺎﻑِ ﻭَﺍْﻟﻨُّﻮﻥِ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺇﺫَﺍ ﺃَﺭﺍﺩَ ﺷَﻴْﺌﺎً ﺃﻥ ﻳَﻘﻮﻝَ ﻟَﻪُ ﻛُﻦْ ﻓَﻴَﻜُﻮﻥُ
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟَّﺬﻱ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﻣَﻠَﻜُﻮﺕُ ﻛُﻞّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻭَﺇﻟَﻴْﻪِ ﺗُﺮﺟَﻌُﻮﻥ
এরপর বল
ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺍﻓﺘﺢ ﻟﻲ ﺍﺑﻮﺍﺏ ﺭﺣﻤﺘﻚ ﻭﺍﺑﻮﺍﺏ ﺧﺰﺍﺋﻨﻚ ﺑﺤﻖ ﺳﻮﺭﺓ ﻳﺲ ﻭﺑﻔﻀﻠﻚ
ﻭﻛﺮﻣﻚ ﻳﺎ ﺍﺭﺣﻢ ﺍﻟﺮﺍﺣﻤﻴﻦ
এরপর ১০০ বার বল
ﻳﺎﻣﻔﺮﺝ ﺍﻟﻬﻢ
এবং এই দো‘আ কর
ﺍﻟﻬﻲ ﺑﺤﻖ ﺳﺮ ﻫﺬﻩ ﺍﻻﺳﺮﺍﺭ ﻭﺑﺤﻖ ﻛﺮﻣﻚ ﺍﻟﺨﻔﻲ ﻭﺑﺤﻖ ﺍﺳﻤﻚ ﺍﻟﻌﻈﻴﻢ ﺍﻥ
ﺗﻘﻀﻲ ﺣﺎﺟﺎﺗﻨﺎ ( ﻭﺣﺎﺟﺎﺕ ﺍﻟﺤﺎﺿﺮﻳﻦ ) ﻳﺎﻗﺎﺿﻲ ﺍﻟﺤﺎﺟﺎﺕ ﻳﺎ ﺍﺭﺣﻢ ﺍﻟﺮﺍﺣﻤﻴﻦ .
﴿ ﻭَﻳَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ ﻣَﺘَﻰ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟْﻮَﻋْﺪُ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﺻَﺎﺩِﻗِﻴﻦَ ﻣَﺎ ﻳَﻨﻈُﺮُﻭﻥَ ﺇِﻟَّﺎ ﺻَﻴْﺤَﺔً ﻭَﺍﺣِﺪَﺓً
ﺗَﺄْﺧُﺬُﻫُﻢْ ﻭَﻫُﻢْ ﻳَﺨِﺼِّﻤُﻮﻥَ ﻓَﻠَﺎ ﻳَﺴْﺘَﻄِﻴﻌُﻮﻥَ ﺗَﻮْﺻِﻴَﺔً ﻭَﻟَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺃَﻫْﻠِﻬِﻢْ ﻳَﺮْﺟِﻌُﻮﻥَ ﻭَﻧُﻔِﺦَ
ﻓِﻲ ﺍﻟﺼُّﻮﺭِ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻫُﻢ ﻣِّﻦَ ﺍﻟْﺄَﺟْﺪَﺍﺙِ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﺑِّﻬِﻢْ ﻳَﻨﺴِﻠُﻮﻥَ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻳَﺎ ﻭَﻳْﻠَﻨَﺎ ﻣَﻦ ﺑَﻌَﺜَﻨَﺎ
ﻣِﻦ ﻣَّﺮْﻗَﺪِﻧَﺎ ﻫَﺬَﺍ ﻣَﺎ ﻭَﻋَﺪَ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦُ ﻭَﺻَﺪَﻕَ ﺍﻟْﻤُﺮْﺳَﻠُﻮﻥَ ﺇِﻥ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﺇِﻟَّﺎ ﺻَﻴْﺤَﺔً ﻭَﺍﺣِﺪَﺓً
ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻫُﻢْ ﺟَﻤِﻴﻊٌ ﻟَّﺪَﻳْﻨَﺎ ﻣُﺤْﻀَﺮُﻭﻥَ ﻓَﺎﻟْﻴَﻮْﻡَ ﻟَﺎ ﺗُﻈْﻠَﻢُ ﻧَﻔْﺲٌ ﺷَﻴْﺌًﺎ ﻭَﻟَﺎ ﺗُﺠْﺰَﻭْﻥَ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﺎ
ﻛُﻨﺘُﻢْ ﺗَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ ﺇِﻥَّ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ ﻓِﻲ ﺷُﻐُﻞٍ ﻓَﺎﻛِﻬُﻮﻥَ ﻫُﻢْ ﻭَﺃَﺯْﻭَﺍﺟُﻬُﻢْ ﻓِﻲ
ﻇِﻠَﺎﻝٍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﺄَﺭَﺍﺋِﻚِ ﻣُﺘَّﻜِﺆُﻭﻥَ ﻟَﻬُﻢْ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻓَﺎﻛِﻬَﺔٌ ﻭَﻟَﻬُﻢ ﻣَّﺎ ﻳَﺪَّﻋُﻮﻥَ ﺳَﻠَﺎﻡٌ ﻗَﻮْﻟًﺎ ﻣِﻦ
ﺭَّﺏٍّ ﺭَّﺣِﻴﻢٍ ﻭَﺍﻣْﺘَﺎﺯُﻭﺍ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟْﻤُﺠْﺮِﻣُﻮﻥَ ﺃَﻟَﻢْ ﺃَﻋْﻬَﺪْ ﺇِﻟَﻴْﻜُﻢْ ﻳَﺎ ﺑَﻨِﻲ ﺁﺩَﻡَ ﺃَﻥ ﻟَّﺎ
ﺗَﻌْﺒُﺪُﻭﺍ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥَ ﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﻜُﻢْ ﻋَﺪُﻭٌّ ﻣُّﺒِﻴﻦٌ ﴾
এরপর পড়বে
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻤُﻔَﺮِّﺝ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺤﺰُﻭﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍّْﻟﻤﺨَﻠِّﺺِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺸﺤُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ
ﺍْﻟﻤُﻨَﻔِّﺲِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺪﻳُﻮﻥٍ ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻌﺎﻟِﻢِ ﻋﻦ ﻛﻞ ﻣَﻜﻨُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺟَﻌَﻞَ
ﺧَﺰَﺍﺋِﻨَﻪُ ﺑَﻴﻦَ ﺍْﻟﻜَﺎﻑِ ﻭَﺍْﻟﻨُّﻮﻥِ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺇﺫَﺍ ﺃَﺭﺍﺩَ ﺷَﻴْﺌﺎً ﺃﻥ ﻳَﻘﻮﻝَ ﻟَﻪُ ﻛُﻦْ ﻓَﻴَﻜُﻮﻥُ
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟَّﺬﻱ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﻣَﻠَﻜُﻮﺕُ ﻛُﻞّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻭَﺇﻟَﻴْﻪِ ﺗُﺮﺟَﻌُﻮﻥ
এরপর বল
ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺍﻓﺘﺢ ﻟﻲ ﺍﺑﻮﺍﺏ ﺭﺣﻤﺘﻚ ﻭﺍﺑﻮﺍﺏ ﺧﺰﺍﺋﻨﻚ ﺑﺤﻖ ﺳﻮﺭﺓ ﻳﺲ ﻭﺑﻔﻀﻠﻚ
ﻭﻛﺮﻣﻚ ﻳﺎ ﺍﺭﺣﻢ ﺍﻟﺮﺍﺣﻤﻴﻦ
এরপর ১০০ বল: (ﻳﺎﻣﻔﺮﺝ ﺍﻟﻬﻢ )এবং এই দো‘আ কর
ﺍﻟﻬﻲ ﺑﺤﻖ ﺳﺮ ﻫﺬﻩ ﺍﻻﺳﺮﺍﺭ ﻭﺑﺤﻖ ﻛﺮﻣﻚ ﺍﻟﺨﻔﻲ ﻭﺑﺤﻖ ﺍﺳﻤﻚ ﺍﻟﻌﻈﻴﻢ ﺍﻥ
ﺗﻘﻀﻲ ﺣﺎﺟﺎﺗﻨﺎ (ﻭﺣﺎﺟﺎﺕ ﺍﻟﺤﺎﺿﺮﻳﻦ ) ﻳﺎﻗﺎﺿﻲ ﺍﻟﺤﺎﺟﺎﺕ ﻳﺎ ﺍﺭﺣﻢ ﺍﻟﺮﺍﺣﻤﻴﻦ . ﴿
ﻭَﺃَﻥْ ﺍﻋْﺒُﺪُﻭﻧِﻲ ﻫَﺬَﺍ ﺻِﺮَﺍﻁٌ ﻣُّﺴْﺘَﻘِﻴﻢٌ ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺃَﺿَﻞَّ ﻣِﻨﻜُﻢْ ﺟِﺒِﻠًّﺎ ﻛَﺜِﻴﺮًﺍ ﺃَﻓَﻠَﻢْ ﺗَﻜُﻮﻧُﻮﺍ
ﺗَﻌْﻘِﻠُﻮﻥَ ﻫَﺬِﻩِ ﺟَﻬَﻨَّﻢُ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﺗُﻮﻋَﺪُﻭﻥَ ﺍﺻْﻠَﻮْﻫَﺎ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ ﺑِﻤَﺎ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﺗَﻜْﻔُﺮُﻭﻥَ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ
ﻧَﺨْﺘِﻢُ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻓْﻮَﺍﻫِﻬِﻢْ ﻭَﺗُﻜَﻠِّﻤُﻨَﺎ ﺃَﻳْﺪِﻳﻬِﻢْ ﻭَﺗَﺸْﻬَﺪُ ﺃَﺭْﺟُﻠُﻬُﻢْ ﺑِﻤَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳَﻜْﺴِﺒُﻮﻥَ ﻭَﻟَﻮْ
ﻧَﺸَﺎﺀ ﻟَﻄَﻤَﺴْﻨَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻋْﻴُﻨِﻬِﻢْ ﻓَﺎﺳْﺘَﺒَﻘُﻮﺍ ﺍﻟﺼِّﺮَﺍﻁَ ﻓَﺄَﻧَّﻰ ﻳُﺒْﺼِﺮُﻭﻥَ ﻭَﻟَﻮْ ﻧَﺸَﺎﺀ
ﻟَﻤَﺴَﺨْﻨَﺎﻫُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﻜَﺎﻧَﺘِﻬِﻢْ ﻓَﻤَﺎ ﺍﺳْﺘَﻄَﺎﻋُﻮﺍ ﻣُﻀِﻴًّﺎ ﻭَﻟَﺎ ﻳَﺮْﺟِﻌُﻮﻥَ ﻭَﻣَﻦْ ﻧُﻌَﻤِّﺮْﻩُ
ﻧُﻨَﻜِّﺴْﻪُ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺨَﻠْﻖِ ﺃَﻓَﻠَﺎ ﻳَﻌْﻘِﻠُﻮﻥَ ﻭَﻣَﺎ ﻋَﻠَّﻤْﻨَﺎﻩُ ﺍﻟﺸِّﻌْﺮَ ﻭَﻣَﺎ ﻳَﻨﺒَﻐِﻲ ﻟَﻪُ ﺇِﻥْ ﻫُﻮَ ﺇِﻟَّﺎ
ﺫِﻛْﺮٌ ﻭَﻗُﺮْﺁﻥٌ ﻣُّﺒِﻴﻦٌ ﴾
এরপর পড়বে
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻤُﻔَﺮِّﺝ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺤﺰُﻭﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍّْﻟﻤﺨَﻠِّﺺِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺸﺤُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ
ﺍْﻟﻤُﻨَﻔِّﺲِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺪﻳُﻮﻥٍ ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻌﺎﻟِﻢِ ﻋﻦ ﻛﻞ ﻣَﻜﻨُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺟَﻌَﻞَ
ﺧَﺰَﺍﺋِﻨَﻪُ ﺑَﻴﻦَ ﺍْﻟﻜَﺎﻑِ ﻭَﺍْﻟﻨُّﻮﻥِ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺇﺫَﺍ ﺃَﺭﺍﺩَ ﺷَﻴْﺌﺎً ﺃﻥ ﻳَﻘﻮﻝَ ﻟَﻪُ ﻛُﻦْ ﻓَﻴَﻜُﻮﻥُ
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟَّﺬﻱ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﻣَﻠَﻜُﻮﺕُ ﻛُﻞّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻭَﺇﻟَﻴْﻪِ ﺗُﺮﺟَﻌُﻮﻥ .
এরপর বল
ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺍﻓﺘﺢ ﻟﻲ ﺍﺑﻮﺍﺏ ﺭﺣﻤﺘﻚ ﻭﺍﺑﻮﺍﺏ ﺧﺰﺍﺋﻨﻚ ﺑﺤﻖ ﺳﻮﺭﺓ ﻳﺲ ﻭﺑﻔﻀﻠﻚ
ﻭﻛﺮﻣﻚ ﻳﺎ ﺍﺭﺣﻢ ﺍﻟﺮﺍﺣﻤﻴﻦ . এরপর ১০০ বার বল (ﻳﺎﻣﻔﺮﺝ
ﺍﻟﻬﻢ )এবং এই দো‘আ কর:
ﺍﻟﻬﻲ ﺑﺤﻖ ﺳﺮ ﻫﺬﻩ ﺍﻻﺳﺮﺍﺭ ﻭﺑﺤﻖ ﻛﺮﻣﻚ ﺍﻟﺨﻔﻲ ﻭﺑﺤﻖ ﺍﺳﻤﻚ ﺍﻟﻌﻈﻴﻢ ﺍﻥ
ﺗﻘﻀﻲ ﺣﺎﺟﺎﺗﻨﺎ (ﻭﺣﺎﺟﺎﺕ ﺍﻟﺤﺎﺿﺮﻳﻦ ) ﻳﺎﻗﺎﺿﻲ ﺍﻟﺤﺎﺟﺎﺕ ﻳﺎ ﺍﺭﺣﻢ ﺍﻟﺮﺍﺣﻤﻴﻦ . ﴿
ﻟِﻴُﻨﺬِﺭَ ﻣَﻦ ﻛَﺎﻥَ ﺣَﻴًّﺎ ﻭَﻳَﺤِﻖَّ ﺍﻟْﻘَﻮْﻝُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻜَﺎﻓِﺮِﻳﻦَ ﺃَﻭَﻟَﻢْ ﻳَﺮَﻭْﺍ ﺃَﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﻟَﻬُﻢْ ﻣِﻤَّﺎ
ﻋَﻤِﻠَﺖْ ﺃَﻳْﺪِﻳﻨَﺎ ﺃَﻧْﻌَﺎﻣًﺎ ﻓَﻬُﻢْ ﻟَﻬَﺎ ﻣَﺎﻟِﻜُﻮﻥَ ﻭَﺫَﻟَّﻠْﻨَﺎﻫَﺎ ﻟَﻬُﻢْ ﻓَﻤِﻨْﻬَﺎ ﺭَﻛُﻮﺑُﻬُﻢْ ﻭَﻣِﻨْﻬَﺎ
ﻳَﺄْﻛُﻠُﻮﻥَ ﻭَﻟَﻬُﻢْ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻣَﻨَﺎﻓِﻊُ ﻭَﻣَﺸَﺎﺭِﺏُ ﺃَﻓَﻠَﺎ ﻳَﺸْﻜُﺮُﻭﻥَ ﻭَﺍﺗَّﺨَﺬُﻭﺍ ﻣِﻦ ﺩُﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺁﻟِﻬَﺔً
ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢْ ﻳُﻨﺼَﺮُﻭﻥَ ﻟَﺎ ﻳَﺴْﺘَﻄِﻴﻌُﻮﻥَ ﻧَﺼْﺮَﻫُﻢْ ﻭَﻫُﻢْ ﻟَﻬُﻢْ ﺟُﻨﺪٌ ﻣُّﺤْﻀَﺮُﻭﻥَ ﻓَﻠَﺎ ﻳَﺤْﺰُﻧﻚَ
ﻗَﻮْﻟُﻬُﻢْ ﺇِﻧَّﺎ ﻧَﻌْﻠَﻢُ ﻣَﺎ ﻳُﺴِﺮُّﻭﻥَ ﻭَﻣَﺎ ﻳُﻌْﻠِﻨُﻮﻥَ ﺃَﻭَﻟَﻢْ ﻳَﺮَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥُ ﺃَﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻩُ ﻣِﻦ ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ
ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻫُﻮَ ﺧَﺼِﻴﻢٌ ﻣُّﺒِﻴﻦٌ ﴾
এরপর পড়বে
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻤُﻔَﺮِّﺝ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺤﺰُﻭﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍّْﻟﻤﺨَﻠِّﺺِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺸﺤُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ
ﺍْﻟﻤُﻨَﻔِّﺲِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺪﻳُﻮﻥٍ ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻌﺎﻟِﻢِ ﻋﻦ ﻛﻞ ﻣَﻜﻨُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺟَﻌَﻞَ
ﺧَﺰَﺍﺋِﻨَﻪُ ﺑَﻴﻦَ ﺍْﻟﻜَﺎﻑِ ﻭَﺍْﻟﻨُّﻮﻥِ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺇﺫَﺍ ﺃَﺭﺍﺩَ ﺷَﻴْﺌﺎً ﺃﻥ ﻳَﻘﻮﻝَ ﻟَﻪُ ﻛُﻦْ ﻓَﻴَﻜُﻮﻥُ
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟَّﺬﻱ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﻣَﻠَﻜُﻮﺕُ ﻛُﻞّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻭَﺇﻟَﻴْﻪِ ﺗُﺮﺟَﻌُﻮﻥ .
এরপর বল
ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺍﻓﺘﺢ ﻟﻲ ﺍﺑﻮﺍﺏ ﺭﺣﻤﺘﻚ ﻭﺍﺑﻮﺍﺏ ﺧﺰﺍﺋﻨﻚ ﺑﺤﻖ ﺳﻮﺭﺓ ﻳﺲ ﻭﺑﻔﻀﻠﻚ
ﻭﻛﺮﻣﻚ ﻳﺎ ﺍﺭﺣﻢ ﺍﻟﺮﺍﺣﻤﻴﻦ . এরপর ১০০ বল ( ﻳﺎﻣﻔﺮﺝ ﺍﻟﻬﻢ )এবং এই
দো‘আ পড়:
ﺍﻟﻬﻲ ﺑﺤﻖ ﺳﺮ ﻫﺬﻩ ﺍﻻﺳﺮﺍﺭ ﻭﺑﺤﻖ ﻛﺮﻣﻚ ﺍﻟﺨﻔﻲ ﻭﺑﺤﻖ ﺍﺳﻤﻚ ﺍﻟﻌﻈﻴﻢ ﺍﻥ
ﺗﻘﻀﻲ ﺣﺎﺟﺎﺗﻨﺎ (ﻭﺣﺎﺟﺎﺕ ﺍﻟﺤﺎﺿﺮﻳﻦ ) ﻳﺎﻗﺎﺿﻲ ﺍﻟﺤﺎﺟﺎﺕ ﻳﺎ ﺍﺭﺣﻢ ﺍﻟﺮﺍﺣﻤﻴﻦ . ﴿
ﻭَﺿَﺮَﺏَ ﻟَﻨَﺎ ﻣَﺜَﻠًﺎ ﻭَﻧَﺴِﻲَ ﺧَﻠْﻘَﻪُ ﻗَﺎﻝَ ﻣَﻦْ ﻳُﺤْﻴِﻲ ﺍﻟْﻌِﻈَﺎﻡَ ﻭَﻫِﻲَ ﺭَﻣِﻴﻢٌ ﻗُﻞْ ﻳُﺤْﻴِﻴﻬَﺎ
ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺃَﻧﺸَﺄَﻫَﺎ ﺃَﻭَّﻝَ ﻣَﺮَّﺓٍ ﻭَﻫُﻮَ ﺑِﻜُﻞِّ ﺧَﻠْﻖٍ ﻋَﻠِﻴﻢٌ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺟَﻌَﻞَ ﻟَﻜُﻢ ﻣِّﻦَ ﺍﻟﺸَّﺠَﺮِ
ﺍﻟْﺄَﺧْﻀَﺮِ ﻧَﺎﺭًﺍ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺃَﻧﺘُﻢ ﻣِّﻨْﻪُ ﺗُﻮﻗِﺪُﻭﻥَ ﺃَﻭَﻟَﻴْﺲَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ ﻭَﺍﻟْﺄَﺭْﺽَ
ﺑِﻘَﺎﺩِﺭٍ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻥْ ﻳَﺨْﻠُﻖَ ﻣِﺜْﻠَﻬُﻢ ﺑَﻠَﻰ ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟْﺨَﻠَّﺎﻕُ ﺍﻟْﻌَﻠِﻴﻢُ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺃَﻣْﺮُﻩُ ﺇِﺫَﺍ ﺃَﺭَﺍﺩَ ﺷَﻴْﺌًﺎ
ﺃَﻥْ ﻳَﻘُﻮﻝَ ﻟَﻪُ ﻛُﻦْ ﻓَﻴَﻜُﻮﻥُ ﻓَﺴُﺒْﺤَﺎﻥَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﻣَﻠَﻜُﻮﺕُ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻭَﺇِﻟَﻴْﻪِ ﺗُﺮْﺟَﻌُﻮﻥَ
﴾
পাঠক, পদ্ধতিটি নমুনা স্বরূপ হুবহু উল্লেখ
করতে গিয়ে একটু দীর্ঘ হয়েছে। বোঝার
সুবিধার্থে শিয়া আলেমদের উল্লেখিত
পদ্ধতিটি হুবহু তুলে ধরলাম। পদ্ধতিটির
সাথে বানোয়াট অনেক ফযিলত উল্লেখ
করা হয়েছে। অতিরিক্ত দীর্ঘ
হয়ে যাবে বলে তা ছেড়ে দেয়েছি। নিশ্চয়
আপনি ইয়াসিন খতমের এই পদ্ধতি দেখেই
তা মনগড়া বানোয়াট
এবং বানানো বলে উড়িয়ে দিবেন। কারণ
হিসেবে রাসূল শিখান নি, সাহাবিরা করেন নি
, খাইরুল ক্বুরুনে এর কোনো নজীর নেই বলে উল্লেখ
করবেন। এই যদি হয় এই পদ্ধতি বানোয়াট হওয়ার
দলীল এবং বাস্তবেও তাই, তবে আমাদের
মাঝে যে পদ্ধতির প্রচলন আছে তার
কি কোনো অস্তিত্ব কল্যাণের সাক্ষ্যপ্রাপ্ত
যুগে আছে? যদি এর উত্তর ‘না’ হয় এবং আসলেও
তাই, তবে উভর পদ্ধতিই মনগড়া ও বানোয়াট। সবকিছু
থেকেই বিরত থাকা আমাদের জন্য অপরিহার্য।
আর যদি বলেন, বুযুর্গদের থেকে এমন আমল
পাওয়া গেছে, তবে অন্যদের বুযুর্গদের
কি দোষ? আপনার আমার বুযুর্গের
কথা গ্রহণযোগ্য, আর তাদের বুযুর্গদের
কথা গ্রহণযোগ্য নয় এ কেমন ইনসাফ? আপনি নিজেই
বিচার করুন।
নিজের পক্ষের লোকের
কথা নির্বিচারে গ্রহণ, অন্যের কথা শুদ্ধ হলেও
প্রত্যাখ্যান এটি একমাত্র বিভ্রান্ত দলের
বৈশিষ্ট্য। পক্ষান্তরে আহলুস্সুন্নাহ ওয়াল
জামাতের আলেমদের বৈশিষ্ট হচ্ছে, সবার
কথা নিরীক্ষার মাধ্যমে গ্রহণ, সহীহ বা নির্ভুল
হলে অন্যের কথাও গ্রহণ। ভুল হলে নিজ মতাদর্শের
লোকের কথাও প্রত্যাখ্যান। এই আমানতদারীর
সাথে তারা দ্বীনি ইলমের শিক্ষা দিয়ে গেছেন।
যুক্তির আলোকে সুন্নাহ বিরোধী কর্ম সৃষ্টির
সূচনা করতে পারলে আরেকজন তার
যুক্তিতে বানানো জিনিসটিকে একটু মোডিফাই
বা সুন্দর
করতে সমস্যা কোথায়? বরং এটাইতো নিয়ম।
যাইহোক, আমরা যারা সুন্নাতের উপর
থাকতে চাই, সুন্নাতকে যুক্তি ও প্রচলনের উপর
অগ্রাধিকার দেই ইবাদতের মধ্যে কম বেশ নতুন
কোনো নিয়মই
আমরা মানি না বা মানতে পারি না। রাসূল
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাতের
বাইরে গেলেই বিদ‘আতে লিপ্ত হওয়ার
আশংকা সর্বদা আমাদের মনে কাজ করে। আল্লাহ
যেন আমাদেরকে এই আদর্শের অবিচল রাখেন।
সবাইকে সুন্নাহ বোঝার তওফিক দান করেন। হুবহু
সুন্নাতের উপর থাকা
, বিদ‘আতকে সম্পূর্ণরুপে পরিহার করার তওফিকই
তার কাছে আমাদের কাম্য। আমীন।
খতমে শিফা
‘শিফা’ শব্দের আরবী মূল শব্দ ‘ ﺷِﻔﺎﺀ’ যার অর্থ
রোগমুক্ত করা বা রোগ নিরাময়।
এভাবে ‘খতমে শিফা’ অর্থ: রোগ নিরাময় করার
খতম। কেউ অসুস্থ হলে তার রোগমুক্তির আশায় এই
খতম পড়ানো হয়। আমাদের দেশে প্রচলিত
একটি বইয়ে এই খতমটি যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে :
‘‘খতমে শিফা
ﻻ ﺍﻟﻪ ﺍﻻ ﺍﻟﻠﻪ (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্)
এই পবিত্র কালেমা একলক্ষ পঁচিশ
হাজার বার পাঠ করাকে ‘‘খতমে শিফা
’’ বলে। একে খতমে তাহলীলও বলা হয়।
এই খতম পাঠ করিয়া এর সোয়াব মৃত
লোকের রূহের উদ্দেশ্যে বখশিশ
করিয়া দিলে নিশ্চয় আল্লাহ তা
‘আলা এর উসিলায় তাহাকে মাফ
করিয়া দিবেন ও বেহেশত দান করবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি কোনো কঠিন
বিপদের সম্মুখীন হয়
অথবা কোনো কঠিন রোগে আক্রান্ত
হইয়া দীর্ঘদিন ভুগিতে থাকে
, তবে উক্ত কালাম তাহার নিকট
বসিয়া সশব্দে পাঠ করিতে থাকিবে
, যেন সেই রোগী উহা শুনিতে পায়।
আল্লাহর ফযলে খতম শেষ হইবার পূর্বেই
ইহার আশ্চর্য ফল বুঝিতে পারা যায়।
কোনো মুমূর্ষু লোকের নিকট বসে এই খতম
পাঠ করলে তাহার রোগ যন্ত্রনা লাঘব
হয় এবং পরমায়ূ শেষ
হইয়া থাকিলে আছানির সহিত মৃত্যু হয়।
এই খতম একজনে পাঠ করাই
ভাল, তবে জরুরী প্রয়োজনে ১০/১৫ জন
একত্র বসিয়া একদিনেও খতম
করা চলে।’’ [91]
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজি‘ঊন।
ওহি নির্ভর কথার উপর নিজ থেকে কিছু বলার
কি দুঃসাহসিকতা!!
রোগ আল্লাহ দেন এবং তিনিই
মানুষকে রোগমুক্ত করেন। কারো রোগ
দেখা দিলে রোগীর নিজের কী করণীয় এবং তার
বেলায় অন্যদের কী করণীয় সবই বলে গেছেন
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
শিক্ষার মাঝে ‘খতমে শিফা’ নামের কিছু নেই।
একবার সাহাবায়ে কেরাম আরয করলেন
ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমরা কি চিকিৎসা করব?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
তাদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন:
« ﺗﺪﺍﻭﻭﺍ ﻓﺈﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ ﻟﻢ ﻳﻀﻊ ﺩﺍﺀ ﺇﻻ ﻭﺿﻊ ﻟﻪ ﺩﻭﺍﺀ ﻏﻴﺮ ﺩﺍﺀ ﻭﺍﺣﺪ
ﺍﻟﻬﺮﻡ » . ( ﺳﻨﻦ ﺃﺑﻲ ﺩﺍﻭﺩ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻄﺐ، ﺑﺎﺏ ﻓﻲ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻳﺘﺪﺍﻭﻯ، ﺭﻗﻢ :
3857 ، ﺳﻨﻦ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻄﺐ، ﺑﺎﺏ ﺍﻟﺪﻭﺍﺀ ﻭﺍﻟﺤﺚ
ﻋﻠﻴﻪ،ﺭﻗﻢ 2038: )
‘‘তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ কর।
কেননা মহান আল্লাহ তা‘আলা এমন
কোনো রোগ দেননি যার ঔষধ দেননি
, একমাত্র মৃত্যু ব্যতীত ।’’[92]
আরেকটি হাদীসে এরশাদ করেন:
« ﻟﻜﻞ ﺩﺍﺀ ﺩﻭﺍﺀ ﻓﺈﺫﺍ ﺃﺻﻴﺐ ﺩﻭﺍﺀ ﺍﻟﺪﺍﺀ ﺑﺮﺃ ﺑﺈﺫﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ »
( ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ، ﺑﺎﺏ ﻟﻜﻞ ﺩﺍﺀ ﺩﻭﺍﺀ ﻭﺍﺳﺘﺤﺒﺎﺏ ﺍﻟﺘﺪﺍﻭﻱ،
ﺭﻗﻢ 5871: )
‘‘প্রত্যেক রোগের ঔষধ রয়েছে। অতঃপর
যখন ঔষধ রোগের সাথে ঠিকমত
পড়ে আল্লাহর ইচ্ছায় ভাল হয়।’’
এভাবে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের চিকিৎসা গ্রহণের
আরো অনেক হাদীস রয়েছে।
স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
হাদীসের পাতা খুললেই চিকিৎসা গ্রহণের
ঘটনা পাওয়া যায়। মুহাদ্দিসীনে কেরামের
অনেকে তাদের
কিতাবে ‘চিকিৎসা অধ্যায়’ নামে পৃথক অধ্যায়
রচনা করেছেন। তবে মুমিন
ব্যক্তি চিকিৎসাকে শুধুমাত্র মাধ্যম হিসেবেই
গ্রহণ করেন। তার বিশ্বাস, রোগ নিবারণের
মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা । তবে আল্লাহ
অমুক ঔষধ অমুক রোগের জন্য দিয়েছেন
বলে গবেষণার মাধ্যমে এ বিষয়ের পণ্ডিতগণ
জানতে পেরেছেন। তাই ঔষধ ব্যবহার মূলত আল্লাহর
নির্দেশ বলেই আমরা হাদীসের
অপরদিকে এক মুমিন আরেক মুমিনের ভাই
বলে কুরআন ও হাদীসে ঘোষণা করা হয়েছে । তাই
একজন মুমিন অসুস্থ হয়ে বিপদে পড়লে অপর মুমিনের
অনেক দায়িত্ব রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব মুমিনকে একই ব্যক্তির
সাথে তুলনা করেছেন। একজন মানুষের
একটি অঙ্গে ব্যথা হলে তার সমস্ত শরীর যেমন কষ্ট
অনূভব করে তদ্রূপ একজন মুমিন ব্যথিত
হলে প্রতিটি মুমিন তার ব্যথায় ব্যথিত
হওয়া ঈমানের আলামত
বলে আমাদেরকে বুঝিয়েছেন নবী সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ।
« ﻣﺜﻞ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻴﻦ ﻓﻰ ﺗﻮﺍﺩﻫﻢ ﻭﺗﺮﺍﺣﻤﻬﻢ ﻭﺗﻌﺎﻃﻔﻬﻢ ﻣﺜﻞ ﺍﻟﺠﺴﺪ ﺇﺫﺍ
ﺍﺷﺘﻜﻰ ﻣﻨﻪ ﻋﻀﻮ ﺗﺪﺍﻋﻰ ﻟﻪ ﺳﺎﺋﺮ ﺍﻟﺠﺴﺪ ﺑﺎﻟﺴﻬﺮ ﻭﺍﻟﺤﻤﻰ » .
(ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ، ﺑﺎﺏ ﺗﺮﺍﺣﻢ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻴﻦ ﻭﺗﻌﺎﻃﻔﻬﻢ ﻭﺗﻌﺎﺿﺪﻫﻢ، ﺭﻗﻢ:
6751 )
‘‘মুমিনদের দৃষ্টান্ত পরস্পরের প্রতি দয়া
, মমতা, আন্তরিকতার দিক
দিয়ে একটি দেহের মত। তাদের দেহের
একটি অংশ আক্রান্ত হলে, তার সমগ্র
অঙ্গ ব্যথা, যন্ত্রনা ও অনিদ্রায়
আক্রান্ত হয়।’’ [94]
এই হাদীস থেকেই কোনো মুমিন অসুস্থ
হলে আরেক মুমিনের কি করণীয়, তার কতটুকু
দায়িত্ব উপলব্ধি করা যায়। তথাপি এ হাদীস
ছাড়া আরো অনেক হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমিনের অনেক করণীয়
স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন। একজন অসুস্থ মুমিনের
আরেক মুমিনের উপর
তাকে দেখতে যাওয়াকে অধিকার সাব্যস্ত
করেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
« ﺣَﻖُّ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻢِ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻢِ ﺳِﺖٌّ ». ﻗِﻴﻞَ ﻣَﺎ ﻫُﻦَّ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻗَﺎﻝَ : …ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻣَﺮِﺽَ ﻓَﻌُﺪْﻩُ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻣَﺎﺕَ ﻓَﺎﺗَّﺒِﻌْﻪُ » . ( ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ، ﺑﺎﺏ
ﻣﻦ ﺣﻖ ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ، ﺭﻗﻢ 5778: )
‘‘এক মুসলিমের অপর মুসলিমের উপর
ছয়টি প্রাপ্য রয়েছে। বলা হলো:
হে আল্লাহর রাসূল: সেগুলো কী? রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বললেন: ....আর যখন সে অসুস্থ হয়
তাকে দেখতে যাও, আর যখন
সে মারা যায় তার জানাযায় অংশ
নাও।’’ [95]
রোগীকে দেখতে যাওয়া বা তার
সেবার ফযিলতে রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
« ﻣﻦ ﻋﺎﺩ ﻣﺮﻳﻀﺎ ﻟﻢ ﻳﺰﻝ ﻓﻰ ﺧﺮﻓﺔ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺣﺘﻰ ﻳﺮﺟﻊ » . ( ﺻﺤﻴﺢ
ﻣﺴﻠﻢ،ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺒﺮ ﻭﺍﻟﺼﻠﺔ ﻭﺍﻷﺩﺏ، ﺑﺎﺏ ﻓﻀﻞ ﻋﻴﺎﺩﺓ ﺍﻟﻤﺮﻳﺾ، ﺭﻗﻢ:
6717 )
‘‘যে ব্যক্তি রোগীকে দেখতে যায়
ফিরে আসার পূর্ব পর্যন্ত
সে জান্নাতের ফলের
মাঝে থাকে।’’ [96]
এভাবে রোগী দেখতে যাওয়া, তাঁর
সেবা করা, এর ফযিলত সংক্রান্ত বিভিন্ন হাদীস
বর্ণিত হয়েছে। দেখতে গিয়ে কী পড়বে এতেও নবীর
সুন্নাত রয়েছে। হাদীসে রয়েছে:
" ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺩﺧﻞ ﻋﻠﻰ ﺭﺟﻞ ﻳﻌﻮﺩﻩ ﻓﻘﺎﻝ:
"ﻻ ﺑﺄﺱ ﻃﻬﻮﺭ ﺇﻥ ﺷﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ ." " ( ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ، ﺑﺎﺏ ﻋﻼﻣﺎﺕ ﺍﻟﻨﺒﻮﺓ
ﻓﻲ ﺍﻹﺳﻼﻡ، ﺭﻗﻢ: 5338 )
‘‘রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির
কাছে তার রোগ দেখতে গেলেন।
গিয়ে বললেন: কোনো অসুবিধা নেই,
(ভাল হয়ে যাবে) পবিত্র হবে (রোগ
গোনাহের কাফ্ফারা হয়ে গোনাহ
থেকে পবিত্র করবে) ইন-শা-
আল্লাহ।’’ [97]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
এত দিক নির্দেশনা থাকতে এগুলো বাদ দিয়ে
, বা এগুলো রেখে নতুন কিছু সংযোজন
করে ‘খতমে শিফা’ নামে খতম বের
করা হয়েছে যার কোনো ভিত্তি নেই। এর
ফযিলতে যা বলা হয়েছে সবই মনগড়া। এই খতম রোগ
নিবারণের খতম হলে আর অন্য কিছুর কি দরকার
ছিল? রোগের জন্য কুরআন খতম, বুখারীর হাদীসের
খতমকে অভিজ্ঞতার বাহানায় অর্থ উপার্জনের
মাধ্যম বানানোর কি প্রয়োজন ছিল। অসুস্থ
ব্যক্তি অজ্ঞতার কারণে না বুঝলে তাকে সঠিক
বিষয় বোঝানোই ছিল একজন আলেমের দায়িত্ব।
তাকে দীনের দা‘ওয়াত দেওয়ার এটি ছিল
একটি সুবর্ণ সুযোগ। তাকে দীনের সঠিক
একটি শিক্ষাদান আমার মৃত্যুর পরও কাজে আসতো।
এই দায়িত্ব আদায় না করে বরং তার
অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের স্বার্থ
উদ্ধারের চিন্তা করা কতটুকু অমানবিক কাজ
তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। এই অমানবিক কাজকেই
তার থেকে কিছু অর্থ উদ্ধারের সুবর্ণ সুযোগ
পাওয়া গেছে বলে মনে করা হয়। সবচেয়ে দুঃখজনক
ব্যাপার এই যে, একজন অসুস্থ মানুষ মানেই
সে যে কোনো দিক থেকে বিপদগ্রস্ত । এই
বিপদে আমাকে আমার সামর্থানুযায়ী তার
সাহায্যে এগিয়ে আসা প্রয়োজন ছিল। আজীবন
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
আমাদের এই শিক্ষাই দিয়ে গেলেন।
আমরা রাসূলের এই শিক্ষাতো গ্রহণ করছিই না
, উপরন্তু বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে আরো বিপদ ও
ঝামেলায় ফেলছি। তাকে সাহায্য না করে খতমের
বাহানায় তার থেকেই আর্থিক সাহায্য নিচ্ছি।
আল্লাহ আমাকে এবং সবাইকে হেদায়াত দান
করুন। সাহায্য গ্রহণ না করে সাহায্য করার তওফিক
ও মানসিকতা দান করুন। আমীন।
উল্লেখ্য যে, ‘খতমে শিফা’ নামের খতমের
বর্ণিত পদ্ধতি ছাড়া অন্য পদ্ধতিও বলা হয়ে থাকে।
যেমন, ‘ইয়া সালামু’ নির্দিষ্ট সংখ্যায় পড়া। এর
কোনো ভিত্তি নেই। টাকার পরিমাণে ছোট
দো‘আ, বড় দো‘আ, কম সংখ্যা
, বেশি সংখ্যা নির্ধারিত হয়ে থাকে। অনেক সময়
পড়ার মাঝে কম বেশ করা আয়োজকের তদারিকের
উপর নির্ভর করে। আল্লাহ আমাদেরকে এসব
থেকে দূরে রাখুন। আমীন।
খতমে তাহলীল
খতমে তাহলীল বা " ﻻ ﺍﻟﻪ ﺍﻻ
ﺍﻟﻠﻪ " (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্) এর খতম।
খতমে শিফার সাথেই তা পড়ার নিয়ম ও এর
ফযিলতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ সবকিছুই
মনগড়া, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
এই কালিমাটি হচ্ছে ইসলামে মূল। রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ২৩ বছরের
পুরো জীবনটাই এই কালেমার তাৎপর্য
বুঝানো এবং এর তাৎপর্যের উপর
সাহাবিদেরকে উঠানোর পিছনে ব্যয় করেছেন।
সাহাবায়ে কেরাম
থেকে বর্ণিত, তারা প্রথমে ঈমান অতঃপর কুরআন
শিক্ষা করেছেন। [98] হাদীসে এই কালেমার
যিকরকে সর্বোত্তম যিকর বলা হয়েছে। জাবের
ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু
থেকে বর্ণিত :
‘‘আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে
শুনেছি: সর্বশ্রেষ্ট
যিকর ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং
সর্বশ্রেষ্ট দো‘আ ‘আলহামদুলিল্লাহ’’ ।
পক্ষান্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি তাঁর
জীবনে কখনো সাহাবিদেরকে খতম
নামের এসব
কোনো কথা বলেননি বা শিক্ষা দেন
নি। রাসূল সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষার
ভিত্তিতে সাহাবায়ে কেরাম তাদের
জীবনে ঈমানের পিছনে অনেক মেহনত
করে এই কালেমার তাৎপর্য তাদের
অন্তরে বসালেও কখনোই তাদের
থেকে এমন ধরণের
কোনো শিক্ষা বা কথাবার্তা পাওয়া
যায় না, এমনকি কল্যাণের
সাক্ষ্যপ্রাপ্ত বা খাইরুল ক্বুরুনের
কোনো যুগেই এসবের কোনো অস্তিত্ব
বিদ্যমান নেই। অন্য মানুষ এই কালেমার
খতম করে মৃত
ব্যক্তিকে জান্নাতে বা স্বর্গে
পাঠিয়ে দেওয়ার ধারণা মূলত বিধর্মী
, ব্রাহ্মণী, পুরোহিতবাদি শিক্ষা।
ইসলামের শিক্ষা যার সম্পূর্ণ বিপরীত।
হিন্দুত্ববাদের হাওয়ায় কোনো অজ্ঞ
সুফি সাধক থেকে এই খতমের
সুচনা হওয়া অসম্ভবের কিছু নয়।
আমাদের দেশের হিন্দু সমাজে এর
বাস্তবতা পাওয়া যায়। আল্লাহই ভাল
জানেন। তিনি আমাদেরকে এসব
বুঝে এগুলোর খপ্পর থেকে নিরাপদ
রাখুন। কালিমার সঠিক মর্ম বুঝে আমল
করা এবং এর দা‘ওয়াত দেওয়ার তওফিক
দান করুন। আমীন।
খতমে তাসমিয়া
‘তাসমিয়া’ শব্দের মূল অর্থ নামকরণ করা। মুসলিম
ব্যক্তি যে কোনো কাজ আল্লাহর নাম নিয়েই শুরু
করেন, তাই আল্লাহর নাম নেওয়া বা বিসমিল্লাহ
বলার ক্ষেত্রেও শব্দটি প্রয়োগ হয়।
এভাবে ‘খতমে তাসমিয়া’ বিসমিল্লাহ এর
খতমকে বুঝানো হয়ে থাকে। একলক্ষ পঁচিশ হাজার
বার ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’’ পাঠের
মাধ্যমে এই খতম করতে হয়। এই খতমের
বিবরণে লেখা হয়েছে:
‘‘এই পাক কালাম একলক্ষ পঁচিশ হাজার
বার পাঠ করাকে ‘‘খতমে তাসমিয়া
’’ বলে। কোনো কঠিন বিপদ
হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য
অথবা কোনো মনোবাসনা পূর্ণ হওয়ার
জন্য এই খতম অত্যন্ত ফলপ্রদ। অনেক
লোক একত্রিত হয়ে একই বৈঠকে এই খতম
পাঠ করিয়া আল্লাহর
দরবারে মোনাজাত করলে আল্লাহ
তাআলা নিশ্চয় তাহাকে সেই বিপদ
হইতে রক্ষা করেন বা তাহার
বাসনা পূর্ণ করেন।’’ [100]
যে কোনো কাজ আল্লাহর নামে শুরু
করা ইসলামের মৌলিক শিক্ষার অন্যতম। ‘‘পড়
তোমার রাবব্ এর
নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন’’ [101] বলে
ওহির সুচনাতেই রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই
শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবনের সকল
ক্ষেত্রে এই শিক্ষার বাস্তবায়ন করেছেন।
‘বিসমিল্লাহ’ ব্যবহারের মাধ্যমে এর বাস্তব
প্রয়োগের
সাথে সাথে সাহাবায়ে কেরামদেরকেও এর
নির্দেশ দিয়েছেন। সাহাবায়ে কেরাম তাদের
জীবনের সর্বক্ষেত্রে এই শিক্ষার বাস্তবায়ন
ঘটিয়েছেন। এছাড়া ‘বিসমিল্লাহ’ বলে রোগের
ঝাড় ফুঁকের আমলও রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পাওয়া যায়।
সাহাবী উসমান ইবন আবিল ‘আস আস-
সাক্বাফী একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাঁর শরীরের
একটি ব্যথার অভিযোগ করলেন। ইসলাম গ্রহণের পর
থেকেই তিনি তাঁর শরীরে এই ব্যথা অনুভব করছেন
বলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
কাছে আরয করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন:
« ﺿﻊ ﻳﺪﻙ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺬﻯ ﺗﺄﻟﻢ ﻣﻦ ﺟﺴﺪﻙ ﻭﻗﻞ ﺑﺎﺳﻢ ﺍﻟﻠﻪ . ﺛﻼﺛﺎ . ﻭﻗﻞ
ﺳﺒﻊ ﻣﺮﺍﺕ ﺃﻋﻮﺫ ﺑﺎﻟﻠﻪ ﻭﻗﺪﺭﺗﻪ ﻣﻦ ﺷﺮ ﻣﺎ ﺃﺟﺪ ﻭﺃﺣﺎﺫﺭ » . ( ﺻﺤﻴﺢ
ﻣﺴﻠﻢ، ﺑﺎﺏ ﺍﺳﺘﺤﺒﺎﺏ ﻭﺿﻊ ﻳﺪﻩ ﻋﻠﻰ ﻣﻮﺿﻊ ﺍﻷﻟﻢ ﻣﻊ ﺍﻟﺪﻋﺎﺀ،
ﺭﻗﻢ 5867: )
‘‘তোমার শরীরের যে জায়গায়
ব্যথা রয়েছে সেখানে হাত রাখ
এবং তিনবার ‘ ﺑِﺎﺳْﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪ ’ বল। আরো সাতবার
বল:
‘‘ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻗُﺪْﺭَﺗِﻪِ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﺃَﺟِﺪُ
ﻭَﺃُﺣَﺎﺫِﺭُ ’’ (আমি যে ব্যথা অনুভব
করছি এবং যে ভয়
পাচ্ছি তা থেকে আল্লাহ ও তার
কুদরতের আশ্রয় প্রার্থনা করছি)’’ [102]
এই হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন
থেকে ‘বিসমিল্লাহ’ এর শিক্ষা। সাহাবা, খাইরুল
ক্বুরুন সবার জীবনেও এই একই
শিক্ষা দেখতে পাবেন। এর বাইরে খতম
নামে যা কিছু বলা হয়ে থাকে তা সম্পূর্ণ মনগড়া ও
ভিত্তিহীন। নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা সাহাবিদের জীবনে এই
তাসমিয়া খতমের কোনো দৃষ্টান্ত নেই, কল্যাণের
সাক্ষ্যপ্রাপ্ত কোনো যুগেই এর কোনো নজীর নেই।
এ সবকিছু তাদের যুগের অনেক পরের উদ্ভাবন।
এছাড়া এই খতমের ফযিলতে যা কিছু বলা হয় সবই
মনগড়া বানানো। আল্লাহ আমাদেরকে এ সমস্ত
মনগড়া কর্ম থেকে রক্ষা করুন। ‘বিসমিল্লাহ’ এর
মৌলিক শিক্ষায় আমাদের জীবন গড়ার তওফিক
দান করুন। আমীন।
খতমে খাজেগান
ফার্সি শব্দ ‘খাজা’ যার বহুবচন ‘খাজেগাঁ’ ।
খতমের নাম থেকেই
তা যে অনারব কোনো সুফি থেকে আবিষ্কৃত
তা সহজেই অনুমেয়। এই নামকরণের কারণে বলা হয়,
‘‘পীর-পীরানগণের উপর দো‘আ করা হয় বলিয়া এই
খতমের নাম খাজেগান বা পীরান
[103] রাখা হইয়াছে’’ ।
খতমের নিয়মে লিখা হয়েছে: [104]
১. সূরা ফাতেহা ৭০ বার।
২. দুরূদ শরীফ ১০০ বার।
৩. সূরা ‘আলাম নাশরাহ লাকা’ ৭০ বার।
৪. সূরা ইখলাস ১০০০ বার।
৫. পুনরায় সূরা ফাতেহা ৭ বার।
৬. পুনরায় দুরূদ শরীফ ১০০ বার।
৭. নিম্নাক্ত দো‘আ ১০০ বার:
" ﻓﺴﻬﻞ ﻳﺎ ﺍﻟﻬﻲ ﻛﻞ ﺻﻌﺐ ﺑﺤﺮﻣﺔ ﺳﻴﺪ ﺍﻷﺑﺮﺍﺭ ﺳﻬﻞ ﺑﻔﻀﻠﻚ ﻳﺎ ﻋﺰﻳﺰ ".
(হে আল্লাহ নেক্কারগণের সরদারের (নবী সা.)
সম্মানার্থে আমার প্রত্যেক কঠিন কাজ সহজ
করিয়া দাও, হে ক্ষমাশীল, তোমার দয়ায় সহজ
করিয়া দাও।
এই খতমের এই পদ্ধতি লিখিত হলেও যে যার মত
সময়ের দিকে লক্ষ্য রেখে, টাকা পয়সার কম বেশির
দিকে বিবেচনা করে এদিক সেদিক যোগ বিয়োগ
করে বানিয়ে খতম করেন। খতমকারীদের ভাষায়
সটকার্ট খতম বা লং খতম। বানানো জিনিস
একেকজন একেক রকম বানাবেন এটাই স্বাভাবিক।
এই খতমের ৭ নাম্বারে উল্লেখিত দো
‘আটি আপত্তিকর। আপত্তির কারণ ও পর্যায় একটু
পরেই আলোচনা করছি ইনশাআল্লাহ। এ
ছাড়া বাকী অনেকটি যেমন সুরা, দুরূদ মানসুস, যার
নির্দিষ্ট ফযিলত রয়েছে। কিছু বাক্য
যেগুলোতে আল্লাহকে সম্বোধন করা হয়েছে এই
বাক্যগুলো দ্বারা আল্লাহকে ডাকা এবং নিজের
প্রয়োজন প্রার্থনা করা যাবে।
ওযিফা হিসেবে তা পাঠ বা এতে ছওয়াব
আছে মনে করা যাবে না, কেননা ছওয়াবের
বিষয়টি সম্পূর্ণ তাওক্বীফি বা ওহি নির্ভর। এর
বাইরে খতমের যে ধারা উল্লেখ
করা হয়েছে এবং এর নির্দিষ্ট যে ফযিলত বলা হয়
তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মানসুস বা রাসূল
সাল্লাল্লাহু থেকে প্রমাণিত
আমলগুলো তিনি যেভাবে করেছেন সেভাবেই
করতে হবে এবং তিনি যে ফযিলত বলেছেন
বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ
থাকতে হবে। আমলের ক্ষেত্রে এর বাইরে কিছু
বলার কারো কোনো অধিকার নেই।
এই খতমের ফযিলতে বলা হয়ে থাকে, কঠিন
পীড়া ও বিপদাপদ হতে উদ্ধার লাভের জন্য ও
প্রত্যেক প্রকার মনের বাসনা, পরীক্ষা পাস ও
চাকরী লাভ করিবার জন্য এই খতমটি অদ্বিতীয়।
[105]
এ সবকথাই ভিত্তিহীন ও মনগড়া।
এগুলো হচ্ছে বিভিন্ন দো‘আ বা ইবাদত। এর ফযিলত
একমাত্র তিনি বলতে পারেন
যিনি এগুলো দিয়েছেন। আল্লাহ ও তার রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে আমল
যেভাবে করলে যে ফযিলত বলেছেন
তা সেভাবে করেই উক্ত ফযিলতের
আশা করতে হবে। রাসূল কর্তৃক প্রদানকৃত
রূপকে পরিবর্তন করা এবং সাথে সাথে নতুন
ফযিলতের বুলি আওড়ানোর অধিকার
কাউকে তিনি দেননি। আর এগুলো হচ্ছে ধর্মীয়
বিষয়। ধর্মীয় বিষয়ে অভিজ্ঞতার
কথা বলা অনর্থক।
৭ নং দো‘আটি আপত্তিকর হওয়ার কারণ হলো
, অন্যের মর্যাদার দোহাই দিয়ে পার পাওয়ার
ধারণা মূলত মুশরিকদের। ঈসা আলাইহিস
সালামের মর্যাদার দোহাই দিয়ে পার
পাওয়া খ্রিস্টবাদী ধারণা। উযাইর আলাইহিস
সালামের দোহাই দিয়ে পার পাওয়ার
আশা ইয়াহুদীবাদী ধারণা। ফেরেশ্তাগণ
আল্লাহর মেয়ে হওয়ার ধারণায় তাদের মর্যাদার
দোহাই দিয়ে পার হওয়ার ধারণা মক্কার
মুশরিকরা লালন করত। কুরআন করীমে এসবের বিবরণ
ও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এভাবে বিভিন্ন
জাতি আল্লাহতে বিশ্বাসী হওয়া সত্বেও
শির্কে লিপ্ত হয়। ইসলাম এর মূলোৎপাটন করেছে।
আল্লাহর বিধান রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের
শিখানো পদ্ধতিতে পালনের মাধ্যমে একমাত্র
আল্লাহরই দয়ায় পার
পাওয়া যাবে বলে শিক্ষা দিয়েছে। রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
উম্মতকে আজীবন এই শিক্ষাই দিয়ে গেছেন। কুরআন
ও হাদীসের সাথে সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে দিলেই
বিষয়টি সবার কাছে ফুটে উঠবে। কুরআন
বা হাদীসে বর্ণিত দো‘আগুলো এবং দো‘আর
শিক্ষা থেকেও
আমরা বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারি। আল্লাহ তাঁর
জ্ঞানের দিক থেকে বান্দার শাহরগের চেয়েও
অধিক নিকটে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তাই
আল্লাহর কাছে কিছু
চাইতে কোনো ব্যক্তি মিডিয়া বা ব্যক্তির
মর্যাদা মিডিয়া বানানোর প্রয়োজন ইসলাম বোধ
করে না। আর এটাই ছিল সালাফে সালিহিনের
আক্বীদা। ইমাম আবু হানিফা রাহ. বলেন:
" ﻻ ﻳﻨﺒﻐﻲ ﻷﺣﺪ ﺃﻥ ﻳﺪﻋﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺇﻻ ﺑﻪ ﻭﺍﻟﺪﻋﺎﺀ ﺍﻟﻤﺄﺫﻭﻥ ﻓﻴﻪ ﺍﻟﻤﺄﻣﻮﺭ ﺑﻪ ﻣﺎ
ﺍﺳﺘﻔﻴﺪ ﻣﻦ ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ " ﻭﻟﻠﻪ ﺍﻷﺳﻤﺎﺀ ﺍﻟﺤﺴﻨﻰ ﻓﺎﺩﻋﻮﻩ ﺑﻬﺎ .") ﺍﻟﺪﺭ
ﺍﻟﻤﺨﺘﺎﺭ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺤﻈﺮ ﻭﺍﻻﺑﺎﺣﺔ )
‘‘কারো জন্য উচিত নয় আল্লাহর
কাছে তারই মাধ্যম ছাড়া দো‘আ করা।
আর তাঁর নাম নিয়ে দো‘আর অনুমোদন ও
নির্দেশিত হওয়ার দলীল আল্লাহর
বাণী: ‘‘আর আল্লাহর অনেক সুন্দর নাম
রয়েছে, অতএব তোমরা তাকে এগুলোর
মাধ্যমে ডাকো’’ ।’’ [107]
‘তারই মাধ্যমে’ দো‘আর ব্যখ্যায়
আল্লামা শামী লিখেন:
"( ﻗﻮﻟﻪ ﺇﻻ ﺑﻪ ) ﺃﻱ ﺑﺬﺍﺗﻪ ﻭﺻﻔﺎﺗﻪ ﻭﺃﺳﻤﺎﺋﻪ ".
অর্থাৎ আল্লাহর সত্বা, তার গুণাবলী এবং তার
নামের মর্যাদার ওসিলাতেই কেবল দো‘আ
করা যাবে।
ফিক্বহে হানাফীতে আবু হানিফা রাহ.
মাযহাব উল্লেখে বলা হয়েছে:
" ( ﻭ ) ﻛﺮﻩ ﻗﻮﻟﻪ ( ﺑﺤﻖ ﺭﺳﻠﻚ ﻭﺃﻧﺒﻴﺎﺋﻚ ﻭﺃﻭﻟﻴﺎﺋﻚ ) ﺃﻭ ﺑﺤﻖ ﺍﻟﺒﻴﺖ
ﻷﻧﻪ ﻻ ﺣﻖ ﻟﻠﺨﻠﻖ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺨﺎﻟﻖ ﺗﻌﺎﻟﻰ."
‘‘এবং বলা মাকরূহ [108] , তোমার
রাসূলগণ, নবীগণ ও ওলীগণের
অধিকারে অথবা বাইতুল্লাহর
অধিকারে কেননা আল্লাহর উপর
মাখলুকের কোনো অধিকার নেই।’’ [109]
আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত, বিশেষ
করে ইমাম আবু হানিফা (রাহ.) ও তার দুই বিশিষ্ট
ছাত্র ইমাম আবু ইউসুফ (রাহ.) এবং ইমাম মুহাম্মদ
(রাহ.) এর আক্বীদা বর্ণনায় হানাফী মাযহাবের
বিখ্যাত আলেম আবু জা‘ফর আত্ত্বাহাবী
রচিত আক্বীদার কিতাব ‘আল-
আক্বীদাতুত্ত্বাহাবীয়্যাহ’ এর
ব্যাখ্যা গ্রন্থে আল্লামা আবুল-ইয আল-হানাফী
[111] লিখেন:
" ﻗﺎﻝ ﺃﺑﻮ ﺣﻨﻴﻔﺔ ﻭﺻﺎﺣﺒﺎﻩ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻢ: ﻳﻜﺮﻩ ﺃﻥ ﻳﻘﻮﻝ ﺍﻟﺪﺍﻋﻲ :
ﺃﺳﺄﻟﻚ ﺑﺤﻖ ﻓﻼﻥ، ﺃﻭ ﺑﺤﻖ ﺃﻧﺒﻴﺎﺋﻚ ﻭﺭﺳﻠﻚ، ﻭﺑﺤﻖ ﺍﻟﺒﻴﺖ ﺍﻟﺤﺮﺍﻡ،
ﻭﺍﻟﻤﺸﻌﺮ ﺍﻟﺤﺮﺍﻡ، ﻭﻧﺤﻮ ﺫﻟﻚ ﺣﺘﻰ ﻛﺮﻩ ﺃﺑﻮ ﺣﻨﻴﻔﺔ ﻭﻣﺤﻤﺪ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻨﻬﻤﺎ ﺃﻥ ﻳﻘﻮﻝ ﺍﻟﺮﺟﻞ: ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺇﻧﻲ ﺃﺳﺄﻟﻚ ﺑﻤﻌﻘﺪ ﺍﻟﻌﺰ ﻣﻦ ﻋﺮﺷﻚ."
‘‘আবু হানীফা এবং তার দুই
সঙ্গী (ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ)
রাদিয়াল্লাহু আনহুম বলেন: দো
‘আকারীর জন্য বলা মাকরূহ, ‘‘অমুকের
অধিকারে তোমার
কাছে প্রার্থনা করছি, অথবা তোমার
নবী ও রাসূলগণের
অধিকারে এবং বাইতুল হারামের
অধিকারে এবং মাশ‘আরে হারামের
[112] অধিকারে।’’ এ জাতীয়
আরো যা রয়েছে। এমনকি ইমাম আবু
হানিফা ও মুহাম্মদ রাদিয়াল্লাহু
আনহুমা মাকরূহ মনে করেন যে
, লোকটি বলবে: ‘‘হে আল্লাহ, তোমার
আরশের সম্মানিত আসনের দোহাই
দিয়ে তোমার কাছে প্রার্থনা করছি
’’। ’’[113]
তিনি আরো লিখেন:
ﻭﺗﺎﺭﺓ ﻳﻘﻮﻝ : ﺑﺠﺎﻩ ﻓﻼﻥ ﻋﻨﺪﻙ، ﻳﻘﻮﻝ: ﻧﺘﻮﺳﻞ ﺇﻟﻴﻚ ﺑﺄﻧﺒﻴﺎﺋﻚ ﻭﺭﺳﻠﻚ
ﻭﺃﻭﻟﻴﺎﺋﻚ . ﻭﻣﺮﺍﺩﻩ ﺃﻥ ﻓﻼﻧﺎ ﻋﻨﺪﻙ ﺫﻭ ﻭﺟﺎﻫﺔ ﻭﺷﺮﻑ ﻭﻣﻨﺰﻟﺔ ﻓﺄﺟﺐ
ﺩﻋﺎﺀﻧﺎ . ﻭﻫﺬﺍ ﺃﻳﻀﺎ ﻣﺤﺬﻭﺭ، ﻓﺈﻧﻪ ﻟﻮ ﻛﺎﻥ ﻫﺬﺍ ﻫﻮ ﺍﻟﺘﻮﺳﻞ ﺍﻟﺬﻱ ﻛﺎﻥ
ﺍﻟﺼﺤﺎﺑﺔ ﻳﻔﻌﻠﻮﻧﻪ ﻓﻲ ﺣﻴﺎﺓ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻟﻔﻌﻠﻮﻩ ﺑﻌﺪ
ﻣﻮﺗﻪ، ﻭﺇﻧﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﺘﻮﺳﻠﻮﻥ ﻓﻲ ﺣﻴﺎﺗﻪ ﺑﺪﻋﺎﺋﻪ، ﻳﻄﻠﺒﻮﻥ ﻣﻨﻪ ﺃﻥ ﻳﺪﻋﻮ
ﻟﻬﻢ، ﻭﻫﻢ ﻳﺆﻣﻨﻮﻥ ﻋﻠﻰ ﺩﻋﺎﺋﻪ، ﻛﻤﺎ ﻓﻲ ﺍﻻﺳﺘﺴﻘﺎﺀ ﻭﻏﻴﺮﻩ . ﻓﻠﻤﺎ ﻣﺎﺕ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﻋﻤﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ – ﻟﻤﺎ ﺧﺮﺟﻮﺍ
ﻳﺴﺘﺴﻘﻮﻥ :- «ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺇﻧﺎ ﻛﻨﺎ ﺇﺫﺍ ﺃﺟﺪﺑﻨﺎ ﻧﺘﻮﺳﻞ ﺇﻟﻴﻚ ﺑﻨﺒﻴﻨﺎ ﻓﺘﺴﻘﻴﻨﺎ،
ﻭﺇﻧﺎ ﻧﺘﻮﺳﻞ ﺇﻟﻴﻚ ﺑﻌﻢ ﻧﺒﻴﻨﺎ » . ﻣﻌﻨﺎﻩ ﺑﺪﻋﺎﺋﻪ ﻫﻮ ﺭﺑﻪ ﻭﺷﻔﺎﻋﺘﻪ
ﻭﺳﺆﺍﻟﻪ، ﻟﻴﺲ ﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﺃﻧﺎ ﻧﻘﺴﻢ ﻋﻠﻴﻚ ﺑﻪ، ﺃﻭ ﻧﺴﺄﻟﻚ ﺑﺠﺎﻫﻪ ﻋﻨﺪﻙ، ﺇﺫ
ﻟﻮ ﻛﺎﻥ ﺫﻟﻚ ﻣﺮﺍﺩﺍ ﻟﻜﺎﻥ ﺟﺎﻩ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃﻋﻈﻢ ﻭﺃﻋﻈﻢ
ﻣﻦ ﺟﺎﻩ ﺍﻟﻌﺒﺎﺱ . ( ﺷﺮﺡ ﺍﻟﻌﻘﻴﺪﺓ ﺍﻟﻄﺤﺎﻭﻳﺔ، ﺑﺤﺚ : ﺍﻟﺸﻔﺎﻋﺔ،
154-1 )
‘‘এবং অনেক সময় দো‘আ
প্রার্থী বলে: ‘আপনার কাছে অমুকের
যে সম্মান রয়েছে তার মাধ্যমে
’ সে বলে ‘আমরা আপনার নিকট আপনার
নবী, রাসূল ও ওলীগণকে মাধ্যম গ্রহণ
করছি’, এর দ্বারা লোকটির
উদ্দেশ্য, অমুক আপনার নিকট
মান, সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী
, তাই আপনি আমাদের দো‘আ কবুল করুন।
এটাও নিষিদ্ধ।
কেননা যদি সাহাবায়ে কেরাম
নবীজী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবিত
থাকাকালে এ ধরণের মাধ্যম গ্রহণ
করতেন তবে তাঁর মৃত্যুর পরও অবশ্যই
নিতেন। অথচ তিনি সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবিত
থাকাকালে তারা তাঁর দো‘আর মাধ্যম
নিতেন। তারা তাঁর কাছে তাদের জন্য
দো‘আর প্রার্থনা করতেন। তারা তাঁর
দো‘আর উপর ঈমান রাখতেন, যেমন
বৃষ্টি কামনা ইত্যাদির বেলায়। অতঃপর
যখন নবী সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারা গেলেন
এবং তারা বৃষ্টি কামনার দো‘আর জন্য
বের হলেন, তখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু
বললেন : ‘হে আল্লাহ, যখন
আমরা দুর্ভিক্ষের শিকার হতাম
তোমার কাছে তোমার নবীর
মাধ্যমে দো‘আ
করতাম, ফলে তুমি আমাদের
বৃষ্টি দিতে। এখন আমরা তোমার
কাছে আমাদের নবীর চাচা (আব্বাস)
এর (দো‘আর) মাধ্যম গ্রহণ করছি’। এর অর্থ
হলো, তিনি আল্লাহর কাছে যে দো‘আ
করেন, সুপারিশ করেন
এবং প্রার্থনা করেন এর মাধ্যমে।
তোমার কাছে তার শপথ এ উদ্দেশ্য
নয়, অথবা আমরা তোমার
কাছে প্রার্থনা করছি তার সম্মানের
মাধ্যমে যা তোমার
কাছে রয়েছে এটাও উদ্দেশ্য নয়।
কেননা যদি এ ধরণের মাধ্যম
ধরা উদ্দেশ্য হত তবে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মান
সর্বাধিক এবং আব্বাসের সম্মান
থেকে বেশি।’’ [114]
কুরআন হাদীসের শিক্ষা অনুযায়ী এই ছিল আবু
হানিফা রাহ. সহ সমস্ত আসলাফের
আক্বীদা বা বিশ্বাস। সালফে সালিহিনের
আক্বীদা, বিশ্বাস, আদর্শ থেকে দূরে সরে যাওয়ার
ফলেই আজ আমাদের মাঝে এমন অনেক কিছু
বিস্তার লাভ করেছে যা তাদের মাঝে ছিল না।
তাদের আদর্শ থেকে সরে যাওয়ার ফলেই
আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এর সুন্নাত থেকে সরে গেছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবিদের আর
আমাদের আমলের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারতম্য
সৃষ্টি হয়ে গেছে। আল্লাহ আমাদেরকে তাদের
নমূনার উপর উঠার তওফিক দান করুন। সুন্নাতের
বিপরীত যে কোনো ইবাদতের বেলায় জায়েয না-
জায়েযের বাহাসে লিপ্ত না হয়ে চোখ বুঁজে রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের
সুন্নাতকে সাহাবা ও সালফে সালেহিনের মত
নেয়ার তওফিক দান করুন। হক্ব বোঝার জন্য
প্রথমে আমার চক্ষু এবং আমাদের চক্ষু খোলে দিন।
মুফতি ফয়জুল্লাহ রাহ. রচিত কবিতার
দুটি পঙক্তি দিয়ে আলোচনাটি শেষ করছি।
পঙক্তিদ্বয় এই:
ﮬﻢ ﻣﺮﻭﺝ ﺍﯾﮟ ﺩﻋﺎﮮ ﺧﻮﺍﺟﮕﺎﮞ @ ﺍﺯ ﺳﻠﻒ ﻣﻨﻘﻮﻝ ﻧﮯ ﺧﻮﺏ ﺩﺍﮞ
ﺍﮞ ﻋﺒﺎﺩﺕ ﻧﯿﺴﺖ ﺑﺎﺍﮞ ﺍﮬﺘﻤﺎﻡ @ ﻣﺜﻞ ﻃﺎﻋﺖ ﺑﺪﻋﺖ ﺍﻣﺪ ﻻ ﮐﻼﻡ
‘‘প্রচলিত এই খাজেগাঁর দো
‘আও, ভালভাবে জেনে রাখ এগুলো সালাফ
থেকে প্রমাণিত নয়,
এগুলো ইবাদত নয়, ইবাদতের মত এগুলোর গুরুত্ব
দেওয়া নিশ্চিত বিদ‘আত। ’’[115]
খতমে জালালী
আল্লাহর পবিত্র নামসমূহের মধ্যে তার মূল
নাম ‘ ﺍﻟﻠﻪ’ । এই পবিত্র নাম বা ইসমে যাত
নিয়ে তামাশার এক পদ্ধতির নাম খতমে জালালী।
প্রথমেই দো‘আ করি, যে অজ্ঞ ব্যক্তি এই খতম
আবিষ্কার করেছে আল্লাহ যেন তাকে মাফ
করে দেন। খতমের পদ্ধতিটি দেখলেই সচেতন
ব্যক্তি যিনি ইসলাম সম্পর্কে নূন্যতম
ধারণা রাখেন তার কাছে এই খতমের
খারাবী ধরা পড়বে। তবে যিনি ইলমের ধারক
হওয়া সত্বেও দুনিয়ার লালসায় হাবুডুবু
খাচ্ছেন, তিনি ধর্মের রক্ষা নয় বরং ধর্মই
তাকে রক্ষা করছে এমন ব্যক্তির কথা ভিন্ন। খতমের
পদ্ধতিটি যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে:
‘‘নদী ভাঙ্গন বা ঐরূপ কঠিন বিপদ
হইতে উদ্ধারকল্পে এই নাম সোয়া লক্ষ
বার কাগজে লিখিবে ও সোয়া লক্ষ
ময়দার আটার গুলী তৈয়ার করিবে
, গুলী তৈয়ার করার সময় ‘আল্লাহু’ এই
নাম মুখে বলিবে, তৎপর আল্লাহর নাম
লিখিয়া কাগজগুলি একটি করিয়া গুলীর
মধ্যে ভরিবে, তৎপর
গুলীগুলি নদী বা যে পুকুরে মাছ
থাকে তাহাতে ফেলিয়া দিবে।
সকলেই পাক সাফ অবস্থায় ওযুসহ এই
আমল করিবে। নতুবা হিতে বিপরীত
হইতে পারে। এই আমল দ্বারা বিপদ
হইতে উদ্ধার হইবে ও মতলব পূর্ণ হইবে।
ইহাতে কোনো সন্দেহ নাই। আল্লাহর
নামসমূহ ২ ভাগে বিভক্ত-
জালালী (তেজস্বী) ও
জামালী (সৌন্দর্যময়)। ‘আল্লাহ’ নাম
জালালীর অন্তর্ভুক্ত; এই জন্য ইহার
খতমকে খতমে জালালী বলা হয়।’’[116]
আবার অনেক এমন রয়েছেন যিনি একে অপছন্দ করেন
তবে অংশ নেন। তাদেরকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়
ভাই, আপনি জানা সত্বেও কেন এসব খতমে উপস্থিত
হন তাদের একই কথা, ভাই, আমার টাকার দরকার
তাই যাই। আবার এমন অনেক আছেন যারা এটির
পক্ষে সাফাই গান। বিভিন্ন যুক্তি ও হিলার
মাধ্যমে এগুলোকে জায়েয রাখবার চেষ্টা করেন।
স্বার্থের কারণে দ্বীনী বিষয়ের
যে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া তাদের
কাছে কোনো ব্যাপারই নয়। ব্যাখ্যা সঠিক
নাকি ভুল এই বিষয় তাদের কাছে মূল্যহীন। এই কর্ম
আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে সেটিও উপেক্ষিত।
অর্থই যেন তাদের মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য। অথচ সম্পদের
স্বার্থে ইলমের জোরে দীনের
যে কোনো অপব্যাখ্যা ইয়াহুদী আলেমদের গুণ ছিল
বলে আমাদের সকলের জানা। ইলমের
দ্বারা অপব্যাখ্যার মাধ্যমে দো‘আ দুরূদের সুন্নাহ
বহির্ভূত পদ্ধতি আবিষ্কার বা আবিষ্কৃত বিষয়
জায়েয বানাবার অপচেষ্টা নবী সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভবিষ্যৎবাণীর প্রকাশ।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর
ভবিষ্যৎ বাণী ছিল যার মর্ম হচ্ছে: তার উম্মত
বনী ইসরাঈলের পূর্ণ অনুসরণ করবে। এমনকি এক
জোড়া জুতার মাঝে যেমন কোনো বেশ কম হয়
না তার উম্মত ও বনী ইসরাঈলের উম্মতের
মাঝে কোনো বেশ কম হবে না। [117] তাই আল্লাহর
কাছে সর্বদা অশ্রয় প্রার্থনা করা উচিত যে
, আল্লাহ যেন আমাদেরকে কখনো এই তৃতীয় স্তরের
আলেমদের মাঝে শামেল না করেন। আমাদের
ঈমানকে দুর্বল করে দ্বিতীয় স্তরের মধ্যে ও যেন
না রাখেন। বরং এই তিন শ্রেণির আলেমের
মাঝে আল্লাহ আমাদেরকে প্রথম স্তরের
আলেমদের অন্তুর্ভুক্ত করুন এবং এই প্রথম শ্রেণির
মত আমাদেরকেও সঠিক দীন বোঝার তওফীক দিন।
টাকার স্বার্থে বুঝে না বোঝার বাহানার মত
মারাত্মক ব্যাধি থেকে আমাদেরকে রক্ষা করুন।
আমীন।
খতমে দুরুদে মাহি
‘মাহি’ ফারসি শব্দ। যার অর্থ মাছ।
বানানো একটি দুরূদকে ‘দুরুদে মাহি
’ হিসেবে নামকরণের কারণ
হিসেবে যে কাল্পনিক
কাহিনীটি বলা হয়েছে তা নিম্নরূপ:
‘‘হযরত রসূল (সাঃ) এর সময় একজন কামেল
ব্যক্তি নদীর তীরে বসিয়া সর্বদা এই
দুরূদ শরীফ পড়িতেন। ঐ নদীর একটি রুগ্ন
মৎস্য
ইহা সর্বদা শুনিতে শুনিতে শিখিয়া
ফেলিল ও পড়িতে লাগিল।
ক্রমে মৎস্যটির রোগ আরোগ্য
হইতে লাগিল ও তাহার শরীরের
রং বদলাইয়া সোনার বর্ণ ধারণ করিল।
দৈবাৎ একদিন এক ইহুদী জেলের
জালে মৎস্যটি ধরা পড়িল। ইহুদীর
স্ত্রী অনেক
চেষ্টা করিয়া মৎস্যটি কাটিতে পারিল
না। অবশেষে উহাকে ফুটন্ত তৈলের
মধ্যে ছাড়িয়া দেওয়া হইল। কিন্তু
মৎস্যটি নির্বিঘ্নে তৈলের
মধ্যে ঘুরিয়া ঘুরিয়া এই দরূদ শরীফ
পড়িতে লাগিল।
ইহা দেখিয়া ইহুদী অতিশয়
আশ্চর্যান্বিত হইয়া পড়িল ও
মৎস্যটিকে লইয়া হযরত রসূল (সাঃ) এর
নিকট উপস্থিত হইল। হযরত (সাঃ) এর
দোয়ায় মৎস্যটি বাকশক্তি লাভ করিল ও
সমস্ত বিষয় হযরত (সাঃ) এর নিকট
বর্ণনা করিল। ইহা শুনামাত্র
সেখানে উপস্থিত ৭০ জন
ইহুদী তৎক্ষনাৎ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ
করিলেন ও রসূল (সাঃ) এর নবুয়তের উপর
ঈমান আনিলেন। তৎপর
মৎস্যটিকে নদীতে ছাড়িয়া দেওয়া
হইল। উপরোক্ত কারণে এই দরূদ
শরীফ ‘দরূদে মাহি’ তথা মাছের দরূদ
বলিয়া খ্যাতি লাভ করিয়াছে।
ইহা পড়িলে অতি মধুর শুনা যায়।’’ [118]
দুরূদটি নিমণরুপ:
" ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺻﻞ ﻋﻠﻰ ﻣﺤﻤﺪ ﺧﻴﺮ ﺍﻟﺨﻼﺋﻖ، ﺃﻓﻀﻞ ﺍﻟﺒﺸﺮ، ﺷﻔﻴﻊ ﺍﻻﻣﺔ ﻳﻮﻡ
ﺍﻟﺤﺸﺮ ﻭﺍﻟﻨﺸﺮ ﺳﻴﺪﻧﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻌﺪﺩ ﻛﻞ ﻣﻌﻠﻮﻡ ﻟﻚ، ﻭﺻﻞ ﻋﻠﻰ ﺟﻤﻴﻊ
ﺍﻻﻧﺒﻴﺎﺀ ﻭﺍﻟﻤﺮﺳﻠﻴﻦ ﻭﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﺍﻟﻤﻘﺮﺑﻴﻦ ﻭﻋﻠﻰ ﻋﺒﺎﺩ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺼﺎﻟﺤﻴﻦ،
ﻭﺍﺭﺣﻤﻨﺎ ﺑﺮﺣﻤﺘﻚ ﻳﺎ ﺍﺭﺣﻢ ﺍﻟﺮﺍﺣﻤﻴﻦ ."
এই খতমের নিয়মে বলা হয়: ২১ দিনে বা ৪২
দিনে সোয়া লক্ষবার বর্ণিত দুরূদটি পড়া। এই
নিয়মে এই খতম পড়লে নাকি হাতে হাতে ফল
পাওয়া যায়। অযু সহকারে নদীর
তীরে বসে পড়লে আরও বেশি দ্রুত ফল পাওয়া যায়
বলে বর্ণনা করা হয়েছ। [119]
এখানে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্যণীয়:
বর্ণিত দুরূদটি মাছুর তথা রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত নয়।
বরং এটি কারো বানানো একটি দো‘আ । তাই
একে ওযিফা হিসেবে আমলে আনা যাবে না।
তবে এতে কোনো আপত্তিকর শব্দ নেই। তাই কেউ
ইচ্ছা করলে দো‘আর উদ্দেশ্যেই তা পড়তে পারে।
এর যে পদ্ধতি ও ফযিলত বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ
মনগড়া বানানো বক্তব্য। তাই মুমিন এ সবের
পিছে পড়েন না এবং তা বিশ্বাস করেন না।
দুরুদে মাহি নামকরণের
কারণে যে কাহিনীটি উল্লেখ
করা হয়েছে তা জালিয়াতদের বানানো সম্পূর্ণ
কাল্পনিক ও মনগড়া, এ কাহিনীর
কোনো সত্যতা নেই।
সূরা ইখলাস দ্বারা কুরআন খতম
নির্দিষ্ট সংখ্যার মাধ্যমে সূরা ইখলাসের খতম
প্রচলিত না থাকলেও সূরা ইখলাস তিনবার পড়ার
মাধ্যমে কুরআন খতমের প্রচলন রয়েছে। তিনবার
সূরা ইখলাস পাঠ করলে পূর্ণ এক খতম কুরআন
তেলাওয়াতের ছওয়াব পাওয়া যায় বলে অনেকের
ধারণা। তাই অনেক সময় কুরআন খতম করতে অপারগ
হলে তিনবার এই সূরা পাঠ করা হয়। বলা হয়
হাদীসে রয়েছে, তিনবার সূরা ইখলাস পাঠ
করলে এক খতম কুরআনের ছওয়াব পাওয়া যায়। অথচ
এমন কোনো কথা নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয় নি।
রাসূলের হাদীসের সাথে যুক্তির মিশ্রণ
ঘটিয়ে এমন কথা বলা হয়। আর অনেক
ক্ষেত্রে এভাবেই রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথার মর্ম পরিবর্তন
হয়ে শরীয়তের বিকৃতি ঘটেছে।
কুরআন আল্লাহর পবিত্র কালাম। তার
প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বাক্য,
প্রতিটি আয়াত, প্রতিটি সূরা বরকতময় ও
মর্যাদাপূর্ণ। আল্লাহর কালাম হিসেবে মর্যাদার
দিক থেকে পুরো কুরআন এক সমান। তবে ভাব
বা মর্মের দিক থেকে কোনো কোন আয়াত
বা সূরার ফযিলত অন্যটির তুলনায়
বেশি বলে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে জানিয়েছেন।
এরকম মর্যাদাপূর্ণ একটি সূরা হচ্ছে সূরা ইখলাস।
সুরাটিতে আল্লাহ তাঁর পরিচয় অত্যন্ত অল্প
বাক্যের মাধ্যমে পরিপূর্ণভাবে তুলে ধরেছেন। এই
সূরার ফযিলতে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন:
" ﻭﺍﻟﺬﻱ ﻧﻔﺴﻲ ﺑﻴﺪﻩ ﺇﻧﻬﺎ ﻟﺘﻌﺪﻝ ﺛﻠﺚ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ." ( ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ، ﻛﺘﺎﺏ
ﺍﻟﺘﻔﺴﻴﺮ، ﺑﺎﺏ ﻓﻀﻞ ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ، ﺭﻗﻢ 4726: )
‘‘ঐ সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ
নিশ্চয় এটি (ইখলাস) কুরআনের এক
তৃতীয়াংশের বরাবর।’’ [120]
আরেকটি হাদীসে রয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন:
« ﺃﻳﻌﺠﺰ ﺃﺣﺪﻛﻢ ﺃﻥ ﻳﻘﺮﺃ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺛﻠﺚ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ » . ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻭﻛﻴﻒ ﻳﻘﺮﺃ
ﺛﻠﺚ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻗﺎﻝ « (ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ ) ﻳﻌﺪﻝ ﺛﻠﺚ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ » . (ﺻﺤﻴﺢ
ﻣﺴﻠﻢ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺘﻔﺴﻴﺮ، ﺑﺎﺏ ﻓﻀﻞ ﻗﺮﺍﺀﺓ ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ،
ﺭﻗﻢ 1922: )
‘‘তোমাদের কেউ
কি প্রতি রাতে কুরআনের এক
তৃতীয়াংশ
পড়তে অক্ষম? সাহাবিরা বললেন, এক
তৃতীয়াংশ কীভাবে পড়বে? রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বললেন,
( ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ ) এক তৃতীয়াংশের
সমান।’’ [121]
এবার দেখুন, এই হাদীসের
অর্থটিকে কীভাবে পরিবর্তন করে তা রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যার কোনো বিবরণ
সহীহে হাদীসে নেই। এক তৃতীয়াংশের সমান
হওয়া এবং তিনবার পড়লে পূর্ণ কুরআন পড়ার ছওয়াব
পাওয়া কি এক? উলামায়ে কেরাম এই হাদীসের
মর্ম বর্ণনা করেন যে, কুরআনের বিষয়বস্তু মূলত
তিনটি: আহকাম বা জীবন বিধান, আখবার
বা সংবাদসমূহ, তাওহীদ তথা আল্লাহর
একত্ববাদের বিবরণ। সূরা ইখলাসে তাওহীদের
আলোচনা বা আল্লাহর
একত্ববাদকে সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাই
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে এক
তৃতীয়াংশ বলেছেন।[122]
একেই কেউ কেউ এভাবে বলেন যে, কুরআনের
অর্থ তিন ভাগে বিভক্ত। ঘটনাবলী
, আহকাম, আল্লাহর গুণাবলী।
সূরা ইখলাসটি আল্লাহর গুণাবলীতে বিশেষিত।
[123] এভাবেও বলা যায় যে, পুরো কুরআনের
আলোচনা তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাত নিয়ে।
যে কোনো বিষয় এ তিনটির কোনোটির
সাথে সম্পৃক্ত। আর সূরা ইখলাসে তাওহীদের
আলোচনা অত্যন্ত নিপুণভাবে করা হয়েছে, তাই এ
সূরাকে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ বলা হয়েছে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
একটি হাদীস থেকেও এ অর্থেই এক তৃতীয়াংশ
বলার কথাটি স্পষ্ট হয়ে যায়।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেন:
« ﺇﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺟﺰﺃ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺛﻼﺛﺔ ﺃﺟﺰﺍﺀ ﻓﺠﻌﻞ ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ ﺟﺰﺀﺍ ﻣﻦ ﺃﺟﺰﺍﺀ
ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ » . ( ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ، ﺍﻟﻤﺮﺟﻊ ﺍﻟﺴﺎﺑﻖ، ﺭﻗﻢ: 1923 )
‘‘আল্লাহ তা‘আলা কুরআনকে তিন
অংশে বিভক্ত করেছেন। “ ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ
ﺃﺣﺪ ” (সূরা ইখলাস) কে কুরআনের তিন
অংশের এক অংশ সাব্যস্ত
করেছেন।’’ [124]
এই হাদীস থেকে উপরোক্ত মর্মটি আরো স্পষ্ট
হয়ে যায়। তবে কেউ কেউ এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য
বলতে এক তৃতীয়াংশ পড়লে যে ছওয়াব হয়
সূরা ইখলাস তেলাওয়াত করলে এই পরিমাণ ছওয়াব
হয় বলে বলেছেন। কিন্তু এই মর্মটির কোনো দলীল
নেই। বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফাতহুল বারী
’তে লিখেন:
" ﻭﻣﻨﻬﻢ ﻣﻦ ﺣﻤﻞ ﺍﻟﻤﺜﻠﻴﺔ ﻋﻠﻰ ﺗﺤﺼﻴﻞ ﺍﻟﺜﻮﺍﺏ ﻓﻘﺎﻝ ﻣﻌﻨﻰ ﻛﻮﻧﻬﺎ ﺛﻠﺚ
ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺃﻥ ﺛﻮﺍﺏ ﻗﺮﺍﺀﺗﻬﺎ ﻳﺤﺼﻞ ﻟﻠﻘﺎﺭﺉ ﻣﺜﻞ ﺛﻮﺍﺏ ﻣﻦ ﻗﺮﺃ ﺛﻠﺚ
ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻭﻗﻴﻞ ﻣﺜﻠﻪ ﺑﻐﻴﺮ ﺗﻀﻌﻴﻒ ﻭﻫﻲ ﺩﻋﻮﻯ ﺑﻐﻴﺮ ﺩﻟﻴﻞ ." ( ﻓﺘﺢ
ﺍﻟﺒﺎﺭﻱ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺘﻔﺴﻴﺮ، ﺑﺎﺏ ﻓﻀﻞ ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ، 60-9 )
‘‘আলেমগণের মধ্যে কেউ সমতুল্য
অর্থটি ছওয়াব অর্জনের ক্ষেত্রে নেন
এবং বলেন, এক তৃতীয়াংশ হওয়ার অর্থ
এই সুরাটি পড়ার ছওয়াব পাঠকের জন্য ঐ
ব্যক্তির সমান হবে যে এক তৃতীয়াংশ
কুরআন পড়েছে। এটাও বলা হয়ে থাকে
, অতিরিক্ত ছওয়াব ব্যতিরেকে মূল
ছওয়াবের এক তৃতীয়াংশের সমান।
তবে এই দাবীর সপক্ষে কোনো দলীল
নেই।’’ [126]
এখানে লক্ষণীয় যে, একবার সূরা ইখলাস
তেলাওয়াত করলে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ পড়ার
ছওয়াব পাওয়ার ব্যাপারে কোনো সহীহ হাদীস
নেই। একটি হাদীস থেকে এই মর্ম নেয়ার সামান্য
সম্ভাবনা ছিল মাত্র, তবে মুসলিম শরীফের
হাদীসের মাধ্যমে এই সম্ভাবনাটির অবকাশ দূর
হয়ে গেছে।
তথাপি দূরবর্তী সম্ভাবনা অনুযায়ী আমরা যদি
মেনে নেই যে, একবার সূরা ইখলাস তেলাওয়াত
করলে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ পরিমাণ পড়ার
ছওয়াব পাওয়া যায় তবে একথা অত্যন্ত স্পষ্ট যে
, তিনবার সুরাটি তেলাওয়াত করলে এক তৃতীয়াংশ
তিনবার পড়ার ছওয়াব পাওয়া যাবে। পূরো কুরআন
একবার পড়ার ছওয়াব
পাওয়া যাবে বলে কোনো ইঙ্গিত হাদীসে নেই।
বিষয়টি সহজে বোঝার জন্য মনে করুন, আপনার
একটি কাজ আছে। যে কাজের তিনটি অংশ রয়েছে।
এই কাজটি পূর্ণ করার উপর আপনার ১০০ টাকার
দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে একটি অংশ
করলে ২০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। এখন কেউ
যদি একটি অংশ তিনবার করে এবং এমনটি করার
সুযোগ থাকে তবে আপনার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক
সে ৬০ টাকা পাওয়ার কথা। এখন
যদি সে দাবী করে যে, মোট অংশ তিনটি
, আমি একটি অংশ তিনবার করেছি
, সুতরাং আমি কাজটি পূর্ণ করেছি, তাই যুক্তির
দাবী হলো আমাকে ১০০
টাকা দেওয়া হোক, এখানে আপনি তার এই
যুক্তিকে কীভাবে দেখবেন? ঠিক তদ্রূপ একবার
সূরা ইখলাস তেলাওয়াত করলে এক তৃতীয়াংশের
ছওয়াব মেনে নিলেও একবার পড়লে এক খতম
কুরআনের ছওয়াব পাওয়া যাবে এমন কথা যেমন
নির্ভরযোগ্য হাদীস বহির্ভূত, তেমন
যুক্তি বহির্ভূত। কোনো ইবাদত বা তার ছওয়াবের
ক্ষেত্রে যুক্তি দিয়ে কিছু বলার সুযোগ
নেই, তথাপি অনেক দূরবর্তী একটি যুক্তির
আলোকে আমাদের মাঝে সূরা ইখলাস তিনবার
পড়ে কুরআন খতমের ছওয়াব অর্জনের কথা ও আমল
অত্যন্ত ব্যাপকভাবে প্রচারিত ও প্রচলিত।
এমনকি অনেকে পুরো কুরআন পড়ার পর তিনবার
সূরা ইখলাস পড়েন যাতে করে ভুলভ্রান্তি কিছু
হলে এর মাধ্যমে তার ঘাটতি পূর্ণ
হয়ে যায়, তারাবীর সালাতে অনেকে এই
সূরা তিনবার পড়ে ঘাটতি পূর্ণ করেন, অথচ
শরীয়তে এ সবের কোনো ভিত্তি নেই।
সবচেয়ে আশ্চর্য্যের বিষয় হলো, অন্যের জন্য খতম
পড়তে গিয়ে ঘটনাক্রমে পড়া শেষ না হলে এই
সূরা তিনবার পড়ে বেঁচে যাওয়ার বাহানা তালাশ
করা হয়। খতমের আয়োজকের প্রশ্নের জবাব
দেওয়ার জন্য এই সূরা তিনবার পড়ে নিলেই কাম
সারে। এভাবে বিভিন্ন সুন্নাহ বিরোধী কর্মের
অনুপ্রবেশ ঘটে।
কেউ বলতে পারেন সূরা ইখলাসের বর্ণিত
ফযিলতের ব্যাপারে হাদীস রয়েছে, যেমন
একটি হাদীসে এসেছে:
"ﻣﻦ ﻗﺮﺃ ( ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ ( ﺛﻼﺙ ﻣﺮﺍﺕ ﻓﻜﺄﻧﻤﺎ ﻗﺮﺃ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺃﺟﻤﻊ."
‘‘যে ব্যক্তি ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ তিনবার পড়ল
সে যেন পুরো কুরআন পাঠ করল।’’ [127]
এ হাদীসটি অনির্ভরযোগ্য। এর
কোনো নির্ভরযোগ্য সনদ নেই। [128] এ হাদীস
ছাড়াও উক্ত সূরা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট সংখ্যা ও
বিশাল ফযিলতের কথা সহ আরো কিছু হাদীস
রয়েছে যার নির্ভরযোগ্য কোনো সনদ
বা ভিত্তি নেই। হাদীসের সাথে যাদের গভীর
সম্পর্ক রয়েছে তারা জানেন যে, অন্যের কথা রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
নামে নিসবত বা সম্পৃক্তের একটি দিক হচ্ছে, অনেক
সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
হাদীসের বিভিন্ন মর্ম বা ব্যাখ্যা মানুষ তাদের
জ্ঞান বা মেধা থেকে বর্ণনা করে থাকেন।
পরবর্তীতে ব্যাখ্যাকারী নিজে অথবা অন্য কেউ
উক্ত ব্যাখ্যা বা মর্মকেই রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্পৃক্ত
করে হাদীস বলে চালিয়ে দিয়েছেন। অনেক জাল
হাদীসের অনুপ্রবেশ এভাবেই ঘটেছে।
আল্লামা সুয়ুতী মনে করেন জাল হাদীসের এই
প্রকারটি সর্বাধিক। [129] নির্ভরযোগ্য
বা গ্রহণযোগ্য কোনো সনদ না থাকায় বর্ণিত
হাদীসটিও এই ধরণের বলে সহজেই অনুমেয়। আল্লাহ
আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং সহীহ সুন্নাহ
মোতাবেক আমাদের জীবন পরিচালনার তওফীক
দান করুন। আমীন।
অভিজ্ঞতা বনাম ধর্মীয় অনুভূতি
উল্লেখিত প্রচলিত খতমসমূহ নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা বহির্ভূত
খেলাফে সুন্নাত স্বীকার করা সত্বেও তা জায়েয
বা এতে কোনো সমস্যা নেই এর পক্ষে যে দলীল
পেশ করা হয় তা হলো, অভিজ্ঞতা। আলেমগণের এক
শ্রেণি ঈসালে ছওয়াবের খতমে অংশ নিলেও
তা বিদ‘আত মনে করেন। কেননা তারা জানেন যে
, খাইরুল ক্বুরুনে খতমের মাধ্যমে ঈসালের
কোনো পদ্ধতি ছিল না, তবে তারা ঈসালে ছওয়াব
ছাড়া অন্যান্য সমস্যার কারণে যে কোনো খতম
করতে কোনো সমস্যা নেই বলে মনে করেন। তাদের
যুক্তি হলো, এটি একটি তাজরিবাহ বা অভিজ্ঞতার
বিষয়। এর সাথে বিদ‘আতের কোনো সম্পর্ক নেই।
কেননা বিদ‘আতের সম্পর্ক ইবাদতের সাথে। খতম
যদি ইবাদতের
উদ্দেশ্যে না করা হয়, বরং রোগমুক্তি বা অন্য
উদ্দেশ্যে করা হয় তবে নাজায়েয হওয়ার
কোনো কারণ নেই। এগুলো বিভিন্ন বুযুর্গের
অভিজ্ঞতা মাত্র। অভিজ্ঞতার আলোকে অমুক
খতমে অমুক ফল দেখা গেছে, তাই আমরা সেই
আশায় খতম পড়ছি।
যে কোনো খতম পড়তে কোনো সমস্যা নেই
একথা কতটুকু গ্রহণযোগ্য তা আমরা খতমের
আলোচনায় বুঝতে পেরেছি। এবার
হলো যে খতমে শব্দগত কোনো আপত্তি নেই তার
কথা। অভিজ্ঞতার আলোকে এমন খতমাদিকে শুদ্ধ
বলে চালানো কতটুকু গ্রহণযোগ্য? মূলত অভিজ্ঞতা ও
ধর্মীয় অনুভূতি দুটি বিষয়কে এক করে দেওয়ার
ফলে আমরা এমন কথা বলি, অথচ দুটি বিষয়ে আকাশ
পাতাল ব্যবধান। ইবনে তাইমিয়া রাহ.
[130] বিষয়টি সুন্দরভাবে বুঝিয়েছেন।
ইবনে তাইমিয়া রাহ. এর আলোচনা পেশ করার
আগে সহজেই বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করব
ইনশাআল্লাহ।
মূলত কোনো জিনিসের সাথে বারংবার সম্পৃক্ত
হওয়া, সেই বস্তুকে নিয়ে গবেষণা
, পরীক্ষা নিরিক্ষা ইত্যাদির মাধ্যমে উক্ত বস্তুর
ভিতর বাস্তব যে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়
তাকে বলে অভিজ্ঞতা। অভিজ্ঞতার
আলোকে কোনো কিছু প্রমাণিত হলে তা উক্ত
বস্তুর বৈশিষ্ট্য । তাই তা অস্বীকারের কারো
কোনো উপায় নেই। পাগল ছাড়া কেউ
তা অস্বীকার করতে পারে না। কেউ স্বীকার করুক
বা নাই করুক, বিশ্বাস করুক বা নাই করুক, উক্ত বস্তু
তার কাজ করেই যাবে। এখানে ধর্মের
সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। যেমন ধরুন, আগুনের
ভিতর জ্বালানোর বৈশিষ্ট্য মানুষ
প্রথমে অভিজ্ঞতার আলোকেই পেয়েছে। আগুন
জ্বালায় এ কথা সবাই মানেন।
এভাবে যে কোনো রোগের ঔষধ অনেক পরীক্ষার
মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়েছে। অভিজ্ঞতায়
দেখা গেছে অমুক ঔষধ খেলে অমুক রোগ ভাল হওয়ার
বৈশিষ্ট্য আল্লাহ সেই ঔষধে রেখেছেন।
অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত
হলে মুসলিম, খৃষ্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ সবাই তা স্বীকার
করেন। কেননা এটা সেই বস্তুর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য।
তাই অভিজ্ঞতা সঠিক হলে সবাই তা স্বীকার
করতে বাধ্য। অপরদিকে ধর্মীয় অনুভূতি এমন
যা একজন বিশ্বাস করলে অপরজন করেন না। যেমন
ধরুন, একটি অত্যন্ত সুন্দর পাথর, হিন্দু ধর্মের
ব্যক্তি তাকে খুবই শ্রদ্ধা করছেন।
তিনি বলছেন, অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে এই পাথর
থেকে এই ফল পাওয়া যায়, এর অসম্মান করলে এই
ক্ষতি হয়। অপর ব্যক্তি যিনি এই ধর্মে বিশ্বাসী নন
তিনি এই পাথরকে লাথি মেরে উড়িয়ে দিচ্ছেন।
কেননা হিন্দু ব্যক্তি যে বিশ্বাস পোষণ করেন
তিনি তা করেন না। পাথরকে লাথি মারলেও তার
কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। হিন্দু ব্যক্তির
কথাটি বাস্তব হলে লাথি মারলে এই ব্যক্তিরও
ক্ষতি হওয়ার কথা ছিল। এখানে হিন্দু ব্যক্তির
ধারণাকে আমরা অভিজ্ঞতা বলতে পারি না।
বরং তা তার একটি ধর্মীয় বিশ্বাস।
সে যদি পাথরকে শ্রদ্ধার
কারণে কোনো লাভ, অপমান করার
কারণে কোনো ক্ষতির বাস্তব ঘটনা শুনায় তবুও
মুসলিম
তা উড়িয়ে দিবেন, এমনকি তা নিয়ে হাসির
কৌতুকও রচনা করতে পারেন। তিনি বলবেন মূলত
লাভ ক্ষতি অন্য কারণে হয়েছে, হিন্দু ব্যক্তির
বিশ্বাস তাকে এদিকে টেনে নিয়ে গেছে। এই
হলো অভিজ্ঞতা এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের পার্থক্য।
এভাবে যে ব্যক্তি মাজারে নিয়মিত
আসা যাওয়া করে, মাজারকে ভক্তি শ্রদ্ধা করে
, তাকে আপনি এর
খারাবী বুঝাতে চেষ্টা করলে বা এখানে এসে
কোনো লাভ নেই বললে সে আপনাকে তার অনেক
লাভ দেখিয়ে দিবে। সে বলবে আমি এই পেয়েছি
, সেই পেয়েছি। শাহজালাল বাবার
কাছে চাইলে পাওয়া যায় বলে আমার কাছে অনেক
প্রমাণ রয়েছে। এ কথাগুলো কোনো কাল্পনিক
বা ধরে নেওয়ার ভিত্তিতে নয় বরং বাস্তব। আমার
নিজ কানে সিলেটের অনেককেই বলতে শুনেছি, এত
লোক কি এখানে এমনিতেই আসে? নিশ্চয়
তারা কিছু পায়। আমাদের ঘরের জিনিস তাই
আমরা এর ক্বদর তথা মূল্যায়ন করি না।
এখানে সে তাঁর অভিজ্ঞতা দেখালেও সহীহ
আক্বীদা পোষণকারী মুসলিম তা বিশ্বাস করেন
না। মাজার বিশ্বাসী লোকটির এমন কথা আপনার
হাসি ও আক্ষেপকেই বৃদ্ধি করে।
আপনি এটিকে তাঁর একটি বোকামী বলেই দেখছেন।
কেননা এটা তাঁর মনের তৈরী একটি বিশ্বাস যার
কোনো প্রমাণ নেই। প্রথমে বিশ্বাস তৈরীর পর
সে তাঁর লাভ ক্ষতিকে মাজার কেন্দ্রিক
টেনে নিয়ে যাচ্ছে। সে যতই অভিজ্ঞতার কথা বলুক
না কেন আপনাকে তা বিশ্বাস করাতে পারবে না।
তার কারণ হলো, এটাকে অভিজ্ঞতা নাম দিলেও
প্রকৃতপক্ষে অভিজ্ঞতার সাথে এর কোনো সম্পর্ক
নেই। বরং এটিও তাঁর একটি ধর্মীয়
অনুভূতি বা বিশ্বাস। এভাবে হাজারো উদাহরণ
আপনি নিজেই চিন্তা করলে বের
করতে পারবেন, যেখানে ধর্মীয়
বিশ্বাসকে অভিজ্ঞতার নাম দিয়ে মানুষ
বিভ্রান্ত হচ্ছে। কুরআন হাদীসের বিপরীত যত
ভ্রান্ত আক্বীদা রয়েছে তার অধিকাংশই এ
পর্যায়ের।
আরেকটি উদাহরণ
দেখুন: ‘বিসমিল্লাহ’ বলে খাওয়া শুরু
করলে খাবারের মাঝে বরকত হয় বলে আমরা মুসলিম
হিসেবে বিশ্বাস করি। কেননা আমাদের
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
তা বলে গেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে ব্যক্তি নবী বলে
অস্বীকার করে সে এটি বিশ্বাস করবে না। মুসলিম
ব্যক্তি বাস্তবে এই বরকত উপলব্ধি করলেও
তিনি এখানে অভিজ্ঞতার দলীল দিতে পারেন
না। কেননা এটা অভিজ্ঞতার বিষয় নয়।
অভিজ্ঞতার বস্তু হলে মুসলিম অমুসলিম সবাই
তা বিশ্বাস করতে বাধ্য। বরং এটি মুসলিম ব্যক্তির
একটি ধর্মীয় বিশ্বাস। নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলার কারণে তিনি এই
বিশ্বাস পোষণ করেন। আল্লাহ বা রাসূল ছাড়া অন্য
কেউ বললে এই একই ব্যক্তি তা উড়িয়ে দিতেন।
কেননা ওহী ছাড়া ধর্মীয় বিশ্বাস পোষণ করা যায়
না। ওহীর বাইরের আক্বীদা মানেই ভ্রান্তি। ধরুন
আমি বুযুর্গির এক পর্যায়ে পৌছে যদি বলি ‘ক্বুল
হুয়াল্লাহু...’ পড়ে খাবার শুরু করলে খাবারে বরকত
হয়। এখন দেখা যাবে আমার কিছু অন্ধ ভক্ত
একথা বিশ্বাস করবেন এবং তারাও এর
আলোকে আমল শুরু করবেন। একথা বিশ্বাস
করতে কোনো সমস্যা নেই দাবী করে দলীল
হিসেবে বলবেন, এটা উনার অভিজ্ঞতা।
তবে যিনি মুহাক্বিক আবার অন্ধ ভক্ত
নন, বরং শরীয়তের সীমার
ভিতরে থেকে ভক্তি করেন, তিনি এ
কথা মেনে নিবেন না। কেননা তিনি জানেন যে
, এটা অভিজ্ঞতার বিষয় নয়।
এখানে একটি বিশ্বাসকে অভিজ্ঞতার নাম
দেওয়া হয়েছে মাত্র। ওহীর বাইরে এমন
কথা তিনি মেনে নিবেন না।
তবে ‘বিসমিল্লাহ’ এর বরকত
ওহী দ্বারা প্রমাণিত, তাই
তিনি তা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন এবং আমল
করেন। আশাকরি ধর্মীয় বিশ্বাস এবং অভিজ্ঞতার
মাঝে পার্থক্য বুঝতে আর কোনো উদাহরণের
প্রয়োজন নেই। এবার পাঠক নিজেই বিভিন্ন খতমের
ব্যাপারে ফায়সালা করুন। এই খতমে এই হয়, সেই
খতমে সেই হয়, তা কি অভিজ্ঞতার
বিষয়? না কি একটি ধর্মীয়
বিশ্বাস? দ্বিতীয়টি হলে -আপনি অন্ধ ভক্ত
না হলে এটাই আপনার কাছে বাস্তব-
ওহী ছাড়া আমরা এমন বিশ্বাস ও তার উপর আমল
কীভাবে করতে পারি?
একটি ঘটনা দেখুন: চট্টগ্রামের জনৈক
ব্যক্তি লন্ডন বসবাস করেন। দেশে আসলেই
তিনি সিলেট আসেন এবং শাহজালাল রাহ. এর
মাজার যিয়ারত করেন। দেশে আসলে কোনো বারই
নাকি তাঁর এই সফর মিস হয় না।
তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ভাই আপনি কেন
আসেন? এর প্রতি উত্তরে লোকটি বলল,
‘‘বাবা আঁরে লন্ডন ফাটাইয়ি ইতাল্লাই আঁই
ফতিবার এডে আঁই’’ অর্থাৎ শাহজালাল
বাবা আমাকে লন্ডন পাঠিয়েছেন, তাই
আমি প্রত্যেকবার তথা দেশে আসলেই
এখানে আসি। লোকটির বিশ্বাস দেখুন। সে তাঁর এ
কথাগুলো অভিজ্ঞতার আলোকেই বলছে।
কেননা সে এখানে এসেছে এবং লন্ডন যাবার জন্য
দো‘আ করেছে এবং যেতে পেরেছে। একজন সহীহ
আক্বীদা পোষণকারী হিসেবে আপনি লোকটির এই
কথাগুলো কিভাবে নিবেন? আপনি সহীহ
আক্বীদা পোষণকারী নিশ্চয় বলবেন, তার লন্ডন
যাবার অনুমোদন প্রাপ্ত হওয়ার যাবতীয়
জরুরী কাগজপত্র, ভিসা, পাসপোর্ট ইত্যাদি শর্ত
মোতাবেক হয়েছে বলে অল্লাহর ইচ্ছায়
সে যেতে পেরেছে। লন্ডনের অনুমোনের
শর্তাদি পুরো না হলে একবার কেন শতবার
মাজারে আসলেও সে যেতে পারত না । কিন্তু এমন
লোককে যদি আপনি বলেন:
ভাই, এখানে শাহজালাল সাহেবের
কী সম্পর্ক? আপনার তো লন্ডন
যেতে পারা যাবতীয় শর্তাদি সঠিকভাবে পূরণ
হওয়ার কারণে হয়েছে, সে বলবে, কাগজপত্র সবকিছু
বাবার ওসীলায় ঠিক হয়েছে। এভাবেই অতিভক্তির
মাধ্যমে মানুষ বিশ্বাসের ধোকায় নিপতিত হয়।
অতিভক্তি তার বিশ্বাসকে এদিক
থেকে ওদিকে নিয়ে যায়।
বাস্তবতা থেকে অবাস্তবতার
দিকে নিয়ে যায়, অথচ সে টেরই পায় না। আমাদের
অবস্থা এমন
হচ্ছে কি না তা নিয়ে ভেবে দেখা দরকার। দীনের
জন্য একটু ভাবলে ক্ষতিই বা কী? বরং এতে আমার
অনেক লাভ রয়েছে। আমি সঠিক পথে থাকলেও
ভাবার কারণে নিশ্চয় ছওয়াব পাব।
এবার আমরা ইবনে তাইমিয়া রাহ. এর
বক্তব্যটি উপস্থাপন করছি। তিনি লিখেন:
" ﺛﻢ ﻗﺪ ﻳﻜﻮﻥ ﺳﺒﺐ ﻗﻀﺎﺀ ﺣﺎﺟﺔ ﻫﺆﻻﺀ ﺍﻟﺪﺍﻋﻴﻦ ﺍﻟﺪﻋﺎﺀ ﺍﻟﻤﺤﺮﻡ؛ ﻟﺸﺪﺓ
ﺿﺮﻭﺭﺗﻪ ﻟﻮ ﺩﻋﺎ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻬﺎ ﻣﺸﺮﻙ ﻋﻨﺪ ﻭﺛﻦ ﻻﺳﺘﺠﻴﺐ ﻟﻪ ﻟﺼﺪﻕ ﺗﻮﺟﻬﻪ
ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻠﻪ – ﺗﻌﺎﻟﻰ ." ) ﺍﻟﻤﻨﻬﺞ ﺍﻟﻘﻮﻳﻢ ﻓﻲ ﺍﺧﺘﺼﺎﺭ ﺍﻗﺘﻀﺎﺀ ﺍﻟﺼﺮﺍﻁ
ﺍﻟﻤﺴﺘﻘﻴﻢ 96-1 )
‘‘এরপর অনেক সময় এসব
প্রার্থনাকারী যারা হারাম
প্রার্থনা করে তাঁর কঠিন প্রয়োজনের
কারণে আল্লাহ তাঁর প্রয়োজন পূর্ণ
করেন, যদি কোনো মুশরিক একটি মূর্তির
কাছে গিয়ে এই প্রয়োজনের
প্রার্থনা করত তাঁর প্রার্থনা ক্ববুল
করা হত, কেননা (সে মূর্তির
কাছে হলেও) তার পূর্ণ মনোযোগ
আল্লাহর দিকে।’’ [131]
ইবনে তাইমিয়া রাহ.
এখানে যে কথাটি বুঝাতে চেয়েছেন তা অত্যন্ত
স্পষ্ট। প্রার্থনাকারী হারাম বস্তু কামনা করছে।
আল্লাহ তার মনের আহাজারী, কাতর
অবস্থা দেখে এমন প্রার্থনাও শুনছেন। তবে এই বস্তু
পেয়ে যাওয়া তাঁর কামনা জায়েয হওয়ার দলীল নয়।
এভাবে মূর্তির কাছে গিয়েও সে যে প্রার্থনা করে
, তাঁর কান্নাকাটি, আহাজারী, মনের অবস্থার
দিকে লক্ষ্য করে আল্লাহ তার দো‘আ শুনেন।
তবে দো‘আ কবুল করা মূর্তির কাছে যাওয়ার
কারণে নয়, বরং তার মনের করুণ অবস্থার কারণে।
কিন্তু প্রার্থনাকারী লোকটি তার
বিশ্বাসকে মূর্তির দিকে নিয়ে গিয়ে ফিতনায়
পতিত হয়। সে মনে করে মূর্তির কাছে এসে কিছু
চাইলে পাওয়া যায়।
তিনি আরো লিখেন:
ﻭﻣﻦ ﻫﻨﺎ ﻳﻐﻠﻂ ﻛﺜﻴﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻳﺒﻠﻐﻬﻢ ﺃﻥ ﺑﻌﺾ ﺍﻷﻋﻴﺎﻥ ﺍﻟﺼﺎﻟﺤﻴﻦ ﻋﺒﺪ
ﻋﺒﺎﺩﺓ، ﺃﻭ ﺩﻋﺎ ﺩﻋﺎﺀ ﻭﺟﺪ ﺃﺛﺮﻩ، ﻓﻴﺠﻌﻞ ﺫﻟﻚ ﺩﻟﻴﻼ ﻋﻠﻰ ﺍﺳﺘﺤﺒﺎﺏ ﺗﻠﻚ
ﺍﻟﻌﺒﺎﺩﺓ ﻭﺍﻟﺪﻋﺎﺀ، ﻭﻳﺠﻌﻠﻮﻥ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﻌﻤﻞ ﺳﻨﺔ ﻛﺄﻧﻪ ﻗﺪ ﻓﻌﻠﻪ ﻧﺒﻲ، ﻭﻫﺬﺍ
ﻏﻠﻂ ﻋﻈﻴﻢ ﻟﻤﺎ ﺫﻛﺮﻧﺎﻩ ﺧﺼﻮﺻﺎ ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻌﻤﻞ ﺇﻧﻤﺎ ﻛﺎﻥ ﺃﺛﺮﻩ ﺑﺼﺪﻕ
ﻗﺎﻡ ﻓﻲ ﻗﻠﺐ ﻓﺎﻋﻠﻪ ﺣﻴﻦ ﺍﻟﻔﻌﻞ ﺛﻢ ﺗﻔﻌﻠﻪ ﺍﻷﺗﺒﺎﻉ ﺻﻮﺭﺓ، ﻓﻴﻀﺮﻭﻥ ﺑﻪ .
‘‘এখান থেকেই অনেক মানুষ ভুলের
মধ্যে পতিত হয়, যখন তাদের কাছে খবর
পৌঁছে, কোনো নেক মানুষ একটি ইবাদত
করেছেন, অথবা একটি দো‘আ করে তার
ফল পেয়েছেন, অতঃপর এটিকে ঐ ইবাদত
এবং দো‘আ মুস্তাহাব হওয়ার দলীল
বানিয়ে দেওয়া হয় এবং তারা সেই
আমলটিকে সুন্নাত বানিয়ে নেয়, যেন
তা কোনো নবী করেছেন। আর
এটা মারাত্মক ভুল যা আমরা উল্লেখ
করেছি। বিশেষ করে যখন আমলটির ফল
কর্মের সময় আমলকারী মনের নিষ্ঠার
কারণে ছিল, পরবর্তীতে অনুসারীরা
শুধুমাত্র বাহ্যিক আমল
হিসেবে তা করে থাকে, ফলে তারা এর
মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’’[132]
পাঠক, আশা করি ইবনে তাইমিয়া রাহ. এর
বক্তব্য থেকে বিষয়টি আমাদের সামনে আরো স্পষ্ট
হয়ে গেল যে, কোনো বুযুর্গ কোনো দো‘আর আমলের
মাধ্যমে কিছু পেলে আমরা তা সেই দো‘আর
প্রতিফল ভাবতে পারি না।
কেননা ওহী ছাড়া এমন কথা বলা যায় না।
তবে নেক বুযুর্গ তিনি যে প্রতিফল পেয়েছেন
এটা মূলত তার মনের অবস্থার প্রতিফল।
যে কোনো মুমিন মনের আবেগ
নিয়ে সকাতরে আল্লাহর কাছে যেই দো‘আ করুক
না কেন আল্লাহ তার প্রতিফল দিবেন।
এমনকি সকাতরে কাফের ব্যক্তিও যখন আল্লাহর
কাছে কিছু চায় আল্লাহ তার প্রতিফল দেন
বলে কুরআনে তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন। [133]
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বস্তু
উপলব্ধি করার তওফিক দান করুন। শুধুমাত্র
সুন্নাতের মধ্যেই সফলতা দেখার তওফিক দান করুন।
আমীন।
আমাদের জানামতে সমাজে কম-বেশ
যে খতমগুলো রয়েছে, বা যে দো‘আ দুরূদগুলো খতম
হিসেবে পড়ার
প্রথা রয়েছে সেগুলো নিয়ে সামান্য
পর্যালোচনা করলাম। আলোচনার বিষয়বস্তু মূলত
সমাজে বা আমাদের মাঝে প্রচলিত খতম নিয়ে।
তাই অন্যান্য বানানো আরো কিছু আমল যেগুলোর
প্রচলন রয়েছে তবে তা আমাদের সমাজে খতম
হিসেবে প্রসিদ্ধ নয়, সেগুলোর আলোচনা করা হয়
নি। যেমন : দুরুদে তাজ, দুরুদে হক্কানী
, দুরুদে তুনাজ্জিনা
, দুরুদে ফুতুহাত, দুরুদে রু‘ইয়াতে নবী, দুরুদে শিফা
, দুরুদে খাইর, দুরুদে আকবার, দুরুদে লাখি
, দুরুদে হাজারী, দুরুদে রুহি
, দুরুদে বীর, দুরুদে শাফিয়ী, দুরুদে গাওসিয়া
, দুরুদে মুহাম্মাদী...। এসব দুরূদ পরবর্তী যুগের
মানুষের বানানো। অতএব এগুলোর ফযিলতে যা কিছু
বলা হয় সবই বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কথা।
[134] তাছাড়া এগুলোর অনেকটির মধ্যে কিছু কিছু
আপত্তিকর শব্দও বিদ্যমান। আপত্তির
পর্যায়টি না-জায়েয ক্ষেত্র বিশেষে শির্ক
পর্যন্ত রয়েছে। তাই এগুলোর চটকদার লাভের গল্প
শুনেই তার পিছে না পড়া জ্ঞানী ব্যক্তির কাজ।
এগুলোতে আমার আপনার বুযুর্গের ছোঁয়া থাকলেও
নবুওয়াতের নুর নেই। তাই
নিজেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
থেকে বর্ণিত দুরূদ ও দো‘আর মাঝে সীমাবদ্ধ
রাখাই নিরাপদ। তাযকিয়ার
চূড়ান্তে পদচারণা করতে তাঁর শিখানো দুরূদ ও
পদ্ধতিই আমাদের জন্য যথেষ্ট। সাহাবায়ে কেরাম
রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর
সুন্নাতের ভিতর থেকেই দুনিয়ায় থাকাবস্থায়
আল্লাহর সন্তুষ্টির সার্টিফিকেট
পেয়ে গিয়েছিলেন। তারা যেমন সুন্নাতের
বাইরে কিছুই ভাবতে পারেন নি, আমরাও তাদের
আদর্শের দাবীদার হলে তাযকিয়ার জন্য রাসূল
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর
বাতানো ওযিফার
বাইরে কোনো ওযিফা ভাবতে পারি না।
বিপদে আপদে আল্লাহর শরণাপন্ন হতে তাঁর আদর্শ
ও পদ্ধতি ছাড়া অন্য পদ্ধতিতে শরণাপন্ন
হতে পারি না। তাঁর বাতলানো পদ্ধতির
মাধ্যমে শরণাপন্ন হলেই আল্লাহ আমাদের
কথা দ্রুত শুনবেন বলে আমরা আশাবাদী। আল্লাহ
তাঁর প্রিয় রাসূলকে তো একারণেই আমাদের
কাছে পাঠিয়েছেন যে, আল্লাহর
বান্দা হিসেবে আমরা কিভাবে, কিসের
মাধ্যমে তাঁর কাছে প্রার্থনা করব, কোন
পদ্ধতিতে কোন আমলে তাঁর নৈকট্য লাভ করব
সেটা আমাদের তিনি জানাবেন । আল্লাহ
আমাদের সবাইকে রাসূল সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদর্শের গণ্ডির ভিতর
রাখুন। আমীন।
পরিশেষ
সম্মানিত পাঠক, আবারো নিজের
ইলমী দুর্বলতা ভাষাগত অক্ষমতা স্বীকার করত
আপনাদের কাছে বিশেষ করে আলেমদের
কাছে বিনীত নিবেদন এই যে, আমাদের এই
আলোচনা পর্যালোচনা কারো সম্মান বিঘ্নিত
করার উদ্দেশ্যে নয়। কারো সম্মান এবং তার
অনুসরণ এক নয়। সবার সম্মান করতে হবে, আমরা এর
জন্য নির্দেশিত। অপরদিকে আক্বাঈদ বিশ্বাস
বা ইবাদত সংক্রান্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে ‘‘ ﻣﺎ ﺃﻧﺎ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺃﺻﺤﺎﺑﻪ’’ এর
বাইরে যাওয়া যাওয়া যাবে না বলে আমরা
আদেশপ্রাপ্ত। এর বাইরে গেলেই আমরা আহলুস্-
সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের বাইরে চলে যাব
বলে সর্বদা আমাদের শ্রদ্ধেয় উস্তাদ মহোদয়গণ
এবং আকাবীর আসলাফরা সতর্ক করে আসছেন।
যুক্তি, বিবেক, জ্ঞান, ইলমের পাণ্ডিত্যের
মাধ্যমে এর বাইরে যাওয়া থেকেই বিভ্রান্তির
শুরু । তাই নিজ জ্ঞান দিয়ে নতুন আবিষ্কৃত
বিষয়কে যাচাই করে দেখাকে নিরাপদ
মনে করতে পারি না। নিরাপদ মনে করি শুধু রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
কথা কর্মের পূর্ণ অনুসরণ। আমাদের একটাই
কথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই
আক্বীদা পোষণ করতেন কি না? তিনি এই ইবাদত
এই পদ্ধতিতে বা এই উদ্দেশ্যে করেছেন
কি না বা করতে নির্দেশ দিয়েছেন কি না
? তিনি করলে বা নির্দেশ দিলে আর
কোনো ঝুঁকি নেই। যে সব
আলেমে দীন, আসাতিযা থেকে এভাবে সুন্নাতের
অনুসরণ শিখেছি তাদের কেউই আমার এই ক্ষুদ্র
পরিশ্রমে দুঃখিত হবেন না বলে আমি শতভাগ
আশাবাদী। বরং তারা খুশি হয়ে দো‘আ করবেন।
তাদের দো‘আ ও সহযোগিতায় এই সামান্য
খেদমতের ফায়েদা ব্যাপক হবে বলে আমি পূর্ণ
আস্থাবান। আর যারা অনেক বড়
আলেম, যারা তাদের জ্ঞানের উপর পূর্ণ
আস্থা করত রাসূলের কর্ম বহির্ভূত পদ্ধতিকে দলীল
(?) দিয়ে জায়েয করতে পারেন তাদের
কাছে আমার সবিনয় আবেদন যে
, আপনারা আমাদের মত রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্ণ অনুসারীদের পূর্ণ
অনুসরণের ওজুহাতটি কবুল করে আমাদেরকে, বিশেষ
করে আমি নাদানকে আপনাদের দো‘আয় শামিল
রাখবেন। পরিশেষে সবার কাছে দো‘আ চেয়ে শেষ
করছি। আল্লাহ আমাদের এই ক্ষুদ্র
প্রচেষ্টাকে ক্ববুল করুন।
সুন্নাতকে জলাঞ্জলি না দিয়ে সুন্নাতের জন্য
নিজেকে জলাঞ্জলি বা বিলিয়ে দেওয়ার তওফিক
দিন। আমীন।
গ্রন্থপঞ্জি
রচনাটি লিখতে যে সমস্ত কিতাবের উপর মূলত
নির্ভর
করা হয়েছে এবং উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে সেগুলোর
মোটামুটি তালিকা, কিতাবের মুসান্নিফের নাম
সহ নিম্নে প্রদান করা হলো। সালাফিয়্যাত
বা সিনিয়ারিটির মূল্যায়নের
লক্ষ্যে মুসান্নিফদের ওফাত সন উল্লেখ
করা হয়েছে। সাধারণত ‘আল-মাকবাতুশ্
শামিলাহ’ দ্বিতীয় প্রকাশনীর উপর নির্ভর
করা হয়েছে। তবে পাঠককে যাতে যে কোনো তথ্য
বের করতে বেগ পেতে না হয় তাই শুধুমাত্র খণ্ড ও
পৃষ্ঠা নং বা হাদীস নম্বরের উপর নির্ভর
না করে হাদীস বা অন্যান্য তথ্যের অধ্যায় অনুচ্ছেদ
উল্লেখ করার যথাসাধ্য চেষ্টা করা হয়েছে।
দৃষ্টিভঙ্গির তারতম্যে হাদীসের নাম্বার
উল্লেখের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন
ধরণ, তাই পাঠক এক্ষেত্রে শুধুমাত্র নাম্বারের উপর
পূর্ণ নির্ভর না করে অধ্যায় ও অনুচ্ছেদের উপর
নির্ভর করবেন।
আল-কুরআনুল করীম।
ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বল (২৪১ হি.) মুসনাদে আহমদ।
মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল আল-বুখারী (২৫৬ হি.)
সহীহুল বুখারী।
মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (২৬১ হি.), সহীহ মুসলিম।
সুলায়মান ইবনু আশআস আবু দাঊ আস-
সিজিস্তানী (২৭৫ হি.), আস-সুনান।
মুহাম্মদ ইবনু ইয়াযিদ ইবনু মাজাহ (২৭৫ হি.), আস-
সুনান।
আবু ঈসা মুহাম্মদ তিরমিযী (২৭৯ হি.), আস-সুনান।
আহমদ ইবনু শুয়াব নাসায়ী (৩০৩হি.), আস-সুনান।
ইবনু খুযায়মাহ (৩১১ হি.), সহীহ ইব্নু খুযায়মা।
. আবু জা‘ফর ত্বাহাবী (৩২১ হি.), আল-আক্বীদাতুত্-
ত্বাহাবিয়্যাহ।
. ইবুন হিববান (৩৫৪ হি.), সহীহ ইবনু হিববান।
. আবুল কাসেম তাবারানী (৩৬০ হি.), আল-মু‘জামুল
কবীর।
. আহমদ ইবনু ফারিস (৩৯৫ হি.) মু‘জামু মাক্বায়িসিল
লুগাহ।
. মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ হাকিম নাইসাপুরী (৪০৫
হি.), আল-মুসতাদরাক ‘আলাস্সহীহাইন।
. মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন সাহাল আস্-
সার্খাসি (৪৮৩ হি.), আল-মাবসুত।
. বুরহানুদ্দীন ইবনু মাজাহ (৬১৬ হি.), আল-মুহিত্বুল
বুরহানী।
. হাফিজ মুনযিরী (৬৫৬ হি.), আত তারগীব ওয়াত
তারহীব।
. ইমাম নববী (৬৭৬ হি.), শরহু সহীহ মুসলিম।
. ইবনু মানযুর ৭১১ হি. লিসানু আরব।
. ইবনু তাইমিয়া (৭২৮ হি.), আল-মানহাজুল ক্বাবীম
ফি ইখতিছারি ‘ইক্বতিদ্বায়ুস্-সিরাতিল
মুস্তাক্বীম।
. ইবরাহিম ইবনু মুসা আশ-শাত্বিবী (৭৯০ হি.), আল-
ই‘তিসাম।
. ইবনু আবীল ইয (৭৯২
হি.), শরহুল আক্বীদাতুত্তাহাবীয়্যাহ।
. নুরুদ্দীন হাইসামী (৮০৭ হি.), মাজমাউয-
যাওয়ায়িদ।
. ইবনু হাজার আসক্বালানী (৮৫২ হি.), ফাতহুল
বারী।
. আল্লামা বদরুদ্দীন আল-আইনি (৮৫৫ হি.), আল
বিনায়াহ।
. জালালুদ্দীন সুয়ূতী (৯১১ হি.), তাদরীবুর্রাবী।
. জালালুদ্দীন সুয়ূতী, জাম‘উল জাওয়ামি‘‘য়।
. জালালুদ্দীন সুয়ূতী, আল-জামি‘উল কবীর।
. ইবনু নুজাইম (৯৭০ হি.),আল-বাহরুর রায়িক্ব।
. আলাউদ্দীন আলী ইবন হুসামুদ্দীন আল-
মুত্তাক্বী (৯৭৫ হি.), কানযুল উম্মাল।
. আলাউদ্দীন আল-হাসকাফী (১০৮৮ হি.), আদ্দুর্রুল
মুখতার।
. ইবনু আবেদীন শামী (১১২৫ হি.), রাদ্দুল মুহতার।
. শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবী (১১৭৬
হি.), হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ।
. মুহাম্মদ ইবন আলী আশ্-শাওকানী (১২৫০ হি.)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহ্ক্বীক্বিল হাক্কি মিন
ইলমিল উসূল।
. আল্লামা আলুসী (১৩৪২ হি.), রুহুল মা‘আনী।
. খাইরুদ্দীন যিরিক্লী (১৩৯৬ হি.), আল-আ‘লাম।
. নাসিরুদ্দীন আলবানী (১৪১৯হি.), সহীহ
ওয়া দ‘য়ীফলু জামি‘‘য়স সাগীর।
. আলবানী, সহীহুত তারগীব ওয়াত্ তারহীব।
. আলবানী, সিলসিলাতুল আহাদীসি-দ্ব্‘য়ীফাহ।
. আলবানী, তিরমিযির সহীহ ও দ‘য়ীফ।
. মুফতী ফয়জুল্লাহ,(১৩৯৬ হি.), পান্দে নামাহ
খাকী।
. শামসুদ্দীন আফগানী (১৪২০ হি.), জুহুদু উলামায়িল
হানাফিয়্যাহ ফি ইব্তালি আক্বায়িদিল
ক্বুবুরিয়্যাহ।
. মুফতী রশীদ আহমদ লুদয়ানবী(১৪২২ হি.), আহসানুল
ফাতাওয়া।
. বারি’ ইরফান তাওফিক্ব, সহীহু কুনুযিস্-সুন্নাতিন্-
নাবাবিয়্যাহ।
. আলী ইবন ইবরাহিম হুশাইশ, সিলসিলাতুল
আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ।
. শায়খ আব্দুল্লাহ মুহসিন, আল ইমাম বুখারী ও
কিতাবুহু আল-জামি‘উস সহীহ।
. ড. মুহাম্মদ হুসাইন ইবন হাসান, মা‘আলিমুল উসূলিল
ফিক্বহী ‘ইনদা আহলিস্-সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আহ।
. আব্দুর রহমান আল-খামিছ, ই‘তিক্বাদুল
আয়িম্মাতিল আরবা‘আহ।
. ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গির, হাদীসের
নামে জালিয়াতী।
. মৌলবী শামছুল হুদা, নেয়ামুল কুরআন।
. আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মোহাম্মদ নাজমুল
হক, মোকছুদুল মো’মিনীন বা বেহেশ্তের পুঞ্জী।
. শাইখ আব্দুর রেজা মা‘আশ, মুনতাদাল কফিল
ওয়েব।
সমাপ্ত
[1] মুফতি ফয়জুল্লাহ, পান্দে নামাহ খাকী
, মুফতি ইযহারুল ইসলামের
ব্যাখ্যাসহ, খতমে শবীনাহ, খতমে বুখারী
, খতমে দু‘আ ইউনুস এবং অন্যান্য ফাসেদ কুসংস্কার
যেমন...আলোচনা, পৃষ্টা: ৩১।
[2] তিরমিযী, সুনান, যে তোমার
প্রতি দয়া করেছে তার শুকরিয়া অনুচ্ছেদ, নং:১৯৫৫।
হাদিসটি সহীহ লিগাইরিহি।
[3] বাংলাভাষীদের জন্য এ বিষয়ের উপর প্রখ্যাত
আলেমে দীন ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গির
রচিত ‘এহ্ইয়াউস সুনান’ বইটি আমার
ধারণা মতে অদ্বিতীয় এবং অতুলনীয়। সাধারণের
চেয়ে আলেমদের জন্য বইটি অত্যন্ত
বেশি উপকারী বলে পড়ে বুঝতে পেরেছি।
বইটি পড়ে মন্তব্য করার জন্য উলামায়ে কেরামের
কাছে অনুরোধ রইল। উনার প্রতিটি বই
একেকটি তাজদীদি খেদমাত বলে অধমের
কাছে মনে হয়েছে। আল্লাহ উনার
হায়াতকে বরকতময় করে দীনের
আরো বেশি খেদমাত করার সুযোগ দিন।
[4] ইবনু মানযুর, লিসানুল আরব, মাদ্দাহ: ﺳﻨﻦ , ১৩/১২৪।
[5] আরবী ভাষার বিশাল শব্দ ভান্ডার সম্বলিত
বিখ্যাত অভিধান ‘লিসানুল-আরব’ এর রচয়িতা আবুল
ফযল জামালুদ্দীন ইবনু মানযুর আল-আনসারী, জন্ম:
৬৩০ ওফাত: ৭১১ হিজরী, মোতাবেক: ১২৩২-১৩১১
ঈসায়ী। মূল আফ্রিক্বী বংশীয়, তবে তার জন্ম ও
মৃত্যু মিশরে। (আল-আ‘লাম: ৭/১০৮।
[6] লিসানুল আরব, প্রাগুক্ত।
[7] ড. মুহাম্মদ হুসাইন ইবন হাসান, মা‘আলিমুল
উসূলিল ফিক্বহী ‘ইনদা আহলিস্-সুন্নাতি ওয়াল
জামা‘আহ, দ্বিতীয় আলোচনা, সুন্নাতের সংজ্ঞা
, পৃষ্টা:১১৮।
[8] মুহাম্মদ ইবন আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ
আশ্-শাওকানী। ১১৭৩-১২৫০ হিজরী, ১৭৬০-১৮৩৪
ঈসায়ী। ইয়ামান এর সান‘আর ফক্বীহ, মুজতাহিদ।
উসূল, হাদীস, ফিক্ব্হ, তাফসীর সর্ব বিষয়ে তার
পান্ডিত্য ও রচনা বিদ্যমান।
[9] আল্লামা শাওকানী, ইরশাদুল ফুহুল
ইলা তাহ্ক্বীক্বিল হাক্বি মিন ইলমিল উসূল, প্রথম
পরিচ্ছেদ, সুন্নাতের আভিধানিক
এবং শরয়ী অর্থ, ১/৯৫।
[10] সূরা মায়েদাহ, আয়াত: ৩।
[11] সূরা আহযাব, আয়াত: ২১।
[12] সহীহ মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: মন্দ কাজ
থেকে নিষেধ করা ঈমানের অঙ্গ....,নং: ১৮৮।
[13] হিন্দের প্রখ্যাত মুহাদ্দীস, আহমদ ইবন আব্দুর
রহীম আশ-শাহ ওলিউল্লাহ দেহলবী। যার
তাজদীদি বা সংস্কারমুলক কর্ম আরব ‘আজম সর্বজন
স্বীকৃত। তার লিখিত বিভিন্ন কিতাব এর জলন্ত
প্রমান। জন্ম: ১১১৪ হিজরী, ওফাত: ১১৭৬ হিজরী।
আফসোসের বিষয়, উপমহাদেশের এ মহান
ব্যক্তিত্বের নাম আমাদের মুখে থাকলেও তার
চিন্তাধারার বাস্তব কোনো মূল্যায়ন আমাদের
মাঝে নেই। তাঁর চিন্তাধারা ও তাঁর রচনা সমগ্রের
বাস্তব মূল্যায়ন আরব আলেমগণ করে থাকেন। তাঁর
রচনা তাদের পাঠ্য সিলেবাস এর প্রমাণ।
[14] মুহাদ্দিসে দেহলবী, হুজ্জাতুল্লাহিল
বালিগাহ, কিতাব ও সুন্নাত
আকড়ে ধরা অধ্যায়, ১/৩৫৭।
[15] সহীহুল বুখারী, নিকাহ অধ্যায়, নিকাহের
প্রতি উৎসাহ অনুচ্ছেদ, নং: ৪৭৭৬।
[16] সুয়ূতী, আল-জামি‘উল
কবীর, হামযা হরফে হাদীস, নং: ৭৯৩৫, আলবানী
, সহীহ ওয়া দ‘য়ীফুল জামি‘য়িস সাগীর, নং:
৭৩১৭, সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব, তারগীব ফিস
সালাত অনুচ্ছেদ, নং:৩৯০, হাদীসটি হাসান।
হাদীসের
ইবারতটি হচ্ছে: ‘‘ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﺧﻴﺮ ﻣﻮﺿﻮﻉ ﻓﻤﻦ ﺍﺳﺘﻄﺎﻉ ﺃﻥ ﻳﺴﺘﻜﺜﺮ ﻓﻠﻴﺴﺘﻜﺜﺮ ’’
[17] কারো মনে আসতে পারে, আবু হানিফা রাহ.
যেহেতু ৪০ বছর এক ওযু দিয়ে এশা ফজর আদায়
করেছেন বলে শুনা যায়, অতএব তার চল্লিশ বছর
খেলাফে সুন্নাত ভাবে রাত কেটেছে, অথচ এমন
রাত কাটানো শুনে রাসূল
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগ
করেছেন। অধমের খেয়াল মতে এ সব
হচ্ছে প্রশংসা না বুঝে প্রশংসায় সীমালঙ্গন। এসব
কথার যেহেতু সহীহ
কোনো ভিত্তি নেই, সুতরাং আবু হানিফার মত
মহান পন্ডিত, মুজতাহিদ, যিনি হবহু সুন্নাতের
অনুসরণ থেকে এক চুল পরিমান সরতে চান না
, বিদ‘আত সন্দেহ হলে যিনি সুন্নাত ছেড়ে দেওয়ার
কথা বলেন,অনেক মাসআলা মাসাঈল যার প্রমাণ
বহন করে, এমন ব্যক্তির দিকে এ সব কথা সম্পৃক্ত
করার কোনো যুক্তি বা প্রয়োজন নেই।
[18] ইবনু মানযুর, লিসানুল আরব, মাদ্দাহ ‘ ﺑﺪﻉ ’, ৮/৬।
[19] আরবী ভাষা ও সাহিত্যের ইমাম আবুল হুসাইন
আহমদ ইবনু ফারিস ইবন যাকারিয়া আল-
কাযবীনি আর-রাযি, ৩২৯-৩৯৫ হিজরী, ৯৪১-১০০৪
ঈসায়ী।
[20] ইবনু ফারিস, মু‘জামু মাক্বায়িসিল
লুগাহ, মাদ্দাহ ‘ ﺑﺪﻉ ’, ১/২০৭, লিসানুল আরব, প্রাগুক্ত।
[21] আবু ইসহাক্ব ইবরাহিম ইবনু মুসা আশ-
শাত্বিবী আল-মালিকী, ৭৯০ হিজরী, আল-
ই‘তিসাম, প্রথম অনুচ্ছেদ, বিদআতের সংজ্ঞা ও
তার অর্থ..., ১/২৬।
[22] প্রাগুক্ত।
[23] তিরমিযী, সুনান, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত ইলম
অধ্যায়, সুন্নাতকে আকড়ে ধরা এবং বিদ‘আত
পরিহার করা অনুচ্ছেদ, নং:২৬৭৬, হাদীস সহীহ।
[24] সহীহুল বুখারী, কিতাবুর রিক্বাক্ব, হাউয
অনুচ্ছেদ, নং: ৬২১২, কিতাবুল-ফিতান, নং: ৬৬৪৩।
[25] মুহাম্মদ ইবন ইসহাক্ব ইব্নু খুযায়মাহ আস-
সুলামী, ২২৩-৩১১ হিজরী, সহীহ ইবনু
খুযায়মাহ, নবীজী সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খুতবার
গুণাবলী অনুচ্ছেদ, নং ১৮৭৫।
[26] সহীহুল বুখারী, সন্ধি অধ্যায়, অনুচ্ছেদ:
অন্যায়ের উপর লোকেরা সন্ধিবদ্ধ
হলে তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য, নং: ২৫৫০, সহীহ
মুসলিম, বিচার সংক্রান্ত অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: বাতিল
সিন্ধান্ত খণ্ডন এবং বিদ‘আতি কার্যকালাপ
প্রত্যাখ্যান, নং: ৪৫৮৯।
[27] শামসুল আয়িম্মাহ মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন
সাহাল আস্-সার্খাসি, হানাফী মাযহাবের
অন্যতম মুজতাহিদ আলেম। ওফাত: ৪৮৩ হিজরী
, মোতাবেক ১০৮০ ঈসায়ী। (আল-আ‘লাম: ৫/৩১৫)
[28] সার্খাসী, আল-মাবসূত,২/১৪৬।
[29] প্রাগুক্ত,৩/৩৫৭।
[30] ইবনু মানযুর, লিসানুল
আরব, মাদ্দাহ: ‘ ﺧﺘﻢ ’ ১২/১৬৩।
[31] সূরা বাক্বারা, ৭।
[32] সহীহ মুসলিম, সালাত অধ্যায়, রাতের
সালাতে দু‘আ ও রাতে জাগা অনুচ্ছেদ, নং:১৮৩৫।
[33] সহীহুল বুখারী, কুরআনের ফযিলত সমূহ
অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি উত্তম
যে নিজে কুরআন
শিখে এবং অপরকে শিখায়, নং:৪৭৩৯।
[34] সহীহুল বুখারী, কুরআনের ফযিলতসমূহ
অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: সব কালামের উপর কুরআনের
শ্রেষ্টত্ব, নং:৪৭৩৯, সহীহ মুসলিম, কুরআনের
ফযিলতসমূহ অধ্যায়, হাফিজে কুরআনের
মর্যাদা অনুচ্ছেদ, নং:১৮৯৬।
[35] সুনানুত তিরমিযি, হাদীস সহীহ, কুরআনের
ফযিলত সমূহ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: যে কুরআনের
একটি অক্ষর পড়ল তার কতটুকু ছওয়াব রয়েছে, নং:
২৯১০।
[36] সহীহুল বুখারী
, উমরা অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু ‘
আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতবার উমরা করেছেন।
[37] সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: উমরা, অনুচ্ছেদ: নবী
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উমরার
সংখ্যার বর্ণনা।
[38] কাযী আয়ায, মালেকি মাযহাবের প্রখ্যাত
আলেম
মুহাদ্দীস, ফকীহ, আদীব, ঐতিহাসিক, একাধিক
কিতাবের রচয়িতা। ৪৭৩-৫৪৪ হিজরী।
[39] ইমাম নববীর মুসলিমের ব্যখ্যগ্রন্থ, প্রাগুক্ত
অধ্যায়। কিতাবুস-সালাত, ( ﺑﺎﺏ ﺍﺳﺘﺤﺒﺎﺏ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﻀﺤﻰ ﻭﺃﻥ ﺃﻗﻠﻬﺎ
ﺭﻛﻌﺘﺎﻥ) এর অধীনে আলোচনা সালাতুদ দ্বোহার
আলোচনা করেছেন।
[40] ফাতওয়া বায্যাযিয়ার মুসান্নিফ, ইমাম
মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন শিহাব, ইবনে বায্যার
আলকুরদুরী আল-হানাফী। মৃত্যু: ৮২৭ হিজরী।
[41] বায্যাযিয়া, হিন্দিয়ার টিকা, ৬/৩৭৮
(লেখকের দেওয়া তথ্য সুত্র মোতাবেক)।
[42] বায্যাযিয়া, হিন্দিয়ার টিকা, ৪/৮১ (লেখকের
দেওয়া সুত্রে)
[43] মুহাম্মদ জা‘ফর ইবন আব্দুল করীম আল-
বুবাকানী আস-সিন্দি আল-হানাফী। তার লিখিত
কিতাব, ‘আল-মাতানাহ ফিল-মারাম্মাতে আনিল
খিযানাহ’।
[44] আল-ফাতাওয়া আস-সাইরাফিয়্যাহ।
লিখক, হানাফী ফক্বীহ আসআদ ইবন ইউসুফ ইবন
আলী মাজ্দুদ্দীন আস-সাইরাফী আল-বুখারী।
মৃত:১০৮৮ হিজরী। (আল-আ‘লাম, ১/৩০২)
[45] দেখুন, বুরহানুদ্দীন ইবনু মাযাহ (৬১৬ হি.) রচিত
কিতাব ‘আল-মুহিত্বুল বুরহানী, পৃষ্টা:১৪৪, খ-:৫।
[46] ফিকহে হানাফী নিয়ে রচিত কিতাব ‘আল-
ফাতাওয়া আত্তাতার খানিয়া’, লিখক, ইবনুল
আলা আল-আনসারী আদ-দেহলবী আল-হিন্দি।
[47] ‘আইনুল ইলম’ ‘মুফিদুল মুস্তাফিদ’ ‘কিতাবুন-
নেসাব’ ফিক্বহে হানাফীতে রচিত বিভিন্ন
কিতাবের নাম।
[48] আল-মাতানাহ ফিল-মারাম্মাতে আনিল
খিযানাহ, ৬৩৩,৬৩৪,৬৩৫ (লেখকের দেওয়া সুত্রে)।
[49] বিশিষ্ট হানাফী ফক্বীহ মুহাম্মদ আমীন ইবন
উমর ইবন আব্দুল আযীয ইবন আবেদীন। ১১৯৮-১১২৫
হিজরী। দামেশ্কে জন্ম এবং মৃত্যু। যাকে ইমামুল
হানাফিয়্যাহ ফিশ্-শাম বলে ভূষিত করা হয়।
আল্লামা ইবনে আবেদীন
বা আল্লামা শামী নামে তিনি প্রসিদ্ধ। তার
কিতাব ‘রাদ্দুল
মুহতার‘ যা ফাতওয়া শামী হিসেবে পরিচিত
তা ফিকহে হানাফীর মাসাঈলে আলাউদ্দীন
হাসকাফী রচিত ‘আদ্দুররুল-
মুখতারের’ ব্যাখ্যাগ্রন্থ। (আল-আ‘লাম: ৬/৪২)
[50] মুসান্নিফ আর্থাৎ ‘আদ্দুররুল-
মুখতারের’ রচয়িতা মুহাম্মদ ইবন আলী আলাউদ্দীন
আল-হাসকাফী। দামেশ্কের একজন
হানাফী মুফতী। ১০২৫-১০৮৮ হিজরী। (আল-আ‘লাম:
৬/৪২)
[51] ‘আল-হাবীল ক্বুদসী ফিল
ফুরু’ লিখক, কাযী জামাল উদ্দীন আহমদ ইবন
মুহাম্মদ আল-গাযনবী আল-হানাফী। (কাশ্ফুয
যুনুন:১/৬২৭)
[52] যাইনুদ্দীন ইবনে নুজাইম মিসরী আল-
হানাফী ৯২৬-৯৭০ হিজরী রচিত কিতাব ‘আল-
বাহরুর রায়িক্ব’ । সালাত অধ্যায়। বিতর ও নফল
অনুচ্ছেদ, ২/৫৬।
[53] ‘আল-মুনইয়াহ’ অর্থাৎ ‘মুনইয়াতুল মুসাল্লী’, এই
কিতাবের দু্ই ব্যাখ্যাকার দ্বারা উদ্দেশ্য সম্ভবত,
‘গুনইয়াতুল মুতামাল্লী’ এবং ‘আল-ক্বুনইয়া
’ কিতাবদ্বয়ের রচয়িতা। দুটি কিতাবই ‘মুনইয়াতুল
মুসাল্লী’র শরাহ। কিতাব দুটি দুর্লভ ও
সম্মুখে না থাকায় এ ব্যাপারে নিশ্চিত
হতে পারিনি। (সংকলক)
[54] ইমাম নুরুদ্দীন আলী ইব্নু গানিম আল-
মাক্দিসী আল-হানাফী। মৃত্যু:১০০৪
হিজরী (কাশফুয যুনুন:১/৮৪০)। সালাতুর রাগাইব
নামে সালাতের বিদ‘আত সম্পর্কে তার লিখিত
কিতাবের নাম, ﺭﺩﻉ ﺍﻟﺮﺍﻏﺐ ﻋﻦ ﺍﻟﺠﻤﻊ ﻓﻲ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﺮﻏﺎﺋﺐ
[55] রাদ্দুল মুহ্তার, কিতাবুস সালাত, বিতর ও নফল
অধ্যায়, ২/২৬
[56] ইবনে মাজাহ, সনদ সহীহ, মৃত ব্যক্তির
পরিবারে সমবেত হওয়া এবং খাবারের আয়োজন
করা নিষেধ অনুচ্ছেদ, হাদীস
নং ১৬১২, ইবনে মাজাহ এর হাদীসটির শব্দ হলো:
ﻛﻨﺎ ﻧﺮﻯ ﺍﻻﺟﺘﻤﺎﻉ ﺇﻟﻰ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻤﻴﺖ ﻭﺻﻨﻌﺔ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﻴﺎﺣﺔ
মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং:৬৯০৫, মুসনাদে আহমদের
শব্দ:
ﻛُﻨَّﺎ ﻧَﻌُﺪُّ ﺍﻟِﺎﺟْﺘِﻤَﺎﻉَ ﺇِﻟَﻰ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﻤَﻴِّﺖِ ﻭَﺻَﻨِﻴﻌَﺔَ ﺍﻟﻄَّﻌَﺎﻡِ ﺑَﻌْﺪَ ﺩَﻓْﻨِﻪِ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨِّﻴَﺎﺣَﺔِ
[57] সম্ভবত আবুল ক্বাসিম আল-
কুশাইরী নাইসাবুরী রচিত ‘কিতাবুল মি
‘রাজ’ উদ্দেশ্য।
[58] রাদ্দুল মুহতার, সালাত অধ্যায়, সালাতুল-
জানাযা অনুচ্ছেদ, ২/২৪০।
[59] সিনানুদ্দীন ইউসুফ আল-আমাসী আল-হানাফী
, আল-মক্কী, মৃত্যু: ১০০০ হিজরীর পাশাপাশি।
[60] আল-ইমাম তাজুশ-শরীয়াহ, আহমদ ইবন
উবাইদুল্লাহ আল-মাহবুবী আল-হানাফী উমর ইবন
সাদরুশ-শরীয়াহ আল-আওয়াল, মৃত্যু:৬৭২ হিজরী।
তার লিখিত হেদায়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘নিহায়াতুল
কিফায়াহ ফি দিরায়াতিল হিদায়াহ। (কাশফুয-
যুনুন ২/২০২২)
[61] প্রখ্যাত হানাফী মুহাদ্দীস আবু মুহাম্মদ
আল্লামা বদরুদ্দীন আল-আইনি। ৭৬২৮৫৫ –
হিজরী১৩৬১ - -১৪৫১ ঈসায়ী। তার লিখিত
হেদায়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আল-বিনায়াহ’ ।
দেখুন, বর্ণিত কিতাবের কারাহিয়্যাহ
অধ্যায়, মাসাঈলু মুতাফার্রিক্বাহ, ১১/২৬৭।
[62] রাদ্দুল-মুহতার, কিতাবুল ইজারাহ, মাতলাবুন
ফিল-ইসতিজার আলাত্-ত্বা‘আত, : ৬/৫৬।
[63] ফিক্বহে হাম্বলীতে রচিত কিতাব, মূল
নাম ‘মুনতাহাল-ইরাদাত ফিল জাম্‘ঈ বাইনাল
মুক্বান্না‘ঈ ওয়াত্-তানক্বীহি ওয়ায্-
যিয়দাত’, লেখক, তাক্বীউদ্দীন মুহাম্মদ ইবন আহমদ
ইবন আব্দুল আযিয ইবনুন্-নাজ্জার আল-ফুতুহী আল-
মিসরী, মৃত্যু: ৯৭২ হিজরী।
[64] রাদ্দুল মুহতার, প্রাগুক্ত অধ্যায়:৬/৫৭।
[65] সহীহুল বুখারী, অধ্যায়: কুরআনের ফযিলত
সমূহ, অনুচ্ছে: যতক্ষন মন চায় ততক্ষন কুরআন
তেলাওয়াত করা। নং: ৪৭৭৩।
[66] ‘নাওহা’ বা ‘নিয়াহাহ’, অর্থাৎ বিলাপ করে মৃত
ব্যক্তির উপর ক্রন্দন করা। ইসলাম পূর্ব
জাহেলী যুগে কেউ মারা গেলে বিলাপ
করে ক্রন্দনের প্রচলন ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কর্মকে জাহেলী কর্ম
আখ্যা দেন এবং তা হারাম ঘোষণা করেন।
দেখুন, বুখারী, ‘মৃত ব্যক্তির উপর বিলাপ মাকরূহ
অধ্যায়’। সহীহ মুসলিম, নিয়াহার উপর
কঠোরতা অধ্যায়। বুখারীর একাধিক অধ্যায়ে এ
বিষয় সংক্রান্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
[67] লোকদেখানো আমলকে শরয়ী পরিভাষায় ‘
রিয়া’ বলা হয়। কুরআন হাদীস উভয়ের
মাধ্যমে ‘রিয়া’ হারাম প্রমাণিত। হাদীসে ‘রিয়া
’কে শিরকে আসগর বা ছোট শিরক গণ্য করা হয়েছে।
‘রিয়া’ হারাম বা কবীরা গোনাহের অন্যতম
এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে লেখক
এখানে হাদীসে রয়েছে বলে যে কথা উল্লেখ
করেছেন, অর্থাৎ ‘‘লোক দেখানো আমলকারীর
আমল এমন ধ্বংস হয় যেমন আগুন লাকড়ি খেয়ে ফেলে
’’ এই মর্মের কোনো হাদীস রয়েছে বলে অবগত
হতে পারিনি। (সংকলক)
[68] আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের আলেমগণ
ঈসালে ছওয়াবের বেলায় দুই ভাগে বিভক্ত। একদল
কুরআনের আয়াত,‘‘ ﻭَﺃَﻥْ ﻟَﻴْﺲَ ﻟِﻠْﺈِﻧْﺴَﺎﻥِ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﺎ ﺳَﻌَﻰ ’’ অর্থাৎ: আর
মানুষের জন্য তার চেষ্টা ব্যতীত কোনো কিছু নেই,
(সূরা নাজম:৩৯) এই মর্মের আয়াত এবং রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস,
"ﺇﺫﺍ ﻣﺎﺕ ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ ﺍﻧﻘﻄﻊ ﻋﻤﻠﻪ ﺇﻻ ﻣﻦ ﺛﻼﺙ ﺻﺪﻗﺔ ﺟﺎﺭﻳﺔ ﻭﻋﻠﻢ ﻳﻨﺘﻔﻊ ﺑﻪ ﻭﻭﻟﺪ ﺻﺎﻟﺢ ﻳﺪﻋﻮ
ﻟﻪ"
‘‘মানুষ যখন মারা যায় তখন তাঁর তিনটি আমল
ব্যতীত সব আমল বন্ধ হয়ে যায়।
সাদাকায়ে জারিয়াহ, যে ইলম দ্বারা মানুষ উপকৃত
হয় এবং নেক সন্তান যে তার জন্য দু‘আ
করে।’’ (তিরমিযী, হাদীস সহীহ, ওয়াক্বফ
অনুচ্ছেদ, নং:১৩৭৬) এই হাদীসের
আলোকে তারা বলেন: হাদীসে উল্লেখিত তিন
বস্তু ব্যতীত অন্য কিছুর ঈসাল হয় না। কেননা
; হাদীসে তিন বস্তু ছাড়া সব আ‘মাল বন্ধ
হয়ে যাওয়ার কথা এসেছে। আর এ তিনটি মূলত তার
নিজের চেষ্টার ফসল। সুতরাং এই হাদীস আর
আয়াতে কোনো বিরোধ নেই।
তবে সাদাকা যেহেতু শারীরিক ইবাদত
নয়, জীবিত ব্যক্তিকে তা দেওয়া যায়, তার পক্ষ
থেকে অন্যকে দেওয়া যায়, মৃত্যুর পরও তার পক্ষ
থেকে দেওয়া যাবে। কিন্তু শারীরিক ইবাদত
কাউকে দেওয়া যায় না তাই তার ঈসাল ও নেই।
তবে শারীরিক কিছু ইবাদত যার ঈসাল হাদীস
দ্বারা প্রমাণিত সেগুলো মানসুস হওয়ার
কারণে তা এই
কায়দা থেকে মুসতাসনা বা ব্যতিক্রম থাকবে। এই
দল আলেমদের মতে কুরআন তেলাওয়াত যেহেতু
একটি শারীরিক ইবাদত তাই তার ঈসালই হবে না
, কেননা এব্যাপারে কোনো নস নেই। আর
ইবাদতে বিষয় গাইরে মা‘কুল, তাই
আমরা তাকে অন্য ইবাদতের উপর ক্বিয়াস
করতে পারি না। আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাতের
অপরদল মনে করেন, যে কোনো ইবাদতের ঈসাল
হতে পারে। আমাদের লেখক এমতের
প্রবক্তা হিসেবে কুরআন তেলাওয়াতের ঈসালের
সঠিক পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন।
[69] সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৭-৮৮।
[70] তিরমিযী, সুনান, হাদীস সহীহ, রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু‘আ
অধ্যায়, ৮২ নং অনুচ্ছেদ, হাদীস নং: ৩৫০৫, আলবানী
, তিরমিযির সহীহ ও দয়ীফ, ৮/৫, মুসনাদে আহমদ, সা
‘দ ইবন আবী ওয়াক্বাসের হাদীস, নং:১৪৬২।
[71] নেয়ামুল কুরআন, মৌলবী শামছুল হুদা
, রহমানিয়া লাইব্রেরী, একাদশ সংস্করণ, পৃষ্ঠা:
১২০।
[72] আবু দাঊদ, সুনান, ইলম অধ্যায়, ইলম প্রচারের
মর্যাদা পরিচ্ছেদ, নং: ৩৬৬২, তিরমিযী
, সুনান, অধ্যায়: রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত
ইলম, পরিচ্ছেদ: শ্রবণকৃত প্রচারের
উৎসাহ, নং:৩৬৫৬, হাদীস সহীহ।
[73] বিশিষ্ট মুফাসসির তাবিয়ী মুজাহিদ ইবন
জাবর আবুল হাজ্জাজ মক্কী, ২১-১০৪ হিজরী।
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু
‘আনহুমা থেকে তাফসীর শিক্ষা লাভ করতেন ।
(আল-আ‘লাম: ৫/২৭৮)
[74] সহীহ মুসলিম, মুকাদ্দিমাহ, দুর্বলদের
থেকে বর্ণনা গ্রহণ করা নিষেধ অনুচ্ছেদ, ১/১০।
[75] সহীহ মুসলিম, প্রাগুক্ত।
[76] সহীহ মুসলিম, মুকাদ্দিমাহ, যা কিছু শুনবে তার
সব বর্ণনা থেকে নিষেধাজ্ঞা অনুচ্ছেদ, ১/৮।
[77] ইবনু হাজার, ফাতহুল বারী, ১০ নং অনুচ্ছেদ
জামে‘ এর হাদীসের সংখ্যা, ১/৪৬৫।
[78] বিস্তারিত দেখুন, শায়খ আব্দুল্লাহ
মুহসিন, আল ইমাম বুখারী ও কিতাবুহু আল-জামি‘উস
সহীহ।
[79] সূরা আয-যুমার:৩
[80] সূরা আ‘রাফ : ১৮৮।
[81] সূরা ইউনুস:১০৭।
[82] মুসনাদে আহমদ, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. এর
হাদীস, নং: ১৮৩৯।
[83] নাসাঈ, সুনান, হাদীস সহীহ, আল্লাহ এবং অমুক
চেয়েছেন বলা নিষেধ অনুচ্ছেদ, নং:১০৮২৪।
[84] সহীহুল বুখারী, তাফসীর অধ্যায়, অনুচ্ছেদ:
কিতাবে মারয়ামের কথা স্মরণ কর..., নং: ৩২৬১।
[85] সূরা আল-জাসিয়াহ: ২৩।
[86] সূরা তাওবা:৩১।
[87] তিরমিযী. সুনান, ইয়াসিনের
মর্যাদা অনুচ্ছেদ, নং:২৮৮৭।
[88] আলী হাশীশ, সিলসিলাতুল আহাদীসিল
ওয়াহিয়াহ, ১/৩৩৫, আলবানী, আস-সিলসিলাতুদ্-
দ‘য়ীফাহ, ১/৩১২।
[89] সহীহ মুসলিম, মৃত্যু উপস্থিত
ব্যক্তিকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর তালক্বীন
অনুচ্ছেদ, নং: ২১৬২। তালক্বীন অর্থাৎ মুমূর্ষ
ব্যক্তি মুখোমুখি এই কালেমা উচ্চরণ করা
, যাতে সে তা শিখে বা স্মরণ করে পড়তে পারে।
এতে তার জীবনের শেষ
বাক্য ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হবে।
[90] মুনতাদাল-কফীল ওয়েব। আল-মুনতাদার্-রাসমি
, শায়খ আব্দুর রেযা মা‘আশ।
[91] মোকছুদুল মো’মিনীন বা বেহেশ্তের পুঞ্জী
, আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মোহাম্মদ নাজমুল
হক, পঞ্চদশ খ-, ১৭৮ পৃষ্ঠা। সাদনান পাবলিকেশন।
[92] আবু দাঊদ, সুনান, চিকিৎসা অধ্যায়, ব্যক্তির
চিকিৎসা গ্রহণ অনুচ্ছেদ, নং: ৩৮৫৭, তিরমিযী
, সুনান, চিকিৎসা অধ্যায়, ঔষধ ও তার
প্রতি উৎসাহিত করা অনুচ্ছেদ, নং: ২০৩৮।
[93] সহীহ মুসলিম, প্রত্যেক রোগের ঔষধ
রয়েছে এবং চিকিৎসা করা মুস্তাহাব অনুচ্ছেদ, নং:
৫৮৭১।
[94] সহীহ মুসলিম, কিতাবুল বির
ওয়াসসিলাহ, মুমিনদের প্রতি দয়া
, মমতা সহযোগিতা পরিচ্ছেদ, নং: ৬৭৫১, সহীহুল
বুখারী, কিতাবুল আদব, পরিচ্ছেদ: মানুষ ও চতুষ্পদ
জন্তুর উপর দয়া করা, নং:৫৬৬৫।
[95] সহীহ মুসলিম, মুসলিমের উপর অপর মুসলিমের
হক্ব পরিচ্ছেদ, নং:৫৭৭৮।
[96] সহীহ মুসলিম, কিতাবুল বির
ওয়াসসিলাহ, রোগী দেখতে যাওয়ার
মর্যাদা পরিচ্ছেদ, নং: ৬৭১৭।
[97] সহীহুল বুখারী, ইসলামে নবুওয়াতের আলামত
পরিচ্ছেদ, নং: ৫৩৩৮।
[98] ইবনে মাজাহ, হাদীস সহীহ, ঈমান
অধ্যায়, ঈমানে একটি অনুচ্ছেদ, নং: ৬১।
[99] তিরমিযী, সুনান, হাদীস হাসান, রাসূল
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দো‘আ
অধ্যায়, মুসলিমের দো‘আ গৃহীত অনুচ্ছেদ, নং:
৩৩৮৩, সহীহ ইবনে হিব্বান, আযকার
অধ্যায়, নং:৮৪৬, সহীহু কুনুযিস্-সুন্নাতিন্-
নাবাবিয়্যাহ, আল্লাহর যিকর অনুচ্ছেদ, ১/৯।
[100] মোকছুদুল মো’মিনীন বা বেহেশ্তের পুঞ্জী
, আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মোহাম্মদ নাজমুল
হক, পঞ্চদশ খণ্ড, ১৭৮ পৃষ্ঠা। সাদনান পাবলিকেশন।
[101] সূরা আলাক্ব, আয়াত: ১।
[102] সহীহ মুসলিম, সালাম অধ্যায়, ব্যথায়
আক্রান্ত স্থানে দো‘আর সহিত হাত
রাখা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ, নং:৫৮৬৭।
[103] নেয়ামুল কুরআন, মৌলবী শামছুল হুদা
, রহমানিয়া লাইব্রেরী, একাদশ সংস্করণ, পৃষ্ঠা:
২০০।
[104] প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা:১৯৯।
[105] প্রাগুক্ত।
[106] সূরা ক্বাফ, আয়াত: ১৬।
এটি গ্রন্থকারের মত। আর এটা সত্য যে আল্লাহ
তা‘আলা স্বয়ং আরশের উপর থাকা সত্বেও
জ্ঞানের দিক থেকে আমাদের সাথেই রয়েছেন।
তবে বিশুদ্ধ তাফসীর মতে আলোচ্য
আয়াতে ‘আমরা’ বলে ফিরিশতাদের
বুঝানো হয়েছে। [সম্পাদক]
[107] আল্লামা আলাউদ্দীন আল-হাসকাফী
, আদ্দুররুল-মুখতার, অবৈধ বৈধ
অধ্যায়, বেচাকেনা অনুচ্ছেদ।
ড: আব্দুর রহমান আল-খুমাইছ, ই‘তিক্বাদুল
আয়িম্মাতিল আরবা‘আহ, আক্বীদাতুল ইমাম আবু
হানিফা। পৃষ্ঠা:৩। শামসুদ্দীন
আফগানী (১৩৭২-১৪২০ হি.), জুহুদুল উলামায়িল
হানাফিয়্যাহ ফি ইব্তালি আক্বায়িদিল
ক্বুবুরিয়্যাহ (কবরপূজারীদের আক্বায়িদ বাতিল
করতে হানাফী আলেমদের প্রচেষ্টা), ১/৩১, ২/১১২৪।
[108] উল্লেখ্য যে, আমাদের পূর্বসূরীগণ ‘মাকরূহ’ শব্দ
বলে হারাম বোঝাতেন। [সম্পাদক]
[109] আদ্দুররুল মুখতার, প্রাগুক্ত, জুহুদুল উলামায়িল
হানাফিয়্যাহ ফি ইব্তালি আক্বায়িদিল
ক্বুবুরিয়্যাহ, ১/৭, ২/১১২৬।
[110] হানাফী বিশিষ্ট ফক্বীহ আবু জা‘ফর আহমদ
ইবন মুহাম্মদ সালামাহ আত্ত্বাহাবী।
বলা হয়, মিশরে ফিক্বহে হানাফীর নেতৃত্ব তাঁর
কাছে এসে শেষ হয়েছে।
তিনি প্রথমে ফিক্বহে শাফি অর্জন করেন।
পরবর্তীতে ফিক্বহি হানাফী গ্রহণ
এবং এতে নেতৃত্বের স্থান অধিকার করেন। জন্ম:
২৩৯, ওফাত: ৩২১ হিজরী, ৮৫৩-৯৩৩ ঈসায়ী। (আল-
আ‘লাম ১/২০৬) তার রচিত বিভিন্ন গ্রন্থ
যা ‘আরব ‘আজম সবখানে প্রসিদ্ধ। তাঁর লিখিত
আক্বীদার কিতাব ‘আল-
আক্বীদাতুত্ত্বাহাবীয়াহ’ আরব ‘আজম
সবখানে প্রসিদ্ধ ও পাঠ্য সিলেবাসভুক্ত। অনেকেই
তর এ কিতাবের শরাহ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন।
তিনি তার এ কিতাব ইমাম আবু হানিফা (রাহ.) ও
সাহেবাইন অর্থাৎ ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ
(রাহ.) এর আক্বীদা বর্ণনা করতে লিখেছেন
বলে কিতাবের শুরুতেই নিজে উল্লেখ করেছেন।
তার বক্তব্যটি এরূপ:
" ﻫﺬﺍ ﺫﻛﺮ ﺑﻴﺎﻥ ﻋﻘﻴﺪﺓ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻭﺍﻟﺠﻤﺎﻋﺔ ﻋﻠﻰ ﻣﺬﻫﺐ ﻓﻘﻬﺎﺀ ﺍﻟﻤﻠﺔ : ﺃﺑﻲ ﺣﻨﻴﻔﺔ
ﺍﻟﻨﻌﻤﺎﻥ ﺑﻦ ﺛﺎﺑﺖ ﺍﻟﻜﻮﻓﻲ ﻭﺃﺑﻲ ﻳﻮﺳﻒ ﻳﻌﻘﻮﺏ ﺑﻦ ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﺍﻷﻧﺼﺎﺭﻱ ﻭﺃﺑﻲ ﻋﺒﺪﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪ
ﺑﻦ ﺍﻟﺤﺴﻦ ﺍﻟﺸﻴﺒﺎﻧﻲ ﺭﺿﻮﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﺃﺟﻤﻌﻴﻦ ﻭﻣﺎ ﻳﻌﺘﻘﺪﻭﻥ ﻣﻦ ﺃﺻﻮﻝ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﻭﻳﺪﻳﻨﻮﻥ ﺑﻪ
ﺭﺏ ﺍﻟﻌﺎﻟﻤﻴﻦ ." ( ﺍﻟﻌﻘﻴﺪﺓ ﺍﻟﻄﺤﺎﻭﻳﺔ، ﻣﻘﺪﻣﺔ، 1-1 )
[111] আলী ইবন আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন আবীল-‘ইয।
ইবনু আবীল ‘ইয নামে প্রসিদ্ধ। দামেশে্কের
বিশিষ্ট হানাফী ফক্বীহ। জন্ম: ৭৩১, ওফাত:
৭৯২হিজরী, ১৩৩১-১৩৯০ ঈসায়ী। (আল-আ‘লাম
৪/৩১৩)
[112] মাশ‘আরে হারাম অর্থ সম্মানী প্রতীক।
বর্ণনার আলোকে কুরআনের মাশ‘আরে হারাম
বলতে মুযদালিফার মাঠ উদ্দেশ্য নিয়েছেন
উলামায়ে কেরাম। কেউ কেউ শুধুমাত্র
মুযদালিফার শেষ প্রান্তে অবস্থিত ছোট
পাহাড়টি উদ্দেশ্য নিয়ে থাকেন। দেখুন: সহীহুল
বুখারী, হজ্জ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: যারা পরিবারের
দুর্বল লোকদের রাতে পাঠিয়ে দেয়
(মুযদালিফা থেকে মিনায়) অতঃপর
তারা রাতে মুযদালিফায় অবস্থান করে এবং দো
‘আ করে..., নং: ১৫৯২, সহীহ মুসলিম, হজ্জ
অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: পরিবারের দুর্বল লোক মহিলা ও
অন্যদেরকে মানুষের ভিড়ের পূর্বে রাতের
শেষভাগের দিকে মুযদালিফা থেকে মিনায়
পাঠিয়ে দেওয়া এবং অন্যরা ফজরের সালাত আদায়
পর্যন্ত মুযদালিফায় অবস্থান করে যিকরে লিপ্ত
থাকা মুস্তাহাব, নং: ৩১৯০, আল্লামা আলুসী, রুহুল
মা‘আনী, সূরা বাক্বারা, আয়াত:১৯৮, তাফসীর
ইবনে কাসীর, সূরা বাক্বারা, আয়াত:১৯৮।
[113] ইবনু আবীল ইয, শরহুল
আক্বীদাতুত্তাহাবীয়্যাহ, শাফা‘আত
প্রসঙ্গ, ১/১৫৪।
[114] শরহুল
আক্বীদাতুত্তাহাবীয়্যাহ, প্রাগুক্ত, জুহুদুল
উলামায়িল হানাফিয়্যাহ
ফি ইব্তালি আক্বায়িদিল ক্বুবুরিয়্যাহ, ৩/১৫১২।
[115] মুফতি ফয়জুল্লাহ, পান্দে নামাহ খাকী, দো
‘আয়ে খাজেগাঁ অপ্রমাণিত, পৃষ্ঠা: ৩৪।
[116] নেয়ামুল কুরআন, ১৯৮।
[117] তিরমিযী, সুনান, উম্মতের
দলাদলি অনুচ্ছেদ, নং: ২৬৪১, হাকীম, আল-
মুসতাদরাদক ‘আলাস-সহীহাইন, ফিতনা ও পরস্পর
লড়াই অধ্যায়, নং:৮৪৪৮, ৪/৫১৬।
[118] নেয়ামুল কুরআন, পৃষ্ঠা:৪৩-৪৪।
[119] প্রাগুক্ত।
[120] সহীহুল বুখারী, তাফসীর অধ্যায়, “ ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ
ﺃﺣﺪ ” এর ফযিলত পরিচ্ছেদ, নং: ৪৭২৬। উল্লেখ্য
বুখারীর আরো একাধিক জায়গায়
হাদীসটি রয়েছে।
[121] সহীহ মুসলিম, কুরআন ফযিলত সমূহ অধ্যায়, “ ﻗﻞ ﻫﻮ
ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ ” পড়ার ফযিলত পরিচ্ছেদ, নং: ১৯২২,
সহীহুল বুখারী, তাফসীর অধ্যায়, “ ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ ” এর
ফযিলত পরিচ্ছেদ, নং: ৪৭২৭। উল্লেখ্য বুখারীর
বর্ণনাটি সামান্য ভিন্ন। বর্ণনাটি এইরূপ,
" ﺃﻳﻌﺠﺰ ﺃﺣﺪﻛﻢ ﺃﻥ ﻳﻘﺮﺃ ﺛﻠﺚ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻓﻲ ﻟﻴﻠﺔ ﻓﺸﻖ ﺫﻟﻚ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﻭﻗﺎﻟﻮﺍ ﺃﻳﻨﺎ ﻳﻄﻴﻖ ﺫﻟﻚ ﻳﺎ
ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ؟ ﻓﻘﺎﻝ: ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﻮﺍﺣﺪ ﺍﻟﺼﻤﺪ ﺛﻠﺚ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ."
[122] ইবনু হাজার, ফাতহুল বারী, প্রাগুক্ত
অধ্যায়, ৯/৫৯।
[123] ইমাম নাওয়াওয়ী, মুসলিমের
ব্যাখ্যাগ্রন্থ, প্রাগুক্ত অধ্যায়।
[124] সহীহ মুসলিম, প্রাগুক্ত, নং: ১৯২৩।
[125] একথার মর্ম হল: যে কোনো নেক আমলের
একটি মূল নেকী রয়েছে, তবে আল্লাহ তা‘আলা তার
দয়ায় এই নেকী কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেন বলে কুরআন ও
হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি। এই
হিসেবে পূর্ণ কুরআন একবার তেলাওয়াত করলে তার
মূল এক ছওয়াব রয়েছে। তেলাওয়াতের
মাঝে ইখলাস, গভীরতা ইত্যাদি অনুযায়ী ব্যক্তি
বিশেষে আল্লাহ তা অনেকগুণ
বাড়িয়ে দিতে পারেন। একবার সূরা ইখলাস
পড়লে এক তৃতীয়াংশের মূল ছওয়াব পাওয়া যাবে।
অতিরিক্তটুকু নয়।
[126] ফাতহুল বারী, প্রাগুক্ত অধ্যায়, ৯/৬০।
[127] আল্লামা জালাল উদ্দীন সুয়ূতী, (৮৪৯-৯১১
হিজরী, ১৪৪৫-১৫০৫ ঈসায়ী) জাম‘উল জাওয়ামি
‘‘য়, মিম হরফের হাদীস, নং ৬২০১, আলাউদ্দীন
আলী ইবন হুসামুদ্দীন আল-মুত্তাক্বী, (৮৮৮-৯৭৫
হিজরী, ১৪৮৩-১৫৬৭ ঈসায়ী) কানযুল উম্মাল,১/৫৯৮।
[128] নুরুদ্দীন আলী ইবনু আবু বাকর আল-হাইসামী
, মাজমা‘উয্যাওয়ায়িদ, সূরা “ ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ
ﺃﺣﺪ ” এবং এবিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে
, নং:১১৫৪০, আলবানী, সিলসিলাতুল আহাদীসিদ্দা
‘য়ীফাহ, ১০/১৩৬, নং: ৪৬৩৪।
[129] সুয়ূতী, তাদরীবুর-রাবী, জালিয়াতের
প্রকার, ১/২৮৭।
[130] শায়খুল ইসলাম আহমদ ইবন আব্দুল হালীম
তাক্বীউদ্দীন ইবনু তাইমিয়া। জন্ম: ৬৬১
হিজরী মোতাবেক ১২৬৩ ঈসায়ী, ওফাত:৭২৮
হিজরী, মোতাবেক ১৩২৮। তিনি মূলত
হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী। বহু গ্রন্থ প্রণেতা।
তাফসীর ও উসুলে তাকে ‘আয়াত’ নিদর্শন বলা হত।
(আল-আ‘লাম:/১৪৪) সমস্ত বিশ্বের আলেমদের
কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা, সহীহ আকীদার
দওয়াত, প্রচার, প্রসারের ক্ষেত্রে তার
তুলনা অত্যন্ত দুর্লভ।
[131] ইব্নু তাইমিয়া, আল-মানহাজুল ক্বাওয়ীম
ফি ইখতিছারি ‘ইক্বতিদ্বায়ুসসিরাতিল
মুস্তাক্বীম’, কিছু বস্তুর প্রতিক্রিয়ার
আলোচনা যা অনেক সময় কম জ্ঞানী ও দুর্বল
ধার্মিক ব্যক্তির জন্য ফিতনা হয়, এমনকি তার
জ্ঞান ছিনিয়ে নিয়ে যায়, ১/৯৬।
[132] প্রাগুক্ত, ১/৯৭।
[133] দেখুন: সূরা আনকাবুত, আয়াত:
৬৫, লুক্বমান, আয়াত: ৩২।
[134] প্রখ্যাত হাদীস গবেষক ড. খোন্দকার
আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গির, হাদীসের
নামে জালিয়াতী, পৃষ্ঠা: ৬২০।
তথা আহলুস্সুন্নাহ ওয়াল জামাতের
আলেমদেরকে সর্বদা সহীহ হাদীসকেই গ্রহণ
করতে এবং অন্যান্য ভেজালযুক্ত
হাদীসকে চিহ্নিত করে প্রত্যাখ্যান
করতে দেখা গেছে। জানা অবস্থায় কেউই সহীহ
হাদীস ছাড়া অন্য কোনো হাদীস গ্রহণ করতেন না।
সহীহ হাদীস ছাড়া শরীয়তের বিষয়াদি প্রমাণ
করতেন না। ইমাম বুখারী তাঁর এই রচনায় সহীহ
গ্রহণের প্রচেষ্টায় পূর্ণ সফল হয়েছেন বলে সমস্ত
উলামায়ে মুহাদ্দিসীন যাচাই ও
পরীক্ষা নিরীক্ষার পর স্বীকৃতি দিয়েছেন।
তিনি তার চেষ্টায় সফল হওয়ায় সারা বিশ্বের
আনাচে কানাচে তাঁর কিতাবের সুনাম, সুখ্যাতি ও
মূল্যায়ন ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর কিতাব দল মত
নির্বিশেষে সর্বজনের কাছে ‘আসাহ্হুল কুতুব বা
‘দা কিতাবিল্লাহ’ বা কুরআনের পর সর্বোচ্চ বিশুদ্ধ
কিতাব হিসেবে ভূষিত হয়। এর মত
আরেকটি কিতাব ‘সহীহ মুসলিম’ ছাড়া অন্য সব
কিতাবের হাদীস যাচাই
করে নেওয়াকে মুহাদ্দিসীনে কেরাম
জরুরী মনে করলেও তাঁর এ কিতাবের
হাদীসগুলো নির্বিচারে গ্রহণের অনুমোদন দেন।
এই হলো ‘সহীহুল বুখারী’ বা আমাদের
মাঝে ‘বুখারী শরীফ’ হিসেবে পরিচিত কিতাবের
অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সারকথা। অত্যন্ত
সংক্ষেপে আমরা যে সার কথাটি জানলাম
তা হলো,
*‘সহীহুল বুখারী’ মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল বুখারীর
লিখিত একটি হাদীসের কিতাব।
* এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
বিপুল সংখ্যক বিশুদ্ধ হাদীসের এক বিশাল
ভাণ্ডার রয়েছে।
* তাঁর কিতাবের সমস্ত হাদীস বিশুদ্ধ
বলে মুহাদ্দিসীনে কেরামের
কাছে স্বীকৃতি পেয়েছে।
* যাচাই বা নিরীক্ষা ছাড়াও আমরা তাঁর
কিতাবের হাদীস গ্রহণ করতে পারি।
তাঁর কিতাবের হাদীসগুলো সহীহ জানার পর
এখন আমাদের করণীয় কী? এই প্রশ্নের উত্তর
আহলুস্সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আলেমদের
কাছে একটিই। আর তা হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
শিক্ষা মোতাবেক আমাদের করণীয়:
* হাদীসগুলো থেকে আমাদের জ্ঞান আহরণ
করতে হবে।
* বেশি বেশি এই হাদীসগুলোর চর্চা করতে হবে।
* হাদীসগুলো নিজে বুঝা এবং অপরকে বুঝানোর
চেষ্টা করতে হবে।
* হাদীসগুলো মুখস্থ করা, বর্ণনা করা, তার প্রচার
প্রসার করতে হবে। হাদীসের ক্ষেত্রে এই
হলো রাসূলের শিক্ষা। সাহাবায়ে কেরামের
জীবন থেকেও আমরা এই শিক্ষাই দেখতে পাই।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
স্বীকৃত খাইরুল কুরুনেও এই ছিল হাদীসের
ক্ষেত্রে তাদের আচরণ।
এর বিপরীত ঈসালে ছওয়াবের জন্য হাদীস
তেলাওয়াত করা, অসুস্থ
হলে বা যে কোনো বিপদে মুসিবতে পড়লে হাদীস
পাঠ করে দো‘আ করার কোনো নজীর না রাসূলের
শিক্ষায় রয়েছে, না সাহাবিদের জীবনে রয়েছে
, না খাইরুল কুরুনে রয়েছে। কিন্তু
কে বা কারা কুরআনের মত বিভিন্ন বাহানায় এই
কিতাবের হাদীসকে তাদের অর্থ উপার্জনের
জন্য ‘খতমে বুখারী’ নামে এই প্রসিদ্ধ ‘সহীহুল
বুখারী’ কিতাবের খতম বের করেছে তার
কোনো হদীস না থাকলেও আমাদের
মাঝে তা অত্যন্ত প্রসার লাভ করেছে। এই
কিতাবের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে দো‘আ
করলে নাকি দো‘আ কবুল হয়। রাসূলের
বাণী ছাড়া এমন কথা বলার সাহস আমরা কী-
ভাবে পাই তাতে অবাক লাগে। এর নাম আল্লাহ ও
তার রাসূলের উপর মিথ্যা অপবাদ নয় কি? আমাদের
বাস্তব জীবনে এই কিতাবের হাদীসের তেমন
একটা গুরুত্ব না দেখা গেলেও রাসূল সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শিক্ষার
উল্টো বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহ এবং এই
বিপরীতমুখি শিক্ষার দিকে মানুষকে উদ্বুদ্ধ
করতে দেখা যায়। পেটপূজারী বা আলেম
নামে অজ্ঞ কোনো ব্যক্তি হয়তো এর
সূচনা করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে খাইরুল কুরুনের
বিপরীত কর্ম কী-ভাবে বর্তমান আহলুস্সুন্নাহ
ওয়াল জামাত দাবীদার আলেমদের মাঝে প্রচলন
লাভ করে তা ভেবে পাওয়া মুশকিল। অর্থের লোভ
ছাড়া বাহ্যত আর কোনো কারণ না দেখে গেলেও
এতসব আলেমকে এদিকে সম্পৃক্ত করাটাও দুস্কর।
আল্লাহই ভাল জানেন।
কথিত রয়েছে, ইমাম বুখারী রাহ. না কি এই
কিতাব শেষ করে দো‘আ করেছিলেন। এই বাহানায়
এই কিতাবের খতমের দিকে উদ্বুদ্ধ করা হয়ে থাকে।
পাঠক, এই কথাকে আপনি নিজের বিবেক
খাটিয়ে একটু চিন্তা করে বুঝুন। ইমাম বুখারী রাহ.
এত বছরের সাধনায় যে কর্ম করেছেন তা তাঁর
একটি নেক আমল। কুরআন ও হাদীসের ভাষায়
যা ‘আমলে সালেহ’ । তাঁর
কর্মটি যে ‘আমলে সালেহ’ এতে কোনো সন্দেহ
নেই। হাদীসের মাধ্যমে আমরা তা প্রমাণ করেছি।
‘আমলে সালেহ’ বা নেক কর্মের
মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে।
আমলে সালেহের পর দো‘আ কবুল হয় বলে হাদীস
থেকে আমরা জানতে পারি। তাই বুখারী রাহ. এর
জন্য এটা করা স্বাভাবিক।
তবে একথা মনে রাখতে হবে যে,
‘আমল’ কোনটি সালেহ আর কোনটি সালেহ নয়
তা সম্পূর্ণ তাওক্বীফী বা নুসূস নির্ভর বিষয় ।
ওহির বাইরে যুক্তি দিয়ে এ বিষয়ে কিছু বলার
সুযোগ নেই। ইমাম বুখারী রাহ. এর
কর্মটি আমলে সালেহ হওয়ার বেলায় রাসূল
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর
বাণী রয়েছে। কিন্তু আমাদের এই কর্ম
কি তাই? তার কর্ম আর আমার কর্ম কি এক? রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
কখনো এমনটি করতে বলেছেন? সাহাবিরা কখনো
এমনটি করেছেন? এসবের উত্তর যদি ‘না’ হয়
তবে কোন বাহানায় আমরা এ ধরণের কর্মের
বৈধতা দেই? না কি উপার্জনের
স্বার্থে হালালকে হারাম করার মত পাণ্ডিত্য ও
যোগ্যতা আমরা অর্জন করেছি?
এই খতমের প্রতি উৎসাহিত করার জন্য
আরো বলা হয়ে থাকে যে, ইমাম বুখারী রাহ.
নাকি এই কিতাবের কাজ সমাপ্তির পরে আল্লাহর
কাছে দো‘আ করেছিলেন যে, যে ব্যক্তি তাঁর এই
কিতাবটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে দো‘আ
করবে আল্লাহ যেন তাঁর দো‘আ কবুল করেন। এ
থেকেই নাকি এই খতমের সুত্রপাত। পাঠক, এই
কথাটি আপনি কী হিসেবে দেখেন? বুখারী রাহ.
এর কিতাব রচনার প্রেক্ষাপটের নির্ভরযোগ্য
কোনো কিতাবে আপনি এমন কোনো কথা পাবেন
না। ‘সহীহুল বুখারী’ রচনার কয়েক শতাব্দী পর
পর্যন্ত ইমাম বুখারী রচিত এ গ্রন্থের চর্চা, তার
খেদমত অত্যন্ত ব্যাপক হারে হলেও খতমের নজীর
দেখবেন না। এ থেকেই এসব কিছু যে বানানো গল্প
তা অতি সহজে অনুমেয়। তা ছাড়া বুখারী রাহ. এর
মত বিশুদ্ধ আকীদার ধারক ব্যক্তির দিকে এমন
কথার অপবাদ দেওয়া কতটুকু গ্রহণযোগ্য
তা বিবেকের কাছে প্রশ্ন। ইমাম বুখারী রাহ.
তিনি কি শারি‘ তথা শরীয়ত প্রবর্তক? তিনি এমন
কথা বললে তা অনুসরণযোগ্য হবে? নাকি তার
আক্বীদা প্রশ্নবিদ্ধ হবে? যাই হোক
আমরা অযথা অনির্ভরযোগ্য কোনো কথার উপর
ভিত্তি করে ইমাম বুখারী রাহ. এর
ব্যক্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারি না। আমরা এই
কথাগুলোকেই অসার বলে ধরে নেই।
বুখারী পড়ে দো‘আ কবুল হলে রাসূলের অন্য সব
হাদীসের কি দোষ? নাকি আপনার অভিজ্ঞতায়
অন্য হাদীস পড়ে দো‘আ করলে তা কবুল হয় না, শুধু এই
কিতাবের হাদীস পড়লে দো‘আ কবুল
হয়? সাহাবিরা যে সব হাদীস জানতেন তা তাদের
কাছে হাদীস বলে সন্দেহ ছিল নাকি
? নাকি তারা এ ব্যাপারে অজ্ঞ
ছিলেন? নাকি তাদের কারো জীবনে কোনদিন
কোনো বিপদ মুসিবত আসে নি? তারা একটি দিনও
একটি হাদীস পড়ে দো‘আ করলেন না তার কারণ কি
?
মোটকথা, অভিজ্ঞতার নামে রাসূলের শিক্ষার
বাইরে আমাদের কিছু বলার অধিকার নেই।
পাঠক, আশা করি আমরা এই বুখারী খতমের
তাৎপর্য বুঝতে পেরেছি। এতো হলো শুধুমাত্র মূল
খতমের বিষয়। অর্থাৎ এটি একটি রাসূলের
শিক্ষা বিরোধী কর্ম। যার কোনো নজীর
বা দৃষ্টান্ত সোনালী যুগে নেই।
অপরদিকে খতমে কুরআনের বেলায়
তা খেলাফে সুন্নাহ হওয়া ছাড়া আরো যে সমস্ত
অতিরিক্ত খারাবী উল্লেখ করা হয়েছিল তার
অনেকটা এই খতমে বুখারীতেও রয়েছে।
কয়েকটি ক্ষেত্রে তা খতমে কুরআনের তুলনায়
অধিক। যেমন:
* কুরআন খতম করা বুখারী খতমের তুলনায় অনেক
সহজ। তাই কুরআন সাধারণত খতম তথা পড়ে শেষ
করা হয়। খতম না করে মিথ্যা বলার
ধোকা কুরআনের বেলায় কম হয়।
পক্ষান্তরে বুখারী পুরো পড়া অনেক কঠিন। তাই
এখানে খতমের আয়োজকের জিজ্ঞাসার
উত্তরে খতম হয়ে গেছে বলে মিথ্যার ধোকা প্রায়ই
অপরিহার্য বলে দেখা যায়।
* কুরআন সাধারণত আলেম বলতেই সবাই
পড়তে পারে। তাই তাজবীদ, সিফাত, হক্ব আদায়
করে তেলাওয়াত বা অতি দ্রুত তেলাওয়াতের
ত্রুটি ছাড়া সাধারণত শব্দ ভুলের ত্রুটি হয় না।
পক্ষান্তরে বিজ্ঞ আলেম ছাড়া অনেকেই হাদীস
পড়তে পারে না। টাকার স্বার্থে খতমে অংশ
নিয়ে সে আল্লাহর রাসূলের বাণীকে তার মনমত
ভুল উচ্চারণ করে। এমন ভুলকেও
মুহাদ্দিসীনে কেরাম রাসূলের উপর মিথ্যা বলার
অপরাধ বলে গণ্য করেছেন।
* ইতোপূর্বে বলেছি যে, বুখারী অধিকাংশ সময়ই
খতম হয় না। একজনের অংশ শেষ হলেও আরেকজন
তার নির্ধারিত অংশ শেষ করতে পারে না।
এক্ষেত্রে মানুষের
সাথে মিথ্যা বলা ধোকা দেওয়ার
সাথে সাথে দো‘আর সময় আল্লাহর
সাথে মিথ্যা বলতে অনেক দিন লক্ষ্য করা গেছে।
যেমন. দো‘আয় বলা হয়, ‘‘আল্লাহ, এই আমাদের
বুখারী খতমকে...’’ ‘‘ যে খতম
করা হয়েছে...’’ ইত্যাদি।
* হাদীসে রাসূল (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পড়া অবস্থায় অনর্থক
গল্পগুজব, হাসিঠাট্টা
, ঢং তামাশা থেকে সাধারণত কোনো মজলিসই
খালি থাকে না। একমাত্র খতমের আয়োজক
সামনে থাকলে তাঁর ভয় বা সম্মানে নিশ্চুপ
পড়া হয়। হাদীসের সাথে বেয়াদবী ছাড়া এ সবের
নাম কি দেওয়া যায়?
* এই খতমে মাঝে মধ্যে সবচেয়ে বড় আপত্তিকর
যে বিষয়টি সংঘটিত হয় তা হলো, আল্লাহ
ছাড়া অন্যের নাম জপের মাধ্যমে বরকত গ্রহণ
যা সম্পূর্ণরূপে শির্ক। কেননা বরকতের জন্য
কারো নাম জপ করা তাঁর ইবাদত বা আর্চনার
শামিল। বরকতের জন্য একমাত্র আল্লাহর নামই
নেওয়া যায়। তাই বরকতের জন্য আল্লাহ
ছাড়া কারো নাম এমনকি রাসূল সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিলেও শির্কের গোনাহ্
কাঁধে বহন করতে হবে। কিন্তু অনেক সময়
খতমে বুখারীর অনুষ্ঠানের
শেষদিকে আসহাবে বদরিয়্যিন অর্থাৎ বদর
যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবাগণ সম্বলিত
হাদীসটি সবাইকে শুনিয়ে পূনরায় পড়া হয়। তাদের
নাম নেওয়ার কারণ হিসেবে বরকতের কথা উল্লেখ
করা হয় এবং পরবর্তীতে তাদের নামের দোহাই
দিয়ে দো‘আ করা হয়। কারো দোহাই দিয়ে দো‘আর
ব্যাপারটি খতমে তাসমিয়াতে আমরা আরেকটু
বিস্তারিত জানব ইনশাআল্লাহ। এখানে শুধু এটুকু
বলতে চাই যে, বরকতের জন্য আল্লাহ
ছাড়া কারো নাম নেওয়া শির্ক।
সত্য সন্ধানী নিঃস্বার্থ ব্যক্তির জন্য এই
খতমের তাৎপর্য বুঝতে আর কোনো বেগ
পেতে হবে না বলে আশা করি। আল্লাহ সর্বপ্রথম
আমাকে অসংখ্য এসব মজলিসে শরীক হওয়ার
কারণে যে সব গুনাহ সংঘটিত
হয়েছে তা থেকে ক্ষমা করুন এবং আমি সহ
সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। স্বার্থের জন্য
দীনকে জলাঞ্জলি দেওয়া থেকে আমাকে এবং
সবাইকে বিরত রাখুন। আমীন।
খতমে না-রী
‘খতমে নারী’ বা ‘দুরুদে নারীয়াহ’ । মানুষের
বানানো দুরুদের নামে নির্দিষ্ট কিছু বাক্য। এই
বাক্যগুলো ৪৪৪৪ বার পড়লে এই খতম হয়। কথিত
আছে এই খতম পড়লে নাকি আগুন যেমন
কোনো বস্তুকে ভস্মীভূত করে দেয় ঠিক তদ্রূপ এই
খতমও বিপদ আপদকে ভস্মীভূত
করে দূরে সরিয়ে দেয়। তাই এই খতমের নাম
আরবী শব্দ ‘‘ ﻧﺎﺭ’’ যার অর্থ আগুন, এই অর্থের
দিকে সম্পৃক্ত করে এর নাম ‘খতমে নারী
’ বা ‘দুরুদে নারী’ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই খতমের
উৎপত্তি কোথা থেকে? এর প্রথম আবিষ্কারক কে
? এতে যে দো‘আ পড়া হয় তার মর্ম কী
? অনেকে একে দুরুদে নারী নাম দেন, একে দুরূদ
নামে নামকরণ করা অদৌ বৈধ কি না
? তা জানা না থাকলেও কারো কারো কথায়
আমরা এমন কাজের পিছে দৌড়াই। এতে যেমন
কান্না পায় আবার হাসিও পায়। অথচ দুনিয়ার
সাধারণ একটি বিষয় হলেও আমরা অনেক যাচাই
বাছাই করে অগ্রসর হই। ডাক্তারের কথা শুনলেই
দৌড়াই না, বরং পূর্বে তার সম্পর্কে অবগত হওয়ার
চেষ্টা করি। অথচ ধর্মীয়
বিশ্বাসে বিশ্বাসী হয়ে একটি আমল
করছি বা করাচ্ছি আর একবারও ভেবে দেখছি না।
এসব হচ্ছে ঈমান আক্বীদার বিষয়ে আমাদের
শৈথিল্য আচরণের বহিঃপ্রকাশ। প্রশ্ন হলো
, যিনি আমাকে এই খতম পড়ানোর জন্য উৎসাহিত
করলেন তিনি তার কতটি রোগ বালাই এই দুরূদ
দ্বারা সমাধান করেছেন? নাকি হাসপাতাল আর
ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়েছেন? এই দুরুদের এত
অ্যাক্শন হলে তিনি নিজে বিভিন্ন
সময়ে বিপদে জর্জরিত হয়ে তা দূর করার জন্য অন্য
পথ খোঁজেন কেন? জানা দো‘আটি পড়ে ফেললেই
তো হয়। আফসোস, যার নিজের আস্থা এই দুরূদের
উপর নেই, থাকার কথাও
নয়, তিনি কীভাবে মানুষকে এটি পড়ানোর উপদেশ
দেন? অপরদিকে আমাদের
পাগলামী দেখে আফসোস হয় যে, আমরা কী-
ভাবে এমন কথা গ্রহণ করি? ঔষধ মনে করলেও
খাবে একজন আর ভাল হবে আরেকজন? এইটুকু বোঝার
কি বিবেক আমাদের নেই?
যাই হোক এবার আমরা মূল
বিষয়ে আসি এবং জানার চেষ্টা করি খতমে না-
রী কী? এবং তা পড়া বা পড়ানো কতটুকু সমীচীন?
প্রথমেই মানুষের বানানো দো‘আটি ও তার
অর্থ উল্লেখ করছি। সত্যসন্ধানী ব্যক্তি অর্থের
দিকে একটু মনোনিবেশ করলেই দো‘আটির তাৎপর্য
এবং এমন দো‘আ পড়া কতটুকু সিদ্ধ
তা বুঝে নিতে পারবেন। দুরুদের
নামে আরবী যে বাক্যগুলো পড়া হয় তা নিম্নরূপ:
"ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺻَﻞِّ ﺻَﻼﺓً ﻛﺎﻣِﻠَﺔً ﻭﺳَﻠِّﻢْ ﺳَﻼﻣًﺎ ﺗﺎﻣًّﺎ ﻋﻠﻰ ﺳَﻴِّﺪﻧﺎ ﻣﺤﻤﺪٍ ﺍﻟﺬﻱ
ﺗَﻨْﺤَﻞُّ ﺑﻪ ﺍﻟﻌُﻘَﺪُ، ﻭﺗَﻨْﻔَﺮِﺝُ ﺑﻪ ﺍﻟﻜُﺮَﺏُ ﻭﺗُﻘﻀﻰ ﺑﻪ ﺍﻟﺤﻮﺍﺋﺞُ ﻭﺗُﻨﺎﻝُ ﺑﻪ
ﺍﻟﺮﻏﺎﺋﺐُ ﻭﺣُﺴْﻦُ ﺍﻟﺨﻮﺍﺗِﻢِ ﻭﻳُﺴْﺘﺴﻘﻰ ﺍﻟﻐﻤﺎﻡُ ﺑﻮﺟﻬﻪ ﺍﻟﻜﺮﻳﻢ، ﻭﻋﻠﻰ ﺁﻟﻪ
ﻭﺻﺤﺒﻪ ﻓﻲ ﻛﻞ ﻟﻤﺤﺔ ﻭﻧﻔﺲ ﺑﻌﺪﺩِ ﻛﻞ ﻣﻌﻠﻮﻡ ﻟﻚ."
‘‘হে আল্লাহ পরিপূর্ণ রহমত ও পূর্ণ
শান্তি বর্ষিত কর আমাদের সরদার
মুহাম্মদের উপর যার
মাধ্যমে সমস্যাসমূহ সমাধান হয়, দুঃখ
দুর্দশা তিরোহিত
হয়, প্রয়োজনাদি মিটিয়ে দেওয়া হয়,
পূণ্যাবলী ও সুন্দর শেষ পরিণাম
অর্জিত হয়, তার পবিত্র চেহারা/
সত্তার মাধ্যমে বৃষ্টি কামনা করা হয়।
আর রহমত বর্ষণ কর তার পরিবার ও তার
সাহাবায়ে কেরামের উপর তোমার
জানা সংখ্যানূযায়ী,
প্রতিটি মুহুর্তে ও নিঃশ্বাসে ’’
সচেতন ও সত্যসন্ধানী আলেমকে এ দুরুদের
সমস্যা ব্যাখ্যা করে বুঝাবার প্রয়োজন নেই।
জ্ঞানী ব্যক্তি মাত্র দুরূদটির শব্দ বা অর্থের
প্রতি একটু খেয়াল দিলেই এর
সমস্যা বুঝতে পারবেন। খতমটিতে যেহেতু অনেক
আপত্তিকর শব্দ বা বাক্য রয়েছে তাই এর
আপত্তিগুলো কোনো পর্যায়ের নিজ বিবেক
দিয়ে একটু গভীরভাবে চিন্তা করলেই বুঝা যাবে।
সবাই সহজে বোঝার জন্য প্রথমে প্রাসাঙ্গিক
কিছু কথা বলার প্রয়োজন বোধ করছি, যাতে করে এর
তাৎপর্য বুঝা আমাদের জন্য সহজ হয়।
আল্লাহতে বিশ্বাসী মানুষ বলতেই
একথা বিশ্বাস করেন যে, সবকিছুর মূল
সমাধানকারী বা পরিচালনাকারী একমাত্র
আল্লাহ তা‘আলা । আল্লাহতে বিশ্বাসী মুসলিম
অমুসলিম সকলেই এ বিশ্বাস পোষণ করেন।
তবে মুসলিম ব্যক্তির বিশ্বাস আর আস্তিক
বিধর্মীর বিশ্বাসের মাঝে পার্থক্য এই যে
, মুসলিম মনে করেন আল্লাহ কোনো কিছুর সমাধান
বা পরিচালনা করতে কারো মুখাপেক্ষী নন। তার
কাছে কিছু
চাইতে কোনো ব্যক্তিকে মিডিয়া বানাবার
দরকার পড়ে না। পক্ষান্তরে অমুসলিমের বিশ্বাস
হলো, বাদশা যেমন রাষ্ট্র পরিচালনায় বিভিন্ন
ব্যক্তির মুখাপেক্ষী থাকেন আল্লাহও এরকম
মুখাপেক্ষী । বিশেষ ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ যেমন
সরাসরি বাদশাহর কাছে কোনো কিছু
চাইতে পারে না, মিডিয়ার প্রয়োজন হয়, ঠিক
তদ্রূপ আল্লাহও সবাইকে চিনেন না, তাঁর
কাছে সরাসরি পৌছা যায় না, তাই তাঁর
কাছে কিছু চাইতে হলে বিশেষ
ব্যক্তিকে মিডিয়া বানানো প্রয়োজন। কুরআনের
অসংখ্য আয়াতে তাদের এসব বিশ্বাস
বর্ণনা করা হয়েছে, যেগুলো থেকে তাদের এমন
বিশ্বাসের প্রমাণ পাওয়া যায়। মক্কার সমস্ত
কাফের এ ধরণের বিশ্বাস পোষণ করত। মূল
পরিচালনায় তারা আল্লাহকে বিশ্বাস করত
বলে কুরআনের একাধিক আয়াতে এর প্রমাণ মিলে।
মূর্তির পূজা করলেও মূর্তিকে তারা মূল
পরিচালনাকারী বলে বিশ্বাস করত না। তাদের
নিজের মুখের কথা ছিল,
﴿ ﻣَﺎ ﻧَﻌْﺒُﺪُﻫُﻢْ ﺇِﻟَّﺎ ﻟِﻴُﻘَﺮِّﺑُﻮﻧَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺯُﻟْﻔَﻰ ﴾ ( ﺍﻟﺰﻣﺮ 188: )
‘‘আমরা তাদের ইবাদত কেবল এ জন্য
করি যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর
নিকটবর্তী করে দেয়’’ [79]
সবকিছুর ক্ষমতা, রক্ষা, সৃষ্টি
, রিযিক, পরিচালনা ইত্যাদির মূল কর্তৃত্ব আল্লাহর
হাতে বলে তাদের বিশ্বাস ছিল। কুরআনে অসংখ্য
জায়গায় এর আলোচনা করা হয়েছে। মূল কর্তৃত্ব
আল্লাহর হাতে স্বীকার করার পর অন্য কিছুর
ইবাদত বা অন্যকিছুকে আল্লাহর অংশীদার
করা অযৌক্তিক বলে কুরআনে বারবার
দেখানো হয়েছে।
মোটকথা তারা যে সমস্ত মাখলুক বা নেক
মানুষের ইবাদত করত ওসিলা হিসেবেই করত। কিন্তু
যা ওসিলা হওয়ার
যোগ্যতা রাখে না তাকে ওসিলা হিসেবে গ্রহণ
বা বিশ্বাস করাকে আল্লাহ তা
‘আলা কুরআনে শির্কের মাধ্যম বা শির্ক বলেই
আখ্যায়িত করেছন। অপরদিকে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম শির্কের সমস্ত পথকে বন্ধ
করেছেন। রাসূলকেও যাতে কেউ কোনো বাহানায়
আল্লাহ পর্যন্ত না পৌছায়, আল্লাহর
কোনো গুণাবলীতে শরীক না করে, এ
ব্যাপারে উম্মতকে সর্বোচ্চ সতর্ক করেছেন।
উম্মতকে এ ব্যাপারে সতর্ক করার নির্দেশ
স্বয়ং আল্লাহর পক্ষ থেকে ছিল। আল্লাহ বলেন,
﴿ﻗُﻞْ ﻻ ﺃَﻣْﻠِﻚُ ﻟِﻨَﻔْﺴِﻲ ﻧَﻔْﻌًﺎ ﻭَﻻ ﺿَﺮًّﺍ ﺇِﻻ ﻣَﺎ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ...﴾ (ﺍﻻﻋﺮﺍﻑ 188: )
‘‘হে নবী আপনি বলে দিন, আমি আমার
নিজের কল্যাণ সাধনের এবং অকল্যাণ
সাধনের মালিক নই...’’ [80]
অন্যত্র এরশাদ হয়েছে,
﴿ ﻭَﺇِﻥْ ﻳَﻤْﺴَﺴْﻚَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻀُﺮٍّ ﻓَﻠَﺎ ﻛَﺎﺷِﻒَ ﻟَﻪُ ﺇِﻟَّﺎ ﻫُﻮَ ﻭَﺇِﻥْ ﻳُﺮِﺩْﻙَ ﺑِﺨَﻴْﺮٍ ﻓَﻠَﺎ
ﺭَﺍﺩَّ ﻟِﻔَﻀْﻠِﻪِ ... ﴾ ( ﻳﻮﻧﺲ 107: )
‘‘আর আল্লাহ যদি আপনার উপর
কোনো কষ্ট আরোপ করেন
তবে তিনি ছাড়া কেউ তা খণ্ডাবার
নেই, পক্ষান্তরে যদি তিনি আপনাকে
কিছু কল্যাণ দান করেন তবে তার
মেহেরবানীকে রহিত করার মতও কেউ
নেই...’’ [81]
এ মর্মের আয়াত কুরআনে অসংখ্য জায়গায়
রয়েছে। আমাদের নবী ছাড়া অন্যান্য
নবী রাসূলেরও এই শিক্ষাই ছিল বলে কুরআনের
বিভিন্ন জায়গা থেকে আমরা জানতে পারি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার
বিষয়ে বাড়াবাড়ি করতে সর্বোচ্চ সতর্ক করেছেন।
আল্লাহর সাথে শির্ক দুরের কথা, তার প্রশংসায়
পর্যন্ত বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন। সহীহ
হাদীসে বর্ণিত রয়েছে, এক
ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, যা আল্লাহ
চেয়েছেন এবং আপনি চেয়েছেন, রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
" ﺃﺟﻌﻠﺘﻨﻲ ﻟﻠﻪ ﻋﺪﻻ ﺑﻞ ﻣﺎ ﺷﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺣﺪﻩ." ( ﻣﺴﻨﺪ ﺃﺣﻤﺪ، ﺣﺪﻳﺚ
ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ، ﺭﻗﻢ 1839: )
‘‘তুমি কি আমাকে আল্লাহর সমতুল্য
করেছ, বরং যা একমাত্র আল্লাহ
চেয়েছেন’’ [82]
" ﻭﻳﻠﻚ ﺍﺟﻌﻠﺘﻨﻲ ﻭﺍﻟﻠﻪ ﻋﺪﻻ ﻗﻞ ﻣﺎ ﺷﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺣﺪﻩ ." ( ﺳﻨﻦ
ﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ ، ﺑﺎﺏ ﺍﻟﻨﻬﻲ ﺃﻥ ﻳﻘﺎﻝ ﻣﺎﺷﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺷﺎﺀ ﻓﻼﻥ )
‘‘তোমার ধ্বংস
হউক, তুমি কি আমাকে আল্লাহর
সাথে সমতুল্য
করেছ? তুমি বল, যা শুধুমাত্র আল্লাহ
চেয়েছেন’’ । [83]
এক হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন,
" ﻻ ﺗﻄﺮﻭﻧﻲ ﻛﻤﺎ ﺃﻃﺮﺕ ﺍﻟﻨﺼﺎﺭﻯ ﺍﺑﻦ ﻣﺮﻳﻢ ﻓﺈﻧﻤﺎ ﺃﻧﺎ ﻋﺒﺪﻩ ﻓﻘﻮﻟﻮﺍ
ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺭﺳﻮﻟﻪ ." ( ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺘﻔﺴﻴﺮ، ﺑﺎﺏ : ﻭﺍﺫﻛﺮ
ﻓﻲ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﻣﺮﻳﻢ ... ﺭﻗﻢ 3261: )
‘‘তোমরা আমার প্রশংসায় সীমালংঘন
করো না, যেমনটি খৃষ্টানরা মারয়ামের
পুত্র ঈসার ক্ষেত্রে করেছে
, কেননা আমিতো আল্লাহর বান্দা
, তাই তোমরা বল আল্লাহর বান্দা ও
তাঁর রাসূল’’ ।[84]
এভাবে শির্কের আপনোদন করেছেন
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম । এবার
আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়াসাল্লামের
শিক্ষা ও ‘খতমে নারী’ নামক দো‘আটির
বাক্যগুলো নিয়ে একটু বিবেচনা করি।
আশা করি যিনি প্রকৃত সত্য জানার আগ্রহ রাখেন
এবং সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর
সাথে সাথে গ্রহণের মানসিকতা রাখেন তার
সামনে এই দো‘আর শির্কী শব্দগুলো অতি সহজেই
ধরা পড়বে। আর যার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে
, যা করছি আজীবন করেই যাব, আমি টলব তবে আমার
বিশ্বাস টলবে না, তার সামনে কুরআনের স্পষ্ট
আয়াত পেশ করলেও
একটি না একটি অজুহাতে তিনি তার মতকে অটুট ও
প্রতিষ্ঠিত রাখতে বর্ণিত দো‘আটি বা কুরআনের
আয়াতের বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
অন্যদের ভ্রান্তির ক্ষেত্রে তিনি আয়াতের
ব্যাখ্যা রাসূল সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী ও তাঁর আমল
অথবা সাহাবিদের আমল দ্বারা করলেও
এখানে এসে নিজের ভ্রান্ত মতকে অটুট
রাখতে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাতের
আদর্শে আদর্শবান আকাবীর আসলাফদের এই
উসূলটি ভুলে যাবেন। হানাফী হলেও আবু
হানিফা রাহ. এর মানহাজ ভুলে যাবেন। কুরআনের
আয়াত দলীল হিসেবে উপস্থাপনের
কারণে সাধারণ মহিলার কথায় উমর রাদিয়াল্লাহু
আনহুর মত খলীফার নিজ সিদ্ধান্ত
থেকে সরে আসার আদর্শ ভুলে যাবেন।
এখানে এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবিদের
আদর্শের চেয়ে নিজ পীর বা নিজের মতের
আলেমের কর্মই অগ্রাধিকার পাবে। যেমনটি রাসূল
গাইব জানেন বা রাসূল হাজির-নাজির এজাতীয়
শির্কী বিশ্বাস পোষণকারীরা তাদের ভ্রান্ত
আক্বীদা প্রতিষ্ঠিত রাখার বেলায় করে থাকে।
যদিও এ সব বিষয় কুরআনে দ্ব্যর্থহীনভাবে উল্লেখ
করা হয়েছে।
একেই আল্লাহ তা‘আলা প্রবৃত্তি ও আলেমকে প্রভু
বানিয়ে তাদের পূজা বলে আখ্যা দিয়েছেন।
কুরআনের আয়াত ও হাদীসের আলোকে এজাতীয়
কর্মকে ‘শিরক ফিল ইবাদত’ বা উপাসনাগত শির্ক
বলে আখ্যায়িত করেছেন আহলুস্-সুন্নাহ ওয়াল-
জামাতের আলেমগণ। আল্লাহ তা‘আলা এরশাদ
করেন,
﴿ ﺃَﻓَﺮَﺃَﻳْﺖَ ﻣَﻦِ ﺍﺗَّﺨَﺬَ ﺇِﻟَﻬَﻪُ ﻫَﻮَﺍﻩُ ﻭَﺃَﺿَﻠَّﻪُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻰ ﻋِﻠْﻢٍ ﻭَﺧَﺘَﻢَ ﻋَﻠَﻰ ﺳَﻤْﻌِﻪِ
ﻭَﻗَﻠْﺒِﻪِ ﻭَﺟَﻌَﻞَ ﻋَﻠَﻰ ﺑَﺼَﺮِﻩِ ﻏِﺸَﺎﻭَﺓً ﻓَﻤَﻦْ ﻳَﻬْﺪِﻳﻪِ ﻣِﻦْ ﺑَﻌْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻓَﻠَﺎ
ﺗَﺬَﻛَّﺮُﻭﻥَ ﴾ ( ﺍﻟﺠﺎﺛﻴﺔ 23: )
‘‘আপনি কি তাঁর প্রতি লক্ষ্য
করেছেন, যে তার প্রবৃত্তি তথা মনের
খেয়াল খুশিকে স্বীয় উপাস্য স্থির
করে নিয়েছে। আল্লাহ
জেনেশুনে তাকে পথভ্রষ্ট
করেছেন, তার কানে ও অন্তরে মোহর
এঁটে দিয়েছেন এবং তার চোখের উপর
রেখেছেন পর্দা। আল্লাহ
ছাড়া কে তাকে হেদায়াত করবে
? তোমরা কি চিন্তা ভাবনা করো না
?’’ [85]
অন্যত্র এরশাদ করেন,
﴿ ﺍﺗَّﺨَﺬُﻭﺍ ﺃَﺣْﺒَﺎﺭَﻫُﻢْ ﻭَﺭُﻫْﺒَﺎﻧَﻬُﻢْ ﺃَﺭْﺑَﺎﺑًﺎ ﻣِﻦْ ﺩُﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺍﻟْﻤَﺴِﻴﺢَ ﺍﺑْﻦَ ﻣَﺮْﻳَﻢَ
ﻭَﻣَﺎ ﺃُﻣِﺮُﻭﺍ ﺇِﻟَّﺎ ﻟِﻴَﻌْﺒُﺪُﻭﺍ ﺇِﻟَﻬًﺎ ﻭَﺍﺣِﺪًﺍﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﻫُﻮَ ﺳُﺒْﺤَﺎﻧَﻪُ ﻋَﻤَّﺎ
ﻳُﺸْﺮِﻛُﻮﻥَ ﴾ ( ﺍﻟﺘﻮﺑﺔ 31: )
‘‘তারা আল্লাহ ব্যতীত তাদের পণ্ডিত ও
সংসার-বিরাগীদের এবং মারয়াম তনয়
ঈসাকে তাদের পালনকর্তারূপে গ্রহণ করেছে, অথচ
তাদেরকে নির্দেশ করা হয়েছিল শুধুমাত্র এক প্রভুর
ইবাদত করতে। একমাত্র তিনি ছাড়া কোনো মা‘বুদ
নেই। তারা আল্লাহর যে সমস্ত শরীক সাব্যস্ত
করে তা থেকে তিনি পবিত্র’’[86] । এই
দুরুদে একমাত্র আল্লাহ করতে পারেন এমন যাবতীয়
সিফাত বা গুণাবলীতে রাসূলকে শরীক
করা হয়েছে। মাধ্যম হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিডিয়া বা মাধ্যম
হিসেবে আল্লাহর শরীক করা হয়েছে। তাই মাধ্যম
হিসেবে রাসূল সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নাম উল্লেখ করায়
শির্কের মাঝে কোনো তারতম্য সৃষ্টি হবে না।
কুরআনের অসংখ্য আয়াত এবং অগণিত হাদীস এর
প্রমাণ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বোঝার
তওফিক দান করুন এবং হেদায়াতের উপর অবিচল
রাখুন।
অজুহাত ও তার পর্যালোচনা
একটি দো‘আ বা আরবী বাক্যকে দুরূদ
বলতে উচিত ছিল এটা জানা যে, এই
দুরূদটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
পড়তেন কি না
, জীবনে কোনো সাহাবীকে শিক্ষা দিয়েছিলেন
কি না, অথবা কোনো সাহাবা দুরূদ হিসেবে এই
বাক্যগুলো পড়তেন কি না তা দেখা।
বিপদে আপদে তারা কোনোদিন এই দো
‘আকে আমলে এনেছেন কি না লক্ষ্য করা।
কোনো সাহাবা থেকে বিশুদ্ধ সুত্রে এই দুরূদ
পেলে আমরা ধারণা করে নিতাম, নিশ্চয়
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
তাকে এটি শিক্ষা দিয়েছেন।
কেননা আমরা বিশ্বাস করি যে
, সাহাবায়ে কেরাম ইবাদতের ক্ষেত্রে নিজ
থেকে কিছু বলেন না। এর কোনোটি না পেলে এই
দো‘আ বর্জনের জন্য আমাদের অন্য কিছু দরকার
পড়ে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর পড়ার জন্য
আমাদেরকে বিভিন্ন দুরূদ ফযিলত সহ
বর্ণনা করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের
শিখানো দুরূদগুলো কি আমাদের জন্য যথেষ্ট
নয়? মূলত যিনি ধর্মীয় বিশ্বাসের সকল
ক্ষেত্রে রাসূলের শিক্ষাকে যথেষ্ট মনে করেন
তার জন্য আর অন্য দুরূদের প্রয়োজন নেই। অন্য দুরূদ
জায়েয করতে তার মাথা ঘামাবার সময় নেই। তার
কথা হবে, আমার নবী করেন নি, নবীর
হাতেগড়া ছাত্ররা করেন নি, আমি তা করব না।
কিন্তু হুবহু সুন্নাতের উপর থাকার আসলাফের সেই
জযবা আমাদের থেকে হারিয়ে যাওয়ার
কারণে ইবাদতগত বা বিশ্বাসগত নতুন কিছু আসলেও
আমাদেরকে জায়েয না-জায়েযের বাহাসে লিপ্ত
হতে হয়। আবু হানিফা রাহ. এর
অনুসারী দাবী করলেও
হানিফী মানসিকতা হারিয়ে যাওয়ার
কারণে নতুন আলোচনার প্রয়াস পায়। বিভিন্ন
ওজুহাতে আমরা নব উদ্ভাবিত আমলকে জায়েয
করার চেষ্টা করি। খতমে না-রীও এর বিপরীত নয়।
বিভিন্ন সময় এই দো‘আটির আপত্তিকর
দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করলে যে অজুহাতগুলো
পেশ করতে দেখা গেছে শুধু সেগুলো নিয়ে একটু
পর্যালোচনা করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহর তওফিক কাম্য।
প্রথমেই যে অজুহাত পেশ করা হয় তা হলো
, আমরা রাসূলকে কেবল মাধ্যম মনে করি মাত্র।
এখানে শির্কের কোনো প্রশ্নই আসে না।
মাধ্যমে মনে করলেই শির্ক
হতে পারে না একথা কতটুকু
শুদ্ধ, তা আমরা ইতোপূর্বে জানতে পেরেছি।
আমরা অবশ্যই বুঝতে পেরেছি যে, মাধ্যম মূলতই
শির্ক অথবা শির্কের পথ।
কেননা কারো সমস্যা সমাধান করতে, দুঃখ
দুর্দশা দূর করতে, প্রয়োজন মিটাতে
, বৃষ্টি দিতে আল্লাহ কোনো মিডিয়ার
মুখাপেক্ষী নন। এবার আমাদের দো‘আটির
বিষয়ে আসা যাক। মোটকথা কর্মের যোগসূত্র যার
সাথেই রয়েছে সেটিই মাধ্যম, যে কোনোভাবে এই
যোগসূত্র থাকুক না কেন। যার
সাথে কোনো যোগসূত্র নেই তাকে মাধ্যম বলা যায়
না। উদাহরণস্বরূপ
মনে করুন, আপনি একটি অ্যাক্সিডেন্টের হাত
থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
কোনো ব্যক্তি আপনাকে তাঁর হাত দ্বারা টান
দিয়ে রক্ষা করেছে। আপনি বলতে পারেন, আল্লাহ
আমাকে রক্ষা করেছেন। আবার এও বলতে পারেন
যে, অমুক ব্যক্তির মাধ্যমে আল্লাহ
আমাকে রক্ষা করেছে। এ দ্বিতীয় বাক্যটির
ক্ষেত্রে মুমিন ব্যক্তির বিশ্বাস হলো, মূলত
আল্লাহই আমাকে রক্ষা করেছেন, অমুক
ব্যক্তি মাধ্যম মাত্র। এখানে লোকটি বলতে পারে
, আল্লাহর দ্বারা রক্ষা পেয়েছি। আবার এও
বলতে পারে যে, অমুকের মাধ্যমে আল্লাহ
রক্ষা করেছেন । এখানে তার কোনো কথাই শির্ক
হবে না। কিন্তু লোকটি যদি বলে, রাসূল
আমাকে রক্ষা করেছেন, অথবা রাসূলের
মাধ্যমে আমি রক্ষা পেয়েছি, তবে তার উভয় কথাই
শির্ক হবে। আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাতের
কোনো আলেম এতে সংশয় বা দ্বিমত পোষণ করবেন
না। এই একটি বিষয়ে রাসূলের মাধ্যম শির্ক
হলে আপনার জীবনের যাবতীয় বিষয়ের মাধ্যম
রাসূলকে বানিয়ে দিলে তা শির্ক হয় না এ কেমন
কথা? এবার আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের
আলেমগণের কাছে বিনীত আবেদন যে
, আপনারা একটু চিন্তা করলেই সমাজ
ধীরে ধীরে শির্কমুক্ত হতে থাকবে। তাই
চলে আসা প্রথাকে জায়েয বানাবার
চেষ্টা না করে সমাজকে শির্কমুক্ত করার
দিকে একটু মনোনিবেশ করুন।
জনৈক বিজ্ঞ আলেমের সাথে একবার এ
বিষয়ে আলোচনা করলে তিনি আমাকে
বালাগাতের কিতাবে উল্লেখিত উদাহরণ
দিয়ে বিষয়টি শির্ক নয় বলে বুঝাবার চেষ্টা করেন।
পরে আরো অনেককে এই উপমা পেশ
করতে দেখেছি।
উপমাটি হচ্ছে, ‘‘ ﺃﻧﺒﺖ ﺍﻟﺮﺑﻴﻊ ﺍﻟﺒﻘﻞ ’’ অর্থাৎ বসন্ত শষ্য
উৎপাদন করেছে। তারা বলে থাকেন, মুমিন
ব্যক্তি এই বাক্যটি বললে শির্ক হয় না, কারণ
সে এখানে রূপক অর্থ গ্রহণ করে। মুমিনের বিশ্বাস
মূল শষ্য দাতা আল্লাহ। বসন্তে তা উৎপাদিত হয়।
তাই সে বলে, বসন্ত শষ্য উৎপাদন করেছে।
বস্তুত তাদের এ কথাটি অগ্রহণযোগ্য আর এ ধরনের
উপমাও আল্লাহর সাথে অসামঞ্জশীল ।
কারণ কোনো কাজকে কার্যকারনের
দিকে সম্পর্কযুক্ত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের
জীবনে কিংবা সাহাবায়ে কিরাম
থেকে কোনো হাদীস বা আছার পাওয়া যায় না।
বরং এর বিপরীতটিই পাওয়া যায়, দেখুন
সাহাবায়ে কিরাম বলেন,
«ﻟﻮﻻ ﺍﻟﻜﻠﺐ ﻟﺠﺎﺀﻧﺎ ﺍﻟﻠﺺ »
‘যদি কুকুর না থাকত তবে চোর আসত’ এ জাতীয়
কথাকে শির্কে (আসগর) এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
তাই ‘‘ ﺃﻧﺒﺖ ﺍﻟﺮﺑﻴﻊ ﺍﻟﺒﻘﻞ ’’ অর্থাৎ ‘বসন্ত শষ্য উৎপাদন
করেছে’ এটা কোনোভাবেই কোনো মুমিনের
কথা হতে পারে না। কারণ মুমিন
জেনে বুঝে শির্কে আসগরে লিপ্ত হতে পারে না।
এখন বলতে পারেন তাহলে এ
কথাটি কোত্থেকে আসল? বস্তুত তা জানার জন্য
আমাদেরকে তথাকথিত বালাগত বিদ্যার
প্রবর্তকদের মন-মানষিকতা, আকীদা মাযহাব
দেখতে হবে। তাদের অনেকেই মু‘তাযিলা,
আশ‘আরিয়্যা ও মাতুরিদিয়া মাযহাবের লোক
থাকার কারণে তাদের গ্রন্থে সেটার অনুরনন
দেখতে পাওয়া যায়। তারা মাজায বা রূপক
বলে অনেক শির্ককে বালাগাত বানালেও
সত্যনিষ্ঠ আলেমগণ এ জাতীয় কথাকে কখনও
স্বীকৃতি দেন না। তাই এ জাতীয়
কথা কোনো মুমিন বলতে পারে না।
এ তো গেল বাস্তব কার্যকারণের দিকে সম্পর্কযুক্ত
করে বলার মাসআলা। বাস্তব কার্যকারণের
দিকে সম্পর্কযুক্ত
করে কোনো কথা বলা যদি শির্কে আসগার হয়,
তবে যেখানে বাস্তব কোনো কার্যকারণ নেই
সেখানে সেদিকে সম্পর্কযু্ক্ত
করা নিঃসন্দেহে শির্কে আকবারে পরিণত হবে।
যেমন, কেউ যদি বলে ‘‘রাসূল শষ্য উৎপাদন করেছেন
বা রাসূল ধান দেন’’ অথবা ‘‘রাসূলের মাধ্যমে শষ্য
উৎপাদন হয় বা রাসূলের মাধ্যমে ধান হয়’’ এর
কোনটি বলার কোনো সুযোগ নেই, কারণ
তা শির্কে আকবার হবে। আশা করি
, আশেকে রাসূল নামে রাসূলকে আল্লাহর
সাথে বিভিন্ন
গুণাবলীতে সমতুল্যকারী ছাড়া সবাই এ ধরণের
কথাটির মারাত্মক
পরিণতি সম্পর্কে জানতে পারলেন। এবার
আপনি নিজেই খতমে না-রীর
ব্যাপারে ফায়সালা দিন।
এখন উপরোক্ত অজুহাতটির অসারতা নিশ্চয়
বুঝতে পেরেছি। তবে এই অজুহাতটি যারা ব্যাকরণ
বা ভাষার জ্ঞান রাখেন তারা পেশ করেন। আর
যাদের ব্যাকরণের গভীরতা নেই তাদের সামনে এই
অভিযোগ তুলে ধরলে তারা প্রথমে অন্য অজুহাত
পেশ করেন। সেটি না টিকলে পরবর্তীতে আবার
ঘুরিয়ে পেচিয়ে কথা বলেন। প্রশ্ন হলো
, প্রথমে যখন নিজে শির্ক মেনে নিয়ে অন্য
অজুহাত দেখালেন তবে সেই অজুহাত
না টিকলে আবার পূর্ব কথাকে ব্যখ্যার
মাধ্যমে টিকানোর চেষ্টার কী প্রয়োজন।
অন্য অজুহাতের মধ্যে যেমন, একদিন জনৈক
আলেমের সাথে আলোচনা করলে তিনি বলেন
এখানে, ‘‘ ﺑﻪ ’’ শব্দের ‘‘ ﻩ ’’ সর্বনামটি ‘‘ ﺻﻼﺓ ’’ শব্দের
দিকে প্রত্যাবর্তিত। অতএব রাসূলের ওসিলায় নয়
বরং এই দুরুদের ওসিলায়। কিন্তু তিনি এটি লক্ষ্য
করেন নি যে, ‘‘ ﺻﻼﺓ ’’ শব্দের দিকে সর্বনাম
প্রত্যাবর্তিত হলে এখানে পুংলিঙ্গের
সর্বনাম ‘‘ﻩ ’’ ব্যবহার না হয়ে স্ত্রীলিঙ্গের
সর্বনাম ‘‘ﻫﺎ ’’ হত।
আরেকদিন এ বিষয়ে এক
সেমিনারে আলোচনায় এখানে সর্বনাম ‘সালাত’
শব্দের দিকে নেয়ার সুযোগ নেই বললে একজন
বলে উঠলেন ‘‘ﺻﻼﺓ ’’ শব্দটি মাসদার। আর আরবী ব্যকরণ
অনুযায়ী মাসদারের দিকে যে কোনো সর্বনাম
ব্যবহার করা যায়, কেননা মাসদার পুংলিঙ্গও নয়
আবার স্ত্রীলিঙ্গও নয়। একথা শুনে অত্যন্ত অবাক
লাগল। নিজের মতকে অটুট
রাখতে কোনদিকে খেয়াল
না করে যারা কথা বলেন, তাদের কথায় যেমন
হাসি পায় তেমনি তারা এ ধরণের
কথা বলে নিজের আস্থা নষ্ট করেন। আরবী ভাষায়
উনার জ্ঞানের পরিধি সম্পর্কে প্রশ্ন এসে যায়।
কেননা, প্রথমত: এখানে ‘‘ ﺻﻼﺓ ’’ স্ত্রীলিঙ্গ
ধরেই ‘‘ﻛﺎﻣﻠﺔ ’’ শব্দ স্ত্রীলিঙ্গ ব্যবহার করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: ‘‘ ﻣﺤﻤﺪ ’’ শব্দের পরেই ‘‘ ﺍﻟﺬﻱ ’’ ইসমে মাউসুল
নিয়ে আসা হয়েছে। জানা কথা ইসমে মাউসুলের
পরে বাক্য থাকা এবং তার মধ্যে একটি সর্বনাম
থাকা জরুরী যা মাউসুলের দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়।
সুতরাং এখানে ‘‘ ﻩ ’’ কে ‘‘ ﺍﻟﺬﻱ ’’ এর
দিকে না নিয়ে অন্য দিকে নেয়ার কথা বলা কতটুকু
গাফলতির পরিচয় একটু ভেবে দেখুন। তৃতীয়ত: দো
‘আটির শেষদিকে রয়েছে ‘‘ ﺑﻮﺟﻬﻪ ’’ তার
চেহারা বা তার স্বত্বার মাধ্যমে। অতএব
সর্বনামকে মুহাম্মদ ছাড়া অন্যদিকে নেওয়ার
কোনো সুযোগ নেই। সুযোগ থাকাবস্থায় বক্তার
কথা থেকে তার উদ্দেশ্যের বিপরীত অর্থ
নেওয়াকে আরবী প্রবচনে বলা হয়, ‘‘ ﺗﻮﺟﻴﻪ ﺍﻟﻘﻮﻝ ﺑﻤﺎ ﻻ ﻳﺮﺿﻰ
ﺑﻪ ﺍﻟﻘﺎﺋﻞ ’’ অর্থাৎ বক্তার কথার এমন
ব্যাখ্যা দেওয়া যা বক্তার নিজের উদ্দেশ্য নয়। আর
যেখানে কোনো সুযোগ নেই
সেখানে এমনটি নেওয়া কতটুকু অবান্তর ও
হঠকারিতা একটু ভেবে দেখেছি কি?
এবার ধরে নিন কেউ উপরোক্ত দুরূদটিকে সমান্য
পরিবর্তন করে সর্বনামগুলো দুরুদের
দিকে প্রত্যাবর্তন করে নতুন একটি দুরূদ বানাল। যার
মর্ম হল যেমন, ‘‘যে দুরুদের মাধ্যমে সব
সমস্যা সমাধান হয় .....’’ । রাসূল সাল্লাল্লাহু
আল্লাইহি ওয়াসাল্লামের
শিক্ষা বা বলে দেওয়া ছাড়া কারো এধরণের
কোনো কথা বলে বৈধ কি? বিভিন্ন দুরূদ
এবং তাতে কী লাভ, কী ফযিলত, কী উপকার সবই
আমাদের নবী আমাদেরকে বলে গেছেন।
ওহি ছাড়া এর বাইরে কিছু বলা বৈধ কি? ওহির
বিষয়ে ওহি ছাড়া যুক্তি দিয়ে কিছু বলার
নামইতো ভ্রষ্টতা বা গোমরাহী। মানুষের জ্ঞান
যেখানে শেষ সেখান থেকে ওহীর সুচনা। ওহীর
বিষয়ে যুক্তি দিয়ে বলার কারণেই বিভিন্ন বাতিল
দল উপদলের জন্ম। এসব জানা থাকা সত্বেও ওহির
মুখাপেক্ষী বিষয়ে আমরা কী-ভাবে দখল
দিতে পারি। এটি কি আল্লাহ ও তার রাসূলের উপর
মিথ্যাচার নয়?
আরেকটি অজুহাত কেউ কেউ পেশ করেন যে
, আমাদের বিশ্বাস তো সবকিছু আল্লাহ করেন।
রাসূল করেন বা মাধ্যম হন বলে আমাদের
আক্বীদা নয়। তবে এটি শির্ক কী-ভাবে হয়? আর
বেশিরভাগ লোক অর্থ না জেনেই পড়েন।
আলহামদুলিল্লাহ, এই বিশ্বাস বলেইতো এই দুরূদ
পড়লেই আপনাকে কাফের বা মুশরিক
বলা হচ্ছে না। আপনার বিশ্বাস এই দুরুদের
মর্মানূযায়ী হলে তো আপনি মুশরিক হয়ে যেতেন।
বলা হচ্ছে এখানে শির্কী কথাবার্তা রয়েছে।
শিরকী আক্বীদা পোষণ
ছাড়া শির্কী কথাবার্তা বলার হুকুম
কী প্রশ্নটি আপনাদের কাছে রেখেই ইতি টানছি।
পরিশেষে আরেকটি কথা এই যে, অনেককেই
বলতে শুনা যায়, খতমের বিপক্ষে এ সব
কথা বলে আমাদের পেটে লাথি মারবেন না।
আফসোস!! আপনি জাতির একজন কর্ণধার। আপনার
মুখ থেকে এমন কথা বের হলে ঘুষখোর, সুদখোরের
সামনে ঘুষ সুদের বয়ান করলে সে যখন
বলে উঠে হুজুর, আমাদের পেটে লাথি মারবেন না।
তার কথায় আর আপনার কথায় বেশ কম কী? সবার
রিযকের মালিক আল্লাহ। যে ব্যক্তি যে পথ
অবলম্বন করে আল্লাহ তার জন্য সেই পথকেই সহজ
করে দেন বলে আপনার আমার পূর্ণ বিশ্বাস।
হালালের উপর থাকতে বদ্ধপরিকর হলে আল্লাহ
আপনার আমার রিযকের ব্যবস্থা হালালের
মধ্যে থেকেই করবেন বলে আমরা পূর্ণ আস্থাশীল
ইনশা আল্লাহ। এর বিপরীত বিশ্বাসের পরিণাম
কী তা আপনার আমার সবারই নিশ্চয় জানা আছে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে বুঝা এবং হালালের
উপর থাকার তওফিক দান করুন। আমীন।
খতমে ইয়াসিন
কুরআন করীমের মোট ১১৪ টি সূরার একটি সূরার
নাম ইয়াসিন। সূরার ধারাবাহিক
ক্রমানুসারে এটি কুরআনের ৩৬ নং সূরা। কুরআনের
অন্যান্য আয়াত তেলাওয়াত
করলে প্রতিটি অক্ষরে যে পরিমাণ ছওয়াব
পাওয়া যায় এই সূরা তেলাওয়াত করলেও তার
প্রতিটি অক্ষরে সেই পরিমাণ ছওয়াব
পাওয়া যাবে। তবে কুরআনে মাত্র
কয়েকটি সূরা রয়েছে যেগুলোর অতিরিক্ত কিছু
ফযিলত রয়েছে যা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
সহীহ হাদীসে সূরা ইয়াসিনের অতিরিক্ত
কোনো ফযিলত বর্ণিত হয় নি। দু একটি দুর্বল ও
বিভিন্ন জাল বানোয়াট হাদীসে এ সূরার বিভিন্ন
ফযিলত বর্ণনা করা হয়েছে। দুর্বল হাদীসের
মধ্যে প্রসিদ্ধ হাদিসটি হচ্ছে:
" ﺇﻥ ﻟﻜﻞ ﺷﻲﺀ ﻗﻠﺒﺎ ﻭﻗﻠﺐ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻳﺲ ﻭﻣﻦ ﻗﺮﺃ ﻳﺲ ﻛﺘﺐ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻪ
ﺑﻘﺮﺍﺀﺗﻬﺎ ﻗﺮﺍﺀﺓ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻋﺸﺮ ﻣﺮﺍﺕ ." ( ﺳﻨﻦ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ، ﻓﻀﻞ ﻳﺲ،
ﺭﻗﻢ 2887: )
‘‘প্রত্যেক বস্তুর একটি হৃদয় রয়েছে, আর
কুরআনে হৃদয় হচ্ছে ‘ইয়াসিন’ ।
যে ব্যক্তি ‘ইয়াসিন’ পড়বে আল্লাহ তার
আমলনামায় দশবার পূর্ণ কুরআন পড়ার
নেকী দান করবেন।’’ [87]
ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনার পর
নিজেই হাদীসটির সনদ গরীব ও দুর্বল
বলে মন্তব্য বরং প্রমাণ করেছেন। তার মন্তব্য
মতে হাদীসটি একেবারেই দুর্বল।
অনেকে হাদীসটিকে বানোয়াট বলেও মন্তব্য
করেছেন। তিরমিযির আলোচনা থেকেও এমন
ইঙ্গিত পাওয়া যায়। মোটকথা ‘ইয়াসিন’ সূরার
আলাদা ফযিলতে কোনো নির্ভরযোগ্য
হাদীস নেই। [88]
এতে নাকি মুমূর্ষ ব্যক্তির কষ্ট হাল্কা হয়।
এসবের কোনো কিছুই সহীহ হাদীস নির্ভর নয়।
পক্ষান্তরে সহীহ হাদীসে মুমূর্ষ ব্যক্তির
পাশে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর তালক্বীনের
কথা এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
« ﻟﻘﻨﻮﺍ ﻣﻮﺗﺎﻛﻢ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ». ( ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ، ﺑﺎﺏ ﺗﻠﻘﻴﻦ ﺍﻟﻤﻮﺗﻰ ﻻ ﺍﻟﻪ ﺍﻻ
ﺍﻟﻠﻪ، ﺭﻗﻢ 2162: )
‘‘মৃত্যু উপস্থিত
ব্যক্তিকে তোমরা ‘লা ইলাহা
ইল্লাল্লাহ’ এর তালক্বীন করো।’’ [89]
এর বিপরীত মূমূর্ষ ব্যক্তির
পাশে ‘ইয়াসিন’ পড়ার কোনো আমল রাসূল
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম
থেকে প্রমাণিত নয়। নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন শিক্ষা সাহাবিদের
দেন নি। এ সম্পর্কে যা বলা সবই
অনির্ভরযোগ্য, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।
‘ইয়াসিন’ খতমের একটি বানোয়াট পদ্ধতি
‘নস’ তথা কুরআন হাদীসের
শিক্ষা একপাশে রেখে যুক্তি ও মনগড়া এবং সহীহ
ছেড়ে ভিত্তিহিনের উপর দিয়ে নিজের
মর্জি মোতাবেক শরী‘আত পরিবর্তনের কর্ম মূলত
শিয়া, খাওয়ারিজ ইত্যাদি ভ্রান্ত সম্প্রদায়
থেকেই শুরু হয়। পরবর্তীতে তাদের প্রভাব অনেক
আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের আলেমদের
মাঝে বিস্তার লাভ করে। নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর থেকে এ পর্যন্ত
ইতিহাসের পাতায় একটু গভীর দৃষ্টি দিলেই
বিষয়টি সবার কাছে ধরা পড়বে বলে আশা করি।
এবার শিয়াদের
বানানো একটি মনগড়া ‘খতমে ইয়াসিন’ দেখুন,
প্রয়োজন পূরণে ইয়াসিনের খতম যার
পদ্ধতি এই[90]
ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢِ
﴿ ﻳﺲ ﻭَﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥِ ﺍﻟْﺤَﻜِﻴﻢِ ﺇِﻧَّﻚَ ﻟَﻤِﻦَ ﺍﻟْﻤُﺮْﺳَﻠِﻴﻦَ ﻋَﻠَﻰ ﺻِﺮَﺍﻁٍ ﻣُّﺴْﺘَﻘِﻴﻢٍ ﺗَﻨﺰِﻳﻞَ ﺍﻟْﻌَﺰِﻳﺰِ
ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢِ ﻟِﺘُﻨﺬِﺭَ ﻗَﻮْﻣًﺎ ﻣَّﺎ ﺃُﻧﺬِﺭَ ﺁﺑَﺎﺅُﻫُﻢْ ﻓَﻬُﻢْ ﻏَﺎﻓِﻠُﻮﻥَ ﻟَﻘَﺪْ ﺣَﻖَّ ﺍﻟْﻘَﻮْﻝُ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻛْﺜَﺮِﻫِﻢْ
ﻓَﻬُﻢْ ﻟَﺎ ﻳُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ ﺇِﻧَّﺎ ﺟَﻌَﻠْﻨَﺎ ﻓِﻲ ﺃَﻋْﻨَﺎﻗِﻬِﻢْ ﺃَﻏْﻼَﻻً ﻓَﻬِﻲَ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻷَﺫْﻗَﺎﻥِ ﻓَﻬُﻢ ﻣُّﻘْﻤَﺤُﻮﻥَ
ﻭَﺟَﻌَﻠْﻨَﺎ ﻣِﻦ ﺑَﻴْﻦِ ﺃَﻳْﺪِﻳﻬِﻢْ ﺳَﺪًّﺍ ﻭَﻣِﻦْ ﺧَﻠْﻔِﻬِﻢْ ﺳَﺪًّﺍ ﻓَﺄَﻏْﺸَﻴْﻨَﺎﻫُﻢْ ﻓَﻬُﻢْ ﻻَ ﻳُﺒْﺼِﺮُﻭﻥَ
ﻭَﺳَﻮَﺍﺀ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺃَﺃَﻧﺬَﺭْﺗَﻬُﻢْ ﺃَﻡْ ﻟَﻢْ ﺗُﻨﺬِﺭْﻫُﻢْ ﻻَ ﻳُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ
ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺗُﻨﺬِﺭُ ﻣَﻦِ ﺍﺗَّﺒَﻊَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮَ ﻭَﺧَﺸِﻲَ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦ ﺑِﺎﻟْﻐَﻴْﺐِ ﻓَﺒَﺸِّﺮْﻩُ ﺑِﻤَﻐْﻔِﺮَﺓٍ ﻭَﺃَﺟْﺮٍ ﻛَﺮِﻳﻢٍ
ﺇِﻧَّﺎ ﻧَﺤْﻦُ ﻧُﺤْﻴِﻲ ﺍﻟْﻤَﻮْﺗَﻰ ﻭَﻧَﻜْﺘُﺐُ ﻣَﺎ ﻗَﺪَّﻣُﻮﺍ ﻭَﺁﺛَﺎﺭَﻫُﻢْ ﻭَﻛُﻞَّ ﺷَﻲْﺀٍ ﺃﺣْﺼَﻴْﻨَﺎﻩُ ﻓِﻲ
ﺇِﻣَﺎﻡٍ ﻣُﺒِﻴﻦٍ﴾
এরপর এই দো‘আ তিনবার পড়বে:
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻤُﻔَﺮِّﺝ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺤﺰُﻭﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍّْﻟﻤﺨَﻠِّﺺِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺸﺤُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ
ﺍْﻟﻤُﻨَﻔِّﺲِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺪﻳُﻮﻥٍ ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻌﺎﻟِﻢِ ﻋﻦ ﻛﻞ ﻣَﻜﻨُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺟَﻌَﻞَ
ﺧَﺰَﺍﺋِﻨَﻪُ ﺑَﻴﻦَ ﺍْﻟﻜَﺎﻑِ ﻭَﺍْﻟﻨُّﻮﻥِ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺇﺫَﺍ ﺃَﺭﺍﺩَ ﺷَﻴْﺌﺎً ﺃﻥ ﻳَﻘﻮﻝَ ﻟَﻪُ ﻛُﻦْ ﻓَﻴَﻜُﻮﻥُ
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟَّﺬﻱ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﻣَﻠَﻜُﻮﺕُ ﻛُﻞّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻭَﺇﻟَﻴْﻪِ ﺗُﺮﺟَﻌُﻮﻥ .
এরপর বল:
ﺍْﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺍْﻓﺘَﺢْ ﻟﻲ ﺃَﺑﻮَﺍﺏَ ﺭَﺣْﻤَﺘِﻚَ ﻭَﺃَﺑﻮَﺍﺏَ ﺧَﺰَﺍﺋِﻨِﻚَ ﺑِﺤَﻖِّ ﺳُﻮﺭَﺓ ﻳﺲ ﻭَﺑِﻔَﻀْﻠِﻚَ
ﻭَﻛَﺮﻣِﻚَ ﻳَﺎ ﺃَﺭْﺣَﻢَ ﺍْﻟﺮَّﺍﺣِﻤِﻴﻦَ
এরপর তুমি ১০০ বার বল
ﺇِﻟﻬِﻲ ﺑِﺤَﻖِّ ﺳِﺮِّ ﻫَﺬِﻩِ ﺍْﻷﺳْﺮَﺍﺭِ ﻭَ ﺑِﺤَﻖِّ ﻛَﺮَﻣِﻚَ ﺍﻟﺨَﻔِﻲِّ ﻭَﺑﺤَﻖِّ ﺍِﺳْﻤِﻚَ ﺍْﻟﻌَﻈﻴﻢِ ﺃَﻥْ
ﺗَﻘْﻀِﻲَ ﺣَﺎﺟَﺎﺗِﻨَﺎ ﻳَﺎﻗَﺎﺿﻲَ ﺍﻟﺤﺎﺟﺎﺕِ ﻳَﺎ ﺃَﺭﺣَﻢَ ﺍْﻟﺮَّﺍﺣِﻤِﻴﻦَ
﴿ﻭَﺍﺿْﺮِﺏْ ﻟَﻬُﻢ ﻣَّﺜَﻼً ﺃَﺻْﺤَﺎﺏَ ﺍﻟْﻘَﺮْﻳَﺔِ ﺇِﺫْ ﺟَﺎﺀﻫَﺎ ﺍﻟْﻤُﺮْﺳَﻠُﻮﻥَ ﺇِﺫْ ﺃَﺭْﺳَﻠْﻨَﺎ ﺇِﻟَﻴْﻬِﻢُ ﺍﺛْﻨَﻴْﻦِ
ﻓَﻜَﺬَّﺑُﻮﻫُﻤَﺎ ﻓَﻌَﺰَّﺯْﻧَﺎ ﺑِﺜَﺎﻟِﺚٍ ﻓَﻘَﺎﻟُﻮﺍ ﺇِﻧَّﺎ ﺇِﻟَﻴْﻜُﻢ ﻣُّﺮْﺳَﻠُﻮﻥَ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻣَﺎ ﺃَﻧﺘُﻢْ ﺇِﻻَّ ﺑَﺸَﺮٌ
ﻣِّﺜْﻠُﻨَﺎ ﻭَﻣَﺎ ﺃَﻧﺰَﻝَ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤﻦ ﻣِﻦ ﺷَﻲْﺀٍ ﺇِﻥْ ﺃَﻧﺘُﻢْ ﺇِﻻَّ ﺗَﻜْﺬِﺑُﻮﻥَ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﺭَﺑُّﻨَﺎ ﻳَﻌْﻠَﻢُ ﺇِﻧَّﺎ
ﺇِﻟَﻴْﻜُﻢْ ﻟَﻤُﺮْﺳَﻠُﻮﻥَ ﻭَﻣَﺎ ﻋَﻠَﻴْﻨَﺎ ﺇِﻻَّ ﺍﻟْﺒَﻼَﻍُ ﺍﻟْﻤُﺒِﻴﻦ﴾ . এরপর একবার
পড়বে
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻤُﻔَﺮِّﺝ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺤﺰُﻭﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍّْﻟﻤﺨَﻠِّﺺِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺸﺤُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ
ﺍْﻟﻤُﻨَﻔِّﺲِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺪﻳُﻮﻥٍ ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻌﺎﻟِﻢِ ﻋﻦ ﻛﻞ ﻣَﻜﻨُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺟَﻌَﻞَ
ﺧَﺰَﺍﺋِﻨَﻪُ ﺑَﻴﻦَ ﺍْﻟﻜَﺎﻑِ ﻭَﺍْﻟﻨُّﻮﻥِ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺇﺫَﺍ ﺃَﺭﺍﺩَ ﺷَﻴْﺌﺎً ﺃﻥ ﻳَﻘﻮﻝَ ﻟَﻪُ ﻛُﻦْ ﻓَﻴَﻜُﻮﻥُ
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟَّﺬﻱ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﻣَﻠَﻜُﻮﺕُ ﻛُﻞّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻭَﺇﻟَﻴْﻪِ ﺗُﺮﺟَﻌُﻮﻥ
. এরপর ১০০ বার বল ( ﻳﺎ ﻣﻔﺮﺝ ﺍﻟﻬﻢ )
এবং এই দো‘আ কর
ﺍﻟﻬﻲ ﺑﺤﻖ ﺳﺮ ﻫﺬﻩ ﺍﻻﺳﺮﺍﺭ ﻭﺑﺤﻖ ﻛﺮﻣﻚ ﺍﻟﺨﻔﻲ ﻭﺑﺤﻖ ﺍﺳﻤﻚ ﺍﻟﻌﻈﻴﻢ ﺍﻥ
ﺗﻘﻀﻲ ﺣﺎﺟﺎﺗﻨﺎ (ﻭﺣﺎﺟﺎﺕ ﺍﻟﺤﺎﺿﺮﻳﻦ ) ﻳﺎﻗﺎﺿﻲ ﺍﻟﺤﺎﺟﺎﺕ ﻳﺎ ﺍﺭﺣﻢ ﺍﻟﺮﺍﺣﻤﻴﻦ .
﴿ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﺇِﻧَّﺎ ﺗَﻄَﻴَّﺮْﻧَﺎ ﺑِﻜُﻢْ ﻟَﺌِﻦ ﻟَّﻢْ ﺗَﻨﺘَﻬُﻮﺍ ﻟَﻨَﺮْﺟُﻤَﻨَّﻜُﻢْ ﻭَﻟَﻴَﻤَﺴَّﻨَّﻜُﻢ ﻣِّﻨَّﺎ ﻋَﺬَﺍﺏٌ ﺃَﻟِﻴﻢٌ
ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻃَﺎﺋِﺮُﻛُﻢْ ﻣَﻌَﻜُﻢْ ﺃَﺋِﻦ ﺫُﻛِّﺮْﺗُﻢ ﺑَﻞْ ﺃَﻧﺘُﻢْ ﻗَﻮْﻡٌ ﻣُّﺴْﺮِﻓُﻮﻥَ ﻭَﺟَﺎﺀ ﻣِﻦْ ﺃَﻗْﺼَﻰ
ﺍﻟْﻤَﺪِﻳﻨَﺔِ ﺭَﺟُﻞٌ ﻳَﺴْﻌَﻰ ﻗَﺎﻝَ ﻳَﺎ ﻗَﻮْﻡِ ﺍﺗَّﺒِﻌُﻮﺍ ﺍﻟْﻤُﺮْﺳَﻠِﻴﻦَ ﺍﺗَّﺒِﻌُﻮﺍ ﻣَﻦ ﻻَّ ﻳَﺴْﺄَﻟُﻜُﻢْ ﺃَﺟْﺮًﺍ
ﻭَﻫُﻢ ﻣُّﻬْﺘَﺪُﻭﻥَ ﻭَﻣَﺎ ﻟِﻲ ﻻَ ﺃَﻋْﺒُﺪُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻓَﻄَﺮَﻧِﻲ ﻭَﺇِﻟَﻴْﻪِ ﺗُﺮْﺟَﻌُﻮﻥَ ﺃَﺃَﺗَّﺨِﺬُ ﻣِﻦ ﺩُﻭﻧِﻪِ
ﺁﻟِﻬَﺔً ﺇِﻥ ﻳُﺮِﺩْﻥِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦ ﺑِﻀُﺮٍّ ﻻَّ ﺗُﻐْﻦِ ﻋَﻨِّﻲ ﺷَﻔَﺎﻋَﺘُﻬُﻢْ ﺷَﻴْﺌًﺎ ﻭَﻻَ ﻳُﻨﻘِﺬُﻭﻥِ ﺇِﻧِّﻲ ﺇِﺫًﺍ
ﻟَّﻔِﻲ ﺿَﻼَﻝٍ ﻣُّﺒِﻴﻦٍ﴾
এরপর পড়বে
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻤُﻔَﺮِّﺝ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺤﺰُﻭﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍّْﻟﻤﺨَﻠِّﺺِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺸﺤُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ
ﺍْﻟﻤُﻨَﻔِّﺲِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺪﻳُﻮﻥٍ ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻌﺎﻟِﻢِ ﻋﻦ ﻛﻞ ﻣَﻜﻨُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺟَﻌَﻞَ
ﺧَﺰَﺍﺋِﻨَﻪُ ﺑَﻴﻦَ ﺍْﻟﻜَﺎﻑِ ﻭَﺍْﻟﻨُّﻮﻥِ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺇﺫَﺍ ﺃَﺭﺍﺩَ ﺷَﻴْﺌﺎً ﺃﻥ ﻳَﻘﻮﻝَ ﻟَﻪُ ﻛُﻦْ ﻓَﻴَﻜُﻮﻥُ
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟَّﺬﻱ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﻣَﻠَﻜُﻮﺕُ ﻛُﻞّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻭَﺇﻟَﻴْﻪِ ﺗُﺮﺟَﻌُﻮﻥ .
এরপর বল
ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺍﻓﺘﺢ ﻟﻲ ﺍﺑﻮﺍﺏ ﺭﺣﻤﺘﻚ ﻭﺍﺑﻮﺍﺏ ﺧﺰﺍﺋﻨﻚ ﺑﺤﻖ ﺳﻮﺭﺓ ﻳﺲ ﻭﺑﻔﻀﻠﻚ
ﻭﻛﺮﻣﻚ ﻳﺎ ﺍﺭﺣﻢ ﺍﻟﺮﺍﺣﻤﻴﻦ . এরপর ১০০ বার বল (ﻳﺎﻣﻔﺮﺝ ﺍﻟﻬﻢ )
এবং এই দো‘আ কর
ﺍﻟﻬﻲ ﺑﺤﻖ ﺳﺮ ﻫﺬﻩ ﺍﻻﺳﺮﺍﺭ ﻭﺑﺤﻖ ﻛﺮﻣﻚ ﺍﻟﺨﻔﻲ ﻭﺑﺤﻖ ﺍﺳﻤﻚ ﺍﻟﻌﻈﻴﻢ ﺍﻥ
ﺗﻘﻀﻲ ﺣﺎﺟﺎﺗﻨﺎ (ﻭﺣﺎﺟﺎﺕ ﺍﻟﺤﺎﺿﺮﻳﻦ ) ﻳﺎﻗﺎﺿﻲ ﺍﻟﺤﺎﺟﺎﺕ ﻳﺎ ﺍﺭﺣﻢ ﺍﻟﺮﺍﺣﻤﻴﻦ . ﴿
ﺇِﻧِّﻲ ﺁﻣَﻨﺖُ ﺑِﺮَﺑِّﻜُﻢْ ﻓَﺎﺳْﻤَﻌُﻮﻥِ ﻗِﻴﻞَ ﺍﺩْﺧُﻞِ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﻗَﺎﻝَ ﻳَﺎ ﻟَﻴْﺖَ ﻗَﻮْﻣِﻲ ﻳَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ ﺑِﻤَﺎ
ﻏَﻔَﺮَ ﻟِﻲ ﺭَﺑِّﻲ ﻭَﺟَﻌَﻠَﻨِﻲ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤُﻜْﺮَﻣِﻴﻦَ ﻭَﻣَﺎ ﺃَﻧﺰَﻟْﻨَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻗَﻮْﻣِﻪِ ﻣِﻦ ﺑَﻌْﺪِﻩِ ﻣِﻦْ ﺟُﻨﺪٍ
ﻣِّﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀ ﻭَﻣَﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻣُﻨﺰِﻟِﻴﻦَ ﺇِﻥ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﺇِﻻَّ ﺻَﻴْﺤَﺔً ﻭَﺍﺣِﺪَﺓً ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻫُﻢْ ﺧَﺎﻣِﺪُﻭﻥَ ﻳَﺎ
ﺣَﺴْﺮَﺓً ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻌِﺒَﺎﺩِ ﻣَﺎ ﻳَﺄْﺗِﻴﻬِﻢ ﻣِّﻦ ﺭَّﺳُﻮﻝٍ ﺇِﻻَّ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﺑِﻪِ ﻳَﺴْﺘَﻬْﺰِﺅُﻭﻥ ﺃَﻟَﻢْ ﻳَﺮَﻭْﺍ ﻛَﻢْ
ﺃَﻫْﻠَﻜْﻨَﺎ ﻗَﺒْﻠَﻬُﻢ ﻣِّﻦْ ﺍﻟْﻘُﺮُﻭﻥِ ﺃَﻧَّﻬُﻢْ ﺇِﻟَﻴْﻬِﻢْ ﻻَ ﻳَﺮْﺟِﻌُﻮﻥَ ﻭَﺇِﻥ ﻛُﻞٌّ ﻟَّﻤَّﺎ ﺟَﻤِﻴﻊٌ ﻟَّﺪَﻳْﻨَﺎ
ﻣُﺤْﻀَﺮُﻭﻥَ ﻭَﺁﻳَﺔٌ ﻟَّﻬُﻢُ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽُ ﺍﻟْﻤَﻴْﺘَﺔُ ﺃَﺣْﻴَﻴْﻨَﺎﻫَﺎ ﻭَﺃَﺧْﺮَﺟْﻨَﺎ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺣَﺒًّﺎ ﻓَﻤِﻨْﻪُ ﻳَﺄْﻛُﻠُﻮﻥَ
ﻭَﺟَﻌَﻠْﻨَﺎ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺟَﻨَّﺎﺕٍ ﻣِﻦ ﻧَّﺨِﻴﻞٍ ﻭَﺃَﻋْﻨَﺎﺏٍ ﻭَﻓَﺠَّﺮْﻧَﺎ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻌُﻴُﻮﻥِ ﻟِﻴَﺄْﻛُﻠُﻮﺍ ﻣِﻦ
ﺛَﻤَﺮِﻩِ ﻭَﻣَﺎ ﻋَﻤِﻠَﺘْﻪُ ﺃَﻳْﺪِﻳﻬِﻢْ ﺃَﻓَﻠَﺎ ﻳَﺸْﻜُﺮُﻭﻥَ ﺳُﺒْﺤَﺎﻥَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟْﺄَﺯْﻭَﺍﺝَ ﻛُﻠَّﻬَﺎ ﻣِﻤَّﺎ
ﺗُﻨﺒِﺖُ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽُ ﻭَﻣِﻦْ ﺃَﻧﻔُﺴِﻬِﻢْ ﻭَﻣِﻤَّﺎ ﻟَﺎ ﻳَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ ﻭَﺁﻳَﺔٌ ﻟَّﻬُﻢْ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞُ ﻧَﺴْﻠَﺦُ ﻣِﻨْﻪُ ﺍﻟﻨَّﻬَﺎﺭَ
ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻫُﻢ ﻣُّﻈْﻠِﻤُﻮﻥَ ﻭَﺍﻟﺸَّﻤْﺲُ ﺗَﺠْﺮِﻱ ﻟِﻤُﺴْﺘَﻘَﺮٍّ ﻟَّﻬَﺎ ﺫَﻟِﻚَ ﺗَﻘْﺪِﻳﺮُ ﺍﻟْﻌَﺰِﻳﺰِ ﺍﻟْﻌَﻠِﻴﻢِ
ﻭَﺍﻟْﻘَﻤَﺮَ ﻗَﺪَّﺭْﻧَﺎﻩُ ﻣَﻨَﺎﺯِﻝَ ﺣَﺘَّﻰ ﻋَﺎﺩَ ﻛَﺎﻟْﻌُﺮْﺟُﻮﻥِ ﺍﻟْﻘَﺪِﻳﻢِ ﻟَﺎ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲُ ﻳَﻨﺒَﻐِﻲ ﻟَﻬَﺎ ﺃَﻥ
ﺗُﺪْﺭِﻙَ ﺍﻟْﻘَﻤَﺮَ ﻭَﻟَﺎ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞُ ﺳَﺎﺑِﻖُ ﺍﻟﻨَّﻬَﺎﺭِ ﻭَﻛُﻞٌّ ﻓِﻲ ﻓَﻠَﻚٍ ﻳَﺴْﺒَﺤُﻮﻥَ ﻭَﺁﻳَﺔٌ ﻟَّﻬُﻢْ ﺃَﻧَّﺎ ﺣَﻤَﻠْﻨَﺎ
ﺫُﺭِّﻳَّﺘَﻬُﻢْ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻔُﻠْﻚِ ﺍﻟْﻤَﺸْﺤُﻮﻥِ ﻭَﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﻟَﻬُﻢ ﻣِّﻦ ﻣِّﺜْﻠِﻪِ ﻣَﺎ ﻳَﺮْﻛَﺒُﻮﻥَ ﻭَﺇِﻥ ﻧَّﺸَﺄْ
ﻧُﻐْﺮِﻗْﻬُﻢْ ﻓَﻠَﺎ ﺻَﺮِﻳﺦَ ﻟَﻬُﻢْ ﻭَﻟَﺎ ﻫُﻢْ ﻳُﻨﻘَﺬُﻭﻥَ ﺇِﻟَّﺎ ﺭَﺣْﻤَﺔً ﻣِّﻨَّﺎ ﻭَﻣَﺘَﺎﻋًﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺣِﻴﻦٍ ﻭَﺇِﺫَﺍ
ﻗِﻴﻞَ ﻟَﻬُﻢُ ﺍﺗَّﻘُﻮﺍ ﻣَﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﺃَﻳْﺪِﻳﻜُﻢْ ﻭَﻣَﺎ ﺧَﻠْﻔَﻜُﻢْ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢْ ﺗُﺮْﺣَﻤُﻮﻥَ ﻭَﻣَﺎ ﺗَﺄْﺗِﻴﻬِﻢ ﻣِّﻦْ ﺁﻳَﺔٍ
ﻣِّﻦْ ﺁﻳَﺎﺕِ ﺭَﺑِّﻬِﻢْ ﺇِﻟَّﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻋَﻨْﻬَﺎ ﻣُﻌْﺮِﺿِﻴﻦَ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻗِﻴﻞَ ﻟَﻬُﻢْ ﺃَﻧﻔِﻘُﻮﺍ ﻣِﻤَّﺎ ﺭَﺯَﻗَﻜُﻢْ ﺍﻟﻠَّﻪُ
ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮُﻭﺍ ﻟِﻠَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﺃَﻧُﻄْﻌِﻢُ ﻣَﻦ ﻟَّﻮْ ﻳَﺸَﺎﺀ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻃْﻌَﻤَﻪُ ﺇِﻥْ ﺃَﻧﺘُﻢْ ﺇِﻟَّﺎ
ﻓِﻲ ﺿَﻠَﺎﻝٍ ﻣُّﺒِﻴﻦٍ ﴾
এরপর পড়বে:
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻤُﻔَﺮِّﺝ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺤﺰُﻭﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍّْﻟﻤﺨَﻠِّﺺِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺸﺤُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ
ﺍْﻟﻤُﻨَﻔِّﺲِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺪﻳُﻮﻥٍ ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻌﺎﻟِﻢِ ﻋﻦ ﻛﻞ ﻣَﻜﻨُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺟَﻌَﻞَ
ﺧَﺰَﺍﺋِﻨَﻪُ ﺑَﻴﻦَ ﺍْﻟﻜَﺎﻑِ ﻭَﺍْﻟﻨُّﻮﻥِ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺇﺫَﺍ ﺃَﺭﺍﺩَ ﺷَﻴْﺌﺎً ﺃﻥ ﻳَﻘﻮﻝَ ﻟَﻪُ ﻛُﻦْ ﻓَﻴَﻜُﻮﻥُ
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟَّﺬﻱ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﻣَﻠَﻜُﻮﺕُ ﻛُﻞّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻭَﺇﻟَﻴْﻪِ ﺗُﺮﺟَﻌُﻮﻥ
এরপর বল
ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺍﻓﺘﺢ ﻟﻲ ﺍﺑﻮﺍﺏ ﺭﺣﻤﺘﻚ ﻭﺍﺑﻮﺍﺏ ﺧﺰﺍﺋﻨﻚ ﺑﺤﻖ ﺳﻮﺭﺓ ﻳﺲ ﻭﺑﻔﻀﻠﻚ
ﻭﻛﺮﻣﻚ ﻳﺎ ﺍﺭﺣﻢ ﺍﻟﺮﺍﺣﻤﻴﻦ
এরপর ১০০ বার বল
ﻳﺎﻣﻔﺮﺝ ﺍﻟﻬﻢ
এবং এই দো‘আ কর
ﺍﻟﻬﻲ ﺑﺤﻖ ﺳﺮ ﻫﺬﻩ ﺍﻻﺳﺮﺍﺭ ﻭﺑﺤﻖ ﻛﺮﻣﻚ ﺍﻟﺨﻔﻲ ﻭﺑﺤﻖ ﺍﺳﻤﻚ ﺍﻟﻌﻈﻴﻢ ﺍﻥ
ﺗﻘﻀﻲ ﺣﺎﺟﺎﺗﻨﺎ ( ﻭﺣﺎﺟﺎﺕ ﺍﻟﺤﺎﺿﺮﻳﻦ ) ﻳﺎﻗﺎﺿﻲ ﺍﻟﺤﺎﺟﺎﺕ ﻳﺎ ﺍﺭﺣﻢ ﺍﻟﺮﺍﺣﻤﻴﻦ .
﴿ ﻭَﻳَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ ﻣَﺘَﻰ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟْﻮَﻋْﺪُ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﺻَﺎﺩِﻗِﻴﻦَ ﻣَﺎ ﻳَﻨﻈُﺮُﻭﻥَ ﺇِﻟَّﺎ ﺻَﻴْﺤَﺔً ﻭَﺍﺣِﺪَﺓً
ﺗَﺄْﺧُﺬُﻫُﻢْ ﻭَﻫُﻢْ ﻳَﺨِﺼِّﻤُﻮﻥَ ﻓَﻠَﺎ ﻳَﺴْﺘَﻄِﻴﻌُﻮﻥَ ﺗَﻮْﺻِﻴَﺔً ﻭَﻟَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺃَﻫْﻠِﻬِﻢْ ﻳَﺮْﺟِﻌُﻮﻥَ ﻭَﻧُﻔِﺦَ
ﻓِﻲ ﺍﻟﺼُّﻮﺭِ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻫُﻢ ﻣِّﻦَ ﺍﻟْﺄَﺟْﺪَﺍﺙِ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﺑِّﻬِﻢْ ﻳَﻨﺴِﻠُﻮﻥَ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻳَﺎ ﻭَﻳْﻠَﻨَﺎ ﻣَﻦ ﺑَﻌَﺜَﻨَﺎ
ﻣِﻦ ﻣَّﺮْﻗَﺪِﻧَﺎ ﻫَﺬَﺍ ﻣَﺎ ﻭَﻋَﺪَ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦُ ﻭَﺻَﺪَﻕَ ﺍﻟْﻤُﺮْﺳَﻠُﻮﻥَ ﺇِﻥ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﺇِﻟَّﺎ ﺻَﻴْﺤَﺔً ﻭَﺍﺣِﺪَﺓً
ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻫُﻢْ ﺟَﻤِﻴﻊٌ ﻟَّﺪَﻳْﻨَﺎ ﻣُﺤْﻀَﺮُﻭﻥَ ﻓَﺎﻟْﻴَﻮْﻡَ ﻟَﺎ ﺗُﻈْﻠَﻢُ ﻧَﻔْﺲٌ ﺷَﻴْﺌًﺎ ﻭَﻟَﺎ ﺗُﺠْﺰَﻭْﻥَ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﺎ
ﻛُﻨﺘُﻢْ ﺗَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ ﺇِﻥَّ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ ﻓِﻲ ﺷُﻐُﻞٍ ﻓَﺎﻛِﻬُﻮﻥَ ﻫُﻢْ ﻭَﺃَﺯْﻭَﺍﺟُﻬُﻢْ ﻓِﻲ
ﻇِﻠَﺎﻝٍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﺄَﺭَﺍﺋِﻚِ ﻣُﺘَّﻜِﺆُﻭﻥَ ﻟَﻬُﻢْ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻓَﺎﻛِﻬَﺔٌ ﻭَﻟَﻬُﻢ ﻣَّﺎ ﻳَﺪَّﻋُﻮﻥَ ﺳَﻠَﺎﻡٌ ﻗَﻮْﻟًﺎ ﻣِﻦ
ﺭَّﺏٍّ ﺭَّﺣِﻴﻢٍ ﻭَﺍﻣْﺘَﺎﺯُﻭﺍ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟْﻤُﺠْﺮِﻣُﻮﻥَ ﺃَﻟَﻢْ ﺃَﻋْﻬَﺪْ ﺇِﻟَﻴْﻜُﻢْ ﻳَﺎ ﺑَﻨِﻲ ﺁﺩَﻡَ ﺃَﻥ ﻟَّﺎ
ﺗَﻌْﺒُﺪُﻭﺍ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥَ ﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﻜُﻢْ ﻋَﺪُﻭٌّ ﻣُّﺒِﻴﻦٌ ﴾
এরপর পড়বে
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻤُﻔَﺮِّﺝ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺤﺰُﻭﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍّْﻟﻤﺨَﻠِّﺺِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺸﺤُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ
ﺍْﻟﻤُﻨَﻔِّﺲِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺪﻳُﻮﻥٍ ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻌﺎﻟِﻢِ ﻋﻦ ﻛﻞ ﻣَﻜﻨُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺟَﻌَﻞَ
ﺧَﺰَﺍﺋِﻨَﻪُ ﺑَﻴﻦَ ﺍْﻟﻜَﺎﻑِ ﻭَﺍْﻟﻨُّﻮﻥِ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺇﺫَﺍ ﺃَﺭﺍﺩَ ﺷَﻴْﺌﺎً ﺃﻥ ﻳَﻘﻮﻝَ ﻟَﻪُ ﻛُﻦْ ﻓَﻴَﻜُﻮﻥُ
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟَّﺬﻱ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﻣَﻠَﻜُﻮﺕُ ﻛُﻞّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻭَﺇﻟَﻴْﻪِ ﺗُﺮﺟَﻌُﻮﻥ
এরপর বল
ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺍﻓﺘﺢ ﻟﻲ ﺍﺑﻮﺍﺏ ﺭﺣﻤﺘﻚ ﻭﺍﺑﻮﺍﺏ ﺧﺰﺍﺋﻨﻚ ﺑﺤﻖ ﺳﻮﺭﺓ ﻳﺲ ﻭﺑﻔﻀﻠﻚ
ﻭﻛﺮﻣﻚ ﻳﺎ ﺍﺭﺣﻢ ﺍﻟﺮﺍﺣﻤﻴﻦ
এরপর ১০০ বল: (ﻳﺎﻣﻔﺮﺝ ﺍﻟﻬﻢ )এবং এই দো‘আ কর
ﺍﻟﻬﻲ ﺑﺤﻖ ﺳﺮ ﻫﺬﻩ ﺍﻻﺳﺮﺍﺭ ﻭﺑﺤﻖ ﻛﺮﻣﻚ ﺍﻟﺨﻔﻲ ﻭﺑﺤﻖ ﺍﺳﻤﻚ ﺍﻟﻌﻈﻴﻢ ﺍﻥ
ﺗﻘﻀﻲ ﺣﺎﺟﺎﺗﻨﺎ (ﻭﺣﺎﺟﺎﺕ ﺍﻟﺤﺎﺿﺮﻳﻦ ) ﻳﺎﻗﺎﺿﻲ ﺍﻟﺤﺎﺟﺎﺕ ﻳﺎ ﺍﺭﺣﻢ ﺍﻟﺮﺍﺣﻤﻴﻦ . ﴿
ﻭَﺃَﻥْ ﺍﻋْﺒُﺪُﻭﻧِﻲ ﻫَﺬَﺍ ﺻِﺮَﺍﻁٌ ﻣُّﺴْﺘَﻘِﻴﻢٌ ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺃَﺿَﻞَّ ﻣِﻨﻜُﻢْ ﺟِﺒِﻠًّﺎ ﻛَﺜِﻴﺮًﺍ ﺃَﻓَﻠَﻢْ ﺗَﻜُﻮﻧُﻮﺍ
ﺗَﻌْﻘِﻠُﻮﻥَ ﻫَﺬِﻩِ ﺟَﻬَﻨَّﻢُ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﺗُﻮﻋَﺪُﻭﻥَ ﺍﺻْﻠَﻮْﻫَﺎ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ ﺑِﻤَﺎ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﺗَﻜْﻔُﺮُﻭﻥَ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ
ﻧَﺨْﺘِﻢُ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻓْﻮَﺍﻫِﻬِﻢْ ﻭَﺗُﻜَﻠِّﻤُﻨَﺎ ﺃَﻳْﺪِﻳﻬِﻢْ ﻭَﺗَﺸْﻬَﺪُ ﺃَﺭْﺟُﻠُﻬُﻢْ ﺑِﻤَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳَﻜْﺴِﺒُﻮﻥَ ﻭَﻟَﻮْ
ﻧَﺸَﺎﺀ ﻟَﻄَﻤَﺴْﻨَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻋْﻴُﻨِﻬِﻢْ ﻓَﺎﺳْﺘَﺒَﻘُﻮﺍ ﺍﻟﺼِّﺮَﺍﻁَ ﻓَﺄَﻧَّﻰ ﻳُﺒْﺼِﺮُﻭﻥَ ﻭَﻟَﻮْ ﻧَﺸَﺎﺀ
ﻟَﻤَﺴَﺨْﻨَﺎﻫُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﻜَﺎﻧَﺘِﻬِﻢْ ﻓَﻤَﺎ ﺍﺳْﺘَﻄَﺎﻋُﻮﺍ ﻣُﻀِﻴًّﺎ ﻭَﻟَﺎ ﻳَﺮْﺟِﻌُﻮﻥَ ﻭَﻣَﻦْ ﻧُﻌَﻤِّﺮْﻩُ
ﻧُﻨَﻜِّﺴْﻪُ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺨَﻠْﻖِ ﺃَﻓَﻠَﺎ ﻳَﻌْﻘِﻠُﻮﻥَ ﻭَﻣَﺎ ﻋَﻠَّﻤْﻨَﺎﻩُ ﺍﻟﺸِّﻌْﺮَ ﻭَﻣَﺎ ﻳَﻨﺒَﻐِﻲ ﻟَﻪُ ﺇِﻥْ ﻫُﻮَ ﺇِﻟَّﺎ
ﺫِﻛْﺮٌ ﻭَﻗُﺮْﺁﻥٌ ﻣُّﺒِﻴﻦٌ ﴾
এরপর পড়বে
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻤُﻔَﺮِّﺝ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺤﺰُﻭﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍّْﻟﻤﺨَﻠِّﺺِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺸﺤُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ
ﺍْﻟﻤُﻨَﻔِّﺲِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺪﻳُﻮﻥٍ ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻌﺎﻟِﻢِ ﻋﻦ ﻛﻞ ﻣَﻜﻨُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺟَﻌَﻞَ
ﺧَﺰَﺍﺋِﻨَﻪُ ﺑَﻴﻦَ ﺍْﻟﻜَﺎﻑِ ﻭَﺍْﻟﻨُّﻮﻥِ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺇﺫَﺍ ﺃَﺭﺍﺩَ ﺷَﻴْﺌﺎً ﺃﻥ ﻳَﻘﻮﻝَ ﻟَﻪُ ﻛُﻦْ ﻓَﻴَﻜُﻮﻥُ
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟَّﺬﻱ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﻣَﻠَﻜُﻮﺕُ ﻛُﻞّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻭَﺇﻟَﻴْﻪِ ﺗُﺮﺟَﻌُﻮﻥ .
এরপর বল
ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺍﻓﺘﺢ ﻟﻲ ﺍﺑﻮﺍﺏ ﺭﺣﻤﺘﻚ ﻭﺍﺑﻮﺍﺏ ﺧﺰﺍﺋﻨﻚ ﺑﺤﻖ ﺳﻮﺭﺓ ﻳﺲ ﻭﺑﻔﻀﻠﻚ
ﻭﻛﺮﻣﻚ ﻳﺎ ﺍﺭﺣﻢ ﺍﻟﺮﺍﺣﻤﻴﻦ . এরপর ১০০ বার বল (ﻳﺎﻣﻔﺮﺝ
ﺍﻟﻬﻢ )এবং এই দো‘আ কর:
ﺍﻟﻬﻲ ﺑﺤﻖ ﺳﺮ ﻫﺬﻩ ﺍﻻﺳﺮﺍﺭ ﻭﺑﺤﻖ ﻛﺮﻣﻚ ﺍﻟﺨﻔﻲ ﻭﺑﺤﻖ ﺍﺳﻤﻚ ﺍﻟﻌﻈﻴﻢ ﺍﻥ
ﺗﻘﻀﻲ ﺣﺎﺟﺎﺗﻨﺎ (ﻭﺣﺎﺟﺎﺕ ﺍﻟﺤﺎﺿﺮﻳﻦ ) ﻳﺎﻗﺎﺿﻲ ﺍﻟﺤﺎﺟﺎﺕ ﻳﺎ ﺍﺭﺣﻢ ﺍﻟﺮﺍﺣﻤﻴﻦ . ﴿
ﻟِﻴُﻨﺬِﺭَ ﻣَﻦ ﻛَﺎﻥَ ﺣَﻴًّﺎ ﻭَﻳَﺤِﻖَّ ﺍﻟْﻘَﻮْﻝُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻜَﺎﻓِﺮِﻳﻦَ ﺃَﻭَﻟَﻢْ ﻳَﺮَﻭْﺍ ﺃَﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﻟَﻬُﻢْ ﻣِﻤَّﺎ
ﻋَﻤِﻠَﺖْ ﺃَﻳْﺪِﻳﻨَﺎ ﺃَﻧْﻌَﺎﻣًﺎ ﻓَﻬُﻢْ ﻟَﻬَﺎ ﻣَﺎﻟِﻜُﻮﻥَ ﻭَﺫَﻟَّﻠْﻨَﺎﻫَﺎ ﻟَﻬُﻢْ ﻓَﻤِﻨْﻬَﺎ ﺭَﻛُﻮﺑُﻬُﻢْ ﻭَﻣِﻨْﻬَﺎ
ﻳَﺄْﻛُﻠُﻮﻥَ ﻭَﻟَﻬُﻢْ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻣَﻨَﺎﻓِﻊُ ﻭَﻣَﺸَﺎﺭِﺏُ ﺃَﻓَﻠَﺎ ﻳَﺸْﻜُﺮُﻭﻥَ ﻭَﺍﺗَّﺨَﺬُﻭﺍ ﻣِﻦ ﺩُﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺁﻟِﻬَﺔً
ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢْ ﻳُﻨﺼَﺮُﻭﻥَ ﻟَﺎ ﻳَﺴْﺘَﻄِﻴﻌُﻮﻥَ ﻧَﺼْﺮَﻫُﻢْ ﻭَﻫُﻢْ ﻟَﻬُﻢْ ﺟُﻨﺪٌ ﻣُّﺤْﻀَﺮُﻭﻥَ ﻓَﻠَﺎ ﻳَﺤْﺰُﻧﻚَ
ﻗَﻮْﻟُﻬُﻢْ ﺇِﻧَّﺎ ﻧَﻌْﻠَﻢُ ﻣَﺎ ﻳُﺴِﺮُّﻭﻥَ ﻭَﻣَﺎ ﻳُﻌْﻠِﻨُﻮﻥَ ﺃَﻭَﻟَﻢْ ﻳَﺮَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥُ ﺃَﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻩُ ﻣِﻦ ﻧُّﻄْﻔَﺔٍ
ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻫُﻮَ ﺧَﺼِﻴﻢٌ ﻣُّﺒِﻴﻦٌ ﴾
এরপর পড়বে
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻤُﻔَﺮِّﺝ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺤﺰُﻭﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍّْﻟﻤﺨَﻠِّﺺِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺸﺤُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ
ﺍْﻟﻤُﻨَﻔِّﺲِ ﻋَﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﺪﻳُﻮﻥٍ ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟﻌﺎﻟِﻢِ ﻋﻦ ﻛﻞ ﻣَﻜﻨُﻮﻥٍ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺟَﻌَﻞَ
ﺧَﺰَﺍﺋِﻨَﻪُ ﺑَﻴﻦَ ﺍْﻟﻜَﺎﻑِ ﻭَﺍْﻟﻨُّﻮﻥِ , ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﻣَﻦ ﺇﺫَﺍ ﺃَﺭﺍﺩَ ﺷَﻴْﺌﺎً ﺃﻥ ﻳَﻘﻮﻝَ ﻟَﻪُ ﻛُﻦْ ﻓَﻴَﻜُﻮﻥُ
ﺳُﺒﺤَﺎﻥ ﺍْﻟَّﺬﻱ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﻣَﻠَﻜُﻮﺕُ ﻛُﻞّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻭَﺇﻟَﻴْﻪِ ﺗُﺮﺟَﻌُﻮﻥ .
এরপর বল
ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺍﻓﺘﺢ ﻟﻲ ﺍﺑﻮﺍﺏ ﺭﺣﻤﺘﻚ ﻭﺍﺑﻮﺍﺏ ﺧﺰﺍﺋﻨﻚ ﺑﺤﻖ ﺳﻮﺭﺓ ﻳﺲ ﻭﺑﻔﻀﻠﻚ
ﻭﻛﺮﻣﻚ ﻳﺎ ﺍﺭﺣﻢ ﺍﻟﺮﺍﺣﻤﻴﻦ . এরপর ১০০ বল ( ﻳﺎﻣﻔﺮﺝ ﺍﻟﻬﻢ )এবং এই
দো‘আ পড়:
ﺍﻟﻬﻲ ﺑﺤﻖ ﺳﺮ ﻫﺬﻩ ﺍﻻﺳﺮﺍﺭ ﻭﺑﺤﻖ ﻛﺮﻣﻚ ﺍﻟﺨﻔﻲ ﻭﺑﺤﻖ ﺍﺳﻤﻚ ﺍﻟﻌﻈﻴﻢ ﺍﻥ
ﺗﻘﻀﻲ ﺣﺎﺟﺎﺗﻨﺎ (ﻭﺣﺎﺟﺎﺕ ﺍﻟﺤﺎﺿﺮﻳﻦ ) ﻳﺎﻗﺎﺿﻲ ﺍﻟﺤﺎﺟﺎﺕ ﻳﺎ ﺍﺭﺣﻢ ﺍﻟﺮﺍﺣﻤﻴﻦ . ﴿
ﻭَﺿَﺮَﺏَ ﻟَﻨَﺎ ﻣَﺜَﻠًﺎ ﻭَﻧَﺴِﻲَ ﺧَﻠْﻘَﻪُ ﻗَﺎﻝَ ﻣَﻦْ ﻳُﺤْﻴِﻲ ﺍﻟْﻌِﻈَﺎﻡَ ﻭَﻫِﻲَ ﺭَﻣِﻴﻢٌ ﻗُﻞْ ﻳُﺤْﻴِﻴﻬَﺎ
ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺃَﻧﺸَﺄَﻫَﺎ ﺃَﻭَّﻝَ ﻣَﺮَّﺓٍ ﻭَﻫُﻮَ ﺑِﻜُﻞِّ ﺧَﻠْﻖٍ ﻋَﻠِﻴﻢٌ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺟَﻌَﻞَ ﻟَﻜُﻢ ﻣِّﻦَ ﺍﻟﺸَّﺠَﺮِ
ﺍﻟْﺄَﺧْﻀَﺮِ ﻧَﺎﺭًﺍ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺃَﻧﺘُﻢ ﻣِّﻨْﻪُ ﺗُﻮﻗِﺪُﻭﻥَ ﺃَﻭَﻟَﻴْﺲَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ ﻭَﺍﻟْﺄَﺭْﺽَ
ﺑِﻘَﺎﺩِﺭٍ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻥْ ﻳَﺨْﻠُﻖَ ﻣِﺜْﻠَﻬُﻢ ﺑَﻠَﻰ ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟْﺨَﻠَّﺎﻕُ ﺍﻟْﻌَﻠِﻴﻢُ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺃَﻣْﺮُﻩُ ﺇِﺫَﺍ ﺃَﺭَﺍﺩَ ﺷَﻴْﺌًﺎ
ﺃَﻥْ ﻳَﻘُﻮﻝَ ﻟَﻪُ ﻛُﻦْ ﻓَﻴَﻜُﻮﻥُ ﻓَﺴُﺒْﺤَﺎﻥَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﻣَﻠَﻜُﻮﺕُ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻭَﺇِﻟَﻴْﻪِ ﺗُﺮْﺟَﻌُﻮﻥَ
﴾
পাঠক, পদ্ধতিটি নমুনা স্বরূপ হুবহু উল্লেখ
করতে গিয়ে একটু দীর্ঘ হয়েছে। বোঝার
সুবিধার্থে শিয়া আলেমদের উল্লেখিত
পদ্ধতিটি হুবহু তুলে ধরলাম। পদ্ধতিটির
সাথে বানোয়াট অনেক ফযিলত উল্লেখ
করা হয়েছে। অতিরিক্ত দীর্ঘ
হয়ে যাবে বলে তা ছেড়ে দেয়েছি। নিশ্চয়
আপনি ইয়াসিন খতমের এই পদ্ধতি দেখেই
তা মনগড়া বানোয়াট
এবং বানানো বলে উড়িয়ে দিবেন। কারণ
হিসেবে রাসূল শিখান নি, সাহাবিরা করেন নি
, খাইরুল ক্বুরুনে এর কোনো নজীর নেই বলে উল্লেখ
করবেন। এই যদি হয় এই পদ্ধতি বানোয়াট হওয়ার
দলীল এবং বাস্তবেও তাই, তবে আমাদের
মাঝে যে পদ্ধতির প্রচলন আছে তার
কি কোনো অস্তিত্ব কল্যাণের সাক্ষ্যপ্রাপ্ত
যুগে আছে? যদি এর উত্তর ‘না’ হয় এবং আসলেও
তাই, তবে উভর পদ্ধতিই মনগড়া ও বানোয়াট। সবকিছু
থেকেই বিরত থাকা আমাদের জন্য অপরিহার্য।
আর যদি বলেন, বুযুর্গদের থেকে এমন আমল
পাওয়া গেছে, তবে অন্যদের বুযুর্গদের
কি দোষ? আপনার আমার বুযুর্গের
কথা গ্রহণযোগ্য, আর তাদের বুযুর্গদের
কথা গ্রহণযোগ্য নয় এ কেমন ইনসাফ? আপনি নিজেই
বিচার করুন।
নিজের পক্ষের লোকের
কথা নির্বিচারে গ্রহণ, অন্যের কথা শুদ্ধ হলেও
প্রত্যাখ্যান এটি একমাত্র বিভ্রান্ত দলের
বৈশিষ্ট্য। পক্ষান্তরে আহলুস্সুন্নাহ ওয়াল
জামাতের আলেমদের বৈশিষ্ট হচ্ছে, সবার
কথা নিরীক্ষার মাধ্যমে গ্রহণ, সহীহ বা নির্ভুল
হলে অন্যের কথাও গ্রহণ। ভুল হলে নিজ মতাদর্শের
লোকের কথাও প্রত্যাখ্যান। এই আমানতদারীর
সাথে তারা দ্বীনি ইলমের শিক্ষা দিয়ে গেছেন।
যুক্তির আলোকে সুন্নাহ বিরোধী কর্ম সৃষ্টির
সূচনা করতে পারলে আরেকজন তার
যুক্তিতে বানানো জিনিসটিকে একটু মোডিফাই
বা সুন্দর
করতে সমস্যা কোথায়? বরং এটাইতো নিয়ম।
যাইহোক, আমরা যারা সুন্নাতের উপর
থাকতে চাই, সুন্নাতকে যুক্তি ও প্রচলনের উপর
অগ্রাধিকার দেই ইবাদতের মধ্যে কম বেশ নতুন
কোনো নিয়মই
আমরা মানি না বা মানতে পারি না। রাসূল
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাতের
বাইরে গেলেই বিদ‘আতে লিপ্ত হওয়ার
আশংকা সর্বদা আমাদের মনে কাজ করে। আল্লাহ
যেন আমাদেরকে এই আদর্শের অবিচল রাখেন।
সবাইকে সুন্নাহ বোঝার তওফিক দান করেন। হুবহু
সুন্নাতের উপর থাকা
, বিদ‘আতকে সম্পূর্ণরুপে পরিহার করার তওফিকই
তার কাছে আমাদের কাম্য। আমীন।
খতমে শিফা
‘শিফা’ শব্দের আরবী মূল শব্দ ‘ ﺷِﻔﺎﺀ’ যার অর্থ
রোগমুক্ত করা বা রোগ নিরাময়।
এভাবে ‘খতমে শিফা’ অর্থ: রোগ নিরাময় করার
খতম। কেউ অসুস্থ হলে তার রোগমুক্তির আশায় এই
খতম পড়ানো হয়। আমাদের দেশে প্রচলিত
একটি বইয়ে এই খতমটি যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে :
‘‘খতমে শিফা
ﻻ ﺍﻟﻪ ﺍﻻ ﺍﻟﻠﻪ (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্)
এই পবিত্র কালেমা একলক্ষ পঁচিশ
হাজার বার পাঠ করাকে ‘‘খতমে শিফা
’’ বলে। একে খতমে তাহলীলও বলা হয়।
এই খতম পাঠ করিয়া এর সোয়াব মৃত
লোকের রূহের উদ্দেশ্যে বখশিশ
করিয়া দিলে নিশ্চয় আল্লাহ তা
‘আলা এর উসিলায় তাহাকে মাফ
করিয়া দিবেন ও বেহেশত দান করবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি কোনো কঠিন
বিপদের সম্মুখীন হয়
অথবা কোনো কঠিন রোগে আক্রান্ত
হইয়া দীর্ঘদিন ভুগিতে থাকে
, তবে উক্ত কালাম তাহার নিকট
বসিয়া সশব্দে পাঠ করিতে থাকিবে
, যেন সেই রোগী উহা শুনিতে পায়।
আল্লাহর ফযলে খতম শেষ হইবার পূর্বেই
ইহার আশ্চর্য ফল বুঝিতে পারা যায়।
কোনো মুমূর্ষু লোকের নিকট বসে এই খতম
পাঠ করলে তাহার রোগ যন্ত্রনা লাঘব
হয় এবং পরমায়ূ শেষ
হইয়া থাকিলে আছানির সহিত মৃত্যু হয়।
এই খতম একজনে পাঠ করাই
ভাল, তবে জরুরী প্রয়োজনে ১০/১৫ জন
একত্র বসিয়া একদিনেও খতম
করা চলে।’’ [91]
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজি‘ঊন।
ওহি নির্ভর কথার উপর নিজ থেকে কিছু বলার
কি দুঃসাহসিকতা!!
রোগ আল্লাহ দেন এবং তিনিই
মানুষকে রোগমুক্ত করেন। কারো রোগ
দেখা দিলে রোগীর নিজের কী করণীয় এবং তার
বেলায় অন্যদের কী করণীয় সবই বলে গেছেন
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
শিক্ষার মাঝে ‘খতমে শিফা’ নামের কিছু নেই।
একবার সাহাবায়ে কেরাম আরয করলেন
ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমরা কি চিকিৎসা করব?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
তাদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন:
« ﺗﺪﺍﻭﻭﺍ ﻓﺈﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ ﻟﻢ ﻳﻀﻊ ﺩﺍﺀ ﺇﻻ ﻭﺿﻊ ﻟﻪ ﺩﻭﺍﺀ ﻏﻴﺮ ﺩﺍﺀ ﻭﺍﺣﺪ
ﺍﻟﻬﺮﻡ » . ( ﺳﻨﻦ ﺃﺑﻲ ﺩﺍﻭﺩ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻄﺐ، ﺑﺎﺏ ﻓﻲ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻳﺘﺪﺍﻭﻯ، ﺭﻗﻢ :
3857 ، ﺳﻨﻦ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻄﺐ، ﺑﺎﺏ ﺍﻟﺪﻭﺍﺀ ﻭﺍﻟﺤﺚ
ﻋﻠﻴﻪ،ﺭﻗﻢ 2038: )
‘‘তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ কর।
কেননা মহান আল্লাহ তা‘আলা এমন
কোনো রোগ দেননি যার ঔষধ দেননি
, একমাত্র মৃত্যু ব্যতীত ।’’[92]
আরেকটি হাদীসে এরশাদ করেন:
« ﻟﻜﻞ ﺩﺍﺀ ﺩﻭﺍﺀ ﻓﺈﺫﺍ ﺃﺻﻴﺐ ﺩﻭﺍﺀ ﺍﻟﺪﺍﺀ ﺑﺮﺃ ﺑﺈﺫﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ »
( ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ، ﺑﺎﺏ ﻟﻜﻞ ﺩﺍﺀ ﺩﻭﺍﺀ ﻭﺍﺳﺘﺤﺒﺎﺏ ﺍﻟﺘﺪﺍﻭﻱ،
ﺭﻗﻢ 5871: )
‘‘প্রত্যেক রোগের ঔষধ রয়েছে। অতঃপর
যখন ঔষধ রোগের সাথে ঠিকমত
পড়ে আল্লাহর ইচ্ছায় ভাল হয়।’’
এভাবে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের চিকিৎসা গ্রহণের
আরো অনেক হাদীস রয়েছে।
স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
হাদীসের পাতা খুললেই চিকিৎসা গ্রহণের
ঘটনা পাওয়া যায়। মুহাদ্দিসীনে কেরামের
অনেকে তাদের
কিতাবে ‘চিকিৎসা অধ্যায়’ নামে পৃথক অধ্যায়
রচনা করেছেন। তবে মুমিন
ব্যক্তি চিকিৎসাকে শুধুমাত্র মাধ্যম হিসেবেই
গ্রহণ করেন। তার বিশ্বাস, রোগ নিবারণের
মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা । তবে আল্লাহ
অমুক ঔষধ অমুক রোগের জন্য দিয়েছেন
বলে গবেষণার মাধ্যমে এ বিষয়ের পণ্ডিতগণ
জানতে পেরেছেন। তাই ঔষধ ব্যবহার মূলত আল্লাহর
নির্দেশ বলেই আমরা হাদীসের
অপরদিকে এক মুমিন আরেক মুমিনের ভাই
বলে কুরআন ও হাদীসে ঘোষণা করা হয়েছে । তাই
একজন মুমিন অসুস্থ হয়ে বিপদে পড়লে অপর মুমিনের
অনেক দায়িত্ব রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব মুমিনকে একই ব্যক্তির
সাথে তুলনা করেছেন। একজন মানুষের
একটি অঙ্গে ব্যথা হলে তার সমস্ত শরীর যেমন কষ্ট
অনূভব করে তদ্রূপ একজন মুমিন ব্যথিত
হলে প্রতিটি মুমিন তার ব্যথায় ব্যথিত
হওয়া ঈমানের আলামত
বলে আমাদেরকে বুঝিয়েছেন নবী সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ।
« ﻣﺜﻞ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻴﻦ ﻓﻰ ﺗﻮﺍﺩﻫﻢ ﻭﺗﺮﺍﺣﻤﻬﻢ ﻭﺗﻌﺎﻃﻔﻬﻢ ﻣﺜﻞ ﺍﻟﺠﺴﺪ ﺇﺫﺍ
ﺍﺷﺘﻜﻰ ﻣﻨﻪ ﻋﻀﻮ ﺗﺪﺍﻋﻰ ﻟﻪ ﺳﺎﺋﺮ ﺍﻟﺠﺴﺪ ﺑﺎﻟﺴﻬﺮ ﻭﺍﻟﺤﻤﻰ » .
(ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ، ﺑﺎﺏ ﺗﺮﺍﺣﻢ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻴﻦ ﻭﺗﻌﺎﻃﻔﻬﻢ ﻭﺗﻌﺎﺿﺪﻫﻢ، ﺭﻗﻢ:
6751 )
‘‘মুমিনদের দৃষ্টান্ত পরস্পরের প্রতি দয়া
, মমতা, আন্তরিকতার দিক
দিয়ে একটি দেহের মত। তাদের দেহের
একটি অংশ আক্রান্ত হলে, তার সমগ্র
অঙ্গ ব্যথা, যন্ত্রনা ও অনিদ্রায়
আক্রান্ত হয়।’’ [94]
এই হাদীস থেকেই কোনো মুমিন অসুস্থ
হলে আরেক মুমিনের কি করণীয়, তার কতটুকু
দায়িত্ব উপলব্ধি করা যায়। তথাপি এ হাদীস
ছাড়া আরো অনেক হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমিনের অনেক করণীয়
স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন। একজন অসুস্থ মুমিনের
আরেক মুমিনের উপর
তাকে দেখতে যাওয়াকে অধিকার সাব্যস্ত
করেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
« ﺣَﻖُّ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻢِ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻢِ ﺳِﺖٌّ ». ﻗِﻴﻞَ ﻣَﺎ ﻫُﻦَّ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻗَﺎﻝَ : …ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻣَﺮِﺽَ ﻓَﻌُﺪْﻩُ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻣَﺎﺕَ ﻓَﺎﺗَّﺒِﻌْﻪُ » . ( ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ، ﺑﺎﺏ
ﻣﻦ ﺣﻖ ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ، ﺭﻗﻢ 5778: )
‘‘এক মুসলিমের অপর মুসলিমের উপর
ছয়টি প্রাপ্য রয়েছে। বলা হলো:
হে আল্লাহর রাসূল: সেগুলো কী? রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বললেন: ....আর যখন সে অসুস্থ হয়
তাকে দেখতে যাও, আর যখন
সে মারা যায় তার জানাযায় অংশ
নাও।’’ [95]
রোগীকে দেখতে যাওয়া বা তার
সেবার ফযিলতে রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
« ﻣﻦ ﻋﺎﺩ ﻣﺮﻳﻀﺎ ﻟﻢ ﻳﺰﻝ ﻓﻰ ﺧﺮﻓﺔ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺣﺘﻰ ﻳﺮﺟﻊ » . ( ﺻﺤﻴﺢ
ﻣﺴﻠﻢ،ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺒﺮ ﻭﺍﻟﺼﻠﺔ ﻭﺍﻷﺩﺏ، ﺑﺎﺏ ﻓﻀﻞ ﻋﻴﺎﺩﺓ ﺍﻟﻤﺮﻳﺾ، ﺭﻗﻢ:
6717 )
‘‘যে ব্যক্তি রোগীকে দেখতে যায়
ফিরে আসার পূর্ব পর্যন্ত
সে জান্নাতের ফলের
মাঝে থাকে।’’ [96]
এভাবে রোগী দেখতে যাওয়া, তাঁর
সেবা করা, এর ফযিলত সংক্রান্ত বিভিন্ন হাদীস
বর্ণিত হয়েছে। দেখতে গিয়ে কী পড়বে এতেও নবীর
সুন্নাত রয়েছে। হাদীসে রয়েছে:
" ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺩﺧﻞ ﻋﻠﻰ ﺭﺟﻞ ﻳﻌﻮﺩﻩ ﻓﻘﺎﻝ:
"ﻻ ﺑﺄﺱ ﻃﻬﻮﺭ ﺇﻥ ﺷﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ ." " ( ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ، ﺑﺎﺏ ﻋﻼﻣﺎﺕ ﺍﻟﻨﺒﻮﺓ
ﻓﻲ ﺍﻹﺳﻼﻡ، ﺭﻗﻢ: 5338 )
‘‘রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির
কাছে তার রোগ দেখতে গেলেন।
গিয়ে বললেন: কোনো অসুবিধা নেই,
(ভাল হয়ে যাবে) পবিত্র হবে (রোগ
গোনাহের কাফ্ফারা হয়ে গোনাহ
থেকে পবিত্র করবে) ইন-শা-
আল্লাহ।’’ [97]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
এত দিক নির্দেশনা থাকতে এগুলো বাদ দিয়ে
, বা এগুলো রেখে নতুন কিছু সংযোজন
করে ‘খতমে শিফা’ নামে খতম বের
করা হয়েছে যার কোনো ভিত্তি নেই। এর
ফযিলতে যা বলা হয়েছে সবই মনগড়া। এই খতম রোগ
নিবারণের খতম হলে আর অন্য কিছুর কি দরকার
ছিল? রোগের জন্য কুরআন খতম, বুখারীর হাদীসের
খতমকে অভিজ্ঞতার বাহানায় অর্থ উপার্জনের
মাধ্যম বানানোর কি প্রয়োজন ছিল। অসুস্থ
ব্যক্তি অজ্ঞতার কারণে না বুঝলে তাকে সঠিক
বিষয় বোঝানোই ছিল একজন আলেমের দায়িত্ব।
তাকে দীনের দা‘ওয়াত দেওয়ার এটি ছিল
একটি সুবর্ণ সুযোগ। তাকে দীনের সঠিক
একটি শিক্ষাদান আমার মৃত্যুর পরও কাজে আসতো।
এই দায়িত্ব আদায় না করে বরং তার
অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের স্বার্থ
উদ্ধারের চিন্তা করা কতটুকু অমানবিক কাজ
তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। এই অমানবিক কাজকেই
তার থেকে কিছু অর্থ উদ্ধারের সুবর্ণ সুযোগ
পাওয়া গেছে বলে মনে করা হয়। সবচেয়ে দুঃখজনক
ব্যাপার এই যে, একজন অসুস্থ মানুষ মানেই
সে যে কোনো দিক থেকে বিপদগ্রস্ত । এই
বিপদে আমাকে আমার সামর্থানুযায়ী তার
সাহায্যে এগিয়ে আসা প্রয়োজন ছিল। আজীবন
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
আমাদের এই শিক্ষাই দিয়ে গেলেন।
আমরা রাসূলের এই শিক্ষাতো গ্রহণ করছিই না
, উপরন্তু বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে আরো বিপদ ও
ঝামেলায় ফেলছি। তাকে সাহায্য না করে খতমের
বাহানায় তার থেকেই আর্থিক সাহায্য নিচ্ছি।
আল্লাহ আমাকে এবং সবাইকে হেদায়াত দান
করুন। সাহায্য গ্রহণ না করে সাহায্য করার তওফিক
ও মানসিকতা দান করুন। আমীন।
উল্লেখ্য যে, ‘খতমে শিফা’ নামের খতমের
বর্ণিত পদ্ধতি ছাড়া অন্য পদ্ধতিও বলা হয়ে থাকে।
যেমন, ‘ইয়া সালামু’ নির্দিষ্ট সংখ্যায় পড়া। এর
কোনো ভিত্তি নেই। টাকার পরিমাণে ছোট
দো‘আ, বড় দো‘আ, কম সংখ্যা
, বেশি সংখ্যা নির্ধারিত হয়ে থাকে। অনেক সময়
পড়ার মাঝে কম বেশ করা আয়োজকের তদারিকের
উপর নির্ভর করে। আল্লাহ আমাদেরকে এসব
থেকে দূরে রাখুন। আমীন।
খতমে তাহলীল
খতমে তাহলীল বা " ﻻ ﺍﻟﻪ ﺍﻻ
ﺍﻟﻠﻪ " (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্) এর খতম।
খতমে শিফার সাথেই তা পড়ার নিয়ম ও এর
ফযিলতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ সবকিছুই
মনগড়া, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
এই কালিমাটি হচ্ছে ইসলামে মূল। রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ২৩ বছরের
পুরো জীবনটাই এই কালেমার তাৎপর্য
বুঝানো এবং এর তাৎপর্যের উপর
সাহাবিদেরকে উঠানোর পিছনে ব্যয় করেছেন।
সাহাবায়ে কেরাম
থেকে বর্ণিত, তারা প্রথমে ঈমান অতঃপর কুরআন
শিক্ষা করেছেন। [98] হাদীসে এই কালেমার
যিকরকে সর্বোত্তম যিকর বলা হয়েছে। জাবের
ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু
থেকে বর্ণিত :
‘‘আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে
শুনেছি: সর্বশ্রেষ্ট
যিকর ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং
সর্বশ্রেষ্ট দো‘আ ‘আলহামদুলিল্লাহ’’ ।
পক্ষান্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি তাঁর
জীবনে কখনো সাহাবিদেরকে খতম
নামের এসব
কোনো কথা বলেননি বা শিক্ষা দেন
নি। রাসূল সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষার
ভিত্তিতে সাহাবায়ে কেরাম তাদের
জীবনে ঈমানের পিছনে অনেক মেহনত
করে এই কালেমার তাৎপর্য তাদের
অন্তরে বসালেও কখনোই তাদের
থেকে এমন ধরণের
কোনো শিক্ষা বা কথাবার্তা পাওয়া
যায় না, এমনকি কল্যাণের
সাক্ষ্যপ্রাপ্ত বা খাইরুল ক্বুরুনের
কোনো যুগেই এসবের কোনো অস্তিত্ব
বিদ্যমান নেই। অন্য মানুষ এই কালেমার
খতম করে মৃত
ব্যক্তিকে জান্নাতে বা স্বর্গে
পাঠিয়ে দেওয়ার ধারণা মূলত বিধর্মী
, ব্রাহ্মণী, পুরোহিতবাদি শিক্ষা।
ইসলামের শিক্ষা যার সম্পূর্ণ বিপরীত।
হিন্দুত্ববাদের হাওয়ায় কোনো অজ্ঞ
সুফি সাধক থেকে এই খতমের
সুচনা হওয়া অসম্ভবের কিছু নয়।
আমাদের দেশের হিন্দু সমাজে এর
বাস্তবতা পাওয়া যায়। আল্লাহই ভাল
জানেন। তিনি আমাদেরকে এসব
বুঝে এগুলোর খপ্পর থেকে নিরাপদ
রাখুন। কালিমার সঠিক মর্ম বুঝে আমল
করা এবং এর দা‘ওয়াত দেওয়ার তওফিক
দান করুন। আমীন।
খতমে তাসমিয়া
‘তাসমিয়া’ শব্দের মূল অর্থ নামকরণ করা। মুসলিম
ব্যক্তি যে কোনো কাজ আল্লাহর নাম নিয়েই শুরু
করেন, তাই আল্লাহর নাম নেওয়া বা বিসমিল্লাহ
বলার ক্ষেত্রেও শব্দটি প্রয়োগ হয়।
এভাবে ‘খতমে তাসমিয়া’ বিসমিল্লাহ এর
খতমকে বুঝানো হয়ে থাকে। একলক্ষ পঁচিশ হাজার
বার ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’’ পাঠের
মাধ্যমে এই খতম করতে হয়। এই খতমের
বিবরণে লেখা হয়েছে:
‘‘এই পাক কালাম একলক্ষ পঁচিশ হাজার
বার পাঠ করাকে ‘‘খতমে তাসমিয়া
’’ বলে। কোনো কঠিন বিপদ
হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য
অথবা কোনো মনোবাসনা পূর্ণ হওয়ার
জন্য এই খতম অত্যন্ত ফলপ্রদ। অনেক
লোক একত্রিত হয়ে একই বৈঠকে এই খতম
পাঠ করিয়া আল্লাহর
দরবারে মোনাজাত করলে আল্লাহ
তাআলা নিশ্চয় তাহাকে সেই বিপদ
হইতে রক্ষা করেন বা তাহার
বাসনা পূর্ণ করেন।’’ [100]
যে কোনো কাজ আল্লাহর নামে শুরু
করা ইসলামের মৌলিক শিক্ষার অন্যতম। ‘‘পড়
তোমার রাবব্ এর
নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন’’ [101] বলে
ওহির সুচনাতেই রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই
শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবনের সকল
ক্ষেত্রে এই শিক্ষার বাস্তবায়ন করেছেন।
‘বিসমিল্লাহ’ ব্যবহারের মাধ্যমে এর বাস্তব
প্রয়োগের
সাথে সাথে সাহাবায়ে কেরামদেরকেও এর
নির্দেশ দিয়েছেন। সাহাবায়ে কেরাম তাদের
জীবনের সর্বক্ষেত্রে এই শিক্ষার বাস্তবায়ন
ঘটিয়েছেন। এছাড়া ‘বিসমিল্লাহ’ বলে রোগের
ঝাড় ফুঁকের আমলও রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পাওয়া যায়।
সাহাবী উসমান ইবন আবিল ‘আস আস-
সাক্বাফী একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাঁর শরীরের
একটি ব্যথার অভিযোগ করলেন। ইসলাম গ্রহণের পর
থেকেই তিনি তাঁর শরীরে এই ব্যথা অনুভব করছেন
বলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
কাছে আরয করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন:
« ﺿﻊ ﻳﺪﻙ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺬﻯ ﺗﺄﻟﻢ ﻣﻦ ﺟﺴﺪﻙ ﻭﻗﻞ ﺑﺎﺳﻢ ﺍﻟﻠﻪ . ﺛﻼﺛﺎ . ﻭﻗﻞ
ﺳﺒﻊ ﻣﺮﺍﺕ ﺃﻋﻮﺫ ﺑﺎﻟﻠﻪ ﻭﻗﺪﺭﺗﻪ ﻣﻦ ﺷﺮ ﻣﺎ ﺃﺟﺪ ﻭﺃﺣﺎﺫﺭ » . ( ﺻﺤﻴﺢ
ﻣﺴﻠﻢ، ﺑﺎﺏ ﺍﺳﺘﺤﺒﺎﺏ ﻭﺿﻊ ﻳﺪﻩ ﻋﻠﻰ ﻣﻮﺿﻊ ﺍﻷﻟﻢ ﻣﻊ ﺍﻟﺪﻋﺎﺀ،
ﺭﻗﻢ 5867: )
‘‘তোমার শরীরের যে জায়গায়
ব্যথা রয়েছে সেখানে হাত রাখ
এবং তিনবার ‘ ﺑِﺎﺳْﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪ ’ বল। আরো সাতবার
বল:
‘‘ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻗُﺪْﺭَﺗِﻪِ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﺃَﺟِﺪُ
ﻭَﺃُﺣَﺎﺫِﺭُ ’’ (আমি যে ব্যথা অনুভব
করছি এবং যে ভয়
পাচ্ছি তা থেকে আল্লাহ ও তার
কুদরতের আশ্রয় প্রার্থনা করছি)’’ [102]
এই হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন
থেকে ‘বিসমিল্লাহ’ এর শিক্ষা। সাহাবা, খাইরুল
ক্বুরুন সবার জীবনেও এই একই
শিক্ষা দেখতে পাবেন। এর বাইরে খতম
নামে যা কিছু বলা হয়ে থাকে তা সম্পূর্ণ মনগড়া ও
ভিত্তিহীন। নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা সাহাবিদের জীবনে এই
তাসমিয়া খতমের কোনো দৃষ্টান্ত নেই, কল্যাণের
সাক্ষ্যপ্রাপ্ত কোনো যুগেই এর কোনো নজীর নেই।
এ সবকিছু তাদের যুগের অনেক পরের উদ্ভাবন।
এছাড়া এই খতমের ফযিলতে যা কিছু বলা হয় সবই
মনগড়া বানানো। আল্লাহ আমাদেরকে এ সমস্ত
মনগড়া কর্ম থেকে রক্ষা করুন। ‘বিসমিল্লাহ’ এর
মৌলিক শিক্ষায় আমাদের জীবন গড়ার তওফিক
দান করুন। আমীন।
খতমে খাজেগান
ফার্সি শব্দ ‘খাজা’ যার বহুবচন ‘খাজেগাঁ’ ।
খতমের নাম থেকেই
তা যে অনারব কোনো সুফি থেকে আবিষ্কৃত
তা সহজেই অনুমেয়। এই নামকরণের কারণে বলা হয়,
‘‘পীর-পীরানগণের উপর দো‘আ করা হয় বলিয়া এই
খতমের নাম খাজেগান বা পীরান
[103] রাখা হইয়াছে’’ ।
খতমের নিয়মে লিখা হয়েছে: [104]
১. সূরা ফাতেহা ৭০ বার।
২. দুরূদ শরীফ ১০০ বার।
৩. সূরা ‘আলাম নাশরাহ লাকা’ ৭০ বার।
৪. সূরা ইখলাস ১০০০ বার।
৫. পুনরায় সূরা ফাতেহা ৭ বার।
৬. পুনরায় দুরূদ শরীফ ১০০ বার।
৭. নিম্নাক্ত দো‘আ ১০০ বার:
" ﻓﺴﻬﻞ ﻳﺎ ﺍﻟﻬﻲ ﻛﻞ ﺻﻌﺐ ﺑﺤﺮﻣﺔ ﺳﻴﺪ ﺍﻷﺑﺮﺍﺭ ﺳﻬﻞ ﺑﻔﻀﻠﻚ ﻳﺎ ﻋﺰﻳﺰ ".
(হে আল্লাহ নেক্কারগণের সরদারের (নবী সা.)
সম্মানার্থে আমার প্রত্যেক কঠিন কাজ সহজ
করিয়া দাও, হে ক্ষমাশীল, তোমার দয়ায় সহজ
করিয়া দাও।
এই খতমের এই পদ্ধতি লিখিত হলেও যে যার মত
সময়ের দিকে লক্ষ্য রেখে, টাকা পয়সার কম বেশির
দিকে বিবেচনা করে এদিক সেদিক যোগ বিয়োগ
করে বানিয়ে খতম করেন। খতমকারীদের ভাষায়
সটকার্ট খতম বা লং খতম। বানানো জিনিস
একেকজন একেক রকম বানাবেন এটাই স্বাভাবিক।
এই খতমের ৭ নাম্বারে উল্লেখিত দো
‘আটি আপত্তিকর। আপত্তির কারণ ও পর্যায় একটু
পরেই আলোচনা করছি ইনশাআল্লাহ। এ
ছাড়া বাকী অনেকটি যেমন সুরা, দুরূদ মানসুস, যার
নির্দিষ্ট ফযিলত রয়েছে। কিছু বাক্য
যেগুলোতে আল্লাহকে সম্বোধন করা হয়েছে এই
বাক্যগুলো দ্বারা আল্লাহকে ডাকা এবং নিজের
প্রয়োজন প্রার্থনা করা যাবে।
ওযিফা হিসেবে তা পাঠ বা এতে ছওয়াব
আছে মনে করা যাবে না, কেননা ছওয়াবের
বিষয়টি সম্পূর্ণ তাওক্বীফি বা ওহি নির্ভর। এর
বাইরে খতমের যে ধারা উল্লেখ
করা হয়েছে এবং এর নির্দিষ্ট যে ফযিলত বলা হয়
তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মানসুস বা রাসূল
সাল্লাল্লাহু থেকে প্রমাণিত
আমলগুলো তিনি যেভাবে করেছেন সেভাবেই
করতে হবে এবং তিনি যে ফযিলত বলেছেন
বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ
থাকতে হবে। আমলের ক্ষেত্রে এর বাইরে কিছু
বলার কারো কোনো অধিকার নেই।
এই খতমের ফযিলতে বলা হয়ে থাকে, কঠিন
পীড়া ও বিপদাপদ হতে উদ্ধার লাভের জন্য ও
প্রত্যেক প্রকার মনের বাসনা, পরীক্ষা পাস ও
চাকরী লাভ করিবার জন্য এই খতমটি অদ্বিতীয়।
[105]
এ সবকথাই ভিত্তিহীন ও মনগড়া।
এগুলো হচ্ছে বিভিন্ন দো‘আ বা ইবাদত। এর ফযিলত
একমাত্র তিনি বলতে পারেন
যিনি এগুলো দিয়েছেন। আল্লাহ ও তার রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে আমল
যেভাবে করলে যে ফযিলত বলেছেন
তা সেভাবে করেই উক্ত ফযিলতের
আশা করতে হবে। রাসূল কর্তৃক প্রদানকৃত
রূপকে পরিবর্তন করা এবং সাথে সাথে নতুন
ফযিলতের বুলি আওড়ানোর অধিকার
কাউকে তিনি দেননি। আর এগুলো হচ্ছে ধর্মীয়
বিষয়। ধর্মীয় বিষয়ে অভিজ্ঞতার
কথা বলা অনর্থক।
৭ নং দো‘আটি আপত্তিকর হওয়ার কারণ হলো
, অন্যের মর্যাদার দোহাই দিয়ে পার পাওয়ার
ধারণা মূলত মুশরিকদের। ঈসা আলাইহিস
সালামের মর্যাদার দোহাই দিয়ে পার
পাওয়া খ্রিস্টবাদী ধারণা। উযাইর আলাইহিস
সালামের দোহাই দিয়ে পার পাওয়ার
আশা ইয়াহুদীবাদী ধারণা। ফেরেশ্তাগণ
আল্লাহর মেয়ে হওয়ার ধারণায় তাদের মর্যাদার
দোহাই দিয়ে পার হওয়ার ধারণা মক্কার
মুশরিকরা লালন করত। কুরআন করীমে এসবের বিবরণ
ও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এভাবে বিভিন্ন
জাতি আল্লাহতে বিশ্বাসী হওয়া সত্বেও
শির্কে লিপ্ত হয়। ইসলাম এর মূলোৎপাটন করেছে।
আল্লাহর বিধান রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের
শিখানো পদ্ধতিতে পালনের মাধ্যমে একমাত্র
আল্লাহরই দয়ায় পার
পাওয়া যাবে বলে শিক্ষা দিয়েছে। রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
উম্মতকে আজীবন এই শিক্ষাই দিয়ে গেছেন। কুরআন
ও হাদীসের সাথে সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে দিলেই
বিষয়টি সবার কাছে ফুটে উঠবে। কুরআন
বা হাদীসে বর্ণিত দো‘আগুলো এবং দো‘আর
শিক্ষা থেকেও
আমরা বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারি। আল্লাহ তাঁর
জ্ঞানের দিক থেকে বান্দার শাহরগের চেয়েও
অধিক নিকটে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তাই
আল্লাহর কাছে কিছু
চাইতে কোনো ব্যক্তি মিডিয়া বা ব্যক্তির
মর্যাদা মিডিয়া বানানোর প্রয়োজন ইসলাম বোধ
করে না। আর এটাই ছিল সালাফে সালিহিনের
আক্বীদা। ইমাম আবু হানিফা রাহ. বলেন:
" ﻻ ﻳﻨﺒﻐﻲ ﻷﺣﺪ ﺃﻥ ﻳﺪﻋﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺇﻻ ﺑﻪ ﻭﺍﻟﺪﻋﺎﺀ ﺍﻟﻤﺄﺫﻭﻥ ﻓﻴﻪ ﺍﻟﻤﺄﻣﻮﺭ ﺑﻪ ﻣﺎ
ﺍﺳﺘﻔﻴﺪ ﻣﻦ ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ " ﻭﻟﻠﻪ ﺍﻷﺳﻤﺎﺀ ﺍﻟﺤﺴﻨﻰ ﻓﺎﺩﻋﻮﻩ ﺑﻬﺎ .") ﺍﻟﺪﺭ
ﺍﻟﻤﺨﺘﺎﺭ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺤﻈﺮ ﻭﺍﻻﺑﺎﺣﺔ )
‘‘কারো জন্য উচিত নয় আল্লাহর
কাছে তারই মাধ্যম ছাড়া দো‘আ করা।
আর তাঁর নাম নিয়ে দো‘আর অনুমোদন ও
নির্দেশিত হওয়ার দলীল আল্লাহর
বাণী: ‘‘আর আল্লাহর অনেক সুন্দর নাম
রয়েছে, অতএব তোমরা তাকে এগুলোর
মাধ্যমে ডাকো’’ ।’’ [107]
‘তারই মাধ্যমে’ দো‘আর ব্যখ্যায়
আল্লামা শামী লিখেন:
"( ﻗﻮﻟﻪ ﺇﻻ ﺑﻪ ) ﺃﻱ ﺑﺬﺍﺗﻪ ﻭﺻﻔﺎﺗﻪ ﻭﺃﺳﻤﺎﺋﻪ ".
অর্থাৎ আল্লাহর সত্বা, তার গুণাবলী এবং তার
নামের মর্যাদার ওসিলাতেই কেবল দো‘আ
করা যাবে।
ফিক্বহে হানাফীতে আবু হানিফা রাহ.
মাযহাব উল্লেখে বলা হয়েছে:
" ( ﻭ ) ﻛﺮﻩ ﻗﻮﻟﻪ ( ﺑﺤﻖ ﺭﺳﻠﻚ ﻭﺃﻧﺒﻴﺎﺋﻚ ﻭﺃﻭﻟﻴﺎﺋﻚ ) ﺃﻭ ﺑﺤﻖ ﺍﻟﺒﻴﺖ
ﻷﻧﻪ ﻻ ﺣﻖ ﻟﻠﺨﻠﻖ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺨﺎﻟﻖ ﺗﻌﺎﻟﻰ."
‘‘এবং বলা মাকরূহ [108] , তোমার
রাসূলগণ, নবীগণ ও ওলীগণের
অধিকারে অথবা বাইতুল্লাহর
অধিকারে কেননা আল্লাহর উপর
মাখলুকের কোনো অধিকার নেই।’’ [109]
আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত, বিশেষ
করে ইমাম আবু হানিফা (রাহ.) ও তার দুই বিশিষ্ট
ছাত্র ইমাম আবু ইউসুফ (রাহ.) এবং ইমাম মুহাম্মদ
(রাহ.) এর আক্বীদা বর্ণনায় হানাফী মাযহাবের
বিখ্যাত আলেম আবু জা‘ফর আত্ত্বাহাবী
রচিত আক্বীদার কিতাব ‘আল-
আক্বীদাতুত্ত্বাহাবীয়্যাহ’ এর
ব্যাখ্যা গ্রন্থে আল্লামা আবুল-ইয আল-হানাফী
[111] লিখেন:
" ﻗﺎﻝ ﺃﺑﻮ ﺣﻨﻴﻔﺔ ﻭﺻﺎﺣﺒﺎﻩ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻢ: ﻳﻜﺮﻩ ﺃﻥ ﻳﻘﻮﻝ ﺍﻟﺪﺍﻋﻲ :
ﺃﺳﺄﻟﻚ ﺑﺤﻖ ﻓﻼﻥ، ﺃﻭ ﺑﺤﻖ ﺃﻧﺒﻴﺎﺋﻚ ﻭﺭﺳﻠﻚ، ﻭﺑﺤﻖ ﺍﻟﺒﻴﺖ ﺍﻟﺤﺮﺍﻡ،
ﻭﺍﻟﻤﺸﻌﺮ ﺍﻟﺤﺮﺍﻡ، ﻭﻧﺤﻮ ﺫﻟﻚ ﺣﺘﻰ ﻛﺮﻩ ﺃﺑﻮ ﺣﻨﻴﻔﺔ ﻭﻣﺤﻤﺪ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻨﻬﻤﺎ ﺃﻥ ﻳﻘﻮﻝ ﺍﻟﺮﺟﻞ: ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺇﻧﻲ ﺃﺳﺄﻟﻚ ﺑﻤﻌﻘﺪ ﺍﻟﻌﺰ ﻣﻦ ﻋﺮﺷﻚ."
‘‘আবু হানীফা এবং তার দুই
সঙ্গী (ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ)
রাদিয়াল্লাহু আনহুম বলেন: দো
‘আকারীর জন্য বলা মাকরূহ, ‘‘অমুকের
অধিকারে তোমার
কাছে প্রার্থনা করছি, অথবা তোমার
নবী ও রাসূলগণের
অধিকারে এবং বাইতুল হারামের
অধিকারে এবং মাশ‘আরে হারামের
[112] অধিকারে।’’ এ জাতীয়
আরো যা রয়েছে। এমনকি ইমাম আবু
হানিফা ও মুহাম্মদ রাদিয়াল্লাহু
আনহুমা মাকরূহ মনে করেন যে
, লোকটি বলবে: ‘‘হে আল্লাহ, তোমার
আরশের সম্মানিত আসনের দোহাই
দিয়ে তোমার কাছে প্রার্থনা করছি
’’। ’’[113]
তিনি আরো লিখেন:
ﻭﺗﺎﺭﺓ ﻳﻘﻮﻝ : ﺑﺠﺎﻩ ﻓﻼﻥ ﻋﻨﺪﻙ، ﻳﻘﻮﻝ: ﻧﺘﻮﺳﻞ ﺇﻟﻴﻚ ﺑﺄﻧﺒﻴﺎﺋﻚ ﻭﺭﺳﻠﻚ
ﻭﺃﻭﻟﻴﺎﺋﻚ . ﻭﻣﺮﺍﺩﻩ ﺃﻥ ﻓﻼﻧﺎ ﻋﻨﺪﻙ ﺫﻭ ﻭﺟﺎﻫﺔ ﻭﺷﺮﻑ ﻭﻣﻨﺰﻟﺔ ﻓﺄﺟﺐ
ﺩﻋﺎﺀﻧﺎ . ﻭﻫﺬﺍ ﺃﻳﻀﺎ ﻣﺤﺬﻭﺭ، ﻓﺈﻧﻪ ﻟﻮ ﻛﺎﻥ ﻫﺬﺍ ﻫﻮ ﺍﻟﺘﻮﺳﻞ ﺍﻟﺬﻱ ﻛﺎﻥ
ﺍﻟﺼﺤﺎﺑﺔ ﻳﻔﻌﻠﻮﻧﻪ ﻓﻲ ﺣﻴﺎﺓ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻟﻔﻌﻠﻮﻩ ﺑﻌﺪ
ﻣﻮﺗﻪ، ﻭﺇﻧﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﺘﻮﺳﻠﻮﻥ ﻓﻲ ﺣﻴﺎﺗﻪ ﺑﺪﻋﺎﺋﻪ، ﻳﻄﻠﺒﻮﻥ ﻣﻨﻪ ﺃﻥ ﻳﺪﻋﻮ
ﻟﻬﻢ، ﻭﻫﻢ ﻳﺆﻣﻨﻮﻥ ﻋﻠﻰ ﺩﻋﺎﺋﻪ، ﻛﻤﺎ ﻓﻲ ﺍﻻﺳﺘﺴﻘﺎﺀ ﻭﻏﻴﺮﻩ . ﻓﻠﻤﺎ ﻣﺎﺕ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﻋﻤﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ – ﻟﻤﺎ ﺧﺮﺟﻮﺍ
ﻳﺴﺘﺴﻘﻮﻥ :- «ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺇﻧﺎ ﻛﻨﺎ ﺇﺫﺍ ﺃﺟﺪﺑﻨﺎ ﻧﺘﻮﺳﻞ ﺇﻟﻴﻚ ﺑﻨﺒﻴﻨﺎ ﻓﺘﺴﻘﻴﻨﺎ،
ﻭﺇﻧﺎ ﻧﺘﻮﺳﻞ ﺇﻟﻴﻚ ﺑﻌﻢ ﻧﺒﻴﻨﺎ » . ﻣﻌﻨﺎﻩ ﺑﺪﻋﺎﺋﻪ ﻫﻮ ﺭﺑﻪ ﻭﺷﻔﺎﻋﺘﻪ
ﻭﺳﺆﺍﻟﻪ، ﻟﻴﺲ ﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﺃﻧﺎ ﻧﻘﺴﻢ ﻋﻠﻴﻚ ﺑﻪ، ﺃﻭ ﻧﺴﺄﻟﻚ ﺑﺠﺎﻫﻪ ﻋﻨﺪﻙ، ﺇﺫ
ﻟﻮ ﻛﺎﻥ ﺫﻟﻚ ﻣﺮﺍﺩﺍ ﻟﻜﺎﻥ ﺟﺎﻩ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃﻋﻈﻢ ﻭﺃﻋﻈﻢ
ﻣﻦ ﺟﺎﻩ ﺍﻟﻌﺒﺎﺱ . ( ﺷﺮﺡ ﺍﻟﻌﻘﻴﺪﺓ ﺍﻟﻄﺤﺎﻭﻳﺔ، ﺑﺤﺚ : ﺍﻟﺸﻔﺎﻋﺔ،
154-1 )
‘‘এবং অনেক সময় দো‘আ
প্রার্থী বলে: ‘আপনার কাছে অমুকের
যে সম্মান রয়েছে তার মাধ্যমে
’ সে বলে ‘আমরা আপনার নিকট আপনার
নবী, রাসূল ও ওলীগণকে মাধ্যম গ্রহণ
করছি’, এর দ্বারা লোকটির
উদ্দেশ্য, অমুক আপনার নিকট
মান, সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী
, তাই আপনি আমাদের দো‘আ কবুল করুন।
এটাও নিষিদ্ধ।
কেননা যদি সাহাবায়ে কেরাম
নবীজী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবিত
থাকাকালে এ ধরণের মাধ্যম গ্রহণ
করতেন তবে তাঁর মৃত্যুর পরও অবশ্যই
নিতেন। অথচ তিনি সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবিত
থাকাকালে তারা তাঁর দো‘আর মাধ্যম
নিতেন। তারা তাঁর কাছে তাদের জন্য
দো‘আর প্রার্থনা করতেন। তারা তাঁর
দো‘আর উপর ঈমান রাখতেন, যেমন
বৃষ্টি কামনা ইত্যাদির বেলায়। অতঃপর
যখন নবী সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারা গেলেন
এবং তারা বৃষ্টি কামনার দো‘আর জন্য
বের হলেন, তখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু
বললেন : ‘হে আল্লাহ, যখন
আমরা দুর্ভিক্ষের শিকার হতাম
তোমার কাছে তোমার নবীর
মাধ্যমে দো‘আ
করতাম, ফলে তুমি আমাদের
বৃষ্টি দিতে। এখন আমরা তোমার
কাছে আমাদের নবীর চাচা (আব্বাস)
এর (দো‘আর) মাধ্যম গ্রহণ করছি’। এর অর্থ
হলো, তিনি আল্লাহর কাছে যে দো‘আ
করেন, সুপারিশ করেন
এবং প্রার্থনা করেন এর মাধ্যমে।
তোমার কাছে তার শপথ এ উদ্দেশ্য
নয়, অথবা আমরা তোমার
কাছে প্রার্থনা করছি তার সম্মানের
মাধ্যমে যা তোমার
কাছে রয়েছে এটাও উদ্দেশ্য নয়।
কেননা যদি এ ধরণের মাধ্যম
ধরা উদ্দেশ্য হত তবে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মান
সর্বাধিক এবং আব্বাসের সম্মান
থেকে বেশি।’’ [114]
কুরআন হাদীসের শিক্ষা অনুযায়ী এই ছিল আবু
হানিফা রাহ. সহ সমস্ত আসলাফের
আক্বীদা বা বিশ্বাস। সালফে সালিহিনের
আক্বীদা, বিশ্বাস, আদর্শ থেকে দূরে সরে যাওয়ার
ফলেই আজ আমাদের মাঝে এমন অনেক কিছু
বিস্তার লাভ করেছে যা তাদের মাঝে ছিল না।
তাদের আদর্শ থেকে সরে যাওয়ার ফলেই
আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এর সুন্নাত থেকে সরে গেছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবিদের আর
আমাদের আমলের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারতম্য
সৃষ্টি হয়ে গেছে। আল্লাহ আমাদেরকে তাদের
নমূনার উপর উঠার তওফিক দান করুন। সুন্নাতের
বিপরীত যে কোনো ইবাদতের বেলায় জায়েয না-
জায়েযের বাহাসে লিপ্ত না হয়ে চোখ বুঁজে রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের
সুন্নাতকে সাহাবা ও সালফে সালেহিনের মত
নেয়ার তওফিক দান করুন। হক্ব বোঝার জন্য
প্রথমে আমার চক্ষু এবং আমাদের চক্ষু খোলে দিন।
মুফতি ফয়জুল্লাহ রাহ. রচিত কবিতার
দুটি পঙক্তি দিয়ে আলোচনাটি শেষ করছি।
পঙক্তিদ্বয় এই:
ﮬﻢ ﻣﺮﻭﺝ ﺍﯾﮟ ﺩﻋﺎﮮ ﺧﻮﺍﺟﮕﺎﮞ @ ﺍﺯ ﺳﻠﻒ ﻣﻨﻘﻮﻝ ﻧﮯ ﺧﻮﺏ ﺩﺍﮞ
ﺍﮞ ﻋﺒﺎﺩﺕ ﻧﯿﺴﺖ ﺑﺎﺍﮞ ﺍﮬﺘﻤﺎﻡ @ ﻣﺜﻞ ﻃﺎﻋﺖ ﺑﺪﻋﺖ ﺍﻣﺪ ﻻ ﮐﻼﻡ
‘‘প্রচলিত এই খাজেগাঁর দো
‘আও, ভালভাবে জেনে রাখ এগুলো সালাফ
থেকে প্রমাণিত নয়,
এগুলো ইবাদত নয়, ইবাদতের মত এগুলোর গুরুত্ব
দেওয়া নিশ্চিত বিদ‘আত। ’’[115]
খতমে জালালী
আল্লাহর পবিত্র নামসমূহের মধ্যে তার মূল
নাম ‘ ﺍﻟﻠﻪ’ । এই পবিত্র নাম বা ইসমে যাত
নিয়ে তামাশার এক পদ্ধতির নাম খতমে জালালী।
প্রথমেই দো‘আ করি, যে অজ্ঞ ব্যক্তি এই খতম
আবিষ্কার করেছে আল্লাহ যেন তাকে মাফ
করে দেন। খতমের পদ্ধতিটি দেখলেই সচেতন
ব্যক্তি যিনি ইসলাম সম্পর্কে নূন্যতম
ধারণা রাখেন তার কাছে এই খতমের
খারাবী ধরা পড়বে। তবে যিনি ইলমের ধারক
হওয়া সত্বেও দুনিয়ার লালসায় হাবুডুবু
খাচ্ছেন, তিনি ধর্মের রক্ষা নয় বরং ধর্মই
তাকে রক্ষা করছে এমন ব্যক্তির কথা ভিন্ন। খতমের
পদ্ধতিটি যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে:
‘‘নদী ভাঙ্গন বা ঐরূপ কঠিন বিপদ
হইতে উদ্ধারকল্পে এই নাম সোয়া লক্ষ
বার কাগজে লিখিবে ও সোয়া লক্ষ
ময়দার আটার গুলী তৈয়ার করিবে
, গুলী তৈয়ার করার সময় ‘আল্লাহু’ এই
নাম মুখে বলিবে, তৎপর আল্লাহর নাম
লিখিয়া কাগজগুলি একটি করিয়া গুলীর
মধ্যে ভরিবে, তৎপর
গুলীগুলি নদী বা যে পুকুরে মাছ
থাকে তাহাতে ফেলিয়া দিবে।
সকলেই পাক সাফ অবস্থায় ওযুসহ এই
আমল করিবে। নতুবা হিতে বিপরীত
হইতে পারে। এই আমল দ্বারা বিপদ
হইতে উদ্ধার হইবে ও মতলব পূর্ণ হইবে।
ইহাতে কোনো সন্দেহ নাই। আল্লাহর
নামসমূহ ২ ভাগে বিভক্ত-
জালালী (তেজস্বী) ও
জামালী (সৌন্দর্যময়)। ‘আল্লাহ’ নাম
জালালীর অন্তর্ভুক্ত; এই জন্য ইহার
খতমকে খতমে জালালী বলা হয়।’’[116]
আবার অনেক এমন রয়েছেন যিনি একে অপছন্দ করেন
তবে অংশ নেন। তাদেরকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়
ভাই, আপনি জানা সত্বেও কেন এসব খতমে উপস্থিত
হন তাদের একই কথা, ভাই, আমার টাকার দরকার
তাই যাই। আবার এমন অনেক আছেন যারা এটির
পক্ষে সাফাই গান। বিভিন্ন যুক্তি ও হিলার
মাধ্যমে এগুলোকে জায়েয রাখবার চেষ্টা করেন।
স্বার্থের কারণে দ্বীনী বিষয়ের
যে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া তাদের
কাছে কোনো ব্যাপারই নয়। ব্যাখ্যা সঠিক
নাকি ভুল এই বিষয় তাদের কাছে মূল্যহীন। এই কর্ম
আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে সেটিও উপেক্ষিত।
অর্থই যেন তাদের মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য। অথচ সম্পদের
স্বার্থে ইলমের জোরে দীনের
যে কোনো অপব্যাখ্যা ইয়াহুদী আলেমদের গুণ ছিল
বলে আমাদের সকলের জানা। ইলমের
দ্বারা অপব্যাখ্যার মাধ্যমে দো‘আ দুরূদের সুন্নাহ
বহির্ভূত পদ্ধতি আবিষ্কার বা আবিষ্কৃত বিষয়
জায়েয বানাবার অপচেষ্টা নবী সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভবিষ্যৎবাণীর প্রকাশ।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর
ভবিষ্যৎ বাণী ছিল যার মর্ম হচ্ছে: তার উম্মত
বনী ইসরাঈলের পূর্ণ অনুসরণ করবে। এমনকি এক
জোড়া জুতার মাঝে যেমন কোনো বেশ কম হয়
না তার উম্মত ও বনী ইসরাঈলের উম্মতের
মাঝে কোনো বেশ কম হবে না। [117] তাই আল্লাহর
কাছে সর্বদা অশ্রয় প্রার্থনা করা উচিত যে
, আল্লাহ যেন আমাদেরকে কখনো এই তৃতীয় স্তরের
আলেমদের মাঝে শামেল না করেন। আমাদের
ঈমানকে দুর্বল করে দ্বিতীয় স্তরের মধ্যে ও যেন
না রাখেন। বরং এই তিন শ্রেণির আলেমের
মাঝে আল্লাহ আমাদেরকে প্রথম স্তরের
আলেমদের অন্তুর্ভুক্ত করুন এবং এই প্রথম শ্রেণির
মত আমাদেরকেও সঠিক দীন বোঝার তওফীক দিন।
টাকার স্বার্থে বুঝে না বোঝার বাহানার মত
মারাত্মক ব্যাধি থেকে আমাদেরকে রক্ষা করুন।
আমীন।
খতমে দুরুদে মাহি
‘মাহি’ ফারসি শব্দ। যার অর্থ মাছ।
বানানো একটি দুরূদকে ‘দুরুদে মাহি
’ হিসেবে নামকরণের কারণ
হিসেবে যে কাল্পনিক
কাহিনীটি বলা হয়েছে তা নিম্নরূপ:
‘‘হযরত রসূল (সাঃ) এর সময় একজন কামেল
ব্যক্তি নদীর তীরে বসিয়া সর্বদা এই
দুরূদ শরীফ পড়িতেন। ঐ নদীর একটি রুগ্ন
মৎস্য
ইহা সর্বদা শুনিতে শুনিতে শিখিয়া
ফেলিল ও পড়িতে লাগিল।
ক্রমে মৎস্যটির রোগ আরোগ্য
হইতে লাগিল ও তাহার শরীরের
রং বদলাইয়া সোনার বর্ণ ধারণ করিল।
দৈবাৎ একদিন এক ইহুদী জেলের
জালে মৎস্যটি ধরা পড়িল। ইহুদীর
স্ত্রী অনেক
চেষ্টা করিয়া মৎস্যটি কাটিতে পারিল
না। অবশেষে উহাকে ফুটন্ত তৈলের
মধ্যে ছাড়িয়া দেওয়া হইল। কিন্তু
মৎস্যটি নির্বিঘ্নে তৈলের
মধ্যে ঘুরিয়া ঘুরিয়া এই দরূদ শরীফ
পড়িতে লাগিল।
ইহা দেখিয়া ইহুদী অতিশয়
আশ্চর্যান্বিত হইয়া পড়িল ও
মৎস্যটিকে লইয়া হযরত রসূল (সাঃ) এর
নিকট উপস্থিত হইল। হযরত (সাঃ) এর
দোয়ায় মৎস্যটি বাকশক্তি লাভ করিল ও
সমস্ত বিষয় হযরত (সাঃ) এর নিকট
বর্ণনা করিল। ইহা শুনামাত্র
সেখানে উপস্থিত ৭০ জন
ইহুদী তৎক্ষনাৎ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ
করিলেন ও রসূল (সাঃ) এর নবুয়তের উপর
ঈমান আনিলেন। তৎপর
মৎস্যটিকে নদীতে ছাড়িয়া দেওয়া
হইল। উপরোক্ত কারণে এই দরূদ
শরীফ ‘দরূদে মাহি’ তথা মাছের দরূদ
বলিয়া খ্যাতি লাভ করিয়াছে।
ইহা পড়িলে অতি মধুর শুনা যায়।’’ [118]
দুরূদটি নিমণরুপ:
" ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺻﻞ ﻋﻠﻰ ﻣﺤﻤﺪ ﺧﻴﺮ ﺍﻟﺨﻼﺋﻖ، ﺃﻓﻀﻞ ﺍﻟﺒﺸﺮ، ﺷﻔﻴﻊ ﺍﻻﻣﺔ ﻳﻮﻡ
ﺍﻟﺤﺸﺮ ﻭﺍﻟﻨﺸﺮ ﺳﻴﺪﻧﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻌﺪﺩ ﻛﻞ ﻣﻌﻠﻮﻡ ﻟﻚ، ﻭﺻﻞ ﻋﻠﻰ ﺟﻤﻴﻊ
ﺍﻻﻧﺒﻴﺎﺀ ﻭﺍﻟﻤﺮﺳﻠﻴﻦ ﻭﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﺍﻟﻤﻘﺮﺑﻴﻦ ﻭﻋﻠﻰ ﻋﺒﺎﺩ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺼﺎﻟﺤﻴﻦ،
ﻭﺍﺭﺣﻤﻨﺎ ﺑﺮﺣﻤﺘﻚ ﻳﺎ ﺍﺭﺣﻢ ﺍﻟﺮﺍﺣﻤﻴﻦ ."
এই খতমের নিয়মে বলা হয়: ২১ দিনে বা ৪২
দিনে সোয়া লক্ষবার বর্ণিত দুরূদটি পড়া। এই
নিয়মে এই খতম পড়লে নাকি হাতে হাতে ফল
পাওয়া যায়। অযু সহকারে নদীর
তীরে বসে পড়লে আরও বেশি দ্রুত ফল পাওয়া যায়
বলে বর্ণনা করা হয়েছ। [119]
এখানে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্যণীয়:
বর্ণিত দুরূদটি মাছুর তথা রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত নয়।
বরং এটি কারো বানানো একটি দো‘আ । তাই
একে ওযিফা হিসেবে আমলে আনা যাবে না।
তবে এতে কোনো আপত্তিকর শব্দ নেই। তাই কেউ
ইচ্ছা করলে দো‘আর উদ্দেশ্যেই তা পড়তে পারে।
এর যে পদ্ধতি ও ফযিলত বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ
মনগড়া বানানো বক্তব্য। তাই মুমিন এ সবের
পিছে পড়েন না এবং তা বিশ্বাস করেন না।
দুরুদে মাহি নামকরণের
কারণে যে কাহিনীটি উল্লেখ
করা হয়েছে তা জালিয়াতদের বানানো সম্পূর্ণ
কাল্পনিক ও মনগড়া, এ কাহিনীর
কোনো সত্যতা নেই।
সূরা ইখলাস দ্বারা কুরআন খতম
নির্দিষ্ট সংখ্যার মাধ্যমে সূরা ইখলাসের খতম
প্রচলিত না থাকলেও সূরা ইখলাস তিনবার পড়ার
মাধ্যমে কুরআন খতমের প্রচলন রয়েছে। তিনবার
সূরা ইখলাস পাঠ করলে পূর্ণ এক খতম কুরআন
তেলাওয়াতের ছওয়াব পাওয়া যায় বলে অনেকের
ধারণা। তাই অনেক সময় কুরআন খতম করতে অপারগ
হলে তিনবার এই সূরা পাঠ করা হয়। বলা হয়
হাদীসে রয়েছে, তিনবার সূরা ইখলাস পাঠ
করলে এক খতম কুরআনের ছওয়াব পাওয়া যায়। অথচ
এমন কোনো কথা নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয় নি।
রাসূলের হাদীসের সাথে যুক্তির মিশ্রণ
ঘটিয়ে এমন কথা বলা হয়। আর অনেক
ক্ষেত্রে এভাবেই রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথার মর্ম পরিবর্তন
হয়ে শরীয়তের বিকৃতি ঘটেছে।
কুরআন আল্লাহর পবিত্র কালাম। তার
প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বাক্য,
প্রতিটি আয়াত, প্রতিটি সূরা বরকতময় ও
মর্যাদাপূর্ণ। আল্লাহর কালাম হিসেবে মর্যাদার
দিক থেকে পুরো কুরআন এক সমান। তবে ভাব
বা মর্মের দিক থেকে কোনো কোন আয়াত
বা সূরার ফযিলত অন্যটির তুলনায়
বেশি বলে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে জানিয়েছেন।
এরকম মর্যাদাপূর্ণ একটি সূরা হচ্ছে সূরা ইখলাস।
সুরাটিতে আল্লাহ তাঁর পরিচয় অত্যন্ত অল্প
বাক্যের মাধ্যমে পরিপূর্ণভাবে তুলে ধরেছেন। এই
সূরার ফযিলতে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন:
" ﻭﺍﻟﺬﻱ ﻧﻔﺴﻲ ﺑﻴﺪﻩ ﺇﻧﻬﺎ ﻟﺘﻌﺪﻝ ﺛﻠﺚ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ." ( ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ، ﻛﺘﺎﺏ
ﺍﻟﺘﻔﺴﻴﺮ، ﺑﺎﺏ ﻓﻀﻞ ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ، ﺭﻗﻢ 4726: )
‘‘ঐ সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ
নিশ্চয় এটি (ইখলাস) কুরআনের এক
তৃতীয়াংশের বরাবর।’’ [120]
আরেকটি হাদীসে রয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন:
« ﺃﻳﻌﺠﺰ ﺃﺣﺪﻛﻢ ﺃﻥ ﻳﻘﺮﺃ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺛﻠﺚ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ » . ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻭﻛﻴﻒ ﻳﻘﺮﺃ
ﺛﻠﺚ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻗﺎﻝ « (ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ ) ﻳﻌﺪﻝ ﺛﻠﺚ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ » . (ﺻﺤﻴﺢ
ﻣﺴﻠﻢ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺘﻔﺴﻴﺮ، ﺑﺎﺏ ﻓﻀﻞ ﻗﺮﺍﺀﺓ ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ،
ﺭﻗﻢ 1922: )
‘‘তোমাদের কেউ
কি প্রতি রাতে কুরআনের এক
তৃতীয়াংশ
পড়তে অক্ষম? সাহাবিরা বললেন, এক
তৃতীয়াংশ কীভাবে পড়বে? রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বললেন,
( ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ ) এক তৃতীয়াংশের
সমান।’’ [121]
এবার দেখুন, এই হাদীসের
অর্থটিকে কীভাবে পরিবর্তন করে তা রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যার কোনো বিবরণ
সহীহে হাদীসে নেই। এক তৃতীয়াংশের সমান
হওয়া এবং তিনবার পড়লে পূর্ণ কুরআন পড়ার ছওয়াব
পাওয়া কি এক? উলামায়ে কেরাম এই হাদীসের
মর্ম বর্ণনা করেন যে, কুরআনের বিষয়বস্তু মূলত
তিনটি: আহকাম বা জীবন বিধান, আখবার
বা সংবাদসমূহ, তাওহীদ তথা আল্লাহর
একত্ববাদের বিবরণ। সূরা ইখলাসে তাওহীদের
আলোচনা বা আল্লাহর
একত্ববাদকে সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাই
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে এক
তৃতীয়াংশ বলেছেন।[122]
একেই কেউ কেউ এভাবে বলেন যে, কুরআনের
অর্থ তিন ভাগে বিভক্ত। ঘটনাবলী
, আহকাম, আল্লাহর গুণাবলী।
সূরা ইখলাসটি আল্লাহর গুণাবলীতে বিশেষিত।
[123] এভাবেও বলা যায় যে, পুরো কুরআনের
আলোচনা তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাত নিয়ে।
যে কোনো বিষয় এ তিনটির কোনোটির
সাথে সম্পৃক্ত। আর সূরা ইখলাসে তাওহীদের
আলোচনা অত্যন্ত নিপুণভাবে করা হয়েছে, তাই এ
সূরাকে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ বলা হয়েছে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
একটি হাদীস থেকেও এ অর্থেই এক তৃতীয়াংশ
বলার কথাটি স্পষ্ট হয়ে যায়।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেন:
« ﺇﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺟﺰﺃ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺛﻼﺛﺔ ﺃﺟﺰﺍﺀ ﻓﺠﻌﻞ ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ ﺟﺰﺀﺍ ﻣﻦ ﺃﺟﺰﺍﺀ
ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ » . ( ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ، ﺍﻟﻤﺮﺟﻊ ﺍﻟﺴﺎﺑﻖ، ﺭﻗﻢ: 1923 )
‘‘আল্লাহ তা‘আলা কুরআনকে তিন
অংশে বিভক্ত করেছেন। “ ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ
ﺃﺣﺪ ” (সূরা ইখলাস) কে কুরআনের তিন
অংশের এক অংশ সাব্যস্ত
করেছেন।’’ [124]
এই হাদীস থেকে উপরোক্ত মর্মটি আরো স্পষ্ট
হয়ে যায়। তবে কেউ কেউ এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য
বলতে এক তৃতীয়াংশ পড়লে যে ছওয়াব হয়
সূরা ইখলাস তেলাওয়াত করলে এই পরিমাণ ছওয়াব
হয় বলে বলেছেন। কিন্তু এই মর্মটির কোনো দলীল
নেই। বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফাতহুল বারী
’তে লিখেন:
" ﻭﻣﻨﻬﻢ ﻣﻦ ﺣﻤﻞ ﺍﻟﻤﺜﻠﻴﺔ ﻋﻠﻰ ﺗﺤﺼﻴﻞ ﺍﻟﺜﻮﺍﺏ ﻓﻘﺎﻝ ﻣﻌﻨﻰ ﻛﻮﻧﻬﺎ ﺛﻠﺚ
ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺃﻥ ﺛﻮﺍﺏ ﻗﺮﺍﺀﺗﻬﺎ ﻳﺤﺼﻞ ﻟﻠﻘﺎﺭﺉ ﻣﺜﻞ ﺛﻮﺍﺏ ﻣﻦ ﻗﺮﺃ ﺛﻠﺚ
ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻭﻗﻴﻞ ﻣﺜﻠﻪ ﺑﻐﻴﺮ ﺗﻀﻌﻴﻒ ﻭﻫﻲ ﺩﻋﻮﻯ ﺑﻐﻴﺮ ﺩﻟﻴﻞ ." ( ﻓﺘﺢ
ﺍﻟﺒﺎﺭﻱ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺘﻔﺴﻴﺮ، ﺑﺎﺏ ﻓﻀﻞ ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ، 60-9 )
‘‘আলেমগণের মধ্যে কেউ সমতুল্য
অর্থটি ছওয়াব অর্জনের ক্ষেত্রে নেন
এবং বলেন, এক তৃতীয়াংশ হওয়ার অর্থ
এই সুরাটি পড়ার ছওয়াব পাঠকের জন্য ঐ
ব্যক্তির সমান হবে যে এক তৃতীয়াংশ
কুরআন পড়েছে। এটাও বলা হয়ে থাকে
, অতিরিক্ত ছওয়াব ব্যতিরেকে মূল
ছওয়াবের এক তৃতীয়াংশের সমান।
তবে এই দাবীর সপক্ষে কোনো দলীল
নেই।’’ [126]
এখানে লক্ষণীয় যে, একবার সূরা ইখলাস
তেলাওয়াত করলে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ পড়ার
ছওয়াব পাওয়ার ব্যাপারে কোনো সহীহ হাদীস
নেই। একটি হাদীস থেকে এই মর্ম নেয়ার সামান্য
সম্ভাবনা ছিল মাত্র, তবে মুসলিম শরীফের
হাদীসের মাধ্যমে এই সম্ভাবনাটির অবকাশ দূর
হয়ে গেছে।
তথাপি দূরবর্তী সম্ভাবনা অনুযায়ী আমরা যদি
মেনে নেই যে, একবার সূরা ইখলাস তেলাওয়াত
করলে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ পরিমাণ পড়ার
ছওয়াব পাওয়া যায় তবে একথা অত্যন্ত স্পষ্ট যে
, তিনবার সুরাটি তেলাওয়াত করলে এক তৃতীয়াংশ
তিনবার পড়ার ছওয়াব পাওয়া যাবে। পূরো কুরআন
একবার পড়ার ছওয়াব
পাওয়া যাবে বলে কোনো ইঙ্গিত হাদীসে নেই।
বিষয়টি সহজে বোঝার জন্য মনে করুন, আপনার
একটি কাজ আছে। যে কাজের তিনটি অংশ রয়েছে।
এই কাজটি পূর্ণ করার উপর আপনার ১০০ টাকার
দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে একটি অংশ
করলে ২০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। এখন কেউ
যদি একটি অংশ তিনবার করে এবং এমনটি করার
সুযোগ থাকে তবে আপনার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক
সে ৬০ টাকা পাওয়ার কথা। এখন
যদি সে দাবী করে যে, মোট অংশ তিনটি
, আমি একটি অংশ তিনবার করেছি
, সুতরাং আমি কাজটি পূর্ণ করেছি, তাই যুক্তির
দাবী হলো আমাকে ১০০
টাকা দেওয়া হোক, এখানে আপনি তার এই
যুক্তিকে কীভাবে দেখবেন? ঠিক তদ্রূপ একবার
সূরা ইখলাস তেলাওয়াত করলে এক তৃতীয়াংশের
ছওয়াব মেনে নিলেও একবার পড়লে এক খতম
কুরআনের ছওয়াব পাওয়া যাবে এমন কথা যেমন
নির্ভরযোগ্য হাদীস বহির্ভূত, তেমন
যুক্তি বহির্ভূত। কোনো ইবাদত বা তার ছওয়াবের
ক্ষেত্রে যুক্তি দিয়ে কিছু বলার সুযোগ
নেই, তথাপি অনেক দূরবর্তী একটি যুক্তির
আলোকে আমাদের মাঝে সূরা ইখলাস তিনবার
পড়ে কুরআন খতমের ছওয়াব অর্জনের কথা ও আমল
অত্যন্ত ব্যাপকভাবে প্রচারিত ও প্রচলিত।
এমনকি অনেকে পুরো কুরআন পড়ার পর তিনবার
সূরা ইখলাস পড়েন যাতে করে ভুলভ্রান্তি কিছু
হলে এর মাধ্যমে তার ঘাটতি পূর্ণ
হয়ে যায়, তারাবীর সালাতে অনেকে এই
সূরা তিনবার পড়ে ঘাটতি পূর্ণ করেন, অথচ
শরীয়তে এ সবের কোনো ভিত্তি নেই।
সবচেয়ে আশ্চর্য্যের বিষয় হলো, অন্যের জন্য খতম
পড়তে গিয়ে ঘটনাক্রমে পড়া শেষ না হলে এই
সূরা তিনবার পড়ে বেঁচে যাওয়ার বাহানা তালাশ
করা হয়। খতমের আয়োজকের প্রশ্নের জবাব
দেওয়ার জন্য এই সূরা তিনবার পড়ে নিলেই কাম
সারে। এভাবে বিভিন্ন সুন্নাহ বিরোধী কর্মের
অনুপ্রবেশ ঘটে।
কেউ বলতে পারেন সূরা ইখলাসের বর্ণিত
ফযিলতের ব্যাপারে হাদীস রয়েছে, যেমন
একটি হাদীসে এসেছে:
"ﻣﻦ ﻗﺮﺃ ( ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ ( ﺛﻼﺙ ﻣﺮﺍﺕ ﻓﻜﺄﻧﻤﺎ ﻗﺮﺃ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺃﺟﻤﻊ."
‘‘যে ব্যক্তি ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ তিনবার পড়ল
সে যেন পুরো কুরআন পাঠ করল।’’ [127]
এ হাদীসটি অনির্ভরযোগ্য। এর
কোনো নির্ভরযোগ্য সনদ নেই। [128] এ হাদীস
ছাড়াও উক্ত সূরা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট সংখ্যা ও
বিশাল ফযিলতের কথা সহ আরো কিছু হাদীস
রয়েছে যার নির্ভরযোগ্য কোনো সনদ
বা ভিত্তি নেই। হাদীসের সাথে যাদের গভীর
সম্পর্ক রয়েছে তারা জানেন যে, অন্যের কথা রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
নামে নিসবত বা সম্পৃক্তের একটি দিক হচ্ছে, অনেক
সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
হাদীসের বিভিন্ন মর্ম বা ব্যাখ্যা মানুষ তাদের
জ্ঞান বা মেধা থেকে বর্ণনা করে থাকেন।
পরবর্তীতে ব্যাখ্যাকারী নিজে অথবা অন্য কেউ
উক্ত ব্যাখ্যা বা মর্মকেই রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্পৃক্ত
করে হাদীস বলে চালিয়ে দিয়েছেন। অনেক জাল
হাদীসের অনুপ্রবেশ এভাবেই ঘটেছে।
আল্লামা সুয়ুতী মনে করেন জাল হাদীসের এই
প্রকারটি সর্বাধিক। [129] নির্ভরযোগ্য
বা গ্রহণযোগ্য কোনো সনদ না থাকায় বর্ণিত
হাদীসটিও এই ধরণের বলে সহজেই অনুমেয়। আল্লাহ
আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং সহীহ সুন্নাহ
মোতাবেক আমাদের জীবন পরিচালনার তওফীক
দান করুন। আমীন।
অভিজ্ঞতা বনাম ধর্মীয় অনুভূতি
উল্লেখিত প্রচলিত খতমসমূহ নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা বহির্ভূত
খেলাফে সুন্নাত স্বীকার করা সত্বেও তা জায়েয
বা এতে কোনো সমস্যা নেই এর পক্ষে যে দলীল
পেশ করা হয় তা হলো, অভিজ্ঞতা। আলেমগণের এক
শ্রেণি ঈসালে ছওয়াবের খতমে অংশ নিলেও
তা বিদ‘আত মনে করেন। কেননা তারা জানেন যে
, খাইরুল ক্বুরুনে খতমের মাধ্যমে ঈসালের
কোনো পদ্ধতি ছিল না, তবে তারা ঈসালে ছওয়াব
ছাড়া অন্যান্য সমস্যার কারণে যে কোনো খতম
করতে কোনো সমস্যা নেই বলে মনে করেন। তাদের
যুক্তি হলো, এটি একটি তাজরিবাহ বা অভিজ্ঞতার
বিষয়। এর সাথে বিদ‘আতের কোনো সম্পর্ক নেই।
কেননা বিদ‘আতের সম্পর্ক ইবাদতের সাথে। খতম
যদি ইবাদতের
উদ্দেশ্যে না করা হয়, বরং রোগমুক্তি বা অন্য
উদ্দেশ্যে করা হয় তবে নাজায়েয হওয়ার
কোনো কারণ নেই। এগুলো বিভিন্ন বুযুর্গের
অভিজ্ঞতা মাত্র। অভিজ্ঞতার আলোকে অমুক
খতমে অমুক ফল দেখা গেছে, তাই আমরা সেই
আশায় খতম পড়ছি।
যে কোনো খতম পড়তে কোনো সমস্যা নেই
একথা কতটুকু গ্রহণযোগ্য তা আমরা খতমের
আলোচনায় বুঝতে পেরেছি। এবার
হলো যে খতমে শব্দগত কোনো আপত্তি নেই তার
কথা। অভিজ্ঞতার আলোকে এমন খতমাদিকে শুদ্ধ
বলে চালানো কতটুকু গ্রহণযোগ্য? মূলত অভিজ্ঞতা ও
ধর্মীয় অনুভূতি দুটি বিষয়কে এক করে দেওয়ার
ফলে আমরা এমন কথা বলি, অথচ দুটি বিষয়ে আকাশ
পাতাল ব্যবধান। ইবনে তাইমিয়া রাহ.
[130] বিষয়টি সুন্দরভাবে বুঝিয়েছেন।
ইবনে তাইমিয়া রাহ. এর আলোচনা পেশ করার
আগে সহজেই বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করব
ইনশাআল্লাহ।
মূলত কোনো জিনিসের সাথে বারংবার সম্পৃক্ত
হওয়া, সেই বস্তুকে নিয়ে গবেষণা
, পরীক্ষা নিরিক্ষা ইত্যাদির মাধ্যমে উক্ত বস্তুর
ভিতর বাস্তব যে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়
তাকে বলে অভিজ্ঞতা। অভিজ্ঞতার
আলোকে কোনো কিছু প্রমাণিত হলে তা উক্ত
বস্তুর বৈশিষ্ট্য । তাই তা অস্বীকারের কারো
কোনো উপায় নেই। পাগল ছাড়া কেউ
তা অস্বীকার করতে পারে না। কেউ স্বীকার করুক
বা নাই করুক, বিশ্বাস করুক বা নাই করুক, উক্ত বস্তু
তার কাজ করেই যাবে। এখানে ধর্মের
সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। যেমন ধরুন, আগুনের
ভিতর জ্বালানোর বৈশিষ্ট্য মানুষ
প্রথমে অভিজ্ঞতার আলোকেই পেয়েছে। আগুন
জ্বালায় এ কথা সবাই মানেন।
এভাবে যে কোনো রোগের ঔষধ অনেক পরীক্ষার
মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়েছে। অভিজ্ঞতায়
দেখা গেছে অমুক ঔষধ খেলে অমুক রোগ ভাল হওয়ার
বৈশিষ্ট্য আল্লাহ সেই ঔষধে রেখেছেন।
অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত
হলে মুসলিম, খৃষ্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ সবাই তা স্বীকার
করেন। কেননা এটা সেই বস্তুর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য।
তাই অভিজ্ঞতা সঠিক হলে সবাই তা স্বীকার
করতে বাধ্য। অপরদিকে ধর্মীয় অনুভূতি এমন
যা একজন বিশ্বাস করলে অপরজন করেন না। যেমন
ধরুন, একটি অত্যন্ত সুন্দর পাথর, হিন্দু ধর্মের
ব্যক্তি তাকে খুবই শ্রদ্ধা করছেন।
তিনি বলছেন, অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে এই পাথর
থেকে এই ফল পাওয়া যায়, এর অসম্মান করলে এই
ক্ষতি হয়। অপর ব্যক্তি যিনি এই ধর্মে বিশ্বাসী নন
তিনি এই পাথরকে লাথি মেরে উড়িয়ে দিচ্ছেন।
কেননা হিন্দু ব্যক্তি যে বিশ্বাস পোষণ করেন
তিনি তা করেন না। পাথরকে লাথি মারলেও তার
কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। হিন্দু ব্যক্তির
কথাটি বাস্তব হলে লাথি মারলে এই ব্যক্তিরও
ক্ষতি হওয়ার কথা ছিল। এখানে হিন্দু ব্যক্তির
ধারণাকে আমরা অভিজ্ঞতা বলতে পারি না।
বরং তা তার একটি ধর্মীয় বিশ্বাস।
সে যদি পাথরকে শ্রদ্ধার
কারণে কোনো লাভ, অপমান করার
কারণে কোনো ক্ষতির বাস্তব ঘটনা শুনায় তবুও
মুসলিম
তা উড়িয়ে দিবেন, এমনকি তা নিয়ে হাসির
কৌতুকও রচনা করতে পারেন। তিনি বলবেন মূলত
লাভ ক্ষতি অন্য কারণে হয়েছে, হিন্দু ব্যক্তির
বিশ্বাস তাকে এদিকে টেনে নিয়ে গেছে। এই
হলো অভিজ্ঞতা এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের পার্থক্য।
এভাবে যে ব্যক্তি মাজারে নিয়মিত
আসা যাওয়া করে, মাজারকে ভক্তি শ্রদ্ধা করে
, তাকে আপনি এর
খারাবী বুঝাতে চেষ্টা করলে বা এখানে এসে
কোনো লাভ নেই বললে সে আপনাকে তার অনেক
লাভ দেখিয়ে দিবে। সে বলবে আমি এই পেয়েছি
, সেই পেয়েছি। শাহজালাল বাবার
কাছে চাইলে পাওয়া যায় বলে আমার কাছে অনেক
প্রমাণ রয়েছে। এ কথাগুলো কোনো কাল্পনিক
বা ধরে নেওয়ার ভিত্তিতে নয় বরং বাস্তব। আমার
নিজ কানে সিলেটের অনেককেই বলতে শুনেছি, এত
লোক কি এখানে এমনিতেই আসে? নিশ্চয়
তারা কিছু পায়। আমাদের ঘরের জিনিস তাই
আমরা এর ক্বদর তথা মূল্যায়ন করি না।
এখানে সে তাঁর অভিজ্ঞতা দেখালেও সহীহ
আক্বীদা পোষণকারী মুসলিম তা বিশ্বাস করেন
না। মাজার বিশ্বাসী লোকটির এমন কথা আপনার
হাসি ও আক্ষেপকেই বৃদ্ধি করে।
আপনি এটিকে তাঁর একটি বোকামী বলেই দেখছেন।
কেননা এটা তাঁর মনের তৈরী একটি বিশ্বাস যার
কোনো প্রমাণ নেই। প্রথমে বিশ্বাস তৈরীর পর
সে তাঁর লাভ ক্ষতিকে মাজার কেন্দ্রিক
টেনে নিয়ে যাচ্ছে। সে যতই অভিজ্ঞতার কথা বলুক
না কেন আপনাকে তা বিশ্বাস করাতে পারবে না।
তার কারণ হলো, এটাকে অভিজ্ঞতা নাম দিলেও
প্রকৃতপক্ষে অভিজ্ঞতার সাথে এর কোনো সম্পর্ক
নেই। বরং এটিও তাঁর একটি ধর্মীয়
অনুভূতি বা বিশ্বাস। এভাবে হাজারো উদাহরণ
আপনি নিজেই চিন্তা করলে বের
করতে পারবেন, যেখানে ধর্মীয়
বিশ্বাসকে অভিজ্ঞতার নাম দিয়ে মানুষ
বিভ্রান্ত হচ্ছে। কুরআন হাদীসের বিপরীত যত
ভ্রান্ত আক্বীদা রয়েছে তার অধিকাংশই এ
পর্যায়ের।
আরেকটি উদাহরণ
দেখুন: ‘বিসমিল্লাহ’ বলে খাওয়া শুরু
করলে খাবারের মাঝে বরকত হয় বলে আমরা মুসলিম
হিসেবে বিশ্বাস করি। কেননা আমাদের
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
তা বলে গেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে ব্যক্তি নবী বলে
অস্বীকার করে সে এটি বিশ্বাস করবে না। মুসলিম
ব্যক্তি বাস্তবে এই বরকত উপলব্ধি করলেও
তিনি এখানে অভিজ্ঞতার দলীল দিতে পারেন
না। কেননা এটা অভিজ্ঞতার বিষয় নয়।
অভিজ্ঞতার বস্তু হলে মুসলিম অমুসলিম সবাই
তা বিশ্বাস করতে বাধ্য। বরং এটি মুসলিম ব্যক্তির
একটি ধর্মীয় বিশ্বাস। নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলার কারণে তিনি এই
বিশ্বাস পোষণ করেন। আল্লাহ বা রাসূল ছাড়া অন্য
কেউ বললে এই একই ব্যক্তি তা উড়িয়ে দিতেন।
কেননা ওহী ছাড়া ধর্মীয় বিশ্বাস পোষণ করা যায়
না। ওহীর বাইরের আক্বীদা মানেই ভ্রান্তি। ধরুন
আমি বুযুর্গির এক পর্যায়ে পৌছে যদি বলি ‘ক্বুল
হুয়াল্লাহু...’ পড়ে খাবার শুরু করলে খাবারে বরকত
হয়। এখন দেখা যাবে আমার কিছু অন্ধ ভক্ত
একথা বিশ্বাস করবেন এবং তারাও এর
আলোকে আমল শুরু করবেন। একথা বিশ্বাস
করতে কোনো সমস্যা নেই দাবী করে দলীল
হিসেবে বলবেন, এটা উনার অভিজ্ঞতা।
তবে যিনি মুহাক্বিক আবার অন্ধ ভক্ত
নন, বরং শরীয়তের সীমার
ভিতরে থেকে ভক্তি করেন, তিনি এ
কথা মেনে নিবেন না। কেননা তিনি জানেন যে
, এটা অভিজ্ঞতার বিষয় নয়।
এখানে একটি বিশ্বাসকে অভিজ্ঞতার নাম
দেওয়া হয়েছে মাত্র। ওহীর বাইরে এমন
কথা তিনি মেনে নিবেন না।
তবে ‘বিসমিল্লাহ’ এর বরকত
ওহী দ্বারা প্রমাণিত, তাই
তিনি তা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন এবং আমল
করেন। আশাকরি ধর্মীয় বিশ্বাস এবং অভিজ্ঞতার
মাঝে পার্থক্য বুঝতে আর কোনো উদাহরণের
প্রয়োজন নেই। এবার পাঠক নিজেই বিভিন্ন খতমের
ব্যাপারে ফায়সালা করুন। এই খতমে এই হয়, সেই
খতমে সেই হয়, তা কি অভিজ্ঞতার
বিষয়? না কি একটি ধর্মীয়
বিশ্বাস? দ্বিতীয়টি হলে -আপনি অন্ধ ভক্ত
না হলে এটাই আপনার কাছে বাস্তব-
ওহী ছাড়া আমরা এমন বিশ্বাস ও তার উপর আমল
কীভাবে করতে পারি?
একটি ঘটনা দেখুন: চট্টগ্রামের জনৈক
ব্যক্তি লন্ডন বসবাস করেন। দেশে আসলেই
তিনি সিলেট আসেন এবং শাহজালাল রাহ. এর
মাজার যিয়ারত করেন। দেশে আসলে কোনো বারই
নাকি তাঁর এই সফর মিস হয় না।
তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ভাই আপনি কেন
আসেন? এর প্রতি উত্তরে লোকটি বলল,
‘‘বাবা আঁরে লন্ডন ফাটাইয়ি ইতাল্লাই আঁই
ফতিবার এডে আঁই’’ অর্থাৎ শাহজালাল
বাবা আমাকে লন্ডন পাঠিয়েছেন, তাই
আমি প্রত্যেকবার তথা দেশে আসলেই
এখানে আসি। লোকটির বিশ্বাস দেখুন। সে তাঁর এ
কথাগুলো অভিজ্ঞতার আলোকেই বলছে।
কেননা সে এখানে এসেছে এবং লন্ডন যাবার জন্য
দো‘আ করেছে এবং যেতে পেরেছে। একজন সহীহ
আক্বীদা পোষণকারী হিসেবে আপনি লোকটির এই
কথাগুলো কিভাবে নিবেন? আপনি সহীহ
আক্বীদা পোষণকারী নিশ্চয় বলবেন, তার লন্ডন
যাবার অনুমোদন প্রাপ্ত হওয়ার যাবতীয়
জরুরী কাগজপত্র, ভিসা, পাসপোর্ট ইত্যাদি শর্ত
মোতাবেক হয়েছে বলে অল্লাহর ইচ্ছায়
সে যেতে পেরেছে। লন্ডনের অনুমোনের
শর্তাদি পুরো না হলে একবার কেন শতবার
মাজারে আসলেও সে যেতে পারত না । কিন্তু এমন
লোককে যদি আপনি বলেন:
ভাই, এখানে শাহজালাল সাহেবের
কী সম্পর্ক? আপনার তো লন্ডন
যেতে পারা যাবতীয় শর্তাদি সঠিকভাবে পূরণ
হওয়ার কারণে হয়েছে, সে বলবে, কাগজপত্র সবকিছু
বাবার ওসীলায় ঠিক হয়েছে। এভাবেই অতিভক্তির
মাধ্যমে মানুষ বিশ্বাসের ধোকায় নিপতিত হয়।
অতিভক্তি তার বিশ্বাসকে এদিক
থেকে ওদিকে নিয়ে যায়।
বাস্তবতা থেকে অবাস্তবতার
দিকে নিয়ে যায়, অথচ সে টেরই পায় না। আমাদের
অবস্থা এমন
হচ্ছে কি না তা নিয়ে ভেবে দেখা দরকার। দীনের
জন্য একটু ভাবলে ক্ষতিই বা কী? বরং এতে আমার
অনেক লাভ রয়েছে। আমি সঠিক পথে থাকলেও
ভাবার কারণে নিশ্চয় ছওয়াব পাব।
এবার আমরা ইবনে তাইমিয়া রাহ. এর
বক্তব্যটি উপস্থাপন করছি। তিনি লিখেন:
" ﺛﻢ ﻗﺪ ﻳﻜﻮﻥ ﺳﺒﺐ ﻗﻀﺎﺀ ﺣﺎﺟﺔ ﻫﺆﻻﺀ ﺍﻟﺪﺍﻋﻴﻦ ﺍﻟﺪﻋﺎﺀ ﺍﻟﻤﺤﺮﻡ؛ ﻟﺸﺪﺓ
ﺿﺮﻭﺭﺗﻪ ﻟﻮ ﺩﻋﺎ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻬﺎ ﻣﺸﺮﻙ ﻋﻨﺪ ﻭﺛﻦ ﻻﺳﺘﺠﻴﺐ ﻟﻪ ﻟﺼﺪﻕ ﺗﻮﺟﻬﻪ
ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻠﻪ – ﺗﻌﺎﻟﻰ ." ) ﺍﻟﻤﻨﻬﺞ ﺍﻟﻘﻮﻳﻢ ﻓﻲ ﺍﺧﺘﺼﺎﺭ ﺍﻗﺘﻀﺎﺀ ﺍﻟﺼﺮﺍﻁ
ﺍﻟﻤﺴﺘﻘﻴﻢ 96-1 )
‘‘এরপর অনেক সময় এসব
প্রার্থনাকারী যারা হারাম
প্রার্থনা করে তাঁর কঠিন প্রয়োজনের
কারণে আল্লাহ তাঁর প্রয়োজন পূর্ণ
করেন, যদি কোনো মুশরিক একটি মূর্তির
কাছে গিয়ে এই প্রয়োজনের
প্রার্থনা করত তাঁর প্রার্থনা ক্ববুল
করা হত, কেননা (সে মূর্তির
কাছে হলেও) তার পূর্ণ মনোযোগ
আল্লাহর দিকে।’’ [131]
ইবনে তাইমিয়া রাহ.
এখানে যে কথাটি বুঝাতে চেয়েছেন তা অত্যন্ত
স্পষ্ট। প্রার্থনাকারী হারাম বস্তু কামনা করছে।
আল্লাহ তার মনের আহাজারী, কাতর
অবস্থা দেখে এমন প্রার্থনাও শুনছেন। তবে এই বস্তু
পেয়ে যাওয়া তাঁর কামনা জায়েয হওয়ার দলীল নয়।
এভাবে মূর্তির কাছে গিয়েও সে যে প্রার্থনা করে
, তাঁর কান্নাকাটি, আহাজারী, মনের অবস্থার
দিকে লক্ষ্য করে আল্লাহ তার দো‘আ শুনেন।
তবে দো‘আ কবুল করা মূর্তির কাছে যাওয়ার
কারণে নয়, বরং তার মনের করুণ অবস্থার কারণে।
কিন্তু প্রার্থনাকারী লোকটি তার
বিশ্বাসকে মূর্তির দিকে নিয়ে গিয়ে ফিতনায়
পতিত হয়। সে মনে করে মূর্তির কাছে এসে কিছু
চাইলে পাওয়া যায়।
তিনি আরো লিখেন:
ﻭﻣﻦ ﻫﻨﺎ ﻳﻐﻠﻂ ﻛﺜﻴﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻳﺒﻠﻐﻬﻢ ﺃﻥ ﺑﻌﺾ ﺍﻷﻋﻴﺎﻥ ﺍﻟﺼﺎﻟﺤﻴﻦ ﻋﺒﺪ
ﻋﺒﺎﺩﺓ، ﺃﻭ ﺩﻋﺎ ﺩﻋﺎﺀ ﻭﺟﺪ ﺃﺛﺮﻩ، ﻓﻴﺠﻌﻞ ﺫﻟﻚ ﺩﻟﻴﻼ ﻋﻠﻰ ﺍﺳﺘﺤﺒﺎﺏ ﺗﻠﻚ
ﺍﻟﻌﺒﺎﺩﺓ ﻭﺍﻟﺪﻋﺎﺀ، ﻭﻳﺠﻌﻠﻮﻥ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﻌﻤﻞ ﺳﻨﺔ ﻛﺄﻧﻪ ﻗﺪ ﻓﻌﻠﻪ ﻧﺒﻲ، ﻭﻫﺬﺍ
ﻏﻠﻂ ﻋﻈﻴﻢ ﻟﻤﺎ ﺫﻛﺮﻧﺎﻩ ﺧﺼﻮﺻﺎ ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻌﻤﻞ ﺇﻧﻤﺎ ﻛﺎﻥ ﺃﺛﺮﻩ ﺑﺼﺪﻕ
ﻗﺎﻡ ﻓﻲ ﻗﻠﺐ ﻓﺎﻋﻠﻪ ﺣﻴﻦ ﺍﻟﻔﻌﻞ ﺛﻢ ﺗﻔﻌﻠﻪ ﺍﻷﺗﺒﺎﻉ ﺻﻮﺭﺓ، ﻓﻴﻀﺮﻭﻥ ﺑﻪ .
‘‘এখান থেকেই অনেক মানুষ ভুলের
মধ্যে পতিত হয়, যখন তাদের কাছে খবর
পৌঁছে, কোনো নেক মানুষ একটি ইবাদত
করেছেন, অথবা একটি দো‘আ করে তার
ফল পেয়েছেন, অতঃপর এটিকে ঐ ইবাদত
এবং দো‘আ মুস্তাহাব হওয়ার দলীল
বানিয়ে দেওয়া হয় এবং তারা সেই
আমলটিকে সুন্নাত বানিয়ে নেয়, যেন
তা কোনো নবী করেছেন। আর
এটা মারাত্মক ভুল যা আমরা উল্লেখ
করেছি। বিশেষ করে যখন আমলটির ফল
কর্মের সময় আমলকারী মনের নিষ্ঠার
কারণে ছিল, পরবর্তীতে অনুসারীরা
শুধুমাত্র বাহ্যিক আমল
হিসেবে তা করে থাকে, ফলে তারা এর
মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’’[132]
পাঠক, আশা করি ইবনে তাইমিয়া রাহ. এর
বক্তব্য থেকে বিষয়টি আমাদের সামনে আরো স্পষ্ট
হয়ে গেল যে, কোনো বুযুর্গ কোনো দো‘আর আমলের
মাধ্যমে কিছু পেলে আমরা তা সেই দো‘আর
প্রতিফল ভাবতে পারি না।
কেননা ওহী ছাড়া এমন কথা বলা যায় না।
তবে নেক বুযুর্গ তিনি যে প্রতিফল পেয়েছেন
এটা মূলত তার মনের অবস্থার প্রতিফল।
যে কোনো মুমিন মনের আবেগ
নিয়ে সকাতরে আল্লাহর কাছে যেই দো‘আ করুক
না কেন আল্লাহ তার প্রতিফল দিবেন।
এমনকি সকাতরে কাফের ব্যক্তিও যখন আল্লাহর
কাছে কিছু চায় আল্লাহ তার প্রতিফল দেন
বলে কুরআনে তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন। [133]
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বস্তু
উপলব্ধি করার তওফিক দান করুন। শুধুমাত্র
সুন্নাতের মধ্যেই সফলতা দেখার তওফিক দান করুন।
আমীন।
আমাদের জানামতে সমাজে কম-বেশ
যে খতমগুলো রয়েছে, বা যে দো‘আ দুরূদগুলো খতম
হিসেবে পড়ার
প্রথা রয়েছে সেগুলো নিয়ে সামান্য
পর্যালোচনা করলাম। আলোচনার বিষয়বস্তু মূলত
সমাজে বা আমাদের মাঝে প্রচলিত খতম নিয়ে।
তাই অন্যান্য বানানো আরো কিছু আমল যেগুলোর
প্রচলন রয়েছে তবে তা আমাদের সমাজে খতম
হিসেবে প্রসিদ্ধ নয়, সেগুলোর আলোচনা করা হয়
নি। যেমন : দুরুদে তাজ, দুরুদে হক্কানী
, দুরুদে তুনাজ্জিনা
, দুরুদে ফুতুহাত, দুরুদে রু‘ইয়াতে নবী, দুরুদে শিফা
, দুরুদে খাইর, দুরুদে আকবার, দুরুদে লাখি
, দুরুদে হাজারী, দুরুদে রুহি
, দুরুদে বীর, দুরুদে শাফিয়ী, দুরুদে গাওসিয়া
, দুরুদে মুহাম্মাদী...। এসব দুরূদ পরবর্তী যুগের
মানুষের বানানো। অতএব এগুলোর ফযিলতে যা কিছু
বলা হয় সবই বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কথা।
[134] তাছাড়া এগুলোর অনেকটির মধ্যে কিছু কিছু
আপত্তিকর শব্দও বিদ্যমান। আপত্তির
পর্যায়টি না-জায়েয ক্ষেত্র বিশেষে শির্ক
পর্যন্ত রয়েছে। তাই এগুলোর চটকদার লাভের গল্প
শুনেই তার পিছে না পড়া জ্ঞানী ব্যক্তির কাজ।
এগুলোতে আমার আপনার বুযুর্গের ছোঁয়া থাকলেও
নবুওয়াতের নুর নেই। তাই
নিজেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
থেকে বর্ণিত দুরূদ ও দো‘আর মাঝে সীমাবদ্ধ
রাখাই নিরাপদ। তাযকিয়ার
চূড়ান্তে পদচারণা করতে তাঁর শিখানো দুরূদ ও
পদ্ধতিই আমাদের জন্য যথেষ্ট। সাহাবায়ে কেরাম
রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর
সুন্নাতের ভিতর থেকেই দুনিয়ায় থাকাবস্থায়
আল্লাহর সন্তুষ্টির সার্টিফিকেট
পেয়ে গিয়েছিলেন। তারা যেমন সুন্নাতের
বাইরে কিছুই ভাবতে পারেন নি, আমরাও তাদের
আদর্শের দাবীদার হলে তাযকিয়ার জন্য রাসূল
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর
বাতানো ওযিফার
বাইরে কোনো ওযিফা ভাবতে পারি না।
বিপদে আপদে আল্লাহর শরণাপন্ন হতে তাঁর আদর্শ
ও পদ্ধতি ছাড়া অন্য পদ্ধতিতে শরণাপন্ন
হতে পারি না। তাঁর বাতলানো পদ্ধতির
মাধ্যমে শরণাপন্ন হলেই আল্লাহ আমাদের
কথা দ্রুত শুনবেন বলে আমরা আশাবাদী। আল্লাহ
তাঁর প্রিয় রাসূলকে তো একারণেই আমাদের
কাছে পাঠিয়েছেন যে, আল্লাহর
বান্দা হিসেবে আমরা কিভাবে, কিসের
মাধ্যমে তাঁর কাছে প্রার্থনা করব, কোন
পদ্ধতিতে কোন আমলে তাঁর নৈকট্য লাভ করব
সেটা আমাদের তিনি জানাবেন । আল্লাহ
আমাদের সবাইকে রাসূল সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদর্শের গণ্ডির ভিতর
রাখুন। আমীন।
পরিশেষ
সম্মানিত পাঠক, আবারো নিজের
ইলমী দুর্বলতা ভাষাগত অক্ষমতা স্বীকার করত
আপনাদের কাছে বিশেষ করে আলেমদের
কাছে বিনীত নিবেদন এই যে, আমাদের এই
আলোচনা পর্যালোচনা কারো সম্মান বিঘ্নিত
করার উদ্দেশ্যে নয়। কারো সম্মান এবং তার
অনুসরণ এক নয়। সবার সম্মান করতে হবে, আমরা এর
জন্য নির্দেশিত। অপরদিকে আক্বাঈদ বিশ্বাস
বা ইবাদত সংক্রান্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে ‘‘ ﻣﺎ ﺃﻧﺎ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺃﺻﺤﺎﺑﻪ’’ এর
বাইরে যাওয়া যাওয়া যাবে না বলে আমরা
আদেশপ্রাপ্ত। এর বাইরে গেলেই আমরা আহলুস্-
সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের বাইরে চলে যাব
বলে সর্বদা আমাদের শ্রদ্ধেয় উস্তাদ মহোদয়গণ
এবং আকাবীর আসলাফরা সতর্ক করে আসছেন।
যুক্তি, বিবেক, জ্ঞান, ইলমের পাণ্ডিত্যের
মাধ্যমে এর বাইরে যাওয়া থেকেই বিভ্রান্তির
শুরু । তাই নিজ জ্ঞান দিয়ে নতুন আবিষ্কৃত
বিষয়কে যাচাই করে দেখাকে নিরাপদ
মনে করতে পারি না। নিরাপদ মনে করি শুধু রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
কথা কর্মের পূর্ণ অনুসরণ। আমাদের একটাই
কথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই
আক্বীদা পোষণ করতেন কি না? তিনি এই ইবাদত
এই পদ্ধতিতে বা এই উদ্দেশ্যে করেছেন
কি না বা করতে নির্দেশ দিয়েছেন কি না
? তিনি করলে বা নির্দেশ দিলে আর
কোনো ঝুঁকি নেই। যে সব
আলেমে দীন, আসাতিযা থেকে এভাবে সুন্নাতের
অনুসরণ শিখেছি তাদের কেউই আমার এই ক্ষুদ্র
পরিশ্রমে দুঃখিত হবেন না বলে আমি শতভাগ
আশাবাদী। বরং তারা খুশি হয়ে দো‘আ করবেন।
তাদের দো‘আ ও সহযোগিতায় এই সামান্য
খেদমতের ফায়েদা ব্যাপক হবে বলে আমি পূর্ণ
আস্থাবান। আর যারা অনেক বড়
আলেম, যারা তাদের জ্ঞানের উপর পূর্ণ
আস্থা করত রাসূলের কর্ম বহির্ভূত পদ্ধতিকে দলীল
(?) দিয়ে জায়েয করতে পারেন তাদের
কাছে আমার সবিনয় আবেদন যে
, আপনারা আমাদের মত রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্ণ অনুসারীদের পূর্ণ
অনুসরণের ওজুহাতটি কবুল করে আমাদেরকে, বিশেষ
করে আমি নাদানকে আপনাদের দো‘আয় শামিল
রাখবেন। পরিশেষে সবার কাছে দো‘আ চেয়ে শেষ
করছি। আল্লাহ আমাদের এই ক্ষুদ্র
প্রচেষ্টাকে ক্ববুল করুন।
সুন্নাতকে জলাঞ্জলি না দিয়ে সুন্নাতের জন্য
নিজেকে জলাঞ্জলি বা বিলিয়ে দেওয়ার তওফিক
দিন। আমীন।
গ্রন্থপঞ্জি
রচনাটি লিখতে যে সমস্ত কিতাবের উপর মূলত
নির্ভর
করা হয়েছে এবং উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে সেগুলোর
মোটামুটি তালিকা, কিতাবের মুসান্নিফের নাম
সহ নিম্নে প্রদান করা হলো। সালাফিয়্যাত
বা সিনিয়ারিটির মূল্যায়নের
লক্ষ্যে মুসান্নিফদের ওফাত সন উল্লেখ
করা হয়েছে। সাধারণত ‘আল-মাকবাতুশ্
শামিলাহ’ দ্বিতীয় প্রকাশনীর উপর নির্ভর
করা হয়েছে। তবে পাঠককে যাতে যে কোনো তথ্য
বের করতে বেগ পেতে না হয় তাই শুধুমাত্র খণ্ড ও
পৃষ্ঠা নং বা হাদীস নম্বরের উপর নির্ভর
না করে হাদীস বা অন্যান্য তথ্যের অধ্যায় অনুচ্ছেদ
উল্লেখ করার যথাসাধ্য চেষ্টা করা হয়েছে।
দৃষ্টিভঙ্গির তারতম্যে হাদীসের নাম্বার
উল্লেখের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন
ধরণ, তাই পাঠক এক্ষেত্রে শুধুমাত্র নাম্বারের উপর
পূর্ণ নির্ভর না করে অধ্যায় ও অনুচ্ছেদের উপর
নির্ভর করবেন।
আল-কুরআনুল করীম।
ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বল (২৪১ হি.) মুসনাদে আহমদ।
মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল আল-বুখারী (২৫৬ হি.)
সহীহুল বুখারী।
মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (২৬১ হি.), সহীহ মুসলিম।
সুলায়মান ইবনু আশআস আবু দাঊ আস-
সিজিস্তানী (২৭৫ হি.), আস-সুনান।
মুহাম্মদ ইবনু ইয়াযিদ ইবনু মাজাহ (২৭৫ হি.), আস-
সুনান।
আবু ঈসা মুহাম্মদ তিরমিযী (২৭৯ হি.), আস-সুনান।
আহমদ ইবনু শুয়াব নাসায়ী (৩০৩হি.), আস-সুনান।
ইবনু খুযায়মাহ (৩১১ হি.), সহীহ ইব্নু খুযায়মা।
. আবু জা‘ফর ত্বাহাবী (৩২১ হি.), আল-আক্বীদাতুত্-
ত্বাহাবিয়্যাহ।
. ইবুন হিববান (৩৫৪ হি.), সহীহ ইবনু হিববান।
. আবুল কাসেম তাবারানী (৩৬০ হি.), আল-মু‘জামুল
কবীর।
. আহমদ ইবনু ফারিস (৩৯৫ হি.) মু‘জামু মাক্বায়িসিল
লুগাহ।
. মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ হাকিম নাইসাপুরী (৪০৫
হি.), আল-মুসতাদরাক ‘আলাস্সহীহাইন।
. মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন সাহাল আস্-
সার্খাসি (৪৮৩ হি.), আল-মাবসুত।
. বুরহানুদ্দীন ইবনু মাজাহ (৬১৬ হি.), আল-মুহিত্বুল
বুরহানী।
. হাফিজ মুনযিরী (৬৫৬ হি.), আত তারগীব ওয়াত
তারহীব।
. ইমাম নববী (৬৭৬ হি.), শরহু সহীহ মুসলিম।
. ইবনু মানযুর ৭১১ হি. লিসানু আরব।
. ইবনু তাইমিয়া (৭২৮ হি.), আল-মানহাজুল ক্বাবীম
ফি ইখতিছারি ‘ইক্বতিদ্বায়ুস্-সিরাতিল
মুস্তাক্বীম।
. ইবরাহিম ইবনু মুসা আশ-শাত্বিবী (৭৯০ হি.), আল-
ই‘তিসাম।
. ইবনু আবীল ইয (৭৯২
হি.), শরহুল আক্বীদাতুত্তাহাবীয়্যাহ।
. নুরুদ্দীন হাইসামী (৮০৭ হি.), মাজমাউয-
যাওয়ায়িদ।
. ইবনু হাজার আসক্বালানী (৮৫২ হি.), ফাতহুল
বারী।
. আল্লামা বদরুদ্দীন আল-আইনি (৮৫৫ হি.), আল
বিনায়াহ।
. জালালুদ্দীন সুয়ূতী (৯১১ হি.), তাদরীবুর্রাবী।
. জালালুদ্দীন সুয়ূতী, জাম‘উল জাওয়ামি‘‘য়।
. জালালুদ্দীন সুয়ূতী, আল-জামি‘উল কবীর।
. ইবনু নুজাইম (৯৭০ হি.),আল-বাহরুর রায়িক্ব।
. আলাউদ্দীন আলী ইবন হুসামুদ্দীন আল-
মুত্তাক্বী (৯৭৫ হি.), কানযুল উম্মাল।
. আলাউদ্দীন আল-হাসকাফী (১০৮৮ হি.), আদ্দুর্রুল
মুখতার।
. ইবনু আবেদীন শামী (১১২৫ হি.), রাদ্দুল মুহতার।
. শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবী (১১৭৬
হি.), হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ।
. মুহাম্মদ ইবন আলী আশ্-শাওকানী (১২৫০ হি.)
ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহ্ক্বীক্বিল হাক্কি মিন
ইলমিল উসূল।
. আল্লামা আলুসী (১৩৪২ হি.), রুহুল মা‘আনী।
. খাইরুদ্দীন যিরিক্লী (১৩৯৬ হি.), আল-আ‘লাম।
. নাসিরুদ্দীন আলবানী (১৪১৯হি.), সহীহ
ওয়া দ‘য়ীফলু জামি‘‘য়স সাগীর।
. আলবানী, সহীহুত তারগীব ওয়াত্ তারহীব।
. আলবানী, সিলসিলাতুল আহাদীসি-দ্ব্‘য়ীফাহ।
. আলবানী, তিরমিযির সহীহ ও দ‘য়ীফ।
. মুফতী ফয়জুল্লাহ,(১৩৯৬ হি.), পান্দে নামাহ
খাকী।
. শামসুদ্দীন আফগানী (১৪২০ হি.), জুহুদু উলামায়িল
হানাফিয়্যাহ ফি ইব্তালি আক্বায়িদিল
ক্বুবুরিয়্যাহ।
. মুফতী রশীদ আহমদ লুদয়ানবী(১৪২২ হি.), আহসানুল
ফাতাওয়া।
. বারি’ ইরফান তাওফিক্ব, সহীহু কুনুযিস্-সুন্নাতিন্-
নাবাবিয়্যাহ।
. আলী ইবন ইবরাহিম হুশাইশ, সিলসিলাতুল
আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ।
. শায়খ আব্দুল্লাহ মুহসিন, আল ইমাম বুখারী ও
কিতাবুহু আল-জামি‘উস সহীহ।
. ড. মুহাম্মদ হুসাইন ইবন হাসান, মা‘আলিমুল উসূলিল
ফিক্বহী ‘ইনদা আহলিস্-সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আহ।
. আব্দুর রহমান আল-খামিছ, ই‘তিক্বাদুল
আয়িম্মাতিল আরবা‘আহ।
. ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গির, হাদীসের
নামে জালিয়াতী।
. মৌলবী শামছুল হুদা, নেয়ামুল কুরআন।
. আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মোহাম্মদ নাজমুল
হক, মোকছুদুল মো’মিনীন বা বেহেশ্তের পুঞ্জী।
. শাইখ আব্দুর রেজা মা‘আশ, মুনতাদাল কফিল
ওয়েব।
সমাপ্ত
[1] মুফতি ফয়জুল্লাহ, পান্দে নামাহ খাকী
, মুফতি ইযহারুল ইসলামের
ব্যাখ্যাসহ, খতমে শবীনাহ, খতমে বুখারী
, খতমে দু‘আ ইউনুস এবং অন্যান্য ফাসেদ কুসংস্কার
যেমন...আলোচনা, পৃষ্টা: ৩১।
[2] তিরমিযী, সুনান, যে তোমার
প্রতি দয়া করেছে তার শুকরিয়া অনুচ্ছেদ, নং:১৯৫৫।
হাদিসটি সহীহ লিগাইরিহি।
[3] বাংলাভাষীদের জন্য এ বিষয়ের উপর প্রখ্যাত
আলেমে দীন ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গির
রচিত ‘এহ্ইয়াউস সুনান’ বইটি আমার
ধারণা মতে অদ্বিতীয় এবং অতুলনীয়। সাধারণের
চেয়ে আলেমদের জন্য বইটি অত্যন্ত
বেশি উপকারী বলে পড়ে বুঝতে পেরেছি।
বইটি পড়ে মন্তব্য করার জন্য উলামায়ে কেরামের
কাছে অনুরোধ রইল। উনার প্রতিটি বই
একেকটি তাজদীদি খেদমাত বলে অধমের
কাছে মনে হয়েছে। আল্লাহ উনার
হায়াতকে বরকতময় করে দীনের
আরো বেশি খেদমাত করার সুযোগ দিন।
[4] ইবনু মানযুর, লিসানুল আরব, মাদ্দাহ: ﺳﻨﻦ , ১৩/১২৪।
[5] আরবী ভাষার বিশাল শব্দ ভান্ডার সম্বলিত
বিখ্যাত অভিধান ‘লিসানুল-আরব’ এর রচয়িতা আবুল
ফযল জামালুদ্দীন ইবনু মানযুর আল-আনসারী, জন্ম:
৬৩০ ওফাত: ৭১১ হিজরী, মোতাবেক: ১২৩২-১৩১১
ঈসায়ী। মূল আফ্রিক্বী বংশীয়, তবে তার জন্ম ও
মৃত্যু মিশরে। (আল-আ‘লাম: ৭/১০৮।
[6] লিসানুল আরব, প্রাগুক্ত।
[7] ড. মুহাম্মদ হুসাইন ইবন হাসান, মা‘আলিমুল
উসূলিল ফিক্বহী ‘ইনদা আহলিস্-সুন্নাতি ওয়াল
জামা‘আহ, দ্বিতীয় আলোচনা, সুন্নাতের সংজ্ঞা
, পৃষ্টা:১১৮।
[8] মুহাম্মদ ইবন আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ
আশ্-শাওকানী। ১১৭৩-১২৫০ হিজরী, ১৭৬০-১৮৩৪
ঈসায়ী। ইয়ামান এর সান‘আর ফক্বীহ, মুজতাহিদ।
উসূল, হাদীস, ফিক্ব্হ, তাফসীর সর্ব বিষয়ে তার
পান্ডিত্য ও রচনা বিদ্যমান।
[9] আল্লামা শাওকানী, ইরশাদুল ফুহুল
ইলা তাহ্ক্বীক্বিল হাক্বি মিন ইলমিল উসূল, প্রথম
পরিচ্ছেদ, সুন্নাতের আভিধানিক
এবং শরয়ী অর্থ, ১/৯৫।
[10] সূরা মায়েদাহ, আয়াত: ৩।
[11] সূরা আহযাব, আয়াত: ২১।
[12] সহীহ মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: মন্দ কাজ
থেকে নিষেধ করা ঈমানের অঙ্গ....,নং: ১৮৮।
[13] হিন্দের প্রখ্যাত মুহাদ্দীস, আহমদ ইবন আব্দুর
রহীম আশ-শাহ ওলিউল্লাহ দেহলবী। যার
তাজদীদি বা সংস্কারমুলক কর্ম আরব ‘আজম সর্বজন
স্বীকৃত। তার লিখিত বিভিন্ন কিতাব এর জলন্ত
প্রমান। জন্ম: ১১১৪ হিজরী, ওফাত: ১১৭৬ হিজরী।
আফসোসের বিষয়, উপমহাদেশের এ মহান
ব্যক্তিত্বের নাম আমাদের মুখে থাকলেও তার
চিন্তাধারার বাস্তব কোনো মূল্যায়ন আমাদের
মাঝে নেই। তাঁর চিন্তাধারা ও তাঁর রচনা সমগ্রের
বাস্তব মূল্যায়ন আরব আলেমগণ করে থাকেন। তাঁর
রচনা তাদের পাঠ্য সিলেবাস এর প্রমাণ।
[14] মুহাদ্দিসে দেহলবী, হুজ্জাতুল্লাহিল
বালিগাহ, কিতাব ও সুন্নাত
আকড়ে ধরা অধ্যায়, ১/৩৫৭।
[15] সহীহুল বুখারী, নিকাহ অধ্যায়, নিকাহের
প্রতি উৎসাহ অনুচ্ছেদ, নং: ৪৭৭৬।
[16] সুয়ূতী, আল-জামি‘উল
কবীর, হামযা হরফে হাদীস, নং: ৭৯৩৫, আলবানী
, সহীহ ওয়া দ‘য়ীফুল জামি‘য়িস সাগীর, নং:
৭৩১৭, সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব, তারগীব ফিস
সালাত অনুচ্ছেদ, নং:৩৯০, হাদীসটি হাসান।
হাদীসের
ইবারতটি হচ্ছে: ‘‘ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﺧﻴﺮ ﻣﻮﺿﻮﻉ ﻓﻤﻦ ﺍﺳﺘﻄﺎﻉ ﺃﻥ ﻳﺴﺘﻜﺜﺮ ﻓﻠﻴﺴﺘﻜﺜﺮ ’’
[17] কারো মনে আসতে পারে, আবু হানিফা রাহ.
যেহেতু ৪০ বছর এক ওযু দিয়ে এশা ফজর আদায়
করেছেন বলে শুনা যায়, অতএব তার চল্লিশ বছর
খেলাফে সুন্নাত ভাবে রাত কেটেছে, অথচ এমন
রাত কাটানো শুনে রাসূল
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগ
করেছেন। অধমের খেয়াল মতে এ সব
হচ্ছে প্রশংসা না বুঝে প্রশংসায় সীমালঙ্গন। এসব
কথার যেহেতু সহীহ
কোনো ভিত্তি নেই, সুতরাং আবু হানিফার মত
মহান পন্ডিত, মুজতাহিদ, যিনি হবহু সুন্নাতের
অনুসরণ থেকে এক চুল পরিমান সরতে চান না
, বিদ‘আত সন্দেহ হলে যিনি সুন্নাত ছেড়ে দেওয়ার
কথা বলেন,অনেক মাসআলা মাসাঈল যার প্রমাণ
বহন করে, এমন ব্যক্তির দিকে এ সব কথা সম্পৃক্ত
করার কোনো যুক্তি বা প্রয়োজন নেই।
[18] ইবনু মানযুর, লিসানুল আরব, মাদ্দাহ ‘ ﺑﺪﻉ ’, ৮/৬।
[19] আরবী ভাষা ও সাহিত্যের ইমাম আবুল হুসাইন
আহমদ ইবনু ফারিস ইবন যাকারিয়া আল-
কাযবীনি আর-রাযি, ৩২৯-৩৯৫ হিজরী, ৯৪১-১০০৪
ঈসায়ী।
[20] ইবনু ফারিস, মু‘জামু মাক্বায়িসিল
লুগাহ, মাদ্দাহ ‘ ﺑﺪﻉ ’, ১/২০৭, লিসানুল আরব, প্রাগুক্ত।
[21] আবু ইসহাক্ব ইবরাহিম ইবনু মুসা আশ-
শাত্বিবী আল-মালিকী, ৭৯০ হিজরী, আল-
ই‘তিসাম, প্রথম অনুচ্ছেদ, বিদআতের সংজ্ঞা ও
তার অর্থ..., ১/২৬।
[22] প্রাগুক্ত।
[23] তিরমিযী, সুনান, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত ইলম
অধ্যায়, সুন্নাতকে আকড়ে ধরা এবং বিদ‘আত
পরিহার করা অনুচ্ছেদ, নং:২৬৭৬, হাদীস সহীহ।
[24] সহীহুল বুখারী, কিতাবুর রিক্বাক্ব, হাউয
অনুচ্ছেদ, নং: ৬২১২, কিতাবুল-ফিতান, নং: ৬৬৪৩।
[25] মুহাম্মদ ইবন ইসহাক্ব ইব্নু খুযায়মাহ আস-
সুলামী, ২২৩-৩১১ হিজরী, সহীহ ইবনু
খুযায়মাহ, নবীজী সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খুতবার
গুণাবলী অনুচ্ছেদ, নং ১৮৭৫।
[26] সহীহুল বুখারী, সন্ধি অধ্যায়, অনুচ্ছেদ:
অন্যায়ের উপর লোকেরা সন্ধিবদ্ধ
হলে তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য, নং: ২৫৫০, সহীহ
মুসলিম, বিচার সংক্রান্ত অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: বাতিল
সিন্ধান্ত খণ্ডন এবং বিদ‘আতি কার্যকালাপ
প্রত্যাখ্যান, নং: ৪৫৮৯।
[27] শামসুল আয়িম্মাহ মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন
সাহাল আস্-সার্খাসি, হানাফী মাযহাবের
অন্যতম মুজতাহিদ আলেম। ওফাত: ৪৮৩ হিজরী
, মোতাবেক ১০৮০ ঈসায়ী। (আল-আ‘লাম: ৫/৩১৫)
[28] সার্খাসী, আল-মাবসূত,২/১৪৬।
[29] প্রাগুক্ত,৩/৩৫৭।
[30] ইবনু মানযুর, লিসানুল
আরব, মাদ্দাহ: ‘ ﺧﺘﻢ ’ ১২/১৬৩।
[31] সূরা বাক্বারা, ৭।
[32] সহীহ মুসলিম, সালাত অধ্যায়, রাতের
সালাতে দু‘আ ও রাতে জাগা অনুচ্ছেদ, নং:১৮৩৫।
[33] সহীহুল বুখারী, কুরআনের ফযিলত সমূহ
অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি উত্তম
যে নিজে কুরআন
শিখে এবং অপরকে শিখায়, নং:৪৭৩৯।
[34] সহীহুল বুখারী, কুরআনের ফযিলতসমূহ
অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: সব কালামের উপর কুরআনের
শ্রেষ্টত্ব, নং:৪৭৩৯, সহীহ মুসলিম, কুরআনের
ফযিলতসমূহ অধ্যায়, হাফিজে কুরআনের
মর্যাদা অনুচ্ছেদ, নং:১৮৯৬।
[35] সুনানুত তিরমিযি, হাদীস সহীহ, কুরআনের
ফযিলত সমূহ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: যে কুরআনের
একটি অক্ষর পড়ল তার কতটুকু ছওয়াব রয়েছে, নং:
২৯১০।
[36] সহীহুল বুখারী
, উমরা অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু ‘
আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতবার উমরা করেছেন।
[37] সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: উমরা, অনুচ্ছেদ: নবী
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উমরার
সংখ্যার বর্ণনা।
[38] কাযী আয়ায, মালেকি মাযহাবের প্রখ্যাত
আলেম
মুহাদ্দীস, ফকীহ, আদীব, ঐতিহাসিক, একাধিক
কিতাবের রচয়িতা। ৪৭৩-৫৪৪ হিজরী।
[39] ইমাম নববীর মুসলিমের ব্যখ্যগ্রন্থ, প্রাগুক্ত
অধ্যায়। কিতাবুস-সালাত, ( ﺑﺎﺏ ﺍﺳﺘﺤﺒﺎﺏ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﻀﺤﻰ ﻭﺃﻥ ﺃﻗﻠﻬﺎ
ﺭﻛﻌﺘﺎﻥ) এর অধীনে আলোচনা সালাতুদ দ্বোহার
আলোচনা করেছেন।
[40] ফাতওয়া বায্যাযিয়ার মুসান্নিফ, ইমাম
মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন শিহাব, ইবনে বায্যার
আলকুরদুরী আল-হানাফী। মৃত্যু: ৮২৭ হিজরী।
[41] বায্যাযিয়া, হিন্দিয়ার টিকা, ৬/৩৭৮
(লেখকের দেওয়া তথ্য সুত্র মোতাবেক)।
[42] বায্যাযিয়া, হিন্দিয়ার টিকা, ৪/৮১ (লেখকের
দেওয়া সুত্রে)
[43] মুহাম্মদ জা‘ফর ইবন আব্দুল করীম আল-
বুবাকানী আস-সিন্দি আল-হানাফী। তার লিখিত
কিতাব, ‘আল-মাতানাহ ফিল-মারাম্মাতে আনিল
খিযানাহ’।
[44] আল-ফাতাওয়া আস-সাইরাফিয়্যাহ।
লিখক, হানাফী ফক্বীহ আসআদ ইবন ইউসুফ ইবন
আলী মাজ্দুদ্দীন আস-সাইরাফী আল-বুখারী।
মৃত:১০৮৮ হিজরী। (আল-আ‘লাম, ১/৩০২)
[45] দেখুন, বুরহানুদ্দীন ইবনু মাযাহ (৬১৬ হি.) রচিত
কিতাব ‘আল-মুহিত্বুল বুরহানী, পৃষ্টা:১৪৪, খ-:৫।
[46] ফিকহে হানাফী নিয়ে রচিত কিতাব ‘আল-
ফাতাওয়া আত্তাতার খানিয়া’, লিখক, ইবনুল
আলা আল-আনসারী আদ-দেহলবী আল-হিন্দি।
[47] ‘আইনুল ইলম’ ‘মুফিদুল মুস্তাফিদ’ ‘কিতাবুন-
নেসাব’ ফিক্বহে হানাফীতে রচিত বিভিন্ন
কিতাবের নাম।
[48] আল-মাতানাহ ফিল-মারাম্মাতে আনিল
খিযানাহ, ৬৩৩,৬৩৪,৬৩৫ (লেখকের দেওয়া সুত্রে)।
[49] বিশিষ্ট হানাফী ফক্বীহ মুহাম্মদ আমীন ইবন
উমর ইবন আব্দুল আযীয ইবন আবেদীন। ১১৯৮-১১২৫
হিজরী। দামেশ্কে জন্ম এবং মৃত্যু। যাকে ইমামুল
হানাফিয়্যাহ ফিশ্-শাম বলে ভূষিত করা হয়।
আল্লামা ইবনে আবেদীন
বা আল্লামা শামী নামে তিনি প্রসিদ্ধ। তার
কিতাব ‘রাদ্দুল
মুহতার‘ যা ফাতওয়া শামী হিসেবে পরিচিত
তা ফিকহে হানাফীর মাসাঈলে আলাউদ্দীন
হাসকাফী রচিত ‘আদ্দুররুল-
মুখতারের’ ব্যাখ্যাগ্রন্থ। (আল-আ‘লাম: ৬/৪২)
[50] মুসান্নিফ আর্থাৎ ‘আদ্দুররুল-
মুখতারের’ রচয়িতা মুহাম্মদ ইবন আলী আলাউদ্দীন
আল-হাসকাফী। দামেশ্কের একজন
হানাফী মুফতী। ১০২৫-১০৮৮ হিজরী। (আল-আ‘লাম:
৬/৪২)
[51] ‘আল-হাবীল ক্বুদসী ফিল
ফুরু’ লিখক, কাযী জামাল উদ্দীন আহমদ ইবন
মুহাম্মদ আল-গাযনবী আল-হানাফী। (কাশ্ফুয
যুনুন:১/৬২৭)
[52] যাইনুদ্দীন ইবনে নুজাইম মিসরী আল-
হানাফী ৯২৬-৯৭০ হিজরী রচিত কিতাব ‘আল-
বাহরুর রায়িক্ব’ । সালাত অধ্যায়। বিতর ও নফল
অনুচ্ছেদ, ২/৫৬।
[53] ‘আল-মুনইয়াহ’ অর্থাৎ ‘মুনইয়াতুল মুসাল্লী’, এই
কিতাবের দু্ই ব্যাখ্যাকার দ্বারা উদ্দেশ্য সম্ভবত,
‘গুনইয়াতুল মুতামাল্লী’ এবং ‘আল-ক্বুনইয়া
’ কিতাবদ্বয়ের রচয়িতা। দুটি কিতাবই ‘মুনইয়াতুল
মুসাল্লী’র শরাহ। কিতাব দুটি দুর্লভ ও
সম্মুখে না থাকায় এ ব্যাপারে নিশ্চিত
হতে পারিনি। (সংকলক)
[54] ইমাম নুরুদ্দীন আলী ইব্নু গানিম আল-
মাক্দিসী আল-হানাফী। মৃত্যু:১০০৪
হিজরী (কাশফুয যুনুন:১/৮৪০)। সালাতুর রাগাইব
নামে সালাতের বিদ‘আত সম্পর্কে তার লিখিত
কিতাবের নাম, ﺭﺩﻉ ﺍﻟﺮﺍﻏﺐ ﻋﻦ ﺍﻟﺠﻤﻊ ﻓﻲ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﺮﻏﺎﺋﺐ
[55] রাদ্দুল মুহ্তার, কিতাবুস সালাত, বিতর ও নফল
অধ্যায়, ২/২৬
[56] ইবনে মাজাহ, সনদ সহীহ, মৃত ব্যক্তির
পরিবারে সমবেত হওয়া এবং খাবারের আয়োজন
করা নিষেধ অনুচ্ছেদ, হাদীস
নং ১৬১২, ইবনে মাজাহ এর হাদীসটির শব্দ হলো:
ﻛﻨﺎ ﻧﺮﻯ ﺍﻻﺟﺘﻤﺎﻉ ﺇﻟﻰ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻤﻴﺖ ﻭﺻﻨﻌﺔ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﻴﺎﺣﺔ
মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং:৬৯০৫, মুসনাদে আহমদের
শব্দ:
ﻛُﻨَّﺎ ﻧَﻌُﺪُّ ﺍﻟِﺎﺟْﺘِﻤَﺎﻉَ ﺇِﻟَﻰ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﻤَﻴِّﺖِ ﻭَﺻَﻨِﻴﻌَﺔَ ﺍﻟﻄَّﻌَﺎﻡِ ﺑَﻌْﺪَ ﺩَﻓْﻨِﻪِ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨِّﻴَﺎﺣَﺔِ
[57] সম্ভবত আবুল ক্বাসিম আল-
কুশাইরী নাইসাবুরী রচিত ‘কিতাবুল মি
‘রাজ’ উদ্দেশ্য।
[58] রাদ্দুল মুহতার, সালাত অধ্যায়, সালাতুল-
জানাযা অনুচ্ছেদ, ২/২৪০।
[59] সিনানুদ্দীন ইউসুফ আল-আমাসী আল-হানাফী
, আল-মক্কী, মৃত্যু: ১০০০ হিজরীর পাশাপাশি।
[60] আল-ইমাম তাজুশ-শরীয়াহ, আহমদ ইবন
উবাইদুল্লাহ আল-মাহবুবী আল-হানাফী উমর ইবন
সাদরুশ-শরীয়াহ আল-আওয়াল, মৃত্যু:৬৭২ হিজরী।
তার লিখিত হেদায়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘নিহায়াতুল
কিফায়াহ ফি দিরায়াতিল হিদায়াহ। (কাশফুয-
যুনুন ২/২০২২)
[61] প্রখ্যাত হানাফী মুহাদ্দীস আবু মুহাম্মদ
আল্লামা বদরুদ্দীন আল-আইনি। ৭৬২৮৫৫ –
হিজরী১৩৬১ - -১৪৫১ ঈসায়ী। তার লিখিত
হেদায়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আল-বিনায়াহ’ ।
দেখুন, বর্ণিত কিতাবের কারাহিয়্যাহ
অধ্যায়, মাসাঈলু মুতাফার্রিক্বাহ, ১১/২৬৭।
[62] রাদ্দুল-মুহতার, কিতাবুল ইজারাহ, মাতলাবুন
ফিল-ইসতিজার আলাত্-ত্বা‘আত, : ৬/৫৬।
[63] ফিক্বহে হাম্বলীতে রচিত কিতাব, মূল
নাম ‘মুনতাহাল-ইরাদাত ফিল জাম্‘ঈ বাইনাল
মুক্বান্না‘ঈ ওয়াত্-তানক্বীহি ওয়ায্-
যিয়দাত’, লেখক, তাক্বীউদ্দীন মুহাম্মদ ইবন আহমদ
ইবন আব্দুল আযিয ইবনুন্-নাজ্জার আল-ফুতুহী আল-
মিসরী, মৃত্যু: ৯৭২ হিজরী।
[64] রাদ্দুল মুহতার, প্রাগুক্ত অধ্যায়:৬/৫৭।
[65] সহীহুল বুখারী, অধ্যায়: কুরআনের ফযিলত
সমূহ, অনুচ্ছে: যতক্ষন মন চায় ততক্ষন কুরআন
তেলাওয়াত করা। নং: ৪৭৭৩।
[66] ‘নাওহা’ বা ‘নিয়াহাহ’, অর্থাৎ বিলাপ করে মৃত
ব্যক্তির উপর ক্রন্দন করা। ইসলাম পূর্ব
জাহেলী যুগে কেউ মারা গেলে বিলাপ
করে ক্রন্দনের প্রচলন ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কর্মকে জাহেলী কর্ম
আখ্যা দেন এবং তা হারাম ঘোষণা করেন।
দেখুন, বুখারী, ‘মৃত ব্যক্তির উপর বিলাপ মাকরূহ
অধ্যায়’। সহীহ মুসলিম, নিয়াহার উপর
কঠোরতা অধ্যায়। বুখারীর একাধিক অধ্যায়ে এ
বিষয় সংক্রান্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
[67] লোকদেখানো আমলকে শরয়ী পরিভাষায় ‘
রিয়া’ বলা হয়। কুরআন হাদীস উভয়ের
মাধ্যমে ‘রিয়া’ হারাম প্রমাণিত। হাদীসে ‘রিয়া
’কে শিরকে আসগর বা ছোট শিরক গণ্য করা হয়েছে।
‘রিয়া’ হারাম বা কবীরা গোনাহের অন্যতম
এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে লেখক
এখানে হাদীসে রয়েছে বলে যে কথা উল্লেখ
করেছেন, অর্থাৎ ‘‘লোক দেখানো আমলকারীর
আমল এমন ধ্বংস হয় যেমন আগুন লাকড়ি খেয়ে ফেলে
’’ এই মর্মের কোনো হাদীস রয়েছে বলে অবগত
হতে পারিনি। (সংকলক)
[68] আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের আলেমগণ
ঈসালে ছওয়াবের বেলায় দুই ভাগে বিভক্ত। একদল
কুরআনের আয়াত,‘‘ ﻭَﺃَﻥْ ﻟَﻴْﺲَ ﻟِﻠْﺈِﻧْﺴَﺎﻥِ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﺎ ﺳَﻌَﻰ ’’ অর্থাৎ: আর
মানুষের জন্য তার চেষ্টা ব্যতীত কোনো কিছু নেই,
(সূরা নাজম:৩৯) এই মর্মের আয়াত এবং রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস,
"ﺇﺫﺍ ﻣﺎﺕ ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ ﺍﻧﻘﻄﻊ ﻋﻤﻠﻪ ﺇﻻ ﻣﻦ ﺛﻼﺙ ﺻﺪﻗﺔ ﺟﺎﺭﻳﺔ ﻭﻋﻠﻢ ﻳﻨﺘﻔﻊ ﺑﻪ ﻭﻭﻟﺪ ﺻﺎﻟﺢ ﻳﺪﻋﻮ
ﻟﻪ"
‘‘মানুষ যখন মারা যায় তখন তাঁর তিনটি আমল
ব্যতীত সব আমল বন্ধ হয়ে যায়।
সাদাকায়ে জারিয়াহ, যে ইলম দ্বারা মানুষ উপকৃত
হয় এবং নেক সন্তান যে তার জন্য দু‘আ
করে।’’ (তিরমিযী, হাদীস সহীহ, ওয়াক্বফ
অনুচ্ছেদ, নং:১৩৭৬) এই হাদীসের
আলোকে তারা বলেন: হাদীসে উল্লেখিত তিন
বস্তু ব্যতীত অন্য কিছুর ঈসাল হয় না। কেননা
; হাদীসে তিন বস্তু ছাড়া সব আ‘মাল বন্ধ
হয়ে যাওয়ার কথা এসেছে। আর এ তিনটি মূলত তার
নিজের চেষ্টার ফসল। সুতরাং এই হাদীস আর
আয়াতে কোনো বিরোধ নেই।
তবে সাদাকা যেহেতু শারীরিক ইবাদত
নয়, জীবিত ব্যক্তিকে তা দেওয়া যায়, তার পক্ষ
থেকে অন্যকে দেওয়া যায়, মৃত্যুর পরও তার পক্ষ
থেকে দেওয়া যাবে। কিন্তু শারীরিক ইবাদত
কাউকে দেওয়া যায় না তাই তার ঈসাল ও নেই।
তবে শারীরিক কিছু ইবাদত যার ঈসাল হাদীস
দ্বারা প্রমাণিত সেগুলো মানসুস হওয়ার
কারণে তা এই
কায়দা থেকে মুসতাসনা বা ব্যতিক্রম থাকবে। এই
দল আলেমদের মতে কুরআন তেলাওয়াত যেহেতু
একটি শারীরিক ইবাদত তাই তার ঈসালই হবে না
, কেননা এব্যাপারে কোনো নস নেই। আর
ইবাদতে বিষয় গাইরে মা‘কুল, তাই
আমরা তাকে অন্য ইবাদতের উপর ক্বিয়াস
করতে পারি না। আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাতের
অপরদল মনে করেন, যে কোনো ইবাদতের ঈসাল
হতে পারে। আমাদের লেখক এমতের
প্রবক্তা হিসেবে কুরআন তেলাওয়াতের ঈসালের
সঠিক পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন।
[69] সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৭-৮৮।
[70] তিরমিযী, সুনান, হাদীস সহীহ, রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু‘আ
অধ্যায়, ৮২ নং অনুচ্ছেদ, হাদীস নং: ৩৫০৫, আলবানী
, তিরমিযির সহীহ ও দয়ীফ, ৮/৫, মুসনাদে আহমদ, সা
‘দ ইবন আবী ওয়াক্বাসের হাদীস, নং:১৪৬২।
[71] নেয়ামুল কুরআন, মৌলবী শামছুল হুদা
, রহমানিয়া লাইব্রেরী, একাদশ সংস্করণ, পৃষ্ঠা:
১২০।
[72] আবু দাঊদ, সুনান, ইলম অধ্যায়, ইলম প্রচারের
মর্যাদা পরিচ্ছেদ, নং: ৩৬৬২, তিরমিযী
, সুনান, অধ্যায়: রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত
ইলম, পরিচ্ছেদ: শ্রবণকৃত প্রচারের
উৎসাহ, নং:৩৬৫৬, হাদীস সহীহ।
[73] বিশিষ্ট মুফাসসির তাবিয়ী মুজাহিদ ইবন
জাবর আবুল হাজ্জাজ মক্কী, ২১-১০৪ হিজরী।
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু
‘আনহুমা থেকে তাফসীর শিক্ষা লাভ করতেন ।
(আল-আ‘লাম: ৫/২৭৮)
[74] সহীহ মুসলিম, মুকাদ্দিমাহ, দুর্বলদের
থেকে বর্ণনা গ্রহণ করা নিষেধ অনুচ্ছেদ, ১/১০।
[75] সহীহ মুসলিম, প্রাগুক্ত।
[76] সহীহ মুসলিম, মুকাদ্দিমাহ, যা কিছু শুনবে তার
সব বর্ণনা থেকে নিষেধাজ্ঞা অনুচ্ছেদ, ১/৮।
[77] ইবনু হাজার, ফাতহুল বারী, ১০ নং অনুচ্ছেদ
জামে‘ এর হাদীসের সংখ্যা, ১/৪৬৫।
[78] বিস্তারিত দেখুন, শায়খ আব্দুল্লাহ
মুহসিন, আল ইমাম বুখারী ও কিতাবুহু আল-জামি‘উস
সহীহ।
[79] সূরা আয-যুমার:৩
[80] সূরা আ‘রাফ : ১৮৮।
[81] সূরা ইউনুস:১০৭।
[82] মুসনাদে আহমদ, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. এর
হাদীস, নং: ১৮৩৯।
[83] নাসাঈ, সুনান, হাদীস সহীহ, আল্লাহ এবং অমুক
চেয়েছেন বলা নিষেধ অনুচ্ছেদ, নং:১০৮২৪।
[84] সহীহুল বুখারী, তাফসীর অধ্যায়, অনুচ্ছেদ:
কিতাবে মারয়ামের কথা স্মরণ কর..., নং: ৩২৬১।
[85] সূরা আল-জাসিয়াহ: ২৩।
[86] সূরা তাওবা:৩১।
[87] তিরমিযী. সুনান, ইয়াসিনের
মর্যাদা অনুচ্ছেদ, নং:২৮৮৭।
[88] আলী হাশীশ, সিলসিলাতুল আহাদীসিল
ওয়াহিয়াহ, ১/৩৩৫, আলবানী, আস-সিলসিলাতুদ্-
দ‘য়ীফাহ, ১/৩১২।
[89] সহীহ মুসলিম, মৃত্যু উপস্থিত
ব্যক্তিকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর তালক্বীন
অনুচ্ছেদ, নং: ২১৬২। তালক্বীন অর্থাৎ মুমূর্ষ
ব্যক্তি মুখোমুখি এই কালেমা উচ্চরণ করা
, যাতে সে তা শিখে বা স্মরণ করে পড়তে পারে।
এতে তার জীবনের শেষ
বাক্য ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হবে।
[90] মুনতাদাল-কফীল ওয়েব। আল-মুনতাদার্-রাসমি
, শায়খ আব্দুর রেযা মা‘আশ।
[91] মোকছুদুল মো’মিনীন বা বেহেশ্তের পুঞ্জী
, আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মোহাম্মদ নাজমুল
হক, পঞ্চদশ খ-, ১৭৮ পৃষ্ঠা। সাদনান পাবলিকেশন।
[92] আবু দাঊদ, সুনান, চিকিৎসা অধ্যায়, ব্যক্তির
চিকিৎসা গ্রহণ অনুচ্ছেদ, নং: ৩৮৫৭, তিরমিযী
, সুনান, চিকিৎসা অধ্যায়, ঔষধ ও তার
প্রতি উৎসাহিত করা অনুচ্ছেদ, নং: ২০৩৮।
[93] সহীহ মুসলিম, প্রত্যেক রোগের ঔষধ
রয়েছে এবং চিকিৎসা করা মুস্তাহাব অনুচ্ছেদ, নং:
৫৮৭১।
[94] সহীহ মুসলিম, কিতাবুল বির
ওয়াসসিলাহ, মুমিনদের প্রতি দয়া
, মমতা সহযোগিতা পরিচ্ছেদ, নং: ৬৭৫১, সহীহুল
বুখারী, কিতাবুল আদব, পরিচ্ছেদ: মানুষ ও চতুষ্পদ
জন্তুর উপর দয়া করা, নং:৫৬৬৫।
[95] সহীহ মুসলিম, মুসলিমের উপর অপর মুসলিমের
হক্ব পরিচ্ছেদ, নং:৫৭৭৮।
[96] সহীহ মুসলিম, কিতাবুল বির
ওয়াসসিলাহ, রোগী দেখতে যাওয়ার
মর্যাদা পরিচ্ছেদ, নং: ৬৭১৭।
[97] সহীহুল বুখারী, ইসলামে নবুওয়াতের আলামত
পরিচ্ছেদ, নং: ৫৩৩৮।
[98] ইবনে মাজাহ, হাদীস সহীহ, ঈমান
অধ্যায়, ঈমানে একটি অনুচ্ছেদ, নং: ৬১।
[99] তিরমিযী, সুনান, হাদীস হাসান, রাসূল
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দো‘আ
অধ্যায়, মুসলিমের দো‘আ গৃহীত অনুচ্ছেদ, নং:
৩৩৮৩, সহীহ ইবনে হিব্বান, আযকার
অধ্যায়, নং:৮৪৬, সহীহু কুনুযিস্-সুন্নাতিন্-
নাবাবিয়্যাহ, আল্লাহর যিকর অনুচ্ছেদ, ১/৯।
[100] মোকছুদুল মো’মিনীন বা বেহেশ্তের পুঞ্জী
, আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মোহাম্মদ নাজমুল
হক, পঞ্চদশ খণ্ড, ১৭৮ পৃষ্ঠা। সাদনান পাবলিকেশন।
[101] সূরা আলাক্ব, আয়াত: ১।
[102] সহীহ মুসলিম, সালাম অধ্যায়, ব্যথায়
আক্রান্ত স্থানে দো‘আর সহিত হাত
রাখা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ, নং:৫৮৬৭।
[103] নেয়ামুল কুরআন, মৌলবী শামছুল হুদা
, রহমানিয়া লাইব্রেরী, একাদশ সংস্করণ, পৃষ্ঠা:
২০০।
[104] প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা:১৯৯।
[105] প্রাগুক্ত।
[106] সূরা ক্বাফ, আয়াত: ১৬।
এটি গ্রন্থকারের মত। আর এটা সত্য যে আল্লাহ
তা‘আলা স্বয়ং আরশের উপর থাকা সত্বেও
জ্ঞানের দিক থেকে আমাদের সাথেই রয়েছেন।
তবে বিশুদ্ধ তাফসীর মতে আলোচ্য
আয়াতে ‘আমরা’ বলে ফিরিশতাদের
বুঝানো হয়েছে। [সম্পাদক]
[107] আল্লামা আলাউদ্দীন আল-হাসকাফী
, আদ্দুররুল-মুখতার, অবৈধ বৈধ
অধ্যায়, বেচাকেনা অনুচ্ছেদ।
ড: আব্দুর রহমান আল-খুমাইছ, ই‘তিক্বাদুল
আয়িম্মাতিল আরবা‘আহ, আক্বীদাতুল ইমাম আবু
হানিফা। পৃষ্ঠা:৩। শামসুদ্দীন
আফগানী (১৩৭২-১৪২০ হি.), জুহুদুল উলামায়িল
হানাফিয়্যাহ ফি ইব্তালি আক্বায়িদিল
ক্বুবুরিয়্যাহ (কবরপূজারীদের আক্বায়িদ বাতিল
করতে হানাফী আলেমদের প্রচেষ্টা), ১/৩১, ২/১১২৪।
[108] উল্লেখ্য যে, আমাদের পূর্বসূরীগণ ‘মাকরূহ’ শব্দ
বলে হারাম বোঝাতেন। [সম্পাদক]
[109] আদ্দুররুল মুখতার, প্রাগুক্ত, জুহুদুল উলামায়িল
হানাফিয়্যাহ ফি ইব্তালি আক্বায়িদিল
ক্বুবুরিয়্যাহ, ১/৭, ২/১১২৬।
[110] হানাফী বিশিষ্ট ফক্বীহ আবু জা‘ফর আহমদ
ইবন মুহাম্মদ সালামাহ আত্ত্বাহাবী।
বলা হয়, মিশরে ফিক্বহে হানাফীর নেতৃত্ব তাঁর
কাছে এসে শেষ হয়েছে।
তিনি প্রথমে ফিক্বহে শাফি অর্জন করেন।
পরবর্তীতে ফিক্বহি হানাফী গ্রহণ
এবং এতে নেতৃত্বের স্থান অধিকার করেন। জন্ম:
২৩৯, ওফাত: ৩২১ হিজরী, ৮৫৩-৯৩৩ ঈসায়ী। (আল-
আ‘লাম ১/২০৬) তার রচিত বিভিন্ন গ্রন্থ
যা ‘আরব ‘আজম সবখানে প্রসিদ্ধ। তাঁর লিখিত
আক্বীদার কিতাব ‘আল-
আক্বীদাতুত্ত্বাহাবীয়াহ’ আরব ‘আজম
সবখানে প্রসিদ্ধ ও পাঠ্য সিলেবাসভুক্ত। অনেকেই
তর এ কিতাবের শরাহ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন।
তিনি তার এ কিতাব ইমাম আবু হানিফা (রাহ.) ও
সাহেবাইন অর্থাৎ ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ
(রাহ.) এর আক্বীদা বর্ণনা করতে লিখেছেন
বলে কিতাবের শুরুতেই নিজে উল্লেখ করেছেন।
তার বক্তব্যটি এরূপ:
" ﻫﺬﺍ ﺫﻛﺮ ﺑﻴﺎﻥ ﻋﻘﻴﺪﺓ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻭﺍﻟﺠﻤﺎﻋﺔ ﻋﻠﻰ ﻣﺬﻫﺐ ﻓﻘﻬﺎﺀ ﺍﻟﻤﻠﺔ : ﺃﺑﻲ ﺣﻨﻴﻔﺔ
ﺍﻟﻨﻌﻤﺎﻥ ﺑﻦ ﺛﺎﺑﺖ ﺍﻟﻜﻮﻓﻲ ﻭﺃﺑﻲ ﻳﻮﺳﻒ ﻳﻌﻘﻮﺏ ﺑﻦ ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﺍﻷﻧﺼﺎﺭﻱ ﻭﺃﺑﻲ ﻋﺒﺪﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪ
ﺑﻦ ﺍﻟﺤﺴﻦ ﺍﻟﺸﻴﺒﺎﻧﻲ ﺭﺿﻮﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﺃﺟﻤﻌﻴﻦ ﻭﻣﺎ ﻳﻌﺘﻘﺪﻭﻥ ﻣﻦ ﺃﺻﻮﻝ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﻭﻳﺪﻳﻨﻮﻥ ﺑﻪ
ﺭﺏ ﺍﻟﻌﺎﻟﻤﻴﻦ ." ( ﺍﻟﻌﻘﻴﺪﺓ ﺍﻟﻄﺤﺎﻭﻳﺔ، ﻣﻘﺪﻣﺔ، 1-1 )
[111] আলী ইবন আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন আবীল-‘ইয।
ইবনু আবীল ‘ইয নামে প্রসিদ্ধ। দামেশে্কের
বিশিষ্ট হানাফী ফক্বীহ। জন্ম: ৭৩১, ওফাত:
৭৯২হিজরী, ১৩৩১-১৩৯০ ঈসায়ী। (আল-আ‘লাম
৪/৩১৩)
[112] মাশ‘আরে হারাম অর্থ সম্মানী প্রতীক।
বর্ণনার আলোকে কুরআনের মাশ‘আরে হারাম
বলতে মুযদালিফার মাঠ উদ্দেশ্য নিয়েছেন
উলামায়ে কেরাম। কেউ কেউ শুধুমাত্র
মুযদালিফার শেষ প্রান্তে অবস্থিত ছোট
পাহাড়টি উদ্দেশ্য নিয়ে থাকেন। দেখুন: সহীহুল
বুখারী, হজ্জ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: যারা পরিবারের
দুর্বল লোকদের রাতে পাঠিয়ে দেয়
(মুযদালিফা থেকে মিনায়) অতঃপর
তারা রাতে মুযদালিফায় অবস্থান করে এবং দো
‘আ করে..., নং: ১৫৯২, সহীহ মুসলিম, হজ্জ
অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: পরিবারের দুর্বল লোক মহিলা ও
অন্যদেরকে মানুষের ভিড়ের পূর্বে রাতের
শেষভাগের দিকে মুযদালিফা থেকে মিনায়
পাঠিয়ে দেওয়া এবং অন্যরা ফজরের সালাত আদায়
পর্যন্ত মুযদালিফায় অবস্থান করে যিকরে লিপ্ত
থাকা মুস্তাহাব, নং: ৩১৯০, আল্লামা আলুসী, রুহুল
মা‘আনী, সূরা বাক্বারা, আয়াত:১৯৮, তাফসীর
ইবনে কাসীর, সূরা বাক্বারা, আয়াত:১৯৮।
[113] ইবনু আবীল ইয, শরহুল
আক্বীদাতুত্তাহাবীয়্যাহ, শাফা‘আত
প্রসঙ্গ, ১/১৫৪।
[114] শরহুল
আক্বীদাতুত্তাহাবীয়্যাহ, প্রাগুক্ত, জুহুদুল
উলামায়িল হানাফিয়্যাহ
ফি ইব্তালি আক্বায়িদিল ক্বুবুরিয়্যাহ, ৩/১৫১২।
[115] মুফতি ফয়জুল্লাহ, পান্দে নামাহ খাকী, দো
‘আয়ে খাজেগাঁ অপ্রমাণিত, পৃষ্ঠা: ৩৪।
[116] নেয়ামুল কুরআন, ১৯৮।
[117] তিরমিযী, সুনান, উম্মতের
দলাদলি অনুচ্ছেদ, নং: ২৬৪১, হাকীম, আল-
মুসতাদরাদক ‘আলাস-সহীহাইন, ফিতনা ও পরস্পর
লড়াই অধ্যায়, নং:৮৪৪৮, ৪/৫১৬।
[118] নেয়ামুল কুরআন, পৃষ্ঠা:৪৩-৪৪।
[119] প্রাগুক্ত।
[120] সহীহুল বুখারী, তাফসীর অধ্যায়, “ ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ
ﺃﺣﺪ ” এর ফযিলত পরিচ্ছেদ, নং: ৪৭২৬। উল্লেখ্য
বুখারীর আরো একাধিক জায়গায়
হাদীসটি রয়েছে।
[121] সহীহ মুসলিম, কুরআন ফযিলত সমূহ অধ্যায়, “ ﻗﻞ ﻫﻮ
ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ ” পড়ার ফযিলত পরিচ্ছেদ, নং: ১৯২২,
সহীহুল বুখারী, তাফসীর অধ্যায়, “ ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ ” এর
ফযিলত পরিচ্ছেদ, নং: ৪৭২৭। উল্লেখ্য বুখারীর
বর্ণনাটি সামান্য ভিন্ন। বর্ণনাটি এইরূপ,
" ﺃﻳﻌﺠﺰ ﺃﺣﺪﻛﻢ ﺃﻥ ﻳﻘﺮﺃ ﺛﻠﺚ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻓﻲ ﻟﻴﻠﺔ ﻓﺸﻖ ﺫﻟﻚ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﻭﻗﺎﻟﻮﺍ ﺃﻳﻨﺎ ﻳﻄﻴﻖ ﺫﻟﻚ ﻳﺎ
ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ؟ ﻓﻘﺎﻝ: ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﻮﺍﺣﺪ ﺍﻟﺼﻤﺪ ﺛﻠﺚ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ."
[122] ইবনু হাজার, ফাতহুল বারী, প্রাগুক্ত
অধ্যায়, ৯/৫৯।
[123] ইমাম নাওয়াওয়ী, মুসলিমের
ব্যাখ্যাগ্রন্থ, প্রাগুক্ত অধ্যায়।
[124] সহীহ মুসলিম, প্রাগুক্ত, নং: ১৯২৩।
[125] একথার মর্ম হল: যে কোনো নেক আমলের
একটি মূল নেকী রয়েছে, তবে আল্লাহ তা‘আলা তার
দয়ায় এই নেকী কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেন বলে কুরআন ও
হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি। এই
হিসেবে পূর্ণ কুরআন একবার তেলাওয়াত করলে তার
মূল এক ছওয়াব রয়েছে। তেলাওয়াতের
মাঝে ইখলাস, গভীরতা ইত্যাদি অনুযায়ী ব্যক্তি
বিশেষে আল্লাহ তা অনেকগুণ
বাড়িয়ে দিতে পারেন। একবার সূরা ইখলাস
পড়লে এক তৃতীয়াংশের মূল ছওয়াব পাওয়া যাবে।
অতিরিক্তটুকু নয়।
[126] ফাতহুল বারী, প্রাগুক্ত অধ্যায়, ৯/৬০।
[127] আল্লামা জালাল উদ্দীন সুয়ূতী, (৮৪৯-৯১১
হিজরী, ১৪৪৫-১৫০৫ ঈসায়ী) জাম‘উল জাওয়ামি
‘‘য়, মিম হরফের হাদীস, নং ৬২০১, আলাউদ্দীন
আলী ইবন হুসামুদ্দীন আল-মুত্তাক্বী, (৮৮৮-৯৭৫
হিজরী, ১৪৮৩-১৫৬৭ ঈসায়ী) কানযুল উম্মাল,১/৫৯৮।
[128] নুরুদ্দীন আলী ইবনু আবু বাকর আল-হাইসামী
, মাজমা‘উয্যাওয়ায়িদ, সূরা “ ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ
ﺃﺣﺪ ” এবং এবিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে
, নং:১১৫৪০, আলবানী, সিলসিলাতুল আহাদীসিদ্দা
‘য়ীফাহ, ১০/১৩৬, নং: ৪৬৩৪।
[129] সুয়ূতী, তাদরীবুর-রাবী, জালিয়াতের
প্রকার, ১/২৮৭।
[130] শায়খুল ইসলাম আহমদ ইবন আব্দুল হালীম
তাক্বীউদ্দীন ইবনু তাইমিয়া। জন্ম: ৬৬১
হিজরী মোতাবেক ১২৬৩ ঈসায়ী, ওফাত:৭২৮
হিজরী, মোতাবেক ১৩২৮। তিনি মূলত
হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী। বহু গ্রন্থ প্রণেতা।
তাফসীর ও উসুলে তাকে ‘আয়াত’ নিদর্শন বলা হত।
(আল-আ‘লাম:/১৪৪) সমস্ত বিশ্বের আলেমদের
কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা, সহীহ আকীদার
দওয়াত, প্রচার, প্রসারের ক্ষেত্রে তার
তুলনা অত্যন্ত দুর্লভ।
[131] ইব্নু তাইমিয়া, আল-মানহাজুল ক্বাওয়ীম
ফি ইখতিছারি ‘ইক্বতিদ্বায়ুসসিরাতিল
মুস্তাক্বীম’, কিছু বস্তুর প্রতিক্রিয়ার
আলোচনা যা অনেক সময় কম জ্ঞানী ও দুর্বল
ধার্মিক ব্যক্তির জন্য ফিতনা হয়, এমনকি তার
জ্ঞান ছিনিয়ে নিয়ে যায়, ১/৯৬।
[132] প্রাগুক্ত, ১/৯৭।
[133] দেখুন: সূরা আনকাবুত, আয়াত:
৬৫, লুক্বমান, আয়াত: ৩২।
[134] প্রখ্যাত হাদীস গবেষক ড. খোন্দকার
আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গির, হাদীসের
নামে জালিয়াতী, পৃষ্ঠা: ৬২০।
প্রচলিত বিভিন্ন খতম: তাৎপর্য ও পর্যালোচনা ৩য় পর্ব
Price : *Happy Shopping

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url