ওয়াহীর জ্ঞান ১৪ পর্ব | শরিফ গাজী অফিসিয়াল

ওয়াহীর জ্ঞান ১৪ পর্ব





পঞ্চদশ অধ্যায়ঃ
=========
•বিসমিল্লাহ কুরআনের কয় জায়গায় আছে?।
•কুরআন সম্পর্কে কুরআন কী বলে?।
•কুরআনকে আল্লাহ সহজভাবে বর্ণনা করেছেন।
•কুরআনকে আল্লাহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।
•কুরআনকে আল্লাহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যেন আমরা তা বুঝতে
পারি।
•কুরআনের মধ্যে আল্লাহ সকল বিষয়ে বর্ণনা করেছেন।
•কুরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা করতে হবে।
•কুরআন আল্লাহর উপদেশ।
•কুরআন দ্বারা মানুষকে উপদেশ দিতে হবে।
•কুরআনের একটি প্রশ্ন ও তার উত্তর।
•কুরআন হেদায়াত ও সুসংবাদ।
•কুরআন মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত।
•কুরআন মুমিনদের জন্য হেদায়াত ও রহমত।
•কুরআন পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়নকারী

*************-

(বিসমিল্লাহ) কুরআনের কয় জায়গায় আছে?
(বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহি---ম) কুরআনের
দুই জায়গা আছে। সূরা আল-ফাতিহার প্রথম আয়াতে এবং সুলাইমান সময়।
রানী বিলকিসের চিঠিতে লিখেছিলেন। (আন্-নাল, ২৭/৩০)
বিসমিল্লাহ কুরআনের তিন জায়গায় আছে
সূরা আল-ফাতিহার প্রথম আয়াতে
بسم الله الرحمن الرحيمه
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)। (আল-ফাতিহা,
১১)
সুলাইমান জেল রানী বিলকিসের চিঠিতে লিখেছিলেন
انه ين ل وا بسم الله الرحمن الرحيم
“নিশ্চয় এটা সুলাইমানের পক্ষ থেকে। আর নিশ্চয় এটা পরম করুণাময়
পরম দয়ালু আল্লাহর নামে’ । (আন্-নাল, ২৭/৩০)।
নূহ জল নৌকায় উঠার সময় দু‘আ করেছিলেন
بسم الله مجرها وهرسها اني غفور رحيم
আলাহর নামে এর চলা ও থামা, নিশ্চয় আমার রব অতি ক্ষমাশীল, পরম ।
দয়ালু। (হুদ, ১১/৪১)।
(রাহমানির রাহিম) কুরআনের চার জায়গায় আছে।

সূরা আল-ফাতিহার প্রথম আয়াত
بشير الله الرحمن الرحيم
"পরমম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)। (আল-ফাতিহা, ১/১)
الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু। (আল-ফাতিহা, ১/৩)।
সুলাইমান সেময় রানী বিলকিসের চিঠিতে লিখেছিলেন
إنه من سلين وإنه بسم الله الرحمن الرحيم
“নিশ্চয় এটা সুলাইমানের পক্ষ থেকে। আর নিশ্চয় এটা পরম করুণাময়।
পরম দয়ালু আল্লাহর নামে’ । (আন্-নাল, ২৭/৩০)।
تنزيل من الرحمن الرحيم
(এ গ্রন্থ) পরম করুণাময় অসীম দয়ালুর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত। (ফুসসিলাত,
৪১/২)
কুরআন সম্পর্কে কুরআন কী বলে?
=== বিষয়ঃ কুরআন সম্পর্কে কুরআন  কী বলে? ===
মহান আল্লাহ মানব জীবনের সকল সমস্যার সমাধানের জন্য শেষ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যে গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন তাহলো আল-কুরআন। এটা মানুষের জন্য পথ নির্দেশ। আল্লাহ বলেন-
إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ 
নিশ্চয়ই এই কুরআন সেই দিকে পথ দেখায় যা সবচেয়ে সরল। আল-ইস্‌রা, ১৭/৯

>>> কুরআন সত্যসহকারে অবতীর্ণ হয়েছে <<<
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ 
রমযান মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে যা মানুষের জন্য সঠিক পথ নির্দেশনা ও সঠিক পথের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী। আল-বাকারাহ, ২/১৮৫

نَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَأَنْزَلَ التَّوْرَاةَ وَالإنْجِيلَ 
তিনি তোমার উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন সত্যসহকারে, যা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং এর পূর্বে তিনি তাওরাত ও ইন্‌জীল অবতীর্ণ করেছিলেন। আলে‘ইমরান, ৩/৩

وَبِالْحَقِّ أَنْزَلْنَاهُ وَبِالْحَقِّ نَزَلَ وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلا مُبَشِّرًا وَنَذِيرًا 
এই কুরআনকে আমি সত্যসহকারে অবতীর্ণ করেছি আর সত্যসহকারে তা অবতীর্ণ হয়েছে; আর কেবলমাত্র সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে আমি তোমাকে প্রেরণ করেছি। আল-ইস্‌রা, ১৭/১০৫

وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ مِنَ الْكِتَابِ هُوَ الْحَقُّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ إِنَّ اللَّهَ بِعِبَادِهِ لَخَبِيرٌ بَصِيرٌ 
আর (হে নবী) যে কিতাবটি আমি তোমার কাছে ওয়াহী করেছি তা সত্য, এটা তার পূর্ববর্তী কিতাব সমূহের সত্যায়নকারী, নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ব্যাপারে সম্যক অবহিত, সর্বদ্রষ্টা। ফাত্বির, ৩৫/৩১

وَيَرَى الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ الَّذِي أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ هُوَ الْحَقَّ وَيَهْدِي إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ 
আর যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে তারা জানে যে, তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা সত্য এবং তা মহা পরাক্রমশালী ও প্রশংসিত আল্লাহর পথের দিকে পরিচালিত করে। সাবা, ৩৪/৬

إِنَّا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ لِلنَّاسِ بِالْحَقِّ فَمَنِ اهْتَدَى فَلِنَفْسِهِ وَمَنْ ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا وَمَا أَنْتَ عَلَيْهِمْ بِوَكِيلٍ 
নিশ্চয় আমি তোমার প্রতি সত্যসহকারে এই কিতাব অবতীর্ণ করেছি মানুষের জন্য; তাই যে সৎপথ অবলম্বন করে, সে তার নিজের কল্যাণের জন্যই সৎপথ অবলম্বন করে এবং যে পথভ্রষ্ট হয় আসলে সে নিজের ক্ষতির জন্যই পথভ্রষ্ট হয় আর তুমি তাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক নও। আয-যুমার, ৩৯/৪১

>>> কুরআন রসূলের নিজের কোন কথা নয়, কুরআন আল্লাহর ওয়াহী <<<
وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلا وَحْيٌ يُوحَى 
আর সে (রাসূল) মনগড়া কথা বলে না। এটা তো (কুরআন) কেবল ওয়াহী, যা প্রত্যাদেশ করা হয়। আন্-নাজ্‌ম, ৫৩/৩-৪

إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ ذِي قُوَّةٍ عِنْدَ ذِي الْعَرْشِ مَكِينٍ
নিশ্চয়ই এটি (কুরআন) সম্মানিত রাসূলের আনীত বাণী। যিনি শক্তিশালী, আরশের মালিকের নিকট মর্যাদাসম্পন্ন। আত-তাকভীর, ৮১/১৯-২০

إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَاعِرٍ قَلِيلا مَا تُؤْمِنُونَ وَلا بِقَوْلِ كَاهِنٍ قَلِيلا مَا تَذَكَّرُونَ
নিশ্চয়ই এই (কুরআন) এক সম্মানিত রাসূলের বাণী। আর এটি কোন কবির কথা নয়; তোমরা অল্পই বিশ্বাস কর। আর কোন গণকের কথাও নয়; তোমরা অল্পই অনুধাবন কর। আল-হাক্কাহ, ৬৯/৪০-৪২

تَنْزِيلٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ الأقَاوِيلِ لأخَذْنَا مِنْهُ بِالْيَمِينِ ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوَتِينَ فَمَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ عَنْهُ حَاجِزِينَ
এ (কুরআন) জগতসমূহের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। আর যদি সে (রাসূল) আমার নামে কোন কিছু রচনা করত। আমি অবশ্যই তার ডান হাত ধরে ফেলতাম। তারপর অবশ্যই আমি তার হৃদপিন্ডের শিরা কেটে ফেলতাম। অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউই তা হতে রক্ষা করার থাকত না। আল-হাক্কাহ, ৬৯/৪৩-৪৭

وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الأمِينُ عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ وَإِنَّهُ لَفِي زُبُرِ الأوَّلِينَ 
আর নিশ্চয় এই কুরআন বিশ্বজগতের রবের পক্ষ হতে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত ফেরেশতা একে নিয়ে অবতরণ করেছে তোমার হৃদয়ে যাতে তুমি সতর্ককারীদের অর্ন্তভুক্ত হও। সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়। এবং অবশ্যই তা উল্লেখ রয়েছে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে। আশ্-শু‘আরা, ২৬/১৯২-১৯৬

وَإِنَّكَ لَتُلَقَّى الْقُرْآنَ مِنْ لَدُنْ حَكِيمٍ عَلِيمٍ 
আর (হে নবী) নিশ্চয়ই তুমি প্রজ্ঞাময় মহাজ্ঞানীর পক্ষ থেকে আল-কুরআন প্রাপ্ত। আন্-নাম্‌ল, ২৭/৬

تَنْزِيلَ الْعَزِيزِ الرَّحِيمِ 
(এ কুরআন) মহা পরাক্রমশালী, পরম দয়াময় (আল্লাহ) কর্তৃক নাযিলকৃত। ইয়া-সীন, ৩৬/৫

حم تَنْزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ 
হা-মীম, এ কিতাব অবতীর্ণ করা হয়েছে মহাপরাক্রমশালী সর্বজ্ঞানী আল্লাহর পক্ষ থেকে। আল-মুমিন, ৪০/১-২

وَمَا تَنَزَّلَتْ بِهِ الشَّيَاطِينُ 
আর তা (কুরআন) নিয়ে শয়তানরা অবতরণ করেনি। আশ্-শু‘আরা, ২৬/২১০

>>> কুরআন সুরক্ষিত আছে <<<
بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَجِيدٌ فِي لَوْحٍ مَحْفُوظٍ
বরং এটা সম্মানিত কুরআন। লওহে মাহফুযে লিপিবদ্ধ। আল-বুরূজ, ৮৫/২১-২২

إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ فِي كِتَابٍ مَكْنُونٍ لا يَمَسُّهُ إِلا الْمُطَهَّرُونَ تَنْزِيلٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ أَفَبِهَذَا الْحَدِيثِ أَنْتُمْ مُدْهِنُونَ
নিশ্চয় এটি মহাসম্মানিত কুরআন, যা (লিখিত) আছে সুরক্ষিত কিতাবে, পূত-পবিত্রগণ (ফেরেশতা) ছাড়া (শয়তানেরা) তা স্পর্শ করতে পারে না। জগৎসমূহের রবের পক্ষ হতে অবতীর্ণ। তবুও কি তোমরা এ বাণীকে তুচ্ছ গণ্য করবে? আল-ওয়াকিয়া, ৫৬/৭৭-৮১

إِنَّا جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ وَإِنَّهُ فِي أُمِّ الْكِتَابِ لَدَيْنَا لَعَلِيٌّ حَكِيمٌ أَفَنَضْرِبُ عَنْكُمُ الذِّكْرَ صَفْحًا أَنْ كُنْتُمْ قَوْمًا مُسْرِفِينَ 
নিশ্চয় আমি এ কুরআনকে আরবী ভাষায় বানিয়েছি যাতে তোমরা বুঝতে পার। আর নিশ্চয় তা (কুরআন) আমার কাছে উম্মুল কিতাবে রয়েছে লওহে মাহফুযে। তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী লোক, এ কারণে কি আমি তোমাদের কাছ থেকে এ উপদেশবাণী সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করে নেব? আয্-যুখরুফ, ৪৩/৩-৫

إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ 
নিশ্চয়ই এর (কুরআন) সংরক্ষণ ও পাঠ আমার দায়িত্ব। আল-ক্বিয়া-মাহ, ৭৫/১৭

إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ 
নিশ্চয় আমি উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি, আর অবশ্যই আমিই তার হিফাযতকারী। আল-হিজ্‌র, ১৫/৯

>>> কুরআন অনুসরণ করা ফরয কারণ কুরআন আল্লাহর ওয়াহী <<<
وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ 
আর নিশ্চয়ই এটি (কুরআন) আমার সহজ-সরল পথ সুতরাং তোমরা তার অনুসরণ কর আর এ পথ ছাড়া অন্য কোন পথের (শয়তানের) অনুসরণ কর না, তাহলে তাঁর পথ থেকে তোমাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে; এটা তোমাদের জন্য তাঁর (আল্লাহর) নির্দেশ যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পার। আল-আন‘আম, ৬/১৫৩

اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ وَلا تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ قَلِيلا مَا تَذَكَّرُونَ 
তোমরা অনুসরণ কর, তোমাদের নিকট তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে, আর তাঁকে ছাড়া অন্যদেরকে অভিভাবকরূপে অনুসরণ কর না; তোমরা সামান্যই উপদেশ গ্রহণ কর। আল-আ‘রাফ, ৭/৩

>>> কুরআন হল সরল-সঠিক পথ <<<
وَمَنْ يَعْتَصِمْ بِاللَّهِ فَقَدْ هُدِيَ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ 
আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে (কুরআনকে) সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করবে অবশ্যই সে সরল-সঠিক পথে পরিচালিত হবে। আলে‘ইমরান, ৩/১০১

وَكَذَلِكَ أَنْزَلْنَاهُ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ وَأَنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يُرِيدُ 
আর এভাবেই আমি সুস্পষ্ট আয়াতরূপে তা (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সৎ পথ প্রদর্শন করেন। আল-হাজ্জ, ২২/১৬

الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ فَلا تَكُنْ مِنَ الْمُمْتَرِينَ 
সত্য তোমার রবের পক্ষ থেকে সুতরাং সন্দেহ পোষনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। আলে‘ইমরান, ৩/৬০

ذَلِكَ الْكِتَابُ لا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ 
এটি সেই কিতাব যাতে সন্দেহ নেই, (মুত্তাকী) আল্লাহভীরুদের জন্য পথ নির্দেশ। আল-বাক্বারা, ২/২

إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا كَبِيرًا 
নিশ্চয়ই এ কুরআন সেই দিকে পথ দেখায় যা সর্বাধিক সরল এবং সৎ কর্মপরায়ণ বিশ্বাসীদেরকে সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। আল-ইস্‌রা, ১৭/৯

>>> কুরআন অনুসরণকারীগণই সফলকাম <<<
وَالَّذِينَ يُمَسِّكُونَ بِالْكِتَابِ وَأَقَامُوا الصَّلاةَ إِنَّا لا نُضِيعُ أَجْرَ الْمُصْلِحِينَ 
আর যারা আল্লাহর কিতাবকে (কুরআনকে) দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে এবং সালাত কায়েম করে, নিশ্চয় আমি সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করি না। আল-আ‘রাফ, ৭/১৭০

إِنَّ الَّذِينَ يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ وَأَقَامُوا الصَّلاةَ وَأَنْفَقُوا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرًّا وَعَلانِيَةً يَرْجُونَ تِجَارَةً لَنْ تَبُورَ 
নিশ্চয় যারা আল্লাহর কিতাব (কুরআন) অধ্যয়ন করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিয্ক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন ব্যবসার আশা করতে পারে যাতে কখনো লোকসান হবে না। ফাত্বির, ৩৫/২৯

وَأَنْ أَتْلُوَ الْقُرْآنَ فَمَنِ اهْتَدَى فَإِنَّمَا يَهْتَدِي لِنَفْسِهِ وَمَنْ ضَلَّ فَقُلْ إِنَّمَا أَنَا مِنَ الْمُنْذِرِينَ 
আর আমি যেন আল-কুরআন অধ্যয়ন করি, অতঃপর যে সৎ পথ অবলম্বন করল সে নিজের জন্য সৎ পথ অবলম্বন করল আর যে ভ্রান্ত পথ অবলম্বন করল; তুমি বলে দাও, ‘আমি কেবলমাত্র সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত।’ আন্-নাম্‌ল, ২৭/৯২

وَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ جَعَلْنَا بَيْنَكَ وَبَيْنَ الَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ بِالآخِرَةِ حِجَابًا مَسْتُورًا 
আর যখন তুমি কুরআন পড় তখন তোমার মাঝে ও যারা পরলোকে বিশ্বাস করে না তাদের মাঝে এক প্রচ্ছন্ন পর্দা দিয়ে দেই। আল-ইস্‌রা, ১৭/৪৫

>>> সম্পূর্ণ কুরআন বিশ্বাস করা ও অনুসরণ করা ফরয <<<
أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنْكُمْ إِلا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَى أَشَدِّ الْعَذَابِ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ أُولَئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الْحَيَاةَ الدُّنْيَا بِالآخِرَةِ فَلا يُخَفَّفُ عَنْهُمُ الْعَذَابُ وَلا هُمْ يُنْصَرُونَ 
তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশকে বিশ্বাস কর আর কিছু অংশকে অবিশ্বাস করবে? তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে তাদের দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ছাড়া তবে কী প্রতিদান হতে পারে? এবং কিয়ামতের দিনে তাদেরকে কঠিন শাস্তির মধ্যে নিক্ষেপ করা হবে আর তোমরা যা করছ সে সম্পর্কে আল্লাহ গাফেল নন। এরাই আখিরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবনকে ক্রয় করেছে, অতএব তাদের থেকে আযাব হালকা করা হবে না আর তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না। আল-বাকারাহ, ২/৮৫-৮৬

>>> কুরআনের নামে মিথ্যা তাফসির, অপব্যাখ্যা কিংবা মিথ্যা বলা যাবে না <<
فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ لِيَشْتَرُوا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلا فَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا يَكْسِبُونَ 
সুতরাং ধ্বংস তাদের জন্য যারা তাদের নিজ হাতে কিতাব লিখে, এরপর তারা বলে, এটা আল্লাহর নিকট থেকে; যেন তার সাহায্যে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করতে পারে সুতরাং তাদের জন্য শাস্তি অবধারিত তাদের হাত যা লিখেছে তার কারণে এবং তাদের জন্য শাস্তি অবধারিত তারা যা উপার্জন করেছে তার কারণে। আল-বাক্বারাহ, ২/৭৯

>>> একদল কুরআনের প্রতি মিথ্যারোপ করে, অপব্যাখ্যা করে <<<
وَإِنَّ مِنْهُمْ لَفَرِيقًا يَلْوُونَ أَلْسِنَتَهُمْ بِالْكِتَابِ لِتَحْسَبُوهُ مِنَ الْكِتَابِ وَمَا هُوَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَقُولُونَ هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَمَا هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَيَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَهُمْ يَعْلَمُونَ
আর তাদের মধ্যে নিশ্চয়ই এরূপ একদল আছে, যারা তাদের জিহবা দ্বারা বিকৃত করে কিতাব পাঠ করে, যাতে তোমরা তাকে কিতাবের অংশ মনে কর, অথচ তা কিতাবের অংশ নয়; তারা বলে, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে’, অথচ তা আল্লাহর পক্ষ থেকে নয় আর তারা জেনে শুনে আল্লাহর উপর মিথ্যা বলে। আলে‘ইমরান, ৩/৭৮

>>> তারা প্রকৃত সত্য হতে বহুদূরে আছে <<<
ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ نَزَّلَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُوا فِي الْكِتَابِ لَفِي شِقَاقٍ بَعِيدٍ 
আর এটা এজন্যে যে, আল্লাহ সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন আর নিশ্চয় যারা কিতাবের (কুরআনের) মাঝে মতবিরোধ করছে, তারা অবশ্যই বিরুদ্ধতায় প্রকৃত সত্য হতে বহুদূরে সরে গিয়েছে। আল-বাকারাহ, ২/১৭৬

>>> যারা কুরআনের নামে মিথ্যা বলে, মিথ্যা তাফসির করে কিংবা অপব্যাখ্যা করে তাদের সাথে বসা যাবে না  <<<
وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ آيَاتِ اللهِ يُكْفَرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلاَ تَقْعُدُوْا مَعَهُمْ حَتَّى يَخُوْضُوْا فِيْ حَدِيْثٍ غَيْرِهِ إِنَّكُمْ إِذًا مِثْلُهُمْ إِنَّ اللهَ جَامِعُ الْمُنَافِقِيْنَ وَالْكَافِرِيْنَ فِيْ جَهَنَّمَ جَمِيْعًا 
আর অবশ্যই তোমাদের প্রতি কিতাবের (কুরআনের) মাধ্যমে এই বিধান অবতীর্ণ করেছেন যে, যখন আল্লাহর আয়াতসমূহের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন ও বিদ্রূপ করতে শুনবে, তখন তোমরা তাদের সাথে বসবে না, যতক্ষণ না তারা অন্য কথার আলোচনা করে, অন্যথায় তোমরাও তাদেরই মত হয়ে যাবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুনাফেকদেরকে ও কাফিরদেরকে জাহান্নামের মধ্যে একই জায়গায় সমবেত করবেন। আন-নিসা, ৪/১৪০

وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ وَإِمَّا يُنْسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَى مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
আর যখন তুমি তাদেরকে দেখ, যারা আমার আয়াতসমূহের ব্যাপারে উপহাসমূলক সমালোচনায় করছে, তুমি তাদের থেকে সরে থাক যতক্ষণ না তারা অন্য কথাবার্তায় লিপ্ত হয়, আর যদি শয়তান তোমাকে ভুলিয়ে দেয়, তবে স্মরণ হওয়া পর যালিম লোকদের সাথে বসবে না। আন‘আম, ৬/৬৮

>>> কুরআনের কোন কিছু গোপন করা যাবে না <<<
إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ الْكِتَابِ وَيَشْتَرُونَ بِهِ ثَمَنًا قَلِيلا أُولَئِكَ مَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ إِلا النَّارَ وَلا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ 
নিশ্চয় কিতাবের (কুরআনের) মধ্যে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন যারা তা গোপন করে এবং এর বিনিময়ে নগণ্য মূল্য গ্রহণ করে, তারা তাদের পেটের মধ্যে আগুন ছাড়া অন্য কিছুই ভক্ষণ করে না এবং কিয়ামতের দিবসে তাদের সাথে আল্লাহ কথা বলবেন না ও তাদেরকে পবিত্রও করবেন না, আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব। আল-বাকারাহ, ২/১৭৪

إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى مِنْ بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولَئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللاعِنُونَ
নিশ্চয়ই আমি যা অবতীর্ণ করেছি, দলিল-প্রমাণাদি এবং হিদায়াত, মানুষের জন্য কিতাবের মধ্যে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার পরেও যারা তা গোপন করে, তাদেরকেই আল্লাহ অভিসম্পাত করেন এবং অভিসম্পাতকারীরাও তাদেরকে অভিসম্পাত করে থাকে। আল-বাকারাহ, ২/১৫৯

>>> কুরআনের নাম দিয়ে সত্যের সাথে মিথ্যা মিশ্রিত করা যাবে না <<<
إِنَّهُ لَقَوْلٌ فَصْلٌ وَمَا هُوَ بِالْهَزْلِ
নিশ্চয় এটি (কুরআন) সত্য-মিথ্যার মীমাংসাকারী বাণী আর তা হাসি-ঠাট্টার কোন কথা নয়। আত-তারিক্ব, ৮৬/১৩-১৪

وَلا تَلْبِسُوا الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُوا الْحَقَّ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ
আর তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত কর না এবং জেনে শুনে সত্য গোপন কর না। আল-বাকারাহ, ২/৪২

يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تَلْبِسُونَ الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُونَ الْحَقَّ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ
হে কিতাবীরা, কেন তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করছ আর সত্যকে গোপন করছ? অথচ তোমরা তা ভালভাবেই জান। আলে‘ইমরান, ৩/৭১

>>> কুরআন ছাড়া অন্য কোন তরীকা বা মাযহাব মানা যাবে না <<<
أَمْ آتَيْنَاهُمْ كِتَابًا مِنْ قَبْلِهِ فَهُمْ بِهِ مُسْتَمْسِكُونَ 
আমি কি তাদেরকে এর (কুরআনের) পূর্বে কোন কিতাব দিয়েছি, অতঃপর তারা তাকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে রেখেছে? আয্-যুখরুফ, ৪৩/২১

>>> যারা কুরআন প্রত্যাখ্যান করবে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম <<<
وَمِنْهُمْ مَنْ يُؤْمِنُ بِهِ وَمِنْهُمْ مَنْ لا يُؤْمِنُ بِهِ وَرَبُّكَ أَعْلَمُ بِالْمُفْسِدِينَ 
আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাতে (কুরআনে) বিশ্বাস করে এবং কেউ কেউ তাতে (কুরআনে) বিশ্বাস করে না, আর তোমার রব ফাসাদকারীদের সম্পর্কে ভালভাবেই জানেন। ইউনুস, ১০/৪০

وَمَنْ يَكْفُرْ بِهِ مِنَ الأحْزَابِ فَالنَّارُ مَوْعِدُهُ فَلا تَكُ فِي مِرْيَةٍ مِنْهُ إِنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يُؤْمِنُونَ 
আর যে সকল দল এটাকে (কুরআন) প্রত্যাখ্যান করবে, আগুনই হবে তাদের প্রতিশ্রুত স্থান সুতরাং তুমি এই (কুরআন) সম্পর্কে মোটেও সন্দেহের মধ্যে থেকো না, নিশ্চয় তা তোমার রবের পক্ষ থেকে প্রকৃত সত্য কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করে না। হুদ, ১১/১৭

إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِالذِّكْرِ لَمَّا جَاءَهُمْ وَإِنَّهُ لَكِتَابٌ عَزِيزٌ 
নিশ্চয় তাদের নিকট কুরআন আসার পরও যারা তা প্রত্যাখ্যান করে (তাদেরকে অবশ্যই এর পরিণাম ভোগ করতে হবে) আর তা অবশ্যই সম্মানিত এক গ্রন্থ। ফুসসিলাত, ৪১/৪১

أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنْسَوْنَ أَنْفُسَكُمْ وَأَنْتُمْ تَتْلُونَ الْكِتَابَ أَفَلا تَعْقِلُونَ 
তোমরা কি মানুষকে ভাল কাজের আদেশ দিচ্ছো আর তোমাদের নিজেদেরকে ভুলে যাচ্ছো? অথচ তোমরা কিতাব (কুরআন) অধ্যয়ন কর, তবুও কি তোমরা চিন্তা করবে না? আল-বাকারাহ, ২/৪৪

بَلْ هُوَ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ فِي صُدُورِ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ وَمَا يَجْحَدُ بِآيَاتِنَا إِلا الظَّالِمُونَ 
বরং যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে, তাদের অন্তরে এটা (কুরআন) সুস্পষ্ট নিদর্শন। আর যালিমরা ছাড়া অন্য কেউ আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে না। আনকাবুত, ২৯/৪৯

فَكَفَرُوا بِهِ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ
কিন্তু তারা একে (কুরআন) প্রত্যাখ্যান করল এবং তাই শীঘ্রই তারা জানতে পারবে (এর পরিণাম)। আস-সাফফাত, ৩৭/১৭০

وَكَذَلِكَ أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ فَالَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يُؤْمِنُونَ بِهِ وَمِنْ هَؤُلاءِ مَنْ يُؤْمِنُ بِهِ وَمَا يَجْحَدُ بِآيَاتِنَا إِلا الْكَافِرُونَ 
আর এভাবেই আমি তোমার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি; অতএব, আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছিলাম তারা এতে বিশ্বাস করে এবং তাদেরও (মক্কার মুশরিকদেরও) কেউ কেউ এতে বিশ্বাস করে; আর অস্বীকারকারীগণ ছাড়া আমার আয়াতসমূহকে অন্য কেউ অস্বীকার করে না। আনকাবুত, ২৯/৪৭

>>> কুরআন প্রত্যাখ্যানকারীদের বিরুদ্ধে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিযোগ করবেন <<<
وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلَى يَدَيْهِ يَقُولُ يَا لَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُولِ سَبِيلا يَا وَيْلَتَى لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخِذْ فُلانًا خَلِيلا أَضَلَّنِي عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَاءَنِي وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِلإنْسَانِ خَذُولا وَقَالَ الرَّسُولُ يَا رَبِّ إِنَّ قَوْمِي اتَّخَذُوا هَذَا الْقُرْآنَ مَهْجُورًا
আর সেদিন অপরাধী নিজের দু’হাত কামড়ে বলবে, ‘হায় আমার আফসোস! যদি আমি রাসূলের পথ ধরতাম। হায়! আমার দুর্ভোগ! আমার আফসোস! যদি আমি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম’। অবশ্যই সে আমাকে বিভ্রান্ত করেছিল আমার নিকট উপদেশ বাণী (কুরআন) পৌঁছার পর; আর শয়তান হল মানুষের জন্যে মহাপ্রতারক। আর রাসূল বলবে, ‘হে আমার রব, অবশ্যই আমার জাতির লোকেরা এ কুরআনকে পরিত্যাজ্য গণ্য করেছিল। আল-ফুরক্বান, ২৫/২৭-৩০
>>> কুরআনের পর রাসূলের সুন্নাহ অনুসরণ করতে হবে <<<
لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُبِينٍ
অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের উপর অনুগ্রহ করেছেন, যখন তিনি তাদের নিজেদেরই মধ্য হতে তাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যে তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করে এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করে আর তাদেরকে কিতাব ও হিকমাত (সুন্নাহ) শিক্ষা দেয় যদিও তারা ইতঃপূর্বে স্পষ্ট গোমরাহীতে ছিল। আলে‘ইমরান, ৩/১৬৪
هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الأمِّيِّينَ رَسُولا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُبِينٍ
তিনিই নিরক্ষরদের মাঝে তাদের মধ্য হতে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যে তাদের কাছে পাঠ করে তাঁর আয়াতসমূহ, তাদেরকে পবিত্র করে এবং তাদেরকে শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমাত (সুন্নাহ) আর যদিও ইতঃপূর্বে তারা স্পষ্ট গোমরাহীতে ছিল। আল-জুমু‘য়াহ, ৬২/২
كَمَا أَرْسَلْنَا فِيكُمْ رَسُولا مِنْكُمْ يَتْلُو عَلَيْكُمْ آيَاتِنَا وَيُزَكِّيكُمْ وَيُعَلِّمُكُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُعَلِّمُكُمْ مَا لَمْ تَكُونُوا تَعْلَمُونَ
যেমন আমি তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের কাছে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি, যে তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করে, তোমাদেরকে পবিত্র করে এবং কিতাব ও হিকমত (সুন্নাহ) শিক্ষা দেয় আর তোমাদেরকে শিক্ষা দেয় এমন কিছু, যা তোমরা জানতে না। আল-বাকারাহ, ২/১৫১
وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيمًا
আর আল্লাহ তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন কিতাব ও হিকমাত (সুন্নাহ) এবং তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন, যা তুমি জানতে না আর তোমার উপর আল্লাহর মহা অনুগ্রহ রয়েছে। আন-নিসা, ৪/১১৩
وَاذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَمَا أَنْزَلَ عَلَيْكُمْ مِنَ الْكِتَابِ وَالْحِكْمَةِ يَعِظُكُمْ بِهِ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ 
আর তোমরা স্মরণ কর, তোমাদের উপর আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তোমাদের উপর কিতাব ও হিকমাত (সুন্নাহ) যা অবতীর্ণ করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন; আর আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ যে, আল্লাহ সর্ব বিষয়ে মহাজ্ঞানী। আল-বাকারাহ, ২/২৩১

=== বিষয়ঃ কুরআনকে আল্লাহ সহজভাবে বর্ণনা করেছেন ===
আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করে মানব জাতিকে সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্যে যুগে যুগে অসংখ্য নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছেন। আদম আলাইহিস সালাম সর্বপ্রথম নবী আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ নবী ও রাসূল। আমাদের রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি সর্বশেষ আসমানী গ্রন্থ হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন আল-কুরআন। অনেকেই বলে থাকেন- কুরআন সহজ নয়, তা অস্পষ্ট, সকল সমস্যার সমাধান তাতে নেই। মানুষের জীবনের সকল সমস্যার সমাধানের জন্য কুরআন ও সহীহ হাদীস যথেষ্ট নয় তাই নাকি মাযহাব, ইজমা ও কিয়াস ইত্যাদি প্রয়োজন। আসুন দেখি কুরআন কী বলে?
وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ  
আর অবশ্যই আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য, তাই উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি? আল-কামার, ৫৪/১৭, ৫৪/২২, ৫৪/৩২, ৫৪/৪০

فَإِنَّمَا يَسَّرْنَاهُ بِلِسَانِكَ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ 
(হে নবী) আসলে আমি তোমার ভাষায় একে (কুরআনকে) সহজ করে দিয়েছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। আদ্-দুখান, ৪৪/৫৮

فَإِنَّمَا يَسَّرْنَاهُ بِلِسَانِكَ لِتُبَشِّرَ بِهِ الْمُتَّقِينَ وَتُنْذِرَ بِهِ قَوْمًا لُدًّا 
(হে নবী) আসলে আমি তোমার ভাষায় একে (কুরআনকে) সহজ করে দিয়েছি, যেন তুমি এর দ্বারা মুত্তাকীদেরকে সুসংবাদ দিতে পার আর এর দ্বারা বিবাদকারী ঝগড়াটে লোকদেরকে সতর্ক করতে পার। মারইয়াম, ১৯/৯৭

=== বিষয়ঃ কুরআনকে আল্লাহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন ===
وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ 
সুস্পষ্ট কিতাবের শপথ! আয্-যুখরুফ, ৪৩/২, ৪৪/২

الر تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْمُبِينِ
আলিফ-লাম-রা। এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত। ইউসুফ, ১২/১

تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْمُبِينِ
এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত। আশ্-শু‘আরা, ২৬/২, ২৮/২

بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ وَإِنَّهُ لَفِي زُبُرِ الأوَّلِينَ
সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়। আর নিশ্চয়ই তা রয়েছে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে। আশ্-শু‘আরা, ২৬/১৯৫-১৯৬

كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُونَ
এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা-ভাবনা কর। আল-বাকারাহ, ২/২১৯, ২/২৬৬

كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ
এভাবেই আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহ মানুষের জন্য স্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে। আল-বাকারাহ, ২/১৮৭ 

كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ
এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা সঠিক পথ প্রাপ্ত হও। আলে‘ইমরান, ৩/১০৩

كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা শোকর আদায় কর।  আল-মায়িদাহ, ৫/৮৯

كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الآيَاتِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করছেন এবং আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়। আন-নূর, ২৪/৫৮

كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করছেন এবং আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়। আন-নূর, ২৪/৫৯

وَيُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الآيَاتِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
আর আল্লাহ তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করছেন এবং আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়। আন-নূর, ২৪/১৮

وَيُبَيِّنُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ
আর মানুষের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ স্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। আল-বাকারাহ, ২/২২১

قَدْ بَيَّنَّا الآيَاتِ لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ
অবশ্যই আমি আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি সেই লোকদের জন্য যারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে। আল-বাকারাহ, ২/১১৮

قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ 
নিশ্চয়ই তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ হতে একটি উজ্জ্বল নূর (জ্যোতি) ও একটি স্পষ্ট কিতাব এসেছে। আল-মায়িদাহ, ৫/১৫

هَذَا بَيَانٌ لِلنَّاسِ وَهُدًى وَمَوْعِظَةٌ لِلْمُتَّقِينَ 
এটি হচ্ছে মানুষের জন্য সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং মুত্তাকীদের জন্য হেদায়াত ও উপদেশ। আলে‘ইমরান, ৩/১৩৮

وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ
আর এগুলো আল্লাহর সীমারেখা, জ্ঞানী লোকদের জন্য তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন। আল-বাকারাহ, ২/২৩০

يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ أَنْ تَضِلُّوا وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
আল্লাহ তোমাদের জন্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা পথভ্রষ্ট না হও এবং আল্লাহ প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সর্বজ্ঞ। আন-নিসা, ৪/১৭৬

فَإِنْ زَلَلْتُمْ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْكُمُ الْبَيِّنَاتُ فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
অতএব তোমাদের নিকট স্পষ্ট দলীল প্রমাণাদি পৌঁছার পরেও যদি তোমাদের পদস্খলন ঘটে তাহলে জেনে রেখ, আল্লাহ হচ্ছেন পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। আল-বাকারাহ, ২/২০৯

إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى مِنْ بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولَئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللاعِنُونَ
নিশ্চয়ই আমি যা অবতীর্ণ করেছি, দলিল-প্রমাণাদি এবং হিদায়াত, মানুষের জন্য কিতাবের মধ্যে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার পরেও যারা তা গোপন করে, তাদেরকেই আল্লাহ অভিসম্পাত করেন এবং অভিসম্পাতকারীরাও তাদেরকে অভিসম্পাত করে থাকে। আল-বাকারাহ, ২/১৫৯

=== বিষয়ঃ কুরআনকে আল্লাহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যেন আমরা তা বুঝতে পারি ===
إِنَّا جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ 
নিশ্চয় আমি এই কুরআনকে আরবী ভাষায় বানিয়েছি যাতে তোমরা বুঝতে পার। আয্-যুখরুফ, ৪৩/৩

إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ الْقَصَصِ بِمَا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ هَذَا الْقُرْآنَ
নিশ্চয়ই আমি এই কুরআনকে আরবী ভাষায় অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পার। আমি তোমার নিকট উত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি, এই কুরআন আমার (আল্লাহর) ওয়াহী হিসেবে তোমার কাছে প্রেরণ করার মাধ্যমে। ইউসুফ, ১২/২-৩

كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ
এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করছেন যাতে তোমরা বুঝতে পার। আন-নূর, ২৪/৬১

كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ
এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা বুঝতে পার। আল-বাকারাহ, ২/২৪২

قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ الآيَاتِ إِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُونَ
অবশ্যই আমি তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পার। আলে‘ইমরান, ৩/১১৮

اعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يُحْيِي الأرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ الآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ
তোমরা জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ জমিনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন, অবশ্যই আমি আয়াতসমূহ তোমাদের জন্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পার। আল-হাদীদ, ৫৭/১৭

لَقَدْ أَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ كِتَابًا فِيهِ ذِكْرُكُمْ أَفَلا تَعْقِلُونَ 
অবশ্যই আমি তোমাদের প্রতি এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি, এর মধ্যে তোমাদের জন্য উপদেশ রয়েছে, তবুও কি তোমরা বুঝবে না? আল-আম্বিয়া, ২১/১০

=== বিষয়ঃ কুরআনের মধ্যে আল্লাহ সকল বিষয়ে বর্ণনা করেছেন ===
الر كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آيَاتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِنْ لَدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ
আলিফ-লাম-রা-, এই কিতাব যার আয়াতসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, এরপর প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে সবিস্তারে বর্ণনা করা হয়েছে। হুদ, ১১/১

مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ 
কিতাবের মধ্যে কোন কিছুই আমি বাদ রাখিনি। আল-আন‘আম, ৬/৩৮

وَلا يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلا جِئْنَاكَ بِالْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيرًا 
আর তারা তোমার নিকট যে কোন বিষয়ই নিয়ে আসুক না কেন, আমি এর সঠিক ও সুন্দর ব্যাখ্যা তোমাকে প্রদান করেছি। আল-ফুরক্বান, ২৫/৩৩

وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ 
আর আমি আপনার প্রতি এই কিতাব অবতীর্ণ করেছি প্রত্যেকটি বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা, আত্মসমর্পণকারীদের জন্য হেদায়াত ও  রহমত আর সুসংবাদ। আন্‌-নাহ্‌ল, ১৬/৮৯

وَلَقَدْ ضَرَبْنَا لِلنَّاسِ فِي هَذَا الْقُرْآنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ قُرْآنًا عَرَبِيًّا غَيْرَ ذِي عِوَجٍ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ
আর অবশ্যই এ কুরআনে মানুষের জন্যে সকল প্রকার দৃষ্টান্ত আমি বর্ণনা করেছি যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। আরবী ভাষায় কুরআন এতে কোন বক্রতা নেই, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে। আয-যুমার, ৩৯/২৭-২৮

وَكَذَلِكَ أَنْزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا وَصَرَّفْنَا فِيهِ مِنَ الْوَعِيدِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ أَوْ يُحْدِثُ لَهُمْ ذِكْرًا
আর এভাবেই আমি আরবী ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং তাতে বিশদভাবে সতর্কবাণী বর্ণনা করেছি যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে অথবা তা তাদের জন্য উপদেশ। ত্ব-হা, ২০/১১৩

وَلَقَدْ صَرَّفْنَا فِي هَذَا الْقُرْآنِ لِيَذَّكَّرُوا وَمَا يَزِيدُهُمْ إِلا نُفُورًا 
আর অবশ্যই আমি কুরআনে বিশদভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছি যেন তারা উপদেশ গ্রহণ করে; কিন্তু তা কেবল তাদের বিমুখতাই বৃদ্ধি করে। আল-ইস্‌রা, ১৭/৪১

وَلَقَدْ صَرَّفْنَا لِلنَّاسِ فِي هَذَا الْقُرْآنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ فَأَبَى أَكْثَرُ النَّاسِ إِلا كُفُورًا 
আর অবশ্যই মানুষের জন্য এ কুরআনে আমি যাবতীয় দৃষ্টান্ত বিশদভাবে বর্ণনা করেছি; তবুও অধিকাংশ মানুষ কেবল তা প্রত্যাখ্যান করেছে। আল-ইস্‌রা, ১৭/৮৯

وَلَقَدْ صَرَّفْنَا فِي هَذَا الْقُرْآنِ لِلنَّاسِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ وَكَانَ الإنْسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلا
আর অবশ্যই আমি এই কুরআনে মানুষের জন্য যাবতীয় দৃষ্টান্ত বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি আর অধিকাংশ মানুষ এ ব্যাপারে ঝগড়াটে। আল-কাহ্‌ফ, ১৮/৫৪

وَلَقَدْ ضَرَبْنَا لِلنَّاسِ فِي هَذَا الْقُرْآنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ وَلَئِنْ جِئْتَهُمْ بِآيَةٍ لَيَقُولَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ أَنْتُمْ إِلا مُبْطِلُونَ 
আর অবশ্যই এ কুরআনের মধ্যে মানুষের জন্য যাবতীয় দৃষ্টান্ত আমি বর্ণনা করেছি আর যদি তাদের নিকট কোন আয়াত (নিদর্শন) নিয়ে আপনি উপস্থিত হন যারা অস্বীকারকারী তারা অবশ্যই বলবে ‘তোমরা তো বাতিলপন্থী (মিথ্যাশ্রয়ী) ছাড়া কিছু নয়’। আর-রূম, ৩০/৫৮

وَمَا كَانَ هَذَا الْقُرْآنُ أَنْ يُفْتَرَى مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَكِنْ تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ الْكِتَابِ لا رَيْبَ فِيهِ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ 
আর এমন সম্ভব নয় যে এ কুরআন আল্লাহ ছাড়া কেউ তা রচনা করতে পারবে; বরং এটি এর পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে, তার সত্যায়নকারী এবং কিতাবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা, এতে কোন সন্দেহ নেই, এটি সৃষ্টিকুলের রবের পক্ষ থেকে। ইউনুস, ১০/৩৭

كَذَلِكَ نُفَصِّلُ الآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ 
এইভাবেই বোধশক্তিসম্পন্ন লোকদের জন্য আমার আয়াতসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি। আর-রূম, ৩০/২৮

كَذَلِكَ نُفَصِّلُ الآيَاتِ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
এভাবেই চিন্তাশীল লোকদের জন্য আমার আয়াতসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি। ইউনুস, ১০/২৪

كِتَابٌ فُصِّلَتْ آيَاتُهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ
এটা এক কিতাব আরবী কুরআনরূপে তার আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, জ্ঞানী লোকদের জন্য। ফুসসিলাত, ৪১/৩ 

=== বিষয়ঃ কুরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা করতে হবে ===
أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا 
তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা (গবেষণা) করে না? নাকি তাদের অন্তরসমূহের উপর তালাবদ্ধ রয়েছে। মুহাম্মাদ, ৪৭/২৪

أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافًا كَثِيرًا
তবে কি তারা কুরআন সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা (গবেষণা) করে না? আর যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নিকট থেকে হতো, তবে অবশ্যই তারা তাতে অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেত। আন-নিসা, ৪/৮২

كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الألْبَابِ 
এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি তোমার প্রতি বরকত হিসেবে অবতীর্ণ করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা (গবেষনা) করে আর অবশ্যই বোধশক্তিসম্পন্ন বুদ্ধিমান ব্যক্তিরাই উপদেশ গ্রহণ করবে। সোয়াদ, ৩৮/২৯

بِالْبَيِّنَاتِ وَالزُّبُرِ وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ 
(তাদের প্রেরণ করেছি) স্পষ্ট প্রমাণাদি ও কিতাবসমূহ দিয়ে এবং আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি উপদেশ (কুরআন) যেন তুমি মানুষকে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিতে পার, যা তাদের নিকট অবতীর্ণ করা হয়েছে আর হয়ত তারা চিন্তা-ভাবনা করবে। আন্‌-নাহ্‌ল, ১৬/৪৪

لَوْ أَنْزَلْنَا هَذَا الْقُرْآنَ عَلَى جَبَلٍ لَرَأَيْتَهُ خَاشِعًا مُتَصَدِّعًا مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ وَتِلْكَ الأمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ
যদি আমি এই কুরআনকে পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করতাম তাহলে অবশ্যই তুমি তাকে দেখতে আল্লাহর ভয়ে বিনীত ও বিদীর্ণ হয়ে গেছে; এবং এইসব দৃষ্টান্ত আমি বর্ণনা করি মানুষের জন্য যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে। আল-হাশর, ৫৯/২১

إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে চিন্তাশীল লোকদের জন্য। আর-রাদ, ১৩/৩, ৩০/২১, ৩৯/৪২, ৪৫/১৩

إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَةً لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে চিন্তাশীল লোকদের জন্য। আন্-নাহল, ১৬/১১, ১৬/৬৯

=== বিষয়ঃ কুরআন আল্লাহর উপদেশ ===
ص وَالْقُرْآنِ ذِي الذِّكْرِ 
সোয়াদ; শপথ উপদেশপূর্ণ কুরআনের! সোয়াদ, ৩৮/১

إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ 
নিশ্চয় আমি উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি, আর অবশ্যই আমিই তার হিফাযতকারী। আল-হিজ্‌র, ১৫/৯

فَإِنَّمَا يَسَّرْنَاهُ بِلِسَانِكَ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ 
(হে নবী) আসলে আমি তোমার ভাষায় কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি, যেন তারা উপদেশ গ্রহণ করে। আদ্-দুখান, ৪৪/৫৮

وَمَا عَلَّمْنَاهُ الشِّعْرَ وَمَا يَنْبَغِي لَهُ إِنْ هُوَ إِلا ذِكْرٌ وَقُرْآنٌ مُبِينٌ 
আর আমি রাসূলকে কবিতা শিখাইনি আর এটি তার জন্য শোভনীয়ও নয়, এটি কেবলমাত্র উপদেশ এবং সুস্পষ্ট কুরআন। ইয়া-সীন, ৩৬/৬৯

هَذَا بَيَانٌ لِلنَّاسِ وَهُدًى وَمَوْعِظَةٌ لِلْمُتَّقِينَ 
এটি হচ্ছে মানুষের জন্য সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং মুত্তাকীদের জন্য হেদায়াত ও উপদেশ। আলে‘ইমরান, ৩/১৩৮

وَإِنَّهُ لَتَذْكِرَةٌ لِلْمُتَّقِينَ
আর অবশ্যই তা (কুরআন) মুত্তাকীদের জন্য উপদেশ। আল-হাক্কাহ, ৬৯/৪৮

وَهُدًى وَمَوْعِظَةً لِلْمُتَّقِينَ
আর মুত্তাকীদের জন্য হেদায়াত ও উপদেশ। আল-মায়িদাহ, ৫/৪৬

وَذِكْرًا لِلْمُتَّقِينَ
আর মুত্তাকীদের জন্য উপদেশ। আম্বিয়া, ২১/৪৮

وَلَقَدْ أَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ آيَاتٍ مُبَيِّنَاتٍ وَمَثَلا مِنَ الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلِكُمْ وَمَوْعِظَةً لِلْمُتَّقِينَ
আর অবশ্যই আমি তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ আর তোমাদের পূর্বে যারা অতীত হয়ে গেছে তাদের কিছু দৃষ্টান্ত এবং মুত্তাকীদের জন্য উপদেশ। আন-নূর, ২৪/৩৪

بِالْبَيِّنَاتِ وَالزُّبُرِ وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ 
(তাদের প্রেরণ করেছি) স্পষ্ট প্রমাণাদি ও কিতাবসমূহ দিয়ে এবং আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি উপদেশ (কুরআন) যেন তুমি মানুষকে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিতে পার, যা তাদের নিকট অবতীর্ণ করা হয়েছে আর হয়ত তারা চিন্তা-ভাবনা করবে। আন্‌-নাহ্‌ল, ১৬/৪৪

فَجَعَلْنَاهَا نَكَالا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهَا وَمَا خَلْفَهَا وَمَوْعِظَةً لِلْمُتَّقِينَ
অতঃপর তা (মুসার ঘটনাকে) তাদের সমসাময়িক ও তাদের পরবর্তীদের শিক্ষা গ্রহণের জন্য আমি দৃষ্টান্ত বানিয়েছি এবং মুত্তাকীদের জন্য উপদেশ। আল-বাকারাহ, ২/৬৬

كِتَابٌ أُنْزِلَ إِلَيْكَ فَلا يَكُنْ فِي صَدْرِكَ حَرَجٌ مِنْهُ لِتُنْذِرَ بِهِ وَذِكْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ
এ কিতাব যা তোমার প্রতি নাযিল করা হয়েছে তাই তার সম্পর্কে তোমার অন্তরে যেন কোন সংকীর্ণতা না থাকে, যেন তুমি তার দ্বারা সতর্ক করতে পার আর কুরআন মুমিনদের জন্য উপদেশ। আল-আ‘রাফ, ৭/২

=== বিষয়ঃ কুরআন দ্বারা মানুষকে উপদেশ দিতে হবে ===
وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ
আর তুমি উপদেশ দিতে থাক, কারণ উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসবে। আয-যারিয়াত, ৫১/৫৫

قُلِ اللَّهُ شَهِيدٌ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَأُوحِيَ إِلَيَّ هَذَا الْقُرْآنُ لأنْذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلَغَ
তুমি বলে দাও, আমার ও তোমাদের মধ্যে আল্লাহই হচ্ছেন সাক্ষী, আর এ কুরআন আমার নিকট ওয়াহী করা হয়েছে, যেন আমি তোমাদেরকে এবং যাদের নিকট এটি পৌঁছবে তাদের সকলকে এর দ্বারা সতর্ক করি। আল-আন‘আম, ৬/১৯

وَاذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَمَا أَنْزَلَ عَلَيْكُمْ مِنَ الْكِتَابِ وَالْحِكْمَةِ يَعِظُكُمْ بِهِ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ 
আর তোমরা স্মরণ কর, তোমাদের উপর আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তোমাদের উপর কিতাব ও হিকমাত (সুন্নাহ) যা অবতীর্ণ করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন; আর আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ যে, আল্লাহ সর্ব বিষয়ে মহাজ্ঞানী। আল-বাকারাহ, ২/২৩১

بِالْبَيِّنَاتِ وَالزُّبُرِ وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ 
(তাদের প্রেরণ করেছি) স্পষ্ট প্রমাণাদি ও কিতাবসমূহ দিয়ে এবং আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি উপদেশ (কুরআন) যেন তুমি মানুষকে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিতে পার, যা তাদের নিকট অবতীর্ণ করা হয়েছে আর হয়ত তারা চিন্তা-ভাবনা করবে। আন্‌-নাহ্‌ল, ১৬/৪৪

وَلَقَدْ ضَرَبْنَا لِلنَّاسِ فِي هَذَا الْقُرْآنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ قُرْآنًا عَرَبِيًّا غَيْرَ ذِي عِوَجٍ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ
আর অবশ্যই এ কুরআনে মানুষের জন্যে সকল প্রকার দৃষ্টান্ত আমি বর্ণনা করেছি যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। আরবী ভাষায় কুরআন এতে কোন বক্রতা নেই, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে। আয-যুমার, ৩৯/২৭-২৮

وَكَذَلِكَ أَنْزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا وَصَرَّفْنَا فِيهِ مِنَ الْوَعِيدِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ أَوْ يُحْدِثُ لَهُمْ ذِكْرًا
আর এভাবেই আমি আরবী ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং তাতে বিশদভাবে সতর্কবাণী বর্ণনা করেছি যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে অথবা তা তাদের জন্য উপদেশ। ত্ব-হা, ২০/১১৩

=== বিষয়ঃ কুরআনের একটি প্রশ্ন ও তার উত্তর ===
وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ  
আর অবশ্যই আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্যে, তাই উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি? আল-কামার, ৫৪/১৭, ৫৪/২২, ৫৪/৩২, ৫৪/৪০

لَقَدْ أَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ كِتَابًا فِيهِ ذِكْرُكُمْ أَفَلا تَعْقِلُونَ 
অবশ্যই আমি তোমাদের প্রতি এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি, এর মধ্যে তোমাদের জন্য উপদেশ রয়েছে, তবুও কি তোমরা বুঝবে না? আল-আম্বিয়া, ২১/১০

فَذَكِّرْ إِنْ نَفَعَتِ الذِّكْرَى سَيَذَّكَّرُ مَنْ يَخْشَى وَيَتَجَنَّبُهَا الأشْقَى 
কাজেই তুমি উপদেশ দাও যদি উপদেশ উপকার দেয়। সে-ই উপদেশ গ্রহণ করবে, যে (আল্লাহকে) ভয় করবে আর যে চরম হতভাগা, সে তা উপেক্ষা করবে । আ‘লা, ৮৭/৯-১১

فَذَكِّرْ بِالْقُرْآنِ مَنْ يَخَافُ وَعِيدِ
কাজেই তুমি কুরআন দ্বারা তাকে উপদেশ দাও যে আমার (আল্লাহর) শাস্তিকে ভয় করে। ক্কাফ, ৫০/৪৫

إِنَّمَا تُنْذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَخَشِيَ الرَّحْمَنَ بِالْغَيْبِ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَأَجْرٍ كَرِيمٍ
কেবলমাত্র তুমি তাকে সতর্ক করতে পার যে উপদেশ মেনে চলে আর পরম করুণাময় আল্লাহকে না দেখে ভয় করে, সুতরাং তুমি তাকে ক্ষমা ও সম্মানজনক প্রতিদানের সুসংবাদ দাও। ইয়া-সীন, ৩৬/১১

وَمَا يَذْكُرُونَ إِلا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ هُوَ أَهْلُ التَّقْوَى وَأَهْلُ الْمَغْفِرَةِ 
আর আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কেউ উপদেশ গ্রহণ করবে না, তিনি ভয়ের যোগ্য এবং ক্ষমার অধিকারী। মুদ্দাচ্ছির, ৭৪/৫৬

مَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لِتَشْقَى إِلا تَذْكِرَةً لِمَنْ يَخْشَى
(হে রাসূল) আপনাকে কষ্ট দেয়ার জন্য আমি আপনার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করিনি বরং তাকে উপদেশের জন্য যে (আল্লাহকে) ভয় করে। ত্ব-হা, ২০/২-৩

كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الألْبَابِ 
এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি তোমার প্রতি বরকত হিসেবে অবতীর্ণ করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা (গবেষনা) করে আর অবশ্যই বোধশক্তিসম্পন্ন বুদ্ধিমান ব্যক্তিরাই উপদেশ গ্রহণ করবে। সোয়াদ, ৩৮/২৯

فَاتَّقُوا اللَّهَ يَا أُولِي الألْبَابِ الَّذِينَ آمَنُوا قَدْ أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْكُمْ ذِكْرًا
কাজেই হে বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিরা যারা ঈমান এনেছ তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন উপদেশ (কুরআন)। আত-তালাক্ব, ৬৫/১০

وَأَنْذِرْ بِهِ الَّذِينَ يَخَافُونَ أَنْ يُحْشَرُوا إِلَى رَبِّهِمْ لَيْسَ لَهُمْ مِنْ دُونِهِ وَلِيٌّ وَلا شَفِيعٌ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ 
আর (হে নবী) তুমি এর (কুরআন) দ্বারা তাদেরকে সতর্ক কর, যারা ভয় করে যে, তাদেরকে তাদের রবের কাছে সমবেত করা হবে, (এ অবস্থায় যে) তিনি ছাড়া তাদের জন্য থাকবে না কোন অভিভাবক আর না কোন সুপারিশকারী, হয়ত তারা তাকওয়া অবলম্বন করবে। আল-আন‘আম, ৬/৫১

وَلَقَدْ صَرَّفْنَا فِي هَذَا الْقُرْآنِ لِيَذَّكَّرُوا وَمَا يَزِيدُهُمْ إِلا نُفُورًا 
আর অবশ্যই আমি এ কুরআনে বিশদভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছি যেন তারা উপদেশ গ্রহণ করে; কিন্তু তা কেবল তাদের বিমুখতাই বৃদ্ধি করে। আল-ইস্‌রা, ১৭/৪১

وَإِنْ يَكَادُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَيُزْلِقُونَكَ بِأَبْصَارِهِمْ لَمَّا سَمِعُوا الذِّكْرَ وَيَقُولُونَ إِنَّهُ لَمَجْنُونٌ وَمَا هُوَ إِلا ذِكْرٌ لِلْعَالَمِينَ 
আর যখন অস্বীকারকারীরা উপদেশবাণী (কুরআন) শুনে তখন তারা যেন তাদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দ্বারা তোমাকে আছড়ে ফেলে দিবে, আর তারা বলে, ‘এতো এক পাগল’। আর এটি (কুরআন) বিশ্ব জগতের জন্য উপদেশ ছাড়া আর কিছু নয়। আল-ক্বালাম, ৬৮/৫১-৫২

>>> কুরআন থেকে উপদেশ গ্রহণ না করার ফলাফল <<<
وَذَرِ الَّذِينَ اتَّخَذُوا دِينَهُمْ لَعِبًا وَلَهْوًا وَغَرَّتْهُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَذَكِّرْ بِهِ أَنْ تُبْسَلَ نَفْسٌ بِمَا كَسَبَتْ لَيْسَ لَهَا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلِيٌّ وَلا شَفِيعٌ وَإِنْ تَعْدِلْ كُلَّ عَدْلٍ لا يُؤْخَذْ مِنْهَا أُولَئِكَ الَّذِينَ أُبْسِلُوا بِمَا كَسَبُوا لَهُمْ شَرَابٌ مِنْ حَمِيمٍ وَعَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْفُرُونَ
আর তুমি তাদেরকে পরিত্যাগ কর, যারা নিজেদের দীনকে খেলা ও তামাশারূপে গ্রহণ করেছে এবং যাদেরকে দুনিয়ার জীবন ধোঁকায় রেখেছে এবং তুমি কুরআন দ্বারা উপদেশ দাও, যাতে কোন ব্যক্তি তার কৃতকর্মের কারণে ধ্বংসে পতিত না হয়, তার জন্যে আল্লাহ ছাড়া কোন অভিভাবক ও সুপারিশকারী নেই এবং যদি সে সবকিছুর বিনিময়ে মুক্তিপণ দেয়, তবুও তার থেকে তা গ্রহণ করা হবে না। এরাই তারা যারা ধ্বংসের শিকার হয়েছে তাদের কৃতকর্মের দরুন, তাদের জন্য রয়েছে ফুটন্ত পানীয় এবং যন্ত্রণাদায়ক আযাব, যেহেতু তারা অস্বীকার করত। আল-আন‘আম, ৬/৭০

=== বিষয়ঃ কুরআন হেদায়াত ও সুসংবাদ ===
طس تِلْكَ آيَاتُ الْقُرْآنِ وَكِتَابٍ مُبِينٍ هُدًى وَبُشْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ
ত্বা-সীন; এগুলো কুরআনের ও সু্স্পষ্ট কিতাবের আয়াত। মুমিনদের জন্য হেদায়াত ও সুসংবাদ। আন্-নাম্ল, ২৭/১-২

وَهُدًى وَبُشْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ
আর কুরআন মুমিনদের জন্য হেদায়াত ও সুসংবাদ। আল-বাকারাহ, ২/৯৭

وَإِنَّهُ لَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ
আর নিশ্চয় তা (কুরআন) মুমিনদের জন্য হেদায়াত ও রহমত। আন্-নাম্ল, ২৭/৭৭

قُلْ نَزَّلَهُ رُوحُ الْقُدُسِ مِنْ رَبِّكَ بِالْحَقِّ لِيُثَبِّتَ الَّذِينَ آمَنُوا وَهُدًى وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ
তুমি বল, এ কুরআন তোমার রবের পক্ষ হতে রুহুল কুদুস (জিব্রীল) যথাযথভাবে নাযিল করেছেন যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সুদৃঢ় করার জন্য এবং মুসলিমদের জন্য হেদায়াত ও সুসংবাদ। আন্‌-নাহ্ল, ১৬/১০২

وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ 
আর আমি আপনার প্রতি এ কিতাব নাযিল করেছি প্রত্যেকটি বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা, মুসলিমদের জন্য হেদায়াত ও  রহমত আর সুসংবাদ। আন্‌-নাহ্ল, ১৬/৮৯

إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا كَبِيرًا
নিশ্চয়ই এ কুরআন সেই দিকে পথ দেখায় যা সবচেয়ে সরল আর যেসব মুমিনগণ সৎকাজ করে তাদেরকে সুসংবাদ দাও, নিশ্চয়ই তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। আল-ইস্‌রা, ১৭/৯

ذَلِكَ هُدَى اللَّهِ يَهْدِي بِهِ مَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ
এ কুরআন আল্লাহর হেদায়াত, তিনি যাকে চান তাকে এর দ্বারা হেদায়াত দান করেন আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোন পথ প্রদর্শক নেই। আয-যুমার, ৩৯/২৩

>>> মুমিনদের জন্য নিদর্শন রয়েছে <<<
خَلَقَ اللَّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأرْضَ بِالْحَقِّ إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَةً لِلْمُؤْمِنِينَ
আল্লাহ যথাযথভাবে আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে মুমিনদের জন্য। আল-আনকাবূত, ২৯/৪৪

تَنْزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ إِنَّ فِي السَّمَاوَاتِ وَالأرْضِ لآيَاتٍ لِلْمُؤْمِنِينَ وَفِي خَلْقِكُمْ وَمَا يَبُثُّ مِنْ دَابَّةٍ آيَاتٌ لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ
এ কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে। নিশ্চয় আকাশসমূহ ও জমিনে নিদর্শনাবলী রয়েছে মুমিনদের জন্য। আর তোমাদের সৃষ্টিতে আর যে জীবজন্তু ছড়িয়ে রয়েছে তাতে নিদর্শনাবলী রয়েছে নিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্য। আল-জাসিয়া, ৪৫/২-৪

=== বিষয়ঃ কুরআন মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত ===
وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ وَلا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلا خَسَارًا
আমি কুরআনে নাযিল করেছি যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত কিন্তু তা গোনাহগারদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে। আল-ইস্রা, ১৭/৮২

قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاءٌ وَالَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ فِي آذَانِهِمْ وَقْرٌ وَهُوَ عَلَيْهِمْ عَمًى أُولَئِكَ يُنَادَوْنَ مِنْ مَكَانٍ بَعِيدٍ
তুমি বল, এটি (কুরআন) যারা ঈমান আনে তাদের জন্য হেদায়াত ও আরোগ্য আর যারা ঈমান আনে না তাদের কানে আছে বধিরতা আর এ কুরআন তাদের জন্য অন্ধত্ব; তাদেরকে ডাকা হবে দূরবর্তী স্থান হতে। ফুসসিলাত, ৪১/৪৪

وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ
তিনি (আল্লাহ) মুমিন লোকদের অন্তরসমূহ নিরাময় করেন। তওবা, ৯/১৪

هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ السَّكِينَةَ فِي قُلُوبِ الْمُؤْمِنِينَ لِيَزْدَادُوا إِيمَانًا مَعَ إِيمَانِهِمْ
তিনি মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি নাযিল করেন যেন তাদের ঈমানের সাথে ঈমান আরও বৃদ্ধি পায়। আল-ফাত্‌হ, ৪৮/৪

يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ
হে মানবজাতি, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে উপদেশ এসেছে এবং তাতে আছে অন্তরের রোগের নিরাময় আর মুমিনদের জন্য হেদায়াত ও রহমত। ইউনুস, ১০/৫৭

=== বিষয়ঃ কুরআন মুমিনদের জন্য হেদায়াত ও রহমত ===
هَذَا بَصَائِرُ مِنْ رَبِّكُمْ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
এ কুরআন তোমাদের রবের পক্ষ হতে জ্ঞানের আলো আর হেদায়াত ও রহমত, সে লোকদের জন্য যারা ঈমান আনে। আল-আ‘রাফ, ৭/২০৩

هَذَا بَصَائِرُ لِلنَّاسِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ
এ কুরআন মানুষের জন্য জ্ঞানের আলো এবং নিশ্চিত বিশ্বাসী লোকদের জন্য হেদায়াত ও রহমত। আল-জাসিয়া, ৪৫/২০

فَقَدْ جَاءَكُمْ بَيِّنَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ
অবশ্যই তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণ আর হেদায়াত ও রহমত এসেছে। আল-আন‘আম, ৬/১৫৭

وَإِنَّهُ لَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ
আর নিশ্চয় তা (কুরআন) মুমিনদের জন্য হেদায়াত ও রহমত। আন্-নাম্ল, ২৭/৭৭

وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ 
আর যখন আমি রোগাক্রান্ত হই তখন তিনিই (আল্লাহ) আমাকে আরোগ্য দান করেন।  আশ্-শু‘আরা, ২৬/৮০

=== বিষয়ঃ কুরআন পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়নকারী ===
وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ مِنَ الْكِتَابِ هُوَ الْحَقُّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ إِنَّ اللَّهَ بِعِبَادِهِ لَخَبِيرٌ بَصِيرٌ 
আর (হে নবী) যে কিতাবটি আমি তোমার কাছে ওয়াহী করেছি তা সত্য, এটা পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়নকারী, নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ব্যাপারে সম্যক অবহিত, সর্বদ্রষ্টা। ফাত্বির, ৩৫/৩১
وَهَذَا كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ مُصَدِّقُ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَلِتُنْذِرَ أُمَّ الْقُرَى وَمَنْ حَوْلَهَا وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالآخِرَةِ يُؤْمِنُونَ بِهِ وَهُمْ عَلَى صَلاتِهِمْ يُحَافِظُونَ
আর এটি একটি কিতাব, আমি তা অবতীর্ণ করেছি, খুবই বরকতময়, পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়নকারী আর যেন কেন্দ্রীয় মাক্কা নগরী এবং তার চতুষ্পর্শ্বস্থ জনপদের লোকদেরকে তুমি সতর্ক কর এবং যারা পরকালে বিশ্বাস রাখে তারা এতে বিশ্বাস করে আর তারা তাদের সালাতের প্রতি যত্নবান। আল-আন‘আম, ৬/৯২
وَمَا كَانَ هَذَا الْقُرْآنُ أَنْ يُفْتَرَى مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَكِنْ تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ الْكِتَابِ لا رَيْبَ فِيهِ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ 
আর এমন সম্ভব নয় যে এ কুরআন আল্লাহ ছাড়া কেউ তা রচনা করতে পারবে; বরং এটি এর পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে, তার সত্যায়নকারী এবং কিতাবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা, এতে কোন সন্দেহ নেই, এটি সৃষ্টিকুলের রবের পক্ষ থেকে। ইউনুস, ১০/৩৭
لَقَدْ كَانَ فِي قَصَصِهِمْ عِبْرَةٌ لأولِي الألْبَابِ مَا كَانَ حَدِيثًا يُفْتَرَى وَلَكِنْ تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ كُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
অবশ্যই তাদের বৃত্তান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে বুদ্ধিমানদের জন্য শিক্ষা, এটা (কুরআন) কোন মনগড়া (হাদীস) বাণী নয়, বরং পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়নকারী এবং প্রতিটি বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ আর হেদায়াত ও রহমত ঐসব লোকদের জন্য যারা বিশ্বাস স্থাপন করে। ইউসুফ, ১২/১১১
وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ عَمَّا جَاءَكَ مِنَ الْحَقِّ 
আর (হে নবী) আমি তোমার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা পূর্ববতী কিতাবের সত্যায়নকারী ও তার উপর সংরক্ষণকারীরূপে; সুতরাং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তুমি তার মাধ্যমে তাদের মাঝে বিচার ফায়সালা কর এবং তোমার কাছে যে মহাসত্য (কুরআন) এসেছে তা বাদ দিয়ে তাদের খেয়াল খুশির (প্রবৃত্তির) অনুসরণ কর না। আল-মায়িদাহ, ৫/৪৮
قَالُوا يَا قَوْمَنَا إِنَّا سَمِعْنَا كِتَابًا أُنْزِلَ مِنْ بَعْدِ مُوسَى مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ يَهْدِي إِلَى الْحَقِّ وَإِلَى طَرِيقٍ مُسْتَقِيمٍ
তারা (জিনদের একটি দল) বলেছিল, হে আমাদের সম্প্রদায়! আমরা এক কিতাবের বাণী শুনেছি, যা মূসার পরে অবতীর্ণ হয়েছে, এটা তার পূর্ববর্তী কিতাবকে সত্যায়ন করে এবং সত্য ও সরল পথের দিকে পরিচালিত করে। আল-আহকাফ, ৪৬/৩০
وَآمِنُوا بِمَا أَنْزَلْتُ مُصَدِّقًا لِمَا مَعَكُمْ وَلا تَكُونُوا أَوَّلَ كَافِرٍ بِهِ وَلا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلا وَإِيَّايَ فَاتَّقُونِ
আর আমি যা অবতীর্ণ করেছি তার প্রতি তোমরা ঈমান আন, যা তোমাদের নিকট আছে তার সত্যায়নকারী এবং তোমরা তার প্রথম অস্বীকারকারী হয়ো না আর তোমরা আমার আয়াতসমূহ সামান্যমূল্যে বিক্রি করো না এবং কেবল আমাকেই ভয় কর। আল-বাকারাহ, ২/৪১
قُلْ مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَى قَلْبِكَ بِإِذْنِ اللَّهِ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًى وَبُشْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ
তুমি বল, যে ব্যক্তি জিবরীলের শত্রু হবে (সে অনুশোচনায় মরুক) কেননা নিশ্চয় জিব্রীল আল্লাহর অনুমতিতে তোমার অন্তরে তা নাযিল করেছে, যা পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়নকারী আর মুমিনদের জন্য হেদায়াত ও সুসংবাদ। আল-বাকারাহ, ২/৯৭
وَلَمَّا جَاءَهُمْ رَسُولٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَهُمْ نَبَذَ فَرِيقٌ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ كِتَابَ اللَّهِ وَرَاءَ ظُهُورِهِمْ كَأَنَّهُمْ لا يَعْلَمُونَ
আর যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রাসূল আসল, তাদের কাছে যে কিতাব রয়েছে সেই কিতাবের সত্যায়নকারীরূপে, তখন যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল তাদের একদল আল্লাহর কিতাবকে তাদের পিঠের পেছনে ফেলে দিল, যেন তারা কিছুই জানে না। আল-বাকারাহ, ২/১০১
>>> তাওরাত ও ইনজীল কিতাবের সত্যায়নকারী হল কুরআন <<<
نَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَأَنْزَلَ التَّوْرَاةَ وَالإنْجِيلَ 
তিনি তোমার উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন সত্যসহকারে, যা পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়নকারী এবং এর পূর্বে তিনি তাওরাত ও ইন্‌জীল অবতীর্ণ করেছিলেন। আলে‘ইমরান, ৩/৩
>>> মূসার প্রতি অবতীর্ণ তাওরাত কিতাবের সত্যায়নকারী হল কুরআন <<<
وَمِنْ قَبْلِهِ كِتَابُ مُوسَى إِمَامًا وَرَحْمَةً وَهَذَا كِتَابٌ مُصَدِّقٌ لِسَانًا عَرَبِيًّا لِيُنْذِرَ الَّذِينَ ظَلَمُوا وَبُشْرَى لِلْمُحْسِنِينَ
আর এর পূর্বে মূসার কিতাব এসেছিল পথপ্রদর্শক ও রহমতস্বরূপ এবং এই কিতাব তার সত্যায়নকারী, আরবী ভাষায়; যেন যালিমদেরকে সতর্ক করতে পারে আর (মুহসিনিন) সৎকর্মশীলদের জন্য সুসংবাদ। আল-আহকাফ, ৪৬/১২
وَمُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَلأحِلَّ لَكُمْ بَعْضَ الَّذِي حُرِّمَ عَلَيْكُمْ وَجِئْتُكُمْ بِآيَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ
আর (আমি এসেছি) আমার সামনে তাওরাতের যা রয়েছে তার সত্যায়নকারীরূপে এবং তোমাদের জন্য যা হারাম ছিল তার কতিপয় তোমাদের জন্য হালাল করতে এবং আমি তোমাদের নিকট এসেছি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে নিদর্শন নিয়ে, অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর। আলে‘ইমরান, ৩/৫০
>>> ঈসার প্রতি অবতীর্ণ ইনজীল কিতাবের সত্যায়নকারী হল কুরআন <<<
وَقَفَّيْنَا عَلَى آثَارِهِمْ بِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ التَّوْرَاةِ وَآتَيْنَاهُ الإنْجِيلَ فِيهِ هُدًى وَنُورٌ وَمُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ التَّوْرَاةِ وَهُدًى وَمَوْعِظَةً لِلْمُتَّقِينَ
আর আমি তাদের পশ্চাতে মারইয়াম পুত্র ঈসাকে পাঠিয়েছিলাম তার সামনে তাওরাত কিতাবের যা কিছু ছিল তার সত্যায়নকারীরূপে এবং তাকে ইনজীল দিয়েছিলাম, যাতে ছিল হিদায়াত ও নূর এবং (তা ছিল) পূর্ববর্তী কিতাব তাওরাতের সত্যায়নকারী আর মুত্তাকীদের জন্য হেদায়াত ও উপদেশ। আল-মায়িদাহ, ৫/৪৬
>>> ইন্‌জীল কিতাবের মুহাম্মদ (ﷺ) এর আগমনের সত্যায়ন <<<
وَإِذْ قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ فَلَمَّا جَاءَهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ قَالُوا هَذَا سِحْرٌ مُبِينٌ
স্মরণ কর, যখন মারইয়াম পুত্র ঈসা বলেছিল, ‘হে বনী ইস্‌রাঈল, নিশ্চয় আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল, আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং একজন রাসূলের সুসংবাদদাতা যিনি আমার পরে আসবেন, যার নাম আহমদ’ অতঃপর সে যখন সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে আগমন করল, তখন তারা বলল, ‘এটাতো স্পষ্ট যাদু’। আস-সাফ, ৬১/৬
>>> পূর্বেই আল্লাহ নবীদের অঙ্গীকার নিয়েছিলেন <<<
وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّينَ لَمَا آتَيْتُكُمْ مِنْ كِتَابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنْصُرُنَّهُ قَالَ أَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلَى ذَلِكُمْ إِصْرِي قَالُوا أَقْرَرْنَا قَالَ فَاشْهَدُوا وَأَنَا مَعَكُمْ مِنَ الشَّاهِدِينَ
আর স্মরণ কর, যখন আল্লাহ নবীদের নিকট হতে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন, আমি তোমাদেরকে যে কিতাব ও হিকমাত প্রদান করেছি, অতঃপর যখন তোমাদের সাথে যা আছে তার সত্যায়নকারীরূপে কোন রাসূল তোমাদের কাছে আসবে, তখন অবশ্যই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনবে এবং তাকে সাহায্য করবে; তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমরা অঙ্গীকার করলে কি আর এর উপর প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করলে কি’? তারা বলল, ‘আমরা অঙ্গীকার করলাম’। আল্লাহ বললেন, ‘তবে তোমরা সাক্ষী থাক এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী থাকলাম’। আলে‘ইমরান, ৩/৮১
তথ্যসূত্র :
বই: ওয়াহীর জ্ঞান। সংকলন: মোহাম্মদ সাইদুর রহমান; সম্পাদনা: অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক; প্রকাশনায়: তাওহীদ পাবলিকেশন্স। পঞ্চদশ অধ্যায়ঃ কুরআন
ওয়াহীর জ্ঞান ১৪ পর্ব
ওয়াহীর জ্ঞান ১৪ পর্ব

Price : *Happy Shopping
Order via whatsapp Order via Email

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Content copy is disabled! Default text copied.