নিফাক্ব(মুনাফিক,)তার পরিচয় ও প্রকারভেদ | শরিফ গাজী অফিসিয়াল

নিফাক্ব(মুনাফিক,)তার পরিচয় ও প্রকারভেদ




নিফাক্ব(মুনাফিক,)তার পরিচয় ও প্রকারভেদ
========================
মূলঃ শায়খ সালেহ বিন ফাওযান।
========================:
نفاق
শব্দটি ভাষাগত نافق এর শব্দ মুলক অার ইহা نافقاء হতে গৃহীত।এবং নাফেকায়া বলতে, জংলী ইঁদুর তার গর্ত হতে বের হওয়ার সুড়ংগ পথগুলির কোন একটিকে বুঝায়।অার ইঁদুরকে মুনাফিক এই জন্য বলা হয় যে, তাকে যখন ধরার জন্য তার বহিরাগমন একটি পথে সন্ধান করা হয়, তখন সে ভিন্ন পথে পালিয়ে গিয়ে সেখান দিয়ে বেরিয়ে পড়ে।মতান্তরে ঃ নিফাক শব্দটি نفق হতে গৃহীত।অার এটি এমন সুড়ংগ,যেখানে ইঁদুর অাত্বগোপন করে থাকে।[ইবনে অাসীর রচিত "অান -নিহায়া " ৫/৯৭]
========================

অার শরীয়তের পরিভাষায়نفاق শব্দের অর্থ মুখে ইসলাম প্রকাশ করা এবং অন্তরে কুফর ও ক্বতিকর বিষয় গোপন রাখা।উহাকে এই নামে এজন্য নামকরন করা হয়েছে যে,সে ইসলামের মধ্যে এক পথ দিয়ে প্রবেশ করে এবং সে উহা হতে অন্য পথ দিয়ে বের হয়ে যায়।ঐ মর্মে অাল্লাহ তাঅালা তার ভাষায় সতর্ক করে বলেছেনঃ
ان المنافقين هم الفاسقون،،
অর্থাৎ নিশ্চই মুনাফিকরাই ফাসিক।[সুরা তওবাঃ৬৭]

তার অর্থ হল তারা শরীয়ত থেকে বের হয়ে যায়।অার অাল্লাহ তাঅালা মুনাফিকদের কাফিরদেন চেয়ে অধিকতর নিকৃষ্ট বলেছেন সেহেতু অাল্লাহ তাঅালা বর্ণনা করেনঃ
إن المنافقين في الدرك الأسفل من النار،،

অর্থাৎ নিশ্চই মুনাফিকরা রয়েছে জাহান্নামের সর্ব নিম্নস্তরে।[সুরা নিসাঃ১৪৫]

মহান অাল্লাহ অারো বলেনঃ
إن المنافقين يخادعون الله وهو خادعهم..

অবশ্যই মুনাফিকরা প্রথারনা করেছে অাল্লাহর সাথে অার অাল্লাহ তাদের বদলা দানকারী।[সুরা নিসাঃ১৪২]

يخادعون الله والذين آمنوا وما يخدعون إلاأنفسهم وما يشعرون قلو بهم مرض فزاد هم الله مرضا ولهم عذاب أليم بما كانوايكذبون،،،

অর্থাৎ তারা অাল্লাহ এবং ঈমানদারগনকে ধোকা দেয়।এতে তারা নিজেদেরকে ছাড়া অন্য কাউকে ধোকা দেয় না।অথচ তারা তো অনুভব করতে পারে না।তাদের অন্তর ব্যধিগ্রস্ত অার অাল্লাহ তাদের ব্যধি অারো বাড়িয়ে দিয়েছেন বস্তত তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ভয়াবহ অাযাব তাদের মিথ্যাচারের দরুন।[সুরা বাকারাঃ৯-১০]

>>>>মুনাফিকের প্রকারভেদ<<<<<
মুনাফিক দুই প্রকারঃ

(১) মুনাফিক এ'তেকাদী বা বিশ্বাষগত মুনাফিক। এটা হচ্ছে বড় মুনাফিক। মুনাফিক ব্যক্তি মুখে ইসলাম প্রকাশ করে অার অন্তরে কুফরী গোপন রাখে।এ প্রকারের মুনাফিককে ইসলাম থেকে সম্পূর্ণরূপে বহিস্কার করে দেয়। এ রখম মুনাফিকি যার মধ্যে থাকবে সে জাহান্নামের অতল তলে তলিয়ে যাবে।অাল্লাহ তাঅালা এ ধরনের মুনাফিক ব্যক্তিকে সর্ব প্রকার অকল্যানকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।যেমন কুফরী করা,ঈমান অানয়ন না করা,ধর্ম এবং ধর্মীয় লোকদেরকে উপহাস করা ও তাদেরকে নিয়ে ঠাট্রা করা এবং ইসলামের শত্রুদের সাথে একাত্বতা করে ইসলামের শত্রুতার জন্য পূর্ণরূপে ঝুকে পড়া।অার এ ধরনের লোকদেরকে সর্ব যুগেই পাওয়া যায়। বিশেষ করে ইসলাম যখন শক্তিশালী হয়ে উঠে তখন তারা প্রকাশ্যভাবে প্রতিহত করতে পারে না,তাই তারা ইসলামে বাহ্যিকভাবে প্রবেশ করে গোপনে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে।অার যাতে করে তারা মুসলমানদের সাথে থেকে জীবন যাপন করতে পারে এবং তাদের জান ও মাল নিরাপদে রাখতে পারে।সুতরাং মুনাফিক ব্যক্তি অাল্লাহ,ফিরিস্তা,কিতাবসমূহ ও রাসুলগন এবং শেষ বিচারের দিনের প্রতি প্রকাশ্যভাবে ঈমান অানে অথচ সে গোপনে ঐ সকল জিনিসের প্রতি ঈমান অানা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখে,এবং এগুলোকে করে মিথ্যা প্রতিপন্ন।অাল্লাহতে বিশ্বাষ করে না,অার এ কথাও বিশ্বাষ করে না যে, অাল্লাহ এমন কিছু কথা বলেছেন যা কোন ব্যক্তির উপর নাযিল করেছেন,
যাকে তিনি মানুষের জন্য রাসুল হিসাবে পিঠিয়েছেন।সে রাসুল অাল্লাহর নির্দেশে তাদেরকে পথ দেখাবেন,এবং অাল্লাহ তাঅালা কুরঅান কারীমে এ সকল মুনাফিকদের পর্দা উন্মোচন করেছেন এবং তাদের গোপন ষড়যন্ত্র পাশ করে দিয়েছেন অার তিনি তার বান্দাদের তাদের (মুনাফিকদের) বিষয় সমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন।যাতে করে নেফাকী ষড়যন্ত্র! এবং মুনাফিকদের থেকে সতর্ক থাকতে পারে।অার তিনি (অাল্লাহ) সুরা বাকারার প্রথমাংশে তিন শ্রেনীর কথা উল্লেখ করেছেন তারা হলেন ঈমানদারগন,কাফিরগন ও মুনাফিকগন, অথএব মুমিনদের মর্মে ৪ টি অায়াত,অার কাফিরদের মর্মে দুটি অায়াত,অার মুনাফিকদের মর্মে ১৩ টি অায়াত নাযিল করেছেন তাদের সংখ্যায় বেশী হওয়া অার তাদের দ্বারা সাধারন বিপদ অাসা এবং ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি তাদের কঠিন ফিতনা হওয়ার কারনে।ফলে তাদের দ্বারা ইসলামের বিপর্যয় অতীব কঠিন হয়। কেননা তাদের মেলামোশা তাদের সহযোগীতা ইসলামের সাথে সংশ্লিষ্ট। কিন্ত তারা প্রকৃত পক্বে ইসলামের শত্রু।তারা বিভিন্ন প্রত্রুিয়ায় তার সাথে শত্রুতা প্রকাশ করে।মূর্খলোক ধারনা করে যে ইহাই জ্ঞানপূর্ণ এবং সংস্কার মূলক।পক্বান্তরে ইহা চরম মুর্খতা ও বিপর্যয় ছাড়া কিছু নয়।
[ইবনুল কাইয়্যিমা রচিত- মুনাফিকদের বর্ণনা গ্রন্থ থেকে।(মাজমুয়াতু তাওহীদ পৃষ্টা -৯]

অার এই মুনাফিকী ৬ প্রকারঃ
(১) রাসুলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা।
(২) রাসুলের অানিত বিধান সমূহের কতককে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা।
(৩) রাসুলের প্রতি বিদ্ধেষ পোষন করা।
(৪) রাসুলের অানিত বিধানের কতকের প্রতি বিদ্ধেষ পোষন করা।
(৫) রাসুলের দ্বীন অবনমিত হওয়ায় খুশী প্রকাশ করা।
(৬) রাসুলের দ্বীনের বিজয়কে খারপ মনে করা।
========================

>>দুই মুনাফিকি অামলী বা কর্মের মুনাফিকি<<<

অন্তরে ঈমান রেখে মুনাফিকদের কোন অামল করা, ইহাকে অামলী নিফাক (মুনাফিক) বলা হয়। অার এই মুনাফিকী ইসলামী মিল্লাত হতে বের করে না।কিন্ত ইহা মুনাফিক হওয়ার মাধ্যম। এ ধরনের মুনাফিকের মাঝে ঈমান ও নিফাক দুটাই থাকে।অার যখন মুনাফিকী বেশী হয়,তখন এ কারনে সে পূর্ণ মুনাফিক হয়ে যায়। এর প্রমান রাসুল (সাঃ) এর বানীঃ

أربع من كن فيه كان منافقا جالصا ومن كانت فيه خصلة منهن كانت فيه خصلة من النفاق حتى يدعها إذا أو تمن خان وإذا حدث كذب،وإذاعاهد غدر،وإذا خاصم فجر،،،

অর্থাৎ যাদের মধ্যে এই চারটি দোষ অাছে তারা পূর্ণ মুনাফিক এবং যার মধ্য এর কোন একটি ও অাছে, তার মধ্যে এই মুনাফিকী থাকবে যতক্বন পর্যন্ত না ত্যাগ করবে। (১) যখন তার নিকট অামানত রাখা হয়,তখন সে তা নষ্ট করে।(২) অার যখন যা বলে মিথ্যা বলে,(৩)অার যদি প্রতিজ্ঞা করে, ভংগ করে।(৪) অার যখন ঝগড়া করে তখন অশ্লীল ভাষা বলে।
[বুখারী, মুসলিম]

সুতরাং যার মধ্যে এই চারটি দোষ একত্রিত হবে তার মধ্যে সব ধরনের অন্যায় একত্রিত হবে এবং তার মধ্যে মুনাফিকীনদের গুনাবলী খালিস হবে।অার যার মধ্য একটি বৈশিষ্ট পাওয়া যাবে,সে একটি বৈশিষ্টের মুনাফিক হবে। সুতরাং কখনো কখনো একজন বান্দার মাঝে ভাল ও মন্দ বৈশিষ্ট,ঈমানী বৈশিষ্ট,কুফরী ও নেফাকী বৈশিষ্ট একত্রিত হয়।অার সে পূণ্য ও পাপের অধিকারী হয় তার কর্ম মুতাবিক।এর মধ্যে একটি হল মসজীদে জামঅাতের সাথে নামাজ অাদায় করার ব্যাপারে অলসতা করা।কেননা ইহা মুনাফিকী বৈশিষ্টের একটি। সুতরাং নেফাক হচ্ছে অতীব মন্দ ও ভয়ানক ক্বতিকর।অার সাহাবাগন এতে নিপতিত হওয়া থেকে ভয় করতেন।
ইবনু অাবী মুলাইকা বলেনঃঅামি রাসুল (সাঃ) এর ৩০ জন সাহাবীর সাথে সাক্বাত করেছি তারা সকলেই নিজের নফসের উপর নিফাককে ভয় করতেন।

>>বড় মুনাফিক ও ছোট মুনাফাকের মধ্যে পার্থক্য সমূহ<<
(১) মুনাফিকে অাকবার (বড়) ইসলামী মিল্লাত থেকে বের করে দেয়।পক্বান্তরে মুনাফিকে অাসগার (ছোট) ইসলামী মিল্লাত থেকে বের করে না।

(২) মুনাফিকে অাকবার এতেক্বাদে গোপনে ও প্রকাশ্যে ইখতেলাফ অার মুনাফিকে অাসগার প্রকাশ্যে ও গোপনে এতেক্বাদ ব্যতীত অামলেই ইখতেলাফ।

(৩)মুনাফিকে অাকবার মুমিন থেকে সংগটিত হয় না।কিন্ত মুনাফিকে অাসগার কখনও কখনও মুমিন থেকে সংঘটিত হয়ে থাকে।

(৪) মুনাফিকে অাকবার অধিকাংশ ক্বেত্রে মুনাফিক তওবা করে না,অার যদিও তওবা করে তবুও তার তওবা গ্রহনের ব্যাপারে অালেমদের নিকট মতভেদ রয়েছে। কিন্ত মুনাফিকে অাসগার তার বিপরীত কেননা ছোট মুনাফিকী ব্যক্তি কখনও কখনও অাল্লাহর নিকট তওবা করে,অতঃপর অাল্লাহ তার তওবা কবুল করেন।

قال شيخ السلام ابن تيميه ( و كثرا ما تعرض للمؤمن من شعبة من شعب النفاق ثم يتوب الله عليه وقد يرد على قلبه بعض ما يو جب النفاق ويدفعه الله عنه والمؤمن يبتلى بوساوس الشيطان وبو ساوس الكفر التي يضيق بها صدره كما قال الصحابة يا رسول الله إن أحدناليجد في نفسه ما لئن يخر من السماء إلى الأرض أحب إليه من أن يتكلم
به فقال) ذالك صريح الإيمان، وفي رواية، ما يتعاظم أن يتكلم به قال،،الحمد لله الذي رد كيده إلى الوسوسة،،أي حصول هذه الوساوس مع هذه الكراهة العظيمة ودفعه عن القلب هو من صريح الإيمان،انتهى،،،

শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ বলেছেনঃঅধিকাংশ ক্বেত্রে নিফাকের শাখা সমূহের কোন একটি শাখা মুমিনের মুখামুখী হয়,অতঃপর অাল্লাহ তার পাপ ক্বমা করেন।কখনও কখনও তার অন্তরে এমন কথা উদয় হয় যা,মুনাফেকী ওয়াজীব করে দেয়।কিন্ত অাল্লাহ উহা তার উপর হতে প্রতিহত করেন।অার মুমিন ব্যক্তি শয়তানের কুমন্ত্রনা এবং কুফরী কুমন্ত্রনা দ্বারা পরীক্বীত হয়, যা অন্তরকে সংকীর্ণ করে দেয়।
যেমন সাহাবা (রাঃ) বলতেন হে অাল্লাহর রাসুল! নিশ্চই অামাদের মধ্য কারো কারো অন্তরে এমন জিনিসের উদয় হয়, যা প্রকাশ হওয়ার চেয়ে অাকাশ থেকে পৃথিবীতে ছিটকে পড়াও তার চেয়ে উত্তম। অতঃপর উত্তরে তিনি (সাঃ) বল্লেনঃ ذلك صريح الإيمان
উহা হল স্পষ্ট ঈমান।[অাহমদ,মুসলিম]
অার অন্য বর্ণনায় অাছে যা বলতে ভারী লাগে প্রতি উত্তরে তিনি বল্লেনঃ সমস্ত প্রশংসা অাল্লাহর জন্য যিনি তার চত্রুান্তকে প্রতিহত করে কুমন্ত্রনায় পরিনত করেছেন,অর্থাৎ এত বিরাট ধরনের অপছন্দতা থাকা সত্বেও এ কুমন্ত্রনা অর্যন হওয়া এবং ইহা অন্তর থেকে প্রতিহত করাই হল প্রকৃত ঈমানের পরিচয়। সমাপ্ত।

অার বড় মুনাফিক তাদের মর্মে অাল্লাহ উল্লেখ করেছেনঃ
صم بكم عمي فهم لايرجعو

অর্থাৎ তারা বধির, মূক ও অন্ধ। সুতরাং তারা ফিরে আসবে না।[সুরা বাকারাঃ১৮]
তার অর্থ এই বুঝায় যে,তারা অন্তরিক ভাবে ইসলামের দিকে ফিরে অাসবে না এবং অাল্লাহ তাঅালা তাদের সম্পর্কে অারো বলেছেঃ

أولا يرون أنهم يفتنون في كل عام مرة أو مرتين ثم لا يتوبون ولا هم يذكرون،

অর্থাৎ তারা কি লক্ষ্য করে না, প্রতি বছর তারা দু'একবার বিপর্যস্ত হচ্ছে, অথচ, তারা এরপরও তওবা করে না কিংবা উপদেশ গ্রহণ করে না।[সুরা তওবাহঃ১২৬]

قال شيخ الإسلام ابن تيمية: وقد اختلف العلماء في قبول توبتهم في الظاهر،لكون ذلك لايعلم،إذ هم دائما يظهرون الإسلام،،

শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ বলেছেনঃঅালেমগন, প্রকাশ্যে তাদের (মুনাফিকদের) তওবা গ্রহন করার ব্যাপারে মতবিরোধ করেছেন।উহা এই জন্য যে,(তারা তওবা করল কিনা) জানা যায় না।কারন তারা সর্বদা মুখে ইসলাম প্রকাশ করে থাকে। [মাজমূউল ফাতাওয়াঃ ২৮/৪৩৪-৪৩৫]

নিফাক্ব(মুনাফিক,)তার পরিচয় ও প্রকারভেদ
নিফাক্ব(মুনাফিক,)তার পরিচয় ও প্রকারভেদ

Price : *Happy Shopping
Order via whatsapp Order via Email

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Content copy is disabled! Default text copied.