খাদ্য দ্বারা ফিতরা আদায় করা | শরিফ গাজী অফিসিয়াল

খাদ্য দ্বারা ফিতরা আদায় করা

>>>> খাদ্য দ্বারা ফিতরা আদায় করা <<<

ইয়াতীম ও মিসকীনকে সারা বছরই খাদ্য দান করা যায় কিন্তু সামনে খাদ্য দানের বিশেষ এক সুযোগ আসছে আর তা খাদ্য দান করেই আমল করা সুন্নাহ যাকে আমরা ফিতরা বলি। মহান আল্লাহ বলেন;

كَلَّا ۖ بَلْ لَا تُكْرِمُونَ الْيَتِيمَ وَلَا تَحَاضُّونَ عَلَىٰ طَعَامِ الْمِسْكِينِ وَتَأْكُلُونَ التُّرَاثَ أَكْلًا لَمًّا وَتُحِبُّونَ الْمَالَ حُبًّا جَمًّا

কখনো নয়, বরং তোমরা ইয়াতীমকে সম্মান কর না। আর তোমরা মিসকীনদের খাদ্য দানে পরষ্পরকে উৎসাহিত কর না। আর তোমরা উত্তরাধিকারীদের সম্পত্তি সম্পূর্ণরূপে খেয়ে ফেল। আর তোমরা ধন-সম্পদকে খুবই ভালবাস। (আল-ফাজ্‌র: ৮৯/১৭-২০)

.

অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন;

أَرَأَيْتَ الَّذِي يُكَذِّبُ بِالدِّينِ فَذَٰلِكَ الَّذِي يَدُعُّ الْيَتِيمَ وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ الْمِسْكِينِ

তুমি কি দেখেছ তাকে, যে বিচার দিবসকে অস্বীকার করে? সে তো সে-ই ব্যক্তি, যে ইয়াতীমকে রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেয় এবং মিসকীনদের খাদ্য দানে উদ্বুদ্ধ করে না। (আল-মা‘উন: ১০৭/১-৩)

.

إِنَّهُ كَانَ لَا يُؤْمِنُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ الْمِسْكِينِ

নিশ্চয় সে মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করত না, আর মিসকীনকে খাদ্যদানে উৎসাহিত করত না। (আল-হাক্‌কাহ: ৬৯/৩৩-৩৪)

.

অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন;

وَيُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَىٰ حُبِّهِ مِسْكِينًا وَيَتِيمًا وَأَسِيرًا إِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللَّهِ لَا نُرِيدُ مِنْكُمْ جَزَاءً وَلَا شُكُورًا

আর তাদের (সম্পদে) মহব্বত থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অভাবগ্রস্ত, ইয়াতীম ও বন্দীকে খাবার দান করে এবং তারা বলে, ‘শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির লাভের উদ্দেশ্যে আমরা তোমাদেরকে খাবার দান করি। আমরা তোমাদের কাছ থেকে প্রতিদান চাই না এবং কৃতজ্ঞতাও নয়। (আদ-দাহ্‌র: ৭৬/৮-৯) 

.

আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, 

فُكُّوْا الْعَانِيَ يَعْنِي الأَسِيْرَ وَأَطْعِمُوْا الْجَائِعَ وَعُوْدُوْا الْمَرِيْضَ

তোমরা কয়েদি মুক্ত কর, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও এবং অসুস্থদের শুশ্রুষা কর। (সহীহুল বুখারী ৩০৪৫, ৫১৭৪, ৫৩৭৩, ৫৬৭৯, ৬১৬৩)

.

>>> যাকাতুল ফিতর <<<

যাকাতুল ফিতর বা ফিতরা হলঃ রমজানের রোজার শেষে প্রতিটি মুসলিমের উপর যে যাকাত ফরয হয় তাকে ফিতরা বলা হয়। হাদীসে এর নাম সদাকাতুল ফিতর ও যাকাতুল ফিতর উভয়ই পাওয়া যায়। এটি শরীরের যাকাত, এর উদ্দেশ্য হল রমযানের নিরর্থক কথা ও অশ্লীল আচরণ থেকে পবিত্র করা এবং মিসকিনদের খাদ্য প্রদান করা। খাদ্যদ্রব্য দ্বারা ফিতরা প্রদান করাই হল রাসূলের সুন্নাত। আবূ সা’ঈদ খূদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 

يَوْمَ الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ طَعَامٍ‏.‏ وَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ وَكَانَ طَعَامَنَا الشَّعِيرُ وَالزَّبِيبُ وَالأَقِطُ وَالتَّمْرُ

আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে ঈদের দিন এক সা‘ পরিমাণ খাদ্য সাদাকাতুল ফিতর হিসাবে আদায় করতাম। আবূ সা’ঈদ আরও বলেন, আমাদের খাদ্যদ্রব্য ছিল যব, কিসমিস, পনির ও খেজুর। সহীহুল বুখারী: ১৫১০

.

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 

زَكَاةَ الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ عَلَى الْعَبْدِ وَالْحُرِّ، وَالذَّكَرِ وَالأُنْثَى، وَالصَّغِيرِ وَالْكَبِيرِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، وَأَمَرَ بِهَا أَنْ تُؤَدَّى قَبْلَ خُرُوجِ النَّاسِ إِلَى الصَّلاَةِ

প্রত্যেক গোলাম, আযাদ, পুরুষ, নারী, প্রাপ্ত বয়স্ক, অপ্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিমের উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাতুল ফিতর হিসাবে খেজুর হোক অথবা যব হোক এক সা‘ পরিমাণ আদায় করা ফরয করেছেন এবং লোকজনের ঈদের স্বলাতে বের হওয়ার পূর্বেই তা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। সহীহুল বুখারী: ১৫০৩

.

ইবনু উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 

فَرَضَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدَقَةَ الْفِطْرِ ـ أَوْ قَالَ رَمَضَانَ ـ عَلَى الذَّكَرِ وَالأُنْثَى، وَالْحُرِّ وَالْمَمْلُوكِ، صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ، فَعَدَلَ النَّاسُ بِهِ نِصْفَ صَاعٍ مِنْ بُرٍّ‏.‏ فَكَانَ ابْنُ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ يُعْطِي التَّمْرَ، فَأَعْوَزَ أَهْلُ الْمَدِينَةِ مِنَ التَّمْرِ فَأَعْطَى شَعِيرًا، فَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يُعْطِي عَنِ الصَّغِيرِ وَالْكَبِيرِ، حَتَّى إِنْ كَانَ يُعْطِي عَنْ بَنِيَّ، وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ يُعْطِيهَا الَّذِينَ يَقْبَلُونَهَا، وَكَانُوا يُعْطُونَ قَبْلَ الْفِطْرِ بِيَوْمٍ أَوْ يَوْمَيْنِ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক পুরুষ, মহিলা, আযাদ ও গোলামের পক্ষ থেকে সদাকাতুল ফিতর অথবা বলেছেন সদাকা-ই-রমাদ্বন হিসাবে এক সা‘ খেজুর বা এক সা‘ যব আদায় করা ফরয করেছেন। তারপর লোকেরা অর্ধ সা‘ গমকে এক সা‘ খেজুরের সমমান দিতে লাগল। (রাবী নাফি’ বলেন) ইবনে উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু খেজুর (সদাকাতুল ফিতর হিসাবে) দিতেন। এক সময় মাদীনায় খেজুর দুর্লভ হলে যব দিয়ে তা আদায় করেন। অতঃপর ইবনে উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু প্রাপ্ত বয়স্ক ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক সকলের পক্ষ থেকেই সদাকাতুল ফিতর আদায় করতেন, এমনকি আমার সন্তানদের পক্ষ থেকেও সদাকার দ্রব্য গ্রহীতাদেরকে দিয়ে দিতেন এবং ঈদের এক-দু’ দিন পূর্বেই আদায় করে দিতেন। সহীহুল বুখারী: ১৫১১

.

সুতরাং আমাদের সকলেরই উচিত খাদ্যদ্রব্য দ্বারা ফিতরা আদায় করা। টাকা বা অর্থের দ্বারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীরা ফিতরা আদায় করেননি।

খাদ্য দ্বারা ফিতরা আদায় করা
খাদ্য দ্বারা ফিতরা আদায় করা

Price : *Happy Shopping
Order via whatsapp Order via Email

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Content copy is disabled! Default text copied.