ভাগে বা শরীক কুরবানী
ভাগে বা শরীক কুরবানী >>>>
বেশিরভাগ আহলুল ইলমগণের মতে কুরবানী ভাগে তথা অংশিদারিত্বে দেয়া বৈধ। এটিই আবূ হানীফা নু’মান ইবনে ছাবিত, ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইদরীস আশ্-শাফেয়ী, ইমাম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল আশ্ শাইবানী, ইমাম সুফইয়ান বিন সাঈদ আছ্ ছাওরী, ইমাম আবূ আব্দুর্ রহমান, আল্ আওযায়ী, ইমাম আবূ ইউসুফ ইয়াকূব ইবনে ইবরাহীম আল্ আনসারী, ইমাম মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আশ্ শাইবানী (রহ.) সহ প্রমুখের। হাম্বলী মাযহাবের প্রখ্যাত ফকীহ্ আল্লামা আব্দুল্লাহ্ ইবনে আহমাদ ইবনে কুদামা হাম্বলী (রহ.) লিখেছেন,
ﻭﺗﺠﺰﺉ ﺍﻟﺒﺪﻧﺔ ﻋﻦ ﺳﺒﻌﺔ ، ﻭﻛﺬﻟﻚ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ ﻭﻫﺬﺍ ﻗﻮﻝ ﺃﻛﺜﺮ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻌﻠﻢ . ﺭﻭﻱ ﺫﻟﻚ ﻋﻦ ﻋﻠﻲ ﻭﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﻭﺍﺑﻦ ﻣﺴﻌﻮﺩ ﻭﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﻭﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻢ ، ﻭﺑﻪ ﻗﺎﻝ ﻋﻄﺎﺀ ﻭﻃﺎﻭﺱ ﻭﺳﺎﻟﻢ ﻭﺍﻟﺤﺴﻦ ﻭﻋﻤﺮﻭ ﺑﻦ ﺩﻳﻨﺎﺭ ﻭﺍﻟﺜﻮﺭﻱ ﻭﺍﻷﻭﺯﺍﻋﻲ ﻭﺍﻟﺸﺎﻓﻌﻲ ﻭﺃﺑﻮ ﺛﻮﺭ ، ﻭﺃﺻﺤﺎﺏ ﺍﻟﺮﺃﻱ
অর্থাৎ “একটি উট সাত ভাগে অনুরূপ গরু সাত ভাগে কুরবানী দেয়া জায়েয, এটা বেশির ভাগ আহলুল ইলমের বক্তব্য। এমনটি বর্ণিত হয়েছে, সাহাবী আলী, ইবনে উমর, ইবনে মাসঊদ, ইবনে আব্বাস, আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) হতে। আর এই বক্তব্য ছিল, তাবেয়ী আতা, তাউস, সালেম, হাসান বসরী, আমর্ ইবনে দীনার, সুফইয়ান সাওরী, আওযায়ী, শাফেয়ী, আবূ সওর, আবূ হানীফা ও তাঁর ছাত্রদের মত।” [আল মুগনী, লিইবনে কুদামা, ৯ম খণ্ড, পৃ. ৩৪৬]
.
সহীহ মুসলিমের হাদীসঃ
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ نَحَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ الْبَدَنَةَ عَنْ سَبْعَةٍ وَالْبَقَرَةَ عَنْ سَبْعَةٍ
জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমরা হুদায়বিয়ার বছর, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে একটি উটে সাতজন এবং একটি গরুতে সাতজন শরীক হয়েছি।
[সহীহ মুসলিম, ৩০৭৬; মুয়াত্তা মালিক, হা. ১৩৭৩, ২১২৯; মুসনাদে আহমাদ, ৩/২৯৩, ৩০১, ৩৭৮; সুনানে আবূ দাউদ, ২৮০৯; তিরমিযী: ১৫০২; সুনানে ইবনে মাজাহ, হা. ৩১৩২; সুনানে দারিমী, হা. ১৯৬১, ১৯৬২; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা. ২৯০০; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা. ৪০০৪, ৪০০৬]
.
হাদীসটি বর্ণনা করে ইমাম তিরমিযী (রহ.) বলেন,
ﺣَﺪِﻳﺚُ ﺟَﺎﺑِﺮٍ ﺣَﺪِﻳﺚٌ ﺣَﺴَﻦٌ ﺻَﺤِﻴﺢٌ . ﻭَﺍﻟﻌَﻤَﻞُ ﻋَﻠَﻰ ﻫَﺬَﺍ ﻋِﻨْﺪَ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟﻌِﻠْﻢِ ﻣِﻦْ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻭَﻏَﻴْﺮِﻫِﻢْ : ﻳَﺮَﻭْﻥَ ﺍﻟﺠَﺰُﻭﺭَ ﻋَﻦْ ﺳَﺒْﻌَﺔٍ، ﻭَﺍﻟﺒَﻘَﺮَﺓَ ﻋَﻦْ ﺳَﺒْﻌَﺔٍ، ﻭَﻫُﻮَ ﻗَﻮْﻝُ ﺳُﻔْﻴَﺎﻥَ ﺍﻟﺜَّﻮْﺭِﻱِّ، ﻭَﺍﺑْﻦِ ﺍﻟْﻤُﺒَﺎﺭَﻙِ ﻭَﺍﻟﺸَّﺎﻓِﻌِﻲِّ، ﻭَﺃَﺣْﻤَﺪَ
ইমাম তিরমিযী বলেন, “জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসটি ﺣَﺴَﻦٌ ﺻَﺤِﻴﺢٌ হাসান সহীহ। আহলুল ইলমগণের মধ্যে সাহাবীগণ এবং প্রমুখের মত ও আমল ছিল এর উপর। তাঁরা একটি উটে সাতজন এবং একটি গাভীতে সাতজন মিলে কুরবানী করার মত পোষণ করেন। আর এটিই ইমাম সুফইয়ান ছাওরী, আব্দুল্লাহ্ ইবনুল মুবারক, শাফেয়ী এবং আহমাদ বিন হাম্বল (রহ.)-এর মত।”
(তিরমিযী, কিতাবুল আদ্বাহী, কুরবানী অধ্যায়; অংশিদারিত্বে কুরবানী সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, হা. ১৫০২ এর আলোচনায়; এছাড়াও হা. ৯০৪ এর আলোচনায়)
.
সহীহ মুসলিমের হাদীসটির ব্যাখ্যায় ইমাম নববী (রহ.) লিখেছেন,
ﻓِﻲ ﻫَﺬِﻩِ ﺍﻷَﺣَﺎﺩِﻳﺚ ﺩَﻻﻟَﺔ ﻟِﺠَﻮَﺍﺯِ ﺍﻟِﺎﺷْﺘِﺮَﺍﻙ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻬَﺪْﻱ ,ﻭَﺃَﺟْﻤَﻌُﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﺸَّﺎﺓ ﻻ ﻳَﺠُﻮﺯ ﺍﻻﺷْﺘِﺮَﺍﻙ ﻓِﻴﻬَﺎ . ﻭَﻓِﻲ ﻫَﺬِﻩِ ﺍﻷَﺣَﺎﺩِﻳﺚ ﺃَﻥَّ ﺍﻟْﺒَﺪَﻧَﺔ ﺗُﺠْﺰِﺉ ﻋَﻦْ ﺳَﺒْﻌَﺔ , ﻭَﺍﻟْﺒَﻘَﺮَﺓ ﻋَﻦْ ﺳَﺒْﻌَﺔ ,ﻭَﺗَﻘُﻮﻡ ﻛُﻞّ ﻭَﺍﺣِﺪَﺓ ﻣَﻘَﺎﻡ ﺳَﺒْﻊ ﺷِﻴَﺎﻩ
এই হাদীসগুলো থেকে কুরবানীর পশু অংশীদারে বা ভাগে কুরবানী করার দলীল পাওয়া যাচ্ছে। আর উলামায়ে কেরামগণ এ বিষয়ে একমত যে, ছাগল ভাগে কুরবানী করা জায়েয নেই। আর এই হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, একটি উট সাত জন মিলে ভাগে এবং একটি গরু সাত জন মিলে ভাগে দিতে পারবে। আর একটি উট বা একটি গরু সাতটি ছাগলের সমান।”
[শরহুন্ নববী আলা মুসলিম, হা. ১৩১৮ এর ব্যাখ্যায়]
.
দ্বিতীয় হাদীসঃ
ﻋَﻦْ ﺟَﺎﺑِﺮِ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ : ﺍﻟْﺒَﻘَﺮَﺓُ ﻋَﻦْ ﺳَﺒْﻌَﺔٍ، ﻭَﺍﻟْﺠَﺰُﻭﺭُ ﻋَﻦْ ﺳَﺒْﻌَﺔٍ
জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন, “একটি গরু সাত ভাগে এবং একটি উট সাত ভাগে (কুরবানী হবে)।
(সুনানে আবূ দাউদ, অধ্যায়ঃ কিতাবুদ্ দ্বাহায়া; কুরবানী অধ্যায়; অনুচ্ছেদঃ গরু এবং উট কত ভাগে গণনা করা হবে সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ; ৪/৪৩২ হাদীস: ২৮০৮; প্রকাশনায়ঃ দারুর্ রিসালাহ্ আল্ ‘আলামিয়্যাহ; সনদ সহীহ)
.
প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও মুহাক্কিক শায়খ শুআইব আল্ আরনাঊত্ব (হাফিযাহুল্লাহ্) এই হাদীসের সনদকে ﺇﺳﻨﺎﺩﻩ ﺻﺤﻴﺢ বলেছেন। (সুনানে আবূ দাউদ, তাহকীকঃ শুআইব আরনাউত্ব, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৪৩২ এর টীকা। প্রকাশনায়ঃ দারুর্ রিসালাহ্ আল্ ‘আলামিয়্যাহ] শায়খ নাসীরুদ্দীন আলবানী (রহ.)ও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ আলবানী কৃত সহীহ ও যয়ীফ সুনানে আবূ দাউদ, হা. ২৮০৮)
.
অত্র হাদীছে সফরের কোন উল্লেখ নেই। পক্ষান্তরে ইহা নবী (ﷺ) এর কাওলী হাদীছ। তা ছাড়াও জাবির কর্তৃক বিস্তারিত বর্ণনাতেও একথা আদৌ বলা হয়নি ঐ শরীক কুরবানী সফরের সাথেই খাস ছিল। আর সহীহ মুসলিমের হাদীছেও সফরের কোন উল্লেখ নেই আর সহীহ মুসলিমের হাদীসটি দ্বারা সাহাবাগণের আমলের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। সুতরাং রাসুল (ﷺ) এর কাওল এবং সাহাবাগণের আমল দ্বারা প্রমাণ হচ্ছে; ভাগে বা শরীক কুরবানী বৈধ।
.
এবার সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া বোর্ড এবং প্রসিদ্ধ উলামায়ে কেরামগণের কিছু মতামত উল্লেখ করছিঃ সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি “আল্ লাজনাতুদ্ দায়িমা” তে ভাগে কুরবানী দেয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন আসলে, জবাব দেয়া হয়,
ﺗﺠﺰﺉ ﺍﻟﺒﺪﻧﺔ ﻭﺍﻟﺒﻘﺮﺓ ﻋﻦ ﺳﺒﻌﺔ ، ﺳﻮﺍﺀ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﺑﻴﺖ ﻭﺍﺣﺪ ﺃﻭ ﻣﻦ ﺑﻴﻮﺕ ﻣﺘﻔﺮﻗﻴﻦ ، ﻭﺳﻮﺍﺀ ﻛﺎﻥ ﺑﻴﻨﻬﻢ ﻗﺮﺍﺑﺔ ﺃﻭ ﻻ ؛ ﻷﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃﺫﻥ ﻟﻠﺼﺤﺎﺑﺔ ﻓﻲ ﺍﻻﺷﺘﺮﺍﻙ ﻓﻲ ﺍﻟﺒﺪﻧﺔ ﻭﺍﻟﺒﻘﺮﺓ ﻛﻞ ﺳﺒﻌﺔ ﻓﻲ ﻭﺍﺣﺪﺓ ، ﻭﻟﻢ ﻳﻔﺼﻞ ﺫﻟﻚ
অর্থাৎ “একটি উটে সাত জন এবং একটি গরুতে সাত জন মিলে ভাগে কুরাবানী বৈধ। চাই তা এক পরিবারের থেকে সাত ভাগ হোক বা কয়েক পরিবারের থেকে সাত ভাগ হোক। আর চাই তাদের মধ্যে কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকুক আর না থাকুক। তা জায়েয। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের একটি উটে সাত জন এবং একটি গরুতে সাত জন শরীক হয়ে কুরবানী করার অনুমতি দিয়েছিলেন।” [ফাতাওয়া আল্ লাজনাতুদ্ দায়িমা, ১১/৪০১]
.
শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল্ উছাইমিন (রহ.) “আহকামুল আদ্বহিয়্যাহ” কিতাবে লিখেছেন, .
ﻭﺗﺠﺰﺉ ﺍﻟﻮﺍﺣﺪﺓ ﻣﻦ ﺍﻟﻐﻨﻢ ﻋﻦ ﺍﻟﺸﺨﺺ ﺍﻟﻮﺍﺣﺪ ، ﻭﻳﺠﺰﺉ ﺳُﺒْﻊ ﺍﻟﺒﻌﻴﺮ ﺃﻭ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ ﻋﻤﺎ ﺗﺠﺰﺉ ﻋﻨﻪ ﺍﻟﻮﺍﺣﺪﺓ ﻣﻦ ﺍﻟﻐﻨﻢ
“ছাগল এক ব্যক্তির জন্য যথেষ্ঠ করে দেয়া হয়েছে। আর একটি উট এবং একটি গরুতে সেই সাত জনের অংশিদারিত্বে যথেষ্ঠ করা হয়েছে। যাদের জন্য সাতটি ছাগল যথেষ্ঠ হতো।”
.
সঊদী আরবের অন্যতম প্রসিদ্ধ আলেম, শায়খ ইবনে বায, ইবনে উছাইমিন (রহ.)’র অন্যতম ছাত্র শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আল্ মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ্) বলেন,
ﻳﺠﻮﺯ ﺍﻻﺷﺘﺮﺍﻙ ﻓﻲ ﺍﻷﺿﺤﻴﺔ ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻧﺖ ﻣﻦ ﺍﻹﺑﻞ ﺃﻭ ﺍﻟﺒﻘﺮ ، ﺃﻣﺎ ﺍﻟﺸﺎﺓ ﻓﻼ ﻳﺠﻮﺯ ﺍﻻﺷﺘﺮﺍﻙ ﻓﻴﻬﺎ . ﻭﻳﺠﻮﺯ ﺃﻥ ﻳﺸﺘﺮﻙ ﺳﺒﻌﺔ ﺃﺷﺨﺎﺹ ﻓﻲ ﻭﺍﺣﺪﺓ ﻣﻦ ﺍﻟﺒﻘﺮ ﺃﻭ ﺍﻹﺑﻞ
“যদি উট অথবা গরু কুরবানী করা হয়, তাহলে তা ভাগে দেয়া যাবে। আর যদি ছাগল, ভেড়া অথবা দুম্বা কুরবানী দেয়া হয়, তাহলে ভাগে দেয়া যাবে না। আর একটি গরু অথবা একটি উটে সাতজন অংশিদার শরীক হতে পারবে।”
.
উপরোক্ত আলোচনার দ্বারা এটা প্রমাণিত হয় যে, উট বা গরু ভাগে বা শরীকে কুরবানী দেয়া বৈধ। এটা যে শুধু সফর অবস্থায় বৈধ তা নয়; বরং সর্বাবস্থায় বৈধ। মুহাদ্দিসীনে কেরামগণ এবং ফুকাহায়ে কেরামগণ এটিই বলেছেন। তাঁরা তো উক্ত হাদীসগুলোকে সফর অবস্থার সাথে সম্পৃক্ত করেন নাই। তাঁরা তো এটি সর্বাবস্থায় জায়েয বলেছেন। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি, প্রখ্যাত উলামাগণ এটিকে সর্বাবস্থায় বৈধ বলেছেন। ভাগে কুরবানী দেয়া বৈধ। তবে উত্তম হলো একাই একটি পশু কুরবানী দেয়া।
>>> পর্যায়ক্রমে সর্বোত্তম কুরবানী: <<<
১. উট দ্বারা করা। ২. এরপর গরু দ্বারা। ৩.এরপর দুম্বা দ্বারা। ৪.খাশি দ্বারা করা।
৫. এরপর ভাগা দ্বারা করা। উপরে ৭ জন পর্যন্ত উটে ও গরুতে শরিক হওয়া যাবে। যত ভাগ কম হবে ততো উত্তম হবে-২,৩, ৪, ৫, ৬ ও ৭ জন এভাবে।
পশু সংকট বা অর্থ সংকট থাকলে মুকীম (বাড়ীতে অবস্থানকালে) অবস্থায় ভাগা দ্বারা কুরবানী করা জায়েজ। ইহা চার ইমাম ও চার মাজহাব এবং অধিকাংশ আলেমগণের মত। শুধুমাত্র জাহেরী মাজহাবে বাড়ীতে ভাগাতে কুরবানী করা যাবে না বলে উল্লেখ রয়েছে। এ মাজহাবটি নিয়ে কিছু স্বঘষিত মুফতি যে বাড়াবাড়ি করছেন সেটি বড় ধরনের ফেৎনা সৃষ্টি হচ্ছে।
সুন্নত ও জায়েজ-এর মাঝে পার্থক্য বুঝার চেষ্টা করা প্রয়োজন এ ধরনের মুফতি সাহেবগণের।
হে আল্লাহ ! আমাদের সকলকে সঠিক জানার, মানার ও দাওয়াত-তাবলীগ করার তৌফিক দান করুন। আর সর্বপ্রকার ফেৎনা হতে দূরে রাখুন। আমীন
অনুরোধ: যাঁরা এর বিপক্ষে অবস্থান নিবেন তাঁরা এ নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ করবেন না। যার যারটা মানেন অন্যকে বাধ্য করার চেষ্টা করবেন না।
শাইখ সাইফুদ্দিন বেলাল মাদানীর পোস্ট হতে সংগৃহীতঃ

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url