নিশ্চয়ই আমার উম্মত তেহাত্তর দলে বিভক্ত হবে, তাদের একদল জান্নাতী এবং বাহাত্তর দল জাহান্নামী।
নাজী কারা? >>> এর জবাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে তিনটি বক্তব্য এসেছে।
এক- যে দলটি জান্নাতে যাবে তাদের পরিচয় সম্পর্কে রাসূল (ﷺ) বলেন, إِلاَّ مِلَّةً وَاحِدَةً কেবলমাত্র একটি দল (যারা জান্নাতী), সাহাবীগণ বললেন, وَمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللهِ؟ হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা ? (যারা জান্নাতী), উত্তরে তিনি বললেন مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِيْ ‘যার উপরে আমি ও আমার সাহাবীগণ আছি’। [আত-তিরমিযী: ২৬৪১]
অন্যত্র রাসূল (ﷺ) বলেন, مَا أَنَا عَلَيْهِ الْيَوْمَ وَأَصْحَابِي ‘আজকের দিনে আমি ও আমার ছাহাবীগণ যার উপরে আছি’ (হাকেম ১/১২৯)।
অর্থাৎ এখানে রাসূল (ﷺ) কেবল তরীকা ও বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছেন, কোন দলের নাম বলে যাননি।
দুই- وَهِيَ الْجَمَاعَةُ ‘সেটি হ’ল আল-জামা‘আত’।
[ইবনু মাজাহ হা/৩৯৯২; আহমাদ, আবুদাঊদ হা/৪৫৯৭; মিশকাত হা/১৭২।]
যার অর্থ جماعة الصحابة ‘ছাহাবীগণের জামা‘আত’।
তারা হল الْجَمَاعَةُ [আল-জামা‘আহ] একটি দল। আওফ বিন মালেক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
افْتَرَقَتْ الْيَهُودُ عَلَى إِحْدَى وَسَبْعِينَ فِرْقَةً فَوَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ وَسَبْعُونَ فِي النَّارِ وَافْتَرَقَتْ النَّصَارَى عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً فَإِحْدَى وَسَبْعُونَ فِي النَّارِ وَوَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَتَفْتَرِقَنَّ أُمَّتِي عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً وَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ وَثِنْتَانِ وَسَبْعُونَ فِي النَّارِ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ هُمْ قَالَ الْجَمَاعَةُ
ইহুদীরা একাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে, তন্মধ্যে একদল জান্নাতী এবং সত্তর দল জাহান্নামী। খ্রীষ্টানরা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে, তন্মধ্যে একাত্তর দল জাহান্নামী ও একদল জান্নাতী। ঐ সত্ত্বার শপথ! যাঁর হাতে মুহাম্মাদের জীবন, নিশ্চয়ই আমার উম্মত তেহাত্তর দলে বিভক্ত হবে, তাদের একদল জান্নাতী এবং বাহাত্তর দল জাহান্নামী। জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? (যারা জান্নাতী) তিনি বললেন, তারা হল الْجَمَاعَةُ (আল-জামা‘আহ) একটি দল। [ইবনে মাজা: ২/৩২১]
অর্থাৎ এখানে রাসূল (ﷺ) আল-জামা‘আহ-এর কথা বলেছেন, কোন দলের নাম বলে যাননি।
ইসলামী আকীদার পরিভাষায় জামাআত হল, উম্মতে মুহাম্মাদীর নেককার ব্যক্তিবর্গ। যেমন-সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ী এবং কিয়ামত পর্যন্ত আগত নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসারীগণ, যারা কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাতে রাসূলের উপর ঐকমত্য পোষণকারী। [শরহু আকীদাতি আত-তহাবী: ৬৮পৃ:]
খ্যাতনামা ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ)-এর কাছে রাসূল (ﷺ) বর্ণিত ‘আল-জামা‘আত’ অর্থ কি- একথা জিজ্ঞেস করা হ’লে তিনি বলেন,
اَلْجَمَاعَةُ مَا وَافَقَ الْحَقَّ وَإِنْ كُنْتَ وَحْدَكَ
‘হক-এর অনুগামী দলই জামা‘আত, যদিও তুমি একাকী হও’।
[ইবনু আসাকির, তারীখু দিমাশ্ক্ব, সনদ ছহীহ; হাশিয়া মিশকাত আলবানী, হা/১৭৩।]
নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, যখন জামাআত ভেঙ্গে যাবে তখন তোমার জন্য আবশ্যক হল, ভেঙ্গে যাওয়ার পূর্বে জামাআত যে উদ্দেশ্য ও আর্দশের উপর ছিল সে আর্দশের উপর অটল থাকা, যদিও তুমি একা হও। কেননা সে সময় তুমি একাই জামাআত হিসেবে গণ্য হবে। [ইগাসাতিল লাফহান, ইবনে তাইমিয়া: ১/৭০]
তিন- السَّوَادُ الأَعْظَمُ ‘বড় দল’।
[মুসনাদে আবী ইয়া‘লা হা/৩৯৪৪, আলবানী সনদ যঈফ; মিশকাত হা/১৭৪।]
অর্থাৎ বড় দল ব্যতীত ছোট দল সব জাহান্নামী হবে। অথচ সংখ্যায় বড় দল হওয়ার কোন গুরুত্ব ইসলামে নেই। কেননা আল্লাহ বলেন,
وَإِنْ تُطِعْ أَكْثَرَ مَنْ فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَنْ سَبِيلِ اللهِ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلاَّ الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلاَّ يَخْرُصُونَ
‘যদি তুমি অধিকাংশ লোকের অনুসরণ করো, তাহ’লে ওরা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে ফেলবে। কেননা ওরা কেবল ধারণার অনুসরণ করে এবং অনুমান ভিত্তিক কথা বলে’ (আন‘আম ৬/১১৬)।
সে কারণ ছাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন مَنِ السَّوَادُ الْأَعْظَمُ يَا رَسُوْلَ اللهِ؟ ‘বড় দল কোনটি হে আল্লাহর রাসূল’? জবাবে তিনি বললেন, مَنْ كَانَ عَلىَ مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِيْ ‘আমি ও আমার ছাহাবীগণ যার উপরে আছি, যে ব্যক্তি তার অনুসারী হবে’।
[ত্বাবারাণী কাবীর হা/৭৬৫৯ সনদ যঈফ; সৈয়ূত্বী, জাম‘উল জাওয়ামে‘ হা/৫৬৯।]
অর্থাৎ এখানে ‘বড়’ সংখ্যায় নয়, বরং মর্যাদায় বড়। কেননা আল্লাহ বলেন, وَقَلِيلٌ مِنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ ‘আমার কৃতজ্ঞ বান্দার সংখ্যা কম হবে’(সাবা ৩৪/১৩)।
অতএব দেখা যাচ্ছে যে, বর্ণিত তিনটি বক্তব্যের সারমর্ম একটাই। রাসূল (ﷺ) কোন দলের নাম বলে যাননি বরং তিনি বলেছেন, যারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর ছাহাবাদের তরীকা, বৈশিষ্ট্যের অনুসারী, তারাই ফের্কায়ে নাজিয়াহ বা মুক্তিপ্রাপ্ত দল। সুতরাং একা হলেও যদি নীতি বা আর্দশ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের হয় তাহলে সেটাই হকপন্থী দল। নিঃসন্দেহে তারা হলেন ‘আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত’ অর্থাৎ যথার্থভাবেই নবীর সুন্নাত ও সাহাবীগণের জামা‘আতের অনুসারী ব্যক্তি বা দল।
কুরআনে আল্লাহর দল >>>
إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ وَمَنْ يَتَوَلَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْغَالِبُونَ
তোমাদের বন্ধু কেবলমাত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আর মুমিনগণ যারা সালাত কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহর কাছে অবনত হয়। আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আর মুমিনদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, তবে নিশ্চয় সেটি আল্লাহর দল আর তারাই বিজয়ী হবে। আল-মায়িদাহ, ৫/৫৫-৫৬
لا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ أُولَئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ الإيمَانَ وَأَيَّدَهُمْ بِرُوحٍ مِنْهُ وَيُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الأنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ أُولَئِكَ حِزْبُ اللَّهِ أَلا إِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাসী এমন কোন সম্প্রদায়/দল তুমি পাবে না যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচারীদেরকে ভালবাসে, হোক না এই বিরোধীরা তাদের পিতা, পুত্র, ভাই অথবা তাদের জ্ঞাতি গোষ্ঠি। আল্লাহ এদের অন্তরে ঈমান বদ্ধমূল করে দিয়েছেন, এবং তাদেরকে তাঁর অদৃশ্য শক্তি দ্বারা শক্তিশালী করেছেন; তিনি তাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতসমূহে যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারাসমূহ প্রবাহিত হয়, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে; আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে; এরাই আল্লাহর দল; জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহর দলই সফলকাম। আল-মুজাদালাহ, ৫৮/২২
Price : *Happy Shopping

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url