পিতা-মাতার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে কয়েকটি হাদীস | শরিফ গাজী অফিসিয়াল

পিতা-মাতার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে কয়েকটি হাদীস

>>> পিতা-মাতার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে কয়েকটি হাদীস <<<


আলেম-ওলামারা শুধু পিতা-মাতার খেদমতের হাদিস বয়ান করে থাকে, অথচ সন্তান লালন-পালনের অনেক হাদিস রয়েছে, যে ব্যপারে এক অজানা নিরবতার মধ্যে আমরা আছি। দুই একজন হুজুর এ ব্যপারে কথা বললেও সর্বোচ্চ সন্তানকে দ্বীনি শিাক্ষাদানের গুরুত্ব পর্যন্তই সীমাবদ্ধ।
পিতার দায়িত্বের ব্যাপারে ইমাম ইবনুল কাইয়েম খুব উপকারী একটি মন্তব্য করেছেন, তিনি বলেন, কয়েকজন আহলে ইলম, জ্ঞানবান ব্যক্তি বলেছেন যে, “বিচার দিবসে প্রথমে পিতাকে তার সন্তান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। আর এটা হবে সন্তানকে তার পিতা সম্পর্কে প্রশ্ন করার পূর্বেই। কারণ পিতার যেমন সন্তানের উপর অধিকার রয়েছে, তেমনি সন্তানেরও পিতার উপর অধিকার রয়েছে।”
.
সহীহ হাদীসে এসেছে, সালমান ফারেসী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,
إِنَّ لِرَبِّكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَإِنَّ لِنَفْسِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَلِأَهْلِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، فَأَعْطِ كُلَّ ذِىْ حَقٍّ حَقًّهُ
তোমার উপর তোমার রবের হক রয়েছে, তোমার নিজের হক রয়েছে এবং তোমার পরিবারের হক রয়েছে, অতএব প্রত্যেককে তার অধিকার দাও। রাসূল (ﷺ)-এর কাছে সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর এ বক্তব্য পেশ করা হলে তিনি বলেন, صَدَقَ سَلْمَانُ অর্থাৎ সালমান সত্য বলেছে। (সহীহুল বুখারী ১৯৬৮)

পুরুষ তার পরিবার পরিজনের দায়িত্বশীল, নারী তার স্বামীর ঘরের দায়িত্বশীল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং প্রত্যেককে যার যার দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে হবে বলে ঘোষণা এসেছে।
ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন:
أَلاَ كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ فَالأَمِيرُ الَّذِي عَلَى النَّاسِ رَاعٍ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَالرَّجُلُ رَاعٍ عَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْهُمْ وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ عَلَى بَيْتِ بَعْلِهَا وَهِيَ مَسْئُولَةٌ عَنْهُ وَالْعَبْدُ رَاعٍ عَلَى مَالِ سَيِّدِهِ وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْهُ أَلاَ فَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ
সাবধান! তোমরা প্রত্যেকেই রাখাল (দায়িত্বশীল) এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার রাখালী (দায়িত্বকর্ম) সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। যিনি জনগণের শাসক (নেতা) তাকে তার রাখালী (দায়িত্বকর্ম) সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। পুরুষ তার পরিবারের লোকদের রাখাল (দায়িত্বশীল) এবং সে তার দায়িত্বকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের রাখাল (দায়িত্বশীল) এবং তাকে তার দায়িত্বকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। সেবক তার মনিবের সম্পদের রাখাল (দায়িত্বশীল) তাকে তার দায়িত্বকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব, সাবধান! তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার দায়িত্বকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।
(সহীহুল বুখারী ৮৯৩, ২৪০৯, ২৫৫৪, ২৫৫৮, সহীহ মুসলিম ৪৬১৮, তিরমিযী ১৭০৫, আবূ দাউদ ২৯২৮)

আয়েয ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
إِنَّ شَرَّ الرِّعَاءِ الْحُطَمَةُ فَإِيَّاكَ أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ
নিকৃষ্ট রাখাল হল যে রাখালিতে বড় কঠোর, তাই তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে সাবধান থাকো। (সহীহ মুসলিম ৪৬২৭)


পিতা-মাতার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে কয়েকটি হাদীস
পিতা-মাতার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে কয়েকটি হাদীস

Price : *Happy Shopping
Order via whatsapp Order via Email

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Content copy is disabled! Default text copied.