নিরপরাধ মানুষ হত্যা সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা বলেন,
নিরপরাধ মানুষ হত্যা সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা বলেন,
مَنْ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَا أَحْيَا النَّاسَ جَمِيعًا
যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে হত্যা করে অন্য প্রাণের বিনিময় ব্যতীত, কিংবা তার দ্বারা ভূ-পৃষ্ঠে কোন ফিতনা-ফাসাদ বিস্তার ব্যতীত, তাহলে সে যেন সমস্ত মানুষকে হত্যা করে ফেলল; আর যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে বাঁচাল, তাহলে সে যেন সমস্ত মানুষকে বাঁচাল। (আল-মায়েদা, ৫/৩২)
হত্যা সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা আরো বলেন,
وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ ۗ وَمَنْ قُتِلَ مَظْلُومًا فَقَدْ جَعَلْنَا لِوَلِيِّهِ سُلْطَانًا فَلَا يُسْرِفْ فِي الْقَتْلِ ۖ إِنَّهُ كَانَ مَنْصُورًا
আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা কর না; কেহ অন্যায়ভাবে নিহত হলে তার উত্তরাধিকারীকে আমি প্রতিশোধ গ্রহণের অধিকার দিয়েছি। সুতরাং হত্যার ব্যাপারে সে যেন সীমালঙ্ঘন না করে; নিশ্চয় সে হবে সাহায্যপ্রাপ্ত। (আল-ইসরা, ১৭/৩৩)
হাদীছে এসেছে, আব্দুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী (ﷺ) ইরশাদ করেন;
لاَ يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ يَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلاَّ بِإِحْدَى ثَلاَثٍ النَّفْسُ بِالنَّفْسِ وَالثَّيِّبُ الزَّانِي، وَالْمَارِقُ مِنَ الدِّينِ التَّارِكُ الْجَمَاعَةَ
কোন মুসলিম যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। তিনটি কারণ ব্যতীত তাকে হত্যা করা বৈধ নয়। ১। প্রাণের বদলে প্রাণ। ২। বিবাহিত ব্যভিচারী। আর ৩। দ্বীন ইসলাম পরিত্যাগ করে মুসলিমদের দল পরিত্যাগকারী ব্যক্তি। (সহীহুল বুখারী: ৬৮৭৮; সহীহ মুসলিম: ৪২৬৭)
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা বলেন,
وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَٰهًا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ ۚ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَٰلِكَ يَلْقَ أَثَامًا
আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহকে ডাকে না, আর আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তারা তাকে হত্যা করে না, এবং ব্যভিচার করে না আর যে ব্যক্তি এগুলি করবে, সে শাস্তি ভোগ করবে (ফুরকান, ২৫/৬৮)
এ প্রসঙ্গে সহীহ হাদীছে আরও এসেছে,
فَوَاللَّهِ مَا قَتَلَ رَسُولُ اللَّهِ قَطُّ، إِلاَّ فِي إِحْدَى ثَلاَثِ خِصَالٍ
আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তিনটি কারণের কোন একটি ব্যতীত কাউকে হত্যা করেন নাই।
رَجُلٌ قَتَلَ بِجَرِيرَةِ نَفْسِهِ فَقُتِلَ، أَوْ رَجُلٌ زَنَى بَعْدَ إِحْصَانٍ، أَوْ رَجُلٌ حَارَبَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَارْتَدَّ عَنِ الإِسْلاَمِ
কোন ব্যক্তিকে হত্যা করা হলে তার প্রাণের বিনিময় হত্যা করা অথবা কোন ব্যক্তি বিয়ের পর যিনা করে, অথবা কোন ব্যক্তি আল্লাহও তাঁর রাসূল–এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ও ইসলাম থেকে ফিরে মুরতাদ হয়ে যায়। (সহীহুল বুখারী: ৬৯০০)
হত্যার শাস্তি সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা বলেন,
وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيمًا
আর যে কেহ ইচ্ছাকৃত কোন মুমিনকে হত্যা করবে, তার প্রতিদান হচ্ছে জাহান্নাম, সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর আল্লাহ তার উপর ক্রুদ্ধ হবেন, তাকে অভিশাপ করবেন এবং তার জন্য বিশাল আযাব প্রস্তুত করে রাখবেন। (আন-নিসা, ৪/৯৩)
অত্র আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কোন ব্যক্তি কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করলে আল্লাহ তার জন্য চারটি বিষয় নির্ধারণ করেন।
(১) এরূপ ব্যক্তি জাহান্নামে চিরকাল থাকবে।
(২) এমন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হন। আর যার প্রতি আল্লাহ ক্রুদ্ধ হন, সে আল্লাহর রহমত ও দয়ার আশা করতে পারে না।
(৩) এরূপ ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ অভিশাপ করেন। আর যার প্রতি আল্লাহ অভিশাপ করেন, সে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হবে।
(৪) এমন ব্যক্তির জন্য আল্লাহ ভয়াবহ শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন।
হাদীছে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
لاَ تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا، يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ
আমার পরে তোমরা একে অপরের গর্দান কেটে (অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে) কুফরীর দিকে ফিরে যেও না। (সহীহুল বুখারী: ৭০৭৭, ৭০৭৯, ৭০৮০, ৬১৬৬, ৬৮৬৮, ৬৮৬৯; সহিহ মুসলিম: ১২৬, ১২৮)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ يُعَذِّبُ الَّذِينَ يُعَذِّبُونَ النَّاسَ فِي الدُّنْيَا
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাদেরকে শাস্তি দিবেন যারা পৃথিবীতে (অন্যায়ভাবে) মানুষকে শাস্তি দেয়। (সহিহ মুসলিম, হা/৬৫৫২, ৬৫৫৪)
অপর একটি বর্ণনায় এসেছে, ইবনু উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
لَنْ يَزَالَ الْمُؤْمِنُ فِي فُسْحَةٍ مِنْ دِينِهِ، مَا لَمْ يُصِبْ دَمًا حَرَامًا
মুমিন ব্যক্তি তার দীনের ব্যাপারে সর্বদা অবকাশের মধ্যেই থাকে যে পর্যন্ত না সে নিষিদ্ধ রক্তপাত ঘটায়। (বুখারী: ৬৮৬২)
হাদীছে এসেছে, আবুদ দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, ‘আল্লাহ হয়তো সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। কিন্তু তাঁর সাথে শিরককারী বা ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মুমিন ব্যক্তিকে হত্যাকারীর গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করবেন না’। (আবু দাঊদ: ৪২৭০, হাদীছ ছহীহ)
ইমাম ইবনে হাযম রহ. বলেন: সময় মত স্বলাত আদায় না করা এবং অন্যায়ভাবে কোন মুমিন ব্যক্তিকে হত্যা করা; শিরকের পর সব চেয়ে বড় গুনাহ। (কিতাবুল কাবায়ির লিযযাহাবী পৃ.২৬)
অন্য বর্ণনায় এসেছে, ওবাদা ইবনুছ ছামেত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কোন মুমিন ব্যক্তিকে হত্যা করবে, আল্লাহ তা’আলা তার কোন নফল ও ফরয ইবাদত কবুল করবেন না’। (আবু দাঊদ, হাদীছ ছহীহ)
আব্দুল্লাহ বিন ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "আল্লাহর নিকট সারা দুনিয়া ধ্বংস হওয়ার চাইতেও গুরুতর বিষয় হচ্ছে, কোন মুসলিমকে হত্যা করা"। (তিরমিযীঃ ১৩৯৫; নাসাঈঃ ৩৯৮৭; ইবনু মাযাহঃ ২৬৬৮)।
আবুদ্দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’মুমিন ব্যক্তি নেককার হিসাবে বিদ্যমান থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা না করবে’। সিলসিলা ছহীহা, হা/৫১১)
কোন মুসলিম ভাইয়ের দিকে অস্ত্র তাক করাও ইসলামে নিষিদ্ধ >>>
হাদীছে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,
سِبَابُ المُسْلمِ فُسُوْقٌ وَقِتَالُهُ كُفْرٌ
কোন মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসিকী (গুনাহের) কাজ এবং তার সাথে লড়াই করা কুফরী। (সহীহুল বুখারী: ৪৮, ৬০৪৪, ৭০৭৬, সহীহ মুসলিম: ১২৪)
এ হাদীছ দ্বারা বুঝা যায়, ইসলামে অন্যায়ভাবে নির্দোষ ও নিরপরাধ ব্যক্তির সাথে লড়াই করা হারাম করা হয়েছে। এমনকি কোন মুসলিম ভাইয়ের দিকে অস্ত্র তাক করাও ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السِّلاَحَ فَلَيْسَ مِنَّا
যে ব্যক্তি আমাদের উপর অস্ত্র উত্তোলন করবে সে আমাদের দলভূক্ত নয়। (সহীহুল বুখারী: ৭০৭০, ৭০৭১, ৬৮৭৪ সহিহ মুসলিম: ১৮১, ১৮৩, ১৮৪)
আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন;
مَنْ أَشَارَ إِلَى أَخِيهِ بِحَدِيدَةٍ فَإِنَّ الْمَلاَئِكَةَ تَلْعَنُهُ حَتَّى وَإِنْ كَانَ أَخَاهُ لأَبِيهِ وَأُمِّهِ
যে ব্যক্তি তার ভাই-এর প্রতি অস্ত্র উত্তোলন করে সে তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত ফিরিশতাগণ তাকে অভিশাপ করতে থাকে যদিও তার ভাই বৈপিত্রেয় ও বৈমাত্রেয় হয়। (সহিহ মুসলিম: ৬৫৬০)
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আরও বলেছেন;
لاَ يُشِيرُ أَحَدُكُمْ إِلَى أَخِيهِ بِالسِّلاَحِ فَإِنَّهُ لاَ يَدْرِي أَحَدُكُمْ لَعَلَّ الشَّيْطَانَ يَنْزِعُ فِي يَدِهِ فَيَقَعُ فِي حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ
তোমাদের মধ্যে কেউ যেন অস্ত্র উচিয়ে তার ভাই এর দিকে ইশারা না করে। কেননা, তোমাদের কারো জানা নেই, হয়ত শয়তান তার (অস্ত্রের) হাতে ভর করে তাকে জাহান্নামের গর্তে নিক্ষেপ করবে। (সহিহ মুসলিম: ৬৫৬২)
যে সকল ব্যক্তিকে হত্যা করা হারাম >>>
যে সকল ব্যক্তিকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন তারা হচ্ছে; মুসলিম ব্যক্তি, চুক্তিবদ্ধ কাফির, যিম্মী এবং নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ব্যক্তি। আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,
مَنْ قَتَلَ مُعَاهَدًا لَمْ يَرَحْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ، وَإِنَّ رِيحَهَا تُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ أَرْبَعِينَ عَامًا
‘যে ব্যক্তি চুক্তিতে থাকা কোন ব্যক্তিকে হত্যা করল সে জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না। যদিও জান্নাতের সুগন্ধি চল্লিশ বছরের দুরত্ব থেকে পাওয়া যাবে।’ (সহীহুল বুখারী, হা/৩১৬৬)
আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,
مَنْ قَتَلَ نَفْسًا مُعَاهَدًا لَمْ يَرَحْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ، وَإِنَّ رِيحَهَا يُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ أَرْبَعِينَ عَامًا
যে ব্যক্তি নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি প্রদত্ত কাউকে হত্যা করে, সে জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না যদিও জান্নাতের সুগন্ধি চল্লিশ বছরের দুরত্ব থেকে পাওয়া যাবে।’ (সহীহুল বুখারী, হা/৬৯১৪)
হাদীস দুটিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কাফিরকে হত্যার ভয়াবহতা বর্ণনা করা হয়েছে। প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কাফিরকে হত্যা করার পরিণাম যদি এমন হয় তাহলে একজন মুসলিমকে হত্যা করার পরিণাম কী হতে পারে পারে জ্ঞানী লোকদের একটু ভাবা উচিত। আরেক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আবী বাকরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,
مَنْ قَتَلَ مُعَاهِدًا فِي غَيْرِ كُنْهِهِ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ
‘যে ব্যক্তি চুক্তিতে থাকা কোন অমুসলিমকে অসময়ে (অন্যায়ভাবে) হত্যা করবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন’। [আবূ দাঊদ: ২৭৬০; নাসাঈ: ৪৭৪৭, শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন]
আত্মহত্যা কিংবা আত্মঘাতী হামলাও হারাম >>>
ইসলামে হত্যা যেমন নিষিদ্ধ তেমনী ইসলামে আত্মহত্যা কিংবা আত্মঘাতী হামলাও হারাম। মহান আল্লাহ বলেন,
وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا
আর তোমরা নিজেরা নিজদেরকে হত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে পরম দয়ালু। (আন-নিসা, ৪/২৯)
আত্মঘাতী হামলার মাধ্যমে আত্মহত্যা করলে চিরস্থায়ী জাহান্নাম। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ
كَانَ بِرَجُلٍ جِرَاحٌ فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَقَالَ اللَّهُ بَدَرَنِي عَبْدِي بِنَفْسِهِ حَرَّمْتُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ
এক ব্যক্তির যখম ছিল, সে আত্মহত্যা করল। তখন আল্লাহ পাক বললেন, আমার বান্দা তার প্রাণ নিয়ে আমার সাথে তাড়াহুড়া করল। আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম। (সহীহুল বুখারী: ১৩৬৪)
আত্মহত্যার শাস্তি সম্পর্কে হাদীছে আরও এসেছে, আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ
مَنَ قَتَلَ نَفْسَهُ بِحَدِيدَةٍ فَحَدِيدَتُهُ فِي يَدِهِ يَتَوَجَّأُ بِهَا فِي بَطْنِهِ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا وَمَنْ شَرِبَ سَمًّا فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَهُوَ يَتَحَسَّاهُ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا وَمَنْ تَرَدَّى مِنْ جَبَلٍ فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَهُوَ يَتَرَدَّى فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا
যে ব্যক্তি কোন ধারাল অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করবে, যে অস্ত্র তার হাতে থাকবে, জাহান্নামের মধ্যে সে অস্ত্র দ্বারা সে তার পেটে আঘাত করতে থাকবে, এভাবে সেখানে সে চিরকাল অবস্হান করবে। আর যে ব্যক্তি বিষপানে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামের আগুনের মধ্যে অবস্হান করে উক্ত বিষ পান করতে থাকবে, এভাবে সেখানে সে চিরকাল অবস্থান করবে। আর যে ব্যক্তি নিজকে পাহাড় থেকে পড়ে গিয়ে করে আত্মহত্যা করবে, সে ব্যক্তি সর্বদা পাহাড় থেকে নিচে গড়িয়ে জাহান্নামের আগুনে পতিত হতে থাকবে, এভাবে সে ব্যক্তি সেখানে চিরকাল অবস্হান করবে। (সহিহ মুসলিম: ২০০; সহীহুল বুখারী: ৫৭৭৮)
কিয়ামতের পুর্বে হত্যাযজ্ঞ ব্যাপকতা লাভ করবে >>>
আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَكْثُرَ الْهَرْجُ " . قَالُوا وَمَاالْهَرْجُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " الْقَتْلُ الْقَتْلُ
কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষন না ‘হারজ’ বৃদ্ধি পাবে। সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! ‘হারজ’- কি? জবাবে তিনি বললেন, হত্যা, হত্যা। (সহিহ মুসলিম: ৭১৪৯)
আবূ মুসা হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
إِنَّ بَيْنَ يَدَىِ السَّاعَةِ أَيَّامًا يُرْفَعُ فِيهَا الْعِلْمُ، وَيَنْزِلُ فِيهَا الْجَهْلُ، وَيَكْثُرُ فِيهَا الْهَرْجُ، وَالْهَرْجُ الْقَتْلُ
কিয়ামাতের পূর্বে এমন একটি সময় আসবে যখন ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে এবং সর্বত্র মূর্খতা ছড়িয়ে পড়বে, আর তখন হারজ ব্যাপকতর হবে। ‘হারজ’ হলো হত্যা। (সহীহুল বুখারী: ৭০৬৪)
আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ
يَتَقَارَبُ الزَّمَانُ، وَيَنْقُصُ الْعَمَلُ، وَيُلْقَى الشُّحُّ، وَتَظْهَرُ الْفِتَنُ، وَيَكْثُرُالْهَرْجُ ". قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّمَ هُوَ. قَالَ " الْقَتْلُ الْقَتْلُ
যখন কিয়ামতের সময় নিকটবর্তী হতে থাকবে, আমল কমে যাবে, কৃপণতা ঢেলে দেওয়া হবে, ফিৎনার বিকাশ ঘটবে, ‘হারাজ’ বেড়ে যাবে। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন। হে আল্লাহর রাসূল, ‘হারজ’ কি? তিনি বললেনঃ হত্যা, হত্যা। (সহীহুল বুখারী: ৭০৬১, ৬০৩৭)
আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقْبَضَ الْعِلْمُ، وَتَكْثُرَ الزَّلاَزِلُ، وَيَتَقَارَبَ الزَّمَانُ، وَتَظْهَرَ الْفِتَنُ، وَيَكْثُرَ الْهَرْجُ ـ وَهْوَ الْقَتْلُ الْقَتْلُ ـ حَتَّى يَكْثُرَ فِيكُمُ الْمَالُ فَيَفِيضُ ".
কিয়ামত কায়েম হবে না, যে পর্যন্ত না ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে, অধিক পরিমাণে ভূমিকম্প হবে, সময় সংকুচিত হয়ে আসবে, ফিৎনা প্রকাশ পাবে এবং হারজ বৃদ্ধি পাবে তোমাদের সম্পদ এত বৃদ্ধি পাবে যে, উপচে পড়বে। (সহীহুল বুখারী: ১০৩৬)
এই সময় হত্যাকারী এবং নিহত ব্যক্তি উভয় জাহান্নামী >>>
আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لاَ يَدْرِي الْقَاتِلُ فِي أَىِّ شَىْءٍ قَتَلَ وَلاَ يَدْرِي الْمَقْتُولُ عَلَى أَىِّ شَىْءٍ قُتِلَ
ঐ সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, মানুষের নিকট এমন এক সময় আসবে, যখন হত্যাকারী জানবে না যে, কি অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং নিহত ব্যক্তিও জানবে না যে, কি অপরাধে সে নিহত হয়েছে।
فَقِيلَ كَيْفَ يَكُونُ ذَلِكَ
প্রশ্ন করা হল, এমন যুলুম কিভাবে হবে?
قَالَ
তিনি উত্তরে বললেনঃ
الْهَرْجُ . الْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ
সে যুগটা হবে হত্যার যুগ। এরুপ যুগের হত্যাকারী ও নিহত উভয় ব্যক্তিই জাহান্নামী হবে। (সহিহ মুসলিম: ৭১৯৫, ৭১৯৬)
আবূ বাকরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন; আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে,
إِذَا الْتَقَى الْمُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا فَالْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ
যখন দু’জন মুসলিম তরবারি নিয়ে পরস্পর সংঘর্ষে লিপ্ত হয় তখন হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তির অবস্থান হবে জাহান্নাম।
قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا الْقَاتِلُ فَمَا بَالُ الْمَقْتُولِ
আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! হত্যাকারীর ব্যাপারটা তো বোধগম্য ছিল। কিন্তু নিহত ব্যক্তির ব্যাপার সে কেমন?
قَالَ
তিনি বললেন,
إِنَّهُ كَانَ حَرِيصًا عَلَى قَتْلِ صَاحِبِهِ
সেও তার বিরোধীকে হত্যা করতে উদগ্রীব ছিল। (সহীহুল বুখারী: ৬৮৭৫, ৭১৪৫, সহিহ মুসলিম: ৭১৪৪)
পরিশেষে বলবো, আমরা কঠিন যুগ পার করছি, তাই মুমিন ব্যক্তির উচিত হবে এইসব হত্যাযজ্ঞ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। আর জিহাদের নামে বিভ্রান্ত হয়ে হত্যাযজ্ঞ-এর দিকে ফিরে যাওয়া হবে অজ্ঞতা ও জাহেলীয়াতে নামান্তর।
আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ
اجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوبِقَاتِ
তোমরা সাতটি ধ্বংসকারী বিষয় থেকে বেঁচে থাক।
قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا هُنَّ
আরয করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! সেগুলো কি কি?
قَالَ
তিনি বললেন:
الشِّرْكُ بِاللَّهِ وَالسِّحْرُ وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيمِ وَأَكْلُ الرِّبَا وَالتَّوَلِّي يَوْمَ الزَّحْفِ وَقَذْفُ الْمُحْصَنَاتِ الْغَافِلاَتِ الْمُؤْمِنَاتِ
(১) আল্লাহর সাথে শরীক করা,
(২) যাদু করা,
(৩) আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করা,
(৪) ইয়াতীমের মাল (অন্যায়ভাবে) ভক্ষণ করা,
(৫) সুদ খাওয়া,
(৬) যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা এবং
(৭) সাধ্বী সরলমনা ঈমানদার নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করা।
(সহীহুল বুখারী: ২৭৬৬, ৬৮৫৭ সহীহ মুসলিম: ১৬৩)
নিরপরাধ মানুষ হত্যা সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা বলেন,
Price : *Happy Shopping

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url