নামায সম্পর্কে অতি গুরুত্বপূর্ণ১৭০টি প্রশ্নোত্তর (৩য় পর্ব)
নামায সম্পর্কে অতি গুরুত্বপূর্ণ
১৭০টি প্রশ্নোত্তর (৩য় পর্ব)
প্রবন্ধটি পড়া হলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।
শুরু করছি মহান আল্লাহর নামে যিনি পরম করুনাময়, অসীম
দয়ালু।
মূল: শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন (রহ.) ।
অনুবাদক: মুহাঃ আব্দুল্লাহ আল-কাফী ও আব্দুল্লাহ শাহেদ
আল-মাদানী
।
প্রশ্নঃ (২৩৮) স্বশব্দে ‘বিসমিল্লাহ্…” পাঠ করার বিধান কি?
উত্তরঃ সঠিক কথা হচ্ছে, স্বশব্দে ‘বিসমিল্লাহ্..’ পাঠ করা
উচিত নয়। সুন্নাত হচ্ছে নীরবে পাঠ করা। কেননা ‘বিসমিল্লাহ্..’
সূরা ফাতিহার অংশ নয়। কিন্তু কখনো যদি স্বশব্দে তা পাঠ
করে, তাতে কোন অসুবিধা নেই। বিদ্বানদের মধ্যে কেউ কেউ
বলেন, বরং কখনো স্বশব্দে ‘বিসমিল্লাহ্..’ পাঠ করা উচিত।
কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত
হয়েছে, “তিনি কখনো স্বশব্দে ‘বিসমিল্লাহ্..’ পাঠ
করতেন।”কিন্তু বিশুদ্ধভাবে যা প্রমাণিত হয়েছে তা হচ্ছে,
“তিনি উহা স্বশব্দে পাঠ করতেন না।” আর এটাই উত্তম। তবে
যদি কখনো বিসমিল্লাহ্ স্বশব্দে পাঠ করে এতে কোন
অসুবিধা হবে না।
প্রশ্নঃ (২৩৯) দু’আ ইসে-ফ্তাহ্ বা নামায শুরুর দু’আ (ছানা)
পাঠ করার হুকুম কি?
উত্তরঃ নামায শুরুর ছানা ফরয-সুন্নাত সকল ছালাতে পাঠ করা
সুন্নাত- ওয়াজিব নয়।উচিত হচ্ছে মুছল্লী নামায শুরুর দু’আ
সমূহ থেকে একবার এটা একবার ওটা পাঠ করবে। যাতে করে সকল
সুন্নাতের উপর আমল করা সম্ভব হয়। একটি দু’আ ছাড়া আর
কিছু জানা না থাকলেও কোন অসুবিধা নেই। বাহ্যিকভাবে বুঝা
যায় রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই
ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের দু’আ পাঠ করেছেন। যেমন, নামাযের
শুরুতে, তাশাহুদে, নামাযের পরের যিকির। এধরণের বিভিন্নতার
উদ্দেশ্য হচ্ছে উম্মতের জন্য সহজ করা। এর দু’টি উপকারিতা
আছেঃপ্রথম উপকারিতাঃ মানুষ সর্বদা এক ধরণের দু’আ পাঠ
করবে না। কেননা একটা বিষয় সর্বদা করতে থাকলে সেটা সাধারণ
অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। ফলে অনেক সময় উদাসীনতা বা
অলসতা থাকলেও অভ্যাস বশতঃ তা হয়ে যায়। তখন অন্তরের
উপস্থিতি সেখানে দুর্বল হয়ে যায়। কিন্তু দু’আগুলো থেকে যদি
কখনো এটা কখনো ওটা পাঠ করে তবে অন্তর উপস্থিত থাকে।
যা বলে তা বুঝার দরকার পড়ে।দ্বিতীয় উপকারিতাঃ উম্মতের
জন্য সহজ করা। যার জন্য যেটা সহজ হবে সেটাই পাঠ করবে।
সময় ও প্রয়োজন মোতাবেক কখনো এটা কখনো ওটা পাঠ
করবে।প্রশ্নঃ (২৪০) ‘আমীন’ বলা কি সুন্নাত?
উত্তরঃ হ্যাঁ। আমীন বলা সুন্নাতে মুআক্কাদাহ্। বিশেষ করে
ইমাম যখন আমীন বলেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।
তিনি বলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
ﺇِﺫَﺍ ﺃَﻣَّﻦَ ﺍﻟْﺈِﻣَﺎﻡُ ﻓَﺄَﻣِّﻨُﻮﺍ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻣَﻦْ ﻭَﺍﻓَﻖَ ﺗَﺄْﻣِﻴﻨُﻪُ ﺗَﺄْﻣِﻴﻦَ
ﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔِ ﻏُﻔِﺮَ ﻟَﻪُ ﻣَﺎ ﺗَﻘَﺪَّﻡَ ﻣِﻦْ ﺫَﻧْﺒِﻪِ
“ইমাম যখন আমীন বলেন তোমরাও আমীন বলবে। কেননা যার
আমীন বলা ফেরেস্তাদের আমীন বলার সাথে মিলে যাবে তার
পূর্বের গুনাহ্ ক্ষমা করা হবে।”
ইমাম ও মুক্তাদীর আমীন বলা একই সময়ে হতে হবে। কেননা
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
“ইমাম যখন আমীন বলেন তোমরাও আমীন বলবে।”
প্রশ্নঃ (২৪১) (ইয়্যাকানা’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন) পাঠ করার
সময় ‘আমরা আল্লাহ্র কাছে সাহায্য চাই’। এরূপ কথা বলার
বিধান কি?
উত্তরঃ মুক্তাদীর জন্য আবশ্যক হচ্ছে ইমামের পড়া চুপ করে
শোনা। ইমাম যখন সূরা ফাতিহা শেষ করে আমীন বলবেন সেও
আমীন বলবে। এই আমীন বলা ইমামের সূরা ফাতিহা পাঠ করার
সময় কোন দু’আ ইত্যাদি বলা থেকে যথেষ্ট হবে।
প্রশ্নঃ (২৪২) নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার বিধান কি?
উত্তরঃ নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার ব্যাপারে বিদ্বানদের
থেকে নিম্নরূপ মত পাওয়া যায়।
প্রথম মতঃ নামাযে কখনই সূরা ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব নয়।
স্বরব, নীরব কোন নামাযেই ইমাম, মুক্তাদী, একাকী- কারো
জন্য পাঠ করা ওয়াজিব নয়। ওয়াজিব হচ্ছে কুরআন থেকে সহজ
যে কোন কিছু পাঠ করা। তাদের দলীল হচ্ছেঃ আল্লাহ্ বলেন,
ﻓَﺎﻗْﺮَﺀُﻭﺍ ﻣَﺎ ﺗَﻴَﺴَّﺮَ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥِ
“অতএব তোমরা কুরআন থেকে সহজ কোন কিছু পাঠ কর।” (সূরা
মুযাম্মিল- ২০)
তাছাড়া নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামায শেখাতে
গিয়ে গ্রাম্য লোকটিকে বলেছিলেন,
“কুরআন থেকে তোমার জন্য সহজ হয় এমন কিছু পাঠ করবে।”
দ্বিতীয় মতঃ স্বরব, নীরব সকল নামাযে ইমাম, মুক্তাদী,
একাকী- সবার জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ করা রুকন বা অবশ্য
কর্তব্য। অনুরূপভাবে মাসবূক এবং নামাযের প্রথম থেকে
জামাআতে শামিল ব্যক্তির জন্যও রুকন।
তৃতীয় মতঃ ইমাম ও একাকী ব্যক্তির জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ করা
রুকন। কিন্তু স্বরব বা নীরব কোন নামাযেই মুক্তাদীর জন্য
ওয়াজিব নয়।
চতুর্থ মতঃ ইমাম ও একাকী ব্যক্তির জন্য স্বরব বা নীরব
নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করা রুকন। কিন্তু মুক্তাদীর জন্য
নীরবের নামাযে রুকন স্বরব নামাযে নয়।
আমার মতে প্রাধান্যযোগ্য মতটি হচ্ছেঃ স্বরব, নীরব সকল
নামাযে ইমাম, মুক্তাদী, একাকী- সবার জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ
করা রুকন বা ফরয। তবে মাসবূক যদি ইমামের রুকূর সময় নামাযে
শামিল হয়, তবে সূরা ফাতিহা পাঠ করা রহিত হয়ে যাবে। একথার
দলীল হচ্ছে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর
সাধারণ বাণীঃ তিনি বলেন,
ﻻﺻَﻼﺓَ ﻟِﻤَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳَﻘْﺮَﺃْ ﺑِﻔَﺎﺗِﺤَﺔِ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ
“যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পাঠ করবে না তার নামায হবে না।”
তিনি আরো বলেন,
ﻣَﻦْ ﺻَﻠَّﻰ ﺻَﻠَﺎﺓً ﻟَﻢْ ﻳَﻘْﺮَﺃْ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺑِﺄُﻡِّ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥِ ﻓَﻬِﻲَ ﺧِﺪَﺍﺝٌ ﺛَﻠَﺎﺛًﺎ
ﻏَﻴْﺮُ ﺗَﻤَﺎﻡٍ
“যে ব্যক্তি ছালাত আদায় করবে অথচ তাতে উম্মুল কুরআন সূরা
ফাতিহা পাঠ করবে না তার ছালাত অসম্পূর্ণ- রাসূলুল্লাহ্
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) কথাটি তিনবার বলেছেন।”
অর্থাৎ- তার নামায বাতিল।
উবাদা বিন ছামেত বর্ণিত হাদীছে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম) একদা ফজরের নামায শেষ করে ছাহাবীদের লক্ষ্য
করে বললেনঃ
ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢْ ﺗَﻘْﺮَﺀُﻭﻥَ ﺧَﻠْﻒَ ﺇِﻣَﺎﻣِﻜُﻢْ ﻗُﻠْﻨَﺎ ﻧَﻌَﻢْ ﻫَﺬًّﺍ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻗَﺎﻝَ ﻟَﺎ ﺗَﻔْﻌَﻠُﻮﺍ ﺇِﻟَّﺎ ﺑِﻔَﺎﺗِﺤَﺔِ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻟَﺎ ﺻَﻠَﺎﺓَ ﻟِﻤَﻦْ ﻟَﻢْ
ﻳَﻘْﺮَﺃْ ﺑِﻬَﺎ
“তোমরা কি ইমামের পিছনে কোন কিছু পাঠ কর? তাঁরা বললেন,
হ্যাঁ, হে আল্লাহ্র রাসূল! দ্রুত পাঠ করে থাকি। তিনি বললেন,
তোমরা এরূপ করো না। তবে উম্মুল কুরআন সূরা ফাতিহা পাঠ
করবে। কেননা যে ব্যক্তি উহা পাঠ করবে না তার নামায হবে
না।”
স্বশব্দের নামাযের ক্ষেত্রে এটি সুস্পষ্ট দলীল যে, সূরা
ফাতিহা ছাড়া নামায হবে না।
কিন্তু মাসবূকের জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ করা রহিত হয়ে যাবে।
একথার দলীল হচ্ছেঃ আবু বাকরা (রাঃ) এর হাদীছ। তিনি নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে রুকূ অবস্থায় পেলেন।
তখন দ্রুতগতিতে কাতারে পৌঁছার আগেই তিনি রুকূ করলেন।
এরপর ঐ অবস্থায় হেঁটে হেঁটে কাতারে প্রবেশ করলেন। নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামায শেষ করে জিজ্ঞেস
করলেন, কে এরূপ করেছে? আবু বাকরা বললেন, আমি হে
আল্লাহ্র রাসূল! নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
বললেনঃ
ﺯَﺍﺩَﻙَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺣِﺮْﺻًﺎ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﻌُﺪْ
“আল্লাহ্ তোমার আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দিন। তবে এরূপ আর
কখনো করিও না।”
এ হাদীছে দেখা যায় আবু বাকরা যে রাকাআতটি ছুটে যাওয়ার ভয়ে
তাড়াহুড়া করলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
তাকে ঐ রাকাআতটি পুনরায় আদায় করার আদেশ করলেন না। এটা
ওয়াজিব হলে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সে
আদেশ করতেন। যেমনটি আদেশ করেছিলেন ঐ ব্যক্তিকে যে
কিনা তাড়াহুড়া করে নামায আদায় করেছিল, আর নামাযের রুকন
ওয়াজিব যথাযথভাবে আদায় করছিল না। তখন নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে নামায ফিরিয়ে পড়ার আদেশ
করেছিলেন।
মাসবূকের সূরা ফাতিহা পাঠ রহিত হওয়ার যুক্তিগত দলীল হচ্ছেঃ
এই মাসবূক তো কিরআত পাঠ করার জন্য দাঁড়ানোর সুযোগই
পায়নি। অতএব সুযোগ না পেলে তার আবশ্যকতাও রহিত হয়ে
যাবে। যেমন হাত কাটা ব্যক্তি ওযু করার সময় তার হাতের কাটা
অংশের পরিবর্তে বাহু ধৌত করবে না। বরং ধৌত করার স্থান
উপস্থিত না থাকার কারণে এ ফরয রহিত হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে
যে ব্যক্তি ইমামকে রুকূ অবস্থায় পেল তার জন্য সূরা ফাতিহা
পাঠ করা রহিত হয়ে যাবে। কেননা ক্বিরআত পাঠ করার জন্য
দন্ডায়মান হওয়ার সুযোগই সে পায়নি। আর ইমামের অনুসরণ
করতে গিয়ে এখানে দন্ডায়মান হওয়াও রহিত হয়ে যাবে।
আমার দৃষ্টিতে এমতটিই সর্বাধিক বিশুদ্ধ। পূর্বোল্লেখিত
উবাদা বিন ছামেত (রাঃ) এর হাদীছটি- (ফজরের নামাযে
ক্বিরআত পাঠ সংক্রান্ত হাদীছটি) যদি না থাকতো, তবে
স্বরবে কিরাআত বিশিষ্ট নামাযে মুক্তাদীর সূরা ফাতিহা পাঠ
করা আবশ্যক হতো না। আর সেটাই হতো প্রাধান্যযোগ্য মত।
কেননা নীরবে শ্রবণকারী পাঠকের মতই ছাওয়াবের অধিকারী হয়।
এজন্যই আল্লাহ্ তা‘আলা মূসা (আঃ) কে বলেনঃ
ﻗَﺪْ ﺃُﺟِﻴﺒَﺖْ ﺩَﻋْﻮَﺗُﻜُﻤَﺎ
“তোমাদের উভয়ের দু’আ কবূল করা হয়েছে।” (সূরা ইউনূসঃ ৮৯)
অথচ সে সময় দু’আ শুধু মাত্র মূসা (আঃ) এককভাবে করেছিলেন।
আল্লাহ্ বলেনঃ
ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻣُﻮﺳَﻰ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﺇِﻧَّﻚَ ﺁﺗَﻴْﺖَ ﻓِﺮْﻋَﻮْﻥَ ﻭَﻣَﻠَﺄَﻩُ ﺯِﻳﻨَﺔً ﻭَﺃَﻣْﻮَﺍﻟًﺎ
ﻓِﻲ ﺍﻟْﺤَﻴَﺎﺓِ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻟِﻴُﻀِﻠُّﻮﺍ ﻋَﻦْ ﺳَﺒِﻴﻠِﻚَ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﺍﻃْﻤِﺲْ ﻋَﻠَﻰ
ﺃَﻣْﻮَﺍﻟِﻬِﻢْ ﻭَﺍﺷْﺪُﺩْ ﻋَﻠَﻰ ﻗُﻠُﻮﺑِﻬِﻢْ ﻓَﻠَﺎ ﻳُﺆْﻣِﻨُﻮﺍ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺮَﻭْﺍ
ﺍﻟْﻌَﺬَﺍﺏَ ﺍﻟْﺄَﻟِﻴﻢَ
“আর মূসা বললেন, হে আমাদের পালনকর্তা! নিশ্চয় আপনি
ফেরাউন ও তার সভাসদদের প্রদান করেছো দুনিয়ার জীবনের
চাকচিক্য, সৌন্দর্য ও সম্পদ। হে আমাদের পালনকর্তা! ওরা
আপনার পথ থেকে বিভ্রান্ত করে। হে আমাদের পালনকর্তা!
তাদের সম্পদ নিশ্চিহ্ন করে দিন, তাদের হৃদয় কঠোর করে
দিন, যাতে তারা ঈমান না আনে। যাতে করে তারা যন্ত্রনাদায়ক
শাস্তি প্রত্যক্ষ করতে পারে।” (সূরা ইউনূসঃ ৮৮)
এখানে কি আল্লাহ্ হারূনের দু’আর কথা উল্লেখ করলেন?
উত্তরঃ না। তারপরও আল্লাহ্ বললেনঃ “তোমাদের উভয়ের
দু’আ কবূল করা হয়েছে।” বিদ্বানগণ বলেনঃ এক ব্যক্তি দু’আ
করা সত্বেও দ্বিবচন শব্দ এখানে উল্লেখ করার কারণ হচ্ছে,
মূসা (আঃ) দু’আ করছিলেন আর হারূন (আঃ) আমীন বলছিলেন।
আর আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদীছ:
( ﻣﻦ ﻛﺎﻥ ﻟﻪ ﺇﻣﺎﻡ، ﻓﻘﺮﺍﺀﺓ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﻟﻪ ﻗﺮﺍﺀﺓ )
“যার ইমাম রয়েছে, তার ইমামের ক্বিরাতই তার ক্বিরাত
(হিসেবে যথেষ্ট)।” কিন্তু হাদীছের সনদ যঈফ (দুর্বল)।
কেননা তা মুরসাল সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। যেমন হাফেয ইবনু
কাছীর তাঁর তাফসীর গ্রনে’র ভূমিকায় বলেছেন। আরো কয়েকটি
সূত্রে হাদীছটি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) হতে
বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু কোনটিই ছহীহ্ নয়। তারপরও হাদীছটি
দ্বারা যারা দলীল নিয়ে থাকে তারা সাধারণভাবে বলেন না যে,
কোন অবস্থাতেই সূরা ফাতিহা পাঠ করতে হবে না। বরং তাদের
মধ্যে অনেকে বলেনঃ নীরবের নামাযে মুক্তাদীকে অবশ্যই সূরা
ফাতিহা পড়তে হবে।
যদি প্রশ্ন করা হয়ঃ ইমাম যদি না থামেন (অর্থাৎ- ফাতিহা
শেষ করার পর মুক্তাদীদের ফাতিহা পাঠ করার সুযোগ দেয়ার
জন্য কিছু সময় নিরব না থাকেন।) তবে মুক্তাদী কখন সূরা
ফাতিহা পাঠ করবে?
উত্তর হচ্ছেঃ ইমামের পড়ার সময়ই মুক্তাদী পড়বে। কেননা
ছাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর
পড়ার সাথে সাথেই পড়তেন। তখন তিনি তাদেরকে বলেনঃ
( ﻟَﺎ ﺗَﻔْﻌَﻠُﻮﺍ ﺇِﻟَّﺎ ﺑِﺄُﻡِّ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥِ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻟَﺎ ﺻَﻠَﺎﺓَ ﻟِﻤَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳَﻘْﺮَﺃْ ﺑِﻬَﺎ )
“তোমরা উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) ছাড়া অন্য কিছু পাঠ
করবে না। কেননা যে ব্যক্তি তা পাঠ করবে না তার নামায হবে
না।”
প্রশ্নঃ (২৪৩) মুক্তাদী কখন সূরা ফাতিহা পাঠ করবে? ইমামের
ফাতিহা পাঠ করার সময়? নাকি ইমাম সূরা ফাতিহা শেষ করে
অন্য সূরা পাঠ শুরু করলে?
উত্তরঃ উত্তম হচ্ছে ইমামের ফাতিহা পাঠ শেষ হওয়ার পর
মুক্তাদী ফাতিহা পাঠ করবে। কেননা ফরয ক্বিরআত পাঠ করার
সময় নীরব থাকা রুকন। ইমামের পড়ার সময় যদি মুক্তাদীও পাঠ
করে তবে রুকন আদায় করার সময় নীরব থাকা হল না। আর
ফাতিহা পাঠ করার পর যখন ইমাম অন্য ক্বিরআত শুরু করবে,
সে সময় তা শোনার জন্য নীরব থাকা মুস্তাহাব। অতএব উত্তম
হল, ফাতিহা পাঠ করার সময় নীরব থাকবে। নামাযের সুন্নাত
ক্বিরআত পাঠের সময় নীরব থাকার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ
হচ্ছে অন্যতম রুকন সূরা ফাতিহা পাঠ করার সময় নীরব থেকে তা
শ্রবণ করা। তাছাড়া ইমামের ‘ওয়ালায্ যওয়াল্লীন’ বলার সময়
মুক্তাদীও (‘ওয়ালায্ যওয়াল্লীন’) পাঠ করলে তাঁর সাথে ‘আমীন’
বলা সম্ভব হবে না।
প্রশ্নঃ (২৪৪) নামায বা কুরআন তেলাওয়াতের সময় কিভাবে
অন্তর নরম করা যায়?
উত্তরঃ বিনয়-নম্রতা নামাযের অন্তঃসার ও আসল প্রাণ। এর
অর্থ হচ্ছে, অন্তরের উপস্থিতি। ডানে-বামে অন্তরকে নিয়ে
ঘুরাফেরা না করা। বিনয়-নম্রতা বিরোধী কোন কিছু যদি
মানুষের অন্তরে আসে তবে সে পাঠ করবে ‘আঊযুবিল্লাহি
মিনাশ্ শায়তানির রাজীম।’ যেমনটি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম) আদেশ করেছিলেন। সন্দেহ নেই শয়তান মানুষের
সমস্ত ইবাদত বিশেষ করে সর্বোত্তম ইবাদত ছালাত বিনষ্ট
করার জন্য সর্বাধিক আগ্রহী। নামাযরত ব্যক্তির কাছে শয়তান
আগমণ করে বলে, উমুক কথা স্মরণ কর, উমুক কথা স্মরণ কর।
তাকে এমন কিছুর খেয়ালে নিয়ে যায় যাতে কোন উপকার নেই।
আবার নামায শেষ হলে এসমস্ত খেয়াল শেষ হয়ে যায়।
অতএব মানুষের জন্য আবশ্যক হচ্ছে, নামাযের মত গুরুত্বপূর্ণ ও
শ্রেষ্ঠ ইবাদত আদায় করার জন্য সবচেয়ে বেশী মনযোগী ও
বিনয়ী হওয়া। কেননা সে তো মহান আল্লাহ্র সামনে
দন্ডায়মান। তাঁর সাথে গোপনে কথা বলছে। মনে করবে সে যেন
মহান আল্লাহকে দেখছে বা এতটুকু মনে করবে যে, আল্লাহ্ তাকে
দেখছেন। আর যখনই শয়তানের কুমন্ত্রনা ও বদখেয়াল মনের
দুয়ারে উঁকি দিতে চাইবে তখনই আল্লাহ্র কাছে আশ্রয় চাইবে।
পাঠ করবেঃ ‘আঊযুবিল্লাহি মিনাশ্ শায়তানির রাজীম।’
প্রশ্নঃ (২৪৫) সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর কিছুক্ষণ চুপ থাকার
বিধান কি?
উত্তরঃ ফিক্বাহবিদদের মধ্যে থেকে কেউ মত প্রকাশ করেছেন
যে, ইমাম সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর অন্য সূরা শুরু করার পূর্বে
কিছুক্ষণ নীরব থাকবেন, যাতে করে মুক্তাদী ফাতিহা পাঠ করতে
সক্ষম হয়। কিন্তু এব্যাপারে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম) থেকে কোন হাদীছ বর্ণিত হয়নি। তবে তা হচ্ছে
সামান্য বিরতী নিঃশ্বাস নেয়ার জন্য এবং এই ফাঁকে মুক্তাদি
সূরা ফাতিহা পাঠ করা আরম্ভ করে দিবে। এরপর ইমাম অন্য
ক্বিরাত শুরু করে দিলেও কোন অসুবিধা নেই। কেননা সূরা
ফাতিহা পাঠ করা মুক্তাদীর জন্য রুকন। কিন্তু ইমামের
ক্বিরআত শ্রবণ করা তার জন্য মুস্তাহাব। মোটকথা নীরব
থাকার মুহূর্তটি অতি সামান্য দীর্ঘ নয়।
প্রশ্নঃ (২৪৬) ফজরের এক রাকাআত নামায ছুটে গেলে বাকী
রাকাআতটি কি স্বশব্দে না নীরবে পাঠ করবে?
উত্তরঃ বিষয়টি তার ইচ্ছাধীন। কিন্তু উত্তম হচ্ছে নীরব কন্ঠে
পাঠ করা। কেননা জোর কন্ঠে পাঠ করলে হয়তো অন্য
মুছল্লীদের নামাযে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
প্রশ্নঃ (২৪৭) রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
এর নামাযের পদ্ধতির উপর লিখিত একটি পুস্তকে পড়লাম, রুকূ
থেকে উঠার পর আবার হাত বাঁধা একটি বিভ্রান্তকর বিদআত।
এক্ষেত্রে বিশুদ্ধ কথা কি? আল্লাহ্ আপনাকে উত্তম প্রতিদান
প্রদান করুন
উত্তরঃ যে বিষয়ে ইজতেহাদ বা গবেষণার অবকাশ রয়েছে সে
বিষয়ে কাউকে সুন্নাতের পরিপন্থী বিদআতী বলতে আমি
সংকোচ বোধ করি। এটা উচিত নয়। যারা রুকূ থেকে উঠে আবার
হাত বাঁধেন, তারা নিজেদের মতের পক্ষে সুন্নাত থেকে দলীল
উপস্থাপন করে থাকেন। এবিষয়টি কারো গবেষণার বিরোধী
হলে তাকে সরাসরি বিদআতী বলা খুবই কঠিন বিষয়। এধরণের
বিষয়ে বিদআত শব্দ উচ্চারণ করা করো পক্ষে উচিত নয়।
কেননা যে সকল বিষয়ে গবেষণার অবকাশ থাকে এবং হতে পারে
একথা সত্য অথবা ঐকথা সত্য, তাতে পরস্পরে বিদআতের
অপবাদ দিতে শুরু করলে মুসলিম সমাজে বিচ্ছেদ সৃষ্টি হবে,
একে অপরে ঘৃণা ও বিদ্বেষের সূচনা হবে। ইসলামের শত্রুরা তা
নিয়ে হাসাহাসি করবে।
আমার মতে বিশুদ্ধ কথা হচ্ছেঃ রুকূ থেকে উঠার পর ডান হাতকে
বাম হাতের উপর রেখে বুকে স্থাপন করা একটি সুন্নাত। দলীলঃ
সাহাল বিন সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “লোকেরা
নির্দেশিত হত যে, নামাযে ডান হাতকে বাম হাতের বাহুর উপর
স্থাপন করবে।”
গভীরভাবে লক্ষ্য করে ও অনুসন্ধান করে হাদীছ থেকে দলীল
গ্রহণ করার যুক্তি সমূহ হচ্ছেঃ যদি প্রশ্ন করা হয়ঃ সিজদার
সময় হাত দু’টি কোথায় থাকবে? উত্তরঃ যমীনের উপর।
প্রশ্নঃ রুকূ অবস্থায় হাত কোথায় থাকবে? উত্তরঃ হাঁটুদ্বয়ের
উপর। প্রশ্নঃ বসাবস্থায় হাত দু’টি কোথায়? উত্তরঃ রানের
উপর।
থাকল দাঁড়ানো অবস্থার কথা। রুকূর আগে ও পরে উভয় অবস্থা
হচ্ছে দাঁড়ানো। আর তা এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হবেঃ “লোকেরা
নির্দেশিত হত যে, নামাযে ডান হাতকে বাম হাতের বাহুর উপর
স্থাপন করবে।” অর্থাৎ- রুকূর আগে বা পরে যে কোন অবস্থার
দাঁড়ানোতে ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখতে হবে। এটাই
হচ্ছে সত্য, সুন্নাতে নববী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
যার প্রমাণ বহণ করে।
মোটকথা উল্লেখিত প্রশ্নের উত্তর দু’টি পয়েন্টে বিভক্তঃ
প্রথমঃ কারো পক্ষে উচিত নয় বিদআত শব্দটি এমন কাজে
ব্যবহার করা যেখানে ইজতেহাদ বা গবেষণার অবকাশ রয়েছে।
দ্বিতীয়ঃ বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে রুকূ থেকে উঠে ডান হাতকে বাম
হাতের উপর রাখাটা সুন্নাত, বিদআত নয়। উল্লেখিত সাহাল বিন
সা’দের হাদীছ হচ্ছে এর দলীল। কিন্তু এ অবস্থার ব্যতিক্রম
হচ্ছে রুকূ, সিজদা ও বসাবস্থা। কেননা এসকল স্থানে কিভাবে
হাত রাখতে হবে হাদীছে তার বিশদ বিবরণ এসেছে। (আল্লাহই
অধিক জ্ঞান রাখেন)
প্রশ্নঃ (২৪৮) ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদু’ বলার পর ‘ওয়াশ্
শুক্রু’ শব্দ বৃদ্ধি করে বলার বিধান কি?
উত্তরঃ নিঃসন্দেহে শুধুমাত্র প্রমাণিত দু’আ ও যিকির সমূহ
পাঠ করাই উত্তম। নিজের পক্ষ থেকে কোন শব্দ বৃদ্ধি না
করা। রুকূ থেকে মাথা উঠানোর পর (সামিআল্লাহুলিমান
হামীদাহ্ বলে) পাঠ করবেঃ ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদু’। ‘ওয়াশ্
শুক্রু’ শব্দ বৃদ্ধি করা জায়েয নয়। কেননা এ ব্যাপারে কোন
দলীল নেই।
উল্লেখ্য যে, এ সময় চার ধরণের শব্দ প্রমাণিত হয়েছেঃ
১) ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদু’
২) ‘রাব্বানা লাকাল হামদু’
৩) ‘আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদু’
৪) ‘আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদু’
এগুলো সবটাই এক সাথে বলবে না; বরং কোন নামাযে এটা কোন
নামাযে ওটা পাঠ করবে।
প্রশ্নঃ (২৪৯) সিজদায় যাওয়ার পদ্ধতি কি?
উত্তরঃ সিজদায় যাওয়ার জন্য প্রথমে হাঁটু রাখবে তারপর হাত
রাখবে। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ
করেছেন প্রথমে হাত রেখে সিজদায় যেতে। তিনি এরশাদ করেনঃ
] ﺇِﺫَﺍ ﺳَﺠَﺪَ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ ﻓَﻠَﺎ ﻳَﺒْﺮُﻙْ ﻛَﻤَﺎ ﻳَﺒْﺮُﻙُ ﺍﻟْﺒَﻌِﻴﺮُ ﻭَﻟْﻴَﻀَﻊْ ﻳَﺪَﻳْﻪِ
ﻗَﺒْﻞَ ﺭُﻛْﺒَﺘَﻴْﻪِ [
“তোমাদের কোন ব্যক্তি যখন সিজদা করবে, সে যেন উটের মত
করে না বসে। সে যেন হাঁটু রাখার পূর্বে হাত রাখে।”
হাদীছের বাক্য এরূপ।
কিন্তু হাদীছটি সম্পর্কে আমরা আলোচনা করব। হাদীছের
প্রথম বাক্যঃ ‘উট যেভাবে বসে সেভাবে যেন না বসে।’
নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে সিজদার পদ্ধতিতে। কেননা (ﻑﺎﻜﻟﺍ) তাশবীহ্
বা তুলনা বুঝানোর জন্য নেয়া হয়েছে। যে অঙ্গের উপর সিজদা
করতে হবে তার নিষেধাজ্ঞা উদ্দেশ্য করা হয়নি। এখানে যদি
অঙ্গ উদ্দেশ্য হতো তবে এরূপ বলতে হতো, (উট যে অঙ্গের
উপর বসে সেরূপ যেন না বসে।) তখন আমরা বলতে পারি, হাঁটুর
উপর ভর দিয়ে বসবে না। কেননা উট হাঁটুর উপর ভর দিয়ে বসে
থাকে। কিন্তু নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একথা
বলেননিঃ (উট যে অঙ্গের উপর বসে সেরূপ যেন না বসে।) কিন্তু
তিনি বলেছেনঃ ‘উট যেভাবে বসে সেভাবে যেন না বসে।’ অতএব
এখানে বসার পদ্ধতির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে,
অঙ্গের উপর নয়।
একারণে ইমাম ইবনুল ক্বাইয়েম দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে,
হাদীছের শেষাংশ বর্ণনাকারীর নিকট উল্টা হয়ে গেছে।
শেষাংশটা এরূপ বলা হয়েছেঃ ﻭَﻟْﻴَﻀَﻊْ ﻳَﺪَﻳْﻪِ ﻗَﺒْﻞَ ﺭُﻛْﺒَﺘَﻴْﻪِ ‘হাঁটু
রাখার পূর্বে হাত রাখবে।’ কিন্তু সঠিক বাক্য এরূপ হবেঃ ﻭَﻟْﻴَﻀَﻊْ
ﺭُﻛْﺒَﺘَﻴْﻪِ ﻗَﺒْﻞَ ﻳَﺪَﻳْﻪِ ‘হাত রাখার আগে হাঁটু রাখবে।’ কেননা হাঁটুর
আগে হাত রাখলেই উটের মত বসা হল। উট বসার সময় প্রথমে
তার হাত দু’টো রাখে। উটের বসা প্রত্যক্ষ করলে এটাই
প্রমাণিত হবে।
অতএব হাদীছের প্রথমাংশের সাথে শেষাংশের সামঞ্জস্য
করতে চাইলে বলতে হবেঃ ‘হাত রাখার আগে হাঁটু রাখবে।’
জনৈক বিদ্বান এব্যাপারে প্রবন্ধ রচনা করেছেন। নাম দিয়েছেনঃ
( ﻓﺘﺢ ﺍﻟﻤﻌﺒﻮﺩ ﻓﻲ ﻭﺿﻊ ﺍﻟﺮﻛﺒﺘﻴﻦ ﻗﺒﻞ ﺍﻟﻴﺪﻳﻦ ﻓﻲ
)ﺍﻟﺴﺠﻮﺩ এতে তিনি খুব সুন্দরভাবে উপকারী কথা লিখেছেন।
সুতরাং সিজদায় যাওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম) নির্দেশিত সুন্নাত হচ্ছেঃ দু’হাত রাখার আগে হাঁটু
রাখবে।
প্রশ্নঃ (২৫০) সামনের দিকে অতিরিক্ত বেড়ে গিয়ে সিজদা
করার বিধান কি?
উত্তরঃ সিজদার সময় সামনের দিকে অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া
সুন্নাতের পরিপন্থী। রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম) এর নামাযের বর্ণনা যারা করেছেন, তাদের কেউ একথা
বলেননি যে, তিনি সিজদার সময় পৃষ্ঠদেশ অতিরিক্ত লম্বা
করতেন। যেমনটি তিনি রুকূর সময় পিঠ অতিরিক্ত চওড়া
করতেন। শরীয়ত সম্মত সুন্নাত হচ্ছে, সিজদার সময় দু’রান
থেকে পেট আলাদা রাখবে এবং উঁচু করবে। কিন্তু সামনের দিকে
অতিরিক্ত বেড়ে যাবে না। যেমনটি অনেকে করে থাকে।
প্রশ্নঃ(২৫১) সিজদার কারণে কপালে দাগ পড়া কি নেক লোকের
পরিচয়?
উত্তরঃ সিজদার কারণে কপালে দাগ পড়া নেক লোকের আলামত
নয়। বরং তা হচ্ছে মুখমন্ডলের নূর, হৃদয়ের উন্মুক্ততা ও
প্রশস্ততা, উত্তম চরিত্র প্রভৃতি। সিজদার কারণে কপালে যে
দাগ পড়ে তা অনেক সময় চামড়া নরম হওয়ার কারণে- যারা শুধু
মাত্র ফরয নামায আদায় করে- তাদেরও হয়ে থাকে। অথচ অনেক
লোক অধিকহারে এবং দীর্ঘ সিজদা করেও তাদের কপালে এ
চিহ্ন দেখা যায় না।
প্রশ্নঃ (২৫২) দু’সিজদার মধ্যবর্তী সময়ে তর্জনী আঙ্গুল
নাড়ানোর বিধান কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ, ছহীহ্ মুসলিমে একটি হাদীছ রয়েছে। ইবনু ওমার
(রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম) যখন নামাযে বসতেন… তিনি বলেন, তিনি আঙ্গুল
দিয়ে ইশারা করতেন।” অন্য শব্দে বলা হয়েছেঃ “যখন তিনি
তাশাহুদে বসতেন।” প্রথম বাক্যটি আ’ম বা ব্যাপক
অর্থবোধক। আর দ্বিতীয় বাক্যটি খাছ বা বিশেষ অর্থবোধক।
কায়েদা বা মূলনীতি হচ্ছে খাছ বিষয়কে যদি এমন ক্ষেত্রে
উল্লেখ করা হয় যা আ’মের অর্থ বহন করে, তখন আ’ম বিষয়কে
আর খাছ করা হবে না। উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিস্কার হবে।
আপনি জনৈক ব্যক্তিকে বললেন, ছাত্রদের সম্মানিত করুন।
এবং তাকে বললেন, মুহাম্মাদকে সম্মানিত করুন। মুহাম্মাদ
ছাত্রদেরই অন্তর্ভুক্ত। এখানে একথা প্রমাণ হয় না যে,
অন্যান্য ছাত্রদেরকে সম্মানিত করা হবে না। উছুলবিদ
বিদ্বানগণ একথা বলেছেন। শায়খ শানক্বীতী (আযওয়াউল
বায়ান) গ্রনে’ এ মূলনীতিটি উল্লেখ করেছেন।
কিন্তু যদি বলে থাকে ছাত্রদেরকে সম্মানিত কর। তারপর বলল,
ক্লাস রূমে যারা ঘুমায় তাদের সম্মানিত করো না। এখানে খাছ
বা বিশেষ করে দেয়া হল। কেননা আ’ম বা ব্যাপকের বিধানের
বিপরীত বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
তাছাড়া মাসআলাটির ব্যাপারে আলাদা হাদীছও পাওয়া যায়।
ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেন, ‘ফতহুর্ রাব্বানী’ গ্রনে’র (১/১৪৭)
লিখক তার সনদকে হাসান বলেন। যাদুল মা’আদের টিকা
লিখকদের কেউ কেউ তার সনদ ছহীহ্ বলেও মন্তব্য করেছেন।
“রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’সিজদার
মধ্যে বসলে আঙ্গুলসমূহ মুষ্টিবদ্ধ করতেন এবং তর্জনী
আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন।”
আঙ্গুল নড়াতে হবে না এ ব্যাপারে যারা কথা বলেন তাদের কাছে
আমাদের প্রশ্ন, তবে ডান হাত কি অবস্থায় থাকবে? যদি
জবাবে বলা হয়, রানের উপর ছড়িয়ে রাখতে হবে। প্রশ্ন হবে,
একথার দলীল কি? কোন হাদীছে তো একথা বলা হয়নি যে,
তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ডান হাতকে উরুর
উপর ছড়িয়ে রাখতেন। এরূপ কোন হাদীছ থাকলে ছাহাবীগণ তার
বর্ণনা দিতেন্ত যেমনটি বর্ণনা পাওয়া যায় বাম হাতকে উরুর
উপর ছড়িয়ে রাখার ব্যাপারে।
প্রশ্নঃ (২৫৩) জালসা ইস্তেরাহা করার বিধান কি?
উত্তরঃ এ মাসআলাটিতে বিদ্বানদের তিন ধরণের মতামত পাওয়া
যায়।
প্রথমঃ জালসা ইস্তেরাহা করা সবসময় মুস্তাহাব।
দ্বিতীয়ঃ জালসা ইস্তেরাহা করা কখনই মুস্তাহাব নয়।
তৃতীয়ঃ উল্লেখিত দু’টি মতের মধ্যপন্থী মত। সরাসরি দাঁড়াতে
যাদের কষ্ট হয় তারা জালসা ইস্তেরাহা করবে। আর যাদের কষ্ট
হয় না তারা জালসা ইস্তেরাহা করবে না।
মুগনী গ্রন্থে (১/৫২৯ দারুল মানার প্রকাশনী) বলা হয়েছেঃ “এই
তৃতীয় মতটি দ্বারা হাদীছ সমূহের মাঝে সামঞ্জস্য বিধান করা
হয়েছে এবং তা হচ্ছে দু’টি মতের মধ্যপন্থী মত।” অতঃপর
পরবর্তী পৃষ্ঠায় বলা হয়েছেঃ ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি
বলেন, ফরয নামাযে সুন্নাত হচ্ছে, কোন ব্যক্তি যখন প্রথম
দু’রাকাআত শেষ করে উঠবে, তখন দু’হাত দিয়ে মাটিতে ভর করে
যেন না উঠে। তবে যদি অতিবৃদ্ধ ব্যক্তি অনুরূপ করতে সক্ষম না
হয়, তবে সে হাত দ্বারা মাটিতে ভর করে উঠতে পারে। (হাদীছটি
আছরাম বর্ণনা করেন।) এরপর মুগনী গ্রন’কার বলেন, মালেক
বিন হুওয়াইরিছ (রাঃ) বর্ণিত হাদীছে বলা হয়েছে,
ﺇِﺫَﺍ ﺭَﻓَﻊَ ﺭَﺃْﺳَﻪُ ﻋَﻦِ ﺍﻟﺴَّﺠْﺪَﺓِ ﺍﻟﺜَّﺎﻧِﻴَﺔِ ﺟَﻠَﺲَ ﻭَﺍﻋْﺘَﻤَﺪَ ﻋَﻠَﻰ
ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻡَ
“নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন দ্বিতীয় সিজদা
থেকে মাথা উঠাতেন, সোজা হয়ে বসতেন, তারপর যমীনের উপর
ভর দিয়ে দাঁড়াতেন।”
এ হাদীছটি হচ্ছে সেই সময়ের কথা যখন নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুর্বল ও বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে
সরাসরি দাঁড়াতে তাঁর কষ্ট হচ্ছিল। কেননা তিনি বলেন, “আমার
শরীর ভারী হয়ে গেছে। তাই তোমরা রুকূ সিজদায় আমার আগ
বেড়ে কিছু করো না।”
এই তৃতীয় মতকে আমি সমর্থন করি। কেননা মালেক বিন
হুওয়াইরিছ (রাঃ) এমন সময় নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম)এর নিকট আগমণ করেন যখন তিনি তাবুক যুদ্ধের
প্রস্ততি গ্রহণ করছিলেন। আর সে সময় নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁর দুর্বলতা
সুস্পষ্ট হচ্ছিল। ছহীহ্ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে। আয়েশা (রাঃ)
বলেন,
ﻟَﻤَّﺎ ﺑَﺪَّﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻭَﺛَﻘُﻞَ ﻛَﺎﻥَ
ﺃَﻛْﺜَﺮُ ﺻَﻠَﺎﺗِﻪِ ﺟَﺎﻟِﺴًﺎ
‘নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর শরীর মোবারক
যখন মোটা ও ভারী হয়ে গিয়েছিল, তখন অধিকাংশ নামায তিনি
বসে বসে আদায় করতেন।’
আবদুল্লাহ্ বিন শাক্বীক্ব (রাঃ) আয়েশা (রাঃ)কে প্রশ্ন
করলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি বসে বসে
নামায আদায় করতেন? তিনি বললেন, ﻧَﻌَﻢْ ﺑَﻌْﺪَ ﻣَﺎ ﺣَﻄَﻤَﻪُ
ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ‘হ্যাঁ, যখন তিনি বয়োবৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।’ হাফছা
(রাঃ) বলেন,
ﻣَﺎ ﺭَﺃَﻳْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺻَﻠَّﻰ ﻓِﻲ
ﺳُﺒْﺤَﺘِﻪِ ﻗَﺎﻋِﺪًﺍ ﺣَﺘَّﻰ ﻛَﺎﻥَ ﻗَﺒْﻞَ ﻭَﻓَﺎﺗِﻪِ ﺑِﻌَﺎﻡٍ ﻓَﻜَﺎﻥَ ﻳُﺼَﻠِّﻲ
ﻓِﻲ ﺳُﺒْﺤَﺘِﻪِ ﻗَﺎﻋِﺪًﺍ
“আমি রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে
কখনো বসে নফল নামায আদায় করতে দেখিনি। তবে মৃত্যুর এক
বছর পূর্বে থেকে তিনি বসে নফল নামায আদায় করেছেন।” অপর
বর্ণনায় ‘একবছর বা দু’বছর পূর্বে থেকে।’
এ বর্ণনাগুলো সবই ছহীহ্ মুসলিমে রয়েছে। একথার সমর্থন
পাওয়া যায় মালিক বিন হুওয়াইরিছ বর্ণিত হাদীছে, যাতে মাটিতে
ভর করে দাঁড়ানোর কথা উল্লেখ রয়েছে। আর সাধারণতঃ
প্রয়োজন ছাড়া কোন বস্তর উপর নির্ভর করার প্রশ্নই উঠে
না।
সম্ভবতঃ আমাদের সমর্থনে আবদুল্লাহ্ বিন বুহায়না (রাঃ)
বর্ণিত হাদীছটি পেশ করা যায়। তিনি বলেন, ‘নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা তাদেরকে নিয়ে যোহর ছালাত
আদায় করলেন। কিন্তু তিনি দু’রাকাআত পড়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন,
বসলেন না।’ এখানে ‘বসলেন না’ শব্দটি দ্বারা সবধরণের বসা
বুঝা যায়। অর্থাৎ- জালাসা ইস্তেরাহাতেও বসলেন না। কিন্তু এর
জবাবে বলা যায়, এখানে ‘বসলেন না’ বলতে তাশাহুদের জন্য বসা
উদ্দেশ্য করা হয়েছে। (আল্লাহ্ই অধিক জ্ঞাত)
প্রশ্নঃ (২৫৪) তাশাহুদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তর্জনী
আঙ্গুল নড়ানোর বিধান কি?
উত্তরঃ তর্জনী আঙ্গুল নাড়ানো শুধুমাত্র দু’আর সময় হবে।
পূরা তাশাহুদে নয়। যেমনটি হাদীছে বর্ণিত হয়েছেঃ “তিনি উহা
নাড়াতেন ও দু’আ করতেন।” এর কারণ হচ্ছেঃ দু’আ আল্লাহ্র
কাছেই করা হয়। আর আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আসমানে
আছেন। তাই তাঁকে আহবান করার সময় উপরে আঙ্গুল উঠিয়ে
ইশারা করবে। আল্লাহ্ বলেন,
] ﺃَﺃَﻣِﻨﺘُﻢْ ﻣَﻦْ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ ﺃَﻥْ ﻳَﺨْﺴِﻒَ ﺑِﻜُﻢْ ﺍﻷَﺭْﺽَ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻫِﻲَ
ﺗَﻤُﻮﺭُ، ﺃَﻡْ ﺃَﻣِﻨﺘُﻢْ ﻣَﻦْ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ ﺃَﻥْ ﻳُﺮْﺳِﻞَ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺣَﺎﺻِﺒًﺎ
ﻓَﺴَﺘَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ ﻛَﻴْﻒَ ﻧَﺬِﻳﺮِ [
“তোমরা কি নিরাপদে আছ সেই সত্বা থেকে যিনি আসমানে
আছেন যে, তিনি তোমাদেরকে ভূগর্ভে বিলীন করে দিবেন না?
তখন আকস্মিকভাবে যমীন থরথর করে কাঁপতে থাকবে। অথবা
নাকি তোমরা নিরাপদ আছ সেই সত্বার ব্যাপারে যিনি
আসমানের অধিপতি তোমাদের উপর কঙ্করবর্ষী ঝঞ্ঝা প্রেরণ
করবেন না? তখন তোমরা জানতে পারবে, আমার সকর্ত করণ
কিরূপ ছিল।” (সূরা মুলকঃ ১৬-১৭)
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
ﺃَﻟَﺎ ﺗَﺄْﻣَﻨُﻮﻧِﻲ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﺃَﻣِﻴﻦُ ﻣَﻦْ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ
“তোমারা কি আমাকে আমানতদার মনে করো না? অথচ আমি
যিনি আসমানে আছেন তার আমানতদার।”
সুতরাং আল্লাহ্ আসমানে তথা সবকিছুর উপরে আছেন। যখন
আপনি দু’আ করবেন উপরের দিকে ইঙ্গিত করবেন। একারণে নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিদায় হজ্জে খুতবা প্রদান
করে বললেন, “আমি কি পৌঁছিয়েছি?” তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। তিনি
আসমানের দিকে আঙ্গুল উঠালেন
এবং লোকদের দিকে আঙ্গুলটিকে ঘুরাতে থাকলেন বললেন, “হে
আল্লাহ্ তুমি সাক্ষী থেকো। হে আল্লাহ্ তুমি সাক্ষী থেকো।
হে আল্লাহ্ তুমি সাক্ষী থেকো।” এদ্বারা প্রমাণিত হয়
আল্লাহ্ তা’আলা সকল বস্তর উপরে অবস্থান করেন। এ বিষয়টি
সুস্পষ্ট ও সুপ্রমাণিত ফিতরাতী ভাবে, বিবেক যুক্তি ও
ঐকমত্যের ভিত্তিতে। এই ভিত্তিতে যখনই আপনি আল্লাহ্
তা’আলাকে ডাকবেন তাঁর কাছে দু’আ করবেন, তখনই আসমানের
দিকে তর্জনী আঙ্গুল দ্বারা ইঙ্গিত করবেন এবং তা নাড়াবেন।
আর অন্য অবস্থায় তা স্তীর রাখবেন।
এখন আমরা অনুসন্ধান করি তাশাহুদে দু’আর স্থানগুলোঃ
১) আস্সালামু আলাইকা আইয়্যুহান্নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি
ওয়া বারাকাতুহু
২) আস্সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিছ্ ছালিহীন।
৩) আল্লাহুম্মা ছাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলি মুহাম্মাদ
৪) আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি
মুহাম্মাদ
৫) আঊযুবিল্লাহি মিন আযাবি জাহান্নাম
৬) ওয়া মিন আযাবিল ক্বাবরি।
৭) ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহ্ইয়া ওয়াল মামাত।
৮) ওয়ামিন ফিতনাতল মাসীহিদ্দাজ্জাল। এই আটটি স্থানে
আঙ্গুল নাড়াবে এবং তা আকশের দিকে উত্থিত করবে। এগুলো
ছাড়া অন্য কোন দু’আ পাঠ করলেও আঙ্গুল উপরে উঠাবে।
কেননা দু’আ করলেই আঙ্গুল উপরে উঠাবে।
প্রশ্নঃ (২৫৫) প্রথম বৈঠকে শুধু তাশাহুদের শব্দগুলো পাঠ
করবে? না কি দরূদও পাঠ করবে?
উত্তরঃ তিন বা চার রাকাআত বিশিষ্ট নামাযের প্রথম তাশাহুদে
শুধুমাত্র পাঠ করবেঃ
ﺍﻟﺘَّﺤِﻴﺎَّﺕُ ﻟِﻠَّﻪِ ﻭَﺍﻟﺼَّﻠَﻮﺍَﺕُ ﻭَﺍﻟﻄَّﻴِّﺒﺎَﺕُ، ﺍﻟﺴَّﻼَﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﺃﻳُّﻬﺎَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ
ﻭَﺭَﺣَﻤْﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﻭﺑﺮﻛﺎﺗﻪ، ﺍﻟﺴَّﻼَﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻨﺎَ ﻭَﻋَﻠَﻰ ﻋِﺒﺎَﺩِ ﺍﻟﻠﻪِ
ﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺤِﻴْﻦَ، ﺃﺷْﻬَﺪُ ﺃﻥْ ﻻَﺇﻟَﻪَ ﺇﻻَّ ﺍﻟﻠﻪُ ﻭَﺃﺷْﻬَﺪُ ﺃﻥَّ .ﻭَﺭَﺳُﻮْﻟُﻪُ
ﻣُﺤَﻤَّﺪﺍً ﻋَﺒْﺪُﻩُ
এটাই উত্তম। যদি এরপর দরূদ পাঠ করে তবেও কোন অসুবিধা
নেই। বিদ্বানদের মধ্যে কেউ কেউ এটাকে মুস্তাহাব বলেছেন।
কিন্তু আমার মতে সুন্নাতের নিকটবর্তী কথা হচ্ছে দরূদের
পূর্বের বাক্যটি পাঠ করা- দরূদ না পড়া। তবে ইমাম তাশাহুদ
দীর্ঘ করলে দরূদ পড়তে কোন অসুবিধা নেই।
প্রশ্নঃ (২৫৬) নামাযে তাওয়ার্রুক করার বিধান কি? এ বিধান কি
নারী-পুরুষ সবার জন্যই?
উত্তরঃ যে সকল নামাযে দু’টি তাশাহুদ আছে তার শেষ তাশাহুদে
তাওয়ার্রুক করা সুন্নাত। যেমন, মাগরিব, এশা, যোহর ও আছর
ছালাতে। কিন্তু যে নামাযে শুধু একটিই তাশাহুদ- যেমন ফজর
নামায- তাতে তাওয়াররুক করা সুন্নাত নয়।
আর এই সুন্নাত নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে প্রমাণিত। কেননা
ইসলামী শরীয়তের বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়ে
বরাবর। তবে দলীলের ভিত্তিতে যে পার্থক্য পাওয়া যায় তার
কথা ভিন্ন। কিন্তু এমন কোন ছহীহ্ দলীল নেই যা দ্বারা নারী-
পুরুষের নামাযে পার্থক্য প্রমাণিত হয়। নামাযের পদ্ধতির
ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সকলেই সমান।
** তাওয়ার্রুক হচ্ছেঃ তাশাহুদের শেষ বৈঠকে বসার সময় ডান
পা’কে বাম পায়ের নীচে বের করে দিয়ে নিতম্ব জমিনে রেখে
তাঁর উপর বসা এবং ডান পা’কে খাড়া রাখা।
প্রশ্নঃ (২৫৭) ইমাম যদি শুধুমাত্র ডান দিকে একবার সালাম
ফেরায় তাহলে কি যথেষ্ট হবে?
উত্তরঃ বিদ্বানদের মধ্যে কেউ কেউ একদিকে সালাম ফেরানো
যথেষ্ট মনে করেন। আর কেউ কেউ বলেছেন, অবশ্যই দু’দিকে
সালাম দিতে হবে। আবার কেউ বলেন, এক সালাম নফল নামাযের
ক্ষেত্রে জায়েয, ফরযে নয়।
কিন্তু সর্বোত্তম কাজ হচ্ছে, দু’দিকে সালাম ফেরানো। কেননা
এটাই নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অধিকহারে
বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু ইমাম যদি একদিকে সালাম ফেরায় আর
মুক্তাদী মনে করে একদিকে সালাম ফেরানো যথেষ্ট নয়, তবে সে
দু’দিকেই সালাম ফেরাবে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু ইমাম যদি
দু’দিকে সালাম দেয়, আর মুক্তাদী মনে করে একদিকে সালাম
ফেরানো যথেষ্ট, তবে সে ইমামের অনুসরণ করার স্বার্থে উভয়
দিকে সালাম ফেরাবে।
প্রশ্নঃ (২৫৮) নামায শেষ হওয়ার সাথে সাথেই কি ইমাম উঠে
চলে যেতে পারেন? নাকি কিছুটা অপেক্ষা করবেন?
উত্তরঃ ইমামের জন্য উত্তম হচ্ছে সালাম ফেরানোর পর
সামান্য কিছু সময় ক্বিবলামুখী হয়ে বসে থাকবেন। উক্ত
সময়ের মধ্যে তিনবার ﺃَ ﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠَّﻪَ ‘আস্তাগফিরুল্লাহ্’ ও
একবার ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺍﻟﺴَّﻼﻡُ ﻭَﻣِﻨْﻚَ ﺍﻟﺴَّﻼﻡُ ﺗَﺒَﺎﺭَﻛْﺖَ ﻳﺎَ ﺫَﺍ
ﺍﻟْﺠَﻼﻝِ ﻭَﺍﻹِﻛْﺮَﺍﻡِ ‘আল্লাহুম্মা আন্তাস্সালাম ওয়া
মিনকাস্সালাম তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম’ পাঠ
করবেন। তারপর মুক্তাদীদের দিকে ফিরে বসবেন।
ইমাম উঠে চলে যেতে চাইলে যদি মুক্তাদীদের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে
যেতে হয় তবে তার জন্য উত্তম হচ্ছে কিছুক্ষণ বসে থেকে
অপেক্ষা করবে। ভীড় কম থাকলে ফিরে যেতে কোন বাধা নেই।
মুক্তাদীর জন্যে উত্তম হচ্ছে ইমামের আগে ফিরে না যাওয়া।
কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “আমার
আগেই তোমরা ফিরে যেও না।” কিন্তু ইমাম যদি ক্বিবলামুখী
হয়ে সুন্নাতী সময়ের চাইতে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকে। তবে
মুক্তাদীদের ফিরে যেতে কোন বাধা নেই।
প্রশ্নঃ (২৫৯) নামায শেষ করেই পার্শ্ববর্তী মুছল্লীর সাথে
মুছাফাহা করা ও ‘তাক্বাব্বালাল্লাহু’ (আল্লাহ্ কবূল করুন) বলা
সম্পর্কে আপনার মত কি?
উত্তরঃ নামায শেষ করেই পার্শ্ববর্তী মুছল্লীর সাথে মুছাফাহা
করা ও ‘তাক্বাব্বালাল্লাহু’ (আল্লাহ্ কবূল করুন) বলার কোন
ভিত্তি নেই। এ সম্পর্কে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম) ও তাঁর ছাহাবীদের থেকে কোন কিছু প্রমাণিত নেই।
প্রশ্নঃ (২৬০) তাসবীহ্ দানা দ্বারা তাসবীহ্ পড়ার বিধান কি?
উত্তরঃ তাসবীহ্ দানা ব্যবহার করা জায়েয। তবে উত্তম হচ্ছে,
হাতের আঙ্গুল ও আঙ্গুলের কর ব্যবহার করা। কেননা নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
ﺍﻋْﻘِﺪْﻥَ ﺑِﺎﻟْﺄَﻧَﺎﻣِﻞِ ﻓَﺈِﻧَّﻬُﻦَّ ﻣَﺴْﺌُﻮﻟَﺎﺕٌ ﻣُﺴْﺘَﻨْﻄَﻘَﺎﺕٌ
“আঙ্গুল দ্বারা তাসবীহ্ গণনা কর। কেননা (ক্বিয়ামত দিবসে)
এগুলো জিজ্ঞাসিত হবে এবং এগুলোকে কথা বলানো হবে।”
তাছাড়া তাসবীহ্র ছড়া হাতে নিয়ে থাকলে রিয়া বা লোক
দেখানো ভাবের উদ্রেক হতে পারে। আর যারা তাসবীহ্ ছড়া
ব্যবহার করে সাধারণতঃ তাদের অন্তর উপস্থিত থাকে না।
এদিক ওদিকে তাকায়। সুতরাং আঙ্গুল ব্যবহার করাই উত্তম ও
সুন্নাত।
প্রশ্নঃ (২৬১) নামাযের পর সুন্নাত সম্মত যিকির সমূহ কি কি?
উত্তরঃ নামাযের পর আল্লাহ্র যিকির করার ব্যাপারে আল্লাহ্
তা’আলা আদেশ করেছেন। তিনি বলেনঃ
] ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻗَﻀَﻴْﺘُﻢْ ﺍﻟﺼَّﻼﺓَ ﻓَﺎﺫْﻛُﺮُﻭﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻗِﻴَﺎﻣًﺎ ﻭَﻗُﻌُﻮﺩًﺍ ﻭَﻋَﻠَﻰ
[ﺟُﻨُﻮﺑِﻜُﻢْ
“যখন তোমরা নামায সমাধা করবে, তখন আল্লাহ্র যিকির
করবে দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া অবস্থায়।” (সূরা নিসা- ১০৩)
আল্লাহ্র এই নির্দেশের বর্ণনা দিয়েছেন নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কর্ম ও বাণীর মাধ্যমে। অতএব
সালাম ফেরানোর পর নিম্ন লিখিত দু’আ সমূহ পাঠ করবেঃ
১) তিনবার ইসে-গফার করবে। অর্থাৎ- আস্তাগফিরুল্লাহ্
পাঠ করবে
২) এবং বলবেঃ
ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺍﻟﺴَّﻼﻡُ ﻭَﻣِﻨْﻚَ ﺍﻟﺴَّﻼﻡُ ﺗَﺒَﺎﺭَﻛْﺖَ ﺫَﺍ ﻭَﺍﻹِﻛْﺮَﺍﻡِ
ﺍﻟْﺠَﻼﻝِ
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা আন্তস্সালাম ওয়ামিন কাস্সালাম
তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম।
৩) অতঃপর বলবেঃ
ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﺣْﺪَﻩُ ﻟَﺎ ﺷَﺮِﻳﻚَ ﻟَﻪُ، ﻟَﻪُ ﺍﻟْﻤُﻠْﻚُ ﻭَﻟَﻪُ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ
ﻭَﻫُﻮَ ﻋَﻠَﻰ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻗَﺪِﻳﺮٌ ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﻟَﺎ ﻣَﺎﻧِﻊَ ﻟِﻤَﺎ ﺃَﻋْﻄَﻴْﺖَ ﻭَﻟَﺎ
ﻣُﻌْﻄِﻲَ ﻟِﻤَﺎ ﻣَﻨَﻌْﺖَ ﻭَﻟَﺎ ﻳَﻨْﻔَﻊُ ﺫَﺍ ﺍﻟْﺠَﺪِّ ﻣِﻨْﻚَ ﺍﻟْﺠَﺪُّ
উচ্চারণঃ লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লাশারীকা লাহু। লাহুল
মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।
আল্লাহুম্মা লা-মা-নেআ লিমা আত্বাইতা ওয়াল মু’তিয়া লিমা
মানা’তা ওয়ালা ইয়ানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু।
অর্থঃ এক আল্লাহ ছাড়া কোন হক উপাস্য নেই। তিনি এক তাঁর
কোন শরীক নাই। মালিকানা তাঁরই, সমুদয় প্রশংসা তাঁরই জন্য।
হে আল্লাহ! আপনি যা দান করেন তা প্রতিরোধকারী কেউ
নেই। এবং আপনি যা রোধ করেন তা দানকারী কেউ নেই। আর
কোন মর্যাদাবানের মর্যাদা আপনার নিকট থেকে কোন উপকার
আদায় করে দিতে পারে না।
৪) অতঃপর বলবেঃ
] ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﺣْﺪَﻩُ ﻟَﺎ ﺷَﺮِﻳﻚَ ﻟَﻪُ، ﻟَﻪُ ﺍﻟْﻤُﻠْﻚُ ﻭَﻟَﻪُ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ
ﻭَﻫُﻮَ ﻋَﻠَﻰ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻗَﺪِﻳﺮٌ ﻟَﺎ ﺣَﻮْﻝَ ﻭَﻟَﺎ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻟَّﺎ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻟَﺎ
ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻟَﺎ ﻧَﻌْﺒُﺪُ ﺇِﻟَّﺎ ﺇِﻳَّﺎﻩُ ﻟَﻪُ ﺍﻟﻨِّﻌْﻤَﺔُ ﻭَﻟَﻪُ ﺍﻟْﻔَﻀْﻞُ ﻭَﻟَﻪُ
ﺍﻟﺜَّﻨَﺎﺀُ ﺍﻟْﺤَﺴَﻦُ ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣُﺨْﻠِﺼِﻴﻦَ ﻟَﻪُ ﺍﻟﺪِّﻳﻦَ ﻭَﻟَﻮْ ﻛَﺮِﻩَ
[ﺍﻟْﻜَﺎﻓِﺮُﻭﻥَ
“আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই। তিনি এক তাঁর কোন
শরীক নেই। তারই জন্য রাজত্ব, তারই জন্য সমস্ত প্রশংসা।
তিনি সকল বস্তর উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত
গুনাহ হতে বিরত থাকা ও আনুগত্য করার ক্ষমতা লাভ করা যায়
না। আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই। আর আমরা
তাঁকে ছাড়া অন্যের ইবাদত করি না। একমাত্র তাঁর অধিকারে
সমস্ত নেয়ামত, তাঁরই জন্য সমস্ত সম্মান মর্যাদা, আর তাঁরই
জন্য উত্তম স্ততি। আল্লাহ ব্যতীত কোন হক উপাস্য নেই।
তার নিমিত্তে আমরা ধর্ম পালন করি একনিষ্ঠ ভাবে। যদিও
কাফেররা তা মন্দ ভাবে।
৫) তাসবীহ পাঠ করবে অর্থ্যাৎ ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে ৩৩
বার, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলবে ৩৩ বার এবং ‘আল্লাহু আকবার’
বলবে ৩৩ বার। এবং একশ এর পূর্ণতা স্বরূপ এই দু‘আটি বলবে।
ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﺣْﺪَﻩُ ﻟَﺎ ﺷَﺮِﻳﻚَ ﻟَﻪُ، ﻟَﻪُ ﺍﻟْﻤُﻠْﻚُ ﻭَﻟَﻪُ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ
ﻭَﻫُﻮَ ﻋَﻠَﻰ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻗَﺪِﻳﺮٌ
উচ্চারণঃ লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লাশারীকা লাহু। লাহুল
মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।
অর্থঃ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই তিনি
এক তাঁর কোন শরীক নাই। মালিকানা তাঁরই সমুদয় প্রশংসা
তাঁরই জন্য।
যে ব্যক্তি অত্র তাসবীহ্ ও দু‘আটি বলবে তার গুনাহগুলো ক্ষমা
করে দেওয়া হবে। যদিও তা সমুদ্রের ফেনারাশী পরিমাণ হয় না
কেন।
পূর্বোল্লিখিত তাসবীহ্গুলো যে কোনটা দ্বারা শুরু করতে
পারবে। আর সুুবহানাল্লাহ, আল হামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার
একসাথে ৩৩ বার বলবে অথবা প্রত্যেকটা আলাদা আলাদা ৩৩
বার করে বলবে কোন অসুবিধা নেই।
অনুরূপভাবে উক্ত তাসবীহ্ সমূহ ৩৩ বারের পরিবর্তে ১০ বার
করে বলতে পারবে।
৬) সুবহানাল্লাহ্ ওয়াল হামদুলিল্লাহ্ ওয়া লাইলাহা
ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার- এই চারটি তাসবীহ্ ২৫ বার পাঠ
করবে। সর্বমোট ১০০ বার।
উল্লেখিত তাসবীহ্গুলোর যে কোন একটি প্রকার পাঠ করলেই
হবে। কেননা ইসলামী মূলনীতি হচ্ছে, (কোন ইবাদত যদি
কয়েকভাবে প্রমাণিত হয়, তবে তার প্রত্যেক প্রকার থেকে
কখনো এটা কখনো ওটা বাস্তবায়ন করা সুন্নাত।) এই তাসবীহ
সকল নামাযের ক্ষেত্রে প্রজোয্য। ফজর, যোহর, আছর,
মাগরিব ও এশা। তবে ফজর ও মাগরিব নামায বাদ নিম্নলিখিত
দু’আটি ১০ বার পাঠ করবেঃ ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু
লাশারীকা লাহু। লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা
কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।’ অনুরূপভাবে উক্ত দু’নামাযের পর সাত
বার পাঠ করবে এই দু’আঃ ( ﺭَ ﺏِّ ﺃﺟِﺮْﻧِﻲْ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨﺎَّﺭِ ) ‘হে আমার
পালনকর্তা! আমাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর।’
৭) অতঃপর আয়াতুল কুরসী (সূরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াত)
পাঠ করবে। যে ব্যক্তি প্রতেক ফরয নামাযানে- অত্র আয়াতুল
কুরসী পাঠ করবে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করা হতে বাধা দানকারী
একমাত্র মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই থাকবে না।
৮) তারপর একবার করে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস
পাঠ করবে। তবে ফজর বা মাগরীব নামায এর ব্যতিক্রম- এই দুই
নামাযের পর অত্র তিনটি সূরা তিনবার করে পাঠ করবে। (আবু
দাউদ, নাসাঈ)
প্রশ্নঃ (২৬২) নামাযের পর হাত উত্তোলন করে দু’আ করার
বিধান কি?
উত্তরঃ নামায শেষে হাত তুলে দু’আ করা শরীয়ত সম্মত নয়।
দু’আ করতে চাইলে নামাযের মধ্যে দু’আ করা উত্তম। একারণে
ইবনে মাসঊদ বর্ণিত তাশাহুদ শিক্ষার হাদীছে নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিয়েছেনঃ
ﺛُﻢَّ ﻟْﻴَﺘَﺨَﻴَّﺮْ ﺑَﻌْﺪُ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤَﺴْﺄَﻟَﺔِ ﻣَﺎ ﺷَﺎﺀَ
“তারপর ইচ্ছামত যে কোন দু’আ পাঠ করবে।”
সাধারণ মানুষ অনেকেই ফরয বা সুন্নাত যে কোন নামায শেষ
হলেই হাত তুলে দু’আ আরম্ভ করে। এমনকি এদের অধিকাংশ এ
কাজ কখনই পরিত্যাগ করে না।َ
অনেক লোক এমন দেখবেন ফরয নামায শুরু হয়ে যাচ্ছে আর সে
সুন্নাত নামাযের তাশাহুদে বসে আছে। সালাম ফেরানো হলেই
হাত উঠাবে কিছু বলল কি না আল্লাহই জানেন আবার হাত মুখে
মুছে ফেলবে। মনে করে নামায শেষ করে হাত দু’টো না উঠালে
যেন নামাযটাই সুন্দর হল না।
প্রশ্নঃ (২৬৩) ফরয নামাযানে- সমস্বরে সূরা ফাতিহা,
আয়াতুল কুরসী প্রভৃতি পাঠ করার বিধান কি?
উত্তরঃ নামাযানে- সকলে মিলে সমস্বরে সূরা ফাতিহা, আয়াতুল
কুরসী বা অন্যান্য যিকির করা বিদআত। কেননা নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং ছাহাবীদের (রাঃ)
থেকে যেটা প্রমাণিত রয়েছে, তাঁরা ফরয নামায শেষ করে কিছুটা
উঁচু আওয়াযে যিকির পাঠ করতেন। কিন্তু তাঁরা প্রত্যেকে ভিন্ন
ভিন্নভাবে পাঠ করতেন। সমস্বরে নয়। অতএব ফরয নামাযানে-
উঁচু কন্ঠে যিকির করা ছহীহ্ সুন্নাহ্ দ্বারা প্রমাণিত। আবদুল্লাহ্
বিন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
ﺃَﻥَّ ﺭَﻓْﻊَ ﺍﻟﺼَّﻮْﺕِ ﺑِﺎﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺣِﻴﻦَ ﻳَﻨْﺼَﺮِﻑُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤَﻜْﺘُﻮﺑَﺔِ
ﻛَﺎﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﻋَﻬْﺪِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻬﻢ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺍﺑْﻦُ
ﻋَﺒَّﺎﺱٍ ﻛُﻨْﺖُ ﺃَﻋْﻠَﻢُ ﺇِﺫَﺍ ﺍﻧْﺼَﺮَﻓُﻮﺍ ﺑِﺬَﻟِﻚَ ﺇِﺫَﺍ ﺳَﻤِﻌْﺘُﻪُ
“নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুগে লোকেরা
ফরয নামায শেষ করলে উঁচু কন্ঠে যিকির পাঠ করতেন। ইবনু
আব্বাস (রাঃ) বলেন, উঁচু কন্ঠের যিকির শুনলে আমি বুঝতাম
লোকেরা নামায শেষ করেছেন।”
কিন্তু নামাযের পর উঁচু কন্ঠে বা নীচু কন্ঠে সূরা ফাতিহা পাঠ
করার ব্যাপারে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে
কোন হাদীছ আমি জানি না। তবে ছহীহ্ হাদীছে প্রমাণিত
হয়েছে, আয়াতুল কুরসী ও মুআব্বেযাতাইন (সূরা ফালাক ও নাস)
পাঠ করা।
প্রশ্নঃ (২৬৪) টয়লেট সারতে গেলে জামাআত ছুটে যাওয়ার
আশংকা থাকলে কি করবে?
উত্তরঃ প্রথমে টয়লেটের কাজ সম্পন্ন করবে। তারপর ওযু করে
নামাযের দিকে অগ্রসর হবে। যদিও তার জামাআত ছুটে যায়।
এতে কোন অসুবিধা নেই। কেননা এটা তার ওযর। নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
ﻟَﺎ ﺻَﻠَﺎﺓَ ﺑِﺤَﻀْﺮَﺓِ ﺍﻟﻄَّﻌَﺎﻡِ ﻭَﻟَﺎ ﻫُﻮَ ﻳُﺪَﺍﻓِﻌُﻪُ ﺍﻟْﺄَﺧْﺒَﺜَﺎﻥِ
“খাদ্য উপস্থিত হলে এবং দু’টি নাপাক বস্তর চাপ থাকলে নামায
নেই।”
প্রশ্নঃ (২৬৫) নামায পড়ার সময় চোখ বন্ধ রাখার বিধান কি?
উত্তরঃ নামায অবস্থায় চোখ বন্ধ রাখা মাকরূহ। কেননা এটা
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সুন্নাত বিরোধী।
তবে যদি কোন কারণ থাকে যেমন, সম্মুখের দেয়াল বা কার্পেট
বা জায়নামাযে এমন কোন নকশা থাকে যার কারণে নামাযের
একাগ্রতা নষ্ট হয় বা সম্মুখে শক্তিশালী আলো থাকে যাতে
চোখের ক্ষতির আশংকা হয়, তবে চোখ বন্ধ রাখতে কোন
অসুবিধা নেই। অর্থাৎ কারণ বশতঃ হলে কোন অসুবিধা নেই।
অন্যথা তা মাকরূহ। এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে
ইমাম ইবনুল কাইয়্যেমের যাদুল মা’আদ গ্রন্থ অধ্যয়ন করা
যেতে পারে।
প্রশ্নঃ (২৬৬) নামাযরত অবস্থায় ভুলক্রমে আঙ্গুল ফুটালে কি
নামায বাতিল হয়ে যাবে?
উত্তরঃ আঙ্গুল ফুটালে নামায বাতিল হয় না। কিন্তু এটি একটি
অনর্থক কাজ। যা থেকে বিরত থাকা উচিত। জামাআতের সাথে
থাকলে নিঃসন্দেহে এতে অন্যান্য মুছল্লীর নামাযে ব্যাঘাত
ঘটবে। তখন তা আরো ক্ষতিকর।
এ উপলক্ষ্যে আমি বলতে চাইঃ নামায অবস্থায় নড়াচড়া করা
পাঁচভাগে বিভক্তঃ
১) ওয়াজিব ২) সুন্নাত ৩) মাকরূহ ৪) হারাম ৫) জায়েয।
ওয়াজিব নড়াচড়াঃ যেমনঃ নামায শুরু করেছে এমন সময় স্মরণ
হল, তার টুপিতে নাপাকি রয়েছে। তখন টুপি খুলে ফেলার জন্য
নড়াচড়া করা ওয়াজিব। একথার দলীল হচ্ছেঃ একদা নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুতা পরে নামায আদায়
করছিলেন। এমন সময় জিবরীল (আঃ) এসে তাঁকে সংবাদ দিলেন,
তাঁর জুতায় নাপাকী রয়েছে। তিনি নামাযরত অবস্থাতেই জুতা
খুলে ফেললেন এবং নামায চালিয়ে গেলেন।
সুন্নাত নড়াচড়াঃ নামায পরিপূর্ণ করার জন্য নড়াচড়া করা।
যেমনঃ কাতারের ফাঁকা স্থান পূর্ণ করার জন্য নামায অবস্থায়
সামনের কাতারে চলে যাওয়া বা ডানে-বামে পার্শ্ববর্তী
মুছল্লীর কাছে সরে যাওয়া। এসবগুলো করা সুন্নাত।
মাকরূহ নড়াচড়াঃ অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া। যার সাথে নামাযের
কোনই সম্পর্ক নেই।
হারাম নড়াচড়াঃ লাগাতার অধিকহারে নড়াচড়া করা। যেমনঃ
দাঁড়ানো অবস্থায় অনর্থক কাজ করা, রুকূ অবস্থায় অধিকহারে
নড়াচড়া করা, সিজদা বা বসা অবস্থায় অনর্থক নড়াচড়া করতে
থাকা এমনকি এভাবে নামায শেষ করা। এধরণের নড়াচড়া হারাম।
এর মাধ্যমে নামায বাতিল হয়ে যাবে।
জায়েয নড়াচড়াঃ যেমন শরীরের কোন স্থান চুলকানোর
প্রয়োজন অনুভব করল। বা শরীর থেকে মশা-মাছি তাড়ানোর
দরকার পড়ল.. ইত্যাদি ছোট-খাট বিষয় যা পরস্পর নয় এবং
অধিকহারে নয় তা বৈধ।
প্রশ্নঃ (২৬৭) সুতরার বিধান কি? এবং এর সীমা কতটুকু?
উত্তরঃ সুতরা গ্রহণ করা সুন্নাতে মুআক্কাদা। তবে জামাতের
সাথে নামায পড়লে মুক্তাদীর জন্য সুতরার দরকার নেই।
ইমামের সুতরা মুক্তাদীর জন্য যথেষ্ট। এর সীমা সম্পর্কে নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করা হলে
তিনি বলেনঃ
ﻣِﺜْﻞَ ﻣُﺆْﺧِﺮَﺓِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻞِ
“উটের উপর হেলান দিয়ে বসার জন্য তার পিঠে যে কাঠ রাখা হয়
তার উচ্চতার বরাবর।”
এটা হচ্ছে সর্বোচ্চ উচ্চতা। এর চেয়ে কমও বৈধ আছে। কেননা
হাদীছে এসেছেঃ
ﺇِﺫَﺍ ﺻَﻠَّﻰ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ ﻓَﻠْﻴَﺴْﺘَﺘِﺮْ ﻟِﺼَﻠَﺎﺗِﻪِ ﻭَﻟَﻮْ ﺑِﺴَﻬْﻢٍ
“তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি যখন ছালাত আদায় করে, সে
যেন একটি তীর দিয়ে হলেও সুতরা করে নেয়।”
হাসান সনদে আবু দাউদে বর্ণিত অন্য হাদীছে বলা হয়েছেঃ
“কোন কিছু না পেলে যেন একটি দাগ টেনে নেয়।” হাফেয ইবনু
হাজার বুলুগুল মারাম গ্রন্থে বলেনঃ যারা হাদীছটি মুযতারাব বলে
অভিমত ব্যক্ত করেছেন তারা সঠিক কথা বলেন নি। সুতরাং
হাদীছকে প্রত্যাখ্যান করার তেমন কোন কারণ নেই।
প্রশ্নঃ (২৬৮) মসজিদে হারামে মুছল্লীর সম্মুখ দিয়ে
অতিক্রম করার বিধান কি? নামায ফরয হোক বা নফল। মুছল্লী
মুক্তাদী হোক বা একাকী হোক।
উত্তরঃ মসজিদুল হারাম বা অন্য কোন স্থানে মুক্তাদী
মুছল্লীর সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করতে কোন অসুবিধা নেই।
কেননা ইবনু আব্বাস (রাঃ) মিনায় আগমণ করলেন। তখন নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকদের নিয়ে একটি
দেয়াল সামনে রেখে নামায আদায় করছিলেন। ইবনু আব্বাস
কাতারের সম্মুখ দিয়ে একটি গাধার পিঠে চড়ে অতিক্রম করলেন।
কেউ তার প্রতিবাদ করেনি।
মুছল্লী যদি ইমাম বা একক হয়, তবে তার সম্মুখ দিয়ে যাওয়া
জয়েয নেই। চাই তা মসজিদুল হারামে হোক বা অন্য কোন
স্থানে। কেননা সাধারণভাবে হাদীছগুলো এ কথাই প্রমাণ করে।
এমন কোন দলীল পাওয়া যায় না যে, মক্কা বা মসজিদে হারামে
বা মদীনার মসজিদে মুছল্লীর সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করা যাবে
কোন গুনাহ্ হবে না।
প্রশ্নঃ (২৬৯) নামাযের সময় মুছল্লীদের সম্মুখে বৈদ্যুতিক
হিটার (শীতকালে ঠান্ডা কমানোর জন্য ব্যবহৃত হিটার) রাখার
বিধান কি? এক্ষেত্রে কি কোন শরঈ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে?
উত্তরঃ মুছল্লীদের সম্মুখভাগে ক্বিবলার দিকে হিটার রাখতে
কোন অসুবিধা নেই। শরীয়তে এর নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে আমার
কোন কিছু জানা নেই।
প্রশ্নঃ (২৭০) নামাযের ক্বিরাতে জান্নাত ও জাহান্নামের
আলোচনা আসলে জান্নাতের প্রার্থনা এবং জাহান্নাম থেকে
আশ্রয় কামনা করা জায়েয কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ, এটা জায়েয। এক্ষেত্রে ইমাম, মুক্তাদী বা একক
ব্যক্তির মাঝে কোন পার্থক্য নেই। তবে মুক্তাদীর যেন
ইমামের ক্বিরআত নীরব থেকে শোনার ব্যাপারে কোন ব্যাঘাত
না ঘাটে।
প্রশ্নঃ (২৭১) সাহু সিজদা করার কারণ সমূহ কি কি?
উত্তরঃ সাহু সিজদা সংবিধিবদ্ধ করার পিছনে রহস্য হল এই যে,
এটা নামাযের মধ্যে যে ত্রুটি হয় তার পূর্ণতা দান করে।
তিনটি কারণে নামাযে সাহু সিজদা দিতে হয়ঃ
১) নামায বৃদ্ধি হওয়া। যেমন, কোন রুকূ বা সিজদা বা বসা
ইত্যাদি বৃদ্ধি হওয়া।
২) হ্রাস হওয়া। কোন রুকন বা ওয়াজিব কম হওয়া।
৩) সন্দেহ হওয়া। কত রাকাত পড়েছে তিন না চার এব্যাপারে
সংশয় হওয়া।
প্রথমতঃ ছালাতে বৃদ্ধি হওয়া:
মুছল্লী যদি নামাযের অন্তর্ভুক্ত এমন কিছু কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে
বৃদ্ধি করে যেমনঃ দাঁড়ানো, বসা, রুকূ‘, সিজদা ইত্যাদি- যেমন
দু‘বার করে রুকূ করা, তিন বার সিজদা করা, অথবা যোহর পাঁচ
রাকাত আদায় করা। তবে তার ছালাত বাতিল বা ভঙ্গ হয়ে যাবে।
কেননা সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের বিপরীত আমল
করেছে। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
ﻣَﻦْ ﻋَﻤِﻞَ ﻋَﻤَﻠًﺎ ﻟَﻴْﺲَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺃَﻣْﺮُﻧَﺎ ﻓَﻬُﻮَ ﺭَﺩٌّ
“যে ব্যক্তি এমন আমল করবে, যার পক্ষে আমাদের নির্দেশনা
নেই, তবে উহা প্রত্যাখ্যাত।”
কিন্তু যদি ভুলবশতঃ তা করে এবং ঐভাবেই ছালাত শেষ করে
দেয়ার পর স্মরণ হয় যে, ছালাতে বৃদ্ধি হয়ে গেছে, তবে শুধুমাত্র
সাহু সিজদা করবে। তার ছালাতও বিশুদ্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু
ছালাতরত অবস্থায় যদি উক্ত বৃদ্ধি স্মরণ হয়- যেমন চার
রাকাআত শেষ করে পাঁচ রাকাআতের জন্য দাঁড়িয়ে গেছে- তবে সে
ফিরে আসবে এবং শেষে সিজদায়ে সাহু করবে।
উদাহরণ: জনৈক ব্যক্তি যোহরের ছালাত পাঁচ রাকাআত আদায়
করে নিয়েছে। কিন্তু শেষ তাশাহুদে বসার সময় এবৃদ্ধির কথা
তার স্মরণ হল, তাহলে সে তাশাহুদ পূর্ণ করবে এবং সালাম
ফেরাবে। তারপর সাহু সিজদা করবে এবং সালাম ফিরাবে। আর
যদি সালাম ফেরানোর পর তা স্মরণ হয়, তবে সাহু সিজদা করবে
এবং সালাম ফিরাবে।
আর যদি পঞ্চম রাকাআত চলা অবস্থায় স্মরণ হয় তবে তখনই
বসে পড়বে এবং তাশাহুদ পড়ে সালাম ফেরাবে। তারপর সিজদায়ে
সাহু করে আবার সালাম ফেরাবে।
দলীল:
ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻗَﺎﻝَ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ
ﺍﻟﻈُّﻬْﺮَ ﺧَﻤْﺴًﺎ ﻓَﻘَﺎﻟُﻮﺍ ﺃَﺯِﻳﺪَ ﻓِﻲ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ؟ :َﻝﺎَﻗ ﻭَﻣَﺎ ﺫَﺍﻙَ؟
:ﺍﻮُﻟﺎَﻗ ﺻَﻠَّﻴْﺖَ ﺧَﻤْﺴًﺎ، ﻓﺴﺠﺪ ﺳﺠﺪﺗﻴﻦ ﺑﻌﺪ ﻣﺎ ﺳﻠﻢ. ﻭﻓﻲ
:ﺔﻳﺍﻭﺭ ﻓَﺜَﻨَﻰ ﺭِﺟْﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﺠَﺪَ ﺳَﺠْﺪَﺗَﻴْﻦِ ﺛﻢ ﺳﻠﻢ
আবদুল্লাহ্ বিন মাসঊদ (রা:) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন,
একদা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যোহরের নামায
পাঁচ রাক্আত পড়লেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হল, নামায কি বৃদ্ধি
করা হয়েছে? তিনি বললেন, কিভাবে? তাঁরা বললেন, আপনি আজ
পাঁচ রাকাআত পড়েছেন। তখন তিনি দু‘টি সিজদা করলেন। অন্য
রেওয়ায়াতে এসেছে, তখন তিনি পা গুটিয়ে ক্বিবলামুখি হলেন,
দু‘টি সিজদা করলেন অত:পর সালাম ফেরালেন।
সালাত পূর্ণ হওয়ার আগেই সালাম ফেরানো:
নামায পূর্ণ হওয়ার আগেই সালাম ফেরানো ছালাতে বৃদ্ধি করার
অন্তর্গত। কেননা ছালাতরত অবস্থায় সে সালামকে বৃদ্ধি
করেছে। একাজ যদি ইচ্ছাকৃত করে তবে ছালাত বাতিল হয়ে যাবে।
আর যদি ভুলক্রমে হয়, কিন্তু অনেক পরে তার এ ভুলের কথা
মনে পড়ল তবে নামায পুনরায় ফিরিয়ে পড়বে। আর যদি একটু
পরেই (যেমন দু/এক মিনিট) তবে সে অবশিষ্ট ছালাত পূর্ণ করবে
এবং সালাম ফিরাবে। অতঃপর সাহু সিজদা করে সালাম ফিরাবে।
দলীল:
ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﺭَﺿِﻲ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻨْﻪ ﺃّﻥّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺻَﻠَّﻰ ﺑِﻬﻢ ﺍﻟﻈُّﻬْﺮَ ﺃﻭ ﺍﻟﻌﺼﺮ ﻓﺴَﻠَّﻢَ ﻣﻦ ﺭَﻛْﻌَﺘَﻴْﻦِ
ﻓَﺨَﺮَﺝَ ﺳَﺮَﻋَﺎﻥُ ﻣﻦ ﺃﺑﻮﺍﺏ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِ :ﻥﻮﻟﻮﻘﻳ ﻗَﺼُﺮَﺕِ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓُ
ﻭَﻗَﺎﻡَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺇِﻟَﻰ ﺧَﺸَﺒَﺔٍ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِ
ﻓﺎﺗﻜﺄَ ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ ﻛﺄﻧﻪ ﻏﻀﺒﺎﻥَ، ﻓﻘﺎﻡ ﺭﺟﻞ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻳَﺎ ﺭﺳﻮﻝ
:ﻪﻠﻟﺍ ﺃَﻧَﺴِﻴﺖَ ﺃَﻡْ ﻗَﺼُﺮَﺕْ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓُ؟ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ
ﻋَﻠَﻴْﻪِ :َﻢَّﻠَﺳَﻭ ﻟَﻢْ ﺃَﻧْﺲَ ﻭَﻟَﻢْ ﺗَﻘْﺼُﺮْ، ﻓﻘﺎﻝ :ﻞﺟﺮﻟﺍ ﺑَﻠﻲ
ﻧَﺴِﻴﺖَ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ :ﺔﺑﺎﺤﺼﻠﻟ ﺃَﺣﻖٌّ
ﻣﺎ ﻳﻘﻮﻝ؟ :ﺍﻮُﻟﺎَﻗ ﻧﻌﻢ، ﻓﺘﻘﺪﻡ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻓَﺼَﻠَّﻰ ﻣﺎ ﺑﻘﻲ ﻣﻦ ﺻﻼﺗﻪ، ﺛﻢ ﺳﻠﻢ ﺛﻢ ﺳﺠﺪﺗﻴﻦ ﺛﻢ ﺳﻠﻢ
ﺳﺠﺪ
আবু হুরায়রা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে নিয়ে যোহর
অথবা আছরের ছালাত আদায় করলেন। কিন্তু দু‘রাকাআত আদায়
করেই সালাম ফিরিয়ে দিলেন। কিছু লোক দ্রুত মসিজদ থেকে
একথা বলতে বলতে বের হয়ে গেল যে, ছালাত সংক্ষিপ্ত হয়ে
গেছে। নবীজিও (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদের
এক খুঁটির কাছে গিয়ে তাতে হেলান দিয়ে বসে পড়লেন। মনে
হচ্ছিল তিনি যেন রাগন্বিত। জনৈক ব্যক্তি তাঁর কাছে গিয়ে
বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কি ভুলে গেছেন, নাকি নামায
সংক্ষিপ্ত করে দেয়া হয়েছে? নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম) বললেন, আমি তো ভুলিনি, আর নামাযও সংক্ষিপ্ত
করা হয়নি। লোকটি বলল, বরং আপনি ভুলেই গিয়েছেন। (কারণ
আপনি দু‘রাকাআত ছালাত আদায় করেছেন।) নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছাহাবীদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, একি
সত্য বলছে? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। তখন নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবার দাঁড়িয়ে পড়লেন এবং অবশিষ্ট
দু‘রাকাআত আদায় করে তাশাহুদ পড়ে সালাম ফিরলেন। তারপর
দু‘টি সিজদা করলেন অতঃপর সালাম ফেরালেন।
দ্বিতীয়ত: ছালাতে হ্রাস হওয়া:
ক) রুকন হ্রাস হওয়া:
মুছল্লী যদি কোন রুকন কম করে ফেলে- উক্ত রুকন যদি
তাকবীরে তাহরিমা (নামায শুরু করার তাকবীর) হয়, তবে তার
ছালাতই হবে না। চাই উহা ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিক বা ভুলক্রমে
ছেড়ে দিক। কেননা তার ছালাতই তো শুরু হয়নি।
আর উক্ত রুকন যদি তাকবীরে তাহরিমা ব্যতীত অন্য কিছু হয়
আর তা ইচ্ছাকৃত হয় তবে তার ছালাত বাতিল বা ভঙ্গ হয়ে যাবে।
কিন্তু যদি অনিচ্ছাকৃত বা ভুলক্রমে কোন রুকন ছুটে যায়- যেমন
প্রথম রাকাআতে কোন রুকন ছুটে গেল, এখন যদি দ্বিতীয়
রাকাআতে সেই ছুটে যাওয়া রুকনের নিকট পৌঁছে যায়- তবে
এঅবস্থায় আগের রাকাআত বাতিল হয়ে যাবে এবং এটাকে প্রথম
রাকাআত গণ্য করবে এবং বাকী অংশ পূরা করে সাহু সিজদা
দিবে।
কিন্তু যদি দ্বিতীয় রাকাআতে ছুটে যাওয়া সেই রুকনে না পৌঁছে,
তবে ছুটে যাওয়া রুকনটি আগে আদায় করবে তারপর বাকী
অংশগুলো আদায় করবে এবং সাহু সিজদা দিবে।
উদাহরণ: জনৈক মুছল্লী প্রথম রাকাআতের দ্বিতীয় সিজদাটি
ভুলে গেল। যখন সেকথা স্মরণ হল, তখন সে দ্বিতীয়
রাকাআতের দু‘সিজদার মধ্যবর্তি স্থানে বসেছে। এঅবস্থায়
আগের রাকাতটি বাতিল হয়ে যাবে এবং এটাকে প্রথম রাকাত গণ্য
করে অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করে ছালাত শেষে সাহু সিজদা করবে।
আর একটি উদাহরণ: জনৈক ব্যক্তি প্রথম রাকাআতে একটি
মাত্র সিজদা করেছে। তারপর দ্বিতীয় সিজদা না করেই দাঁড়িয়ে
পড়েছে। অতঃপর দ্বিতীয় রাকাতে রুকূ করার পর সেই ভুলের কথা
স্মরণ হয়েছে, তবে সে বসে পড়বে এবং সেই ছুটে যাওয়া সিজদা
দিবে এবং সেখান থেকে ছালাতের বাকী অংশ পূর্ণ করে সালাম
ফিরাবে। তারপর সাহু সিজদা করে সালাম ফিরাবে।
খ) কোন ওয়াজিব হ্রাস হওয়া:
মুছল্লী যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন ওয়াজিব পরিত্যাগ করে তবে
তার ছালাত বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি ভুলক্রমে হয় আর উক্ত
স্থান ছেড়ে যাওয়ার আগেই যদি স্মরণ হয়ে যায় তবে তা আদায়
করবে এতে কোন দোষ নেই- সাহু সিজদা দিতে হবে না। কিন্তু
যদি উক্ত ওয়াজিব ছেড়ে পরবর্তী রুকন শুরু করার আগেই স্মরণ
হয়ে যায় তবে ফিরে গিয়ে সেই ওয়াজিব আদায় করবে এবং শেষে
সাহু সিজদা করবে। কিন্তু পরবর্তী রুকন শুরু করার পর যদি
স্মরণ হয় তবে উক্ত ছুটে যাওয়া ওয়াজিব রহিত হয়ে যাবে।
অবশিষ্ট ছালাত আদায় করে সালামের পূর্বে সাহু সিজদা করলেই
ছালাত পূর্ণ হয়ে যাবে।
উদাহরণ: একজন মুছল্লী দ্বিতীয় রাকাতের দ্বিতীয় সিজদা
থেকে উঠে না বসে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াতে যাচ্ছে। এমন
সময় স্মরণ হল নিজ ভুলের কথা। তখন সে বসে পড়বে এবং
তাশাহুদ পড়ে ছালাত পূর্ণ করবে। কোন সাহু সিজদা লাগবে না।
আর যদি কিছুটা দাঁড়ায় কিন্তু পরিপূর্ণরূপে দাঁড়ায়নি তবে সে
বসে যাবে এবং তাশাহুদ পড়বে ও ছালাত শেষে সাহু সিজদা করে
সালাম ফিরাবে। কিন্তু যদি পূর্ণরূপে দাঁড়িয়ে পড়ে তবে আর
বসবে না। তাশাহুদ রহিত হযে যাবে। ঐভাবেই ছালাত পূর্ণ করবে
এবং সলাম ফিরানোর পূর্বে সাহু সিজদা করবে।
দলীল:
ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﺑْﻦِ ﺑُﺤَﻴْﻨَﺔَ ﻗَﺎﻝَ ﺻَﻠَّﻰ ﺑِﻨَﺎ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ
ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻓَﻘَﺎﻡَ ﻓِﻲ ﺍﻟﺮَّﻛْﻌَﺘَﻴْﻦِ ﺍﻟْﺄُﻭﻟَﻴَﻴْﻦِ ﻗَﺒْﻞَ ﺃَﻥْ ﻳَﺠْﻠِﺲَ
ﻓَﻤَﻀَﻰ ﻓِﻲ ﺻَﻠَﺎﺗِﻪِ ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﻗَﻀَﻰ ﺻَﻠَﺎﺗَﻪُ ﺍﻧْﺘَﻈَﺮَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ
ﺗَﺴْﻠِﻴﻤَﻪُ ﻓَﻜَﺒَّﺮَ ﻭَﺳَﺠَﺪَ ﻗَﺒْﻞَ ﺃَﻥْ ﻳُﺴَﻠِّﻢَ ﺛُﻢَّ ﺭَﻓَﻊَ ﺭَﺃْﺳَﻪُ ﺛُﻢَّ ﻛَﺒَّﺮَ
ﻭَﺳَﺠَﺪَ ﺛُﻢَّ ﺭَﻓَﻊَ ﺭَﺃْﺳَﻪُ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ
আবদুল্লাহ্ বিন বুহাইনাহ্ (রা:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
একদা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে
নিয়ে (যোহর) ছালাত আদায় করলেন। কিন্তু দু‘রাকাত শেষে
(তাশাহুদ না পড়েই) দাঁড়িয়ে পড়লেন। তিনি নামায চালিয়ে যেতে
থাকলেন। ছালাত শেষে মানুষ সালামের অপেক্ষা করছে এমন সময়
সালামের পূর্বে তিনি তাকবীর দিয়ে সিজদা করলেন, মাথা
উঠিয়ে আবার তাকবীর দিয়ে সিজদা করলেন, তারপর মাথা
উঠিয়ে সালাম ফেরালেন।
তৃতীয়ত: সন্দেহ হওয়া:
ছালাতের মধ্যে সন্দেহের দু‘টি অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: সন্দেহযুক্ত দু‘টি বিষয়ের মধ্যে যেটির
প্রাধান্য পাবে সে অনুযায়ী কাজ করবে এবং ছালাত পূর্ণ করে
সালাম ফিরাবে। তারপর সাহু সিজদা করে সালাম ফিরাবে।
উদাহরণ: একজন লোক যোহরের ছালাত আদায় করছে। কিন্তু
সন্দেহ হল এখন সে কি দ্বিতীয় রাকাতে না তৃতীয় রাকাতে? এ
সময় সে অনুমান করে স্থির করবে কোনটা ঠিক। যদি অনুমান
প্রাধান্য পায় যে এটা তৃতীয় রাকাত, তবে তা তৃতীয় রাকাত গণ্য
করে ছালাত পূর্ণ করবে এবং সালাম ফেরানোর পর সাহু সিজদা
করবে।
দলীল: আবদুল্লাহ্ বিন মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺷَﻚَّ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ ﻓِﻲ ﺻَﻠَﺎﺗِﻪِ ﻓَﻠْﻴَﺘَﺤَﺮَّ ﺍﻟﺼَّﻮَﺍﺏَ ﻓَﻠْﻴُﺘِﻢَّ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
ﺛُﻢَّ ﻟِﻴُﺴَﻠِّﻢْ ﺛُﻢَّ ﻳَﺴْﺠُﺪُ ﺳَﺠْﺪَﺗَﻴْﻦِ
“তোমাদের কারো ছালাতে যদি সন্দেহ হয় তবে সঠিক
সিদ্ধানে- উপনীত হওয়ার চেষ্টা করবে এবং সে ভিত্তিতে ছালাত
পূর্ণ করবে। তারপর সালাম ফিরিয়ে দু‘টি সাহু সিজদা করবে।”
দ্বিতীয় অবস্থা: সন্দেহযুক্ত দু‘টি দিকের কোনটাই প্রাধান্য
পায় না। এ অবস্থায় নিশ্চিত দিকটির উপর ভিত্তি করবে।
অর্থাৎ কম সংখ্যাটি নির্ধারণ করে বাকী নামায পূর্ণ করবে।
তারপর সালামের আগে সাহু সিজদা করে শেষে সালাম ফিরাবে।
উদাহরণঃ জনৈক ব্যক্তি আছরের ছালাতে সন্দেহ করল- তিন
রাকাত পড়েছে না দু‘রাকাত। কিন্তু অনুমান করে কোনটাই তার
নিকট প্রাধান্য পেল না। এমতাবস্থায় সে তা দ্বিতীয় রাকাত ধরে
প্রথম তাশাহুদ পাঠ করবে। তারপর বাকী দু‘রাকাত নামায পূর্ণ
করবে এবং শেষে সালাম ফিরানোর পূর্বে সাহু সিজদা করবে।
দলীল: আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
ﺇِﺫَﺍ ﺷَﻚَّ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ ﻓِﻲ ﺻَﻼﺗِﻪِ ﻓَﻠَﻢْ ﻳَﺪْﺭِ ﻛَﻢْ ﺻَﻠَّﻰ ﺛَﻼﺛًﺎ ﺃَﻡْ
ﺃَﺭْﺑَﻌًﺎ ﻓَﻠْﻴَﻄْﺮَﺡِ ﺍﻟﺸَّﻚَّ ﻭَﻟْﻴَﺒْﻦِ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﺎ ﺍﺳْﺘَﻴْﻘَﻦَ ﺛُﻢَّ ﻳَﺴْﺠُﺪُ
ﺳَﺠْﺪَﺗَﻴْﻦِ ﻗَﺒْﻞَ ﺃَﻥْ ﻳُﺴَﻠِّﻢَ ﻓَﺈِﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﺻَﻠَّﻰ ﺧَﻤْﺴًﺎ ﺷَﻔَﻌْﻦَ ﻟَﻪُ
ﺻَﻠَﺎﺗَﻪُ ﻭَﺇِﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﺻَﻠَّﻰ ﺇِﺗْﻤَﺎﻣًﺎ ﻟِﺄَﺭْﺑَﻊٍ ﻛَﺎﻧَﺘَﺎ ﺗَﺮْﻏِﻴﻤًﺎ ﻟِﻠﺸَّﻴْﻄَﺎﻥِ
“তোমাদের কোন ব্যক্তি যদি ছালাতে সন্দেহ করে যে, তিন
রাকাত পড়েছে না চার রাকাত? তবে সে সন্দেহকে বর্জন করবে
এবং নিশ্চিতের উপর ভিত্তি করবে। তারপর সালাম ফেরানোর
পূর্বে দু‘টি সিজদা করবে। যদি পাঁচ রাকাত পড়ে থাকে তবে
ছালাত বেজোড় থেকে জোড় হয়ে যাবে। আর যদি চার রাকাতই
পড়ে থাকে, তবে এসিজদা দু‘টি শয়তানকে অপমানের জন্য হবে।”
সারকথা: পূর্বেল্লেখিত আলোচনা থেকে বুঝা গেল যে,
সিজদায়ে সাহু কখনো সালামের আগে কখনো সালামের পর
করতে হয়।
সালামের পূর্বে সাহু সিজদা দু‘ক্ষেত্রে করতে হয়:
প্রথম: ছালাতে যদি কোন ওয়াজিব হ্রাস হয়।
দ্বিতীয়: ছালাতে যদি সন্দেহ হয় এবং দু‘টি দিকের কোনটিই
প্রাধান্য না পায়, তবে সালামের পূর্বে সাহু সিজদা করবে।
সালামের পর দু‘ক্ষেত্রে সাহু সিজদা করতে হয়:
প্রথম: যদি ছালাতে বৃদ্ধি হয়ে যায়।
দ্বিতীয়: যদি সন্দেহ হয় এবং যে কোন একটি দিক অনুমানের
ভিত্তিতে প্রাধান্য লাভ করে, তবে সালামের পর সাহু সিজদা
করবে।
প্রশ্নঃ (২৭২) ইমাম ভুলক্রমে এক রাকাআত নামায বৃদ্ধি
করেছেন। আমি মাসবূক হিসেবে ইমামের অতিরিক্ত নামায
আমার নামাযের সাথে মিলিয়ে নিয়েছি। আমার নামায কি
বিশুদ্ধ হয়েছে? আর যদি ঐ রাকাতের হিসাব না ধরি তবে তার
বিধান কি?
উত্তরঃ সঠিক মত হচ্ছে আপনার নামায বিশুদ্ধ হয়েছে। কেননা
আপনি নামায পূর্ণভাবে আদায় করেছেন। ইমাম যে ভুল করেছেন
সে তার উপর বর্তাবে। ভুল হওয়ার কারণে তিনি মা‘যুর (অপারগ
ও অক্ষম)। কিন্তু আপনি যদি ঐ রাকাআতের হিসাব না ধরেন
এবং অতিরিক্ত রাকাআত আদায় করেন, তবে কোন ওযর ছাড়াই
এক রাকাত বৃদ্ধি করলেন। যার কারণে আপনার নামায বাতিল হয়ে
যাবে।
প্রশ্নঃ (২৭৩) তাহাজ্জুদ নামাযে ভুলক্রমে তৃতীয় রাকাআতের
জন্য দাঁড়িয়ে পড়লে করণীয় কি?
উত্তরঃ স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে বসে পড়বে। অন্যথায় তার
নামায বাতিল হয়ে যাবে। কেননা ইচ্ছাকৃতভাবে তার নামায বৃদ্ধি
হয়ে গেল। ইমাম আহমাদ বলেছেন, কোন লোক যদি রাতের
নফল নামাযে তৃতীয় রাকাআতের জন্য দন্ডায়মান হয়, তবে সে
যেন ফজর নামাযে তৃতীয় রাকাতের জন্য দন্ডায়মান হওয়া বৈধ
করে নিল। এ অবস্থায় সে যদি না বসে যায় তবে তার ছালাত
বাতিল হয়ে যাবে। তবে বিতর নামায এর বিপরীত। যদি নিয়ত
করে (দু’সালামে) তিন রাকাত বিতর পড়বে। (অর্থাৎ- দু’রাকাত
পড়ে সালাম ফিরিয়ে এক রাকাআত পড়বে) কিন্তু দু’রাকাত পড়ে
না বসে ভুলক্রমে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে পড়েছে। এ
অবস্থায় না বসে যদি নামায চালিয়ে যায় এবং তিন রাকাত পূরা
করে তবে তা বিতর হিসেবে যথেষ্ট হবে। কেননা একাধারে তিন
রাকাত বিতর নামায আদায় করা বৈধ।
প্রশ্নঃ (২৭৪) প্রথম তাশাহুদ না পড়ে দাঁড়িয়ে পড়লে করণীয়
কি? এক্ষেত্রে কখন সাহু সিজদা করতে হবে?
উত্তরঃ এ অবস্থায় ফিরে আসবেন না তথা বসে পড়বেন না; বরং
নামায চালিয়েই যাবেন। কেননা আপনি তাশাহুদ থেকে পূর্ণরূপে
বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন এবং পরবর্তী রুকনে চলে গিয়েছেন। এ
অবস্থায় ফিরে আসা মাকরূহ, তবে যদি ফিরে এসে বসে পড়েন,
তবে নামায বাতিল হবে না। কেননা আপনি হারাম কিছু করেননি।
তবে এ অবস্থায় সাহু সিজদা করতে হবে। আর তা সালামের
পূর্বে।
কোন কোন বিদ্বান বলেছেন, নামায চালিয়ে যাওয়া ওয়াজিব,
আর ফিরে আসবেন না। আর ওয়াজিব তাশাহুদ ছুটে যাওয়ার
কারণে সালামের পূর্বে সাহু সিজদা করবেন।
প্রশ্নঃ (২৭৫) বিতর নামাযের বিধান কি? উহা কি শুধু রামাযান
মাসের জন্যই?
উত্তরঃ বিতর নামায রামাযান মাসে ও সকল মাসে সুন্নাতে
মুআক্কাদা। ইমাম আহমাদ ও অন্যান্য বিদ্বানগণ বলেছেনঃ ‘যে
বিতর নামায পরিত্যাগ করে সে খারাপ লোক। তার সাক্ষ্য
গ্রহণ করা উচিত নয়।’ সুন্নাতে মুআক্কাদা এ ইবাদতটি রামাযান
বা যে কোন সময় পরিত্যাগ করা কোন মুমিনের জন্য উচিত
নয়। বিতর হচ্ছে সর্বনিম্ন এক রাকাতের মাধ্যমে রাতের
নামাযের সমাপ্তি করা। অনেকে মনে করে বিতর মানেই কুনূত।
কিন্তু তা ঠিক নয়। কুনূত এক বিষয় বিতর অন্য বিষয়। তবে
বিতর নামাযে দু’আ কুনূত পাঠ করা যায়। কিন্তু তা পাঠ করা
আবশ্যক নয়। রাতের নফল নামায শেষ করতে হয় এক রাকাত বা
একাধারে তিন রাকাত বিতর নামায আদায় করার মাধ্যমে।
মোটকথা বিতর নামায সুন্নাতে মুআক্কাদা তা রামাযান মাসে
হোক বা অন্য সময়। আর উহা পরিত্যাগ করা কোন মুসলিমের
জন্য উচিত নয়।
প্রশ্নঃ (২৭৬) দু’আ কুনূতের জন্য কি বিশেষ কোন দু’আ
আছে? এ সময় দু’আ কি দীর্ঘ করা যায়?
উত্তরঃ এক্ষেত্রে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
হাসান বিন আলী (রাঃ)কে যে দু’আটি শিক্ষা দিয়েছিলেন, তাকেই
দু’আ কুনূত বলা হয়। দু’আটি নিম্নরূপঃ
] ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺍﻫْﺪِﻧِﻲ ﻓِﻴﻤَﻦْ ﻫَﺪَﻳْﺖَ ﻭَﻋَﺎﻓِﻨِﻲ ﻓِﻴﻤَﻦْ ﻋَﺎﻓَﻴْﺖَ
ﻭَﺗَﻮَﻟَّﻨِﻲ ﻓِﻴﻤَﻦْ ﺗَﻮَﻟَّﻴْﺖَ ﻭَﺑَﺎﺭِﻙْ ﻟِﻲ ﻓِﻴﻤَﺎ ﺃَﻋْﻄَﻴْﺖَ ﻭَﻗِﻨِﻲ ﺷَﺮَّ
ﻣَﺎ ﻗَﻀَﻴْﺖَ ﻓَﺈِﻧَّﻚَ ﺗَﻘْﻀِﻲ ﻭَﻟَﺎ ﻳُﻘْﻀَﻰ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻭَﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﺎ ﻳَﺬِﻝُّ ﻣَﻦْ
ﻭَﺍﻟَﻴْﺖَ ﻭَﻻَ ﻳَﻌِﺰُّ ﻣَﻦْ ﻋﺎَﺩَﻳْﺖَ ﺗَﺒَﺎﺭَﻛْﺖَ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻭَﺗَﻌَﺎﻟَﻴْﺖَ [
“হে আল্লাহ্! তুমি যাদেরকে হেদায়াত করেছো, আমাকে তাদের
অন্তর্ভুক্ত করো। তুমি যাদেরকে নিরাপদে রেখেছো আমাকে
তাদের দলভুক্ত করো। তুমি যাদের অভিভাকত্ব গ্রহণ করেছো
আমাকে তাদের দলভুক্ত করো। তুমি আমাকে যা দিয়েছো তাতে
বরকত দাও, তুমি যে অমঙ্গল নির্দিষ্ট করেছো তা হতে আমাকে
রক্ষা করো। কারণ তুমিই তো ভাগ্য নির্ধারণ করো, তোমার
উপর তো কেহ ভাগ্য নির্ধারণ করার নেই। তুমি যার
অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছো সে কোনদিন অপমানিত হবে না।
এবং তুমি যার সাথে শত্রুতা করেছো সে কোন দিন সম্মানিত
হতে পারে না। হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি বরকতপূর্ণ ও
সুমহান।”
ইমাম এই দু’আ পাঠ করলে তিনি একবচনের স্তলে বহুবচন শব্দ
ব্যবহার করবেন। কেননা তিনি নিজের জন্য এবং অন্যদের জন্যও
দু’আ করবেন। তিনি যদি উপযুক্ত অন্য কোন দু’আ নির্বাচন
করেন তাতেও কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু মুছল্লীদের কষ্ট হয়
এমন দীর্ঘ সময় ধরে দু’আ করবেন না। কেননা মু’আয বিন
জাবাল (রাঃ) যখন নামাযে দীর্ঘ সময় নিয়ে ইমামতি করেছেন,
তখন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাগম্বিত হয়ে
তাকে বলেছিলেন, “হে মুআ’য তুমি ফিতনাবাজ হতে চাও? ”
প্রশ্নঃ (২৭৭) দু’আ কুনূত পাঠ করার সময় হাত উত্তোলন করা
কি সুন্নাত? দলীলসহ জবাব চাই।
উত্তরঃ হ্যাঁ, সুন্নাত হচ্ছে দু’আ কুনূত পাঠ করার সময় হাত
উত্তোলন করা। কেননা মুসলমানদের উপর কোন বিপদ এলে
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরয নামাযে কুনূত
পাঠ করার সময় এরূপ করেছিলেন। অনুরূপভাবে ছহীহ্ভাবে
প্রমাণিত হয়েছে আমীরুল মু’মেনীন উমার বিন খাত্তাব (রাঃ)
বিতরের কুনূতে হাত উত্তোলন করেছেন। তিনি খোলাফা
রাশেদার মধ্যে অন্যতম। যাদের অনুসরণ করার জন্য আমাদেরকে
আদেশ করা হয়েছে।
অতএব বিতর নামাযে কুনূতের সময় হাত উত্তোলন করা সুন্নাত।
চাই সে ইমাম হোক বা মুক্তাদী বা একাকী। যখনই কুনূত পড়বে
হাত উত্তোলন করবে।
প্রশ্নঃ (২৭৮) ফরয নামাযে কুনূত পড়ার বিধান কি? যদি
মুসলমানদের কোন বিপদ আসে তখন করণীয় কি?
উত্তরঃ ফরয নামাযে কুনূত পড়া শরীয়ত সম্মত নয়। তা উচিতও
নয়। কিন্তু ইমাম যদি কুনূত পড়েন তার অনুসরণ করতে হবে।
কেননা ইমামের বিরোধীতায় অকল্যাণ রয়েছে।
আর মুসলমানদের উপর যদি কোন বড় ধরণের বিপদ নেমে আসে
তখন আল্লাহ্র কাছে উদ্ধার প্রার্থনা করার জন্য ফরয নামাযে
কুনূত পাঠ করতে কোন অসুবিধা নেই।
প্রশ্নঃ (২৭৯) তারাবীহ্ নামাযের বিধান কি? এর রাকাত সংখ্যা
কত?
উত্তরঃ তারাবীহ্ নামায রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম)এর সুন্নাত। বুখারী ও মুসলিমে আয়েশা (রাঃ) থেকে
বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
রামাযানের এক রাতে (তারাবীহ) নামায আদায় করলেন।
লোকেরাও তাঁর সাথে ছালাত আদায় করল। পরবর্তী রাতেও
ছালাত আদায় করলেন। এরাতে মানুষের সংখ্যা অনেক বেশী হল।
অতঃপর তৃতীয় অথবা চতুর্থ রাতেও তারা সমবেত হলেন। কিন্তু
রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আর বের হলেন
না। প্রভাত হলে তিনি বললেন,
] ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺪْ ﺭَﺃَﻳْﺖُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺻَﻨَﻌْﺘُﻢْ ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﻤْﻨَﻌْﻨِﻲ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺨُﺮُﻭﺝِ
ﺇِﻟَﻴْﻜُﻢْ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧِّﻲ ﺧَﺸِﻴﺖُ ﺃَﻥْ ﺗُﻔْﺮَﺽَ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﻭَﺫَﻟِﻚَ ﻓِﻲ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ [
“তোমরা যা করেছো আমি দেখেছি। কিন্তু তোমাদের কাছে
আসতে আমাকে কোন কিছুই বাধা দেয়নি। তবে আমি আশংকা
করেছি যে, এ নামায তোমাদের উপর ফরয করে দেয়া হবে।”
আর এটি ছিল রামাযান মাসের ঘটনা।
তারাবীহ্-এর রাকআত সংখ্যাঃ ১১ রাকাআত। বুখারী মুসলিমে
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। মাহে রামাযানে নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নামায সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করা
হলে তিনি বলেন,
] ﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﺰِﻳﺪُ ﻓِﻲ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﻭَﻟَﺎ ﻓِﻲ ﻏَﻴْﺮِﻩِ ﻋَﻠَﻰ ﺇِﺣْﺪَﻯ
ﻋَﺸْﺮَﺓَ ﺭَﻛْﻌَﺔً [
“তিনি রামাযান মাসে এবং অন্য সময় এগার রাকাতের বেশী
নামায পড়তেন না।”
তারাবীহ্ ছালাত যদি ১৩ (তের) রাকাআত আদায় করে, কোন
অসুবিধা নেই। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। “নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নামায ছিল ১৩
রাকাত।” অর্থাৎ রাতের নামায। বুখারী।
ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ) থেকে ১১ এগার রাকাতেরই প্রমাণ
পাওয়া যায়। যেমনটি মুআত্বা মালেকে সর্বাধিক বিশুদ্ধ সনদে
বর্ণিত হয়েছে।
যদি এর চাইতে বেশী সংখ্যক রাকাআত আদায় করে তাতেও কোন
অসুবিধা নেই। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
কে রাতের নামায সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন,
ﺻَﻠَﺎﺓُ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻣَﺜْﻨَﻰ ﻣَﺜْﻨَﻰ
“রাতের নামায দু’ দু’ রাকাত করে।”
এখানে তিনি কোন সংখ্যা নির্ধারণ করে দেননি।
সালাফে সালেহীন থেকে এ নামাযের বিভিন্ন ধরণের রাকাতের
বর্ণনা পাওয়া যায়। কিন্তু শুধুমাত্র নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত সংখ্যার উপর আমল করা উত্তম।
আর তা হচ্ছে এগার বা তের রাকাআত।
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বা তাঁর খলীফাদের
(রাঃ) থেকে কোন হাদীছ বা বর্ণনা প্রমাণিত হয়নি যে, তাঁদের
কেউ ২৩ রাকাত তারাবীহ্ আদায় করেছেন। বরং ওমর (রাঃ) থেকে
এগার রাকাতের কথাই প্রমাণিত হয়েছে। কেননা তিনি উবাই বিন
কা’ব এবং তামীম আদ্দারী (রাঃ) কে ১১ রাকাতের দ্বারা
লোকদেরকে নিয়ে ক্বিয়ামুল্লায়াল করার আদেশ করেছিলেন।
ওমরের (রাঃ) মত ব্যক্তিত্বের জন্য এটাই শোভনীয় যে, তাঁর
জীবন চরিত ও ইবাদত বন্দেগী হবে ঠিক তেমনই, যেমনটি ছিল
নবীকুল শিরমনী মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম)এর জীবন চরিত ও ইবাদত বন্দেগী।
আমাদের জানা নেই যে, ছাহাবীদের (রাঃ) মধ্যে কেউ তেইশ
রাকাত তারাবীহ্ নামায পড়েছিলেন। বরং বাস্তব অবস্থা এর
বিপরীত। পূর্বে আয়েশা (রাঃ) এর বাণী উল্লেখ করা হয়েছেঃ
“নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রামাযান বা অন্য
সময় এগার রাকাতের বেশী রাতের নামায আদায় করতেন না।”
নিঃসন্দেহে ছাহাবায়ে কেরামের (রাঃ) এজমা বা ঐকমত্য হচ্ছে
একটি হুজ্জত বা বড় দলীল। বিশেষ করে তাদের মধ্যে রয়েছেন
খোলাফায়ে রাশেদা। যাঁদের অনুসরণ করতে নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। কেননা
তাঁরা হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ।
জেনে রাখুন! তারাবীহ্ নামাযের রাকাত সংখ্যায় বিভিন্নতা
বিষয়টি এমন, যাতে ইজতেহাদ বা গবেষণার অবকাশ রয়েছে।
বিষয়টি পারস্পরিক মতবিরোধ বা মুসলমানদের মধ্যে ফাটলের
কারণ হওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে যখন কিনা এতে সালাফে
ছালেহীন থেকেই মতবিরোধ পাওয়া যায়। এ মাসআলায় এমন
কোন দলীল পাওয়া যায় না যে, এতে ইজতেহাদ বা গবেষণার
কোন সুযোগ নেই। কোন একটি ইজতেহাদী বিষয়ে
বিরোধীতাকারীকে জনৈক বিদ্বান বলেছিলেন, আমার
বিরোধীতা করে আপনি আমার মতটিই প্রকাশ করেছেন। কেননা
ইজতেহাদী বিষয়ে প্রত্যেকে সেটারই অনুসরণ করবে যা সে সত্য
মনে করে। আমরা সবার জন্য আল্লাহ্র কাছে তাঁর পসন্দনীয় ও
সন’ষ্টি মুলক কাজ কামনা করছি।
প্রশ্নঃ (২৮০) তারাবীহ্ নামাযে কুরআন খতম করার দু’আ পাঠ
করার বিধান কি?
উত্তরঃ রামাযান মাসে তারাবীহ্ নামাযে কুরআন খতম করার
দু’আ পাঠ করার ব্যাপারে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম)এর সুন্নাত বা ছাহাবায়ে কেরাম থেকে কোন হাদীছ
আমি জানিনা। খুব বেশী যা পাওয়া যায় তা হচ্ছে, আনাস বিন
মালেক (রাঃ) বর্ণিত হাদীছ। ‘তিনি (আনাস) কুরআন খতম
করলে পরিবারের লোকদের একত্রিত করে দু’আ করতেন।’ তবে
এটা নামাযের বাইরের কথা।
কুরআন খতমের দু’আ সুন্নাত থেকে তো প্রমাণিত নয়ই
তারপরও এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু মসজিদে অতিরিক্ত ভীড়
লক্ষ্য করা যায়। অতঃপর মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় নারী-
পুরুষের সংমিশ্রণ ব্যাপক আকারে দেখা যায়। কিন্তু বিদ্বানদের
কেউ বলেছেন কুরআন খতম করার পর এই দু’আ পাঠ করা
মুস্তাহাব।
ইমাম যদি শেষ রাতের নামায সমাপ্ত করে বিতর নামাযে এই
খতমে কুরআনের দু’আ পাঠ করে এবং কুনূত পাঠ করে তবে কোন
অসুবিধা নেই। কেননা বিতর নামাযে কুনূত শরীয়ত সম্মত।
প্রশ্নঃ (২৮১) প্রতি বছর কি লাইলাতুল কদর নির্দিষ্ট এক
রাতেরই হয়ে থাকে? না কি তা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাতে হয়ে
থাকে?
উত্তরঃ নিঃসন্দেহে লাইলাতুল কদর রামাযান মাসে হয়ে থাকে।
আল্লাহ্ বলেনঃ
ﺇِﻧَّﺎ ﺃَﻧﺰَﻟْﻨَﺎﻩُ ﻓِﻲ ﻟَﻴْﻠَﺔِ ﺍﻟْﻘَﺪْﺭِ
“নিশ্চয় আমি উহা অবতীর্ণ করেছি কদরের রাত্রিতে।” (সূরা
কদরঃ ১)
অন্য আয়াতে পবিত্র কুরআন রামাযান মাসে নাযিল হয় একথা
উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ্ বলেনঃ
ﺷَﻬْﺮُ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺃُﻧﺰِﻝَ ﻓِﻴﻪِ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥُ
“রামাযান সেই মাস যার মধ্যে কুরআন নাযিল করা হয়েছে।” (সূরা
বাক্বারাঃ ১৮৫)
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লায়লাতুল কদর
অনুসন্ধান করার জন্য রামাযানের প্রথম দশকে ই’তেকাফ
করেছেন। তারপর দ্বিতীয় দশকে এ’তেকাফ করেছেন। অতঃপর তা
দেখেছেন রামাযানের শেষ দশকে। এরপর ছাহাবীদের (রাঃ) একটি
দল স্বপ্নে দেখেছেন লাইলাতুল কদর রামাযানের শেষ সাত
দিনে। তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
ﺃَﺭَﻯ ﺭُﺅْﻳَﺎﻛُﻢْ ﻗَﺪْ ﺗَﻮَﺍﻃَﺄَﺕْ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﺒْﻊِ ﺍﻟْﺄَﻭَﺍﺧِﺮِ ﻓَﻤَﻦْ ﻛَﺎﻥَ
ﻣُﺘَﺤَﺮِّﻳﻬَﺎ ﻓَﻠْﻴَﺘَﺤَﺮَّﻫَﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﺒْﻊِ ﺍﻟْﺄَﻭَﺍﺧِﺮِ
“আমি দেখছি তোমাদের সবার স্বপ্ন একরকম হয়েছে শেষ সাত
দিনে। অতএব কেউ যদি লায়লাতুল কদর অনুসন্ধান করতে চায় সে
যেন শেষ সাত রাতে অনুসন্ধান করে।”
লায়লাতুল কদরের সময় নির্ধারণের ব্যাপারে সর্বনিম্ন যা বলা
হয়েছে তা হচ্ছে এই।
লায়লাতুল কদরের ব্যাপারে প্রমাণিত দলীল সমূহ যদি আমরা
গভীরভাবে অনুসন্ধান করি, তবে দেখা যাবে যে, তা বিভিন্ন
রাতে হয়ে থাকে। প্রতি বছর নির্দিষ্টভাবে এক রাতে নয়। নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা রাত্রে লায়লাতুল
কদর স্বপ্নে দেখলেনঃ পানি ও ভিজা মাটিতে সিজদা করলেন।
সে রাতটি ছিল একুশে রাত। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
ﺗَﺤَﺮَّﻭْﺍ ﻟَﻴْﻠَﺔَ ﺍﻟْﻘَﺪْﺭِ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻌَﺸْﺮِ ﺍﻟْﺄَﻭَﺍﺧِﺮِ ﻣِﻦْ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ
“তোমরা রামাযানের শেষ দশকে লায়লাতুল কদর অনুসন্ধান
কর।”
এদ্বারা বুঝা যায় উহা নির্দিষ্ট একটি রাতে নয়। এজন্য মু’মিন
শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই অনুসন্ধান করবে ও যে কোন রাতে
তা পেয়ে যাওয়ার জন্য আশা করবে।
যে ব্যক্তি লায়লাতুল কদরে ঈমানের সাথে ও ছাওয়াবের আশায়
ক্বিয়ামুল্লাইল করবে, সে নিশ্চিতভাবে তার প্রতিদান লাভ
করবে। চাই সে জানতে পারুক বা না পারুক। কেননা নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
ﻣَﻦْ ﻗَﺎﻡَ ﻟَﻴْﻠَﺔَ ﺍﻟْﻘَﺪْﺭِ ﺇِﻳﻤَﺎﻧًﺎ ﻭَﺍﺣْﺘِﺴَﺎﺑًﺎ ﻏُﻔِﺮَ ﻟَﻪُ ﻣَﺎ ﺗَﻘَﺪَّﻡَ ﻣِﻦْ
ﺫَﻧْﺒِﻪِ
“যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ছাওয়াবের আশায় লায়লাতুল কদরে
ক্বিয়াম করে, তার পূর্বের পাপ ক্ষমা করা হবে।”
এরূপ বলা হয়নি যে, কখন লায়লাতুল কদর হবে জানতে পারলে এই
ছওয়াব হাসিল হবে। অতএব ছাওয়াব পাওয়ার জন্য নির্দিষ্টভাবে
কখন লায়লাতুল কদর হচ্ছে তা জানা শর্ত নয়। কিন্তু যে
ব্যক্তি রামাযানের শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই কিয়াম করবে,
সে নিশ্চিতভাবে লায়লাতুল কদর পাবে। চাই তা শেষ দশকের
প্রথম দিকে হোক বা মধ্যখানে বা শেষের দিকে হোক।
উৎসঃ বই ফতোওয়া আরকানুল ইসলাম।
১৭০টি প্রশ্নোত্তর (৩য় পর্ব)
প্রবন্ধটি পড়া হলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।
শুরু করছি মহান আল্লাহর নামে যিনি পরম করুনাময়, অসীম
দয়ালু।
মূল: শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন (রহ.) ।
অনুবাদক: মুহাঃ আব্দুল্লাহ আল-কাফী ও আব্দুল্লাহ শাহেদ
আল-মাদানী
।
প্রশ্নঃ (২৩৮) স্বশব্দে ‘বিসমিল্লাহ্…” পাঠ করার বিধান কি?
উত্তরঃ সঠিক কথা হচ্ছে, স্বশব্দে ‘বিসমিল্লাহ্..’ পাঠ করা
উচিত নয়। সুন্নাত হচ্ছে নীরবে পাঠ করা। কেননা ‘বিসমিল্লাহ্..’
সূরা ফাতিহার অংশ নয়। কিন্তু কখনো যদি স্বশব্দে তা পাঠ
করে, তাতে কোন অসুবিধা নেই। বিদ্বানদের মধ্যে কেউ কেউ
বলেন, বরং কখনো স্বশব্দে ‘বিসমিল্লাহ্..’ পাঠ করা উচিত।
কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত
হয়েছে, “তিনি কখনো স্বশব্দে ‘বিসমিল্লাহ্..’ পাঠ
করতেন।”কিন্তু বিশুদ্ধভাবে যা প্রমাণিত হয়েছে তা হচ্ছে,
“তিনি উহা স্বশব্দে পাঠ করতেন না।” আর এটাই উত্তম। তবে
যদি কখনো বিসমিল্লাহ্ স্বশব্দে পাঠ করে এতে কোন
অসুবিধা হবে না।
প্রশ্নঃ (২৩৯) দু’আ ইসে-ফ্তাহ্ বা নামায শুরুর দু’আ (ছানা)
পাঠ করার হুকুম কি?
উত্তরঃ নামায শুরুর ছানা ফরয-সুন্নাত সকল ছালাতে পাঠ করা
সুন্নাত- ওয়াজিব নয়।উচিত হচ্ছে মুছল্লী নামায শুরুর দু’আ
সমূহ থেকে একবার এটা একবার ওটা পাঠ করবে। যাতে করে সকল
সুন্নাতের উপর আমল করা সম্ভব হয়। একটি দু’আ ছাড়া আর
কিছু জানা না থাকলেও কোন অসুবিধা নেই। বাহ্যিকভাবে বুঝা
যায় রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই
ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের দু’আ পাঠ করেছেন। যেমন, নামাযের
শুরুতে, তাশাহুদে, নামাযের পরের যিকির। এধরণের বিভিন্নতার
উদ্দেশ্য হচ্ছে উম্মতের জন্য সহজ করা। এর দু’টি উপকারিতা
আছেঃপ্রথম উপকারিতাঃ মানুষ সর্বদা এক ধরণের দু’আ পাঠ
করবে না। কেননা একটা বিষয় সর্বদা করতে থাকলে সেটা সাধারণ
অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। ফলে অনেক সময় উদাসীনতা বা
অলসতা থাকলেও অভ্যাস বশতঃ তা হয়ে যায়। তখন অন্তরের
উপস্থিতি সেখানে দুর্বল হয়ে যায়। কিন্তু দু’আগুলো থেকে যদি
কখনো এটা কখনো ওটা পাঠ করে তবে অন্তর উপস্থিত থাকে।
যা বলে তা বুঝার দরকার পড়ে।দ্বিতীয় উপকারিতাঃ উম্মতের
জন্য সহজ করা। যার জন্য যেটা সহজ হবে সেটাই পাঠ করবে।
সময় ও প্রয়োজন মোতাবেক কখনো এটা কখনো ওটা পাঠ
করবে।প্রশ্নঃ (২৪০) ‘আমীন’ বলা কি সুন্নাত?
উত্তরঃ হ্যাঁ। আমীন বলা সুন্নাতে মুআক্কাদাহ্। বিশেষ করে
ইমাম যখন আমীন বলেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।
তিনি বলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
ﺇِﺫَﺍ ﺃَﻣَّﻦَ ﺍﻟْﺈِﻣَﺎﻡُ ﻓَﺄَﻣِّﻨُﻮﺍ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻣَﻦْ ﻭَﺍﻓَﻖَ ﺗَﺄْﻣِﻴﻨُﻪُ ﺗَﺄْﻣِﻴﻦَ
ﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔِ ﻏُﻔِﺮَ ﻟَﻪُ ﻣَﺎ ﺗَﻘَﺪَّﻡَ ﻣِﻦْ ﺫَﻧْﺒِﻪِ
“ইমাম যখন আমীন বলেন তোমরাও আমীন বলবে। কেননা যার
আমীন বলা ফেরেস্তাদের আমীন বলার সাথে মিলে যাবে তার
পূর্বের গুনাহ্ ক্ষমা করা হবে।”
ইমাম ও মুক্তাদীর আমীন বলা একই সময়ে হতে হবে। কেননা
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
“ইমাম যখন আমীন বলেন তোমরাও আমীন বলবে।”
প্রশ্নঃ (২৪১) (ইয়্যাকানা’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন) পাঠ করার
সময় ‘আমরা আল্লাহ্র কাছে সাহায্য চাই’। এরূপ কথা বলার
বিধান কি?
উত্তরঃ মুক্তাদীর জন্য আবশ্যক হচ্ছে ইমামের পড়া চুপ করে
শোনা। ইমাম যখন সূরা ফাতিহা শেষ করে আমীন বলবেন সেও
আমীন বলবে। এই আমীন বলা ইমামের সূরা ফাতিহা পাঠ করার
সময় কোন দু’আ ইত্যাদি বলা থেকে যথেষ্ট হবে।
প্রশ্নঃ (২৪২) নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার বিধান কি?
উত্তরঃ নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার ব্যাপারে বিদ্বানদের
থেকে নিম্নরূপ মত পাওয়া যায়।
প্রথম মতঃ নামাযে কখনই সূরা ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব নয়।
স্বরব, নীরব কোন নামাযেই ইমাম, মুক্তাদী, একাকী- কারো
জন্য পাঠ করা ওয়াজিব নয়। ওয়াজিব হচ্ছে কুরআন থেকে সহজ
যে কোন কিছু পাঠ করা। তাদের দলীল হচ্ছেঃ আল্লাহ্ বলেন,
ﻓَﺎﻗْﺮَﺀُﻭﺍ ﻣَﺎ ﺗَﻴَﺴَّﺮَ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥِ
“অতএব তোমরা কুরআন থেকে সহজ কোন কিছু পাঠ কর।” (সূরা
মুযাম্মিল- ২০)
তাছাড়া নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামায শেখাতে
গিয়ে গ্রাম্য লোকটিকে বলেছিলেন,
“কুরআন থেকে তোমার জন্য সহজ হয় এমন কিছু পাঠ করবে।”
দ্বিতীয় মতঃ স্বরব, নীরব সকল নামাযে ইমাম, মুক্তাদী,
একাকী- সবার জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ করা রুকন বা অবশ্য
কর্তব্য। অনুরূপভাবে মাসবূক এবং নামাযের প্রথম থেকে
জামাআতে শামিল ব্যক্তির জন্যও রুকন।
তৃতীয় মতঃ ইমাম ও একাকী ব্যক্তির জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ করা
রুকন। কিন্তু স্বরব বা নীরব কোন নামাযেই মুক্তাদীর জন্য
ওয়াজিব নয়।
চতুর্থ মতঃ ইমাম ও একাকী ব্যক্তির জন্য স্বরব বা নীরব
নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করা রুকন। কিন্তু মুক্তাদীর জন্য
নীরবের নামাযে রুকন স্বরব নামাযে নয়।
আমার মতে প্রাধান্যযোগ্য মতটি হচ্ছেঃ স্বরব, নীরব সকল
নামাযে ইমাম, মুক্তাদী, একাকী- সবার জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ
করা রুকন বা ফরয। তবে মাসবূক যদি ইমামের রুকূর সময় নামাযে
শামিল হয়, তবে সূরা ফাতিহা পাঠ করা রহিত হয়ে যাবে। একথার
দলীল হচ্ছে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর
সাধারণ বাণীঃ তিনি বলেন,
ﻻﺻَﻼﺓَ ﻟِﻤَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳَﻘْﺮَﺃْ ﺑِﻔَﺎﺗِﺤَﺔِ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ
“যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পাঠ করবে না তার নামায হবে না।”
তিনি আরো বলেন,
ﻣَﻦْ ﺻَﻠَّﻰ ﺻَﻠَﺎﺓً ﻟَﻢْ ﻳَﻘْﺮَﺃْ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺑِﺄُﻡِّ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥِ ﻓَﻬِﻲَ ﺧِﺪَﺍﺝٌ ﺛَﻠَﺎﺛًﺎ
ﻏَﻴْﺮُ ﺗَﻤَﺎﻡٍ
“যে ব্যক্তি ছালাত আদায় করবে অথচ তাতে উম্মুল কুরআন সূরা
ফাতিহা পাঠ করবে না তার ছালাত অসম্পূর্ণ- রাসূলুল্লাহ্
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) কথাটি তিনবার বলেছেন।”
অর্থাৎ- তার নামায বাতিল।
উবাদা বিন ছামেত বর্ণিত হাদীছে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম) একদা ফজরের নামায শেষ করে ছাহাবীদের লক্ষ্য
করে বললেনঃ
ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢْ ﺗَﻘْﺮَﺀُﻭﻥَ ﺧَﻠْﻒَ ﺇِﻣَﺎﻣِﻜُﻢْ ﻗُﻠْﻨَﺎ ﻧَﻌَﻢْ ﻫَﺬًّﺍ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻗَﺎﻝَ ﻟَﺎ ﺗَﻔْﻌَﻠُﻮﺍ ﺇِﻟَّﺎ ﺑِﻔَﺎﺗِﺤَﺔِ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻟَﺎ ﺻَﻠَﺎﺓَ ﻟِﻤَﻦْ ﻟَﻢْ
ﻳَﻘْﺮَﺃْ ﺑِﻬَﺎ
“তোমরা কি ইমামের পিছনে কোন কিছু পাঠ কর? তাঁরা বললেন,
হ্যাঁ, হে আল্লাহ্র রাসূল! দ্রুত পাঠ করে থাকি। তিনি বললেন,
তোমরা এরূপ করো না। তবে উম্মুল কুরআন সূরা ফাতিহা পাঠ
করবে। কেননা যে ব্যক্তি উহা পাঠ করবে না তার নামায হবে
না।”
স্বশব্দের নামাযের ক্ষেত্রে এটি সুস্পষ্ট দলীল যে, সূরা
ফাতিহা ছাড়া নামায হবে না।
কিন্তু মাসবূকের জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ করা রহিত হয়ে যাবে।
একথার দলীল হচ্ছেঃ আবু বাকরা (রাঃ) এর হাদীছ। তিনি নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে রুকূ অবস্থায় পেলেন।
তখন দ্রুতগতিতে কাতারে পৌঁছার আগেই তিনি রুকূ করলেন।
এরপর ঐ অবস্থায় হেঁটে হেঁটে কাতারে প্রবেশ করলেন। নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামায শেষ করে জিজ্ঞেস
করলেন, কে এরূপ করেছে? আবু বাকরা বললেন, আমি হে
আল্লাহ্র রাসূল! নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
বললেনঃ
ﺯَﺍﺩَﻙَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺣِﺮْﺻًﺎ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﻌُﺪْ
“আল্লাহ্ তোমার আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দিন। তবে এরূপ আর
কখনো করিও না।”
এ হাদীছে দেখা যায় আবু বাকরা যে রাকাআতটি ছুটে যাওয়ার ভয়ে
তাড়াহুড়া করলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
তাকে ঐ রাকাআতটি পুনরায় আদায় করার আদেশ করলেন না। এটা
ওয়াজিব হলে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সে
আদেশ করতেন। যেমনটি আদেশ করেছিলেন ঐ ব্যক্তিকে যে
কিনা তাড়াহুড়া করে নামায আদায় করেছিল, আর নামাযের রুকন
ওয়াজিব যথাযথভাবে আদায় করছিল না। তখন নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে নামায ফিরিয়ে পড়ার আদেশ
করেছিলেন।
মাসবূকের সূরা ফাতিহা পাঠ রহিত হওয়ার যুক্তিগত দলীল হচ্ছেঃ
এই মাসবূক তো কিরআত পাঠ করার জন্য দাঁড়ানোর সুযোগই
পায়নি। অতএব সুযোগ না পেলে তার আবশ্যকতাও রহিত হয়ে
যাবে। যেমন হাত কাটা ব্যক্তি ওযু করার সময় তার হাতের কাটা
অংশের পরিবর্তে বাহু ধৌত করবে না। বরং ধৌত করার স্থান
উপস্থিত না থাকার কারণে এ ফরয রহিত হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে
যে ব্যক্তি ইমামকে রুকূ অবস্থায় পেল তার জন্য সূরা ফাতিহা
পাঠ করা রহিত হয়ে যাবে। কেননা ক্বিরআত পাঠ করার জন্য
দন্ডায়মান হওয়ার সুযোগই সে পায়নি। আর ইমামের অনুসরণ
করতে গিয়ে এখানে দন্ডায়মান হওয়াও রহিত হয়ে যাবে।
আমার দৃষ্টিতে এমতটিই সর্বাধিক বিশুদ্ধ। পূর্বোল্লেখিত
উবাদা বিন ছামেত (রাঃ) এর হাদীছটি- (ফজরের নামাযে
ক্বিরআত পাঠ সংক্রান্ত হাদীছটি) যদি না থাকতো, তবে
স্বরবে কিরাআত বিশিষ্ট নামাযে মুক্তাদীর সূরা ফাতিহা পাঠ
করা আবশ্যক হতো না। আর সেটাই হতো প্রাধান্যযোগ্য মত।
কেননা নীরবে শ্রবণকারী পাঠকের মতই ছাওয়াবের অধিকারী হয়।
এজন্যই আল্লাহ্ তা‘আলা মূসা (আঃ) কে বলেনঃ
ﻗَﺪْ ﺃُﺟِﻴﺒَﺖْ ﺩَﻋْﻮَﺗُﻜُﻤَﺎ
“তোমাদের উভয়ের দু’আ কবূল করা হয়েছে।” (সূরা ইউনূসঃ ৮৯)
অথচ সে সময় দু’আ শুধু মাত্র মূসা (আঃ) এককভাবে করেছিলেন।
আল্লাহ্ বলেনঃ
ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻣُﻮﺳَﻰ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﺇِﻧَّﻚَ ﺁﺗَﻴْﺖَ ﻓِﺮْﻋَﻮْﻥَ ﻭَﻣَﻠَﺄَﻩُ ﺯِﻳﻨَﺔً ﻭَﺃَﻣْﻮَﺍﻟًﺎ
ﻓِﻲ ﺍﻟْﺤَﻴَﺎﺓِ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻟِﻴُﻀِﻠُّﻮﺍ ﻋَﻦْ ﺳَﺒِﻴﻠِﻚَ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﺍﻃْﻤِﺲْ ﻋَﻠَﻰ
ﺃَﻣْﻮَﺍﻟِﻬِﻢْ ﻭَﺍﺷْﺪُﺩْ ﻋَﻠَﻰ ﻗُﻠُﻮﺑِﻬِﻢْ ﻓَﻠَﺎ ﻳُﺆْﻣِﻨُﻮﺍ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺮَﻭْﺍ
ﺍﻟْﻌَﺬَﺍﺏَ ﺍﻟْﺄَﻟِﻴﻢَ
“আর মূসা বললেন, হে আমাদের পালনকর্তা! নিশ্চয় আপনি
ফেরাউন ও তার সভাসদদের প্রদান করেছো দুনিয়ার জীবনের
চাকচিক্য, সৌন্দর্য ও সম্পদ। হে আমাদের পালনকর্তা! ওরা
আপনার পথ থেকে বিভ্রান্ত করে। হে আমাদের পালনকর্তা!
তাদের সম্পদ নিশ্চিহ্ন করে দিন, তাদের হৃদয় কঠোর করে
দিন, যাতে তারা ঈমান না আনে। যাতে করে তারা যন্ত্রনাদায়ক
শাস্তি প্রত্যক্ষ করতে পারে।” (সূরা ইউনূসঃ ৮৮)
এখানে কি আল্লাহ্ হারূনের দু’আর কথা উল্লেখ করলেন?
উত্তরঃ না। তারপরও আল্লাহ্ বললেনঃ “তোমাদের উভয়ের
দু’আ কবূল করা হয়েছে।” বিদ্বানগণ বলেনঃ এক ব্যক্তি দু’আ
করা সত্বেও দ্বিবচন শব্দ এখানে উল্লেখ করার কারণ হচ্ছে,
মূসা (আঃ) দু’আ করছিলেন আর হারূন (আঃ) আমীন বলছিলেন।
আর আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদীছ:
( ﻣﻦ ﻛﺎﻥ ﻟﻪ ﺇﻣﺎﻡ، ﻓﻘﺮﺍﺀﺓ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﻟﻪ ﻗﺮﺍﺀﺓ )
“যার ইমাম রয়েছে, তার ইমামের ক্বিরাতই তার ক্বিরাত
(হিসেবে যথেষ্ট)।” কিন্তু হাদীছের সনদ যঈফ (দুর্বল)।
কেননা তা মুরসাল সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। যেমন হাফেয ইবনু
কাছীর তাঁর তাফসীর গ্রনে’র ভূমিকায় বলেছেন। আরো কয়েকটি
সূত্রে হাদীছটি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) হতে
বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু কোনটিই ছহীহ্ নয়। তারপরও হাদীছটি
দ্বারা যারা দলীল নিয়ে থাকে তারা সাধারণভাবে বলেন না যে,
কোন অবস্থাতেই সূরা ফাতিহা পাঠ করতে হবে না। বরং তাদের
মধ্যে অনেকে বলেনঃ নীরবের নামাযে মুক্তাদীকে অবশ্যই সূরা
ফাতিহা পড়তে হবে।
যদি প্রশ্ন করা হয়ঃ ইমাম যদি না থামেন (অর্থাৎ- ফাতিহা
শেষ করার পর মুক্তাদীদের ফাতিহা পাঠ করার সুযোগ দেয়ার
জন্য কিছু সময় নিরব না থাকেন।) তবে মুক্তাদী কখন সূরা
ফাতিহা পাঠ করবে?
উত্তর হচ্ছেঃ ইমামের পড়ার সময়ই মুক্তাদী পড়বে। কেননা
ছাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর
পড়ার সাথে সাথেই পড়তেন। তখন তিনি তাদেরকে বলেনঃ
( ﻟَﺎ ﺗَﻔْﻌَﻠُﻮﺍ ﺇِﻟَّﺎ ﺑِﺄُﻡِّ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥِ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻟَﺎ ﺻَﻠَﺎﺓَ ﻟِﻤَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳَﻘْﺮَﺃْ ﺑِﻬَﺎ )
“তোমরা উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) ছাড়া অন্য কিছু পাঠ
করবে না। কেননা যে ব্যক্তি তা পাঠ করবে না তার নামায হবে
না।”
প্রশ্নঃ (২৪৩) মুক্তাদী কখন সূরা ফাতিহা পাঠ করবে? ইমামের
ফাতিহা পাঠ করার সময়? নাকি ইমাম সূরা ফাতিহা শেষ করে
অন্য সূরা পাঠ শুরু করলে?
উত্তরঃ উত্তম হচ্ছে ইমামের ফাতিহা পাঠ শেষ হওয়ার পর
মুক্তাদী ফাতিহা পাঠ করবে। কেননা ফরয ক্বিরআত পাঠ করার
সময় নীরব থাকা রুকন। ইমামের পড়ার সময় যদি মুক্তাদীও পাঠ
করে তবে রুকন আদায় করার সময় নীরব থাকা হল না। আর
ফাতিহা পাঠ করার পর যখন ইমাম অন্য ক্বিরআত শুরু করবে,
সে সময় তা শোনার জন্য নীরব থাকা মুস্তাহাব। অতএব উত্তম
হল, ফাতিহা পাঠ করার সময় নীরব থাকবে। নামাযের সুন্নাত
ক্বিরআত পাঠের সময় নীরব থাকার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ
হচ্ছে অন্যতম রুকন সূরা ফাতিহা পাঠ করার সময় নীরব থেকে তা
শ্রবণ করা। তাছাড়া ইমামের ‘ওয়ালায্ যওয়াল্লীন’ বলার সময়
মুক্তাদীও (‘ওয়ালায্ যওয়াল্লীন’) পাঠ করলে তাঁর সাথে ‘আমীন’
বলা সম্ভব হবে না।
প্রশ্নঃ (২৪৪) নামায বা কুরআন তেলাওয়াতের সময় কিভাবে
অন্তর নরম করা যায়?
উত্তরঃ বিনয়-নম্রতা নামাযের অন্তঃসার ও আসল প্রাণ। এর
অর্থ হচ্ছে, অন্তরের উপস্থিতি। ডানে-বামে অন্তরকে নিয়ে
ঘুরাফেরা না করা। বিনয়-নম্রতা বিরোধী কোন কিছু যদি
মানুষের অন্তরে আসে তবে সে পাঠ করবে ‘আঊযুবিল্লাহি
মিনাশ্ শায়তানির রাজীম।’ যেমনটি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম) আদেশ করেছিলেন। সন্দেহ নেই শয়তান মানুষের
সমস্ত ইবাদত বিশেষ করে সর্বোত্তম ইবাদত ছালাত বিনষ্ট
করার জন্য সর্বাধিক আগ্রহী। নামাযরত ব্যক্তির কাছে শয়তান
আগমণ করে বলে, উমুক কথা স্মরণ কর, উমুক কথা স্মরণ কর।
তাকে এমন কিছুর খেয়ালে নিয়ে যায় যাতে কোন উপকার নেই।
আবার নামায শেষ হলে এসমস্ত খেয়াল শেষ হয়ে যায়।
অতএব মানুষের জন্য আবশ্যক হচ্ছে, নামাযের মত গুরুত্বপূর্ণ ও
শ্রেষ্ঠ ইবাদত আদায় করার জন্য সবচেয়ে বেশী মনযোগী ও
বিনয়ী হওয়া। কেননা সে তো মহান আল্লাহ্র সামনে
দন্ডায়মান। তাঁর সাথে গোপনে কথা বলছে। মনে করবে সে যেন
মহান আল্লাহকে দেখছে বা এতটুকু মনে করবে যে, আল্লাহ্ তাকে
দেখছেন। আর যখনই শয়তানের কুমন্ত্রনা ও বদখেয়াল মনের
দুয়ারে উঁকি দিতে চাইবে তখনই আল্লাহ্র কাছে আশ্রয় চাইবে।
পাঠ করবেঃ ‘আঊযুবিল্লাহি মিনাশ্ শায়তানির রাজীম।’
প্রশ্নঃ (২৪৫) সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর কিছুক্ষণ চুপ থাকার
বিধান কি?
উত্তরঃ ফিক্বাহবিদদের মধ্যে থেকে কেউ মত প্রকাশ করেছেন
যে, ইমাম সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর অন্য সূরা শুরু করার পূর্বে
কিছুক্ষণ নীরব থাকবেন, যাতে করে মুক্তাদী ফাতিহা পাঠ করতে
সক্ষম হয়। কিন্তু এব্যাপারে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম) থেকে কোন হাদীছ বর্ণিত হয়নি। তবে তা হচ্ছে
সামান্য বিরতী নিঃশ্বাস নেয়ার জন্য এবং এই ফাঁকে মুক্তাদি
সূরা ফাতিহা পাঠ করা আরম্ভ করে দিবে। এরপর ইমাম অন্য
ক্বিরাত শুরু করে দিলেও কোন অসুবিধা নেই। কেননা সূরা
ফাতিহা পাঠ করা মুক্তাদীর জন্য রুকন। কিন্তু ইমামের
ক্বিরআত শ্রবণ করা তার জন্য মুস্তাহাব। মোটকথা নীরব
থাকার মুহূর্তটি অতি সামান্য দীর্ঘ নয়।
প্রশ্নঃ (২৪৬) ফজরের এক রাকাআত নামায ছুটে গেলে বাকী
রাকাআতটি কি স্বশব্দে না নীরবে পাঠ করবে?
উত্তরঃ বিষয়টি তার ইচ্ছাধীন। কিন্তু উত্তম হচ্ছে নীরব কন্ঠে
পাঠ করা। কেননা জোর কন্ঠে পাঠ করলে হয়তো অন্য
মুছল্লীদের নামাযে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
প্রশ্নঃ (২৪৭) রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
এর নামাযের পদ্ধতির উপর লিখিত একটি পুস্তকে পড়লাম, রুকূ
থেকে উঠার পর আবার হাত বাঁধা একটি বিভ্রান্তকর বিদআত।
এক্ষেত্রে বিশুদ্ধ কথা কি? আল্লাহ্ আপনাকে উত্তম প্রতিদান
প্রদান করুন
উত্তরঃ যে বিষয়ে ইজতেহাদ বা গবেষণার অবকাশ রয়েছে সে
বিষয়ে কাউকে সুন্নাতের পরিপন্থী বিদআতী বলতে আমি
সংকোচ বোধ করি। এটা উচিত নয়। যারা রুকূ থেকে উঠে আবার
হাত বাঁধেন, তারা নিজেদের মতের পক্ষে সুন্নাত থেকে দলীল
উপস্থাপন করে থাকেন। এবিষয়টি কারো গবেষণার বিরোধী
হলে তাকে সরাসরি বিদআতী বলা খুবই কঠিন বিষয়। এধরণের
বিষয়ে বিদআত শব্দ উচ্চারণ করা করো পক্ষে উচিত নয়।
কেননা যে সকল বিষয়ে গবেষণার অবকাশ থাকে এবং হতে পারে
একথা সত্য অথবা ঐকথা সত্য, তাতে পরস্পরে বিদআতের
অপবাদ দিতে শুরু করলে মুসলিম সমাজে বিচ্ছেদ সৃষ্টি হবে,
একে অপরে ঘৃণা ও বিদ্বেষের সূচনা হবে। ইসলামের শত্রুরা তা
নিয়ে হাসাহাসি করবে।
আমার মতে বিশুদ্ধ কথা হচ্ছেঃ রুকূ থেকে উঠার পর ডান হাতকে
বাম হাতের উপর রেখে বুকে স্থাপন করা একটি সুন্নাত। দলীলঃ
সাহাল বিন সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “লোকেরা
নির্দেশিত হত যে, নামাযে ডান হাতকে বাম হাতের বাহুর উপর
স্থাপন করবে।”
গভীরভাবে লক্ষ্য করে ও অনুসন্ধান করে হাদীছ থেকে দলীল
গ্রহণ করার যুক্তি সমূহ হচ্ছেঃ যদি প্রশ্ন করা হয়ঃ সিজদার
সময় হাত দু’টি কোথায় থাকবে? উত্তরঃ যমীনের উপর।
প্রশ্নঃ রুকূ অবস্থায় হাত কোথায় থাকবে? উত্তরঃ হাঁটুদ্বয়ের
উপর। প্রশ্নঃ বসাবস্থায় হাত দু’টি কোথায়? উত্তরঃ রানের
উপর।
থাকল দাঁড়ানো অবস্থার কথা। রুকূর আগে ও পরে উভয় অবস্থা
হচ্ছে দাঁড়ানো। আর তা এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হবেঃ “লোকেরা
নির্দেশিত হত যে, নামাযে ডান হাতকে বাম হাতের বাহুর উপর
স্থাপন করবে।” অর্থাৎ- রুকূর আগে বা পরে যে কোন অবস্থার
দাঁড়ানোতে ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখতে হবে। এটাই
হচ্ছে সত্য, সুন্নাতে নববী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
যার প্রমাণ বহণ করে।
মোটকথা উল্লেখিত প্রশ্নের উত্তর দু’টি পয়েন্টে বিভক্তঃ
প্রথমঃ কারো পক্ষে উচিত নয় বিদআত শব্দটি এমন কাজে
ব্যবহার করা যেখানে ইজতেহাদ বা গবেষণার অবকাশ রয়েছে।
দ্বিতীয়ঃ বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে রুকূ থেকে উঠে ডান হাতকে বাম
হাতের উপর রাখাটা সুন্নাত, বিদআত নয়। উল্লেখিত সাহাল বিন
সা’দের হাদীছ হচ্ছে এর দলীল। কিন্তু এ অবস্থার ব্যতিক্রম
হচ্ছে রুকূ, সিজদা ও বসাবস্থা। কেননা এসকল স্থানে কিভাবে
হাত রাখতে হবে হাদীছে তার বিশদ বিবরণ এসেছে। (আল্লাহই
অধিক জ্ঞান রাখেন)
প্রশ্নঃ (২৪৮) ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদু’ বলার পর ‘ওয়াশ্
শুক্রু’ শব্দ বৃদ্ধি করে বলার বিধান কি?
উত্তরঃ নিঃসন্দেহে শুধুমাত্র প্রমাণিত দু’আ ও যিকির সমূহ
পাঠ করাই উত্তম। নিজের পক্ষ থেকে কোন শব্দ বৃদ্ধি না
করা। রুকূ থেকে মাথা উঠানোর পর (সামিআল্লাহুলিমান
হামীদাহ্ বলে) পাঠ করবেঃ ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদু’। ‘ওয়াশ্
শুক্রু’ শব্দ বৃদ্ধি করা জায়েয নয়। কেননা এ ব্যাপারে কোন
দলীল নেই।
উল্লেখ্য যে, এ সময় চার ধরণের শব্দ প্রমাণিত হয়েছেঃ
১) ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদু’
২) ‘রাব্বানা লাকাল হামদু’
৩) ‘আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদু’
৪) ‘আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদু’
এগুলো সবটাই এক সাথে বলবে না; বরং কোন নামাযে এটা কোন
নামাযে ওটা পাঠ করবে।
প্রশ্নঃ (২৪৯) সিজদায় যাওয়ার পদ্ধতি কি?
উত্তরঃ সিজদায় যাওয়ার জন্য প্রথমে হাঁটু রাখবে তারপর হাত
রাখবে। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ
করেছেন প্রথমে হাত রেখে সিজদায় যেতে। তিনি এরশাদ করেনঃ
] ﺇِﺫَﺍ ﺳَﺠَﺪَ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ ﻓَﻠَﺎ ﻳَﺒْﺮُﻙْ ﻛَﻤَﺎ ﻳَﺒْﺮُﻙُ ﺍﻟْﺒَﻌِﻴﺮُ ﻭَﻟْﻴَﻀَﻊْ ﻳَﺪَﻳْﻪِ
ﻗَﺒْﻞَ ﺭُﻛْﺒَﺘَﻴْﻪِ [
“তোমাদের কোন ব্যক্তি যখন সিজদা করবে, সে যেন উটের মত
করে না বসে। সে যেন হাঁটু রাখার পূর্বে হাত রাখে।”
হাদীছের বাক্য এরূপ।
কিন্তু হাদীছটি সম্পর্কে আমরা আলোচনা করব। হাদীছের
প্রথম বাক্যঃ ‘উট যেভাবে বসে সেভাবে যেন না বসে।’
নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে সিজদার পদ্ধতিতে। কেননা (ﻑﺎﻜﻟﺍ) তাশবীহ্
বা তুলনা বুঝানোর জন্য নেয়া হয়েছে। যে অঙ্গের উপর সিজদা
করতে হবে তার নিষেধাজ্ঞা উদ্দেশ্য করা হয়নি। এখানে যদি
অঙ্গ উদ্দেশ্য হতো তবে এরূপ বলতে হতো, (উট যে অঙ্গের
উপর বসে সেরূপ যেন না বসে।) তখন আমরা বলতে পারি, হাঁটুর
উপর ভর দিয়ে বসবে না। কেননা উট হাঁটুর উপর ভর দিয়ে বসে
থাকে। কিন্তু নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একথা
বলেননিঃ (উট যে অঙ্গের উপর বসে সেরূপ যেন না বসে।) কিন্তু
তিনি বলেছেনঃ ‘উট যেভাবে বসে সেভাবে যেন না বসে।’ অতএব
এখানে বসার পদ্ধতির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে,
অঙ্গের উপর নয়।
একারণে ইমাম ইবনুল ক্বাইয়েম দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে,
হাদীছের শেষাংশ বর্ণনাকারীর নিকট উল্টা হয়ে গেছে।
শেষাংশটা এরূপ বলা হয়েছেঃ ﻭَﻟْﻴَﻀَﻊْ ﻳَﺪَﻳْﻪِ ﻗَﺒْﻞَ ﺭُﻛْﺒَﺘَﻴْﻪِ ‘হাঁটু
রাখার পূর্বে হাত রাখবে।’ কিন্তু সঠিক বাক্য এরূপ হবেঃ ﻭَﻟْﻴَﻀَﻊْ
ﺭُﻛْﺒَﺘَﻴْﻪِ ﻗَﺒْﻞَ ﻳَﺪَﻳْﻪِ ‘হাত রাখার আগে হাঁটু রাখবে।’ কেননা হাঁটুর
আগে হাত রাখলেই উটের মত বসা হল। উট বসার সময় প্রথমে
তার হাত দু’টো রাখে। উটের বসা প্রত্যক্ষ করলে এটাই
প্রমাণিত হবে।
অতএব হাদীছের প্রথমাংশের সাথে শেষাংশের সামঞ্জস্য
করতে চাইলে বলতে হবেঃ ‘হাত রাখার আগে হাঁটু রাখবে।’
জনৈক বিদ্বান এব্যাপারে প্রবন্ধ রচনা করেছেন। নাম দিয়েছেনঃ
( ﻓﺘﺢ ﺍﻟﻤﻌﺒﻮﺩ ﻓﻲ ﻭﺿﻊ ﺍﻟﺮﻛﺒﺘﻴﻦ ﻗﺒﻞ ﺍﻟﻴﺪﻳﻦ ﻓﻲ
)ﺍﻟﺴﺠﻮﺩ এতে তিনি খুব সুন্দরভাবে উপকারী কথা লিখেছেন।
সুতরাং সিজদায় যাওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম) নির্দেশিত সুন্নাত হচ্ছেঃ দু’হাত রাখার আগে হাঁটু
রাখবে।
প্রশ্নঃ (২৫০) সামনের দিকে অতিরিক্ত বেড়ে গিয়ে সিজদা
করার বিধান কি?
উত্তরঃ সিজদার সময় সামনের দিকে অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া
সুন্নাতের পরিপন্থী। রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম) এর নামাযের বর্ণনা যারা করেছেন, তাদের কেউ একথা
বলেননি যে, তিনি সিজদার সময় পৃষ্ঠদেশ অতিরিক্ত লম্বা
করতেন। যেমনটি তিনি রুকূর সময় পিঠ অতিরিক্ত চওড়া
করতেন। শরীয়ত সম্মত সুন্নাত হচ্ছে, সিজদার সময় দু’রান
থেকে পেট আলাদা রাখবে এবং উঁচু করবে। কিন্তু সামনের দিকে
অতিরিক্ত বেড়ে যাবে না। যেমনটি অনেকে করে থাকে।
প্রশ্নঃ(২৫১) সিজদার কারণে কপালে দাগ পড়া কি নেক লোকের
পরিচয়?
উত্তরঃ সিজদার কারণে কপালে দাগ পড়া নেক লোকের আলামত
নয়। বরং তা হচ্ছে মুখমন্ডলের নূর, হৃদয়ের উন্মুক্ততা ও
প্রশস্ততা, উত্তম চরিত্র প্রভৃতি। সিজদার কারণে কপালে যে
দাগ পড়ে তা অনেক সময় চামড়া নরম হওয়ার কারণে- যারা শুধু
মাত্র ফরয নামায আদায় করে- তাদেরও হয়ে থাকে। অথচ অনেক
লোক অধিকহারে এবং দীর্ঘ সিজদা করেও তাদের কপালে এ
চিহ্ন দেখা যায় না।
প্রশ্নঃ (২৫২) দু’সিজদার মধ্যবর্তী সময়ে তর্জনী আঙ্গুল
নাড়ানোর বিধান কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ, ছহীহ্ মুসলিমে একটি হাদীছ রয়েছে। ইবনু ওমার
(রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম) যখন নামাযে বসতেন… তিনি বলেন, তিনি আঙ্গুল
দিয়ে ইশারা করতেন।” অন্য শব্দে বলা হয়েছেঃ “যখন তিনি
তাশাহুদে বসতেন।” প্রথম বাক্যটি আ’ম বা ব্যাপক
অর্থবোধক। আর দ্বিতীয় বাক্যটি খাছ বা বিশেষ অর্থবোধক।
কায়েদা বা মূলনীতি হচ্ছে খাছ বিষয়কে যদি এমন ক্ষেত্রে
উল্লেখ করা হয় যা আ’মের অর্থ বহন করে, তখন আ’ম বিষয়কে
আর খাছ করা হবে না। উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিস্কার হবে।
আপনি জনৈক ব্যক্তিকে বললেন, ছাত্রদের সম্মানিত করুন।
এবং তাকে বললেন, মুহাম্মাদকে সম্মানিত করুন। মুহাম্মাদ
ছাত্রদেরই অন্তর্ভুক্ত। এখানে একথা প্রমাণ হয় না যে,
অন্যান্য ছাত্রদেরকে সম্মানিত করা হবে না। উছুলবিদ
বিদ্বানগণ একথা বলেছেন। শায়খ শানক্বীতী (আযওয়াউল
বায়ান) গ্রনে’ এ মূলনীতিটি উল্লেখ করেছেন।
কিন্তু যদি বলে থাকে ছাত্রদেরকে সম্মানিত কর। তারপর বলল,
ক্লাস রূমে যারা ঘুমায় তাদের সম্মানিত করো না। এখানে খাছ
বা বিশেষ করে দেয়া হল। কেননা আ’ম বা ব্যাপকের বিধানের
বিপরীত বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
তাছাড়া মাসআলাটির ব্যাপারে আলাদা হাদীছও পাওয়া যায়।
ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেন, ‘ফতহুর্ রাব্বানী’ গ্রনে’র (১/১৪৭)
লিখক তার সনদকে হাসান বলেন। যাদুল মা’আদের টিকা
লিখকদের কেউ কেউ তার সনদ ছহীহ্ বলেও মন্তব্য করেছেন।
“রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’সিজদার
মধ্যে বসলে আঙ্গুলসমূহ মুষ্টিবদ্ধ করতেন এবং তর্জনী
আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন।”
আঙ্গুল নড়াতে হবে না এ ব্যাপারে যারা কথা বলেন তাদের কাছে
আমাদের প্রশ্ন, তবে ডান হাত কি অবস্থায় থাকবে? যদি
জবাবে বলা হয়, রানের উপর ছড়িয়ে রাখতে হবে। প্রশ্ন হবে,
একথার দলীল কি? কোন হাদীছে তো একথা বলা হয়নি যে,
তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ডান হাতকে উরুর
উপর ছড়িয়ে রাখতেন। এরূপ কোন হাদীছ থাকলে ছাহাবীগণ তার
বর্ণনা দিতেন্ত যেমনটি বর্ণনা পাওয়া যায় বাম হাতকে উরুর
উপর ছড়িয়ে রাখার ব্যাপারে।
প্রশ্নঃ (২৫৩) জালসা ইস্তেরাহা করার বিধান কি?
উত্তরঃ এ মাসআলাটিতে বিদ্বানদের তিন ধরণের মতামত পাওয়া
যায়।
প্রথমঃ জালসা ইস্তেরাহা করা সবসময় মুস্তাহাব।
দ্বিতীয়ঃ জালসা ইস্তেরাহা করা কখনই মুস্তাহাব নয়।
তৃতীয়ঃ উল্লেখিত দু’টি মতের মধ্যপন্থী মত। সরাসরি দাঁড়াতে
যাদের কষ্ট হয় তারা জালসা ইস্তেরাহা করবে। আর যাদের কষ্ট
হয় না তারা জালসা ইস্তেরাহা করবে না।
মুগনী গ্রন্থে (১/৫২৯ দারুল মানার প্রকাশনী) বলা হয়েছেঃ “এই
তৃতীয় মতটি দ্বারা হাদীছ সমূহের মাঝে সামঞ্জস্য বিধান করা
হয়েছে এবং তা হচ্ছে দু’টি মতের মধ্যপন্থী মত।” অতঃপর
পরবর্তী পৃষ্ঠায় বলা হয়েছেঃ ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি
বলেন, ফরয নামাযে সুন্নাত হচ্ছে, কোন ব্যক্তি যখন প্রথম
দু’রাকাআত শেষ করে উঠবে, তখন দু’হাত দিয়ে মাটিতে ভর করে
যেন না উঠে। তবে যদি অতিবৃদ্ধ ব্যক্তি অনুরূপ করতে সক্ষম না
হয়, তবে সে হাত দ্বারা মাটিতে ভর করে উঠতে পারে। (হাদীছটি
আছরাম বর্ণনা করেন।) এরপর মুগনী গ্রন’কার বলেন, মালেক
বিন হুওয়াইরিছ (রাঃ) বর্ণিত হাদীছে বলা হয়েছে,
ﺇِﺫَﺍ ﺭَﻓَﻊَ ﺭَﺃْﺳَﻪُ ﻋَﻦِ ﺍﻟﺴَّﺠْﺪَﺓِ ﺍﻟﺜَّﺎﻧِﻴَﺔِ ﺟَﻠَﺲَ ﻭَﺍﻋْﺘَﻤَﺪَ ﻋَﻠَﻰ
ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻡَ
“নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন দ্বিতীয় সিজদা
থেকে মাথা উঠাতেন, সোজা হয়ে বসতেন, তারপর যমীনের উপর
ভর দিয়ে দাঁড়াতেন।”
এ হাদীছটি হচ্ছে সেই সময়ের কথা যখন নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুর্বল ও বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে
সরাসরি দাঁড়াতে তাঁর কষ্ট হচ্ছিল। কেননা তিনি বলেন, “আমার
শরীর ভারী হয়ে গেছে। তাই তোমরা রুকূ সিজদায় আমার আগ
বেড়ে কিছু করো না।”
এই তৃতীয় মতকে আমি সমর্থন করি। কেননা মালেক বিন
হুওয়াইরিছ (রাঃ) এমন সময় নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম)এর নিকট আগমণ করেন যখন তিনি তাবুক যুদ্ধের
প্রস্ততি গ্রহণ করছিলেন। আর সে সময় নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁর দুর্বলতা
সুস্পষ্ট হচ্ছিল। ছহীহ্ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে। আয়েশা (রাঃ)
বলেন,
ﻟَﻤَّﺎ ﺑَﺪَّﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻭَﺛَﻘُﻞَ ﻛَﺎﻥَ
ﺃَﻛْﺜَﺮُ ﺻَﻠَﺎﺗِﻪِ ﺟَﺎﻟِﺴًﺎ
‘নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর শরীর মোবারক
যখন মোটা ও ভারী হয়ে গিয়েছিল, তখন অধিকাংশ নামায তিনি
বসে বসে আদায় করতেন।’
আবদুল্লাহ্ বিন শাক্বীক্ব (রাঃ) আয়েশা (রাঃ)কে প্রশ্ন
করলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি বসে বসে
নামায আদায় করতেন? তিনি বললেন, ﻧَﻌَﻢْ ﺑَﻌْﺪَ ﻣَﺎ ﺣَﻄَﻤَﻪُ
ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ‘হ্যাঁ, যখন তিনি বয়োবৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।’ হাফছা
(রাঃ) বলেন,
ﻣَﺎ ﺭَﺃَﻳْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺻَﻠَّﻰ ﻓِﻲ
ﺳُﺒْﺤَﺘِﻪِ ﻗَﺎﻋِﺪًﺍ ﺣَﺘَّﻰ ﻛَﺎﻥَ ﻗَﺒْﻞَ ﻭَﻓَﺎﺗِﻪِ ﺑِﻌَﺎﻡٍ ﻓَﻜَﺎﻥَ ﻳُﺼَﻠِّﻲ
ﻓِﻲ ﺳُﺒْﺤَﺘِﻪِ ﻗَﺎﻋِﺪًﺍ
“আমি রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে
কখনো বসে নফল নামায আদায় করতে দেখিনি। তবে মৃত্যুর এক
বছর পূর্বে থেকে তিনি বসে নফল নামায আদায় করেছেন।” অপর
বর্ণনায় ‘একবছর বা দু’বছর পূর্বে থেকে।’
এ বর্ণনাগুলো সবই ছহীহ্ মুসলিমে রয়েছে। একথার সমর্থন
পাওয়া যায় মালিক বিন হুওয়াইরিছ বর্ণিত হাদীছে, যাতে মাটিতে
ভর করে দাঁড়ানোর কথা উল্লেখ রয়েছে। আর সাধারণতঃ
প্রয়োজন ছাড়া কোন বস্তর উপর নির্ভর করার প্রশ্নই উঠে
না।
সম্ভবতঃ আমাদের সমর্থনে আবদুল্লাহ্ বিন বুহায়না (রাঃ)
বর্ণিত হাদীছটি পেশ করা যায়। তিনি বলেন, ‘নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা তাদেরকে নিয়ে যোহর ছালাত
আদায় করলেন। কিন্তু তিনি দু’রাকাআত পড়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন,
বসলেন না।’ এখানে ‘বসলেন না’ শব্দটি দ্বারা সবধরণের বসা
বুঝা যায়। অর্থাৎ- জালাসা ইস্তেরাহাতেও বসলেন না। কিন্তু এর
জবাবে বলা যায়, এখানে ‘বসলেন না’ বলতে তাশাহুদের জন্য বসা
উদ্দেশ্য করা হয়েছে। (আল্লাহ্ই অধিক জ্ঞাত)
প্রশ্নঃ (২৫৪) তাশাহুদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তর্জনী
আঙ্গুল নড়ানোর বিধান কি?
উত্তরঃ তর্জনী আঙ্গুল নাড়ানো শুধুমাত্র দু’আর সময় হবে।
পূরা তাশাহুদে নয়। যেমনটি হাদীছে বর্ণিত হয়েছেঃ “তিনি উহা
নাড়াতেন ও দু’আ করতেন।” এর কারণ হচ্ছেঃ দু’আ আল্লাহ্র
কাছেই করা হয়। আর আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আসমানে
আছেন। তাই তাঁকে আহবান করার সময় উপরে আঙ্গুল উঠিয়ে
ইশারা করবে। আল্লাহ্ বলেন,
] ﺃَﺃَﻣِﻨﺘُﻢْ ﻣَﻦْ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ ﺃَﻥْ ﻳَﺨْﺴِﻒَ ﺑِﻜُﻢْ ﺍﻷَﺭْﺽَ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻫِﻲَ
ﺗَﻤُﻮﺭُ، ﺃَﻡْ ﺃَﻣِﻨﺘُﻢْ ﻣَﻦْ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ ﺃَﻥْ ﻳُﺮْﺳِﻞَ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺣَﺎﺻِﺒًﺎ
ﻓَﺴَﺘَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ ﻛَﻴْﻒَ ﻧَﺬِﻳﺮِ [
“তোমরা কি নিরাপদে আছ সেই সত্বা থেকে যিনি আসমানে
আছেন যে, তিনি তোমাদেরকে ভূগর্ভে বিলীন করে দিবেন না?
তখন আকস্মিকভাবে যমীন থরথর করে কাঁপতে থাকবে। অথবা
নাকি তোমরা নিরাপদ আছ সেই সত্বার ব্যাপারে যিনি
আসমানের অধিপতি তোমাদের উপর কঙ্করবর্ষী ঝঞ্ঝা প্রেরণ
করবেন না? তখন তোমরা জানতে পারবে, আমার সকর্ত করণ
কিরূপ ছিল।” (সূরা মুলকঃ ১৬-১৭)
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
ﺃَﻟَﺎ ﺗَﺄْﻣَﻨُﻮﻧِﻲ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﺃَﻣِﻴﻦُ ﻣَﻦْ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ
“তোমারা কি আমাকে আমানতদার মনে করো না? অথচ আমি
যিনি আসমানে আছেন তার আমানতদার।”
সুতরাং আল্লাহ্ আসমানে তথা সবকিছুর উপরে আছেন। যখন
আপনি দু’আ করবেন উপরের দিকে ইঙ্গিত করবেন। একারণে নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিদায় হজ্জে খুতবা প্রদান
করে বললেন, “আমি কি পৌঁছিয়েছি?” তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। তিনি
আসমানের দিকে আঙ্গুল উঠালেন
এবং লোকদের দিকে আঙ্গুলটিকে ঘুরাতে থাকলেন বললেন, “হে
আল্লাহ্ তুমি সাক্ষী থেকো। হে আল্লাহ্ তুমি সাক্ষী থেকো।
হে আল্লাহ্ তুমি সাক্ষী থেকো।” এদ্বারা প্রমাণিত হয়
আল্লাহ্ তা’আলা সকল বস্তর উপরে অবস্থান করেন। এ বিষয়টি
সুস্পষ্ট ও সুপ্রমাণিত ফিতরাতী ভাবে, বিবেক যুক্তি ও
ঐকমত্যের ভিত্তিতে। এই ভিত্তিতে যখনই আপনি আল্লাহ্
তা’আলাকে ডাকবেন তাঁর কাছে দু’আ করবেন, তখনই আসমানের
দিকে তর্জনী আঙ্গুল দ্বারা ইঙ্গিত করবেন এবং তা নাড়াবেন।
আর অন্য অবস্থায় তা স্তীর রাখবেন।
এখন আমরা অনুসন্ধান করি তাশাহুদে দু’আর স্থানগুলোঃ
১) আস্সালামু আলাইকা আইয়্যুহান্নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি
ওয়া বারাকাতুহু
২) আস্সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিছ্ ছালিহীন।
৩) আল্লাহুম্মা ছাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলি মুহাম্মাদ
৪) আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি
মুহাম্মাদ
৫) আঊযুবিল্লাহি মিন আযাবি জাহান্নাম
৬) ওয়া মিন আযাবিল ক্বাবরি।
৭) ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহ্ইয়া ওয়াল মামাত।
৮) ওয়ামিন ফিতনাতল মাসীহিদ্দাজ্জাল। এই আটটি স্থানে
আঙ্গুল নাড়াবে এবং তা আকশের দিকে উত্থিত করবে। এগুলো
ছাড়া অন্য কোন দু’আ পাঠ করলেও আঙ্গুল উপরে উঠাবে।
কেননা দু’আ করলেই আঙ্গুল উপরে উঠাবে।
প্রশ্নঃ (২৫৫) প্রথম বৈঠকে শুধু তাশাহুদের শব্দগুলো পাঠ
করবে? না কি দরূদও পাঠ করবে?
উত্তরঃ তিন বা চার রাকাআত বিশিষ্ট নামাযের প্রথম তাশাহুদে
শুধুমাত্র পাঠ করবেঃ
ﺍﻟﺘَّﺤِﻴﺎَّﺕُ ﻟِﻠَّﻪِ ﻭَﺍﻟﺼَّﻠَﻮﺍَﺕُ ﻭَﺍﻟﻄَّﻴِّﺒﺎَﺕُ، ﺍﻟﺴَّﻼَﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﺃﻳُّﻬﺎَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ
ﻭَﺭَﺣَﻤْﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﻭﺑﺮﻛﺎﺗﻪ، ﺍﻟﺴَّﻼَﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻨﺎَ ﻭَﻋَﻠَﻰ ﻋِﺒﺎَﺩِ ﺍﻟﻠﻪِ
ﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺤِﻴْﻦَ، ﺃﺷْﻬَﺪُ ﺃﻥْ ﻻَﺇﻟَﻪَ ﺇﻻَّ ﺍﻟﻠﻪُ ﻭَﺃﺷْﻬَﺪُ ﺃﻥَّ .ﻭَﺭَﺳُﻮْﻟُﻪُ
ﻣُﺤَﻤَّﺪﺍً ﻋَﺒْﺪُﻩُ
এটাই উত্তম। যদি এরপর দরূদ পাঠ করে তবেও কোন অসুবিধা
নেই। বিদ্বানদের মধ্যে কেউ কেউ এটাকে মুস্তাহাব বলেছেন।
কিন্তু আমার মতে সুন্নাতের নিকটবর্তী কথা হচ্ছে দরূদের
পূর্বের বাক্যটি পাঠ করা- দরূদ না পড়া। তবে ইমাম তাশাহুদ
দীর্ঘ করলে দরূদ পড়তে কোন অসুবিধা নেই।
প্রশ্নঃ (২৫৬) নামাযে তাওয়ার্রুক করার বিধান কি? এ বিধান কি
নারী-পুরুষ সবার জন্যই?
উত্তরঃ যে সকল নামাযে দু’টি তাশাহুদ আছে তার শেষ তাশাহুদে
তাওয়ার্রুক করা সুন্নাত। যেমন, মাগরিব, এশা, যোহর ও আছর
ছালাতে। কিন্তু যে নামাযে শুধু একটিই তাশাহুদ- যেমন ফজর
নামায- তাতে তাওয়াররুক করা সুন্নাত নয়।
আর এই সুন্নাত নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে প্রমাণিত। কেননা
ইসলামী শরীয়তের বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়ে
বরাবর। তবে দলীলের ভিত্তিতে যে পার্থক্য পাওয়া যায় তার
কথা ভিন্ন। কিন্তু এমন কোন ছহীহ্ দলীল নেই যা দ্বারা নারী-
পুরুষের নামাযে পার্থক্য প্রমাণিত হয়। নামাযের পদ্ধতির
ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সকলেই সমান।
** তাওয়ার্রুক হচ্ছেঃ তাশাহুদের শেষ বৈঠকে বসার সময় ডান
পা’কে বাম পায়ের নীচে বের করে দিয়ে নিতম্ব জমিনে রেখে
তাঁর উপর বসা এবং ডান পা’কে খাড়া রাখা।
প্রশ্নঃ (২৫৭) ইমাম যদি শুধুমাত্র ডান দিকে একবার সালাম
ফেরায় তাহলে কি যথেষ্ট হবে?
উত্তরঃ বিদ্বানদের মধ্যে কেউ কেউ একদিকে সালাম ফেরানো
যথেষ্ট মনে করেন। আর কেউ কেউ বলেছেন, অবশ্যই দু’দিকে
সালাম দিতে হবে। আবার কেউ বলেন, এক সালাম নফল নামাযের
ক্ষেত্রে জায়েয, ফরযে নয়।
কিন্তু সর্বোত্তম কাজ হচ্ছে, দু’দিকে সালাম ফেরানো। কেননা
এটাই নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অধিকহারে
বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু ইমাম যদি একদিকে সালাম ফেরায় আর
মুক্তাদী মনে করে একদিকে সালাম ফেরানো যথেষ্ট নয়, তবে সে
দু’দিকেই সালাম ফেরাবে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু ইমাম যদি
দু’দিকে সালাম দেয়, আর মুক্তাদী মনে করে একদিকে সালাম
ফেরানো যথেষ্ট, তবে সে ইমামের অনুসরণ করার স্বার্থে উভয়
দিকে সালাম ফেরাবে।
প্রশ্নঃ (২৫৮) নামায শেষ হওয়ার সাথে সাথেই কি ইমাম উঠে
চলে যেতে পারেন? নাকি কিছুটা অপেক্ষা করবেন?
উত্তরঃ ইমামের জন্য উত্তম হচ্ছে সালাম ফেরানোর পর
সামান্য কিছু সময় ক্বিবলামুখী হয়ে বসে থাকবেন। উক্ত
সময়ের মধ্যে তিনবার ﺃَ ﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠَّﻪَ ‘আস্তাগফিরুল্লাহ্’ ও
একবার ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺍﻟﺴَّﻼﻡُ ﻭَﻣِﻨْﻚَ ﺍﻟﺴَّﻼﻡُ ﺗَﺒَﺎﺭَﻛْﺖَ ﻳﺎَ ﺫَﺍ
ﺍﻟْﺠَﻼﻝِ ﻭَﺍﻹِﻛْﺮَﺍﻡِ ‘আল্লাহুম্মা আন্তাস্সালাম ওয়া
মিনকাস্সালাম তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম’ পাঠ
করবেন। তারপর মুক্তাদীদের দিকে ফিরে বসবেন।
ইমাম উঠে চলে যেতে চাইলে যদি মুক্তাদীদের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে
যেতে হয় তবে তার জন্য উত্তম হচ্ছে কিছুক্ষণ বসে থেকে
অপেক্ষা করবে। ভীড় কম থাকলে ফিরে যেতে কোন বাধা নেই।
মুক্তাদীর জন্যে উত্তম হচ্ছে ইমামের আগে ফিরে না যাওয়া।
কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “আমার
আগেই তোমরা ফিরে যেও না।” কিন্তু ইমাম যদি ক্বিবলামুখী
হয়ে সুন্নাতী সময়ের চাইতে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকে। তবে
মুক্তাদীদের ফিরে যেতে কোন বাধা নেই।
প্রশ্নঃ (২৫৯) নামায শেষ করেই পার্শ্ববর্তী মুছল্লীর সাথে
মুছাফাহা করা ও ‘তাক্বাব্বালাল্লাহু’ (আল্লাহ্ কবূল করুন) বলা
সম্পর্কে আপনার মত কি?
উত্তরঃ নামায শেষ করেই পার্শ্ববর্তী মুছল্লীর সাথে মুছাফাহা
করা ও ‘তাক্বাব্বালাল্লাহু’ (আল্লাহ্ কবূল করুন) বলার কোন
ভিত্তি নেই। এ সম্পর্কে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম) ও তাঁর ছাহাবীদের থেকে কোন কিছু প্রমাণিত নেই।
প্রশ্নঃ (২৬০) তাসবীহ্ দানা দ্বারা তাসবীহ্ পড়ার বিধান কি?
উত্তরঃ তাসবীহ্ দানা ব্যবহার করা জায়েয। তবে উত্তম হচ্ছে,
হাতের আঙ্গুল ও আঙ্গুলের কর ব্যবহার করা। কেননা নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
ﺍﻋْﻘِﺪْﻥَ ﺑِﺎﻟْﺄَﻧَﺎﻣِﻞِ ﻓَﺈِﻧَّﻬُﻦَّ ﻣَﺴْﺌُﻮﻟَﺎﺕٌ ﻣُﺴْﺘَﻨْﻄَﻘَﺎﺕٌ
“আঙ্গুল দ্বারা তাসবীহ্ গণনা কর। কেননা (ক্বিয়ামত দিবসে)
এগুলো জিজ্ঞাসিত হবে এবং এগুলোকে কথা বলানো হবে।”
তাছাড়া তাসবীহ্র ছড়া হাতে নিয়ে থাকলে রিয়া বা লোক
দেখানো ভাবের উদ্রেক হতে পারে। আর যারা তাসবীহ্ ছড়া
ব্যবহার করে সাধারণতঃ তাদের অন্তর উপস্থিত থাকে না।
এদিক ওদিকে তাকায়। সুতরাং আঙ্গুল ব্যবহার করাই উত্তম ও
সুন্নাত।
প্রশ্নঃ (২৬১) নামাযের পর সুন্নাত সম্মত যিকির সমূহ কি কি?
উত্তরঃ নামাযের পর আল্লাহ্র যিকির করার ব্যাপারে আল্লাহ্
তা’আলা আদেশ করেছেন। তিনি বলেনঃ
] ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻗَﻀَﻴْﺘُﻢْ ﺍﻟﺼَّﻼﺓَ ﻓَﺎﺫْﻛُﺮُﻭﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻗِﻴَﺎﻣًﺎ ﻭَﻗُﻌُﻮﺩًﺍ ﻭَﻋَﻠَﻰ
[ﺟُﻨُﻮﺑِﻜُﻢْ
“যখন তোমরা নামায সমাধা করবে, তখন আল্লাহ্র যিকির
করবে দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া অবস্থায়।” (সূরা নিসা- ১০৩)
আল্লাহ্র এই নির্দেশের বর্ণনা দিয়েছেন নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কর্ম ও বাণীর মাধ্যমে। অতএব
সালাম ফেরানোর পর নিম্ন লিখিত দু’আ সমূহ পাঠ করবেঃ
১) তিনবার ইসে-গফার করবে। অর্থাৎ- আস্তাগফিরুল্লাহ্
পাঠ করবে
২) এবং বলবেঃ
ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺍﻟﺴَّﻼﻡُ ﻭَﻣِﻨْﻚَ ﺍﻟﺴَّﻼﻡُ ﺗَﺒَﺎﺭَﻛْﺖَ ﺫَﺍ ﻭَﺍﻹِﻛْﺮَﺍﻡِ
ﺍﻟْﺠَﻼﻝِ
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা আন্তস্সালাম ওয়ামিন কাস্সালাম
তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম।
৩) অতঃপর বলবেঃ
ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﺣْﺪَﻩُ ﻟَﺎ ﺷَﺮِﻳﻚَ ﻟَﻪُ، ﻟَﻪُ ﺍﻟْﻤُﻠْﻚُ ﻭَﻟَﻪُ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ
ﻭَﻫُﻮَ ﻋَﻠَﻰ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻗَﺪِﻳﺮٌ ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﻟَﺎ ﻣَﺎﻧِﻊَ ﻟِﻤَﺎ ﺃَﻋْﻄَﻴْﺖَ ﻭَﻟَﺎ
ﻣُﻌْﻄِﻲَ ﻟِﻤَﺎ ﻣَﻨَﻌْﺖَ ﻭَﻟَﺎ ﻳَﻨْﻔَﻊُ ﺫَﺍ ﺍﻟْﺠَﺪِّ ﻣِﻨْﻚَ ﺍﻟْﺠَﺪُّ
উচ্চারণঃ লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লাশারীকা লাহু। লাহুল
মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।
আল্লাহুম্মা লা-মা-নেআ লিমা আত্বাইতা ওয়াল মু’তিয়া লিমা
মানা’তা ওয়ালা ইয়ানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু।
অর্থঃ এক আল্লাহ ছাড়া কোন হক উপাস্য নেই। তিনি এক তাঁর
কোন শরীক নাই। মালিকানা তাঁরই, সমুদয় প্রশংসা তাঁরই জন্য।
হে আল্লাহ! আপনি যা দান করেন তা প্রতিরোধকারী কেউ
নেই। এবং আপনি যা রোধ করেন তা দানকারী কেউ নেই। আর
কোন মর্যাদাবানের মর্যাদা আপনার নিকট থেকে কোন উপকার
আদায় করে দিতে পারে না।
৪) অতঃপর বলবেঃ
] ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﺣْﺪَﻩُ ﻟَﺎ ﺷَﺮِﻳﻚَ ﻟَﻪُ، ﻟَﻪُ ﺍﻟْﻤُﻠْﻚُ ﻭَﻟَﻪُ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ
ﻭَﻫُﻮَ ﻋَﻠَﻰ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻗَﺪِﻳﺮٌ ﻟَﺎ ﺣَﻮْﻝَ ﻭَﻟَﺎ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻟَّﺎ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻟَﺎ
ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻟَﺎ ﻧَﻌْﺒُﺪُ ﺇِﻟَّﺎ ﺇِﻳَّﺎﻩُ ﻟَﻪُ ﺍﻟﻨِّﻌْﻤَﺔُ ﻭَﻟَﻪُ ﺍﻟْﻔَﻀْﻞُ ﻭَﻟَﻪُ
ﺍﻟﺜَّﻨَﺎﺀُ ﺍﻟْﺤَﺴَﻦُ ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣُﺨْﻠِﺼِﻴﻦَ ﻟَﻪُ ﺍﻟﺪِّﻳﻦَ ﻭَﻟَﻮْ ﻛَﺮِﻩَ
[ﺍﻟْﻜَﺎﻓِﺮُﻭﻥَ
“আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই। তিনি এক তাঁর কোন
শরীক নেই। তারই জন্য রাজত্ব, তারই জন্য সমস্ত প্রশংসা।
তিনি সকল বস্তর উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত
গুনাহ হতে বিরত থাকা ও আনুগত্য করার ক্ষমতা লাভ করা যায়
না। আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই। আর আমরা
তাঁকে ছাড়া অন্যের ইবাদত করি না। একমাত্র তাঁর অধিকারে
সমস্ত নেয়ামত, তাঁরই জন্য সমস্ত সম্মান মর্যাদা, আর তাঁরই
জন্য উত্তম স্ততি। আল্লাহ ব্যতীত কোন হক উপাস্য নেই।
তার নিমিত্তে আমরা ধর্ম পালন করি একনিষ্ঠ ভাবে। যদিও
কাফেররা তা মন্দ ভাবে।
৫) তাসবীহ পাঠ করবে অর্থ্যাৎ ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে ৩৩
বার, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলবে ৩৩ বার এবং ‘আল্লাহু আকবার’
বলবে ৩৩ বার। এবং একশ এর পূর্ণতা স্বরূপ এই দু‘আটি বলবে।
ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﺣْﺪَﻩُ ﻟَﺎ ﺷَﺮِﻳﻚَ ﻟَﻪُ، ﻟَﻪُ ﺍﻟْﻤُﻠْﻚُ ﻭَﻟَﻪُ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ
ﻭَﻫُﻮَ ﻋَﻠَﻰ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻗَﺪِﻳﺮٌ
উচ্চারণঃ লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লাশারীকা লাহু। লাহুল
মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।
অর্থঃ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই তিনি
এক তাঁর কোন শরীক নাই। মালিকানা তাঁরই সমুদয় প্রশংসা
তাঁরই জন্য।
যে ব্যক্তি অত্র তাসবীহ্ ও দু‘আটি বলবে তার গুনাহগুলো ক্ষমা
করে দেওয়া হবে। যদিও তা সমুদ্রের ফেনারাশী পরিমাণ হয় না
কেন।
পূর্বোল্লিখিত তাসবীহ্গুলো যে কোনটা দ্বারা শুরু করতে
পারবে। আর সুুবহানাল্লাহ, আল হামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার
একসাথে ৩৩ বার বলবে অথবা প্রত্যেকটা আলাদা আলাদা ৩৩
বার করে বলবে কোন অসুবিধা নেই।
অনুরূপভাবে উক্ত তাসবীহ্ সমূহ ৩৩ বারের পরিবর্তে ১০ বার
করে বলতে পারবে।
৬) সুবহানাল্লাহ্ ওয়াল হামদুলিল্লাহ্ ওয়া লাইলাহা
ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার- এই চারটি তাসবীহ্ ২৫ বার পাঠ
করবে। সর্বমোট ১০০ বার।
উল্লেখিত তাসবীহ্গুলোর যে কোন একটি প্রকার পাঠ করলেই
হবে। কেননা ইসলামী মূলনীতি হচ্ছে, (কোন ইবাদত যদি
কয়েকভাবে প্রমাণিত হয়, তবে তার প্রত্যেক প্রকার থেকে
কখনো এটা কখনো ওটা বাস্তবায়ন করা সুন্নাত।) এই তাসবীহ
সকল নামাযের ক্ষেত্রে প্রজোয্য। ফজর, যোহর, আছর,
মাগরিব ও এশা। তবে ফজর ও মাগরিব নামায বাদ নিম্নলিখিত
দু’আটি ১০ বার পাঠ করবেঃ ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু
লাশারীকা লাহু। লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা
কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।’ অনুরূপভাবে উক্ত দু’নামাযের পর সাত
বার পাঠ করবে এই দু’আঃ ( ﺭَ ﺏِّ ﺃﺟِﺮْﻧِﻲْ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨﺎَّﺭِ ) ‘হে আমার
পালনকর্তা! আমাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর।’
৭) অতঃপর আয়াতুল কুরসী (সূরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াত)
পাঠ করবে। যে ব্যক্তি প্রতেক ফরয নামাযানে- অত্র আয়াতুল
কুরসী পাঠ করবে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করা হতে বাধা দানকারী
একমাত্র মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই থাকবে না।
৮) তারপর একবার করে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস
পাঠ করবে। তবে ফজর বা মাগরীব নামায এর ব্যতিক্রম- এই দুই
নামাযের পর অত্র তিনটি সূরা তিনবার করে পাঠ করবে। (আবু
দাউদ, নাসাঈ)
প্রশ্নঃ (২৬২) নামাযের পর হাত উত্তোলন করে দু’আ করার
বিধান কি?
উত্তরঃ নামায শেষে হাত তুলে দু’আ করা শরীয়ত সম্মত নয়।
দু’আ করতে চাইলে নামাযের মধ্যে দু’আ করা উত্তম। একারণে
ইবনে মাসঊদ বর্ণিত তাশাহুদ শিক্ষার হাদীছে নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিয়েছেনঃ
ﺛُﻢَّ ﻟْﻴَﺘَﺨَﻴَّﺮْ ﺑَﻌْﺪُ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤَﺴْﺄَﻟَﺔِ ﻣَﺎ ﺷَﺎﺀَ
“তারপর ইচ্ছামত যে কোন দু’আ পাঠ করবে।”
সাধারণ মানুষ অনেকেই ফরয বা সুন্নাত যে কোন নামায শেষ
হলেই হাত তুলে দু’আ আরম্ভ করে। এমনকি এদের অধিকাংশ এ
কাজ কখনই পরিত্যাগ করে না।َ
অনেক লোক এমন দেখবেন ফরয নামায শুরু হয়ে যাচ্ছে আর সে
সুন্নাত নামাযের তাশাহুদে বসে আছে। সালাম ফেরানো হলেই
হাত উঠাবে কিছু বলল কি না আল্লাহই জানেন আবার হাত মুখে
মুছে ফেলবে। মনে করে নামায শেষ করে হাত দু’টো না উঠালে
যেন নামাযটাই সুন্দর হল না।
প্রশ্নঃ (২৬৩) ফরয নামাযানে- সমস্বরে সূরা ফাতিহা,
আয়াতুল কুরসী প্রভৃতি পাঠ করার বিধান কি?
উত্তরঃ নামাযানে- সকলে মিলে সমস্বরে সূরা ফাতিহা, আয়াতুল
কুরসী বা অন্যান্য যিকির করা বিদআত। কেননা নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং ছাহাবীদের (রাঃ)
থেকে যেটা প্রমাণিত রয়েছে, তাঁরা ফরয নামায শেষ করে কিছুটা
উঁচু আওয়াযে যিকির পাঠ করতেন। কিন্তু তাঁরা প্রত্যেকে ভিন্ন
ভিন্নভাবে পাঠ করতেন। সমস্বরে নয়। অতএব ফরয নামাযানে-
উঁচু কন্ঠে যিকির করা ছহীহ্ সুন্নাহ্ দ্বারা প্রমাণিত। আবদুল্লাহ্
বিন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
ﺃَﻥَّ ﺭَﻓْﻊَ ﺍﻟﺼَّﻮْﺕِ ﺑِﺎﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺣِﻴﻦَ ﻳَﻨْﺼَﺮِﻑُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤَﻜْﺘُﻮﺑَﺔِ
ﻛَﺎﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﻋَﻬْﺪِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻬﻢ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺍﺑْﻦُ
ﻋَﺒَّﺎﺱٍ ﻛُﻨْﺖُ ﺃَﻋْﻠَﻢُ ﺇِﺫَﺍ ﺍﻧْﺼَﺮَﻓُﻮﺍ ﺑِﺬَﻟِﻚَ ﺇِﺫَﺍ ﺳَﻤِﻌْﺘُﻪُ
“নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুগে লোকেরা
ফরয নামায শেষ করলে উঁচু কন্ঠে যিকির পাঠ করতেন। ইবনু
আব্বাস (রাঃ) বলেন, উঁচু কন্ঠের যিকির শুনলে আমি বুঝতাম
লোকেরা নামায শেষ করেছেন।”
কিন্তু নামাযের পর উঁচু কন্ঠে বা নীচু কন্ঠে সূরা ফাতিহা পাঠ
করার ব্যাপারে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে
কোন হাদীছ আমি জানি না। তবে ছহীহ্ হাদীছে প্রমাণিত
হয়েছে, আয়াতুল কুরসী ও মুআব্বেযাতাইন (সূরা ফালাক ও নাস)
পাঠ করা।
প্রশ্নঃ (২৬৪) টয়লেট সারতে গেলে জামাআত ছুটে যাওয়ার
আশংকা থাকলে কি করবে?
উত্তরঃ প্রথমে টয়লেটের কাজ সম্পন্ন করবে। তারপর ওযু করে
নামাযের দিকে অগ্রসর হবে। যদিও তার জামাআত ছুটে যায়।
এতে কোন অসুবিধা নেই। কেননা এটা তার ওযর। নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
ﻟَﺎ ﺻَﻠَﺎﺓَ ﺑِﺤَﻀْﺮَﺓِ ﺍﻟﻄَّﻌَﺎﻡِ ﻭَﻟَﺎ ﻫُﻮَ ﻳُﺪَﺍﻓِﻌُﻪُ ﺍﻟْﺄَﺧْﺒَﺜَﺎﻥِ
“খাদ্য উপস্থিত হলে এবং দু’টি নাপাক বস্তর চাপ থাকলে নামায
নেই।”
প্রশ্নঃ (২৬৫) নামায পড়ার সময় চোখ বন্ধ রাখার বিধান কি?
উত্তরঃ নামায অবস্থায় চোখ বন্ধ রাখা মাকরূহ। কেননা এটা
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সুন্নাত বিরোধী।
তবে যদি কোন কারণ থাকে যেমন, সম্মুখের দেয়াল বা কার্পেট
বা জায়নামাযে এমন কোন নকশা থাকে যার কারণে নামাযের
একাগ্রতা নষ্ট হয় বা সম্মুখে শক্তিশালী আলো থাকে যাতে
চোখের ক্ষতির আশংকা হয়, তবে চোখ বন্ধ রাখতে কোন
অসুবিধা নেই। অর্থাৎ কারণ বশতঃ হলে কোন অসুবিধা নেই।
অন্যথা তা মাকরূহ। এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে
ইমাম ইবনুল কাইয়্যেমের যাদুল মা’আদ গ্রন্থ অধ্যয়ন করা
যেতে পারে।
প্রশ্নঃ (২৬৬) নামাযরত অবস্থায় ভুলক্রমে আঙ্গুল ফুটালে কি
নামায বাতিল হয়ে যাবে?
উত্তরঃ আঙ্গুল ফুটালে নামায বাতিল হয় না। কিন্তু এটি একটি
অনর্থক কাজ। যা থেকে বিরত থাকা উচিত। জামাআতের সাথে
থাকলে নিঃসন্দেহে এতে অন্যান্য মুছল্লীর নামাযে ব্যাঘাত
ঘটবে। তখন তা আরো ক্ষতিকর।
এ উপলক্ষ্যে আমি বলতে চাইঃ নামায অবস্থায় নড়াচড়া করা
পাঁচভাগে বিভক্তঃ
১) ওয়াজিব ২) সুন্নাত ৩) মাকরূহ ৪) হারাম ৫) জায়েয।
ওয়াজিব নড়াচড়াঃ যেমনঃ নামায শুরু করেছে এমন সময় স্মরণ
হল, তার টুপিতে নাপাকি রয়েছে। তখন টুপি খুলে ফেলার জন্য
নড়াচড়া করা ওয়াজিব। একথার দলীল হচ্ছেঃ একদা নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুতা পরে নামায আদায়
করছিলেন। এমন সময় জিবরীল (আঃ) এসে তাঁকে সংবাদ দিলেন,
তাঁর জুতায় নাপাকী রয়েছে। তিনি নামাযরত অবস্থাতেই জুতা
খুলে ফেললেন এবং নামায চালিয়ে গেলেন।
সুন্নাত নড়াচড়াঃ নামায পরিপূর্ণ করার জন্য নড়াচড়া করা।
যেমনঃ কাতারের ফাঁকা স্থান পূর্ণ করার জন্য নামায অবস্থায়
সামনের কাতারে চলে যাওয়া বা ডানে-বামে পার্শ্ববর্তী
মুছল্লীর কাছে সরে যাওয়া। এসবগুলো করা সুন্নাত।
মাকরূহ নড়াচড়াঃ অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া। যার সাথে নামাযের
কোনই সম্পর্ক নেই।
হারাম নড়াচড়াঃ লাগাতার অধিকহারে নড়াচড়া করা। যেমনঃ
দাঁড়ানো অবস্থায় অনর্থক কাজ করা, রুকূ অবস্থায় অধিকহারে
নড়াচড়া করা, সিজদা বা বসা অবস্থায় অনর্থক নড়াচড়া করতে
থাকা এমনকি এভাবে নামায শেষ করা। এধরণের নড়াচড়া হারাম।
এর মাধ্যমে নামায বাতিল হয়ে যাবে।
জায়েয নড়াচড়াঃ যেমন শরীরের কোন স্থান চুলকানোর
প্রয়োজন অনুভব করল। বা শরীর থেকে মশা-মাছি তাড়ানোর
দরকার পড়ল.. ইত্যাদি ছোট-খাট বিষয় যা পরস্পর নয় এবং
অধিকহারে নয় তা বৈধ।
প্রশ্নঃ (২৬৭) সুতরার বিধান কি? এবং এর সীমা কতটুকু?
উত্তরঃ সুতরা গ্রহণ করা সুন্নাতে মুআক্কাদা। তবে জামাতের
সাথে নামায পড়লে মুক্তাদীর জন্য সুতরার দরকার নেই।
ইমামের সুতরা মুক্তাদীর জন্য যথেষ্ট। এর সীমা সম্পর্কে নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করা হলে
তিনি বলেনঃ
ﻣِﺜْﻞَ ﻣُﺆْﺧِﺮَﺓِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻞِ
“উটের উপর হেলান দিয়ে বসার জন্য তার পিঠে যে কাঠ রাখা হয়
তার উচ্চতার বরাবর।”
এটা হচ্ছে সর্বোচ্চ উচ্চতা। এর চেয়ে কমও বৈধ আছে। কেননা
হাদীছে এসেছেঃ
ﺇِﺫَﺍ ﺻَﻠَّﻰ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ ﻓَﻠْﻴَﺴْﺘَﺘِﺮْ ﻟِﺼَﻠَﺎﺗِﻪِ ﻭَﻟَﻮْ ﺑِﺴَﻬْﻢٍ
“তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি যখন ছালাত আদায় করে, সে
যেন একটি তীর দিয়ে হলেও সুতরা করে নেয়।”
হাসান সনদে আবু দাউদে বর্ণিত অন্য হাদীছে বলা হয়েছেঃ
“কোন কিছু না পেলে যেন একটি দাগ টেনে নেয়।” হাফেয ইবনু
হাজার বুলুগুল মারাম গ্রন্থে বলেনঃ যারা হাদীছটি মুযতারাব বলে
অভিমত ব্যক্ত করেছেন তারা সঠিক কথা বলেন নি। সুতরাং
হাদীছকে প্রত্যাখ্যান করার তেমন কোন কারণ নেই।
প্রশ্নঃ (২৬৮) মসজিদে হারামে মুছল্লীর সম্মুখ দিয়ে
অতিক্রম করার বিধান কি? নামায ফরয হোক বা নফল। মুছল্লী
মুক্তাদী হোক বা একাকী হোক।
উত্তরঃ মসজিদুল হারাম বা অন্য কোন স্থানে মুক্তাদী
মুছল্লীর সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করতে কোন অসুবিধা নেই।
কেননা ইবনু আব্বাস (রাঃ) মিনায় আগমণ করলেন। তখন নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকদের নিয়ে একটি
দেয়াল সামনে রেখে নামায আদায় করছিলেন। ইবনু আব্বাস
কাতারের সম্মুখ দিয়ে একটি গাধার পিঠে চড়ে অতিক্রম করলেন।
কেউ তার প্রতিবাদ করেনি।
মুছল্লী যদি ইমাম বা একক হয়, তবে তার সম্মুখ দিয়ে যাওয়া
জয়েয নেই। চাই তা মসজিদুল হারামে হোক বা অন্য কোন
স্থানে। কেননা সাধারণভাবে হাদীছগুলো এ কথাই প্রমাণ করে।
এমন কোন দলীল পাওয়া যায় না যে, মক্কা বা মসজিদে হারামে
বা মদীনার মসজিদে মুছল্লীর সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করা যাবে
কোন গুনাহ্ হবে না।
প্রশ্নঃ (২৬৯) নামাযের সময় মুছল্লীদের সম্মুখে বৈদ্যুতিক
হিটার (শীতকালে ঠান্ডা কমানোর জন্য ব্যবহৃত হিটার) রাখার
বিধান কি? এক্ষেত্রে কি কোন শরঈ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে?
উত্তরঃ মুছল্লীদের সম্মুখভাগে ক্বিবলার দিকে হিটার রাখতে
কোন অসুবিধা নেই। শরীয়তে এর নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে আমার
কোন কিছু জানা নেই।
প্রশ্নঃ (২৭০) নামাযের ক্বিরাতে জান্নাত ও জাহান্নামের
আলোচনা আসলে জান্নাতের প্রার্থনা এবং জাহান্নাম থেকে
আশ্রয় কামনা করা জায়েয কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ, এটা জায়েয। এক্ষেত্রে ইমাম, মুক্তাদী বা একক
ব্যক্তির মাঝে কোন পার্থক্য নেই। তবে মুক্তাদীর যেন
ইমামের ক্বিরআত নীরব থেকে শোনার ব্যাপারে কোন ব্যাঘাত
না ঘাটে।
প্রশ্নঃ (২৭১) সাহু সিজদা করার কারণ সমূহ কি কি?
উত্তরঃ সাহু সিজদা সংবিধিবদ্ধ করার পিছনে রহস্য হল এই যে,
এটা নামাযের মধ্যে যে ত্রুটি হয় তার পূর্ণতা দান করে।
তিনটি কারণে নামাযে সাহু সিজদা দিতে হয়ঃ
১) নামায বৃদ্ধি হওয়া। যেমন, কোন রুকূ বা সিজদা বা বসা
ইত্যাদি বৃদ্ধি হওয়া।
২) হ্রাস হওয়া। কোন রুকন বা ওয়াজিব কম হওয়া।
৩) সন্দেহ হওয়া। কত রাকাত পড়েছে তিন না চার এব্যাপারে
সংশয় হওয়া।
প্রথমতঃ ছালাতে বৃদ্ধি হওয়া:
মুছল্লী যদি নামাযের অন্তর্ভুক্ত এমন কিছু কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে
বৃদ্ধি করে যেমনঃ দাঁড়ানো, বসা, রুকূ‘, সিজদা ইত্যাদি- যেমন
দু‘বার করে রুকূ করা, তিন বার সিজদা করা, অথবা যোহর পাঁচ
রাকাত আদায় করা। তবে তার ছালাত বাতিল বা ভঙ্গ হয়ে যাবে।
কেননা সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের বিপরীত আমল
করেছে। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
ﻣَﻦْ ﻋَﻤِﻞَ ﻋَﻤَﻠًﺎ ﻟَﻴْﺲَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺃَﻣْﺮُﻧَﺎ ﻓَﻬُﻮَ ﺭَﺩٌّ
“যে ব্যক্তি এমন আমল করবে, যার পক্ষে আমাদের নির্দেশনা
নেই, তবে উহা প্রত্যাখ্যাত।”
কিন্তু যদি ভুলবশতঃ তা করে এবং ঐভাবেই ছালাত শেষ করে
দেয়ার পর স্মরণ হয় যে, ছালাতে বৃদ্ধি হয়ে গেছে, তবে শুধুমাত্র
সাহু সিজদা করবে। তার ছালাতও বিশুদ্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু
ছালাতরত অবস্থায় যদি উক্ত বৃদ্ধি স্মরণ হয়- যেমন চার
রাকাআত শেষ করে পাঁচ রাকাআতের জন্য দাঁড়িয়ে গেছে- তবে সে
ফিরে আসবে এবং শেষে সিজদায়ে সাহু করবে।
উদাহরণ: জনৈক ব্যক্তি যোহরের ছালাত পাঁচ রাকাআত আদায়
করে নিয়েছে। কিন্তু শেষ তাশাহুদে বসার সময় এবৃদ্ধির কথা
তার স্মরণ হল, তাহলে সে তাশাহুদ পূর্ণ করবে এবং সালাম
ফেরাবে। তারপর সাহু সিজদা করবে এবং সালাম ফিরাবে। আর
যদি সালাম ফেরানোর পর তা স্মরণ হয়, তবে সাহু সিজদা করবে
এবং সালাম ফিরাবে।
আর যদি পঞ্চম রাকাআত চলা অবস্থায় স্মরণ হয় তবে তখনই
বসে পড়বে এবং তাশাহুদ পড়ে সালাম ফেরাবে। তারপর সিজদায়ে
সাহু করে আবার সালাম ফেরাবে।
দলীল:
ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻗَﺎﻝَ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ
ﺍﻟﻈُّﻬْﺮَ ﺧَﻤْﺴًﺎ ﻓَﻘَﺎﻟُﻮﺍ ﺃَﺯِﻳﺪَ ﻓِﻲ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ؟ :َﻝﺎَﻗ ﻭَﻣَﺎ ﺫَﺍﻙَ؟
:ﺍﻮُﻟﺎَﻗ ﺻَﻠَّﻴْﺖَ ﺧَﻤْﺴًﺎ، ﻓﺴﺠﺪ ﺳﺠﺪﺗﻴﻦ ﺑﻌﺪ ﻣﺎ ﺳﻠﻢ. ﻭﻓﻲ
:ﺔﻳﺍﻭﺭ ﻓَﺜَﻨَﻰ ﺭِﺟْﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﺠَﺪَ ﺳَﺠْﺪَﺗَﻴْﻦِ ﺛﻢ ﺳﻠﻢ
আবদুল্লাহ্ বিন মাসঊদ (রা:) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন,
একদা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যোহরের নামায
পাঁচ রাক্আত পড়লেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হল, নামায কি বৃদ্ধি
করা হয়েছে? তিনি বললেন, কিভাবে? তাঁরা বললেন, আপনি আজ
পাঁচ রাকাআত পড়েছেন। তখন তিনি দু‘টি সিজদা করলেন। অন্য
রেওয়ায়াতে এসেছে, তখন তিনি পা গুটিয়ে ক্বিবলামুখি হলেন,
দু‘টি সিজদা করলেন অত:পর সালাম ফেরালেন।
সালাত পূর্ণ হওয়ার আগেই সালাম ফেরানো:
নামায পূর্ণ হওয়ার আগেই সালাম ফেরানো ছালাতে বৃদ্ধি করার
অন্তর্গত। কেননা ছালাতরত অবস্থায় সে সালামকে বৃদ্ধি
করেছে। একাজ যদি ইচ্ছাকৃত করে তবে ছালাত বাতিল হয়ে যাবে।
আর যদি ভুলক্রমে হয়, কিন্তু অনেক পরে তার এ ভুলের কথা
মনে পড়ল তবে নামায পুনরায় ফিরিয়ে পড়বে। আর যদি একটু
পরেই (যেমন দু/এক মিনিট) তবে সে অবশিষ্ট ছালাত পূর্ণ করবে
এবং সালাম ফিরাবে। অতঃপর সাহু সিজদা করে সালাম ফিরাবে।
দলীল:
ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﺭَﺿِﻲ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻨْﻪ ﺃّﻥّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺻَﻠَّﻰ ﺑِﻬﻢ ﺍﻟﻈُّﻬْﺮَ ﺃﻭ ﺍﻟﻌﺼﺮ ﻓﺴَﻠَّﻢَ ﻣﻦ ﺭَﻛْﻌَﺘَﻴْﻦِ
ﻓَﺨَﺮَﺝَ ﺳَﺮَﻋَﺎﻥُ ﻣﻦ ﺃﺑﻮﺍﺏ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِ :ﻥﻮﻟﻮﻘﻳ ﻗَﺼُﺮَﺕِ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓُ
ﻭَﻗَﺎﻡَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺇِﻟَﻰ ﺧَﺸَﺒَﺔٍ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِ
ﻓﺎﺗﻜﺄَ ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ ﻛﺄﻧﻪ ﻏﻀﺒﺎﻥَ، ﻓﻘﺎﻡ ﺭﺟﻞ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻳَﺎ ﺭﺳﻮﻝ
:ﻪﻠﻟﺍ ﺃَﻧَﺴِﻴﺖَ ﺃَﻡْ ﻗَﺼُﺮَﺕْ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓُ؟ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ
ﻋَﻠَﻴْﻪِ :َﻢَّﻠَﺳَﻭ ﻟَﻢْ ﺃَﻧْﺲَ ﻭَﻟَﻢْ ﺗَﻘْﺼُﺮْ، ﻓﻘﺎﻝ :ﻞﺟﺮﻟﺍ ﺑَﻠﻲ
ﻧَﺴِﻴﺖَ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ :ﺔﺑﺎﺤﺼﻠﻟ ﺃَﺣﻖٌّ
ﻣﺎ ﻳﻘﻮﻝ؟ :ﺍﻮُﻟﺎَﻗ ﻧﻌﻢ، ﻓﺘﻘﺪﻡ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻓَﺼَﻠَّﻰ ﻣﺎ ﺑﻘﻲ ﻣﻦ ﺻﻼﺗﻪ، ﺛﻢ ﺳﻠﻢ ﺛﻢ ﺳﺠﺪﺗﻴﻦ ﺛﻢ ﺳﻠﻢ
ﺳﺠﺪ
আবু হুরায়রা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে নিয়ে যোহর
অথবা আছরের ছালাত আদায় করলেন। কিন্তু দু‘রাকাআত আদায়
করেই সালাম ফিরিয়ে দিলেন। কিছু লোক দ্রুত মসিজদ থেকে
একথা বলতে বলতে বের হয়ে গেল যে, ছালাত সংক্ষিপ্ত হয়ে
গেছে। নবীজিও (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদের
এক খুঁটির কাছে গিয়ে তাতে হেলান দিয়ে বসে পড়লেন। মনে
হচ্ছিল তিনি যেন রাগন্বিত। জনৈক ব্যক্তি তাঁর কাছে গিয়ে
বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কি ভুলে গেছেন, নাকি নামায
সংক্ষিপ্ত করে দেয়া হয়েছে? নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম) বললেন, আমি তো ভুলিনি, আর নামাযও সংক্ষিপ্ত
করা হয়নি। লোকটি বলল, বরং আপনি ভুলেই গিয়েছেন। (কারণ
আপনি দু‘রাকাআত ছালাত আদায় করেছেন।) নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছাহাবীদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, একি
সত্য বলছে? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। তখন নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবার দাঁড়িয়ে পড়লেন এবং অবশিষ্ট
দু‘রাকাআত আদায় করে তাশাহুদ পড়ে সালাম ফিরলেন। তারপর
দু‘টি সিজদা করলেন অতঃপর সালাম ফেরালেন।
দ্বিতীয়ত: ছালাতে হ্রাস হওয়া:
ক) রুকন হ্রাস হওয়া:
মুছল্লী যদি কোন রুকন কম করে ফেলে- উক্ত রুকন যদি
তাকবীরে তাহরিমা (নামায শুরু করার তাকবীর) হয়, তবে তার
ছালাতই হবে না। চাই উহা ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিক বা ভুলক্রমে
ছেড়ে দিক। কেননা তার ছালাতই তো শুরু হয়নি।
আর উক্ত রুকন যদি তাকবীরে তাহরিমা ব্যতীত অন্য কিছু হয়
আর তা ইচ্ছাকৃত হয় তবে তার ছালাত বাতিল বা ভঙ্গ হয়ে যাবে।
কিন্তু যদি অনিচ্ছাকৃত বা ভুলক্রমে কোন রুকন ছুটে যায়- যেমন
প্রথম রাকাআতে কোন রুকন ছুটে গেল, এখন যদি দ্বিতীয়
রাকাআতে সেই ছুটে যাওয়া রুকনের নিকট পৌঁছে যায়- তবে
এঅবস্থায় আগের রাকাআত বাতিল হয়ে যাবে এবং এটাকে প্রথম
রাকাআত গণ্য করবে এবং বাকী অংশ পূরা করে সাহু সিজদা
দিবে।
কিন্তু যদি দ্বিতীয় রাকাআতে ছুটে যাওয়া সেই রুকনে না পৌঁছে,
তবে ছুটে যাওয়া রুকনটি আগে আদায় করবে তারপর বাকী
অংশগুলো আদায় করবে এবং সাহু সিজদা দিবে।
উদাহরণ: জনৈক মুছল্লী প্রথম রাকাআতের দ্বিতীয় সিজদাটি
ভুলে গেল। যখন সেকথা স্মরণ হল, তখন সে দ্বিতীয়
রাকাআতের দু‘সিজদার মধ্যবর্তি স্থানে বসেছে। এঅবস্থায়
আগের রাকাতটি বাতিল হয়ে যাবে এবং এটাকে প্রথম রাকাত গণ্য
করে অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করে ছালাত শেষে সাহু সিজদা করবে।
আর একটি উদাহরণ: জনৈক ব্যক্তি প্রথম রাকাআতে একটি
মাত্র সিজদা করেছে। তারপর দ্বিতীয় সিজদা না করেই দাঁড়িয়ে
পড়েছে। অতঃপর দ্বিতীয় রাকাতে রুকূ করার পর সেই ভুলের কথা
স্মরণ হয়েছে, তবে সে বসে পড়বে এবং সেই ছুটে যাওয়া সিজদা
দিবে এবং সেখান থেকে ছালাতের বাকী অংশ পূর্ণ করে সালাম
ফিরাবে। তারপর সাহু সিজদা করে সালাম ফিরাবে।
খ) কোন ওয়াজিব হ্রাস হওয়া:
মুছল্লী যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন ওয়াজিব পরিত্যাগ করে তবে
তার ছালাত বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি ভুলক্রমে হয় আর উক্ত
স্থান ছেড়ে যাওয়ার আগেই যদি স্মরণ হয়ে যায় তবে তা আদায়
করবে এতে কোন দোষ নেই- সাহু সিজদা দিতে হবে না। কিন্তু
যদি উক্ত ওয়াজিব ছেড়ে পরবর্তী রুকন শুরু করার আগেই স্মরণ
হয়ে যায় তবে ফিরে গিয়ে সেই ওয়াজিব আদায় করবে এবং শেষে
সাহু সিজদা করবে। কিন্তু পরবর্তী রুকন শুরু করার পর যদি
স্মরণ হয় তবে উক্ত ছুটে যাওয়া ওয়াজিব রহিত হয়ে যাবে।
অবশিষ্ট ছালাত আদায় করে সালামের পূর্বে সাহু সিজদা করলেই
ছালাত পূর্ণ হয়ে যাবে।
উদাহরণ: একজন মুছল্লী দ্বিতীয় রাকাতের দ্বিতীয় সিজদা
থেকে উঠে না বসে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াতে যাচ্ছে। এমন
সময় স্মরণ হল নিজ ভুলের কথা। তখন সে বসে পড়বে এবং
তাশাহুদ পড়ে ছালাত পূর্ণ করবে। কোন সাহু সিজদা লাগবে না।
আর যদি কিছুটা দাঁড়ায় কিন্তু পরিপূর্ণরূপে দাঁড়ায়নি তবে সে
বসে যাবে এবং তাশাহুদ পড়বে ও ছালাত শেষে সাহু সিজদা করে
সালাম ফিরাবে। কিন্তু যদি পূর্ণরূপে দাঁড়িয়ে পড়ে তবে আর
বসবে না। তাশাহুদ রহিত হযে যাবে। ঐভাবেই ছালাত পূর্ণ করবে
এবং সলাম ফিরানোর পূর্বে সাহু সিজদা করবে।
দলীল:
ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﺑْﻦِ ﺑُﺤَﻴْﻨَﺔَ ﻗَﺎﻝَ ﺻَﻠَّﻰ ﺑِﻨَﺎ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ
ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻓَﻘَﺎﻡَ ﻓِﻲ ﺍﻟﺮَّﻛْﻌَﺘَﻴْﻦِ ﺍﻟْﺄُﻭﻟَﻴَﻴْﻦِ ﻗَﺒْﻞَ ﺃَﻥْ ﻳَﺠْﻠِﺲَ
ﻓَﻤَﻀَﻰ ﻓِﻲ ﺻَﻠَﺎﺗِﻪِ ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﻗَﻀَﻰ ﺻَﻠَﺎﺗَﻪُ ﺍﻧْﺘَﻈَﺮَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ
ﺗَﺴْﻠِﻴﻤَﻪُ ﻓَﻜَﺒَّﺮَ ﻭَﺳَﺠَﺪَ ﻗَﺒْﻞَ ﺃَﻥْ ﻳُﺴَﻠِّﻢَ ﺛُﻢَّ ﺭَﻓَﻊَ ﺭَﺃْﺳَﻪُ ﺛُﻢَّ ﻛَﺒَّﺮَ
ﻭَﺳَﺠَﺪَ ﺛُﻢَّ ﺭَﻓَﻊَ ﺭَﺃْﺳَﻪُ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ
আবদুল্লাহ্ বিন বুহাইনাহ্ (রা:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
একদা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে
নিয়ে (যোহর) ছালাত আদায় করলেন। কিন্তু দু‘রাকাত শেষে
(তাশাহুদ না পড়েই) দাঁড়িয়ে পড়লেন। তিনি নামায চালিয়ে যেতে
থাকলেন। ছালাত শেষে মানুষ সালামের অপেক্ষা করছে এমন সময়
সালামের পূর্বে তিনি তাকবীর দিয়ে সিজদা করলেন, মাথা
উঠিয়ে আবার তাকবীর দিয়ে সিজদা করলেন, তারপর মাথা
উঠিয়ে সালাম ফেরালেন।
তৃতীয়ত: সন্দেহ হওয়া:
ছালাতের মধ্যে সন্দেহের দু‘টি অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: সন্দেহযুক্ত দু‘টি বিষয়ের মধ্যে যেটির
প্রাধান্য পাবে সে অনুযায়ী কাজ করবে এবং ছালাত পূর্ণ করে
সালাম ফিরাবে। তারপর সাহু সিজদা করে সালাম ফিরাবে।
উদাহরণ: একজন লোক যোহরের ছালাত আদায় করছে। কিন্তু
সন্দেহ হল এখন সে কি দ্বিতীয় রাকাতে না তৃতীয় রাকাতে? এ
সময় সে অনুমান করে স্থির করবে কোনটা ঠিক। যদি অনুমান
প্রাধান্য পায় যে এটা তৃতীয় রাকাত, তবে তা তৃতীয় রাকাত গণ্য
করে ছালাত পূর্ণ করবে এবং সালাম ফেরানোর পর সাহু সিজদা
করবে।
দলীল: আবদুল্লাহ্ বিন মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺷَﻚَّ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ ﻓِﻲ ﺻَﻠَﺎﺗِﻪِ ﻓَﻠْﻴَﺘَﺤَﺮَّ ﺍﻟﺼَّﻮَﺍﺏَ ﻓَﻠْﻴُﺘِﻢَّ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
ﺛُﻢَّ ﻟِﻴُﺴَﻠِّﻢْ ﺛُﻢَّ ﻳَﺴْﺠُﺪُ ﺳَﺠْﺪَﺗَﻴْﻦِ
“তোমাদের কারো ছালাতে যদি সন্দেহ হয় তবে সঠিক
সিদ্ধানে- উপনীত হওয়ার চেষ্টা করবে এবং সে ভিত্তিতে ছালাত
পূর্ণ করবে। তারপর সালাম ফিরিয়ে দু‘টি সাহু সিজদা করবে।”
দ্বিতীয় অবস্থা: সন্দেহযুক্ত দু‘টি দিকের কোনটাই প্রাধান্য
পায় না। এ অবস্থায় নিশ্চিত দিকটির উপর ভিত্তি করবে।
অর্থাৎ কম সংখ্যাটি নির্ধারণ করে বাকী নামায পূর্ণ করবে।
তারপর সালামের আগে সাহু সিজদা করে শেষে সালাম ফিরাবে।
উদাহরণঃ জনৈক ব্যক্তি আছরের ছালাতে সন্দেহ করল- তিন
রাকাত পড়েছে না দু‘রাকাত। কিন্তু অনুমান করে কোনটাই তার
নিকট প্রাধান্য পেল না। এমতাবস্থায় সে তা দ্বিতীয় রাকাত ধরে
প্রথম তাশাহুদ পাঠ করবে। তারপর বাকী দু‘রাকাত নামায পূর্ণ
করবে এবং শেষে সালাম ফিরানোর পূর্বে সাহু সিজদা করবে।
দলীল: আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
ﺇِﺫَﺍ ﺷَﻚَّ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ ﻓِﻲ ﺻَﻼﺗِﻪِ ﻓَﻠَﻢْ ﻳَﺪْﺭِ ﻛَﻢْ ﺻَﻠَّﻰ ﺛَﻼﺛًﺎ ﺃَﻡْ
ﺃَﺭْﺑَﻌًﺎ ﻓَﻠْﻴَﻄْﺮَﺡِ ﺍﻟﺸَّﻚَّ ﻭَﻟْﻴَﺒْﻦِ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﺎ ﺍﺳْﺘَﻴْﻘَﻦَ ﺛُﻢَّ ﻳَﺴْﺠُﺪُ
ﺳَﺠْﺪَﺗَﻴْﻦِ ﻗَﺒْﻞَ ﺃَﻥْ ﻳُﺴَﻠِّﻢَ ﻓَﺈِﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﺻَﻠَّﻰ ﺧَﻤْﺴًﺎ ﺷَﻔَﻌْﻦَ ﻟَﻪُ
ﺻَﻠَﺎﺗَﻪُ ﻭَﺇِﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﺻَﻠَّﻰ ﺇِﺗْﻤَﺎﻣًﺎ ﻟِﺄَﺭْﺑَﻊٍ ﻛَﺎﻧَﺘَﺎ ﺗَﺮْﻏِﻴﻤًﺎ ﻟِﻠﺸَّﻴْﻄَﺎﻥِ
“তোমাদের কোন ব্যক্তি যদি ছালাতে সন্দেহ করে যে, তিন
রাকাত পড়েছে না চার রাকাত? তবে সে সন্দেহকে বর্জন করবে
এবং নিশ্চিতের উপর ভিত্তি করবে। তারপর সালাম ফেরানোর
পূর্বে দু‘টি সিজদা করবে। যদি পাঁচ রাকাত পড়ে থাকে তবে
ছালাত বেজোড় থেকে জোড় হয়ে যাবে। আর যদি চার রাকাতই
পড়ে থাকে, তবে এসিজদা দু‘টি শয়তানকে অপমানের জন্য হবে।”
সারকথা: পূর্বেল্লেখিত আলোচনা থেকে বুঝা গেল যে,
সিজদায়ে সাহু কখনো সালামের আগে কখনো সালামের পর
করতে হয়।
সালামের পূর্বে সাহু সিজদা দু‘ক্ষেত্রে করতে হয়:
প্রথম: ছালাতে যদি কোন ওয়াজিব হ্রাস হয়।
দ্বিতীয়: ছালাতে যদি সন্দেহ হয় এবং দু‘টি দিকের কোনটিই
প্রাধান্য না পায়, তবে সালামের পূর্বে সাহু সিজদা করবে।
সালামের পর দু‘ক্ষেত্রে সাহু সিজদা করতে হয়:
প্রথম: যদি ছালাতে বৃদ্ধি হয়ে যায়।
দ্বিতীয়: যদি সন্দেহ হয় এবং যে কোন একটি দিক অনুমানের
ভিত্তিতে প্রাধান্য লাভ করে, তবে সালামের পর সাহু সিজদা
করবে।
প্রশ্নঃ (২৭২) ইমাম ভুলক্রমে এক রাকাআত নামায বৃদ্ধি
করেছেন। আমি মাসবূক হিসেবে ইমামের অতিরিক্ত নামায
আমার নামাযের সাথে মিলিয়ে নিয়েছি। আমার নামায কি
বিশুদ্ধ হয়েছে? আর যদি ঐ রাকাতের হিসাব না ধরি তবে তার
বিধান কি?
উত্তরঃ সঠিক মত হচ্ছে আপনার নামায বিশুদ্ধ হয়েছে। কেননা
আপনি নামায পূর্ণভাবে আদায় করেছেন। ইমাম যে ভুল করেছেন
সে তার উপর বর্তাবে। ভুল হওয়ার কারণে তিনি মা‘যুর (অপারগ
ও অক্ষম)। কিন্তু আপনি যদি ঐ রাকাআতের হিসাব না ধরেন
এবং অতিরিক্ত রাকাআত আদায় করেন, তবে কোন ওযর ছাড়াই
এক রাকাত বৃদ্ধি করলেন। যার কারণে আপনার নামায বাতিল হয়ে
যাবে।
প্রশ্নঃ (২৭৩) তাহাজ্জুদ নামাযে ভুলক্রমে তৃতীয় রাকাআতের
জন্য দাঁড়িয়ে পড়লে করণীয় কি?
উত্তরঃ স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে বসে পড়বে। অন্যথায় তার
নামায বাতিল হয়ে যাবে। কেননা ইচ্ছাকৃতভাবে তার নামায বৃদ্ধি
হয়ে গেল। ইমাম আহমাদ বলেছেন, কোন লোক যদি রাতের
নফল নামাযে তৃতীয় রাকাআতের জন্য দন্ডায়মান হয়, তবে সে
যেন ফজর নামাযে তৃতীয় রাকাতের জন্য দন্ডায়মান হওয়া বৈধ
করে নিল। এ অবস্থায় সে যদি না বসে যায় তবে তার ছালাত
বাতিল হয়ে যাবে। তবে বিতর নামায এর বিপরীত। যদি নিয়ত
করে (দু’সালামে) তিন রাকাত বিতর পড়বে। (অর্থাৎ- দু’রাকাত
পড়ে সালাম ফিরিয়ে এক রাকাআত পড়বে) কিন্তু দু’রাকাত পড়ে
না বসে ভুলক্রমে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে পড়েছে। এ
অবস্থায় না বসে যদি নামায চালিয়ে যায় এবং তিন রাকাত পূরা
করে তবে তা বিতর হিসেবে যথেষ্ট হবে। কেননা একাধারে তিন
রাকাত বিতর নামায আদায় করা বৈধ।
প্রশ্নঃ (২৭৪) প্রথম তাশাহুদ না পড়ে দাঁড়িয়ে পড়লে করণীয়
কি? এক্ষেত্রে কখন সাহু সিজদা করতে হবে?
উত্তরঃ এ অবস্থায় ফিরে আসবেন না তথা বসে পড়বেন না; বরং
নামায চালিয়েই যাবেন। কেননা আপনি তাশাহুদ থেকে পূর্ণরূপে
বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন এবং পরবর্তী রুকনে চলে গিয়েছেন। এ
অবস্থায় ফিরে আসা মাকরূহ, তবে যদি ফিরে এসে বসে পড়েন,
তবে নামায বাতিল হবে না। কেননা আপনি হারাম কিছু করেননি।
তবে এ অবস্থায় সাহু সিজদা করতে হবে। আর তা সালামের
পূর্বে।
কোন কোন বিদ্বান বলেছেন, নামায চালিয়ে যাওয়া ওয়াজিব,
আর ফিরে আসবেন না। আর ওয়াজিব তাশাহুদ ছুটে যাওয়ার
কারণে সালামের পূর্বে সাহু সিজদা করবেন।
প্রশ্নঃ (২৭৫) বিতর নামাযের বিধান কি? উহা কি শুধু রামাযান
মাসের জন্যই?
উত্তরঃ বিতর নামায রামাযান মাসে ও সকল মাসে সুন্নাতে
মুআক্কাদা। ইমাম আহমাদ ও অন্যান্য বিদ্বানগণ বলেছেনঃ ‘যে
বিতর নামায পরিত্যাগ করে সে খারাপ লোক। তার সাক্ষ্য
গ্রহণ করা উচিত নয়।’ সুন্নাতে মুআক্কাদা এ ইবাদতটি রামাযান
বা যে কোন সময় পরিত্যাগ করা কোন মুমিনের জন্য উচিত
নয়। বিতর হচ্ছে সর্বনিম্ন এক রাকাতের মাধ্যমে রাতের
নামাযের সমাপ্তি করা। অনেকে মনে করে বিতর মানেই কুনূত।
কিন্তু তা ঠিক নয়। কুনূত এক বিষয় বিতর অন্য বিষয়। তবে
বিতর নামাযে দু’আ কুনূত পাঠ করা যায়। কিন্তু তা পাঠ করা
আবশ্যক নয়। রাতের নফল নামায শেষ করতে হয় এক রাকাত বা
একাধারে তিন রাকাত বিতর নামায আদায় করার মাধ্যমে।
মোটকথা বিতর নামায সুন্নাতে মুআক্কাদা তা রামাযান মাসে
হোক বা অন্য সময়। আর উহা পরিত্যাগ করা কোন মুসলিমের
জন্য উচিত নয়।
প্রশ্নঃ (২৭৬) দু’আ কুনূতের জন্য কি বিশেষ কোন দু’আ
আছে? এ সময় দু’আ কি দীর্ঘ করা যায়?
উত্তরঃ এক্ষেত্রে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
হাসান বিন আলী (রাঃ)কে যে দু’আটি শিক্ষা দিয়েছিলেন, তাকেই
দু’আ কুনূত বলা হয়। দু’আটি নিম্নরূপঃ
] ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺍﻫْﺪِﻧِﻲ ﻓِﻴﻤَﻦْ ﻫَﺪَﻳْﺖَ ﻭَﻋَﺎﻓِﻨِﻲ ﻓِﻴﻤَﻦْ ﻋَﺎﻓَﻴْﺖَ
ﻭَﺗَﻮَﻟَّﻨِﻲ ﻓِﻴﻤَﻦْ ﺗَﻮَﻟَّﻴْﺖَ ﻭَﺑَﺎﺭِﻙْ ﻟِﻲ ﻓِﻴﻤَﺎ ﺃَﻋْﻄَﻴْﺖَ ﻭَﻗِﻨِﻲ ﺷَﺮَّ
ﻣَﺎ ﻗَﻀَﻴْﺖَ ﻓَﺈِﻧَّﻚَ ﺗَﻘْﻀِﻲ ﻭَﻟَﺎ ﻳُﻘْﻀَﻰ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻭَﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﺎ ﻳَﺬِﻝُّ ﻣَﻦْ
ﻭَﺍﻟَﻴْﺖَ ﻭَﻻَ ﻳَﻌِﺰُّ ﻣَﻦْ ﻋﺎَﺩَﻳْﺖَ ﺗَﺒَﺎﺭَﻛْﺖَ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻭَﺗَﻌَﺎﻟَﻴْﺖَ [
“হে আল্লাহ্! তুমি যাদেরকে হেদায়াত করেছো, আমাকে তাদের
অন্তর্ভুক্ত করো। তুমি যাদেরকে নিরাপদে রেখেছো আমাকে
তাদের দলভুক্ত করো। তুমি যাদের অভিভাকত্ব গ্রহণ করেছো
আমাকে তাদের দলভুক্ত করো। তুমি আমাকে যা দিয়েছো তাতে
বরকত দাও, তুমি যে অমঙ্গল নির্দিষ্ট করেছো তা হতে আমাকে
রক্ষা করো। কারণ তুমিই তো ভাগ্য নির্ধারণ করো, তোমার
উপর তো কেহ ভাগ্য নির্ধারণ করার নেই। তুমি যার
অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছো সে কোনদিন অপমানিত হবে না।
এবং তুমি যার সাথে শত্রুতা করেছো সে কোন দিন সম্মানিত
হতে পারে না। হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি বরকতপূর্ণ ও
সুমহান।”
ইমাম এই দু’আ পাঠ করলে তিনি একবচনের স্তলে বহুবচন শব্দ
ব্যবহার করবেন। কেননা তিনি নিজের জন্য এবং অন্যদের জন্যও
দু’আ করবেন। তিনি যদি উপযুক্ত অন্য কোন দু’আ নির্বাচন
করেন তাতেও কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু মুছল্লীদের কষ্ট হয়
এমন দীর্ঘ সময় ধরে দু’আ করবেন না। কেননা মু’আয বিন
জাবাল (রাঃ) যখন নামাযে দীর্ঘ সময় নিয়ে ইমামতি করেছেন,
তখন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাগম্বিত হয়ে
তাকে বলেছিলেন, “হে মুআ’য তুমি ফিতনাবাজ হতে চাও? ”
প্রশ্নঃ (২৭৭) দু’আ কুনূত পাঠ করার সময় হাত উত্তোলন করা
কি সুন্নাত? দলীলসহ জবাব চাই।
উত্তরঃ হ্যাঁ, সুন্নাত হচ্ছে দু’আ কুনূত পাঠ করার সময় হাত
উত্তোলন করা। কেননা মুসলমানদের উপর কোন বিপদ এলে
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরয নামাযে কুনূত
পাঠ করার সময় এরূপ করেছিলেন। অনুরূপভাবে ছহীহ্ভাবে
প্রমাণিত হয়েছে আমীরুল মু’মেনীন উমার বিন খাত্তাব (রাঃ)
বিতরের কুনূতে হাত উত্তোলন করেছেন। তিনি খোলাফা
রাশেদার মধ্যে অন্যতম। যাদের অনুসরণ করার জন্য আমাদেরকে
আদেশ করা হয়েছে।
অতএব বিতর নামাযে কুনূতের সময় হাত উত্তোলন করা সুন্নাত।
চাই সে ইমাম হোক বা মুক্তাদী বা একাকী। যখনই কুনূত পড়বে
হাত উত্তোলন করবে।
প্রশ্নঃ (২৭৮) ফরয নামাযে কুনূত পড়ার বিধান কি? যদি
মুসলমানদের কোন বিপদ আসে তখন করণীয় কি?
উত্তরঃ ফরয নামাযে কুনূত পড়া শরীয়ত সম্মত নয়। তা উচিতও
নয়। কিন্তু ইমাম যদি কুনূত পড়েন তার অনুসরণ করতে হবে।
কেননা ইমামের বিরোধীতায় অকল্যাণ রয়েছে।
আর মুসলমানদের উপর যদি কোন বড় ধরণের বিপদ নেমে আসে
তখন আল্লাহ্র কাছে উদ্ধার প্রার্থনা করার জন্য ফরয নামাযে
কুনূত পাঠ করতে কোন অসুবিধা নেই।
প্রশ্নঃ (২৭৯) তারাবীহ্ নামাযের বিধান কি? এর রাকাত সংখ্যা
কত?
উত্তরঃ তারাবীহ্ নামায রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম)এর সুন্নাত। বুখারী ও মুসলিমে আয়েশা (রাঃ) থেকে
বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
রামাযানের এক রাতে (তারাবীহ) নামায আদায় করলেন।
লোকেরাও তাঁর সাথে ছালাত আদায় করল। পরবর্তী রাতেও
ছালাত আদায় করলেন। এরাতে মানুষের সংখ্যা অনেক বেশী হল।
অতঃপর তৃতীয় অথবা চতুর্থ রাতেও তারা সমবেত হলেন। কিন্তু
রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আর বের হলেন
না। প্রভাত হলে তিনি বললেন,
] ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺪْ ﺭَﺃَﻳْﺖُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺻَﻨَﻌْﺘُﻢْ ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﻤْﻨَﻌْﻨِﻲ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺨُﺮُﻭﺝِ
ﺇِﻟَﻴْﻜُﻢْ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧِّﻲ ﺧَﺸِﻴﺖُ ﺃَﻥْ ﺗُﻔْﺮَﺽَ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﻭَﺫَﻟِﻚَ ﻓِﻲ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ [
“তোমরা যা করেছো আমি দেখেছি। কিন্তু তোমাদের কাছে
আসতে আমাকে কোন কিছুই বাধা দেয়নি। তবে আমি আশংকা
করেছি যে, এ নামায তোমাদের উপর ফরয করে দেয়া হবে।”
আর এটি ছিল রামাযান মাসের ঘটনা।
তারাবীহ্-এর রাকআত সংখ্যাঃ ১১ রাকাআত। বুখারী মুসলিমে
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। মাহে রামাযানে নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নামায সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করা
হলে তিনি বলেন,
] ﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﺰِﻳﺪُ ﻓِﻲ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﻭَﻟَﺎ ﻓِﻲ ﻏَﻴْﺮِﻩِ ﻋَﻠَﻰ ﺇِﺣْﺪَﻯ
ﻋَﺸْﺮَﺓَ ﺭَﻛْﻌَﺔً [
“তিনি রামাযান মাসে এবং অন্য সময় এগার রাকাতের বেশী
নামায পড়তেন না।”
তারাবীহ্ ছালাত যদি ১৩ (তের) রাকাআত আদায় করে, কোন
অসুবিধা নেই। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। “নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নামায ছিল ১৩
রাকাত।” অর্থাৎ রাতের নামায। বুখারী।
ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ) থেকে ১১ এগার রাকাতেরই প্রমাণ
পাওয়া যায়। যেমনটি মুআত্বা মালেকে সর্বাধিক বিশুদ্ধ সনদে
বর্ণিত হয়েছে।
যদি এর চাইতে বেশী সংখ্যক রাকাআত আদায় করে তাতেও কোন
অসুবিধা নেই। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
কে রাতের নামায সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন,
ﺻَﻠَﺎﺓُ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻣَﺜْﻨَﻰ ﻣَﺜْﻨَﻰ
“রাতের নামায দু’ দু’ রাকাত করে।”
এখানে তিনি কোন সংখ্যা নির্ধারণ করে দেননি।
সালাফে সালেহীন থেকে এ নামাযের বিভিন্ন ধরণের রাকাতের
বর্ণনা পাওয়া যায়। কিন্তু শুধুমাত্র নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত সংখ্যার উপর আমল করা উত্তম।
আর তা হচ্ছে এগার বা তের রাকাআত।
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বা তাঁর খলীফাদের
(রাঃ) থেকে কোন হাদীছ বা বর্ণনা প্রমাণিত হয়নি যে, তাঁদের
কেউ ২৩ রাকাত তারাবীহ্ আদায় করেছেন। বরং ওমর (রাঃ) থেকে
এগার রাকাতের কথাই প্রমাণিত হয়েছে। কেননা তিনি উবাই বিন
কা’ব এবং তামীম আদ্দারী (রাঃ) কে ১১ রাকাতের দ্বারা
লোকদেরকে নিয়ে ক্বিয়ামুল্লায়াল করার আদেশ করেছিলেন।
ওমরের (রাঃ) মত ব্যক্তিত্বের জন্য এটাই শোভনীয় যে, তাঁর
জীবন চরিত ও ইবাদত বন্দেগী হবে ঠিক তেমনই, যেমনটি ছিল
নবীকুল শিরমনী মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম)এর জীবন চরিত ও ইবাদত বন্দেগী।
আমাদের জানা নেই যে, ছাহাবীদের (রাঃ) মধ্যে কেউ তেইশ
রাকাত তারাবীহ্ নামায পড়েছিলেন। বরং বাস্তব অবস্থা এর
বিপরীত। পূর্বে আয়েশা (রাঃ) এর বাণী উল্লেখ করা হয়েছেঃ
“নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রামাযান বা অন্য
সময় এগার রাকাতের বেশী রাতের নামায আদায় করতেন না।”
নিঃসন্দেহে ছাহাবায়ে কেরামের (রাঃ) এজমা বা ঐকমত্য হচ্ছে
একটি হুজ্জত বা বড় দলীল। বিশেষ করে তাদের মধ্যে রয়েছেন
খোলাফায়ে রাশেদা। যাঁদের অনুসরণ করতে নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। কেননা
তাঁরা হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ।
জেনে রাখুন! তারাবীহ্ নামাযের রাকাত সংখ্যায় বিভিন্নতা
বিষয়টি এমন, যাতে ইজতেহাদ বা গবেষণার অবকাশ রয়েছে।
বিষয়টি পারস্পরিক মতবিরোধ বা মুসলমানদের মধ্যে ফাটলের
কারণ হওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে যখন কিনা এতে সালাফে
ছালেহীন থেকেই মতবিরোধ পাওয়া যায়। এ মাসআলায় এমন
কোন দলীল পাওয়া যায় না যে, এতে ইজতেহাদ বা গবেষণার
কোন সুযোগ নেই। কোন একটি ইজতেহাদী বিষয়ে
বিরোধীতাকারীকে জনৈক বিদ্বান বলেছিলেন, আমার
বিরোধীতা করে আপনি আমার মতটিই প্রকাশ করেছেন। কেননা
ইজতেহাদী বিষয়ে প্রত্যেকে সেটারই অনুসরণ করবে যা সে সত্য
মনে করে। আমরা সবার জন্য আল্লাহ্র কাছে তাঁর পসন্দনীয় ও
সন’ষ্টি মুলক কাজ কামনা করছি।
প্রশ্নঃ (২৮০) তারাবীহ্ নামাযে কুরআন খতম করার দু’আ পাঠ
করার বিধান কি?
উত্তরঃ রামাযান মাসে তারাবীহ্ নামাযে কুরআন খতম করার
দু’আ পাঠ করার ব্যাপারে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম)এর সুন্নাত বা ছাহাবায়ে কেরাম থেকে কোন হাদীছ
আমি জানিনা। খুব বেশী যা পাওয়া যায় তা হচ্ছে, আনাস বিন
মালেক (রাঃ) বর্ণিত হাদীছ। ‘তিনি (আনাস) কুরআন খতম
করলে পরিবারের লোকদের একত্রিত করে দু’আ করতেন।’ তবে
এটা নামাযের বাইরের কথা।
কুরআন খতমের দু’আ সুন্নাত থেকে তো প্রমাণিত নয়ই
তারপরও এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু মসজিদে অতিরিক্ত ভীড়
লক্ষ্য করা যায়। অতঃপর মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় নারী-
পুরুষের সংমিশ্রণ ব্যাপক আকারে দেখা যায়। কিন্তু বিদ্বানদের
কেউ বলেছেন কুরআন খতম করার পর এই দু’আ পাঠ করা
মুস্তাহাব।
ইমাম যদি শেষ রাতের নামায সমাপ্ত করে বিতর নামাযে এই
খতমে কুরআনের দু’আ পাঠ করে এবং কুনূত পাঠ করে তবে কোন
অসুবিধা নেই। কেননা বিতর নামাযে কুনূত শরীয়ত সম্মত।
প্রশ্নঃ (২৮১) প্রতি বছর কি লাইলাতুল কদর নির্দিষ্ট এক
রাতেরই হয়ে থাকে? না কি তা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাতে হয়ে
থাকে?
উত্তরঃ নিঃসন্দেহে লাইলাতুল কদর রামাযান মাসে হয়ে থাকে।
আল্লাহ্ বলেনঃ
ﺇِﻧَّﺎ ﺃَﻧﺰَﻟْﻨَﺎﻩُ ﻓِﻲ ﻟَﻴْﻠَﺔِ ﺍﻟْﻘَﺪْﺭِ
“নিশ্চয় আমি উহা অবতীর্ণ করেছি কদরের রাত্রিতে।” (সূরা
কদরঃ ১)
অন্য আয়াতে পবিত্র কুরআন রামাযান মাসে নাযিল হয় একথা
উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ্ বলেনঃ
ﺷَﻬْﺮُ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺃُﻧﺰِﻝَ ﻓِﻴﻪِ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥُ
“রামাযান সেই মাস যার মধ্যে কুরআন নাযিল করা হয়েছে।” (সূরা
বাক্বারাঃ ১৮৫)
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লায়লাতুল কদর
অনুসন্ধান করার জন্য রামাযানের প্রথম দশকে ই’তেকাফ
করেছেন। তারপর দ্বিতীয় দশকে এ’তেকাফ করেছেন। অতঃপর তা
দেখেছেন রামাযানের শেষ দশকে। এরপর ছাহাবীদের (রাঃ) একটি
দল স্বপ্নে দেখেছেন লাইলাতুল কদর রামাযানের শেষ সাত
দিনে। তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
ﺃَﺭَﻯ ﺭُﺅْﻳَﺎﻛُﻢْ ﻗَﺪْ ﺗَﻮَﺍﻃَﺄَﺕْ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﺒْﻊِ ﺍﻟْﺄَﻭَﺍﺧِﺮِ ﻓَﻤَﻦْ ﻛَﺎﻥَ
ﻣُﺘَﺤَﺮِّﻳﻬَﺎ ﻓَﻠْﻴَﺘَﺤَﺮَّﻫَﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﺒْﻊِ ﺍﻟْﺄَﻭَﺍﺧِﺮِ
“আমি দেখছি তোমাদের সবার স্বপ্ন একরকম হয়েছে শেষ সাত
দিনে। অতএব কেউ যদি লায়লাতুল কদর অনুসন্ধান করতে চায় সে
যেন শেষ সাত রাতে অনুসন্ধান করে।”
লায়লাতুল কদরের সময় নির্ধারণের ব্যাপারে সর্বনিম্ন যা বলা
হয়েছে তা হচ্ছে এই।
লায়লাতুল কদরের ব্যাপারে প্রমাণিত দলীল সমূহ যদি আমরা
গভীরভাবে অনুসন্ধান করি, তবে দেখা যাবে যে, তা বিভিন্ন
রাতে হয়ে থাকে। প্রতি বছর নির্দিষ্টভাবে এক রাতে নয়। নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা রাত্রে লায়লাতুল
কদর স্বপ্নে দেখলেনঃ পানি ও ভিজা মাটিতে সিজদা করলেন।
সে রাতটি ছিল একুশে রাত। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
ﺗَﺤَﺮَّﻭْﺍ ﻟَﻴْﻠَﺔَ ﺍﻟْﻘَﺪْﺭِ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻌَﺸْﺮِ ﺍﻟْﺄَﻭَﺍﺧِﺮِ ﻣِﻦْ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ
“তোমরা রামাযানের শেষ দশকে লায়লাতুল কদর অনুসন্ধান
কর।”
এদ্বারা বুঝা যায় উহা নির্দিষ্ট একটি রাতে নয়। এজন্য মু’মিন
শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই অনুসন্ধান করবে ও যে কোন রাতে
তা পেয়ে যাওয়ার জন্য আশা করবে।
যে ব্যক্তি লায়লাতুল কদরে ঈমানের সাথে ও ছাওয়াবের আশায়
ক্বিয়ামুল্লাইল করবে, সে নিশ্চিতভাবে তার প্রতিদান লাভ
করবে। চাই সে জানতে পারুক বা না পারুক। কেননা নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
ﻣَﻦْ ﻗَﺎﻡَ ﻟَﻴْﻠَﺔَ ﺍﻟْﻘَﺪْﺭِ ﺇِﻳﻤَﺎﻧًﺎ ﻭَﺍﺣْﺘِﺴَﺎﺑًﺎ ﻏُﻔِﺮَ ﻟَﻪُ ﻣَﺎ ﺗَﻘَﺪَّﻡَ ﻣِﻦْ
ﺫَﻧْﺒِﻪِ
“যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ছাওয়াবের আশায় লায়লাতুল কদরে
ক্বিয়াম করে, তার পূর্বের পাপ ক্ষমা করা হবে।”
এরূপ বলা হয়নি যে, কখন লায়লাতুল কদর হবে জানতে পারলে এই
ছওয়াব হাসিল হবে। অতএব ছাওয়াব পাওয়ার জন্য নির্দিষ্টভাবে
কখন লায়লাতুল কদর হচ্ছে তা জানা শর্ত নয়। কিন্তু যে
ব্যক্তি রামাযানের শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই কিয়াম করবে,
সে নিশ্চিতভাবে লায়লাতুল কদর পাবে। চাই তা শেষ দশকের
প্রথম দিকে হোক বা মধ্যখানে বা শেষের দিকে হোক।
উৎসঃ বই ফতোওয়া আরকানুল ইসলাম।
নামায সম্পর্কে অতি গুরুত্বপূর্ণ১৭০টি প্রশ্নোত্তর (৩য় পর্ব)
Price : *Happy Shopping

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url