নামায সম্পর্কে অতি গুরুত্বপূর্ণ১৭০টি প্রশ্নোত্তর (১ম পর্ব) | শরিফ গাজী অফিসিয়াল

নামায সম্পর্কে অতি গুরুত্বপূর্ণ১৭০টি প্রশ্নোত্তর (১ম পর্ব)

নামায সম্পর্কে অতি গুরুত্বপূর্ণ
১৭০টি প্রশ্নোত্তর (১ম পব্)
প্রবন্ধটি পড়া হলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।
শুরু করছি মহান আল্লাহর নামে যিনি পরম করুনাময়, অসীম
দয়ালু।
মূল: শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন (রহ.) ।
অনুবাদক: মুহাঃ আব্দুল্লাহ আল-কাফী ও আব্দুল্লাহ শাহেদ
আল-মাদানী

প্রশ্নঃ (১৮৪) ইসলামে ছালাতের বিধান কি? কার উপর ছালাত
ফরয?


উত্তরঃ ছালাত ইসলামের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রুকন; বরং এটা
কালেমায়ে শাহাদাতের পর দ্বিতীয় রুকন। এটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের
দ্বারা সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটা ইসলামের মূল খুঁটি।
যেমনটি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
ﻭَﻋَﻤُﻮﺩُﻩُ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓُ
“ইসলামের মূল খুঁটি হচ্ছে, ছালাত।”
আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম)এর উপর ছালাত ফরয করেন এমন উঁচু স্থানে যেখানে
মানুষের পক্ষে পৌঁছা অসম্ভব। কোন মাধ্যম ছাড়াই
রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর জীবনে
সর্বশ্রেষ্ঠ একটি রাত মে’রাজের রাতে আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁকে
সপ্তাকাশের উপর আরশে নিয়ে এই ছালাত ফরয করেন। প্রথমে
রাত-দিনে ছালাত পঞ্চাশ ওয়াক্ত নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু
আল্লাহ্ তা’আলা বান্দাদের প্রতি দয়া করে এর সংখ্যা কমিয়ে
নির্ধারণ করেন পাঁচ ওয়াক্ত। আর প্রতিদান ঘোষণা করেন
পঞ্চাশ ওয়াক্তের বরাবর। এ থেকে প্রমাণিত হয় ছালাত কত
গুরুত্বপূর্ণ। ছালাতকে আল্লাহ্ কত ভালাবসেন। সুতরাং মানুষের
জীবনের সর্বাধিক শ্রেষ্ঠ সময় এই ক্ষেত্রে ব্যয় করা অত্যন্ত
জরুরী। ছালাত ফরয হওয়ার ব্যাপারে দলীল হচ্ছে: কুরআন,
সুন্নাহ্ ও মুসলমানদের এজমা বা ঐকমত্য।
কুরআন থেকে দলীলঃ আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ
] ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺍﻃْﻤَﺄْﻧَﻨﺘُﻢْ ﻓَﺄَﻗِﻴﻤُﻮﺍ ﺍﻟﺼَّﻼﺓَ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﺼَّﻼﺓَ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﻋَﻠَﻰ
ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻛِﺘَﺎﺑًﺎ ﻣَﻮْﻗُﻮﺗًﺎ [
অর্থঃ “যখন তোমরা নিরাপদ হও তখন নামায প্রতিষ্ঠা কর;
নিশ্চয় নামায মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা ফরয
করা হয়েছে। (সূরা নিসা: ১০৩)
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মু‘আয বিন
জাবাল (রা:)কে ইয়ামান প্রেরণ করেন, তখন তাকে বলেনঃ
ﺃَﻋْﻠِﻤْﻬُﻢْ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻗَﺪِ ﺍﻓْﺘَﺮَﺽَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺧَﻤْﺲَ ﺻَﻠَﻮَﺍﺕٍ ﻳَﻮْﻡٍ ﻭَﻟَﻴْﻠَﺔٍ
ﻓِﻲ ﻛُﻞِّ
“তুমি তাদেরকে শিক্ষা দিবে যে, নিশ্চয় আল্লাহ্ প্রতিদিন
(দিনে-রাতে) তাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত ফরয করেছেন।”
ছালাত ফরয হওয়ার উপর সমস্ত মুসলমান ঐকমত্য হয়েছে। এ
জন্য উলামাগণ (রহ:) বলেন, কোন মানুষ যদি পাঁচ ওয়াক্ত বা
কোন এক ওয়াক্ত ছালাত ফরয হওয়াকে অস্বীকার করে, তবে সে
কাফের মুরতাদ ইসলাম থেকে বহিস্কৃত। তার রক্ত ও সম্পদ
হালাল। কিন্তু যদি সে তওবা করে তার কথা ভিন্ন। অবশ্য উক্ত
ব্যক্তি যদি নতুন মুসলমান হয়- ইসলামের বিধি-বিধান
সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে এবং অনুরূপ কথা বলে তবে তার ওযর
গ্রহণযোগ্য হবে। তাকে উক্ত বিষয়ে জ্ঞান শিক্ষা দিতে হবে।
তারপরও যদি সে ছালাত ফরয হওয়ার বিষয়টিকে অমান্য করে
তবে সেও কাফের বলে গণ্য হবে।
নিম্নলিখিত প্রত্যেক ব্যক্তির উপর ছালাত ফরযঃ মুসলিম,
বালেগ, আকেল, নারী বা পুরুষ।
মুসলিমের বিপরীত হচ্ছে কাফের। কাফেরের উপর ছালাত ফরয
নয়। অর্থাৎ- কাফের অবস্থায় তার জন্য ছালাত আদায় করা
আবশ্যক নয়। ইসলাম গ্রহণ করলেও আগের ছালাত ক্বাযা
আদায় করতে হবে না। কিন্তু এ কারণে ক্বিয়ামত দিবসে তাকে
শাস্তি দেয়া হবে। আল্লাহ্ বলেন,
] ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏَ ﺍﻟْﻴَﻤِﻴﻦِ، ﻓِﻲ ﺟَﻨَّﺎﺕٍ ﻳَﺘَﺴَﺎﺀَﻟُﻮﻥَ، ﻋَﻦْ ﺍﻟْﻤُﺠْﺮِﻣِﻴﻦَ،
ﻣَﺎ ﺳَﻠَﻜَﻜُﻢْ ﻓِﻲ ﺳَﻘَﺮَ، ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻟَﻢْ ﻧَﻚُ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤُﺼَﻠِّﻴﻦَ، ﻭَﻟَﻢْ ﻧَﻚُ
ﻧُﻄْﻌِﻢُ ﺍﻟْﻤِﺴْﻜِﻴﻦَ، ﻭَﻛُﻨَّﺎ ﻧَﺨُﻮﺽُ ﻣَﻊَ ﺍﻟْﺨَﺎﺋِﻀِﻴﻦَ، ﻭَﻛُﻨَّﺎ ﺑِﻴَﻮْﻡِ ﺍﻟﺪِّﻳﻦِ
ﻧُﻜَﺬِّﺏُ.[
“কিন্তু ডানদিকস্তরা, তারা থাকবে জান্নাতে এবং পরস্পরে
অপরাধীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। বলবে, তোমাদেরকে
কিসে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করেছে? তারা বলবে, আমরা নামায
পড়তাম না, অভাবগ্রস্তকে আহার্য দিতাম না, আমরা
সমালোচকদের সাথে সমালোচনা করতাম। আর আমরা
প্রতিফল দিবসকে অস্বীকার করতাম।” (সূরা মুদ্দাস্সির-
৩৯-৪৬)
‘আমরা নামায পড়তাম না’ কথা থেকে বুঝা যায়, তারা কাফের ও
ক্বিয়ামত দিবসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা সত্বেও ছালাত
পরিত্যাগ করার কারণে তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে।
প্রাপ্ত বয়স্কঃ যার মধ্যে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার কোন একটি
চিহ্ন প্রকাশ পাবে তাকেই বালেগ বা প্রাপ্ত বয়স্ক বলা হবে।
উক্ত চিহ্ন পুরুষের ক্ষেত্রে তিনটি আর নারীর ক্ষেত্রে চারটি।
ক) পনর বছর পূর্ণ হওয়া।
খ) উত্তেজনার সাথে নিদ্রা বা জাগ্রত অবস্থায়
বীর্যপাত হওয়া।
গ) নাভীমূল গজানো। অর্থাৎ- লজ্জাস্থানের আশে-
পাশে শক্ত লোম দেখা দেয়া। এ তিনটি চিহ্ন নারী পুরুষ সবার
ক্ষেত্রে প্রজোয্য। নারীর ক্ষেত্রে চতুর্থ চিহ্নটি হচ্ছে, হায়েয
বা ঋতুস্রাব হওয়া। কেননা তা বালেগ হওয়ার আলামত।
আকেল বা বুদ্ধিমান হচ্ছে বিবেকহীন পাগলের বিপরীত শব্দ।
কোন নারী বা পুরুষ যদি অতি বয়স্ক হওয়ার কারণে হিতাহীত
জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, তবে সেও এ শ্রেণীর অন্তর্গত হবে। এ
অবস্থায় বিবেকহীন হওয়ার কারণে তার উপর ছালাত ফরয হবে
না।
ঋতুস্রাব বা নেফাস হলে ছালাত ওয়াজিব নয়। কেননা
নবী ছা. বলেন,
ﺃَﻟَﻴْﺲَ ﺇِﺫَﺍ ﺣَﺎﺿَﺖْ ﻟَﻢْ ﺗُﺼَﻞِّ ﻭَﻟَﻢْ ﺗَﺼُﻢْ
“নারী কি এমন নয় যে, সে ঋতুবতী হলে নামায পড়বে না, রোযা
রাখবে না?”
প্রশ্নঃ (১৮৫) বেহুঁশ এবং স্মৃতি শক্তিহীন ব্যক্তির জন্য
শরীয়তের বিধি-বিধান বাস্তবায়ন করা কি আবশ্যক?
উত্তরঃ আল্লাহ্ তা‘আলা মানুষের উপর আবশ্যক করেছেন
যাবতীয় ইবাদত বাস্তবায়ন করা- যদি তার মধ্যে সে যোগ্যতা ও
ক্ষমতা থাকে। যেমন সে বিবেক সম্পন্ন হবে। সবকিছু বুঝতে
পারবে। কিন্তু যে লোক বিবেকশুণ্য, সে শরীয়তের বিধি-নিষেধ
মেনে চলতে বাধ্য নয়। এ কারণে পাগল, শিশু বা অপ্রাপ্ত বয়স্ক
বালক-বালিকার উপর কোন বাধ্যবাধকতাও নেই। এটা আল্লাহ্র
বিশেষ রহমত। অনুরূপ হচ্ছে আধাপাগল- যার মস্তিষ্ক বিকৃতি
ঘটেছে কিন্তু পুরোপুরি পাগল হয়নি এবং অতি বয়স্ক হওয়ার
কারণে হিতাহীত জ্ঞানশুণ্য ব্যক্তির উপরও ছালাত-ছিয়াম
আবশ্যক নয়। কেননা সে তো স্মৃতি শক্তিহীন মানুষ। সে ঐ
শিশুর মত যার মধ্যে ভাল-মন্দ পার্থক্য করার ক্ষমতা নেই।
সুতরাং সমস্ত বিধি-বিধান তার উপর থেকে রহিত, কোন কিছুই
তার উপর আবশ্যক নয়।তবে সম্পদের যাকাত সম্পর্কিত
বাধ্যবাধকতা তার উপর বজায় থাকবে। কেননা যাকাতের সম্পর্ক
সম্পদের সাথে। তখন ঐ ব্যক্তির অভিভাবক তার পক্ষ থেকে
যাকাতের অংশ বের করে দিবেন। কেননা যাকাত ওয়াজিব হয়
সম্পদের উপর। এজন্য আল্লাহ্ বলেন,
] ﺧُﺬْ ﻣِﻦْ ﺃَﻣْﻮَﺍﻟِﻬِﻢْ ﺻَﺪَﻗَﺔً ﺗُﻄَﻬِّﺮُﻫُﻢْ ﻭَﺗُﺰَﻛِّﻴﻬِﻢْ [
“তাদের সম্পদ থেকে যাকাত গ্রহণ করুন। উহা তাদেরকে পবিত্র
ও পরিশুদ্ধ করবে।” (সূরা তওবা- ১০৩)
এখানে আল্লাহ্ পাক তাদের সম্পদ থেকে যাকাত নিতে বলেছেন,
ব্যক্তি থেকে যাকাত নিতে বলেননি। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম) যখন মু‘আযকে ইয়ামানে প্রেরণ করেন তাকে
বলেন,
ﺃَﻋْﻠِﻤْﻬُﻢْ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺍﻓْﺘَﺮَﺽَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺻَﺪَﻗَﺔً ﻓِﻲ ﺃَﻣْﻮَﺍﻟِﻬِﻢْ ﺗُﺆْﺧَﺬُ
ﻣِﻦْ ﺃَﻏْﻨِﻴَﺎﺋِﻬِﻢْ ﻭَﺗُﺮَﺩُّ ﻋَﻠَﻰ ﻓُﻘَﺮَﺍﺋِﻬِﻢْ
“তাদেরকে জানিয়ে দিবে যে, আল্লাহ্ তাদের সম্পদে ছাদকা বা
যাকাত ফরয করেছেন। তা ধনীদের থেকে নিয়ে গরীবদের মাঝে
বিতরণ করা হবে।” (বুখারী ও মুসলিম)
এ হাদীছের ভিত্তিতে সম্পদের আবশ্যকতা স্মৃতিহীন লোকের
উপর থেকে রহিত হবে না। কিন্তু শারীরিক ইবাদত যেমন ছালাত,
ছিয়াম, পবিত্রতা প্রভৃতি রহিত হয়ে যাবে। কেননা সে
বিবেকহীন।
কিন্তু অসুস্থতা প্রভৃতির করণে বেহুঁশ হলে অধিকাংশ বিদ্যানের
মতে তার উপর ছালাত আবশ্যক হবে না। এ রকম অসুস্থ ব্যক্তি
যদি একদিন বা দু‘দিন বেহুঁশ থাকে তবে তাকে ছালাত কাযা আদায়
করতে হবে না। কেননা বিবেকশুণ্য বেহুঁশ মানুষকে ঘুমন্ত
ব্যক্তির সাথে তুলনা করা চলবে না। যার সম্পর্কে নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
ﻣَﻦْ ﻧَﺴِﻲَ ﺻَﻠَﺎﺓً ﺃَﻭْ ﻧَﺎﻡَ ﻋَﻨْﻬَﺎ ﻓَﻜَﻔَّﺎﺭَﺗُﻬَﺎ ﺃَﻥْ ﻳُﺼَﻠِّﻴَﻬَﺎ ﺫَﻛَﺮَﻫَﺎ
ﺇِﺫَﺍ
“যে ব্যক্তি ছালাত আদায় করতে ভুলে যায় অথবা নামায না পড়ে
ঘুমিয়ে থাকে, তার কাফ্ফারা হচ্ছে যখনই স্মরণ হবে, তখনই সে
তা আদায় করে নিবে।”
কেননা ঘুমন্ত ব্যক্তি হুঁশ সম্পন্ন এ অর্থে যে, তাকে জাগানো
হলে জাগ্রত হবে। কিন্তু বেহুঁশকে জাগানো হলেও তার হুঁশ
ফিরবে না। এ বিধান হচ্ছে ঐ অবস্থায়, যখন বেহুঁশী কোন
কারণ ছাড়াই ঘটবে। কিন্তু কোন কারণ বশতঃ হলে যেমন
সংজ্ঞা লোপ করার জন্য ঔষধ ব্যবহার করে, তবে উক্ত বেহুঁশ
অবস্থার ছালাত সমূহ তাকে কাযা আদায় করতে হবে।
দীর্ঘকাল সংজ্ঞাহীন থাকার কারণে ছালাত-ছিয়াম আদায় করতে
না পরলে তার হুকুম
প্রশ্নঃ (১৮৬) জনৈক ব্যক্তি দু‘মাস যাবত বেহুশ অবস্থায়
ছিল। কোন কিছুই অনুধাবন করতে পারেনি। ফলে না ছালাত
আদায় করেছে না রামাযানের ছিয়াম পালন করেছে। এখন তার
করণীয় কি?
উত্তরঃ সংজ্ঞাহীন হওয়ার কারণে তার উপর কোন কিছুই
আবশ্যক নয়। আল্লাহ্ যদি তার জ্ঞান ফিরিয়ে দেন, তবে সে
রামাযানের ছিয়াম ক্বাযা আদায় করবে। কিন্তু আল্লাহ্ যদি তার
মৃত্যুর ফায়সালা করেন, তবে তার উপর কোন কিছু আবশ্যক নয়।
তবে জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর যদি সার্বক্ষণিক ওযর বিশিষ্ট
হয়, যেমন অতি বয়স্ক প্রভৃতি, তবে ফরয হচ্ছেঃ তার
অভিভাবক তার পক্ষ থেকে প্রতিদিনের বিনিময়ে একজন
মিসকীনকে খাদ্য প্রদান করবে।
তবে ছালাত ক্বাযা আদায় করার ব্যাপারে ওলামাদের মধ্যে
দু’রকম মত পাওয়া যায়।
১) অধিকাংশ বিদ্বান বলেন, তাকে ক্বাযা আদায় করতে হবে না।
কেননা ইবনু ওমর (রাঃ) একদিন একরাত্রি বেহুঁশ ছিলেন। কিন্তু
তিনি ছুটে যাওয়া ছালাত ক্বাযা আদায় করেননি। (মালেক, হা/
২৩)
২) তাকে ক্বাযা আদায় করতে হবে। এ মত পোষণ করেছেন
পরবর্তী যুগের হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ। ইনছাফ গ্রনে’র
লিখক বলেন, এটা মাযহাবের বিচ্ছিন্ন মতামত সমূহের
অন্তর্গত। এ মতটি আম্মার বিন ইয়াসির (রাঃ) থেকে বর্ণিত
হয়েছে। তিনি তিন দিন বেহুঁশ ছিলেন। তারপর ছুটে যাওয়া ছালাত
ক্বাযা আদায় করেছেন। (মালেক, হা/ ২৩)
প্রশ্নঃ (১৮৭) ছালাতের কোন একটি শর্ত (যেমন পানি
সংগ্রহ) পূর্ণ করতে গিয়ে যদি ছালাতের সময় পার হয়ে যায় তবে
তার বিধান কি?
উত্তরঃ বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে, কোনভাবেই ছালাতের নির্দিষ্ট
সময় অতিবাহিত করা বৈধ নয়। কোন লোক যদি সময় পার হয়ে
যাওয়ার ভয় করে, তবে যে অবস্থাতেই থাকুক ছালাত আদায় করে
নিবে। যদিও একটু পর উক্ত শর্ত পূর্ণ করা সম্ভব হয়। কেননা
আল্লাহ্ বলেন,
ﺇِﻥَّ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓَ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻛِﺘَﺎﺑًﺎ ﻣَﻮْﻗُﻮﺗًﺎ
“নিশ্চয় নিদিষ্ট সময়ে ছালাত আদায় করা মুমিনদের উপর ফরয
করা হয়েছে।” (সূরা নিসা- ১০৩)
অনুরূপভাবে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতিটি
ছালাতের সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুতরাং ঐ সময়ে আদায়
করাটাই ওয়াজিব। কেননা শর্ত পূর্ণ করার জন্য অপেক্ষা করা
যদি বৈধ হত, তবে তায়াম্মুমের কোন প্রয়োজন ছিল না। সময়
পার হওয়ার পর পানি সংগ্রহ করা সম্ভব। সুতরাং দীর্ঘ সময়ের
জন্য ছালাতকে দেরী করা বা অল্প সময়ের জন্য দেরী করার
মাঝে কোন পার্থক্য নেই। উভয় অবস্থায় নামাযের সময় পার
হয়ে যাচ্ছে। তাই যে অবস্থাতেই থাক না কেন সময়ের মধ্যেই
(তায়াম্মুম করে হলেও) ছালাত আদায় করে নিবে। শায়খুল
ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়া এমত পোষণ করেছেন।
প্রশ্নঃ (১৮৮) রাত জাগার কারণে সূর্য উঠার পর নামায আদায়
করলে কবূল হবে কি? অন্যান্য নামায সে সময়মতই আদায় করে।
সেগুলোর বিধান কি?
উত্তরঃ ইচ্ছাকৃতভাবে সময় পার করে সূর্য উঠার পর ফজর
ছালাত আদায় করলে তা কবূল হবে না। কেননা রাত না জেগে
আগেভাগে নিদ্রা গেলে সময়মত উক্ত ছালাত আদায় করা তার
পক্ষে সম্ভব ছিল। সুতরাং বিনা ওযরে সময় অতিবাহিত করে
ছালাত আদায় করলে উক্ত ছালাত কবূল হবে না। কেননা নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
ﻣَﻦْ ﻋَﻤِﻞَ ﻋَﻤَﻠًﺎ ﻟَﻴْﺲَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺃَﻣْﺮُﻧَﺎ ﻓَﻬُﻮَ ﺭَﺩٌّ
“যে ব্যক্তি এমন আমল করল, যার পক্ষে আমাদের কোন
নির্দেশ নেই, তবে উহা প্রত্যাখ্যাত।”
আর যে ব্যক্তি বিনা ওযরে সময় অতিবাহিত করে ছালাত আদায়
করে, সে তো এমন আমল করল, যার অনুমতি আল্লাহ্ ও তাঁর
রাসূল দেননি। সুতরাং উহা প্রত্যাখ্যাত।
কিন্তু সে বলতে পারে আমি তো ঘুমিয়ে ছিলাম। আর রাসূল
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
ﻣَﻦْ ﻧَﺴِﻲَ ﺻَﻠَﺎﺓً ﺃَﻭْ ﻧَﺎﻡَ ﻋَﻨْﻬَﺎ ﻓَﻜَﻔَّﺎﺭَﺗُﻬَﺎ ﺃَﻥْ ﻳُﺼَﻠِّﻴَﻬَﺎ ﺇِﺫَﺍ
ﺫَﻛَﺮَﻫَﺎ
“যে ব্যক্তি ছালাত আদায় করতে ভুলে যায় অথবা নামায না পড়ে
ঘুমিয়ে থাকে, তার কাফ্ফারা হচ্ছে যখনই স্মরণ হবে তখনই সে
উহা আদায় করে নিবে।”
আমরা তাকে বলব, যখন কিনা তার জন্য সম্ভব ছিল যে, সময়
মত জাগার জন্য আগেভাগে ঘুমিয়ে পড়বে বা এলার্ম ঘড়ি
প্রস্তত করবে বা কাউকে অনুরোধ করবে তাকে জাগিয়ে দেয়ার
জন্য। তখন এগুলো না করে সময় অতিবাহিত করে ঘুমের ওজুহাত
খাড়া করা, ইচ্ছাকৃতভাবে ছালাত পরিত্যাগ করারই অন্তর্ভুক্ত
বলে গণ্য হবে। সুতরাং পরবর্তীতে আদায় করলে উহা কবূল হবে
না।
আর অন্যান্য ছালাত সময়মত আদায় করা হলে তা গ্রহণযোগ্য
হবে।
এ উপলক্ষ্যে আমি কিছু নসীহত করতে চাইঃ মুসলিম ব্যক্তির
উপর আবশ্যক হচ্ছে, এমনভাবে আল্লাহ্র ইবাদত করা, যেভাবে
করলে তিনি তার উপর সন্তুষ্ট হবেন। এ দুনিয়ায় তাকে তো
সৃষ্টি করা হয়েছে কেবল মাত্র তাঁর ইবাদত করার জন্য। কেউ
জানেনা কখন তার মৃত্যু ঘন্টা বেজে উঠবে। তাকে পাড়ি জমাতে
হবে পরপারের জগতে। যেখানে হিসাব-নিকাশের সম্মুখিন হবে।
তখন আমলই হবে একমাত্র তার সহযোগী। মৃত্যুর পর আমল
করার আর কোন অবকাশ থাকবে না। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম) বলেন,
ﺇِﺫَﺍ ﻣَﺎﺕَ ﺍﻟْﺈِﻧْﺴَﺎﻥُ ﺍﻧْﻘَﻄَﻊَ ﻋَﻨْﻪُ ﻋَﻤَﻠُﻪُ ﺇِﻟَّﺎ ﻣِﻦْ ﺛَﻠَﺎﺛَﺔٍ ﺇِﻟَّﺎ ﻣِﻦْ
ﺻَﺪَﻗَﺔٍ ﺟَﺎﺭِﻳَﺔٍ ﺃَﻭْ ﻋِﻠْﻢٍ ﻳُﻨْﺘَﻔَﻊُ ﺑِﻪِ ﺃَﻭْ ﻭَﻟَﺪٍ ﺻَﺎﻟِﺢٍ ﻳَﺪْﻋُﻮ ﻟَﻪُ
“যখন মানুষ মৃত্যু বরণ করে, তিনটি আমল ব্যতীত তার সমস্ত
আমল বন্ধ হয়ে যায়। ছাদকায়ে জারিয়া, উপকারী বিদ্যা, সৎ
সন্তান যে তার জন্য দু‘আ করবে।”
প্রশ্নঃ (১৮৯) যে ব্যক্তি ফজরের ছালাত বিলম্ব করে আদায়
করে, এমনকি তার সময় পার হয়ে যায়। তার বিধান কি?
উত্তরঃ যারা ফজর ছালাত বিলম্ব করে আদায় করে এমনকি তার
সময় পার হয়ে যায়- যদি বিশ্বাস করে যে, এরূপ করা বৈধ, তবে
তা আল্লাহ্র সাথে কুফরী হল। কেননা বিনা কারণে ছালাতের
নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত করা হালাল বা জায়েয, যে ব্যক্তি
একথা অন্তর থেকে বিশ্বাস করবে সে কাফের। এই কারণে যে, সে
কুরআন, সুন্নাহ্ ও মুসলমানদের ইজমার বিরোধীতা করেছে।
কিন্তু যদি তা হালাল না ভেবে বিশ্বাস করে যে, দেরী করে
ছালাত আদায় করলে গোনাহ্গার হতে হবে। তারপরও প্রবৃত্তির
তাড়নায় বা ঘুমের কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে সময় পার করে দেয়। তবে
সে সাধারণ পাপী বলে গণ্য হবে। তাকে আল্লাহ্র কাছে তওবা
করতে হবে। অন্যায় থেকে বিরত হতে হবে। বড় বড় কাফেরের
জন্যও তওবার দরজা উন্মুক্ত। আল্লাহ্ বলেন,
] ﻗُﻞْ ﻳَﺎﻋِﺒَﺎﺩِﻱ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃَﺳْﺮَﻓُﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻧْﻔُﺴِﻬِﻢْ ﻟَﺎ ﺗَﻘْﻨَﻄُﻮﺍ ﻣِﻦْ
ﺭَﺣْﻤَﺔِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻳَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ﺟَﻤِﻴﻌًﺎ ﺇِﻧَّﻪُ ﻫُﻮَ ﺍﻟْﻐَﻔُﻮﺭُ
[ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢُ
“বলুন, হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ,
তোমরা আল্লাহ্র রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়
আল্লাহ্ সমস্ত গোনাহ্ ক্ষমা করেন। তিনি ক্ষমাশীল, অতিব
দয়ালু।” (সূরা যুমার- ৫৩)
এদের ব্যাপারে যারা জানবে তারা তাদেরকে নসীহত করবে,
তাদেরকে কল্যাণের নির্দেশ দিবে। যদি তারা তওবা না করে, তবে
তাদের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নালিশ করতে হবে।
যাতে করে তারা যিম্মামুক্ত হতে পারে। আর কর্তৃপক্ষও তাদের
ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে তাদেরকে সংশোধন করতে
পারে।
প্রশ্নঃ (১৯০) জনৈক যুবক এক ব্যক্তির মেয়েকে বিবাহ করার
জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। তার ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে
যে, সে ছালাত আদায় করে না। কিন্তু বলা হচ্ছে, ‘ঠিক হয়ে যাবে।
আল্লাহ্ তাকে হেদায়াত করবেন।’ এই যুবকের সাথে মেয়ে বিবাহ
দেয়া কি বৈধ?
উত্তরঃ বিবাহের প্রস্তাবকারী যদি জামাআতের সাথে ছালাত
আদায় না করে, তবে সে আল্লাহ্ ও রাসূলের নাফারমান্ত
গোনাহ্গার। মুসলমানদের ইজমার বিরোধীতাকারী। কেননা
জামাতবদ্ধ হয়ে ছালাত আদায় করা সর্বোত্তম ইবাদতের
অন্তর্ভুক্ত, এব্যাপারে মুসলমানগণ ঐকমত্য হয়েছে।
শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) (মাজমু’ ফাতাওয়া
২৩/ ২২২ গ্রনে’) বলেন, ‘আলেমগণ একথার উপর ঐকমত্য
হয়েছেন যে, জামাআতের সাথে ছালাত আদায় করা অতিব
গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, শ্রেষ্ঠ আনুগত্য ও ইসলামের অন্যতম বড়
নিদর্শন।’
কিন্তু তার এই ফাসেক্বী তাকে ইসলাম থেকে বের করে দিবে না।
এর সাথে মুসলিম মেয়ের বিবাহ দেয়া জায়েয। কিন্তু তাকে বাদ
দিয়ে ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত সচ্চরিত্রবান যুবকের সাথে
বিবাহ দেয়াই উত্তম। যদিও সে অর্থ-সম্পদ ও বংশ-মর্যাদায়
উন্নত না হয়। কেননা হাদীছে এসেছেঃ
“তোমাদের কাছে যদি এমন ব্যক্তি (বিবাহের প্রস্তাব দেয়)
যার ধর্মীয় ও চারিত্রিক অবস্থা সনে-াষ জনক, তবে তার সাথে
বিবাহ দাও। যদি এরূপ না কর তবে পৃথিবীতে ফিৎনা হবে এবং
বিরাট ফাসাদ হবে। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! যদি এরূপ
লোক না পাওয়া যায়? তিনি বললেন, যদি তোমাদের কাছে এমন
ব্যক্তি আসে (বিবাহের প্রস্তাব দেয়) যার ধর্মীয় ও চারিত্রিক
অবস্থা সনে-াষ জনক তবে তার সাথে বিবাহ দাও।”
কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন। ছহীহ্ বুখারী ও মুসলিম প্রভৃতি
গ্রনে’ প্রমাণিত হয়েছে, আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
ﺗُﻨْﻜَﺢُ ﺍﻟْﻤَﺮْﺃَﺓُ ﻟِﺄَﺭْﺑَﻊٍ ﻟِﻤَﺎﻟِﻬَﺎ ﻭَﻟِﺤَﺴَﺒِﻬَﺎ ﻭَﻟِﺠَﻤَﺎﻟِﻬَﺎ ﻭَﻟِﺪِﻳﻨِﻬَﺎ
ﻓَﺎﻇْﻔَﺮْ ﺑِﺬَﺍﺕِ ﺍﻟﺪِّﻳﻦِ ﺗَﺮِﺑَﺖْ ﻳَﺪَﺍﻙ
“চারটি গুণাগুণ দেখে কোন নারীকে বিবাহ করা হয়। তার সম্পদ,
বংশ মর্যাদা, সৌন্দর্য ও ধর্ম। ধর্মভীরু নারীকে বিবাহ করে
তুমি বিজয়ী হও। তোমার দু’হাত ধুলোলুন্ঠিত হোক।”
এ দু’টি হাদীছ থেকে প্রমাণিত হচ্ছে, বিবাহের ক্ষেত্রে
সর্বাধিক যে বিষয়টির গুরুত্বারোপ করা আবশ্যক, তা হচ্ছে
নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে- ধর্মভীরুতা ও সচ্চরিত্রবান হওয়া।
আর আল্লাহ্ভীরু ও দায়িত্ব সচেতন অভিভাবকের জন্য
আবশ্যক হচ্ছে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর
নির্দেশের প্রতি গুরুত্বারোপ করা। কেননা ক্বিয়ামত দিবসে এ
বিষয়ে সে জিজ্ঞাসিত হবে। আল্লাহ্ বলেন,
] ﻭَﻳَﻮْﻡَ ﻳُﻨَﺎﺩِﻳﻬِﻢْ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﻣَﺎﺫَﺍ ﺃَﺟَﺒْﺘُﻢْ ﺍﻟْﻤُﺮْﺳَﻠِﻴﻦَ [
“আর সেদিন আল্লাহ্ তাদেরকে ডেকে বলবেন, তোমরা
রাসূলগণের আহবানে কি সাড়া দিয়েছিলে?” (সূরা ক্বাছাছ- ৬৫)
তিনি আরো বলেন,
] ﻓَﻠَﻨَﺴْﺄَﻟَﻦَّ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃُﺭْﺳِﻞَ ﺇِﻟَﻴْﻬِﻢْ ﻭَﻟَﻨَﺴْﺄَﻟَﻦَّ ﺍﻟْﻤُﺮْﺳَﻠِﻴﻦَ،
ﻓَﻠَﻨَﻘُﺼَّﻦَّ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺑِﻌِﻠْﻢٍ ﻭَﻣَﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻏَﺎﺋِﺒِﻴﻦَ [
“অতএব আমি অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞেস করব, যাদের কাছে
রাসূল প্রেরীত হয়েছিল এবং আমি অবশ্যই জিজ্ঞেস করব
রাসূলগণকে। তাদের উপর সব কিছুর বিজ্ঞচিতভাবে বর্ণনা
প্রদান করব। আর আমি অনুপসি’ত ছিলাম না। ” (সূরা আ’রাফ-
৬-৭)
আর যদি বিবাহের প্রস্তাবক এমন ব্যক্তি হয়, যে না
জামাআতের সাথে ছালাত আদায় করে না বরং একাকী নামায
আদায় করে। অর্থাৎ- মোটেও ছালাত আদায় করে না। তবে সে
কাফের ইসলাম থেকে বহিস্কৃত। তার তওবা করা জরুরী। যদি
খালেছভাবে তওবা নাসূহা করে ছালাত আদায় শুরু করে, তবে
আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করে দিবেন। কিন্তু তওবা না করলে তাকে
কাফের ও মুরতাদ অবস্থায় হত্যা করতে হবে। গোসল না দিয়ে,
কাফন না পরিয়ে, জানাযা না পড়িয়ে, দাফন করতে হবে।
মুসলমানদের গোরস্থানে দাফন করা যাবে না। তার কাফের
হওয়ার ব্যাপারে কুরআন ও সুন্নাহ্র দলীল নিম্নে প্রদত্ব
হলোঃ
কুরআনের দলীলঃ আল্লাহ্ বলেন,
] ﻓَﺨَﻠَﻒَ ﻣِﻦْ ﺑَﻌْﺪِﻫِﻢْ ﺧَﻠْﻒٌ ﺃَﺿَﺎﻋُﻮﺍ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓَ ﻭَﺍﺗَّﺒَﻌُﻮﺍ
ﺍﻟﺸَّﻬَﻮَﺍﺕِ ﻓَﺴَﻮْﻑَ ﻳَﻠْﻘَﻮْﻥَ ﻏَﻴًّﺎ، ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﻦْ ﺗَﺎﺏَ ﻭَﺁﻣَﻦَ [
“অতঃপর এদের পর এল অপদার্থ লোকেরা। তারা নামায নষ্ট
করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুবর্তী হল। সুতরাং তারা অচিরেই
পথভ্রষ্টতায় পতিত হবে। কিন্তু তারা ব্যতীত যারা তওবা করেছে
এবং ঈমান এনেছে।” (সূরা মারইয়াম- ৫৯-৬০)
এখানে ‘কিন্তু তারা ব্যতীত যারা তওবা করেছে এবং ঈমান
এনেছে।’ একথা দ্বারা বুঝা যায়, ছালাত বিনষ্ট ও কুপ্রবৃত্তির
অনুসরণ করার সময় তারা ঈমানদার ছিল না। আল্লাহ্ আরো
বলেন,
] ﻓَﺈِﻥْ ﺗَﺎﺑُﻮﺍ ﻭَﺃَﻗَﺎﻣُﻮﺍ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓَ ﻭَﺁﺗَﻮْﺍ ﺍﻟﺰَّﻛَﺎﺓَ ﻓَﺈِﺧْﻮَﺍﻧُﻜُﻢْ ﻓِﻲ
[ﺍﻟﺪِّﻳﻦِ
“যদি তারা তওবা করে ও ছালাত আদায় করে এবং যাকাত প্রদান
করে, তবে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই।” (সূরা- তওবা- ১১)
এ আয়াত থেকে প্রমাণিত হল, ছালাত প্রতিষ্ঠা ও যাকাত প্রদান
না করলে দ্বীনী ভ্রাতৃত্ব সাব্যস্ত হবে না। অবশ্য হাদীছের
দলীল দ্বারা প্রমাণিত যে, যাকাত পরিত্যাগকারী যদি তার
আবশ্যকতা স্বীকার করে, কিন্তু কৃপণতার কারণে তা আদায় না
করে, তবে সে কাফের হবে না। অতএব ছালাত প্রতিষ্ঠা করা
ঈমানী ভ্রাতৃত্বের শর্ত হিসেবে অবশিষ্ট রইল। তাই এর দাবী
হচ্ছে তা পরিত্যাগ করা কুফরী। এই কারণে বেনামাযীর সাথে
ঈমানী ভ্রাতৃত্ব বিনষ্ট হয়ে যায়। বেনামাযী ফাসেক নয় বা ছোট
কাফের নয়। কেননা ফাসেক্বী এবং ছোট কুফরী ঈমানী ভ্রাতৃত্ব
থেকে বের করে দেয় না। যেমনটি মু‘মিনদের পরস্পর দু’টি দল
যুদ্ধে লিপ্ত হলে, তাদের সংশোধনের উদ্দেশ্যে আল্লাহ্
বলেন,
] ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ ﺇِﺧْﻮَﺓٌ ﻓَﺄَﺻْﻠِﺤُﻮﺍ ﺑَﻴْﻦَ ﺃَﺧَﻮَﻳْﻜُﻢْ [
“মু’মিনগণ পরস্পর ভাই ভাই। অতএব তোমাদের ভাইদের
পরস্পরের মাঝে সংশোধন কর।” (সূরা হুজুরাত- ১০)
পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত দু’টি দল ঈমানের গন্ডি থেকে বের হয়ে
যায়নি। অথচ মু’মিনের সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত হওয়া কুফরীর
অন্তর্ভুক্ত। যেমনটি ছহীহ্ বুখারীতে আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসঊদ
(রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
বলেন,
ﺳِﺒَﺎﺏُ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻢِ ﻓُﺴُﻮﻕٌ ﻭَﻗِﺘَﺎﻟُﻪُ ﻛُﻔْﺮٌ
“কোন মুসলিমকে গালিগালাজ করা ফাসেক্বী, আর তার সাথে
লড়াইয়ে লিপ্ত হওয়া কুফরী।”
হাদীছের দলীলঃ ছালাত পরিত্যাগকারী কাফের হওয়ার ব্যাপারে
সুন্নাহ্ থেকে দলীল সমূহ হচ্ছে নিম্নরূপঃ জাবের বিন
আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
( ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞِ ﻭﺍﻟْﻜُﻔْﺮِ ﻭﺍﻟﺸِّﺮْﻙِ ﺗَﺮْﻙُ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓِ )
“মুসলিম বান্দা এবং কাফের ও মুশরিকের মধ্যে পার্থক্য হল
ছালাত পরিত্যাগ করা।”
বুরায়দা বিন হুছাইব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি
শুনেছি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
] ﺍﻟْﻌَﻬْﺪُ ﺍﻟَّﺬِﻱْ ﺑّﻴْﻨَﻨﺎَ ﻭَﺑَﻴْﻨَﻬُﻢْ ﺍﻟﺼّﻼَﺓُ ﻓَﻤَﻦْ ﺗَﺮِﻛَﻬﺎَ ﻓَﻘَﺪْ ﻛَﻔَﺮَ [
“তাদের মাঝে এবং আমাদের মাঝে চুক্তি হচ্ছে ছালাতের, যে
ব্যক্তি ছালাত পরিত্যাগ করবে সে কাফের হয়ে যাবে।”
উবাদাহ্ বিন ছামেত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁরা নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কাছে বাইআত করেছেন এই মর্মে যে,
‘‘তারা শাসকের সাথে বিরোধীতায় লিপ্ত হবে না। যতক্ষণ না
তারা তাদের থেকে সুস্পষ্ট কুফরী অবলোকন করে, যে ব্যাপারে
আল্লাহ্র পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে প্রকাশ্য প্রমাণ
বিদ্যমান আছে।”
অর্থাৎ- শাসকদেরকে আল্লাহ্ যে দায়িত্ব দিয়েছেন, লোকেরা
সে ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধাচরণ করবে না, যতক্ষণ না তারা
তাদের মধ্যে সুপ্রমাণিত কোন কুফরী অবলোকন করে। আপনি
যখন এটা বুঝলেন তখন এই হাদীছটি দেখুন সালামা (রাঃ) হতে
বর্ণিত। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
ﺳَﺘَﻜُﻮﻥُ ﺃُﻣَﺮَﺍﺀُ ﻓَﺘَﻌْﺮِﻓُﻮﻥَ ﻭَﺗُﻨْﻜِﺮُﻭﻥَ ﻓَﻤَﻦْ ﻋَﺮَﻑَ ﺑَﺮِﺉَ ﻭَﻣَﻦْ ﺃَﻧْﻜَﺮَ
ﺳَﻠِﻢَ ﻭَﻟَﻜِﻦْ ﻣَﻦْ ﺭَﺿِﻲَ ﻭَﺗَﺎﺑَﻊَ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﺃَﻓَﻠَﺎ ﻧُﻘَﺎﺗِﻠُﻬُﻢْ ﻗَﺎﻝَ ﺻَﻠَّﻮْﺍ
ﻟَﺎ ﻣَﺎ
“অচিরেই তোমাদের মাঝে এমন কিছু আমীর বা শাসকের আগমণ
ঘটবে, যাদের মধ্যে ভাল বিষয় লক্ষ্য করবে খারাপ বিষয়ও
লক্ষ্য করবে। যে ব্যক্তি মন্দ বিষয়গুলো চিনলো (অন্য
বর্ণনায়, অপসন্দ করল) সে মুক্ত হয়ে গেল। আর যে ব্যক্তি
সেগুলোর প্রতিবাদ করল সে নিরাপদ হলো। কিন্তু যে সন্তুষ্ট
হয় ও তাদের অনুসরণ করে। তাঁরা বললেন, আমরা কি তাদের
বিরুদ্ধে লড়াই করব না? তিনি বললেন, না, যতক্ষণ তারা ছালাত
প্রতিষ্ঠা করে।”
এ হাদীছ থেকে জানা গেল, তারা যদি ছালাত আদায় না করে, তবে
তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। পূর্বে ঊবাদার হাদীছটিতে বলা
হয়েছে কোন ক্রমেই শাসকদের বিরুদ্ধাচরণ করা যাবে না।
অতএব বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আল্লাহ্র পক্ষ থেকে
সুপ্রমাণিত কোন কুফরী ছাড়া তাদের সাথে লড়াই করা যাবে না।
সুতরাং এ দু’টি হাদীছ দ্বারা জানা গেল, ছালাত পরিত্যাগ করা
আল্লাহ্র পক্ষ থেকে সুপ্রমাণিত সুস্পষ্ট কুফরী।
এগুলো হচ্ছে আল্লাহ্র কিতাব ও সুন্নাতে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে দলীল প্রমাণ। ছালাত
পরিত্যাগকারী কাফের। মিল্লাতে ইসলাম থেকে বহিস্কৃত।
যেমনটি অন্যান্য সুস্পষ্ট বর্ণনায় পাওয়া যায়। ইবনু আবী
হাতেম সুনান গ্রনে’ ঊবাদা বিন ছামেত (রাঃ) থেকে বর্ণনা
করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম) আমাদেরকে নসীহত করেছেনঃ
] ﻻ ﺗﺸﺮﻛﻮﺍ ﺑﺎﻟﻠﻪ ﺷﻴﺌﺎً، ﻭﻻ ﺗﺘﺮﻛﻮﺍ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻋﻤﺪﺍً ﻓﻤﻦ
ﺗﺮﻛﻬﺎ ﻋﺎﻣﺪﺍً ﻣﺘﻌﻤﺪﺍً ﺧﺮﺝ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﻠﺔ [
“তোমরা কোন কিছুকে আল্লাহ্র সাথে শরীক করবে না।
ইচ্ছাকৃতভাবে ছালাত পরিত্যাগ করবে না। কেননা যে ব্যক্তি
ইচ্ছাকৃত ছালাত পরিত্যাগ করবে সে মিল্লাতে ইসলাম থেকে বের
হয়ে যাবে।”
এব্যাপারে ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত উক্তি সমূহ
নিম্নরূপঃ
ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
( ﻻ ﺇﺳﻼﻡ ﻟﻤﻦ ﺗﺮﻙ ﺍﻟﺼﻼﺓ )
“যে ব্যক্তি ছালাত পরিত্যাগ করে, ইসলামে তার কোন অংশ
নেই।”
আবদুল্লাহ্ বিন শাক্বীক্ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
] ﻟَﺎ ﻳَﺮَﻭْﻥَ ﺷَﻴْﺌًﺎ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺄَﻋْﻤَﺎﻝِ ﺗَﺮْﻛُﻪُ ﻛُﻔْﺮٌ ﻏَﻴْﺮَ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ [
“নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)এর ছাহাবীগণ ছালাত
ব্যতীত কোন আমল পরিত্যাগ করার কারণে কাউকে কাফের মনে
করতেন না।”
উল্লেখিত শ্রুতিগত উক্ত দলীল সমূহ ছাড়া সাধারণ যুক্তিও
প্রমাণ করে যে, ছালাত পরিত্যাগকারী কাফের। ইমাম আহমাদ
(রহঃ) বলেন, ‘ছালাতে অলসতাকারী প্রত্যেক ব্যক্তি মাত্রই
তাকে অবজ্ঞাকারী। সুতরাং সে ইসলামের ব্যাপারে উদাসীন এবং
অবজ্ঞাকারী। ছালাতে যাদের যতটুকু অংশ রয়েছে ইসলামে তাদের
ততটুকু অংশ রয়েছে। ছালাতের প্রতি যার যতটুকু আগ্রহ রয়েছে
ইসলামের প্রতি তার আগ্রহ ততটুকু আছে।
ইমাম ইবনুল ক্বাইয়্যিম (রহঃ) (কিতাবুছ ছালাত পৃ: ৪০০) বলেন,
হাদীছের সমষ্টি থেকে প্রমাণিত হয়ঃ “যে লোক বিশ্বাস করে
যে, আল্লাহ্ তা‘আলা ছালাতের নির্দেশ দিয়েছেন, তা ফরয
করেছেন, সে কখনই ছালাত পরিত্যাগ করবে না। সে কখনই
ধারাবাহিকভাবে সমস্ত ছালাত থেকে বিরত থাকবে না। কারণ
সাধারণ বিবেক ও যুক্তিতে একথা কখনই সম্ভব নয় যে, একজন
লোক অন্তর থেকে বিশ্বাস করবে যে, আল্লাহ্ তা‘আলা
প্রতিদিন রাত ও দিনে পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত ফরয করেছেন, এর
পরিত্যাগকারীকে তিনি কঠিন শাস্তি দিবেন; অথচ তারপরও সে
তা প্রত্যাখ্যান করবে এবং সার্বক্ষণিক এ ছালাতকে পরিত্যাগ
করে চলবে। এটা নিঃসন্দেহে অবাস্তব কথা। সুতরাং ছালাতের
ফরযকে সত্যায়নকারী কখনই উহা পরিত্যাগ করে সন্তুষ্ট চিত্তে
বসে থাকতে পারে না। ঈমানের দাবী হচ্ছে ছালাত আদায় করা।
তার হৃদয় যদি তাকে ছালাতের নির্দেশ না দেয়, তবে তার অন্তরে
যে ঈমানের লেশ মাত্র নেই একথা বলার অপেক্ষা রাখে না।
অন্তর সম্পর্কিত বিধি-বিধান ও তার আমল সম্পর্কে যাদের
জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নেই তাদের কথায় কান দিবেন না।” ইমাম
ইবনুল ক্বাইয়্যিম সত্য বলেছেন। যে ছালাতে রয়েছে অশেষ,
অফুরন্ত ও অসংখ্য ছাওয়াব। তা আদায় করাও অতি সহজ সাধ্য।
ছালাত পরিত্যাগ করাতে রয়েছে কঠিন শাস্তি। যার অন্তরে
সামান্যতম ঈমান রয়েছে সে কখনও উক্ত ছালাত পরিত্যাগ করতে
পারে না। এটা অসম্ভব ব্যাপার।
যখন কিনা কুরআন্তসুন্নাহ্র দলীলাদী দ্বারা প্রমাণিত হল যে,
ছালাত পরিত্যাগকারী কাফের, ইসলাম থেকে বহিস্কৃত মুরতাদ-
তখন তার সাথে কোন মুসলিম নারীর বিবাহ সম্পাদন করা বৈধ
নয়। আল্লাহ্ কুরআনে বলেন,
] ﻭَﻟَﺎ ﺗَﻨﻜِﺤُﻮﺍ ﺍﻟْﻤُﺸْﺮِﻛَﺎﺕِ ﺣَﺘَّﻰ ﻳُﺆْﻣِﻦَّ ﻭَﻟَﺄَﻣَﺔٌ ﻣُﺆْﻣِﻨَﺔٌ ﺧَﻴْﺮٌ ﻣِﻦْ
ﻣُﺸْﺮِﻛَﺔٍ ﻭَﻟَﻮْ ﺃَﻋْﺠَﺒَﺘْﻜُﻢْ [
“আর তোমরা মুশরিক নারীদেরকে বিবাহ করো না, যতক্ষণ না
তারা ঈমান গ্রহণ করে। অবশ্যই মুসলিম ক্রীতদাসী মুশরিক
নারী অপেক্ষা উত্তম। যদিও তাদেরকে তোমাদের ভাল
লাগে।” (সূরা বাক্বারা- ২২১)
আর আল্লাহ্ মুহাজির নারীদের সম্পর্কে বলেন,
] ﻓَﺈِﻥْ ﻋَﻠِﻤْﺘُﻤُﻮﻫُﻦَّ ﻣُﺆْﻣِﻨَﺎﺕٍ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﺮْﺟِﻌُﻮﻫُﻦَّ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﻜُﻔَّﺎﺭِ ﻟَﺎ
ﻫُﻦَّ ﺣِﻞٌّ ﻟَﻬُﻢْ ﻭَﻟَﺎ ﻫُﻢْ ﻳَﺤِﻠُّﻮﻥَ ﻟَﻬُﻦَّ [
“যদি তোমরা জান যে, তারা ঈমানদার, তবে আর তাদেরকে
কাফেরদের কাছে ফেরত পাঠিও না। এরা কাফেরদের জন্য হালাল
নয় এবং কাফেররা এদের জন্যও হালাল নয়।” (সূরা মুমতাহিনা-
১০)
এই দু’টি আয়াতের ভিত্তিতে মুসলমানগণ ঐকমত্য পোষণ
করেছেন যে, কোন মুসলিম নারীর সাথে কাফেরের বিবাহ বৈধ
নয়। অতএব কোন অভিভাবক যদি নিজ মেয়ে বা অধিনস্ত কোন
মেয়ের বিবাহ বেনামাযী ব্যক্তির সাথে সম্পন্ন করে, তবে সে
বিবাহ বিশুদ্ধ হবে না। এই বিবাহের মাধ্যমে উক্ত নারী তার
জন্য বৈধ হবে না। কেননা এটা এমন সম্পর্ক যাতে আল্লাহ্ ও
রাসূলের নির্দেশ নেই। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম) থেকে আয়েশা (রাঃ) এর বরাতে ছহীহ্ সূত্রে প্রমাণিত
হয়েছে। তিনি বলেন,
ﻣَﻦْ ﻋَﻤِﻞَ ﻋَﻤَﻠًﺎ ﻟَﻴْﺲَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺃَﻣْﺮُﻧَﺎ ﻓَﻬُﻮَ ﺭَﺩٌّ
“যে ব্যক্তি এমন আমল করবে, যাতে আমাদের নির্দেশনা নেই,
তবে তা প্রত্যাখ্যাত।” (বুখারী ও মুসলিম)
অতএব স্বামী যদি ছালাত পরিত্যাগ করার পর তওবা করে ছালাত
আদায়ের মাধ্যমে ইসলামে ফিরে না আসে, তবে তার বিবাহ ভঙ্গ
হয়ে যাবে। তাই বেনামাযী বিবাহের প্রস্তাবদানকারীর সাথে
বিবাহের আক্বদ করার কোন প্রশ্নই আসে না।
সারকথা, বিবাহের প্রস্তাবকারী এই ব্যক্তি যদি জামাতের সাথে
ছালাত আদায় না করে, তবে সে ফাসেক্ব- কাফের নয়। এর সাথে
বিবাহ দেয়া যায়। তবে তাকে বাদ দিয়ে নামাযে পাবন্দ
চরিত্রবান যুবকের সাথে বিবাহ দেয়া বেশী উত্তম।
কিন্তু যদি সে মোটেও ছালাত আদায় না করে- না জামাতের সাথে
না একাকী- তবে কাফের, ইসলাম থেকে বহিস্কৃত মুরতাদ।
কোনভাবেই তার সাথে মুসলিম নারীর বিবাহ সম্পাদন করা
জায়েয নয়। তবে যদি সে সত্যিকারভাবে তওবা করে ছালাত আদায়
করে ইসলাম ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে কোন বাধা
নেই।
আর প্রশ্নকারী উল্লেখ করেছেন যে, প্রস্তাবকারীর ব্যাপারে
প্রশ্নকৃত ব্যক্তি বলেছে ‘ঠিক হয়ে যাবে- আল্লাহ্ তাকে
হেদায়াত করবেন।’ এটা তো ভবিষ্যতের কথা। সে সম্পর্কে
একমাত্র আল্লাই ভাল জানেন। অজানা ভবিষ্যতের উপর নির্ভর
করে কোন কিছু ভিত্তি করা চলে না। কেননা আমরা শুধু বর্তমান
অবস্থার উপর জিজ্ঞাসিত হব; ভবিষ্যতের উপর নয়। আর এ
ব্যক্তির বর্তমান অবস্থা হচ্ছে কুফরী। সুতরাং এই কুফরী
অবস্থায় কি করে তার সাথে মুসলিম রমণীর বিবাহ সম্পন্ন করা
যায়? আমরা আল্লাহর কাছে তার হেদায়াত এবং ইসলামে ফিরে
আসার জন্য দু‘আ করি। যাতে করে তার সাথে মুসলিম নারীর
বিবাহ সম্পন্ন করা সহজ ও সম্ভব হয়। আল্লাহই হেদায়াতের
মালিক।
প্রশ্নঃ (১৯১) জনৈক ব্যক্তি পরিবারের লোকদের ছালাতের
আদেশ করছেন। কিন্তু কেউ তাঁর কথা শুনে না। এঅবস্থায় তিনি
কি করবেন? তিনি কি তাদের সাথে মিলেমিশে বসবাস করবেন,
নাকি বাড়ি থেকে বের হয়ে যাবেন?
উত্তরঃ পরিবারের লোকেরা যদি একেবারেই ছালাত আদায় না
করে, তবে তারা কাফের ইসলাম থেকে বের হয়ে মুরতাদে পরিণত
হবে। তাদের সাথে মিলেমিশে বসবাস করা জায়েয নয়। কিন্তু
তার উপর আবশ্যক হচ্ছে তাদেরকে দা‘ওয়াত দিবেন। বারবার
অনুরোধ করবেন। হতে পারে আল্লাহ্ তাদেরকে হেদায়াত
করবেন। কেননা ছালাত পরিত্যাগকারী কাফের- নাঊযুবিল্লাহ্।
কুরআন, সুন্নাহ্, ছাহাবায়ে কেরামের উক্তি ও বিশুদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি
এর দলীল।
যারা বেনামাযীকে কাফের বলার পক্ষপাতী নয়, তাদের
দলীলগুলো চারটি অবস্থার বাইরে নয়। যথাঃ
ক) মূলতঃ উক্ত দলীল সমূহে তাদের মতের পক্ষে দলীল নেই।
খ) সেগুলা এমন গুণ সম্পন্ন যে তা বিদ্যমান থাকাবস্থায়, নামায
পরিত্যাগের বিষয়টি তার অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়।
গ) অথবা এমন কিছু ওযর ও অবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে, যে
কারণে নামায পরিত্যাগ করা মার্জনীয়।
ঘ) অথবা উক্ত দলীল সমূহ আম বা ব্যাপক। ছালাত
পরিত্যাগকারী কাফের হওয়ার হাদীছগুলো দ্বারা তা খাছ বা
বিশিষ্ট করা হয়েছে।
বেনামাযী মু’মিন বা সে জান্নাতে প্রবেশ করবে বা সে
জাহান্নাম থেকে নাজাত পাবে কুরআন্তসুন্নাহ্র উক্তি সমূহে এ
রকম কথা উল্লেখ নেই। সুতরাং ‘ছালাত পরিত্যাগ করা কুফরী’
এব্যাপারে যে দলীল সমূহ উপস্থাপিত হয়েছে, তা নেয়া’মতের
কুফরী বা ছোট কুফরী এরকম ব্যাখ্যা করার কোন অবকাশ নেই।
যখন সুস্পষ্ট হলো, ছালাত পরিত্যাগকারী কাফের মুরতাদ, তখন
তার ব্যাপারে নিম্নল্লিখিত বিধান সমূহ প্রজোয্য হবেঃ
প্রথমতঃ মুসলিম নারীর সাথে তার বিবাহ সম্পন্ন করা বৈধ
হবে না। বিবাহের চুক্তি হয়ে গেলেও তা বাতিল বলে গণ্য হবে
এবং তার জন্য উক্ত স্ত্রী হালাল হবে না। কেননা আল্লাহ্
মুহাজির নারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেনঃ
] ﻓَﺈِﻥْ ﻋَﻠِﻤْﺘُﻤُﻮﻫُﻦَّ ﻣُﺆْﻣِﻨَﺎﺕٍ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﺮْﺟِﻌُﻮﻫُﻦَّ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﻜُﻔَّﺎﺭِ ﻟَﺎ
ﻫُﻦَّ ﺣِﻞٌّ ﻟَﻬُﻢْ ﻭَﻟَﺎ ﻫُﻢْ ﻳَﺤِﻠُّﻮﻥَ ﻟَﻬُﻦَّ [
“যদি তোমরা জান যে, তারা ঈমানদার, তবে আর তাদেরকে
কাফেরদের কাছে ফেরত পাঠিও না। এরা কাফেরদের জন্য হালাল
নয় এবং কাফেররা এদের জন্য হালাল নয়।” (সূরা মুমতাহিনাঃ ১০)
দ্বিতীয়তঃ বিবাহের বন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর যদি ছালাত
পরিত্যাগ শুরু করে তবে উক্ত বন্ধন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে- স্ত্রী
ব্যবহার তার জন্য হালাল হবে না। পূর্বোল্লিখিত আয়াত এর
দলীল।
তৃতীয়তঃ বেনামাযীর যবেহ্ করা প্রাণীর গোস্ত খাওয়া জায়েয
হবে না। কেননা এটা হারাম। ইহুদী বা খৃষ্টানের যবেহ্ করা
প্রাণীর গোস্ত খাওয়া আমাদের জন্য বৈধ। কেননা আল্লাহ্ তা
আমাদের জন্য হালাল করেছেন। (দেখুন সূরা মায়েদা- ৫ নং
আয়াত) অতএব বেনামাযীর যবেহ করা গোস্ত ইহুদী খৃষ্টানের
চাইতে অধিক নিকৃষ্ট।
চতুর্থতঃ বেনামাযীর জন্য বৈধ নয় মক্কা বা তার হারাম
সীমানায় প্রবেশ করা। কেননা আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেন,
] ﻳَﺎﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺍﻟْﻤُﺸْﺮِﻛُﻮﻥَ ﻧَﺠَﺲٌ ﻓَﻠَﺎ ﻳَﻘْﺮَﺑُﻮﺍ
ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪَ ﺍﻟْﺤَﺮَﺍﻡَ ﺑَﻌْﺪَ ﻋَﺎﻣِﻬِﻢْ ﻫَﺬَﺍ [
“হে ঈমানদারগণ! মুশরিকগণ তো নাপাক। সুতরাং তারা যেন এই
বছরের পর আর মসজিদে হারামে প্রবেশ না করে।” (সূরা তওবাঃ
২৮)
পঞ্চমতঃ বেনামাযীর কোন নিকটাত্মীয় মারা গেলে সে তাদের
মীরাছ লাভ করবে না। যেমন কোন নামাযী ব্যক্তি মৃত্যু বরণ
করল, রেখে গেল একজন ছেলে এবং এক চাচাতো ভাই; কিন্তু
ছেলে বেনামাযী আর চাচাতো ভাই নামাযী। এ অবস্থায় দূরের
সেই চাচাতো ভাই মীরাছ পাবে ছেলে পাবে না। কেননা উসামা
(রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম) বলেনঃ
ﻟَﺎ ﻳَﺮِﺙُ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻦُ ﺍﻟْﻜَﺎﻓِﺮَ ﻭَﻟَﺎ ﻳَﺮِﺙُ ﺍﻟْﻜَﺎﻓِﺮُ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻦَ
“কোন মুসলিম কাফেরের মীরাছ লাভ করতে পারবে না। কোন
কাফেরও কোন মুসলিমের মীরাছ লাভ করতে পারবে না।” (বুখারী
ও মুসলিম)
তিনি আরো বলেন:
ﺃَﻟْﺤِﻘُﻮﺍ ﺍﻟْﻔَﺮَﺍﺋِﺾَ ﺑِﺄَﻫْﻠِﻬَﺎ ﻓَﻤَﺎ ﺑَﻘِﻲَ ﻓَﻬُﻮَ ﻟِﺄَﻭْﻟَﻰ ﺭَﺟُﻞٍ ﺫَﻛَﺮٍ
“ফারায়েয তথা মীরাছ সমূহ তার অধিকারীদের মাঝে বন্টন করে
দাও। কিছু অবশিষ্ট থাকলে মৃত ব্যক্তির নিকটতম পুরুষের জন্য
নির্ধারিত হবে।” (বুখারী ও মুসলিম)
এই উদাহরণ প্রজোয্য হবে সমস্ত ওয়ারীসদের ক্ষেত্রে।
ষষ্ঠতঃ বেনামাযী মৃত্যু বরণ করলে- তাকে গোসল দেয়া যাবে
না, কাফন পরানো যাবে না, জানাযা নামায পড়া যাবেনা,
মুসলমানদের গোরস্থানে তাকে দাফন করা যাবে না। তাকে কি
করতে হবে? মাঠে- ময়দানে গর্ত খনন করে পরিহিত কাপড়েই
পুঁতে ফেলতে হবে। কেননা তার কোনই মর্যাদা নেই।
এভিত্তিতে কোন লোক যদি মৃত্যু বরণ করে, আর তার
সম্পর্কে জানা যায় যে সে বেনামাযী, তবে জানাযা পড়ার জন্য
লাশকে মুসলমানদের সামনে উপস্থিত করা বৈধ হবে না।
সপ্তমতঃ ক্বিয়ামত দিবসে বেনামাযীর হাশর-নশর হবে
ফেরাউন, হামান, ক্বারূন ও উবাই বিন খালাফের সাথে। এরা হচ্ছে
পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কাফের। তারা কখনই জান্নাতে
প্রবেশ করবে না। তাই বেনামাযীর পরিবারের পক্ষ থেকে তার
জন্য রহমত ও মাগফিরাতের দু‘আ করাও জায়েয নয়। কেননা
কাফের কোন দু’আ পাওয়ার উপযুক্ত নয়। আল্লাহ্ বলেন,
] ﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﻟِﻠﻨَّﺒِﻲِّ ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﺃَﻥْ ﻳَﺴْﺘَﻐْﻔِﺮُﻭﺍ ﻟِﻠْﻤُﺸْﺮِﻛِﻴﻦَ ﻭَﻟَﻮْ
ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﺃُﻭْﻟِﻲ ﻗُﺮْﺑَﻰ ﻣِﻦْ ﺑَﻌْﺪِ ﻣَﺎ ﺗَﺒَﻴَّﻦَ ﻟَﻬُﻢْ ﺃَﻧَّﻬُﻢْ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏُ
[ﺍﻟْﺠَﺤِﻴﻢِ
“নবী ও ঈমানদারদের জন্য সমিচীন নয় যে তারা কোন
মুশরিকের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। যদিও তারা তাদের
নিকটাত্মীয় হয় না কেন। যখন প্রমাণিত হল যে, তারা
জাহান্নামের অধিবাসী।” (সূরা তওবাঃ ১১৩)
সুতরাং বিষয়টি অত্যন্ত ভয়ানক। কিন্তু আফসোস! মানুষ
বর্তমানে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে।
নিজেদের গৃহে এমন লোকদের স্থান দিচ্ছে, যারা ছালাত আদায়
করে না। অথচ এটা মোটেও ঠিক নয়। (আল্লাহ্ই অধিক জ্ঞান
রাখেন)
প্রশ্নঃ (১৯২) বেনামাযী স্বামীর সাথে মুসলিম নামাযী স্ত্রীর
বসবাস করার বিধান কি? তাদের কয়েকজন সন্তানও আছে।
বেনামাযীর সাথে মেয়ে বিবাহ দেয়ার বিধান কি?
উত্তরঃ কোন নারী যদি এমন লোককে বিবাহ করে, যে ছালাত
আদায় করে না, জামাআতের সাথেও না বাড়ীতেও একাকি না। তার
বিবাহ বিশুদ্ধ নয়। কেননা ছালাত পরিত্যাগকারী কাফের।
যেমনটি আল্লাহর সম্মানিত কিতাব, পবিত্র সুন্নাত ও
ছাহাবায়ে কেরামের উক্তি সমূহ একথাটি প্রমাণ করে।
আবদুল্লাহ্ বিন শাক্বীক্ব বলেন,
] ﻛَﺎﻥَ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏُ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻟَﺎ ﻳَﺮَﻭْﻥَ ﺷَﻴْﺌًﺎ
ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺄَﻋْﻤَﺎﻝِ ﺗَﺮْﻛُﻪُ ﻛُﻔْﺮٌ ﻏَﻴْﺮَ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ [
“নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)এর ছাহাবীগণ ছালাত
ব্যতীত কোন আমল পরিত্যাগ করার কারণে কাউকে কাফের মনে
করতেন না।”
কাফেরের জন্য কোন মুসলিম নারী বৈধ নয়। আল্লাহ্ বলেন,
] ﻓَﺈِﻥْ ﻋَﻠِﻤْﺘُﻤُﻮﻫُﻦَّ ﻣُﺆْﻣِﻨَﺎﺕٍ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﺮْﺟِﻌُﻮﻫُﻦَّ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﻜُﻔَّﺎﺭِ ﻟَﺎ
ﻫُﻦَّ ﺣِﻞٌّ ﻟَﻬُﻢْ ﻭَﻟَﺎ ﻫُﻢْ ﻳَﺤِﻠُّﻮﻥَ ﻟَﻬُﻦَّ [
“যদি তোমরা জান যে, তারা ঈমানদার, তবে আর তাদেরকে
কাফেরদের কাছে ফেরত পাঠিও না। এরা কাফেরদের জন্য হালাল
নয় এবং কাফেররা এদের জন্য হালাল নয়।” (সূরা মুমতাহিনাঃ ১০)
বিবাহের চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর যদি স্বামী ছালাত পরিত্যাগ
করা শুরু করে তবে তওবা করে ইসলামে ফিরে না আসলে তার
বিবাহ ভঙ্গ হয়ে যাবে। কতক বিদ্বান বলেছেন, বিবাহ ভঙ্গের
বিষয়টি ঈদ্দতের সাথে সম্পৃক্ত। যদি ঈদ্দত পার হয়ে যায়
তারপর সে তওবা করে ইসলামে ফিরে আসে তবে নতুন চুক্তি করে
আবার উক্ত স্ত্রীকে ফেরত নিতে পারবে। উক্ত মহিলার জন্য
আবশ্যক হচ্ছে বেনামাযী স্বামী থেকে আলাদা থাকবে। তাকে
মেলামেশা করতে দিবে না- যতক্ষণ না সে তওবা করে ছালাত
আদায় করে। যদিও তাদের সন্তান থাকে। কেননা এ অবস্থায়
পিতার কোন অধিকার নেই সন্তানদের প্রতিপালনের।
এ উপলক্ষে আমি মুসলিম ভাইদেরকে সতর্ক করছি ও নসীহত
করছি, তারা যেন কোন বেনামাযীর সাথে মেয়েদের বিবাহ
সম্পন্ন না করেন। কেননা বিষয়টি অত্যন্ত ভয়ানক। এক্ষেত্রে
তারা যেন নিকটাত্মীয় বা বন্ধুর সাথে কোন আপোষ না করেন।
(আল্লাহ্ই অধিক জ্ঞাত আছেন)
প্রশ্নঃ (১৯৩) তওবা করার পর কি ছেড়ে দেয়া ছালাতের কাযা
আদায় করতে হবে?
উত্তরঃ ইচ্ছাকৃতভাবে ছালাত পরিত্যাগ করার পর তওবা করে
আল্লাহ্র পথে ফিরে আসলে ছেড়ে দেয়া ছালাত সমূহ কাযা
আদায় করতে হবে কিনা এব্যাপারে বিদ্বানগণ মতভেদ করেছেন।
এক্ষেত্রে দু’টি মত পাওয়া যায়।আমার কাছে প্রাধান্যযোগ
মতটি হচ্ছে যা শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তায়মিয়া পছন্দ
করেছেন। যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ছালাত পরিত্যাগ করে এমনকি
সময় পার করে দেয়, তার কাযা আদায় করাতে কোন ফায়দা নেই।
কেননা নির্দিষ্ট সময়ের ইবাদত অবশ্যই উক্ত নির্ধারিত
সময়েই আদায় করতে হবে। সময়ের আগে আদায় করলে যেমন
হবে না, অনুরূপ সময় পার হওয়ার পর আদায় করলেও তা বিশুদ্ধ
হবেনা। আল্লাহ্র সীমারেখা সমূহ হেফাযত করা অত্যন্ত জরূরী।
শরীয়ত প্রণেতা আমাদের উপর ছালাত ফরয করে তার সীমা
নির্ধারণ করে দিয়েছেন্ত এই সময় থেকে এই সময়ের মধ্যে
ছালাত আদায় করতে হবে। অতএব যে স্থানকে নামাযের স্থান
হিসেবে নির্ধারণ করা হয়নি সেখানে যেমন ছালাত বিশুদ্ধ হবে
না। তেমনি যে সময়কে নামাযের সময় হিসেবে নির্ধারণ করা
হয়নি, সে সময়ে ছালাত আদায় করলেও তা বিশুদ্ধ হবে না।
অবশ্য যে ব্যক্তি ছালাত পরিত্যাগ করেছে তার উপর আবশ্যক
হচ্ছে বেশী বেশী তওবা ইসে-গফার করা এবং বেশী বেশী নফল
ইবাদত ও নেক কাজে লিপ্ত হওয়া। আশা করা যায় এর মাধ্যমে
আল্লাহ্ তাকে মাফ করে দিবেন ও পরিত্যাক্ত ছালাত সমূহকে
ক্ষমা করবেন। প্রশ্নঃ (১৯৪) বেনামাযী সন্তানদের ব্যাপারে
পরিবারের কর্তার কর্তব্য কি?
উত্তরঃ পরিবারের কোন সন্তান যদি বেনামাযী হয়, তবে
কর্তার উপর আবশ্যক হচ্ছে তাদেরকে নামাযের ব্যাপারে বাধ্য
করা। তিনি তাদেরকে নামাযের নির্দেশ দিবেন, বুঝাবেন,
প্রয়োজনে তাদেরকে প্রহার করবেন। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
ﻭَﺍﺿْﺮِﺑُﻮﻫُﻢْ ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ ﻟِﻌَﺸْﺮِ ﺳِﻨِﻴﻦَ
“দশ বছর বয়সে ছালাত আদায় না করলে তাদেরকে প্রহার
করবে।”
এতে যদি কাজ না হয়, তবে (ইসলামী রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে
নিযুক্ত) দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছে তাকে সোপর্দ করবেন।
যাতে করে তাকে ছালাত আদায় করতে বাধ্য করা হয়। এক্ষেত্রে
চুপ থাকা জায়েয হবে না। কেননা এতে অন্যায় কাজে সমর্থন হয়ে
যায়। ছালাত পরিত্যাগ করা কুফরী। ছালাত আদায় না করলে
ব্যক্তি ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে। বেনামাযী কাফের চিরকাল
জাহান্নামী। তাই সে মৃত্যু বরণ করলে তাকে গোসল দেয়া,
জানাযা পড়া বা মুসলমানদের গোরস্থানে দাফন করা যাবে না।
প্রশ্নঃ (১৯৫) সফর অবস্থায় আযান দেয়ার বিধান কি?
উত্তরঃ বিষয়টি মতবিরোধপূর্ণ। সঠিক কথা হচ্ছে সফর
অবস্থায় আযান দেয়া ওয়াজিব। দলীলঃ নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মালেক বিন হুওয়াইরিছ ও তার সফর
সঙ্গীদের বলেছিলেনঃ
ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺣَﻀَﺮَﺕِ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓُ ﻓَﻠْﻴُﺆَﺫِّﻥْ ﻟَﻜُﻢْ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ
“নামাযের সময় উপস্থিত হলে তোমাদের মধ্যে যেন একজন
আযান দেয়।”
এরা রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নিকট
ইসলামের তা’লীম নিতে এসেছিলেন। ফেরত যাওয়ার সময় নবীজী
তাদেরকে এ নির্দেশ প্রদান করেন। তাছাড়া নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফর বা গৃহে যেখানেই থাকতেন কখনই
আযান বা ইক্বামত পরিত্যাগ করেননি। সফরে থাকাবস্থায় তিনি
বেলালকে আযান দেয়ার নির্দেশ দিতেন।
প্রশ্নঃ (১৯৬) একক ব্যক্তির জন্য আযান ও ইক্বামতের বিধান
কি?
উত্তরঃ একক ব্যক্তির জন্য আযান ও ইক্বামত সুন্নাত।
ওয়াজিব নয়। কেননা তার আশে-পাশে এমন লোক নেই যাদেরকে
আযান দিয়ে ডাকা দরকার। যেহেতু আযানের মধ্যে রয়েছে
আল্লাহ্র যিকর ও তাঁর সম্মানের কথা উল্লেখ আছে এবং
নিজেকে ছালাত ও মুক্তির দিকে আহ্বান করা হয়েছে, অনুরূপভাবে
ইক্বামতেও তাই আযান ও ইক্বামত উভয়টি সুন্নাত। আযান
মুস্তাহাব বা সুন্নাত হওয়ার দীলল হচ্ছে, ঊকবা বিন আমের
(রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীছ। তিনি বলেন, আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ্
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
ﻳَﻌْﺠَﺐُ ﺭَﺑُّﻚَ ﻣِﻦْ ﺭَﺍﻋِﻲ ﻏَﻨَﻢٍ ﻓِﻲ ﺭَﺃْﺱِ ﺷَﻈِﻴَّﺔِ ﺍﻟْﺠَﺒَﻞِ ﻳُﺆَﺫِّﻥُ
ﺑِﺎﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ ﻭَﻳُﺼَﻠِّﻲ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ ﺍﻧْﻈُﺮُﻭﺍ ﺇِﻟَﻰ ﻋَﺒْﺪِﻱ
ﻫَﺬَﺍ ﻳُﺆَﺫِّﻥُ ﻭَﻳُﻘِﻴﻢُ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓَ ﻳَﺨَﺎﻑُ ﻣِﻨِّﻲ ﻗَﺪْ ﻏَﻔَﺮْﺕُ ﻟِﻌَﺒْﺪِﻱ
ﻭَﺃَﺩْﺧَﻠْﺘُﻪُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ
“তোমার পালনকর্তা আশ্চার্যাম্বিত হন এমন ছাগলের রাখালের
কাজে। পাহাড়ের চুঁড়া থেকে ছালাতের জন্য আযান দেয়। আল্লাহ্
বলেন, আমার এই বান্দাকে দেখ! ছালাতের জন্য সে আযান ও
ইক্বামত দিচ্ছে। সে আমাকে ভয় করছে। আমি আমার বান্দাকে
ক্ষমা করে দিলাম ও জান্নাতে প্রবেশ করালাম।”
প্রশ্নঃ (১৯৭) কোন ব্যক্তি যদি যোহর ও আছর ছালাত
একত্রিত আদায় করে, তবে কি প্রত্যেক ছালাতের জন্য
আলাদাভাবে ইক্বামত দিবে? নফল ছালাতের জন্য ইক্বামত
আছে কি?
উত্তরঃ প্রত্যেক নামাযের জন্য আলাদাভাবে ইক্বামত দিতে
হবে। জাবের (রাঃ) নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর
বিদায় হজ্জের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন, তিনি মুযদালিফায়
(মাগরিব এশা) দু’নামাযকে একত্রিত করেছেন। ইক্বামত দিয়ে
প্রথমে মাগরিব ছালাত আদায় করেন। তারপর ইক্বামত দিয়ে
এশা ছালাত আদায় করেন। উভয় ছালাতের মাঝে কোন সুন্নাত
আদায় করেননি। নফল নামাযের জন্য কোন ইক্বামত নেই।
প্রশ্নঃ (১৯৮) ( ﺍﻟﺼﻼﺓ ﺧﻴﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﻮﻡ ) “আছ্ছালাতু খাইরুম্
মিনান্ নাওম” কথাটি কি ফজরের প্রথম আযানে বলতে হবে না
দ্বিতীয় আযানে?
উত্তরঃ ( ﺍ ﻟﺼﻼﺓ ﺧﻴﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﻮﻡ ) “আছ্ছালাতু খাইরুম্ মিনান্
নাওম” কথাটি ফজরের প্রথম আযানে বলতে হবে। যেমনটি
হাদীছে এসেছেঃ “সকালের প্রথম আযান প্রদান করলে বলবে,
( ﺍ ﻟﺼﻼﺓ ﺧﻴﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﻮﻡ ) “আছ্ছালাতু খাইরুম্ মিনান্ নাওম” ঘুম
থেকে নামায উত্তম। এটা প্রথম আযানে দ্বিতীয় আযানে নয়।
কিন্তু জানা দরকার এ হাদীছে প্রথম আযান বলতে কি বুঝানো
হয়েছে? এটা হচ্ছে সেই আযান যা নামাযের সময় হওয়ার পর
প্রদান করা হয়। আর দ্বিতীয় আযান হচ্ছেঃ ইক্বামত। কেননা
ইক্বামতকেও ‘আযান’ বলা হয়েছে। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম) বলেন,
ﺑَﻴْﻦَ ﻛُﻞِّ ﺃَﺫَﺍﻧَﻴْﻦِ ﺻَﻠَﺎﺓٌ
“প্রত্যেক দু’আযানের মধ্যবর্তী সময়ে ছালাত রয়েছে।”
এখানে দু’আযান বলতে ‘আযান ও ইক্বামত’ উদ্দেশ্য।
ছহীহ্ বুখারীতে বলা হয়েছেঃ আমীরুল মু’মেনীন ঊছমান বিন
আফ্ফান (রাঃ) জুমআর জন্য তৃতীয় আযান বৃদ্ধি করেন।
অতএব, বেলালকে প্রথম আযানে যে “আছ্ছালাতু খাইরুম্ মিনান্
নাওম” বলতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল তা দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে
ফজর নামাযের আযান।
ফজর উদিত হওয়ার আগে যে আযানের কথা পাওয়া যায় তা
ফজরের আযান নয়। লোকেরা শেষ রাতের ঐ আযানকে ফজর
ছালাতের প্রথম আযানরূপে আখ্যা দিয়ে থাকে। কিন্তু
প্রকৃতপক্ষে তা ফজর ছালাতের জন্য নয়। কেননা নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
ﺇِﻥَّ ﺑِﻼَﻻً ﻳُﺆَﺫِّﻥُ ﺑِﻠَﻴْﻞٍ ﻟِﻴُﻮﻗِﻆَ ﻧَﺎﺋِﻤَﻜُﻢْ ﻭَﻟِﻴَﺮْﺟِﻊَ ﻗَﺎﺋِﻤَﻜُﻢْ
“বেলাল রাতে আযান দিয়ে থাকে। যাতে করে ঘুমন্ত ব্যক্তি
জাগ্রত হয় এবং নফল ছালাত আদায়কারী ফিরে যায়।”
অর্থাৎ- ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত হয়ে সাহূর খাবে আর ক্বিয়ামুল
লায়ল বা তাহাজ্জুদ ছালাত আদায়কারী নামায শেষ করে সাহূর
খাবে।
তাছাড়া নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মালেক বিন
হুওয়াইরিছকে বলেছিলেনঃ
ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺣَﻀَﺮَﺕِ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓُ ﻓَﻠْﻴُﺆَﺫِّﻥْ ﻟَﻜُﻢْ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ
“নামাযের সময় উপস্থিত হলে তোমাদের মধ্যে একজন যেন
আযান দেয়।”
আর আমরা জানি যে, ফজর উদিত না হলে ছালাতের সময়
উপস্থিত হবে না। অতএব ফজর হওয়ার আগের আযান ফজর
ছালাতের জন্য নয়।
অতএব সাধারণভাবে মানুষ ফজরের আযানে যে “আছ্ছালাতু
খাইরুম্ মিনান্ নাওম” বলে থাকে সেটাই সঠিক ও বিশুদ্ধ।
কিন্তু যারা ধারণা করে থাকে যে, প্রথম আযান বলতে ফজরের
পূর্বের আযান উদ্দেশ্য তাদের দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক নয়। তারা
দলীল পেশ করে থাকে যে, প্রথম আযান বলতে সেই আযানই
উদ্দেশ্য যা শেষ রাতে নফল বা তাহাজ্জুদ নামাযের জন্য দেয়া
হয় এবং সেজন্য বলা হয়ঃ “আছ্ছালাতু খাইরুম্ মিনান্ নাওম”
অর্থাৎ- ঘুম থেকে নামায উত্তম। এখানে ‘উত্তম’ শব্দটি দ্বারা
বুঝা যায় এ আহবানটি নফল নামাযের জন্যই।
আমরা জবাবে বলবঃ ‘উত্তম’ শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব কাজের
জন্যও ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ্ বলেন,
] ﻳَﺎﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁَﻣَﻨُﻮﺍ ﻫَﻞْ ﺃَﺩُﻟُّﻜُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﺗِﺠَﺎﺭَﺓٍ ﺗُﻨﺠِﻴﻜُﻢْ ﻣِﻦْ
ﻋَﺬَﺍﺏٍ ﺃَﻟِﻴﻢٍ، ﺗُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟِﻪِ ﻭَﺗُﺠَﺎﻫِﺪُﻭﻥَ ﻓِﻲ ﺳَﺒِﻴﻞِ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑِﺄَﻣْﻮَﺍﻟِﻜُﻢْ ﻭَﺃَﻧﻔُﺴِﻜُﻢْ ﺫَﻟِﻜُﻢْ ﺧَﻴْﺮٌ ﻟَﻜُﻢْ ﺇِﻥْ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ [
“হে ঈমানদারগণ! আমি কি তোমাদেরকে এমন এক বাণিজ্যের
সন্ধান দিব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি থেকে মুক্তি
দিবে? তা এই যে, তোমরা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি
বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং আল্লাহ্র পথে নিজেদের ধন্তসম্পদ
ও জীবন পন করে জেহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম;
যদি তোমাদের জ্ঞান থাকে।” (সূরা ছফ্ফঃ ১০, ১১)
আল্লাহ্ জুমআর ছালাত সম্পর্কে বলেনঃ
] ﻳَﺎﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﺇِﺫَﺍ ﻧُﻮﺩِﻱ ﻟِﻠﺼَّﻠَﺎﺓِ ﻣِﻦْ ﻳَﻮْﻡِ ﺍﻟْﺠُﻤُﻌَﺔِ
ﻓَﺎﺳْﻌَﻮْﺍ ﺇِﻟَﻰ ﺫِﻛْﺮِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺫَﺭُﻭﺍ ﺍﻟْﺒَﻴْﻊَ ﺫَﻟِﻜُﻢْ ﺧَﻴْﺮٌ ﻟَﻜُﻢْ ﺇِﻥْ ﻛُﻨﺘُﻢْ
[ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ
“হে ঈমানদারগণ! যখন জুমআর দিনে ছালাতের জন্য আহবান
করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহ্র যিকিরের প্রতি দ্রুত অগ্রসর
হও, বেচা-কেনা ছেড়ে দাও। এটা তোমাদের জন্য উত্তম।” (সূরা
জুমআঃ ৯)
অতএব ‘উত্তম’ শব্দটি যেমন ফরয বিষয়ে ব্যবহার হয় তেমনি
মুস্তাহাব ও নফলের ক্ষেত্রেও ব্যবহার হয়।
নামায সম্পর্কে অতি গুরুত্বপূর্ণ১৭০টি প্রশ্নোত্তর (১ম পর্ব)
নামায সম্পর্কে অতি গুরুত্বপূর্ণ১৭০টি প্রশ্নোত্তর (১ম পর্ব)

Price : *Happy Shopping
Order via whatsapp Order via Email

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Content copy is disabled! Default text copied.