মূর্তিপুজা আজকাল একদল নামধারী মুসলিম মূর্তিপূজা দেখতে যায়। এরা কি আসলে মুসলিম?
মূর্তিপুজা!!! আজকাল একদল নামধারী মুসলিম মূর্তিপূজা দেখতে যায়।
এরা কি আসলে মুসলিম? কুরআনের বানী-
ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺍﻟْﺨَﻤْﺮُ ﻭَﺍﻟْﻤَﻴْﺴِﺮُ ﻭَﺍﻷﻧْﺼَﺎﺏُ ﻭَﺍﻷﺯْﻻﻡُ ﺭِﺟْﺲٌ
ﻣِﻦْ ﻋَﻤَﻞِ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥِ ﻓَﺎﺟْﺘَﻨِﺒُﻮﻩُ ﻟَﻌَﻠَّﻜُ
ﺗُﻔْﻠِﺤُﻮﻥَ
হে মুমিনগণ, নিশ্চয় মদ ও জুয়া আর
প্রতিমা-মূর্তি এবং ভাগ্য-
নির্ধারক তীরসমূহ অপবিত্র শয়তানের কাজ, তাই তোমরা তা পরিহার
কর যেন তোমরা সফলকাম হতে পার। (আল-মায়িদাহ, ৫/৯০)
ﻓَﺎﺟْﺘَﻨِﺒُﻮﺍ ﺍﻟﺮِّﺟْﺲَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺄَﻭْﺛَﺎﻥِ ﻭَﺍﺟْﺘَﻨِﺒُﻮﺍ
ﻗَﻮْﻝَ ﺍﻟﺰُّﻭﺭِ
তোমারা মূর্তিপূজার অপবিত্রতা থেকে বিরত থাক এবং মিথ্যা কথা
পরিহার কর। (হাজ্জ, ২২/৩০)
ﻭَﻣَﺎ ﺫُﺑِﺢَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻨُّﺼُﺐِ ﻭَﺃَﻥْ ﺗَﺴْﺘَﻘْﺴِﻤُﻮﺍ ﺑِﺎﻟْﺄَﺯْﻟَﺎﻡِ ۚ ﺫَٰﻟِﻜُﻢْ ﻓِﺴْﻖٌ ۗ
আর যে সমস্ত পশুকে পূজার বেদীতে বলি দেয়া হয়েছে তা আর জুয়ার
তীর দ্বারা ভাগ্য নির্ণয় করা তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে,
এগুলো পাপ কাজ। (মায়িদা, ৫/৩)
আল্লাহ বলেন- মূর্তিপূজা অপবিত্র শয়তানের কাজ, তাহলে তারা কি
ইবলিস শয়তানের কাজ- কারবার দেখতে যায়?
ﺇِﻥْ ﻳَﺪْﻋُﻮﻥَ ﻣِﻦْ ﺩُﻭﻧِﻪِ ﺇِﻻ ﺇِﻧَﺎﺛًﺎ ﻭَﺇِﻥْ ﻳَﺪْﻋُﻮﻥَ ﺇِﻻ ﺷَﻴْﻄَﺎﻧًﺎ ﻣَﺮِﻳﺪًﺍ
তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে কতগুলো নারীমূর্তিকে আহবান করে আর
তারা কেবলমাত্র অবাধ্য শয়তানকে আহবান করে। (আন-নিসা, ৪/১১৭)
*** হে মূর্তি পূজারীরা! ***
`
ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺗَﻌْﺒُﺪُﻭﻥَ ﻣِﻦْ ﺩُﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻭْﺛَﺎﻧًﺎ ﻭَﺗَﺨْﻠُﻘُﻮﻥَ ﺇِﻓْﻜًﺎ ۚ ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ
ﺗَﻌْﺒُﺪُﻭﻥَ ﻣِﻦْ ﺩُﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻟَﺎ ﻳَﻤْﻠِﻜُﻮﻥَ ﻟَﻜُﻢْ ﺭِﺯْﻗًﺎ ﻓَﺎﺑْﺘَﻐُﻮﺍ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺍﻟﺮِّﺯْﻕَ ﻭَﺍﻋْﺒُﺪُﻭﻩُ ﻭَﺍﺷْﻜُﺮُﻭﺍ ﻟَﻪُ ۖ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﺗُﺮْﺟَﻌُﻮﻥَ
তোমরা তো আল্লাহকে বাদ দিয়ে মূর্তির পূজা করছ আর মিথ্যা
বানাচ্ছ। নিশ্চয় আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের উপাসনা কর তারা
তোমাদের জন্য রিয্ক দানের কোন ক্ষমতা রাখে না। তাই আল্লাহর
নিকট রিয্ক তালাশ কর আর তাঁরই ইবাদাত কর এবং তাঁর প্রতি
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।
(আন-কাবুত, ২৯/১৭)
ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺍﺗَّﺨَﺬْﺗُﻢْ ﻣِﻦْ ﺩُﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻭْﺛَﺎﻧًﺎ ﻣَﻮَﺩَّﺓَ ﺑَﻴْﻨِﻜُﻢْ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺤَﻴَﺎﺓِ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ۖ
ﺛُﻢَّ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻳَﻜْﻔُﺮُ ﺑَﻌْﻀُﻜُﻢْ ﺑِﺒَﻌْﺾٍ ﻭَﻳَﻠْﻌَﻦُ ﺑَﻌْﻀُﻜُﻢْ ﺑَﻌْﻀًﺎ
ﻭَﻣَﺄْﻭَﺍﻛُﻢُ ﺍﻟﻨَّﺎﺭُ ﻭَﻣَﺎ ﻟَﻜُﻢْ
ﻣِﻦْ ﻧَﺎﺻِﺮِﻳﻦَ
দুনিয়ার জীবনে তোমাদের মধ্যে পরস্পরিক ভালবাসার জন্যই তো
তোমরা আল্লাহকে ছাড়া মূর্তিদেরকে গ্রহণ করেছ। তারপর কিয়ামতের
দিন তোমরা একে অপরকে অস্বীকার করবে এবং পরস্পর পরস্পরকে
অভিশাপ দিবে, আর তোমাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম আর তোমাদের
জন্য থাকবে না কোন সাহায্যকারী। (আন-কাবুত, ২৯/২৫)
-------
*** নবী ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-এর ঘটনা ***
-----
ﻭَﺍﺗْﻞُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻧَﺒَﺄَ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢَ ﺇِﺫْ ﻗَﺎﻝَ ﻟِﺄَﺑِﻴﻪِ ﻭَﻗَﻮْﻣِﻪِ ﻣَﺎ ﺗَﻌْﺒُﺪُﻭﻥَ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ
ﻧَﻌْﺒُﺪُ ﺃَﺻْﻨَﺎﻣًﺎ ﻓَﻨَﻈَﻞُّ ﻟَﻬَﺎ ﻋَﺎﻛِﻔِﻴﻦَ ﻗَﺎﻝَ ﻫَﻞْ ﻳَﺴْﻤَﻌُﻮﻧَﻜُﻢْ ﺇِﺫْ ﺗَﺪْﻋُﻮﻥَ
ﺃَﻭْ ﻳَﻨْﻔَﻌُﻮﻧَﻜُﻢْ ﺃَﻭْ ﻳَﻀُﺮُّﻭﻥَ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﺑَﻞْ ﻭَﺟَﺪْﻧَﺎ ﺁﺑَﺎﺀَﻧَﺎ ﻛَﺬَٰﻟِﻚَ ﻳَﻔْﻌَﻠُﻮﻥَ
ﻗَﺎﻝَ ﺃَﻓَﺮَﺃَﻳْﺘُﻢْ ﻣَﺎ ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﺗَﻌْﺒُﺪُﻭﻥَ ﺃَﻧْﺘُﻢْ ﻭَﺁﺑَﺎﺅُﻛُﻢُ ﺍﻟْﺄَﻗْﺪَﻣُﻮﻥَ ﻓَﺈِﻧَّﻬُﻢْ
ﻋَﺪُﻭٌّ ﻟِﻲ ﺇِﻟَّﺎ ﺭَﺏَّ ﺍﻟْﻌَﺎﻟَﻤِﻴﻦَ
আর তুমি তাদের নিকট ইবরাহীমের ঘটনা বর্ণনা কর, যখন সে তার
পিতা ও তার কওমকে বলেছিল, ‘তোমরা কিসের ইবাদাত কর?’ তারা
বলল, ‘আমরা মূর্তির পূজা করি। অতঃপর আমরা নিষ্ঠার সাথে তাদের
পূজায় রত থাকব। সে বলল, ‘যখন তোমরা ডাক তখন তারা কি
তোমাদের সে ডাক শুনতে পায়?’ ‘অথবা তারা কি তোমাদের উপকার
কিংবা ক্ষতি করতে পারে’? তারা বলল, ‘বরং আমরা আমাদের
পিতৃপুরুষদের পেয়েছি, তারা এরূপই করত’। ইবরাহীম বলল, ‘তোমরা কি
তাদের সম্পর্কে ভেবে দেখেছ, তোমরা যাদের পূজা কর’। ‘তোমরা এবং
তোমাদের অতীত পিতৃপুরুষেরা?’ ‘সকল সৃষ্টির রব ছাড়া অবশ্যই তারা
আমার শত্রু’। (আশ-শুআরা, ২৬/৬৯-৭৭)
ﻭَﺇِﺫْ ﻗَﺎﻝَ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢُ ﻟِﺄَﺑِﻴﻪِ ﺁﺯَﺭَ ﺃَﺗَﺘَّﺨِﺬُ ﺃَﺻْﻨَﺎﻣًﺎ ﺁﻟِﻬَﺔً ۖ ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﺭَﺍﻙَ ﻭَﻗَﻮْﻣَﻚَ
ﻓِﻲ ﺿَﻠَﺎﻝٍ ﻣُﺒِﻴﻦٍ
আর (স্মরণ কর) যখন ইবরাহীম তার পিতা আযরকে বলেছিল, ‘আপনি কি
মূর্তিগুলোকে ইলাহ রূপে গ্রহণ করছেন? নিশ্চয় আমি আপনাকে ও
আপনার জাতিকে স্পষ্টভাবে গোমরাহীতে নিমজ্জিত দেখছি’।
(আন‘আম, ৬/৭৪)
✔
*** মুসলিমরা হল মূর্তি ভাঙ্গার জাতি ***
✔
ﺇِﺫْ ﻗَﺎﻝَ ﻟِﺄَﺑِﻴﻪِ ﻭَﻗَﻮْﻣِﻪِ ﻣَﺎ ﻫَٰﺬِﻩِ ﺍﻟﺘَّﻤَﺎﺛِﻴﻞُ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﺃَﻧْﺘُﻢْ ﻟَﻬَﺎ ﻋَﺎﻛِﻔُﻮﻥَ
ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻭَﺟَﺪْﻧَﺎ ﺁﺑَﺎﺀَﻧَﺎ ﻟَﻬَﺎ ﻋَﺎﺑِﺪِﻳﻦَ ﻗَﺎﻝَ ﻟَﻘَﺪْ ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﺃَﻧْﺘُﻢْ ﻭَﺁﺑَﺎﺅُﻛُﻢْ
ﻓِﻲ ﺿَﻠَﺎﻝٍ ﻣُﺒِﻴﻦٍ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﺃَﺟِﺌْﺘَﻨَﺎ ﺑِﺎﻟْﺤَﻖِّ ﺃَﻡْ ﺃَﻧْﺖَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﺎﻋِﺒِﻴﻦَ ﻗَﺎﻝَ ﺑَﻞْ
ﺭَﺑُّﻜُﻢْ ﺭَﺏُّ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ َﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻓَﻄَﺮَﻫُﻦَّ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﻠَﻰٰ ﺫَٰﻟِﻜُﻢْ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺸَّﺎﻫِﺪِﻳﻦَ ﻭَﺗَﺎﻟﻠَّﻪِ ﻟَﺄَﻛِﻴﺪَﻥَّ ﺃَﺻْﻨَﺎﻣَﻜُﻢْ ﺑَﻌْﺪَ ﺃَﻥْ ﺗُﻮَﻟُّﻮﺍ ﻣُﺪْﺑِﺮِﻳﻦَ
ﻓَﺠَﻌَﻠَﻬُﻢْ ﺟُﺬَﺍﺫًﺍ ﺇِﻟَّﺎ ﻛَﺒِﻴﺮًﺍ ﻟَﻬُﻢْ ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢْ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻳَﺮْﺟِﻌُﻮﻥَ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻣَﻦْ
ﻓَﻌَﻞَ ﻫَٰﺬَﺍ ﺑِﺂﻟِﻬَﺘِﻨَﺎ ﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﻤِﻦَ ﺍﻟﻈَّﺎﻟِﻤِﻴﻦَ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﺳَﻤِﻌْﻨَﺎ ﻓَﺘًﻰ ﻳَﺬْﻛُﺮُﻫُﻢْ
ﻳُﻘَﺎﻝُ ﻟَﻪُ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢُ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻓَﺄْﺗُﻮﺍ ﺑِﻪِ ﻋَﻠَﻰٰ ﺃَﻋْﻴُﻦِ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢْ
ﻳَﺸْﻬَﺪُﻭﻥَ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﺃَﺃَﻧْﺖَ ﻓَﻌَﻠْﺖَ ﻫَٰﺬَﺍ ﺑِﺂﻟِﻬَﺘِﻨَﺎ ﻳَﺎ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢُ ﻗَﺎﻝَ ﺑَﻞْ ﻓَﻌَﻠَﻪُ
ﻛَﺒِﻴﺮُﻫُﻢْ ﻫَٰﺬَﺍ ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﻫُﻢْ ﺇِﻥْ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳَﻨْﻄِﻘُﻮﻥَ ﻓَﺮَﺟَﻌُﻮﺍ ﺇِﻟَﻰٰ
ﺃَﻧْﻔُﺴِﻬِﻢْ ﻓَﻘَﺎﻟُﻮﺍ ﺇِﻧَّﻜُﻢْ ﺃَﻧْﺘُﻢُ ﺍﻟﻈَّﺎﻟِﻤُﻮﻥَ ﺛُﻢَّ ﻧُﻜِﺴُﻮﺍ ﻋَﻠَﻰٰ ﺭُﺀُﻭﺳِﻬِﻢْ
ﻟَﻘَﺪْ ﻋَﻠِﻤْﺖَ ﻣَﺎ ﻫَٰﺆُﻟَﺎﺀِ ﻳَﻨْﻄِﻘُﻮﻥَ ﻗَﺎﻝَ ﺃَﻓَﺘَﻌْﺒُﺪُﻭﻥَ ﻣِﻦْ ﺩُﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣَﺎ ﻟَﺎ
ﻳَﻨْﻔَﻌُﻜُﻢْ ﺷَﻴْﺌًﺎ ﻭَﻟَﺎ ﻳَﻀُﺮُّﻛُﻢْ ﺃُﻑٍّ ﻟَﻜُﻢْ ﻭَﻟِﻤَﺎ ﺗَﻌْﺒُﺪُﻭﻥَ ﻣِﻦْ ﺩُﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۖ
ﺃَﻓَﻠَﺎ
ﺗَﻌْﻘِﻠُﻮﻥَ
যখন সে (ইবরাহীম) তার পিতা ও তার কওমকে বলল, ‘এ মূর্তিগুলো
কী, যেগুলোর পূজায় তোমরা রত রয়েছ’? তারা বলল, ‘আমরা আমাদের
পূর্বপুরুষদেরকে এদের পূজা করতে দেখেছি’। সে বলল, ‘তোমরা নিজেরা
এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা সবাই রয়েছ স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে’। তারা
বলল, ‘তুমি কি আমাদের নিকট সত্য নিয়ে এসেছ, নাকি তুমি কৌতুক
করছ’? সে বলল, ‘না, বরং তোমাদের রব তো আসমানসমূহ ও যমীনের
রব; যিনি এ সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। আর এ বিষয়ে আমি অন্যতম
সাক্ষী’। ‘আর আল্লাহর কসম, তোমরা চলে যাওয়ার পর আমি
তোমাদের মূর্তিগুলোর ব্যাপারে অবশ্যই কৌশল অবলম্বন করব’।
অতঃপর সে মূর্তিগুলোকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল তাদের বড়টি ছাড়া,
যাতে তারা তাঁর দিকে ফিরে আসে। তারা বলল, ‘আমাদের
দেবদেবীগুলোর সাথে কে এমনটি করল? নিশ্চয় সে যালিম’। তাদের
কেউ কেউ বলল, ‘আমরা শুনেছি এক যুবক এই মূর্তিগুলোর সমালোচনা
করে। তাকে বলা হয় ইবরাহীম’। তারা বলল, ‘তাহলে তাকে লোকজনের
সামনে নিয়ে এসো, যাতে তারা দেখতে পারে’। তারা বলল, ‘হে
ইবরাহীম, তুমিই কি আমাদের দেবদেবীগুলোর সাথে এরূপ করেছ’? সে
বলল, ‘বরং তাদের এ বড়টিই এ কাজ করেছে। তাই এদেরকেই
জিজ্ঞাসা কর, যদি এরা কথা বলতে পারে’। তখন তারা মনে মনে
চিন্তা করে দেখল এবং একে অপরকে বলতে লাগল, তোমরাই তো
সীমালংঘনকারী। অতঃপর তাদের মাথা অবনত হয়ে গেল এবং বলল,
‘তুমি তো জানই যে, এরা কথা বলতে পারে না’। সে (ইবরাহীম) বলল,
‘তাহলে কি তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর ইবাদাত কর, যা
তোমাদের কোন উপকার করতে পারে না এবং কোন ক্ষতিও করতে
পারে না’? ‘ধিক তোমাদেরকে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের
ইবাদাত কর তাদেরকে! ‘তবুও কি তোমরা বুঝবে না’? (আম্বিয়া,
২১/৫২-৬৭)
ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻣَﺴْﻌُﻮﺩٍ ـ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ـ ﻗَﺎﻝَ ﺩَﺧَﻞَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻﻠﻰ
ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣَﻜَّﺔَ، ﻭَﺣَﻮْﻝَ ﺍﻟْﻜَﻌْﺒَﺔِ ﺛَﻼَﺛُﻤِﺎﺋَﺔٍ ﻭَﺳِﺘُّﻮﻥَ ﻧُﺼُﺒًﺎ
ﻓَﺠَﻌَﻞَ ﻳَﻄْﻌَﻨُﻬَﺎ ﺑِﻌُﻮﺩٍ ﻓِﻲ ﻳَﺪِﻩِ ﻭَﺟَﻌَﻞَ ﻳَﻘُﻮﻝُ }ﺟَﺎﺀَ ﺍﻟْﺤَﻖُّ ﻭَﺯَﻫَﻖَ
ﺍﻟْﺒَﺎﻃِﻞُ{ ﺍﻵﻳَﺔَ
আব্দুল্লাহ ইবনু
মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (মক্কা বিজয়ের দিন)
মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন কাবা ঘরের চারপাশে তিনশ ষাটটি মূর্তি
ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের হাতের লাঠি দিয়ে
মূর্তিগুলোকে আঘাত করতে থাকেন আর বলতে থাকেন,
ﺟَﺎﺀَ ﺍﻟْﺤَﻖُّ ﻭَﺯَﻫَﻖَ ﺍﻟْﺒَﺎﻃِﻞُ ۚ ﺇِﻥَّ ﺍﻟْﺒَﺎﻃِﻞَ ﻛَﺎﻥَ
ﺯَﻫُﻮﻗًﺎ
সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে;
নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত
হওয়ারই ছিল। (ইসরা, ১৭/৮১) (সহীহুল বুখারী: ২৪৭৮, ৪৭২০)
✔
*** ইবরাহীম আলাইহিস সালাম দু‘আ করেছিলেন ***
✔
ﻭَﺇِﺫْ ﻗَﺎﻝَ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢُ ﺭَﺏِّ ﺍﺟْﻌَﻞْ ﻫَٰﺬَﺍ ﺍﻟْﺒَﻠَﺪَ ﺁﻣِﻨًﺎ ﻭَﺍﺟْﻨُﺒْﻨِﻲ ﻭَﺑَﻨِﻲَّ ﺃَﻥْ
ﻧَﻌْﺒُﺪَ ﺍﻟْﺄَﺻْﻨَﺎﻡَ ﺭَﺏِّ ﺇِﻧَّﻬُﻦَّ ﺃَﺿْﻠَﻠْﻦَ ﻛَﺜِﻴﺮًﺍ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ۖ ﻓَﻤَﻦْ ﺗَﺒِﻌَﻨِﻲ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ
ﻣِﻨِّﻲ ۖ ﻭَﻣَﻦْ ﻋَﺼَﺎﻧِﻲ ﻓَﺈِﻧَّﻚَ
ﻏَﻔُﻮﺭٌ ﺭَﺣِﻴﻢٌ
আর স্মরণ কর ‘যখন ইবরাহীম
বলল, হে আমার রব! এই শহরকে
নিরাপদ করুন এবং আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে মূর্তি পূজা করা
থেকে দূরে রাখুন। হে আমার রব, নিশ্চয় এসব মূর্তি অনেক মানুষকে
পথভ্রষ্ট করেছে, সুতরাং যে আমার অনুসরণ করেছে, নিশ্চয় সে আমার
দলভুক্ত, আর যে আমার অবাধ্য হয়েছে, তবে নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল,
পরম দয়ালু’। (ইবরাহীম, ১৪/৩৫-৩৬)
✔
মন্তব্যঃ মুসলিমরা হল মূর্তি ভাঙ্গার জাতি আর আজকাল একদল
নামধারী মুসলিম মূর্তিপূজা দেখতে যায়, এর চেয়ে পরিতাপের বিষয় আর
কি হতে পারে?
Price : *Happy Shopping

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url