কোন কিছু থেকে কিছু হয় না, সমস্ত কিছু হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে বা আল্লাহর ইচ্ছায়
কোন কিছু থেকে কিছু হয় না, সমস্ত কিছু হয় আল্লাহর
পক্ষ থেকে বা আল্লাহর ইচ্ছায়
------------------------------------------------------------
---------------------------------
কুরআন থেকে দলিল
-----------------------------
কোন কিছুই আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে ঘটে না। হোক না সেটা
আল্লাহর কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট অথবা মাখলুকের কর্মের সাথে
সংশ্লিষ্ট।
আল্লাহ তাআলা বলেন: “আপনার পালনকর্তা যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন
এবং (যা ইচ্ছা) মনোনীত করেন।”[সূরা কাসাস, আয়াত: ৬৮]
তিনি আরো বলেন: “এবং আল্লাহ যা ইচ্ছা সেটাই করেন”[সূরা
ইব্রাহিম, আয়াত: ২৭]
তিনি আরো বলেন: “তিনিই মাতৃগর্ভে তোমাদেরকে আকৃতি দান
করেন যেভাবে ইচ্ছা করেন সেভাবে।”[সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৬]
বান্দার কর্ম সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন : “আর আল্লাহ ইচ্ছা
করলে অবশ্যই তাদেরকে তোমাদের উপর ক্ষমতা দিতে পারতেন।
যাতে তারা নিশ্চিতরূপে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে
পারত।”[সূরা নিসা, আয়াত: ৯০]
তিনি আরো বলেন: “তোমার রব যদি ইচ্ছা করত, তবে তারা তা
করত না”[সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১১২]
হাদিস থেকে দলিল ---------------
------------------------
↓ এক ইহুদীর প্রশ্ন এবং রাসুলুল্লাহ (সা) এর জবাবঃ→→
↓
ইমাম আওযায়ী (রহ) থেকে বর্নিত হয়েছে, এক ইহুদী রাসুলুল্লাহ
(সা) এর নিকট এসে আল্লাহর মাশীয়াত (ইচ্ছা ওএরাদা) সম্পর্কে
জিজ্ঞাসা করলো। তিনি বললেন মাশীয়াত একমাত্র আল্লাহ
তায়ালার জন্য। সে বললো আমি যখন দাঁড়াতে ইচ্ছা করি, দাঁড়াই।
তিনি বললেন আল্লহ চেয়েছেন যে তুমি দাড়াও। আমি যখন বসতে
ইচ্ছা করি, বসে যায় । তিনি বললেন আল্লাহই চেয়েছেন তুমি
বস। সে বললো আমি যদি এই খেজুর গাছটি কাটতে ইচ্ছা করি,
কেটে ফেলি। আল্লাহই ইচ্ছা করেছেন তুমি ওটা কেটে ফেল। সে
বললো আমি যদি এই খেজুর গাছটি কাটতে ইচ্ছা না করি, তাহলে
কাটি না। তিনি বললেন আল্লাহরই ইচ্ছা হলো যে, তুমি ওটা
কাটবে না। এমন সময় জিবরাঈল (আ) আসলেন এবং বললেন, আপনাকে
আপনার যুক্তি এমনভাবে শিখিয়ে দেয়া হয়েছে যেমনভাবে
ইব্রাহিম (আ) কে উনার যুক্তি শিখিয়ে দেয়া হয়েছিল।
বর্ননাকারী বলেন,এই বিষয়েই কুরআনে পাকে নাযিল হয়েছেঃ
ﻣَﺎ ﻗَﻄَﻌْﺘُﻢْ ﻣِﻦْ ﻟِﻴﻨَﺔٍ ﺃَﻭْ ﺗَﺮَﻛْﺘُﻤُﻮﻫَﺎ ﻗَﺎﺋِﻤَﺔً ﻋَﻠَﻰٰ ﺃُﺻُﻮﻟِﻬَﺎ ﻓَﺒِﺈِﺫْﻥِ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻟِﻴُﺨْﺰِﻱَ ﺍﻟْﻔَﺎﺳِﻘِﻴﻦَ
তোমরা যে কিছু কিছু খর্জুর বৃক্ষ কেটে দিয়েছ এবং কতক না কেটে
ছেড়ে দিয়েছ, তা তো আল্লাহরই আদেশ এবং যাতে তিনি
অবাধ্যদেরকে লাঞ্ছিত করেন।(সুরা হাশর,আয়াতঃ ৫)
( Bayhaqi in his Asmaa was Sifaat (Pg-111 )
→↓হযরত আলী (রা) এর একটি ঘটনাঃ→→→
→→→→→→→→ →→→→→→→→ ↓
হযরত আলী (রা) থেকে বর্নিত, কেউ একজন উনাকে এই কথা বললো
যে, এখানে এমন একজন লোক আছে যে আল্লাহর মাশীয়াত সম্পর্কে
কথা বলে। হযরত আলী (রা) উক্ত ব্যাক্তিকে বললেন, হে আল্লাহর
বান্দা ! বল, আল্লাহ পাক তোমাকে তিনি যেমন চেয়েছেন তেমন
সৃষ্টি করেছেন না তুমি যেমন চেয়েছ? সে বললো তিনি যেমন
চেয়েছেন। হযরত আলী (রা) বললেন, তিনি যখন ইচ্ছা করেন
তোমাকে অসুস্থ করেন নাকি তুমি যখন ইচ্ছা কর ? সে বললো,
তিনি যখন ইচ্ছা করেন। হযরত আলী (রা) বললেন, তিনি যখন
ইচ্ছা করেন রোগ হতে মুক্তি দান করেন, না তুমি যখন ইচ্ছা কর?
সে বললো, তিনি যখন ইচ্ছা করেন। আলী (রা) বললেন, তিনি
তোমাকে যেখানে ইচ্ছা প্রবেশ করাবেন, নাকি তুমি যেখানে ইচ্ছা
প্রবেশ করিবে ? সে বললো, তিনি যেখানে ইচ্ছা প্রবেশ করাবেন।
হযরত আলী (রা) বললেন, খোদার কসম, যদি তুমি অন্য কোন জবাব
দিতে তাহলে এই তরবারি দ্বারা তোমার ওই অংগকে উড়িয়ে দিতাম
যেখানে তোমার চক্ষুদ্বয় রয়েছে। (তাফসীর ইবনে কাসীর
খন্ড:৩,পৃ-২১১)
উপরের আলোচনা থেকে তো এটা স্পষ্ট হল যে, সমস্ত কিছুই
আল্লাহর পক্ষ থেকে বা আল্লাহর ইচ্ছায় হয়।
এখন কেউ যদি এই প্রশ্ন করে যে,
♦♦তাহলে কি গুনার কাজগুলিও আল্লাহর ইচ্ছায় হয় ?? ♦♦
↓ →→→→→→→→↓ →→→→→→→→ →→→→→
এর জবাবে অবশ্যই- হ্যা, বলতে হবে। কেননা কেউ যদি এটা মনে
করে যে, ভালো কাজগুলি আল্লাহর ইচ্ছায় হয়, আর গুনার কাজ গুলি
অন্য কারো ইচ্ছায়, তাহলে তো সে আর তাওহিদের উপর রইলো না।
এটা তো অগ্নী-পুজকদের আক্বিদা যেখানে তারা তাদের জন্য দুই জন
প্রভু (নুর বা আলো এবং যুলমা বা অন্ধকার) এর পুজা করে। তাদের
দাবি হলো ভালো কাজ গুলি নুর দ্বারা আর মন্দ কাজ গুলি অন্ধকার
বা যুলমার দ্বারা সংঘটিত হয়।অথচ তাওহিদ তো এটাই যে,এই
সমস্ত সৃস্টি, সমস্ত খায়েনাত একজনের ইচ্ছায় পরিচালিত হয়।
তিনিই হলেন আল্লাহ।
আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
ﻳُﺪَﺑِّﺮُ ﺍﻟْﺄَﻣْﺮَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﺛُﻢَّ ﻳَﻌْﺮُﺝُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻓِﻲ ﻳَﻮْﻡٍ ﻛَﺎﻥَ
ﻣِﻘْﺪَﺍﺭُﻩُ ﺃَﻟْﻒَ ﺳَﻨَﺔٍ
ﻣِﻤَّﺎ ﺗَﻌُﺪُّﻭﻥَ
তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সমস্ত কর্ম পরিচালনা করেন,
অতঃপর তা তাঁর কাছে পৌছবে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ
তোমাদের গণনায় হাজার বছরের সমান।৩২/৫
♦♦♦ মাশীয়াতুল্লাহ বা আল্লাহর ইচ্ছা সম্বন্ধে শাইখ -
উসাইমীন (রহঃ) এর আলোচনা♦♦
→→→→→→→→ →→→→→→→→ →→→→→→→→
আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা বা এরাদা কে আরো ভালো ভাবে বুঝার জন্য
আল্লাহর মাশীয়াত বা
ইচ্ছা সম্বন্ধে বিখ্যাত শায়েখদের ব্যখ্যা জানার কোন বিকল্প
নেই। এখন আমি শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন
(রহঃ), আল্লাহর মাশীয়াতের প্রকারবেদ সম্বন্ধে যে আলোচনা
করেছেন তা পেশ করছি যা কিনা তিনি শায়েখ ইবনে তাইমিয়া
(রহ) থেকে নকল করেছেন।
♦♦: আল্লাহর ইচ্ছা বা ইরাদার প্রকারবেদ♦♦
→→→→→→→→ →→→→→→→→
ইরাদাহ (ইচ্ছা) দু’প্রকার
১) ইরাদাহ কাওনীয়া (সৃষ্টি গত ইচ্ছা)
২) ইরাদা শারঈয়া (শরীয়ত গত ইচ্ছা)
আল্লাহর যে ইচ্ছা সৃষ্টি করার সাথে সম্পৃক্ত তাই ইরাদাহ
কাওনীয়া।
আর যে ইচ্ছা ভালবাসার সাথে সম্পৃক্ত তাকে ইরাদাহ শরঈয়া বলা
হয়।
অর্থাৎ আল্লাহ তাআ’লা কোন জিনিষকে ভালবেসে যে ইচ্ছা পোষাণ
করেন তাকে ইরাদাহ শরঈয়া বলা হয়। ইরাদাহ শরঈয়ার উদাহরণ
হল, আল্লাহর বাণী
) ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﻳُﺮِﻳﺪُ ﺃَﻥْ ﻳَﺘُﻮﺏَ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ (
“আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করতে ইচ্ছা করেন।” (সূরা নিসাঃ ২৭)
এখানে ইচ্ছা করেন অর্থ ভালবাসেন। এখানে সৃষ্টিগত ইচ্ছা অর্থে
ব্যবহার হয়নি; বরং ব্যবহৃত হয়েছে শরীয়তগত ইচ্ছায়। যদি
সৃষ্টিগত অর্থে হত তাহলে সকল মানুষকে ক্ষমা করে দিতেন।
কিন্তু তা তো করেন নি। কেননা অধিকাংশ বনী আদমই কাফির।
সুতরাং আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করতে ইচ্ছা করেন অর্থ আল্লাহ
তোমাদেরকে ক্ষমা করা পছন্দ করেন। আল্লাহ কোন জিনিষকে
ভালবাসার অর্থ এই নয় যে, তা অবশ্যই কার্যকরী হবে। তা
কার্যকরী না হওয়ার পিছনে নিশ্চয়ই কোন রহস্য রয়েছে।
ইরাদাহ কাওনীয়া তথা সৃষ্টির সাথে সংলিষ্ট ইচ্ছার দৃষ্টান্ত হল,
) ﺇِﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻳُﺮِﻳْﺪُ ﺃَﻥْ ﻳُﻐْﻮِﻳَﻜُﻢْ (
“যদি আল্লাহই তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করার ইচ্ছা করেন।” (সূরা
হুদঃ ৩৪) এখানে যে ইচ্ছার কথা বলা হয়েছে, তাতে আল্লাহর
ভালবাসা থাকা জরুরী নয়।
যদি বলা হয় কার্যকরী হওয়া বা না হওয়ার দিক থেকে ইরাদাহ
কাওনীয়া এবং ইরাদাহ শরঈয়ার মধ্যে পার্থক্য কি? উত্তরে আমরা
বলব যে, ইরাদাহ কাওনীয়াতে উদ্দিষ্ট বস্ত অবশ্যই কার্যকরী
হবে। আল্লাহ কোন বস্ত সৃষ্টি করতে চাইলে তা অবশ্যই করবেন।
আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ
) ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺃَﻣْﺮُﻩُ ﺇِﺫَﺍ ﺃَﺭَﺍﺩَ ﺷَﻴْﺌﺎً ﺃَﻥْ ﻳَﻘُﻮْﻝَ ﻟَﻪُ ﻛُﻦْ ﻓَﻴَﻜُﻮْﻥُ (
“আল্লাহর আদেশ তো এমনই যে, তিনি যখন কোন কিছু সৃষ্টি
করতে চান, তখন তিনি বলেন, হয়ে যাও। আর সাথে সাথে তা হয়ে
যায়।” (সূরা ইউনুছঃ ৮২) আর ইরাদা শরঈয়া বাস্তবায়িত হওয়া
আবশ্যক নয়। কখনো তা কার্যকরী হয় আবার কখনো কার্যকরী
হয়না। অথচ আল্লাহ তাআ’লা শরীয়তগতভাবে জিনিষটি
বাস্তবায়িত হওয়াকে পছন্দ করেন।
যদি কোন লোক জিজ্ঞাসা করে যে, আল্লাহ কি পাপ কাজের ইচ্ছা
পোষণ করেন? উত্তর হল সংঘটিত হওয়ার দিক থেকে পাপ কাজও
আল্লাহর ইচ্ছাতেই হয়। কিন্তু আল্লাহ তা পছন্দ করেন না এবং
ভালবাসেন না। তবে আকাশ-জমিনে যা কিছু হয়, তা আল্লাহর
ইচ্ছাতেই হয়।
রেফারেন্সঃ ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম / শাইখ মুহাম্মাদ বিন
সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ) / ঈমান(৩৬)]]
♦♦আল্লাহর ইচ্ছার প্রকারবেদ সম্বন্ধে আরেকটু, সংক্ষিপ্ত
আলোচনা♦♦
→→→→→→→→ →→→→→→→→ →→→→→→→→
ইরাদাহ কাওনিয়া বা সৃস্টিগত ইচ্ছা হলো আল্লাহ তায়ালার ব্যাপক
ইচ্ছা, যেটার মধ্যে আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসা নেই। আল্লাহর
সৃষ্টিগত ইচ্ছার কতগুলি উদাহরন হল: মৃত্যু, গোনাহ, এবং
জড়বস্তুর চলন ও তার গুনাবলী। এগুলির মধ্যে বান্দা গোনাহ
করবে, এই ইচ্ছা তো আল্লাহ তায়ালার রয়েছে কিন্তু সন্তুষ্টি
নেই। আল্লাহ তায়ালার এই ব্যাপক ইচ্ছা, বান্দাকে পরীক্ষা করার
জন্য। তার মধ্যে বিভিন্ন খায়েশাতের গুনাবলী অন্তর্ভুক্ত করে
দেয়া হয়েছে তাকে পরীক্ষা করার জন্য। তার ইচ্ছা শক্তিকে
স্বাধীন করা হয়েছে।(যার আলোচনা নিচে করা হয়েছে।) সে ইচ্ছা
করলে গোনাহও করতে পারে বা নেক আমলও করতে পারে। এ সমস্ত
খায়েশাতের ইচ্ছা পুরন করা থেকে ফিরে কেউ যদি আল্লাহর
শরীয়াহ ইচ্ছার দিকে মনোনিবেশ করে তো আল্লাহ তায়ালা তাকে
পথ প্রদর্শন করেন।
আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
ۗ ﻗُﻞْ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻳُﻀِﻞُّ ﻣَﻦْ ﻳَﺸَﺎﺀُ ﻭَﻳَﻬْﺪِﻱ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻣَﻦْ ﺃَﻧَﺎﺏَ
বলে দিন, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যে,
মনোনিবেশ করে, তাকে নিজের দিকে পথপ্রদর্শন করেন।১৩/২৭
ইরাদা শারঈয়া বা শরীয়ত গত ইচ্ছা হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার
বিভিন্ন হুকুম যা আল্লাহ তায়ালা করতে বলেছেন। এর মধ্যে
আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি নিহিত। যেমন আল্লাহ
তায়ালা নামায কায়েম করার, সাওম পালন করার, হাজ্জ্ব করার
ইত্যাদি বিভিন্ন নেক আমল করার এবং ফিতনা -ফাসাদ, গোনাহ
ব্যাভচার ইত্যাদি থেকে বিরত থাকার জন্য নিষেধ করেছেন।
সৃষ্টিগত ইচ্ছা এবং শরীয়াত গত ইচ্ছার মধ্যে পার্থক্য হলো
শরীয়াত গত ইচ্ছা কার্যকর হতে পারে আবার নাও হতে পারে কিন্তু
সৃষ্টগত ইচ্ছা অবশ্যই কার্যকর হবে।
♦♦বান্দার ইচ্ছা শক্তি রয়েছে ♦♦
→→→→→→→→ →→→→
বান্দার নিজস্ব ইচ্ছাশক্তি রয়েছে। বান্দা ইচ্ছা করলে কোন নেক
কাজ করতে পারে এবং ইচ্ছা করলে তা বর্জন করতে পারে। ইচ্ছা
করলে কোন গুনাহর কাজ করতে পারে এবং ইচ্ছা করলে তা বর্জন
করতে পারে। আবার বান্দার ইচ্ছাটাও আল্লাহরযে কোন এক
প্রকারের ইচ্ছা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। শরীয়াতের দলিল ও বাস্তব
দলিল বান্দার এ ইচ্ছাশক্তি সাব্যস্ত করে।
# শরয়ি দলিল হচ্ছে- আল্লাহ তাআলা বলেন: “ঐ দিনটি সত্য।
অতএব যার ইচ্ছা সে তার রবের নিকট আশ্রয় গ্রহণ করুক।”[সূরা
নাবা, আয়াত: ৩৯]
তিনি আরো বলেন: “সুতরাং তোমরা তোমাদের ফসলক্ষেতে যেভাবে
ইচ্ছা সেভাবে গমন কর”[সূরা বাকারা, আয়াত: ২২৩]
তিনি বান্দার সক্ষমতা সম্পর্কে বলেন: “অতএব, তোমরা যথাসাধ্য
আল্লাহকে ভয় কর”[সূরা তাগাবুন, আয়াত: ১৬]
তিনি আরো বলেন: “আল্লাহ কোন ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে
দায়িত্ব দেন না। সে যা অর্জন করে তা তার-ই জন্য এবং সে যা
কামাই করে তা তার-ই উপর বর্তাবে।”[সূরা বাকারা, আয়াত: ২৮৬]
এ আয়াতগুলো সাব্যস্ত করে যে, মানুষের ইচ্ছাশক্তি ও ক্ষমতা
রয়েছে। এ দুটির মাধ্যমে সে যা ইচ্ছা তা করতে পারে এবং যা
ইচ্ছা তা বর্জন করতে পারে।
বাস্তব দলিল: প্রত্যেক মানুষ জানে যে, তার ইচ্ছাশক্তি ও ক্ষমতা
রয়েছে। এ দুটোর মাধ্যমে সে যা ইচ্ছা তা করতে পারে এবং যা
ইচ্ছা তা বর্জন করতে পারে। মানুষ তার ইচ্ছায় সাধিত কর্ম
যেমন- হাঁটা এবং তার অনিচ্ছায় সাধিত কর্ম যেমন- রোগীর
কাঁপুনি এতদুভয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। তবে মানুষের ইচ্ছা
ও ক্ষমতা আল্লাহর ইচ্ছা ও ক্ষমতার অনুবর্তী। এর দলিল হচ্ছে
আল্লাহ তাআলার বাণী: “যে তোমাদের মধ্যে সরল পথে চলতে চায়-
তার জন্য। আর তোমরা ইচ্ছা করতে পার না, যদি না সৃষ্টিকুলের
রব আল্লাহ ইচ্ছা করেন।” [সূরা তাকবীর, আয়াত: ২৮-২৯]
তাছাড়া গোটা মহাবিশ্ব আল্লাহ তাআলার মালিকানাধীন। অতএব,
তাঁর মালিকানাভুক্ত রাজ্যে কোন কিছু তাঁর অজ্ঞাতসারে অথবা
অনিচ্ছায় ঘটা সম্ভব নয়।
আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।
দেখুন: ‘শরহু উসুলুল ঈমান’ – শাইখ উছাইমীন।
বান্দার কাজ-কর্ম বান্দার অর্জন
→→→→→→→→ →→→→→→→→
বান্দার কাজ-কর্ম একদিকে যেমন আল্লাহ্র সৃষ্টি, অন্যদিকে
তেমনি তা বান্দার অর্জন। মহান আল্লাহ বলেন,
﴿ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﺧَٰﻠِﻖُ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲۡﺀٖۖ ﴾ [:ﺮﻣﺰﻟﺍ ٢٦ ]
“আল্লাহই সবকিছুর স্রষ্টা” (যুমার ৬২)।
অতএব, মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ ভাল-মন্দ দু’টিই
সৃষ্টি করেছেন। আর বান্দার কাজ-কর্ম যে তার নিজস্ব উপার্জন,
তার দলীল হচ্ছে,
﴿ ﻟَﻬَﺎ ﻣَﺎ ﻛَﺴَﺒَﺖۡ ﻭَﻋَﻠَﻴۡﻬَﺎ ﻣَﺎ ﭐﻛۡﺘَﺴَﺒَﺖۡۗ﴾ [ :ﺓﺮﻘﺒﻟﺍ ٦٨٢ ]
“সে তাই পায়, যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায়, যা
সে করে” (বাক্বারাহ ২৮৬)।
ۚ ﻭَﻟَﺘُﺴْﺄَﻟُﻦَّ ﻋَﻤَّﺎ ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﺗَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ
তোমরা যা কর সে বিষয়ে অবশ্যই জিজ্ঞাসিত হবে।(নাহল-৯৩)
-----------------><-----------------
সবাই শেয়ার করুন
Price : *Happy Shopping

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url