ছালাতের মাসায়েল সমুহ
---ছালাতের মাসায়েল সমুহ---
(কুরঅান ও সহীহ হাদিস অনুসরনে)
========================================
ছালাতের রুকন সমুহ:
রুকন অর্থ স্তম্ভ। একটি অপরিহার্য বিষয়।ইচ্ছেকৃতভাবে বা ভুল করে ছুটে গেলেও সালাত বাতিল বা নষ্ট হয়ে গেছে। সালাতে রুকন ৭ টি।
নিম্নরুপ:
১. কিয়াম বা দাড়ানো : তোমরা তোমার প্রভুর জন্য একনিষ্ঠচিক্তে দাড়িয়ে যাও। (বাকারা :২৩৮)
২.তাকবীরে তাহরীমা: অর্থাৎ অাল্লাহু অাকবর বলে কাধ বা কান বরাবর হাত উঠানো।
রাসুল (সঃ) বলেন, ছালাতের জন্য সবকিছু হারাম হয় তাকবিরের মাধ্যমে, সবকিছু হালাল হয় সালামের মাধ্যমে।
(অাবু দাউদ,তিরমিযি, মিশকাত হা/৩১২)
৩.সুরা ফাতিহা পাঠ করা।
রাসুল (সঃ) বলেন, ঐ ব্যাক্তির সালাত সিদ্ধ হয় না,যে সালাত সুরা ফাতিহা পড়া হয় না।
(মুক্তাফাক অালাইহে,মিশকাত হা/৮২২)
৪.+৫. রুকু, সিজদাহ করা।
অাল্লাহ বলেন,হে মুমিনগন! তোমরা রুকু সিজদাহ করা।
(হজ্ব :৭৭)
৬. তা'দীলে অারকান বা ধীরেসুস্থে সালাত অাদায় করা।
(দলিল: মুক্তাফাক অালাইহে,মিশকাত হা/৭৯০ হাদিস টি)
৭.শেষ বৈঠক।
(বুখারি,মিশকাত হা/৯৪৮)
=========================================
ছালাতের ওয়াজিবসমুহ:
রুকনের পর ওয়াজিবের স্হান।ইচ্ছেকৃতভাবে ভুল করলে সালাত বাতিল,ভুল করে বাদ গেলে সহো সিজদাহ দিতে হয়। ওয়াজিব ৮টি।
১.তাকবিরে তাহরীমা ব্যাতিত অন্য সকল তাকবীর।
(বুখারি, মুসলিম,মিশকাত হা/৭৯৯,৮০১)
২.রুকুতে তাসবিহ পড়া।কমপক্ষে "সুবাহানা রাব্বিয়াল অাযীম''
(নাসাঈ, অাবু দাউদ,তিরমিযি মিশকাত হা/৮৮১)
৩.ক্বাওমার সময় "ছামিওল্লাহ হুলিমান হামিদাহ" বলা।
(বুখারি, মুসলিম,মিশকাত হা/৮৭০,৭৪,৭৫,৭৭)
৪.ক্বওমার সময় "রব্বানা লাকাল হামদ অথবা রব্বানা লাকাল হামদ,হামদান কাসিরান ত্বাইয়েবান মুবাররকান ফীহি "
(বুখারি, মিশকাত হা/৭৩২-৩৫,৭৩৮)
৫.সিজদাহ গিয়ে তাসবিহ পড়া। কমপক্ষে 'সুবাহানা রাব্বিয়াল অালা' পড়া।
(নাসাঈ, অাবু দাউদ,তিরমিযি, মিশকাত হা/৮৮১)
৬.দুই সিজদাহ এর মাঝখানে স্হির হয়ে বসা ও দোঅা পাঠ করা।কমপক্ষে 'রব্বিগফীরলি ২ বার" পাঠ করা।
(ইবনু মাজাহ, হা/৮৯৭,অাবু দাউদ হা/৮৫০)
অথবা, "অাল্লাহুম্মাগফিরলী ওয়ারহামনী ওয়াজবুরনী ওয়াহদ্বিনী ওঅা ফিনী ওয়ারযুকনী"
(তিরমিযি, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৯০০)
৭.প্রথম বৈঠকে বসা ও তাশাহুদ পাঠ করা।
(মুক্তাফাক অালাইহে,মিশকাত হা/৯০৯)
৮.সালামের মাধ্যমে ছালাত শেষ করা।
(অাবু দাউদ,তিরবানি, মিশকাত হা/৩১২)
=======================================
ছালাত নষ্টের কারন সমুহ:
১.ছালাতরত অবস্হায় কোন কিছু খাওয়া বা পান করা।
২.সালাতের স্বার্থ ব্যতিরেক অন্য কারনে ইচ্ছেকৃতভাবে কথা বলা।
৩.ইচ্ছেকৃতভাবে বাহুল্য কাজ বা 'অামলে কাছীর' করা। যা দেখলে মনে হয় সে সালাতের মধ্যে নেই।
৪.ইচ্ছেকৃতভাবে বা ভুলবশত কোন রুকন ছুটে গেলে।
৫. সালাতের মধ্যে অধিক হাস্য করা।
(ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২০৫ পৃঃ)
=========================================
ওযু ও প্রবিএতা সংক্রান্ত কিছু মাছায়েল:
১.ওযুতে অঙ্গগুলি এক,দুই, বা তিনবার করে ধৌত করা যাবে। রাসুল (সঃ) তিনবার করেই বেশি ধৌত করকেন।
(মুক্তাফাক অালাইহে,মুসলিম,মিশকাত হা/২৮৭)
২.ওযুর মধ্যে তারতীব বা ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।
(মায়েদা :০৬)
৩.ওযুতে অঙ্গগুলি ডান দিক থেকে ধৌত করা সুন্নত।
(অাহমদ,মুসলিম,মিশকাত হা/৪০০,৪০১)
৪.মুখে ওযুর নিয়ত পাঠ করার কোন দলিল নেই,প্রত্যেক অঙ্গ ধৌত করতে গিয়ে দোয়া পড়ার হাদিস মওযু বা জাল।
(তাযকিরাতুল মাওযুঅাত,পৃষ্টা :৩২)
৫.গর্দান মাসাহ করার কোন বিশুদ্ধ প্রমান নেই।ইমাম নববী এটাকে বিদাঅাত বলেছেন।
(নায়লুল অাওত্বার ১/২৪৫-৪৭)
৬.ওযুর অঙ্গে যখমপটৃি বাধা থাকলে, তাতে পানি ভাজলে রোগ বৃদ্ধির অাশংকা থাকলে তার উপর দিয়ে ভিজা হাতে মাসাহ করবে।
(ছহীহ ইবনু খুজাইয়ামা হা/২৭৩)
৭.হালাল পশুর মলমুএ পাক। অতএব এসব পোষাকে লাগলেও নাপাক হবেনা।
(মুক্তাফাক অালাইহে,মিশকাত হা/৩৫৩৯)
৮.দুগ্ধপোষ্য কন্যা শিশুর পেশাব গায়ে লাগলে ঐ স্হানটুকু ধুয়ে নেবে,পুএ শিশু হলে পানি ছিটিয়ে দিবে।
(অাবু দাউদ,নাসাঈ, মিশকাত হা/৫০১-০২)
৯.বীর্য ও তার অাগে পিছে সর্দির ন্যায় নির্গত অাঠালো বস্তুকে যথাক্রমে মনী,মযী,অদি বলে। উক্তোজনাবশত বীর্যপাতে গোসল ফরয।বাকী দুটোতে কেবল অঙ্গ ধুতে হয় ও অযু করতে হয়। কাপড়ে লাগলে ঐ স্হানটুকু ধুবে বা পানি ছিটিয়ে দিবে। অার শুখনো হলে নখ দিয়ে খুটে ফেলবে।
(ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২০-২১)
১০.ফরয গোসলের পুর্বে নাপাক অবস্হায় কোরঅান স্পর্শ করা যাবেনা, তবে মুখে কুরঅান পাঠ কিংবা মসজিদে প্রবেশ জায়েজ অাছে।
তবে সাধারন নাপাক অবস্হায় কুরঅান স্পর্শ বা বহন করা জায়েজ অাছে।
(ফিক্বহুস সুন্নাহ, ১/৪৩,৫১-৫২)
========================================
সুৎরার বিধান:
মুসল্লীর সামনে দিয়ে যাতায়াত নিষেধ। মুসল্লীর সামনে দিয়ে যাতায়াত করার গোনাহ যদি জানত তার জন্য ৪০ দিন বা ৪০ বছর দাড়িয়ে থাকত।[1]
কিবলার দিকে লাটি,মানুষ,দেওয়াল,যেকোন বস্তু দ্বারা মুসল্লীর সামনে সুৎরা বা অাড়াল করতে হয়।[2]
তবে জামাঅাত চলার সময় অনিবার্য কারনবশত সামনে দিয়ে যাওয়া জায়েজ অাছে।[3]
সিজদাহ এর স্হান হতে সুৎরার মধ্যে বকরি চলাচলের জায়গা থাকতে হবে।[4]
অতএব মসজিদে বা খোলা স্হানে সিজদাহ এর স্হান হতে বকরি যাতায়াতের জায়গা রেখে অতিক্রম করা যায়।তবে দাড়িয়ে অপেক্ষা করা উওম।সুৎরা না পেলে সম্মুখ রেখা টানার হাদিস জইফ[5]
অাজকাল অনেক মসজিদে সুৎরা বানিয়ে রাখা হয়।যা সামনে রেখে যাতায়াত করা হয়।এটি সামনে দিয়ে যাওয়ার শামিল।শরীঅতে এর কোন প্রমান নেই।
দলিল:
[1] মুক্তাফাক অালাইহে,মিশকাত হা/৭৭৬.
[2]বুখারি, মুসলিম,মিশকাত হা/৭৭৩,৭৭৭.
[3]মুক্তাফাক অালাইহে,মিশকাত হা/৭৮৩.
[4]বুখারি হা/৪৯৬.
[5]অাবু দাউদ,মিশকাত হা/৭৮১.
====================================
"অার যারা তাদের নামাযসমুহের হিফাজত করে,তারাই হবে উওরাধিকারী।
অধিকারী হবে জান্নাতুল ফিরদাউসের।
তাতে তারা চিরকাল থাকবে।
(সুরা:মুমিনুন, অায়াত :৯-১১)
✔✔✔✔✔✔✔✔✔✔✔✔✔

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url