ইসলামিক প্রশ্ন উওর
১. প্রশ্নঃ- অনেকেই তো বলে যে, জিহাদ হল সন্ত্রাস, জিহাদকারি
সন্ত্রাসী এবং জিহাদের মাধ্যমে সমাজে কেবল ফিতনা ফাসাদ। আবার
অনেকেই বলে জিহাদ সন্ত্রাস নয়, নয় ফিতনা ফ্যাসাদ এবং জিহাদের
মাধ্যমে ফিতনা ফ্যাসাদ সৃষ্টি নয় বরং নির্মূল হয়। এ ব্যাপারে কুরআন
কি বলে?
উত্তরঃ- কুরআনে আল্লাহ্ বলেছেন,
“কাফির মুশরিকদের বিরুদ্ধে তোমরা যুদ্ধ করতে থাক! যতক্ষণ না
ফিতনা নির্মূল হয় এবং আল্লাহর দ্বীন (পৃথিবীতে) সামগ্রিকভাবে
প্রতিষ্ঠিত হয়।“ (সুরা আনফাল, আয়াত-৩৯)
২. প্রস্নঃ জিহাদ দ্বারা কিভাবে ফিতনা ফ্যাসাদ নির্মূল করা সম্ভব
অথচ জিহাদে গেলে তো ব্যাপক রক্তপাত হয়, অসংখ্য মানুষের প্রান
নাশ ঘটে?
উত্তরঃ- কুরআনে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন বলেনঃ
“(তোমরা কাফিরদের হত্যা কর যেখানে পাও সেখানেই...।(কেননা
জিহাদ ছাড়া, জালিম কাফিরদেরকে হত্যা করা ছাড়া ফিতনা ফ্যাসাদ
নির্মূল করা সম্ভব না) আর ফিতনা ফ্যাসাদ করা হত্যা ও প্রান নাশের
থেকেও জঘন্যতম।)“ (সুরা বাকারা, আয়াত-১৯১)
৩. প্রস্নঃ- জিহাদের এই ব্যাপারটা কি আমাদের জন্য নতুন কোন বিষয়
নাকি পূর্ববর্তী নবীগনের যামানায় ও এটা ছিল? এবং পূর্ববর্তী
নবীগনও কি জিহাদ করেছিলেন?
উত্তরঃ- আল্লাহ্ তায়ালা বলেন,
“(আর দাউদ (আঃ জালিম বাদশাহ) জালুতকে হত্যা করলেন এবং
আল্লাহ্ তায়ালা তাকে রাজত্ব ও প্রজ্ঞা দান করলেন) (সুরা বাকারা,
আয়াত-২৫১)
৪. প্রস্নঃ-পূর্ববর্তী নবিগনের সাথে কি তাদের উম্মতগণও কি জিহাদ
করেছিলেন?
উত্তরঃ- আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনে বলেন,
“(আর অনেক নবী বিগত হয়ে গেছেন, তাদের সাথে অনেক খোদা ভক্ত
লোক আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে। তবে আল্লাহর পথে তাদের উপর
যা আপতিত হয়েছে তার জন্য তারা হতোদ্যম হননি। আর ত্যারা দুর্বল
হননি এবং তারা নতও হননি। আর আল্লাহ্ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন)
(সুরা আল-ইমরান, আয়াত-১৪৬)
৫. প্রস্নঃ পূর্ববর্তী উম্মত্রা কি নিজেদের হিফাজতের জন্য কি
জিহাদের কামনা করেছিলেন? নাকি এম্নিতেই তাদের উপর জিহাদকে
চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল। আর যখন তাদের উপর জিহাদ কে ফরজ করা
হয়েছিল তখন তাদের অবস্থাই বা কেমন হয়েছিল?
উত্তরঃ- আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনে বলেন,
(মুসা (আঃ) পরবর্তী একদল বনি ইসরাইলের ঘটনা কি তুমি জান না?
যখন তারা নিজেদের এক নবী (হজ্রত শাময়ীল আঃ) কে বলল, আমাদের
জন্য এক বাদশাহ নির্ধারণ করে দিন, যার নেতৃত্বে আমরা জিহাদ
করব। অতঃপর সেই নবী তাদেরকে বললেন “এ রূপ সম্ভাবনা আছে কি
যে যদি তোমাদের উপর জিহাদ ফরজ করা হয় তাহলে তোমরা জিহাদ
করবে না ?(অর্থাৎ জিহাদ করতে অস্বীকৃতি জানাবে)। তখন তারা
বলল এমন কি কারন থাকতে পারে যে, আমরা জিহাদ করব না? অথচ
তারা তাদের অল্প কয়েকজন ব্যাতিত বাকি সকলেই জিহাদ হতে পৃষ্ঠ
প্রদরশন করল। আর আল্লাহ্ আদেশ অমান্যকারিদের ব্যপারে ভালই
জানেন।)” (সুরা বাকারা, আয়াত-২৪৬)
৬. প্রস্নঃ- তাহলে আখন মুসলিমদের উপর জিহাদের হুকুম কি?
অনেকেই তো জিহাদ করতে চায় না?
উত্তরঃ- আল্লাহ্ বলেন,
“(তোমাদের উপর কিতালকে (জিহাদ) ফরজ করা হলো যদিও তোমাদের
কাছে তা অপছন্দনীয়। কোন একটা বিষয় হয়ত তোমাদের কাছে
অপছন্দনীয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর অপর কোন
একটা বিষয় হয়ত তোমাদের কাছে পছন্দনীয়, অথচ তা তোমাদের জন্য
অকল্যাণকর। বস্তুতঃ আল্লাহই ভাল জানেন, তোমরা জাননা) (সুরা
বাকারা, আয়াত-২১৬)
৭. প্রস্নঃ- আমা বুঝতে পারলাম যে, জিহাদ ফরজ হয়ে গেছে। আখন
প্রশ্ন হল, আমরা কিভাবে জিহাদে রওয়ানা করব?
উত্তরঃ- আল্লাহ্ বলেন,
“(তোমরা বের হয়ে পরো স্বল্প অথবা প্রচুর সরঞ্জামের সাথে এবং
জিহাদ করো আল্লাহর পথে নিজেদের জান ও মাল দিয়ে। এটা তোমাদের
জন্য অতিউত্তম যদি তোমরা বুঝতে।))” (সুরা তওবা, আয়াত-৪১)
৮. প্রস্নঃ- যখন আমরা জিহাদে বের হয়ে যাব, যুদ্ধের ময়দানে পা
রাখব তখন ও কি আমাদের পরিক্ষার সম্মুখীন হতে হবে?
উত্তরঃ- আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন বলেন,
“(আর আমি অবশ্যই পরিক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধার যাতনা, সম্পদের
ক্ষতি, প্রান নাশের ক্ষতি ও খেত খামারের খতিয়া দ্বারা। (আর এ
সকল বিপদে) ধৈর্যশীলদেরকে উপদেশ দিন।“) (সুরা বাকারা,
আয়াত-১৫৫)
৯. প্রস্নঃ- আমাদের পুরবেও কি কোন সম্প্রদায় কে কি জিহাদে
যাওয়ার ক্ষেত্রে এভাবে কোন পরিক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছিল?
উত্তরঃ- আল্লাহ্ কুরআনে বলেন,
“(অতঃপর তালুত যখন সৈন্যবাহিনি নিয়ে বের হল, তখন সে বলল,
নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাদের একটি নদী দ্বারা পরীক্ষা করবেন। অতএব,
যে তা হতে পান করবে, সে আমার দলভুক্ত নয়। আর যে খাবে না,
তাহলে নিশ্চয়ই সে আমার দলভুক্ত। তবে যে তার হাত দিয়ে আজলা
পরিমান খাবে সে ছাড়া। কিন্তু তাদের ভিতর স্বল্পসংখ্যক ছাড়া সবাই
তা থেকে তারা পান করল।অতঃপর যখন সে ও তার সাথি মুমিনগণ তা
অতিক্রম করল, তারা বলল, আজ আমাদের জালুত ও তার সৈন্যবাহিনীর
সাথে লড়াই করার ক্ষমতা নেই। যারা দৃঢ় ধারনা রাখত যে, তারা
আল্লাহর সাথে মিলিত হবে তারা বলল, কত ছোট দল আল্লাহর হুকুমে
বড় দলকে পরাজিত করেছে। আর আল্লাহ্ ধৈর্যশীলদের সাথে
আছেন।)” (সুরা বাকারা, আয়াত-২৪৯)
১০. প্রস্নঃ- পূর্ববর্তী নবী এবং তাদের অনুসারি উম্মতগন যখন
আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য বের হত তখন কি তাদের ও কি এধরনের
কোন পরিক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছে?
উত্তরঃ- আল্লাহ্ বলেন,
“(তোমাদের কি ধারনা যে, তোমরা জান্নাতে এমনি চলে যাবে? অথচ
এখনও তোমরা তোমাদের পুরব্র অতিবাহিত সেই সকল লকদের
অবস্থার সম্মুখীন হওনি, যারা আক্রান্ত হয়েছিল যুদ্ধের ময়দানের
(পরীক্ষার) কষ্টে, শারীরিক ক্ষুধার তৃষ্ণার যাতনায় এবং তারা
প্রতিকুল অবস্থায় আতঙ্কিত ও ভিতি শঙ্কায় প্রবল ভাবে প্রকম্পিত
হয়েছে। আ পর্যন্ত যে, নবী রাসুলগণ ও তাদের সঙ্গী উম্মতরাও
পর্যন্ত এটা বলতে বাধ্য হয়েছে যে, কবে আসবে আল্লাহর সাহায্য।
যেনে রাখ! নিশ্চয় আল্লাহর সাহায্য অতি নিকটে)” (সুরা বাকারা,
আয়াত-২১৪)
১১. প্রস্নঃ- যখন আমরা জিহাদের ময়দানে শত্রুর মুখোমুখি হব তখন
মহান আল্লাহর কাছে আমাদের কি প্রার্থনা করতে হবে?
উত্তরঃ- কুরআন বলে,
“(হে আমার প্রতিপালক! আমাদের অন্তরে দৃঢ়তা ঢেলে দিন। আমাদের
ভিত্তি (পা) সুদৃঢ় ও মজবুত করে দিন এবং কাফির সম্প্রদায় এর উপর
আমাদের বিজয় দান করুন)” (সুরা বাকারা, আয়াত-২৫০)
১২. প্রশ্নঃ- যখন যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে তখন আমরা কি করব?
উত্তরঃ- আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন বলেন,
“(অতঃপর যখন তোমরা কাফিরদের সাথে সংঘাতে লিপ্ত হয়ে যাবে
তখন তোমরা তাদের গরদানে আঘাত করতে থাকো যতক্ষণ না তাদের
রক্তের স্রোত প্রবাহিত হয়। তখন তাদেরকে শক্ত করে বেধে
ফেলো। তারপর হয়ত তাদের উপর অনুগ্রহ করবে(মুক্তিপন ছাড়াই
তাদের ছেড়ে দিবে) বা মুক্তিপণ নিবে। যতক্ষণ না তারা তাদের নিজের
অস্ত্র পরিত্যাগ করে।)” (সুরা মুহাম্মাদ, আয়াত-৪)
১৩. প্রস্নঃ- কাফিররা যদি যুদ্ধ করতে করতে মসজিদে হারাম বা এ
জাতীয় সম্মানিত কোন স্থানে আশ্রয় নেয় এবং সেখান থেকে
মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে তাহলে সেই স্থানেও কি কাফিরদের
বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা মুসলিমদের জন্য বৈধ হবে?
উত্তরঃ- আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনে বলেন,
“(আর তোমরা কাফিরদের সাথে মুসজিদুল হারামের নিকটে লড়াই কর না,
যতক্ষণ না তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত না হয়। অবশ্য তারি যদি
তোমাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয় তাহলে, তোমরাও সেখানে তাদের
সাথে যুদ্ধ কর (কিতাল করো)। আর কাফিরদের শাস্তি এরকমই হয়ে
থাকে)” (সুরা বাকারা, আয়াত-১৯১)
১৪. প্রস্নঃ- মসজিদে হারাম ও আরব উপদ্বীপে কাফির-মুশরিকদের
অনুপ্রবেশ বৈধ কি না?
উত্তরঃ- আল্লাহ্ বলেন,
“(হে ইমানদারগণ! নিশ্চয়ই মুশরিকরা নাপাক, সুতরাং যেন তারা
মসজিদুল হারামের নিকটবর্তী না হয় তাদের এ বছরের পর। আর যদি
তোমরা দারিদ্রকে ভয় করো, তবে আল্লাহ্ চাইলে নিজ অনুগ্রহে
তোমাদের অভাবমুক্ত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ মহাজ্ঞানী ও
প্রজ্ঞাময়)” (সুরা তওবা, আয়াত-২৮)
১৫. প্রস্নঃ- যখন আমরা কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদে অবতিরন হব,
কাফিররা যখন আমাদের উপর সরব শক্তি দিয়ে ঝাপিয়ে পরবে তুমুল
বেগে আক্রমন করবে তখন আমরা কি করব?
উত্তরঃ- আল্লাহ্ বলেন,
“(হে ইমানদার গণ যখন তোমরা কোন দলের সাথে ঘরতর লরাইয়ে
অবতীর্ণ হও (এবং তারা তোমাদের বিরুদ্ধে তিব্র বেগে আক্রমন
করতে থাকে) তখন তোমরা মজবুত ও দৃঢ়পদ থাকো)” (সুরা আনফাল,
আয়াত-৪৫)
১৬. প্রস্নঃ- যখন চতুরদিক থেকে গুলি আস্তে থাকবে, উপর থেকে
বমারু বিমানগুলো ব্রিস্তির মত বোমা ফেলতে থাকবে, জমিনের নিচে
থেকে একেরপর এক ভুমি মাইন বিস্ফরিত হতে থাকবে তখন আমরা
কিভাবে অটল ও দৃঢ়পদ থাকব?
উত্তরঃ আল্লাহ্ বলেন,
“(তোমরা তখন আল্লাহকে অধিক হারে স্মরন করতে থাকো, (তার
কাছে দৃঢ়টা ও সাহায্য কামনা করতে থাকো) হয়ত তোমরা সফল্কাম
হতে পারবে)”(সুরা আনফাল, আয়াত-৪৫)
১৭. প্রস্নঃ- যুদ্ধের ময়দানে সেই বিভীষিকাময়য় মুহুরতে, জান-প্রাণ,
নিয়ে ছিনি-মিনি খেলার সেই নাজুক পরিস্থিতিতে কার জন্য যুদ্ধ ছেরে
পলায়ন করা জায়েজ হবে?
উত্তরঃ- আল্লাহ্ বলেন,
“(হে ইমানদারগণ! যখন তোমরা কাফিরদের সাথে সম্মুখ সমরে যুদ্ধে
লিপ্ত হও, তোমরা তখন পশ্চাদপদ হয়ো না (যুদ্ধ ছেরে পলায়ন করো
না))” (সুরা নিসা, আয়াত-১৫)
১৮. প্রস্নঃ- যদি কেউ সেদিন যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করে তাহলে
তার সাস্তি কি হবে?
উত্তরঃ- আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনে বলেন,
“(আর কাফিরদের সাথে যুদ্ধের সময় যে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে- কৌশল
অবলম্বন বা নিজ দল এর কাছে আশ্রয় নিতে আসা ব্যতীত- সে
আল্লাহর গজবে নিপতিত হবে। আর তার আশ্রয়স্থল হল জাহান্নাম।
আর টা কতইনা নিকৃষ্ট স্থান।)” (সুরা আনফাল, আয়াত-১৬)
১৯. প্রস্নঃ- সম্মুখ সমর ব্যতীত অন্য অবস্থায় আমাদেরকে কিভাবে
যুদ্ধ করতে হবে?
আল্লাহ্ বলেন,
“(অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হয়ে যাবে, তখন তোমরা
মুশরিকদের হত্যা করো জেখানেই তাদেরকে পাও এবং তাদের ধরো,
ঘেরাও করো এবং তাদের সন্ধানে প্রতিটি ঘাঁটিতে ওঁতপেতে বসে
থাকো। কিন্তু তারতা যদি তওবা করে নেয়, নামাজ কায়েম করে, এবং
জাকাত দেয়, তবে তাদেরকে ছেড়ে দাও। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্
ক্ষমাকারী, দয়াময়)” (সুরা তওবা, আয়াত-৫)
২০. প্রস্নঃ- যুদ্ধ-বিগ্রহ নিসিদ্ধ সম্মানিত মাস গুলতে যদি কাফিররা
মুসলিমদের উপর উৎপীড়ন শুরু করে তাহলে সেই সময়ে তাদের সাথে
জিহাদ করা মুসলমানদের জন্য বৈধ হবে কি?
উত্তরঃ- আল্লাহ্ বলেন,
“(হে নবী! হারাম মাস সম্পর্কে লকেরা আপনাকে প্রশ্ন করে যে তাতে
যুদ্ধ করা কেমন? বলে দিন তাতে যুদ্ধ করা মস্ত বর অন্যায়। তবে
আল্লাহর পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা, আল্লাহর সাথে কুফুরি করা,
মসজিদে হারামের পথে বাধা দেওয়া এবং সেখানকার অধিবাসীদেরকে
সেখান থেকে বহিস্কার করা আল্লাহর কাছে তার থেকেও বড় অন্যায়।
(সুতরাং যদি কাফিররা এ ধরণের মহা অন্যায় করে তাহলে তাদের সাথে
যুদ্ধ করায় তোমাদের কোন অপরাধ নেই) এবং ফিতনা সৃষ্টি করা হত্যা
থেকেও জঘন্যতম)” (সুরা বাকারা, আয়াত-২১৭)
২১. প্রস্নঃ- উপরোক্ত পদ্ধতি ছাড়া আর কোন পদ্ধতিতে আমরা
কাফিরদের সাথে জিহাদ করব?
উত্তরঃ- আল্লাহ্ বলেন,
“(হে ইমানদারগণ! তোমরা নিজ নিজ অস্ত্র ধরো। অতঃপর
বিচ্ছিন্নভাবে (গেরিলা পদ্ধতিতে) বা দলবদ্ধভাবে (সম্মুখ সমরে) যুদ্ধে
ঝাপিয়ে পরো।)” (সুরা নিসা, আয়াত-৭১)
২২. প্রস্নঃ- কোন কোন লোকদের সাথে আমাদের জিহাদ করতে হবে?
উত্তরঃ- আল্লাহ্ বলেন,
ক) কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করঃ-
“(হে নবী! আপনি কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন এবং
তাদের সাথে কঠোরতা করুন। তাদের অবস্থান হচ্ছে জাহান্নাম। আর
তা কতইনা মন্দ স্থান)” (সুরা তওবা, আয়াত-৭৩)
খ) নিকটবর্তী কুফফারদের সাথে যুদ্ধ করঃ-
“(হে মুমিনগণ, তোমরা তোমাদের নিকটবর্তী কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ
করো এবং তারা জেন তোমাদের মধ্যে কঠোরতা দেখতে পায়। আর
যেনে রেখো, আল্লাহ্ মুত্তাকীদের সাথে আছেন)” (সুরা তওবা,
আয়াত-১২৩)
গ) মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করঃ-
“(তোমরা সকলে মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ করো যেমনিভাবে তারা সকলে
তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে, আর যেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ্
মুত্তাকীদের সাথে আছেন)” (সুরা তওবা, আয়াত-৩৬)
ঘ) শয়তানের অলিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধঃ-
“(তোমরা জুদ্ধ করো শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে। নিশ্চয়ই শয়তানের
চক্রান্ত দুর্বল)” (সুরা নিসা, আয়াত-৭৬)
ঙ) যারা হালাল-হারামের ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান মানেনা এবং
আল্লাহর দেয়া দ্বীনে হক্ক বা সত্য দ্বীনকে সত্য দ্বীন হিসেবে
মানেনা তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করঃ-
“(আর তোমরা আহলে কিতাবদের ঐ সমস্ত লোকদের সাথে জুদ্ধ করো,
যারা ইমান আনেনা আল্লাহর উপর, শেষ দিবসের উপর এবং যারা হারাম
বলে মেনে নেয় না ঐ সমস্ত বিষয়াবলীকে যেগুলা আল্লাহ্ ও তার রাসুল
হারাম করে দিয়েছেন এবং গ্রহন করে না সত্য ধর্ম)” (সুরা তওবা,
আয়াত-২৯)
চ) বিদ্রহিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করঃ-
“(তোমরা যুদ্ধ করো সেই দলটির বিরুদ্ধে যারা সীমালঙ্ঘন করেছে,
যতক্ষণ না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে)” (সুরা
হুজুরাত, আয়াত-৯)
ছ) ইসলাম বিরোধী প্রচন্দ প্রতাপশালী সত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করঃ-
“(পেছনে পড়া থাকা বেদুঈনদেরকে বল, এক কঠোর যোদ্ধা জাতির
বিরুদ্ধে শীঘ্রই তোমাদের দাকা হবে; তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ
করবে অথবা তারা আত্নসমর্পন করবে। অতঃপর তোমরা যদি আনুগত্য
করো তাহলে আল্লাহ্ তোমাদের উত্তম প্রতিদান দিবেন। আর পূর্বে
তোমরা যেমন ফিরে গিয়েছিলে তেমনি যদি ফিরে যাও তবে তিনি
তমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আজাব দিবেন।)” (সুরা ফাতহ, আয়াত-১৬)

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url