গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন (১/১৬১) : দরিদ্র ও বিধবা
হওয়ার কারণে সহোদর বোনকে
যাকাতের অর্থ প্রদান করা যাবে
কি?
- ★
উত্তর : সহোদর ভাই-বোন যাকাতের
হকদার হ’লে তাকে যাকাত প্রদান
করা যাবে। বরং এতে দ্বিগুণ
নেকী রয়েছে। যয়নব (রাঃ) স্বীয়
স্বামীকে যাকাতের অর্থ দিতে
চাইলে রাসূল (ছাঃ) তাকে অনুমতি
দিয়ে বলেন, এতে দ্বিগুণ নেকী
রয়েছে। (১) ছাদাক্বার নেকী (২)
আত্মীয়তা সম্পর্ক বজায় রাখার
নেকী’ (বুখারী হা/১৪৬৬, মুসলিম
হা/১০০০; মিশকাত
হা/১৯৩৪-৩৫) ।
**
প্রশ্ন (২/১৬২) : জনৈক আলেম
বলেন, খাদীজা (রাঃ)-এর দাফনের
সময় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর অশ্রু
ফোঁটায় তাঁর কবর সিক্ত হলে
আল্লাহ মুনকার-নাকীর কে
ক্বিয়ামত পর্যন্ত সওয়াল-জওয়াব
করতে নিষেধ করে দেন। এ বিবরণ
কি সত্য?
★
উত্তর : উক্ত বক্তব্য ভিত্তিহীন ও
বানোয়াট।
*
প্রশ্ন (৩/১৬৩) : নিরাময়যোগ্য নয়
এরূপ রোগগ্রস্ত গরু-ছাগল কষ্ট
পাওয়ার কারণে জবাই করা হলে
তার গোশত খেতে কারো রুচিতে
কুলাবে না। এরূপ অবস্থায় জবাই
করে পুঁতে ফেলা জায়েয হবে কি?
-★
উত্তর : রোগগ্রস্ত মৃতপ্রায় হালাল
প্রাণী যবেহ করে খাওয়া জায়েয
(ফিক্বহুস সুন্নাহ ৩/৩০৩) । ইমাম
আহমাদ এতে কোন দোষ নেই বলে
মন্তব্য করেছেন (ইবনু কুদামা,
মুগনী ৯/৪০৫) তবে রুচি না হলে
বা উক্ত প্রাণীর রোগ মানুষের
দেহে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা
থাকলে না খেয়ে যবেহ করে পুঁতে
ফেলতে হবে।
**
প্রশ্ন (৪/১৬৪) : মসজিদে বা কোন
স্থানে দলবদ্ধভাবে যিকর করায়
শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?
-★
উত্তর : উচ্চৈঃস্বরে দলবদ্ধভাবে
যিকর করা বিদ‘আত। আল্লাহ বলেন,
‘তোমরা প্রতিপালককে স্মরণ কর
আপন মনে ক্রন্দনরত ও ভীত-
সন্ত্রস্ত অবস্থায় এবং স্বর উঁচু না
করে (আ‘রাফ ২০৫)। রাসূল (ছাঃ)ও
সশব্দে যিকর করতে নিষেধ
করেছেন (মুসলিম হা/২৭০৪,
মিশকাত হা/২৩০৩) । আব্দুল্লাহ
ইবনে মাস‘ঊদ (রাঃ) একদল
মুছল্লীকে মদীনার মসজিদে
নববীতে গোলাকার হয়ে তাসবীহ-
তাহলীল করতে দেখে বলেন, ‘হে
মুহাম্মাদের উম্মতগণ! কত দ্রুত
তোমাদের ধ্বংস এসে গেল’?
(দারেমী হা/২১০; সিলসিলা
ছহীহাহ হা/২০০৫) ।
দো‘আ করার জন্য একদল মুসলমানের
নিয়মিতভাবে একত্রিত হওয়ার
খবর পেয়ে ওমর (রাঃ) তাদের
নেতাকে ডাকিয়ে এনে চাবুক
মারেন’ (মুছান্নাফ ইবনু আবী
শায়বা হা/২৬৭১৫) । তবে যিকরের
মজলিসের ফযীলত সংক্রান্ত কিছু
হাদীছ বর্ণিত হয়েছে; যা ছিল
তা‘লীম বা শিক্ষার মজলিস।
যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেন, যখন
তোমরা জান্নাতের বাগিচা
অতিক্রম করবে, তখন তার কিছু ফল
তোমরা ভক্ষণ করবে। ছাহাবীগণ
জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর
রাসূল! জান্নাতের বাগিচা কি?
তিনি বললেন, যিকরের মজলিস’
(তিরমিযী হা/৩৫১০, মিশকাত
হা/২২৭১, সনদ হাসান)। তিনি
বলেন, যখন কোন কওম আল্লাহর
যিকর করতে বসে তখন আল্লাহর
ফেরেশতাগণ তাদেরকে ঘিরে নেন,
তাঁর রহমত তাদেরকে ঢেকে ফেলে
এবং তাদের উপর শান্তি বর্ষিত
হয়। আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর
নিকটবর্তী ফেরেশতাগণের নিকট
তাদের সম্পর্কে প্রশংসামূলক
আলোচনা করেন’ (মুসলিম, মিশকাত
হা/২২৬১) । এই যিকরের অর্থ
কুরআন-হাদীছের পর্যালোচনা।
যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেন, যখন কোন
কওম কোন গৃহে বসে, অতঃপর কুরআন
তেলাওয়াত করে এবং তা
পর্যালোচনা করে ( ُﻳَﺘَﺪَﺍﺭَﺳُﻮﻧَﻪ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻢْ ) ,
সেখানে তাদের উপর আল্লাহর পক্ষ
হ’তে প্রশান্তি নাযিল হয় ও
ফেরেশতারা তাদেরকে ঘিরে
রাখে... (মুসলিম, মিশকাত
হা/২০৪) । যেমন তা‘লীমী বৈঠক,
ওয়ায মহফিল, প্রশ্নোত্তরের
মাধ্যমে অন্য যেকোন দ্বীন
শিক্ষার মজলিস ইত্যাদি।
আত্বা বিন আব রিবাহ (রহঃ) বলেন,
যিকরের মজলিস অর্থ হালাল-
হারাম জানার জন্য শিক্ষার
মজলিস (তারীখু দিমাশক ৪০/৪৩২,
ইবনু তায়মিয়াহ, জামে‘ঊল
মাসায়েল ৩/৩৮৫) । ইমাম
শাত্বেবী (রহঃ) বলেন, কুরআন-
হাদীছে বর্ণিত দো‘আ-দরূদের
বাইরে নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে
নির্দিষ্ট তরীকায় বানোয়াট
যিকর দলবদ্ধভাবে সমস্বরে করা
নিকৃষ্ট বিদ‘আতসমূহের অন্তর্ভুক্ত
(শাত্বেবী, আল-ই‘তিছাম ১/৫৩) ।
স্মর্তব্য যে, প্রচলিত ‘আল্লাহু’
‘আল্লাহু’, ‘হু হু’ বা ‘ইল্লাল্লাহ’
শব্দে কোন যিকর নেই। উক্ত মর্মে
যে হাদীছটি রয়েছে তার অর্থ হ’ল
‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ (মুসলিম
হা/১৪৮, আহমাদ হা/১৩১৬০;
মিশকাত হা/৫৫১৬) । শায়খ
আলবানী বলেন, ‘শুধু আল্লাহ শব্দে
যিকর করা বিদ‘আত। সুন্নাতে যার
কোন ভিত্তি নেই’ (মিশকাত ১৫২৭
পৃঃ ১ নং টীকা) । সর্বোত্তম যিকর
হচ্ছে ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’
(ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/২৩০৬) ।
যা নিরিবিলি ও নিম্নস্বরে হবে।
প্রশ্ন (৫/১৬৫) : গায়েবানা
জানাযা কখন কিভাবে আদায় করতে
হয়। বিভিন্ন স্থানে গায়েবানা
জানাযা জায়েয হবে কি?
-★
উত্তর : কোন ব্যক্তির জানাযা না
হয়ে থাকলে তার গায়েবানা
জানাযা পড়া জায়েয। অমুসলিম
দেশে জানাযা ছাড়াই দাফন
হওয়ার কারণে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)
বাদশাহ নাজাশীর গায়েবানা
জানাযা পড়েছিলেন (মুত্তাফাক্ব
আলাইহ, মিশকাত হা/১৬৫২) ।
কারণ তিনি মুসলমান হয়েছিলেন।
কিন্তু সেখানে তাঁর জানাযা পড়ার
মত কেউ ছিল না। কারু জানাযা
হয়ে থাকলে পুনরায় গায়েবানা
জানাযা আদায়ের ব্যাপারে
হাদীছে কোন দলীল পাওয়া যায়
না। ইবনু আব্দিল বার্র বলেন, যদি
গায়েবানা জানাযা জায়েয হ’ত,
তাহ’লে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিশ্চয়ই
নিজের ছাহাবীদের গায়েবানা
জানাযা আদায় করতেন (যাদের
জানাযায় তিনি শরীক হ’তে
পারেননি)। অনুরূপভাবে প্রাচ্য ও
পাশ্চাত্যের মুসলমানেরা তাদের
প্রিয় চার খলীফার গায়েবানা
জানাযা পড়ত। কিন্তু এরূপ কথা
কারু থেকে কখনো বর্ণিত
হয়নি’ (আল-জাওহারুন নাক্বী শরহ
সুনানুল বায়হাক্বী ৪/৫১) । সুতরাং
জানাযা হয়েছে এরূপ ব্যক্তির
গায়েবানা জানাযা পড়া জায়েয
নয় (বিস্তারিত দ্র. ছালাতুর
রাসূল, পৃঃ ১৫১-১৫২) । এছাড়া
বর্তমান সময়ে যেভাবে লাশ নিয়ে
বিভিন্ন স্থানে জানাযা পড়ানো
হয়, তার পক্ষেও কোন দলীল পাওয়া
যায় না। বরং প্রথম জানাযাই হ’ল
মূল জানাযা। অনুরূপভাবে জানাযা
পড়িয়ে লাশ কারু জন্য রেখে দিয়ে
পরে পুনরায় জানাযা বা বিনা
জানাযায় দাফন করা
পরিস্কারভাবে সুন্নাতবিরোধী
আমল। এমতাবস্থায় শুরুতেই দ্রত
জানাযা করে লাশ দাফন করতে
হবে। পরে কেউ এলে তিনি কবরে
জানাযা করবেন। রাসূল (ছাঃ)
একমাস পরে তার এক ছাহাবীর
কবরে গিয়ে জানাযা পড়েছেন।
ইবনু ওমর (রাঃ) তাঁর ভাই আছেম-
এর জানাযা তিনদিন পরে এসে
পড়েছেন’ (বায়হাক্বী ৪/৪৯ পৃঃ)
প্রশ্ন (৬/১৬৬) : কারো কাছে কর্যে
হাসানা না পেয়ে একান্ত বাধ্যগত
অবস্থায় সূদের উপর কর্য নেয়া
যাবে কি?
-★
উত্তর : কোন অবস্থায় সূদের উপর
ঋণ নেওয়া যাবে না। কারণ সূদ
হারাম। তবে ক্ষুধার কারণে মৃত্যুর
মুখোমুখি হলে এরূপ নিরুপায়
অবস্থায় কেবল হারাম খাওয়ার
অনুমতি রয়েছে (মায়েদাহ ৩)।
প্রশ্ন (৭/১৬৭) : আমাদের মসজিদে
লেখা আছে জুম‘আর দিন আছর
ছালাতের পর ‘আল্লাহুম্মা
ছাল্লিআলা মুহাম্মাদীন নাবিয়িল
উম্মী ওয়ালা আলীহী ওয়া ছাল্লাম
তাসলীমা’- এ দরুদটি ৮০ বার পাঠ
করলে মহান আল্লাহ ৮০ বছরের
গুনাহ মাফ করে দেন এবং তার
আমলনামায় ৮০ বছরের নফল
ইবাদতের নেকী লেখা হবে। এর
সত্যতা জানতে চাই।
-★
উত্তর : সরাসরি উক্ত মর্মে কোন
হাদীছ পাওয়া যায় না। তবে
শাব্দিকভাবে এর কাছাকাছি
মর্মে দু’একটি হাদীছ পাওয়া
যায়। যার মধ্যে ৮০ বার দরূদ পাঠ
করলে ৮০ বছরের গোনাহ মাফের
কথা এসেছে। তবে হাদীছগুলি জাল
(আলবানী, সিলসিলা যঈফাহ
হা/২১৫) ।
প্রশ্ন (৮/১৬৮) : পেশাব-
পায়খানার প্রয়োজন থাকা
সত্ত্বেও জামা‘আত ছুটে যাবে বলে
জামা‘আত ধরা ঠিক হবে কি?
-★
উত্তর : এরূপ অবস্থায় পেশাব-
পায়খানা শেষ না করে ছালাত
আদায় করা ঠিক হবে না। নবী
করীম (ছাঃ) বলেন, ‘খাদ্য উপস্থিত
হলে ছালাত নেই এবং পেশাব-
পায়খানার চাপ থাকলে কোন
ছালাত নেই’(বুখারী, মুসলিম,
মিশকাত হা/১০৫৭) । তবে
এমতাবস্থায় ছালাত আদায় করলে
তা বাতিল হবে না।
**
প্রশ্ন (৯/১৬৯) : রাসূল (ছাঃ)-এর
প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করার
ক্ষেত্রে শরী‘আতের বিধান
জানিয়ে বাধিত করবেন।
-★
উত্তর : রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,
‘তোমরা আমাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি
করো না, যেমন বাড়াবাড়ি করেছে
খ্রিষ্টানরা মারিয়ামপুত্র ঈসাকে
নিয়ে। আমি আল্লাহর বান্দা ও
তাঁর রাসূল। অতএব তোমরা আমাকে
আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল বল’
(বুখারী হা/৩৪৪৫; মিশকাত
হা/৪৮৯৭) । রাসূল (ছাঃ)-এর
প্রশংসায় তাঁকে ‘নূরের নবী’ বলা
সরাসরি কুরআনী আয়াতের (কাহফ
১১০) -এর স্পষ্ট লংঘন। এতদ্ব্যতীত
তাঁর কথিত জন্মদিবস উপলক্ষে
মীলাদুন্নবীর অনুষ্ঠান করা, জশনে
জুলূস-এর মিছিল করা এবং অন্যান্য
অনুষ্ঠান করা নিকৃষ্টতম বিদ‘আত
মাত্র। রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে
কেরাম থেকে এসবের কোন প্রমাণ
নেই এবং তাঁরা এসব করার
নির্দেশ দেননি। এসবই
বাড়াবাড়ি মাত্র। যেজন্য ইহূদী-
নাছারারা অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্ট
হয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বলেন,
তোমরা ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি
করো না। কারণ দ্বীনের মধ্যে
বাড়াবাড়ি তোমাদের
পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করেছে’ (ইবনু
মাজাহ হা/৩০২৯; নাসাঈ
হা/৩০৫৭; সিলসিলা ছহীহাহ
হা/১২৮৩) ।
,,
প্রশ্ন (১০/১৭০) : সূরা হূদের ১১৪
আয়াতের তাফসীর জানিয়ে বাধিত
করবেন।
-★
উত্তর: আয়াতটির অর্থ হ’ল - ‘আর
তুমি ছালাত কায়েম কর দিনের দুই
প্রান্তে ও রাত্রির প্রথম অংশে।
নিশ্চয়ই সৎকর্মসমূহ মন্দ
কর্মসমূহকে বিদূরিত করে। আর এটি
(অর্থাৎ কুরআন) হ’ল উপদেশ
গ্রহণকারীদের জন্য (সর্বোত্তম)
উপদেশ’। অত্র আয়াতে পাঁচ ওয়াক্ত
ছালাতের ফযীলতের কথা বর্ণিত
হয়েছে, যা মুমিনের ছোট পাপসমূহ
মোচন করে দেয়। কুরতুবী বলেন,
এবিষয়ে কারু কোন মতভেদ নেই যে,
অত্র আয়াতে ‘ছালাত’ বলতে ফরয
ছালাতসমূহকে বুঝানো হয়েছে। ‘দুই
প্রান্তে’ বলতে মুজাহিদ বলেন,
প্রথম প্রান্তে ফজর ছালাত ও
দ্বিতীয় প্রান্তে যোহর ও আছর
ছালাত। ‘রাত্রির প্রথম অংশ’
বরতে হাসান বাছরী বলেন,
মাগরিব ও এশা। ছাহাবা ও
তাবেঈগণ বলেন, অত্র আয়াতে
‘সৎকর্মসমূহ’ বলতে পাঁচ ওয়াক্ত
ফরয ছালাতকে বুঝানো হয়েছে
(কুরতুবী, ইবনু কাছীর)। আব্দুল্লাহ
বিন মাসউদ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত
তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি একজন
নারীকে চুমু দিয়ে অনুতপ্ত হয়ে
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর দরবারে
এসে তার পাপের কথা জানালে
উক্ত আয়াতটি নাযিল হয় (বুখারী
হা/৪৬৮৭, মুসলিম হা/২৭৬৩,
মিশকাত হা/৫৬৬) । রাসূল (ছাঃ)
বলেন, যদি তোমাদের কেউ দৈনিক
পাঁচবার নদীতে গোসল করে,
তাহলে তার দেহে কোন ময়লা
থাকে কি? অনুরূপভাবে পাঁচ ওয়াক্ত
ফরয ছালাত। যার মাধ্যমে আল্লাহ
সমস্ত পাপ মোচন করে দেন
(মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত
হা/৫৬৫) । ‘যদি কেউ কবীরা
গোনাহসমূহ হ’তে বিরত থাকে’
(মুসলিম হা/২৩৩ প্রভৃতি)।
**
প্রশ্ন (১১/১৭১) : ‘মুসলমানগণ যে
বিষয়কে উত্তম মনে করে আল্লাহর
নিকটেও তা উত্তম’- উক্ত
হাদীছটির সত্যতা ও ব্যাখ্যা
জানিয়ে বাধিত করবেন।
★
উত্তর : মারফূ‘ সূত্রে হাদীছটির
কোন ভিত্তি না থাকায় দলীল
হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এ ছাড়াও
তা রাসূল (ছাঃ)-এর অকাট্য বাণী-
ﻓَﺈِﻥَّ ﻛُﻞَّ ﺑِﺪْﻋَﺔٍ ﺿَﻼَﻟَﺔٌ ‘নিশ্চয়ই সকল
প্রকার বিদ‘আত ভ্রষ্টতা’ ( মুসলিম
হা/৮৬৭; মিশকাত হা/১৪১) -এর
স্পষ্ট বিরোধী।
ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেন, এটি
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কথা নয়।
হাদীছ সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তিরাই
এটিকে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর
সাথে সম্পৃক্ত করেছে (ইবনুল
ক্বাইয়িম, আল-ফুরূসিইয়াহ ৬১
পৃঃ) ।
শায়খ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ)
বলেন, মারফূ‘ সূত্রে এর কোন
ভিত্তি নেই। বরং এটি ইবনু
মাসউদ (রাঃ) হ’তে ‘মওকূফ’ সূত্রে
বর্ণিত (সিলসিলা যঈফাহ
হা/৫৩৩) ।
হাফেয ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন,
উক্ত আছারটি দ্বারা খেলাফতের
ক্ষেত্রে আবুবকর (রাঃ)-কে
অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যাপারে
ছাহাবায়ে কেরামের ইজমার কথা
বুঝানো হয়েছে (আল-বিদায়াহ
ওয়ান নিহায়াহ ১০/৩২৮ পৃঃ) ।
এছাড়াও উল্লিখিত আছারে বর্ণিত
ﺍَﻟْﻤُﺴْﻠِﻤُﻮْﻥ এর ْﻝَﺍদ্বারা ‘ইজমায়ে
ছাহাবা’ তথা যার উপর
ছাহাবায়ে কেরাম ঐক্যমত পোষণ
করেছেন, সেটা বুঝানো হয়েছে।
এর অর্থ এটা নয় যে, অধিকাংশ
মুসলমান কোন বিদ‘আতকে উত্তম
বললে সেটা আল্লাহর নিকটেও
উত্তম। এরূপ অর্থ করা মূর্খতা বৈ
কিছুই নয়।
প্রশ্ন (১২/১৭২) : অনেক ছাত্রকে
দেখা যায় তারা টিকিট না কেটে
টিটিকে অল্প কিছু টাকা দিয়ে
ট্রেনে ভ্রমণ করে। এটা কি
শরী‘আতসম্মত?
-★
উত্তর : এর দ্বারা সরকারকে ফাঁকি
দেওয়া হয় এবং এটা ঘুষের
অন্তর্ভুক্ত; ইসলামী শরী‘আত যাকে
হারাম করেছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)
বলেছেন, ঘুষ দাতা ও ঘুষ গ্রহীতার
উপর আল্লাহর অভিসম্পাত
(আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৩৭৫৩ সনদ
ছহীহ ‘শাসন ও বিচার’ অধ্যায়)।
**
প্রশ্ন (১৩/১৭৩) : দো‘আয়ে কুনূত
ছাড়া বিতর ছালাত হবে কি?
-★
উত্তর : হয়ে যাবে। কেননা
বিতরের জন্য দোআ কুনূত শর্ত নয়।
রাসূল (ছাঃ) হাসান ইবনু আলী
(রাঃ)-কে বিতরের দো‘আ কুনূত
শিক্ষা দিয়েছিলেন (আবুদাউদ
হা/১৪২৫; তিরমিযী হা/৪৬৪;
মিশকাত হা/১২৭৩) । বিভিন্ন
হাদীছ দ্বারা দো‘আয়ে কুনূত
প্রমাণিত। কিন্তু এটি সর্বদা পড়া
আবশ্যিক নয় (বিস্তারিত দ্রষ্টব্য :
মির‘আত হা/১৩০০-এর আলোচনা;
মিশকাত হা/১২৯২ ‘কুনূত’
অনুচ্ছেদ)।
**
প্রশ্ন (১৪/১৭৪) : সিজদায়ে সহো
দিতে ভুলে গেলে উক্ত ছালাত
বাতিল হবে কি?
-★
উত্তর : ছালাত বাতিল হবেনা।
তবে সালাম ফিরানোর পর যখন
মনে পড়বে তখন সহো সিজদা দিতে
হবে। কারণ এটাও একটা ভুল। আর
ভুলের প্রতিকার হচ্ছে সহো সিজদা
দেয়া। সালামের পরেও সহো
সিজদা দেয়া যায় (বুখারী
হা/৭১৫, মুসলিম হা/৫৭৪, মিশকাত
হা/১০২১) । যদি তখনও সহো
সিজদা দিতে ভুলে যায় তাহলে আর
দিতে হবে না।
**
প্রশ্ন (১৫/১৭৫) : জনৈক আলেম
বলেন, মুক্তাদীর ওযূ ভুল হওয়ার
কারণে ইমামের ক্বিরাআত ভুল হয়।
এ কথার সত্যতা জানিয়ে বাধিত
করবেন।
-★
উত্তর : এমর্মে বর্ণিত হাদীছটি
যঈফ। (নাসাঈ হা/৯৪৭; মিশকাত
হা/২৯৫; যঈফুল জামে‘ হা/৫০৩৬) ।
[নাম পরিবর্তন করে কেবল
‘মুহাম্মাদ’ বা ‘আব্দুন নূর’ রাখুন
(স.স)]
**
প্রশ্ন (১৬/১৭৬) : ছালাতরত
অবস্থায় পিতা-মাতা ডাক দিলে
সেক্ষেত্রে করণীয় কি?
-★
উত্তর : বিপজ্জনক কিছু মনে করলে
ফরয ছালাত ত্যাগ করে হলেও
সাড়া দিতে হবে। কেননা চোর
ধরার জন্য ফরয ছালাত ছেড়ে
দেয়ার অনুমতি রয়েছে (বুখারী
হা/১২১১, ২১ অধ্যায়, ১১
অনুচ্ছেদ)। ছালাত যদি নফল হয়,
তবে তা ছেড়ে দিয়ে পিতামাতার
ডাকে সাড়া দিতে হবে (বুখারী
হা/১২০৬, মুসলিম হা/৬৬৭২;
ওছায়মীন, শরহ রিয়াযুছ ছালেহীন
৩/৭৩-৭৪) ।
**
প্রশ্ন (১৭/১৭৭) : স্ত্রী স্বামীকে
নাম ধরে ডাকতে পারে কি?
-মুহাম্মাদ ছাদেকুযযামান
★
উত্তর : স্ত্রীর নিকট স্বামী
হ’লেন সবচেয়ে সম্মানের পাত্র।
অতএব যেভাবে ডাকলে স্বামী খুশি
হবেন সেভাবে ডাকা উচিৎ। তবে
স্বামী অসন্তুষ্ট না হলে স্ত্রী
স্বামীর নাম ধরে ডাকতে পারে।
যেমন যয়নব রাসূল (ছাঃ)-এর
সামনে তার স্বামী আব্দুল্লাহ ইবনু
মাসঊদ (রাঃ)-এর নাম ধরে কথা
বলেছিলেন (বুখারী হা/১৪৬২) ।
প্রশ্ন (১৮/১৭৮) : পাঁচ বছর পূর্বে
দুই সন্তানসহ স্ত্রী খোলা তালাক
নেওয়ার পর বর্তমানে ফিরে আসতে
চাইলে করণীয় কি?
-★
উত্তর : এমতাবস্থায় স্ত্রীকে নতুন
বিবাহের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনতে
পারে।
★
প্রশ্ন (১৯/১৭৯) : পীরের মাযারে
গিয়ে মানুষ বিভিন্নভাবে উপকৃত
হয়। যেমন রোগ-ব্যাধি থেকে
মুক্তি লাভ, সম্পদ অর্জন ইত্যাদি।
এগুলি কিভাবে কার পক্ষ থেকে
হয়?
-★
উত্তর : পীরের মাযারে গিয়ে
মানুষ যে উপকার লাভের ধারণা
করে, তা মূলতঃ শয়তানী
ওয়াসওয়াসায় হয়ে থাকে।
যেমনভাবে জাহেলী যুগে মানুষ
যেসব প্রতিমার উপাসনা করত
সেগুলির মধ্যে নারী জিন শয়তান
থাকত (আহমাদ হা/২১২৬৯, সনদ
হাসান)। যারা মানুষকে এরূপ
শিরকের ওয়াসওয়াসা দিয়ে
মূর্তিপূজায় প্ররোচনা দিত।
প্রকৃতপক্ষে রোগ-ব্যাধি থেকে
মুক্তি এবং রিযিক দানের মালিক
একমাত্র আল্লাহ। তিনি বলেন,
‘যদি আল্লাহ তোমাকে কষ্টে
নিপতিত করেন, তাহলে তিনি
ব্যতীত তা দূর করার কেউ নেই। আর
যদি তিনি তোমার কোন কল্যাণ
করতে চান, তবে তাতে বাধা
দানের কেউ নেই’ (ইউনুস
১০/১০৭) । রাসূল (ছাঃ) বলেন,
আল্লাহর আরোগ্য ব্যতীত কোন
আরোগ্য নেই’ (বুখারী, মুসলিম,
মিশকাত হা/১৫৩০) । অতএব পীরের
মাযারে গেলে উপকার হয়, রোগ-
ব্যাধি থেকে আরোগ্যলাভ করা
যায়, এরূপ বিশ্বাস শিরকের
অন্তর্ভুক্ত। যার পরিণাম
জাহান্নাম।
**
প্রশ্ন (২০/১৮০) : জনৈক আলেম
বলেন, নাস্তিক সরকারের পতনের
জন্য দেশের একমাত্র প্রতিবাদের
মাধ্যম হিসাবে হরতাল করা
শরী‘আত সম্মত। কারণ বড় ক্ষতি দূর
করার জন্য ছোট ক্ষতি বরণ করায়
শরী‘আতে কোন বাধা নেই। উক্ত
বক্তব্যের সত্যতা জানিয়ে বাধিত
করবেন।
-★
উত্তর : বাতিল প্রতিরোধের জন্য
ছোট হৌক, বড় হৌক শরী‘আত
বিরোধী কোন মাধ্যম গ্রহণ করা
নিষিদ্ধ। ইসলামের দৃষ্টিতে
পরকালীন বিজয়ই মুমিনের প্রকৃত
বিজয়। দুনিয়াতে শত যুলুমের
শিকার হলেও এর জন্য কারু
আখেরাত বিনষ্ট হবে না। কিন্তু
অন্যায় পথ বেছে নিলে আখেরাত
বিনষ্ট হবে। আর আখেরাতে যালেম
তার যথাযোগ্য শাস্তি পাবে এবং
মাযলূম তার পূর্ণ পুরস্কার পেয়ে
ধন্য হবে। আল্লাহ বলেন, তোমরা
সেই দিনকে ভয় কর, যেদিন তোমরা
আল্লাহর দিকে ফিরে যাবে।
অতঃপর প্রত্যেকে তার কৃতকর্মের
ফল পুরোপুরি পাবে এবং কেউ
অত্যাচারিত হবে না (বাক্বারাহ
২/২৮১) ।
★
প্রশ্ন (২১/১৮১) : পবিত্র কুরআনে
মুসলামানদেরকে মুসলিম, মুমিন,
মুহসিন তিন ভাগে ভাগ করা
হয়েছে। এর ব্যাখ্যা জানিয়ে
বাধিত করবেন।
★
উত্তর : দ্বীনের স্তর হচ্ছে তিনটি
: (১) ইসলাম, যা পাঁচটি স্তম্ভের
উপর প্রতিষ্ঠিত। কালেমায়ে
শাহাদাত, ছালাত, যাকাত, ছিয়াম
ও হজ্জ। (২) ঈমান, যা ছয়টি
রুকনের উপর প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ,
ফেরেশতাগণ, আসমানী কিতাবসমূহ,
নবী ও রাসূলগণ, ক্বিয়ামত দিবস
এবং তাক্বদীরের ভালো-মন্দের
উপর বিশ্বাস স্থাপন করা। (৩)
ইহসান, যা একনিষ্ঠচিত্তে ও পূর্ণ
ইখলাছের সাথে আল্লাহর ইবাদত
করাকে বুঝায়। অর্থাৎ এমনভাবে
আল্লাহর ইবাদত করা যেন বান্দা
আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছে অথবা
আল্লাহ স্বীয় বান্দাকে দেখছেন।
পূর্ণ ঈমানের সাথে সকল প্রকার
সৎকর্ম ইসলাম ও ঈমানের
অন্তর্ভুক্ত। আর সেগুলি পূর্ণ
ইখলাছের সাথে সম্পাদন করা
ইহসানের অন্তর্ভুক্ত। উল্লিখিত
তিনটি বিষয় হাদীছে জিব্রীলে
স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে (বুখারী
হা/৫০, মুসলিম হা/৯; মিশকাত
হা/২) ।

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url