সিয়াম বিষয়ক নিবাচিত ফতোওয়া ২য় পব | শরিফ গাজী অফিসিয়াল

সিয়াম বিষয়ক নিবাচিত ফতোওয়া ২য় পব

কী ধরনের রোগ একজন রোযাদারের জন্য সাওম ভঙ্গ
বৈধ করে?
ফাত্ওয়া নং - 12488
প্রশ্ন : কোন ধরনের রোগ রমযান মাসে একজন
মানুষের জন্য সাওম ভঙ্গ বৈধ করে? যে কোনো
রোগে, যদি তা অল্পও হয়, তবে কী সাওম ভঙ্গ করা
জায়েয (বৈধ)?
উত্তর : সকল প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য।
‘আলিমগণের অধিকাংশের মতে, যাঁদের মধ্যে
রয়েছেন চার জন ইমাম (আবূ হানীফাহ্, মালিক,
শাফি‘ঈ ও আহমাদ), একজন রোগীর জন্য রমযান
মাসে সাওম ভঙ্গ করা জায়েয নয় যদি না তার রোগ
তীব্র হয়।
আর তীব্র রোগের অর্থ হলো :
১. সাওমের কারণে যদি রোগ বেড়ে যায়।
২. সাওমের কারণে যদি আরোগ্য লাভে দেরি হয়।
৩.সাওমের কারণে যদি খুব বেশি কষ্ট হয় যদিও বা
তার রোগ বেড়ে না যায় বা সুস্থতায় বিলম্ব না হয়।
৪. এর সাথে আলিমগণ আরও যোগ করেছেন এমন
ব্যক্তিকে যার সিয়াম পালনের কারণে অসুস্থ বা
রোগ হবার আশংকা আছে।
ইবনু ক্বুদামাহ-রাহিমাহুল্লাহ-‘আল-
মুগনী’ (৪/৪০৩)-তে বলেছেন :
‘যে রোগ সাওম ভঙ্গ করা বৈধ করে তা হলো
অত্যধিক রোগ যা সাওম পালনের কারণে বেড়ে যায়
বা সে রোগ থেকে সুস্থতা লাভে দেরি হওয়ার
আশংকা রয়েছে।’
ইমাম আহমাদকে বলা হল, “একজন রোগী কখন সাওম
ভঙ্গ করতে পারে?”
তিনি বললেন, “যদি সে (সাওম পালন করতে) না
পারে।”
তাঁকে বলা হলো : “যেমন জ্বর?”
তিনি বললেন, “কোন রোগ জ্বর থেকে কঠিনতর !...”
আর সঠিক মতটি হলো, যার সিয়ামের কারণে
রোগের আশংকা আছে, যেমন-যে রোগী (তার
রোগ) বেড়ে যাওয়ার ভয় করে তার জন্য সাওম ভঙ্গ
করা বৈধ; কারণ সে রোগীর জন্যই সাওম ভঙ্গ করা
বৈধ করা হয়েছে যার সিয়ামের কারণে নতুন করে
রোগ হওয়ার, যেমন তা বেড়ে যাওয়ার বা বেশি
সময় স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা আছে, তাই নতুন করে
রোগ হওয়া এর অর্থেই পড়ে।” (উদ্ধৃতির সমাপ্তি)
ইমাম আন-নাওয়াউয়ী ‘আল-মাজমূ’-তে (৬/২৬১)
বলেছেন :
“সাওম পালনে অক্ষম রোগী যার রোগের সুস্থতা
আশা করা হয়, তার জন্য সাওম পালন বাধ্যতামূলক
নয়....এই হুকুম প্রযোজ্য যদি সাওমের কারণে কষ্ট হয়
আর এক্ষেত্রে এটি শর্ত নয় যে, তাকে এমন অবস্থায়
পৌছাতে হবে যখন একেবারেই সাওম পালন সম্ভব
নয়। বরং আমাদের অনেকে বলেছেন :
“সাওম ভঙ্গ করার ক্ষেত্রে শর্ত হলো সাওমের
কারণে এমন কষ্ট হওয়া যা সহ্য করা
কষ্টসাধ্য।” (উদ্ধৃতির সমাপ্তি)
‘আলিমদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, যে কোনো
রোগীর জন্যই সাওম ভঙ্গ করা জায়েয, যদি সাওমের
কারণে কষ্ট নাও হয়, আর এটি একটি বিরল মত। তাই
অধিকাংশ ‘আলিমই তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ইমাম আন-নাওয়াউয়ী বলেছেন:
   “হালকা রোগ যার কারণে বিশেষ কষ্ট হয় না, তার
জন্য সাওম ভঙ্গ করা জায়েয নয়, এ ব্যাপারে
আমাদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই।” [আল-
মাজমূ‘(৬/২৬১)]
শাইখ ইবনু ‘উসাইমীন বলেছেন :
“যে রোগী সাওম পালনের কারণে প্রভাবিত
(ক্ষতিগ্রস্ত) হয় না, যেমন-হালকা সর্দি, হালকা
মাথা ব্যথা, দাঁতে ব্যথা ইত্যাদির ক্ষেত্রে সাওম
ভঙ্গ করা হালাল নয়; যদিও ‘আলিমগণের কেউ কেউ
বলেছেন তা তার জন্য হালাল এই আয়াতের
ভিত্তিতে –
﴿ ﻭَﻣَﻦ ﻛَﺎﻥَ ﻣَﺮِﻳﻀًﺎ ﺃَﻭۡ ﻋَﻠَﻰٰ ﺳَﻔَﺮٖ ﻓَﻌِﺪَّﺓٞ ﻣِّﻦۡ ﺃَﻳَّﺎﻡٍ ﺃُﺧَﺮَۗ﴾ ‏[ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ: ١٨٥ ]
“আর যে কেউ অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে তবে
অন্যান্য দিবসে সংখ্যা পূরণ করে নিবে।” [আল-
বাকারাহ: ১৮৫]
তবে আমরা বলব -এই হুকুমটি একটি কারণের সাথে
সম্পৃক্ত আর তা হলো, যাতে সাওম ভঙ্গ করা রোগীর
জন্য বেশি আরামদায়ক হয়। যদি সে রোগী সাওমের
কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তবে তার জন্য সাওম ভঙ্গ
জায়েয নয় এবং তার উপর সাওম রাখা
ওয়াজিব।” [আশ-শারহ আল-মুমতি‘ (৬/৩৫২)]
Islam Q & A
কেউ যদি তার যিম্মায় থাকা (ছুটে যাওয়া)
সালাতের ও ফরয সাওমের সংখ্যা মনে করতে না
পারে, তবে সে কী করবে?
ফাত্ওয়া নং - 72216
প্রশ্ন : যদি কোন মুসলিমের ছুটে যাওয়া সালাত ও
সিয়ামের সংখ্যা মনে না থাকে, তবে সে
কিভাবে তার কাযা করবে?
উত্তর : সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
প্রথমত:
ছুটে যাওয়া সালাতের ক্ষেত্রে তিনটি অবস্থা
হতে পারে :
প্রথম অবস্থা :
ঘুম বা ভুলে যাওয়ার কারণে সালাত ছুটে যাওয়া। এ
অবস্থায় তার উপর কাযা করা ওয়াজিব। এর দলীল
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
বাণী :
ﻣﻦ ﻧﺴﻲ ﺻﻼﺓ ﺃﻭ ﻧﺎﻡ ﻋﻨﻬﺎ ﻓﻜﻔﺎﺭﺗﻬﺎ ﺃﻥ ﻳﺼﻠﻴﻬﺎ ﺇﺫﺍ ﺫﻛﺮﻫﺎ ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏(572 ‏)
ﻭﻣﺴﻠﻢ ‏( 684 ‏) – ﻭﺍﻟﻠﻔﻆ ﻟﻪ - .
“যে সালাত আদায় করতে ভুলে যায় বা সে সময়
ঘুমিয়ে থাকায় তা ছুটে যায়, তার কাফফারাহ হলো
সে যখনই তা মনে করবে তখনই (সাথে সাথে)
সালাত আদায় করে নিবে।”
[বুখারী (৫৭২) ও মুসলিম (৬৮৪)। (শব্দ চয়ন) সহীহ
মুসলিমের]
এবং সে তা ধারাবাহিকভাবে আদায় করবে
যেমনটি তার উপর ফরয হয়েছে, প্রথমটি প্রথমে
করবে। এর দলীল জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ এর হাদীস -
ﺃﻥ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺟﺎﺀ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺨﻨﺪﻕ ﺑﻌﺪ ﻣﺎ ﻏﺮﺑﺖ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﻓﺠﻌﻞ ﻳﺴﺐ
ﻛﻔﺎﺭ ﻗﺮﻳﺶ ﻗﺎﻝ : ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺎ ﻛﺪﺕ ﺃﺻﻠﻲ ﺍﻟﻌﺼﺮ ﺣﺘﻰ ﻛﺎﺩﺕ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﺗﻐﺮﺏ ، ﻗﺎﻝ
ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ﻭﺍﻟﻠﻪ ﻣﺎ ﺻﻠﻴﺘﻬﺎ ، ﻓﻘﻤﻨﺎ ﺇﻟﻰ ﺑﻄﺤﺎﻥ ﻓﺘﻮﺿﺄ ﻟﻠﺼﻼﺓ ﻭﺗﻮﺿﺄﻧﺎ
ﻟﻬﺎ ﻓﺼﻠَّﻰ ﺍﻟﻌﺼﺮ ﺑﻌﺪ ﻣﺎ ﻏﺮﺑﺖ ﺍﻟﺸﻤﺲ , ﺛﻢ ﺻﻠﻰ ﺑﻌﺪﻫﺎ ﺍﻟﻤﻐﺮﺏ . ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ
‏( 571 ‏) ﻭﻣﺴﻠﻢ ‏( 631 )
“উমার ইবনুল খাত্তাব-রাদিয়াল্লাহু-‘আনহু-
খানদাকের যুদ্ধের দিন সূর্যাস্তের পর এসে
ক্বুরাইশ কাফিরদের গালি দিতে লাগলেন, তিনি
বললেন : “হে রাসূলুল্লাহ, আমি ‘আসরের সালাত
আদায় করতে যেতে যেতে সূর্য ডুবে যেতে লাগল !”
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বললেন :
“আল্লাহর শপথ, আমিও এর (‘আসরের) সালাত আদায়
করি নি।” এরপর আমরা বাত্বহান-এ দাঁড়ালাম,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া-সাল্লাম
সালাতের জন্য ওযু করলেন, আমরাও সালাতের জন্য
ওযু করলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়া-সাল্লাম সূর্য অস্ত যাওয়ার পর
‘আসরের সালাত আদায় করলেন, এরপর মাগরিব এর
সালাত আদায় করলেন।” [বুখারী (৫৭১) ও মুসলিম
(৬৩১)]
দ্বিতীয় অবস্থা:
এমন ‘উযরের কারণে সালাত ছুটে যাওয়া, যে সময়
কোনো হুঁশ থাকে না, যেমন- কোমা। এ অবস্থার
ক্ষেত্রে তার উপর থেকে সালাত (আদায়ের
দায়িত্ব) উঠে যায় এবং তার উপর তা কাযা করা
ওয়াজিব হয় না।
ফাতওয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ‘আলিমগণকে এ
ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়েছিল :
আমার এক গাড়ির দুর্ঘটনা ঘটেছিল, ফলে তিন মাস
হাসপাতালে শুয়ে ছিলাম, এ সময়ে আমার কোনো
হুঁশ ছিল না। এ পুরো সময় আমি কোনো সালাত
আদায় করি নি। আমার উপর থেকে কি তা (সালাত
আদায়ের দায়িত্ব) উঠে যাবে নাকি পূর্বের সব
(ছুটে যাওয়া) সালাত পুনরায় আদায় করব?
তাঁরা উত্তরে বললেন :
“উল্লেখিত সময়ের সালাত [কাযা আদায়ের
দায়িত্ব] আপনার থেকে ছুটে যাবে; কারণ আপনার
তখন কোনো হুঁশ ছিল না।”
তাঁদেরকে আরও প্রশ্ন করা হয়েছিল:
যদি কেউ এক মাস অজ্ঞান অবস্থায় থাকে আর এ
পুরো মাস কোনো সালাত আদায় না করে, তবে সে
কীভাবে ছুটে যাওয়া সালাত পুনরায় আদায় করবে?
তাঁরা উত্তরে বলেন:
“এ সময়ে যে সালাতসমূহ বাদ গিয়েছে তা কাযা
করবে না, কারণ সে উল্লেখিত অবস্থায় পাগলের
হুকুমের মধ্যে পড়ে। আর পাগল ব্যক্তির জন্য কলম
উঠানো হয়েছে (অর্থাৎ তার উপর শারী‘আতের
বিধি-বিধান প্রযোজ্য নয়)।” [ফাত্ওয়া আল-
লাজ্নাহ আদ-দা’ইমাহ (৬/২১)]
তৃতীয় অবস্থা:
ইচ্ছাকৃতভাবে কোন ‘উযর (অজুহাত) ছাড়া সালাত
ত্যাগ করা, আর তা কেবল দুই ক্ষেত্রেই হতে পারে:
এক:
সে যদি সালাতকে অস্বীকার করে, এর ফরয
হওয়াকে মেনে না নেয়, তবে সে লোকের কুফরের
ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। কারণ সে ইসলামের
ভিতরে নেই। তাকে (আগে) ইসলামে প্রবেশ করতে
হবে, এরপর এর আরকান ও ওয়াজিবসমূহ পালন করতে
হবে। আর কাফির থাকা অবস্থায় যে সালাত ত্যাগ
করেছে তার কাযা করা তার উপর ওয়াজিব নয়।
দুই:
সে যদি অবহেলা বা অলসতাবশত সালাত ত্যাগ
করে, তবে তার কাযা শুদ্ধ হবে না। কারণ সে যখন
তা ত্যাগ করেছিল, তখন তার কোন গ্রহণযোগ্য ‘উযর
(অজুহাত) ছিল না। আর আল্লাহ সালাতকে
সুনির্ধারিত, সুনির্দিষ্ট এক সময়ে ফরয করেছেন।
আল্লাহ্ সুবহানুহূ ওয়া তা‘আলা বলেছেন :
﴿ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﺼَّﻠَﻮٰﺓَ ﻛَﺎﻧَﺖۡ ﻋَﻠَﻰ ﭐﻟۡﻤُﺆۡﻣِﻨِﻴﻦَ ﻛِﺘَٰﺒٗﺎ ﻣَّﻮۡﻗُﻮﺗٗﺎ ١٠٣ ﴾ ‏[ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ: ١٠٣ ]
“নিশ্চয়ই নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায় করা
মু’মিনদের জন্য অবশ্য কর্তব্য।” [আন-নিসা: ১০৩]
অর্থাৎ এর সুনির্দিষ্ট সময় আছে। এর দলীল হলো
রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বাণী:
« ﻣَﻦْ ﻋَﻤِﻞَ ﻋَﻤَﻼ ﻟَﻴْﺲَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺃَﻣْﺮُﻧَﺎ ﻓَﻬُﻮَ ﺭَﺩٌّ ‏» ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏( 2697 ‏) ﻭﻣﺴﻠﻢ ‏(1718 )
“যে এমন কোন কাজ করে যা আমাদের (শারী‘আত
এর) অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যাত।” [এটি
বর্ণনা করেছেন আল-বুখারী (২৬৯৭) ও মুসলিম (১৭১৮)]
শাইখ ‘আব্দুল ‘আযীয ইবনু বায-রাহিমাহুল্লাহ-কে
প্রশ্ন করা হয়েছিল :
আমি ২৪ বছর বয়সের আগে সালাত আদায় করি নি।
এখন আমি প্রতি ফরয সালাত এর সাথে আরেকবার
ফরয সালাত আদায় করি। আমার জন্য কি তা করা
জায়েয (বৈধ)? আমি কি এভাবেই চালিয়ে যাব
নাকি আমার উপর অন্য কোন করণীয় আছে?
তিনি বলেন :
“যে ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ত্যাগ করে, সঠিক
মতানুসারে তার উপর কোনো কাযা নেই। বরং
তাকে আল্লাহ তা‘আলার কাছে তাওবাহ করতে
হবে; কারণ সালাত ইসলামের স্তম্ভ, তা ত্যাগ করা
ভয়াবহ অপরাধসমূহের একটি। বরং ইচ্ছাকৃতভাবে
তা (সালাত) ত্যাগ করা ‘বড় কুফর’ যা ‘আলিমগণের
দুটি মতের মধ্যে সবচেয়ে সঠিকটি, কারণ রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে
প্রমাণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন :
« ﺍﻟﻌﻬﺪ ﺍﻟﺬﻱ ﺑﻴﻨﻨﺎ ﻭﺑﻴﻨﻬﻢ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻓﻤﻦ ﺗﺮﻛﻬﺎ ﻓﻘﺪ ﻛﻔﺮ »
“আমাদের ও তাদের (কাফেরদের) মাঝে চুক্তি
হলো সালাত; তাই যে তা ত্যাগ করে, সে কাফের
হয়ে গেলো।”
[ইমাম আহমাদ ও সুনানের সংকলকগণ সহীহ ইসনাদ
সূত্রে বুরাইদাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-হতে বর্ণনা
করেছেন]
আর রাসূল-সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর
বাণী :
« ﺑﻴﻦ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻭﺑﻴﻦ ﺍﻟﺸﺮﻙ ﻭﺍﻟﻜﻔﺮ ﺗﺮﻙ ﺍﻟﺼﻼﺓ »
“একজন ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য
হলো সালাত ত্যাগ করা।”
[ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে জাবির ইবনু
‘আব্দিল্লাহ-রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-থেকে
বর্ণনা করেছেন। সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে এ ব্যাপারে
আরও অনেক হাদীস রয়েছে, যাতে এ ব্যাপারে
ইঙ্গিত পাওয়া যায়]
এক্ষেত্রে ভাই আপনার উপর কর্তব্য হলো আল্লাহর
নিকট সত্যিকার অর্থে তাওবাহ করা। আর তা হলো-
(১) পূর্বে যা গত হয়েছে তার ব্যাপারে অনুতপ্ত
হওয়া; (২) সালাত ত্যাগ একেবারে ছেড়ে দেয়া;
এবং (৩) এ মর্মে দৃঢ় সংকল্প করা যে, এ কাজে
আপনি আর কখনও ফিরে যাবেন না।
আর আপনাকে প্রতি সালাতের সাথে বা অন্য
সালাতের সাথে কাযা করতে হবে না, বরং
আপনাকে শুধু তাওবাহ করতে হবে। আর সকল
প্রশংসা আল্লাহর। যে তাওবাহ করে আল্লাহ তার
তাওবাহ কবুল করেন। আল্লাহ -সুবহানাহু ওয়া
তা‘আলা- বলেছেন:
﴿ ﻭَﺗُﻮﺑُﻮٓﺍْ ﺇِﻟَﻰ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﺟَﻤِﻴﻌًﺎ ﺃَﻳُّﻪَ ﭐﻟۡﻤُﺆۡﻣِﻨُﻮﻥَ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢۡ ﺗُﻔۡﻠِﺤُﻮﻥَ ٣١ ﴾ ‏[ﺍﻟﻨﻮﺭ: ٣١ ]
“হে মু’মিনগণ তোমরা সবাই আল্লাহর নিকট
তাওবাহ করো,যাতে তোমরা সফলকাম হতে
পার।” [আন-নূর : ৩১]
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেন:
« ﺍﻟﺘﺎﺋﺐ ﻣﻦ ﺍﻟﺬﻧﺐ ﻛﻤﻦ ﻻ ﺫﻧﺐ ﻟﻪ »
“পাপ থেকে তাওবাহকারী এমন ব্যক্তির ন্যায় যার
কোন পাপই নেই।”[1]
তাই আপনাকে সত্যিকার অর্থে তাওবাহ করতে
হবে, নিজের নাফসের সাথে হিসাব-নিকাশ করতে
হবে, সঠিক সময়ে জামা‘আতের সাথে সালাত
আদায়ের ব্যাপারে সদা-সচেষ্ট থাকতে হবে,
আপনার দ্বারা যা যা হয়েছে সে ব্যাপারে
আল্লাহর কাছে মাফ চাইতে হবে এবং বেশি
বেশি ভাল কাজ করতে হবে। আর আপনাকে
কল্যাণের সুসংবাদ জানাই, আল্লাহ-সুবহানাহূ ওয়া
তা‘আলা -বলেছেন :
﴿ ﻭَﺇِﻧِّﻲ ﻟَﻐَﻔَّﺎﺭٞ ﻟِّﻤَﻦ ﺗَﺎﺏَ ﻭَﺀَﺍﻣَﻦَ ﻭَﻋَﻤِﻞَ ﺻَٰﻠِﺤٗﺎ ﺛُﻢَّ ﭐﻫۡﺘَﺪَﻯٰ ٨٢ ﴾ ‏[ﻃﻪ: ٨٢ ]
“আর যে তাওবাহ করে, ঈমান আনে, সৎকর্ম করে এবং
হিদায়াতের পথ অবলম্বন করে, নিশ্চয়ই আমি তার
প্রতি ক্ষমাশীল।” [ত্বাহা : ৮২]
সূরা আল-ফুরক্বান-এ শিরক, হত্যা, যিনা (ব্যভিচার)
উল্লেখ করে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেন :
﴿ ﻭَﻣَﻦ ﻳَﻔۡﻌَﻞۡ ﺫَٰﻟِﻚَ ﻳَﻠۡﻖَ ﺃَﺛَﺎﻣٗﺎ ٦٨ ﻳُﻀَٰﻌَﻒۡ ﻟَﻪُ ﭐﻟۡﻌَﺬَﺍﺏُ ﻳَﻮۡﻡَ ﭐﻟۡﻘِﻴَٰﻤَﺔِ ﻭَﻳَﺨۡﻠُﺪۡ ﻓِﻴﻪِۦ ﻣُﻬَﺎﻧًﺎ ٦٩ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﻦ
ﺗَﺎﺏَ ﻭَﺀَﺍﻣَﻦَ ﻭَﻋَﻤِﻞَ ﻋَﻤَﻠٗﺎ ﺻَٰﻠِﺤٗﺎ ﻓَﺄُﻭْﻟَٰٓﺌِﻚَ ﻳُﺒَﺪِّﻝُ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﺳَﻴَِّٔﺎﺗِﻬِﻢۡ ﺣَﺴَﻨَٰﺖٖۗ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻏَﻔُﻮﺭٗﺍ ﺭَّﺣِﻴﻤٗﺎ ٧٠
﴾ ‏[ﺍﻟﻔﺮﻗﺎﻥ : ٦٧-٦٩ ]
“আর যে তা করল সে পাপ করল, ক্বিয়ামাতের দিন
তার শাস্তি দ্বিগুণ করে দেয়া হবে এবং সে
সেখানে অপমানিত অবস্থায় চিরকাল অবস্থান
করবে, তবে সে ছাড়া যে তাওবাহ করেছে, ঈমান
এনেছে এবং ভাল কাজ করেছে; আল্লাহ তাদের
খারাপ কাজ সমূহকে ভাল কাজে পরিবর্তন করে
দিবেন। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ মহা ক্ষমাশীল, পরম
দয়াময় ।” [আল-ফুরক্বান : ৬৯-৭০]
আমরা আল্লাহ’র কাছে চাই আমাদের ও আপনার
জন্য তাওফীক্ব, বিশুদ্ধ তাওবাহ ও কল্যাণের পথে
অবিচলতা।”
[মাজমূ‘ফাত্ওয়া আশ-শাইখ ইবন বায (১০/৩২৯,৩৩০)]
দ্বিতীয়ত :
আর সিয়াম কাযা করার ক্ষেত্রে, আপনার সিয়াম
ত্যাগ করা যদি আপনার সালাত ত্যাগ করা অবস্থায়
হয়, তবে আপনার উপর সে সব দিনের, যে সব দিনে
আপনি সাওম ভঙ্গ করেছেন তার কাযা করা
ওয়াজিব নয়, কারণ যে সালাত ত্যাগ করে, সে বড়
কুফর সংঘটনকারী কাফির (যা মুসলিম মিল্লাত
থেকে বের করে দেয়)যেমনটি পূর্বে উল্লেখিত
হয়েছে। আর কোনো কাফির যদি ইসলাম কবুল করে,
কুফর অবস্থায় সে যে ‘ইবাদাতগুলো ত্যাগ করেছিল,
তা কাযা করা তার জন্য বাধ্যতামূলক নয়।
আর যদি আপনার সিয়াম ত্যাগ সালাত আদায় করা
অবস্থায় হয়ে থাকে, তবে এক্ষেত্রে শুধু দুটো
সম্ভাব্য ব্যাপারই ঘটতে পারে :
প্রথমত :
আপনি রাতে সিয়ামের নিয়্যাত করেন নি, বরং
সাওম ভঙ্গের ব্যাপারে সংকল্পবদ্ধ ছিলেন।
এক্ষেত্রে আপনার পক্ষ থেকে কাযা শুদ্ধ হবে না।
কারণ আপনি কোন ‘উযর (গ্রহণযোগ্য অজুহাত) ছাড়া
শারী‘আতে নির্ধারিত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে
করণীয় ‘ইবাদাত ত্যাগ করেছেন।
দ্বিতীয়ত :
আপনি সিয়াম শুরু করার পর সেই দিনে তা ভঙ্গ
করেছেন। এক্ষেত্রে আপনার উপর কাযা করা ফরয।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন
রমযান মাসে দিনের বেলায় (যৌন) মিলনকারী
ব্যক্তিকে কাফফারাহ আদায় করার আদেশ দিলেন,
তখন বললেন:
« ﺻﻢ ﻳﻮﻣﺎً ﻣﻜﺎﻧﻪ ‏» ﺭﻭﺍﻩ ﺃﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ ‏( 2393 ‏) , ﻭﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﻪ ‏( 1671 ‏) , ﻭﺻﺤﺤﻪ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ
ﻓﻲ "ﺇﺭﻭﺍﺀ ﺍﻟﻐﻠﻴﻞ " ‏( 940 )
“তুমি সে দিনের পরিবর্তে একদিন সাওম পালন কর।”
[এটি বর্ণনা করেছেন আবূ-দাঊদ (২৩৯৩), ইবনু
মাজাহ (১৬৭১) এবং আল-আলবানী “ইরওয়াউল
গালীল”-এ (৯৪০)-একে সহীহ বলেছেন]
আর শাইখ ইবনু ‘উসাইমীনকে রমযান মাসে দিনের
বেলা কোনো ‘উযর (সঙ্গতকারণ) ছাড়া সাওম ভঙ্গ
করা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি উত্তরে
বলেন:
“রমযান মাসে দিনের বেলা কোন ‘উযর ছাড়া
সাওম ভঙ্গ করা সবচেয়ে বড় (কাবীরাহ)
গুনাহসমূহের একটি, এ দ্বারা সে ব্যক্তি ফাসিক্ব
হয়ে যাবে। তার উপর ওয়াজিব হবে আল্লাহর কাছে
তাওবাহ করা, যেদিন সাওম ভঙ্গ করেছিল
সেদিনের কাযা করা, অর্থাৎ সে যদি সাওম পালন
শুরু করে দিনের মাঝে কোনো ‘উযর (অযুহাত) ছাড়া
সাওম ভঙ্গ করেছে তার কাযা করতে হবে। কারণ
যেহেতু সে সাওম শুরু করেছে, তার ব্যাপারে
অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিল এবং তা ফরয এই বিশ্বাসে
তাতে প্রবেশ করেছে, তাই তার উপর এর কাযা করা
বাধ্যতামূলক। নাযর (মান্নতের) এর ন্যায়।
আর যদি কোন ‘উযর ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে শুরু থেকেই
সাওম ত্যাগ করে, তবে অধিক শক্তিশালী
মতানুসারে তাকে তার কাযা আদায় করতে হবে
না, কারণ সে এর দ্বারা কোনো উপকার পাবে না।
এটি এজন্য যে, তা তার থেকে কবুল করা হবে না।
এক্ষেত্রে মূলনীতিটি হলো-সকল ‘ইবাদাত যা
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্ধারিত, তা কোনো ‘উযর
(গ্রহণযোগ্য কারণ) ছাড়া সেই নির্দিষ্ট সময় থেকে
বিলম্বে করা হলে, তা তার থেকে কবুল করা হবে
না। এর দলীল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম এর বাণী :
« ﻣَﻦْ ﻋَﻤِﻞَ ﻋَﻤَﻼ ﻟَﻴْﺲَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺃَﻣْﺮُﻧَﺎ ﻓَﻬُﻮَ ﺭَﺩٌّ ‏» ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏( 2697 ‏) ﻭﻣﺴﻠﻢ ‏(1718 )
“যে এমন কোন কাজ করে যা আমাদের (শারী‘আত
এর) অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যাত।” [এটি
বর্ণনা করেছেন আল-বুখারী (২৬৯৭) ও মুসলিম (১৭১৮)]
কারণ তা আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা লঙ্ঘন
করার মধ্যে পড়ে আর আল্লাহ তা‘আলা নির্ধারিত
সীমারেখা লঙ্ঘন করা যুলুম (অবিচার)। আর যালিম
ব্যক্তির কাছ থেকে সেই যুলুম কবুল করা হবে না।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
﴿ ﻭَﻣَﻦ ﻳَﺘَﻌَﺪَّ ﺣُﺪُﻭﺩَ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﻓَﺄُﻭْﻟَٰٓﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﭐﻟﻈَّٰﻠِﻤُﻮﻥَ ٢٢٩ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ: ٢٢٩ ]
“আর যারা আল্লাহ নির্ধারিত সীমারেখা লঙ্ঘন
করে তারা হলো জালিম।” [আল-বাকারাহ: ২২৯]
আর এটি এজন্য যে, সে যদি এই ‘ইবাদাত নির্ধারিত
সময় হবার আগে অর্থাৎ তা করার সময় শুরু হবার
আগেই করত, তবে তা তার কাছ থেকে কবুল হত না।
একই ভাবে সে যদি তা (সেই ‘ইবাদাতের) সময় শেষ
হয়ে যাওয়ার পরে করে, তবে তাও তার কাছ থেকে
কবুল হবে না যদি না সে মা‘যূর (অপারগ বা সঙ্গত
কারণ বিশিষ্ট) হয়।”
[মাজমূ ‘ফাত্ওয়া আশ-শাইখ ইবন ‘উসাইমীন (১৯/
প্রশ্ন নং ৪৫)]
আর তার উপর কর্তব্য হলো সকল পাপ কাজ থেকে
(আল্লাহর কাছে) সত্যিকার অর্থে তাওবাহ করা
[উপরে উল্লেখিত ইবনু বাযের ফাত্ওয়ায় তাওবাহর
তিনটি শর্তসহ], ফরয কাজসমূহ সময়মত অব্যাহত
রাখা, খারাপ কাজ ত্যাগ করা, বেশি বেশি নফল ও
নৈকট্য লাভ হয় এমন কাজ করা।
আর আল্লাহই সবচেয়ে বেশি জানেন।
Islam Q & A
সিয়ামের আয়াতে উল্লেখিত ফিদয়াহ-এর পরিমাণ
ফাত্ওয়া নং- 49944
প্রশ্ন : সিয়ামের আয়াতে উল্লেখিত ফিদয়াহ-এর
পরিমাণ কি?
উত্তর : সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
প্রথমত :
যে রমযান (মাস) পেল কিন্তু সিয়াম পালনে সক্ষম
নয় অত্যন্ত বৃদ্ধ হওয়ার জন্য (অতি বার্ধক্যের
কারণে) অথবা সে এমন রোগী যার সুস্থতা লাভের
আশা করা যায় না, তার উপর সিয়াম পালন ফরয নয়,
অক্ষমতার জন্য। সে সাওম ভঙ্গ করবে এবং
প্রতিদিনের বদলে একজন মিসকীনকে খাওয়াবে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন :
﴿ ﻳَٰٓﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺀَﺍﻣَﻨُﻮﺍْ ﻛُﺘِﺐَ ﻋَﻠَﻴۡﻜُﻢُ ﭐﻟﺼِّﻴَﺎﻡُ ﻛَﻤَﺎ ﻛُﺘِﺐَ ﻋَﻠَﻰ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻣِﻦ ﻗَﺒۡﻠِﻜُﻢۡ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢۡ ﺗَﺘَّﻘُﻮﻥَ ١٨٣
ﺃَﻳَّﺎﻣٗﺎ ﻣَّﻌۡﺪُﻭﺩَٰﺕٖۚ ﻓَﻤَﻦ ﻛَﺎﻥَ ﻣِﻨﻜُﻢ ﻣَّﺮِﻳﻀًﺎ ﺃَﻭۡ ﻋَﻠَﻰٰ ﺳَﻔَﺮٖ ﻓَﻌِﺪَّﺓٞ ﻣِّﻦۡ ﺃَﻳَّﺎﻡٍ ﺃُﺧَﺮَۚ ﻭَﻋَﻠَﻰ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ
ﻳُﻄِﻴﻘُﻮﻧَﻪُۥ ﻓِﺪۡﻳَﺔٞ ﻃَﻌَﺎﻡُ ﻣِﺴۡﻜِﻴﻦٖۖ ﻓَﻤَﻦ ﺗَﻄَﻮَّﻉَ ﺧَﻴۡﺮٗﺍ ﻓَﻬُﻮَ ﺧَﻴۡﺮٞ ﻟَّﻪُۥۚ ﻭَﺃَﻥ ﺗَﺼُﻮﻣُﻮﺍْ ﺧَﻴۡﺮٞ ﻟَّﻜُﻢۡ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢۡ
ﺗَﻌۡﻠَﻤُﻮﻥَ ١٨٤ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ: ١٨٣، ١٨٤ ]
“হে ঈমানদারগণ, তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা
হয়েছে যেমনটি ফরয করা হয়েছিল তোমাদের
পূর্ববর্তীদের উপর যাতে তোমরা তাক্বওয়া অর্জন
করতে পারো। নির্দিষ্ট কিছু দিনে। আর তোমাদের
মধ্যে যে অসুস্থ বা সফরে আছে, সে যাতে অন্য
দিনগুলোতে তা আদায় করে নেয়, আর (তোমাদের
মধ্যে) যারা (তাতেও) অপারগ, তারা যেন ফিদয়াহ
হিসেবে মিসকীনকে খাবার খাওয়ায়, আর যে
নাফল কল্যাণ হিসেবে তা (ফিদয়াহ) বেশি করে
আদায় করে, তবে তা তার জন্য উত্তম। আর তোমরা
যদি সাওম রাখ তবে তা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি
তা তোমরা জানতে।”
[আল বাকারাহ : ১৮৩-১৮৪]
আর আল-বুখারী (৪৫০৫) ইবনু ‘আব্বাস হতে বর্ণনা
করেছেন যে তিনি বলেছেন :
“এটি মানসূখ (রহিত) নয়, বরং তা অতি বৃদ্ধ পুরুষ ও
নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা সাওম পালন করতে
পারবে না, তারা প্রতিদিনের পরিবর্তে একজন
মিসকীনকে খাওয়াবেন।”
ইবনু ক্বুদামাহ “আল-মুগনী”-তে (৪/৩৯৬) বলেছেন :
“অতি বৃদ্ধ পুরুষ ও নারীর জন্য সাওম পালন যদি
কঠিন ও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়, তবে তাঁরা সাওম ভঙ্গ
করতে পারেন আর সেক্ষেত্রে প্রতিদিনের
পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাওয়াবেন… তবে
তিনি যদি (মিসকীন) খাওয়াতেও অক্ষম হন, তবে
তার উপর কিছু (কোনো দায়িত্ব) বর্তায় না।
কেননা,
﴿ ﻟَﺎ ﻳُﻜَﻠِّﻒُ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻧَﻔۡﺴًﺎ ﺇِﻟَّﺎ ﻭُﺳۡﻌَﻬَﺎۚ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ: ٢٨٦ ]
“আল্লাহ কারও উপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা
চাপান না।” [আল-বাকারাহ: ২৮৬]
আর সে রোগী যার সুস্থতার আশা করা যায় না সেও
সাওম ভঙ্গ করবে এবং প্রতিদিনের বদলে একজন
মিসকীনকে খাওয়াবে। কারণ সে বৃদ্ধ লোকের
পর্যায়ভুক্ত।”
আর “আল-মূসূ‘আহ আল-ফিক্বহিয়্যাহ”-তে (৫/১১৭)
আছে :
“হানাফী, শাফি‘ঈ ও হাম্বলী (ফিক্বহী
মাযহাবের) ‘আলিমগণ এ ব্যাপারে একমত পোষণ
করেছেন যে, ফিদয়াহ তখনই আদায় করা যাবে, যখন
বার্ধক্যের বা এমন রোগ যার সুস্থতার আশা করা
যায় না। এর কারণে সাওম ভঙ্গ করা দিনগুলোর
কাযা আদায়ের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে যাবে। এর
দলীল আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
﴿ ﻭَﻋَﻠَﻰ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳُﻄِﻴﻘُﻮﻧَﻪُۥ ﻓِﺪۡﻳَﺔٞ ﻃَﻌَﺎﻡُ ﻣِﺴۡﻜِﻴﻦٖ﴾ ‏[ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ: ١٨٤ ]
“আর যারা তাতে (সিয়াম পালনে) অক্ষম, তারা
ফিদয়াহ হিসেবে মিসকীন খাওয়াবে।” [আল-
বাকারাহ: ১৮৪]
এর অর্থ যাদের উপর সিয়াম পালন কষ্টসাধ্য।”
শাইখ ইবনু ‘উসাইমীন “ফাত্ওয়া আস-সিয়াম”- এ
(পৃঃ ১১১) বলেছেন :
“আমাদের জানা উচিত যে রোগী দুই প্রকার :
প্রথম প্রকার :
এমন রোগী যার সুস্থতার আশা করা যায়। যেমন-
হঠাৎ হওয়া রোগ যার থেকে সুস্থতা আশা করা
যায়। তার হুকুম হল যেমনটি আল্লাহ-তা‘আলা
বলেছেন :
﴿ ﻓَﻤَﻦ ﻛَﺎﻥَ ﻣِﻨﻜُﻢ ﻣَّﺮِﻳﻀًﺎ ﺃَﻭۡ ﻋَﻠَﻰٰ ﺳَﻔَﺮٖ ﻓَﻌِﺪَّﺓٞ ﻣِّﻦۡ ﺃَﻳَّﺎﻡٍ ﺃُﺧَﺮَ ﴾
“আর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ বা সফরে আছে, সে
যাতে অন্য দিনগুলোতে তা আদায় করে নেয়।” [আল-
বাকারাহ: ১৮৪]
সে (এরূপ রোগী) শুধু সুস্থতার আশা করবে, এরপর
সাওম পালন করে ফেলবে। যদি এমন হয় যে তার রোগ
থেকেই গেল এবং সুস্থ হওয়ার আগেই সে মারা
গেল, তবে তার উপর কিছু বর্তায় না। কারণ, আল্লাহ
তা‘আলা তার উপর অন্য দিনগুলোতে কাযা
ওয়াজিব করেছিলেন এবং তা পাওয়ার আগেই সে
মারা গেছে। এক্ষেত্রে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে
রমযান আসার আগেই শা‘বান মাসে মারা গেল,
তার পক্ষ থেকে কাযা করতে হবে না।
দ্বিতীয় প্রকার :
এমন রোগ যা স্থায়ী। যেমন-ক্যান্সারের রোগ-
আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই-কিডনীর রোগ,
ডায়াবেটিস বা এ ধরণের স্থায়ী রোগ (যা
অসহনীয়) যা থেকে রোগী সুস্থতা আশা করে না,
সে রোগী রমযান মাসে সাওম ভঙ্গ করবে এবং এবং
প্রতিদিনের বদলে একজন মিসকীন খাওয়াবে ঠিক
যেমন বৃদ্ধ পুরুষ ও নারী, যারা সিয়াম পালনে সক্ষম
নয়, তারা সাওম ভঙ্গ করে এবং প্রতিদিনের বদলে
একজন মিসকীন খাওয়ায়। কুরআন থেকে এর দলীল হল
আল্লাহ তা‘আলার বাণী :
﴿ ﻭَﻋَﻠَﻰ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳُﻄِﻴﻘُﻮﻧَﻪُۥ ﻓِﺪۡﻳَﺔٞ ﻃَﻌَﺎﻡُ ﻣِﺴۡﻜِﻴﻦٖ﴾ ‏[ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ: ١٨٤ ]
“আর যারা তাতে (সিয়াম পালনে ) অক্ষম, তারা
যেন ফিদয়াহ হিসেবে মিসকীন খাওয়ায়।” [আল-
বাকারাহ: ১৮৪]
দ্বিতীয়ত :
আর ইত্ব‘আম-এর (খাওয়ানোর) পদ্ধতি হল প্রত্যেক
মিসকীনকে অর্ধেক সা‘ (প্রায় ১.৫[2] কিলোগ্রাম)
খাবার যেমন-চাল বা ইত্যাদি দেওয়া অথবা
খাবার বানিয়ে মিসকীনদের ডেকে খাওয়ানো।
ইমাম বুখারী বলেছেন :
“আর বৃদ্ধ ব্যক্তির ক্ষেত্রে যিনি সাওম পালনে
সক্ষম নন, যেমন আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বৃদ্ধ
হওয়ার পর একবছর বা দুইবছর প্রতিদিনের পরিবর্তে
একজন মিসকীনকে রুটি ও গোশত খাইয়েছেন এবং
সাওম ভঙ্গ করেছেন।”
শাইখ ইবনু বাযকে একজন অতি বৃদ্ধা নারী সম্পর্কে
জানতে চাওয়া হয়েছিল যিনি সাওম পালনে সক্ষম
নন, তিনি কী করবেন?
তিনি উত্তরে বলেন: :
“তাকে প্রতিদিনের বদলে একজন মিসকীনকে আধা
সা‘ খাবার খাওয়াতে হবে, তা সে দেশের খাদ্য
দ্রব্য থেকে যেমন- খেজুর বা চাল বা এছাড়া
অন্যান্য কিছু থেকে। ওজন হিসেবে এর পরিমাণ হল
প্রায় দেড় (১.৫) কিলোগ্রাম। যেমনি নবীর একদল
সাহাবী ফাত্ওয়া দিয়েছেন, যাঁদের মাঝে ইবনু
‘আব্বাসও (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) আছেন। আর যদি
তিনি (অতি বৃদ্ধা নারী) দরিদ্র হন অর্থাৎ
খাওয়াতে সক্ষম না হন, তবে তার উপর কিছু বর্তায়
না, আর এই কাফফারাহ একজন (মিসকীন)-কে বা
অনেকজনকে (মিসকীনদের) দেওয়া যেতে পারে
মাসের শুরুতে বা এর মাঝে বা এর শেষে। আর
আল্লাহই তাওফীক্বদাতা।” [মাজমূ‘ ফাত্ওয়া ইবন
বায (১৫/২০৩)]
আর শাইখ ইবনু ‘উসাইমীন ফাত্ওয়া আস-
সিয়াম’ (পৃঃ: ১১১)-এ বলেছেন :
“তাই চিরস্থায়ী রোগে আক্রান্ত রোগী, পুরুষ ও
নারীদের মধ্যে যারা বয়স্ক, তারা যদি সাওম
পালনে অক্ষম হয়, তবে তাদের উপর প্রতিদিনের
পরিবর্তে একজন মিসকীন খাওয়ানো ওয়াজিব।
ফকিরকে খাবার দিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে হোক বা
মাসের দিনের সমান সংখ্যক ফকিরদের দাওয়াত
করে খাওয়ানো খাওয়ানো হোক যেভাবে আনাস
ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু- বৃদ্ধ হওয়ার পর
করতেন, তিনি এক মাসের পরিবর্তে ৩০ জন
মিসকীনকে একত্রে দাওয়াত করে খাওয়াতেন।”
ফাতওয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে (১১/১৬৪) প্রশ্ন
করা হয়েছিল অক্ষম যেমন-বার্ধক্যের কারণে
অক্ষম, বৃদ্ধ ব্যক্তি ও বৃদ্ধা নারী, এমন রোগী যার
সুস্থতার আশা করা যায় না রমযান মাসে তার
ইত্ব‘আম (মিসকীন খাওয়ানো) সম্পর্কে।
তাঁরা উত্তরে বলেন :
“যে বার্ধক্যের কারণে রমযানে সাওম পালনে
অক্ষম যেমন-বৃদ্ধ ব্যক্তি ও বৃদ্ধা নারী অথবা সাওম
পালন যার জন্য খুবই কষ্টসাধ্য, তার সাওম ভঙ্গের
ব্যাপারে শিথিলতা আছে, তার জন্য প্রতিদিনের
পরিবর্তে একজন মিসকীন খাওয়ানো ওয়াজিব, তা
হল গম, খেজুর, চাল বা এজাতীয় খাবার যা সে নিজ
পরিবারকে খাওয়ায় তার অর্ধেক সা‘ প্রদান করা।
একইভাবে এমন অসুস্থ ব্যক্তিও, যিনি সাওম পালনে
অক্ষম বা তা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য বা তা
থেকে সুস্থতা আশা করা যায় না-সেও তাই করবে।”
এর দলীল হল আল্লাহ তা‘আলার-বাণী :
﴿ ﻟَﺎ ﻳُﻜَﻠِّﻒُ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻧَﻔۡﺴًﺎ ﺇِﻟَّﺎ ﻭُﺳۡﻌَﻬَﺎۚ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ: ٢٨٦ ]
“আল্লাহ কারও উপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা
চাপান না।” [আল-বাকারাহ: ২৮৬]
এবং আরও রয়েছে তাঁর বাণী :
﴿ ﻭَﻣَﺎ ﺟَﻌَﻞَ ﻋَﻠَﻴۡﻜُﻢۡ ﻓِﻲ ﭐﻟﺪِّﻳﻦِ ﻣِﻦۡ ﺣَﺮَﺝٖۚ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺤﺞ: ٧٨ ]
“আর তিনি (আল্লাহ) দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের
উপর কোন কাঠিন্য রাখেন নি।” [আল-হাজ্জ: ৭৮]
এবং তাঁর বাণী :
﴿ ﻭَﻋَﻠَﻰ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳُﻄِﻴﻘُﻮﻧَﻪُۥ ﻓِﺪۡﻳَﺔٞ ﻃَﻌَﺎﻡُ ﻣِﺴۡﻜِﻴﻦٖ﴾ ‏[ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ: ١٨٤ ]
“আর যারা তাতে (সিয়াম পালনে ) অক্ষম, তারা
যেন ফিদয়াহ হিসেবে মিসকীন খাওয়ায়।” [আল-
বাকারাহ: ১৮৪]
আর আল্লাহই সবচেয়ে বেশি ভালো জানেন।
Islam Q & A
তারাবীহ -এর সালাতের রাক্‘আত সংখ্যা
ফাত্ওয়া নং : 9036
প্রশ্ন : আমি প্রশ্নটি আগেও করেছিলাম। আশা
করি এর উত্তর দিয়ে আমাকে উপকৃত করবেন কারণ
আমি এর কোনো সন্তোষজনক জবাব পাই নি।
প্রশ্নটি হলো তারাবীহ সম্পর্কে, তা কি ১১
রাক্‘আত নাকি ২০ রাক্‘আত? সুন্নাহ মতে তো তা ১১
রাক্‘আত । শাইখ আল-আলবানী –রহিমাহুল্লাহ
–“আল-ক্বিয়াম ওয়া আত-তারাউয়ীহ”-বইতে
বলেছেন (তা) ১১ রাক্‘আত । কেউ কেউ সেই
মাসজিদে যায় যেখানে ১১ রাক্‘আত সালাত আদায়
হয়, আবার অনেকে সেই মাসজিদে যায় যেখানে ২০
রাক্‘আত সালাত আদায় হয়। তাই এই মাসআলাটি
এখানে যুক্তরাষ্ট্রে সংবেদনশীল হয়ে গেছে। যে ১১
রাক্‘আত সালাত আদায় করে সে ২০ রাক্‘আত
সালাত আদায়কারীকে দোষারোপ করে; আবার এর
বিপরীতটিও হয়। তাই (এই ব্যাপারটি নিয়ে)
ফিতনাহ সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি আল-মাসজিদ আল-
হারামেও ২০ রাক্‘আত সালাত আদায় করা হয়।
কেন আল-মাসজিদ আল-হারাম ও আল-মাসজিদ
আন-নাবাউয়ীতে সুন্নাহ থেকে বিপরীত করা হয়?
কেন তারা আল-মাসজিদ আল-হারাম ও আল-
মাসজিদ আন-নাবাউয়ী-তে ২০ রাক্‘আত
তারাউয়ীহ-এর সালাত আদায় করেন?
উত্তর : সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
আমরা মনে করি না যে ‘আলিমগণের মধ্যে
ইজতিহাদী মাসআলাসমূহ নিয়ে একজন মুসলিমের এ
ধরনের সংবেদনশীল আচরণ করা উচিত যা
মুসলিমদের মাঝে বিভেদ ও ফিতনাহ সৃষ্টির কারণ
হয়।
যে ব্যক্তি ইমামের সাথে ১০ রাক্‘আত আদায় করে
উইতর (বিতর)-এর সালাতের অপেক্ষায় বসে থাকে
এবং ইমামের সাথে তারাউয়ীহর সালাত পূর্ণ করে
না, তার সম্পর্কিত মাস‘আলাহর ব্যাপারে বলতে
গিয়ে শাইখ ইবনু ‘উসাইমীন রহিমাহুল্লাহ উল্লেখ
করেন :
“এটি খুবই দুঃখজনক যে আমরা এই উন্মুক্ত ইসলামী
উম্মাহর মধ্যে এমন একটি দল দেখি যারা ভিন্ন
মতের সুযোগ আছে এমন ব্যাপার নিয়ে বিভেদের
সৃষ্টি করে। এর ফলে তারা সেই ভিন্ন মতকে
অন্তরসমূহের বিভেদের কারণ বানিয়ে দেয়।
সাহাবীদের সময় থেকেই এই উম্মাতের মাঝে
ভিন্ন মত ছিল, কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁদের অন্তরসমূহ
ছিল ঐক্যবদ্ধ।
তাই ইসলামের ব্যাপারে একনিষ্ঠ সকলের উপর,
বিশেষ করে যুবকদের উপর ওয়াজিব হলো ঐক্যবদ্ধ ও
একত্রিত হওয়া; কারণ শত্রুরা তাদের বিরুদ্ধে
ষড়যন্ত্রে ওঁত পেতে আছে।”
[আশ-শারহ আল-মুমতি‘ (৪২২৫)]
আর এই মাসআলা এর ব্যাপারে দুটি দল বাড়াবাড়ি
করেছে। প্রথম দলটি যারা ১১ রাক্‘আত এর বেশি
পড়েছে তাদের বিরোধিতা করেছে আর তাদের
কাজকে বিদ‘আত হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। আর
দ্বিতীয় দলটি, শুধু ১১ রাক্‘আতই পড়ে ও এর মধ্যে
সীমাবদ্ধ থেকেছেন, তাদের বিরোধিতা করে
বলেছে যে, তারা ইজমা‘ এর বিপরীতে গেছে।
চলুন আমরা শুনি সম্মানিত শাইখ ইবনু ‘উসাইমীন-
রহিমাহুল্লাহ-এর উপদেশ যেখানে তিনি বলেছেন :
“আমরা এক্ষেত্রে বলব আমাদের উচিত না বেশি
বাড়াবাড়ি বা অতিরিক্ত কম করা। কেউ কেউ
সুন্নাহ্ -তে বর্ণিত সংখ্যা মানার ব্যাপারে
বাড়াবাড়ি করে এবং বলে: সুন্নাহ্ তে যে সংখ্যার
বর্ণনা এসেছে তা থেকে বাড়ানো জায়েয নয়।
সুতরাং যে তা (১১ রাক্‘আত) থেকে বাড়িয়ে পড়ে,
সে তার কঠোর বিরোধিতা করে এবং বলে - সে
পাপী, সীমালঙ্ঘনকারী।
আর এতে কোন সন্দেহ নেই যে এটি (এমন ধারনা) ভুল,
সে কিভাবে পাপী, সীমালঙ্ঘনকারী হবে
যেখানে নবী-(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া
সাল্লাম)-কে রাতের সালাত সম্পর্কে প্রশ্ন করা
হলে তিনি বলেছিলেন :
« ﻣﺜﻨﻰ ﻣﺜﻨﻰ »
“(তা) দুই দুই ( রাক্‘আত ) করে।[3]”
তিনি কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা বেঁধে দেন নি। আর
এটি জানা কথা যে, যিনি রাতের সালাত সম্পর্কে
প্রশ্ন করেছিলেন তিনি তার (রাকা‘আতের)
সংখ্যা জানতেন না; কারণ যিনি (সালাতের)
পদ্ধতি জানেন না, তার রাক্‘আত সংখ্যা না
জানারই কথা। আর তিনি রাসূলের সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সেবকও ছিলেন না যে
আমরা এ কথা বলতে পারি যে, তিনি রাসূলের
বাসার ভিতরে কি হচ্ছে তা জানতেন। নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু সে
ব্যক্তিকে রাক‘আত সংখ্যা নির্দিষ্ট না করে
সালাতের পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন, তাই এটি জানা
গেল যে, এ ব্যাপারটিতে প্রশস্ততা আছে। সুতরাং,
কেউ ১০০ রাক্‘আত সালাত আদায় করে ১ রাক্‘আত
দিয়েও উইতর (বিতর) আদায় করতে পারে।
আর তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বাণী :
« ﺻﻠﻮﺍ ﻛﻤﺎ ﺭﺃﻳﺘﻤﻮﻧﻲ ﺃﺻﻠﻲ »
“তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে
দেখলে সেভাবে সালাত আদায় কর।”[4]
এটি তাদের কাছেও সাধারণভাবে (সর্বক্ষেত্রে)
প্রযোজ্য (হুকুম) নয়। আর এ কারণেই তারা একবার ৫
রাক্‘আত, আর একবার ৭ রাক্‘আত, অন্যবার ৯
রাক্‘আত দিয়ে উইতর (বিতর) আদায় করা ওয়াজিব
মনে করে না। আর আমরা যদি একে (হাদীসকে)
সাধারণভাবে প্রযোজ্য ধরে নেই তাহলে আমাদের
এ কথা বলতে হবে যে একবার ৫ রাক্‘আত, আর একবার
৭ রাক্‘আত, অন্যবার ৯ রাক্‘আত দিয়ে ধরে ধরে
‘উইতর (বিতর) আদায় করা ওয়াজিব। বরং “তোমরা
আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখলে
সেভাবে সালাত আদায় কর” -এর দ্বারা বুঝানো
হয়েছে সালাত আদায়ের পদ্ধতি, রাক্‘আত সংখ্যা
নয় ; কেবল মাত্র যে নির্দিষ্ট রাক্‘আত সংখ্যার
ব্যাপারে দলীল প্রমাণিত হয়েছে তা ব্যতীত।
আর যাই হোক, একজন মানুষের জন্য যাতে প্রশস্ততা
আছে এমন কোন ব্যাপারে লোকদের উপর চাপ
প্রয়োগ করা উচিত নয়। ব্যাপারটি এ পর্যন্ত
গড়িয়েছে যে, আমরা দেখেছি যে কিছু ভাইয়েরা এ
বিষয়টিতে বেশি জোর প্রয়োগ করে, তারা সেসব
ইমামগণের উপর বিদ‘আতের অপবাদ দেয় যারা ১১
রাকা‘আতের বেশি আদায় করে এবং তারা
মাসজিদ থেকে বের হয়ে আসে। এক্ষেত্রে তাদের
সাওয়াব ছুটে যায়, এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম- বলেছেন :
« ﻣﻦ ﻗﺎﻡ ﻣﻊ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺣﺘﻰ ﻳﻨﺼﺮﻑ ﻛُﺘﺐ ﻟﻪ ﻗﻴﺎﻡ ﻟﻴﻠﺔ »
ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ‏( 806 ‏) ﻭﺻﺤﺤﻪ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﻓﻲ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ‏( 646 )
“যে ইমামের সাথে ইমাম (সালাত সমাপ্ত করে)
চলে যাওয়া পর্যন্ত ক্বিয়াম করে, তার জন্য সম্পূর্ণ
রাতের ক্বিয়াম (এর সাওয়াব) লিখা হবে।”
[এটি বর্ণনা করেছেন আত-তিরমিযী (৮০৬) এবং
আল-আলবানী ‘সহীহ্ আত-তিরমিযী’-তে (৬৪৬)-
একে সহীহ্ আখ্যা দিয়েছেন]
আবার তারা অনেক সময় ১০ রাক্‘আত আদায় করে
বসে থাকে ফলে কাতার ভঙ্গ হয়, আবার কখনও
তারা কথা বলাবলি করে এবং মুসাল্লীদের
সালাতে বিঘ্ন ঘটায়।
আমরা এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ পোষণ করি না
যে তাঁরা ভাল চান এবং তাঁরা ইজতিহাদ করেছেন,
কিন্তু সব মুজতাহিদ সঠিক মতে পৌঁছেন না।
আর দ্বিতীয় পক্ষটি হলো তাদের বিপরীত। তারা,
যারা ১১ রাক্‘আত এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে তাদের
কঠোর বিরোধিতা করে এবং বলে: ‘তুমি ইজমা‘
থেকে বের হয়ে গেছ।’ আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন :
﴿ ﻭَﻣَﻦ ﻳُﺸَﺎﻗِﻖِ ﭐﻟﺮَّﺳُﻮﻝَ ﻣِﻦۢ ﺑَﻌۡﺪِ ﻣَﺎ ﺗَﺒَﻴَّﻦَ ﻟَﻪُ ﭐﻟۡﻬُﺪَﻯٰ ﻭَﻳَﺘَّﺒِﻊۡ ﻏَﻴۡﺮَ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﭐﻟۡﻤُﺆۡﻣِﻨِﻴﻦَ ﻧُﻮَﻟِّﻪِۦ ﻣَﺎ
ﺗَﻮَﻟَّﻰٰ ﻭَﻧُﺼۡﻠِﻪِۦ ﺟَﻬَﻨَّﻢَۖ ﻭَﺳَﺂﺀَﺕۡ ﻣَﺼِﻴﺮًﺍ ١١٥ ﴾ ‏[ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ: ١١٥ ]
“আর যে তার কাছে সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর
রাসূলের বিরোধিতা করে এবং মু’মিনদের পথের
বিপরীত পথ অনুসরণ করে আমি তাকে সেদিকে
পরিচালিত করব যেদিকে সে অভিমুখী হয় এবং
আমি তাকে প্রবেশ করাব জাহান্নামে আর তা
কতই না খারাপ প্রত্যাবর্তন।” [আন-নিসা: ১১৫]
আর আপনার আগে যারা গত হয়েছে তারা ২৩
রাক্‘আত ছাড়া কোন কিছু জানতেন না। এরপর
তারা এ মতের বিরোধীদের উপর কঠোরভাবে
আক্রমন করে বসে। এটিও একটি ভুল।” [আশ-শারহ আল
মুমতি‘ (৩/৭৩-৭৫)]
আর তারাউয়ীহর (তারাবীহর) সালাতে ৮
রাকা‘আতের বেশি পড়া জায়েয না হওয়ার মত
পোষণকারীরা যে দলীল দিয়েছেন তা হলো, আবূ
সালামাহ্ ইবনু ‘আবদির রাহমান এর হাদীস যাতে
তিনি ‘আয়েশাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহাকে প্রশ্ন
করেছিলেন :
« ﻛﻴﻒ ﻛﺎﻧﺖ ﺻﻼﺓ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻲ ﺭﻣﻀﺎﻥ ؟ ﻓﻘﺎﻟﺖ : ﻣﺎ ﻛﺎﻥ ﻳﺰﻳﺪ
ﻓﻲ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻭﻻ ﻓﻲ ﻏﻴﺮﻩ ﻋﻠﻰ ﺇﺣﺪﻯ ﻋﺸﺮﺓ ﺭﻛﻌﺔ ﻳﺼﻠﻲ ﺃﺭﺑﻌﺎ ﻓﻼ ﺗﺴﻞ ﻋﻦ ﺣﺴﻨﻬﻦ
ﻭﻃﻮﻟﻬﻦ ﺛﻢ ﻳﺼﻠﻲ ﺃﺭﺑﻌﺎ ﻓﻼ ﺗﺴﻞ ﻋﻦ ﺣﺴﻨﻬﻦ ﻭﻃﻮﻟﻬﻦ ﺛﻢ ﻳﺼﻠﻲ ﺛﻼﺛﺎ ﻓﻘﻠﺖ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ
ﺃﺗﻨﺎﻡ ﻗﺒﻞ ﺃﻥ ﺗﻮﺗﺮ ﻗﺎﻝ ﻳﺎ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺇﻥ ﻋﻴﻨﻲَّ ﺗﻨﺎﻣﺎﻥ ﻭﻻ ﻳﻨﺎﻡ ﻗﻠﺒﻲ »
ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏( 1909 ‏) ﻭﻣﺴﻠﻢ ‏( 738 )
“রমযানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম এর সালাত কেমন ছিল?” তিনি বললেন
: “তিনি (রাসূলুল্লাহ) রমযানে বা এর বাইরে ১১
রাক‘আতের বেশি আদায় করতেন না, তিনি ৪
রাক্‘আত সালাত আদায় করতেন- এর সৌন্দর্য ও
দৈর্ঘ্য সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন না (অর্থাৎ তা এতই
সুন্দর ও দীর্ঘ হত!), এরপর তিনি আরও ৪ রাক্‘আত
সালাত আদায় করতেন-এর সৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্য
সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন না (অর্থাৎ তা এতই সুন্দর ও
দীর্ঘ হত!), এরপর তিনি ৩ রাক্‘আত সালাত আদায়
করতেন। আমি (‘আয়েশাহ) [উইতর (বিতর) এর আগে
শুতে দেখে] বললাম :
“হে রাসূলুল্লাহ! আপনি কি উইতর (বিতর) এর আগে
ঘুমিয়ে নিবেন?” তিনি (রাসলুল্লাহ) বললেন :
“হে ‘আয়েশাহ্, আমার দুই চোখ তো ঘুমায় কিন্তু
অন্তর ঘুমায় না।” [এটি বর্ণনা করেছেন আল-বুখারী
(১৯০৯) ও মুসলিম (৭৩৮)]
তারা বলেন : এই হাদীস থেকে রমযানে ও এর
বাইরে রাতের বেলা সালাতের (রাক্‘আত
সংখ্যার) ব্যাপারে নিয়মিত থাকার নির্দেশনা
পাওয়া যায়।
আর ‘আলিমগণ এ হাদীসকে তাঁর (সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-আচরণের (কাজের) দলীল
হিসেবে পেশ করাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
কেননা (তাঁর) কাজ (আচরণ) থেকে ওয়াজিব হওয়ার
নির্দেশনা পাওয়া যায় না।
আর রাতের সালাত যেমন ‘তারাউয়ীহ’ (তারাবীহ),
যা কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা দ্বারা নির্ধারিত নয়।
এ ব্যাপারে (বর্ণিত) স্পষ্ট দলীলগুলোর একটি হলো,
ইবনু ‘উমার এর হাদীস, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে রাতের
সালাত সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন :
« ﺻﻼﺓ ﺍﻟﻠﻴﻞ ﻣﺜﻨﻰ ﻣﺜﻨﻰ ﻓﺈﺫﺍ ﺧﺸﻲ ﺃﺣﺪﻛﻢ ﺍﻟﺼﺒﺢ ﺻﻠﻰ ﺭﻛﻌﺔ ﻭﺍﺣﺪﺓ ﺗﻮﺗﺮ ﻟﻪ ﻣﺎ ﻗﺪ
ﺻﻠَّﻰ‏» . ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏( 946 ‏) ﻭﻣﺴﻠﻢ ‏( 749 )
“রাতের সালাত দুই দুই (রাক্‘আত) করে, এরপর
আপনাদের মধ্যে যে ভোর (ফাজর) হবার আশংকা
করে তিনি যেন এক রাক্‘আত পড়ে নেন যা আদায়
করা সালাতের উইতর (বিতর, সালাতের রাক‘আত
সংখ্যাকে বেজোড় করা) হিসেবে গণ্য হবে।”
[এটি বর্ণনা করেছেন, আল-বুখারী (৯৪৬) ও মুসলিম
(৭৪৯)]
বিভিন্ন গ্রহণযোগ্য (ফিক্বহী) মাযহাবসমূহের
‘আলিমগণের মতামতের দিকে দৃষ্টি দিলে
পরিষ্কার হয় যে, এ ব্যাপারটিতে প্রশস্ততা আছে,
আর ১১ রাক‘আত-এর বেশি পড়ায় কোনো দোষ নেই।
ইমাম আস-সারখাসী, যিনি হানাফী (ফিক্বহী)
মাযহাবের ইমামগণের একজন, বলেছেন :
“আমাদের মতে উইতর (বিতর) ছাড়া তা
(তারাউয়ীহ) ২০ রাক্‘আত।” [আল-মাবসূত (২/১৪৫)]
ইবনু ক্বুদামাহ বলেছেন :
“আবূ-‘আবদিল্লাহ (অর্থাৎ ইমাম আহমাদ)
রাহিমাহুল্লাহ-এর কাছে পছন্দনীয় মতটি হলো, তা
২০ রাক্‘আত। আর ইমাম আস-সাউরী, ইমাম আবূ-
হানীফা ও ইমাম আশ-শাফি‘ঈ-ও এ মত ব্যক্ত
করেছেন। আর ইমাম মালিক বলেছেন: “তা
(তারাউয়ীহ) ৩৬ রাক‘আত।” [আল-মুগনী (১/৪৫৭)]
ইমাম আন-নাওয়াউয়ী বলেছেন :
“আলিমগণের ইজমা‘ মতে তারাউয়ীহর সালাত
সুন্নাহ। আর আমাদের মাযহাবে তা ১০ সালামে ২০
রাক‘আত। তা একাকী ও জামা‘আতের সাথে আদায়
করা জায়েয।” [আল-মাজমূ‘ (৪/৩১)]
এগুলো হলো তারাউয়ীহর সালাতের রাক‘আতের
সংখ্যার ব্যাপারে চার ইমামের মাযহাবসমূহ,
তাঁদের সবাই ১১ রাক‘আতের বেশি পড়ার ব্যাপারে
বলেছেন। যে কারণে তাঁরা ১১ রাক‘আতের বেশি
পড়ার ব্যাপারে বলেছেন সম্ভবত তা হলো :
১.তারা দেখেছেন যে, আয়েশাহ্ (রাদিয়াল্লাহু
‘আনহা)-এর হাদীস নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা
নির্ধারণ করে না।
২.পূর্ববর্তী সাহাবী ও তাবি‘ঈগণের অনেকের কাছ
থেকে (১১ রাক‘আতের) বেশি পড়ার বর্ণনা পাওয়া
যায়। [আল-মুগনী (২/৬০৪) ও আল-মাজমূ‘(৪/৩২)]
৩.নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ১১
রাক্‘আত সালাত আদায় করতেন তা এতটা দীর্ঘ
করতেন যে তার পুরো রাতই লেগে যেত, এমনকি এক
রাতে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-
তারাউয়ীহর সালাতে তাঁর সাহাবীগণের সাথে
যে সালাত আদায় করেছিলেন তা ফাজর (সুবহে
সাদিক) উদিত হওয়ার অল্প কিছুক্ষণ আগে শেষ
করেছিলেন, এমনকি সাহাবীগণ সাহূর (সেহেরী)
ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন। সাহাবীগণও
(রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুম) রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে সালাত আদায়
করতে পছন্দ করতেন এবং তাঁরা তা দীর্ঘ মনে
করতেন না। তাই ‘আলিমগণ এই মত ব্যক্ত করেছেন যে
ইমাম যদি এভাবে সালাত দীর্ঘ করেন তবে তা
মা’মূম তথা মুসল্লীদের জন্য কষ্টকর হয়ে যায় যা
তাদেরকে (সালাত থেকে) বিমুখ করতে পারে,
এমতাবস্থায় ইমাম ক্বিরা‘আত সংক্ষিপ্ত করে
রাক্‘আত সংখ্যা বাড়াতে পারেন।
সার কথা হলো যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত পদ্ধতিতে ১১ রাক্‘আত
সালাত পড়ে সে ভাল করল এবং সুন্নাহ পালন করল।
আর যে ক্বিরা‘আত সংক্ষিপ্ত করে রাকাআতের
সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে সেও ভাল করল। যে এই
দুটি বিষয়ের যে কোনো একটি করল, তার বিরুদ্ধে
কোনো অভিযোগ নেই।
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ বলেছেন :
“যে তারাউয়ীহর (তারাবীহর) সালাত আবূ
হানীফাহ, আশ-শাফি‘ঈ ও আহমাদ-এর মাযহাব
অনুসারে ২০ রাক্‘আত আদায় করল অথবা মালিক এর
মাযহাব অনুসারে ৩৬ রাক্‘আত আদায় করল অথবা ১৩
বা ১১ রাক্‘আত আদায় করল সে ভাল করল, যেমনটি
ইমাম আহমাদ মত পোষণ করেছেন এ ব্যাপারে
সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকার কারণে। তাই
রাক্‘আত সংখ্যা বেশি বা কম করা ক্বিয়াম দীর্ঘ
বা সংক্ষিপ্ত করা অনুযায়ী হবে।” [আল-
ইখতিয়ারাত (পৃষ্ঠাঃ ৬৪)]
আস-সুয়ূত্বী বলেছেন :
“রমযানে ক্বিয়াম করার আদেশ দিয়ে ও এর
ব্যাপারে উৎসাহিত করে সহীহ ও হাসান
হাদীসসমূহে যা বর্ণিত হয়েছে তাতে কোন
সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয়নি। আর নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে এমনও
প্রমাণিত হয় নি যে তিনি ২০ রাক্‘আত তারাউয়ীহ
(তারাবীহ) পড়েছেন। বরং তিনি রাতের সালাত
আদায় করেছেন যার (রাক্‘আতের) সংখ্যা
উল্লেখিত হয় নি। এরপর তিনি ৪র্থ রাতে দেরি
করলেন এই আশঙ্কায় যে তা (তারাউয়ীহর সালাত)
তাঁদের উপর ফরয করে দেয়া হবে আর তাঁরা তা
(পালন) করতে অসমর্থ হবেন।” ইবনু হাজার আল-
হাইসামী বলেছেন: “নাবী-সাল্লাল্লাহু‘আলাইহি
ওয়া সাল্লাম-এর কাছ থেকে তারাউয়ীহর সালাত
২০ রাক্‘আত হওয়ার ব্যাপারে কোন সহীহ বর্ণনা
পাওয়া যায় নি। আর এই ব্যাপারে যা বর্ণিত
হয়েছে, “তিনি ২০ রাক্‘আত সালাত আদায় করতেন,
তা অত্যন্ত দুর্বল।” [আল-মূসূ‘আহ আল-ফিক্বহিয়্যাহ
(২৭/১৪২-১৪৫)]
আর এইসবের পর প্রশ্নকারী ভাই, আপনি
তারাউয়ীহর (তারাবীহর) সালাত ২০ রাক্‘আত
হওয়ার ব্যাপারে অবাক হবেন না। কারণ এর আগে
ইমামগণ প্রজন্মের পর প্রজন্ম তা করেছেন। আর
তাঁদের সবার মধ্যেই কল্যাণ আছে।
আর আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।
Islam Q & A
আমরা কিভাবে লাইলাতুল ক্বাদ্র পালন করব এবং
তা কোন দিন?
ফাত্ওয়া নং - 36832
প্রশ্ন : আমাদের লাইলাতুল ক্বাদ্র কিভাবে পালন
করা উচিৎ? তা কি সালাত আদায় করার মাধ্যমে
নাকি কুরআন তিলাওয়াহ, রাসূলের সীরাহ পাঠ,
আদেশ উপদেশ দেওয়া/শোনা ও মাসজিদে অনুষ্ঠান
উদযাপন করার মাধ্যমে পালন করতে হবে?
উত্তর : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
প্রথমত:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
রমযানের শেষ দশদিন এমনভাবে সালাত আদায়,
কুরআন তিলাওয়াহ ও দো‘আ পাঠের মাধ্যমে
মনোনিবেশ করতেন যা অন্য সময়ে করতেন না।
‘আয়েশাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে ইমাম আল-
বুখারী এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন যে (রমযানের)
শেষ দশরাত্রি শুরু হলে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে জাগতেন এবং তাঁর
পরিবারবর্গকেও জাগাতেন এবং স্ত্রী-মিলন
থেকে বিরত থাকতেন। আহমাদ এবং মুসলিম বর্ণনা
করেছেন যে :
“তিনি শেষ দশদিন এমনভাবে মনোনিবেশ করতেন
যা অন্য সময়ে করতেন না।”
দ্বিতীয়ত:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
লাইলাতুল ক্বাদরে ঈমান সহকারে ও প্রতিদানের
আশায় রাত জেগে ‘ইবাদাত করতে উৎসাহিত
করেছেন। আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে
বর্ণিত যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
« ﻣﻦ ﻗﺎﻡ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻘﺪﺭ ﺇﻳﻤﺎﻧﺎً ﻭﺍﺣﺘﺴﺎﺑﺎً ﻏﻔﺮ ﻟﻪ ﻣﺎ ﺗﻘﺪﻡ ﻣﻦ ﺫﻧﺒﻪ »
“ঈমানের সাথে ও প্রতিদানের আশায় যে ব্যক্তি
লাইলাতুল ক্বাদরে জেগে ক্বিয়াম করবে, তার
অতীতের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া
হবে।” [সহীহ আল-বুখারী ও মুসলিম]
আর এই হাদীসে লাইলাতুল ক্বাদরে রাত জেগে
ক্বিয়াম করার শারী‘আতসম্মত হওয়ার ব্যাপারে
নির্দেশনা রয়েছে।
তৃতীয়ত:
লাইলাতুল ক্বাদরে সবচেয়ে ভালো দো‘আসমূহের
মধ্যে একটি পাঠ করা যায় যা ‘আয়েশাহ্
রাদিয়াল্লাহু ‘আনহাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষা দিয়েছিলেন। আত-
তিরমিযী এটি ‘আয়েশাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা
থেকে বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলে
চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেছেন :
আমি বললাম, “হে রাসূলুল্লাহ যদি আমি জানি
কোন রাতে লাইলাতুল ক্বাদ্র তবে আমি সেই
রাতে কি বলব?”
তিনি বললেন, বল:
« ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺇﻧﻚ ﻋﻔﻮ ﺗﺤﺐ ﺍﻟﻌﻔﻮ ﻓﺎﻋﻒ ﻋﻨﻲ »
“আল্লাহুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউউন তুহিব্বুল ‘আফওয়া
ফা ‘ফুউ ‘আন্নী”
(হে আল্লাহ আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে
ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।)”[5]
চতুর্থত:
রমযানে লাইলাতুল ক্বাদরের রাত ঠিক কোনটি,
এটি জানার জন্য বিশেষ সাক্ষ্য প্রমাণের প্রয়োজন
আছে, কিন্তু শেষ দশদিনের বিজোড় রাতগুলো
অন্যান্য রাতের চেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় এবং
সাতাশতম রাত (শেষ দশদিনের বিজোড় রাতগুলোর
মধ্যে) লাইলাতুল ক্বাদ্র হওয়ার ব্যাপারে বেশি
সম্ভাবনাময়। যেমনটি আমরা এ ব্যাপারে নির্দেশ
করে এমন হাদীসগুলো উল্লেখ করেছি।
পঞ্চমত:
আর বিদ‘আত (দ্বীনের মধ্যে নতুন প্রবর্তিত বিষয়)
কাজসমূহ, তা কখনই রমযান বা রমযানের বাইরে
কোনো সময়েই জায়েয নয়। রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে
প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন :
« ﻣﻦ ﺃﺣﺪﺙ ﻓﻲ ﺃﻣﺮﻧﺎ ﻫﺬﺍ ﻣﺎ ﻟﻴﺲ ﻓﻴﻪ ﻓﻬﻮ ﺭﺩ »
“যে আমাদের এই বিষয়ে (শারী‘আতে) নতুন কিছু
প্রবর্তন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা
প্রত্যাখ্যাত।”[6]
অন্য এক বর্ণনায় আছে,
« ﻣﻦ ﻋﻤﻞ ﻋﻤﻼً ﻟﻴﺲ ﻋﻠﻴﻪ ﺃﻣﺮﻧﺎ ﻓﻬﻮ ﺭﺩ »
“যে কোন কাজ করল যা আমাদের বিষয়ের
(শারী‘আতের) অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।[7]”
আর রমযানের কিছু নির্দিষ্ট রাতে অনুষ্ঠান
উদযাপনের ব্যাপারে কোন ভিত্তি আমাদের
জানা নেই। সবচেয়ে ভালো পথ-নির্দেশনা হচ্ছে
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
দেখানো পথ এবং সবচেয়ে খারাপ বিষয় হচ্ছে
(শারী‘আতে) নতুন প্রবর্তিত বিষয়সমূহ (বিদ‘আত)।
আর আল্লাহই তাওফীক্বদাতা।
গবেষণা ও ফাত্ওয়া ইস্যুকারী আল-লাজ্নাহ আদ-
দা’ইমাহ (১০/৪১৩)
Islam Q & A
নির্দিষ্ট কোন রাতকে লাইলাতুল ক্বাদ্র হিসেবে
নির্ধারণ করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়
ফাত্ওয়া নং - 50693
প্রশ্ন : অন্য কোনো রাত্রিতে না আদায় করে শুধু
মাত্র লাইলাতুল ক্বাদ্রের রাত্রিতে তাহাজ্জুদ
এর সালাত আদায়ের ব্যাপারে বিধান কি?
উত্তর : সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
প্রথমত :
লাইলাতুল ক্বাদ্রের রাত্রিতে ‘ইবাদাত করার
মহান ফযীলাত এর ব্যাপারে দলীল রয়েছে।
আমাদের রাব্ব (সৃষ্টিকর্তা, মালিক, লালন-পালন ও
পরিচালনাকারী) তাবারাকা ওয়া তা‘আলা
বলেছেন :
﴿ ﻟَﻴۡﻠَﺔُ ﭐﻟۡﻘَﺪۡﺭِ ﺧَﻴۡﺮٞ ﻣِّﻦۡ ﺃَﻟۡﻒِ ﺷَﻬۡﺮٖ ٣ ﴾ ‏[ﺍﻟﻘﺪﺭ : ٣ ]
“এই রাতের ‘ইবাদাত হাজার রাতের চেয়ে
উত্তম” [আল-ক্বাদ্র:৩]
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন :
« ﻣَﻦْ ﻗَﺎﻡَ ﻟَﻴْﻠَﺔَ ﺍﻟْﻘَﺪْﺭِ ﺇِﻳﻤَﺎﻧًﺎ ﻭَﺍﺣْﺘِﺴَﺎﺑًﺎ ﻏُﻔِﺮَ ﻟَﻪُ ﻣَﺎ ﺗَﻘَﺪَّﻡَ ﻣِﻦْ ﺫَﻧْﺒِﻪِ »
ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏(1901 ‏) ﻭﻣﺴﻠﻢ ‏( 760 )
“যে ঈমান সহকারে ও প্রতিদানের আশায়
লাইলাতুল ক্বাদ্রের রাত্রিতে ক্বিয়াম করবে তার
অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া
হবে।” (বুখারী, ১৯০১; মুসলিম: ৭৬০)
আল্লাহ-তা‘আলা বলেছেন :
﴿ ﺇِﻧَّﺂ ﺃَﻧﺰَﻟۡﻨَٰﻪُ ﻓِﻲ ﻟَﻴۡﻠَﺔِ ﭐﻟۡﻘَﺪۡﺭِ ١ ﻭَﻣَﺂ ﺃَﺩۡﺭَﻯٰﻚَ ﻣَﺎ ﻟَﻴۡﻠَﺔُ ﭐﻟۡﻘَﺪۡﺭِ ٢ ﻟَﻴۡﻠَﺔُ ﭐﻟۡﻘَﺪۡﺭِ ﺧَﻴۡﺮٞ ﻣِّﻦۡ ﺃَﻟۡﻒِ ﺷَﻬۡﺮٖ ٣
ﺗَﻨَﺰَّﻝُ ﭐﻟۡﻤَﻠَٰٓﺌِﻜَﺔُ ﻭَﭐﻟﺮُّﻭﺡُ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺑِﺈِﺫۡﻥِ ﺭَﺑِّﻬِﻢ ﻣِّﻦ ﻛُﻞِّ ﺃَﻣۡﺮٖ ٤ ﺳَﻠَٰﻢٌ ﻫِﻲَ ﺣَﺘَّﻰٰ ﻣَﻄۡﻠَﻊِ ﭐﻟۡﻔَﺠۡﺮِ ٥
﴾ ‏[ ﺍﻟﻘﺪﺭ: ١ - ٥ ]
“১. নিশ্চয়ই আমি একে লাইলাতুল ক্বাদ্রে নাযিল
করেছি।
২. এবং আপনি কি জানেন লাইলাতুল ক্বাদ্র কি?
৩. লাইলাতুল ক্বাদ্র হাজার মাস অপেক্ষা অধিক
উত্তম।
৪. এতে ফেরেশতাগণ এবং রূহ (জিবরীল-’আলাইহি স
সালাম) তাঁদের রাব্বের অনুমতিক্রমে অবতরণ
করেন সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে।
৫. শান্তিময় (বা নিরাপত্তাপূর্ণ) সেই রাত,
ফাজ্রের সূচনা পর্যন্ত।”
[৯৭ আল-ক্বাদ্র : ১-৫]
আবূ হুরাইরাহ -রাদিয়াল্লাহু আনহু- নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা
করেছেন যে তিনি বলেছেন :
« ﻣَﻦْ ﻗَﺎﻡَ ﻟَﻴْﻠَﺔَ ﺍﻟْﻘَﺪْﺭِ ﺇِﻳﻤَﺎﻧًﺎ ﻭَﺍﺣْﺘِﺴَﺎﺑًﺎ ﻏُﻔِﺮَ ﻟَﻪُ ﻣَﺎ ﺗَﻘَﺪَّﻡَ ﻣِﻦْ ﺫَﻧْﺒِﻪِ »
ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏(1901 ‏) ﻭﻣﺴﻠﻢ ‏( 760 )
“যে ঈমান সহকারে ও প্রতিদানের আশায়
লাইলাতুল ক্বাদ্রের রাত্রিতে ক্বিয়াম করবে তার
অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া
হবে।” (বুখারী, ১৯০১; মুসলিম: ৭৬০)
এখানে “ঈমান সহকারে” এর অর্থ: এই রাতের
মর্যাদা ও তাতে আমল করা, শারী‘আতসম্মত হওয়ার
ব্যাপারে বিশ্বাস স্থাপন করা।
আর “প্রতিদানের আশায়” এর অর্থ: আল্লাহ
তা‘আলার জন্য নিয়্যাতের ব্যাপারে ইখলাস
(একনিষ্ঠতা) পোষণ করা।
দ্বিতীয়ত :
লাইলাতুল ক্বাদ্র নির্দিষ্ট কোন্ রাত তা নিয়ে
‘আলিমদের মাঝে এত ভিন্নমত রয়েছে যে তা ৪০-
এরও বেশি মতামত পর্যন্ত পৌঁছেছে যেমনটি ‘ফাতহ
আল-বারী’ তে উল্লেখিত হয়েছে। এক্ষেত্রে
সবচেয়ে সঠিক মতটি হল তা রমযান-এর শেষ দশকের
বিজোড় রাতের কোন একটি।
‘‘আয়েশাহ্ -রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা- থেকে বর্ণিত
হয়েছে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
« ﺗَﺤَﺮَّﻭْﺍ ﻟَﻴْﻠَﺔَ ﺍﻟْﻘَﺪْﺭِ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻮِﺗْﺮِ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻌَﺸْﺮِ ﺍﻷَﻭَﺍﺧِﺮِ ﻣِﻦْ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ » .
ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏( 2017 ‏) – ﻭﺍﻟﻠﻔﻆ ﻟﻪ - ﻭﻣﺴﻠﻢ ‏( 1169 )
“লাইলাতুল ক্বাদ্র রমযান-এর শেষ দশকের বিজোড়
রাতে অনুসন্ধান কর।”
[এটি বর্ণনা করেছেন আল-বুখারী (২০১৭) শব্দচয়ন
তাঁর। আরও বর্ণনা করেছেন মুসলিম (১১৬৯)]
আল-বুখারী এই হাদীসটিকে (রমযান এর) ‘শেষ
দশকের বিজোড় রাতে লাইলাতুল ক্বাদ্র অনুসন্ধান’
নামক অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
এই রাতটি নির্দিষ্ট কোন দিনে তা অপ্রকাশিত
রাখার পেছনে হিক্মাহ (রহস্য) হল মুসলিমদেরকে
রমযান এর শেষ দশকের সবগুলো রাতেই ‘ইবাদাত,
দো‘আ ও যিক্র করার ব্যাপারে তৎপর হতে সক্রিয়
করানো। একই হিক্মাহ এর কারণে জুমু‘আহ এর দিনে
ঠিক কোন সময়টিতে দো‘আ কবুল করা হয় তাও
নির্দিষ্ট করে বলা হয় নি এবং আল্লাহ তা‘আলার
সেই ৯৯ টি নামও নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি যে
সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন :
( ﻣَﻦْ ﺃَﺣْﺼَﺎﻫَﺎ ﺩَﺧَﻞَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ‏) ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏(2736 ‏) ﻭﻣﺴﻠﻢ ‏( 2677 )
“যে তা (৯৯ টি নাম) গণনা করবে, [অর্থাৎ (১) মুখস্ত
করবে, (২) এর অর্থ বুঝবে, (৩) সে অনুযায়ী আমল
করবে] সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” [এটি বর্ণনা
করেছেন আল-বুখারী (২৭৩৬) ও মুসলিম (২৬৭৭)]
আল-হাফিয ইবনু হাজার -রাহিমাহুল্লাহ-
বলেছেন : “তাঁর - অর্থাৎ ইমাম বুখারীর- বক্তব্য
‘অধ্যায় (বাব): রমযান এর শেষ দশকের বিজোড়
রাতে লাইলাতুল ক্বাদ্র অনুসন্ধান’ এই পাঠ থেকে
রমযান মাসেই যে লাইলাতুল ক্বাদ্র হওয়ার
সম্ভাবনা প্রবল এই ইঙ্গিত পাওয়া যায়; এরপর এর
(রমযানের) শেষ দশকে এবং এরপর এর (শেষ দশকের)
বিজোড় রাতগুলোর যে কোনো একটিতে। তবে
সুনির্দিষ্ট কোনো রাতে নয়। এই সংক্রান্ত
একাধিক বর্ণনা থেকে আমরা অনুরূপ ইঙ্গিত
পাই।” [ফাত্হ আল-বারী (৪/২৬০)]
তিনি আরও বলেছেন :
“আলিমগণ বলেন, এই রাতটির নির্দিষ্ট তারিখ
গোপন রাখার পেছনে হিক্মাহ হল মানুষ এটি
পাওয়ার জন্য চেষ্টা সাধনা করবে। তবে নির্দিষ্ট
তারিখ জানা থাকলে মানুষ শুধু সেই রাতেই
‘ইবাদাত সীমাবদ্ধ রাখত যেমনটি এর আগে ব্যাখ্যা
করা হয়েছে জুমু‘আহ-র দিনের (দো‘আ কবুলের)
সুনির্দিষ্ট সময়ের (অজানা থাকার)
ব্যাপারে।” [ফাত্হ আল-বারী (৪/২৬৬)]
তৃতীয়ত :
এই মতের ভিত্তিতে কারো পক্ষে নিশ্চিত হওয়া
সম্ভব নয় কোন নির্দিষ্ট রাতটি ‘লাইলাতুল ক্বাদ্র’।
বিশেষ করে যখন আমরা জানি যে, নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি কোন
রাত তা সুনির্দিষ্টভাবে উম্মাতকে জানাতে
চেয়েছিলেন কিন্তু পরে তিনি জানিয়েছেন যে,
আল্লাহ –তা‘আলা-এই জ্ঞান উঠিয়ে নিয়েছেন।
‘উবাদাহ ইবনুস সামিত -রাদিয়াল্লাহু আনহু- থেকে
বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম ‘লাইলাতুল ক্বাদ্র’ এর ব্যাপারে খবর
দিতে বের হলেন, (এ সময়) মুসলিমদের মধ্যে দু
ব্যক্তি বিবাদে লিপ্ত হল। তিনি বললেন :
« ﺇِﻧِّﻲ ﺧَﺮَﺟْﺖُ ﻷُﺧْﺒِﺮَﻛُﻢْ ﺑِﻠَﻴْﻠَﺔِ ﺍﻟْﻘَﺪْﺭِ، ﻭَﺇِﻧَّﻪُ ﺗَﻼﺣَﻰ ﻓُﻼﻥٌ ﻭَﻓُﻼﻥٌ ﻓَﺮُﻓِﻌَﺖْ، ﻭَﻋَﺴَﻰ ﺃَﻥْ ﻳَﻜُﻮﻥَ ﺧَﻴْﺮًﺍ
ﻟَﻜُﻢْ، ﺍﻟْﺘَﻤِﺴُﻮﻫَﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﺒْﻊِ ﻭَﺍﻟﺘِّﺴْﻊِ ﻭَﺍﻟْﺨَﻤْﺲِ ‏». ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏( 49 )
“আমি আপনাদেরকে ‘লাইলাতুল ক্বাদ্র’ এর
ব্যাপারে খবর দিতে বের হয়েছিলাম কিন্তু অমুক
এবং অমুক ব্যক্তি বিবাদে লিপ্ত হল, এরপর তা (সেই
জ্ঞান) উঠিয়ে নেয়া হল, আশা করি তা আপনাদের
জন্য বেশি ভাল হয়েছে, আপনারা তা সপ্তম (২৭
তম), নবম (২৯ম) এবং পঞ্চমে (২৫ম তারিখে)
অনুসন্ধান করুন।”
[এটি বর্ণনা করেছেন আল-বুখারী (৪৯)]
ফাতওয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ‘আলিমগণ বলেন,
“রমযান মাসে নির্দিষ্ট কোনো রাতকে লাইলাতুল
ক্বাদ্র হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য সুস্পষ্ট
দালীলের প্রয়োজন। তবে অন্যান্য রাতের চেয়ে
শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোর কোনো একটিতে
হওয়ার সম্ভাবনা বেশি আর (এর মধ্যে) সাতাশ তম
রাতে হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি; যার
ইঙ্গিত পাওয়া যায় বিভিন্ন হাদীসসমূহে যা
আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি।”
[ফাত্ওয়া আল-লাজ্নাহ আদ-দা’ইমাহ লিল বুহূস
আল-‘‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা’ (১০/৪১৩)]
তাই নির্দিষ্ট কোনো রাতকে লাইলাতুল ক্বাদ্র
হিসেবে চিহ্নিত করা একজন মুসলিমের জন্য উচিত
নয়, কারণ এতে এমন ব্যাপারে দৃঢ় নিশ্চয়তা পোষণ
করা হয়, যে ব্যাপারে দৃঢ় নিশ্চয়তা পোষণ করা
সম্ভব নয়। আর এতে অনেক কল্যাণ ছুটে যাওয়ার
সম্ভাবনা আছে। হতে পারে এটি ২১তম রাতে অথবা
২৩তম রাতে অথবা ২৯তম রাতে। তাই সে যদি শুধু
২৭তম রাতে ক্বিয়াম করে তবে তার থেকে অফুরন্ত
কল্যাণ ছুটে যেতে পারে, আবার হতে পারে সে এই
মুবারাক (বরকতময়) রাত হারিয়ে ফেলতে পারে।
সুতরাং একজন মুসলিমের উচিত গোটা রমযান জুড়েই
আনুগত্য ও ‘ইবাদাতের কাজে সর্বোচ্চ সাধনা
চালানো, আর শেষ দশকে সে ব্যাপারে বেশি
তৎপর হওয়া। এটিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম এর আদর্শ।
‘আয়েশাহ্ -রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহা- থেকে বর্ণিত
যে তিনি বলেছেন :
« ﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺇِﺫَﺍ ﺩَﺧَﻞَ ﺍﻟْﻌَﺸْﺮُ ﺷَﺪَّ ﻣِﺌْﺰَﺭَﻩُ ، ﻭَﺃَﺣْﻴَﺎ ﻟَﻴْﻠَﻪُ ، ﻭَﺃَﻳْﻘَﻆَ
ﺃَﻫْﻠَﻪُ » .
ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏( 2024 ‏) ﻭﻣﺴﻠﻢ ‏( 1174 )
“(রমযানের শেষ) দশ রাত্রি শুরু হলে নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোমর বেঁধে
নামতেন, তিনি নিজে তাঁর রাত জাগতেন
(‘ইবাদাত এর মাধ্যমে) এবং তাঁর পরিবারবর্গকে
জাগাতেন (‘ইবাদাতের জন্য)।”
[এটি বর্ণনা করেছেন আল-বুখারী (২০২৪) ও মুসলিম
(১১৭৪)]
এবং আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।
Islam Q&A
________________________________________________________________
_________________
[1] ইবন মাজাহ: হাদীস নং ৪২৫০। [সম্পাদক]
[2] ১.০৪০
[3] বুখারী, হাদীস নং ৪৭২; মুসলিম, হাদীস নং ৭৪৯।
[সম্পাদক]
[4] বুখারী, হাদীস নং ৬৩১।
[5] তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫১৩। [সম্পাদক]
[6] বুখারী, হাদীস নং ২৬৯৭; মুসলিম, হাদীস নং
১৭১৮। তবে মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে ﻣﺎ ﻟﻴﺲ ﻣﻨﻪ
[সম্পাদক]
[7] মুসলিম, হাদীস নং ১৭১৮।
অনুবাদক : ইবতিসাম আযাদ আব্দুর রাহমান
সম্পাদক : আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
সূত্র : মাক্তাবা আস-সাবাত

✔✔✔✔✔✔✔✔

ই‘তিকাফের মূল আদর্শ, কেন মুসলিমরা এই সুন্নাহ
ছেড়ে দিয়েছে?
ফাত্ওয়া নং - 49007
প্রশ্ন : কেন মুসলিমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ হওয়া সত্ত্বেও ই‘তিকাফ
ছেড়ে দিয়েছে? আর ই‘তিকাফের মূল লক্ষ্যই বা কি?
উত্তর : সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য
প্রথমত :
ই‘তিকাফ হল মু’আক্কদাহ সুন্নাহ; যা রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত
পালন করতেন।
এর শারী‘আত সম্মত হওয়ার ব্যাপারে দলীলগুলো
দেখুন (48999) প্রশ্নের উত্তরে।
আর এই সুন্নাহ তো মুসলিমদের জীবন থেকে
হারিয়েই গেছে -সে ব্যতীত যাকে আমার রাব্ব
দয়া করেছেন- এর অবস্থা সে সুন্নাহগুলোর মতই যা
মুসলিমরা একেবারেই ত্যাগ করেছে বা একেবারে
ত্যাগ করার পথে।
আর এর কিছু কারণ রয়েছে যেমন :
১. অনেকের মনে ‘ঈমানের দুর্বলতা।
২. দুনিয়ার জীবনের সুখ স্বাচ্ছন্দ্য, ভোগ বিলাসের
প্রতি অত্যধিক মাত্রায় ঝুঁকে পড়া; যার কারণে
তারা অল্প সময়ের জন্য হলেও এসব থেকে দূরে
থাকতে অক্ষম।
৩. অনেক মানুষের মনে জান্নাত লাভের
আকাঙ্ক্ষার অভাব এবং আরাম-আয়েশের দিকে
তাদের ঝুঁকে পড়া, তাই তারা ই‘তিকাফের সামান্য
কষ্টও সহ্য করতে চায় না যদিও তা আল্লাহ-
সুবহানাহূ ওয়া তা‘আলার সন্তুষ্টির জন্য হোক না
কেন।
যে জান্নাতের মহান মর্যাদা ও তার সুখ স্বাচ্ছন্দ্য
সম্পর্কে জানে, সে তার জন্য তার সবচেয়ে মূল্যবান
সম্পদ ক্বুরবান করে হলেও তা লাভের চেষ্টা করবে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
« ﺃَﻻ ﺇِﻥَّ ﺳِﻠْﻌَﺔَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻏَﺎﻟِﻴَﺔٌ ، ﺃَﻻ ﺇِﻥَّ ﺳِﻠْﻌَﺔَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔُ‏» ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ﻭﺻﺤﺤﻪ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ
‏( 2450 )
“নিশ্চয়ই আল্লাহ’র পণ্য অত্যন্ত মূল্যবান, আর
নিশ্চয়ই আল্লাহ’র পণ্য হচ্ছে জান্নাত।”
[ইমাম আত-তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং আল-
আলবানী একে সহীহ বলে আখ্যায়িত করেছেন
(২৪৫০)]
৪. অনেকের মনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম এর জন্য ভালবাসা শুধু মৌখিকভাবে
সীমাবদ্ধ থাকা, বাস্তব তথা কর্মগত দিকে তার
কোনো প্রয়োগ না থাকা। অথচ এ ভালবাসার
বাস্তব চিত্র হচ্ছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের বিভিন্ন দিক
বাস্তবায়ণ করা। আর সে সুন্নাতসমূহের একটি হল
ই‘তিকাফ। আল্লাহ বলেছেন :
﴿ ﻟَّﻘَﺪۡ ﻛَﺎﻥَ ﻟَﻜُﻢۡ ﻓِﻲ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﺃُﺳۡﻮَﺓٌ ﺣَﺴَﻨَﺔٞ ﻟِّﻤَﻦ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﺮۡﺟُﻮﺍْ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻭَﭐﻟۡﻴَﻮۡﻡَ ﭐﻟۡﺄٓﺧِﺮَ ﻭَﺫَﻛَﺮَ ﭐﻟﻠَّﻪَ
ﻛَﺜِﻴﺮٗﺍ ٢١ ﴾ ‏[ﺍﻻﺣﺰﺍﺏ : ٢١ ]
“নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহর মাঝে আছে তোমাদের জন্য
উত্তম আদর্শ, তার জন্য, যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের
আশা করে এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ
করে।” [আল-আহযাবঃ ২১]
ইবনু কাসীর -রাহিমাহুল্লাহ- বলেছেন : (৩/৭৫৬)
“এই সম্মানিত আয়াতটি রাসূলুল্লাহর সকল কথা,
কাজ ও অবস্থা (সুন্নাহ) সর্বাবস্থায় অনুসরণের
ব্যাপারে একটি মহান নীতি।”
পূর্ববর্তী সাহাবী, তাবি‘ঈ ও আতবা‘উত
তাবি‘ঈগণের অনেকে মানুষদের ই‘তিকাফ ছেড়ে
দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, যেখানে নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিয়মিত
করেছেন।
ইবনু শিহাব আয-যুহরী বলেছেন :
“এটি খুবই আশ্চর্যজনক যে, মুসলিমরা ই‘তিকাফ
ত্যাগ করেছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম মাদীনাতে প্রবেশ করার পর থেকে
আল্লাহ তাঁকে মৃত্যু দান করা পর্যন্ত তিনি
ই‘তিকাফ ত্যাগ করেন নি।”
দ্বিতীয়ত :
যে ই‘তিকাফ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম নিয়মিতভাবে পালন করেছেন, তা হল
রমযান মাসের শেষ দশ দিনে। এই কয়টি দিন-
সত্যিকার অর্থে একটি ইনটেনসিভ শিক্ষামূলক
কোর্সের ন্যায় যার ইতিবাচক তড়িৎ ফসল একজন
মানুষের জীবনে ই‘তিকাফের দিন ও রাতগুলোতেই
পরিলক্ষিত হয়। আর এর আরও ইতিবাচক প্রভাব
রয়েছে একজন মানুষের জীবনে পরবর্তী রমযান
পর্যন্ত, তার আগামী দিনগুলোতে।
তাই আমাদের মুসলিম সমাজে কতই না প্রয়োজন এই
সুন্নাহকে উজ্জীবিত করা এবং সঠিক পন্থায় তা
প্রতিষ্ঠা করা, যার উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ ছিলেন।
মানুষের এই গাফিলতি ও উম্মাতের এই ফাসাদের
সময় যারা সুন্নাহকে আকঁড়ে ধরে আছে, তাদের
পুরষ্কার কতই না মহান হবে!
তৃতীয়ত :
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
ই‘তিকাফের মূল লক্ষ্য ছিল, লাইলাতুল ক্বাদরের
খোঁজ করা।
ইমাম মুসলিম (১১৬৭) এ আবূ সা ‘ঈদ আল-খুদরী থেকে
বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন :
ﺇِﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺍﻋْﺘَﻜَﻒَ ﺍﻟْﻌَﺸْﺮَ ﺍﻷَﻭَّﻝَ ﻣِﻦْ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ، ﺛُﻢَّ ﺍﻋْﺘَﻜَﻒَ ﺍﻟْﻌَﺸْﺮَ
ﺍﻷَﻭْﺳَﻂَ ﻓِﻲ ﻗُﺒَّﺔٍ ﺗُﺮْﻛِﻴَّﺔٍ ‏(ﺃﻱ : ﺧﻴﻤﺔ ﺻﻐﻴﺮﺓ ‏) ﻋَﻠَﻰ ﺳُﺪَّﺗِﻬَﺎ ‏(ﺃﻱ : ﺑﺎﺑﻬﺎ ‏) ﺣَﺼِﻴﺮٌ . ﻗَﺎﻝَ :
ﻓَﺄَﺧَﺬَ ﺍﻟْﺤَﺼِﻴﺮَ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﻓَﻨَﺤَّﺎﻫَﺎ ﻓِﻲ ﻧَﺎﺣِﻴَﺔِ ﺍﻟْﻘُﺒَّﺔِ ، ﺛُﻢَّ ﺃَﻃْﻠَﻊَ ﺭَﺃْﺳَﻪُ ﻓَﻜَﻠَّﻢَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ، ﻓَﺪَﻧَﻮْﺍ ﻣِﻨْﻪُ .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
রমযানের প্রথম দশ দিন ই‘তিকাফ করেছিলেন।
এরপর তিনি মাঝের দশ দিন তুর্কী ক্বুব্বাহ-তে (এক
ধরণের ছোট তাঁবুতে) ই‘তিকাফ করেছিলেন যার
দরজায় একটি কার্পেট ছিল। বর্ণনাকারী বলেন,
তিনি (রাসূলুল্লাহ) তাঁর হাত দিয়ে কার্পেটটিকে
ক্বুব্বাহর এক পাশে সরিয়ে দিলেন; এরপর তাঁর
মাথা বের করে লোকদের সাথে কথা বললেন, তাঁরা
(উপস্থিত লোকেরা) তাঁর (রাসূলের) কাছে
আসলেন; অতঃপর তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন,
« ﺇِﻧِّﻲ ﺍﻋْﺘَﻜَﻔْﺖُ ﺍﻟْﻌَﺸْﺮَ ﺍﻷَﻭَّﻝَ ﺃَﻟْﺘَﻤِﺲُ ﻫَﺬِﻩِ ﺍﻟﻠَّﻴْﻠَﺔَ ، ﺛُﻢَّ ﺍﻋْﺘَﻜَﻔْﺖُ ﺍﻟْﻌَﺸْﺮَ ﺍﻷَﻭْﺳَﻂَ ، ﺛُﻢَّ ﺃُﺗِﻴﺖُ
ﻓَﻘِﻴﻞَ ﻟِﻲ : ﺇِﻧَّﻬَﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻌَﺸْﺮِ ﺍﻷَﻭَﺍﺧِﺮِ ، ﻓَﻤَﻦْ ﺃَﺣَﺐَّ ﻣِﻨْﻜُﻢْ ﺃَﻥْ ﻳَﻌْﺘَﻜِﻒَ ﻓَﻠْﻴَﻌْﺘَﻜِﻒْ‏» ، ﻓَﺎﻋْﺘَﻜَﻒَ
ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻣَﻌَﻪُ .
“আমি প্রথম দশ দিন ই‘তিকাফ করেছি, এই রাতের
(লাইলাতুল ক্বাদরের) খোঁজে, এরপর মাঝের দশ দিন
ই‘তিকাফ করেছি, এরপর আমার কাছে এসে বলা হল:
‘এটি শেষ দশকে’। সুতরাং আপনাদের মাঝে যে
ই‘তিকাফ করতে পছন্দ করে/চায়, সে যাতে
ই‘তিকাফ করে।” এরপর লোকেরা তাঁর সাথে
ই‘তিকাফ করলেন।
এই হাদীসে কিছু শিক্ষণীয় দিক রয়েছে :
১. রাসূলুল্লাহর-সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া
সাল্লামের ই‘তিকাফের মূল লক্ষ্য ছিল লাইলাতুল
ক্বাদরের খোঁজ করা; আর সেই রাতে ক্বিয়াম করা
ও তা উজ্জীবিত করার জন্য প্রস্তুতি নেয়া, আর তা
হল এই রাতের মহান ফযীলত এর কারণে। আর আল্লাহ
তা‘আলা বলেছেন :
﴿ ﻟَﻴۡﻠَﺔُ ﭐﻟۡﻘَﺪۡﺭِ ﺧَﻴۡﺮٞ ﻣِّﻦۡ ﺃَﻟۡﻒِ ﺷَﻬۡﺮٖ ٣ ﴾ ‏[ﺍﻟﻘﺪﺭ : ٣ ]
“লাইলাতুল ক্বাদ্র হাজার মাস থেকেও
উত্তম।’’ [আল-ক্বাদর:৩]
২.এর (এই রাতের) সময়সীমা জানার আগে–তা
খোঁজার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহর-সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কঠোর পরিশ্রমে লিপ্ত
হওয়া। তিনি শুরু করেন প্রথম দশ দিনে, এরপর
মাঝের দশ দিনে, এরপর মাসের শেষ পর্যন্ত
চালিয়ে যান যতক্ষণ পর্যন্ত না তাঁকে জানানো হয়
যে, তা (লাইলাতুল ক্বাদ্র) শেষ দশকে। আর এ হল
লাইলাতুল ক্বাদরের খোঁজে এক সর্বাত্মক সাধনা।
৩. সাহাবীগণের -রিদ্বওয়ানুল্লাহি ‘আলাইহিম-
রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করা; কারণ, তাঁরা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
সাথে ই‘তিকাফ শুরু করে মাসের শেষ পর্যন্ত তা
অব্যাহত রেখেছিলেন, আর তা হল রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের
পূর্ণাংগভাবে অনুসরণের কারণে।
৪. রাসূলুল্লাহর-সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া
সাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণের প্রতি ভালবাসা ও
দয়া। ই‘তিকাফের কষ্টের কথা তাঁর জানা ছিল
বলে তিনি তাঁদের (সাহাবীদের) তাঁর সাথে
ই‘তিকাফ চালিয়ে যাওয়া অথবা বের হয়ে যাওয়ার
ইখতিয়ার দিয়েছিলেন, বলেছিলেন :
« ﻓَﻤَﻦْ ﺃَﺣَﺐَّ ﻣِﻨْﻜُﻢْ ﺃَﻥْ ﻳَﻌْﺘَﻜِﻒَ ﻓَﻠْﻴَﻌْﺘَﻜِﻒْ »
“সুতরাং আপনাদের মাঝে যে ই‘তিকাফ করতে
পছন্দ করে/চায়, সে যেন ই‘তিকাফ করে।”
এছাড়াও ই‘তিকাফের অন্যান্য উদ্দেশ্য রয়েছে,
যেমন :
১। মানুষের থেকে যথাসম্ভব আলাদা হয়ে আল্লাহ
‘আযযা ওয়া জাল্ল-এর সান্নিধ্যে একা হয়ে যাওয়া।
২. আল্লাহ –তাবারাকা ওয়া তা‘আলা-র প্রতি
সর্বাত্মকভাবে মনোনিবেশ করে আত্মশুদ্ধিকরণ।
৩. সালাত আদায়, দো‘আ করা, যিক্র পাঠ, কুর’আন
তিলাওয়াতের মাধ্যমে ‘ইবাদাত করার জন্য
সম্পূর্ণভাবে লেগে যাওয়া।
৪.নাফসের কু প্রবৃত্তি ও কামনা বাসনা যা সাওমে
র উপর প্রভাব ফেলে তা থেকে সাওমকে রক্ষা
করা।
৫.দুনিয়াবী মুবাহ বিষয়সমূহ ভোগ কমিয়ে দেওয়া
এবং তার অধিকাংশের ব্যাপারে সামর্থ্য থাকা
সত্ত্বেও ভোগ করার ক্ষেত্রে যুহদ বা কৃচ্ছতা
অবলম্বন করা।
দেখুন, আব্দুল লাত্বীফ বালতুব এর ‘ই‘তিকাফ-
শিক্ষামূলক দৃষ্টিভঙ্গি’ গ্রন্থটি।
Islam Q & A
ই‘তিকাফের সর্বনিম্ন সময়সীমা
ফাত্ওয়া নং - 49002
প্রশ্ন : ই‘তিকাফের সর্বনিম্ন সময় কত? আমি কি
অল্প কিছু সময়ের জন্য ই‘তিকাফ করতে পারি নাকি
একসাথে কিছু দিনের জন্য ই‘তিকাফ করতে হবে?
উত্তর : সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
ই‘তিকাফের সর্বনিম্ন সময়সীমার ব্যাপারে
‘আলিমগণের মাঝে মতভেদ রয়েছে।
অধিকাংশ ‘আলিমগণের মতে ই‘তিকাফের
সর্বনিম্ন সময় এক মুহূর্তের জন্যও হতে পারে। আর
এটি ইমাম আবূ হানীফাহ, ইমাম আশ-শাফি‘ঈ ও
ইমাম আহমাদের মত।
দেখুন: আদ-দুরর আল-মুখতার(১/৪৪৫), আল-
মাজমূ‘(৬/৪৮৯), আল-ইনসাফ (৭/৫৬৬)।
ইমাম আন-নাওয়াউয়ী ‘আল-মাজমূ‘’ (৬/৫১৪)-তে
বলেছেন :
“আর ই‘তিকাফের সর্বনিম্ন সময়সীমা সম্পর্কে
অধিকাংশ (‘আলিমগণ) যে মত তা‘কীদের সাথে
পোষণ করেন এবং এটিই সঠিক মত যে এর জন্য
মাসজিদে অবস্থান শর্ত (অর্থাৎ ই‘তিকাফ
মাসজিদে হতে হবে) এবং তা বেশি বা অল্প
সময়ের জন্য হতে পারে, কিছু সময় বা মুহূর্তের
জন্যও”।
আর এ ব্যাপারে তাঁরা বেশ কয়েকটি দলীল
দিয়েছেন :
১. ই‘তিকাফের শাব্দিক অর্থ অবস্থান করা যা
দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হতে পারে। আর
শারী‘আতে এমন কোনো দলীল পাওয়া যায় না, যা
কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়।
ইবনু হাযম বলেছেন :
“ই‘তিকাফ আরবদের ভাষায়-অবস্থান করা। তাই
আল্লাহ তা‘আলার মাসজিদে তাঁর নৈকট্য লাভের
আশায় যে কোনো অবস্থানই হল
ই‘তিকাফ.........সময়সীমা কম হোক বা বেশি হোক,
যেহেতু কুর’আন ও সুন্নাহ নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা বা
সময় নির্ধারণ করেনি”। [আল-মুহাল্লা (৫/১৭৯)]
২. ইবনু আবী শাইবাহ, ইয়া‘লা ইবনু উমাইইয়াহ –
রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি
বলেছেন : “আমি মাসজিদে ‘সা‘আহ’ বা কিছু সময়
অবস্থান করি আর আমি ই‘তিকাফ করার জন্যই
অবস্থান করি।” এটি দ্বারা ইবনু হাযম-‘আল-
মুহাল্লা’-তে (৫/১৭৯) দলীল পেশ করেছেন।
হাফিয ইবনু হাজার ‘ফাতহুল বারী’-তে তা উল্লেখ
করে চুপ থেকেছেন (অর্থাৎ কোনো মন্তব্য করেন
নি)।
আর সা‘আহ হল সময়ের কিছু অংশ, বর্তমান
পরিভাষায় ব্যবহৃত ষাট মিনিটের এক ঘণ্টা নয়।
[উল্লেখ্য যে সাম্প্রতিক পরিভাষায় ‘আরাবীতে
এক ঘণ্টা(৬০ মি:) কে সা‘আহ বলে।]
‘আলিমগণের মধ্যে কারও কারও মতে এর
(ই‘তিকাফের) সর্বনিম্ন সময় একদিন। এটি ইমাম আবূ
হানীফাহ’র এক বর্ণনা এবং মালিকী ফিক্বহী
মাযহাবে কেউ কেউ এ মত পোষণ করেছেন।
আর শাইখ ইবনু বায ‘মাজমূ‘আল ফাত্ওয়া’ তে (১৫/৪৪১)
বলেছেন :
“ই‘তিকাফ হল আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্যের
উদ্দেশ্যে মাসজিদে অবস্থান করা, সময় কম হোক
বা বেশি হোক। কারণ আমার জানা মতে এমন কোন
বর্ণনা পাওয়া যায় না, যা একদিন, দুই দিন বা এর
বেশি কিছু নির্দিষ্ট হওয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা
প্রদান করে। আর তা শারী‘আতসম্মত একটি
‘ইবাদাত যদি না কেউ নাযর (মান্নত) করে,-নাযরের
(মান্নতের) দ্বারা তা ওয়াজিব হয়ে যায়। আর তা
নারী ও পুরুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।”
Islam Q & A
মাসজিদে নারীদের ই’তিকাফ
ফাত্ওয়া নং - 37698
প্রশ্ন : একজন নারীর জন্য রমযানের শেষ দশদিনে
ই‘তিকাফ করা জায়েয কি না?
উত্তর : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
হ্যাঁ, একজন নারীর জন্য রমযানের শেষ দশদিনে
ই‘তিকাফ করা জায়েয।
বরং ই‘তিকাফ নারী এবং পুরুষ উভয়ের জন্যই সুন্নাত
এবং উম্মাহাতুল মু’মিনীন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুন্না
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
জীবদ্দশায় ই‘তিকাফ করেছেন এবং তিনি মারা
যাওয়ার পরও ই‘তিকাফ পালন করেছেন।
ইমাম আল-বুখারী (২০২৬) এবং মুসলিম (১১৭২), নাবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী
‘আয়েশাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণনা
করেছেন যে :
« ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻌْﺘَﻜِﻒُ ﺍﻟْﻌَﺸْﺮَ ﺍﻷَﻭَﺍﺧِﺮَ ﻣِﻦْ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺣَﺘَّﻰ ﺗَﻮَﻓَّﺎﻩُ ﺍﻟﻠَّﻪُ
، ﺛُﻢَّ ﺍﻋْﺘَﻜَﻒَ ﺃَﺯْﻭَﺍﺟُﻪُ ﻣِﻦْ ﺑَﻌْﺪِﻩِ »
“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ
তাঁকে মৃত্যু দানের আগ পর্যন্ত রমযানের শেষ
দশদিন ই‘তিকাফ পালন করতেন, তারপর তাঁর
স্ত্রীগণ ই‘তিকাফ পালন করতেন।”
‘আউন আল-মা‘বূদ গ্রন্থে বলা আছে-
“এতে দলীল পাওয়া যায় যে ই‘তিকাফের ক্ষেত্রে
নারীরা পুরুষদের সমতুল্য।”
শাইখ ‘আবদুল-আযীয ইবনু বায (আল্লাহ তাঁর উপর
দয়া প্রদর্শন করুন) বলেছেন :
‘ই‘তিকাফ নারী এবং পুরুষ উভয়ের জন্য সুন্নাত, নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে
প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি রমযানে ই‘তিকাফ
পালন করতেন এবং সবশেষে তাঁর ই‘তিকাফ শেষ
দশদিনে স্থির হয় এবং তাঁর কিছু স্ত্রীগণও তাঁর
সাথে ই‘তিকাফ পালন করতেন। রাসূলুল্লাহ্
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের (মৃত্যুর) পর
তাঁর স্ত্রীগণ ই‘তিকাফ পালন করতেন। আর
ই‘তিকাফের জায়গা হচ্ছে মাসজিদসমূহ; যেখানে
জামা‘আতের সালাত আদায় করা হয়।”
(ইন্টারনেটে শাইখ ইবনু বাযের ওয়েবসাইট থেকে
নেয়া হয়েছে।)
আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
Islam Q & A
একজন নারীর জন্য তার ঘরে ই‘তিকাফ করা শুদ্ধ নয়
ফাত্ওয়া নং - 37911
প্রশ্ন : একজন নারীর জন্য ঘরে ই‘তিকাফ করা
জায়েয কিনা? সে কী করবে যদি তার রান্না
করার প্রয়োজন পড়ে?
উত্তর : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
ই‘তিকাফ শুধুমাত্র মাসজিদে করা বৈধ। কারণ,
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন :
﴿ ﻭَﻟَﺎ ﺗُﺒَٰﺸِﺮُﻭﻫُﻦَّ ﻭَﺃَﻧﺘُﻢۡ ﻋَٰﻜِﻔُﻮﻥَ ﻓِﻲ ﭐﻟۡﻤَﺴَٰﺠِﺪِۗ﴾ ‏[ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ: ١٨٧ ]
“আর যতক্ষণ তোমরা ই‘তিকাফরত (দুনিয়াবী কাজ
থেকে বিরত থেকে নিজেকে ‘ইবাদত ও প্রার্থনার
জন্য মাসজিদের ভিতর সীমাবদ্ধ রাখা) অবস্থায়
মাসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের
সাথে মিলিত হয়ো না।” [আল-বাক্বারাহঃ ১৮৭]
এই হুকুম পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই সমানভাবে
প্রযোজ্য।
ইবনু ক্বুদামাহ ‘আল-মুগনী’-তে (৪/৪৬৪) বলেছেন :
‘একজন নারী সব মাসজিদে ই‘তিকাফ করতে পারে
এবং সে মাসজিদে জামা‘আতে সালাত আদায়
করতে হবে এমন কোনো শর্ত নেই, কারণ, এটি
(জামা‘আতে সালাত আদায়) তার জন্য
বাধ্যতামূলক নয়।” আর ইমাম আশ-শাফি‘ঈ এই মত
পোষণ করেছেন।
নারীর জন্য তার ঘরে ই‘তিকাফ করার বিধান নেই,
কারণ আল্লাহ বলেছেন :
﴿ ﻭَﻟَﺎ ﺗُﺒَٰﺸِﺮُﻭﻫُﻦَّ ﻭَﺃَﻧﺘُﻢۡ ﻋَٰﻜِﻔُﻮﻥَ ﻓِﻲ ﭐﻟۡﻤَﺴَٰﺠِﺪِۗ﴾ ‏[ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ: ١٨٧ ]
“আর যতক্ষণ তোমরা ই‘তিকাফরত (দুনিয়াবী কাজ
থেকে বিরত থেকে নিজেকে ‘ইবাদত ও প্রার্থনার
জন্য মাসজিদের ভিতর সীমাবদ্ধ রাখা) অবস্থায়
মাসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের
সাথে মিলিত হয়ো না।” [আল-বাক্বারাহঃ ১৮৭]
এবং রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
স্ত্রীগণ তাঁর কাছে মাসজিদে ই‘তিকাফ করার
অনুমতি চাইলে তিনি তাঁদেরকে অনুমতি
দিয়েছিলেন।’
‘আল-মাজমূ‘ (৬/৪৮০) তে ইমাম আন-নাওয়াউয়ী
বলেছেন :
“পুরুষ এবং নারী উভয়ের জন্য মাসজিদের বাইরে
ই‘তিকাফ করা শুদ্ধ নয়।”
এটি “আশ-শারহ আল-মুমতি‘” (৬/৫১৩) তে শাইখ ইবনু
‘উসাইমীন এই মতই পোষণ করেছেন।
আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
Islam Q & A
যাকাতুল ফিত্বর - এর পরিমাণ এবং তা আদায় করার
সময়
ফাত্ওয়া নং - 49793
প্রশ্ন : আমরা মরক্কোর একটি সংস্থার সদস্য,
বার্সেলোনাতে বাস করি। আমরা কিভাবে
যাকাতুল ফিত্বর হিসাব করব?
উত্তর :
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি মুসলিমদের উপর
যাকাতুল ফিত্বর ফরয করেছেন আর তা হল এক সা‘
খেজুর বা এক সা‘ জব এবং তিনি সালাতের জন্য
অর্থাৎ ‘ঈদের (ফিত্বরের) সালাতে বের হওয়ার
আগে তা আদায় করতে আদেশ করেছেন। দুই সহীহ
গ্রন্থে (অর্থাৎ বুখারী ও মুসলিমে) আবূ সা‘ঈদ আল-
খুদরী -রাদিয়াল্লাহু আনহু- থেকে বর্ণিত আছে,
তিনি বলেছেন :
ﻛُﻨَّﺎ ﻧُﻌْﻄِﻴﻬَﺎ ﻓِﻲ ﺯَﻣَﺎﻥِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺻَﺎﻋًﺎ ﻣِﻦْ ﻃَﻌَﺎﻡٍ ، ﺃَﻭْ ﺻَﺎﻋًﺎ ﻣِﻦْ ﺗَﻤْﺮٍ ، ﺃَﻭْ
ﺻَﺎﻋًﺎ ﻣِﻦْ ﺷَﻌِﻴﺮٍ ، ﺃَﻭْ ﺻَﺎﻋًﺎ ﻣِﻦْ ﺯَﺑِﻴﺐٍ .
“আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এর সময়ে তা (যাকাতুল ফিতর) খাদ্যদ্রব্য থেকে এক
স্বা‘ বা খেজুর থেকে এক স্বা‘ বা জব থেকে এক
স্বা‘ বা কিসমিস থেকে এক স্বা‘ হিসেবে
দিতাম।” [বুখারী (১৪৩৭)]
একদল ‘আলিম এই হাদীসে ব্যবহৃত ‘খাদ্যদ্রব্য’
শব্দটির ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, তা হল গম (বুর্/
ক্বাম্হ)।
আবার অনেকে এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে এর উদ্দেশ্য
হল সে দেশের অধিবাসীগণ যা খায় তা গম, ভুট্টা,
পার্ল মিলেট (pearl millet) বা এছাড়া অন্য যাই হোক
না কেন- আর এটি সঠিক মত। কারণ যাকাত হল
দরিদ্রদের প্রতি ধনীদের সহানুভূতি, আর তার
(যাকে যাকাত দেয়া হয়) দেশের খাদ্যদ্রব্য নয় এমন
কিছু দিয়ে সহানুভুতি প্রকাশ করা একজন মুসলিমের
উপর ওয়াজিব নয়। আর এতে সন্দেহ নেই যে, চাল-
হারামাইনের দেশের (সউদি আরবের) প্রধান খাদ্য,
এক উত্তম ও মূল্যবান খাদ্য হিসেবে বিবেচিত যা
বার্লি থেকে উত্তম, যে (বার্লি) হাদীসের পাঠে
(মাত্নে) যথেষ্ট বলে উল্লেখিত হয়েছে। তাই এ
থেকে জানা গেল যে চাল দিয়ে যাকাতুল ফিতর
আদায় করায় কোনো দোষ নেই।
ওয়াজিব হল সকল প্রকার খাবারের এক সা‘ অর্থাৎ
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের
হিসাব অনুযায়ী এক সা‘ (যাকাতুল ফিতর) আদায়
করা। আর এর পরিমাপ হল স্বাভাবিক দুই পূর্ণ
হাতের চার মুঠো, যেমনটি আছে আল-ক্বামূস ও
অন্যান্য অভিধানে –ওজনের হিসাবে তা ৩
কিলোগ্রামের কাছাকাছি। যদি কোনো মুসলিম
চাল বা তার দেশের খাদ্যদ্রব্য থেকে এক সা‘ দিয়ে
(যাকাতুল ফিতর) আদায় করে, তবে আলিমগণের দুই
মতের বেশি শক্তিশালী মতানুসারে তা তার জন্য
যথেষ্ট হবে যদিও বা তা এই হাদীসে উল্লেখিত
খাদ্যদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর তা ওজনের
হিসেবে প্রায় ৩ কিলোগ্রাম দেওয়াতে কোনো
সমস্যা নেই।
ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, স্বাধীন-দাস সকল মুসলিমের
পক্ষ থেকে যাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব।
আর ‘আলিমগণের ইজমা‘ (ঐকমত্য) অনুসারে গর্ভের
ভ্রূণের পক্ষ থেকে তা আদায় করা ওয়াজিব নয়, তবে
‘উসমান-রাদিয়াল্লাহু আনহু- (তা) করেছেন বলে
মুস্তাহাব্ব।
আর ওয়াজিব হল ‘ঈদের সালাতের আগেই তা আদায়
করা, ‘ঈদের সালাতের পর পর্যন্ত দেরি করা জায়েয
নয়। ‘ঈদের আগে এক বা দুই দিন আগে তা আদায়
করায় কোন বাঁধা নেই। তাই এর মাধ্যমে জানা যায়
যে, তা আদায়ের সময় শুরু হয় ‘আলিমগণের মতামতের
সবচেয়ে সঠিক মতটি অনুসারে ২৮তম রাতে; কারণ
এই (রমযান) মাস ২৯ দিনের হতে পারে আবার ৩০
দিনেরও হতে পারে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ যাকাতুল
ফিতর ‘ঈদের এক বা দুই দিন আগে আদায় করতেন।
আর যাকাতুল ফিতর দিতে হবে ফকির ও
মিসকীনদের। ইবনু ‘আব্বাস-রাদ্বিয়াল্লাহু
‘আনহুমা- থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি
বলেছেন :
« ﻓَﺮَﺽَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺯَﻛَﺎﺓَ ﺍﻟْﻔِﻄْﺮِ ﻃُﻬْﺮَﺓً ﻟِﻠﺼَّﺎﺋِﻢِ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻠَّﻐْﻮِ ﻭَﺍﻟﺮَّﻓَﺚِ ،
ﻭَﻃُﻌْﻤَﺔً ﻟِﻠْﻤَﺴَﺎﻛِﻴﻦِ ، ﻣَﻦْ ﺃَﺩَّﺍﻫَﺎ ﻗَﺒْﻞَ ﺍﻟﺼَّﻼﺓِ ﻓَﻬِﻲَ ﺯَﻛَﺎﺓٌ ﻣَﻘْﺒُﻮﻟَﺔٌ ، ﻭَﻣَﻦْ ﺃَﺩَّﺍﻫَﺎ ﺑَﻌْﺪَ ﺍﻟﺼَّﻼﺓِ
ﻓَﻬِﻲَ ﺻَﺪَﻗَﺔٌ ﻣِﻦْ ﺍﻟﺼَّﺪَﻗَﺎﺕِ » .
ﺭﻭﺍﻩ ﺃﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ ﻭﺣﺴﻨﻪ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﻓﻲ ﺻﺤﻴﺢ ﺃﺑﻲ ﺩﺍﻭﺩ
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
যাকাতুল ফিতর ফরয করেছেন একজন সাওম
পালনকারীর অনর্থক কাজ ও অশ্লীলতা হতে
পবিত্রতাস্বরূপ ও মিসকীনদের জন্য খাওয়ার
হিসেবে। যে তা ‘ঈদুল ফিতরের সালাতের আগে
আদায় করবে, তার পক্ষ থেকে তা কবুল যোগ্য
যাকাত হিসেবে গণ্য হবে। আর যে তা ‘ঈদুল
ফিত্বরের সালাতের পর আদায় করবে, তা
সাদাক্বাহসমূহের মধ্যে একটি বলে গণ্য হবে।”
[এটি বর্ণনা করেছেন আবূ দাঊদ (১৬০৯) এবং আল-
আলবানী একে ‘সহীহ আবী দাঊদ’ এ হাসান বলে
আখ্যায়িত করেছেন]
আর ‘আলিমগণের অধিকাংশের মতে ও দলীলের
বিবেচনায় বেশি সঠিক মত অনুসারে মূল্য দ্বারা
(অর্থ দিয়ে) যাকাতুল ফিতর আদায় করা সঠিক নয়
বরং ওয়াজিব হল তা খাদ্যদ্রব্য থেকে আদায় করা;
যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
ও তাঁর সাহাবীগণ করেছেন এবং উম্মাতের
অধিকাংশই (‘উলামা’) এ মত প্রকাশ করেছেন।
আমরা আল্লাহর কাছে চাই যাতে তিনি আমাদের
ও সকল মুসলিমদেরকে তাঁর দ্বীনের ফিক্বহ (বুঝ) ও
তার উপর অটল অবিচল থাকার তাওফীক্ব দেন,
আমাদের অন্তরসমূহ ও কাজকর্মকে শুদ্ধ করেন, তিনি
তো মহামহিম, পরম করুণাময়।” [মাজমূ ফাত্ওয়া আশ
শাইখ ইবন বায (১৪/২০০)]
কিলোগ্রামের হিসেবে শাইখ ইবনু বায-
রহিমাহুল্লাহ-এর মতে যাকাতুল ফিত্বরের
পরিমাণ–প্রায় ৩ কিলোগ্রাম।
আর এভাবেই ফাতওয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির
আলেমগণ এর পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন। (৯/৩৭১)
শাইখ ইবনু ‘উসাইমীন-রাহিমাহুল্লাহ- চাল দিয়ে
এর পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন ২১০০ গ্রাম (অর্থাৎ
২.১ কিলোগ্রাম) [যেমনটি উল্লেখ আছে ‘ফাত্ওয়া
আয-যাকাত’ (পৃঃ ২৭৪-২৭৬)-এ]
আর এই মতভেদের কারণ হল সা‘- পরিমাণ দ্বারা
নির্ধারিত, ওজন দ্বারা নির্দিষ্ট নয়।
তবে ‘আলিমগণ তা ওজন দ্বারা হিসাব নির্ধারণ
করেছেন কারণ তা হিসাব রাখার ক্ষেত্রে বেশি
সহজ ও বেশি বিশুদ্ধ। আর এটি জানা কথা যে
শস্যের দানার ওজন ভিন্ন ভিন্ন হয়; কারণ তার
কোনোটি হালকা আবার কোনোটি ভারী, আবার
কোনোটি মাঝারী ওজনের; বরং কখনো আবার একই
প্রকার শস্যদানার এক সা‘ এর ওজনও ভিন্ন ভিন্ন হয়।
নতুন ফসলের ওজন পুরানো ফসলের ওজন থেকে বেশি
হয়। আর তাই যদি কেউ সতর্কতাবশত কিছু বেশি
আদায় করে, তবে তা বেশি নিরাপদ ও উত্তম।
দেখুন ‘আল-মুগনী’, (৪/১৬৮)। এতে ফসলের যাকাতের
নিসাবের পরিমাণ ওজনের হিসাবে এরূপ উল্লেখিত
হয়েছে।
এবং আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।
Islam Q & A
দুই ‘ঈদের সালাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম এর দেখানো আদর্শ
ফাত্ওয়া নং - 49020
প্রশ্ন : আমি দুই ‘ঈদের সালাতে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেখানো আদর্শ
সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই ‘ঈদের
সালাত ‘ঈদগাহে আদায় করতেন। তিনি
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদের সালাত
মাসজিদে আদায় করেছেন এমন কোনো প্রমাণ
পাওয়া যায় না।
ইমাম আশ-শাফি‘ঈ ‘আল-উম্ম’- এ বলেছেন :
“আমাদের কাছে এই বর্ণনা পৌঁছেছে যে,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই
‘ঈদের দিন মাদীনার ঈদগাহে যেতেন, তাঁর পরেও
সবাই তাই করতেন যদি না তা না করার পেছনে
কোন ‘উয্র (অজুহাত) থাকত যেমন বৃষ্টি ইত্যাদি।
অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসীরাও তাই করতেন
মক্কাবাসীরা ব্যতীত।”
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর
সবচেয়ে সুন্দর পোশাক পরে দুই ‘ঈদের সালাত আদায়
করতে বের হতেন। তাঁর একটি হুল্লাহ (এক বিশেষ
পোশাক) ছিল, সেটি পরে তিনি দুই ‘ঈদ এবং
জুমু‘আহর সালাত আদায় করতে যেতেন।
হুল্লাহ দুই খণ্ড কাপড় যা একই (জাতীয়) উপকরণে
তৈরি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদুল
ফিতর-এর সালাত আদায় করতে যাওয়ার আগে
খেজুর খেতেন এবং তা বিজোড় সংখ্যায় খেতেন।
ইমাম আল- বুখারী (৯৫৩) আনাস ইবনু মালিক-
রাদিয়াল্লাহু আনহু- থেকে বর্ণনা করেছেন যে
তিনি বলেছেন :
« ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻻ ﻳَﻐْﺪُﻭ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻔِﻄْﺮِ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺄْﻛُﻞَ ﺗَﻤَﺮَﺍﺕٍ ، ﻭَﻳَﺄْﻛُﻠُﻬُﻦَّ
ﻭِﺗْﺮًﺍ » .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
‘ঈদুল ফিতর এর দিন সকালবেলা খেজুর না খেয়ে
বের হতেন না, আর তিনি তা বিজোড় সংখ্যায়
খেতেন।”
ইবনু ক্বুদামাহ বলেছেন :
ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺍِﺑْﻦُ ﻗُﺪَﺍﻣَﺔَ : ﻻ ﻧَﻌْﻠَﻢُ ﻓِﻲ ﺍِﺳْﺘِﺤْﺒَﺎﺏِ ﺗَﻌْﺠِﻴﻞِ ﺍﻷَﻛْﻞِ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻔِﻄْﺮِ ﺍِﺧْﺘِﻼﻓًﺎ. ﺍِﻧْﺘَﻬَﻰ
“‘ঈদুল ফিতর -এর দিন তাড়াতাড়ি খাবার খেয়ে
ফেলা যে মুস্তাহাব্ব, এ ব্যাপারে কোন ভিন্ন মত
আমাদের জানা নেই।”
‘ঈদুল ফিতরের দিনে সালাত আদায়ের আগেই খেয়ে
ফেলার পেছনে হিক্মাহ হল কেউ যেন এটি না
ভাবে যে সালাত আদায় করা পর্যন্ত না খেয়ে
থাকা অপরিহার্য।
এটিও বলা হয়ে থাকে যে, (তাড়াতাড়ি খেয়ে
ফেলার পেছনে হিক্মাহ হল) সাওম ওয়াজিব হওয়ার
পর সাওম ভঙ্গ করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে
আল্লাহ তা‘আলা এর আদেশ পূর্ণাংগভাবে
অনুসরণের জন্য তৎপর হওয়া।
যদি একজন মুসলিম খেজুর না পায়, তাহলে সে অন্য
কোন কিছু, এমনকি পানি দিয়ে হলেও ইফত্বার
করবে যাতে নীতিগতভাবে সুন্নাহ অনুসরণ করতে
পারে; আর তা হল, ‘ঈদুল ফিত্বর-এর সালাতের আগে
ইফত্বার করা (কিছু খাওয়া বা পান করা)।
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম ‘ঈদুল ‘আদ্বহার দিন ঈদগাহ থেকে
ফেরার আগ পর্যন্ত কিছু খেতেন না, এরপর তিনি
তাঁর জবেহ করা পশুর গোশত থেকে খেতেন।
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি দুই
‘ঈদের দিনই গোসল করতেন।
ইবনুল ক্বাইয়িম বলেছেন :
“এ সম্পর্কে দুইটি দুর্বল হাদীস রয়েছে......তবে ইবনু
‘উমার-রাদিয়াল্লাহু আনহু- যিনি সুন্নাহ অনুসরণের
ব্যাপারে অত্যন্ত তৎপর ছিলেন, তাঁর থেকে
প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি ‘ঈদের দিন বের হওয়ার
আগে গোসল করতেন।”
আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম ‘ঈদের সালাত আদায় করতে হেঁটে
যেতেন এবং হেঁটেই ফিরে আসতেন।
ইবনু মাজাহ (১২৯৫) ইবনু ‘উমার থেকে বর্ণনা
করেছেন যে, তিনি বলেছেন :
« ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻳَﺨْﺮُﺝُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﻌِﻴﺪِ ، ﻣَﺎﺷِﻴًﺎ ﻭَﻳَﺮْﺟِﻊُ ﻣَﺎﺷِﻴًﺎ ‏». ﺣﺴﻨﻪ
ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﻓﻲ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﻪ
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
‘ঈদের সালাত আদায় করতে হেঁটে যেতেন এবং
হেঁটেই ফিরে আসতেন।”
[আল-আলবানী সহীহ ইবনি মাজাহ’তে একে হাসান
বলে আখ্যায়িত করেছেন।]
আর ইমাম আত-তিরমিযী (৫৩০) ‘আলী ইবনু আবী
ত্বালিব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন
:
« ﻣِﻦْ ﺍﻟﺴُّﻨَّﺔِ ﺃَﻥْ ﺗَﺨْﺮُﺝَ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﻌِﻴﺪِ ﻣَﺎﺷِﻴًﺎ ‏» . ﺣﺴﻨﻪ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﻓﻲ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ
“‘ঈদের সালাত হেঁটে আদায় করতে যাওয়া সুন্নাহ।”
[আল-আলবানী ‘সহীহ আত-তিরমিযী’-তে একে
হাসান বলে আখ্যায়িত করেছেন।]
ইমাম আত-তিরমিযী বলেছেন :
ﻭَﺍﻟْﻌَﻤَﻞُ ﻋَﻠَﻰ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟْﺤَﺪِﻳﺚِ ﻋِﻨْﺪَ ﺃَﻛْﺜَﺮِ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﻌِﻠْﻢِ ﻳَﺴْﺘَﺤِﺒُّﻮﻥَ ﺃَﻥْ ﻳَﺨْﺮُﺝَ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﻌِﻴﺪِ ﻣَﺎﺷِﻴًﺎ
. . . ﻭَﻳُﺴْﺘَﺤَﺐُّ ﺃَﻥْ ﻻ ﻳَﺮْﻛَﺐَ ﺇِﻻ ﻣِﻦْ ﻋُﺬْﺭٍ
“অধিকাংশ ‘আলিমগণ এই হাদীস অনুসরণ করেছেন
এবং ‘ঈদের দিনে হেঁটে (সালাত আদায়ের জন্য)
বের হওয়াকে মুস্তাহাব্ব হিসেবে আখ্যায়িত
করেছেন ... কোন গ্রহণযোগ্য ‘উযর (অজুহাত) ছাড়া
যানবাহন ব্যবহার না করা মুস্তাহাব্ব।”
তাছাড়া রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম যখন ‘ঈদগাহে পৌঁছতেন, তখন কোনো
আযান বা ইক্বামাত বা ‘আস-সালাতু
জামি‘আহ’ (সালাত শুরু হতে যাচ্ছে) এরূপ না বলেই
সালাত শুরু করতেন, এগুলোর কোনটি না করাই
সুন্নাহ।
অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম ‘ঈদগাহে ‘ঈদের আগে বা পরে আর
কোনো সালাত আদায় করতেন না।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
খুত্ববাহ -এর আগে সালাত দিয়ে শুরু করতেন।
[অর্থাৎ খুতবাহ পরে দিতেন]
তদ্রূপ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম দুই রাকা‘আত সালাতের প্রথম
রাকা‘আতে তাকবীরাতুল ইহরাম (তাকবীরে
তাহরীমা) সহ পরপর সাতটি তাকবীর দিতেন।
প্রতি দুই তাকবীরের মাঝে কিছু সময় বিরতি
নিতেন। দুই তাকবীরের মাঝখানে বিশেষ কোনো
দো‘আ পড়েছেন বলে বর্ণনা পাওয়া যায় না। তবে
এটি ইবনু মাস‘ঊদ হতে বর্ণিত হয়েছে যে : “তিনি
আল্লাহর প্রশংসা করতেন, তাঁর সানা’ (প্রশংসার
পুনরাবৃত্তি) পাঠ করতেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর সালাত (দো‘আ)
পাঠ করতেন।”
ইবনু ‘উমার যিনি সুন্নাহ অনুসরণের ব্যাপারে
অত্যন্ত তৎপর ছিলেন, তিনি প্রতি তাকবীরের
সাথে সাথে হাত উঠাতেন।
তাকবীর শেষ করার পর তিনি ক্বিরা‘আত আরম্ভ
করতেন। তিনি সূরা আল ফাতিহা পাঠ করার পর দুই
রাক‘আতের যে কোনো এক রাক‘আতে “ক্বাফ ওয়াল
ক্বুর’আনিল মাজীদ” (৫০ নং সূরা -ক্বাফ) এবং অপর
রাক‘আতে “ইক্বতারাবাতিস সা‘আতু ওয়ান
শাক্বক্বাল ক্বামার” (৬৪ নং সূরা- আল- ক্বামার)
পড়তেন। আবার কখনো “সাব্বিহিস্মা রাব্বিকাল
আ‘লা” (৮৭ নং সূরা- আল- আ‘লা) ও “হাল আতাকা
হাদীসুল গাশিয়াহ” (৮৮নং সূরা আল- গাশিয়াহ)
পড়তেন। এই দুটিই সহীহ বর্ণনাতে পাওয়া যায়।
এছাড়া আর কোনো সূরার কথা সহীহ বর্ণনায়
পাওয়া যায় না।
ক্বিরা‘আত শেষ করার পর তিনি তাকবীর বলে রুকূ‘
করতেন। এরপর সেই রাক্‘আত শেষ করে সাজদাহ
থেকে উঠে দাঁড়ানোর পর পরপর পাঁচটি তাকবীর
দিতেন। পাঁচবার তাকবীর দেয়া শেষ করার পর
আবার ক্বিরা‘আত আরম্ভ করতেন। সুতরাং
তাকবীরই প্রথম জিনিস যা দ্বারা তিনি প্রত্যেক
রাক‘আত শুরু করতেন। ক্বিরা‘আত শেষ করার পর
তিনি রুকূ‘ করতেন।
আত-তিরমিযী বর্ণনা করেছেন কাসীর ইবন
‘আব্দিল্লাহ ইবন ‘আমর ইবন ‘আওফ থেকে, তিনি
তাঁর বাবা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে যে-
“রাসূলুল্লাহ দুই ‘ঈদের সালাতে প্রথম রাক‘আতে
ক্বিরা‘আতের পূর্বে সাতবার তাকবীর দিতেন এবং
অপর রাক‘আতে ক্বিরা‘আতের পূর্বে পাঁচবার
তাকবীর দিতেন[1]।”
ইমাম আত-তিরমিযী বলেছেন: “আমি
মুহাম্মাদকে- অর্থাৎ ইমাম আল বুখারী-কে এই
হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি
বলেন: ‘এই বিষয়ে এর চেয়ে সহীহ আর কোনো বর্ণনা
নেই।’ আর আমিও এই মত পোষণ করি[2]।”
আর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
যখন সালাত শেষ করতেন, তখন তিনি ঘুরে সবার
দিকে মুখ করে দাঁড়াতেন । সবাই তখন কাতারে
বসে থাকত। তিনি তাদেরকে উপদেশ দিতেন,
ওয়াসিয়্যাত করতেন, আদেশ করতেন ও নিষেধ
করতেন, কোন মিশন পাঠাতে চাইলে তা
পাঠাতেন অথবা কাউকে কোন আদেশ করতে হলে
সে ব্যাপারে আদেশ করতেন।
আর সেখানে কোন মিম্বার থাকত না যার উপর
তিনি দাঁড়াতেন এবং মাদীনার মিম্বারও আনা
হত না। বরং তিনি তাদেরকে মাটির উপর
দাঁড়িয়েই খুত্ববাহ দিতেন। জাবির রাদিয়াল্লাহু
আনহু বলেছেন :
“আমি রাসূলুল্লাহর সাথে ‘ঈদের সালাতে উপস্থিত
ছিলাম। তিনি খুত্ববার আগে কোনো আযান এবং
ইক্বামাত ছাড়াই সালাত শুরু করলেন। তারপর
তিনি বিলালের কাঁধে হেলান দিয়ে দাঁড়ালেন।
এরপর তিনি আল্লাহকে ভয় করার আদেশ দিলেন,
আনুগত্য করার ব্যাপারে উৎসাহিত করলেন,
মানুষদের উপদেশ দিলেন এবং তাদের স্মরণ করিয়ে
দিলেন। এরপর তিনি মহিলাদের কাছে গেলেন,
তাদেরকে আদেশ দিলেন ও তাদেরকে (আল্লাহর)
বিষয়ে স্মরণ করিয়ে দিলেন।” (আল-বুখারী ও
মুসলিম)
আবু সা ‘ঈদ আল খুদরী -রাদিয়াল্লাহু আনহু- বলেছেন
:
“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদুল
ফিতর ও ‘ঈদুল আযহা -এর দিন মুসাল্লায় (ঈদগাহে)
যেতেন, এরপর প্রথমেই সালাত দিয়ে শুরু করতেন,
তারপর তিনি উঠে গিয়ে লোকদের দিকে মুখ করে
দাঁড়াতেন, সবাই তখন কাতারে বসে থাকত।”
(এই হাদীসটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।)
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর
সকল খুত্ববাহ আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করতেন।
এমন একটি হাদীসও পাওয়া যায় না যেখানে বলা
হয়েছে তিনি দুই ‘ঈদের দুই খুত্ববাহ তাকবীর দিয়ে
শুরু করতেন। বরং ইবনু মাজাহ তাঁর সুনান গ্রন্থে
(১২৮৭) সা‘দ আল-ক্বুরায থেকে বর্ণনা করেছেন
যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর
মু’আয্যিন ছিলেন :
“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই
খুত্ববাহর মাঝখানে তাকবীর পাঠ করতেন আর দুই
‘ঈদের খুত্ববাহতে বেশি বেশি করে তাকবীর পাঠ
করতেন।”
আল-আলবানী ‘দ্বা‘ঈফ (দুর্বল) ইবন মাজাহ’-তে একে
দ্বা‘ঈফ (দুর্বল) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন; এই
হাদীসটি দ্বা‘ঈফ (দুর্বল) হলেও এতে এমন কোন
ইঙ্গিত পাওয়া যায় না যে তিনি সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদের খুত্ববাহ তাকবীর
দিয়ে শুরু করতেন।
এবং তিনি (আল আলবানী) ‘তামাম আল- মিন্নাহ’
তে বলেছেন :
“যদিও এই হাদীস ইঙ্গিত করে না যে খুত্ববাহ
তাকবীর দিয়ে শুরু করা শারী‘আতসম্মত, তারপরও
এটির ইসনাদ দুর্বল এবং এতে এমন একজন ব্যক্তি
বর্ণনাকারী আছেন যিনি দুর্বল এবং অপরজন যিনি
অচেনা। তাই একে খুত্ববাহ চলাকালীন সময়ে
তাকবীর বলা সুন্নাহ হওয়ার ব্যাপারে প্রমাণ
হিসেবে ব্যবহার করা জায়েয নয়।”
ইবনুল ক্বাইয়িম বলেছেন :
“দুই ‘ঈদ ও ইস্তিস্ক্বা’ (বৃষ্টি চাওয়ার সালাত)-এর
খুত্ববাহ কি দিয়ে শুরু হবে তা নিয়ে ‘আলিমগণ
বিভিন্ন মত পোষণ করেছেন। কেউ বলেছেন, উভয় (দুই
‘ঈদ ও ইস্তিস্ক্বা’) খুত্ববাহই তাকবীর দিয়ে শুরু হবে
এবং কেউ বলেছেন, ইস্তিস্ক্বা’ (বৃষ্টি চাওয়ার
সালাত )-এর খুত্ববাহ ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা)
দিয়ে শুরু হবে। আবার কেউ বলেছেন, উভয় (দুই ‘ঈদ ও
ইসতিসক্বা’-এর) খুত্ববাহই (আল্লাহর) প্রশংসা
দিয়ে শুরু হবে।
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ বলেছেন: “এটিই
সঠিক মত... আর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম তাঁর সব খুত্ববাহই আল্লাহর প্রশংসা
দ্বারা শুরু করতেন।”
আর যারা ঈদের সালাতে উপস্থিত হয়েছে, নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে
বসে খুত্ববাহ শোনা বা চলে যাওয়া উভয়েরই
অনুমতি দিয়েছেন।
আবূ দাঊদ (১১৫৫) ‘আবদুল্লাহ ইবন আস- সা’ইব থেকে
বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন :
ﺷَﻬِﺪْﺕُ ﻣَﻊَ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺍﻟْﻌِﻴﺪَ ، ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﻗَﻀَﻰ ﺍﻟﺼَّﻼﺓَ ﻗَﺎﻝَ : ‏«ﺇِﻧَّﺎ ﻧَﺨْﻄُﺐُ
، ﻓَﻤَﻦْ ﺃَﺣَﺐَّ ﺃَﻥْ ﻳَﺠْﻠِﺲَ ﻟِﻠْﺨُﻄْﺒَﺔِ ﻓَﻠْﻴَﺠْﻠِﺲْ ، ﻭَﻣَﻦْ ﺃَﺣَﺐَّ ﺃَﻥْ ﻳَﺬْﻫَﺐَ ﻓَﻠْﻴَﺬْﻫَﺐْ ‏» . ﺻﺤﺤﻪ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ
ﻓﻲ ﺻﺤﻴﺢ ﺃﺑﻲ ﺩﺍﻭﺩ .
“আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম এর সাথে ‘ঈদের সালাতে উপস্থিত
ছিলাম। তিনি সালাত আদায় শেষ করে বললেন,
“আমরা এখন খুত্ববাহ প্রদান করছি, তাই যে চায়
বসে খুত্ববাহ শুনতে পারে, আর যে চায় সে চলে
যেতে পারে।”
[আল-আলবানী একে ‘সহীহ আবি দাঊদে’ সহীহ
বলেছেন।]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
ঈদের দিন পথ পরিবর্তন করতেন। তিনি এক রাস্তা
দিয়ে যেতেন, আরেক রাস্তা দিয়ে ফিরে
আসতেন।
আল-বুখারী (৯৮৬) জাবির ইবন ‘আবদিল্লাহ-
রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-থেকে বর্ণনা করেছেন
যে, তিনি বলেছেন :
« ﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺇِﺫَﺍ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻮْﻡُ ﻋِﻴﺪٍ ﺧَﺎﻟَﻒَ ﺍﻟﻄَّﺮِﻳﻖَ » .
“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের
দিন রাস্তা পরিবর্তন করতেন।”
Islam Q & A
‘ঈদে যে ভুলগুলো হয়
ফাত্ওয়া নং - 36856
প্রশ্ন : দুই ‘ঈদে যেসব ভুলসমূহ এবং খারাপ
কাজগুলোর ব্যাপারে আমরা মুসলিমদের সতর্ক
করবো সেগুলো কী কী? আমরা কিছু কাজ দেখি
যেগুলো আমরা (দোষ হিসেবে অভিযুক্ত করে) এর
বিরোধিতা করি, যেমন-‘ঈদ এর সালাতের পরে কবর
যিরারত করা এবং ‘ঈদের রাতে রাত জেগে ‘ইবাদত
করা…
উত্তর : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
‘ঈদ ও তার আনন্দ সমাগত হওয়ার সাথে সাথে আমরা
কিছু জিনিসের ব্যাপারে নির্দেশনা দিতে চাই
যেগুলো মানুষ আল্লাহর শারী‘আতকে এবং
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
সুন্নাহকে না জেনে করে থাকে। যেমন:
১- ‘ঈদের আগের রাত পুরোটাই ‘ইবাদতের মাধ্যমে
উজ্জীবিত করা শারী‘আতসম্মত এরূপ বিশ্বাস
পোষণ করা :
কিছু মানুষ বিশ্বাস করে যে, ‘ঈদের রাত ‘ইবাদতের
মাধ্যমে উজ্জীবিত করা শারী‘আতসম্মত। এটি এক
ধরণের নতুন প্রবর্তিত বিষয় (বিদ‘আত), যা কিনা
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে
প্রমাণিত নয়। বরং এটি দ্বা‘ঈফ (দুর্বল) হাদীসে
বর্ণিত হয়েছে যাতে বলা আছে “যে ‘ঈদের রাতে
জেগে থাকবে, তার হৃদয় কখনো মারা যাবে না
যেদিন সব হৃদয় মারা যাবে।” এটি সহীহ হিসাবে
প্রমাণিত হাদীস নয়। এটি বর্ণিত হয়েছে দুইটি
ইসনাদের মাধ্যমে, যার একটি হল জাল বা
বানোয়াট, আর অপরটি হল খুবই দুর্বল।
দেখুন- আল-আলবানীর “সিলসিলাত আল-আহাদীস
আদ্ব-দ্বা‘ঈফাহ ওয়াল-মাউদ্বূ‘আহ।” (৫২০,৫২১)
তাই অন্য রাতগুলোকে বাদ দিয়ে বিশেষভাবে
‘ঈদের রাত্রিকে ক্বিয়ামের জন্য বাছাই করা
শারী‘আতসম্মত নয়। তবে যার ক্বিয়ামের
(তাহাজ্জুদ পড়ার) অভ্যাস আছে, সেই ক্ষেত্রে
‘ঈদের রাতে ক্বিয়াম করায় কোনো দোষ নেই।
২- দুই ‘ঈদের দিনে কবর যিয়ারত করা :
এটি ‘ঈদ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের সাথে সাংঘর্ষিক, যা
কিনা আনন্দ, সুখ ও উল্লাসের প্রকাশ এবং তা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এবং পূর্ববর্তী সাহাবী ও তাবি‘ঈগণের ‘আমলের
(শিক্ষার) বিরোধী।
সাধারণভাবে বলা যায় যে, কোনো নির্দিষ্ট দিনে
কবরস্থানে যাওয়া এবং তাকে একটি উৎসব (‘ঈদ)
বানিয়ে নেয়ার ব্যাপারে নবীর নিষেধাজ্ঞা
আছে, যেমনটি ‘আলিমগণ বলেছেন।
আর এটি কবরসমূহকে উৎসব (‘ঈদ) হিসেবে গ্রহণ না
করা সংক্রান্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের সাধারণ নিষেধাজ্ঞার আওতায়
পড়ে; কারণ বিশেষ কিছু সময়ে ও পরিচিত কিছু
মৌসুমে কবর যিয়ারত করা একে ‘ঈদ হিসেবে গ্রহণ
করার অর্থে পড়ে, এমনটিই আলিমগণ উল্লেখ
করেছেন।
দেখুন -আল-আলবানীর ‘আহকাম আল-জানা’ইয ওয়া
বিদা‘উহা।’ (পৃঃ ২১৯, ২৫৮)
৩- জামা‘আতে সালাত পরিত্যাগ করা এবং ঘুমিয়ে
থাকার কারণে সালাত ছুটে যাওয়া :
এটি খুবই দুঃখজনক, আপনি দেখবেন যে কিছু
মুসলিমের সালাত ছুটে যায় এবং তারা
জামা‘আতের সাথে সালাত পরিত্যাগ করে। নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
« ﺍﻟﻌﻬﺪ ﺍﻟﺬﻱ ﺑﻴﻨﻨﺎ ﻭﺑﻴﻨﻬﻢ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻓﻤﻦ ﺗﺮﻛﻬﺎ ﻓﻘﺪ ﻛﻔﺮ‏» ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ 2621 ﻭﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ
463 ﻭﺻﺤﺤﻪ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﻓﻲ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ
“আমাদের এবং তাদের মধ্যে চুক্তি হল সালাত, যে
তা পরিত্যাগ করবে সে কুফরী করল।”
[এটি বর্ণনা করেছেন আত-তিরমিযী (২৬২১); আন-
নাসা’ঈ (৪৬৩) আর আল-আলবানী ‘সহীহ আত-
তিরমিযী’-তে একে সহীহ বলে চিহ্নিত করেছেন।]
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
আরও বলেছেন :
« ﺇِﻥَّ ﺃَﺛْﻘَﻞَ ﺻَﻼﺓٍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻤُﻨَﺎﻓِﻘِﻴﻦَ ﺻَﻼﺓُ ﺍﻟْﻌِﺸَﺎﺀِ ﻭَﺻَﻼﺓُ ﺍﻟْﻔَﺠْﺮِ ﻭَﻟَﻮْ ﻳَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ ﻣَﺎ ﻓِﻴﻬِﻤَﺎ ﻷَﺗَﻮْﻫُﻤَﺎ
ﻭَﻟَﻮْ ﺣَﺒْﻮًﺍ ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﻫَﻤَﻤْﺖُ ﺃَﻥْ ﺁﻣُﺮَ ﺑِﺎﻟﺼَّﻼﺓِ ﻓَﺘُﻘَﺎﻡَ ﺛُﻢَّ ﺁﻣُﺮَ ﺭَﺟُﻼ ﻓَﻴُﺼَﻠِّﻲَ ﺑِﺎﻟﻨَّﺎﺱِ ﺛُﻢَّ ﺃَﻧْﻄَﻠِﻖَ ﻣَﻌِﻲ
ﺑِﺮِﺟَﺎﻝٍ ﻣَﻌَﻬُﻢْ ﺣُﺰَﻡٌ ﻣِﻦْ ﺣَﻄَﺐٍ ﺇِﻟَﻰ ﻗَﻮْﻡٍ ﻻ ﻳَﺸْﻬَﺪُﻭﻥَ ﺍﻟﺼَّﻼﺓَ ﻓَﺄُﺣَﺮِّﻕَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺑُﻴُﻮﺗَﻬُﻢْ ﺑِﺎﻟﻨَّﺎﺭ‏»
ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ 651
“মুনাফিক্বদের জন্য ‘ইশা’ এবং ফাজ্র এর সালাত
সবচেয়ে বোঝাস্বরূপ। তারা যদি জানত তার মধ্যে
(কী কল্যাণ) আছে, তবে তারা হামাগুড়ি দিয়ে
হলেও তাতে (সেই দুই সালাতে) উপস্থিত হত। আর
আমি চিন্তা করেছিলাম যে সালাতের আদেশ করব
আর তা কায়েম করা হবে এবং একজন লোককে
আদেশ করব যে লোকদের নিয়ে (ইমাম হিসেবে)
সালাত আদায় করবে, এরপর আমি আমার সাথে কিছু
লোক নিয়ে যাবো যাদের সাথে কাঠের বাণ্ডিল
থাকবে, সেই সমস্ত লোকদের কাছে যারা
জামা‘আতের সালাতে উপস্থিত হয় নি, এরপর
তাদের বাড়িঘরে আগুন জ্বালিয়ে দিব।” [এটি
বর্ণনা করেছেন মুসলিম (৬৫১)]
৪- মুস্বাল্লাতে (সালাতের স্থানে) রাস্তাঘাট
কিংবা অন্য কোনো স্থানে পুরুষদের সাথে
নারীদের একত্রিত হওয়া আর ঐসব জায়গায় পুরুষদের
সাথে তাদের ভিড় জমানো :
এতে আছে মহা ফিতনাহ ও বড় বিপদ। এ ব্যাপারে
ওয়াজিব হল নারী এবং পুরুষ উভয়কেই সতর্কবাণী
দেয়া এবং যতটুকু সম্ভব প্রতিরোধের জন্য জরুরি
পদক্ষেপ নেয়া। নারীদের পুরোপুরি চলে যাবার
আগে পুরুষ ও তরুণদের কখনোই সালাতের স্থান ত্যাগ
করা উচিত নয়।
৫- কিছু নারীদের সুগন্ধি ও সাজগোজ করে পর্দা
ছেড়ে বের হওয়া :
এই সমস্যাটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে এবং কিছু
মানুষ এই ব্যাপারটিকে খুব হালকা ভাবে নেয়। (এ
ব্যাপারে আমরা আল্লাহর সাহায্য কামনা করি।)
কিছু নারী যখন তারা তারাউয়ীহ (তারাবীহ),
‘ঈদের সালাত আদায় অথবা অন্য জায়গায় বের হয়
তখন তার সবচেয়ে সুন্দর পোশাকটি পরিধান করে
এবং সবচেয়ে সুন্দর সুগন্ধি ব্যবহার করে- আল্লাহ
তাদেরকে হিদায়াত করুন। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
« ﺃَﻳُّﻤَﺎ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓٍ ﺍﺳْﺘَﻌْﻄَﺮَﺕْ ﻓَﻤَﺮَّﺕْ ﻋَﻠَﻰ ﻗَﻮْﻡٍ ﻟِﻴَﺠِﺪُﻭﺍ ﻣِﻦْ ﺭِﻳﺤِﻬَﺎ ﻓَﻬِﻲَ ﺯَﺍﻧِﻴَﺔٌ »
ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ 5126 ﻭﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ 2786 ﻭﺣﺴﻨﻪ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﻓﻲ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺘﺮﻏﻴﺐ ﻭﺍﻟﺘﺮﻫﻴﺐ
2019
“যে নারী সুগন্ধি ব্যবহার করে এবং লোকজনের
পাশ দিয়ে এমনভাবে যায় যাতে তারা তার সৌরভ
পেতে পারে সে একজন ব্যভিচারিণী”।
[এটি বর্ণনা করেছেন আন-নাসা’ঈ (৫১২৬); আত-
তিরমিযী (২৭৮৬); আল-আলবানী ‘সহীহ আল-
তারগীব ওয়া আত-তারহীব’ (২০১৯) এ একে হাসান
হিসেবে উল্লেখ করেছেন।]
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেছেন: “আল্লাহ’র রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
« ﺻِﻨْﻔَﺎﻥِ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻟَﻢْ ﺃَﺭَﻫُﻤَﺎ ﻗَﻮْﻡٌ ﻣَﻌَﻬُﻢْ ﺳِﻴَﺎﻁٌ ﻛَﺄَﺫْﻧَﺎﺏِ ﺍﻟْﺒَﻘَﺮِ ﻳَﻀْﺮِﺑُﻮﻥَ ﺑِﻬَﺎ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ﻭَﻧِﺴَﺎﺀٌ
ﻛَﺎﺳِﻴَﺎﺕٌ ﻋَﺎﺭِﻳَﺎﺕٌ ﻣُﻤِﻴﻼﺕٌ ﻣَﺎﺋِﻼﺕٌ ﺭُﺀُﻭﺳُﻬُﻦَّ ﻛَﺄَﺳْﻨِﻤَﺔِ ﺍﻟْﺒُﺨْﺖِ ﺍﻟْﻤَﺎﺋِﻠَﺔِ ﻻ ﻳَﺪْﺧُﻠْﻦَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﻭَﻻ ﻳَﺠِﺪْﻥَ
ﺭِﻳﺤَﻬَﺎ ﻭَﺇِﻥَّ ﺭِﻳﺤَﻬَﺎ ﻟَﻴُﻮﺟَﺪُ ﻣِﻦْ ﻣَﺴِﻴﺮَﺓِ ﻛَﺬَﺍ ﻭَﻛَﺬَﺍ ‏» ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ 2128
“জাহান্নাম-বাসী দুটো শ্রেণী আছে যাদেরকে
আমি দেখি নি। (১) তারা এমন মানুষ যাদের কাছে
গরুর লেজের ন্যায় চাবুক থাকবে যা দিয়ে তারা
লোকদের মারবে এবং (২) এমন নারী যারা কাপড়
পরা সত্ত্বেও বিবস্ত্র থাকে, নিজেরাও পথভ্রষ্ট
এবং অপরকেও বিপথে পরিচালনা করে, তাদের
মাথা হেলে যাওয়া উটের কুঁজের ন্যায়। তারা
জান্নাতে প্রবেশ করবে না এমনকি এর সৌরভও
পাবে না, যদিও এর সৌরভ এই এই দূরত্ব থেকে পাওয়া
যায়।”
[এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম (২১২৮)]
নারীদের অভিভাবকদেরকে যারা তাদের আশ্রয়ে
আছে তাদের ব্যাপারে অবশ্যই আল্লাহকে ভয় করা
উচিত এবং আল্লাহ তাদের উপর যে কর্তৃত্ব করা
(এবং ভরণ-পোষণ করার জন্য যে দায়িত্ব) ওয়াজিব
করেছেন তা যথাযথভাবে সম্পাদন করার ব্যাপারে,
কারণ –
﴿ ﭐﻟﺮِّﺟَﺎﻝُ ﻗَﻮَّٰﻣُﻮﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﭐﻟﻨِّﺴَﺂﺀِ ﺑِﻤَﺎ ﻓَﻀَّﻞَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﺑَﻌۡﻀَﻬُﻢۡ ﻋَﻠَﻰٰ ﺑَﻌۡﺾٖ﴾ ‏[ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ: ٣٤ ]
“পুরুষেরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল এ জন্য যে,
আল্লাহ একের উপর অন্যকে প্রাধান্য দান করেছেন
এবং এজন্য যে তারা (পুরুষেরা ) তাদের সম্পদ থেকে
খরচ করে।” [আন-নিসা’:৩৪]
সুতরাং, তাদের (নারীদের অভিভাবকদের) উচিত
তাদেরকে অবশ্যই সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং
যাতে তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে পরিত্রাণ
ও নিরাপত্তা থাকে সেদিকে পরিচালিত করা,
তাদেরকে আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা থেকে
দূরে রাখা এবং যাতে তারা আল্লাহ্র নিকটবর্তী
হতে পারে সেটার প্রতি উৎসাহ যোগানো।
৬- হারাম গান শোনা :
বর্তমানে মন্দ কাজগুলির মধ্যে যা চারদিকে
ছড়িয়ে পড়েছে তা হচ্ছে গান-বাজনা। এগুলো খুব
ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং মানুষ এই
ব্যাপারটিকে হালকা ভাবে নিচ্ছে। এটি এখন
টিভি, রেডিও, গাড়ি, ঘরে এবং মার্কেটগুলোতে
প্রকট রূপ ধারণ করেছে। লা হাওলা ওয়া লা
ক্বুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ (কোন শক্তি ও ক্ষমতা
নেই আল্লাহ ছাড়া এ সব থেকে ফিরানোর)।
এমনকি মোবাইল ফোনও এই মন্দ ও খারাপ জিনিস
থেকে মুক্ত নয়। অনেক কোম্পানি আছে যারা
মোবাইল ফোনে সর্বাধুনিক মিউজিক টিউন
দেওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করে এবং এর
সাহায্যে সঙ্গীত এখন মাসজিদসমূহে প্রবেশ
করেছে, (আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন)… এটি
মহাবিপদ এবং খুবই মন্দ ব্যাপারগুলোর একটি যে
আল্লাহ্র ঘরসমূহে (মাসজিদসমূহে) আপনি
মিউজিক শুনতে পান। প্রশ্ন নং- (34217) দেখুন। এটি
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করে, তিনি বলেছিলেন,
« ﻟﻴﻜﻮﻧﻦ ﻣﻦ ﺃﻣﺘﻲ ﺃﻗﻮﺍﻡ ﻳﺴﺘﺤﻠﻮﻥ ﺍﻟﺤِﺮ ﻭﺍﻟﺤﺮﻳﺮ ﻭﺍﻟﺨﻤﺮ ﻭﺍﻟﻤﻌﺎﺯﻑ‏» . ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ
“আমার উম্মাতের মধ্যে কিছু লোক এমন থাকবে
যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে
হালাল হিসাবে গণ্য করবে।” [এটি বর্ণনা করেছেন
আল-বুখারী (৫৫৯০)]
প্রশ্ন নং- (5000, 34432) দেখুন।
তাই একজন মুসলিমের আল্লাহকে ভয় করা উচিত
এবং তার জানা উচিত -তার উপর আল্লাহ্র যে
নি‘আমাত (অনুগ্রহ) আছে তার জন্য তার শোকর করা
কর্তব্য। এটি কখনোই নি‘আমাতের শোকর করা নয়
যে, একজন মুসলিম তার রাব্বের অবাধ্যতা করবে
যিনি তার উপর অসীম নি‘আমাত বর্ষণ করেছেন।
একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি কিছু লোকের পাশ দিয়ে
যাচ্ছিলেন যারা ‘ঈদের আনন্দে মত্ত হয়ে গর্হিত
কাজ করছিল, তখন তাদেরকে তিনি বললেন-
“যদি তোমরা রমযানে ইহসান (ভালো করে) থাকো
তাহলে এটি সেই ইহসানের শোকর করার কোনো পথ
নয়। আর যদি তোমরা রমযানে খারাপ করে থাকো,
তাহলে আর-রাহমানের (পরম দয়াময়ের) সাথে যে
খারাপ ব্যবহার করেছে, সে এমন করতে পারে না।”
আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
Islam Q & A
তাঁর রোগ হয়েছিল যা থেকে আরোগ্য আশা করা
যায় না। কিন্তু এরপর আল্লাহ্ তাকে সুস্থ করে
দিলেন।
ফাত্ওয়া নং- 106478
প্রশ্ন : একজন মহিলাকে ডাক্তাররা তার হৃদরোগ
জনিত কারণে সাওম পালন করতে নিষেধ
করেছিলেন, যা থেকে সুস্থতা আশা করা যায় নি।
তিনি রমযানে ইফতার করে প্রত্যেক দিনের
পরিবর্তে সাথে সাথে ফিদইয়াহ আদায় করতেন।
এরপর আল্লাহর ইচ্ছায় তাঁর চিকিৎসা ব্যবস্থার
উন্নতি হয় এবং তাঁর হার্টে ভাল্বের সার্জারি
করা হয় এবং তা সফল হয় আলহামদুলিল্লাহ্। তবে
তিনি এরপর কিছু সময় ইনটেনসিভ কেয়ারে
চিকিৎসার অধীনে ছিলেন। এরপর তাঁর অবস্থার
উন্নতি হলে আল্লাহ্ তাকে গত রমযানে সিয়াম
পালনের তাওফীক্ব দেন। তিনি জানতে চাচ্ছেন,
যে দিনগুলিতে সাওম ভঙ্গ করেছিলেন, সে
ব্যাপারে কি করবেন? তিনি কি সেই দিনগুলোর
কাযা আদায় করবেন, যার সংখ্যা ১৮০ দিন যা পরপর
ছয় বছর এর সমান, নাকি তিনি সে সময় সাওমের
পরিবর্তে যে ফিদইয়াহ আদায় করেছিলেন তাই
তাঁর জন্য যথেষ্ট হবে?
উত্তর : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
“তিনি সাওম ভঙ্গ করায় প্রতিদিনের পরিবর্তে যে
ফিদইয়াহ আদায় করেছিলেন তা তাঁর জন্য যথেষ্ট।
তাঁর সেই মাসগুলোর কাযা করা ওয়াজিব নয়। কারণ
তিনি মা‘যূর, (শারী‘আত অনুমোদিত কারণে) সে
সময় তাঁর উপর যা ওয়াজিব ছিল তিনি তা করেছেন।
আল্লাহই তাওফীক্ব দাতা। আল্লাহ্ আমাদের নবী
মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর
সালাত (প্রশংসা) ও সালাম (শান্তি) বর্ষণ করুন।”
গবেষণা ও ফাত্ওয়া ইস্যুকারী স্থায়ী কমিটি
শাইখ ‘আবদুল ‘আযীয ইব্ন ‘আবদিল্লাহ্ ইব্ন বায,
শাইখ ‘আবদুর রায্যাক্ব ‘আফীফী, শাইখ ‘আবদুল্লাহ্
ইব্ন গুদাইইয়ান, শাইখ ‘আবদুল্লাহ্ ইব্ন ক্বু‘ঊদ।
[ফাত্ওয়া আল-লাজনাহ আদ্-দা’ইমাহ লিল বুহূস
আল-‘ইলমিয়্যাহ ওয়া আল ইফতা’ (১০/১৯৫,১৯৬)]
Islam Q & A
বার্ধক্যজনিত বা অসুস্থতার কারণে সাওম পালনে
অক্ষম ব্যক্তির ফিদইয়াহ এর পরিমাণ।
ফাত্ওয়া নং- 93243
প্রশ্ন : আমার বাবা বার্ধক্য জনিত ও অসুস্থতার
কারণে অক্ষম হয়ে পুরো রমযান মাসে সাওম ভঙ্গ
করেছেন। এরপর সেই সিয়াম এর কাযা আদায় না
করেই সেই মাসেই মারা যান। তারপর আমরা
দরিদ্রদেরকে অর্থ দানের মাধ্যমে এর কাফফারাহ
আদায় করি। এরপর জানতে পারলাম যে, এই
কাফফারাহ (ফিদইয়াহ) শুধু খাদ্য খাওয়ানোর
মাধ্যমেই আদায় করতে হয়। আমাদের কি পুনরায়
তাঁর পক্ষ থেকে সেই কাফফারাহ আদায় করতে হবে
এবং এর পরিমাণ কত?
উত্তর :
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
প্রথমত :
ইমাম মালিক, ইমাম আশ-শাফি'ঈ ও ইমাম আহমাদ
ইব্ন হাম্বাল এর অনুসারী ফাক্বীহগণের (ফিক্বহ্
বিশেষজ্ঞগণ) অধিকাংশের মতে অর্থদানের
মাধ্যমে সাওমের ফিদইয়াহ আদায় যথেষ্ট নয়। বরং
ওয়াজিব হল তা খাদ্য দানের মাধ্যমে আদায় করা।
এর দলীল আল্লাহ্ তা'আলার বাণী :
﴿ ﻭَﻋَﻠَﻰ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳُﻄِﻴﻘُﻮﻧَﻪُۥ ﻓِﺪۡﻳَﺔٞ ﻃَﻌَﺎﻡُ ﻣِﺴۡﻜِﻴﻦٖۖ﴾ ‏[ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ: ١٨٤ ]
“আর যারা তা (সিয়াম) পালনে অক্ষম, তারা
ফিদইয়াহ হিসাবে মিসকীন খাওয়াবে।” [আল-
বাকারাহ: ১৮৪]
ইবনু ‘আব্বাস-রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা- বলেছেন :
ﻫُﻮَ ﺍﻟﺸَّﻴْﺦُ ﺍﻟْﻜَﺒِﻴﺮُ ﻭَﺍﻟْﻤَﺮْﺃَﺓُ ﺍﻟْﻜَﺒِﻴﺮَﺓُ ﻻ ﻳَﺴْﺘَﻄِﻴﻌَﺎﻥِ ﺃَﻥْ ﻳَﺼُﻮﻣَﺎ ﻓَﻴُﻄْﻌِﻤَﺎﻥِ ﻣَﻜَﺎﻥَ ﻛُﻞِّ ﻳَﻮْﻡٍ
ﻣِﺴْﻜِﻴﻨًﺎ . ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏(4505 ) .
“তিনি হলেন অতি বৃদ্ধ, পুরুষ ও নারী যারা সাওম
পালনে অক্ষম, তাঁরা উভয়ই প্রতিদিনের বদলে
একজন মিসকীন খাওয়াবেন।” [এটি বর্ণনা করেছেন
আল-বুখারি (৪৫০৫)]
‘ফাত্ওয়া আল-লাজনাহ আদ্-দা’ইমাহ (১০/১৯৮) এ
এসেছে :
“যখন ডাক্তাররা এই সিদ্ধান্ত দিলেন যে আক্রান্ত
রোগের কারণে আপনি সাওম পালন করতে পারবেন
না এবং তা থেকে সুস্থতা আশাও করা যায় না,
তখন আপনাকে বিগত ও আগত মাসগুলোর
প্রতিদিনের পরিবর্তে একজন মিসকীন খাওয়াতে
হবে, যার পরিমাণ হল দেশীয় খাদ্যদ্রব্য যেমন
খেজুর ইত্যাদি থেকে অর্ধেক সা’। আর যদি আপনি
(ছুটে যাওয়া) দিনগুলোর সংখ্যায় একজন
মিসকীনকে রাতের বা দুপুরের খাবার খাওয়ান,
তবে তা যথেষ্ট হবে। আর অর্থ দানের মাধ্যমে
ফিদইয়াহ আদায় করলে তা যথেষ্ট হবে না।”
বৃদ্ধ অথবা অসুস্থ ব্যক্তি যার সুস্থতা আশা করা
যায় না, তিনি প্রতিদিনের পরিবর্তে একজন
মিসকীন খাওয়াবেন। এর পরিমাণ দেশীয়
খাদ্যদ্রব্য যেমন গম অথবা খেজুর অথবা চাল
ইত্যাদি এর অর্ধেক সা‘ আর তা প্রায় ১.৫
কিলোগ্রামের সমান।
দেখুন- ‘ফাতাওয়াহ রমযান’ (পৃষ্ঠা ৫৪৫)
তিনি সব দিনের ফিদইয়াহ মাসের শেষে একবারে
আদায় করতে পারেন। যেমন ৪৫ কিলোগ্রাম চাল-
তা যদি রেঁধে মিসকীনদের দাওয়াত করে
খাওয়ানো হয় তবে তা উত্তম কারণ ‘আনাস -
রাদ্বিআল্লাহু ‘আনহ্- এমনটি করতেন।
দ্বিতীয়ত :
আর আপনারা যদি কোন ‘আলিমের ফাত্ওয়ার উপর
ভিত্তি করে অর্থের দ্বারা ফিদইয়াহ আদায় করে
থাকেন, তবে তা পুনরায় আদায় করতে হবে না।
আর যদি আপনারা কাউকে (না জিজ্ঞেস করে)
নিজেরা নিজেরাই তা করে থাকেন, তবে সে
ক্ষেত্রে ওয়াজিব হবে পুনরায় (খাদ্যের মাধ্যমে)
তা আদায় করা, যা আপনাদের বাবার জন্য বেশি
সাবধানের ও নিরাপদ- আল্লাহ্ তাঁর উপর দয়া করুন ও
তাঁকে মাফ করুন।
আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
Islam Q & A
এদের উপর কি সাওম পালন ওয়াজিব? তাদের কি
কাযা আদায় আবশ্যক?
ফাত্ওয়া নং- 65635
প্রশ্ন : এক শিশু বালিগ্ হওয়ার আগে রমযানের
সাওম পালন করত, রমযানে দিনের মাঝে সে
বালিগ হল। তার কি সেই দিনের কাযা আদায়
করতে হবে? একইভাবে রমযানে দিনের মাঝে একজন
কাফির ইসলাম গ্রহণ করলে, একজন হায়েযপ্রাপ্ত
নারী পবিত্র হলে, পাগল ব্যক্তি জ্ঞান ফিরে পায়,
মুসাফির ব্যক্তি সাওম ভঙ্গরত অবস্থায় স্বদেশে
ফিরে আসলে, অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হলে- যে সেই দিন
সাওম ভঙ্গ করে ফেলেছিল- এ সমস্ত ব্যক্তিদের কি
সেই দিনের বাকি অংশ সাওম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ
থেকে বিরত থাকা ও সেদিনের কাযা আদায় করা
ওয়াজিব?
উত্তর :
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
প্রশ্নে উল্লেখিত ব্যক্তিদের সবার ক্ষেত্রে একই
হুকুম প্রযোজ্য নয়। এ ব্যাপারে আমরা ‘আলিমগণের
ভিন্ন মত ও তাদের বক্তব্য সমূহ কিছুটা বিস্তারিত
আকারে (49008) নং প্রশ্নের উত্তরে উল্লেখ
করেছি।
প্রশ্নে উল্লেখিত ব্যক্তিদের দুটি গ্রুপে ভাগ করা
যেতে পারে :
১) কোনো শিশু যদি বালিগ হয়, কোনো কাফির যদি
ইসলাম গ্রহণ করে, কোন পাগল যদি জ্ঞান ফিরে
পায়- তবে তাঁদের সবার হুকুম এক, আর তা হল ‘উয্র
(অজুহাত) চলে যাওয়ার সাথে সাথে দিনের বাকি
অংশে সাওম ভঙ্গকারী সমস্ত কিছু হতে বিরত
থাকা ওয়াজিব এবং এক্ষেত্রে তাদের সেই দিনের
কাযা আদায় করা ওয়াজিব নয়।
২) অপরদিকে হায়েযপ্রাপ্ত নারী যদি পবিত্র হয়,
মুসাফির ব্যক্তি স্বদেশে ফিরে আসে, অসুস্থ
ব্যক্তি যদি আরোগ্য লাভ করে, এদের সবার হুকুম এক।
এদের সাওম ভঙ্গকারী যাবতীয় বস্তু থেকে বিরত
থাকা ওয়াজিব নয়, কারণ তারা বিরত থাকলেও
কোনো উপকার পাবে না এবং তাদের উপর সেই
দিনের কাযা আদায় করা ওয়াজিব।
প্রথম ও দ্বিতীয় গ্রুপের মধ্যে পার্থক্য :
প্রথম গ্রুপের মধ্যে তাকলীফের (দায়িত্বপ্রাপ্ত
হওয়ার) শর্ত রয়েছে আর তা হল বালিগ হওয়া,
মুসলিম হওয়া ও ‘আক্বল (বুদ্ধি) সম্পন্ন হওয়া, তাই
যদি তাঁদের ক্ষেত্রে শারী‘আতসম্মতভাবে
দায়িত্বপ্রাপ্ত (মুকাল্লাফ) হওয়া প্রমাণিত হয়,
তবে তাঁদের উপর সাওম ভঙ্গকারী সকল কিছু থেকে
বিরত থাকা ওয়াজিব। এবং তাঁদের জন্য সেই
দিনের কাযা আদায় করা আবশ্যক নয়। কারণ যখন
তাদের সাওম ভঙ্গকারী সকল বস্তু হতে বিরত থাকা
ওয়াজিব ছিল তখন তাঁরা তা থেকে বিরত থেকেছে
এবং এর আগে তাঁরা সিয়ামের ব্যাপারে
মুকাল্লাফ (শারীআতসম্মতভাবে দায়িত্ব) ছিল
না।
অপর দিকে দ্বিতীয় গ্রুপটি সিয়াম এর ব্যাপারে
শারী‘আত সম্মতভাবে দায়িত্বশীল ছিল। তাই তা
পালন করা তাঁদের উপর ওয়াজিব ছিল, তবে
শারী‘আত অনুমোদিত ‘উয্র (অজুহাত) থাকায়
তাঁদের জন্য সাওম ভঙ্গ বৈধ হয়েছিল যেমন হায়েয,
সফর, রোগ ইত্যাদি কারণে আল্লাহ্ তাঁদের জন্য
সহজ করে দিয়েছেন এবং তাঁদের জন্য সাওম ভঙ্গ
বৈধ করেছেন। তাই তাঁদের ক্ষেত্রে সেই দিনের
সম্মানীয় কর্তব্য পালনের দায়িত্ব চলে যায়।
তাঁদের ‘উয্রসমূহ (শারী‘আত অনুমোদিত
অজুহাতসমূহ) রমযানে দিনের মাঝে দূরীভূত হলেও
তারা সাওম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত
থেকে কোনো উপকার পাবে না এবং তাদের
রমযানের পর সেই দিনের সাওম কাযা করতে হবে।
শাইখ মুহাম্মাদ ইব্ন সালিহ আল-‘উসাইমীন-
রাহিমাহুমাল্লাহ- বলেছেন :
“যদি কোনো মুসাফির তার দেশে সাওম ভঙ্গরত
অবস্থায় ফিরে আসে তবে তাঁর জন্য সাওম
ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব
নয়, সে দিনের বাকী অংশে খেতে ও পান করতে
পারে কারণ তাঁর বিরত থাকায় কোনো উপকার হবে
না। এটি এজন্য যে, তাঁকে সেই দিনের কাযা আদায়
করতে হবে। এটিই সঠিক মত।
এটি ইমাম মালিক, ইমাম আশ-শাফি‘ঈ এর মত এবং
ঈমাম আহমাদ - রাহিমাহুমাল্লাহ এর দুটি বর্ণনার
একটি। তবে তাঁর প্রকাশ্যে আহার ও পান করা উচিৎ
নয় ।”
[মাজমূ‘ ফাত্ওয়া আশ-শাইখ ইব্ন ‘উসাইমীন (১৯/৫৮
নং প্রশ্ন)]
তিনি আরও বলেন :
“কোনো হায়েযপ্রাপ্ত নারী অথবা নিফাসপ্রাপ্ত
নারী দিনের মাঝে পবিত্র হলে তাদের জন্য সাওম
ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব
নয়, সে খেতে ও পান করতে পারে, কারণ তাঁর বিরত
থাকায় কোনো উপকার হবে না। এটি এজন্য যে,
তাঁকে সেই দিনের কাযা আদায় করতে হবে।
এটি ইমাম মালিক, ইমাম আশ-শাফি‘ঈ এর মত এবং
ঈমাম আহমাদ এর দুটি বর্ণনার একটি।
ইবন মাস‘ঊদ -রাদ্বিআল্লাহু ‘আন্হু- থেকে বর্ণিত
হয়েছে যে, তিনি বলেছেন:
( ﻣﻦ ﺃﻛﻞ ﺃﻭﻝ ﺍﻟﻨﻬﺎﺭ ﻓﻠﻴﺄﻛﻞ ﺁﺧﺮﻩ )
“যে দিনের প্রথম অংশে খেল সে যেন দিনের শেষ
অংশেও খায়।”
‘অর্থাৎ যার জন্য দিনের প্রথম অংশে সাওম ভঙ্গ
করা জায়েয তাঁর জন্য দিনের শেষ অংশেও সাওম
ভঙ্গ করা বৈধ।’
[মাজমূ‘ ফাত্ওয়া আশ-শাইখ ইব্ন ‘উসাইমীন (১৯/৫৯
নং প্রশ্ন)]
এই শাইখকে আরও প্রশ্ন করা হয়েছিল :
যে রমযানে দিনের বেলায় শারী‘আত অনুমোদিত
‘উয্রের কারণে সাওম ভঙ্গ করল, (সেই ‘উয্র চলে
যাওয়ার পর) দিনের বাকি অংশে তার জন্য খাওয়া
ও পান করা কি জায়েয হবে?
তিনি উত্তরে বলেন :
“তাঁর জন্য খাওয়া ও পান করা জায়েয; কারণ সে
শারী‘আত অনুমোদিত ‘উয্রে (অজুহাতে) সাওম ভঙ্গ
করেছে। সে যদি শারী‘আত সম্মত ‘উয্রের কারণে
সাওম ভঙ্গ করে তবে তাঁর ক্ষেত্রে সেই দিনের
সম্মানীয় কর্তব্য পালনের দায়িত্ব চলে যায়। ফলে
সে খেতে ও পান করতে পারে।
এটি সেই ব্যক্তির অবস্থা থেকে ভিন্ন যে রমযানে
দিনের বেলা কোন ‘উয্র (শরীয়ত অনুমোদিত
অজুহাত) ছাড়া সাওম ভঙ্গ করে। এক্ষেত্রে আমরা
বলব : যে তাঁর সাওম ভঙ্গকারী বিষয়বস্তু থেকে
(দিনের বাকি অংশে) বিরত থাকা আবশ্যক। তাঁর
ক্ষেত্রে সাওম কাযা করা আবশ্যক হবে।
এই দুটি মাসআলা এর পার্থক্যের দিকে সতর্কতার
সাথে লক্ষ্য করা ওয়াজিব।”
[মাজমূ‘ ফাত্ওয়া আশ-শাইখ ইব্ন ‘উসাইমীন (১৯/৬০
নং প্রশ্ন)]
তিনি আরও বলেন :
“সিয়াম সংক্রান্ত আমাদের গবেষণায় আমরা
উল্লেখ করেছি যে কোন নারী যদি হায়েযপ্রাপ্ত
হয় এবং রমযানে দিনের মাঝে পবিত্র হয় তবে সে
দিনের বাকী অংশে পানাহার থেকে বিরত
থাকবেন কি না এ ব্যাপারে ‘আলিমগণ ভিন্ন মত
পোষণ করেছেন।
আমরা বলব : ইমাম আহমাদ - রাহিমাহুমাল্লাহ - এর
থেকে এ-ব্যাপারে দুটি বর্ণনা রয়েছে।
তার মাশহুর (সর্বজনবিদিত) মতটি হল- তাঁর সাওম
ভঙ্গকারী যাবতীয় বস্তু থেকে দিনের বাকি
অংশে বিরত থাকা ওয়াজিব। সে খাবে না, পানও
করবে না।
দ্বিতীয়ত : তাঁর বিরত থাকা ওয়াজিব নয়, তাই তাঁর
খাওয়া ও পান করা জায়েয।
আমরা বলব : দ্বিতীয় এই মতটি ইমাম মালিক ও
ইমাম আশ-শাফি‘ঈ- রাহিমাহুমাল্লাহ- এর মত।
এটি ইব্ন মাস‘ঊদ -রাদ্বিআল্লাহু ‘আনহ্- থেকে
বর্ণিত, তিনি বলেছেন :
( ﻣﻦ ﺃﻛﻞ ﺃﻭﻝ ﺍﻟﻨﻬﺎﺭ ﻓﻠﻴﺄﻛﻞ ﺁﺧﺮﻩ )
“যে দিনের প্রথম অংশে খেল সে যেন দিনের শেষ
অংশেও খায়।”
আমরা বলব ভিন্ন মত আছে এমন মাসআলাসমূহের
ক্ষেত্রে জ্ঞান অন্বেষণকারী শিক্ষার্থীর কর্তব্য
হল, দলীলসমূহ যাচাই করা এবং তাঁর কাছে যে মতটি
বেশি শক্তিশালী বলে প্রতীয়মান হয় সেটি গ্রহণ
করা এবং কারও ভিন্ন মতের ব্যাপারে পরোয়া না
করা যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁর সাথে দলীল আছে, কারণ
আমাদেরকে রাসূলদের অনুসরণ করতে আদেশ করা
হয়েছে। এ ব্যাপারে আল্লাহ্ তা’আলার বাণী :
﴿ ﻭَﻳَﻮۡﻡَ ﻳُﻨَﺎﺩِﻳﻬِﻢۡ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﻣَﺎﺫَﺁ ﺃَﺟَﺒۡﺘُﻢُ ﭐﻟۡﻤُﺮۡﺳَﻠِﻴﻦَ ٦٥ ﴾ ‏[ﺍﻟﻘﺼﺺ: ٦٥ ]
“আর সেই দিন যখন তাদের আহবান করা হবে এবং
বলা হবে তোমরা রাসূলদের কি উত্তর
দিয়েছিলে?” [আল-ক্বাসাস: ৬৫]
আর এই হাদীস দ্বারা দলীল দেয়া যা সহীহ বলে
প্রমানিত হয়েছে যে, নবী সাল্লালাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লাম দিনের মাঝে ‘আশুরা’ এর সিয়াম
পালনের আদেশ করেছিলেন, তখন লোকেরা দিনের
বাকি অংশে সাওম ভঙ্গকারী বিষয়বস্তু থেকে
বিরত থাকলেন।
আমরা বলব, এই হাদীস তাদের পক্ষে কোনো দলীল
নয়; কারণ ‘আশুরা’ এর সাওমে ‘বাঁধা দানকারী বিষয়
(যেমন হায়েয, নিফাস, কুফর ইত্যাদি) দূরীভূত
হওয়ার’ কোনো ব্যাপার নেই। বরং এই ক্ষেত্রে ‘নতুন
ওয়াজিব দায়িত্ব বর্তানোর’ ব্যাপারটি রয়েছে।
‘বাধাদানকারী বিষয় দূরীভূত হওয়া’ ও ‘নতুন
ওয়াজিব দায়িত্ব বর্তানোর’ মধ্যে পার্থক্য
রয়েছে।
‘নতুন ওয়াজিব দায়িত্ব বর্তানোর’ অর্থ হল সেই
নির্দিষ্ট কারণ (যেমন ‘আশুরা’ এর দিন) উপস্থিতির
আগে সেই হুকুমটি প্রতিষ্ঠিত হয় নি।
অপরদিকে ‘বাধাদানকারী বিষয় দূরীভূত হওয়ার’
অর্থ হল- সেই বাধাদানকারী বিষয়টি (যেমন
হায়েয, নিফাস, কুফর ইত্যাদি)র উপস্থিতি সত্বেও
এই হুকুমটি (যেমন সাওম পালন) প্রতিষ্ঠিত। যদি না
এ ‘বাধাদানকারী বিষয়টি’ (যেমন হায়েয, নিফাস,
কুফর) ইত্যাদি তা থেকে বাধা না হতো। আর
বিধান প্রদানের কারণ (যেমন বিবেকবান হওয়া)
তার সাথে এই বাধাদানকারী বিষয়টি (যেমন
হায়েয হওয়া) এটি উপস্থিত থাকার অর্থ হল সেই
কাজটি (সাওম পালন) এই ‘বাধাদানকারী বিষয়টির
(যেমন হায়েয, নিফাস, কুফর) উপস্থিতির কারণে
শুদ্ধ হবে না।
প্রশ্নকারীর উল্লেখিত মাসআলা এর মত আরেকটি
উদাহরণ হল- দিনের মাঝে যদি কেউ ইসলাম গ্রহণ
করে তবে তাঁর ক্ষেত্রে ‘নতুন করে ওয়াজিব
দায়িত্ব’ বর্তায়।
এরকম আরেকটি উদাহরণ হল, কোনো শিশু দিনের
মাঝে সাওম ভঙ্গকারী অবস্থায় বালিগ হলে তাঁর
উপর ‘নতুন করে ওয়াজিব দায়িত্ব বর্তায়। তাই যে
দিনের মাঝে ইসলাম গ্রহণ করল আমরা তাঁকে বলব :
আপনার জন্য (দিনের বাকি অংশে) সাওম
ভঙ্গকারী বিষয়বস্তু থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব।
তবে আপনার উপর কাযা আদায় করা ওয়াজিব নয়।
একই ভাবে দিনের মাঝে যে শিশু বালিগ হয়েছে,
তাঁকে আমরা বলব : আপনার জন্য (দিনের বাকি
অংশে) সাওম ভঙ্গকারী বিষয়বস্তু থেকে বিরত
থাকা ওয়াজিব। তবে আপনার উপর কাযা আদায়
করা ওয়াজিব নয়।
তবে একজন হায়েযপ্রাপ্ত নারীর ক্ষেত্রে হুকুমটি
ভিন্ন হবে; যদি (দিনের মাঝে) সে পবিত্র হয়।
‘আলিমগণের মাঝে এ ব্যাপারে ইজমা’ (ঐকমত্য)
রয়েছে যে তাঁর উপর সাওম কাযা করা ওয়াজিব।
একজন হায়েযপ্রাপ্ত নারী দিনের মাঝে পবিত্র
হয়ে দিনের বাকি অংশে সাওম ভঙ্গকারী
বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকলে, এই বিরত থাকা যে
তাঁর কোনো উপকারে আসবে না ও সাওম বলে গণ্য
হবে না এবং তাঁকে যে সাওম কাযা করতে হবে- এ
ব্যাপারে ‘আমিলগণ ইজমা’ (ঐকমত্য) পোষণ
করেছেন।
এ থেকে ‘নতুন করে ওয়াজিব দায়িত্ব বর্তানো’ ও
‘বাধাদানকারী বিষয় দূরীভূত হওয়ার মধ্যে’
পার্থক্য জানা গেল।
সুতরাং একজন হায়েয প্রাপ্ত নারী পবিত্র হওয়ার
মাস‘আলাটি ‘বাধাদানকারী বিষয় দূরীভূত হওয়া’
শীর্ষক শিরোনামের অন্তর্ভুক্ত এবং কোনো শিশুর
বালিগ হওয়া অথবা প্রশ্নকারীর উল্লেখিত
‘আশুরা’ দিনের সাওম ওয়াজিব হওয়া- রমযানের
সিয়াম ফরয হওয়ার পূর্বে- নতুন করে ওয়াজিব
দায়িত্ব বর্তানো’ শীর্ষক শিরোনামের
অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহই তাওফীক্ব দাতা।”
[মাজমূ‘ ফাত্ওয়া আশ-শাইখ ইব্ন ‘উসাইমীন (১৯/৬০
নং প্রশ্ন)]
Islam Q & A
রমযানের কাযা আদায় ও শাউওয়ালের ছয় দিনের
সাওম এক নিয়্যাতে এক সাথে আদায় করা শুদ্ধ নয়।
ফাত্ওয়া নং- 39328
প্রশ্ন : আমার জন্য কি শাউওয়ালের ছয় দিনের
সাওম ও হায়েয জনিত কারণে রমযানে ভঙ্গ হওয়া
দিনগুলোর কাযা এক নিয়্যাতে পালন করা জায়েয?
উত্তর :
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
না, তা শুদ্ধ নয়, কারণ শাওয়ালের ছয় দিনের সিয়াম
রমযানের ছুটে যাওয়া সিয়াম পুরোপুরি কাযা না
করা পর্যন্ত শুরু হবে না।
শাইখ ইব্ন ‘উসাইমীন ‘ফাত্ওয়া আস-সিয়াম’ (৪৩৮)-
এ বলেছেন :
“যে ‘আরাফাতের দিন অথবা ‘আশুরা’-এর দিনে
সাওম পালন করে এবং তাঁর উপর রামাযানের সাওম
কাযা করা বাকী রয়েছে, তাঁর সিয়াম শুদ্ধ হবে,
কিন্তু যদি এই দিনে রমযানের কাযা আদায়ের ও
নিয়্যাত করে তবে তাঁর দুই বার সাওয়াব (প্রতিদান)
হবে- ‘আরাফাতের দিন অথবা ‘আশুরা’র দিন সাওম
পালনের সাওয়াব ও কাযা আদায়ের সাওয়াব।’
এটি সাধারণ নাফল সাওমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা
রমযানের সাথে সম্পৃক্ত নয়।
তবে শাউওয়ালের ছয় দিনের সিয়াম রমযানের
সাথে সম্পৃক্ত এবং তা রমযানের কাযা আদায়ের
পরেই হতে হবে। তাই যদি কেউ কাযা আদায়ের
আগে তা পালন করে তবে তাঁর সাওয়াব (প্রতিদান)
হবে না কারণ নবী -সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস
সালাম- বলেছেন :
« ﻣﻦ ﺻﺎﻡ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﺛﻢ ﺃﺗﺒﻌﻪ ﺑﺴﺖ ﻣﻦ ﺷﻮﺍﻝ ﻓﻜﺄﻧﻤﺎ ﺻﺎﻡ ﺍﻟﺪﻫﺮ »
“যে রমযানের সাওম পালন করল, এরপর শাওয়ালের ছয়
দিনের সাওম পালন করল, সে যেন গোটা বছর সাওম
রাখল।”
আর এটি জানা বিষয় যে, যার উপর রমযানের কাযা
সাওম বাকী রয়েছে, সে রমযান এর সাওম পালন
করেছে বলে ধরা হবে না, যে পর্যন্ত না সে তাঁর
কাযা সম্পন্ন করে।”
Islam Q & A
কাযা এর নিয়্যাতে নাফল সিয়াম পালনের হুকুম
ফাত্ওয়া নং- 11784
প্রশ্ন : যদি কোন মুসলিম নারী সোম ও
বৃহস্পতিবারের সিয়াম পালনে অভ্যস্থ হয়ে থাকে,
তবে কি তাঁর জন্য সেই সিয়ামের দ্বারা রমযান
মাসের ফাওত হওয়া (ছুটে হওয়া দিনগুলোর) কাযা
আদায় করার সুযোগ নেয়া জায়েয নাকি নিয়্যাত
স্বতন্ত্র (আলাদা) হওয়া ওয়াজিব?
উত্তর :
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
“রমযান মাসের ছুটে যাওয়া দিনগুলোর কাযা আদায়
করতে সোম ও বৃহস্পতিবারের সিয়াম পালনে
কোনো দোষ নেই এই শর্তে যে, সেই সিয়াম
রমযানের কাযা করার নিয়্যাতে হতে হবে। হতে
পারে তিনি একসাথে দুই বার সাওয়াব (প্রতিদান)
পাবেন- কাযা এর সাওয়াব ও নাফল সিয়াম এর
সাওয়াব; আল্লাহর করুণা তো প্রশস্ত।
আর যদি ধরে নেয়া হয় যে তিনি শুধু কাযা আদায়
করতে পারছেন তবে কাযা নাফল সিয়াম থেকে
উত্তম, আর যদি তিনি নাফল সিয়ামের নিয়্যাত
করে থাকেন এবং কাযা এর নিয়্যাত না করে
থাকেন, তবে এর দ্বারা ফরয আদায় হবে না এবং
তাঁকে রমযানে ভঙ্গ করা সাওমগুলোর কাযা
আলাদাভাবে করতে হবে।
আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। আল্লাহ
আমাদের নাবী, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের
উপর সালাত (প্রশংসা) বর্ষণ করুন।”
[কিতাব ফাত্ওয়া ইসলামিয়্যাহ (খন্ড-২, পৃঃ
১৪৯-১৫০), ফাত্ওয়া আল-লাজ্নাহ আদ্-দা’ইমাহ
(খন্ড-১০, পৃঃ ৩৮৩)]
Islam Q & A
ষাট জন মিসকীনকে একসাথে খাওয়ানো
(ফিদইয়াহ আদায়) কি ওয়াজিব? নিজ পরিবারকে
কি কাফফারাহ হতে খাওয়ানো যায়?
ফাত্ওয়া নং- 132273
প্রশ্ন: আমি রমযানে একদিন ইচ্ছাকৃতভাবে সাওম
ভঙ্গ করেছিলাম এবং ষাট জন মিসকীনকে
খাওয়াতে চেয়েছি। এখন প্রশ্ন হল যে,
মিসকীনদেরকে কি একবারেই খাওয়ানো শর্ত না
কি আমি প্রতিদিন চার বা তিনজন মিসকীনকে
খাওয়াতে পারি? আমার জন্য কি পরিবারের
সদস্যদেরকে (যেমন আমার বাবা, মা ও ভাইদের)
খাওয়ানো (ফিদইয়াহ দান) জায়েয, যদি তারা
মিসকীন হয়ে থাকে?
উত্তর :
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
“সহবাস বা মিলন ছাড়া অন্য কোনো কারণে যদি
রমযানের সাওম ভঙ্গ করা হয়ে থাকে, তবে সঠিক
মতটি হল এর কোনো কাফফারাহ নেই। তবে এই
ক্ষেত্রে ওয়াজিব হল তাওবা করা এবং সেই দিনের
সাওম কাযা করা, যদি সাওম শুরু করার পর তা
ভাঙ্গা হয়। আর যদি সহবাস/মিলন এর কারণে সাওম
ভঙ্গ করা হয়ে থাকে তবে সে ক্ষেত্রে কর্তব্য হচ্ছে,
তাওবাহ করা, সে দিনের সাওম কাযা করা এবং
কাফফারাহ আদায় করা- আর তা হল একজন মুমিন
দাস (শরীয়াত অনুমোদিত যুদ্ধলব্ধ) মুক্ত করা। তবে,
যে তা পেল না, সে দুই মাস বিরতিহীনভাবে
সিয়াম পালন করবে; আর যদি সে তাও না পারে,
তবে সে ষাট জন মিসকীনকে খাওয়াবে (সংখ্যা
ষাট ই হতে হবে)।
যদি সে পূর্বে উল্লেখিত দাসমুক্তি ও সিয়াম
পালনে অক্ষমতার কারণে মিসকীন খাওয়ায় তবে
তাঁর জন্য মিসকীনদের একসাথে খাওয়ানো জায়েয
(বৈধ) এবং সাধ্যমত থেকে থেকে কয়েকবারে
খাওয়ানোও জায়েয (বৈধ); তবে মিসকীনদের এই
সংখ্যা (ষাট) অবশ্যই পূর্ণ করতে হবে।
এই কাফফারাহ এর খাবার বংশ মূল যেমন বাবা, মা,
দাদা, দাদী, নানা, নানী এদের প্রদান করা
জায়েয নয়। একইভাবে যার বংশধর শাখা যেমন
ছেলেমেয়ে, তাঁদের ছেলেদের ও মেয়েদের, তঁদেরও
প্রদান করা জায়েয নয়।
আল্লাহই তাওফীক্ব দাতা। আল্লাহ আমদের নবী
মুহাম্মাদ, তার পরিবারবর্গ ও সাহাবীগনের উপর
সালাত (প্রশংসা) ও সালাম (শান্তি) বর্ষণ করুন।”
সমাপ্ত।
[গবেষণ ও ফাত্ওয়া ইস্যুকারী আল-লাজ্নাহ আদ্-
দা’ইমাহ ]
আশ-শাইখ ইব্ন ‘আবদুল্লাহ ইব্ন ‘আবদুল ‘আযীয বিন
বায, আশ-শাইখ ‘আবদুল্লাহ ইব্ন গুদাইইয়ান, আশ-
শাইখ সালিহ আল ফাওযান, আশ-শাইখ ‘আবদুল
‘আযীয আল আশ-শাইখ, আশ-শাইখ বাক্র আবু যাইদ।
ফাত্ওয়া আল-লাজনাহ আদ্-দা’ইমাহ, দ্বিতীয় গ্রুপ
(৯/২২১)]
ফাত্ওয়া আল-লাজ্নাহ আদ্-দা’ইমাহ, দ্বিতীয় ভাগ
(৯/২২১)
শা‘বান থেকে রমযানের পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে
সাওম পালন করা
ফাত্ওয়া নং- 38044
প্রশ্ন : আল্লাহ আমকে মাফ করুন, আমি ধূমপান
ত্যাগ করেছি এবং সিয়াম পালন শুরু করেছি ৭ রজব
থেকে শা‘বান এর শেষ পর্যন্ত এবং শা‘বান ও
রমযানের মাঝে কোন বিরতি দেই নি কারণ, এই
ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন ফাত্ওয়া পাওয়া গেছে।
উত্তর :
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।
সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি আপনাকে এই
হারাম হতে বিরত থাকার তাওফীক্ব দিয়েছেন।
আমরা আল্লাহ তা‘আলার কাছে আমাদের ও
আপনার জন্য মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর দ্বীনের উপর অটল ও
অবিচল থাকার তাওফীক্ব চেয়ে প্রার্থনা করছি।
আপনার শা‘বান ও রমযান এর মাঝে
বিরতিহীনভাবে সিয়াম পালন করা জায়েয।
এক্ষেত্রে আপনি আপনার এই কাজ দ্বারা
সুন্নাতের উপর আমল করেছেন।
দেখুন প্রশ্ন নং (13726) ও (26850)।
Islam Q & A
________________________________________________________________
_________________
[1] তিরমিযী, হাদীস নং ৫৩৬। [সম্পাদক]
[2] তিরমিযী, আল-‘ইলালুল কাবীর, ১/২৮৮।
[সম্পাদক]
অনুবাদক : ইবতিসাম আযাদ আব্দুর রাহমান
সম্পাদক : আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
সূত্র : মাক্তাবা আস-সাবাত




Posted via Sharif
সিয়াম বিষয়ক নিবাচিত ফতোওয়া ২য় পব
সিয়াম বিষয়ক নিবাচিত ফতোওয়া ২য় পব

Price : *Happy Shopping
Order via whatsapp Order via Email

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Content copy is disabled! Default text copied.