তাওহীদ ও ঈমান ২য় পব | শরিফ গাজী অফিসিয়াল

তাওহীদ ও ঈমান ২য় পব

তাওহীদ ও ঈমান (২য় পর্ব)
কিয়ামতের আলামত
• কিয়ামত সম্পর্কিত জ্ঞান:
কিয়ামত কখন সঙ্ঘঠিত হবে এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কারো জানা নেই। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﻳَﺴْﺄَﻟُﻚَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻋَﻦِ ﺍﻟﺴَّﺎﻋَﺔِ ﻗُﻞْ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻋِﻠْﻤُﻬَﺎ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻣَﺎ ﻳُﺪْﺭِﻳﻚَ ﻟَﻌَﻞَّ ﺍﻟﺴَّﺎﻋَﺔَ ﺗَﻜُﻮﻥُ ﻗَﺮِﻳﺒًﺎ ﴿৬৩ ﴾ ( ﺍﻷﺣﺰﺍﺏ: ৬৩)
লোকেরা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, বল, এ বিষয়ের জ্ঞান কেবল আল্লাহরই আছে, আর তোমার কি জানা
আছে, কিয়ামত হয়ত খুব নিকটে।[১]
কিয়ামতের নিদর্শনসমূহ:
নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামতের পূর্বে সংঘঠিতব্য কতিপয় আলামত ও নিদর্শনাবলী সম্পর্কে
আমাদের বলেছেন, যেগুলো কিয়ামত অতি নিকটে মর্মে প্রমাণ করে। বর্ণিত নিদর্শনাবলী দু' ধরণের ; আলামতে সুগরা তথা ছোট
ছোট নিদর্শন, আলামতে কুবরা বা বড় বড় নিদর্শন।
১- কিয়ামতের ছোট ছোট নিদর্শনাবলী
• কিয়ামতের ছোট ছোট নিদর্শনাবলী তিন ধরণের:
১- এমন এমন নিদর্শনাবলী যা সঙ্ঘঠিত হয়েছে এবং শেষও হয়ে গিয়েছে :
যেমন, নবীজীর আগমণ এবং প্রস্থান, তাঁর সত্যতার নিদর্শন স্বরূপ চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হওয়া, বাইতুল মুকাদ্দাসের বিজয় সূচিত হওয়া
এবং হিজাযে অগ্নোৎপাতের ঘটনা ঘটা।
ﻋﻦ ﻋﻮﻑ ﺑﻦ ﻣﺎﻟﻚ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ : ﺳﻤﻌﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻘﻮﻝ: ﺍﻋﺪﺩ ﺳﺘﺎ ﺑﻴﻦ ﻳﺪﻱ ﺍﻟﺴﺎﻋﺔ , ﻣﻮﺗﻲ , ﺛﻢ ﻓﺘﺢ ﺑﻴﺖ ﺍﻟﻤﻘﺪﺱ ... ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ (১)
সাহাবী আউফ বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে
শুনেছি, তুমি কিয়ামতের পূর্বে সঙ্ঘঠিতব্য ছয়টি বিষয় গননা কর; আমার মৃত্যু, অত:পর বাইতুল মুকাদ্দাসের বিজয়...।
বোখারী: ৩১৭৬
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ )): ﻻ ﺗﻘﻮﻡ ﺍﻟﺴﺎﻋﺔ ﺣﺘﻰ ﺗﺨﺮﺝ ﻧﺎﺭ ﻣﻦ ﺃﺭﺽ ﺍﻟﺤﺠﺎﺯ ﺗﻀﻲﺀ ﺃﻋﻨﺎﻕ ﺍﻹﺑﻞ ﺑﺒﺼﺮﻯ (( ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ
করেন: হেজায থেকে একটি অগ্নোৎপাতের ঘটনা ঘটবে, ঐ আগুন বসরায় থাকা উঁটের গ্রীবা আলোকিত করে দেবে। অগ্নোৎপাতের
উল্লেখিত ঘটনা ঘটার পূর্বে কিয়ামত সঙ্ঘঠিত হবে না।
বর্ণনায়: বোখারী:৭১১৮ ও মুসলিম : ২৯০২।
২-এমন আলামত যা প্রকাশ পেয়ে এখনও বিদ্যমান আছে :
যেমন: বিভিন্ন ফেতনার আবির্ভাব.. নবওয়্যতের মিথ্যা দাবিদারের আত্মপ্রকাশ ..
শরয়ী ইলম উঠিয়ে নেয়া.. অজ্ঞতার ব্যাপক উপস্থিতি.. নিরাপত্তা কর্মী ও অপরাধীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া.. বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র
প্রকাশ পাওয়া ও একে হালাল মনে করা.. যিনা-ব্যভিচার ব্যাপক হয়ে যাওয়া..ব্যাপকহারে মদ্য পান ও একে হালাল মনে করা..
নাঙ্গা পা, নাঙ্গা বদন ও বকরীর রাখালদের বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণ অর্থাৎ সমাজের নিম্ন শ্রেণীর লোকদের সম্পদের দিক
থেকে ব্যাপক উত্থান.. মসজিদ ও তার কারুকার্য নিয়ে লোকদের গর্ববোধ ও প্রতিযোগিতা..হত্যাকান্ড বৃদ্ধি পাওয়া .. সময়
খাটো ও সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়া.. অনুপযুক্ত লোকের নিকট দায়িত্ব অর্পণ করা.. মন্দ লোকদের ক্ষমতায়ন ও সম্মান দান.. ভাল
লোকদের অপসারণ ও অপদস্ত করণ.. চাকচিক্যময় বালখিল্যতার আধিক্য.. কর্মের ঘাটতি ও অনুপস্থিতি.. অতি কাছাকাছি বাজার-
ঘাটের উপস্থিতি..
এ উম্মতের মাঝে শিরকের আবির্ভাব..লোভ-লালসা ও কৃপণতার আধিক্য.. মিথ্যার আধিক্য.. সম্পদের আধিক্য.. ব্যবসা-
বানিজ্যের ব্যাপক প্রসারতা লাভ.. অধিক পরিমাণে ভূমি কম্পণ.. আমানতদার-বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের খিয়ানত তথা বিশ্বাস
ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত করণ এবং বিশ্বাসঘাতক-গাদ্দারদের আমানতদার জ্ঞানকরণ.. অশ্লীলতার ব্যাপক উপস্থিতি..
আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করণ, নিকৃষ্টশ্রেণীর লোকদের ব্যাপক উত্থান ও উন্নতি সাধন, বিচারের রায় বেচা-কেনা, ছোট ও নিম্নতর
লোকদের নিকট ইলম অন্বেষণ করণ..ব্যাপক হারে কলমের আবির্ভাব, বসনাবৃত উলঙ্গ নারীর আবির্ভাব, মিথ্যা সাক্ষ্যদানের
আধিক্য, আকস্মিক মৃত্যুর প্রাদুর্ভাব, হালাল রিযিক অন্বেষনে অনীহা, আরব ভূমি নদী-নালায় পরিণত হওয়া।
হিংস্র জন্তুর মানুষের সাথে কথা বলা, লাঠি ও জুতার ফিতা কর্তৃক মালিকের সাথে কথা বলা, স্বীয় স্ত্রী তার অনুপস্থিতিতে
কি কি বলেছে সে বিষয়ে তার নিকট বলে দেয়া, ইরাক অবরুদ্ধ হওয়া এবং তাতে টাকা-পয়সা ও খাদ্য-খাবার পৌছতে বাধা
দেয়া, অত:পর সিরিয়া-কে অবরোধ করা, এবং খানা-খাদ্য ও টাকা-পয়সার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা, অত:পর মুসলমান
ও রোমানদের সাথে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তি হবে এরপর রোমানরা মুসলমানদের সাথে গাদ্দারি করবে ইত্যাদি।
ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﺃﻧﻪ ﺳﻤﻊ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭ ﻫﻮ ﻣﺴﺘﻘﺒﻞ ﺍﻟﻤﺸﺮﻕ ﻳﻘﻮﻝ : ﺃﻻ ﺇﻥ ﺍﻟﻔﺘﻨﺔ ﻫﺎ ﻫﻨﺎ , ﺃﻻ ﺇﻥ ﺍﻟﻔﺘﻨﺔ ﻫﺎ ﻫﻨﺎ , ﻣﻦ ﺣﻴﺚ ﻳﻄﻠﻊ ﻗﺮﻥ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ . ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ (১)
সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে
পূর্বদিক তাকিয়ে বলতে শুনেছেন: আল্লাহর রাসূল সা. বলেন: মনযোগ দিয়ে শোন, নিশ্চয়ই ফিতনার উৎপত্তি ঐ স্থান থেকে,
ফিতনার উৎপত্তি ঐ স্থান থেকে যেখান থেকে শয়তানের সিং উদিত হয়। ( বুখারী, মুসলিম ) বুখারী-৭০৯৩ মুসলিম-২৯০৫
৩-এমন সব নিদর্শন যা এখনো প্রকাশ পায়নি তবে নি:সন্দেহে রাসূলুল্লাহর বর্ণনানুযায়ী অচিরেই প্রকাশ পাবে :
যেমন ফোরাত নদী থেকে স্বর্ণের পাহাড় প্রকাশ পাওয়া, যুদ্ধ ও অস্ত্র ব্যতীতই কন্স্টানটিনোপ্ল (ইস্তাম্বুল) জয় করা, তুরস্কের
সাথে যুদ্ধ, ইহুদীদের সাথে যুদ্ধ এবং তাদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের সাহায্য প্রাপ্ত হওয়া, কাহতান নামক স্থান থেকে এক
ব্যক্তির আত্মপ্রকাশ ঘটবে যে লোকদের নিজ লাঠি দ্বারা তাড়িয়ে বেড়াবে এবং লোকেরা আনুগত্যের মাধ্যমে তার কাছে
নতি স্বীকার করবে, পুরুষের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া এমনকি পঞ্চাশ জন নারীর জন্য মাত্র একজন
নিয়ন্ত্রক হবে। আরোও একটি নিদর্শন হচ্ছে, মাহদীর আগমন - তিনি নবী পরিবার থেকে আগত একজন বিশেষ ব্যক্তি - আল্লাহ
তাআলা তাঁর মাধ্যমে দ্বীনের সাহায্য করবেন। তাঁর আবির্ভাবের পর পৃথিবী ন্যায় ও ইনসাফে ভরে যাবে যেমনিভাবে অন্যায়
ও জুলুমে ভরে গিয়েছিল। তিনি সাত বৎসর রাজত্ব করবেন। তাঁর রাজত্বকালে উম্মত এত সুখ ও সাচ্ছন্দে জীবন যাপন করবে যা
তারা ইতিপূর্বে আর কখনও করতে পারেনি। তিনি পূর্ব হতে আত্মপ্রকাশ করবেন এবং বায়তুল্লাহর নিকট বাইআত গ্রহণ করবেন।
কিয়ামতের পূর্বে সঙ্ঘটিতব্য আরো একটি আলামত হচ্ছে, যুস সুওয়াইক্বাতাইন নামক জনৈক হাবশীর হাতে পবিত্র কাবা
ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়া এরপর কাবা শরীফ আর নির্মিত হবে না। এটি একেবারে সর্বশেষ যুগের ঘটনা। আল্লাহ তাআলা ভাল জানেন।
উপরিউক্ত নিদর্শনাবলী যা আমরা বর্ণনা করেছি সবগুলোই সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
২- কিয়ামতের বড় বড় নিদর্শনাবলী
ﻋﻦ ﺣﺬﻳﻔﺔ ﺑﻦ ﺃﺳﻴﺪ ﺍﻟﻐﻔﺎﺭﻱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﺍﻃﻠﻊ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻋﻠﻴﻨﺎ ﻭ ﻧﺤﻦ ﻧﺘﺬﺍﻛﺮ ﻓﻘﺎﻝ : ﻣﺎ ﺗﺬﻛﺮﻭﻥ؟ ﻗﺎﻟﻮﺍ : ﻧﺬﻛﺮ ﺍﻟﺴﺎﻋﺔ . ﻗﺎﻝ : ﺇﻧﻬﺎ ﻟﻦ ﺗﻘﻮﻡ ﺣﺘﻰ ﺗﺮﻭﻥ ﻗﺒﻠﻬﺎ ﻋﺸﺮ ﺁﻳﺎﺕ ﻓﺬﻛﺮ ﺍﻟﺪﺧﺎﻥ , ﻭﺍﻟﺪﺟﺎﻝ ,
ﻭﺍﻟﺪﺍﺑﺔ , ﻭﻃﻠﻮﻉ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﻣﻦ ﻣﻐﺮﺑﻬﺎ , ﻭﻧﺰﻭﻝ ﻋﻴﺴﻰ ﺑﻦ ﻣﺮﻳﻢ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ , ﻭﻳﺄﺟﻮﺝ ﻭﻣﺄﺟﻮﺝ , ﻭﺛﻼﺛﺔ ﺧﺴﻮﻑ , ﺧﺴﻒ ﺑﺎﻟﻤﺸﺮﻕ ﻭﺧﺴﻒ ﺑﺎﻟﻤﻐﺮﺏ ﻭ ﺧﺴﻒ ﺑﺠﺰﻳﺮﺓ ﺍﻟﻌﺮﺏ , ﻭﺁﺧﺮ ﺫﻟﻚ ﻧﺎﺭ ﺗﺨﺮﺝ ﻣﻦ ﺍﻟﻴﻤﻦ ﺗﻄﺮﺩ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺇﻟﻰ
ﻣﺤﺸﺮﻫﻢ . ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ (১)
সাহাবী হুযায়ফা বিন উসায়দ আল গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা
করছিলাম আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে বললেন: তোমরা কি নিয়ে আলোচনা করছ?
লোকেরা বলল: কিয়ামত নিয়ে। রাসূলুল্লাহ বললেন : দশটি আলামত প্রত্যক্ষ করার পূর্বে কিয়ামত কখনো সাঙ্ঘটিত হবে না। এর পর
তিনি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো উল্লেখ করলেন: ধুঁয়া, দাজ্জাল, বিশেষ ধরণের জন্তু, পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া, ঈসা বিন
মারয়াম আলাইহিস সালামের অবতরণ, ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাব, তিনটি ভূমিধস, একটি প্রাচ্যে, একটি পাশ্চাত্যে এবং
তৃতীয়টি আরব ভূ-খন্ডে,এবং সবার শেষে এক প্রকারের আগুন যা ইয়েমেন থেকে বের হয়ে লোকদের হাশরের ময়দানে তাড়িয়ে
নিয়ে যাবে।[২]
১- দাজ্জালের আবির্ভাব:
দাজ্জাল - একজন আদম সন্তান- একজন মানুষ। শেষ যুগে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়ে প্রভূত্বের দাবি করবে। প্রাচ্যের খোরাসান
নগরী থেকে তার আত্মপ্রকাশ ঘটবে। অত:পর পৃথিবী ব্যাপী ভ্রমন করবে এবং মক্কা, মদিনা, তুর এবং বাইতুল মুকাদ্দাস ব্যতীত
পৃথিবীর প্রত্যেক শহরেই প্রবেশ করবে। ফেরেশতাদের বিশেষ পাহারার কারণে উল্লেখিত চার শহরে প্রবেশ করতে পারবে না।
নিম্ন ও জলাভূমি দিয়ে শহরে প্রবেশ করবে। তার অবতরনের ফলে শহর তিন বার ঝাঁকুনি দিয়ে প্রকম্পিত হবে তখন ঐ শহরে থাকা
সকল মুনাফিক ও কাফের এসে তার কাছে জড় হবে।
দাজ্জালের ফেতনা:
দাজ্জালের আবির্ভাব একটি বড় ফেতনা। এর কারণ হচ্ছে আল্লাহ তাআলা তার সাথে অতিপ্রাকৃত-অলৌকিক এমন কিছু জিনিষ
দেবেন যা অতি সচেতন - বুদ্ধিদীপ্ত মানুষদেরও হতবুদ্ধি করে দেবে। হাদীসে এসেছে, তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নাম
থাকবে। তার জান্নাত প্রকৃত অর্থে জাহান্নাম এবং তার জাহান্নাম মূলত জান্নাত। এবং তার সাথে রুটির পাহাড় ও পানির
নহর থাকবে। আকাশকে নির্দেশ দিলে আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে। ভূমিকে হুকুম করলে ভূমি শষ্য-উদ্ভিদ উৎপন্ন করবে। ভূমি
অভ্যন্তরের যাবতীয় ধনভাণ্ডার তার পিছনে পিছনে চলবে। প্রবল বাতাস যেভাবে মেঘমালা কে খুব দ্রুততার সাথে তাড়িয়ে
নিয়ে যায় অনুরূপ দ্রুততার সাথে সে রাস্তা অতিক্রম করবে।
পৃথিবীতে মোট চল্লিশ দিন অবস্থান করবে, প্রথম দিন হবে এক বৎসর সমান, দ্বিতীয় দিন এক মাসের সমান, তৃতীয় দিন এক
সাপ্তাহের সমান, অবশিষ্ট দিনগুলো আমাদের দিনের মতই। অত:পর নবী ঈসা আলাইহিস সালাম ফিলিস্তীনের 'বাবে লুদ্দ'
নামক স্থানে তাকে হত্যা করবেন।
দাজ্জালের বিবরণ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করে তার অনুসরণ ও তাকে সত্য বলে
স্বীকৃতি দিতে নিষেধ করেছেন। তার অবস্থা ও ধরণ-প্রকৃতি সম্পর্কে বিশদ বিবরণ দিয়েছেন, যাতে আমরা তার থেকে সতর্ক
থাকতে পারি। তিনি বলেছেন: সে বয়সে হবে যুবক, গায়ের রং রক্তিমবর্ণ, এক চক্ষু বিশিষ্ট-কানা, তার কোন সন্তানাদি হবে না,
দু'চোখের মাঝে লেখা থাকবে "কাফের" প্রত্যেক মুসলমান তা পড়তে পারবে।
ﻋﻦ ﻋﺒﺎﺩﺓ ﺑﻦ ﺍﻟﺼﺎﻣﺖ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ )): ﺇﻥ ﻣﺴﻴﺢ ﺍﻟﺪﺟﺎﻝ ﺭﺟﻞ ﻗﺼﻴﺮ ,ﺃﻓﺤﺞ , ﺟﻌﺪ , ﺃﻋﻮﺭ , ﻣﻄﻤﻮﺱ ﺍﻟﻌﻴﻦ , ﻟﻴﺲ ﺑﻨﺎﺗﺌﺔ ﻭﻻ ﺟﺤﺮﺍﺀ , ﻓﺈﻥ ﺃﻟﺒﺲ ﻋﻠﻴﻜﻢ ﻓﺎﻋﻠﻤﻮﺍ ﺃﻥ ﺭﺑﻜﻢ ﺗﺒﺎﺭﻙ ﻭﺗﻌﺎﻟﻰ
ﻟﻴﺲ ﺑﺄﻋﻮﺭ .(( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺃﺣﻤﺪ ﻭ ﺃﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ .
সাহাবী উবাদা বিন সামেত রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
দাজ্জাল হচ্ছে খাটোকায়-বেটে, দু'পায়ের নলা ঈসৎ ফাঁকা, কোঁকড়া চুল বিশিষ্ট, এক চক্ষুহীন-কানা, চক্ষু লেপ্টানো, একেবারে
উপরে উঠানো-ভাসা ভাসাও নয় আবার একেবারে গর্তের ভিতর ঢুকানোও নয়। তার বিষয়টি যদি তোমাদের নিকট অস্পষ্ট মনে হয়
এবং তোমরা ধাঁধাঁয় পড়ে যাও তাহলে জেনে নাও তোমাদের পালনকর্তা কানা নন।
বর্ণনায় আহমদ (২৩১৪৪) ও আবু দাউদ(৪৩২০), হাদীসের সনদ সহীহ।
দাজ্জালের আবির্ভাবের স্থান:
ﻋﻦ ﺍﻟﻨﻮﺍﺱ ﺑﻦ ﺳﻤﻌﺎﻥ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ : ﺫﻛﺮ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻟﺪﺟﺎﻝ ﻭ ﻓﻴﻪ : ...)) ﺇﻧﻪ ﺧﺎﺭﺝ ﺧﻠﺔ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﺸﺎﻡ ﻭ ﺍﻟﻌﺮﺍﻕ ﻓﻌﺎﺙ ﻳﻤﻴﻨﺎ ﻭ ﻋﺎﺙ ﺷﻤﺎﻻ (( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ
সাহাবী নাওয়াস বিন সামআন রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জালের
আলোচনা করেছেন, তাতে আছে ((... সে ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যবর্তীস্থান " খিল্লাহ " নামক স্থানে আবির্ভূত হবে অত:পর ডানে ও
বামে খুব দ্রুত বি:শৃংখলা সৃষ্টি করবে।
বর্ণনায় মুসলিম হাদীস নং২৯৩৭
যে সব স্থানে দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না:
(১) ﻋﻦ ﺃﻧﺲ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : )) ﻟﻴﺲ ﻣﻦ ﺑﻠﺪ ﺇﻻ ﺳﻴﻄﺆﻩ ﺍﻟﺪﺟﺎﻝ ﺇﻻ ﻣﻜﺔ ﻭ ﺍﻟﻤﺪﻳﻨﺔ .(( ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
বিশিষ্ট সাহাবী আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
মক্কা ও মদিনা ব্যতীত পৃথিবীর সকল শহরেই দাজ্জাল প্রবেশ করবে। বুখারী (১৮৮১) ও মুসলিম(২৯৪৩)
(১) ﻭﻋﻦ ﺭﺟﻞ ﻣﻦ ﺃﺻﺤﺎﺏ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺫﻛﺮ ﺍﻟﺪﺟﺎﻝ ু ﻭﻓﻴﻪ - ﻗﺎﻝ )) : ﻭﻻ ﻳﻘﺮﺏ ﺃﺭﺑﻌﺔ ﻣﺴﺎﺟﺪ , ﻣﺴﺠﺪ ﺍﻟﺤﺮﺍﻡ , ﻭ ﻣﺴﺠﺪ ﺍﻟﻤﺪﻳﻨﺔ , ﻭ ﻣﺴﺠﺪ ﺍﻟﻄﻮﺭ , ﻭ ﻣﺴﺠﺪ ﺍﻷﻗﺼﻰ (( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺃﺣﻤﺪ
নবীজীর একজন সাহাবী থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করেছেন -
তাতে আছে- নবীজী বলেন:সে চারটি মসজিদের কাছেযেতেপারবেনা,মসজিদুল হারাম, মসজিদুন নববী, মসজিদুত তূর এবং
মসজিদুল আকসা।
হাদীসটি সহীহ সনদে ইমাম আহমদ বর্ণনা করেছেন। হাদীস নং২৪০৮৫, দেখুন: আসসিলসিলাতুস সহীহা ক্রমিক:২৯৩৪
দাজ্জালের অনুসারী:
দাজ্জালের অধিকাংশ অনুসারীদের মধ্যে থাকবে ইহুদী, ইস্পাহানের অনেক লোক।
ﻋﻦ ﺃﻧﺲ ﺑﻦ ﻣﺎﻟﻚ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ)): ﻳﺘﺒﻊ ﺍﻟﺪﺟﺎﻝ ﻣﻦ ﻳﻬﻮﺩ ﺃﺻﺒﻬﺎﻥ ﺳﺒﻌﻮﻥ ﺃﻟﻔﺎ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﺍﻟﻄﻴﺎﻟﺴﺔ .(( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: দাজ্জালেন অনুসরন
করবে ইস্পাহানের কতিপয় ইহুদী, এদের সত্তর হাজার হবে এমন, যাদের গায়ে এক রকমের বিশেষ চাদর থাকবে।
বর্ণনায় মুসলিম হাদীস নং:(২৯৪৪)
দাজ্জালের ফেৎনা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়:
নবীজী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জালের ফেৎনা থেকে বাঁচার অনেকগুলো উপায় বাতলেছেন যেগুলো
হাদীসের বিভিন্ন কিতাবে পাওয়া যায়। আমরা এখানে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি তুলে ধরছি।
আল্লাহ তাআলার উপর পরিপূর্ণ ঈমান, সর্বদা বিশেষ করে সালাতে আল্লাহ তাআলার নিকট দাজ্জালের ফেৎনা থেকে আশ্রয়
প্রার্থনা করা এবং তার থেকে ভেগে থাকা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
(( ﻣﻦ ﺣﻔﻆ ﻋﺸﺮ ﺁﻳﺎﺕ ﻣﻦ ﺃﻭﻝ ﺳﻮﺭﺓ ﺍﻟﻜﻬﻒ ﻋﺼﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﺪﺟﺎﻝ (( ﻭﻓﻲ ﻟﻔﻆ ))ﻓﻤﻦ ﺃﺩﺭﻛﻪ ﻣﻨﻜﻢ ﻓﻠﻴﻘﺮﺃ ﻋﻠﻴﻪ ﻓﻮﺍﺗﺘﺢ ﺳﻮﺭﺓ ﺍﻟﻜﻬﻒ (( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ .
যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দশ আয়াত সংরক্ষণ করবে তাকে দাজ্জালের ফেৎনা থেকে নিরাপদ রাখা হবে। অন্য রেওয়াতে
এসেছে: তোমাদের কাউকে যদি সে পেয়ে বসে তাহলে সে যেন তার উপর সূরা কাহফের প্রথম কয়েকটি আয়াত পড়ে।
(বর্ণনায় মুসলিম হাদীস নং ৮০৯ এবং ২৯৩৭)
২- ঈসা বিন মারইয়াম আলাইহিস সালামের অবতরণ:
দাজ্জালের আবির্ভাব ও পৃথিবীতে তার বিশৃংখলা-ফ্যাসাদ সৃষ্টির পর আল্লাহ তাআলা ঈসা বিন মারইয়াম আলাইহিস
সালামকে প্রেরণ করবেন। তিনি পূর্ব দামেস্কের সাদা মিনারের নিকট দু'জন ফেরেশতার পাখায় ভর করে পৃথিবীতে অবতরণ
করবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করবেন। এরপর পৃথিবীতে ইসলামী হুকুমত কায়েম করে পবিত্র কুরআন অনুযায়ী দেশ পরিচালনা
করবেন। খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় প্রতীক-ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শুকর নিধন করবেন এবং জিযিয়া-কর মওকূফ করে দেবেন, ধন-সম্পদ
প্রচুর পরিমাণে বেড়ে যাবে, পারস্পরিক শত্রুতা-বিদ্বেষ উঠে যাবে, পৃথিবীতে সাত বছর অবস্থান করবেন এমনভাবে যে দু'জন
ব্যক্তির মাঝে পারস্পরিক কোন শত্রুতা নেই। অত:পর মৃত্যুবরণ করবেন এবং মুসলমানেরা তার জানাযা পড়বেন।
অত:পর আল্লাহ তাআলা সিরিয়ার দিক থেকে এক প্রকার পবিত্র (সুরভিত) ঠান্ডা বায়ূ প্রেরণ করবেন। ফলে পৃথিবীর বুকে
জীবনধারণকারী - যার হৃদয়ে অনু পরিমাণ কল্যাণ বা ঈমানও অবশিষ্ট আছে- সকলেই মৃত্যুমুখে পতিত হবে। বেচে থাকবে শুধু
পাখির চঞ্চলতা ও হিংস্র জন্তুর চতুরতা নিয়ে নিকৃষ্টতর মানুষ সকল, তারা গাধার ন্যায় অস্থির ও ভারসাম্যহীন আচরণ করবে।
অত:পর শয়তান তাদেরকে মুতির্ পূজার নির্দেশ দেবে আর তাদের উপরই কায়েম হবে কেয়ামত।
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ﻭﺍﻟﺬﻱ ﻧﻔﺴﻲ ﺑﻴﺪﻩ ﻟﻴﻮﺷﻜﻦ ﺃﻥ ﻳﻨﺰﻝ ﻓﻴﻜﻢ ﺍﺑﻦ ﻣﺮﻳﻢ ﺣﻜﻤﺎ ﻭ ﻋﺪﻻ , ﻓﻴﻜﺴﺮ ﺍﻟﺼﻠﻴﺐ , ﻭﻳﻘﺘﻞ ﺍﻟﺨﻨﺰﻳﺮ ﻭﻳﻀﻊ ﺍﻟﺠﺰﻳﺔ , ﻭ ﻳﻔﻴﺾ ﺍﻟﻤﺎﻝ ﺣﺘﻰ ﻻ ﻳﻘﺒﻠﻪ ﺃﺣﺪ ,
ﺣﺘﻰ ﺗﻜﻮﻥ ﺍﻟﺴﺠﺪﺓ ﺍﻟﻮﺍﺣﺪﺓ ﺧﻴﺮﺍ ﻣﻦ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻭ ﻣﺎ ﻓﻴﻬﺎ . ﺛﻢ ﻳﻘﻮﻝ ﺃﺑﻮ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ : ﻭﺍﻗﺮﺅﺍ ﺇﻥ ﺷﺌﺘﻢ : ‏( ﻭﺇﻥ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﺇﻻ ﻟﻴﺆﻣﻨﻦ ﺑﻪ ﻗﺒﻞ ﻣﻮﺗﻪ ﻭ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﻳﻜﻮﻥ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﺷﻬﻴﺪﺍ } ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ : ১৫৯} ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বণির্ত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
কসম সে সত্ত্বার যার হাতে আমার জীবন, অচিরেই তোমাদের নিকট ঈসা বিন মারইয়াম আলাইহিস সালাম ন্যায়পরায়ণ শাসক
হয়ে আবির্ভূত হবেন। তিনি এসে ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শুকর নিধন করবেন এবং জিযিয়া-কর মওকূফ করে দেবেন। ধন-সম্পদ প্রচুর
পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে এক পর্যায়ে গ্রহণ করার মত কাউকে পাওয়া যাবে না। এমন কি মানুষের নিকট তখন একটি মাত্র সেজদা
দুনিয়া এবং দুনিয়াস্থিত সকল কিছুর থেকে উত্তম মনে হবে। অত:পর আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: যদি তোমাদের মনে
চায় তাহলে পড়:
: ( ﻭﺇﻥ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﺇﻻ ﻟﻴﺆﻣﻨﻦ ﺑﻪ ﻗﺒﻞ ﻣﻮﺗﻪ ﻭ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﻳﻜﻮﻥ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﺷﻬﻴﺪﺍ } ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ : ১৫৯}
আর আহলে কিতাবদের মধ্যে যত শ্রেণী রয়েছে তারা সকলেই ঈসার উপর ঈমান আনবে তার মৃত্যুর পূর্বে। আর কেয়ামতের দিন
তাদের জন্য সাক্ষীর উপর সাক্ষী উপস্থিত হবে। (সূরা নিসা:১৫৯)
বর্ণনায় বুখারী (৩৪৪৮) ও মুসলিম (১৫৫)
ইয়াজুজ মাজুজের আবির্ভাব:
ইয়াজুজ মাজুজ বনী আদমের দু'টি বিশাল জাতি। তারা খুবই শক্তিধর মানুষ, তাদের মোকাবেলা ও তাদেন সাথে যুদ্ধ করার
ক্ষমতা কারো নেই। তাদের আবির্ভাব কেয়ামতের বড় বড় নিদর্শনের অন্যতম। পৃথিবীতে এসে তারা অনর্থ ও বিশৃংখলা সৃষ্টি
করবে। অত:পর নবী ‍ঈসা আলাইহিস সালাম তাদের বিরুদ্ধে বদ্ দোআ করবেন ফলে সকলেই মরে যাবে।
(১) মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﺣﺘﻰ ﺇﺫﺍ ﻓﺘﺤﺖ ﻳﺄﺟﻮﺝ ﻭ ﻣﺄﺟﻮﺝ ﻭ ﻫﻢ ﻣﻦ ﻛﻞ ﺣﺪﺏ ﻳﻨﺴﻠﻮﻥ ‏( ﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀ : ৯৬)
এমন কি যখন ইয়াজুজ ও মা'জুজকে মুক্তি দেয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উঁচু ভূমি হতে ছুটে আসবে। ( সূরা আম্বিয়া:৯৬)
(২)
ﻭﻋﻦ ﺍﻟﻨﻮﺍﺱ ﺑﻦ ﺳﻤﻌﺎﻥ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ : ﺫﻛﺮ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻟﺪﺟّﺎﻝ ﻭ ﺃﻥ ﻋﻴﺴﻰ ﻳﻘﺘﻠﻪ ﺑﺒﺎﺏ ﻟﺪّ ু ... ﻓﻴﻪ ু )) ﺇﺫ ﺃﻭﺣﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺇﻟﻰ ﻋﻴﺴﻰ : ﺇﻧﻲ ﻗﺪ ﺃﺧﺮﺟﺖ ﻋﺒﺎﺩﺍ ﻟﻲ ﻻ ﻳﺪﺍﻥ ﻷﺣﺪ ﺑﻘﺘﺎﻟﻬﻢ , ﻓﺤﺮّﺯ ﻋﺒﺎﺩﻱ ﺇﻟﻰ
ﺍﻟﻄﻮﺭ , ﻭ ﻳﺒﻌﺚ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﺄﺟﻮﺝ ﻭ ﻣﺄﺟﻮﺝ ﻭ ﻫﻢ ﻣﻦ ﻛﻞ ﺣﺪﺏ ﻳﻨﺴﻠﻮﻥ , ﻓﻴﻤﺮّ ﺃﻭﺍﺋﻠﻬﻢ ﻋﻠﻰ ﺑﺤﻴﺮﺓ ﻃﺒﺮﻳﺔ ﻓﻴﺸﺮﺑﻮﻥ ﻣﺎ ﻓﻴﻬﺎ , ﻭ ﻳﻤﺮ ﺁﺧﺮﻫﻢ ﻓﻴﻘﻮﻟﻮﻥ : ﻟﻘﺪ ﻛﺎﻥ ﺑﻬﺬﻩ ﻣﺮﺓ ﻣﺎﺀ , ﻭ ﻳﺤﺼﺮ ﻧﺒﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻴﺴﻰ ﻭ ﺃﺻﺤﺎﺑﻪ ﺣﺘﻰ ﻳﻜﻮﻥ ﺭﺃﺱ ﺍﻟﺜﻮﺭ
ﻷﺣﺪﻫﻢ ﺧﻴﺮﺍ ﻣﻦ ﻣﺎﺋﺔ ﺩﻳﻨﺎﺭ ﻷﺣﺪﻛﻢ ﺍﻟﻴﻮﻡ , ﻓﻴﺮﻏﺐ ﻧﺒﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻴﺴﻰ ﻭ ﺃﺻﺤﺎﺑﻪ ﻓﻴﺮﺳﻞ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﺍﻟﻨﻐﻒ ﻓﻲ ﺭﻗﺎﺑﻬﻢ ﻓﻴﺼﺒﺤﻮﻥ ﻓﺮﺳﻰ ﻛﻤﻮﺕ ﻧﻔﺲ ﻭﺍﺣﺪﺓ , ﺛﻢ ﻳﻬﺒﻂ ﻧﺒﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻴﺴﻰ ﻭ ﺃﺻﺤﺎﺑﻪ ﺇﻟﻰ ﺍﻷﺭﺽ ((... ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ
সাহাবী নাওয়্যাস বিন সাম'আন রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার
আলোচনা করছিলেন যে, দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে এবং নবী ঈসা আলাইহিস সালাম তাকে বাবে লুদ্দ নামক স্থানে হত্যা
করবেন...-এবং তাতে আছে- (তখন আল্লাহ তাআলা ঈসার নিকট প্রত্যাদেশ প্রেরণ করবেন যে, আমি আমার এক বিশেষ বান্দাদের
বের করেছি যাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা কারো নেই। আপনি আমার বান্দাদের তুর পাহাড়ে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করুন
তাদের সেখানে যেতে বলুন। এরপর আল্লাহ তা'আলা ইয়াজুজ মা'জুজ পাঠাবেন, তারা প্রত্যেক উঁচু ভূমি হতে ছুটে আসবে। তাদের
প্রথম দল তাবারী হ্রদ অতিক্রম করবে এবং তাতে যা আছে সব পান করে ফেলবে। এর পর শেষ দল এসে বলবে,এতে কোন এক সময়
পানি ছিল। এক সময় আল্লাহর নবী ঈসা ও তার সঙ্গীরা অবরুদ্ধ হয়ে যাবেন। এক পর্যায়ে তাদের নিকট একটি গুরুর মাথা আজকে
তোমাদের কাছে একশত দীনারের চেয়েও উত্তম মনে হবে।অত:পর নবী ঈসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর সহচরবৃন্দ আল্লাহর নিকট
দোআ করবেন, আল্লাহ তাআলা তাদের গ্রীবাদেশে "নাগাফ" নামক এক প্রকার বিষাক্ত পোকা (যা মূলত উট ও বকরীর নাকে
থাকে) পাঠাবেন। ফলে তারা এক ব্যক্তির মৃত্যুর ন্যায় সকলে এক সাথে মরে যাবে। পরে আল্লাহর নবী ঈসা ও তাঁর সাথীবৃন্দ
যমীনে নেমে আসবেন...). বর্ণনায় মুসলিম:(২৯৩৭)
নবী ঈসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর সহচরবৃন্দের ভূমিতে অবতরনের পর তাঁরা আল্লাহ তাআলার নিকট দোআ করবেন। আল্লাহ
তাআলা তাঁদের দোআ কবুল করে এক প্রকার বিশেষ পাখি প্রেরণ করবেন তারা ইয়াজুজ মাজুজকে তুলে নিয়ে আল্লাহ যেখানে
নিক্ষেপ করতে বলবেন সেখানে নিক্ষেপ করবে।অত:পর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বৃষ্টি বর্ষণ করে ভূমিকে ধুয়ে দেবেন।এরপর
পৃথিবীতে অধিক পরিমানে বরকত নাযিল হবে,তরি-তরকারি, শাক-সবজি, ফল-মূল প্রচুর পরিমানে উৎপন্ন হবে। উদ্ভিদ-তৃণ ও পশুর
ক্ষেত্রেও উক্ত বরকত পরিলক্ষিত হবে।
৪-৫-৬-তিনটি ভুমিধস:
কেয়ামতের পূর্বক্ষণে তিনটি ভূমিধস ঘটবে। ঐ ভূমিধস কেয়ামতের বড় বড় নিদর্শনের অন্যতম। তিনটির একটি ঘটবে প্রাচ্যে
দ্বিতীয়টি পাশ্চাত্যে এবং তৃতীয়টি আরব ভূ-খন্ডে। এগুলো এখনো সংঘটিত হয়নি।
৭-ধুম্র:
শেষ যুগে ধোঁয়ার আবির্ভাব কেয়ামতের একটি বড় আলামত।
(১) মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﻓﺎﺭﺗﻘﺐ ﻳﻮﻡ ﺗﺄﺗﻲ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺑﺪﺧﺎﻥ ﻣﺒﻴﻦ , ﻳﻐﺸﻰ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻫﺬﺍ ﻋﺬﺍﺏ ﺃﻟﻴﻢ. } ﺍﻟﺪﺧﺎﻥ : ১০-১১)
অতএব আপনি অপেক্ষা করুন সে দিনের যে দিন স্পষ্ট ধুম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ, এবং তা আবৃত করে ফেলবে মানব জাতিকে। এটি হবে
যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ( সূরা দোখান:১০-১১)
(২)
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﺑﺎﺩﺭﻭﺍ ﺑﺎﻷﻋﻤﺎﻝ ﺳﺘﺎ: ﻃﻠﻮﻉ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﻣﻦ ﻣﻐﺮﺑﻬﺎ ﺃﻭ ﺍﻟﺪﺧﺎﻥ ﺃﻭﺍﻟﺪﺟﺎﻝ ﺃﻭ ﺍﻟﺪﺍﺑﺔ ﺃﻭ ﺧﺎﺻﺔ ﺃﺣﺪﻛﻢ ﺃﻭ ﺃﻣﺮ ﺍﻟﻌﺎﻣﺔ . ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ .
(২) বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ
করেন: ব্যক্তিগতভাবে হোক অথবা সাধারনভাবে হোক, তোমরা ছয়টি বস্তুর অভ্যূদয়ের পূর্বেই নেক আমল বেশি পরিমাণে
সম্পাদন কর। বস্তু ছয়টি হচ্ছে, পশ্চিম থেকে সূর্যোদয়, ধুম্র, দাজ্জাল, জন্তু।
৮-অস্তাচল থেকে সূর্যোদয়:
পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়ের ঘটনা কেয়ামতের বড় বড় নিদর্শনের অন্তর্ভূক্ত। এটিই হচ্ছে উর্দ্ধজগতের পরিবর্তন সংক্রান্ত
বিষয়ে অবহিতকারী সর্ব প্রথম বড় নিদর্শন। এ ব্যাপারে কোরআন ও হাদীসে অনেক তথ-প্রমাণ বিদ্যমান। আমরা এখানে অল্পকিছু
তুলে ধরছি:
(১) মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﻳﻮﻡ ﻳﺄﺗﻲ ﺑﻌﺾ ﺁﻳﺎﺕ ﺭﺑﻚ ﻻ ﻳﻨﻔﻊ ﻧﻔﺴﺎ ﺇﻳﻤﺎﻧﻬﺎ ﻟﻢ }... ﺍﻷﻧﻌﺎﻡ : ১৫৮)
যেদিন আপনার প্রতিপালকের কতক নিদর্শন প্রকাশ হয়ে পড়বে, (পশ্চিম দিক থেকে যেদিন সূযোদয় ঘটবে) সেই দিনের পূর্বে
যারা ঈমান আনেনি, তাদের ঈমান তখন কোন উপকারে আসবে না, অথবা যারা নিজেদের ঈমান দ্বারা কোন নেক কাজ করেনি
(তখন নেক কাজ দ্বারা কোন ফলোদয় হবে না)। (সূরা আল আন'আম: ১৫৮)
(২)
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ )): ﻻ ﺗﻘﻮﻡ ﺍﻟﺴﺎﻋﺔ ﺣﺘﻰ ﺗﻄﻠﻊ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﻣﻦ ﻣﻐﺮﺑﻬﺎ , ﻓﺈﺫﺍ ﻃﻠﻌﺖ ﻣﻦ ﻣﻐﺮﺑﻬﺎ ﺁﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻛﻠﻬﻢ ﺃﺟﻤﻌﻮﻥ , ﻓﻴﻮﻣﺌﺬ : ‏( ﻻ ﻳﻨﻔﻊ ﻧﻔﺴﺎ ﺇﻳﻤﺎﻧﻬﺎ ﻟﻢ ﺗﻜﻦ ﺁﻣﻨﺖ ﻣﻦ
ﻗﺒﻞ ﺃﻭ ﻛﺴﺒﺖ ﻓﻲ ﺇﻳﻤﺎﻧﻬﺎ ﺧﻴﺮﺍ ‏) ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেবে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:সূর্য
পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়ার পূর্বে কেয়ামত সংঘটিত হবে না। যখন সেদিক থেকে উদিত হবে তখন পৃথিবীস্থিত সকল মানুষ
ইসলাম গ্রহণ করবে। তবে সেদিন, এ দিনের দিনের পূর্বে যারা ঈমান আনেনি, তাদের ঈমান কোন উপকারে আসবে না, অথবা
যারা নিজেদের ঈমান দ্বারা কোন নেক কাজ করেনি (তখন নেক কাজ দ্বারা কোন ফলোদয় হবে না (( বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম।
বুখারী হাদীস নং (৪৬৩৫) আর মুসলিম হাদীস নং (১৫৭)
(৩)
ﻭﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮﻭ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻗﺎﻝ: ﺳﻤﻌﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺳﻘﻮﻝ : )) ﺇﻥ ﺃﻭﻝ ﺍﻵﻳﺎﺕ ﺧﺮﻭﺟﺎ ﻃﻠﻮﻉ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﻣﻦ ﻣﻐﺮﺑﻬﺎ , ﻭﺧﺮﻭﺝ ﺍﻟﺪﺍﺑﺔ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺿﺤﻰ , ﻭﺃﻳﻬﻤﺎ ﻣﺎ ﻛﺎﻧﺖ ﻗﺒﻞ ﺻﺎﺣﺒﺘﻬﺎ ﻓﺎﻷﺧﺮﻯ
ﻋﻠﻰ ﺇﺛﺮﻫﺎ ﻗﺮﻳﺒﺎ (( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ
সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম-কে ইরশাদ করতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ বলেন: কেয়ামতের বড় বড় নিদর্শনাবলির মধ্যে সর্ব প্রথম যেটির আবির্ভাব
ঘটবে তা হচ্ছে, পশ্চিম দিক হতে সূর্যোদয় এবং পূর্বােহ্নর সময় বিশেষ জন্তুর অভ্যূদয়। এদের যেটিই প্রথমে আবির্ভূত হোক
দ্বিতীয়টি এর পরপরই আবির্ভূত হবে। বর্ণনায় মুসলিম: (২৯৪১)
৯-বিশেষ জন্তুর আত্মপ্রকাশ:
শেষ যুগে একটি বিশেষ শ্রেণীর জন্তুর আত্মপ্রকাশ ঘটবে আর এটির প্রকাশ পাওয়াই হচ্ছে কেয়ামত অতি নিকটে এসে যাওয়ার
আলামত। তারা বের হওয়ার পর লোকেরা তাদের শুঁড়ে বিষ ঢেলে দেবে, কাফেরদের নাকে লাগাম লাগানো হবে আর
মুমিনবান্দাদের চেহারা আলোকোজ্জ্বল হয়ে উঠবে।
উক্ত জন্তুর প্রকাশ প্রসঙ্গে আমরা কিছু দলীল পেশ করছি :
(১) মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﻭﺇﺫﺍ ﻭﻗﻊ ﺍﻟﻘﻮﻝ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﺃﺧﺮﺟﻨﺎ ﻟﻬﻢ ﺩﺍﺑﺔ ﻣﻦ ﺍﻷﺭﺽ ﺗﻜﻠﻤﻬﻢ ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﺑﺂﻳﺎﺗﻨﺎ ﻻ ﻳﻮﻗﻨﻮﻥ }.ﺍﻟﻨﻤﻞ : ৮২}
যখন প্রতিশ্রুতি (কেয়ামত) সমাগত হবে, তখন আমি তাদের সামনে ভূগর্ভ থেকে একটি জীব নির্গত করব। তারা মানুষের সাথে
কথা বলবে। এ কারণে যে, মানুষ আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করত না। ( সূরা আন্ নামল: ৮২ )
(২)
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ )) : ﺛﻼﺙ ﺇﺫﺍ ﺧﺮﺟﻦ ﻻ ﻳﻨﻔﻊ ﻧﻔﺴﺎ ﺇﻳﻤﺎﻧﻬﺎ ﻟﻢ ﺗﻜﻦ ﺁﻣﻨﺖ ﻣﻦ ﻗﺒﻞ ﺃﻭ ﻛﺴﺒﺖ ﻓﻲ ﺇﻳﻤﺎﻧﻬﺎ ﺧﻴﺮﺍ : ﻃﻠﻮﻉ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﻣﻦ ﻣﻐﺮﺑﻬﺎ , ﻭﺍﻟﺪﺟﺎﻝ , ﻭﺩﺍﺑﺔ ﺍﻷﺭﺽ .((
ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
(কেয়ামতের পূর্বে) যখন তিনটি নিদর্শন প্রকাশ পাবে তখন আর সেই দিনের পূর্বে যারা ঈমান আনেনি, তাদের ঈমান কোন
উপকারে আসবে না, অথবা যারা নিজেদের ঈমান দ্বারা কোন নেক কাজ করেনি তখন নেক কাজ দ্বারা কোন ফলোদয় হবে না)
নদর্শন তিনটি হচ্ছে পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়, দাজ্জাল এবং ভূ-নির্গত জন্তু। বর্ণনায় সহীহ মুসলিম: (১৫৮)
১০-মানুষদের সমবেত কারী আগুনের আবির্ভাব:
এটি একটি বড় ধরণের আগুন যা প্রাচ্যের ইয়েমেনের এডেনের ভূগর্ভ থেকে বের হবে। এটি কেয়ামতের বড় নিদর্শনাবলির সর্বশেষ
নিদর্শন। এবং কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার ঘোষণা কারী সর্ব প্রথম আলামত। ইয়েমেন থেকে বের হয়ে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে
পড়বে এবং মানুষদের সিরিয়ার সমবেত হওয়ার স্থলে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে।
আগুন লোকদের কি ভাবে সমবেত করবে:
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ )): ﻳﺤﺸﺮ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻋﻠﻰ ﺛﻼﺙ ﻃﺮﺍﺋﻖ: ﺭﺍﻏﺒﻴﻦ , ﻭﺭﺍﻫﺒﻴﻦ , ﻭﺍﺛﻨﺎﻥ ﻋﻠﻰ ﺑﻌﻴﺮ , ﺛﻼﺛﺔ ﻋﻠﻰ ﺑﻌﻴﺮ , ﺃﺭﺑﻌﺔ ﻋﻠﻰ ﺑﻌﻴﺮ , ﻋﺸﺮﺓ ﻋﻠﻰ ﺑﻌﻴﺮ , ﻳﺤﺸﺮ ﺑﻘﻴﺘﻬﻢ ﺍﻟﻨﺎﺭ , ﺗﻘﻴﻞ ﻣﻌﻬﻢ
ﺣﻴﺚ ﻗﺎﻟﻮﺍ , ﻭﺗﺒﻴﺖ ﻣﻌﻬﻢ ﺣﻴﺚ ﺑﺎﺗﻮﺍ , ﻭﺗﺼﺒﺢ ﻣﻌﻬﻢ ﺣﻴﺚ ﺃﺻﺒﺤﻮﺍ , ﻭﺗﻤﺴﻲ ﻣﻌﻬﻢ ﺣﻴﺚ ﺃﻣﺴﻮﺍ .(( ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ
করেন: লোকদের সমবেত করা হবে তিন পদ্ধতিতে: ভীত ও আগ্রহী অবস্থায়, দু'জন এক উটে সাওয়ার হয়ে, তিনজন এক উটে সাওয়ার
হয়ে, চারজন এক উটে সাওয়ার হয়ে, দশজন এক উটে সাওয়ার হয়ে এবং অবশিষ্টদের আগুন সমবেত করবে। তারা যেখানে দ্বি-প্রহরে
বিশ্রাম নেবে আগুনও তাদের সাথে সেখানে বিশ্রাম নেবে, তারা যেখানে রাত্রি যাপন করবে আগুনও সেখানে রাত্রি যাপন
করবে, তারা সকালে যেখানে থাকবে আগুনও সেখানে তাদের সাথে থাকবে, তারা সন্ধ্যা বেলায় যেখানে অবস্থান করবে
আগুনও তাদের সাথে সেখানে অবস্থান করবে। (অর্থাৎ আগুন সর্বাবস্থায় তাদের পেছনে লেগেই থাকবে).
বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম, বুখারী হাদীস নং ৬৫২২ এবং মুসলিম হাদীস নং ২৮৬১
কেয়ামতের সর্ব প্রথম আলামত
ﻋﻦ ﺃﻧﺲ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﺳﻼﻡ ﻟﻤﺎ ﺃﺳﻠﻢ ﺳﺄﻝ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻋﻦ ﻣﺴﺎﺋﻞ ,ﻭﻣﻨﻬﺎ : ﻣﺎ ﺃﻭﻝ ﺃﺷﺮﺍﻁ ﺍﻟﺴﺎﻋﺔ ؟ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : )) ﺃﻣﺎ ﺃﻭﻝ ﺃﺷﺮﺍﻁ ﺍﻟﺴﺎﻋﺔ ﻓﻨﺎﺭ ﺗﺤﺸﺮ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻣﻦ
ﺍﻟﻤﺸﺮﻕ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻤﻐﺮﺏ .(( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ
প্রখ্যাত সাহাবী আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন, সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু ইসলাম গ্রহণ
করে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কয়েকটি বিষয়ে জানতে চাইলেন, তন্মধ্যে একটি বিষয় ছিল :
কেয়ামতের সর্বপ্রথম আলামত কি? নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন: কেয়ামতের সর্ব প্রথম
আলামত হচ্ছে, এক প্রকার আগুন, যা মানুষদের মাশরিক (প্রাচ্য) থেকে তাড়িয়ে মাগরিবে (পাশ্চাত্যে) জড় করবে। বর্ণনায়
বুখারী, হাদীস নং ৩৩২৭
নিদর্শনাবলীর পর্যায়ক্রমিক আত্মপ্রকাশ ও অবস্থার পরিবর্তন:
১- কেয়ামতের বড় নিদর্শনাবলির প্রথমটি প্রকাশ পাওয়ার পর একের পর এক নিদর্শনাবলির আত্মপ্রকাশ ঘটতে থাকবে। যেমন
নবীজী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
(( ﺍﻷﻣﺎﺭﺍﺕ ﺧﺮﺯﺍﺕ ﻣﻨﻈﻮﻣﺎﺕ ﺑﺴﻠﻚ , ﻓﺈﺫﺍ ﺍﻧﻘﻄﻊ ﺍﻟﺴﻠﻚ ﺗﺒﻊ ﺑﻌﻀﻪ ﺑﻌﻀﺎ .(( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﺤﺎﻛﻢ
কেয়ামত প্ূর্ব সংঘটিতব্য নিদর্শনগুলো পুঁতির দানার (মালার) মত এক সূতায় আবদ্ধ, যখন সূতাটি ছিঁড়ে যাবে তখন নিদর্শনাবলী
একের পর এক প্রকাশিত হতে থাকবে।
বর্ণনায় হাকেম, হাদীস নং(৮৬৩৯) দেখুন আসসিলসিলাতুস সহীহা (১৭৬২)
২-হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺃﻧﺲ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : )) ﻻ ﺗﻘﻮﻡ ﺍﻟﺴﺎﻋﺔ ﺣﺘﻰ ﻻ ﻳﻘﺎﻝ ﻓﻲ ﺍﻷﺭﺽ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﻠﻪ .(( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ
সাহাবী আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করছেন:
পৃথিবীতে "আল্লাহ আল্লাহ'' শব্দের উচ্চারণ বিদ্যমান থাকা অবস্থায় কেয়ামত সংঘটিত হবে না।
বর্ণনায় মুসলিম। হাদীস নং(১৪৮)
৩-হাদীসে
ﻭﻋﻦ ﺣﺬﻳﻔﺔ ﺑﻦ ﺍﻟﻴﻤﺎﻥ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ )): ﻻ ﺗﻘﻮﻡ ﺍﻟﺴﺎﻋﺔ ﺣﺘﻰ ﻳﻜﻮﻥ ﺃﺳﻌﺪ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺑﺎﻟﺪﻧﻴﺎ ﻟﻜﻊ ﺑﻦ ﻟﻜﻊ .(( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ
বিশিষ্ট সাহাবী হুযাইফা ইবনুল য়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
ইরশাদ করেন: লুকা' বিন লুকা' (তথা বংশীয়ভাবে নিকৃষ্ট মানুষেরা) পৃথিবীর সর্বপেক্ষা ভাগ্যবান ব্যক্তি না হওয়া অবধি
কেয়ামত সংঘটিত হবে না।
হাদীসটি সহীহ বর্ণনায় তিরমিযী হাদীস নং(২২০৯)
শিঙ্গায় ফুৎকার
শিঙ্গা হচ্ছে হর্ন বা বিউগল সদৃশ এক প্রকার শিং। কেয়ামতের পূর্বক্ষণে মহান আল্লাহ তাআলা ফেরেশতা ইসরাফীল
আলাইহিস সালামকে শিঙ্গায় 'প্রথম ফুৎকার' দেয়ার নির্দেশ দেবেন। আর এটি হচ্ছে "নফখাতুস সা'ইক" বা বেহুঁশ করার ফুৎকার।
ফলে নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলে অবস্থিত সকল প্রাণী বেহুঁশ হয়ে পড়ে যাবে তবে আল্লাহ যদি কাউকে সুস্থ রাখতে চান তার কথা
ভিন্ন। অত:পর আল্লাহ তাআলা দ্বিতীয় ফুৎকার দেয়ার নির্দেশ দেবেন আর এটি হচ্ছে "নফখাতুল বা'ছ" তথা উত্থিত করণের
ফুৎকার।
শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়ার সময় সৃষ্টজীবের অবস্থা:
১- আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﻓﺘﻮﻝ ﻋﻨﻬﻢ ﻳﻮﻡ ﻳﺪﻉ ﺍﻟﺪﺍﻉ ﺇﻟﻰ ﺷﻴﺊ ﻧﻜﺮ ... } ﺍﻟﻘﻤﺮ :৬-৮}
অতএব আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন। যেদিন আহ্বানকারী আহ্বান করবে এক অপ্রিয় পরিণামের দিকে, তারা তখন
অবনত নেত্রে কবর থেকে বের হবে বিক্ষিপ্ত পঙ্গপাল সদৃশ। তারা আহ্বানকারীর দিকে দৌড়াতে থাকবে। কাফেররা বলবে: এটা
কঠিন দিন।
(সূরা আল-ক্বামার:৬-৮)
২- আল্লাহ তাআলা অন্যত্র বলছেন:
ﻭﻧﻔﺦ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻮﺭ ﻓﺼﻌﻖ ﻣﻦ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﻤﺎﻭﺍﺕ ﻭﻣﻦ ﻓﻲ ﺍﻷﺭﺽ ﺇﻻ ﻣﻦ ﺷﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ , ﺛﻢ ﻧﻔﺦ ﻓﻴﻪ ﺃﺧﺮﻯ ﻓﺈﺫﺍ ﻫﻢ ﻗﻴﺎﻡ ﻳﻨﻈﺮﻭﻥ . }ﺍﻟﺰﻣﺮ : ৬৮}
শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, ফলে আসমান ও যমীনে যারা আছে আল্লাহ যাদেরকে ইচ্ছা করেন তারা ব্যতীত সবাই বেহুঁশ হয়ে
যাবে। অত:পর আবার শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, তৎক্ষণাৎ তারা দন্ডায়মান হয়ে তাকাতে থাকবে। (সূরা যুমার: ৬৮)
৩- আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
ﻭﻳﻮﻡ ﻳﻨﻔﺦ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻮﺭ ﻓﻔﺰﻉ ﻣﻦ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﻤﺎﻭﺍﺕ ﻭﻣﻦ ﻓﻲ ﺍﻷﺭﺽ ﺇﻻ ﻣﻦ ﺷﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻛﻞ ﺃﺗﻮﻩ ﺩﺍﺧﺮﻳﻦ }. ﺍﻟﻨﻤﻞ : ৮৭}
যেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, অত:পর আল্লাহ যাদের-কে ইচ্ছা করবেন, তারা ব্যতীত নভোমন্ডল ও ভ-ূমন্ডলে যারা আছে,
তারা সবাই ভীত-বিহ্বল হয়ে পড়বে এবং সকলেই তাঁর কাছে আসবে বিনীত অবস্থায়। (সূরা আন-নমল:৮৭)
দুই ফুৎকারের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবদান:
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ )): ﻣﺎ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﻨﻔﺨﺘﻴﻦ ﺃﺭﺑﻌﻮﻥ (( ﻗﺎﻟﻮﺍ : ﻳﺎ ﺃﺑﺎ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺃﺭﺑﻌﻮﻥ ﻳﻮﻣﺎ؟ ﻗﺎﻝ : ﺃﺑﻴﺖ , ﻗﺎﻟﻮﺍ : ﺃﺭﺑﻌﻮﻥ ﺷﻬﺮﺍ ؟ ﻗﺎﻝ: ﺃﺑﻴﺖ , ﻗﺎﻟﻮﺍ : ﺃﺭﺑﻌﻮﻥ ﺳﻨﺔ ؟ ﻗﺎﻝ : ﺃﺑﻴﺖ .
ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
দুই ফুৎকারের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবদান হচ্ছে চল্লিশ। লোকেরা জিজ্ঞেস করল: হে আবু হুরায়রা চল্লিশ দিন? তিনি বললেন: আমি
(জবাব দিতে) অস্বীকার করলাম. তারা বলল: তাহলে কি চল্লিশ মাস? তিনি বললেন : আমি অস্বীকার করেছি. লোকেরা
আবারো জিজ্ঞেস করল : তাহলে কি চল্লিশ বছর? তিনি বললেন : আমি অস্বীকার করলাম।[৩]
কেয়ামত কখন সঙ্ঘটিত হবে:
১-হাদীসে আসার
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ )) : ﺇﻥ ﻃﺮﻑ ﺻﺎﺣﺐ ﺍﻟﺼﻮﺭ ﻣﻨﺬ ﻭﻛّﻞ ﺑﻪ ﻣﺴﺘﻌﺪ ﻳﻨﻈﺮ ﻧﺤﻮ ﺍﻟﻌﺮﺵ , ﻣﺨﺎﻓﺔ ﺃﻥ ﻳﺆﻣﺮ ﻗﺒﻞ ﺃﻥ ﻳﺮﺗﺪ ﺇﻟﻴﻪ ﻃﺮﻓﻪ , ﻛﺄﻥ ﻋﻴﻨﻴﻪ ﻛﻮﻛﺒﺎﻥ ﺩﺭﻳﺎﻥ .(( ﺃﺧﺮﺟﻪ
ﺍﻟﺤﺎﻛﻢ
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: (( নিশ্চয়
শিঙ্গায় ফুৎকারের দায়িত্ব প্রাপ্ত ফেরেশ্তা ইসরাফীল আলাইহিস সালামের চক্ষু দায়িত্ব প্রাপ্তির পর থেকেই প্রস্তুত হয়ে
আরশের পানে অপলক তাকিয়ে আছে এ আশংকায় যে পলক ফেলার পূর্বেই যদি ফুৎকার দেয়ার নির্দেশ এসে যায়। তার চক্ষুদ্বয় যেন
দুটি আলোকোজ্জ্বল নক্ষত্র।[৪]
২- হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺍﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ﺧﻴﺮ ﻳﻮﻡ ﻃﻠﻌﺖ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ , ﻓﻴﻪ ﺧﻠﻖ ﺁﺩﻡ , ﻭﻓﻴﻪ ﺃﺩﺧﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ , ﻭﻓﻴﻪ ﺃﺧﺮﺝ ﻣﻨﻬﺎ , ﻭﻻ ﺗﻘﻮﻡ ﺍﻟﺴﺎﻋﺔ ﺇﻻ ﻓﻲ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ .(( ﺃﺧﺮﺟﻪ
ﻣﺴﻠﻢ
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
সূর্য উদিত হয় এমন দিনগুলোর মাঝে সর্বাপেক্ষা উত্তম দিন হচ্ছে জুমুআর দিন, এদিন নবী আদম আলাইহিস সালাম-কে সৃষ্টি করা
হয়েছে, এবং এদিনই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে আবার এদিনই সেখান থেকে বের করা হয়েছে, আর কেয়ামতও
জুমুআর দিনেই সঙ্ঘটিত হবে। [৫]
বা'ছ (পুনরুত্থান) এবং হাশর (সমবেত করণ)
একজন মানুষকে যে পর্বগুলো অতিক্রম করতে হবে:
মানুষের জীবনের মোট তিনটি পর্ব আছে। দুনিয়ার জীবন, বরযখ তথা কবর জীবন, অত:পর জান্নাত বা জাহান্নামের স্থায়ী জীবন।
মহান আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক জীবনের জন্য উপযোগী করে আলাদা আলাদা জীবন ব্যবস্থা ও বিধি-বিধান প্রদান করেছেন।
তিনি এ মানুষকে শরীর ও আত্মার সমন্বয়ে গঠন করেছেন। দুনিয়ার জীবনের বিধি-ব্যবস্থা শরীরকে কেন্দ্র করে প্রদান করেছেন,
আত্মা এখানে শরীরের অধীন। বরযখের বিধি-বিধান দিয়েছেন আত্মাকে কেন্দ্র করে শরীর এখানে আত্মার অধীন। আর
কেয়ামত দিবসের বিধান -নেয়ামত ও আযাব- দিয়েছেন শরীর ও আত্মা উভয়টিকে কেন্দ্র করে।
আল বা'ছ (পুনরুত্থান):
বা'ছ হচ্ছে: শিঙ্গায় দ্বিতীয় ফুৎকার দেয়ার পর সকল মৃতদেরকে জীবিত করা, তখন সকল মানুষ খালী পা, বিবস্ত্র ও খতনা-বিহীন
অবস্থায় আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিমিত্তে দন্ডায়মান হবে। এবং প্রত্যেক বাক্তি যে আক্বীদা ও বিশ্বাসের উপর মৃত্যু বরণ
করেছে তার উপর উত্থিত হবে।
১- আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﻭﻧﻔﺦ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻮﺭ ﻓﺈﺫﺍ ﻫﻢ ﻣﻦ ﺍﻷﺟﺪﺍﺙ ﺇﻟﻰ ﺭﺑﻬﻢ ﻳﻨﺴﻠﻮﻥ ... }ﻳﺲ : ৫১-৫২}
শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তখনই তারা কবর থেকে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে চলবে। তারা বলবে হায় আমাদের দুর্ভোগ! কে
আমাদেরকে নিদ্রাস্থল থেকে উত্থিত করল? রহমান আল্লাহতো এরই ওয়াদা দিয়েছিলেন এবং রাসূলগণ সত্য বলেছিলেন। (সূরা
ইয়াসীন: ৫১-৫২)
২- আল্লাহ তাআলা অন্যত্র বলছেন:
ﺛﻢ ﺇﻧﻜﻢ ﺑﻌﺪ ﺫﻟﻚ ﻟﻤﻴﺘﻮﻥ , ﺛﻢ ﺇﻧﻜﻢ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﺗﺒﻌﺜﻮﻥ . } ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻮﻥ : ১৫-১৬)
এরপর তোমরা মৃত্যুবরণ করবে। অত:পর কেয়ামতের দিন তোমরা পুনরুত্থিত হবে। ( সূরা আল- মুমিনূন:১৫-১৬)
পুনরুত্থানের বিবরণ:
আল্লাহ তাআলা আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করবেন। অত:পর শষ্য-সবজি যে ভাবে উৎপন্ন হয় মানুষ সে ভাবে মাটির নিচ থেকে বের
হয়ে আসবে।
১- আল্লাহ তাআলা বলছেন:
ﻭﻫﻮ ﺍﻟﺬﻱ ﻳﺮﺳﻞ ﺍﻟﺮﻳﺎﺡ ﺑﺸﺮﺍ ﺑﻴﻦ ﻳﺪﻱ ﺭﺣﻤﺘﻪ ... } ﺍﻷﻋﺮﺍﻑ : ৫৭}
তিনিই বৃষ্টির পূর্বে সুসংবাদবাহী বায়ূ পাঠিয়ে দেন। এমনকি যখন বায়ূরাশি পানিপূর্ণ মেঘমালা বয়ে আনে, তখন আমি এ
মেঘমালাকে একটি মৃত শহরের দিকে হাঁকিয়ে দেই। অত:পর এ মেঘ থেকে বৃষ্টিধারা বর্ষণ করি। অত:পর পানি দ্বারা সব রকমের
ফল উৎপন্ন করি। এমনিভাবে মৃতদেরকে বের করব যাতে তোমরা চিন্তা কর। ( সূরা আল আ'রাফ: ৫৭)
২- হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ )): ﻣﺎ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﻨﻔﺨﺘﻴﻦ ﺃﺭﺑﻌﻮﻥ (( ﻗﺎﻟﻮﺍ : ﻳﺎ ﺃﺑﺎ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺃﺭﺑﻌﻮﻥ ﻳﻮﻣﺎ؟ ﻗﺎﻝ: ﺃﺑﻴﺖ , ﻗﺎﻟﻮﺍ : ﺃﺭﺑﻌﻮﻥ ﺷﻬﺮﺍ ؟ ﻗﺎﻝ : ﺃﺑﻴﺖ , ﻗﺎﻟﻮﺍ : ﺃﺭﺑﻌﻮﻥ ﺳﻨﺔ ؟ ﻗﺎﻝ: ﺃﺑﻴﺖ
)) ﺛﻢ ﻳﻨﺰﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﻣﺎﺀ , ﻓﻴﻨﺒﺘﻮﻥ ﻛﻤﺎ ﻳﻨﺒﺖ ﺍﻟﺒﻘﻞ , ﻭ ﻟﻴﺲ ﻣﻦ ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ ﺷﻴﺊ ﺇﻻ ﻳﺒﻠﻰ ﺇﻻ ﻋﻈﻤﺎ ﻭﺍﺣﺪﺍ ﻭﻫﻮ ﻋﺠﺐ ﺍﻟﺬﻧﺐ , ﻭﻣﻨﻪ ﻳﺮﻛﺐ ﺍﻟﺨﻠﻖ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ .(( ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ
করছেন: দুই ফুৎকারের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান হচ্ছে চল্লিশ। লোকেরা জিজ্ঞেস করল: হে আবু হুরায়রা চল্লিশ কি, দিন? তিনি
বলেন: আমি (জবাব দিতে) অস্বীকার করলাম। লোকেরা বলল: তাহলে কি, চল্লিশ মাস? তিনি বলেন: আমি অস্বীকার করলাম।
এরপর লোকেরা আবারো জিজ্ঞেস করল? তাহলে কি চল্লিশ বছর? তিনি বলেন: আমি অস্বীকার করলাম। অত:পর আল্লাহ তাআলা
আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। ফলে তারা (মানুষ) শষ্য- সবজি উৎপন্ন হওয়ার ন্যায় ভূমি অভ্যন্তর থেকে এমতাবস্থায় বের হয়ে
আসবে যে, শুধুমাত্র একটি হাড় ব্যতীত মানুষের সবকিছু ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যাবে। অক্ষত থাকা হাড়কে বলা হয় "আজবুয যানাব"
কেয়ামত দিবসে তার থেকেই মানুষকে গঠন করা হবে।[৬]
কবর থেকে সর্ব প্রথম কাকে বের করা হবে:
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ )) : ﺃﻧﺎ ﺳﻴّﺪ ﻭﻟﺪ ﺁﺩﻡ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ , ﻭﺃﻭﻝ ﻣﻦ ﻳﻨﺸﻖ ﻋﻨﻪ ﺍﻟﻘﺒﺮ , ﻭﺃﻭﻝ ﺷﺎﻓﻊ ﻭﺃﻭﻝ ﻣﺸﻔﻊ .(( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
আমি কেয়ামতের দিন আদম সন্তানের নেতা, আমাকেই সর্ব প্রথম কবর থেকে বের করা হবে, আমিই সর্ব প্রথম সুপারিশকারী এবং
আমার সুপারিশই সর্ব প্রথম গ্রহণ করা হবে।[৭]
কেয়ামত দিবসে কাদের সমবেত করা হবে:
১-মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﻗﻞ ﺇﻥ ﺍﻷﻭﻟﻴﻦ ﻭﺍﻵﺧﺮﻳﻦ , ﻟﻤﺠﻤﻮﻋﻮﻥ ﺇﻟﻰ ﻣﻴﻘﺎﺕ ﻳﻮﻡ ﻣﻌﻠﻮﻡ }. ﺍﻟﻮﺍﻗﻌﺔ : ৪৯-৫০}
বলুন:পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণ। সবাই একত্রিত হবে এক নির্দিষ্ট দিনের নির্দিষ্ট সময়ে। (সূরা ওয়াকিয়া: ৪৯-৫০)
২-আল্লাহ তাআলা অন্যত্র বলছেন:
ﺇﻥ ﻛﻞ ﻣﻦ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﻤﺎﻭﺍﺕ ﻭ ﺍﻷﺭﺽ ﺇﻻ ﺀﺍﺗﻲ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﻋﺒﺪﺍ ... }ﻣﺮﻳﻢ : ৯৩-৯৫}
নভোমন্ডল ও ভূ- মন্ডলে কেউ নেই যে, দয়াময় আল্লাহর কাছে দাস হয়ে উপস্থিত হবে না। তাঁর কাছে তাদের পরিসংখ্যান রয়েছে
এবং তিনি তাদের গণনা করে রেখেছেন। কেয়ামতের দিন তাদের সবাই তাঁর কাছে একাকী অবস্থায় আসবে। (সূরা মারইয়াম:
৯৩-৯৫)
৩-মহান আল্লাহ তাআলা আরো বলছেন:
ﻭﻳﻮﻡ ﻧﺴﻴﺮ ﺍﻟﺠﺒﺎﻝ ﻭ ﺗﺮﻯ ﺍﻷﺭﺽ ﺑﺎﺭﺯﺓ ﻭﺗﺤﺸﺮﻧﺎﻫﻢ ... } ﺍﻟﻜﻬﻒ : ৪৭)
যেদিন আমি পর্বতসমূহকে পরিচালনা করব এবং আপনি পৃথিবীকে দেখবেন একটি উন্মুক্ত প্রান্তর এবং আমি মানুষকে একত্রিত
করব অত:পর তাদের কাউকে ছাড়ব না। {সূরা কাহফ:৪৭}
হাশরের ময়দানের বিবরণ
১-মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﻳﻮﻡ ﺗﺒﺪﻝ ﺍﻷﺭﺽ ﻏﻴﺮ ﺍﻷﺭﺽ ﻭ ﺍﻟﺴﻤﺎﻭﺍﺕ , ﻭﺑﺮﺯﻭﺍ ﻟﻠﻪ ﺍﻟﻮﺍﺣﺪ ﺍﻟﻘﻬﺎﺭ . } ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ : ৪৮}
যে দিন পরিবর্তিত করা হবে এ পৃথিবীকে অন্য পৃথিবীতে এবং পরিবর্তিত করা হবে আকাশসমূহকে এবং লোকেরা পরাক্রমশালী
এক আল্লাহর সামনে পেশ হবে।{ইবরাহীম: ৪৮}
২- হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺳﻬﻞ ﺑﻦ ﺳﻌﺪ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ )) : ﻳﺤﺸﺮ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﻋﻠﻰ ﺃﺭﺽ ﺑﻴﻀﺎﺀ ﻋﻔﺮﺍﺀ , ﻛﻘﺮﺻﺔ ﺍﻟﻨﻘﻲ , ﻟﻴﺲ ﻓﻴﻬﺎ ﻋﻠﻢ ﻷﺣﺪ .(( ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
সাহাবী সাহল বিন সা'আদ রাদিয়াল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন:
কেয়ামতের দিন সকল মানুষকে একটি চেপটা গোলাকার স্বচ্ছ রুটির ন্যায় (লালাভ) শুভ্র ভূমিতে একত্রিত করা হবে, সে ভূমি হবে
সম্পূর্ণ সমতল, কারো জন্য কোন নিদর্শন থাকবে না।[৮]
কেয়ামত দিবসে সৃষ্টজীবদের সমবেত করণের বিবরণ:
১- হাদীসে এসেছে
ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﻗﺎﻟﺖ : ﺳﻤﻌﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻘﻮﻝ: )) ﻳﺤﺸﺮ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﺣﻔﺎﺓ ﻋﺮﺍﺓ ﻏﺮﻻ (( ﻗﻠﺖ : ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ ﻭ ﺍﻟﺮﺟﺎﻝ ﺟﻤﻴﻌﺎ , ﻳﻨﻈﺮ ﺑﻌﻀﻬﻢ ﺇﻟﻰ ﺑﻌﺾ؟ ﻗﺎﻝ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ: )) ﻳﺎ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺍﻷﻣﺮ ﺃﺷﺪ ﻣﻦ ﺃﻥ ﻳﻨﻈﺮ ﺑﻌﻀﻬﻢ ﺇﻟﻰ ﺑﻌﺾ (( ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে
শুনেছি, রাসূলুল্লাহ বলেন: কেয়ামত দিবসে লোকদের নগ্নপদ, বিবস্ত্র ও খৎনা বিহীন অবস্থায় সমবেত করা হবে। আমি বললাম :
ইয়া রাসূলাল্লাহ ! নারী পুরুষ সকলে একসাথে-একে অপরের দিকে তাকাবে? বললেন: আয়েশা... বিষয়টি তাকা-তাকির চেয়েও
ভয়াবহ। [৯]
২- মুমিনবান্দাদের সমবেত করা হবে সম্মানিত অতিথি রূপে। যেমন মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﻳﻮﻡ ﻧﺤﺸﺮ ﺍﻟﻤﺘﻘﻴﻦ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﻭﻓﺪﺍ . } ﻣﺮﻳﻢ : ৮৫}
সেদিন আল্লাহভীরুদের দয়াময়-রহমানের কাছে সমবেত করব অতিথিরূপে।{সূরা মারইয়াম:৮৫}
৩-আর কাফেরদের সমবেত করা হবে অন্ধ, মুক,বধির, পপাসার্ত, নীল চক্ষু ও মুখে ভরদিয়ে চলা অবস্থায়। তাদের প্রথম দলকে শেষ দল
আসা পর্যন্ত আটকে রাখা হবে অত:পর সকলকে একসাথে জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নেয়া হবে।
১-আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﻭَﻧَﺤْﺸُﺮُﻫُﻢْ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻋَﻠَﻰ ﻭُﺟُﻮﻫِﻬِﻢْ ﻋُﻤْﻴًﺎ ﻭَﺑُﻜْﻤًﺎ ﻭَﺻُﻤًّﺎ ﻣَﺄْﻭَﺍﻫُﻢْ ﺟَﻬَﻨَّﻢُ ﻛُﻠَّﻤَﺎ ﺧَﺒَﺖْ ﺯِﺩْﻧَﺎﻫُﻢْ ﺳَﻌِﻴﺮًﺍ ﴿ ৯৭ ﴾ ﺫَﻟِﻚَ ﺟَﺰَﺍﺅُﻫُﻢْ ﺑِﺄَﻧَّﻬُﻢْ ﻛَﻔَﺮُﻭﺍ ﺑِﺂَﻳَﺎﺗِﻨَﺎ
আমি কেয়ামতের দিন তাদের সমবেত করব তাদের মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায়, অন্ধ, মুক ও বধির অবস্থায়। তাদের আবাসস্থল
জাহান্নাম। যখনই নির্বাপিত হওয়ার উপক্রম হবে আমি তখন তাদের জন্য অগ্নি আরো বৃদ্ধি করে দেব। এটাই তাদের শাস্তি।
কারণ তারা আমার নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করেছে।{সূরা ইসরা: ৯৭-৯৮}
২-আল্লাহ তাআলা অন্যত্র বলেন:
ﻭﻧﺴﻮﻕ ﺍﻟﻤﺠﺮﻣﻴﻦ ﺇﻟﻰ ﺟﻬﻨﻢ ﻭﺭﺩﺍ. } ﻣﺮﻳﻢ : ৮৬}
এবং অপরাধীদেরকে পিপাসার্ত অবস্থায় জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাব।{মারইয়াম:৮৬}
৩-অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
ﻳﻮﻡ ﻳﻨﻔﺦ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻮﺭ ﻭ ﻧﺤﺸﺮ ﺍﻟﻤﺠﺮﻣﻴﻦ ﻳﻮﻣﺌﺬ ﺯﺭﻗﺎ. }ﻃﻪ : ১০২}
যেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, সে দিন আমি অপরাধীদেরকে সমবেত করব নীল চক্ষু অবস্থায়।
{সূরা ত্বাহা: ৮৬}
৪-মহান আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
ﻭﻳﻮﻡ ﻳﺤﺸﺮ ﺃﻋﺪﺍﺀ ﺍﻟﻠﻪ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻨﺎﺭ ﻓﻬﻢ ﻳﻮﺯﻋﻮﻥ . } ﻓﺼﻠﺖ : ১৯}
যেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে অগ্নিকুন্ডের দিকে ঠেলে নেয়া হবে। এবং ওদের বিন্যস্ত করা হবে বিভিন্ন দলে। {সূরা ফুসসিলাত :
১৯}
৫- অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
ﺍﺣﺸﺮﻭﺍ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻇﻠﻤﻮﺍ ﻭ ﺃﺯﻭﺍﺟﻬﻢ ﻭ ﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﻌﺒﺪﻭﻥ . ﻣﻦ ﺩﻭﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﺎﻫﺪﻭﻫﻢ ﺇﻟﻰ ﺻﺮﺍﻁ ﺍﻟﺠﺤﻴﻢ . }ﺍﻟﺼﺎﻓﺎﺕ : ২২-২৩}
(ফেরেশতাদেরকে বলা হবে) একত্রিত কর যালেম ও তাদের দোসরদেরকে এবং তাদেরকে, যাদের তারা ইবাদত করত। আল্লাহর
পরিবর্তে এবং তাদেরকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাও জাহান্নামের পথে। {সূরা সাফফাত: ২২-২৩}
৬- হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺃﻧﺲ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺟﻼ ﻗﺎﻝ : ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ! ﻛﻴﻒ ﻳﺤﺸﺮ ﺍﻟﻜﺎﻓﺮ ﻋﻠﻰ ﻭﺟﻬﻪ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ؟ ﻗﺎﻝ: )) ﺃﻟﻴﺲ ﺍﻟﺬّﻱ ﺃﻣﺸﺎﻩ ﻋﻠﻰ ﺭﺟﻠﻴﻪ ﻓﻲ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻗﺎﺩﺭ ﻋﻠﻰ ﺃﻥ ﻳﻤﺸﻴﻪ ﻋﻠﻰ ﻭﺟﻬﻪ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ؟ (( ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ .
বিশিষ্ট সাহাবী আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল: ইয়া রাসূলুল্লাহ! কেয়ামতের
দিন কাফেরদেরকে চেহারার উপর ভর করে চলা অবস্থায় কি ভাবে সমবেত করা হবে? নবীজী বললেন: যিনি তাকে পৃথিবীতে
দু'পায়ের উপর ভর করে চালিয়েছেন তিনি কি কেয়ামতের দিন চেহারার উপর ভর করে চালাতে সক্ষম নন? [১০]
৪- কেয়ামত দিবসে মহান আল্লাহ তাআলা হিংস্র, গৃহপালিত, জংলী, ভারবাহী মোটকথা সকল প্রকার জন্তু এবং সর্ব প্রকার
পাখীদের একত্রিত করবেন। অত:পর পশুদের মাঝে কিসাস ভিত্তিক বিচার সঙ্ঘটিত হবে। শিংযুক্ত যে বকরী শিংবিহীন
বকরীকে গুঁতো মেরেছিল তার থেকে কিসাস নেয়া হবে। আল্লাহ তাআলা জন্তুদের মাঝে কেসাস বাস্তবায়ন করে তাদের
বলবেন: তোমরা মাটি হয়ে যাও।
আল্লাহ বলছেন:
ﻭَﻣَﺎ ﻣِﻦْ ﺩَﺍﺑَّﺔٍ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﻭَﻟَﺎ ﻃَﺎﺋِﺮٍ ﻳَﻄِﻴﺮُ ﺑِﺠَﻨَﺎﺣَﻴْﻪِ ﺇِﻟَّﺎ ﺃُﻣَﻢٌ ﺃَﻣْﺜَﺎﻟُﻜُﻢْ ﻣَﺎ ﻓَﺮَّﻃْﻨَﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﻣِﻦْ ﺷَﻲْﺀٍ ﺛُﻢَّ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﺑِّﻬِﻢْ ﻳُﺤْﺸَﺮُﻭﻥَ ﺍﻷﻧﻌﺎﻡ :৩৮
আর যত প্রকার প্রাণী পৃথিবীতে বিচরণশীল রয়েছে আর যত প্রকার পাখী দ'ডানাযোগে উড়ে বেড়ায় তারা সবাই তোমাদের মতই
একেকটি শ্রেণী। আমি কোন কিছুই লিখতে ছাড়িনি।অত:পর সবাই স্বীয় প্রতিপালকের নিকট সমবেত হবে।(সূরা আনআম: ৩৮)
কেয়ামত দিবসের ভয়াবহতা
কেয়ামত দিবস: খুবই ভয়াবহ ও বিরাট গুরুত্বপূর্ণ দিন। সেদিন মানুষ মারাত্মক ভাবে আতংক গ্রস্থ ও ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে।
চক্ষুসমূহ হবে বিস্ফোরিত। মহান আল্লাহ তাআলা সেদিনটি মুমিনদের জন্য করেছেন যোহর ও আসর নামাযের মধ্যবর্তী সময়ের
সমান। আর অবিশ্বাসী-কাফেরদের জন্য করেছেন পঞ্চাশ হাজার বছেরের সমান।
আমরা এখানে সেদিনের কিছু ভয়াবহতার দৃশ্য তুলে ধরছি।
১- কোরআন হাকীমে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন।
ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻧُﻔِﺦَ ﻓِﻲ ﺍﻟﺼُّﻮﺭِ ﻧَﻔْﺨَﺔٌ ﻭَﺍﺣِﺪَﺓٌ ﴿১৩﴾ ﻭَﺣُﻤِﻠَﺖِ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽُ ﻭَﺍﻟْﺠِﺒَﺎﻝُ ﻓَﺪُﻛَّﺘَﺎ ﺩَﻛَّﺔً ﻭَﺍﺣِﺪَﺓً ﴿ ১৪ ﴾ ﻓَﻴَﻮْﻣَﺌِﺬٍ ﻭَﻗَﻌَﺖِ ﺍﻟْﻮَﺍﻗِﻌَﺔُ ﴿১৫ ﴾ ﻭَﺍﻧْﺸَﻘَّﺖِ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀُ ﻓَﻬِﻲَ ﻳَﻮْﻣَﺌِﺬٍ ﻭَﺍﻫِﻴَﺔٌ ﴿ ১৬ ﴾
যখন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে- একটি মাত্র ফুৎকার। আর যমীন ও পর্বত মালাকে উত্তোলন করা হবে এবং একই ধাক্কায় চূর্ণ-
বিচূর্ণ করে দেয়া হবে। সেদিন যা সঙ্ঘটিত হওয়ার (কেয়ামত) সঙ্ঘটিত হয়ে যাবে। আকাশ বিদীর্ণ হয়ে শক্তিহীন ও বিক্ষিপ্ত
হয়ে পড়বে।{সূরা আল-হাক্কাহ:১৩-১৬}
২-আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা অন্যত্র বলছেন:
ﺇِﺫَﺍ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲُ ﻛُﻮِّﺭَﺕْ ﴿ ১﴾ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺍﻟﻨُّﺠُﻮﻡُ ﺍﻧْﻜَﺪَﺭَﺕْ ﴿২ ﴾ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺍﻟْﺠِﺒَﺎﻝُ ﺳُﻴِّﺮَﺕْ ﴿৩﴾ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺍﻟْﻌِﺸَﺎﺭُ ﻋُﻄِّﻠَﺖْ ﴿৪ ﴾ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺍﻟْﻮُﺣُﻮﺵُ ﺣُﺸِﺮَﺕْ ﴿৫ ﴾ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺍﻟْﺒِﺤَﺎﺭُ ﺳُﺠِّﺮَﺕْ ﴿ ৬﴾ ﺍﻟﺘﻜﻮﻳﺮ: ১-৬
সূর্যকে যখন দীপ্তিহীন করা হবে, যখন নক্ষত্ররাজি খসে পড়ে মলিন হয়ে যাবে, পর্বতমালা যখন অপসারিত হবে, যখন পূর্ণ-গর্ভা
(দশ মাসের গর্ভবতী) উষ্ট্রী উপেক্ষিত হবে, যখন বন্য পশুগুলিকে একত্রিত করা হবে এবং সমুদ্রগুলিকে যখন উত্তাল-উদ্বেলিত করা
হবে। {সূরা আত্ তাকভীর:১-৬}
৩-আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
ﺇِﺫَﺍ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀُ ﺍﻧْﻔَﻄَﺮَﺕْ ﴿১ ﴾ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺍﻟْﻜَﻮَﺍﻛِﺐُ ﺍﻧْﺘَﺜَﺮَﺕْ ﴿ ২ ﴾ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺍﻟْﺒِﺤَﺎﺭُ ﻓُﺠِّﺮَﺕْ ﴿ ৩﴾ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺍﻟْﻘُﺒُﻮﺭُ ﺑُﻌْﺜِﺮَﺕْ ﴿ ৪ ﴾ { ﺍﻻﻧﻔﻄﺎﺭ :১-৪}
যখন আকাশ ফেটে যাবে,যখন তারকারাজি বিক্ষিপ্তভাবে ঝরে পড়বে,যখন সমুদ্রগুলিকে উত্তাল-উদ্বেলিত করে তোলা হবে।যখন
কবরসমূহ উন্মোচিত হবে। {সূরা ইনফিতার:১-৪}
৪- আল্লাহ তাআলা আরো বলছেন:
ﺇِﺫَﺍ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀُ ﺍﻧْﺸَﻘَّﺖْ ﴿ ১﴾ ﻭَﺃَﺫِﻧَﺖْ ﻟِﺮَﺑِّﻬَﺎ ﻭَﺣُﻘَّﺖْ ﴿ ২ ﴾ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽُ ﻣُﺪَّﺕْ ﴿ ৩﴾ ﻭَﺃَﻟْﻘَﺖْ ﻣَﺎ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻭَﺗَﺨَﻠَّﺖْ ﴿৪ ﴾ ﻭَﺃَﺫِﻧَﺖْ ﻟِﺮَﺑِّﻬَﺎ ﻭَﺣُﻘَّﺖْ ﴿ ৫﴾ { ﺍﻻﻧﺸﻘﺎﻕ: ১-৫}
যখন আকাশ ফেটে যাবে এবং স্বীয় প্রতিপালকের আদেশ পালন করবে এবং এটিই তার উপযুক্ত করণীয়। এবং পৃথিবীকে যখন
সম্প্রসারিত করা হবে। এবং পৃথিবী তার গর্ভস্থিত সবকিছু বাইরে নিক্ষেপ করবে ও গর্ভশূন্য হয়ে যাবে। এবং সে তার
প্রতিপালকের আদেশ পালন করবে এবং এটিই তার উপযুক্ত করণীয়। {সূরা আল-ইনশিকাক:১-৫}
৫-মহান প্রতিপালক আল্লাহ তাআলা অন্যত্র ইরশাদ করছেন:
ﺇِﺫَﺍ ﻭَﻗَﻌَﺖِ ﺍﻟْﻮَﺍﻗِﻌَﺔُ ﴿১ ﴾ ﻟَﻴْﺲَ ﻟِﻮَﻗْﻌَﺘِﻬَﺎ ﻛَﺎﺫِﺑَﺔٌ ﴿২ ﴾ ﺧَﺎﻓِﻀَﺔٌ ﺭَﺍﻓِﻌَﺔٌ ﴿৩﴾ ﺇِﺫَﺍ ﺭُﺟَّﺖِ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽُ ﺭَﺟًّﺎ ﴿৪ ﴾ ﻭَﺑُﺴَّﺖِ ﺍﻟْﺠِﺒَﺎﻝُ ﺑَﺴًّﺎ ﴿ ৫ ﴾ ﻓَﻜَﺎﻧَﺖْ ﻫَﺒَﺎﺀً ﻣُﻨْﺒَﺜًّﺎ ﴿ ৬﴾ { ﺍﻟﻮﺍﻗﻌﺔ : ১-৬}
যখন কেয়ামত সঙ্ঘটিত হবে, যার বাস্তবতায় কোন সংশয় নেই, এটা কাউকে করবে নীচ, কাউকেও করবে সমুন্নত, যখন প্রবল ভাবে
প্রকম্পিত হবে পৃথিবী এবং পর্বতমাল ভেঙ্গে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে তখন সেটি পরিণত হবে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকনায়।{সূরা আল-
ওয়াকিয়া: ১-৬}
৬- হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : )) ﻣﻦ ﺳﺮﻩ ﺃﻥ ﻳﻨﻈﺮ ﺇﻟﻰ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﻛﺄﻧﻪ ﺭﺃﻱ ﻋﻴﻦ ﻓﻠﻴﻘﺮﺃ: ‏( ﺇﺫﺍ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﻛﻮﺭﺕ ‏) ﻭ ‏( ﺇﺫﺍ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺍﻧﻔﻄﺮﺕ ‏) ﻭ ‏( ﺇﺫﺍ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺍﻧﺸﻘﺖ ‏). ﺃﺧﺮﺟﻪ
ﺃﺣﻤﺪ ﻭ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ
বিশিষ্ট সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
ইরশাদ করেন : কেয়ামত দিবসের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে যে ব্যক্তি নিজ চোখে দেখার মত করে জানতে চায় সে যেন এ সূরা
তিনটি পড়ে নেয়। সূরাগুলো হচ্ছে: তাকভীর, ইনফিতার এবং ইনশিকাক।[১১]
কেয়ামত দিবসে আকাশ ও পৃথিবীকে পরিবর্তন করণ:
১-মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﻳﻮﻡ ﺗﺒﺪﻝ ﺍﻷﺭﺽ ﻏﻴﺮ ﺍﻷﺭﺽ ﻭ ﺍﻟﺴﻤﺎﻭﺍﺕ , ﻭﺑﺮﺯﻭﺍ ﻟﻠﻪ ﺍﻟﻮﺍﺣﺪ ﺍﻟﻘﻬﺎﺭ . } ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ : ৪৮}
যে দিন পরিবর্তিত করা হবে এ পৃথিবীকে অন্য পৃথিবীতে এবং পরিবর্তিত করা হবে আকাশসমূহকে এবং লোকেরা পরাক্রমশালী
এক আল্লাহর সামনে বের হয়ে আসবে।{ইবরাহীম: ৪৮}
২- আল্লাহ তাআলা অন্যত্র বলছেন:
ﻳﻮﻡ ﻧﻄﻮﻱ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﻛﻄﻲ ﺍﻟﺴﺠﻞ ﻟﻠﻜﺘﺐ ﻛﻤﺎ ﺑﺪﺃﻧﺎ ﺃﻭﻝ ﺧﻠﻖ ﻧﻌﻴﺪﻩ ﻭﻋﺪﺍ ﻋﻠﻴﻨﺎ ﺇﻧﺎ ﻛﻨﺎ ﻓﺎﻋﻠﻴﻦ . } ﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀ : ১০৪}
সেদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে নেব, যেমন গুটানো হয় লিখিত কাগজপত্র। যেভাবে আমি প্রথম বার সৃষ্টি করেছিলাম, সেভাবে
পুনরায় সৃষ্টি করব। আমার ওয়াদা নিশ্চিত, আমাকে তা পূর্ণ করতেই হবে। {সূরা আম্বিয়া: ১০৪}
আকাশ ও পৃথিবীর পরিবর্তনের দিন লোকদের অবস্থান হবে কোথায়:
ﻋﻦ ﺛﻮﺑﺎﻥ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻣﻮﻟﻰ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﻛﻨﺖ ﻋﻨﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻓﺠﺎﺀ ﺣﺒﺮ ﻣﻦ ﺃﺣﺒﺎﺭ ﺍﻟﻴﻬﻮﺩ ... ـــ ﻓﻴﻪ ـــ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻟﻴﻬﻮﺩﻱ: ﺃﻳﻦ ﻳﻜﻮﻥ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻳﻮﻡ ﺗﺒﺪﻝ ﺍﻷﺭﺽ ﻏﻴﺮ ﺍﻷﺭﺽ ﻭ
ﺍﻟﺴﻤﺎﻭﺍﺕ ؟ﻓﻘﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: ))ﻫﻢ ﻓﻲ ﺍﻟﻈﻠﻤﺔ ﺩﻭﻥ ﺍﻟﺠﺴﺮ ,(( ﻭﻓﻲ ﺭﻭﺍﻳﺔ: )) ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺼﺮﺍﻁ .(( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ .
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাওলা ( মুক্ত দাস) ছাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ছিলাম, এরই মধ্যে তাঁর কাছে একজন ইহুদী পন্ডিত আসল... - তাতে আছে - ইহুদী বলল :
যে দিন এ পৃথিবীকে অন্য পৃথিবীতে এবং আকাশসমূহকে পরিবর্তন করা হবে সে দিন লোকেরা কোথায় থাকবে? রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:তারা পুলসিরাতের নিচে একটি অন্ধকারে থাকবে, অন্য রেওয়ায়াতে আছে:
পুলসিরাতের উপরে থাকবে। [১২]
অবস্থানস্থলে গরমের তীব্রতা ও ভয়াবহতা:
আল্লাহ তাআলা লোকদের উত্থিত করার পর কেয়ামতের প্রাঙ্গনসমূহের একটিতে বিচারকার্য সমাপ্ত করণার্থে নগ্ন পদ, বিবস্ত্র
ও খৎনা বিহীন অবস্থায় একত্রিত করবেন। সেদিন সূর্য মানুষের অতি নিকটে এসে যাবে। মানুষের শরীর নি:সৃত ঘাম সত্তর হাত
পর্যন্ত পৌছে যাবে।তারা নিজ নিজ আমল অনুপাতে ঘর্মাক্ত হবে।
১- হাদীসে এসেছে
ﻋﻦ ﺍﻟﻤﻘﺪﺍﺩ ﺑﻦ ﺍﻷﺳﻮﺩ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﺳﻤﻌﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻘﻮﻝ: )) ﺗﺪﻧﻰ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﺨﻠﻖ ,ﺣﺘﻰ ﺗﻜﻮﻥ ﻣﻨﻬﻢ ﻛﻤﻘﺪﺍﺭ ﻣﻴﻞ , ﻓﻴﻜﻮﻥ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻋﻠﻰ ﻗﺪﺭ ﺃﻋﻤﺎﻟﻬﻢ ﻓﻲ ﺍﻟﻌﺮﻕ ﻓﻤﻨﻬﻢ ﻣﻦ ﻳﻜﻮﻥ
ﺇﻟﻰ ﻛﻌﺒﻴﻪ , ﻭﻣﻨﻬﻢ ﻣﻦ ﻳﻜﻮﻥ ﺇﻟﻰ ﺭﻛﺒﺘﻴﻪ , ﻭ ﻣﻨﻬﻢ ﻣﻦ ﻳﻜﻮﻥ ﺇﻟﻰ ﺣﻘﻮﻳﻪ , ﻭﻣﻨﻬﻢ ﻣﻦ ﻳﻠﺠﻤﻪ ﺍﻟﻌﺮﻕ ﺇﻟﺠﺎﻣﺎ (( ﻗﺎﻝ : ﻭﺃﺷﺎﺭ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺑﻴﺪﻩ ﺇﻟﻰ ﻓﻴﻪ . ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ .
বিশিষ্ট সাহাবী মিকদাদ বিন আসওয়াদ রাদিয়ল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে
বলতে শুনেছি, কেয়ামত দিবসে সূর্য মানুষের অতি নিকটে করে দেয়া হবে। এমনকি সূর্য আর তাদের মাঝে দূরত্ব হবে মাত্র এক
মাইল। লোকেরা স্বীয় আমল অনুপাতে নিজ শরীর নি:সৃত ঘামের মাঝে অবস্থান করবে। তাদের কারো কারো ঘাম টাখনু পর্যন্ত
পৌছবে, কারো ঘাম হাটু পর্যন্ত পৌছবে, কারো কারো কোমর পর্যন্ত, আবার ঘাম কাউকে কাউকে লাগাম পড়াবে। বর্ণনাকারী
বলেন: এটি বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম নিজ মুখের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।[১৩]
২- হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ )): ﻳﻘﺒﺾ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻷﺭﺽ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ , ﻭﻳﻄﻮﻱ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺑﻴﻤﻴﻨﻪ ﺛﻢ ﻳﻘﻮﻝ: ﺃﻧﺎ ﺍﻟﻤﻠﻚ , ﺃﻳﻦ ﻣﻠﻮﻙ ﺍﻷﺭﺽ.؟ (( ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
প্রখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লম থেকে বর্ণনা করছেন,
রাসূলুল্লাহ বলেন: কেয়ামত দিবসে আল্লাহ তাআলা যমীনকে মুষ্টিবদ্ধ করবেন, এবং আকাশকে ডানহাত দ্বারা গুটিয়ে নেবেন.
অত:পর স্বগর্বে বলবেন: আমিই বাদশা, পৃথিবীর বাদশারা সব কোথায় ? [১৪]
অবস্থানস্থলে আল্লাহ কাদের ছায়া দান করবেন:
১- হাদীসে এসেছে
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: )) ﺳﺒﻌﺔ ﻳﻈﻠﻬﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻲ ﻇﻠﻪ ﻳﻮﻡ ﻻ ﻇﻞ ﺇﻻ ﻇﻠﻪ : ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺍﻟﻌﺎﺩﻝ , ﻭﺷﺎﺏ ﻧﺸﺄ ﻓﻲ ﻋﺒﺎﺩﺓ ﺭﺑﻪ , ﻭﺭﺟﻞ ﻗﻠﺒﻪ ﻣﻌﻠﻖ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺎﺟﺪ , ﻭﺭﺟﻼﻥ ﺗﺤﺎﺑﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﺟﺘﻤﻌﺎ
ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺗﻔﺮﻗﺎ ﻋﻠﻴﻪ , ﻭﺭﺟﻞ ﻃﻠﺒﺘﻪ ﺍﻣﺮﺃﺓ ﺫﺍﺕ ﻣﻨﺼﺐ ﻭ ﺟﻤﺎﻝ , ﻓﻘﺎﻝ : ﺇﻧﻲ ﺃﺧﺎﻑ ﺍﻟﻠﻪ , ﻭﺭﺟﻞ ﺗﺼﺪﻕ ﺃﺧﻔﻰ ﺣﺘﻰ ﻻ ﺗﻌﻠﻢ ﺷﻤﺎﻟﻪ ﻣﺎ ﺗﻨﻔﻖ ﻳﻤﻴﻨﻪ , ﻭﺭﺟﻞ ﺫﻛﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﺧﺎﻟﻴﺎ ﻓﻔﺎﺿﺖ ﻋﻴﻨﺎﻩ .(( ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ .
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করছেন,
নবীজী বলেন: সাত শ্রেণীর লোকদের মহান আল্লাহ তাআলা স্বীয় ছায়াতে ছায়া দান করবেন যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আরা
কোন ছায়া থাকবে না, ন্যায় পরায়ণ বাদশা, এমন যুবক যে স্বীয় পালনকর্তার ইবাদতের ভিতর দিয়ে বেড়ে উঠেছে, এমন ব্যক্তি
যার হৃদয় মসজিদের মধ্যে ঝুলে থাকে, এমন দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর কারণে পারস্পরিক ভালবাসায় আবদ্ধ হয়, আল্লার জন্যই
একত্রিত হয় আবার আল্লাহর জন্যই বিচ্ছিন্ন হয়, এমন ব্যক্তি যাকে মর্যাদা সম্পন্ন সুন্দরী রমণী পেতে আগ্রহ প্রকাশ করল আর সে
প্রত্যাখ্যান করে বলল, আমি আল্লাহকে ভয় করে, এমন ব্যক্তি যে এত গোপনে দান-সদকা করে যে ডান হাত হাত কি সদকা করে
বাম হাত তা জানে না, এমন ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণকরে অত:পর তার চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত হয়।[১৫]
২- হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﻋﻘﺒﺔ ﺑﻦ ﻋﺎﻣﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﺳﻤﻌﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻘﻮﻝ : ))ﻛﻞ ﺍﻣﺮﺉ ﻓﻲ ﻇﻞ ﺻﺪﻗﺘﻪ ﺣﺘﻰ ﻳﻔﺼﻞ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﻨﺎﺱ (( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺃﺣﻤﺪ ﻭ ﺍﺑﻦ ﺧﺰﻳﻤﺔ
সাহাবী উকবা বিন আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবীজী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে
শুনেছি, লোকদের মাঝে বিচারকার্য সম্পন্ন করা অবধি প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ নিজ দান-সদকার ছায়াতলে অবস্থান করবে।[১৬]
বিচার কার্য সম্পন্ন করার নিমিত্তে মহান আল্লাহ তাআলার আগমন:
কেয়ামত দিবসে মহান আল্লাহ তাআলা বিচার কার্য পরিচালনা করার নিমিত্তে আগমন করবেন। ফলে পৃথিবী তাঁর নূরে
আলোকোজ্জ্বল হয়ে যাবে এবং সমস্ত সৃষ্টি তার বড়ত্ব ও মহত্বের কারণে ভয়ে বেহুঁশ হয়ে যাবে।
১- মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
ﻛﻼ ﺇﺫﺍ ﺩﻛﺖ ﺍﻷﺭﺽ ﺩﻛﺎ ﺩﻛﺎ ﻭ ﺟﺎﺀ ﺭﺑﻚ ﻭ ﺍﻟﻤﻠﻚ ﺻﻔﺎ ﺻﻔﺎ. } ﺍﻟﻔﺠﺮ : ২১-২২}
না, এটা সঙ্গত নয়। যখন পৃথিবীকে ভেঙ্গে চূর্ণ-বিচূর্ণ করা হবে। এবং যখন আপনার প্রতিপালক আগমন করবেন, আর ফেরেশতাগন
সারিবদ্ধভাবে (থাকবে)। { সূরা আল- ফাজর: ২১-২২}
২- হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ )) : ﻻ ﺗﺨﻴﺮﻭﻧﻲ ﻋﻠﻰ ﻣﻮﺳﻰ , ﻓﺈﻥ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻳﺼﻌﻘﻮﻥ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﻓﺄﺻﻌﻖ ﻣﻌﻬﻢ , ﻓﺄﻛﻮﻥ ﺃﻭﻝ ﻣﻦ ﻳﻔﻴﻖ ﻓﺈﺫﺍ ﻣﻮﺳﻰ ﺑﺎﻃﺶ ﺟﺎﻧﺐ ﺍﻟﻌﺮﺵ , ﻓﻼ ﺃﺩﺭﻱ ﺃﻛﺎﻥ ﻓﻴﻤﻦ
ﺻﻌﻖ ﻓﺄﻓﺎﻕ ﻗﺒﻠﻲ , ﺃﻭ ﻛﺎﻥ ﻣﻤﻦ ﺍﺳﺘﺜﻨﻰ ﺍﻟﻠﻪ .(( ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবীজী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
তোমরা আমাকে নবী মূসার চেয়ে উত্তম বলোনা, কারণ কেয়ামত দিবসে সকল মানুষ বেহুঁশ হয়ে যাবে আমিও তাদের সাথে বেহুঁশ
হব। তবে আমিই সর্বপ্রথন চৈতন্য ফিরে পাব। হঠাৎ দেখব নবী মূসা আরশের পার্শ্বদেশ ধরে আছেন, আমি জানি না তিনিও
অচেতনদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন যে আমার পূর্বেই চেতনা ফিরে পেয়েছেন, না আল্লাহ তাআলা যাদের বাদ রেখেছেন তাদের
অন্তর্ভূক্ত ছিলেন? )) [১৭]
বিচার কার্য পরিচালনা
কেয়ামত দিবসে লোকেরা স্বীয় পালনকর্তার নিকট জড় হবে এবং তীব্র ভয় ও অবস্থানগত কষ্টের কারণে ক্লান্তি ও পেরেশানী
যখন সহ্যসীমার শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছবে, আপন প্রতিপালকের নিকট হিসাব ও বিচার কার্য শুরু করার প্রত্যাশা করবে। এক
পর্যায়ে অপেক্ষা ও অবস্থান যখন অতিদীর্ঘ হবে আর পেরেশানী সহ্যসীমা অতিক্রম করবে তখন তারা আম্বিয়া আলাইহিমুস
সালামের নিকট আল্লাহ তাআলার কাছে হিসাব ও বিচারকার্য শুরু করার সুপারিশ করার নিমিত্তে একত্রিত হবে।
১- মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﻫَﺬَﺍ ﻳَﻮْﻡُ ﻟَﺎ ﻳَﻨْﻄِﻘُﻮﻥَ ﴿৩৫ ﴾ ﻭَﻟَﺎ ﻳُﺆْﺫَﻥُ ﻟَﻬُﻢْ ﻓَﻴَﻌْﺘَﺬِﺭُﻭﻥَ ﴿ ৩৬﴾ ﻭَﻳْﻞٌ ﻳَﻮْﻣَﺌِﺬٍ ﻟِﻠْﻤُﻜَﺬِّﺑِﻴﻦَ ﴿৩৭ ﴾ ﻫَﺬَﺍ ﻳَﻮْﻡُ ﺍﻟْﻔَﺼْﻞِ ﺟَﻤَﻌْﻨَﺎﻛُﻢْ ﻭَﺍﻟْﺄَﻭَّﻟِﻴﻦَ ﴿ ৩৮﴾ ﻓَﺈِﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﻟَﻜُﻢْ ﻛَﻴْﺪٌ ﻓَﻜِﻴﺪُﻭﻥِ ﴿৩৯ ﴾ { ﺍﻟﻤﺮﺳﻼﺕ: ৩৫-৩৯}
এটা এমন দিন যেদিন কেউ কথা বলবে না। এবং কাউকে ওজর পেশ (তাওবা) করার অনুমতি দেয়া হবে না। সেদিন মিথ্যা
আরোপকারীদের দুর্ভোগ হবে। এটা চুড়ান্ত বিচারের দিন, আমি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে একত্রিত
করেছি। অতএব. তোমাদের কোন অপকৌশল থাকলে প্রয়োগ কর আমার বিরুদ্ধে। {সূরা আল-মুরসালাত: ৩৫-৩৯}
২- হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: )) ﺃﻧﺎ ﺳﻴّﺪ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﻭ ﻫﻞ ﺗﺪﺭﻭﻥ ﺑﻢ ﺫﺍﻙ؟ ﻳﺠﻤﻊ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﺍﻷﻭﻟﻴﻦ ﻭ ﺍﻵﺧﺮﻳﻦ ﻓﻲ ﺻﻌﻴﺪ ﻭﺍﺣﺪ , ﻓﻴﺴﻤﻌﻬﻢ ﺍﻟﺪﺍﻋﻲ , ﻭﻳﻨﻔﺬﻫﻢ ﺍﻟﺒﺼﺮ ,
ﻭﺗﺪﻧﻮ ﺍﻟﺸﻤﺲ , ﻓﻴﺒﻠﻎ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻣﻦ ﺍﻟﻐﻢ ﻭ ﺍﻟﻜﺮﺏ ﻣﺎ ﻻ ﻳﻄﻴﻘﻮﻥ , ﻭﻣﺎ ﻻ ﻳﺤﺘﻤﻠﻮﻥ , ﻓﻴﻘﻮﻝ ﺑﻌﺾ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻟﺒﻌﺾ : ﺃﻻ ﺗﺮﻭﻥ ﻣﺎ ﺃﻧﺘﻢ ﻓﻴﻪ؟ ﺃﻻ ﺗﺮﻭﻥ ﻣﺎ ﻗﺪ ﺑﻠﻐﻜﻢ ؟ ﺃﻻ ﺗﻨﻈﺮﻭﻥ ﻣﻦ ﻳﺸﻔﻊ ﻟﻜﻢ ﺇﻟﻰ ﺭﺑﻜﻢ ؟
ﻓﻴﻘﻮﻝ ﺑﻌﺾ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻟﺒﻌﺾ: ﺍﺋﺘﻮﺍ ﺁﺩﻡ , ﻓﻴﺄﺗﻮﻥ ﺁﺩﻡ , ﻓﻴﻘﻮﻟﻮﻥ : ﻳﺎ ﺁﺩﻡ ﺃﻧﺖ ﺃﺑﻮ ﺍﻟﺒﺸﺮ , ﺧﻠﻘﻚ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻴﺪﻩ , ﻭﻧﻔﺦ ﻓﻴﻚ ﻣﻦ ﺭﻭﺣﻪ , ﻭﺃﻣﺮ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﻓﺴﺠﺪﻭﺍ ﻟﻚ , ﺍﺷﻔﻊ ﻟﻨﺎ ﺇﻟﻰ ﺭﺑﻚ , ﺃﻻ ﺗﺮﻯ ﺇﻟﻰ ﻣﺎ ﻧﺤﻦ ﻓﻴﻪ , ﺃﻻ ﺗﺮﻯ ﺇﻟﻰ ﻣﺎ ﻗﺪ ﺑﻠﻐﻨﺎ ؟
ﻓﻴﻘﻮﻝ ﺁﺩﻡ: ﺇﻥ ﺭﺑﻲ ﻏﻀﺐ ﺍﻟﻴﻮﻡ ﻏﻀﺒﺎ ﻟﻢ ﻳﻐﻀﺐ ﻗﺒﻠﻪ ﻣﺜﻠﻪ , ﻭﻟﻦ ﻳﻐﻀﺐ ﺑﻌﺪﻩ ﻣﺜﻠﻪ , ﻭﺇﻧﻪ ﻧﻬﺎﻧﻲ ﻋﻦ ﺍﻟﺸﺠﺮﺓ ﻓﻌﺼﻴﺘﻪ , ﻧﻔﺴﻲ ﻧﻔﺴﻲ , ﺍﺫﻫﺒﻮﺍ ﺇﻟﻰ ﻏﻴﺮﻱ , ﻓﻴﺄﺗﻮﻥ ﻧﻮﺣﺎ , ﻓﺈﺑﺮﺍﻫﻴﻢ , ﻓﻤﻮﺳﻰ , ﻓﻌﻴﺴﻰ , ﻓﻴﻌﺘﺬﺭ ﻛﻞ ﻭﺍﺗﺤﺪ , ﻭﻛﻠﻬﻢ
ﻳﻘﻮﻟﻮﻥ: ﺇﻥ ﺭﺑﻲ ﻗﺪ ﻏﻀﺐ ﺍﻟﻴﻮﻡ ﻏﻀﺒﺎ ﻟﻢ ﻳﻐﻀﺐ ﻗﺒﻠﻪ ﻣﺜﻠﻪ , ﻭﻟﻦ ﻳﻐﻀﺐ ﺑﻌﺪﻩ ﻣﺜﻠﻪ ... ﻧﻔﺴﻲ ﻧﻔﺴﻲ .
ﺛﻢ ﻳﻘﻮﻝ ﻋﻴﺴﻰ: ﺍﺫﻫﺒﻮﺍ ﺇﻟﻰ ﻏﻴﺮﻱ , ﺇﺩﻫﺒﻮﺍ ﺇﻟﻰ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻴﺄﺗﻮﻧﻲ ﻓﻴﻘﻮﻟﻮﻥ : ﻳﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﺃﻧﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ , ﻭﺧﺎﺗﻢ ﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀ , ﻭﻏﻔﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻚ ﻣﺎ ﺗﻘﺪﻡ ﻣﻦ ﺫﻧﺒﻚ ﻭ ﻣﺎ ﺗﺄﺧﺮ , ﺍﺷﻔﻊ ﻟﻨﺎ ﺇﻟﻰ ﺭﺑﻚ , ﺃﻻ ﺗﺮﻯ ﻣﺎ ﻧﺤﻦ ﻓﻴﻪ ؟
ﺃﻻ ﺗﺮﻱ ﻣﺎ ﻗﺪ ﺑﻠﻐﻨﺎ ؟
ﻓﺄﻧﻄﻠﻖ ﻓﺂﺗﻲ ﺗﺤﺖ ﺍﻟﻌﺮﺵ , ﻓﺄﻗﻊ ﺳﺎﺟﺪﺍ ﻟﺮﺑﻲ , ﺛﻢ ﻳﻔﺘﺢ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻲّ ﻭﻳﻠﻬﻤﻨﻲ ﻣﻦ ﻣﺤﺎﻣﺪﻩ , ﻭﺣﺴﻦ ﺍﻟﺜﻨﺎﺀ ﻋﻠﻴﻪ ﺷﻴﺌﺎ ﻟﻢ ﻳﻔﺘﺤﻪ ﻷﺣﺪ ﻗﺒﻠﻲ , ﺛﻢ ﻳﻘﺎﻝ: ﻳﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﺍﺭﻓﻊ ﺭﺃﺳﻚ , ﺳﻞ ﺗﻌﻄﻪ , ﺍﺷﻔﻊ ﺗﺸﻔّﻊ , ﻓﺄﺭﻓﻊ ﺭﺃﺳﻲ , ﻓﺄﻗﻮﻝ: ﻳﺎ ﺭﺏّ ﺃﻣﺘﻲ
ﺃﻣﺘﻲ .
ﻓﻴﻘﺎﻝ: ﻳﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﺃﺩﺧﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻣﻦ ﺃﻣﺘﻚ ﻣﻦ ﻻ ﺣﺴﺎﺏ ﻋﻠﻴﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﺒﺎﺏ ﺍﻷﻳﻤﻦ ﻣﻦ ﺃﺑﻮﺍﺏ ﺍﻟﺠﻨﺔ , ﻭﻫﻢ ﺷﺮﻛﺎﺀ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻓﻴﻤﺎ ﺳﻮﻯ ﺫﻟﻚ ﻣﻦ ﺍﻷﺑﻮﺍﺏ , ﻭﺍﻟﺬﻱ ﻧﻔﺲ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻴﺪﻩ ﺇﻥ ﻣﺎ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﻤﺼﺮﺍﻋﻴﻦ ﻣﻦ ﻣﺼﺎﺭﻳﻊ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻟﻜﻤﺎ ﺑﻴﻦ ﻣﻜﺔ ﻭ
ﻫﺠﺮ , ﺃﻭ ﻛﻤﺎ ﺑﻴﻦ ﻣﻜﺔ ﻭﺑﺼﺮﻯ . ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
কেয়ামতের দিন আমি সকল মানুষের নেতা। তোমরা কি জান সেটি কিভাবে হবে? আল্লাহ তাআলা সেদিন পূর্ববর্তী এবং
পরবর্তী সকলকে এক ময়দানে সমবেত করবেন। এমন ভাবে যে তাদেরকে একজন আহ্বানকারীই শুনাতে পারবে এবং একটি চক্ষুই
পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। আকাশের সূর্য খুব নিকটবর্তী হবে। মানুষের চিন্তা ও পেরেশানী সহ্যেরসীমা ছাড়িয়ে যাবে। তখন
একজন অপরজনকে বলবে। তোমরা কি দেখছনা তোমরা কি অবস্থায় আছ? তোমরা কি অনুধাবন করতে পারছনা কি কঠিন
পরিস্থিতি তোমাদের উপর এসে পড়েছে? তোমরা কেন খুজে বের করছ না, যে তোমাদের জন্য তোমাদের পালনকর্তার নিকট
সুপারিশ করবে?
তখন একে অপরকে বলবে: তোমরা আদমের নিকট যাও। অত:পর সকলে আদম আলাইহিসসালামের নিকট যাবে এবং বলবে : হে আদম
আপনি মানবজাতির পিতা, মহান আল্লাহ তাআলা নিজ হাতে আপনাকে বানিয়েছেন। তারঁ রূহ থেকে আপনার মধ্যে ফুঁকে
দিয়েছেন, এবং ফেরেশতাদের নির্দেশ দিয়েছেন তারা সকলে আপনার তরে সেজদায় লুটিয়ে পড়েছিল। আপনি আমাদের জন্য
স্বীয় পালনকর্তার নিকট সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না কি কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়েছি আমরা। আপনি কি
দেখতে পাচ্ছেন না কি বিপদ এসে পড়েছে আমাদের উপর?
আদম আলাইহিস সালাম বলবেন: আমার প্রতিপালক আজ ক্রোধান্বিত হয়েছেন, এমন রাগান্বিত ইতিপূর্বে আর কখনো হননি,
ভবিষ্যতে আর কখনো হবেনও না। তিনি আমাকে একটি গাছের কাছে যেতে নিষেধ করেছিলেন, আমি সে নিষেধাজ্ঞা রক্ষা
করতে পারিনি। নফসী নফসী; হায় আমার কি হবে, হায় আমার কি হবে। তোমরা অন্য কারো কাছে যাও। এরপর লোকেরা নবী নূহ
আত:পর ইবরাহীম তারপর মূসা এরপর ঈসা আলাইহিমুস সালামের নিকট আসবে, তাঁরা প্রত্যেকেই অপারগতা প্রকাশ করবেন।
প্রত্যেকেই বলবেন: আমার প্রতিপালক আজ খুবই ক্রুদ্ধ হয়েছেন, এমন রাগান্বিত অতীতে তিনি আর কখনো হননি এবং ভবিষ্যতেও
হবেন না... নফসী নফসী ; হায় আমার কি হবে, হায় আমার কি হবে।
অত:পর ঈসা আলাইহিস সালাম বলবেন: তোমরা আমি ভিন্ন অন্য কারো কাছে যাও, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের কাছে যাও। তারা তাই করবে, সকলে আমার নিকট আসবে এবং বলবে: হে মুহাম্মাদ ! আপনি আল্লাহর রাসূল,
নবীদের পরম্পরা সমাপ্তকারী-সর্বশেন নবী। আল্লাহ তাআলা আপনার পূর্বাপর সকল অপরাধ ক্ষমা করে দিয়েছেন। আপনি
আমাদের তরে স্বীয় প্রতিপালকের নিকট সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না কি পরিস্থিতির মধ্যে আছি আমরা? কি কঠিন
বিপদ আমাদের স্পর্শ করেছে তা আপনি দেখতে পাচ্ছেন না?
এরপর আমি আরশের নিচে এসে পৌঁছব এবং আমার রব সমীপে সেজদায় লুটিয়ে পড়ব। অত:পর আল্লাহ তাআলা তাঁর এমন কিছু সুন্দর ও
প্রশংসা যোগ্য গুণ আমার কাছে এলহামের মাধ্যমে উন্মোক্ত করবেন যা ইতোপূর্বে আর কারো কাছে করেননি। অত:পর বলা হবে:
হে মুহাম্মাদ ! মাথা উত্তলন করুন, প্রার্থনা করুন আপনাকে প্রার্থিত বস্তু দেয়া হবে, সুপারিশ করুন আপনার সুপারিশ গ্রহণ করা
হবে। আমি মাথা উঠিয়ে বলব: উম্মাতী উম্মাতী ! হায় আমার উম্মতের কি হবে ! আমার উম্মতের কি হবে।
বলা হবে: হে মুহাম্মাদ! আপনার উম্মতের যাদের কোন হিসাব নেই তাদেরকে আপনি জান্নাতের দারসমূহের ডান পার্শ্বস্থ
দরজা দিয়ে প্রবেশ করান। অবশ্য তারা অন্যান্য মানুষের সঙ্গে জান্নাতের অপরাপর দরজা দিয়ে প্রবেশ করার অধিকারও রাখে।
মুহাম্মাদের জীবন যার হাতে সে সত্ত্বার শপথ করে বলছি: জান্নাতের দরজার দুই কপাটের মাঝের দূরত্ব মক্কা ও হাজার অথবা
মক্কা ও বুসরার মধ্যবর্তী স্থানের দূরত্বের সমান।[১৮]
অত:পর আল্লাহ তাআলা মানুষের মাঝে হিসাব কার্য শুরু করবেন। কিতাব তথা আমল নামা প্রদান করা হবে, মীযান তথা
দাড়িপাল্লা রাখা হবে এবং লোকদের হিসাব নেয়া হবে। স্বীয় কিতাব ডান হাতে গ্রহণকারী জান্নাতে যাবে আর বাম
হাতে গ্রহণকারী যাবে জাহান্নামে।
১- আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﻭﺗﺮﻯ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﺣﺎﻓﻴﻦ ﻣﻦ ﺣﻮﻝ ﺍﻟﻌﺮﺵ ﻳﺴﺒﺤﻮﻥ ﺑﺤﻤﺪ ﺭﺑﻬﻢ ﻭﻗﻀﻲ ﺑﻴﻨﻬﻢ ﺑﺎﻟﺤﻖ ﻭﻗﻴﻞ ﺍﻟﺤﻤﺪ ﻟﻠﻪ ﺭﺏ ﺍﻟﻌﺎﻟﻤﻴﻦ }ﺍﻟﺰﻣﺮ :৭৫}
এবং আপনি ফেরেশতাদের দেখতে পাবেন যে তারা আরশের চার পাশ ঘিরে তাদের প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও
মহিমা ঘোষণা করছে। তাদের সবার মাঝে ন্যায় বিচার করা হবে। বলা হবে, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ
তাআলার।{সূরা যুমার: ৭৫}
২-হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺳﻌﻴﺪ ﺍﻟﺨﺪﺭﻱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﻠﻨﺎ : ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ,, ﻫﻞ ﻧﺮﻯ ﺭﺑﻨﺎ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ؟ ﻗﺎﻝ: )) ﻫﻞ ﺗﻀﺎﺭﻭﻥ ﻓﻲ ﺭﺅﻳﺔ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﻭ ﺍﻟﻘﻤﺮ ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻧﺖ ﺻﺤﻮﺍ .(( ﻗﻠﻨﺎ : ﻻ . ﻗﺎﻝ: )) ﻓﺈﻧﻜﻢ ﻻ ﺗﻀﺎﺭﻭﻥ ﻓﻲ ﺭﺅﻳﺔ ﺭﺑﻜﻢ ﻳﻮﻣﺌﺬ
ﺇﻻ ﻛﻤﺎ ﺗﻀﺎﺭﻭﻥ ﻓﻲ ﺭﺅﻳﺘﻬﻤﺎ .(( ﺛﻢ ﻗﺎﻝ: )) ﻳﻨﺎﺩﻱ ﻣﻨﺎﺩ : ﻟﻴﺬﻫﺐ ﻛﻞ ﻗﻮﻡ ﺇﻟﻰ ﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﻌﺒﺪﻭﻥ , ﻓﻴﺬﻫﺐ ﺃﺻﺤﺎﺏ ﺍﻟﺼﻠﻴﺐ ﻣﻊ ﺻﻠﻴﺒﻬﻢ , ﻭﺃﺻﺤﺎﺏ ﺍﻷﻭﺛﺎﻥ ﻣﻊ ﺃﻭﺛﺎﻧﻬﻢ , ﻭﺃﺻﺤﺎﺏ ﻛﻞ ﺁﻟﻬﺔ ﻣﻊ ﺁﻟﻬﺘﻬﻢ , ﺣﺘﻰ ﻳﺒﻘﻰ ﻣﻦ ﻛﺎﻥ ﻳﻌﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ,
ﻣﻦ ﺑﺮّ ﺃﻭ ﻓﺎﺟﺮ , ﻭﻏﺒﺮﺍﺕ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ,
ﺛﻢ ﻳﺆﺗﻰ ﺑﺠﻬﻨﻢ ﺗﻌﺮﺽ ﻛﺄﻧﻬﺎ ﺳﺮﺍﺏ , ﻓﻴﻘﺎﻝ ﻟﻠﻴﻬﻮﺩ: ﻣﺎ ﻛﻨﺘﻢ ﺗﻌﺒﺪﻭﻥ ؟ ﻗﺎﻟﻮﺍ: ﻛﻨﺎ ﻧﻌﺒﺪ ﻋﺰﻳﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﻠﻪ ,,ﻓﻴﻘﺎﻝ: ﻛﺬﺑﺘﻢ , ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﺻﺎﺣﺒﺔ ﻭ ﻻ ﻭﻟﺪ , ﻓﻤﺎ ﺗﺮﻳﺪﻭﻥ؟ ﻗﺎﻟﻮﺍ: ﻧﺮﻳﺪ ﺃﻥ ﺗﺴﻘﻴﻨﺎ , ﻓﻴﻘﺎﻝ: ﺍﺷﺮﺑﻮﺍ , ﻓﻴﺘﺴﺎﻗﻄﻮﻥ ﻓﻲ ﺟﻬﻨﻢ . ﺛﻢ ﻳﻘﺎﻝ
ﻟﻠﻨﺼﺎﺭﻯ : ﻣﺎ ﻛﻨﺘﻢ ﺗﻌﺒﺪﻭﻥ ؟ ﻓﻴﻘﻮﻟﻮﻥ : ﻛﻨﺎ ﻧﻌﺒﺪ ﺍﻟﻤﺴﻴﺢ ﺑﻦ ﺍﻟﻠﻪ ,, ﻓﻴﻘﺎﻝ: ﻛﺬﺑﺘﻢ , ﻟﻢ ﻳﻜﻦ , ﺻﺎﺣﺒﺔ ﻭ ﻻ ﻭﻟﺪ , ﻓﻤﺎ ﺗﺮﻳﺪﻭﻥ؟ ﻓﻴﻘﻮﻟﻮﻥ : ﻧﺮﻳﺪ ﺃﻥ ﺗﺴﻘﻴﻨﺎ , ﻓﻴﻘﺎﻝ: ﺍﺷﺮﺑﻮﺍ , ﻓﻴﺘﺴﺎﻗﻄﻮﻥ .
ﺣﺘﻰ ﻳﺒﻘﻰ ﻣﻦ ﻛﺎﻥ ﻳﻌﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ , ﻣﻦ ﺑﺮ ﺃﻭ ﻓﺎﺟﺮ , ﻓﻴﻘﺎﻝ ﻟﻬﻢ : ﻣﺎ ﻳﺤﺒﺴﻜﻢ ﻭﻗﺪ ﺫﻫﺐ ﺍﻟﻨﺎﺱ؟ ﻓﻴﻘﻮﻟﻮﻥ: ﻓﺎﺭﻗﻨﺎﻫﻢ ﻭﻧﺤﻦ ﺃﺣﻮﺝ ﻣﻨﺎ ﺇﻟﻴﻪ ﺍﻟﻴﻮﻡ , ﻭﺇﻧﺎ ﺳﻤﻌﻨﺎ ﻣﻨﺎﺩﻳﺎ ﻳﻨﺎﺩﻱ: ﻟﻴﻠﺤﻖ ﻛﻞ ﻗﻮﻡ ﺑﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﻌﺒﺪﻭﻥ , ﻭ ﺇﻧﺎ ﻧﻨﺘﻈﺮ ﺭﺑﻨﺎ . ﻗﺎﻝ:
ﻓﻴﺄﺗﻴﻬﻢ ﺍﻟﺠﺒﺎﺭ ﻓﻲ ﺻﻮﺭﺓ ﻏﻴﺮ ﺻﻮﺭﺗﻪ ﺍﻟﺘﻲ ﺭﺃﻭﻩ ﻓﻴﻬﺎ ﺃﻭﻝ ﻣﺮﺓ . ﻓﻴﻘﻮﻝ : ﺃﻧﺎ ﺭﺑﻜﻢ , ﻓﻴﻘﻮﻟﻮﻥ : ﺃﻧﺖ ﺭﺑﻨﺎ , ﻓﻼ ﻳﻜﻠﻤﻪ ﺇﻻ ﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀ .
ﻓﻴﻘﻮﻝ : ﻫﻞ ﺑﻴﻨﻜﻢ ﻭ ﺑﻴﻨﻪ ﺁﻳﺔ ﺗﻌﺮﻓﻮﻧﻪ , ﻓﻴﻘﻮﻟﻮﻥ : ﺍﻟﺴﺎﻕ , ﻓﻴﻜﺸﻒ ﻋﻦ ﺳﺎﻗﻪ , ﻓﻴﺴﺠﺪ ﻛﻞ ﻣﺆﻣﻦ , ﻭﻳﺒﻘﻰ ﻣﻦ ﻛﺎﻥ ﻳﺴﺠﺪ ﺭﻳﺎﺀ ﻭ ﺳﻤﻌﺔ , ﻓﻴﺬﻫﺐ ﻛﻴﻤﺎ ﻳﺴﺠﺪ ﻓﻴﻌﻮﺩ ﻇﻬﺮﻩ ﻃﺒﻘﺎ ﻭﺍﺣﺪﺍ. ﺛﻢ ﻳﺆﺗﻰ ﺑﺎﻟﺠﺴﺮ ﻓﻴﺠﻌﻞ ﺑﻴﻦ ﻇﻬﺮﻱ
ﺟﻬﻨﻢ (( . ﻗﻠﻨﺎ : ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ,, ﻭﻣﺎ ﺍﻟﺠﺴﺮ؟
ﻗﺎﻝ )) : ﻣﺪﺣﻀﺔ ﻣﺰﻟﺔ , ﻋﻠﻴﻪ ﺧﻄﺎﻃﻴﻒ ﻭ ﻛﻼﻟﻴﺐ , ﻭﺣﺴﻜﺔ ﻣﻔﻠﻄﺤﺔ ﻟﻬﺎ ﺷﻮﻛﺔ ﻋﻘﻴﻔﺔ , ﺗﻜﻮﻥ ﺑﻨﺠﺪ , ﻳﻘﺎﻝ ﻟﻬﺎ: ﺍﻟﺴﻌﺪﺍﻥ , ﺍﻟﻤﺆﻣﻦ ﻋﻠﻴﻬﺎ ﻛﺎﻟﻄﺮﻑ ﻭ ﻛﺎﻟﺒﺮﻕ ﻭﻛﺎﻟﺮﻳﺢ , ﻭﻛﺄﺟﺎﻭﻳﺪ ﺍﻟﺨﻴﻞ ﻭ ﺍﻟﺮﻛﺎﺏ , ﻓﻨﺎﺝ ﻣﺴﻠﻢ ﻭ ﻧﺎﺝ ﻣﺨﺪﻭﺵ , ﻭﻣﻜﺪﻭﺱ
ﻓﻲ ﻧﺎﺭ ﺟﻬﻨﻢ , ﺣﺘﻰ ﻳﻤﺮ ﺁﺧﺮﻫﻢ ﻳﺴﺤﺐ ﺳﺤﺒﺎ , ﻓﻤﺎ ﺃﻧﺘﻢ ﺑﺄﺷﺪّ ﻟﻲ ﻣﻨﺎﺷﺪﺓ ﻓﻲ ﺍﻟﺤﻖ , ﻗﺪ ﺗﺒﻴﻦ ﻟﻜﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺆﻣﻦ ﻳﻮﻣﺌﺬ ﻟﻠﺠﺒﺎﺭ .
ﻭﺇﺫﺍ ﺭﺃﻭﺍ ﺃﻧﻬﻢ ﻗﺪ ﻧﺠﻮﺍ ﻓﻲ ﺇﺧﻮﺍﻧﻬﻢ , ﻳﻘﻮﻟﻮﻥ : ﺭﺑﻨﺎ ﺇﺧﻮﺍﻧﻨﺎ , ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﺼﻠﻮﻥ ﻣﻌﻨﺎ , ﻭﻳﺼﻮﻣﻮﻥ ﻣﻌﻨﺎ , ﻭﻳﻌﻤﻠﻮﻥ ﻣﻌﻨﺎ , ﻓﻴﻘﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ: ﺍﺫﻫﺒﻮﺍ ﻓﻤﻦ ﻭﺟﺪﺗﻢ ﻓﻲ ﻗﻠﺒﻪ ﻣﺜﻘﺎﻝ ﺩﻳﻨﺎﺭ ﻣﻦ ﺇﻳﻤﺎﻥ ﻓﺄﺧﺮﺟﻮﻩ , ﻭﻳﺤﺮﻡ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻮﺭﻫﻢ ﻋﻠﻰ
ﺍﻟﻨﺎﺭ .
ﻓﻴﺎﺗﻮﻧﻬﻢ ﻭﺑﻌﻀﻬﻢ ﻗﺪ ﻏﺎﺏ ﻓﻲ ﺍﻟﻨﺎﺭ ﺇﻟﻰ ﻗﺪﻣﻪ , ﻭﺇﻟﻰ ﺃﻧﺼﺎﻑ ﺳﺎﻗﻴﻪ , ﻓﻴﺨﺮﺟﻮﻥ ﻣﻦ ﻋﺮﻓﻮﺍ .
ﺛﻢ ﻳﻌﻮﺩﻭﻥ , ﻓﻴﻘﻮﻝ: ﺍﺫﻫﺒﻮﺍ ﻓﻤﻦ ﻭﺟﺪﺗﻢ ﻓﻲ ﻗﻠﺒﻪ ﻣﺜﻘﺎﻝ ﻧﺼﻒ ﺩﻳﻨﺎﺭ ﻓﺄﺧﺮﺟﻮﻩ , ﻓﻴﺨﺮﺟﻮﻥ ﻣﻦ ﻋﺮﻓﻮﺍ .
ﺛﻢ ﻳﻌﻮﺩﻭﻥ , ﻓﻴﻘﻮﻝ: ﺍﺫﻫﺒﻮﺍ ﻓﻤﻦ ﻭﺟﺪﺗﻢ ﻓﻲ ﻗﻠﺒﻪ ﻣﺜﻘﺎﻝ ﺫﺭﺓ ﻣﻦ ﺇﻳﻤﺎﻥ ﻓﺄﺧﺮﺟﻮﻩ , ﻓﻴﺨﺮﺟﻮﻥ ﻣﻦ ﻋﺮﻓﻮﺍ )).
ﻗﺎﻝ ﺃﺑﻮ ﺳﻌﻴﺪ: ﻓﺈﻥ ﻟﻢ ﺗﺼﺪﻗﻮﻧﻲ ﻓﺎﻗﺮﺅﻭﺍ }} : ﺇﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻻ ﻳﻈﻠﻢ ﻣﺜﻘﺎﻝ ﺫﺭﺓ ﻭﺇﻥ ﺗﻚ ﺣﺴﻨﺔ ﻳﻀﺎﻋﻔﻬﺎ }}
(( ﻓﻴﺸﻔﻊ ﺍﻟﻨﺒﻴﻮﻥ ﻭ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﻭ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻮﻥ , ﻓﻴﻘﻮﻝ ﺍﻟﺠﺒﺎﺭ: ﺑﻘﻴﺖ ﺷﻔﺎﻋﺘﻲ , ﻓﻴﻘﺒﺾ ﻗﺒﻀﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺭ , ﻓﻴﺨﺮﺝ ﺃﻗﻮﺍﻣﺎ ﻗﺪ ﺍﻣﺘﺤﺸﻮﺍ , ﻓﻴﻠﻘﻮﻥ ﻓﻲ ﻧﻬﺮ ﺑﺄﻓﻮﺍﻩ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻳﻘﺎﻝ ﻟﻪ : ﻣﺎﺀ ﺍﻟﺤﻴﺎﺓ , ﻓﻴﻨﺒﺘﻮﻥ ﻓﻲ ﺣﺎﻓﺘﻴﻪ ﻛﻤﺎ ﺗﻨﺒﺖ ﺍﻟﺤﺒﺔ ﻓﻲ ﺣﻤﻴﻞ
ﺍﻟﺴﻴﻞ , ﻗﺪ ﺭﺃﻳﺘﻤﻮﻫﺎ ﺇﻟﻰ ﺟﺎﻧﺐ ﺍﻟﺼﺨﺮﺓ , ﻭﺇﻟﻰ ﺟﺎﻧﺐ ﺍﻟﺸﺠﺮﺓ , ﻓﻤﺎ ﻛﺎﻥ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﻣﻨﻬﺎ ﻛﺎﻥ ﺃﺧﻀﺮ , ﻭ ﻣﺎ ﻛﺎﻥ ﻣﻨﻬﺎ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻈﻞ ﻛﺎﻥ ﺃﺑﻴﺾ . ﻓﻴﺨﺮﺟﻮﻥ ﻛﺄﻧﻬﻢ ﺍﻟﻠﺆﻟﺆ , ﻓﻴﺠﻌﻞ ﻓﻲ ﺭﻗﺎﺑﻬﻢ ﺍﻟﺨﻮﺍﺗﻴﻢ , ﻓﻴﺪﺧﻠﻮﻥ ﺍﻟﺠﻨﺔ , ﻓﻴﻘﻮﻝ ﺃﻫﻞ
ﺍﻟﺠﻨﺔ : ﻫﺆﻻﺀ ﻋﺘﻘﺎﺀ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ , ﺃﺩﺧﻠﻬﻢ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺑﻐﻴﺮ ﻋﻤﻞ ﻋﻤﻠﻮﻩ , ﻭﻻ ﺧﻴﺮ ﻗﺪﻣﻮﻩ , ﻓﻴﻘﺎﻝ ﻟﻬﻢ : ﻟﻜﻢ ﻣﺎ ﺭﺃﻳﺘﻢ ﻭ ﻣﺜﻠﻪ ﻣﻌﻪ .(( ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ .
সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট
জানতে চেয়ে বললাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ : কেয়ামত দিবসে আমরা কি আমাদের প্রভূ আল্লাহ তাআলাকে দেখতে পাব? নবীজী
বললেন: মেঘশূন্য আকাশে সূর্য ও চন্দ্রকে দেখতে তোমাদের কি কোন অসুবিধা হয়? আমরা বললাম : না। রাসূলুল্লাহ বললেন: সে
দিন তোমাদেরও স্বীয় পালনকর্তাকে দেখতে কোন অসুবিধা হবে না তবে চন্দ্র - সূর্য দেখতে যতটুকু হয় হলে ততটুকু হবে। অত:পর
বললেন: একজন ঘোষক ঘোষণা দেবে: প্রত্যেক জাতিকে নিজ নিজ উপাস্যদের নিকট যেতে বলা হচ্ছে। ঘোষণার পর সলীব তথা
ক্রুশপন্থীরা ক্রুশের সাথে যেয়ে একত্রিত হবে। আর মূর্তি পূজাকরা মূর্তির সাথে গিয়ে মিশবে। এবং ভিন্ন ভিন্ন উপাস্যের
উপাসকরা নিজ নিজ উপাস্যের সাথে গিয়ে জড় হবে। শেষ পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে আল্লাহর ইবাদতকারী পুন্যবান ও পাপী
বান্দারা। এবং আহলে কিতাব (ইহুদী ও খৃষ্ট ধর্মানুসারী) দের অবশিষ্টাংশ।
অত:পর জাহান্নামকে প্রদর্শনের জন্য নিয়ে আসা হবে সেটি যেন মরিচিকা। অত:পর ইহুদীদের জিজ্ঞেস করা হবে যে তোমরা
কার ইবাদত করতে? তারা উত্তরে বলবে: আল্লাহর পুত্র উযায়েরের। বলা হবে তোমরা মিথ্যা বলছ। আল্লাহ তাআলার কোন
সন্তান ও সঙ্গিনী নেই। এখন তোমরা কি চাও? বলবে: আমাদের আশা আপনি আমাদের পান করিয়ে তৃষ্ণা নিবারণ করাবেন। বলা
হবে : পান কর। এবং তারা জাহান্নামে ঝরে পড়বে। অত:পর খৃষ্টানদের জিজ্ঞেস করা হবে: তোমরা কার ইবাদত করতে? তারা
বলবে: আল্লাহর পুত্র ঈসার। বলা হবে: তোমরা মিথ্যা বলছ, আল্লাহ তাআলার কোন সন্তান ও সঙ্গিনী নেই। এখন তোমরা কি চাও?
বলবে: আমাদের কামনা যে আপনি আমাদের পানি পান করিয়ে তৃষ্ণা নিবারণ করাবেন। বলা হবে: পান কর। এবং তারা
জাহান্নামে পড়ে যাবে।
এক পর্যায়ে এসে শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার ইবাদতকারী পুন্যবান ও পাপীবান্দারা অবশিষ্ট থাকবে। তখন তাদের বলা হবে: সকল
মানুষ চলে গেল তোমাদের কিসে আটকে রেখেছে? তারা বলবে : আমরা তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছি এমতাবস্থায় যে আজ
আমরা তার নিকট অতি মুখাপেক্ষী। আর আমরা একজন ঘোষকের ঘোষণা শুনতে পেয়েছি যে, প্রত্যেক ইবাদতকারী যেন নিজ নিজ
মা'বুদের নিকট গিয়ে মিলিত হয়। তাই আমরা আমাদের পালনকর্তার অপেক্ষা করছি। রাসূলুল্লাহ বলেন: অত:পর মহান
প্রতাপশালী তাদের ইতোপূর্বে দেখা আকৃতি ভিন্ন এক পরিবর্তিত আকৃতিতে আভির্ভূত হবেন। বলবেন: আমি তোমাদের
প্রতিপালক। তারা বলবে: আপনি আমাদের পালনকর্তা। এরপর শুধুমাত্র নবীরাই তাঁর সাথে কথা বলতে পারবেন।
বলবেন: তোমাদের ও তার মাঝে কোন বিশেষ নিদর্শন আছে কি যার মাধ্যমে তোমরা তাঁকে চিনতে পারবে? তারা বলবে: হ্যাঁ
আর তা হচ্ছে পায়ের গোছা। অত:পর তিনি স্বীয় গোছা উন্মোক্ত করবেন। প্রত্যেক মুমিন সেজদায় লুটিয়ে পড়বে। আর যারা
(পৃথিবীতে) সুনাম কুড়ানোর উদ্দেশ্যে ও লোক দেখানো সেজদা করত তারা বাকী থাকবে। সেজদা করার চেষ্টা করবে কিন্তু
যখনই সেজদায় যাবে পিঠ সাথে সাথে সস্থানে ফিরে আসবে।
অত:পর পুলসিরাত উপস্থিত করা হবে এবং জাহান্নামের উপর স্থাপন করা হবে। আমরা জানতে চাইলাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ
পুলসিরাত কি?
নবীজী বললেন: একটি অতি পিচ্ছিল জায়গা যার উপর রয়েছে বক্র হুক ও বড়শী এবং নজদে উৎপন্ন সা'দান নামক বাঁকা কাঁটার মত
চওড়া চেপটা কাঁটা। মুমিন বান্দা তার উপর দিয়ে চোখের পলক, বিজলী, বাতাস এবং দ্রুতগামী উন্নত জাতের অশ্ব ও অন্যান্য
দ্রুতগামী জন্তুর ন্যায় পার হয়ে যাবে। কেউ সহীহ সালামতে মুক্তি পাবে কেউ কাটার আঘাত খেয়ে আবার কেউ জাহান্নামের
আগুনের ছোঁয়া পেয়ে। এক পর্যায়ে তাদের সর্বশেষজন অতিক্রম করবে তাকে টেনে নেয়া হবে। হক প্রার্থনা করার ব্যাপারে
তোমরা আমার চেয়ে বেশি মিনতিকারী নও। অবশ্য তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, সেদিন মহা প্রতাপশালী আল্লাহর
প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী মুমিন কারা।
যখন তারা লক্ষ্য করবে যে, তারা তাদের অন্যান্য ভাইদের মাঝে মুক্তি পেয়েছে, তখন বলবে : হে আমাদের প্রতিপালক আমাদের
ভাইদের কি সমাচার, তারা আমাদের সাথে সালাত আদায় করত, আমাদের সাথে সিয়াম পালন করত এবং আমাদের সাথে
অন্যান্য আমল করত। আল্লাহ তাআলা বলবেন: তোমরা যাও, যার অন্তরে এক দিনার পরিমাণ ঈমানও বিদ্যমান পাবে তাকে বের
করে নিয়ে আসবে। আল্লাহ তাআলা তাদের আকৃতি-প্রতিকৃতি কে জাহান্নামের উপর হারাম করেছেন।
তারা তাদের নিকট আসবে। এসে দেখতে পাবে কারো কারো পায়ের পাতা পর্যন্ত জাহান্নামে দেবে গেছে, কারো কারো
অর্ধ গোছা পর্যন্ত। তারা যাদের চিনতে পাবে তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে।
অত:পর তারা ফিরে আসবে, আল্লাহ তাআলা বলবেন: যাও, যার অন্তরে অর্ধ দিনার পরিমাণ ঈমান বিদ্যমান পাবে তাকে বের
করে নিয়ে আসবে। তখন তারা যাদের চিনতে পারবে তাদের বের করে নিয়ে আসবে।
এরপর তারা আবারো ফিরে আসবে। আল্লাহ তাআলা বলবেন: যাও, যার অন্তরে অনু পরিমাণ ঈমানও বিদ্যমান পাবে তাকে বের
করে নিয়ে আসবে। তখন তারা যাদের চিনতে পাবে তাদের বের করে নিয়ে আসবে।
হাদীসের বর্ণনাকারী আবু সাঈদ বলেন: তোমাদের বিশ্বাস করতে কষ্ট হলে আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণী পড়:
(( ﺇﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻻ ﻳﻈﻠﻢ ﻣﺜﻘﺎﻝ ﺫﺭﺓ ﻭﺇﻥ ﺗﻚ ﺣﺴﻨﺔ ﻳﻀﺎﻋﻔﻬﺎ ))
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বিন্দুমাত্র অন্যায় করেন না আর যদি কোন সৎকর্ম থাকে তাহলে তা দ্বিগুন করে দেন।
এভাবে নবীগন সুপারিশ করবেন, সুপারিশ করবেন ফেরেশতাবৃন্দ ও মুমিনগন। এরপর মহামহিম প্রতাপশালী আল্লাহ তাআলা
বলবেন : বাকি রইল আমার সুপারিশ, অত:পর আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম থেকে ঝলসে যাওয়া এক সম্প্রদায়কে মুষ্ঠিবদ্ধ করে
একমুষ্ঠি বের করে আনবেন। অত:পর জান্নাতের মুখে অবস্থিত এক নহরে যাকে আবে হায়াত বলা হয়, সেখানে তাদেরকে নিক্ষেপ
করা হবে। তারা ঐ নহরের দুই তীরে উৎপন্ন হবে যেমনি করে স্রোতের সাথে ভেসে আসা খড়কুটুর উপর তৃণবীজ উৎপন্ন হয়। তোমরা
সেগুলো প্রকান্ড পাথরের কিনারে অনুরূপ ভাবে বড় বড় গাছের পাশ্বে দেখেছ। এরমধ্যে যেগুলো সূর্যের দিকে থাকে সেগুলো হয়
সবুজ আর যেগুলো ছায়ার দিকে থাকে সেগুলো হয় সাদা।
তারা ঐ নহর থেকে ঝকঝকে তকতকে হয়ে বের হবে যেমন মুক্তোদানা। তাদের গ্রীবাদেশে সীলমোহর এঁটে দেয়া হবে। অত:পর
তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। জান্নাতবাসীরা বলবে: তারা হচ্ছে মহা দয়ালু আল্লাহ তাআলার মুক্তকৃত। আল্লাহ তাদেরকে
কোন আমল ও নেক কাজ করা ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন। তখন তাদের বলা হবে: তোমাদের জন্য যা দেখছ এবং তার
সাথে এর সমপরিমাণ বরাদ্দ রয়েছে।[১৯]
হিসাব ও মিযান
হিসাব:
মহান আল্লাহ তাআলা স্বীয় বান্দাদেরকে তাঁর সামনে দাঁড় করাবেন এবং তাদের কৃত আমল সম্পর্কে অবহিত করবেন। অত:পর
তাদের আমল অনুপাতে প্রতিদান দান করবেন। নেক কাজের বিনিময়ে দশ থেকে সাতশত গুণ বরং আরোও বর্ধিত করে, আর
বদকাজের বিনিময়ে সমপরিমাণ প্রতিদান দেবেন।
কিতাব তথা আমলনামা গ্রহণ:
প্রত্যেক অবস্থানকারীকে তার আমলনামা প্রদান করা হবে। সে জীবনে ভাল-মন্দ যা কিছুই করেছে তাতে সব লেখা আছে।
তাদের কতেককে আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে তারা হচ্ছে নেককার ভাগ্যবান আর কতেককে দেয়া হবে বাম হাতে তারা
হচ্ছে বদকার-দুর্ভাগা।
১- আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟْﺈِﻧْﺴَﺎﻥُ ﺇِﻧَّﻚَ ﻛَﺎﺩِﺡٌ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﺑِّﻚَ ﻛَﺪْﺣًﺎ ﻓَﻤُﻠَﺎﻗِﻴﻪِ ﴿৬ ﴾ ﻓَﺄَﻣَّﺎ ﻣَﻦْ ﺃُﻭﺗِﻲَ ﻛِﺘَﺎﺑَﻪُ ﺑِﻴَﻤِﻴﻨِﻪِ ﴿৭ ﴾ ﻓَﺴَﻮْﻑَ ﻳُﺤَﺎﺳَﺐُ ﺣِﺴَﺎﺑًﺎ ﻳَﺴِﻴﺮًﺍ ﴿৮﴾ ﻭَﻳَﻨْﻘَﻠِﺐُ ﺇِﻟَﻰ ﺃَﻫْﻠِﻪِ ﻣَﺴْﺮُﻭﺭًﺍ ﴿৯ ﴾ ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﻣَﻦْ ﺃُﻭﺗِﻲَ ﻛِﺘَﺎﺑَﻪُ ﻭَﺭَﺍﺀَ ﻇَﻬْﺮِﻩِ ﴿ ১০ ﴾ ﻓَﺴَﻮْﻑَ ﻳَﺪْﻋُﻮ ﺛُﺒُﻮﺭًﺍ ﴿
১১ ﴾ ﻭَﻳَﺼْﻠَﻰ ﺳَﻌِﻴﺮًﺍ ﴿ ১২﴾ { ﺍﻹﻧﺸﻘﺎﻕ:৬-১২}
হে মানুষ, তোমাকে তোমার পালনকর্তা পর্যন্ত পৌঁছতে কষ্ট স্বীকার করতে হবে। অত:পর তার সাক্ষাৎ ঘটবে। যাকে তার
আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে, তার হিসাব-নিকাশ সহজে হয়ে যাবে এবং সে তার পরিবার-পরিজনের নিকট হৃষ্টচিত্তে
ফিরে যাবে। এবং যাকে তার আমলনামা পিঠের পশ্চাদ্দিক থেকে দেয়া হবে, সে মৃত্যুকে আহ্বান করবে এবং জাহান্নামে
প্রবেশ করবে।
{সূরা ইনশিকাক: ৬-১২}
২-মহান আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﻣَﻦْ ﺃُﻭﺗِﻲَ ﻛِﺘَﺎﺑَﻪُ ﺑِﺸِﻤَﺎﻟِﻪِ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﻳَﺎ ﻟَﻴْﺘَﻨِﻲ ﻟَﻢْ ﺃُﻭﺕَ ﻛِﺘَﺎﺑِﻴَﻪْ ﴿ ২৫﴾ ﻭَﻟَﻢْ ﺃَﺩْﺭِ ﻣَﺎ ﺣِﺴَﺎﺑِﻴَﻪْ ﴿ ২৬﴾ ﻳَﺎ ﻟَﻴْﺘَﻬَﺎ ﻛَﺎﻧَﺖِ ﺍﻟْﻘَﺎﺿِﻴَﺔَ ﴿২৭ ﴾ ﺍﻟﺤﺎﻗﺔ :২৫-২৭}
আর যার আমলনামা বাম হাতে দেয়া হবে, সে বলবে হায়! আমায় যদি আমার আমলনামা না দেয়া হতো। আমি যদি না জানতাম
আমার হিসাব। হায়! আমার মৃত্যুই যদি শেষ হতো।
{ সূরা আল-হা-ক্কাহ: ২৫-২৭}
দাড়ি পাল্লা স্থাপন:
সৃষ্টিকুলের হিসাব নেয়ার উদ্দেশ্যে দাড়িপাল্লা স্থাপন করা হবে। মানুষ হিসাব প্রদানের জন্য একজন একজন করে সামনে
অগ্রসর হবে, তাদের প্রতিপালক হিসাব নেবেন এবং আমল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন। হিসাব শেষ হওয়ার পর আমল ওজন করা হবে।
সেটি আসল দাড়িপাল্লাই হবে যার দু'টি পাল্লা থাকবে।
১- মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﻭَﻧَﻀَﻊُ ﺍﻟْﻤَﻮَﺍﺯِﻳﻦَ ﺍﻟْﻘِﺴْﻂَ ﻟِﻴَﻮْﻡِ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻓَﻠَﺎ ﺗُﻈْﻠَﻢُ ﻧَﻔْﺲٌ ﺷَﻴْﺌًﺎ ﻭَﺇِﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﻣِﺜْﻘَﺎﻝَ ﺣَﺒَّﺔٍ ﻣِﻦْ ﺧَﺮْﺩَﻝٍ ﺃَﺗَﻴْﻨَﺎ ﺑِﻬَﺎ ﻭَﻛَﻔَﻰ ﺑِﻨَﺎ ﺣَﺎﺳِﺒِﻴﻦَ } ﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀ : ৪৭}
আমি কেয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের মানদন্ড স্থাপন করব।সুতরাং কারও প্রতি যুলুম হবে না। যদি কোন আমল সরিষার দানা
পরিমাণও হয়, আমি তা উপস্থিত করব এবং হিসাব গ্রহণের জন্য আমিই যথেষ্ট। {সূরা আম্বিয়া: ৪৭}
২- আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:
ﻓَﺄَﻣَّﺎ ﻣَﻦْ ﺛَﻘُﻠَﺖْ ﻣَﻮَﺍﺯِﻳﻨُﻪُ ﴿৬ ﴾ ﻓَﻬُﻮَ ﻓِﻲ ﻋِﻴﺸَﺔٍ ﺭَﺍﺿِﻴَﺔٍ ﴿৭ ﴾ ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﻣَﻦْ ﺧَﻔَّﺖْ ﻣَﻮَﺍﺯِﻳﻨُﻪُ ﴿৮﴾ ﻓَﺄُﻣُّﻪُ ﻫَﺎﻭِﻳَﺔٌ ﴿৯ ﴾ ﻭَﻣَﺎ ﺃَﺩْﺭَﺍﻙَ ﻣَﺎ ﻫِﻴَﻪْ ﴿১০ ﴾ ﻧَﺎﺭٌ ﺣَﺎﻣِﻴَﺔٌ ﴿ ১১﴾ { ﺍﻟﻘﺎﺭﻋﺔ : ৬-১১}
অতএব যার পাল্লা ভারী হবে, সে সুখীজীবন যাপন করবে, আর যার পাল্লা হালকা হবে, তার ঠিকানা হবে হাবিয়া, আপনি
জানেন তা কি? প্রজ্জ্বলিতঅগ্নি। {সূরা কারেয়া: ৬-১১}
৩-হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻗﺎﻝ: ﺳﻤﻌﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻘﻮﻝ: )) ﻳﺪﻧﻰ ﺍﻟﻤﺆﻣﻦ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﻣﻦ ﺭﺑﻪ ﻋﺰ ﻭﺟﻞّ ﺣﺘﻰ ﻳﻀﻊ ﻋﻠﻴﻪ ﻛﻨﻔﻪ , ﻓﻴﻘﺮﺭﻩ ﺑﺬﻧﻮﺑﻪ , ﻓﻴﻘﻮﻝ : ﻫﻞ ﺗﻌﺮﻑ؟ ﻓﻴﻘﻮﻝ : ﺃﻱ ﺭﺏ ﺃﻋﺮﻑ ﻗﺎﻝ: ﻓﺈﻧﻲ
ﻗﺪ ﺳﺘﺮﺗﻬﺎ ﻋﻠﻴﻚ ﻓﻲ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ , ﻭﺇﻧﻲ ﺃﻏﻔﺮﻫﺎ ﻟﻚ ﺍﻟﻴﻮﻡ , ﻓﻴﻌﻄﻰ ﺻﺤﻴﻔﺔ ﺣﺴﻨﺎﺗﻪ , ﻭﺃﻣﺎ ﺍﻟﻜﻔﺎﺭ ﻭ ﺍﻟﻤﻨﺎﻓﻘﻮﻥ ﻓﻴﻨﺎﺩﻱ ﺑﻬﻢ ﻋﻠﻰ ﺭﺅﻭﺱ ﺍﻟﺨﻼﺋﻖ ﻫﺆﻻﺀ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻛﺬﺑﻮﺍ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ((, ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
বিশিষ্ট সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছি : কেয়ামত দিবসে মুমিন বান্দাকে স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহ তাআলার নিকটবর্তী করা
হবে, এমনকি আল্লাহ তাআলা তাঁর রহমতের পর্দা সে বান্দার উপর রাখবেন। অত:পর তার থেকে তার কৃতপাপ ও অন্যায়ের
স্বীকারোক্তি আদায় করবেন। বলবেন: তুমি কি জান? তখন সে বলবে: হ্যাঁ প্রভু, আমার জানা আছে। আল্লাহ বলবেন: আমি সেসব
গুনাহ পৃথিবীতে গোপন করে রেখেছিলাম আজ সব ক্ষমা করে দিলাম। অত:পর তার নেককাজের আমলনামা প্রদান করা হবে। আর
মুনাফিক ও কাফের সম্প্রদায়কে সকল মানুষের সম্মুখে ডেকে বলা হবে। এরাই সেসব লোক যারা আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ
করেছিল।[২০]
কেয়ামতের দিন কি বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে:
১-আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﻭَﻟَﺎ ﺗَﻘْﻒُ ﻣَﺎ ﻟَﻴْﺲَ ﻟَﻚَ ﺑِﻪِ ﻋِﻠْﻢٌ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﺴَّﻤْﻊَ ﻭَﺍﻟْﺒَﺼَﺮَ ﻭَﺍﻟْﻔُﺆَﺍﺩَ ﻛُﻞُّ ﺃُﻭﻟَﺌِﻚَ ﻛَﺎﻥَ ﻋَﻨْﻪُ ﻣَﺴْﺌُﻮﻟًﺎ } ﺍﻹﺳﺮﺍﺀ :৩৬)
যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই তার পিছনে পড়োনা। নিশ্চয়ই কান, চক্ষু ও অন্ত:করণ এদের প্রত্যেকটিই জিজ্ঞেসিত হবে।
{সূরা ইসরা:৩৬}
২-আল্লাহ তাআলা আরোও বলেন:
ﻭﻳﻮﻡ ﻳﻨﺎﺩﻳﻬﻢ ﻓﻴﻘﻮﻝ ﺃﻳﻦ ﺷﺮﻛﺎﺀﻱ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻛﻨﺘﻢ ﺗﺰﻋﻤﻮﻥ . } ﺍﻟﻘﺼﺺ :৬২}
যেদিন আল্লাহ তাদের ডাক দিয়ে বলবেন: তোমরা যাদের কে আমার শরীক দাবী করতে তারা কোথায় ?। {সূরা কাসাস:৬২}
৩-আল্লাহ অন্যত্র বলছেন:
ﻭﻳﻮﻡ ﻳﻨﺎﺩﻳﻬﻢ ﻓﻴﻘﻮﻝ ﻣﺎﺫﺍ ﺃﺟﺒﺘﻢ ﺍﻟﻤﺮﺳﻠﻴﻦ . }ﺍﻟﻘﺼﺺ :৬৫}
যে আল্লাহ তাদেরকে ডেকে বলবেন, তোমরা রাসূলগনকে কি জবাব দিয়েছিলে।{সূরা কাসাস:৬৫}
৪-আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
ﻓﻮﺭﺑﻚ ﻟﻨﺴﺌﻠﻨﻬﻢ ﺃﺟﻤﻌﻴﻦ ﻋﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﻌﻤﻠﻮﻥ }. ﺍﻟﺤﺠﺮ :৯২-৯৩}
অতএব আপনার পালনকর্তার কসম, আমি অবশ্যই ওদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করব। ওদের কাজকর্ম সম্পর্কে।{সূরা হিজর:৯২-৯৩}
৫-আল্লাহ তাআলা অন্যত্র ইরশাদ করছেন:
ﻭﺃﻭﻓﻮﺍ ﺑﺎﻟﻌﻬﺪ ﺇﻥ ﺍﻟﻌﻬﺪ ﻛﺎﻥ ﻣﺴﺌﻮﻻ . } ﺍﻹﺳﺮﺍﺀ : ৩৪}
আর অঙ্গীকার পূর্ণ কর। নিশ্চয়ই অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।{সূরা ইসরা :৩৪}
৬-আরো ইরশাদ হচ্ছে:
ﺛﻢ ﻟﺘﺴﺌﻠﻦ ﻳﻮﻣﺌﺬ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﻌﻴﻢ . } ﺍﻟﺘﻜﺎﺛﺮ :৮}
এরপর অবশ্যই সেদিন তোমরা নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। { সূরা তাকাসুর:৮}
৭-মহান আল্লাহ তাআলা অন্যস্থানে বলছেন:
ﻓَﻠَﻨَﺴْﺄَﻟَﻦَّ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃُﺭْﺳِﻞَ ﺇِﻟَﻴْﻬِﻢْ ﻭَﻟَﻨَﺴْﺄَﻟَﻦَّ ﺍﻟْﻤُﺮْﺳَﻠِﻴﻦَ ﴿৬ ﴾ ﻓَﻠَﻨَﻘُﺼَّﻦَّ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺑِﻌِﻠْﻢٍ ﻭَﻣَﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻏَﺎﺋِﺒِﻴﻦَ ﴿ ৭ ﴾ ﻭَﺍﻟْﻮَﺯْﻥُ ﻳَﻮْﻣَﺌِﺬٍ ﺍﻟْﺤَﻖُّ ﻓَﻤَﻦْ ﺛَﻘُﻠَﺖْ ﻣَﻮَﺍﺯِﻳﻨُﻪُ ﻓَﺄُﻭﻟَﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﺍﻟْﻤُﻔْﻠِﺤُﻮﻥَ ﴿ ৮﴾ { ﺍﻷﻋﺮﺍﻑ:৬-৭}
অতএব, আমি অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞেস করব যাদের কাছে রাসূল প্রেরিত হয়েছিল এবং আমি অবশ্যই জিজ্ঞেস করব রাসূলগণকে।
অত:পর আমি স্বজ্ঞানে তাদের কাছে অবস্থা বর্ণনা করব বস্তুত: আমিতো অনুপস্থিত ছিলাম না। {সূরা আরাফ:৬-৭}
৮- হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺑﺮﺯﺓ ﺍﻷﺳﻠﻤﻲ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ )): ﻻ ﺗﺰﻭﻝ ﻗﺪﻣﺎ ﻋﺒﺪ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﺣﺘﻰ ﻳﺴﺄﻝ ﻋﻦ ﻋﻤﺮﻩ ﻓﻴﻤﺎ ﺃﻓﻨﺎﻩ , ﻭﻋﻦ ﻋﻠﻤﻪ ﻓﻴﻤﺎ ﻓﻌﻞ ,ﻭﻋﻦ ﻣﺎﻟﻪ ﻣﻦ ﺃﻳﻦ ﺍﻛﺘﺴﺒﻪ ﻭ ﻓﻴﻤﺎ ﺃﻧﻔﻘﻪ , ﻭﻋﻦ
ﺟﺴﻤﻪ ﻓﻴﻤﺎ ﺃﺑﻼﻩ .(( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ﻭ ﺍﻟﺪﺍﺭﻣﻲ .
সাহাবী আবু বারযাহ আসলামী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ
করেন: কেয়ামতের দিন প্রত্যেক ব্যক্তির দু'পা নিম্নোক্ত বিষয়ে জিজ্ঞেসিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত নিজ জায়গায় স্থির থাকবে।
তার বয়স সম্পর্কে কি কাজে সে সেটি নিঃশেষ করেছে, জ্ঞান সম্পর্কে এর মাধ্যমে সে কি করেছে, সম্পদ সম্পর্কে কোথায় হতে
উপার্জন করেছে আর কোন কাজে ব্যয় করেছে আর তার শরীর সম্পর্কে কি কাজে সেটি জীর্ণ ও ক্ষয় করেছে। [২১]
হিসাবের ধরন:
কেয়ামতের দিন যাদের হিসাব নেয়া হবে তারা মূলত দুইশ্রেণীতে বিভক্ত:
১- যাদের হিসাব খুব সহজ হবে আর সেটি হচ্ছে শুধু আমল নামা প্রদর্শন করা
ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: )) ﻟﻴﺲ ﺃﺣﺪ ﻳﺤﺎﺳﺐ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﺇﻻ ﻫﻠﻚ (( ﻓﻘﻠﺖ : ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺃ ﻟﻴﺲ ﻗﺪ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ :ﻓﺄﻣﺎ ﻣﻦ ﺃﻭﺗﻲ ﻛﺘﺎﺑﻪ ﺑﻴﻤﻴﻨﻪ , ﻓﺴﻮﻑ ﻳﺤﺎﺳﺐ ﺣﺴﺎﺑﺎ ﻳﺴﻴﺮﺍ ,
ﻓﻘﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : )) ﺇﻧﻤﺎ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﻌﺮﺽ , ﻭﻟﻴﺲ ﺃﺣﺪ ﻳﻨﺎﻗﺶ ﺍﻟﺤﺴﺎﺏ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﺇﻻ ﻋﺬﺏ .(( ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ
করেন:কেয়ামতের দিন যারই হিসাব নেয়া হবে সে ধ্বংস হয়ে যাবে। আমি জানতে চাইলাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ আল্লাহ তাআলা
কি বলেননি: যার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে তার হিসাব সহজ করে নেয়া হবে। রাসূলুল্লাহ বললেন: এটি হচ্ছে শুধু
দেখানোর জন্য। আর কেয়ামতের দিন যার হিসাব জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে নেয়া হবে তাকে অবশ্যই শাস্তি দেয়া হবে।[২২]
২-যাদের হিসাব খুব কঠিন করে নেয়া হবে। ছোট বড় প্রত্যেক বিষয়েই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। যদি সত্যি বলে তাহলে খুবই
ভাল। আর যদি মিথ্যা বলে অথবা গোপন করার চেষ্টা করে তাহলে মুখে সীলমোহর এঁটে দেয়া হবে এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কথা বলবে।
যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﺍﻟﻴﻮﻡ ﻧﺨﺘﻢ ﻋﻠﻰ ﺃﻓﻮﺍﻫﻬﻢ ﻭﺗﻜﻠﻤﻨﺎ ﺃﻳﺪﻳﻬﻢ ﻭﺗﺸﻬﺪ ﺃﺭﺟﻠﻬﻢ ﺑﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﻜﺴﺒﻮﻥ } ﻳﺲ :৬৫}
অর্থাৎ: আজ আমি তাদের মুখে মোহর এঁটে দেব, তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য
দেবে। {সূরা ইয়াসীন:৬৫}
উম্মতের মাঝে যাদের হিসাব নেয়া হবে:
১- কেয়ামত দিবসের হিসাব ব্যাপক হারে সকলের জন্য প্রযোজ্য। তবে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের
বাদ দিয়েছেন তাদের কথা ভিন্ন। তাঁরা হচ্ছেন এ উম্মতের সত্তর হাজার লোক যারা বিনা হিসাব ও বিনা আযাবে জান্নাতে
প্রবেশ করবে।
২-কাফেরদেরকে হিসাবের আওতায় আনা হবে। এবং তিরস্কার ও হেয় করার উদ্দেশ্যে তাদের সামনে তাদের কৃত আমল পেশকরা
হবে। শাস্তি ও আযাব ভোগ করার দিক থেকে তারা বিভিন্ন শ্রেণীভূক্ত হবে। যাদের পাপ ও কুকর্ম তুলনামূলক বেশি তাদের
শাস্তি যাদের পাপ কম তাদের থেকে কঠিন হবে। আর যারা সৎকর্ম সম্পাদন করেছে তাদের শাস্তিও তুলনা মূলক লঘু হবে তবে
জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
৩-কেয়ামতের দিন উম্মতদের মধ্যে সর্ব প্রথম উম্মতে মুহাম্মাদিয়ার হিসাব নেয়া হবে। আর মুসলমানদের আমলের মধ্যে সর্ব
প্রথম সালাতের হিসাব নেয়া হবে। সালাত যদি সব সঠিক প্রমাণিত হয় তাহলে তার সব আমলই সঠিক বের হয়ে আসবে। আর
সালাতের মধ্যে অসুবিধা পরিলক্ষিত হলে সব আমলেই অসুবিধা দেখা দেবে। আর মানুষের হকের মধ্যে সর্ব প্রথম রক্তপাতের
হিসাব নেয়া হবে।
আমল পরিমাপ করার পদ্ধতি:
কেয়ামতের দিন বান্দার নেক-বদ সব আমলই পরিমাপ করা হবে। যার নেক আমল বেশি হবে সে কৃতকার্য বলে বিবেচিত হবে। আর
যার বদ আমল বেশি হবে সে নিশ্চিত ধ্বংস হয়ে যাবে। সকল বান্দাদের মাঝে আল্লাহ তাআলার ইনসাফ প্রকাশার্থে
কর্মসম্পাদন কারী, কৃত আমল এবং আমলনামা সব পরিমাপ করা হবে। কেয়ামতের দিন বান্দার দাড়িপাল্লাতে সর্বাধিক
ওজনদার আমল হবে উত্তম চরিত্র।
১-আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা ইরশাদ করেন:
ﻭَﺍﻟْﻮَﺯْﻥُ ﻳَﻮْﻣَﺌِﺬٍ ﺍﻟْﺤَﻖُّ ﻓَﻤَﻦْ ﺛَﻘُﻠَﺖْ ﻣَﻮَﺍﺯِﻳﻨُﻪُ ﻓَﺄُﻭﻟَﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﺍﻟْﻤُﻔْﻠِﺤُﻮﻥَ ﴿৮﴾ ﻭَﻣَﻦْ ﺧَﻔَّﺖْ ﻣَﻮَﺍﺯِﻳﻨُﻪُ ﻓَﺄُﻭﻟَﺌِﻚَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺧَﺴِﺮُﻭﺍ ﺃَﻧْﻔُﺴَﻬُﻢْ ﺑِﻤَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﺑِﺂَﻳَﺎﺗِﻨَﺎ ﻳَﻈْﻠِﻤُﻮﻥَ ﴿৯ ﴾ { ﺍﻷﻋﺮﺍﻑ: ৮-৯}
আর সেদিন যথার্থই ওজন হবে। অত:পর যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই সফলকাম হবে। এবং যাদের পাল্লা হাল্কা হবে, তারা
হবে সেসব লোক যারা নিজেদের ক্ষতি নিজেরাই করেছে। কেননা তারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করতো। {সূরা আ'রাফ:৮-৯}
২- হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻋﻦ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ )): ﺇﻧﻪ ﻳﺄﺗﻲ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﺍﻟﻌﻈﻴﻢ ﺍﻟﺴﻤﻴﻦ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﻻ ﻳﺰﻥ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺟﻨﺎﺡ ﺑﻌﻮﺿﺔ , ﻭﻗﺎﻝ : ﺍﻗﺮﺅﻭﺍ ﺇﻥ ﺷﺌﺘﻢ )) ﻓﻼ ﻧﻘﻴﻢ ﻟﻬﻢ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﻭﺯﻧﺎ .(( ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করছেন,
নবীজী বলেন: কেয়ামতের দিন বিশাল আকৃতির-স্থুলদেহ বিশিষ্ট এমন এমন কিছু লোক উপস্থিত হবে আল্লাহ তাআলার নিকট
যাদের ওজন মশার ডানা পরিমাণও নেই। নবীজী আরো বলেন: তোমাদের মন চাইলে পড়ে দেখতে পার (সুতরাং কেয়ামতের দিন
আমি তাদের জন্য কোন ওজন স্থির করব না। অর্থাৎ তাদের কোন প্রকার মূল্য ও গুরুত্ব থাকবে না।[২৩]
কাফেরদের নেক আমলের বিধান:
কাফের ও মুনাফিকদের কোন প্রকার ইবাদত ও নেক আমল কবুল করা হয় না। কারণ ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত ঈমান এদের
ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। তাদের নেকআমলসমূহ ছাইভষ্ম সদৃশ যার উপর দিয়ে প্রবল বাতাস বয়ে যায় ধুলিঝড়ের দিন। কেয়ামতের দিন
সকল মানুষের সামনে তাদের সম্পর্কে ঘোষণা দেয়া হবে যে, এরাই সেসব লোক যারা স্বীয় প্রতিপালকের উপর মিথ্যা আরোপ
করেছিল।
১-আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﻭَﻣَﻦْ ﺃَﻇْﻠَﻢُ ﻣِﻤَّﻦِ ﺍﻓْﺘَﺮَﻯ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻛَﺬِﺑًﺎ ﺃُﻭﻟَﺌِﻚَ ﻳُﻌْﺮَﺿُﻮﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺭَﺑِّﻬِﻢْ ﻭَﻳَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟْﺄَﺷْﻬَﺎﺩُ ﻫَﺆُﻟَﺎﺀِ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻛَﺬَﺑُﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺭَﺑِّﻬِﻢْ ﺃَﻟَﺎ ﻟَﻌْﻨَﺔُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻈَّﺎﻟِﻤِﻴﻦَ }ﻫﻮﺩ :১৮}
আর তাদের চেয়ে বড় যালেম কে? যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে। এসব লোককে তাদের পালনকর্তার সাক্ষাত সম্মুখীন
করা হবে আর সাক্ষীগন বলতে থাকবে, এরাই ঐসব লোক, যারা স্বীয় পালনকর্তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। শুনে রাখ!
যালেমদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত রয়েছে। {সূরা হুদ:১৮)
২-অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
ﻣَﺜَﻞُ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮُﻭﺍ ﺑِﺮَﺑِّﻬِﻢْ ﺃَﻋْﻤَﺎﻟُﻬُﻢْ ﻛَﺮَﻣَﺎﺩٍ ﺍﺷْﺘَﺪَّﺕْ ﺑِﻪِ ﺍﻟﺮِّﻳﺢُ ﻓِﻲ ﻳَﻮْﻡٍ ﻋَﺎﺻِﻒٍ ﻟَﺎ ﻳَﻘْﺪِﺭُﻭﻥَ ﻣِﻤَّﺎ ﻛَﺴَﺒُﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺷَﻲْﺀٍ ﺫَﻟِﻚَ ﻫُﻮَ ﺍﻟﻀَّﻠَﺎﻝُ ﺍﻟْﺒَﻌِﻴﺪُ } ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ :১৮}
যারা স্বীয় পালনকর্তার সত্তায় অবিশ্বাসী, তাদের অবস্থা এইযে, তাদের নেকআমলসমূহ ছাইভষ্মের মত যার উপর দিয়ে প্রবল
বাতাস বয়ে যায় ধুলিঝড়ের দিন। তাদের উপার্জনের কোন অংশই তাদের করতলগত হবে না। এটাই দূরবর্তী পথভ্রষ্টতা। {সূরা
ইবরাহীম:১৮}
৩-আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা আরও বলেন:
ﻳَﻮْﻡَ ﻳَﺮَﻭْﻥَ ﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔَ ﻟَﺎ ﺑُﺸْﺮَﻯ ﻳَﻮْﻣَﺌِﺬٍ ﻟِﻠْﻤُﺠْﺮِﻣِﻴﻦَ ﻭَﻳَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ ﺣِﺠْﺮًﺍ ﻣَﺤْﺠُﻮﺭًﺍ ﴿ ২২ ﴾ ﻭَﻗَﺪِﻣْﻨَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﻣَﺎ ﻋَﻤِﻠُﻮﺍ ﻣِﻦْ ﻋَﻤَﻞٍ ﻓَﺠَﻌَﻠْﻨَﺎﻩُ ﻫَﺒَﺎﺀً ﻣَﻨْﺜُﻮﺭًﺍ ﴿২৩ ﴾ { ﺍﻟﻔﺮﻗﺎﻥ:২২-২৩}
যেদিন তারা ফেরেশতাদেরকে দেখবে, সেদিন অপরাধীদের জন্য কোন সুসংবাদ থাকবে না এবং তারা বলবে, কোন বাধা যদি
তা আটকে রাখতো। আমি তাদের কৃতকর্মের প্রতি মনোনিবেশ করব অত:পর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধুলিকনারূপ করে দেব। {সূরা
ফুরকান:২২-২৩}
আমল দর্শন:
কেয়ামতের দিন বান্দাদের সম্মুখে তাদের কৃত সমূদয় আমল তুলে ধরা হবে। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ নিজ সম্পাদিত আমল- ছোট
কিংবা বড় নেক কিংবা বদ- স্ব চোক্ষে দেখতে পাবে। যেমন মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﻳﻮﻣﺌﺬ ﻳﺼﺪﺭ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺃﺷﺘﺎﺗﺎ ﻟﻴﺮﻭﺍ ﺃﻋﻤﺎﻟﻬﻢ , ﻓﻤﻦ ﻳﻌﻤﻞ ﻣﺜﻘﺎﻝ ﺫﺭﺓ ﺧﻴﺮﺍ ﻳﺮﻩ ﻭﻣﻦ ﻳﻌﻤﻞ ﻣﺜﻘﺎﻝ ﺫﺭﺓ ﺷﺮﺍ ﻳﺮﻩ . } ﺍﻟﺰﻟﺰﻟﺔ :৬-৮}
সেদিন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন দলে প্রকাশ পাবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো হয়। কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা
দেখতে পাবে। আবার কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।
{সূরা যিলযাল:৬-৮}
দুনিয় ও আখেরাতে আমলের প্রতিদান:
ﻋﻦ ﺃﻧﺲ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ:ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ )): ﺇﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻻ ﻳﻈﻠﻢ ﻣﺆﻣﻨﺎ ﺣﺴﻨﺔ , ﻳﻌﻄﻰ ﺑﻬﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ , ﻭ ﻳﺠﺰﻯ ﺑﻬﺎ ﻓﻲ ﺍﻵﺧﺮﺓ , ﻭﺃﻣﺎ ﺍﻟﻜﺎﻓﺮ ﻓﻴﻄﻌﻢ ﺑﺤﺴﻨﺎﺕ ﻣﺎ ﻋﻤﻞ ﺑﻬﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ , ﺣﺘﻰ ﺇﺫﺍ ﺃﻓﻀﻰ ﺇﻟﻰ
ﺍﻵﺧﺮﺓ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻟﻪ ﺣﺴﻨﺔ ﻳﺠﺰﻯ ﺑﻬﺎ .(( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ
বিশিষ্ট সাহাবী আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: মহান
আল্লাহ তাআলা কোন মুমিন বান্দার উপরই একটি নেক আমলের ক্ষেত্রেও কোনরূপ অন্যায় করেন না। ঐ নেক আমলের বিনিময়ে
দুনিয়াতে (রিযিক) দান করেন আর পরকালে উপযুক্ত প্রতিদান দান করবেন। আর কাফেরগণ কৃত নেকআমলের বিনিময়ে দুনিয়াতে
জীবনোপকরণ লাভ করে। এক পর্যায়ে যখন সে আখেরাত পানে যাত্রা করে, আমলনামায় কোন আমলই আর অবশিষ্ট থাকে না যে
প্রতিদান দেয়া হবে। [২৪]
কেয়ামত দিবসে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের হুকুম:
মুমিনদের শিশু সন্তানরা বয়স্কদের ন্যায় স্বীয় পিতা আদম আলাইহিস সালামের আকৃতিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
অনুরূপভাবে মুশরিকদের শিশু সন্তানরাও। এবং তারা বয়স্কদের ন্যায় বিবাহ শাদীও করবে। যে সকল নারী-পুরুষ অবিবাহিত
অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে তারা আখেরাতে বিবাহ করবে। জান্নাতে কোন অবিবাহিত নারী-পুরুষ থাকবে না।
হাউজ
মহান আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক নবীর জন্য একটিকরে হাউজ সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে আমাদের নবীজীর হাউজটি হলো আয়তনের
দিক থেকে সর্ববৃহৎ, স্বাদের দিক থেকে সবচেয়ে মিষ্টি এবং কেয়ামতের দিন তাতেই সর্বাধিক সংখ্যক আগমনকারীর আগমন
ঘটবে।
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাউজের বিবরণ:
১-হাদীস
ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮﻭ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ )):ﺣﻮﺿﻲ ﻣﺴﻴﺮﺓ ﺷﻬﺮ , ﻣﺎﺅﻩ ﺃﺑﻴﺾ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﺒﻦ , ﻭﺭﻳﺤﻪ ﺃﻃﻴﺐ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺴﻚ , ﻭﻛﻴﺰﺍﻧﻪ ﻛﻨﺠﻮﻡ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ , ﻣﻦ ﺷﺮﺏ ﻣﻨﻬﺎ ﻓﻼ ﻳﻈﻤﺄ ﺃﺑﺪﺍ .(( ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ
করেন: আমার হাউজের আয়তন হচ্ছে এক মাসের দূরত্ব, তার পানি দুধের চেয়েও সাদা, ঘ্রাণ মিশকের চেয়েও অধিক সুগন্ধময়,
পানপাত্র আকাশের নক্ষত্র সদৃশ, যে ব্যক্তি তার থেকে পান করবে সে আর কখনো পিপাসার্ত হবে না।[২৫]
অন্য এক রেওয়াতে আছে:
(( ﻋﺮﺿﻪ ﻣﺜﻞ ﻃﻮﻟﻪ ﻣﺎ ﺑﻴﻦ ﻋﻤﺎﻥ ﺇﻟﻰ ﺃﻳﻠﺔ ، ﻣﺎﺅﻩ ﺃﺷﺪ ﺑﻴﺎﺿﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﺒﻦ ﻭ ﺃﺣﻠﻰ ﻣﻦ ﺍﻟﻌﺴﻞ .(( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ .
তার প্রস্থ আম্মান থেকে আইলা নামক স্থানের দৈর্ঘের সমান। পানি দুধের থেকেও অধিক সাদা এবং মধুর চেয়েও বেশি
মিষ্টি।[২৬]
২- হাদীস
ﻭﻋﻦ ﺃﻧﺲ ﺑﻦ ﻣﺎﻟﻚ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: )) ﺇﻥ ﻗﺪﺭ ﺣﻮﺿﻲ ﻛﻤﺎ ﺑﻴﻦ ﺃﻳﻠﺔ ﻭ ﺻﻨﻌﺎﺀ ﻣﻦ ﺍﻟﻴﻤﻦ , ﻭﺇﻥ ﻓﻴﻪ ﻣﻦ ﺍﻷﺑﺎﺭﻳﻖ ﻛﻌﺪﺩ ﻧﺠﻮﻡ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ .(( ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
বিশিষ্ট সাহাবী আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
ইরশাদ করছন: আমার হাউজের আয়তন হচ্ছে আইলা (জর্দানের একটি এলাকার নাম) থেকে ইয়েমেনের সানআ নামক স্থানের
দূরত্বের সমান। তাতে আকাশের নক্ষত্ররাজি সমসংখ্যক পানপাত্র ও কুঁজা রয়েছে।[২৭]
হাউজ থেকে কাদের তাড়িয়ে দেয়া হবে:
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ )): ﻳﺮﺩ ﻋﻠﻲ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﺭﻫﻂ ﻣﻦ ﺃﺻﺤﺎﺑﻲ , ﻓﻴﺠﻠﻮﻥ ﻋﻦ ﺍﻟﺤﻮﺽ , ﻓﺄﻗﻮﻝ : ﻳﺎ ﺭﺏ ﺃﺻﺤﺎﺑﻲ ,ﻓﻴﻘﻮﻝ : ﺇﻧﻚ ﻻ ﻋﻠﻢ ﻟﻚ ﺑﻤﺎ ﺃﺣﺪﺛﻮﺍ ﺑﻌﺪﻙ , ﺇﻧﻬﻢ ﺍﺭﺗﺪﻭﺍ ﻋﻠﻰ
ﺃﺩﺑﺎﺭﻫﻢ ﺍﻟﻘﻬﻘﺮﻯ .(( ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ .
প্রখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেন:কেয়ামতের দিন আমাদের উম্মতের একটি ছোট দল আমার নিকট আসবে, তাদেরকে সেখান থেকে ফিরিয়ে দেয়া হবে।
আমি বলব: হে রব, এরা আমার সাহাবী! আল্লাহ বলবেন: আপনার জানা নেই আপনার পর এরা কি কি বেদআতের জন্ম দিয়েছে।
তারা তাদের পিছন পানে হেঁটে পূর্বাবস্থায় ফিরে গিয়েছে।[২৮]
পুলসিরাত
পুলসিরাত বলতে সেই ব্রীজকে বুঝানো হচ্ছে, যেটি জাহান্নামের উপরে স্থাপন করা হয়েছে যার উপরদিয়ে মুসলমানরা
জান্নাতে যাবে।
পুলসিরাত অতিক্রম করবে কারা:
একমাত্র মুসলমানরাই পুলসিরাত অতিক্রম করবে। আর কাফের ও মুশরিকদের প্রত্যেক উপদল তারা পৃথিবীতে যে সকল প্রতিমা,
শয়তান ও এ জাতীয় বাতিল উপাস্যদের উপাসনা করত তাদের পিছনে পিছনে চলবে অত:পর স্বীয় মা'বূদসহ প্রথমে জাহান্নামে
পতিত হবে।
এরপর অবশিষ্ট থাকবে যারা বাহ্যত: আল্লাহ তাআলার ইবাদত করত। খাঁটি মনে হোক কিংবা কপটতা তথা নেফাকীর সাথে।
তাদের জন্য পুলসিরাত স্থির করা হবে। এরপর বিশেষ নূর যা শুধুমাত্র মুমিনদেরকে শামিল করবে এবং সেজদা দেয়া অসম্ভব
হওয়ার মাধ্যমে মুনাফিকরা মুমিনদের থেকে পৃথক হয়ে যাবে। পরে তারা পিছনে জাহান্নামের দিকে ফিরে আসবে। আর
মুমিনবৃন্দ পুলসিরাত অতিক্রম করে জান্নাতে পৌঁছে যাবে।
পুলসিরাত অতিক্রম কর্মটি শুরুহবে হিসাব ও আমল পরিমাপকর্ম শেষ হওয়ার পর। অত:পর মানুষ পুলসিরাত অতিক্রম করার জন্য বাধ্য
হবে। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করছেন:
ﻭﺇﻥ ﻣﻨﻜﻢ ﺇﻻ ﻭﺍﺭﺩﻫﺎ , ﻛﺎﻥ ﻋﻠﻰ ﺭﺑﻚ ﺣﺘﻤﺎ ﻣﻘﻀﻴﺎ. ﺛﻢ ﻧﻨﺠﻲ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﺍﺗﻘﻮﺍ ﻭﻧﺬﺭ ﺍﻟﻈﺎﻟﻤﻴﻦ ﻓﻴﻬﺎ ﺟﺜﻴﺎ }. ﻣﺮﻳﻢ : ৭১-৭২}
তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে তথায় পৌঁছবে না। এটা আপনার পালনকর্তার অনিবার্য ফয়সালা। অত:পর আমি মুত্তাকীদের
উদ্ধার করব এবং জালেমদেরকে সেখানে নতজানু অবস্থায় ছেড়ে দেব। {সূরা মারইয়াম:৭১-৭২}
পুলসিরাত ও সেটি অতিক্রম করার বিবরণ:
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺳﻌﻴﺪ ﺍﻟﺨﺪﺭﻱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻓﻲ ﺣﺪﻳﺚ ﺍﻟﺮﺅﻳﺔ ﻭ ﺻﻔﺔ ﺍﻟﺼﺮﺍﻁ ... ــ ﻓﻴﻪ ــ ﻗﻴﻞ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ : ﻭﻣﺎ ﺍﻟﺠﺴﺮ؟ ﻗﺎﻝ )): ﺩﺣﺾ ﻣﺰﻟﺔ , ﻓﻴﻪ ﺧﻄﺎﻃﻴﻒ , ﻭﻛﻼﻟﻴﺐ , ﻭ ﺣﺴﻚ ﺗﻜﻮﻥ ﺑﻨﺠﺪ , ﻓﻴﻬﺎ ﺷﻮﻳﻜﺔ ﻳﻘﺎﻝ ﻟﻬﺎ ﺍﻟﺴﻌﺪﺍﻥ , ﻓﻴﻤﺮ
ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻮﻥ ﻛﻄﺮﻑ ﺍﻟﻌﻴﻦ , ﻭ ﻛﺎﻟﺒﺮﻕ , ﻭ ﻛﺎﻟﺮﻳﺢ , ﻭﻛﺎﻟﻄﻴﺮ , ﻭ ﻛﺄﺟﺎﻭﻳﺪ ﺍﻟﺨﻴﻞ ﻭﺍﻟﺮﻛﺎﺏ , ﻓﻨﺎﺝ ﻣﺴﻠﻢ , ﻭﻣﺨﺪﻭﺵ ﻣﺮﺳﻞ , ﻭﻣﻜﺪﻭﺱ ﻓﻲ ﻧﺎﺭ ﺟﻬﻨﻢ .(( ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে পুলসিরাতের বিবরণ সম্বলিত বর্ণিত হাদীস। -যাতে আছে- বলা হল : ইয়া
রাসূলাল্লাহ : পুলসিরাত কি? বললেন: অত্যন্ত পিচ্ছিল একটি জায়গা, যেখানে আছে বড়শী ও বাঁকা হুক এবং নজদে উৎপন্ন ছোট
ছোট কাঁটা বিশিষ্ট সা'দান নামক এক প্রকার কাঁটা। ঈমানদাররা চোখের পলক, বিজলী, বাতাস, পাখী ও উন্নত জাতের
দ্রুতগামী অশ্ব এবং অন্যান্য জন্তুর ন্যায় দ্রুতবেগে পার হয়ে যাবে। কতেক সহী-সালামতে পার হবে, কাঁটার আঘাত প্রাপ্ত
থাকবে ঝুলন্ত আর কেউ কেউ জাহান্নামের আগুনে জ্বলসে যাবে। [২৯]
পুলসিরাত সর্বপ্রথম কে অতিক্রম করবে
পুলসিরাত সর্ব প্রথম অতিক্রম করবেন নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর উম্মতবৃন্দ। পুলসিরাত একমাত্র
মুমিনরাই অতিক্রম করতে পারবে। তাদেরকে তাদের ঈমান ও আমল অনুপাতে তাদের নূর প্রদান করা হবে। অত:পর তার ভিত্তিতে
তারা পুলসিরাত অতিক্রম করবে। আমানত ও রেহেমকে ছেড়ে দেয়া হবে তারা এসে পুলসিরাতের ডান ও বাম পাশে দাড়িয়ে
যাবে। সেদিন রাসূলগনের দোআ হবে : হে আল্লাহ শান্তি ও নিরাপত্তা দান করুন।
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﻓﻲ ﺣﺪﻳﺚ ﺍﻟﺮﺅﻳﺔ: )) ﻭﻳﻀﺮﺏ ﺍﻟﺼﺮﺍﻁ ﺑﻴﻦ ﻇﻬﺮﻱ ﺟﻬﻨﻢ , ﻓﺄﻛﻮﻥ ﺃﻧﺎ ﻭ ﺃﻣﺘﻲ ﺃﻭﻝ ﻣﻦ ﻳﺠﻴﺰ , ﻭﻻ ﻳﺘﻜﻠﻢ ﻳﻮﻣﺌﺬ ﺇﻻ ﺍﻟﺮﺳﻞ , ﻭ ﺩﻋﻮﻯ ﺍﻟﺮﺳﻞ ﻳﻮﻣﺌﺬ : ﺍﻟﻠﻬﻢ
ﺳﻠﻢ ﺳﻠﻢ .(( ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণেত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নের
বর্ণনা সম্বলিত হাদীসে বলেছেন: এবং জাহান্নামের উপর পুলসিরাত স্থাপন করা হবে, আমি ও আমারা উম্মত সর্বপ্রথম তা
অতিক্রম করব। সেদিন রাসূলগন ব্যতীত আর কেউ কথা বলবে না, রাসূলগনের দোআ হবে : হে আল্লাহ শান্তি ও নিরাপত্তা দান
করুন।[৩০]
পুলসিরাত পার হওয়ার পর ঈমানদারদের অবস্থা কি হবে:
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺳﻌﻴﺪ ﺍﻟﺨﺪﺭﻱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : )) ﻳﺨﻠﺺ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻮﻥ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺭ ﻓﻴﺤﺒﺴﻮﻥ ﻋﻠﻰ ﻗﻨﻄﺮﺓ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻭ ﺍﻟﻨﺎﺭ , ﻓﻴﻘﺘﺺ ﻟﺒﻌﻀﻬﻢ ﻣﻦ ﺑﻌﺾ ﻣﻈﺎﻟﻢ ﻛﺎﻧﺖ ﺑﻴﻨﻬﻢ ﻓﻲ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ , ﺣﺘﻰ ﺇﺫﺍ
ﻫﺬﺑﻮﺍ ﻭ ﻧﻘﻮﺍ ﺃﺫﻥ ﻟﻬﻢ ﻓﻲ ﺩﺧﻮﻝ ﺍﻟﺠﻨﺔ , ﻓﻮﺍﻟﺬﻱ ﻧﻔﺲ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻴﺪﻩ ﻷﺣﺪﻫﻢ ﺃﻫﺪﻯ ﺑﻤﻨﺰﻟﻪ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻣﻨﻪ ﺑﻤﻨﺰﻟﻪ ﻛﺎﻥ ﻓﻲ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ .(( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ
সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: মুমিনগন
জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে অত:পর তাদেরকে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত একটি পুলের নিকট আটক
করা হবে এবং পৃথিবীতে যারা অন্যায়ের শিকার হয়েছিল তাদের পক্ষ থেকে কিসাস (প্রতিশোধ) নেয়া হবে। অত:পর তাদেরকে
পরিস্কার ও নিষ্কলুস করার পর জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে। কসম সে সত্ত্বার যার হাতে আমার জীবন তাদের
প্রত্যেকেই জান্নাতে তার আবাসস্থল পৃথিবীর আবাসস্থল থেকেও ভাল করে চিনতে পারবে।[৩১]
শাফা'আত
শাফাআতের অর্থ হচ্ছে : অপরের জন্য কল্যাণের প্রার্থনা করা। শাফাআত এর বাংলা প্রতিশব্দ হল শুপারিশ।
শাফাআতের প্রকার: কেয়ামত দিবসে শাফাআত দুই প্রকার।
১- একমাত্র নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সংশ্লিষ্ট শাফাআত:
এটি আবার কয়েক প্রকার
(ক) এর মধ্যে সবচে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে হাশরের ময়দানে উপস্থিত সকল মানুষের তরে বিচারকার্য শুরু করার জন্য তাঁর শাফাআতে
উযমা। তিনি তাদের তরে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন। আল্লাহ তাআলা তাদের মাঝে বিচারকার্য শুরু করবেন। আর এটিই
হচ্ছে তাঁর মাকামে মাহমূদ।
(খ)তাঁর উম্মতের বিশেষ শ্রেণীর কিছু লোকের ক্ষেত্রে তাঁর শাফাআত। যার ফলে তারা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ
করবে। আর তারা হচ্ছে সেই সত্তর হাজার লোক। যখন আল্লাহ তাআলা বলবেন: আপনি আপনার উম্মতের মধ্যে যাদের কোন হিসাব
নেই তাদেরকে জান্নাতের ডান দরজা দিয়ে প্রবেশ করান।
(গ) যাদের নেক আমল ও বদ আমল এক সমান হয়ে যাবে তাদের ক্ষেত্রে তাঁর শাফাআত। তিনি তাদের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করার
সুপারিশ করবেন।
(ঘ)জান্নাতে প্রবেশকারী লোকদের জন্য তাদের সম্পাদিত আমলের দাবী ও চাহিদার থেকে আরো উচ্চ মাকাম দানের জন্য তাঁর
শাফাআত।
(ঙ) স্বীয় চাচা আবু তালেবের আযাব লঘূ করার জন্য তাঁর শাফাআত।
(চ)সকল মুমিনদের জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করার জন্য তাঁর শাফাআত।
২-নবীসহ অন্য সকল নবী, ফেরেশতা ও মুমিন- সকলের জন্য উন্মোক্ত শাফাআত:
আর এ শাফাআতটি প্রযোজ্য হবে সেসব লোকদের ক্ষেত্রে যারা জাহান্নামের উপযুক্ত হয়ে যাবে তাদের প্রবেশ না করানোর
জন্য এবং যারা প্রবেশ করবে তাদের বের করে আনার জন্য।
১-হাদীস
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: )) ﻟﻜﻞ ﻧﺒﻲ ﺩﻋﻮﺓ ﻣﺴﺘﺠﺎﺑﺔ , ﻓﺘﻌﺠﻞ ﻛﻞ ﻧﺒﻲ ﺩﻋﻮﺗﻪ , ﻭﺃﻧﻲ ﺍﺧﺘﺒﺄﺕ ﺩﻋﻮﺗﻲ ﺷﻔﺎﻋﺔ ﻷﻣﺘﻲ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﻓﻬﻲ ﻧﺎﺋﻠﺔ ﺇﻥ ﺷﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﻦ ﻣﺎﺕ ﻣﻦ ﺃﻣﺘﻲ ﻻ
ﻳﺸﺮﻙ ﺑﺎﻟﻠﻪ ﺷﻴﺌﺎ .(( ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: প্রত্যেক
নবীকেই একটি গ্রহণযোগ্য দোআর প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই তাঁদের সেই দোআ পৃথিবীতেই সম্পন্ন করে
ফেলেছেন। তবে আমি আমার দোআটি কেয়ামতের দিন আমার উম্মতের শাফাআতের জন্য ধরে রেখেছি। আমার উম্মতের যারা
আল্লাহর সাথে কোন শরীক-সমকক্ষ স্থির না করে মারা যা,ে আল্লাহ চাহেতো সে দোআ তাদের সকলকে স্পর্শ করবে। অর্থাৎ
সে দোআর ভাগ তারা সকলেই পাবে।[৩২]
২- আল্লাহ তাআলা ফেরেশতা সম্পর্কে বলছেন:
ﻭﻛﻢ ﻣﻦ ﻣﻠﻚ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﻤﺎﻭﺍﺕ ﻻ ﺗﻐﻨﻲ ﺷﻔﺎﻋﺘﻬﻢ ﺷﻴﺌﺎ ﺇﻻ ﻣﻦ ﺑﻌﺪ ﺃﻥ ﻳﺄﺫﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻤﻦ ﻳﺸﺎﺀ ﻭﻳﺮﺿﻰ. }ﺍﻟﻨﺠﻢ :২৬}
আকাশে অনেক ফেরেশতা রয়েছে। তাদের কোন সুপারিশ ফলপ্রসূ হয় না যতক্ষণ আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা ও যাকে পছন্দ করেন,
অনুমতি না দেন। {সূরা নাজম:২৬}
৩- হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺍﻟﺪﺭﺩﺍﺀ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : )) ﻳﺸﻔﻊ ﺍﻟﺸﻬﻴﺪ ﻓﻲ ﺳﺒﻌﻴﻦ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﺑﻴﺘﻪ .(( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺃﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ .
সাহাবী আবুদ্দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহর
রাস্তায় শাহাদত বরণকারী শহীদদের নিজ পরিবারস্থ সত্তর লোকের পক্ষে করা সুপারিশ কবুল করা হবে।[৩৩]
এ শাফাআতের জন্য দু'টি শর্ত আবশ্যক করা হয়েছে:
(১)আল্লাহর পক্ষ থেকে শাফাআত করার অনুমতি। যেমন আল্লাহ বলেন:
ﻣﻦ ﺫﺍ ﺍﻟﺬﻱ ﻳﺸﻔﻊ ﻋﻨﺪﻩ ﺇﻻ ﺑﺈﺫﻧﻪ . } ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ :২৫৫}
কে আছ এমন, যে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করবে।{সূরা বাকারা:২৫৫}
(২) শাফাআতকারী এবং যার জন্য শাফাআত করা হবে উভয়ের প্রতি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করছেন:
ﻭﻛﻢ ﻣﻦ ﻣﻠﻚ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﻤﺎﻭﺍﺕ ﻻ ﺗﻐﻨﻲ ﺷﻔﺎﻋﺘﻬﻢ ﺷﻴﺌﺎ ﺇﻻ ﻣﻦ ﺑﻌﺪ ﺃﻥ ﻳﺄﺫﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻤﻦ ﻳﺸﺎﺀ ﻭﻳﺮﺿﻰ. }ﺍﻟﻨﺠﻢ :২৬}
আকাশে অনেক ফেরেশতা রয়েছে। তাদের কোন সুপারিশ ফলপ্রসূ হয় না যতক্ষণ আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা ও যাকে পছন্দ করেন,
অনুমতি না দেন। {সূরা নাজম:২৬}
কাফেরের পক্ষে কোন সুপারিশ হবে না। সে চিরস্থায়ী ভাবে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তার পক্ষে কেউ সুপারিশ করলেও
সেটি ফলপ্রসূ হবে না। এসব অপরাধী সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﻓﻤﺎ ﺗﻨﻔﻌﻬﻢ ﺷﻔﺎﻋﺔ ﺍﻟﺸﺎﻓﻌﻴﻦ }. ﺍﻟﻤﺪﺛﺮ :৪৮}
অতএব সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোন উপকারে আসবে না।
{সূরা মুদ্দাস্সির:৪৮}
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফাআত প্রার্থনা করার বিধান:
নবীজীর শাফাআত কামনাকারী ব্যক্তির জন্য নিম্নোক্ত কাজগুলো সম্পন্ন করা জরুরী। আল্লাহ তাআলার নিকট নবীজীর
শাফাআত প্রার্থনা করা। যেমন এভাবে বলতে পারে: হে আল্লাহ তুমি আমাকে তোমার নবীর শাফাআত নসীব কর। পাশাপাশি
শাফাআত আবশ্যককারী নেক কাজ অধিক পরিমাণে সম্পাদন করে যাওয়া। যেমন একমাত্র আল্লাহ তাআলর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে
ইবাদত করতে থাকা, নবীজীর উপর বেশি বেশি দরূদ পড়া এবং তাঁর জন্য আল্লাহর নিকট ওসীলা প্রার্থনা করা।
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ )) : ﺃﺳﻌﺪ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺑﺸﻔﺎﻋﺘﻲ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﻣﻦ ﻗﺎﻝ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﺧﺎﻟﺼﺎ ﻣﻦ ﻗﻠﺒﻪ ﺃﻭ ﻧﻔﺴﻪ .(( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ
করেন: কেয়ামতের দিন আমার সুপারিশ পেয়ে সবচে ভাগ্যবান ব্যক্তি হচ্ছে, যারা খাঁটি মনে এ স্বীকৃতি প্রদান করেছে যে,
আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কোন সত্যিকার উপাস্য নেই))। [৩৪]
প্রতিদান স্থান:
দুনিয়া হচ্ছে আমল তথা কর্মশালা আর আখেরাত হচ্ছে প্রতিদান (প্রদান ও প্রাপ্তির) আবাস। তবে স্থায়ী আবাস তথা জান্নাত
কিংবা জাহান্নামে প্রবেশের পূর্বে আমল ও প্রশ্নের সমাপ্তি হবে না। বরং চলতে থাকবে। সেটি কবরের বরযখী জীবনে হোক
বা কেয়ামতের ময়দানে। যেমন কবরে মাইয়্যেতকে মুনকার নকীর-ফেরেশতাদ্বয়ের প্রশ্ন, কেয়ামত দিবসে সকল মানুষকে সেজদা
করার নির্দেশ, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও যারা নবী আগমনের পূর্বে মারা গেছে তাদের পরীক্ষা ইত্যাদি। অত:পর আল্লাহ তাআলা
বান্দাদের মাঝে তাদের ঈমান ও আমল অনুপাতে ফায়সালা করবেন। একদল যাবে জান্নাতে অপরটি জাহান্নামে।
১-মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﻭَﻛَﺬَﻟِﻚَ ﺃَﻭْﺣَﻴْﻨَﺎ ﺇِﻟَﻴْﻚَ ﻗُﺮْﺁَﻧًﺎ ﻋَﺮَﺑِﻴًّﺎ ﻟِﺘُﻨْﺬِﺭَ ﺃُﻡَّ ﺍﻟْﻘُﺮَﻯ ﻭَﻣَﻦْ ﺣَﻮْﻟَﻬَﺎ ﻭَﺗُﻨْﺬِﺭَ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﺠَﻤْﻊِ ﻟَﺎ ﺭَﻳْﺐَ ﻓِﻴﻪِ ﻓَﺮِﻳﻖٌ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﻭَﻓَﺮِﻳﻖٌ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻌِﻴﺮِ ﺍﻟﺸﻮﺭﻯ :৭}
এমনিভাবে আমি আপনার প্রতি আরবী ভাষায় কোরআন নাযিল করেছি, যাতে আপনি মক্কা ও তার আশ-পাশের লোকদের সতর্ক
করেন এবং সতর্ক করেন সমাবেশের দিন সম্পর্কে, যাতে কোন সন্দেহ নেই। একদল যাবে জান্নাতে এবং অপর একদল জাহান্নামে।
{সূরা শূরা:৭}
২-অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
ﺍﻟْﻤُﻠْﻚُ ﻳَﻮْﻣَﺌِﺬٍ ﻟِﻠَّﻪِ ﻳَﺤْﻜُﻢُ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻢْ ﻓَﺎﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁَﻣَﻨُﻮﺍ ﻭَﻋَﻤِﻠُﻮﺍ ﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺤَﺎﺕِ ﻓِﻲ ﺟَﻨَّﺎﺕِ ﺍﻟﻨَّﻌِﻴﻢِ ﴿ ৫৬﴾ ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮُﻭﺍ ﻭَﻛَﺬَّﺑُﻮﺍ ﺑِﺂَﻳَﺎﺗِﻨَﺎ ﻓَﺄُﻭﻟَﺌِﻚَ ﻟَﻬُﻢْ ﻋَﺬَﺍﺏٌ ﻣُﻬِﻴﻦٌ ﴿৫৭ ﴾ { ﺍﻟﺤﺞ :৫৬-৫৭}
রাজত্ব সেদিন আল্লাহরই, তিনিই তাদের বিচার করবেন। অতএব যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে তারা নেয়ামতপূর্ন
জান্নাতে থাকবে। আর যারা কুফরী করে এবং আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলে তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।
{সূরা হজ্ব:৫৬-৫৭}
৩-আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:
ﻭَﻳَﻮْﻡَ ﺗَﻘُﻮﻡُ ﺍﻟﺴَّﺎﻋَﺔُ ﻳَﻮْﻣَﺌِﺬٍ ﻳَﺘَﻔَﺮَّﻗُﻮﻥَ ﴿১৪ ﴾ ﻓَﺄَﻣَّﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁَﻣَﻨُﻮﺍ ﻭَﻋَﻤِﻠُﻮﺍ ﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺤَﺎﺕِ ﻓَﻬُﻢْ ﻓِﻲ ﺭَﻭْﺿَﺔٍ ﻳُﺤْﺒَﺮُﻭﻥَ ﴿১৫ ﴾ ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮُﻭﺍ ﻭَﻛَﺬَّﺑُﻮﺍ ﺑِﺂَﻳَﺎﺗِﻨَﺎ ﻭَﻟِﻘَﺎﺀِ ﺍﻟْﺂَﺧِﺮَﺓِ ﻓَﺄُﻭﻟَﺌِﻚَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻌَﺬَﺍﺏِ ﻣُﺤْﻀَﺮُﻭﻥَ ﴿ ১৬ ﴾ { ﺍﻟﺮﻭﻡ:১৪-১৬}
যেদিন কেয়ামত সঙ্ঘটিত হবে, সেদিন মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়বে। যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম সম্পাদন করেছে তারা জান্নাতে
সমাদৃত হবে। আর যারা কাফের এবং আমার আয়াতসমূহ ও পরকালের সাক্ষাতকারকে মিথ্যা বলছে, তাদেরকেই আযাবের মধ্যে
উপস্থিত করা হবে।{সূরা রূম:১৪-১৬}
জান্নাতের বিবরণ
জান্নাত হচ্ছে শান্তির আবাস, সুখের ঠিকানা যা মহান আল্লাহ পরকালীন জীবনে মুমিন নর-নারীদের থাকার জন্য প্রস্তুত
করেছেন।
জান্নাত সম্পর্কিত আমাদের এ আলোচনায় মূলত: এ বিষয়ে বর্ণিত কুরআনের আয়াত ও সহীহ হাদীসের আলোকে একটু বিন্যস্ত করে
বলার চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র। যেমন, এ জান্নাত ও তার নেয়ামতসমূহের সৃষ্টি কর্তা কে? আর তিনি হচ্ছেন সেই মহান রাব্বুল
আলামীন আল্লাহ, যার রহমতের উপর ভিত্তি করে টিকে আছে এ বিশ্ব। আরো আলোচনা করা হয়েছে: সর্ব প্রথম জান্নাতে কে
প্রবেশ করবেন? কার পায়ের পবিত্র স্পর্শে জান্নাত ধন্য হয়েছে? আর তিনি হচ্ছে সৃষ্টি সেরা মহানবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
জান্নাতের কতিপয় প্রসিদ্ধ নাম:
মৌলিকত্বের দিক থেকে জান্নাত একটিই তবে বৈশিষ্ট ও গুণাগুণের দিক থেকে সেটি একাধিক। আর এ বিভিন্নতার কারণে তার
নামও হয়েছে একাধিক। এ পর্যায়ে আমরা জান্নাতের কিছু প্রসিদ্ধ নাম উল্লেখ করব।
১- জান্নাত:
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করছেন:
ﻭَﻣَﻦْ ﻳُﻄِﻊِ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟَﻪُ ﻳُﺪْﺧِﻠْﻪُ ﺟَﻨَّﺎﺕٍ ﺗَﺠْﺮِﻱ ﻣِﻦْ ﺗَﺤْﺘِﻬَﺎ ﺍﻟْﺄَﻧْﻬَﺎﺭُ ﺧَﺎﻟِﺪِﻳﻦَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻭَﺫَﻟِﻚَ ﺍﻟْﻔَﻮْﺯُ ﺍﻟْﻌَﻈِﻴﻢُ } ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ : ১৩}
যারা আল্লাহ ও রাসূলের আদেশ মত চলবে, তিনি তাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে
স্রোতাস্বিনী প্রবাহিত হবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। সেটি বিরাট সাফল্য। {সূরা নিসা:১৩}
২- জান্নাতুল ফেরদাউস:
আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﺇﻥ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﺁﻣﻨﻮﺍ ﻭﻋﻤﻠﻮﺍ ﺍﻟﺼﺎﻟﺤﺎﺕ ﻛﺎﻧﺖ ﻟﻬﻢ ﺟﻨﺎﺕ ﺍﻟﻔﺮﺩﻭﺱ ﻧﺰﻻ . }ﺍﻟﻜﻬﻒ :১০৭}
নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করেছে তাদের অভ্যর্থনার জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফেরদাউস। {সূরা কাহফ:১০৭}
৩- জান্নাতু আদন:
ইরশাদ হচ্ছে:
ﻫَﺬَﺍ ﺫِﻛْﺮٌ ﻭَﺇِﻥَّ ﻟِﻠْﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ﻟَﺤُﺴْﻦَ ﻣَﺂَﺏٍ ﴿ ৪৯﴾ ﺟَﻨَّﺎﺕِ ﻋَﺪْﻥٍ ﻣُﻔَﺘَّﺤَﺔً ﻟَﻬُﻢُ ﺍﻟْﺄَﺑْﻮَﺍﺏُ ﴿৫০﴾ { ﺹ : ৪৯-৫}
এ এক মহা আলোচনা। তাকওয়া অবলম্বনকারীদের জন্য রয়েছে উত্তম ঠিকানা-জান্নাতু আদন তথা স্থায়ী বসবাসের জান্নাত;
তাদের জন্য তার দরজাসমূহ রয়েছে উন্মুক্ত। {সূরা স্বদ:৪৯-৫০}
৪- জান্নাতুল খুলদ:
ইরশাদ হচ্ছে:
ﻗُﻞْ ﺃَﺫَﻟِﻚَ ﺧَﻴْﺮٌ ﺃَﻡْ ﺟَﻨَّﺔُ ﺍﻟْﺨُﻠْﺪِ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﻭُﻋِﺪَ ﺍﻟْﻤُﺘَّﻘُﻮﻥَ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﻟَﻬُﻢْ ﺟَﺰَﺍﺀً ﻭَﻣَﺼِﻴﺮًﺍ } ﺍﻟﻔﺮﻗﺎﻥ :১৫}
বল, এটা উত্তম না জান্নাতুল খুলদ-চিরকাল বসবাসের জান্নাত। যার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে মুত্তাকীদের? সেটা হবে তাদের
প্রতিদান ও প্রত্যাবর্তন স্থল। {সূরা ফুরকান:১৫}
৫- জান্নাতুন না'য়ীম:
আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﺇﻥ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﺁﻣﻨﻮﺍ ﻭ ﻋﻤﻠﻮﺍ ﺍﻟﺼﺎﻟﺤﺎﺕ ﻟﻬﻢ ﺟﻨﺖ ﺍﻟﻨﻌﻴﻢ . } ﻟﻘﻤﺎﻥ :৮}
যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল সম্পাদন করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতুন না'য়ীম তথা নিয়ামতপূর্ণ জান্নাত। { সূরা
লোকমান:৮}
৬- জান্নাতুল মাওয়া:
ইরশাদ হচ্ছে:
ﺃﻣﺎ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﺁﻣﻨﻮﺍ ﻭ ﻋﻤﻠﻮﺍ ﺍﻟﺼﺎﻟﺤﺎﺕ ﻓﻠﻬﻢ ﺟﻨﺎﺕ ﺍﻟﻤﺄﻭﻯ ﻧﺰﻻ ﺑﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﻌﻤﻠﻮﻥ }. ﺍﻟﺴﺠﺪﺓ :১৯}
যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে তাদের জন্য রয়েছে তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান স্বরূপ জান্নাতুল মাওয়া।এটি
আতিথীয়তার আঙ্গিকে তাদের প্রদান করা হবে।
{সূরা সাজদাহ: ১৯}
৭- দারুস সালাম:
আল্লাহ বলেন:
ﻟَﻬُﻢْ ﺩَﺍﺭُ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡِ ﻋِﻨْﺪَ ﺭَﺑِّﻬِﻢْ ﻭَﻫُﻮَ ﻭَﻟِﻴُّﻬُﻢْ ﺑِﻤَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ } ﺍﻷﻧﻌﺎﻡ :১২৭}
তাদের জন্য রয়েছে তাদের প্রতিপালকের নিকট দারুস সালাম তথা শান্তি নিকেতন। আর তাদের কর্মের কারণে তিনিই হচ্ছেণ
তাদের অভিভাবক। {সূরা আনআম:১২৭}
জান্নাতের অবস্থান
(১)আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﻭ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺭﺯﻓﻜﻢ ﻭ ﻣﺎ ﺗﻮﻋﺪﻭﻥ . }ﺍﻟﺬﺍﺭﻳﺎﺕ :২২}
আর আকাশে রয়েছে তোমাদের রিযিক এবং যা কিছুর প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেয়া হয়েছে। { সূরা যারিয়াত:২২}
(২) আল্লাহ তাআলা অন্যত্র বলছেন:
ﻭﻟﻘﺪ ﺭﺁﻩ ﻧﺰﻟﺔ ﺃﺧﺮﻯ ﻋﻨﺪ ﺳﺪﺭﺓ ﺍﻟﻤﻨﺘﻬﻰ ﻋﻨﺪﻫﺎ ﺟﻨﺔ ﺍﻟﻤﺄﻭﻯ . } ﺍﻟﻨﺠﻢ :১৩-১৫}
নিশ্চয় তিনি তাকে আরেকবার দেখেছিলেন, সিদরাতুল মুনতাহার নিকট, যার নিকট অবস্থিত জান্নাতুল মা'ওয়া। { সূরা
নাজম:১৩-১৫}
(৩) হাদীসে এসেছে
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﻣﻦ ﺁﻣﻦ ﺑﺎﻟﻠﻪ ﻭ ﺭﺳﻮﻟﻪ ﻭ ﺃﻗﺎﻡ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﺻﺎﻡ ﺭﻣﻀﺎﻥ , ﻛﺎﻥ ﺣﻘﺎ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﻥ ﻳﺪﺧﻠﻪ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻫﺎﺟﺮ ﻓﻲ ﺳﺒﻴﻞ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﻭ ﺟﻠﺲ ﻓﻲ ﺃﺭﺿﻪ ﺍﻟﺘﻲ ﻭﻟﺪ ﻓﻴﻬﺎ , ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻳﺎ
ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ :ﺃﻓﻼ ﻧﻨﺒﺊ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺑﺬﻟﻚ؟ ﻗﺎﻝ: ﺇﻥ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻣﺎﺋﺔ ﺩﺭﺟﺔ , ﺃﻋﺪﻫﺎ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻠﻤﺠﺎﻫﺪﻳﻦ ﻓﻲ ﺳﺒﻴﻠﻪ , ﻛﻞ ﺩﺭﺟﺘﻴﻦ ﻣﺎ ﺑﻴﻨﻬﻤﺎ ﻛﻤﺎ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﻭ ﺍﻷﺭﺽ , ﻓﺈﺫﺍ ﺳﺄﻟﺘﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﺴﻠﻮﻩ ﺍﻟﻔﺮﺩﻭﺱ , ﻓﺈﻧﻪ ﺃﻭﺳﻂ ﺍﻟﺠﻨﺔ , ﻭ ﺃﻋﻠﻰ ﺍﻟﺠﻨﺔ , ﻭﻓﻮﻗﻪ
ﻋﺮﺵ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ , ﻭﻣﻨﻪ ﺗﻔﺠﺮ ﺃﻧﻬﺎﺭ ﺍﻟﺠﻨﺔ. ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করছেন, রাসূলুল্লাহ বলেন:
যে ব্যক্তি আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে, সালাত কায়েম করবে, রমযানের সিয়াম পালন করবে, তাকে জান্নাতে প্রবেশ
করানো আল্লাহর দায়িত্ব হয়ে যাবে। সে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় হিজরত করুক বা নিজ জন্মভূমিতে অবস্থান করুক। লোকেরা
বলল: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি এ বিষয়ে অন্যান্য লোকদের সংবাদ দেব না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বললেন: নিশ্চয় জান্নাতে একশত স্তর রয়েছে, যেগুলো আল্লাহ তাআলা তাঁর রাস্তায় জিহাদকারী -মুজাহিদদের জন্য তৈরী
করেছেন। দুই স্তরের মাঝে দূরত্ব হচ্ছে আকাশ-যমীনের মাঝের দূরত্বের সমান। সুতরাং তোমরা যখন আল্লাহর নিকট জান্নাত
প্রার্থনা করবে তখন ফিরদাউস প্রার্থনা করবে। কেননা এটি সর্বোচ্চ স্তরের জান্নাত যা জান্নাতের মধ্যবর্তী স্থানে
অবস্থিত। তার উপর রয়েছে দয়াময় মহান আল্লাহর আরশ। এবং জান্নাতের স্রোতস্বিনীসমূহ তার থেকেই প্রবাহিত হয়েছে।[৩৫]
(৪)হাদীসে আরো এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﺇﻥ ﺍﻟﻤﺆﻣﻦ ﺇﺫﺍ ﺣﻀﺮﻩ ﺍﻟﻤﻮﺕ ﺣﻀﺮﺗﻪ ﻣﻼﺋﻜﺔ ﺍﻟﺮﺣﻤﺔ , ﻓﺈﺫﺍ ﻗﺒﻀﺖ ﻧﻔﺴﻪ ﺟﻌﻠﺖ ﻓﻲ ﺣﺮﻳﺮﺓ ﺑﻴﻀﺎﺀ ﻓﻴﻨﻄﻠﻖ ﺑﻬﺎ ﺇﻟﻰ ﺑﺎﺏ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﻓﻴﻘﻮﻟﻮﻥ ﻣﺎ ﻭﺟﺪﻧﺎ ﺭﻳﺤﺎ
ﺃﻃﻴﺐ ﻣﻦ ﻫﺬﻩ ... ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﺤﺎﻛﻢ ﻭ ﺍﺑﻦ ﺣﺒﺎﻥ .
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:মুমিনের মৃত্যু সময়
উপস্থিত হলে রহমতের ফেরেশতাবৃন্দ উপস্থিত হয়। অত:পর তার জান কবজ করা হলে তাকে শুভ্র রেশমী কাপড়ে রাখা হয় এবং
আকাশের দরজাপানে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন তারা বলাবলি করে, আমরা এর চেয়ে উন্নত সুঘ্রাণ আর কখনো পাইনি...।[৩৬]
জান্নাতের প্রবেশদারসমূহের নাম:
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﻣﻦ ﺃﻧﻔﻖ ﺯﻭﺟﻴﻦ ﻓﻲ ﺳﺒﻴﻞ ﺍﻟﻠﻪ , ﻧﻮﺩﻱ ﻣﻦ ﺃﺑﻮﺍﺏ ﺍﻟﺠﻨﺔ . ﻳﺎ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ,ﻫﺬﺍ ﺧﻴﺮ , ﻓﻤﻦ ﻛﺎﻥ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﺩﻋﻲ ﻣﻦ ﺑﺎﺏ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭ ﻣﻦ ﻛﺎﻥ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ
ﺍﻟﺠﻬﺎﺩ ﻋﻌﻲ ﻣﻦ ﺑﺎﺏ ﺍﻟﺠﻬﺎﺩ , ﻭﻣﻦ ﻛﺎﻥ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺼﻴﺎﻡ ﺩﻋﻲ ﻣﻦ ﺑﺎﺏ ﺍﻟﺮﻳﺎﻥ ﻭﻣﻦ ﻛﺎﻥ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺼﺪﻗﺔ ﺩﻋﻲ ﻣﻦ ﺑﺎﺏ ﺍﻟﺼﺪﻗﺔ. ﻓﻘﺎﻝ ﺃﺑﻮ ﺑﻜﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ: ﺑﺄﺑﻲ ﺃﻧﺖ ﻭ ﺃﻣﻲ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ , ﻣﺎ ﻋﻠﻰ ﻣﻦ ﺩﻋﻲ ﻣﻦ ﺗﻠﻚ ﺍﻷﺑﻮﺍﺏ
ﻣﻦ ﺿﺮﻭﺭﺓ , ﻓﻬﻞ ﻳﺪﻋﻰ ﺃﺣﺪ ﻣﻦ ﺗﻠﻚ ﺍﻷﺑﻮﺍﺏ ﻛﻠﻬﺎ؟ ﻗﺎﻝ : ﻧﻌﻢ , ﻭﺃﺭﺟﻮ ﺃﻥ ﺗﻜﻮﻥ ﻣﻨﻬﻢ. ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
যে ব্যক্তি দুটি প্রিয় বস্তু আল্লাহর রাস্তায় খরচ করবে, জান্নাতের প্রবেশদার সমূহ থেকে আহ্বান করা হবে, হে আল্লাহর
বান্দা! এটি উত্তম-কল্যাণকর। সুতরাং যে নামাযী হবে, তাকে নামাযের দরজা থেকে আহ্বান করা হবে। জিহাদে
অংশগ্রহণকারী মুজাহিদ কে ডাকা হবে জিহাদের দরজা দিয়ে। সিয়াম পালনকারীকে রাইয়ান নামক দরজা থেকে আহ্বান
করা হবে। দান-সদকাকারী দানবীরকে সদকার দরজা থেকে ডাকা হবে।
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার পিতা মাতা আপনার তরে উৎসর্গ হোক। উপরোক্ত সকল দরজা দিয়ে
একজনকে ডাকা আবশ্যক নয়। তবুও এমন কেউকি আছে? যাকে প্রত্যেক দরজা দিয়ে ডাকা হবে? নবীজী বললেন: হ্যাঁ, আর আমি
আশা করছি তুমিও হবে তাদের একজন।[৩৭]
জান্নাতের দরজাসমূহের প্রশস্ততা:
(১) হাদীসে এসেছে
ﻋﻦ ﻋﺘﺒﺔ ﺑﻦ ﻏﺰﻭﺍﻥ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﺫﻛﺮ ﻟﻨﺎ ﺃﻥ ﻣﺎ ﺑﻴﻦ ﻣﺼﺮﺍﻋﻴﻦ ﻣﻦ ﻣﺼﺎﺭﻳﻊ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻣﺴﻴﺮﺓ ﺃﺭﺑﻌﻴﻦ ﺳﻨﺔ , ﻭﻟﻴﺄﺗﻴﻦ ﻋﻠﻴﻬﺎ ﻳﻮﻡ ﻭ ﻫﻮ ﻛﻈﻴﻆ ﻣﻦ ﺍﻟﺰﺣﺎﻡ. ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ
উতবা বিন গযওয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের বলা হল যে, জান্নাতের দরজার দুই পাল্লার মাঝের
দূরত্ব চল্লিশ বছর ভ্রমনপথের দূরত্বের সমান। আর এমন একদিন আসবে যে, ভিড়ের কারণে (মনে হবে)সেটি অতিভোজন করা পেট।
[৩৮]
(২) হাদীসে আরো এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﺃﺗﻲ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺑﻠﺤﻢ ... ﻭ ﻓﻲ ﺁﺧﺮﻩ ﻗﺎﻝ : ﻭﺍﻟﺬﻱ ﻧﻔﺲ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻴﺪﻩ ﺇﻥ ﻣﺎ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﻤﺼﺮﺍﻋﻴﻦ ﻣﻦ ﻣﺼﺎﺭﻳﻊ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻟﻜﻤﺎ ﺑﻴﻦ ﻣﻜﺔ ﻭ ﻫﺠﺮ ﺃﻭ ﻛﻤﺎ ﺑﻴﻦ ﻣﻜﺔ ﻭ ﺑﺼﺮﻯ. ﻣﺘﻔﻖ
ﻋﻠﻴﻪ
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
নিকট গোশত হাদিয়া আসল... হাদীসের শেষাংশে আছে। রাসূলুল্লাহ বলেন: সে সত্তার শপথ যার হাতে আমার জীবন, নিশ্চয়
জান্নাতের দরজার দুই পাল্লার মাঝের দূরত্ব মক্কা ও হাজার অথবা মক্কা ও বসরার মাঝের দূরত্বের সমান।[৩৯]
জান্নাতের প্রবেশদারের সংখ্যা
১- আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করছেন:
ﻭَﺳِﻴﻖَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺍﺗَّﻘَﻮْﺍ ﺭَﺑَّﻬُﻢْ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﺯُﻣَﺮًﺍ ﺣَﺘَّﻰ ﺇِﺫَﺍ ﺟَﺎﺀُﻭﻫَﺎ ﻭَﻓُﺘِﺤَﺖْ ﺃَﺑْﻮَﺍﺑُﻬَﺎ ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻟَﻬُﻢْ ﺧَﺰَﻧَﺘُﻬَﺎ ﺳَﻠَﺎﻡٌ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﻃِﺒْﺘُﻢْ ﻓَﺎﺩْﺧُﻠُﻮﻫَﺎ ﺧَﺎﻟِﺪِﻳﻦَ ﴿৭৩ ﴾ { ﺍﻟﺰﻣﺮ :৭৩}
আর যারা স্বীয় পালনকর্তাকে ভয় করে চলত, তাদেরক দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা জান্নাতের
নিকট উপস্থিত হবে ও এব দ্বারসমূহ খুলে দেয়া হবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে: তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা
সুখে থাক, অত:পর সদা সর্বদা বসবাসের জন্য জান্নাতে প্রবেশ কর। {সূরা যুমার :৭৩}
(২) হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺳﻬﻞ ﺑﻦ ﺳﻌﺪ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺛﻤﺎﻧﻴﺔ ﺃﺑﻮﺍﺏ , ﻓﻴﻬﺎ ﺑﺎﺏ ﻳﺴﻤﻰ ﺍﻟﺮﻳﺎﻥ ﻻ ﻳﺪﺧﻠﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﺼﺎﺋﻤﻮﻥ . ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
সাহাবী সাহল বিন সা'দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
জান্নাতে আটটি দরজা রয়েছে, এর একটির নাম হচ্ছে রাইয়ান। রোযাদাররা ব্যতীত অন্য কেউ এটি দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে
না।[৪০]
জান্নাতের দরজাসমূহ জান্নাতবাসীদের জন্য উন্মুক্ত
আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﻫَﺬَﺍ ﺫِﻛْﺮٌ ﻭَﺇِﻥَّ ﻟِﻠْﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ﻟَﺤُﺴْﻦَ ﻣَﺂَﺏٍ ﴿৪৯ ﴾ ﺟَﻨَّﺎﺕِ ﻋَﺪْﻥٍ ﻣُﻔَﺘَّﺤَﺔً ﻟَﻬُﻢُ ﺍﻟْﺄَﺑْﻮَﺍﺏُ ﴿ ৫০﴾ { ﺹ :৪৯-৫০}
এ এক মহৎ আলোচনা। আর নিশ্চয় আল্লাহভীরুদের জন্য রয়েছে উত্তম ঠিকানা-স্থায়ী বসবাসের জান্নাত, তাদের জন্য তার দ্বার
উন্মুক্ত রয়েছে। {সূরা সাদ:৪৯-৫০}
পৃথিবীতে যে সময়গুলোয় জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করা হয় তার বিবরণ:
পৃথিবীতে বিভিন্ন সময় নানা উপলক্ষে জান্নাতের দরজাসমূহ খোলা হয়।এ প্রসঙ্গে আমরা কিছু হাদীস তুলে ধরছি।
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﺗﻔﺘﺢ ﺃﺑﻮﺍﺏ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻳﻮﻡ ﺍﻹﺛﻴﻨﻴﻦ ﻭ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺨﻤﻴﺲ ﻓﻴﻐﻔﺮ ﻟﻜﻞ ﻋﺒﺪ ﻻ ﻳﺸﺮﻙ ﺑﺎﻟﻠﻪ ﺷﻴﺌﺎ ﺇﻻ ﺭﺟﻼ ﻛﺎﻧﺖ ﺑﻴﻨﻪ ﻭ ﺑﻴﻦ ﺃﺧﻴﻪ ﺷﺤﻨﺎﺀ , ﻓﻴﻘﺎﻝ ﺃﻧﻈﺮﻭﺍ ﻫﺬﻳﻦ ﺣﺘﻰ
ﻳﺼﻄﻠﺤﺎ ু ﺛﻼﺛﺎ- ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ .
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
প্রত্যেক সোম ও বৃহ:পতিবার দিন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং শিরকমুক্ত সকল বান্দাদের ক্ষমা করে দেয়া হয়। তবে
ঐ ব্যক্তি ব্যতীত যার মাঝে ও তার মুসলিম ভাইয়ের মাঝে হিংসা ও শত্রুতা রয়েছে। তাদের সম্পর্কে বলা হয়, এদের আপোস
হওয়া পর্যন্ত অবকাশ দাও। এদের আপোস হওয়া পর্যন্ত অবকাশ দাও। এদের আপোস হওয়া পর্যন্ত অবকাশ দাও।[৪১]
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: ﺇﺫﺍ ﺩﺧﻞ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻓﺘﺤﺖ ﺃﺑﻮﺍﺏ ﺍﻟﺠﻨﺔ , ﻭﻏﻠﻘﺖ ﺃﺑﻮﺍﺏ ﺟﻬﻨﻢ , ﻭﺳﻠﺴﻠﺖ ﺍﻟﺸﻴﺎﻃﻴﻦ. ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: রমযান মাস উপস্থিত
হলে জান্নাতের সব কটি প্রবেশদ্বার উন্মুক্ত করে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের সবকটি দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানকে
শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।[৪২]
(৩)
ﻭﻋﻦ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ :ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: ﻣﺎ ﻣﻨﻜﻢ ﻣﻦ ﺃﺣﺪ ﻳﺘﻮﺿﺄ ﻓﻴﺒﻠﻎ ‏( ﺃﻭ ﻓﻴﺴﺒﻎ ‏) ﺍﻟﻮﺿﻮﺀ , ﺛﻢ ﻳﻘﻮﻝ ﺃﺷﻬﺪ ﺃﻥ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺃﻥ ﻣﺤﻤﺪ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻭ ﺭﺳﻮﻟﻪ ﺇﻻ ﻓﺘﺤﺖ ﻟﻪ ﺃﺑﻮﺍﺏ ﺍﻟﺠﻨﺔ
ﺍﻟﺜﻤﺎﻧﻴﺔ ﻳﺪﺧﻞ ﻣﻦ ﺃﻳﻬﺎ ﺷﺎﺀ . ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ
আমীরুল মুমিনীন উমর বিন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
তোমাদের যে কেউ খুব ভালভাবে ওযু করে এ দুআটি পড়বে যে, ﺃﺷﻬﺪ ﺃﻥ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺃﻥ ﻣﺤﻤﺪ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻭ ﺭﺳﻮﻟﻪ জান্নাতের আটটি দরজাই তার জন্য
উন্মুক্ত হয়ে যাবে। যে দরজা দিয়েই সে চাইবে প্রবেশ করতে পারবে।[৪৩]
জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বপ্রথম ব্যক্তি:
ﻋﻦ ﺃﻧﺲ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ:ﺁﺗﻲ ﺑﺎﺏ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﻓﺄﺳﺘﻔﺘﺢ ,ﻓﻴﻘﻮﻝ ﺍﻟﺨﺎﺯﻥ: ﻣﻦ ﺃﻧﺖ؟ ﻓﺄﻗﻮﻝ: ﻣﺤﻤﺪ , ﻓﻴﻘﻮﻝ: ﺑﻚ ﺃﻣﺮﺕ ﻻ ﺃﻓﺘﺢ ﻷﺣﺪ ﻗﺒﻠﻚ. ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ
বিশিষ্ট সাহাবী আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: কিয়ামতের
দিন আমি জান্নাতের প্রবেশদ্বারে এসে দরজা খুলতে বলব। রক্ষী বলবেন: কে আপনি? আমি বলব: মুহাম্মাদ। তখন তিনি বলবেন:
আপনার ব্যাপারেই আমি আদিষ্ট হয়েছি যে, আপনার পূর্বে কারো জন্য খুলব না।[৪৪]
জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বপ্রথম উম্মত:
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: ﻧﺤﻦ ﺍﻵﺧﺮﻭﻥ ﺍﻷﻭﻟﻮﻥ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ , ﻭﻧﺤﻦ ﺃﻭﻝ ﻣﻦ ﻳﺪﺧﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ . ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
প্রখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
আমরা সর্বশেষ আগমনকারী কিয়ামতের দিন সর্বাগ্রে উত্থিত হব। এবং আমরাই সর্বাগ্রে জান্নাতে প্রবেশ করব।[৪৫]
জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বপ্রথম দল:
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: ﺇﻥ ﺃﻭﻝ ﺯﻣﺮﺓ ﻳﺪﺧﻠﻮﻥ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻋﻠﻰ ﺻﻮﺭﺓ ﺍﻟﻘﻤﺮ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺒﺪﺭ , ﺛﻢ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻳﻠﻮﻧﻬﻢ ﻋﻠﻰ ﺃﺷﺪ ﻛﻮﻛﺐ ﺩﺭﻱ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺇﺿﺎﺀﺓ , ﻻ ﻳﺒﻮﻟﻮﻥ , ﻭﻻ ﻳﺘﻐﻮﻃﻮﻥ , ﻭﻻ
ﻳﺘﻔﻠﻮﻥ , ﻭﻻ ﻳﻤﺘﺨﻄﻮﻥ , ﺃﻣﺸﺎﻃﻬﻢ ﺍﻟﺬﻫﺐ , ﻭﺭﺷﺤﻬﻢ ﺍﻟﻤﺴﻚ , ﻭﻣﺠﺎﻣﺮﻫﻢ ﺍﻷﻟﻮﺓ , ﻭﺃﺯﻭﺍﺟﻬﻢ ﺍﻟﺤﻮﺭ ﺍﻟﻌﻴﻦ , ﻋﻠﻰ ﺧﻠﻖ ﺭﺟﻞ ﻭﺍﺣﺪ , ﻋﻠﻰ ﺻﻮﺭﺓ ﺃﺑﻴﻬﻢ ﺁﺩﻡ ﺳﺘﻮﻥ ﺫﺭﺍﻋﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ . ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: সর্বপ্রথম যে দলটি
জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের আকৃতি হবে পূর্ণিমা রাতের আলোকোজ্জ্বল চাঁদ সদৃশ। তাদের পরপরই যারা প্রবেশ করবে
তাদের অবস্থা হবে আকাশস্থ আলোকোজ্জ্বল নক্ষত্র থেকেও অধিকতর আলোকময়। তারা সেথায় মল-মূত্র ত্যাগ করবে না। থুথু-
নাকের শ্লেষা ফেলবে না।(চুল বিন্যস্ত করার) চিরুনী হবে স্বর্ণের। শরীর নির্গত ঘাম হবে মেশক সদৃশ। শরীর নি:সৃত ঘ্রাণ হবে
উলুওয়াহ তথা সুতীব্র ঘ্রাণ বিশিষ্ট কাঠ বিশেষ। সঙ্গী হবে কৃষ্ণ ও শুভ্র বর্ণের-ডাগর নয়নাধিকারী হুরবৃন্দ। এক ব্যক্তির
আকৃতিতে- তাদের পিতা আদমের আকৃতিতে- আকাশ পানে ষাট গজ।[৪৬]
(অর্থাৎ তারা আদম আলাইহিস সালামের মত ষাট গজ বিশিষ্ট লম্বাকৃতির হবে)
ﻭﻋﻦ ﺳﻬﻞ ﺑﻦ ﺳﻌﺪ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﻟﻴﺪﺧﻠﻦ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻣﻦ ﺃﻣﺘﻲ ﺳﺒﻌﻮﻥ ﺃﻟﻔﺎ ﺃﻭ ﺳﺒﻌﻤﺎﺋﺔ ﺃﻟﻒ ﻣﺘﻤﺎﺳﻜﻮﻥ ﺁﺧﺬ ﺑﻌﻀﻬﻢ ﺑﻌﻀﺎ , ﻻ ﻳﺪﺧﻞ ﺃﻭﻟﻬﻢ ﺣﺘﻰ ﻳﺪﺧﻞ ﺁﺧﺮﻫﻢ , ﻭﺟﻮﻫﻬﻢ ﻋﻠﻰ ﺻﻮﺭﺓ ﺍﻟﻘﻤﺮ
ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺒﺪﺭ . ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
সাহাবী সাহল বিন সা'দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমার
উম্মতের সত্তর হাজার বা সাত লক্ষ একে অপরকে ধরাধরি করে সমান্তরালভাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সর্বশেষ জন প্রবেশ
করার পূর্বে প্রথমজন প্রবেশ করবে না। এদের চেহারা হবে পূর্ণিমা রাতের ভরা চন্দ্র সদৃশ।[৪৭]
ﻭﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮﻭ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻗﺎﻝ: ﺳﻤﻌﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻘﻮﻝ: ﺇﻥ ﻓﻘﺮﺍﺀ ﺍﻟﻤﻬﺎﺟﺮﻳﻦ ﻳﺴﺒﻘﻮﻥ ﺍﻷﻏﻨﻴﺎﺀ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺑﺄﺭﺑﻌﻴﻦ ﺧﺮﻳﻔﺎ. ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ .
আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে
শুনেছি, আল্লাহর রাসূল বলেন: নিশ্চয় দরিদ্র মুহাজিরবৃন্দ কিয়ামতের দিন ধনীদের চল্লিশ বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
[৪৮]
জান্নাতিদের বয়স:
ﻋﻦ ﻣﻌﺎﺫ ﺑﻦ ﺟﺒﻞ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﻳﺪﺧﻞ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺟﺮﺩﺍ ﻣﺮﺩﺍ ﻣﻜﺤﻠﻴﻦ ﺃﺑﻨﺎﺀ ﺛﻼﺛﻴﻦ ,ﺃﻭ ﺛﻼﺙ ﻭ ﺛﻼﺛﻴﻦ ﺳﻨﺔ. ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺃﺣﻤﺪ ﻭ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ .
সাহাবী মুআয বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
জান্নাতবাসীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে শ্মশ্রুবিহীন, সুরমাবিশিষ্ট নেত্র, ত্রিশ বা তেত্রিশ বছর বয়সের যৌবন অবস্থায়।[৪৯]
জান্নাতবাসীদের মুখাবয়বের বিবরণ:
(১) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﺇِﻥَّ ﺍﻟْﺄَﺑْﺮَﺍﺭَ ﻟَﻔِﻲ ﻧَﻌِﻴﻢٍ ﴿২২ ﴾ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﺄَﺭَﺍﺋِﻚِ ﻳَﻨْﻈُﺮُﻭﻥَ ﴿ ২৩ ﴾ ﺗَﻌْﺮِﻑُ ﻓِﻲ ﻭُﺟُﻮﻫِﻬِﻢْ ﻧَﻀْﺮَﺓَ ﺍﻟﻨَّﻌِﻴﻢِ ﴿ ২৪﴾ { ﺍﻟﻤﻄﻔﻔﻴﻦ :২২-২৪}
নিশ্চয় সৎকর্মশীল নেকবান্দাগন থাকবে পরম আরামে। সিংহাসনে বসে অবলোকন করবে। তুমি তাদের মুখাবয়বে স্বাচ্ছন্দের
সজীবতা দেখতে পাবে। {সূরা আল মুতাফফিফীন:২২-২৪}
(২) আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
ﻭُﺟُﻮﻩٌ ﻳَﻮْﻣَﺌِﺬٍ ﻧَﺎﺿِﺮَﺓٌ ﴿ ২২ ﴾ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﺑِّﻬَﺎ ﻧَﺎﻇِﺮَﺓٌ ﴿২৩ ﴾ { ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ:২২-২৩}
সে দিন অনেক মুখমন্ডল উজ্জ্বল হবে, তারা তাদের পালনকর্তার দিকে তাকিয়ে থাকবে।{সূরা কিয়ামাহ:২২-২৩}
(৩) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
ﻭُﺟُﻮﻩٌ ﻳَﻮْﻣَﺌِﺬٍ ﻧَﺎﻋِﻤَﺔٌ ﴿ ৮﴾ ﻟِﺴَﻌْﻴِﻬَﺎ ﺭَﺍﺿِﻴَﺔٌ ﴿ ৯ ﴾ ﻓِﻲ ﺟَﻨَّﺔٍ ﻋَﺎﻟِﻴَﺔٍ ﴿১০ ﴾ { ﺍﻟﻐﺎﺷﻴﺔ:৮-১০}
অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে সজীব, তাদের কর্মের কারণে সন্তুষ্ট। তারা থাকবে সুউচ্চ জান্নাতে। {সূরা গাশিয়াহ:৮-১০}
(৪) অনত্র ইরশাদ হচ্ছে:
ﻭُﺟُﻮﻩٌ ﻳَﻮْﻣَﺌِﺬٍ ﻣُﺴْﻔِﺮَﺓٌ ﴿৩৮ ﴾ ﺿَﺎﺣِﻜَﺔٌ ﻣُﺴْﺘَﺒْﺸِﺮَﺓٌ ﴿৩৯ ﴾ { ﻋﺒﺲ:৩৮-৩৯}
অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে উজ্জ্বল, সহাস্য ও প্রফুল্ল। {সূরা আবাসা:৩৮-৩৯}
(৫) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺍﺑْﻴَﻀَّﺖْ ﻭُﺟُﻮﻫُﻬُﻢْ ﻓَﻔِﻲ ﺭَﺣْﻤَﺔِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻫُﻢْ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺧَﺎﻟِﺪُﻭﻥَ ﴿১০৭ ﴾ { ﺁﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ :১০৭}
আর যাদের মুখ উজ্জ্বল হবে, তারা থাকবে রহমতের মাঝে, তাতে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে।{সূরা আলে ইমরান:১০৭}
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ﺃﻭﻝ ﺯﻣﺮﺓ ﺗﺪﺧﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻋﻠﻰ ﺻﻮﺭﺓ ﺍﻟﻘﻤﺮ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺒﺪﺭ , ﻭﺍﻟﺬﻳﻦ ﻋﻠﻰ ﺁﺛﺎﺭﻫﻢ ﻛﺄﺣﺴﻦ ﻛﻮﻛﺐ ﺩﺭﻱ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺇﺿﺎﺀﺓ ﻗﻠﻮﺑﻬﻢ ﻋﻠﻰ ﻗﻠﺐ ﺭﺟﻞ ﻭﺍﺣﺪ , ﻻ ﺗﺒﺎﻏﺾ ﺑﻴﻨﻬﻢ ﻭ
ﻻ ﺗﺤﺎﺳﺪ. ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ
করেন:জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম দলটি পূর্ণিমা রাতের আলোকদ্ভাসিত চাঁদের আকৃতি নিয়ে প্রবেশ করবে। এর পরপরই যারা
প্রবেশ করবে তারা হবে আকাশস্থ আলোকজ্জ্বল নক্ষত্র থেকেও অধিক আলোকময়।( হৃদ্যতা ও ভালবাসায়) তারা হবে অভিন্ন হৃদয়
সম্পন্ন। তাদের মাঝে কোন বিদ্বেষ ও শত্রুতা থাকবে না।[৫০]
জান্নাতীদের অভ্যর্থনার বিবরণ:
(১) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﻭَﺳِﻴﻖَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺍﺗَّﻘَﻮْﺍ ﺭَﺑَّﻬُﻢْ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﺯُﻣَﺮًﺍ ﺣَﺘَّﻰ ﺇِﺫَﺍ ﺟَﺎﺀُﻭﻫَﺎ ﻭَﻓُﺘِﺤَﺖْ ﺃَﺑْﻮَﺍﺑُﻬَﺎ ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻟَﻬُﻢْ ﺧَﺰَﻧَﺘُﻬَﺎ ﺳَﻠَﺎﻡٌ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﻃِﺒْﺘُﻢْ ﻓَﺎﺩْﺧُﻠُﻮﻫَﺎ ﺧَﺎﻟِﺪِﻳﻦَ ﴿৭৩ ﴾ { ﺍﻟﺰﻣﺮ :৭৩}
যারা স্বীয় পালনকর্তাকে ভয় করে চলত তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা উন্মুক্ত দরজা
দিয়ে জান্নাতে পৌঁছাবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা বলবে, তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখে থাক, অত:পর সর্বদা বসবাসের
জন্য জান্নাতে প্রবেশ কর। {সূরা যুমার:৭৩}
(২) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
ﻭَﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔُ ﻳَﺪْﺧُﻠُﻮﻥَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻣِﻦْ ﻛُﻞِّ ﺑَﺎﺏٍ ﴿ ২৩ ﴾ ﺳَﻠَﺎﻡٌ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺑِﻤَﺎ ﺻَﺒَﺮْﺗُﻢْ ﻓَﻨِﻌْﻢَ ﻋُﻘْﺒَﻰ ﺍﻟﺪَّﺍﺭِ ﴿২৪ ﴾ { ﺍﻟﺮﻋﺪ:২৩-২৪}
ফেরেশতারা তাদের কাছে আসবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে। বলবে: তোমাদের ধৈর্যের কারণে তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত
হোক। আর তোমাদের এ পরিণাম গৃহ কতইনা চমৎকার। {সূরা রা'দ:২৩-২৪}
(৩) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
ﻟَﺎ ﻳَﺤْﺰُﻧُﻬُﻢُ ﺍﻟْﻔَﺰَﻉُ ﺍﻟْﺄَﻛْﺒَﺮُ ﻭَﺗَﺘَﻠَﻘَّﺎﻫُﻢُ ﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔُ ﻫَﺬَﺍ ﻳَﻮْﻣُﻜُﻢُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﺗُﻮﻋَﺪُﻭﻥَ ﴿ ১০৩ ﴾{ ﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀ :১০৩}
মহাত্রাস তাদেরকে চিন্তান্বিত করবে না এবং ফেরেশতারা তাদেরকে অভ্যর্থনা জানাবে। বলবে: আজ তোমাদের দিন, যে
দিনের প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেয়া হয়েছিল। {সূরা আম্বিয়া:১০৩}
যারা কোনরূপ হিসাব ও শাস্তি ব্যতীতই জান্নাতে প্রবেশ করবে:
ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻗﺎﻝ :ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: ﻋﺮﺿﺖ ﻋﻠﻰ ﺍﻷﻣﻢ , ﻓﺄﺟﺪ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﻳﻤﺮ ﻣﻌﻪ ﺍﻷﻣﺔ , ﻭﺍﻟﻨﺒﻲ ﻳﻤﺮ ﻣﻌﻪ ﺍﻟﻨﻔﺮ , ﻭﺍﻟﻨﺒﻲ ﻳﻤﺮ ﻣﻌﻪ ﺍﻟﻌﺸﺮﺓ , ﻭﺍﻟﻨﺒﻲ ﻳﻤﺮ ﻣﻌﻪ ﺍﻟﺨﻤﺴﺔ , ﻭﺍﻟﻨﺒﻲ ﻳﻤﺮ ﻭﺣﺪﻩ , ﻓﻨﻈﺮﺕ
ﻓﺈﺫﺍ ﺳﻮﺍﺩ ﻛﺜﻴﺮ , ﻗﻠﺖ: ﻳﺎ ﺟﺒﺮﻳﻞ , ﻫﺆﻻﺀ ﺃﻣﺘﻲ؟ ﻗﺎﻝ: ﻻ , ﻭﻟﻜﻦ ﺍﻧﻈﺮ ﺇﻟﻰ ﺍﻷﻓﻖ , ﻓﻨﻈﺮﺕ ﻓﺈﺫﺍ ﺳﻮﺍﺩ ﻛﺜﻴﺮ , ﻗﺎﻝ: ﻫﺆﻻﺀ ﺃﻣﺘﻚ ,ﻭ ﻫﺆﻻﺀ ﺳﺒﻌﻮﻥ ﺃﻟﻔﺎ ﻗﺪﺍﻣﻬﻢ ﻻ ﺣﺴﺎﺏ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﻭ ﻻ ﻋﺬﺍﺏ , ﻗﻠﺖ: ﻭﻟﻢ؟ ﻗﺎﻝ:ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻻ ﻳﻜﺘﻮﻥ , ﻭﻻ
ﻳﺴﺘﺮﻗﻮﻥ ,ﻭﻻ ﻳﺘﻄﻴﺮﻭﻥ , ﻭﻋﻠﻰ ﺭﺑﻬﻢ ﻳﺘﻮﻛﻠﻮﻥ . ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
বিশিষ্ট সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
ইরশাদ করেন: সকল উম্মতকে আমার সামনে পেশ করা হল, আমি একজন নবীকে (দেখতে) পেলাম তাঁর সাথে সাথে একটি দল চলছে।
অন্য একজনকে দেখলাম তাঁর সাথে একটি ছোট দল। আরেকজনকে দেখলাম তাঁর সাথে দশজনের একটি দল। অন্য একজনকে দেখলাম
তাঁর সাথে পাঁচ জনের একটি দল। একজনকে দেখলাম তাঁর সাথে কেউ নেই তিনি একাকী চলেছেন। হঠাৎ তাকিয়ে দেখি বিপুল
সংখ্যক লোকের একটি দল। আমি বললাম: জিবরীল! এরা কি আমার উম্মত? তিনি বললেন: না। তবে উপরে তাকিয়ে দেখুন। দেখলাম,
তার চেয়ে বহু লোকের একটি বিশাল জামাত। জিবরীল বললেন: এরাই আপনার উম্মত। আর তাদের সামনে যে সত্তর হাজারের
দলটি; তাদের কোন হিসাব হবে না এবং কোনরূপ শাস্তি ও না। আমি জানতে চাইলাম: কেন? এর কারণ কি? উত্তরে বললেন: তারা
সেঁকের মাধ্যমে শরীর দগ্ধ করত না। ঝাঁড়-ফুকের দ্বারস্থ হতো না। তিয়ারা তথা পাখির মাধ্যমে শুভাশুভ নির্ধারণ করত না
এবং একমাত্র স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহর উপরই ভরসা করত।[৫১]
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺃﻣﺎﻣﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﺳﻤﻌﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻘﻮﻝ: ﻭﻋﺪﻧﻲ ﺭﺑﻲ ﺳﺒﺤﺎﻧﻪ ﺃﻥ ﻳﺪﺧﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻣﻦ ﺃﻣﺘﻲ ﺳﺒﻌﻮﻥ ﺃﻟﻔﺎ ﻻ ﺣﺴﺎﺏ ﻋﻠﻴﻬﻢ , ﻭﻻ ﻋﺬﺍﺏ , ﻣﻊ ﻛﻞ ﺃﻟﻒ ﺳﺒﻌﻮﻥ ﺃﻟﻔﺎ , ﻭﺛﻼﺙ ﺣﺜﻴﺎﺕ ﻣﻦ ﺣﺜﻴﺎﺕ
ﺭﺑﻲ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ. ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ﻭ ﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﺔ .
আবু উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: আমার
পালনকর্তা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, আমার উম্মতের সত্তর হাজার লোককে হিসাব ও আযাব ছাড়াই জান্নাতে
প্রবেশ করাবেন। এদের প্রত্যেক হাজারের সাথে আরো সত্তর হাজার থাকবে। এবং আমার পালনকর্তার নিজ আঁজলার তিন
আঁজলা।[৫২]
জান্নাতের ভূমি ও প্রাসাদের বিবরণ:
ﻋﻦ ﺃﻧﺲ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻟﻤﺎ ﻋﺮﺝ ﺑﻪ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﻗﺎﻝ: )) ... ﺛﻢ ﺍﻧﻄﻠﻖ ﺣﺘﻰ ﺃﺗﻰ ﺑﻲ ﺍﻟﺴﺪﺭﺓ ﺍﻟﻤﻨﺘﻬﻰ , ﻓﻐﺸﻴﻬﺎ ﺃﻟﻮﺍﻥ ﻻ ﺃﺩﺭﻱ ﻣﺎ ﻫﻲ , ﺛﻢ ﺃﺩﺧﻠﺖ ﺍﻟﺠﻨﺔ , ﻓﺈﺫﺍ ﻓﻴﻬﺎ ﺟﻨﺎﺑﺪ ﺍﻟﺆﻟﺆ , ﻭﺇﺫﺍ ﺗﺮﺍﺑﻬﺎ
ﺍﻟﻤﺴﻚ .(( ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যখন মি'রাজের সময়
আকাশে উঠিয়ে নেয়া হল, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন: ... অত:পর তিনি সামনে অগ্রসর হলেন। এক পর্যায়ে আমাকে সিদরাতুল
মুনতাহাতে নিয়ে আসা হল। আসামাত্র তাকে কিছু রং আচ্ছাদিত করে নিল। সেগুলো কি জিনিস সে সম্পর্কে মূলত: আমার
জানা নেই। এর পর আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হল, জান্নাতে এসে আমি মণি-মুক্তা দ্বারা নির্মিত অনেক গম্বুজ
দেখতে পেলাম। আর জান্নাতের মাটিকে দেখলাম যে, সেটি মিশক।[৫৩]
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﻠﻨﺎ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ...ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻣﺎ ﺑﻨﺎﺅﻫﺎ؟ ﻗﺎﻝ: ﻟﺒﻨﺔ ﻣﻦ ﻓﻀﺔ , ﻭﻟﺒﻨﺔ ﻣﻦ ﺫﻫﺐ , ﻭﻣﻼﻃﻬﺎ ﺍﻟﻤﺴﻚ ﺍﻷﺫﻓﺮ , ﻭﺣﺼﺒﺎﺅﻫﺎ ﺍﻟﻠﺆﻟﺆ ﻭ ﺍﻟﻴﺎﻗﻮﺕ , ﻭﺗﺮﺑﺘﻬﺎ ﺍﻟﺰﻋﻔﺮﺍﻥ , ﻣﻦ ﺩﺧﻠﻬﺎ ﻳﻨﻌﻢ ﻭﻻ ﻳﺒﺄﺱ , ﻭﻳﺨﻠﺪ ﻭﻻ
ﻳﻤﻮﺕ , ﻻ ﺗﺒﻠﻰ ﺛﻴﺎﺑﻬﻢ ﻭﻻ ﻳﻔﻨﻰ ﺷﺒﺎﺑﻬﻢ . ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ﻭ ﺍﻟﺪﺍﺭﻣﻲ .
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমরা বললাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ ... জান্নাতের
অট্টালিকা ও প্রাসাদ কেমন? রাসূলুল্লাহ বললেন: একটি ইট রূপার, অপরটি স্বর্ণের, সিমেন্ট ও প্লাষ্টার হচ্ছে মেশক, কঙ্কর হচ্ছে
মণি-মুক্তা ও ইয়াকুত এবং মাটি হচ্ছে জাফরান। যে তাতে প্রবেশ করবে সুখী জীবন যাপন করবে কখনো দূর্দশাগ্রস্ত হবে না।
চিরঞ্জীব ও শ্বাশত জীবন লাভ করবে কখনো মৃত্যু হবে না। তাদের পোশাক কখনো পুরাতন হবে না এবং যৌবন শেষ হবে না।[৫৪]
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺳﻌﻴﺪ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺍﺑﻦ ﺻﻴﺎﺩ ﺳﺄﻝ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻋﻦ ﺗﺮﺑﺔ ﺍﻟﺠﻨﺔ؟ ﻓﻘﺎﻝ: ﺩﺭﻣﻜﺔ ﺑﻴﻀﺎﺀ , ﻣﺴﻚ ﺧﺎﻟﺺ. ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ .
সাহাবী আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন: ইবনে সাইয়াদ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে
জান্নাতের মাটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল: তিনি বললেন: অতি শুভ্র নিখুত মেশক।[৫৫]
জান্নাতবাসীদের তাঁবুর বিবরণ:
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﺣُﻮﺭٌ ﻣَﻘْﺼُﻮﺭَﺍﺕٌ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺨِﻴَﺎﻡِ ﴿৭২ ﴾ { ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ :৭২}
তাঁবুতে অবস্থানকারী হুরবৃন্দ। {সূরা আর রাহমান:৭২}
হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻗﻴﺲ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﺇﻥ ﻟﻠﻤﺆﻣﻦ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻟﺨﻴﻤﺔ ﻣﻦ ﻟﺆﻟﺆ ﻭﺍﺣﺪﺓ ﻣﺠﻮﻓﺔ , ﻃﻮﻟﻬﺎ ﺳﺘﻮﻥ ﻣﻴﻼ , ﻟﻠﻤﺆﻣﻦ ﻓﻴﻬﺎ ﺃﻫﻠﻮﻥ , ﻳﻄﻮﻑ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﺍﻟﻤﺆﻣﻦ , ﻓﻼ ﻳﺮﻯ ﺑﻌﻀﻬﻢ ﺑﻌﻀﺎ . ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
নিশ্চয় জান্নাতে মুমিনের জন্য খালী ও প্রশস্ত পেট বিশিষ্ট একটি মুক্তা দ্বারা নির্মিত তাঁবু হবে, তার দৈর্ঘ হবে ষাট মাইল।
সেখানে মুমিনের পরিজনরা থাকবে, মুমিনরা তাদের কাছে আসা-যাওয়া করবে, তাদের একে অপরকে দেখবে না।[৫৬]
জান্নাতের মেলা ও বাজার:
ﻋﻦ ﺃﻧﺲ ﺑﻦ ﻣﺎﻟﻚ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﺇﻥ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻟﺴﻮﻗﺎ ﻳﺄﺗﻮﻧﻬﺎ ﻛﻞ ﺟﻤﻌﺔ ,ﻓﺘﻬﺐ ﺭﻳﺢ ﺍﻟﺸﻤﺎﻝ ,ﻓﺘﺤﺜﻮ ﻓﻲ ﻭﺟﻮﻫﻬﻢ ﻭﺛﻴﺎﺑﻬﻢ ﻓﻴﺰﺩﺍﺩﻭﻥ ﺣﺴﻨﺎ ﻭﺟﻤﺎﻻ , ﻓﻴﺮﺟﻌﻮﻥ ﺇﻟﻰ ﺃﻫﻠﻴﻬﻢ ﻭﻗﺪ ﺍﺯﺩﺍﺩﻭﺍ
ﺣﺴﻨﺎ ﻭﺟﻤﺎﻻ , ﻓﻴﻘﻮﻟﻮﻥ ﻟﻬﻢ ﺃﻫﻠﻮﻫﻢ: ﻭﺍﻟﻠﻪ , ﻟﻘﺪ ﺍﺯﺩﺩﺗﻢ ﺑﻌﺪﻧﺎ ﺣﺴﻨﺎ ﻭﺟﻤﺎﻻ , ﻓﻴﻘﻮﻟﻮﻥ: ﻭﺃﻧﺘﻢ ﻭﺍﻟﻠﻪ , ﻟﻘﺪ ﺍﺯﺩﺩﺗﻢ ﺑﻌﺪﻧﺎ ﺣﺴﻨﺎ ﻭﺟﻤﺎﻻ . ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ .
আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: নিশ্চয়
জান্নাতে একটি বাজার রয়েছে, প্রত্যেক জুমুআর দিন জান্নাতবাসীরা তাতে সমবেত হবেন। তখন এক প্রকার উত্তরে বায়ূ
প্রবাহিত হয়ে তাদের চেহারা ও পোশাকে ছড়িয়ে পড়বে। এতে তাদের রূপ-সৌন্দর্য বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। এরপর উক্ত সৌন্দর্য
নিয়ে স্বীয় স্ত্রী ও পরিজনদের নিকট ফিরে গেলে তারা বলবে: আল্লাহর শপথ: তোমরা আমাদের কাছ থেকে যাওয়ার পর
তোমাদের রূপ-সৌন্দর্য অনেকগুণে বেড়ে গিয়েছে। তখন তারা বলবে: তোমাদের -আল্লাহর কসম- রূপ-সৌন্দর্যও বহুগুণে বৃদ্ধি
পেয়েছে। [৫৭]
জান্নাতের অট্টালিকা:
মহান আল্লাহ তাআলা জান্নাতাভ্যন্তরে চিত্তাকর্ষক ও দৃষ্টি নন্দন অনেক প্রাসাদ ও বালাখানা প্রস্তুত করে রেখেছেন। এ
প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﻭَﻋَﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻭَﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨَﺎﺕِ ﺟَﻨَّﺎﺕٍ ﺗَﺠْﺮِﻱ ﻣِﻦْ ﺗَﺤْﺘِﻬَﺎ ﺍﻟْﺄَﻧْﻬَﺎﺭُ ﺧَﺎﻟِﺪِﻳﻦَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻭَﻣَﺴَﺎﻛِﻦَ ﻃَﻴِّﺒَﺔً ﻓِﻲ ﺟَﻨَّﺎﺕِ ﻋَﺪْﻥٍ ﻭَﺭِﺿْﻮَﺍﻥٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻛْﺒَﺮُ ﺫَﻟِﻚَ ﻫُﻮَ ﺍﻟْﻔَﻮْﺯُ ﺍﻟْﻌَﻈِﻴﻢُ ﴿ ৭২ ﴾ { ﺍﻟﺘﻮﺑﺔ:৭২}
আল্লাহ তাআলা ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জান্নাতের যার তলদেশে প্রবাহিত হবে প্রসবন।
তারা সেগুলোর মাঝে থাকবে চিরকাল। আর এসব জান্নাতে থাকবে উত্তম-পরিচ্ছন্ন থাকার ঘর। বস্তুত এ সমুদয়ের মাঝে সবচেয়ে
বড় হল আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটিই হল মহান কৃতকার্যতা। {সূরা তাওবা:৭২}
অট্টালিকার দিক থেকে জান্নাতবাসীদের মর্যাদাগত তারতম্য:
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺭَﺃَﻳْﺖَ ﺛَﻢَّ ﺭَﺃَﻳْﺖَ ﻧَﻌِﻴﻤًﺎ ﻭَﻣُﻠْﻜًﺎ ﻛَﺒِﻴﺮًﺍ } ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ : ২০}
তুমি যখন সেখানে দেখবে, তখন নেয়ামতরাজি ও বিশাল রাজ্য দেখতে পাবে। {সূরা ইনসান:২০}
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺳﻌﻴﺪ ﺍﻟﺨﺪﺭﻱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﺇﻥ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻟﻴﺘﺮﺍﺀﻭﻥ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻐﺮﻑ ﻣﻦ ﻓﻮﻗﻬﻢ , ﻛﻤﺎ ﺗﺘﺮﺍﺀﻭﻥ ﺍﻟﻜﻮﻛﺐ ﺍﻟﺪﺭﻱ ﺍﻟﻐﺎﺑﺮ ﻣﻦ ﺍﻷﻓﻖ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺸﺮﻕ ﺃﻭ ﺍﻟﻤﻐﺮﺏ ﻟﺘﻔﺎﺿﻞ ﻣﺎ ﺑﻴﻨﻬﻢ , ﻗﺎﻟﻮﺍ
ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ: ﺗﻠﻚ ﻣﻨﺎﺯﻝ ﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀ ﻻ ﻳﺒﻠﻐﻬﺎ ﻏﻴﺮﻫﻢ ﻗﺎﻝ: ﺑﻠﻰ , ﻭﺍﻟﺬﻱ ﻧﻔﺴﻲ ﺑﻴﺪﻩ , ﺭﺟﺎﻝ ﺁﻣﻨﻮﺍ ﺑﺎﻟﻠﻪ ﻭﺻﺪﻗﻮﺍ ﺍﻟﻤﺮﺳﻠﻴﻦ. ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
সহাবী আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: নিশ্চয়
জান্নাত বাসীরা তাদের উপরে কিছু বিশেষ কামরা বাসীদের দেখতে পাবে যেমন তোমরা পূর্ব বা পশ্চিম দিগন্তে অস্তগামী
উজ্জ্বল নক্ষত্রকে দেখতে পাও। এরূপ ব্যবধান তাদের মাঝে মর্যাদাগত তারতম্যের কারণে হবে। উপস্থিত সাহাবারা বললেন: ইয়া
রাসূলাল্লাহ! সেগুলোতো নবীদের ঘর যাতে অন্যরা পৌছতে পারবে না। নবীজী বললেন: হ্যাঁ, কসম সে সত্তার, যার হাতে আমার
প্রাণ, তাঁরা হচ্ছেন সে সকল লোক যারা মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি ঈমান এনেছে এবং নবী-রাসূলদের সত্যবলে স্বীকৃতি
দিয়েছে।[৫৮]
জান্নাতবাসীদের ঘরের বিবরণ:
মহান আল্লাহ তাআলা জান্নাতবাসীদের জন্য বিশেষ নির্মাণ শৈলীতে নির্মিত বিভিন্ন ধরণের ঘর তৈরী করে রেখেছেন।
মর্যাদার উচ্চ শিখরে উন্নীত মুমিনবান্দাদের পুরস্কার স্বরূপ তা বরাদ্দ দেবেন। সে সব ঘর সম্বন্ধে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁَﻣَﻨُﻮﺍ ﻭَﻋَﻤِﻠُﻮﺍ ﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺤَﺎﺕِ ﻟَﻨُﺒَﻮِّﺋَﻨَّﻬُﻢْ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﻏُﺮَﻓًﺎ ﺗَﺠْﺮِﻱ ﻣِﻦْ ﺗَﺤْﺘِﻬَﺎ ﺍﻟْﺄَﻧْﻬَﺎﺭُ ﺧَﺎﻟِﺪِﻳﻦَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻧِﻌْﻢَ ﺃَﺟْﺮُ ﺍﻟْﻌَﺎﻣِﻠِﻴﻦَ ﴿৫৮ ﴾ { ﺍﻟﻌﻨﻜﺒﻮﺕ:৫৮}
যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে জান্নাতের সুউচ্চ প্রাসাদে স্থান দেব। যার তলদেশে
প্রস্রবনসমূহ প্রবাহিত।সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। কতইনা উত্তম পুরস্কার সৎকর্মশীলদের।{ সূরা আল আনকাবূত: ৫৮}
ﻟَﻜِﻦِ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺍﺗَّﻘَﻮْﺍ ﺭَﺑَّﻬُﻢْ ﻟَﻬُﻢْ ﻏُﺮَﻑٌ ﻣِﻦْ ﻓَﻮْﻗِﻬَﺎ ﻏُﺮَﻑٌ ﻣَﺒْﻨِﻴَّﺔٌ ﺗَﺠْﺮِﻱ ﻣِﻦْ ﺗَﺤْﺘِﻬَﺎ ﺍﻟْﺄَﻧْﻬَﺎﺭُ ﻭَﻋْﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻟَﺎ ﻳُﺨْﻠِﻒُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟْﻤِﻴﻌَﺎﺩَ ﴿ ২০﴾ { ﺍﻟﺰﻣﺮ:২০}
কিন্তু যারা স্বীয় পালনকর্তাকে ভয় করে চলে তাদের জন্য নির্মিত রয়েছে প্রাসাদের উপর প্রাসাদ, এগুলোর তলদেশে নদী
প্রবাহিত।এটি আল্লাহর প্রতিশ্রুতি, আল্লাহ প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না। {সূরা যুমার:২০}
ﻭﻋﻦ ﻋﻠﻲ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ :ﺇﻥ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻏﺮﻓﺎ ﺗﺮﻯ ﻇﻬﻮﺭﻫﺎ ﻣﻦ ﺑﻄﻮﻧﻬﺎ , ﻭ ﺑﻄﻮﻧﻬﺎ ﻣﻦ ﻇﻬﻮﺭﻫﺎ , ﻓﻘﺎﻡ ﺃﻋﺮﺍﺑﻲ ﻓﻘﺎﻝ:ﻟﻤﻦ ﻫﻲ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ؟ ﻗﺎﻝ: ﻟﻤﻦ ﺃﻃﺎﺏ ﺍﻟﻜﻼﻡ , ﻭﺃﻃﻌﻢ
ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ , ﻭﺃﺩﺍﻡ ﺍﻟﺼﻴﺎﻡ ,ﻭﺻﻠﻰ ﺑﺎﻟﻠﻴﻞ ﻭﺍﻟﻨﺎﺱ ﻧﻴﺎﻡ. ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺃﺣﻤﺪ ﻭ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ .
আমীরুল মুমিনীন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
নিশ্চয়ই জান্নাতে এমনকিছু ঘর আছে যেগুলোর বাহির থেকে ভেতর এবং ভেতর থেকে বাহির দেখা যাবে। সেখানে উপস্থিত
জনৈক বেদুঈন সাহাবী দাড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ! ঐ ঘরগুলো কাদের জন্য নির্মিত? নবীজী বললেন: যারা ভাল
ভাল কথা বলে, অপরকে অন্নদান করে, সব সময় রোযা রাখে এবং রাতে মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন সালাত আদায় করে।[৫৯]
জান্নাত বাসীদের বিছানার বিবরণ:
মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﻣُﺘَّﻜِﺌِﻴﻦَ ﻋَﻠَﻰ ﻓُﺮُﺵٍ ﺑَﻄَﺎﺋِﻨُﻬَﺎ ﻣِﻦْ ﺇِﺳْﺘَﺒْﺮَﻕٍ ﴿৫৪﴾ { ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ :৫৪}
তারা সেখানে রেশমের আস্তর বিশিষ্ট বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে।{সূরা আর রাহমান:৫৪}
গালিচা ও তাকিয়ার বিবরণ:
(১)মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করছেন:
ﻭَﻧَﻤَﺎﺭِﻕُ ﻣَﺼْﻔُﻮﻓَﺔٌ ﴿১৫ ﴾ ﻭَﺯَﺭَﺍﺑِﻲُّ ﻣَﺒْﺜُﻮﺛَﺔٌ ﴿১৬ ﴾ { ﺍﻟﻐﺎﺷﻴﺔ:১৫-১৬}
এবং সারিসারি তাকিয়া। আর বিস্তৃত বিছানো মখমলের গালিচা।{সূরা গাশিয়া:১৫-১৬}
(২) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
ﻣُﺘَّﻜِﺌِﻴﻦَ ﻋَﻠَﻰ ﺭَﻓْﺮَﻑٍ ﺧُﻀْﺮٍ ﻭَﻋَﺒْﻘَﺮِﻱٍّ ﺣِﺴَﺎﻥٍ ﴿ ৭৬﴾ { ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ :৭৬}
তারা সবুজ মসনদে এবং মূল্যবান উৎকৃষ্ট বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে।{সূরা আর রাহমান:৭৬}
জান্নাতের সিংহাসন:
ﺃﺭﺍﺋﻚ (আরাইক) অর্থ: তাকিয়া বিশিষ্ট সিংহাসন।
(১)মহান তাআলা বলেন:
ﺇِﻥَّ ﺍﻟْﺄَﺑْﺮَﺍﺭَ ﻟَﻔِﻲ ﻧَﻌِﻴﻢٍ ﴿২২ ﴾ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﺄَﺭَﺍﺋِﻚِ ﻳَﻨْﻈُﺮُﻭﻥَ ﴿২৩ ﴾ { ﺍﻟﻤﻄﻔﻔﻴﻦ :২২-২৩}
নিশ্চয় সৎ লোকগন থাকবে পরম আরামে। সিংহাসনে বসে অবলোকন করবে। (সূরা তাতফীফ:২২-২৩)
(২) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
ﻣُﺘَّﻜِﺌِﻴﻦَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﺄَﺭَﺍﺋِﻚِ ﻟَﺎ ﻳَﺮَﻭْﻥَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺷَﻤْﺴًﺎ ﻭَﻟَﺎ ﺯَﻣْﻬَﺮِﻳﺮًﺍ ﴿১৩ ﴾ { ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ :১৩}
তারা সেখানে সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে। সেখানে তারা রৌদ্র ও শৈত্য অনুভব করবে না। {সূরা ইনসান:১৩}
(৩) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
ﺇِﻥَّ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ ﻓِﻲ ﺷُﻐُﻞٍ ﻓَﺎﻛِﻬُﻮﻥَ ﴿৫৫﴾ ﻫُﻢْ ﻭَﺃَﺯْﻭَﺍﺟُﻬُﻢْ ﻓِﻲ ﻇِﻠَﺎﻝٍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﺄَﺭَﺍﺋِﻚِ ﻣُﺘَّﻜِﺌُﻮﻥَ ﴿৫৬﴾ { ﻳﺲ:৫৫-৫৬}
নিশ্চয় জান্নাতে অধিবাসীরা এদিন আনন্দে মশগুল থাকবে। তারা এবং তাদের সঙ্গীরা ছায়াময় পরিবেশে সিংহাসনে
হেলান দিয়ে উপবিষ্ট থাকবে। { সূরা ইয়াসীন:৫৫-৫৬}
জান্নাতবাসীদের খাট ও সিংহাসনের বিবরণ:
(১) মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﻭَﻧَﺰَﻋْﻨَﺎ ﻣَﺎ ﻓِﻲ ﺻُﺪُﻭﺭِﻫِﻢْ ﻣِﻦْ ﻏِﻞٍّ ﺇِﺧْﻮَﺍﻧًﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺳُﺮُﺭٍ ﻣُﺘَﻘَﺎﺑِﻠِﻴﻦَ ﴿ ৪৭﴾ { ﺍﻟﺤﺠﺮ:৪৭}
তাদের অন্তরে যে ক্রোধ ও বিদ্বেষ ছিল, আমি তা দূর করে দেব।তারা ভাই ভাইয়ের মত সামনা-সামনি আসনে বসবে। {সূরা
হিজর:৪৭}
(২) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
ﻣُﺘَّﻜِﺌِﻴﻦَ ﻋَﻠَﻰ ﺳُﺮُﺭٍ ﻣَﺼْﻔُﻮﻓَﺔٍ ﻭَﺯَﻭَّﺟْﻨَﺎﻫُﻢْ ﺑِﺤُﻮﺭٍ ﻋِﻴﻦٍ ﴿২০ ﴾ { ﺍﻟﻄﻮﺭ:২০}
তারা শ্রেণীবদ্ধ সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে। আমি তাদেরকে আয়তনেত্র বিশিষ্ট হুরদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে
দেব। {সূরা আত তূর: ২০}
(৩) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
ﻋَﻠَﻰ ﺳُﺮُﺭٍ ﻣَﻮْﺿُﻮﻧَﺔٍ ﴿ ১৫ ﴾ ﻣُﺘَّﻜِﺌِﻴﻦَ ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ ﻣُﺘَﻘَﺎﺑِﻠِﻴﻦَ ﴿১৬ ﴾ { ﺍﻟﻮﺍﻗﻌﺔ :১৫-১৬}
স্বর্ণ খচিত সিংহাসনে। তারা তাতে হেলান দিয়ে বসবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে। {সূরা ওয়াকিয়া:১৫-১৬}
(৪) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
ﻓِﻴﻬَﺎ ﺳُﺮُﺭٌ ﻣَﺮْﻓُﻮﻋَﺔٌ ﴿১৩ ﴾ { ﺍﻟﻐﺎﺷﻴﺔ :১৩}
তথায় থাকবে উন্নত সুসজ্জিত আসন। {সূরা গাশিয়া:১৩}
জান্নাতীদের বাসন-পত্রের বিবরণ:
(১)আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﻳَﻄُﻮﻑُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻭِﻟْﺪَﺍﻥٌ ﻣُﺨَﻠَّﺪُﻭﻥَ ﴿ ১৭﴾ ﺑِﺄَﻛْﻮَﺍﺏٍ ﻭَﺃَﺑَﺎﺭِﻳﻖَ ﻭَﻛَﺄْﺱٍ ﻣِﻦْ ﻣَﻌِﻴﻦٍ ﴿১৮ ﴾ { ﺍﻟﻮﺍﻗﻌﺔ :১৭-১৮}
তাদের কাছে ঘুরাফেরা করবে চির কিশোররা। পান পাত্র কুঁজা ও খাঁটি সূরাপূর্ণ পেয়ালা হাতে নিয়ে। {সূরা ওয়াকিয়া:১৭-১৮}
(২) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
ﻳُﻄَﺎﻑُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺑِﺼِﺤَﺎﻑٍ ﻣِﻦْ ﺫَﻫَﺐٍ ﻭَﺃَﻛْﻮَﺍﺏٍ ﻭَﻓِﻴﻬَﺎ ﻣَﺎ ﺗَﺸْﺘَﻬِﻴﻪِ ﺍﻟْﺄَﻧْﻔُﺲُ ﻭَﺗَﻠَﺬُّ ﺍﻟْﺄَﻋْﻴُﻦُ ﻭَﺃَﻧْﺘُﻢْ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺧَﺎﻟِﺪُﻭﻥَ } ﺍﻟﺰﺧﺮﻑ :৭১}
তাদের কাছে পরিবেশন করা হবে স্বর্ণের থালা ও পানপাত্র এবং তথায় রয়েছে মনে যা চায় এবং নয়ন যাতে তৃপ্ত হয়। তোমরা
সেথায় চিরকাল থাকবে। {সূরা যুখরুফ:৭১}
(৩) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
ﻭَﻳُﻄَﺎﻑُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺑِﺂَﻧِﻴَﺔٍ ﻣِﻦْ ﻓِﻀَّﺔٍ ﻭَﺃَﻛْﻮَﺍﺏٍ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﻗَﻮَﺍﺭِﻳﺮَ ﴿১৫ ﴾ ﻗَﻮَﺍﺭِﻳﺮَ ﻣِﻦْ ﻓِﻀَّﺔٍ ﻗَﺪَّﺭُﻭﻫَﺎ ﺗَﻘْﺪِﻳﺮًﺍ ﴿ ১৬ ﴾ { ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ:১৫-১৬}
তাদেরকে পরিবেশন করা হবে রূপার পাত্রে এবং স্ফটিকের মত পানপাত্রে। রূপালী স্ফটিকের পাত্রে পরিবেশনকারীরা তা
পরিমাপ করে পূর্ণ করবে। {সূরা ইনসান:১৫-১৬}
(৪) হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻗﻴﺲ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﺟﻨﺘﺎﻥ ﻣﻦ ﻓﻀﺔ ﺁﻧﻴﺘﻬﻤﺎ ﻭ ﻣﺎ ﻓﻴﻬﻤﺎ , ﻭﺟﻨﺘﺎﻥ ﻣﻦ ﺫﻫﺐ ﺁﻧﻴﺘﻬﻤﺎ ﻭ ﻣﺎ ﻓﻴﻬﻤﺎ , ﻭﻣﺎ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﻘﻮﻡ ﻭ ﺑﻴﻦ ﺃﻥ ﻳﻨﻈﺮﻭﺍ ﺇﻟﻰ ﺭﺑﻬﻢ ﺇﻻ ﺭﺩﺍﺀ ﺍﻟﻜﺒﺮﻳﺎﺀ ﻋﻠﻰ ﻭﺟﻬﻪ
ﻓﻲ ﺟﻨﺔ ﻋﺪﻥ. ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
দু'টি জান্নাত এমন যে, তাদের বাসন-পাত্র এবং উভয়ের মাঝে যাকিছু আছে সবই রূপার। আবার অন্য দু'টি জান্নাত আছে, যাদের
বাসন- পাত্র এবং তাদের মাঝে যা কিছু আছে সবই স্বর্ণের। জান্নাতে আদন তথা চিরস্থায়ী জান্নাতে বসবাসকারী ও তাদের
পালনকর্তাকে দেখার মাঝে পর্দা শুধুমাত্র কিবরিয়া বা বড়ত্বের চাদর যা তাঁর চেহারায় বিদ্যমান।[৬০]
জান্নাতবাসীদের অলঙ্কার ও পোশাকের বিবরণ:
(১) মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করছেন:
ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻳُﺪْﺧِﻞُ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁَﻣَﻨُﻮﺍ ﻭَﻋَﻤِﻠُﻮﺍ ﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺤَﺎﺕِ ﺟَﻨَّﺎﺕٍ ﺗَﺠْﺮِﻱ ﻣِﻦْ ﺗَﺤْﺘِﻬَﺎ ﺍﻟْﺄَﻧْﻬَﺎﺭُ ﻳُﺤَﻠَّﻮْﻥَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻣِﻦْ ﺃَﺳَﺎﻭِﺭَ ﻣِﻦْ ﺫَﻫَﺐٍ ﻭَﻟُﺆْﻟُﺆًﺍ ﻭَﻟِﺒَﺎﺳُﻬُﻢْ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺣَﺮِﻳﺮٌ ﴿২৩ ﴾ { ﺍﻟﺤﺞ :২৩}
নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে আল্লাহ তাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে যার পাদদেশে প্রবাহিত
নির্ঝরিণীসমূহ। তথায় তাদেরকে অলংকৃত করা হবে স্বর্ণ-কংকন ও মুক্তা দ্বারা। এবং সেথায় তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ হবে
রেশমের। {সূরা আল হজ্জ:২৩}
(২) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
ﻳُﺤَﻠَّﻮْﻥَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻣِﻦْ ﺃَﺳَﺎﻭِﺭَ ﻣِﻦْ ﺫَﻫَﺐٍ ﻭَﻳَﻠْﺒَﺴُﻮﻥَ ﺛِﻴَﺎﺑًﺎ ﺧُﻀْﺮًﺍ ﻣِﻦْ ﺳُﻨْﺪُﺱٍ ﻭَﺇِﺳْﺘَﺒْﺮَﻕٍ ﻣُﺘَّﻜِﺌِﻴﻦَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﺄَﺭَﺍﺋِﻚِ ﻧِﻌْﻢَ ﺍﻟﺜَّﻮَﺍﺏُ ﻭَﺣَﺴُﻨَﺖْ ﻣُﺮْﺗَﻔَﻘًﺎ ﴿৩১ ﴾ { ﺍﻟﻜﻬﻒ :৩১}
তাদের তথায় স্বর্ণ-কঙ্কনে অলংকৃত করা হবে এবং তারা পাতলা ও মোটা রেশমের সবুজ বস্ত্র পরিধান করবে এমতাবস্থায় যে,
তারা সুসজ্জিত সিংহাসনে সমাসীন হবে হেলান দিয়ে। কতইনা চমৎকার প্রতিদান এবং কতইনা উত্তম আশ্রয়স্থল। (সূরা
কাহফ:৩১}
(৩) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
ﻋَﺎﻟِﻴَﻬُﻢْ ﺛِﻴَﺎﺏُ ﺳُﻨْﺪُﺱٍ ﺧُﻀْﺮٌ ﻭَﺇِﺳْﺘَﺒْﺮَﻕٌ ﻭَﺣُﻠُّﻮﺍ ﺃَﺳَﺎﻭِﺭَ ﻣِﻦْ ﻓِﻀَّﺔٍ ﻭَﺳَﻘَﺎﻫُﻢْ ﺭَﺑُّﻬُﻢْ ﺷَﺮَﺍﺑًﺎ ﻃَﻬُﻮﺭًﺍ ﴿ ২১﴾ { ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ:২১}
তাদের পরিধানে থাকবে চিকন মিহি রেশমের সবুজ পোশাক এবং মোটা সবুজ রেশমের পোশাক আরা তারা রৌপ্য নির্মিত
কংকন দ্বারা অলংকৃত হবে এবং তাদের প্রতিপালক তাদেরকে পান করাবেন -শরাবান তহুরা- পবিত্র বিশুদ্ধ পানীয়। {সূরা
ইনসান:২১}
যাকে জান্নাতে সর্বপ্রথম পোশাক পরানো হবে
ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ‏( ... ﻭﺇﻥ ﺃﻭﻝ ﺍﻟﺨﻼﺋﻖ ﻳﻜﺴﻰ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﺍﻟﺨﻠﻴﻞ ‏) . ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ .
প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
ইরশাদ করেন: ... কিয়ামতের দিন সর্ব প্রথম যাকে পোশাক পরিধান করানো হবে তিনি হচ্ছেন ইবরাহীম খলীল আলাইহিস
সালাম।[৬১]
জান্নাত অধিবাসীদের পরিচারকবৃন্দের বিবরণ:
(১)মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﻳَﻄُﻮﻑُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻭِﻟْﺪَﺍﻥٌ ﻣُﺨَﻠَّﺪُﻭﻥَ ﴿ ১৭﴾ ﺑِﺄَﻛْﻮَﺍﺏٍ ﻭَﺃَﺑَﺎﺭِﻳﻖَ ﻭَﻛَﺄْﺱٍ ﻣِﻦْ ﻣَﻌِﻴﻦٍ ﴿১৮ ﴾ { ﺍﻟﻮﺍﻗﻌﺔ :১৭-১৮ }
তাদের কাছে ঘুরাফেরা করবে চির কিশোররা। পানপাত্র কুঁজা ও খাটি সুরাপূর্ণ পেয়ালা হাতে নিয়ে। {সূরা ওয়াকিয়া:১৭-১৮}
(২) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
ﻭَﻳَﻄُﻮﻑُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻭِﻟْﺪَﺍﻥٌ ﻣُﺨَﻠَّﺪُﻭﻥَ ﺇِﺫَﺍ ﺭَﺃَﻳْﺘَﻬُﻢْ ﺣَﺴِﺒْﺘَﻬُﻢْ ﻟُﺆْﻟُﺆًﺍ ﻣَﻨْﺜُﻮﺭًﺍ ﴿ ১৯﴾ { ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ:১৯}
তাদের কাছে ঘুরাফেরা করবে চির কিশোরবৃন্দ। তুমি তাদেরকে দেখে মনে করবে যেন বিক্ষিপ্ত মণি- মুক্তা। {সূরা ইনসান:১৯}
(৩) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
ﻭَﻳَﻄُﻮﻑُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻏِﻠْﻤَﺎﻥٌ ﻟَﻬُﻢْ ﻛَﺄَﻧَّﻬُﻢْ ﻟُﺆْﻟُﺆٌ ﻣَﻜْﻨُﻮﻥٌ ﴿২৪ ﴾ { ﺍﻟﻄﻮﺭ:২৪}
সুরক্ষিত মোতি সদৃশ কিশোররা তাদের সেবায় ঘুরা ফেরা করবে। {সূরা তূর:২৪}
জান্নাতবাসীদের সর্বপ্রথম খাবার:
ﻋﻦ ﺃﻧﺲ ﺑﻦ ﻣﺎﻟﻚ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﺳﻼﻡ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺳﺄﻝ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﺎ ﺃﻭﻝ ﻃﻌﺎﻡ ﻳﺄﻛﻠﻪ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ؟ ﻓﻘﺎﻝ: ﺯﻳﺎﺩﺓ ﻛﺒﺪ ﺣﻮﺕ. ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ .
সাহাবী আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন: আব্দুল্লাহ বিন সালাম রাদিয়াল্লাহু নবী করীম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট জানতে চাইলেন: জান্নাত বাসীরা সর্ব প্রথম যে খাবার খাবে সেটি কি? নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: মাছের কলিজার অতিরিক্ত অংশ। [৬২]
ﻭﻋﻦ ﺛﻮﺑﺎﻥ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻛﻨﺖ ﻗﺎﺋﻤﺎ ﻋﻨﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﺠﺎﺀ ﺣﺒﺮ ﻣﻦ ﺃﺣﺒﺎﺭ ﺍﻟﻴﻬﻮﺩ ... ــ ﻭﻓﻴﻪ ــ : ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻟﻴﻬﻮﺩﻱ : ﻓﻤﻦ ﺃﻭﻝ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺇﺟﺎﺯﺓ؟ ﻗﺎﻝ: ﻓﻘﺮﺍﺀ ﺍﻟﻤﻬﺎﺟﺮﻳﻦ . ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻴﻬﻮﺩﻱ: ﻓﻤﺎ ﺗﺤﻔﺘﻬﻢ ﺣﻴﻦ
ﻳﺪﺧﻠﻮﻥ ﺍﻟﺠﻨﺔ؟ ﻗﺎﻝ: ﺯﻳﺎﺩﺓ ﻛﺒﺪ ﺍﻟﻨﻮﻥ . ﻓﻘﺎﻝ ﻓﻤﺎ ﻏﺬﺍﺅﻫﻢ ﻋﻠﻰ ﺇﺛﺮﻫﺎ؟ ﻗﺎﻝ: ﻳﻨﺤﺮ ﻟﻬﻢ ﺛﻮﺭ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺍﻟﺬﻱ ﻛﺎﻥ ﻳﺄﻛﻞ ﻣﻦ ﺃﻃﺮﺍﻓﻬﺎ , ﻗﺎﻝ: ﻓﻤﺎ ﺷﺮﺍﺑﻬﻢ ﻋﻠﻴﻪ ﻗﺎﻝ: ﻣﻦ ﻋﻴﻦ ﻓﻴﻬﺎ ﺗﺴﻤﻰ ﺳﻠﺴﺒﻴﻼ . ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ .
সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট দাড়ানো ছিলাম, এরই মাঝে
জনৈক ইয়াহুদী পন্ডিত তার নিকট আসল... - তাতে আছে- এরপর ইয়াহুদী জানতে চাইল: জান্নাতে প্রবেশের সর্বপ্রথম অনুমতি
প্রাপ্ত লোক কারা? রাসূলুল্লাহ বললেন: দরিদ্র মুহাজিরবৃন্দ। ইয়াহুদী জিজ্ঞেস করল: জান্নাতে প্রবেশের পর তাদের তোহফা
কি? নবীজী বললেন: মাছের কলিজার অতিরিক্ত অংশ। সে বলল: এরপর তাদের খাবার কি হবে? রাসূলুল্লাহ বললেন: তাদের জন্য
জান্নাতের ষাঢ় জবাই করা হবে যে ষাঢ় জান্নাতের পার্শ্বদেশে চরে বেড়াত। ইয়াহুদী জিজ্ঞেস করল: খাবারের পর তাদের
পানীয় কি হবে? রাসূলুল্লাহ বললেন: জান্নাতে অবস্থিত "সালসাবীল" নামক ঝর্ণা থেকে।[৬৩]
জান্নাতবাসীদের খাদ্য-খাবারের বিবরণ:
(১) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﺍﺩْﺧُﻠُﻮﺍ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﺃَﻧْﺘُﻢْ ﻭَﺃَﺯْﻭَﺍﺟُﻜُﻢْ ﺗُﺤْﺒَﺮُﻭﻥَ ﴿ ৭০﴾ ﻳُﻄَﺎﻑُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺑِﺼِﺤَﺎﻑٍ ﻣِﻦْ ﺫَﻫَﺐٍ ﻭَﺃَﻛْﻮَﺍﺏٍ ﻭَﻓِﻴﻬَﺎ ﻣَﺎ ﺗَﺸْﺘَﻬِﻴﻪِ ﺍﻟْﺄَﻧْﻔُﺲُ ﻭَﺗَﻠَﺬُّ ﺍﻟْﺄَﻋْﻴُﻦُ ﻭَﺃَﻧْﺘُﻢْ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺧَﺎﻟِﺪُﻭﻥَ ﴿৭১ ﴾{ ﺍﻟﺰﺧﺮﻑ :৭০-৭১}
জান্নাতে প্রবেশ কর তোমরা এবং তোমাদের স্ত্রীগন সানন্দে। তাদের কাছে পরিবেশন করা হবে স্বর্ণের থালা ও পানপাত্র।
আর তথায় রয়েছে মনে যা চায় এবং নয়ন যাতে তৃপ্ত হয়। তোমরা সেথায় চিরকাল থাকবে।{সূরা যুখরুফ:৭০-৭১}
(২) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
ﻣَﺜَﻞُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﻭُﻋِﺪَ ﺍﻟْﻤُﺘَّﻘُﻮﻥَ ﺗَﺠْﺮِﻱ ﻣِﻦْ ﺗَﺤْﺘِﻬَﺎ ﺍﻟْﺄَﻧْﻬَﺎﺭُ ﺃُﻛُﻠُﻬَﺎ ﺩَﺍﺋِﻢٌ ﻭَﻇِﻠُّﻬَﺎ ﴿ ৩৫﴾ { ﺍﻟﺮﻋﺪ:৩৫}
মুত্তাকীনদের জন্য প্রতিশ্রুত জান্নাতের অবস্থা এইযে, তার তলদেশ দিয়ে নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হয়, তার ফল-ফলাদি
চিরস্থায়ী এবং ছায়াও। { সূরা রা'দ:৩৫}
(৩) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
ﻭَﻓَﺎﻛِﻬَﺔٍ ﻣِﻤَّﺎ ﻳَﺘَﺨَﻴَّﺮُﻭﻥَ ﴿২০ ﴾ ﻭَﻟَﺤْﻢِ ﻃَﻴْﺮٍ ﻣِﻤَّﺎ ﻳَﺸْﺘَﻬُﻮﻥَ ﴿২১﴾{ ﺍﻟﻮﺍﻗﻌﺔ :২০-২১}
এবং তাদের পছন্দমত ফল-মূল নিয়ে। রুচিমত পাখির গোশত নিয়ে। {সূরা ওয়াকিয়া:২০-২১}
(৪) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
ﻛُﻠُﻮﺍ ﻭَﺍﺷْﺮَﺑُﻮﺍ ﻫَﻨِﻴﺌًﺎ ﺑِﻤَﺎ ﺃَﺳْﻠَﻔْﺘُﻢْ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺄَﻳَّﺎﻡِ ﺍﻟْﺨَﺎﻟِﻴَﺔِ ﴿২৪ ﴾{ ﺍﻟﺤﺎﻗﺔ :২৪}
বিগত দিনে তোমরা যা প্রেরণ করেছিলে তার প্রতিদানে তোমরা খাও এবং পান কর পরিতৃপ্তি সহকারে। {সূরা আল হাক্কাহ:২৪}
(৫) হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺳﻌﻴﺪ ﺍﻟﺨﺪﺭﻱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ﺗﻜﻮﻥ ﺍﻷﺭﺽ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﺧﺒﺰﺓ ﻭﺍﺣﺪﺓ , ﻳﺘﻜﻔﺆﻫﺎ ﺍﻟﺠﺒﺎﺭ ﺑﻴﺪﻩ , ﻛﻤﺎ ﻳﻜﻔﺆ ﺃﺣﺪﻛﻢ ﺧﺒﺰﺗﻪ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﻔﺮ ﻧﺰﻻ ﻷﻫﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ .ـ ﻭ ﻓﻴﻪ ـ ﻓﺄﺗﻰ ﺭﺟﻞ ﻣﻦ
ﺍﻟﻴﻬﻮﺩ ... ﻓﻘﺎﻝ: ﺃﻻ ﺃﺧﺒﺮﻙ ﺑﺈﺩﺍﻣﻬﻢ؟ ﻗﺎﻝ: ﺇﺩﺍﻣﻬﻢ ﺑﺎﻻﻡ ﻭ ﻧﻮﻥ , ﻗﺎﻟﻮﺍ : ﻭﻣﺎ ﻫﺬﺍ؟ ﻗﺎﻝ: ﺛﻮﺭ ﻭ ﻧﻮﻥ ﻳﺄﻛﻞ ﻣﻦ ﺯﺍﺋﺪﺓ ﻛﺒﺪﻫﻤﺎ ﺳﺒﻌﻮﻥ ﺃﻟﻔﺎ . ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন, নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
কিয়ামতের দিন পৃথিবী একটি রুটিতে পরিণত হবে। মহা প্রতাপন্বিত আল্লাহ জান্নাত বাসীদের মেহমানদারীর নিমিত্তে
নিজ হাতে তাকে উল্টিয়ে পাল্টিয়ে উপযোগী করবেন। যেমন তোমাদের কেউ সফরে স্বীয় রুটিকে হাতে উল্টিয়ে পাল্টিয়ে
উপযোগী করে। - আর তাতে আছে - অত:পর জনৈক ইয়াহুদী এসে বলল: আমি কি তোমাকে তাদের তরকারী সম্বন্ধে বলব না? তাদের
তরকারী হচ্ছে বালাম ও নূন। লোকেরা জিজ্ঞেস করল: সেটি কি? বলল: ষাঁঢ় ও মাছ, যাদের কলিজার অতিরিক্ত অংশ থেকে
খাবে সত্তর হাজার লোক।[৬৪]
(৬) হাদীসে আরো এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺟﺎﺑﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﺳﻤﻌﺖ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻘﻮﻝ: ﺇﻥ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻳﺄﻛﻠﻮﻥ ﻓﻴﻬﺎ , ﻭﻳﺸﺮﺑﻮﻥ , ﻭﻻ ﻳﺘﻔﻠﻮﻥ , ﻭﻻ ﻳﺒﻮﻟﻮﻥ , ﻭﻻ ﻳﺘﻐﻮﻃﻮﻥ , ﻭﻻﻳﻤﺘﺨﻄﻮﻥ , ﻗﺎﻟﻮﺍ: ﻓﻤﺎ ﺑﺎﻝ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ؟ ﻗﺎﻝ: ﺟﺸﺎﺀ ﻭ ﺭﺷﺢ ﻛﺮﺷﺢ
ﺍﻟﻤﺴﻚ ﻳﻠﻬﻤﻮﻥ ﺍﻟﺘﺴﺒﻴﺢ ﻭ ﺍﻟﺘﺤﻤﻴﺪ ﻛﻤﺎ ﻳﻠﻬﻤﻮﻥ ﺍﻟﻨﻔﺲ. ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ .
বিশিষ্ট সাহাবী জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ বলেন: নিশ্চয় জান্নাত বাসীরা (জান্নাতে) খাবে ও পান করবে। তবে তারা
থুথু ফেলবে না, প্রস্রাব ও পায়খানা করবে না এবং নাকের শ্লেষ্মা ফেলবে না। লোকেরা জিজ্ঞেস করল? তাহলে খানা খাদ্য
যা খাবে তার কি হবে? বললেন: ঢেকুর ও মেশক ফোটার ন্যায় ঘাম, শ্বাস-প্রশ্বাস বের হওয়ার ন্যায় তাদের ভেতর হতে (স্বত:স্ফুর্ত
ভাবে) সুবহানাল্লাহ ও আল্ হামদুলিল্লাহ বের হতে থাকবে।[৬৫]
(৭) হাদীসে আরো এসেছে
ﻭﻋﻦ ﻋﺘﺒﺔ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺴﻠﻤﻲ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻛﻨﺖ ﺟﺎﻟﺴﺎ ﻣﻊ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﺠﺎﺀ ﺃﻋﺮﺍﺑﻲ ﻓﻘﺎﻝ: ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺳﻤﻌﻚ ﺗﺬﻛﺮ ﺷﺠﺮﺓ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻻ ﺃﻋﻠﻢ ﻓﻲ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﺃﻛﺜﺮ ﺷﻮﻛﺎ ﻣﻨﻬﺎ ـ ﻳﻌﻨﻲ ﺍﻟﻄﻠﺢ ـ ﻓﻘﺎﻝ
ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ:ﻓﺈﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﺠﻌﻞ ﻣﻜﺎﻥ ﻛﻞ ﺷﻮﻛﺔ ﻣﺜﻞ ﺧﺼﻴﺔ ﺍﻟﺘﻴﺲ ﺍﻟﻤﻠﺒﻮﺩ ـ ﻳﻌﻨﻲ ﺍﻟﻤﺨﺼﻲ ـ ﻓﻴﻬﺎ ﺳﺒﻌﻮﻥ ﻟﻮﻧﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﻻ ﻳﺸﺒﻪ ﻟﻮﻧﻪ ﻟﻮﻥ ﺍﻵﺧﺮ. ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﻄﺒﺮﺍﻧﻲ ﻓﻲ ﺍﻟﻜﺒﻴﺮ ﻭ ﻓﻲ ﻣﺴﻨﺪ ﺍﻟﺸﺎﻣﻴﻴﻦ
উতবা বিন আব্দুস ছুলামী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসা
ছিলাম। এর মাঝে একজন বেদুঈন সাহাবী এসে জিজ্ঞেস করল: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনাকে জান্নাতের একটি গাছ সম্পর্কে
আলোচনা করতে শুনেছি, আমি পৃথিবীতে এরচেয়ে অধিক কাঁটা বিশিষ্ট গাছ আছে বলে জানিনা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক কাঁটার স্থলে খাসী কৃত ছাগলের লেপ্টানো অন্ডকোষ সদৃশ করে দেব।
তাতে সত্তর রং এর খাবার থাকবে এক রং অন্য রং এর সাথে মেশবে না।[৬৬]
জান্নাতবাসীদের পানীয় এর বিবরণ:
(১) মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﺇِﻥَّ ﺍﻟْﺄَﺑْﺮَﺍﺭَ ﻳَﺸْﺮَﺑُﻮﻥَ ﻣِﻦْ ﻛَﺄْﺱٍ ﻛَﺎﻥَ ﻣِﺰَﺍﺟُﻬَﺎ ﻛَﺎﻓُﻮﺭًﺍ ﴿৫ ﴾( ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ:৫)
নিশ্চয় সৎকর্মশীলরা পান করবে কাফূর মিশ্রিত পানপাত্র। (সূরা ইনসান:৫)
(২) আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
ﻭَﻳُﺴْﻘَﻮْﻥَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻛَﺄْﺳًﺎ ﻛَﺎﻥَ ﻣِﺰَﺍﺟُﻬَﺎ ﺯَﻧْﺠَﺒِﻴﻠًﺎ ﴿ ১৭﴾ ( ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ:১৭)
সেখানে তাদেরকে পান করানো হবে "যানজাবীল" মিশ্রিত পানপাত্র। (সূরা ইনসান:১৭)
(৩) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
ﻳُﺴْﻘَﻮْﻥَ ﻣِﻦْ ﺭَﺣِﻴﻖٍ ﻣَﺨْﺘُﻮﻡٍ ﴿২৫ ﴾ ﺧِﺘَﺎﻣُﻪُ ﻣِﺴْﻚٌ ﻭَﻓِﻲ ﺫَﻟِﻚَ ﻓَﻠْﻴَﺘَﻨَﺎﻓَﺲِ ﺍﻟْﻤُﺘَﻨَﺎﻓِﺴُﻮﻥَ ﴿২৬ ﴾ ﻭَﻣِﺰَﺍﺟُﻪُ ﻣِﻦْ ﺗَﺴْﻨِﻴﻢٍ ﴿ ২৭ ﴾ ﻋَﻴْﻨًﺎ ﻳَﺸْﺮَﺏُ ﺑِﻬَﺎ ﺍﻟْﻤُﻘَﺮَّﺑُﻮﻥَ ﴿২৮﴾ { ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ:২৫-২৮}
তাদেরকে পান করানো হবে মোহর করা বিশুদ্ধ পানীয়। তার মোহর হবে কস্তরী। এ বিষয়ে প্রতিযোগীদের প্রতিযোগিতা করা
উচিত। তার মিশ্রণ হবে তাসনীমের পানি। এটি একটি ঝর্ণা, যার পানি পান করবে নৈকট্যশীলগন।{সূরা তাতফীফ:২৫-২৮}
(৪) হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ﺍﻟﻜﻮﺛﺮ ﻧﻬﺮ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ , ﺣﺎﻓﺘﺎﻩ ﻣﻦ ﺫﻫﺐ ,ﻭ ﻣﺠﺮﺍﻩ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺪﺭ ﻭ ﺍﻟﻴﺎﻗﻮﺕ ,ﺗﺮﺑﺘﻪ ﺃﻃﻴﺐ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺴﻚ , ﻭ ﻣﺎﺅﻩ ﺃﺣﻠﻰ ﻣﻦ ﺍﻟﻌﺴﻞ , ﻭ ﺃﺑﻴﺾ ﻣﻦ ﺍﻟﺜﻠﺞ . ﺃﺧﺮﺟﻪ
ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ﻭﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﺔ .
প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাদিয়াল্লাহু কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ
করেন: "কাউসার" জান্নাতের একটি নহর। তার দুই তীর স্বর্ণদ্বারা নির্মিত। তার গতিপথ ও প্রবাহ হচ্ছে মূল্যবান মণিমুক্তা ও
ইয়াকূতের উপর দিয়ে। এর মাঠি মেশক অপেক্ষা উত্তম, পানি মধুর চেয়েও অধিক মিষ্টি এবং বরফের চেয়ে অধিক সাদা।[৬৭]
জান্নাতের বৃক্ষরাজি ও ফল-ফলাদির বিবরণ:
(১) মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﻭَﺩَﺍﻧِﻴَﺔً ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻇِﻠَﺎﻟُﻬَﺎ ﻭَﺫُﻟِّﻠَﺖْ ﻗُﻄُﻮﻓُﻬَﺎ ﺗَﺬْﻟِﻴﻠًﺎ ﴿ ১৪ ﴾ { ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ:১৪}
তার বৃক্ষছায়া তাদের উপর ঝুঁকে থাকবে এবং তার ফলসমূহ তাদের আওতাধীন রাখা হবে। {সূরা ইনসান:১৪}
(২) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
ﺇِﻥَّ ﺍﻟْﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ﻓِﻲ ﻇِﻠَﺎﻝٍ ﻭَﻋُﻴُﻮﻥٍ ﴿৪১ ﴾ ﻭَﻓَﻮَﺍﻛِﻪَ ﻣِﻤَّﺎ ﻳَﺸْﺘَﻬُﻮﻥَ ﴿৪২ ﴾ { ﺍﻟﻤﺮﺳﻼﺕ :৪১-৪২}
নিশ্চয় আল্লাহভীরুরা থাকবে বৃক্ষ ছায়া ও প্রস্রবণসমূহে এবং তাদের বাঞ্ছিত ফল-মূলের মধ্যে। {সূরা আল মুরসালাত:৪১-৪২}
(৩)আল্লাহ তাআরা অন্যত্র বলছেন:
ﻣُﺘَّﻜِﺌِﻴﻦَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻳَﺪْﻋُﻮﻥَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺑِﻔَﺎﻛِﻬَﺔٍ ﻛَﺜِﻴﺮَﺓٍ ﻭَﺷَﺮَﺍﺏٍ ﴿৫১ ﴾ { ﺹ :৫১}
সেখানে তারা হেলান দিয়ে বসবে। তারা সেখানে চাইবে অনেক ফল-মূল ও পানীয়। {সূরা স্বদ:৫১}
(৪)অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
ﻭَﻟَﻬُﻢْ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻣِﻦْ ﻛُﻞِّ ﺍﻟﺜَّﻤَﺮَﺍﺕِ } ﻣﺤﻤﺪ :১৫}
তথায় তাদের জন্য রয়েছে রকমারী ফল-মূল। {সূরা মুহাম্মাদ:১৫}
(৫) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
ﺇِﻥَّ ﻟِﻠْﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ﻣَﻔَﺎﺯًﺍ ﴿৩১ ﴾ ﺣَﺪَﺍﺋِﻖَ ﻭَﺃَﻋْﻨَﺎﺑًﺎ ﴿৩২ ﴾ { ﺍﻟﻨﺒﺎ :৩১-৩২}
আল্লাহভীরুদের জন্য রয়েছে সাফল্য। উদ্যান ও আঙ্গুর। {সূরা নাবা:৩১-৩২}
(৬) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
ﻓِﻴﻬِﻤَﺎ ﻣِﻦْ ﻛُﻞِّ ﻓَﺎﻛِﻬَﺔٍ ﺯَﻭْﺟَﺎﻥِ ﴿৫২ ﴾ { ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ :৫২}
উভয়ের মধ্যে প্রত্যেক ফল বিভিন্ন রকমের হবে। {সূরা আর রহমান:৫২}
ﻓِﻴﻬِﻤَﺎ ﻓَﺎﻛِﻬَﺔٌ ﻭَﻧَﺨْﻞٌ ﻭَﺭُﻣَّﺎﻥٌ ﴿ ৬৮ ﴾ { ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ :৬৮}
সেখানে আছে ফল-মূল, খেজুর ও আনার। { সূরা আর রহমান:৬৮}
(৭) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
ﻳَﺪْﻋُﻮﻥَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺑِﻜُﻞِّ ﻓَﺎﻛِﻬَﺔٍ ﺁَﻣِﻨِﻴﻦَ ﴿৫৫﴾ { ﺍﻟﺪﺧﺎﻥ :৫৫}
তারা সেখানে শান্ত মনে বিভিন্ন ফল-মূল আনতে বলবে। { সূরা দোখান:৫৫}
(৮)আরো ইরশাদ হচ্ছে:
ﻭَﺃَﺻْﺤَﺎﺏُ ﺍﻟْﻴَﻤِﻴﻦِ ﻣَﺎ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏُ ﺍﻟْﻴَﻤِﻴﻦِ ﴿ ২৭ ﴾ ﻓِﻲ ﺳِﺪْﺭٍ ﻣَﺨْﻀُﻮﺩٍ ﴿২৮﴾ ﻭَﻃَﻠْﺢٍ ﻣَﻨْﻀُﻮﺩٍ ﴿ ২৯ ﴾ ﻭَﻇِﻞٍّ ﻣَﻤْﺪُﻭﺩٍ ﴿ ৩০ ﴾ ﻭَﻣَﺎﺀٍ ﻣَﺴْﻜُﻮﺏٍ ﴿ ৩১﴾ ﻭَﻓَﺎﻛِﻬَﺔٍ ﻛَﺜِﻴﺮَﺓٍ ﴿ ৩২ ﴾ ﻟَﺎ ﻣَﻘْﻄُﻮﻋَﺔٍ ﻭَﻟَﺎ ﻣَﻤْﻨُﻮﻋَﺔٍ ﴿ ৩৩﴾ { ﺍﻟﻮﺍﻗﻌﺔ :২৭-৩৩}
যারা ডান দিকে থাকবে, তারা কতইনা ভাগ্যবান। তারা থাকবে কাঁটা বিহীন বদরিকা বৃক্ষে। এবং কাঁদি কাঁদি কলায়। দীর্ঘ
ছায়ায় এবং প্রবাহিত পানিতে ও প্রচুর ফল-মূলে। যা শেষ হবার নয় এবং নিষিদ্ধও নয়। (সূরা ওয়াকিয়া:২৭-৩৩)
(৯) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
ﻓِﻲ ﺟَﻨَّﺔٍ ﻋَﺎﻟِﻴَﺔٍ ﴿২২ ﴾ ﻗُﻄُﻮﻓُﻬَﺎ ﺩَﺍﻧِﻴَﺔٌ ﴿২৩ ﴾ ﻛُﻠُﻮﺍ ﻭَﺍﺷْﺮَﺑُﻮﺍ ﻫَﻨِﻴﺌًﺎ ﺑِﻤَﺎ ﺃَﺳْﻠَﻔْﺘُﻢْ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺄَﻳَّﺎﻡِ ﺍﻟْﺨَﺎﻟِﻴَﺔِ ﴿২৪ ﴾ { ﺍﻟﺤﺎﻗﺔ : ২২-২৪}
সুউচ্চ জান্নাতে, তার ফল-মূলসমূহ অবনমিত থাকবে। বিগত দিনে তোমরা যা প্রেরণ করেছিলে, তার প্রতিদানে তোমরা খাও
এবং পান কর তৃপ্তি সহকারে। {সূরা আল হাক্কাহ:২২-২৪}
(১০) হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﻣﺎﻟﻚ ﺑﻦ ﺻﻌﺼﻌﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻓﻲ ﻗﺼﺔ ﺍﻟﻤﻌﺮﺍﺝ ـ ﻭﻓﻴﻪ ـ ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﻭﺭﻓﻌﺖ ﻟﻲ ﺳﺪﺭﺓ ﺍﻟﻤﻨﺘﻬﻰ ﻓﺈﺫﺍ ﻧﺒﻘﻬﺎ ﻛﺄﻧﻪ ﻗﻼﻝ ﻫﺠﺮ , ﻭﻭﺭﻗﻬﺎ ﻛﺄﻧﻪ ﺁﺫﺍﻥ ﺍﻟﻔﻴﻮﻝ , ﻓﻲ ﺃﺻﻠﻬﺎ ﺃﺭﺑﻌﺔ ﺃﻧﻬﺎﺭ: ﻧﻬﺮﺍﻥ
ﺑﺎﻃﻨﺎﻥ , ﻭﻧﻬﺮﺍﻥ ﻇﺎﻫﺮﺍﻥ , ﻓﺴﺄﻟﺖ ﺟﺒﺮﻳﻞ , ﻓﻘﺎﻝ: ﺃﻣﺎ ﺍﻟﺒﺎﻃﻨﺎﻥ ﻓﻔﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ , ﻭﺃﻣﺎ ﺍﻟﻈﺎﻫﺮﺍﻥ ﺍﻟﻨﻴﻞ ﻭ ﺍﻟﻔﺮﺍﺕ . ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
সাহাবী মালেক বিন সা'সা'আহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মে'রাজের ঘটনা সম্বলিত হাদীসে বর্ণিত, - তাতে আছে - নবী
আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমারা সামনে সিদরাতুল মুন্তাহাকে তুলে ধরা হল, দেখলাম তার ফলগুলো
যেন হাজারের বিশাল বিশাল মটকা। এবং তার পাতাগুলো যেন হাতির কান। তার গোড়া থেকে চারটি নদী প্রবাহমান। দু'টো
অপ্রকাশ্য অপর দু'টো প্রকাশ্য। আমি জিবরীলকে এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: অপ্রকাশ্য নদীদ্বয় জান্নাতে আর
প্রকাশ্য দু'টো হচ্ছে: নীল ও ফোরাত[৬৮]
(১১) হাদীসে আরো এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺳﻌﻴﺪ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﺇﻥ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻟﺸﺠﺮﺓ ﻳﺴﻴﺮ ﺍﻟﺮﺍﻛﺐ ﺍﻟﺠﻮﺍﺩ ﺃﻭ ﺍﻟﻤﻀﻤﺮ ﺍﻟﺴﺮﻳﻊ ﻣﺎﺋﺔ ﻋﺎﻡ ﻣﺎ ﻳﻘﻄﻌﻬﺎ. ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ .
আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: নিশ্চয়ই
জান্নাতে এমন একটি বিশাল বৃক্ষ আছে একজন দক্ষ সওয়ারী খুব দ্রুতগামী অশ্ব বা ঘোড়দৌড়ে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত দ্রুতগামী
অশ্বকে একশত বছর পর্যন্ত ছুটালেও ঐ বৃক্ষকে অতিক্রম করতে পারবে না।[৬৯]
(১২) হাদীসে আরো এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﻣﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺷﺠﺮﺓ ﺇﻻ ﻭﺳﺎﻗﻬﺎ ﻣﻦ ﺫﻫﺐ . ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ
বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ
করেছেন: জান্নাতে অবস্থিত প্রত্যেক বৃক্ষের কান্ডই হবে স্বর্ণের।[৭০]
জান্নাতের নহরসমূহের বিবরণ:
(১)মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁَﻣَﻨُﻮﺍ ﻭَﻋَﻤِﻠُﻮﺍ ﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺤَﺎﺕِ ﻟَﻬُﻢْ ﺟَﻨَّﺎﺕٌ ﺗَﺠْﺮِﻱ ﻣِﻦْ ﺗَﺤْﺘِﻬَﺎ ﺍﻟْﺄَﻧْﻬَﺎﺭُ ﺫَﻟِﻚَ ﺍﻟْﻔَﻮْﺯُ ﺍﻟْﻜَﺒِﻴﺮُ ﴿১১ ﴾ { ﺍﻟﺒﺮﻭﺝ:১১}
অর্থাৎ যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় নির্ঝরিণীসমূহ। এটাই
মহা সাফল্য। {সূরা বুরূজ:১১}
(২) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
ﻣَﺜَﻞُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﻭُﻋِﺪَ ﺍﻟْﻤُﺘَّﻘُﻮﻥَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺃَﻧْﻬَﺎﺭٌ ﻣِﻦْ ﻣَﺎﺀٍ ﻏَﻴْﺮِ ﺁَﺳِﻦٍ ﻭَﺃَﻧْﻬَﺎﺭٌ ﻣِﻦْ ﻟَﺒَﻦٍ ﻟَﻢْ ﻳَﺘَﻐَﻴَّﺮْ ﻃَﻌْﻤُﻪُ ﻭَﺃَﻧْﻬَﺎﺭٌ ﻣِﻦْ ﺧَﻤْﺮٍ ﻟَﺬَّﺓٍ ﻟِﻠﺸَّﺎﺭِﺑِﻴﻦَ ﻭَﺃَﻧْﻬَﺎﺭٌ ﻣِﻦْ ﻋَﺴَﻞٍ ﻣُﺼَﻔًّﻰ ﻭَﻟَﻬُﻢْ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻣِﻦْ ﻛُﻞِّ ﺍﻟﺜَّﻤَﺮَﺍﺕِ ﻭَﻣَﻐْﻔِﺮَﺓٌ ﻣِﻦْ ﺭَﺑِّﻬِﻢْ ﻛَﻤَﻦْ ﻫُﻮَ ﺧَﺎﻟِﺪٌ ﻓِﻲ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻭَﺳُﻘُﻮﺍ
ﻣَﺎﺀً ﺣَﻤِﻴﻤًﺎ ﻓَﻘَﻄَّﻊَ ﺃَﻣْﻌَﺎﺀَﻫُﻢْ ﴿ ১৫ ﴾ { ﻣﺤﻤﺪ :১৫}
আল্লাহ ভীরু মুত্তাকীদের যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তার অবস্থা নিম্নরূপ, তাতে আছে নির্মল পানির নহর, দুধের
নহর যার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। আরো আছে রকমারি ফল-মূল ও
তাদের পালনকর্তার ক্ষমা। {সূরা মুহাম্মাদ:১৫}
(৩) আরো ইরশাদ হচ্ছে:
ﺇِﻥَّ ﺍﻟْﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ﻓِﻲ ﺟَﻨَّﺎﺕٍ ﻭَﻧَﻬَﺮٍ ﴿৫৪﴾ ﻓِﻲ ﻣَﻘْﻌَﺪِ ﺻِﺪْﻕٍ ﻋِﻨْﺪَ ﻣَﻠِﻴﻚٍ ﻣُﻘْﺘَﺪِﺭٍ ﴿৫৫﴾ { ﺍﻟﻘﻤﺮ:৫৪-৫৫}
আল্লাহভীরুরা থাকবে জান্নাতে ও নির্ঝরিণীতে। যোগ্য আসনে সর্বাধিপতি সম্রাটের সান্নিধ্যে। {সূরা কামার:৫৪-৫৫}
(৪) হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺃﻧﺲ ﺑﻲ ﻣﺎﻟﻚ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ : ﺑﻴﻨﻤﺎ ﺃﻧﺎ ﺃﺳﻴﺮ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺇﺫﺍ ﺃﻧﺎ ﺑﻨﻬﺮ ﺣﺎﻓﺘﺎﻩ ﻗﺒﺎﺏ ﺍﻟﺪﺭ ﺍﻟﻤﺠﻮﻑ , ﻗﻠﺖ ﻣﺎ ﻫﺬﺍ ﻳﺎ ﺟﺒﺮﻳﻞ؟ ﻗﺎﻝ : ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻜﻮﺛﺮ ﺍﻟﺬﻱ ﺃﻋﻄﺎﻙ ﺭﺑﻚ , ﻓﺈﺫﺍ ﻃﻴﺒﻪ ﺃﻭ ﻃﻴﻨﻪ ﻣﺴﻚ
ﺃﺫﻓﺮ . ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ .
সাহাবী আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
আমি জান্নাতে বিচরণ করছিলাম, হঠাৎ নিজেকে একটি নহরের কাছে আবিষ্কার করলাম। ঐ নহরের দুই তীর মধ্যখান ফাঁকা
বিশিষ্ট মণি-মুক্তা বিশেষের গম্বুজ। আমি বললাম: জিবরীল! এইটি কি? বললেন: এইটি কাউসার, যা আপনার প্রতিপালক
আপনাকে দান করেছেন। দেখলাম, এর সৌরভ বা মাটি মেশক সদৃশ।[৭১]
(৫) হাদীসে আরো এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: ﺳﻴﺤﺎﻥ ﻭ ﺟﻴﺤﺎﻥ ﻭﺍﻟﻔﺮﺍﺕ ﻭﺍﻟﻨﻴﻞ ﻛﻞ ﻣﻦ ﺃﻧﻬﺎﺭ ﺍﻟﺠﻨﺔ . ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ .
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: সাইহান,
জাইহান, ফোরাত ও নীল প্রত্যেকটিই জান্নাতের নহর।[৭২]
জান্নাতের ঝর্ণার বিবরণ:
(১) মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﺇِﻥَّ ﺍﻟْﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ﻓِﻲ ﺟَﻨَّﺎﺕٍ ﻭَﻋُﻴُﻮﻥٍ ﴿ ৪৫﴾
নিশ্চয় আল্লাহ ভীরু - মুত্তাকীরা থাকবে বাগান ও নির্ঝরিণী সমূহে। {সূরা হিজর:৪৫}
(২) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
ﺇِﻥَّ ﺍﻟْﺄَﺑْﺮَﺍﺭَ ﻳَﺸْﺮَﺑُﻮﻥَ ﻣِﻦْ ﻛَﺄْﺱٍ ﻛَﺎﻥَ ﻣِﺰَﺍﺟُﻬَﺎ ﻛَﺎﻓُﻮﺭًﺍ ﴿৫ ﴾ ﻋَﻴْﻨًﺎ ﻳَﺸْﺮَﺏُ ﺑِﻬَﺎ ﻋِﺒَﺎﺩُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻳُﻔَﺠِّﺮُﻭﻧَﻬَﺎ ﺗَﻔْﺠِﻴﺮًﺍ ﴿ ৬﴾ { ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ:৫-৬}
নিশ্চয় সৎকর্মশীলরা পান করবে কাফুর মিশ্রিত পানপাত্র। এটি একটি ঝরণা, যা থেকে আল্লাহর বান্দাগন পান করবে-তারা
একে প্রবাহিত করবে। {সূরা ইনসান:৫-৬}
(৩) আরও ইরশাদ হচ্ছে:
ﻭَﻣِﺰَﺍﺟُﻪُ ﻣِﻦْ ﺗَﺴْﻨِﻴﻢٍ ﴿ ২৭ ﴾ ﻋَﻴْﻨًﺎ ﻳَﺸْﺮَﺏُ ﺑِﻬَﺎ ﺍﻟْﻤُﻘَﺮَّﺑُﻮﻥَ ﴿ ২৮﴾ { ﺍﻟﻤﻄﻔﻔﻴﻦ :২৭-২৮}
তার মিশ্রণ হবে তাসনীমের পানি। এটি একটি ঝরণা যার পানি পান করবে নৈকট্যশীল গন। {সূরা আল মুতাফফি ফীন:২৭-২৮}
(৪) আরও ইরশাদ হচ্ছে:
ﻓِﻴﻬِﻤَﺎ ﻋَﻴْﻨَﺎﻥِ ﺗَﺠْﺮِﻳَﺎﻥِ ﴿ ৫০﴾ / ﻓِﻴﻬِﻤَﺎ ﻋَﻴْﻨَﺎﻥِ ﻧَﻀَّﺎﺧَﺘَﺎﻥِ ﴿ ৬৬ ﴾ { ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ :৫০/৬৬}
উভয় উদ্যানে আছে বহমান দুই প্রস্রবণ। / তথায় আছে উদ্বেলিত দুই প্রস্রবণ। {সূরা আর রাহমান:৫০/৬৬}
(৫) আরও ইরশাদ হচ্ছে:
ﻭَﻳُﺴْﻘَﻮْﻥَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻛَﺄْﺳًﺎ ﻛَﺎﻥَ ﻣِﺰَﺍﺟُﻬَﺎ ﺯَﻧْﺠَﺒِﻴﻠًﺎ ﴿১৭﴾ ﻋَﻴْﻨًﺎ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺗُﺴَﻤَّﻰ ﺳَﻠْﺴَﺒِﻴﻠًﺎ ﴿১৮ ﴾ { ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ:১৭-১৮}
তাদেরকে সেখানে পান করানো হবে " যনজাবীল" মিশ্রিত পান পাত্র। এটি জান্নাতস্থিত "সালসাবীল" নামক একটি ঝরণা।
{সূরা ইনসান:১৭-১৮}
জান্নাতবাসীদের স্ত্রীদের বিবরণ:
(১) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﻟِﻠَّﺬِﻳﻦَ ﺍﺗَّﻘَﻮْﺍ ﻋِﻨْﺪَ ﺭَﺑِّﻬِﻢْ ﺟَﻨَّﺎﺕٌ ﺗَﺠْﺮِﻱ ﻣِﻦْ ﺗَﺤْﺘِﻬَﺎ ﺍﻟْﺄَﻧْﻬَﺎﺭُ ﺧَﺎﻟِﺪِﻳﻦَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻭَﺃَﺯْﻭَﺍﺝٌ ﻣُﻄَﻬَّﺮَﺓٌ ﻭَﺭِﺿْﻮَﺍﻥٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑَﺼِﻴﺮٌ ﺑِﺎﻟْﻌِﺒَﺎﺩِ ﴿১৫ ﴾ { ﺁﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ :১৫}
যারা তাকওয়া অবলম্বনকারী, আল্লাহর নিকট তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত যার তলদেশে প্রস্রবণ প্রবাহিত। তারা সেখানে
থাকবে অনন্তকাল। আর রয়েছে পরিচ্ছন্ন সঙ্গিগন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি সুদৃষ্টি রাখেন। { সূরা
আলে ইমরান:১৫}
(২) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
ﺇِﻧَّﺎ ﺃَﻧْﺸَﺄْﻧَﺎﻫُﻦَّ ﺇِﻧْﺸَﺎﺀً ﴿৩৫ ﴾ ﻓَﺠَﻌَﻠْﻨَﺎﻫُﻦَّ ﺃَﺑْﻜَﺎﺭًﺍ ﴿৩৬ ﴾ ﻋُﺮُﺑًﺎ ﺃَﺗْﺮَﺍﺑًﺎ ﴿ ৩৭ ﴾ ﻟِﺄَﺻْﺤَﺎﺏِ ﺍﻟْﻴَﻤِﻴﻦِ ﴿ ৩৮﴾ ﺛُﻠَّﺔٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺄَﻭَّﻟِﻴﻦَ ﴿৩৯ ﴾ ﻭَﺛُﻠَّﺔٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺂَﺧِﺮِﻳﻦَ ﴿৪০ ﴾ { ﺍﻟﻮﺍﻗﻌﺔ :৩৫-৪০}
আমি জান্নাতি রমণীগনকে বিশেষরূপে সৃষ্টি করেছি। অত:পর তাদেরকে করেছি চির কুমারী। কামিনী, সমবয়স্কা। ডানদিকের
লোকদের জন্য। তাদের একদল হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে। এবং একদল পরবর্তীদের মধ্য হতে। {সূরা ওয়াকিয়া:৩৫-৪০}
(৩) আরও ইরশাদ হচ্ছে:
ﻭَﻋِﻨْﺪَﻫُﻢْ ﻗَﺎﺻِﺮَﺍﺕُ ﺍﻟﻄَّﺮْﻑِ ﻋِﻴﻦٌ ﴿৪৮ ﴾ ﻛَﺄَﻧَّﻬُﻦَّ ﺑَﻴْﺾٌ ﻣَﻜْﻨُﻮﻥٌ ﴿৪৯ ﴾ { ﺍﻟﺼﺎﻓﺎﺕ:৪৮-৪৯}
তাদের সঙ্গে থাকবে আনত নয়না, আয়তলোচনা তরুণীকূল। যেন তারা সুরক্ষিত ডিম। {সূরা সাফফাত:৪৮-৪৯}
(৪) আরও ইরশাদ হচ্ছে:
ﻭَﺣُﻮﺭٌ ﻋِﻴﻦٌ ﴿২২ ﴾ ﻛَﺄَﻣْﺜَﺎﻝِ ﺍﻟﻠُّﺆْﻟُﺆِ ﺍﻟْﻤَﻜْﻨُﻮﻥِ ﴿২৩ ﴾ ﺟَﺰَﺍﺀً ﺑِﻤَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ ﴿২৪ ﴾ { ﺍﻟﻮﺍﻗﻌﺔ :২২-২৪}
আর সেখানে থাকবে আনত নয়না হুরগন, আবরণে রক্ষিত মুক্তা সদৃশ। তাদের কৃত আমলের পুরস্কার স্বরূপ। {সূরা ওয়াকিয়া:২২-২৪}
(৫) আরও ইরশাদ হচ্ছে:
ﻓِﻴﻬِﻦَّ ﻗَﺎﺻِﺮَﺍﺕُ ﺍﻟﻄَّﺮْﻑِ ﻟَﻢْ ﻳَﻄْﻤِﺜْﻬُﻦَّ ﺇِﻧْﺲٌ ﻗَﺒْﻠَﻬُﻢْ ﻭَﻟَﺎ ﺟَﺎﻥٌّ ﴿৫৬﴾ ﻓَﺒِﺄَﻱِّ ﺁَﻟَﺎﺀِ ﺭَﺑِّﻜُﻤَﺎ ﺗُﻜَﺬِّﺑَﺎﻥِ ﴿৫৭ ﴾ ﻛَﺄَﻧَّﻬُﻦَّ ﺍﻟْﻴَﺎﻗُﻮﺕُ ﻭَﺍﻟْﻤَﺮْﺟَﺎﻥُ ﴿ ৫৮ ﴾ { ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ: ৫৬-৫৮}
সে সকলের মাঝে থাকবে বহু আয়তনয়না রমণীকূল। যাদেরকে পূর্বে কোন মানুষ ও জিন স্পর্শ করেনি। সুতরাং তোমরা উভয়ে
তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন অনুগ্রহ-অবদানকে অস্বীকার করবে? তারা যেন পদ্মরাগ ও প্রবাল।{সূরা আর রহমান:৫৬-৫৮}
(৬) আরও ইরশাদ হচ্ছে:
ﻓِﻴﻬِﻦَّ ﺧَﻴْﺮَﺍﺕٌ ﺣِﺴَﺎﻥٌ ﴿৭০ ﴾ ﻓَﺒِﺄَﻱِّ ﺁَﻟَﺎﺀِ ﺭَﺑِّﻜُﻤَﺎ ﺗُﻜَﺬِّﺑَﺎﻥِ ﴿৭১﴾ ﺣُﻮﺭٌ ﻣَﻘْﺼُﻮﺭَﺍﺕٌ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺨِﻴَﺎﻡِ ﴿৭২ ﴾ { ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ :৭০-৭২}
সেখানে থাকবে সচ্চরিত্রা-সুশীলা, সুন্দরী রমণীকুল। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহ -
অবদান অস্বীকার করবে? তার তাঁবুতে অবস্থান কারিনী-সুরক্ষিতা হুর। {সূরা আর রহমান:৭০-৭২}
(৭) হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺃﻧﺲ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﻟﺮﻭﺣﺔ ﻓﻲ ﺳﺒﻴﻞ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﻭ ﻏﺪﻭﺓ ﺧﻴﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻭ ﻣﺎ ﻓﻴﻬﺎ , ﻭﻟﻘﺎﺏ ﻗﻮﺱ ﺃﺣﺪﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺃﻭ ﻣﻮﺿﻊ ﻗﻴﺪ ـ ﻳﻌﻨﻲ ﺳﻮﻃﻪ ـ ﺧﻴﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻭ ﻣﺎ ﻓﻴﻬﺎ , ﻭﻟﻮ ﺃﻥ ﺍﻣﺮﺃﺓ ﻣﻦ
ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺍﻃﻠﻌﺖ ﺇﻟﻰ ﺃﻫﻞ ﺍﻷﺭﺽ ﻷﺿﺎﺀﺕ ﻣﺎ ﺑﻴﻨﻬﻤﺎ , ﻭﻟﻤﻸﺗﻪ ﺭﻳﺤﺎ , ﻭﻟﻨﺼﻴﻔﻬﺎ ﻋﻠﻰ ﺭﺃﺳﻬﺎ ﺧﻴﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻭ ﻣﺎ ﻓﻴﻬﺎ . ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
সাহাবী আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন, নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
এক সন্ধ্যা অথবা এক বিকাল আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা পৃথিবী ও পৃথিবীস্থিত সকলকিছু অপেক্ষা উত্তম। জান্নাতে তোমাদের
কারো ধনুকের দূরত্ব সমান জায়গা অথবা ছড়ি রাখার স্থান পরিমাণ জায়গা পৃথিবী ও পৃথিবীস্থিত সকল কিছু অপেক্ষা উত্তম।
জান্নাতের কোন নারী যদি জগতবাসীর দিকে একবার দৃষ্টি নিক্ষেপ করত তাহলে এতদ্ভোয়ের {জান্নাত ও পৃথিবী}
মধ্যবর্তীস্থান আলোয় ও সুগন্ধিতে ভরে দিত। আর জান্নাতবাসী রমণীর মাথার উড়নাটুকু পৃথিবী ও পৃথিবীস্থিত সবকিছু থেকে
উত্তম।[৭৩]
(৮) হাদীসে আরো এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻋﻦ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﺇﻥ ﺃﻭﻝ ﺯﻣﺮﺓ ﺗﺪﺧﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻋﻠﻰ ﺻﻮﺭﺓ ﺍﻟﻘﻤﺮ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺒﺪﺭ , ﻭﺍﻟﺘﻲ ﺗﻠﻴﻬﺎ ﻋﻠﻰ ﺃﺿﻮﺃ ﻛﻮﻛﺐ ﺩﺭﻱ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ , ﻟﻜﻞ ﺍﻣﺮﺉ ﻣﻨﻬﻢ ﺯﻭﺟﺘﺎﻥ ﺍﺛﻨﺘﺎﻥ , ﻳﺮﻯ ﻣﺦ
ﺳﻮﻗﻬﻤﺎ ﻣﻦ ﻭﺭﺍﺀ ﺍﻟﻠﺤﻢ ﻭﻣﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺃﻋﺰﺏ. ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম দলটি পূর্ণিমা রাতের আলোকোদ্ভাসিত চাঁদের আকৃতি নিয়ে প্রবেশ করবে। এর পরেই যারা
প্রবেশ করবে তারা হবে আকাশস্থ আলোকোজ্জ্বল নক্ষত্র থেকেও অধিক আলোকময়। তাদের প্রত্যেকের জন্য দু'জন করে স্ত্রী
থাকবে যাদের পায়ের গোছার মগজ গোশত ভেদ করে দেখা যাবে। জান্নাতে কোন অবিবাহিত থাকবে না।[৭৪]
জান্নাতের সৌরভ ও সুঘ্রাণ:
জান্নাতে বিভিন্ন রকমের মনমুগ্ধকর আতর (সুগন্ধিদ্রব্য) ও সৌরভ আছে। জান্নাতীদের মর্যদাগত তারতম্যের কারণে সে সৌরভ ও
দ্রব্যাদিতেও তারতম্য রয়েছে।
(১) হাদীসে এসেছে
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: ﺇﻥ ﺃﻭﻝ ﺯﻣﺮﺓ ﻳﺪﺧﻠﻮﻥ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻋﻠﻰ ﺻﻮﺭﺓ ﺍﻟﻘﻤﺮ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺒﺪﺭ , ﺛﻢ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻳﻠﻮﻧﻬﻢ ﻋﻠﻰ ﺃﺷﺪ ﻛﻮﻛﺐ ﺩﺭﻱ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺇﺿﺎﺀﺓ , ﻻ ﻳﺒﻮﻟﻮﻥ , ﻭﻻ ﻳﺘﻐﻮﻃﻮﻥ , ﻭﻻ
ﻳﺘﻔﻠﻮﻥ , ﻭﻻ ﻳﻤﺘﺨﻄﻮﻥ , ﺃﻣﺸﺎﻃﻬﻢ ﺍﻟﺬﻫﺐ , ﻭﺭﺷﺤﻬﻢ ﺍﻟﻤﺴﻚ , ﻭﻣﺠﺎﻣﺮﻫﻢ ﺍﻷﻟﻮﺓ , ﻭﺃﺯﻭﺍﺟﻬﻢ ﺍﻟﺤﻮﺭ ﺍﻟﻌﻴﻦ , ﻋﻠﻰ ﺧﻠﻖ ﺭﺟﻞ ﻭﺍﺣﺪ , ﻋﻠﻰ ﺻﻮﺭﺓ ﺃﺑﻴﻬﻢ ﺁﺩﻡ ﺳﺘﻮﻥ ﺫﺭﺍﻋﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ . ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: সর্ব প্রথম যে দলটি
জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের আকৃতি হবে পূর্ণিমা রাতের আলোকোজ্জ্বল চাঁদ সদৃশ। তাদের পরপরই যারা প্রবেশ করবে
তাদের অবস্থা হবে আকাশস্থ আলোকোজ্জ্বল নক্ষত্র থেকেও অধিকতর আলোকময়। তারা সেথায় মল-মূত্র ত্যাগ করবে না। থুথু-
নাকের শ্লেষা ফেলবে না।(চুল বিন্যস্ত করার) চিরুনী হবে স্বর্ণের। শরীর নির্গত ঘাম হবে মেশক সদৃশ। শরীর নি:সৃত ঘ্রাণ হবে
উলুওয়াহ তথা সুতীব্র ঘ্রাণ বিশিষ্ট কাঠ বিশেষ। স্ত্রী হবে কালো ও শুভ্র বর্ণের-ডাগর নয়না হুরবৃন্দ। এক ব্যক্তির আকৃতিতে-
তাদের পিতা আদমের আকৃতিতে- আকাশপানে ষাট গজ।[৭৫]
(অর্থাৎ তারা আদম আলাইহিস সালামের মত ষাট গজ বিশিষ্ট লম্বাকৃতির হবে)
(২) হাদীসে আরো এসেছে
ﻭﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮﻭ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ : ﻣﻦ ﻗﺘﻞ ﻣﻌﺎﻫﺪﺍ ﻟﻢ ﻳﺮﺡ ﺭﺍﺋﺤﺔ ﺍﻟﺠﻨﺔ , ﻭﺇﻥ ﺭﻳﺤﻬﺎ ﻳﻮﺟﺪ ﻣﻦ ﻣﺴﻴﺮﺓ ﺃﺭﺑﻌﻴﻦ ﻋﺎﻣﺎ. ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ .
সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন, নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
যে ব্যক্তি সন্ধিভুক্ত অমুসলিম লোককে হত্যা করবে সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না, অথচ তার সুঘ্রাণ চল্লিশ বছর সফরের দূরত্ব
হতেও অনুভব করা যায়।[৭৬]
(৩) হাদীসে আরো এসেছে
ﻭﻓﻲ ﻟﻔﻆ : ﻭﺇﻥ ﺭﻳﺤﻬﺎ ﻟﻴﻮﺟﺪ ﻣﻦ ﻣﺴﻴﺮﺓ ﺳﺒﻌﻴﻦ ﺧﺮﻳﻔﺎ. ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ﻭ ﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﺔ .
অন্য রেওয়ায়াতে আছে: অথচ জান্নাতের সুরভী সত্তর বছর সফরের দূরত্ব থেকেও পাওয়া যায়।[৭৭]
জান্নাতঅধিবাসীদের স্ত্রীদের গীত-সঙ্গীত:
ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﺇﻥ ﺃﺯﻭﺍﺝ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻟﻴﻐﻨﻴﻦ ﺃﺯﻭﺍﺟﻬﻦ ﺑﺄﺣﺴﻦ ﺃﺻﻮﺍﺕ ﺳﻤﻌﻬﺎ ﺃﺣﺪ ﻗﻂ , ﺇﻥ ﻣﻤﺎ ﻳﻐﻨﻴﻦ ﺑﻪ: ﻧﺤﻦ ﺧﻴﺮ ﺍﻟﺤﺴﺎﻥ ,ﺃﺯﻭﺍﺝ ﻗﻮﻡ ﻛﺮﺍﻡ , ﻳﻨﻈﺮﻥ ﺑﻘﺮﺓ ﺃﻋﻴﺎﻥ .
ﻭﺇﻥ ﻣﻤﺎ ﻳﻐﻨﻴﻦ ﺑﻪ: ﻧﺤﻦ ﺍﻟﺨﺎﻟﺪﺍﺕ ﻓﻼ ﻳﻤﺘﻨﻪ , ﻧﺤﻦ ﺍﻵﻣﻨﺎﺕ ﻓﻼ ﻳﺨﻔﻨﻪ , ﻧﺤﻦ ﺍﻟﻤﻘﻴﻤﺎﺕ ﻓﻼ ﻳﻈﻌﻨﻪ . ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﻄﺒﺮﺍﻧﻲ ﻓﻲ ﺍﻷﻭﺳﻂ .
বিশিষ্ট সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
ইরশাদ করেন: জান্নাতীদের জন্য তাদের স্ত্রীরা এত সুন্দর আওয়াজে সঙ্গীত পরিবেশন করবে যা ইতিপূর্বে আর কেউ শুনেনি।
তাদের সঙ্গীতের মধ্যে যেমন: আমরা সচ্চরিত্রা-সুশীলা, সুন্দরী রমণীকুল, মহানুভব-সম্মানিত লোকদের স্ত্রী, যারা (তাদের
প্রতি) তাকিয়ে থাকবে নয়নের প্রশান্তি নিয়ে।
তাদের সঙ্গীতের আরো কিছু নমূনা:
আমরা অমর যারা কখনো মরবে না, আমরা চির নিরাপদ যারা শঙ্কিত হয় না, আমরা অবস্থান কারিনী যারা সফর করবে না।[৭৮]
জান্নাতীদের যৌন-মিলন:
(১) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﺇِﻥَّ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ ﻓِﻲ ﺷُﻐُﻞٍ ﻓَﺎﻛِﻬُﻮﻥَ ﴿৫৫ ﴾ ﻫُﻢْ ﻭَﺃَﺯْﻭَﺍﺟُﻬُﻢْ ﻓِﻲ ﻇِﻠَﺎﻝٍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﺄَﺭَﺍﺋِﻚِ ﻣُﺘَّﻜِﺌُﻮﻥَ ﴿ ৫৬﴾ { ﻳﺲ:৫৫-৫৬}
এ দিন জান্নাতবাসীরা আনন্দে মশগুল থাকবে। তারা এবং তাদের সঙ্গিগণ উপবিষ্ট থাকবে ছায়াময় পরিবেশে আসনে হেলান
দিয়ে। {সূরা ইয়াসীন:৫৫-৫৬}
(২) হাদীসে এসেছে
ﻋﻦ ﺯﻳﺪ ﺑﻦ ﺃﺭﻗﻢ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ﺇﻥ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻟﻴﻌﻄﻰ ﻗﻮﺓ ﻣﺎﺋﺔ ﺭﺟﻞ ﻓﻲ ﺍﻷﻛﻞ ﻭ ﺍﻟﺸﺮﺏ ﻭ ﺍﻟﺸﻬﻮﺓ ﻭ ﺍﻟﺠﻤﺎﻉ , ﻓﻘﺎﻝ ﺭﺟﻞ ﻣﻦ ﺍﻟﻴﻬﻮﺩ : ﻓﺈﻥ ﺍﻟﺬﻱ ﻳﺄﻛﻞ ﻭ ﻳﺸﺮﺏ ﺗﻜﻮﻥ
ﻟﻪ ﺍﻟﺤﺎﺟﺔ , ﻓﻘﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: ﺣﺎﺟﺔ ﺃﺣﺪﻫﻢ ﻋﺮﻕ ﻳﻔﻴﺾ ﻣﻦ ﺟﻠﺪﻩ , ﻓﺈﺫﺍ ﺑﻄﻨﻪ ﺿﻤﺮ . ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﻄﺒﺮﺍﻧﻲ ﻭ ﺍﻟﺪﺍﺭﻣﻲ .
সাহাবী যায়দ বিন আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: জান্নাতী
প্রতিটি ব্যক্তিকে পানাহার, প্রবৃত্তিগত চাহিদা ও যৌন মিলনে একশত পুরুষের শক্তি প্রদান করা হবে। এটি শুনে জনৈক
ইয়াহুদী প্রশ্ন করল: যে ব্যক্তি পানাহার করে তার প্রাকৃতিক কর্ম-প্রস্রাব পায়খানা-সম্পাদনের প্রয়োজন হয়। উত্তরে
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তাদের এ প্রয়োজনের পরিবর্তে শরীর থেকে ঘাম বের হবে আর এরই
কারণে পেট খালী হয়ে যাবে।[৭৯]
(৩) হাদীসে আরো এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﻴﻞ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ : ﻫﻞ ﻧﺼﻞ ﺇﻟﻰ ﻧﺴﺎﺋﻨﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ؟ ﻓﻘﺎﻝ: ﺇﻥ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻟﻴﺼﻞ ﻓﻲ ﺍﻟﻴﻮﻡ ﺇﻟﻰ ﻣﺎﺋﺔ ﻋﺬﺭﺍﺀ . ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﻄﺒﺮﺍﻧﻲ ﻓﻲ ﺍﻷﻭﺳﻂ ﻭ ﺃﺑﻮ ﻧﻌﻴﻢ ﻓﻲ ﺻﻔﺔ ﺍﻟﺠﻨﺔ .
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হল: ইয়া
রাসূলাল্লাহ: আমরা কি জান্নাতে আমাদের স্ত্রীদের কাছে পৌঁছাতে পারব? উত্তরে রাসূলুল্লাহ বললেন: একজন ব্যক্তি
একদিনে একশত কুমারীর কাছে যাবে (অর্থাৎ মিলিত হবে)।[৮০]
জান্নাতে সন্তান লাভ:
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺳﻌﻴﺪ ﺍﻟﺨﺪﺭﻱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: ﺍﻟﻤﺆﻣﻦ ﺇﺫﺍ ﺍﺷﺘﻬﻰ ﺍﻟﻮﻟﺪ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻛﺎﻥ ﺣﻤﻠﻪ ﻭ ﻭﺿﻌﻪ ﻭ ﺳﻨﻪ ﻓﻲ ﺳﺎﻋﺔ ﻛﻤﺎ ﻳﺸﺘﻬﻲ . ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺃﺣﻤﺪ ﻭ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ .
সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: মুমিন
যখন জান্নাতে সন্তান কামনা করবে, তখনই সামান্য সময়ের মধ্যে তার চাহিদামতে তার গর্ভ, প্রসব ও বয়স্ক হয়ে যাওয়া সম্পন্ন
হয়ে যাবে।[৮১]
জান্নাতবাসীদের নিয়ামতের চলমানতা:
জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশের পর ফেরেশ্তারা এসে তাদের সাথে সাক্ষাত করে এ সুসংবাদ প্রদান করবে যে, তোমরা
এখানে চিরস্থায়ী ভাবে থাকবে এবং এমন নিয়ামতের সুসংবাদ শুনাবে যা তারা ইতিপূর্বে আর শুনেনি।
(১) মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﻣَﺜَﻞُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﻭُﻋِﺪَ ﺍﻟْﻤُﺘَّﻘُﻮﻥَ ﺗَﺠْﺮِﻱ ﻣِﻦْ ﺗَﺤْﺘِﻬَﺎ ﺍﻟْﺄَﻧْﻬَﺎﺭُ ﺃُﻛُﻠُﻬَﺎ ﺩَﺍﺋِﻢٌ ﻭَﻇِﻠُّﻬَﺎ ﺗِﻠْﻚَ ﻋُﻘْﺒَﻰ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺍﺗَّﻘَﻮْﺍ ﻭَﻋُﻘْﺒَﻰ ﺍﻟْﻜَﺎﻓِﺮِﻳﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺭُ ﴿ ৩৫ ﴾ { ﺍﻟﺮﻋﺪ:৩৫}
মুত্তাকীদিগকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, তার উপমা এরূপ: এর পাদদেশে নদী প্রবাহিত, তার ফলসমূহ ও ছায়া
চিরস্থায়ী। যারা মুত্তাকী এটি তাদের কর্মফল আর কাফেরদের কর্মফল অগ্নি। {সূরা রা'দ:৩৫}
(২) হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﻳﻨﺎﺩﻱ ﻣﻨﺎﺩ: ﺇﻥ ﻟﻜﻢ ﺃﻥ ﺗﺼﺤﻮﺍ ﻓﻼ ﺗﺴﻘﻤﻮﺍ ﺃﺑﺪﺍ , ﻭﺇﻥ ﻟﻜﻢ ﺃﻥ ﺗﺤﻴﻮﺍ ﻓﻼ ﺗﻤﻮﺗﻮﺍ ﺃﺑﺪﺍ , ﻭﺇﻥ ﻟﻜﻢ ﺃﻥ ﺗﺸﺒﻮﺍ ﻓﻼ ﺗﻬﺮﻣﻮﺍ ﺃﺑﺪﺍ , ﻭﺇﻥ ﻟﻜﻢ ﺃﻥ ﺗﻨﻌﻤﻮﺍ ﻓﻼ ﺗﺒﺄﺳﻮﺍ
ﺃﺑﺪﺍ. ﻓﺬﻟﻚ ﻗﻮﻟﻪ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ }: ﻭَﻧُﻮﺩُﻭﺍ ﺃَﻥْ ﺗِﻠْﻜُﻢُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔُ ﺃُﻭﺭِﺛْﺘُﻤُﻮﻫَﺎ ﺑِﻤَﺎ ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﺗَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ { ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ .
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: জান্নাতীগন
জান্নাতে প্রবেশ করার পর এক ঘোষণাকারী ঘোষণা করবে, তোমাদের জন্য এ সিদ্ধান্ত স্থির করা হয়েছে যে, তোমরা সর্বদা
সুস্থ থাকবে কখনো অসুস্থ হবে না, সর্বদা জীবিত থাকবে কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। সর্বদা যুবক থাকবে কখনো বৃদ্ধ হবে না।
সর্বদা সচ্ছন্দ ও সুখে থাকবে কখনো অনটনক্লিষ্ট ও দূ:খিত হবে না। তাইতো মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: " এবং তাদের
সম্বোধন করে বলা হবে, তোমরা যা করতে তারই জন্য তোমাদেরকে এ জান্নাতের উত্তরাধিকারী করা হয়েছে"।[৮২]
(৩) হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺟﺎﺑﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﻴﻞ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ: ﻫﻞ ﻳﻨﺎﻡ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ؟ ﻗﺎﻝ :ﻻ , ﺍﻟﻨﻮﻡ ﺃﺧﻮ ﺍﻟﻤﻮﺕ. ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﺒﺰﺍﺭ
সাহাবী জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন, জিজ্ঞেস করা হল: ইয়া রাসূলাল্লাহ! জান্নাতবাসীরা কি নিদ্রা যাবে?
নবীজী উত্তরে বললেন: না, নিদ্রা মৃত্যু সদৃশ।[৮৩]
জান্নাতবাসীদের স্তর বিন্যাস:
(১) মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﺍﻧْﻈُﺮْ ﻛَﻴْﻒَ ﻓَﻀَّﻠْﻨَﺎ ﺑَﻌْﻀَﻬُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﺑَﻌْﺾٍ ﻭَﻟَﻠْﺂَﺧِﺮَﺓُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ ﺩَﺭَﺟَﺎﺕٍ ﻭَﺃَﻛْﺒَﺮُ ﺗَﻔْﻀِﻴﻠًﺎ ﴿ ২১﴾ { ﺍﻹﺳﺮﺍﺀ :২১}
লক্ষ্য কর, আমি কি ভাবে তাদের এক দলকে অপর দলের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি, আখিরাততো নিশ্চয়ই মর্যাদায় মহত্তর ও গুণে
শ্রেষ্ঠতর। {সূরা ইসরা: ২১}
(২) আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
ﻭَﻣَﻦْ ﻳَﺄْﺗِﻪِ ﻣُﺆْﻣِﻨًﺎ ﻗَﺪْ ﻋَﻤِﻞَ ﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺤَﺎﺕِ ﻓَﺄُﻭﻟَﺌِﻚَ ﻟَﻬُﻢُ ﺍﻟﺪَّﺭَﺟَﺎﺕُ ﺍﻟْﻌُﻠَﺎ ﴿৭৫ ﴾ ﺟَﻨَّﺎﺕُ ﻋَﺪْﻥٍ ﺗَﺠْﺮِﻱ ﻣِﻦْ ﺗَﺤْﺘِﻬَﺎ ﺍﻟْﺄَﻧْﻬَﺎﺭُ ﺧَﺎﻟِﺪِﻳﻦَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻭَﺫَﻟِﻚَ ﺟَﺰَﺍﺀُ ﻣَﻦْ ﺗَﺰَﻛَّﻰ ﴿৭৬ ﴾ { ﻃﻪ:৭৫-৭৬}
এবং যারা তাঁর নিকট উপস্থিত হবে মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে সমুচ্চ মর্যাদা- স্থায়ী জান্নাত, যার
পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা স্থায়ী হবে এবং এ পুরস্কার তাদেরই যারা পবিত্র। {সূরা ত্ব-হা : ৭৫-৭৬}
(৩) আরও ইরশাদ হচ্ছে:
ﻭَﺍﻟﺴَّﺎﺑِﻘُﻮﻥَ ﺍﻟﺴَّﺎﺑِﻘُﻮﻥَ ﴿ ১০ ﴾ ﺃُﻭﻟَﺌِﻚَ ﺍﻟْﻤُﻘَﺮَّﺑُﻮﻥَ ﴿ ১১ ﴾ ﻓِﻲ ﺟَﻨَّﺎﺕِ ﺍﻟﻨَّﻌِﻴﻢِ ﴿১২ ﴾ ﺛُﻠَّﺔٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺄَﻭَّﻟِﻴﻦَ ﴿ ১৩﴾ ﻭَﻗَﻠِﻴﻞٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺂَﺧِﺮِﻳﻦَ ﴿১৪ ﴾ { ﺍﻟﻮﺍﻗﻌﺔ : ১০ ﺭ ১৪}
আর অগ্রবর্তিগণই তো অগ্রবর্তী, তারাই নৈকট্যপ্রাপ্ত- নিয়ামতপূর্ণ উদ্যানে, বহু সংখ্যক হবে পূর্ববর্তীদের মধ্যহতে। এবং অল্প
সংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য হতে। { ওয়াকিয়া:১০-১৪}
(৪) হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: ﻣﻦ ﺁﻣﻦ ﺑﺎﻟﻠﻪ ﻭﺑﺮﺳﻮﻟﻪ , ﻭﺃﻗﺎﻡ ﺍﻟﺼﻼﺓ , ﻭﺻﺎﻡ ﺭﻣﻀﺎﻥ , ﻛﺎﻥ ﺣﻘﺎ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ , ﺃﻥ ﻳﺪﺧﻠﻪ ﺍﻟﺠﻨﺔ , ﺟﺎﻫﺪ ﻓﻲ ﺳﺒﻴﻞ ﺍﻟﻠﻪ , ﺃﻭ ﺟﻠﺲ ﻓﻲ ﺃﺭﺿﻪ ﺍﻟﺘﻲ ﻭﻟﺪ ﻓﻴﻬﺎ ,
ﻓﻘﺎﻟﻮﺍ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ : ﺃﻓﻼ ﻧﺒﺸﺮ ﺍﻟﻨﺎﺱ؟ ﻗﺎﻝ: ﺇﻥ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻣﺎﺋﺔ ﺩﺭﺟﺔ ﺃﻋﺪﻫﺎ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻠﻤﺠﺎﻫﺪﻳﻦ ﻓﻲ ﺳﺒﻴﻞ ﺍﻟﻠﻪ , ﻣﺎ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﺪﺭﺟﺘﻴﻦ ﻛﻤﺎ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﻭ ﺍﻷﺭﺽ ﻓﺈﺫﺍ ﺳﺄﻟﺘﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﺎﺳﺄﻟﻮﻩ ﺍﻟﻔﺮﺩﻭﺱ ﻓﺈﻧﻪ ﺃﻭﺳﻂ ﺍﻟﺠﻨﺔ , ﻭ ﺃﻋﻠﻰ ﺍﻟﺠﻨﺔ ,
ﺃﺭﺍﻩ ﻗﺎﻝ: ﻭ ﻓﻮﻗﻪ ﻋﺮﺵ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ , ﻭﻣﻨﻪ ﺗﻔﺠﺮ ﺃﻧﻬﺎﺭ ﺍﻟﺠﻨﺔ . ﺃﺧﺮﺝ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ .
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: যে
ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনল, আরো ঈমান আনল তাঁর রাসূলের প্রতি, সালাত কায়েম করল, রমযানের সিয়াম পালন করল,
তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর দায়িত্ব হয়ে যায়। সে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করুক বা নিজ জন্মভূমিতে বসে
থাকুক। লোকেরা বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা লোকদের সুসংবাদ দেব না? নবীজী বললেন: জান্নাতে একশত স্তর রয়েছে,
আল্লাহ তাআলা সেগুলো তাঁর রাস্তায় জিহাদকারী মুজাহিদদের জন্য তৈরি করেছেন। দুই স্তরের মাঝে দূরত্ব হচ্ছে আকাশ ও
যমীনের মাঝের দূরত্বের সমান। তোমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করলে, ফেরদাউস প্রার্থন করবে। কেননা সেটি জান্নাতের
মধ্যবর্তী স্থানে- সর্বোচ্চ মানের জান্নাত। বর্ণনাকারী বলেন: আমার ধারণা তিনি বলেছেন: তার উপর রয়েছে মহামহীম
আল্লাহর আরশ।এেবং তার থেকেই জান্নাতের নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হবে।[৮৪]
আমলের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও মুমিনদের সন্তান-সন্ততিদের তাদের স্তরে উঠিয়ে দেয়া:
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁَﻣَﻨُﻮﺍ ﻭَﺍﺗَّﺒَﻌَﺘْﻬُﻢْ ﺫُﺭِّﻳَّﺘُﻬُﻢْ ﺑِﺈِﻳﻤَﺎﻥٍ ﺃَﻟْﺤَﻘْﻨَﺎ ﺑِﻬِﻢْ ﺫُﺭِّﻳَّﺘَﻬُﻢْ ﻭَﻣَﺎ ﺃَﻟَﺘْﻨَﺎﻫُﻢْ ﻣِﻦْ ﻋَﻤَﻠِﻬِﻢْ ﻣِﻦْ ﺷَﻲْﺀٍ ﻛُﻞُّ ﺍﻣْﺮِﺉٍ ﺑِﻤَﺎ ﻛَﺴَﺐَ ﺭَﻫِﻴﻦٌ ﴿২১﴾ { ﺍﻟﻄﻮﺭ :২১}
এবং যারা ঈমান আনে আর তাদের সন্তান-সন্ততি ঈমানে তাদের অনুগামী হয়, তাদের সাথে মিলিত করব তাদের সন্তান-
সন্ততিকে এবং তাদের কর্মফল আমি কিছুমাত্র হ্রাস করবনা, প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়ী। ( সূরা তুর:২১)
জান্নাতের ছায়ানীড়ের বিবরণ:
(১) মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁَﻣَﻨُﻮﺍ ﻭَﻋَﻤِﻠُﻮﺍ ﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺤَﺎﺕِ ﺳَﻨُﺪْﺧِﻠُﻬُﻢْ ﺟَﻨَّﺎﺕٍ ﺗَﺠْﺮِﻱ ﻣِﻦْ ﺗَﺤْﺘِﻬَﺎ ﺍﻟْﺄَﻧْﻬَﺎﺭُ ﺧَﺎﻟِﺪِﻳﻦَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺃَﺑَﺪًﺍ ﻟَﻬُﻢْ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺃَﺯْﻭَﺍﺝٌ ﻣُﻄَﻬَّﺮَﺓٌ ﻭَﻧُﺪْﺧِﻠُﻬُﻢْ ﻇِﻠًّﺎ ﻇَﻠِﻴﻠًﺎ ﴿ ৫৭﴾ { ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ:৫৭}
যারা ঈমান আনে ও নেক কাজ করে তাদেরকে দাখিল করব জান্নাতে যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরস্থায়ী
হবে, সেখানে তাদের জন্য পবিত্র সঙ্গি থাকবে এবং তাদেরকে চির স্নিগ্ধ ছায়ায় দাখিল করব। {সূরা নিসা :৫৭}
(২) মহান আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
ﻭَﺃَﺻْﺤَﺎﺏُ ﺍﻟْﻴَﻤِﻴﻦِ ﻣَﺎ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏُ ﺍﻟْﻴَﻤِﻴﻦِ ﴿২৭ ﴾ ﻓِﻲ ﺳِﺪْﺭٍ ﻣَﺨْﻀُﻮﺩٍ ﴿২৮﴾ ﻭَﻃَﻠْﺢٍ ﻣَﻨْﻀُﻮﺩٍ ﴿ ২৯ ﴾ ﻭَﻇِﻞٍّ ﻣَﻤْﺪُﻭﺩٍ ﴿৩০ ﴾ { ﺍﻟﻮﺍﻗﻌﺔ : ২৭ ــ ৩০}
আর ডান দিকের দল, কত ভাগ্যবান ডানদিকের দল! তারা থাকবে এমন উদ্যানে, সেখানে আছে কণ্টকহীন কূলবৃক্ষ, কাঁদি ভরা কদলী
বৃক্ষ, সম্প্রসারিত ছায়া।{সূরা ওয়াকিয়া:২৭-৩০}
(৩) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
ﻣُﺘَّﻜِﺌِﻴﻦَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﺄَﺭَﺍﺋِﻚِ ﻟَﺎ ﻳَﺮَﻭْﻥَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺷَﻤْﺴًﺎ ﻭَﻟَﺎ ﺯَﻣْﻬَﺮِﻳﺮًﺍ ﴿১৩ ﴾ ﻭَﺩَﺍﻧِﻴَﺔً ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻇِﻠَﺎﻟُﻬَﺎ ﻭَﺫُﻟِّﻠَﺖْ ﻗُﻄُﻮﻓُﻬَﺎ ﺗَﺬْﻟِﻴﻠًﺎ ﴿১৪ ﴾ { ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ:১৩ ــ ১৪}
সেখানে তারা সমাসীন হবে সুসজ্জিত আসনে, তারা সেখানে অতিশয় গরম অথবা অতিশয় শীত বোধ করবে না। সন্নিহিত
বৃক্ষছায়া তাদের উপর থাকবে এবং তার ফলমূল সম্পূর্ণরূপে তাদের আয়ত্তাধীন করা হবে। { সূরা ইনসান:১৩-১৪}
(৪) আরও ইরশাদ হচ্ছে:
ﻣَﺜَﻞُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﻭُﻋِﺪَ ﺍﻟْﻤُﺘَّﻘُﻮﻥَ ﺗَﺠْﺮِﻱ ﻣِﻦْ ﺗَﺤْﺘِﻬَﺎ ﺍﻟْﺄَﻧْﻬَﺎﺭُ ﺃُﻛُﻠُﻬَﺎ ﺩَﺍﺋِﻢٌ ﻭَﻇِﻠُّﻬَﺎ ﺗِﻠْﻚَ ﻋُﻘْﺒَﻰ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺍﺗَّﻘَﻮْﺍ ﻭَﻋُﻘْﺒَﻰ ﺍﻟْﻜَﺎﻓِﺮِﻳﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺭُ ﴿৩৫ ﴾ { ﺍﻟﺮﻋﺪ: ৩৫}
মুত্তাকীগণকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তার উপমা এরূপ: তার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, তার ফলসমূহ ও ছায়া
চিরস্থায়ী। যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এটি তাদের কর্মফল এবং কাফেরদের কর্মফল অগ্নি। {সূরা রা'দ:৩৫}
জান্নাতের উচ্চতা ও প্রশস্ততা:
(১) মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করা:
ﻭُﺟُﻮﻩٌ ﻳَﻮْﻣَﺌِﺬٍ ﻧَﺎﻋِﻤَﺔٌ ﴿ ৮﴾ ﻟِﺴَﻌْﻴِﻬَﺎ ﺭَﺍﺿِﻴَﺔٌ ﴿ ৯ ﴾ ﻓِﻲ ﺟَﻨَّﺔٍ ﻋَﺎﻟِﻴَﺔٍ ﴿১০ ﴾ ﻟَﺎ ﺗَﺴْﻤَﻊُ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻟَﺎﻏِﻴَﺔً ﴿১১ ﴾
{ ﺍﻟﻐﺎﺷﻴﺔ: ৮ ـ ১১}
অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে আনন্দোজ্জ্বোল, নিজেদের কর্ম-সাফল্যে পরিতৃপ্ত, সুমহান জান্নাতে- সেখানে তারা অসার বাক্য
শুনবে না। { সূরা গাশিয়া:৮ - ১১}
(২) আরও ইরশাদ হয়েছে:
ﻭَﺳَﺎﺭِﻋُﻮﺍ ﺇِﻟَﻰ ﻣَﻐْﻔِﺮَﺓٍ ﻣِﻦْ ﺭَﺑِّﻜُﻢْ ﻭَﺟَﻨَّﺔٍ ﻋَﺮْﺿُﻬَﺎ ﺍﻟﺴَّﻤَﻮَﺍﺕُ ﻭَﺍﻟْﺄَﺭْﺽُ ﺃُﻋِﺪَّﺕْ ﻟِﻠْﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ﴿ ১৩৩﴾ { ﺁﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ :১৩৩}
তোমরা ধাবমান হও স্বীয় প্রতিপালকের ক্ষমার দিকে এবং সেই জান্নাতের দিকে যার বিস্তৃতি আসমান ও যমীনের ন্যায়, যা
প্রস্তুত রাখা হয়েছে মুত্তাকীদের জন্য।
{সূরা আলে ইমরান:১৩৩}
(৩) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
ﺳَﺎﺑِﻘُﻮﺍ ﺇِﻟَﻰ ﻣَﻐْﻔِﺮَﺓٍ ﻣِﻦْ ﺭَﺑِّﻜُﻢْ ﻭَﺟَﻨَّﺔٍ ﻋَﺮْﺿُﻬَﺎ ﻛَﻌَﺮْﺽِ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ ﻭَﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﺃُﻋِﺪَّﺕْ ﻟِﻠَّﺬِﻳﻦَ ﺁَﻣَﻨُﻮﺍ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺭُﺳُﻠِﻪِ ﺫَﻟِﻚَ ﻓَﻀْﻞُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻳُﺆْﺗِﻴﻪِ ﻣَﻦْ ﻳَﺸَﺎﺀُ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺫُﻭ ﺍﻟْﻔَﻀْﻞِ ﺍﻟْﻌَﻈِﻴﻢِ ﴿২১﴾ { ﺍﻟﺤﺪﻳﺪ : ২১}
তোমরা অগ্রণী হও তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমা ও সেই জান্নাত লাভের প্রয়াসে যা প্রশস্ততায় আকাশ ও পৃথিবীর ন্যায়, যা
প্রস্তুত করা হয়েছে তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনে। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি তা
দান করেন; আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল। {সূরা আল হাদীদ:২১}
জান্নাতের সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থান:
ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮﻭ ﺑﻦ ﺍﻟﻌﺎﺹ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﺃﻧﻪ ﺳﻤﻊ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻘﻮﻝ: ﺇﺫﺍ ﺳﻤﻌﺘﻢ ﺍﻟﻤﺆﺫﻥ ﻓﻘﻮﻟﻮﺍ ﻣﺜﻞ ﻣﺎ ﻳﻘﻮﻝ , ﺛﻢ ﺻﻠﻮﺍ ﻋﻠﻲ , ﻓﺈﻧﻪ ﻣﻦ ﺻﻠﻰ ﻋﻠﻲ ﺻﻼﺓ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺑﻬﺎ ﻋﺸﺮﺍ , ﺛﻢ ﺳﻠﻮﺍ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻲ
ﺍﻟﻮﺳﻴﻠﺔ , ﻓﺈﻧﻬﺎ ﻣﻨﺰﻟﺔ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻻ ﺗﻨﺒﻐﻲ ﺇﻻ ﻟﻌﺒﺪ ﻣﻦ ﻋﺒﺎﺩ ﺍﻟﻠﻪ , ﻭ ﺃﺭﺟﻮ ﺃﻥ ﺃﻛﻮﻥ ﺃﻧﺎ ﻫﻮ , ﻓﻤﻦ ﺳﺄﻝ ﻟﻲ ﺍﻟﻮﺳﻴﻠﺔ ﺣﻠﺖ ﻟﻪ ﺍﻟﺸﻔﺎﻋﺔ. ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ .
সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছেন: মুয়াযযিনের আযান শুনলে সে যা বলে তোমরা তার অনুরূপ বলবে, অত:পর আমার উপর দরূদ
পড়বে, কেননা যে আমার উপর একবার দরূদ পড়ে মহান আল্লাহ এর পরিবর্তে তার উপর দশটি রহমত নাযিল করে। অত:পর আল্লাহর
কাছে আমার জন্য ওসীলা প্রার্থনা করবে, এটি জান্নাতের (বিশেষ) একটি স্থান যা আল্লাহর (বিশেষ) বান্দা ভিন্ন অন্য
কারো জন্য প্রযোজ্য নয়। আর আমার বাসনা সে বিশেষ ব্যক্তিটি আমিই হই। সুতরাং যে আমার জন্য ওসীলার প্রার্থনা করবে
তার জন্য (আমার) শাফাআত বৈধ হয়ে যাবে[৮৫]।
জান্নাতের সর্বোচ্চস্তর ও সর্বনিম্নস্তরের অধিকারীগণ:
ﻋﻦ ﺍﻟﻤﻐﻴﺮﺓ ﺑﻦ ﺷﻌﺒﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﺳﺄﻝ ﻣﻮﺳﻰ ﺭﺑﻪ : ﻣﺎ ﺃﺩﻧﻰ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻣﻨﺰﻟﺔ؟ ﻗﺎﻝ : ﻫﻮ ﺭﺟﻞ ﻳﺠﻲﺀ ﺑﻌﺪ ﻣﺎ ﺃﺩﺧﻞ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻓﻴﻘﺎﻝ ﻟﻪ : ﺍﺩﺧﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ , ﻓﻴﻘﻮﻝ: ﺃﻱ ﺭﺏ ﻛﻴﻒ
ﻭﻗﺪ ﻧﺰﻝ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻣﻨﺎﺯﻟﻬﻢ ﻭ ﺃﺧﺬﻭﺍ ﺃﺧﺬﺍﺗﻬﻢ؟
ﻓﻴﻘﺎﻝ ﻟﻪ: ﺃ ﺗﺮﺿﻰ ﺃﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﻟﻚ ﻣﺜﻞ ﻣﻠﻚ ﻣﻠﻚ ﻣﻦ ﻣﻠﻮﻙ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ؟ ﻓﻴﻘﻮﻝ: ﺭﺿﻴﺖ ﺭﺏ , ﻓﻴﻘﻮﻝ : ﻟﻚ ﺫﻟﻚ ﻭﻣﺜﻠﻪ , ﻭﻣﺜﻠﻪ ,ﻭﻣﺜﻠﻪ ,ﻭﻣﺜﻠﻪ , ﻓﻘﺎﻝ ﻓﻲ ﺍﻟﺨﺎﻣﺴﺔ ﺭﺿﻴﺖ ﺭﺏ , ﻓﻴﻘﻮﻝ: ﻫﺬﺍ ﻟﻚ ﻭ ﻋﺸﺮﺓ ﺃﻣﺜﺎﻟﻪ , ﻭﻟﻚ ﻣﺎ ﺍﺷﺘﻬﺖ ﻧﻔﺴﻚ , ﻭﻟﺬﺕ
ﻋﻴﻨﻚ , ﻓﻴﻘﻮﻝ : ﺭﺿﻴﺖ ﺭﺏ .
ﻗﺎﻝ : ﺭﺏ ﻓﺄﻋﻼﻫﻢ ﻣﻨﺰﻟﺔ؟ ﻗﺎﻝ : ﺃﻭﻟﺌﻚ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﺃﺭﺩﺕ , ﻏﺮﺳﺖ ﻛﺮﺍﻣﺘﻬﻢ ﺑﻴﺪﻱ , ﻭﺧﺘﻤﺖ ﻋﻠﻴﻬﺎ , ﻓﻠﻢ ﺗﺮ ﻋﻴﻦ , ﻭﻟﻢ ﺗﺴﻤﻊ ﺃﺫﻥ , ﻭﻟﻢ ﻳﺨﻄﺮ ﻋﻠﻰ ﻗﻠﺐ ﺑﺸﺮ , ﻗﺎﻝ: ﻭﻣﺼﺪﺍﻗﻪ ﻓﻲ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ: ﴿ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﻌْﻠَﻢُ ﻧَﻔْﺲٌ ﻣَﺎ ﺃُﺧْﻔِﻲَ ﻟَﻬُﻢْ ﻣِﻦْ
ﻗُﺮَّﺓِ ﺃَﻋْﻴُﻦٍ ﴾. ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ .
ﻭﻓﻲ ﻟﻔﻆ ﻓﻲ ﺑﻴﺎﻥ ﺃﺩﻧﻰ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ : ﻓﺈﻥ ﻟﻚ ﻣﺜﻞ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻭ ﻋﺸﺮﺓ ﺃﻣﺜﺎﻟﻬﺎ. ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
বিশিষ্ট সাহাবী মুগীরা বিন শো'বা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
ইরশাদ করেন: মূসা (আলাইহিস সালাম) স্বীয় রবকে জিজ্ঞেস করলেন: অবস্থানের দিক থেকে সর্ব নিম্নস্তরের জান্নাতী কে?
বললেন: সে এমন এক ব্যক্তি যে জান্নাতীদের জান্নাতে প্রবেশ করার সময় এসে উপস্থিত হবে, তখন তাকে বলা হবে: তুমিও
জান্নাতে প্রবেশ কর, সে বলবে: হে রব! কি ভাবে প্রবেশ করব। অথচ লোকেরা তাদের নিজ নিজ স্থানে অবতরণ করেছ এবং যা
নেয়ার নিয়ে নিয়েছে ?
তখন তাকে বলা হবে: তোমাকে যদি পৃথিবীর একজন রাজার রাজত্বের সমপরিমাণ দেয়া হয় তুমি কি তাতে সন্তুষ্ট? সে বলবে:
আমি সন্তুষ্ট প্রভু। বলা হবে: তোমাকে সেটি দেয়া হল এবং তার সাথে এর সমপরিমাণ, এবং এর সমপরিমাণ এবং এর সমপরিমাণ,
এবং এর সমপরিমাণ পঞ্চমবারে সে বলবে: আমি সন্তুষ্ট প্রভু। তখন বলবে: তোমাকে সেগুলো দেয়া হল এবং তার সাথে আরো দশগুন।
সেথায় তোমার জন্য রয়েছে যা তোমার মন চাইবে এবং যাতে দৃষ্টি তৃপ্ত ও শীতল হবে। সে বলবে: আমি সন্তুষ্ট হে প্রভু।
মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন: তাহলে তাদের সর্বোচ্চ স্তরের অধিকারী কে? ওরা হচ্ছে, যাদের আমি নিজেই কামনা
করেছি, নিজের হাতে তাদের সম্মান-মর্যাদা বপন করেছি, এবং তার উপর মহর এঁটে দিয়েছি। সুতরাং কোন চক্ষু দেখেনি, কোন
কান শোনেনি এবং কোন হৃদয় কল্পনা করতে পারেনি। বলেন: এর সত্যায়ন কুরআনুল কারীমে এভাবে হয়েছে: কেউই জানে না
তাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর কী লুক্কায়িত রাখা হয়েছে।[৮৬]
অন্য এক বর্ণনায় জান্নাতের সর্ব নিম্নস্তরের বিবরণ এভাবে বিবৃত হয়েছে যে,
ﻓﺈﻥ ﻟﻚ ﻣﺜﻞ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻭ ﻋﺸﺮﺓ ﺃﻣﺜﺎﻟﻬﺎ . ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ .
তোমার জন্য রয়েছে দুনিয়া সমপরিমাণ ও তার দশগুন।[৮৭]
জান্নাতবাসীদের সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত:
(১) মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন:
ﻭَﻋَﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻭَﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨَﺎﺕِ ﺟَﻨَّﺎﺕٍ ﺗَﺠْﺮِﻱ ﻣِﻦْ ﺗَﺤْﺘِﻬَﺎ ﺍﻟْﺄَﻧْﻬَﺎﺭُ ﺧَﺎﻟِﺪِﻳﻦَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻭَﻣَﺴَﺎﻛِﻦَ ﻃَﻴِّﺒَﺔً ﻓِﻲ ﺟَﻨَّﺎﺕِ ﻋَﺪْﻥٍ ﻭَﺭِﺿْﻮَﺍﻥٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻛْﺒَﺮُ ﺫَﻟِﻚَ ﻫُﻮَ ﺍﻟْﻔَﻮْﺯُ ﺍﻟْﻌَﻈِﻴﻢُ ﴿ ৭২ ﴾ { ﺍﻟﺘﻮﺑﺔ : ৭২}
আল্লাহ তাআলা মুমিন নর ও মুমিন নারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জান্নাতের- যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, যেথায় তার
স্থায়ী হবে এবং স্থায়ী জান্নাতে উত্তম বাসস্থানের। আর আল্লাহর সন্তুষ্টিই সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সেটিই মহাসাফল্য।
(২) মহান আল্লাহ আরো বলেন:
ﻭُﺟُﻮﻩٌ ﻳَﻮْﻣَﺌِﺬٍ ﻧَﺎﺿِﺮَﺓٌ ﴿২২ ﴾ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﺑِّﻬَﺎ ﻧَﺎﻇِﺮَﺓٌ ﴿২৩ ﴾ { ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ:২২ ـ ২৩}
সেদিন কোন কোন মুখমন্ডল হবে উজ্জ্বল। তারা তাদের প্রতিপালকের দিকে তাকিয়ে থাকবে। { কিয়ামাহ:২২-২৩}
(৩) হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﻧﺎﺳﺎ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻟﺮﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻫﻞ ﻧﺮﻯ ﺭﺑﻨﺎ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ؟ ﻓﻘﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: ﻫﻞ ﺗﻀﺎﺭﻭﻥ ﻓﻲ ﺭﺅﻳﺔ ﺍﻟﻘﻤﺮ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺒﺪﺭ؟ ﻗﺎﻟﻮﺍ : ﻻ ﻳﺎ
ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ , ﻗﺎﻝ : ﻫﻞ ﺗﻀﺎﺭﻭﻥ ﻓﻲ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﻟﻴﺲ ﺩﻭﻧﻬﺎ ﺳﺤﺎﺏ؟ ﻗﺎﻟﻮﺍ : ﻻ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ , ﻗﺎﻝ: ﻓﺈﻧﻜﻢ ﺗﺮﻭﻧﻪ ﻛﺬﻟﻚ. ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ .
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, কতিপয় ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাকে জিজ্ঞেস করল:
ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি কিয়ামত দিবসে আমাদের রব-আল্লাহ তাআলাকে দেখতে পাব? রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন: পূর্ণিমা রাত্রিতে চাঁদ দেখতে তোমরাকি কোন অসুবিধা বোধ কর? তারা বলল: না, হে
আল্লাহর রাসূল। বললেন: মেঘহীন আকাশে সূর্য দেখতে তোমাদের কোন অসুবিধা হয়? তারা বলল: না, হে আল্লাহর রাসূল।
রাসূলুল্লাহ বললেন: তোমরা অবশ্যই তাঁকে এভাবে দেখতে পাবে।[৮৮]
(৪) হাদীসে আরো এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺻﻬﻴﺐ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﺇﺫﺍ ﺩﺧﻞ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺍﻟﺠﻨﺔ , ﻗﺎﻝ : ﻳﻘﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﺒﺎﺭﻙ ﻭﺗﻌﺎﻟﻰ , ﺗﺮﻳﺪﻭﻥ ﺷﻴﺌﺎ ﺃﺯﻳﺪﻛﻢ؟ ﻓﻴﻘﻮﻟﻮﻥ : ﺃﻟﻢ ﺗﺒﻴﺾ ﻭﺟﻮﻫﻨﺎ؟ ﺃﻟﻢ ﺗﺪﺧﻠﻨﺎ ﺍﻟﺠﻨﺔ , ﻭﺗﻨﺠﻨﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺭ؟ ﻗﺎﻝ:
ﻓﻴﻜﺸﻒ ﺍﻟﺤﺠﺎﺏ , ﻓﻤﺎ ﺃﻋﻄﻮﺍ ﺷﻴﺌﺎ ﺃﺣﺐ ﺇﻟﻴﻬﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﻈﺮ ﺇﻟﻰ ﺭﺑﻬﻢ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ . ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ .
সুহায়ব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যখন জান্নাতীরা
জান্নাতে প্রবেশ করবে। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলবেন: তোমরা কি কিছু চাও আমি বাড়িয়ে দেব? তারা বলবে:
আপনি কি আমাদের চেহারা শুভ্র উজ্জ্বল করেননি ? আপনি কি আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করাননি এবং জাহান্নাম থেকে
মুক্তি দেননি? তিনি বলেন: এরপর আল্লাহ পর্দা উন্মোচন করবেন। স্বীয় প্রতিপালক পানে দৃষ্টিপাত অপেক্ষা অধিক প্রিয় কোন
নিয়ামত তাদের ইত:পূর্বে আর দেয়া হয়নি।[৮৯]
জান্নাতের নিয়ামতরাজির বিবরণ
জান্নাত ও তার বহুবিধ নিয়ামতের কিছু সংক্ষিপ্ত বিবরণ এখানে উপস্থাপন করা হল। আল্লাহ আমি-আপনি সহ বিশ্বের বিগত-
আগত সকল মুসলিমদের উক্ত জান্নাতের অধিকারী হওয়ার াতওফিক দিন। তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা পরম দয়ালু।
(১) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁَﻣَﻨُﻮﺍ ﺑِﺂَﻳَﺎﺗِﻨَﺎ ﻭَﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻣُﺴْﻠِﻤِﻴﻦَ ﴿৬৯ ﴾ ﺍﺩْﺧُﻠُﻮﺍ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﺃَﻧْﺘُﻢْ ﻭَﺃَﺯْﻭَﺍﺟُﻜُﻢْ ﺗُﺤْﺒَﺮُﻭﻥَ ﴿৭০ ﴾ ﻳُﻄَﺎﻑُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺑِﺼِﺤَﺎﻑٍ ﻣِﻦْ ﺫَﻫَﺐٍ ﻭَﺃَﻛْﻮَﺍﺏٍ ﻭَﻓِﻴﻬَﺎ ﻣَﺎ ﺗَﺸْﺘَﻬِﻴﻪِ ﺍﻟْﺄَﻧْﻔُﺲُ ﻭَﺗَﻠَﺬُّ ﺍﻟْﺄَﻋْﻴُﻦُ ﻭَﺃَﻧْﺘُﻢْ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺧَﺎﻟِﺪُﻭﻥَ ﴿৭১﴾ ﻭَﺗِﻠْﻚَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔُ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﺃُﻭﺭِﺛْﺘُﻤُﻮﻫَﺎ ﺑِﻤَﺎ
ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﺗَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ ﴿ ৭২ ﴾ ﻟَﻜُﻢْ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻓَﺎﻛِﻬَﺔٌ ﻛَﺜِﻴﺮَﺓٌ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺗَﺄْﻛُﻠُﻮﻥَ ﴿ ৭৩ ﴾ { ﺍﻟﺰﺧﺮﻑ : ৬৯ـ ৭৩}
যারা আমার আয়াতে বিশ্বাস স্থাপন করেছিল এবং তারা ছিল (আত্মসমর্পণকারী) মুসলমান। (তাদের বলা হবে) জান্নাতে
প্রবেশ কর তোমরা এবং তোমাদের সহধর্মিণিগণ সানন্দে। স্বর্ণের থালা ও পানপাত্র নিয়ে তাহাদিগকে প্রদক্ষিণ করা হবে,
সেখানে রয়েছে সমস্ত কিছু, যা অন্তর চায় এবং যাতে নয়ন তৃপ্ত হয়। সেখানে তোমরা স্থায়ী হবে। এটিই জান্নাত, তোমাদেরকে
যার অধিকারী করা হয়েছে, তোমাদের কর্মের ফলস্বরূপ। সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে প্রচুর ফলমূল, যা হতে তোমরা আহার
করবে।
{সূরা যুখরুফ:৬৯-৭৩}
(২) আরও ইরশাদ হচ্ছে:
ﺇِﻥَّ ﺍﻟْﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ﻓِﻲ ﻣَﻘَﺎﻡٍ ﺃَﻣِﻴﻦٍ ﴿৫১ ﴾ ﻓِﻲ ﺟَﻨَّﺎﺕٍ ﻭَﻋُﻴُﻮﻥٍ ﴿৫২ ﴾ ﻳَﻠْﺒَﺴُﻮﻥَ ﻣِﻦْ ﺳُﻨْﺪُﺱٍ ﻭَﺇِﺳْﺘَﺒْﺮَﻕٍ ﻣُﺘَﻘَﺎﺑِﻠِﻴﻦَ ﴿ ৫৩﴾ ﻛَﺬَﻟِﻚَ ﻭَﺯَﻭَّﺟْﻨَﺎﻫُﻢْ ﺑِﺤُﻮﺭٍ ﻋِﻴﻦٍ ﴿ ৫৪﴾ ﻳَﺪْﻋُﻮﻥَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺑِﻜُﻞِّ ﻓَﺎﻛِﻬَﺔٍ ﺁَﻣِﻨِﻴﻦَ ﴿ ৫৫﴾ ﻟَﺎ ﻳَﺬُﻭﻗُﻮﻥَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺍﻟْﻤَﻮْﺕَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟْﻤَﻮْﺗَﺔَ ﺍﻟْﺄُﻭﻟَﻰ
ﻭَﻭَﻗَﺎﻫُﻢْ ﻋَﺬَﺍﺏَ ﺍﻟْﺠَﺤِﻴﻢِ ﴿৫৬﴾ { ﺍﻟﺪﺧﺎﻥ :৫১ ــ ৫৬}
মুত্তাকীরা থাকবে নিরাপদ স্থানে- উদ্যান ও ঝর্ণার মাঝে, তারা পরিধান করবে মিহি ও পুরু রেশমী বস্ত্র এবং মুখামুখি হয়ে
বসবে। এরূপই ঘটবে; আমি তাদেরকে সঙ্গি দান করবে আয়তলোচনা হূর, সেখানে তারা প্রশান্ত চিত্তে বিবিধ ফলমূল আনতে
বলবে। প্রথম মৃত্যুর পর তারা সেখানে আর মৃত্যু আস্বাদন করবে না। আর তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করবেন। {সূরা
দুখান:৫১-৫৬}
(৩) আরও ইরশাদ হচ্ছে:
ﻭَﺟَﺰَﺍﻫُﻢْ ﺑِﻤَﺎ ﺻَﺒَﺮُﻭﺍ ﺟَﻨَّﺔً ﻭَﺣَﺮِﻳﺮًﺍ ﴿১২﴾ ﻣُﺘَّﻜِﺌِﻴﻦَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﺄَﺭَﺍﺋِﻚِ ﻟَﺎ ﻳَﺮَﻭْﻥَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺷَﻤْﺴًﺎ ﻭَﻟَﺎ ﺯَﻣْﻬَﺮِﻳﺮًﺍ ﴿ ১৩﴾ ﻭَﺩَﺍﻧِﻴَﺔً ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻇِﻠَﺎﻟُﻬَﺎ ﻭَﺫُﻟِّﻠَﺖْ ﻗُﻄُﻮﻓُﻬَﺎ ﺗَﺬْﻟِﻴﻠًﺎ ﴿১৪ ﴾ ﻭَﻳُﻄَﺎﻑُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺑِﺂَﻧِﻴَﺔٍ ﻣِﻦْ ﻓِﻀَّﺔٍ ﻭَﺃَﻛْﻮَﺍﺏٍ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﻗَﻮَﺍﺭِﻳﺮَ ﴿ ১৫ ﴾
ﻗَﻮَﺍﺭِﻳﺮَ ﻣِﻦْ ﻓِﻀَّﺔٍ ﻗَﺪَّﺭُﻭﻫَﺎ ﺗَﻘْﺪِﻳﺮًﺍ ﴿১৬ ﴾ ﻭَﻳُﺴْﻘَﻮْﻥَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻛَﺄْﺳًﺎ ﻛَﺎﻥَ ﻣِﺰَﺍﺟُﻬَﺎ ﺯَﻧْﺠَﺒِﻴﻠًﺎ ﴿ ১৭﴾ ﻋَﻴْﻨًﺎ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺗُﺴَﻤَّﻰ ﺳَﻠْﺴَﺒِﻴﻠًﺎ ﴿১৮ ﴾ ﻭَﻳَﻄُﻮﻑُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻭِﻟْﺪَﺍﻥٌ ﻣُﺨَﻠَّﺪُﻭﻥَ ﺇِﺫَﺍ ﺭَﺃَﻳْﺘَﻬُﻢْ ﺣَﺴِﺒْﺘَﻬُﻢْ ﻟُﺆْﻟُﺆًﺍ ﻣَﻨْﺜُﻮﺭًﺍ ﴿১৯ ﴾ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺭَﺃَﻳْﺖَ ﺛَﻢَّ ﺭَﺃَﻳْﺖَ ﻧَﻌِﻴﻤًﺎ
ﻭَﻣُﻠْﻜًﺎ ﻛَﺒِﻴﺮًﺍ ﴿ ২০﴾ ﻋَﺎﻟِﻴَﻬُﻢْ ﺛِﻴَﺎﺏُ ﺳُﻨْﺪُﺱٍ ﺧُﻀْﺮٌ ﻭَﺇِﺳْﺘَﺒْﺮَﻕٌ ﻭَﺣُﻠُّﻮﺍ ﺃَﺳَﺎﻭِﺭَ ﻣِﻦْ ﻓِﻀَّﺔٍ ﻭَﺳَﻘَﺎﻫُﻢْ ﺭَﺑُّﻬُﻢْ ﺷَﺮَﺍﺑًﺎ ﻃَﻬُﻮﺭًﺍ ﴿২১﴾ ﺇِﻥَّ ﻫَﺬَﺍ ﻛَﺎﻥَ ﻟَﻜُﻢْ ﺟَﺰَﺍﺀً ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺳَﻌْﻴُﻜُﻢْ ﻣَﺸْﻜُﻮﺭًﺍ ﴿২২ ﴾{ ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ :১২ــ ২২}
আর তাদের ধৈর্যশীলতার পুরস্কারস্বরূপ তাদেরকে দেবেন উদ্যান ও রেশমী বস্ত্র। সেখানে তারা সমাসীন হবে সুসজ্জিত
আসনে, তারা সেখানে অতিশয় গরম অথবা অতিশয় শীত অনুভব করবে না। সন্নিহিত বৃক্ষছায়া তাদের উপর থাকবে এবং তার
ফলমূল সম্পূর্ণরূপে তাদের আয়ত্তাধীন করা হবে। তাদেরকে পরিবেশন করা হবে রৌপ্যপাত্রে এবং স্ফটিকের মত স্বচ্ছ
পানপাত্রে- রজতশুভ্র স্ফটিক পাত্রে, পরিবেশন কারীরা যথাযথ পরিমাণে তা পূর্ণ করবে। সেথায় তাদেরকে পান করতে দেয়া
হবে যানজাবীল (আদ্রক) মিশ্রিত পানীয়, জান্নাতের এমন এক প্রস্রবণের যার নাম সালসাবীল। তাদেরকে পরিবেশন করবে
চিরকিশোরগণ, যখন তুমি তাদেরকে দেখবে তখন মনে করবে তারা যেন বিক্ষিপ্ত মুক্তা। তুমি যখন সেখানে দেখবে, দেখতে
পাবে ভোগ-বিলাসের উপকরণ এবং বিশাল রাজ্য। তাদের আবরণ হবে সূক্ষ্ণ সবুজ রেশম ও স্থুল রেশম, তারা অলংকৃত হবে রৌপ্য
নির্মিত কংকনে, আর তাদের প্রতিপালক তাদেরকে পান করাবেন বিশুদ্ধ পানীয়। অবশ্য, ইটিই তোমাদের পুরস্কার এবং
তোমাদের কর্মপ্রচেষ্টা স্বীকৃত। {সূরা ইনসান:১২-২২}
(৪) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
ﻭَﺍﻟﺴَّﺎﺑِﻘُﻮﻥَ ﺍﻟﺴَّﺎﺑِﻘُﻮﻥَ ﴿ ১০ ﴾ ﺃُﻭﻟَﺌِﻚَ ﺍﻟْﻤُﻘَﺮَّﺑُﻮﻥَ ﴿ ১১ ﴾ ﻓِﻲ ﺟَﻨَّﺎﺕِ ﺍﻟﻨَّﻌِﻴﻢِ ﴿১২ ﴾ ﺛُﻠَّﺔٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺄَﻭَّﻟِﻴﻦَ ﴿ ১৩﴾ ﻭَﻗَﻠِﻴﻞٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺂَﺧِﺮِﻳﻦَ ﴿১৪ ﴾ ﻋَﻠَﻰ ﺳُﺮُﺭٍ ﻣَﻮْﺿُﻮﻧَﺔٍ ﴿১৫ ﴾ ﻣُﺘَّﻜِﺌِﻴﻦَ ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ ﻣُﺘَﻘَﺎﺑِﻠِﻴﻦَ ﴿ ১৬ ﴾ ﻳَﻄُﻮﻑُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻭِﻟْﺪَﺍﻥٌ ﻣُﺨَﻠَّﺪُﻭﻥَ ﴿
১৭﴾ ﺑِﺄَﻛْﻮَﺍﺏٍ ﻭَﺃَﺑَﺎﺭِﻳﻖَ ﻭَﻛَﺄْﺱٍ ﻣِﻦْ ﻣَﻌِﻴﻦٍ ﴿ ১৮﴾ ﻟَﺎ ﻳُﺼَﺪَّﻋُﻮﻥَ ﻋَﻨْﻬَﺎ ﻭَﻟَﺎ ﻳُﻨْﺰِﻓُﻮﻥَ ﴿ ১৯﴾ ﻭَﻓَﺎﻛِﻬَﺔٍ ﻣِﻤَّﺎ ﻳَﺘَﺨَﻴَّﺮُﻭﻥَ ﴿ ২০﴾ ﻭَﻟَﺤْﻢِ ﻃَﻴْﺮٍ ﻣِﻤَّﺎ ﻳَﺸْﺘَﻬُﻮﻥَ ﴿ ২১﴾ ﻭَﺣُﻮﺭٌ ﻋِﻴﻦٌ ﴿২২ ﴾ ﻛَﺄَﻣْﺜَﺎﻝِ ﺍﻟﻠُّﺆْﻟُﺆِ ﺍﻟْﻤَﻜْﻨُﻮﻥِ ﴿২৩ ﴾ ﺟَﺰَﺍﺀً ﺑِﻤَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ ﴿
২৪﴾ ﻟَﺎ ﻳَﺴْﻤَﻌُﻮﻥَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻟَﻐْﻮًﺍ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺄْﺛِﻴﻤًﺎ ﴿ ২৫﴾ ﺇِﻟَّﺎ ﻗِﻴﻠًﺎ ﺳَﻠَﺎﻣًﺎ ﺳَﻠَﺎﻣًﺎ ﴿ ২৬﴾ { ﺍﻟﻮﺍﻗﻌﺔ :১০ ــ ২৬}
আর অগ্রবর্তীগণই তো অগ্রবর্তী, তারাই নৈকট্যপ্রাপ্ত-নিয়ামতপূর্ণ উদ্যানে; বহু সংখ্যক হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে; এবং অল্প
সংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য হতে। স্বর্ণ-খচিত আসনে। তারা হেলান দিয়ে বসবে, পরস্পর মুখামুখি হয়ে। তাদের সেবায়
ঘোরাফিরা করবে চির-কিশোরেরা। পানপাত্র, কুঁজা ও প্রস্রবণ নিঃসৃত সুরাপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে। সে সুরা পানে তাদের
শিরঃপীড়া হবে না এবং তারা জ্ঞানহারাও হবে না। এবং তাদের পছন্দমত ফলমূল, আর তাদের ঈপ্সিত পাখীর গোশত নিয়ে, আর
(তাদের জন্য থাকবে) আয়তলোচনা হূর, সুরক্ষিত মুক্তাসদৃশ, তাদের কর্মের পুরস্কারস্বরূপ। সেখানে তারা শুনবে না কোন অসার ও
পাপবাক্য, সালাম আর সালাম বাণী ব্যতীত।
{সূরা ওয়াকিয়া :১০-২৬}
(৫) আরও ইরশাদ হচ্ছে:
ﻭَﺃَﺻْﺤَﺎﺏُ ﺍﻟْﻴَﻤِﻴﻦِ ﻣَﺎ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏُ ﺍﻟْﻴَﻤِﻴﻦِ ﴿২৭ ﴾ ﻓِﻲ ﺳِﺪْﺭٍ ﻣَﺨْﻀُﻮﺩٍ ﴿ ২৮﴾ ﻭَﻃَﻠْﺢٍ ﻣَﻨْﻀُﻮﺩٍ ﴿২৯ ﴾ ﻭَﻇِﻞٍّ ﻣَﻤْﺪُﻭﺩٍ ﴿৩০ ﴾ ﻭَﻣَﺎﺀٍ ﻣَﺴْﻜُﻮﺏٍ ﴿৩১ ﴾ ﻭَﻓَﺎﻛِﻬَﺔٍ ﻛَﺜِﻴﺮَﺓٍ ﴿৩২ ﴾ ﻟَﺎ ﻣَﻘْﻄُﻮﻋَﺔٍ ﻭَﻟَﺎ ﻣَﻤْﻨُﻮﻋَﺔٍ ﴿৩৩﴾ ﻭَﻓُﺮُﺵٍ ﻣَﺮْﻓُﻮﻋَﺔٍ ﴿৩৪ ﴾ ﺇِﻧَّﺎ
ﺃَﻧْﺸَﺄْﻧَﺎﻫُﻦَّ ﺇِﻧْﺸَﺎﺀً ﴿৩৫ ﴾ ﻓَﺠَﻌَﻠْﻨَﺎﻫُﻦَّ ﺃَﺑْﻜَﺎﺭًﺍ ﴿৩৬ ﴾ ﻋُﺮُﺑًﺎ ﺃَﺗْﺮَﺍﺑًﺎ ﴿ ৩৭ ﴾ ﻟِﺄَﺻْﺤَﺎﺏِ ﺍﻟْﻴَﻤِﻴﻦِ ﴿ ৩৮﴾ ﺛُﻠَّﺔٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺄَﻭَّﻟِﻴﻦَ ﴿৩৯ ﴾ ﻭَﺛُﻠَّﺔٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺂَﺧِﺮِﻳﻦَ ﴿৪০ ﴾ { ﺍﻟﻮﺍﻗﻌﺔ :২৭ ــ ৪০}
আর ডান দিকের দল, কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল। তারা থাকবে এমন উদ্যানে, সেখানে আছে কণ্টকহীন কুলবৃক্ষ। কাঁদি ভরা
কদলী বৃক্ষ, সম্প্রসারিত ছায়া, সদা প্রবহমান পানি, ও প্রচুর ফলমূল। যা শেষ হবে না এবং যা নিষিদ্ধও হবে না। আর সমুচ্চ
শয্যাসমূহ; ওদেরকে (হূর) আমি সৃষ্টি করেছি বিশেষরূপে। তাদেরকে করেছি কুমারী, সোহাগিনী ও সমবয়স্কা, ডানদিকের
লোকদের জন্য। তাদের অনেকে হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে। এবং অনেকে হবে পরবর্তীদের মধ্য হতে। {সূরা ওয়াকিয়া: ২৭-৪০}
(৬) হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰ ﻭ ﺟﻞ: ﺃﻋﺪﺩﺕ ﻟﻌﺒﺎﺩﻱ ﺍﻟﺼﺎﻟﺤﻴﻦ ﻣﺎ ﻻ ﻋﻴﻦ ﺭﺃﺕ , ﻭﻻ ﺃﺫﻥ ﺳﻤﻌﺖ , ﻭﻻ ﺧﻄﺮ ﻋﻠﻰ ﻗﻠﺐ ﺑﺸﺮ . ﻣﺼﺪﺍﻕ ﻓﻲ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻠﻪ﴿ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﻌْﻠَﻢُ ﻧَﻔْﺲٌ ﻣَﺎ ﺃُﺧْﻔِﻲَ
ﻟَﻬُﻢْ ﻣِﻦْ ﻗُﺮَّﺓِ ﺃَﻋْﻴُﻦٍ ﺟَﺰَﺍﺀً ﺑِﻤَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ ﴿ ১৭﴾ ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করছেন, আল্লাহ
তাআলা বলেন: আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন (সুন্দর নেয়ামতরাজি) তৈরী করে রেখেছি, যা কখনো কোন চক্ষু দেখেনি,
কোন কান শুনেনি এবং কোন মানুষের হৃদয় কল্পনাও করেনি। আল-কুরআনে এর সত্যায়ন হয়েছে এভাবে: 'কেউই জানেনা তাদের
জন্য নয়ন প্রীতিকর কী লুক্কায়িত রাখা হয়েছে, তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ[৯০]।
জান্নাতবাসীদের কথাবার্তা ও যিকির:
(১) মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করছেন:
ﻭَﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺻَﺪَﻗَﻨَﺎ ﻭَﻋْﺪَﻩُ ﻭَﺃَﻭْﺭَﺛَﻨَﺎ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽَ ﻧَﺘَﺒَﻮَّﺃُ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﺣَﻴْﺚُ ﻧَﺸَﺎﺀُ ﻓَﻨِﻌْﻢَ ﺃَﺟْﺮُ ﺍﻟْﻌَﺎﻣِﻠِﻴﻦَ ﴿ ৭৪﴾ { ﺍﻟﺰﻣﺮ:৭৪}
তারা প্রবেশ করে বলবে, প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন এবং আমাদেরকে অধিকারী
করেছেন এ ভূমির ; আমরা জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা বসবাস করব। সদাচারীদের পুরস্কার কত উত্তম। { যুমার :৭৪}
(২) আল্লাহ আরও বলেন:
ﺩَﻋْﻮَﺍﻫُﻢْ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺳُﺒْﺤَﺎﻧَﻚَ ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﻭَﺗَﺤِﻴَّﺘُﻬُﻢْ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺳَﻠَﺎﻡٌ ﻭَﺁَﺧِﺮُ ﺩَﻋْﻮَﺍﻫُﻢْ ﺃَﻥِ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﺭَﺏِّ ﺍﻟْﻌَﺎﻟَﻤِﻴﻦَ ﴿১০ ﴾ { ﻳﻮﻧﺲ :১০}
সেখানে তাদের ধ্বনি হবে: হে আল্লাহ তুমি মহান পবিত্র! এবং সেখানে তাদের অভিবাদন হবে, সালাম এবং তাদের শেষ ধ্বনি
হবে এই : সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর প্রাপ্য। {সূরা ইউনুস:১০}
(৩) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
ﻟَﺎ ﻳَﺴْﻤَﻌُﻮﻥَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻟَﻐْﻮًﺍ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺄْﺛِﻴﻤًﺎ ﴿২৫ ﴾ ﺇِﻟَّﺎ ﻗِﻴﻠًﺎ ﺳَﻠَﺎﻣًﺎ ﺳَﻠَﺎﻣًﺎ ﴿২৬ ﴾ { ﺍﻟﻮﺍﻗﻌﺔ :২৫ ــ ২৬}
সেখানে তারা কোন অসার ও পাপবাক্য শুনবে না। সালাম আর সালাম বাণী ব্যতীত। {সূরা ওয়াকিয়া:২৫-২৬}
জান্নাতবাসীদের প্রতি মহান রবের সালাম:
(১) মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করছেন:
ﺗَﺤِﻴَّﺘُﻬُﻢْ ﻳَﻮْﻡَ ﻳَﻠْﻘَﻮْﻧَﻪُ ﺳَﻠَﺎﻡٌ ﻭَﺃَﻋَﺪَّ ﻟَﻬُﻢْ ﺃَﺟْﺮًﺍ ﻛَﺮِﻳﻤًﺎ ﴿৪৪﴾ { ﺍﻷﺣﺰﺍﺏ :৪৪}
যেদিন তারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে, সেদিন তাদের প্রতি অভিবাদন হবে 'সালাম'। তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত
রেখেছেন উত্তম প্রতিদান। {সূরা আহযাব:৪৪}
(২) আরও ইরশাদ হয়েছে:
ﺳَﻠَﺎﻡٌ ﻗَﻮْﻟًﺎ ﻣِﻦْ ﺭَﺏٍّ ﺭَﺣِﻴﻢٍ ﴿৫৮ ﴾ { ﻳﺲ:৫৮}
'সালাম' পরম দয়ালু প্রতিপালকের পক্ষ হতে সম্ভাষণ। {সূরা ইয়াসীন:৫৮}
মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি প্রকাশ:
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺳﻌﻴﺪ ﺍﻟﺨﺪﺭﻱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﺇﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﻘﻮﻝ ﻷﻫﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ , ﻳﺎ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ , ﻓﻴﻘﻮﻟﻮﻥ: ﻟﺒﻴﻚ ﺭﺑﻨﺎ ﻭ ﺳﻌﺪﻳﻚ , ﻭ ﺍﻟﺨﻴﺮ ﻓﻲ ﻳﺪﻳﻚ , ﻓﻴﻘﻮﻝ: ﻫﻞ ﺭﺿﻴﺘﻢ؟ ﻓﻴﻘﻮﻟﻮﻥ: ﻭﻣﺎ ﻟﻨﺎ ﻻ ﻧﺮﺿﻰ ﻳﺎ ﺭﺏ ﻭﻗﺪ
ﺃﻋﻄﻴﺘﻨﺎ ﻣﺎ ﻟﻢ ﺗﻌﻂ ﺃﺣﺪﺍ ﻣﻦ ﺧﻠﻘﻚ , ﻓﻴﻘﻮﻝ : ﺃﻻ ﺃﻋﻄﻴﻚ ﺃﻓﻀﻞ ﻣﻦ ﺫﻟﻚ؟ ﻓﻴﻘﻮﻟﻮﻥ:ﻳﺎ ﺭﺏ ﻭ ﺃﻱ ﺷﻲﺀ ﺃﻓﻀﻞ ﻣﻦ ﺫﻟﻚ؟ ﻓﻴﻘﻮﻝ : ﺃﺣﻞ ﻋﻠﻴﻜﻢ ﺭﺿﻮﺍﻧﻲ , ﻓﻼ ﺃﺳﺨﻂ ﻋﻠﻴﻜﻢ ﺑﻌﺪﻩ ﺃﺑﺪﺍ . ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আল্লাহ
তাআলা জান্নাতীদের ডেকে বলবেন: হে জান্নাতবাসীরা, তারা বলে উঠবে: হে আমাদের প্রতিপালক আমরা উপস্থিত, সকল
সৌভাগ্য আপনার পক্ষ হতেই, সকল কল্যাণের উৎসও আপনিই। তখন আল্লাহ বলবেন: তোমরা কি সন্তুষ্ট? উত্তরে তারা বলবে: কেন নয়;
হে প্রতিপালক, আমাদের সন্তুষ্ট না হওয়ার কি আছে? অথচ আপনি আমাদের এমন সব জিনিস দিয়েছেন যা আপনার অন্য কোন সৃষ্টি
দান করেননি। আল্লাহ বলবেন: আমি কি তোমাদের এরচেয়েও উত্তম জিনিস দেব? তারা বলবে: এর চেয়েও উত্তম জিনিস আর কি
হতে পারে? আল্লাহ বলবেন: আমার সন্তুষ্টি তোমাদের জন্য অবধারিত করে নিলাম। আজকের পর থেকে আমি আর কোখনো
তোমাদের উপর অসন্তুষ্ট হব না[৯১]।
হে আল্লাহ তুমি আমাদের উপর সন্তুষ্ট হয়ে যাও আরো সন্তুষ্ট হও আমাদের পিতা-মাতা, স্ত্রী-পরিজন, ও সকল মুসলমানদের
প্রতি। এবং তোমার অনুগ্রহে আমাদেরকে নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে নাও।
জান্নাতে উম্মতে মুহাম্মাদীর পরিমাণ:
মহান আল্লাহ তাআলা এ উম্মতকে বিশাল সম্মানে সম্মানিত করেছেন। তিনি জান্নাতের মোট অধিবাসীদের মধ্যে অর্ধেক এ
উম্মত থেকে নির্বাচিত করেছেন। অত:পর এ সম্মান আরো বৃদ্ধি করে এ সংখ্যা দুই তৃতীয়াংশ পর্যন্ত উন্নীত করেছেন।
হাদীসে এসেছে
ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻣﺴﻌﻮﺩ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻛﻨﺎ ﻣﻊ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻲ ﻗﺒﺔ ﻓﻘﺎﻝ: ﺃﺗﺮﺿﻮﻥ ﺃﻥ ﺗﻜﻮﻧﻮﺍ ﺭﺑﻊ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ؟ ﻗﻠﻨﺎ ﻧﻌﻢ , ﻗﺎﻝ: ﺃﺗﺮﺿﻮﻥ ﺃﻥ ﺗﻜﻮﻧﻮﺍ ﺛﻠﺚ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ؟ ﻗﻠﻨﺎ ﻧﻌﻢ , ﻗﺎﻝ: ﺃﺗﺮﺿﻮﻥ ﺃﻥ ﺗﻜﻮﻧﻮﺍ ﺷﻄﺮ
ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ؟ ﻗﻠﻨﺎ:ﻧﻌﻢ , ﻗﺎﻝ: ﺇﻧﻲ ﻷﺭﺟﻮ ﺃﻥ ﺗﻜﻮﻧﻮﺍ ﺷﻄﺮ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ , ﻭ ﺫﻟﻚ ﺃﻥ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻻ ﻳﺪﺧﻠﻬﺎ ﺇﻻ ﻧﻔﺲ ﻣﺴﻠﻤﺔ ,ﻭﻣﺎ ﺃﻧﺘﻢ ﻓﻲ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺸﺮﻙ ﺇﻻ ﻛﺎﻟﺸﻌﺮﺓ ﺍﻟﺒﻴﻀﺎﺀ ﻓﻲ ﺟﻠﺪ ﺍﻟﺜﻮﺭ ﺍﻷﺳﻮﺩ ,ﺃﻭ ﻛﺎﻟﺸﻌﺮﺓ ﺍﻟﺴﻮﺩﺍﺀ ﻓﻲ ﺟﻠﺪ ﺍﻟﺜﻮﺭ ﺍﻷﺣﻤﺮ.
ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা একটি তাঁবুতে নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের সাথে অবস্থান করছিলাম, এক সময় নবীজী আমাদের লক্ষ্য করে বললেন: "তোমরা জান্নাত অধিবাসীদের এক
চতুর্থাংশ হবে, এতে কি তোমরা সন্তুষ্ট? আমরা বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তোমরা জান্নাত অধিবাসীদের এক তৃতীয়াংশ হবে,
এতে কি তোমরা সন্তুষ্ট? আমরা বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তোমরা জান্নাত অধিবাসীদের অর্ধেক হবে এতে কি তোমরা
রাজি? আমরা বললাম:হ্যাঁ। [এরপর নবীজী ] বললেন: আমি চাই তোমরা জান্নাত অধিবাসীদের অর্ধেক হবে। আর এটি এ কারণে
যে, জান্নাতে শুধুমাত্র মুসলিম সত্ত্বাই প্রবেশ করতে পারবে। আর শিরক কারীদের মধ্যে তোমাদের অবস্থান হচ্ছে, কালো [রং
বিশিষ্ট] বলদের চামড়ায় সাদা পশম সদৃশ। অথবা লাল বলদের চামড়ায় কালো পশম সদৃশ।[৯২]
জান্নাতবাসীদের কাতার:
ﻋﻦ ﺑﺮﻳﺪﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻋﺸﺮﻭﻥ ﻭ ﻣﺎﺋﺔ ﺻﻒ , ﺛﻤﺎﻧﻮﻥ ﻣﻨﻬﺎ ﻣﻦ ﻫﺬﺓ ﺍﻷﻣﺔ , ﻭ ﺃﺭﺑﻌﻮﻥ ﻣﻦ ﺳﺎﺋﺮ ﺍﻷﻣﻢ . ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ﻭ ﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﺔ .
সাহাবী বুরাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: জান্নাত
অধিবাসীরা মোট একশত বিশ কাতার হবে, তার মাঝে আশি কাতার হবে এ উম্মত থেকে, আর অবশিষ্ট চল্লিশ কাতার হবে অন্য
সকল উম্মত থেকে। [৯৩]
জান্নাত অধিবাসী:
(১) মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁَﻣَﻨُﻮﺍ ﻭَﻋَﻤِﻠُﻮﺍ ﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺤَﺎﺕِ ﺃُﻭﻟَﺌِﻚَ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﻫُﻢْ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺧَﺎﻟِﺪُﻭﻥَ ﴿৮২﴾ { ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ :৮২}
আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তারাই হচ্ছে জান্নাত অধিবাসী, সেথায় তারা চিরদিন থাকবে। [সূরা
বাকারা:৮২]
(২) হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﻋﻴﺎﺽ ﺑﻦ ﺣﻤﺎﺭ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ...: ﻭﺃﻫﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺛﻼﺛﺔ : ﺫﻭ ﺳﻠﻄﺎﻥ ﻣﻘﺴﻂ ﻣﺘﺼﺪﻕ ﻣﻮﻓﻖ , ﻭﺭﺟﻞ ﺭﺣﻴﻢ ﺭﻗﻴﻖ ﺍﻟﻘﻠﺐ ﻟﻜﻞ ﺫﻱ ﻗﺮﺑﻰ ﻭ ﻣﺴﻠﻢ , ﻭﻋﻔﻴﻒ ﻣﺘﻌﻔﻒ ﺫﻭ ﻋﻴﺎﻝ ... . ﺃﺧﺮﺟﻪ
ﻣﺴﻠﻢ .
সাহাবী ইয়ায বিন হিমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: ...
আর জান্নাত অধিবাসী হচ্ছে তিন শ্রেণীর লোক: রাজত্ব ও ক্ষমতার অধিকারী ন্যায় পরায়ণ দানশীল তাওফীক প্রাপ্ত, দয়ালু
ব্যক্তি-সকল আত্মীয় পরিজন ও মুসলমানের জন্য যার অন্তর সদা সদয় এবং সচ্চরিত্র সংযমশীল (অনেক) সন্তান-সন্ততির মালিক...।
[৯৪]
(৩) হাদীসে এসেছে
ﻭﻋﻦ ﺣﺎﺭﺛﺔ ﺑﻦ ﻭﻫﺐ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻧﻪ ﺳﻤﻊ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ : ﺃﻻ ﺃﺧﺒﺮﻛﻢ ﺑﺄﻫﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ؟ ﻗﺎﻟﻮﺍ : ﺑﻠﻰ , ﻗﺎﻝ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: ﻛﻞ ﺿﻌﻴﻒ ﻣﺘﻀﻌﻒ ﻟﻮ ﺃﻗﺴﻢ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻷﺑﺮﻩ ... ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
হারিসা বিন ওহাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে
শুনেছেন, আল্লাহর রাসূল বলেন: আমি কি তোমাদের জান্নাতবাসী সম্মর্কে সংবাদ দেব না? লোকরা বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন:
প্রত্যেক নিরিহ-নিরহঙ্কার দুর্বল ব্যক্তি, যদি আল্লাহর নামে শপথ করে আল্লাহ তার শপথ পূর্ণ করার ব্যবস্থা করে দেন।[৯৫]
অধিকাংশ জান্নাতবাসী:
ﻋﻦ ﻋﻤﺮﺍﻥ ﺑﻦ ﺣﺼﻴﻦ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﺍﻃﻠﻌﺖ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻓﺮﺃﻳﺖ ﺃﻛﺜﺮ ﺃﻫﻠﻬﺎ ﺍﻟﻔﻘﺮﺍﺀ , ﻭﺍﻃﻠﻌﺖ ﻓﻲ ﺍﻟﻨﺎﺭ ﻓﺮﺃﻳﺖ ﺃﻛﺜﺮ ﺃﻫﻠﻬﺎ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ . ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
সাহাবী ইমরান বিন হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করছেন, নবীজী
বলেন: আমি জান্নাতে দৃষ্টি দিয়েছি, দেখেছি তার অধিকাংশ অধিবাসী হচ্ছে দরিদ্র ব্যক্তিবর্গ, এবং জাহান্নামে দৃষ্টি
দিয়েছে, সেখানে দেখেছি তার অধিকাংশ অধিবাসী হচ্ছে নারী।[৯৬]
সর্বশেষ যিনি জান্নাতে প্রবেশ করবেন:
ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻣﺴﻌﻮﺩ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ﺇﻥ ﺁﺧﺮ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺩﺧﻮﻻ ﺍﻟﺠﻨﺔ , ﻭﺁﺧﺮ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻨﺎﺭ ﺧﺮﻭﺟﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺭ: ﺭﺟﻞ ﻳﺨﺮﺝ ﺣﺒﻮﺍ , ﻓﻴﻘﻮﻝ ﻟﻪ ﺭﺑﻪ:ﺍﺩﺧﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ , ﻓﻴﻘﻮﻝ :ﺭﺏ , ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻣﻸﻯ ,
ﻓﻴﻘﻮﻝ ﻟﻪ ﺫﻟﻚ ﺛﻼﺙ ﻣﺮﺍﺕ , ﻓﻜﻞ ﺫﻟﻚ ﻳﻌﻴﺪ ﻋﻠﻴﻪ: ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻣﻸﻯ , ﻓﻴﻘﻮﻝ: ﺇﻥ ﻟﻚ ﻣﺜﻞ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻋﺸﺮ ﻣﺮﺍﺭ . ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
বিশিষ্ট সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
ইরশাদ করেন: "জাহান্নাম থেকে বের হয়ে জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বশেষ ব্যক্তি, যে (জাহান্নাম থেকে) হামাগুড়ি দিয়ে
বের হয়ে আসবে। তখন তার রব তাকে বলবেন: তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর। সে বলবে: প্রভু, জান্নাততো পরিপূর্ণ। (তার রব) তাকে
এভাবে তিন বার বলবেন: প্রতিবারই সে বলবে: জান্নাততো পরিপূর্ণ। অত:পর মহান রব বলবেন: তোমার জন্য দুনিয়াসম দশগুন বরাদ্দ
দেয়া হল"।[৯৭]
_________________________________________________________________________________
[১] সূরা আহযাব: ৬৩।
[২]মুসলিম(২৯০১)
[৩] বুখারী ও মুসলিম : হাদীস নং বুখারী (৪৯৩৫) এবং মুসলিম (২৯৫৫)
[৪] হাদীসটি সহীহ সনদে ইমাম হাকেম তার মুসতাদরাকে বর্ণনা করেছেন। হাদীস নং (৮৬৭৬) দেখুন আসসিলসিলাতুস সহীহা।
ক্রমিক :(১০৭৮)
[৫] বর্ণনায় মুসলিম: হাদীস নং (৮৫৪)
[৬] বর্ণনায় বুখারী মুসলিম। বুখারী হাদীস নং (৪৯৩৫) আর মুসলিম (২৯৫৫)
[৭] সহীহ মুসলিম: হাদীস নং(২২৭৮)
[৮] সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৬৫২১) ও (২৭৯০)
[৯] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৬৫২৭) ও (২৮৫৯)
[১০] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম: হাদীস নং যথাক্রমে (৪৭৬০) ও (২৮০৬)
[১১] হাদীসটি সহীহ সনদে ইমাম আহমদ ও ইমাম তিরমিযী স্বীয় কিতাবে কর্ণনা করেছেন। হাদীসের ক্রমিক নং যথাক্রমে
( ৪৮০৬) ও (৩৩৩৩)
[১২] বর্ণনায় মুসলিম।হাদীস নং (৩১৫) ও (২৭৯১)
[১৩] বর্ণনায় মুসলিম হাদীস নং:(২৮৬৪)
[১৪] বুখারী ও মুসলিম: হাদীস নং যথাক্রমে: (৭৩৮২) ও (২৭৮৭)
[১৫] বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে: (৬৬০) ও (১০৩১)
[১৬] হাদীসটি সহীহ সনদে ইমাম আহমাদ ও ইমাম ইবনে খোযাইমা বর্ণনা করেছেন। হাদীস নং যথা ক্রমে (১৭৩৩৩) ও (২৪৩১)
[১৭] বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথা ক্রমে (২৪১১) ও (২৩৭৩)
[১৮] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৪৭১২) ও (১৯৪)।
[১৯] বর্ণনায় বুখারী ও মুষলিম। হাদীস নং বুখারী (৭৪৩৯) এবং মুসলিম (১৮৩)
[২০] বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (২৪৪১) (২৭৬৮)
[২১] হাদীসটি বিশুদ্ধ সনদে তিরমিযী ও দারামীতে বর্ণিত হয়েছে। হাদীস নং তিরমিযী (২৪১৭) আর দারামী (৫৪৩)। দেখুন
আস্সিলসিলাতুস সহীহা (৯৪৬)
[২২] মুত্তাফাক আলাইহ। হাদীস নং বুখারী (৬৫৩৭) আর মুসলিম (২৮৭৬)
[২৩] বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৪৭২৯) ও (২৭৮৫)।
[২৪] বর্ণনায় মুসলিম। হাদীস নং:(২৮০৮)
[২৫] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং বুখারী (৬৫৭৯) এবং মুসলিম (২২৯২)।
[২৬] মুসলিম (২৩০০)।
[২৭] বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং বুখারী (৬৫৮০) এবং মুসলিম (২৩০৩)।
[২৮] বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং বুখারী (৬৫৮৫) এবং মুসলিম (২২৯১)।
[২৯] বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৭৪৩৯) ও (১৮৩)
[৩০] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৮০৬) ও (১৮২)
[৩১] বর্ণনায় বুখারী। হাদীস নং (৬৫৩৫)
[৩২] বর্ণনায় বুখারী (৬৩০৪) ও মুসলিম (১৯৯)।
[৩৩] হাদীসটি সহীহ সনদে আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে। হাদীস নং (২৫২২)
[৩৪] বুখারী (৯৯)।
[৩৫] বর্ণনায় সহীহ বুখারী হদেীস নং (৭৪২৩)
[৩৬] হাদীসটি সহীহ, বর্ণনায় হাকেম (১৩০৪) এবং ইবনে হিব্বান (৩০১৩)।মুহাদ্দিস আরনাউত বলেন: এ হাদীসের সনদ সহীহ।
[৩৭] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (১৮৯৭) ও (১০২৭)।
[৩৮] সহীহ মুসলিম। হাদীস নং (২৯৬৭)।
[৩৯] বর্ণনায় কুখারী (৪৭১২) ও মুসলিম (১৯৪)।
[৪০] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৩২৫৭) ও (১১৫২)।
[৪১] বর্ণনায় মুসলিম। হাদীস নং (২৫৬৫)।
[৪২] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং বুখারী (৩২৭৭) ও মুসলিম (১০৭৯)।
[৪৩] বর্ণনায় সহীহ মুসলিম। হাদীস নং (২৩৪)।
[৪৪] বর্ণনায় সহীহ মুসলিম। হাদীস নং (১৯৭)।
[৪৫] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৮৭৬) ও (৮৫৫)।
[৪৬] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম।হাদীস নং বুখারী (৩৩২৭) ও মুসলিম (২৮৩৪)।
[৪৭] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম।হাদীস নং বুখারী (৬৫৪৩) ও মুসলিম (২১৯)।
[৪৮] বর্ণনায় মুসলিম। হাদীস নং (২৯৭৯)।
[৪৯] হাদীসটি হাসান সনদে বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনায় আহমাদ (৭৯২০) ও তিরমিযী (২৫৪৫)।
[৫০] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৩২৫৪) ও (২৮৩৪)।
[৫১] বর্ণনায় বৃখারী হাদীস নং (৬৫৪১) ও মুসলিম হাদীস নং (২২০)।
[৫২] হাদীসটি সহীহ সনদে ইমাম তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। হাদীস নং তিরমিযী (২৪৩৭) ও ইবনে মাজাহ
(৪২৮৬)।
[৫৩] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। বুখারী হাদীস নং (৩৩৪২) ও মুসলিম (১৬৩)।
[৫৪] বর্ণনায় তিরমিযী (২৫২৬)ও দারামী (২৭১৭)। হাদীসের সনদ সহীহ।
[৫৫] বর্ণনায় সহীহ মুসলিম। হাদীস নং ( ২৯২৮)।
[৫৬] বর্ণনায় বুখারী (৪৮৭৯) ও মুসলিম (২৮৩৮)।
[৫৭] বর্ণনায় মুসলিম। হাদীস নং (২৮৩৩)।
[৫৮] বর্ণনায় বুখারী (৩২৫৬) ও মুসলিম (২৮৩১)।
[৫৯] হাদীসটি হাসান সূত্রে ইমাম আহমাদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। হাদীস নং আহমাদ (১৩৩৮) ও তিরমিযী (১৯৮৪)।
[৬০] বর্ণনায় বুখারী ( ৭৪৪৪) ও মুসলিম (১৮০)।
[৬১] বর্ণনায় সহীহ বুখারী, হাদীস নং (৬৫২৬)।
[৬২] বর্ণনায় সহীহ বূখারী। হাদীস নং (৩৩২৯)
[৬৩] বর্ণনায় সহীহ মুসলিম। হাদীস নং (৩১৫)
[৬৪] বর্ণনায় সহীহ বুখারী (৬৫২০) ও সহীহ মুসলিম (২৭৯২)।
[৬৫] সহীহ মুসলিম। হাদীস নং ( ২৮৩৫)।
[৬৬] হাদীসের সনদ সহীহ। বর্ণনায় তবরাণী আল কাবীর (৭/১৩০) ও মুসনাদ শামীইয়াইন (১/২৮২)। দেখুন আল সিলসিলাতুস সহীহাহ
(২৭৩৪)।
[৬৭] হাদীসের সনদ সহীহ, বর্ণনায় তিরমিযী (৩৩৬১) ও ইবনে মাজাহ (৪৩৩৪)।
[৬৮] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৩২০৭) ও (১৬২)।
[৬৯] বর্ণনায় বুখারী (৬৫৫৩) এবং মুসলিম (২৮২৮)।
[৭০] হাদীসের সনদ সহীহ, বর্ণনায় তিরমিযী। হাদীস নং (২৫২৫) দেখুন সহীহ জামে ( ৫৬৪৭)
[৭১] বর্ণনায় বুখারী, হাদীস নং ( ৬৫৮১)।
[৭২] বর্ণনায় মুসলিম, হাদীস নং (২৮৩৯)।
[৭৩] বর্ণনায় কুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং বুখারী (২৭৯৬) ও মুসলিম (১৮৮০)।
[৭৪] বর্ণনায় কুখারী ও মুসলিম, হাদীস নং বুখারী (৩২৪৬) ও মুসলিম (২৮৩৪)।
[৭৫] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম।হাদীস নং বুখারী (৩৩২৭) ও মুসলিম (২৮৩৪)।
[৭৬] বর্ণনায় কুখারী হাদীস নং (৩১৬৬)।
[৭৭] বর্ণনায় তিরমিযী হাদীস নং (১৪০৩) ও ইবনে মাজাহ হাদীস নং (২৬৮৭)।
[৭৮] বর্ননায় তবরাণী আল মু'জামুল আওসাত, হাদীসের সনদ সহীহ, হাদীস নং (৪৯১৭) দেখুন সহীহ আল জামে (১৫৬১)।
[৭৯] হাদীসটি সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনায় তবরাণী, আল মু'জামুল কাবীর (৫/১৭৮) ও দারামী (২৭২১) দেখুন: সহীহ আল জামে
(১৬২৭)
[৮০] হাদীসটি বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনায় তবরাণী,আল মু'জামুল আওসাত এবং আবু নাঈম, সিফাতুল জান্নাহ।
[৮১] হাদীসের সনদ বিশুদ্ধ। বর্ণনায় আহমদ (১১০৭৯) ও তিরমিযী ( ২৫৬৩)।
[৮২] বর্ণনায় সহীহ মুসলিম (২৮৩৭)
[৮৩] মুসনাদ আল বায্যার। হাদীসের সনদ সহীহ। কাশফুল আসতার (৩৫১৭) আলা সিলসিলাতুস সহীহা (১০৮৭)
[৮৪] বর্ণনায় বুখারী, হাদীস নং (২৭৯০)
[৮৫] বর্ণনায় সহীহ মুসলিম। হাদীস নং (৩৮৪)
[৮৬] সহীহ মুসলিম। (১৮৯)
[৮৭] বর্ণনায় বুখারী (৬৫৭১) ও মুসলিম (১৮৬)।
[৮৮] বর্ণনায় বুখারী (৮০৬) ও মুসলিম (১৮২)।
[৮৯] সহীহ মুসলিম (১৮১)
[৯০] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং বুখারী (৩২৪৪) মুসলিম ( ২৮২৪)।
[৯১] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং বুখারী (৬৫৪৯) ও মুসলিম (২৮২৯)।
[৯২] বর্ণনায় বৃখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৬৫২৮) ও (২২১)
[৯৩] হাদীসের সনদ সহীহ। বর্ণনায় তিরমিযী (২৫৪৬) ও ইবনে মাজাহ (৪২৮৯)।
[৯৪] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং (২৮৬৫)।
[৯৫] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৪৯১৮) ও (২৮৫৩)।
[৯৬] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৩২৪১) ও (২৭৩৭)।
[৯৭] বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীস নং যথাক্রমে (৭৫১১) ও (১৮৬)।
_________________________________________________________________________________
সংকলন: মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ আত্ তুয়াইজিরী
অনুবাদক: ইকবাল হোসাইন মাসূম
সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান
সূত্র: ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ, সৌদিআরব


Posted via Sharif
তাওহীদ ও ঈমান ২য় পব
তাওহীদ ও ঈমান ২য় পব

Price : *Happy Shopping
Order via whatsapp Order via Email

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Content copy is disabled! Default text copied.