সহিহ হাদিসে কুদসী ২য় পব
সহিহ হাদিসে কুদসি (২য় পর্ব
আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
( ﻭﺍﻷﺭْﺽُ ﺟَﻤﻴﻌًﺎ ﻗَﺒْﻀَﺘُﻪُ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔِ ﻭﺍﻟﺴَّﻤﺎﻭﺍﺕُ ﻣَﻄﻮِﻳَّﺎﺕٌ ﺑِﻴَﻤِﻴﻨِﻪ )
-73 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﻗَﺎﻝَ: ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ: «ﻳَﻘْﺒِﺾُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽَ ﻭَﻳَﻄْﻮِﻱ ﺍﻟﺴَّﻤَﻮَﺍﺕِ ﺑِﻴَﻤِﻴﻨِﻪِ ﺛُﻢَّ ﻳَﻘُﻮﻝُ: ﺃَﻧَﺎ ﺍﻟْﻤَﻠِﻚُ ﺃَﻳْﻦَ ﻣُﻠُﻮﻙُ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ» . ( ﺥ , ﻡ , ﺟﻪ ) ﺻﺤﻴﺢ
৭৩. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে
বলতে শুনেছি: আল্লাহ তা‘আলা জমিন তাঁর হাতের মুঠোয় গ্রহণ করবেন, আর আসমান তার ডান হাতে মুড়িয়ে নিবেন, অতঃপর
বলবেন: আমিই বাদশাহ, দুনিয়ার বাদশাহরা কোথায়?”। [বুখারি, মুসলিম ও ইব্ন মাজাহ] হাদিসটি সহিহ।
-74 ﻋَﻦْ ﺍﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ- ﻋَﻦْ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃَﻧَّﻪُ ﻗَﺎﻝَ: «ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻳَﻘْﺒِﺾُ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽَ، ﻭَﺗَﻜُﻮﻥُ ﺍﻟﺴَّﻤَﻮَﺍﺕُ ﺑِﻴَﻤِﻴﻨِﻪِ ﺛُﻢَّ ﻳَﻘُﻮﻝُ : ﺃَﻧَﺎ ﺍﻟْﻤَﻠِﻚُ» . ( ﺥ ) ﺻﺤﻴﺢ
৭৪. ইব্ন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কিয়ামতের দিন
আল্লাহ জমিন হাতের মুঠোয় গ্রহণ করবেন, আর আসমান তার ডান হাতে থাকবে, অতঃপর তিনি বলবেন: আমিই বাদশাহ”।
[বুখারি] হাদিসটি সহিহ।
-75 ﻋَﻦْ ﻋُﺒَﻴْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻣِﻘْﺴَﻢٍ ﺃَﻧَّﻪُ ﻧَﻈَﺮَ ﺇِﻟَﻰ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ- ﻛَﻴْﻒَ ﻳَﺤْﻜِﻲ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: «ﻳَﺄْﺧُﺬُ ﺍﻟﻠَّﻪُ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ- ﺳَﻤَﺎﻭَﺍﺗِﻪِ ﻭَﺃَﺭَﺿِﻴﻪِ ﺑِﻴَﺪَﻳْﻪِ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ : ﺃَﻧَﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ (ﻭَﻳَﻘْﺒِﺾُ ﺃَﺻَﺎﺑِﻌَﻪُ ﻭَﻳَﺒْﺴُﻄُﻬَﺎ )
ﺃَﻧَﺎ ﺍﻟْﻤَﻠِﻚُ » ﺣَﺘَّﻰ ﻧَﻈَﺮْﺕُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﻤِﻨْﺒَﺮِ ﻳَﺘَﺤَﺮَّﻙُ ﻣِﻦْ ﺃَﺳْﻔَﻞِ ﺷَﻲْﺀٍ ﻣِﻨْﻪُ ﺣَﺘَّﻰ ﺇِﻧِّﻲ ﻟَﺄَﻗُﻮﻝُ ﺃَﺳَﺎﻗِﻂٌ ﻫُﻮَ ﺑِﺮَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ . ( ﻡ , ﺟﻪ , ﻥ ) ﺻﺤﻴﺢ
৭৫. উবাইদুল্লাহ ইব্ন মিকসাম থেকে বর্ণিত, সে আব্দুল্লাহ ইব্ন ওমরকে লক্ষ্য করেছে কিভাবে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বর্ণনা দেন, তিনি (নবী-সা.) বলেন: “আল্লাহ তা‘আলা আসমান ও জমিন তার দু’হাতে পাকড়াও করবেন,
অতঃপর বলবেন: আমি আল্লাহ, (তিনি হাতের আঙুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ ও প্রসারিত করছিলেন), আমিই বাদশাহ”। আমি মিম্বারের
দিকে দেখলাম একেবারে নিচ থেকে নড়ছে, এমনকি মনে হচ্ছিল মিম্বার কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে
নিয়ে পড়ে যাবে”। মুসলিম, ইব্ন মাজাহ ও নাসায়ি] হাদিসটি সহিহ।
কতক জাহান্নামীর জাহান্নাম থেকে বের হওয়া
-76 ﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲِ ﺑْﻦِ ﻣَﺎﻟِﻚٍ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ- ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﻳَﺨْﺮُﺝُ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﺃَﺭْﺑَﻌَﺔٌ ﻳُﻌْﺮَﺿُﻮﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ - ﻓَﻴَﺄْﻣُﺮُ ﺑِﻬِﻢْ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ، ﻓَﻴَﻠْﺘَﻔِﺖُ ﺃَﺣَﺪُﻫُﻢْ، ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﺃَﻱْ ﺭَﺏِّ ﻗَﺪْ ﻛُﻨْﺖُ ﺃَﺭْﺟُﻮ ﺇِﻥْ ﺃَﺧْﺮَﺟْﺘَﻨِﻲ
ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺃَﻥْ ﻟَﺎ ﺗُﻌِﻴﺪَﻧِﻲ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻓَﻠَﺎ ﻧُﻌِﻴﺪُﻙَ ﻓِﻴﻬَﺎ » . ( ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ
৭৬. আনাস ইব্ন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“জাহান্নাম থেকে চারজন বের হবে, তাদেরকে আল্লাহর সামনে হাজির করা হবে, অতঃপর তিনি তাদেরকে জাহান্নামের
নির্দেশ দিবেন, ফলে তাদের একজন পিছন ফিরে তাকাবে এবং বলবে: হে আমার রব, আমি আশা করেছিলাম যদি সেখান থেকে
আমাকে বের করেন, সেখানে আমাকে ফিরিয়ে দিবেন না, ফলে তিনি বলবেন: আমি তোমাকে সেখানে ফিরিয়ে দিব না”।
[আহমদ] হাদিসটি সহিহ।
কিয়ামতের দিন নিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ
-77 ﻋَﻦْ ﺃَﺑَﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ - ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﺇِﻥَّ ﺃَﻭَّﻝَ ﻣَﺎ ﻳُﺴْﺄَﻝُ ﻋَﻨْﻪُ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ - ﻳَﻌْﻨِﻲ ﺍﻟْﻌَﺒْﺪَ - ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﻌِﻴﻢِ ﺃَﻥْ ﻳُﻘَﺎﻝَ ﻟَﻪُ: ﺃَﻟَﻢْ ﻧُﺼِﺢَّ ﻟَﻚَ ﺟِﺴْﻤَﻚَ، ﻭَﻧُﺮْﻭِﻳَﻚَ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻤَﺎﺀِ ﺍﻟْﺒَﺎﺭِﺩِ » . ( ﺕ )
ﺻﺤﻴﺢ
৭৭. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, -অর্থাৎ বান্দাকে- তা হচ্ছে নিয়ামত, তাকে বলা হবে যে: আমি
কি তোমার শরীর সুস্থ করিনি, আমি কি তোমাকে ঠাণ্ডা পানি পান করাই নি”। [তিরমিযি] হাদিসটি সহিহ।
পরকালের আমলে অলসতাকারীর জন্য হুশিয়ারি
-78 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻭَﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺳَﻌِﻴﺪ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ - ﻗَﺎﻟَﺎ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﻳُﺆْﺗَﻰ ﺑِﺎﻟْﻌَﺒْﺪِ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟَﻪُ: ﺃَﻟَﻢْ ﺃَﺟْﻌَﻞْ ﻟَﻚَ ﺳَﻤْﻌًﺎ ﻭَﺑَﺼَﺮًﺍ ﻭَﻣَﺎﻻً ﻭَﻭَﻟَﺪًﺍ، ﻭَﺳَﺨَّﺮْﺕُ ﻟَﻚَ ﺍﻟْﺄَﻧْﻌَﺎﻡَ ﻭَﺍﻟْﺤَﺮْﺙَ،
ﻭَﺗَﺮَﻛْﺘُﻚَ ﺗَﺮْﺃَﺱُ ﻭَﺗَﺮْﺑَﻊُ، ﻓَﻜُﻨْﺖَ ﺗَﻈُﻦُّ ﺃَﻧَّﻚَ ﻣُﻠَﺎﻗِﻲ ﻳَﻮْﻣَﻚَ ﻫَﺬَﺍ؟ » ﻗَﺎﻝَ: « ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﻟَﺎ . ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﻟَﻪُ: ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ ﺃَﻧْﺴَﺎﻙَ ﻛَﻤَﺎ ﻧَﺴِﻴﺘَﻨِﻲ » . ( ﺕ ) ﺣﺴﻦ
৭৮. আবু হুরায়রা ও আবু সায়িদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তারা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কিয়ামতের দিন বান্দাকে উপস্থিত করা হবে, অতঃপর আল্লাহ তাকে বলবেন: আমি কি তোমাকে কান,
চোখ, সম্পদ ও সন্তান দেই নি? এবং তোমার জন্য চতুষ্পদ জন্তু ও কৃষি অনুগত করে দিয়েছি। আর তোমাকে দিয়েছি নেতৃত্ব দেয়া ও
ভোগ করার সুযোগ, (এত কিছুর পর) তুমি কি চিন্তা করেছ তোমার এ দিনে আমার সাথে সাক্ষাত করবে?” রাসূল বলেন: “সে বলবে:
না, অতঃপর তিনি তাকে বলবেন: আজ আমি তোমাকে ছেড়ে যাব, যেমন তুমি আমাকে ভুলে গিয়েছিলে”। [তিরমিযি] হাদিসটি
হাসান।
আখেরাতে মুমিনগণ রবের দর্শন লাভ করবে
-79 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺳَﻌِﻴﺪٍ ﺍﻟْﺨُﺪْﺭِﻱِّ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ- ﻗَﺎﻝ: ﻗُﻠْﻨَﺎ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻫَﻞْ ﻧَﺮَﻯ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ؟ ﻗَﺎﻝَ : « ﻫَﻞْ ﺗُﻀَﺎﺭُﻭﻥَ ﻓِﻲ ﺭُﺅْﻳَﺔِ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲِ ﻭَﺍﻟْﻘَﻤَﺮِ ﺇِﺫَﺍ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﺻَﺤْﻮًﺍ؟ » ﻗُﻠْﻨَﺎ: ﻟَﺎ . ﻗَﺎﻝَ : « ﻓَﺈِﻧَّﻜُﻢْ ﻟَﺎ ﺗُﻀَﺎﺭُﻭﻥَ ﻓِﻲ ﺭُﺅْﻳَﺔِ ﺭَﺑِّﻜُﻢْ ﻳَﻮْﻣَﺌِﺬٍ ﺇِﻟَّﺎ
ﻛَﻤَﺎ ﺗُﻀَﺎﺭُﻭﻥَ ﻓِﻲ ﺭُﺅْﻳَﺘِﻬِﻤَﺎ» ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻝَ: «ﻳُﻨَﺎﺩِﻱ ﻣُﻨَﺎﺩٍ: ﻟِﻴَﺬْﻫَﺐْ ﻛُﻞُّ ﻗَﻮْﻡٍ ﺇِﻟَﻰ ﻣَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳَﻌْﺒُﺪُﻭﻥَ؛ ﻓَﻴَﺬْﻫَﺐُ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏُ ﺍﻟﺼَّﻠِﻴﺐِ ﻣَﻊَ ﺻَﻠِﻴﺒِﻬِﻢْ، ﻭَﺃَﺻْﺤَﺎﺏُ ﺍﻟْﺄَﻭْﺛَﺎﻥِ ﻣَﻊَ ﺃَﻭْﺛَﺎﻧِﻬِﻢْ، ﻭَﺃَﺻْﺤَﺎﺏُ ﻛُﻞِّ ﺁﻟِﻬَﺔٍ ﻣَﻊَ ﺁﻟِﻬَﺘِﻬِﻢْ، ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺒْﻘَﻰ ﻣَﻦْ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻌْﺒُﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻣِﻦْ ﺑَﺮٍّ ﺃَﻭْ
ﻓَﺎﺟِﺮٍ ﻭَﻏُﺒَّﺮَﺍﺕٌ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ، ﺛُﻢَّ ﻳُﺆْﺗَﻰ ﺑِﺠَﻬَﻨَّﻢَ ﺗُﻌْﺮَﺽُ ﻛَﺄَﻧَّﻬَﺎ ﺳَﺮَﺍﺏٌ ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ ﻟِﻠْﻴَﻬُﻮﺩِ: ﻣَﺎ ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﺗَﻌْﺒُﺪُﻭﻥَ؟ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ: ﻛُﻨَّﺎ ﻧَﻌْﺒُﺪُ ﻋُﺰَﻳْﺮًﺍ ﺍﺑْﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ: ﻛَﺬَﺑْﺘُﻢْ ﻟَﻢْ ﻳَﻜُﻦْ ﻟِﻠَّﻪِ ﺻَﺎﺣِﺒَﺔٌ ﻭَﻟَﺎ ﻭَﻟَﺪٌ ﻓَﻤَﺎ ﺗُﺮِﻳﺪُﻭﻥَ؟ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ: ﻧُﺮِﻳﺪُ ﺃَﻥْ ﺗَﺴْﻘِﻴَﻨَﺎ ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ: ﺍﺷْﺮَﺑُﻮﺍ
ﻓَﻴَﺘَﺴَﺎﻗَﻄُﻮﻥَ ﻓِﻲ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ، ﺛُﻢَّ ﻳُﻘَﺎﻝُ: ﻟِﻠﻨَّﺼَﺎﺭَﻯ ﻣَﺎ ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﺗَﻌْﺒُﺪُﻭﻥَ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﻛُﻨَّﺎ ﻧَﻌْﺒُﺪُ ﺍﻟْﻤَﺴِﻴﺢَ ﺍﺑْﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ : ﻛَﺬَﺑْﺘُﻢْ ﻟَﻢْ ﻳَﻜُﻦْ ﻟِﻠَّﻪِ ﺻَﺎﺣِﺒَﺔٌ ﻭَﻟَﺎ ﻭَﻟَﺪٌ ﻓَﻤَﺎ ﺗُﺮِﻳﺪُﻭﻥَ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﻧُﺮِﻳﺪُ ﺃَﻥْ ﺗَﺴْﻘِﻴَﻨَﺎ ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ: ﺍﺷْﺮَﺑُﻮﺍ، ﻓَﻴَﺘَﺴَﺎﻗَﻄُﻮﻥَ ﻓِﻲ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﺣَﺘَّﻰ
ﻳَﺒْﻘَﻰ ﻣَﻦْ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻌْﺒُﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻣِﻦْ ﺑَﺮٍّ ﺃَﻭْ ﻓَﺎﺟِﺮٍ ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ ﻟَﻬُﻢْ: ﻣَﺎ ﻳَﺤْﺒِﺴُﻜُﻢْ ﻭَﻗَﺪْ ﺫَﻫَﺐَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﻓَﺎﺭَﻗْﻨَﺎﻫُﻢْ ﻭَﻧَﺤْﻦُ ﺃَﺣْﻮَﺝُ ﻣِﻨَّﺎ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ، ﻭَﺇِﻧَّﺎ ﺳَﻤِﻌْﻨَﺎ ﻣُﻨَﺎﺩِﻳًﺎ ﻳُﻨَﺎﺩِﻱ : ﻟِﻴَﻠْﺤَﻖْ ﻛُﻞُّ ﻗَﻮْﻡٍ ﺑِﻤَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳَﻌْﺒُﺪُﻭﻥَ، ﻭَﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻧَﻨْﺘَﻈِﺮُ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﻴَﺄْﺗِﻴﻬِﻢْ ﺍﻟْﺠَﺒَّﺎﺭُ
ﻓِﻲ ﺻُﻮﺭَﺓٍ ﻏَﻴْﺮِ ﺻُﻮﺭَﺗِﻪِ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﺭَﺃَﻭْﻩُ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺃَﻭَّﻝَ ﻣَﺮَّﺓٍ، ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﺃَﻧَﺎ ﺭَﺑُّﻜُﻢْ، ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﺃَﻧْﺖَ ﺭَﺑُّﻨَﺎ ﻓَﻠَﺎ ﻳُﻜَﻠِّﻤُﻪُ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟْﺄَﻧْﺒِﻴَﺎﺀُ، ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻫَﻞْ ﺑَﻴْﻨَﻜُﻢْ ﻭَﺑَﻴْﻨَﻪُ ﺁﻳَﺔٌ ﺗَﻌْﺮِﻓُﻮﻧَﻪُ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﺍﻟﺴَّﺎﻕُ ﻓَﻴَﻜْﺸِﻒُ ﻋَﻦْ ﺳَﺎﻗِﻪِ ﻓَﻴَﺴْﺠُﺪُ ﻟَﻪُ ﻛُﻞُّ ﻣُﺆْﻣِﻦٍ، ﻭَﻳَﺒْﻘَﻰ ﻣَﻦْ ﻛَﺎﻥَ
ﻳَﺴْﺠُﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﺭِﻳَﺎﺀً ﻭَﺳُﻤْﻌَﺔً ﻓَﻴَﺬْﻫَﺐُ ﻛَﻴْﻤَﺎ ﻳَﺴْﺠُﺪَ ﻓَﻴَﻌُﻮﺩُ ﻇﻬْﺮُﻩُ ﻃﺒَﻘًﺎ ﻭﺍﺣِﺪًﺍ ﺛُﻢَّ ﻳُﺆْﺗَﻰ ﺑِﺎﻟْﺠَﺴْﺮِ ﻓَﻴُﺠْﻌَﻞُ ﺑَﻴْﻦَ ﻇَﻬْﺮَﻱْ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ» ﻗُﻠْﻨَﺎ: ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻣَﺎ ﺍﻟْﺠَﺴْﺮُ؟ ﻗَﺎﻝَ: « ﻣَﺪْﺣَﻀَﺔٌ ﻣَﺰِﻟَّﺔٌ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺧَﻄَﺎﻃِﻴﻒُ ﻭَﻛَﻠَﺎﻟِﻴﺐُ ﻭَﺣَﺴَﻜَﺔٌ ﻣُﻔَﻠْﻄَﺤَﺔٌ ﻟَﻬَﺎ ﺷَﻮْﻛَﺔٌ ﻋُﻘَﻴْﻔَﺎﺀُ
ﺗَﻜُﻮﻥُ ﺑِﻨَﺠْﺪٍ ﻳُﻘَﺎﻝُ ﻟَﻬَﺎ : ﺍﻟﺴَّﻌْﺪَﺍﻥُ، ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻦُ ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ ﻛَﺎﻟﻄَّﺮْﻑِ ﻭَﻛَﺎﻟْﺒَﺮْﻕِ ﻭَﻛَﺎﻟﺮِّﻳﺢِ ﻭَﻛَﺄَﺟَﺎﻭِﻳﺪِ ﺍﻟْﺨَﻴْﻞِ ﻭَﺍﻟﺮِّﻛَﺎﺏِ ﻓَﻨَﺎﺝٍ ﻣُﺴَﻠَّﻢٌ، ﻭَﻧَﺎﺝٍ ﻣَﺨْﺪُﻭﺵٌ، ﻭَﻣَﻜْﺪُﻭﺱٌ ﻓِﻲ ﻧَﺎﺭِ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ، ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﻤُﺮَّ ﺁﺧِﺮُﻫُﻢْ ﻳُﺴْﺤَﺐُ ﺳَﺤْﺒًﺎ ﻓَﻤَﺎ ﺃَﻧْﺘُﻢْ ﺑِﺄَﺷَﺪَّ ﻟِﻲ ﻣُﻨَﺎﺷَﺪَﺓً ﻓِﻲ ﺍﻟْﺤَﻖِّ- ﻗَﺪْ
ﺗَﺒَﻴَّﻦَ ﻟَﻜُﻢْ - ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻦِ ﻳَﻮْﻣَﺌِﺬٍ ﻟِﻠْﺠَﺒَّﺎﺭِ، ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺭَﺃَﻭْﺍ ﺃَﻧَّﻬُﻢْ ﻗَﺪْ ﻧَﺠَﻮْﺍ ﻓِﻲ ﺇِﺧْﻮَﺍﻧِﻬِﻢْ، ﻳَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﺇِﺧْﻮَﺍﻧُﻨَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳُﺼَﻠُّﻮﻥَ ﻣَﻌَﻨَﺎ ﻭَﻳَﺼُﻮﻣُﻮﻥَ ﻣَﻌَﻨَﺎ، ﻭَﻳَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ ﻣَﻌَﻨَﺎ، ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ: ﺍﺫْﻫَﺒُﻮﺍ ﻓَﻤَﻦْ ﻭَﺟَﺪْﺗُﻢْ ﻓِﻲ ﻗَﻠْﺒِﻪِ ﻣِﺜْﻘَﺎﻝَ ﺩِﻳﻨَﺎﺭٍ ﻣِﻦْ ﺇِﻳﻤَﺎﻥٍ
ﻓَﺄَﺧْﺮِﺟُﻮﻩُ، ﻭَﻳُﺤَﺮِّﻡُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺻُﻮَﺭَﻫُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ، ﻓَﻴَﺄْﺗُﻮﻧَﻬُﻢْ ﻭَﺑَﻌْﻀُﻬُﻢْ ﻗَﺪْ ﻏَﺎﺏَ ﻓِﻲ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﺇِﻟَﻰ ﻗَﺪَﻣِﻪِ، ﻭَﺇِﻟَﻰ ﺃَﻧْﺼَﺎﻑِ ﺳَﺎﻗَﻴْﻪِ، ﻓَﻴُﺨْﺮِﺟُﻮﻥَ ﻣَﻦْ ﻋَﺮَﻓُﻮﺍ ﺛُﻢَّ ﻳَﻌُﻮﺩُﻭﻥَ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﺫْﻫَﺒُﻮﺍ ﻓَﻤَﻦْ ﻭَﺟَﺪْﺗُﻢْ ﻓِﻲ ﻗَﻠْﺒِﻪِ ﻣِﺜْﻘَﺎﻝَ ﻧِﺼْﻒِ ﺩِﻳﻨَﺎﺭٍ ﻓَﺄَﺧْﺮِﺟُﻮﻩُ ﻓَﻴُﺨْﺮِﺟُﻮﻥَ ﻣَﻦْ
ﻋَﺮَﻓُﻮﺍ ﺛُﻢَّ ﻳَﻌُﻮﺩُﻭﻥَ، ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﺍﺫْﻫَﺒُﻮﺍ ﻓَﻤَﻦْ ﻭَﺟَﺪْﺗُﻢْ ﻓِﻲ ﻗَﻠْﺒِﻪِ ﻣِﺜْﻘَﺎﻝَ ﺫَﺭَّﺓٍ ﻣِﻦْ ﺇِﻳﻤَﺎﻥٍ ﻓَﺄَﺧْﺮِﺟُﻮﻩُ ﻓَﻴُﺨْﺮِﺟُﻮﻥَ ﻣَﻦْ ﻋَﺮَﻓُﻮﺍ» ﻗَﺎﻝَ ﺃَﺑُﻮ ﺳَﻌِﻴﺪٍ : ﻓَﺈِﻥْ ﻟَﻢْ ﺗُﺼَﺪِّﻗُﻮﻧِﻲ ﻓَﺎﻗْﺮَﺀُﻭﺍ: ﴿ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻟَﺎ ﻳَﻈۡﻠِﻢُ ﻣِﺜۡﻘَﺎﻝَ ﺫَﺭَّﺓٖۖ ﻭَﺇِﻥ ﺗَﻚُ ﺣَﺴَﻨَﺔٗ ﻳُﻀَٰﻌِﻔۡﻬَﺎ﴾ ﻓَﻴَﺸْﻔَﻊُ ﺍﻟﻨَّﺒِﻴُّﻮﻥَ
ﻭَﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔُ ﻭَﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟْﺠَﺒَّﺎﺭُ: ﺑَﻘِﻴَﺖْ ﺷَﻔَﺎﻋَﺘِﻲ ﻓَﻴَﻘْﺒِﺾُ ﻗَﺒْﻀَﺔً ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻓَﻴُﺨْﺮِﺝُ ﺃَﻗْﻮَﺍﻣًﺎ ﻗَﺪْ ﺍﻣْﺘُﺤِﺸُﻮﺍ ﻓَﻴُﻠْﻘَﻮْﻥَ ﻓِﻲ ﻧَﻬَﺮٍ ﺑِﺄَﻓْﻮَﺍﻩِ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ، ﻳُﻘَﺎﻝُ ﻟَﻪُ: ﻣَﺎﺀُ ﺍﻟْﺤَﻴَﺎﺓِ؛ ﻓَﻴَﻨْﺒُﺘُﻮﻥَ ﻓِﻲ ﺣَﺎﻓَﺘَﻴْﻪِ ﻛَﻤَﺎ ﺗَﻨْﺒُﺖُ ﺍﻟْﺤِﺒَّﺔُ ﻓِﻲ ﺣَﻤِﻴﻞِ ﺍﻟﺴَّﻴْﻞِ ﻗَﺪْ ﺭَﺃَﻳْﺘُﻤُﻮﻫَﺎ
ﺇِﻟَﻰ ﺟَﺎﻧِﺐِ ﺍﻟﺼَّﺨْﺮَﺓِ ﻭَﺇِﻟَﻰ ﺟَﺎﻧِﺐِ ﺍﻟﺸَّﺠَﺮَﺓِ، ﻓَﻤَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲِ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﺃَﺧْﻀَﺮَ، ﻭَﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻈِّﻞِّ ﻛَﺎﻥَ ﺃَﺑْﻴَﺾَ، ﻓَﻴَﺨْﺮُﺟُﻮﻥَ ﻛَﺄَﻧَّﻬُﻢْ ﺍﻟﻠُّﺆْﻟُﺆُ ﻓَﻴُﺠْﻌَﻞُ ﻓِﻲ ﺭِﻗَﺎﺑِﻬِﻢْ ﺍﻟْﺨَﻮَﺍﺗِﻴﻢُ ﻓَﻴَﺪْﺧُﻠُﻮﻥَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺃَﻫْﻞُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ: ﻫَﺆُﻟَﺎﺀِ ﻋُﺘَﻘَﺎﺀُ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ
ﺃَﺩْﺧَﻠَﻬُﻢْ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﺑِﻐَﻴْﺮِ ﻋَﻤَﻞٍ ﻋَﻤِﻠُﻮﻩُ ﻭَﻟَﺎ ﺧَﻴْﺮٍ ﻗَﺪَّﻣُﻮﻩُ، ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ ﻟَﻬُﻢْ: ﻟَﻜُﻢْ ﻣَﺎ ﺭَﺃَﻳْﺘُﻢْ ﻭَﻣِﺜْﻠَﻪُ ﻣَﻌَﻪُ» . ( ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
৭৯. আবু সায়িদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল কিয়ামতের দিন আমরা
কি আমাদের রবকে দেখব? তিনি বলেন: “তোমরা কি সূর্য ও চাঁদ দেখায় সন্দেহ কর যখন আসমান পরিষ্কার থাকে?”, আমরা বললাম:
না, তিনি বললেন: “নিশ্চয় সেদিন তোমরা তোমাদের রবকে দেখায় সন্দেহ করবে না, যেমন চাঁদ-সূর্য উভয়কে দেখায় সন্দেহ কর
না”। অতঃপর বললেন: “একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবে: প্রত্যেক সম্প্রদায় যেন তার নিকট যায়, যার তারা ইবাদত করত, ক্রুসের
অনুসারীরা তাদের ক্রুসের সাথে যাবে; মূর্তিপূজকরা তাদের মূর্তির সাথে যাবে; এবং প্রত্যেক মাবুদের ইবাদতকারীরা তাদের
মাবুদের সাথে যাবে। অবশেষে আল্লাহকে ইবাদতকারী নেককার অথবা বদকার লোকেরা অবশিষ্ট থাকবে এবং কতক কিতাবি,
অতঃপর জাহান্নাম হাজির করা হবে যেন তা মরীচিকা। অতঃপর ইহুদিদের বলা হবে: তোমরা কার ইবাদত করতে? তারা বলবে:
আমরা আল্লাহর ছেলে উযাইর এর ইবাদত করতাম, অতঃপর তাদেরকে বলা হবে: তোমরা মিথ্যা বলেছ, আল্লাহর কোন স্ত্রী ও
সন্তান নেই, তোমরা কি চাও? তারা বলবে: আমরা চাই আমাদেরকে পানি পান করান, বলা হবে: তোমরা পান কর, ফলে তারা
জাহান্নামে ছিটকে পড়বে। অতঃপর খৃস্টানদের বলা হবে: তোমরা কার ইবাদত করতে? তারা বলবে: আমরা আল্লাহর ছেলে ঈসার
ইবাদত করতাম, বলা হবে: তোমরা মিথ্যা বলেছ, আল্লাহর কোন স্ত্রী ও সন্তান নেই, তোমরা কি চাও? তারা বলবে: আমরা চাই
আমাদের পানি পান করান। বলা হবে: পান কর, ফলে তারা জাহান্নামে ছিটকে পড়বে, অবশেষে আল্লাহকে ইবাদতকারী
নেককার ও বদকার অবশিষ্ট থাকবে, তাদেরকে বলা হবে: কে তোমাদেরকে আটকে রেখেছে অথচ লোকেরা চলে গেছে? তারা
বলবে: আমরা তাদেরকে (দুনিয়াতে) ত্যাগ করেছি, আজ আমরা তার (আমাদের রবের) বেশী মুখাপেক্ষী, আমরা এক
ঘোষণাকারীকে ঘোষণা করতে শুনেছি: প্রত্যেক কওম যেন তার সাথেই মিলিত হয়, যার তারা ইবাদত করত, তাই আমরা আমাদের
রবের অপেক্ষা করছি। তিনি বলেন: অতঃপর আল্লাহ তাদের নিকট আসবেন ভিন্ন সুরুতে, যে সুরুতে প্রথমবার তারা তাকে
দেখেনি। তিনি বলবেন: আমি তোমাদের রব। তারা বলবে: আপনি আমাদের রব, নবীগণ ব্যতীত তার সাথে কেউ কথা বলবে না।
তিনি বলবেন: তোমাদের ও তার মাঝে কোন নিদর্শন আছে যা তোমরা চিন? তারা বলবে: পায়ের গোছা, ফলে তিনি তার গোছা
উন্মুক্ত করবেন, প্রত্যেক মুমিন তাকে সেজদা করবে, তবে যে লোকদেখানো কিংবা লোকদের শোনানোর জন্য সেজদা করত সে
অবশিষ্ট থাকবে। সে সেজদা করতে চাইবে কিন্তু তার পিঠ উল্টো সোজা খাড়া হয়ে যাবে। অতঃপর পুল আনা হবে এবং তা
জাহান্নামের ওপর রাখা হবে। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল পুল কি? তিনি বললেন: পদস্খলনের স্থান, তার ওপর রয়েছে ছো
মারা হুক, পেরেক, বিশাল বড়শি যার রয়েছে বড় কাঁটা যেরূপ নজদ এলাকায় হয়, যা সা‘দান বলা হয়। তার ওপর দিয়ে মুমিনগণ
চোখের পলক, বিদ্যুৎ, বাতাস, শক্তিশালী ঘোড়া ও পায়দল চলার ন্যায় পার হবে, কেউ নিরাপদে নাজাত পাবে, কেউ ক্ষতবিক্ষত
হয়ে নাজাত পাবে এবং কেউ জাহান্নামে নিক্ষেপ হবে, অবশেষে যখন তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি অতিক্রম করবে তখন তাকে টেনে
হিছড়ে পার করা হবে। আর কোন সত্য বিষয়ে তোমরা আমার নিকট এতটা পীড়াপীড়ি কর না, -তোমাদের নিকট যা স্পষ্ট হয়েছে-
মুমিনগণ সেদিন আল্লাহর নিকট যতটা পীড়াপীড়ি করবে, যখন দেখবে যে তাদের ভাইদের মধ্যে শুধু তারাই নাজাত পেয়েছে,
তারা বলবে: হে আমাদের রব, আমাদের ভাইয়েরা আমাদের সাথে সালাত আদায় করত, আমাদের সাথে সিয়াম পালন করত এবং
আমাদের সাথে আমল করত। আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: যাও যার অন্তরে তোমরা দিনার পরিমাণ ঈমান দেখ তাকে বের কর।
আল্লাহ তাদের আকৃতিকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দিবেন। তারা তাদের নিকট আসবে, তাদের কেউ পা পর্যন্ত অদৃশ্য হয়ে
গেছে, কেউ গোছার অর্ধেক পর্যন্ত, তারা যাদেরকে চিনবে বের করে আনবে। অতঃপর ফিরে আসবে, আল্লাহ বলবেন: যাও, যার
অন্তরে তোমরা অর্ধেক দিনার পরিমাণ ঈমান দেখ তাকে বের কর, তারা যাকে চিনবে বের করে আনবে। অতঃপর ফিরে আসবে,
আল্লাহ বলবেন: যাও যার অন্তরে তোমরা অণু পরিমাণ ঈমান দেখ তাকে বের কর, ফলে তারা যাকে চিনবে বের করবে”। আবু সায়িদ
বলেন: যদি তোমরা আমাকে সত্য জ্ঞান না কর, তাহলে পড়:
﴿ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻟَﺎ ﻳَﻈۡﻠِﻢُ ﻣِﺜۡﻘَﺎﻝَ ﺫَﺭَّﺓٖۖ ﻭَﺇِﻥ ﺗَﻚُ ﺣَﺴَﻨَﺔٗ ﻳُﻀَٰﻌِﻔۡﻬَﺎ ٤٠ ﴾ [ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ : ٤٠ ]
“নিশ্চয় আল্লাহ অণু পরিমাণও যুলম করেন না। আর যদি সেটি ভাল কাজ হয়, তিনি তাকে দ্বিগুণ করে দেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে
মহা প্রতিদান প্রদান করেন”। [29] অতঃপর নবী, ফেরেশতা ও মুমিনগণ সুপারিশ করবেন। আল্লাহ বলবেন: আমার সুপারিশ বাকি
রয়েছে, অতঃপর জাহান্নাম থেকে এক মুষ্টি গ্রহণ করবেন, ফলে এমন লোক বের করবেন যারা জ্বলে গিয়েছে, তাদেরকে
জান্নাতের দরজার নিকট অবস্থিত নহরে নিক্ষেপ করা হবে, যাকে বলা হয় সঞ্জীবনী পানি, ফলে তার দু’পাশে গজিয়ে উঠবে
যেমন প্রবাহিত পানির উর্বর মাটিতে শস্য গজিয়ে উঠে, যা তোমরা দেখেছ পাথর ও গাছের পাশে, তার থেকে যা সূর্যের দিকে
তা সবুজ এবং যা ছায়ার আড়ালে তা সাদা, অতঃপর তারা মুক্তোর ন্যায় বের হবে। অতঃপর তাদের গর্দানে সীলমোহর দয়া হবে,
অতঃপর তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে, জান্নাতিরা বলবে: তারা হচ্ছে রহমানের নাজাতপ্রাপ্ত, তাদেরকে তিনি জান্নাতে
প্রবেশ করিয়েছেন কোন আমলের বিনিময়ে নয়, যা তারা করেছে, বা কোন কল্যাণের বিনিময়ে নয় যা তারা অগ্রে প্রেরণ
করেছে। অতঃপর তাদেরকে বলা হবে: তোমাদের জন্য তোমরা যা দেখেছ তা এবং তার সাথে তার অনুরূপ”। [বুখারি ও মুসলিম]
হাদিসটি সহিহ।
80 - ﻋَﻦْ ﺃﺑﻲ ﺍﻟﺰُّﺑَﻴْﺮِ ﺃَﻧَّﻪُ ﺳَﻤِﻊَ ﺟَﺎﺑِﺮَ ﺑْﻦَ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ- ﻳُﺴْﺄَﻝُ ﻋَﻦْ ﺍﻟْﻮُﺭُﻭﺩِ ﻓَﻘَﺎﻝَ: « ﻧَﺠِﻲﺀُ ﻧَﺤْﻦُ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻋَﻦْ ﻛَﺬَﺍ ﻭَﻛَﺬَﺍ ﺍﻧْﻈُﺮْ ﺃَﻱْ ﺫَﻟِﻚَ ﻓَﻮْﻕَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ، ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺘُﺪْﻋَﻰ ﺍﻟْﺄُﻣَﻢُ ﺑِﺄَﻭْﺛَﺎﻧِﻬَﺎ ﻭَﻣَﺎ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﺗَﻌْﺒُﺪُ، ﺍﻟْﺄَﻭَّﻝُ ﻓَﺎﻟْﺄَﻭَّﻝُ ﺛُﻢَّ
ﻳَﺄْﺗِﻴﻨَﺎ ﺭَﺑُّﻨَﺎ ﺑَﻌْﺪَ ﺫَﻟِﻚَ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻣَﻦْ ﺗَﻨْﻈُﺮُﻭﻥَ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﻧَﻨْﻈُﺮُ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﺃَﻧَﺎ ﺭَﺑُّﻜُﻢْ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﺣَﺘَّﻰ ﻧَﻨْﻈُﺮَ ﺇِﻟَﻴْﻚَ ﻓَﻴَﺘَﺠَﻠَّﻰ ﻟَﻬُﻢْ ﻳَﻀْﺤَﻚُ» . ﻗَﺎﻝَ: « ﻓَﻴَﻨْﻄَﻠِﻖُ ﺑِﻬِﻢْ ﻭَﻳَﺘَّﺒِﻌُﻮﻧَﻪُ، ﻭَﻳُﻌْﻄَﻰ ﻛُﻞُّ ﺇِﻧْﺴَﺎﻥٍ ﻣِﻨْﻬُﻢْ - ﻣُﻨَﺎﻓِﻖٍ ﺃَﻭْ ﻣُﺆْﻣِﻦٍ - ﻧُﻮﺭًﺍ ﺛُﻢَّ ﻳَﺘَّﺒِﻌُﻮﻧَﻪُ،
ﻭَﻋَﻠَﻰ ﺟِﺴْﺮِ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﻛَﻠَﺎﻟِﻴﺐُ ﻭَﺣَﺴَﻚٌ ﺗَﺄْﺧُﺬُ ﻣَﻦْ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺛُﻢَّ ﻳُﻄْﻔَﺄُ ﻧُﻮﺭُ ﺍﻟْﻤُﻨَﺎﻓِﻘِﻴﻦَ، ﺛُﻢَّ ﻳَﻨْﺠُﻮ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ ﻓَﺘَﻨْﺠُﻮ ﺃَﻭَّﻝُ ﺯُﻣْﺮَﺓٍ ﻭُﺟُﻮﻫُﻬُﻢْ ﻛَﺎﻟْﻘَﻤَﺮِ ﻟَﻴْﻠَﺔَ ﺍﻟْﺒَﺪْﺭِ، ﺳَﺒْﻌُﻮﻥَ ﺃَﻟْﻔًﺎ ﻟَﺎ ﻳُﺤَﺎﺳَﺒُﻮﻥَ ﺛُﻢَّ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳَﻠُﻮﻧَﻬُﻢْ ﻛَﺄَﺿْﻮَﺇِ ﻧَﺠْﻢٍ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ، ﺛُﻢَّ ﻛَﺬَﻟِﻚَ ﺛُﻢَّ ﺗَﺤِﻞُّ
ﺍﻟﺸَّﻔَﺎﻋَﺔُ، ﻭَﻳَﺸْﻔَﻌُﻮﻥَ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺨْﺮُﺝَ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻣَﻦْ ﻗَﺎﻝَ : ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻓِﻲ ﻗَﻠْﺒِﻪِ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﺨَﻴْﺮِ ﻣَﺎ ﻳَﺰِﻥُ ﺷَﻌِﻴﺮَﺓً، ﻓَﻴُﺠْﻌَﻠُﻮﻥَ ﺑِﻔِﻨَﺎﺀِ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ، ﻭَﻳَﺠْﻌَﻞُ ﺃَﻫْﻞُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﻳَﺮُﺷُّﻮﻥَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺍﻟْﻤَﺎﺀَ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﻨْﺒُﺘُﻮﺍ ﻧَﺒَﺎﺕَ ﺍﻟﺸَّﻲْﺀِ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻴْﻞِ ﻭَﻳَﺬْﻫَﺐُ ﺣُﺮَﺍﻗُﻪُ ﺛُﻢَّ
ﻳَﺴْﺄَﻝُ ﺣَﺘَّﻰ ﺗُﺠْﻌَﻞَ ﻟَﻪُ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﻭَﻋَﺸَﺮَﺓُ ﺃَﻣْﺜَﺎﻟِﻬَﺎ ﻣَﻌَﻬَﺎ» . ( ﻡ , ﺣﻢ ) ﻣﻮﻗﻮﻑ ﺻﺤﻴﺢ
৮০. আবু যুবায়ের থেকে বর্ণিত, তিনি জাবের ইব্ন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে শুনেছেন, তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল
‘ওরুদ’ (বা জাহান্নামে নামা) সম্পর্কে, তিনি বলেন: আমরা কিয়ামতের দিন অমুক অমুক স্থান থেকে হাজির হব, দেখ অর্থাৎ
মানুষের ওপরে, তিনি বলেন: লোকদেরকে তাদের মূর্তিসহ ডাকা হবে এবং তারা যার ইবাদত করত। প্রথম অতঃপর প্রথম
ধারাবাহিকভাবে, অতঃপর আমাদের রব আসবেন এবং বলবেন: তোমরা কার অপেক্ষা করছ? তারা বলবেন: আমরা আমাদের রবের
অপেক্ষা করছি, তিনি বলবেন: আমি তোমাদের রব, তারা বলবে: যতক্ষণ না আমরা আপনাকে দেখব, ফলে তিনি তাদের সামনে
জাহির হবেন সহাস্যে”। রাসূল বলেন: “অতঃপর তিনি তাদের নিয়ে চলবেন, তারাও তার অনুসরণ করবে। তাদের প্রত্যেক ব্যক্তিকে
নূর দেয়া হবে, কি মুনাফিক কি মুমিন, অতঃপর তারা তার অনুসরণ করবে, জাহান্নামের পুলে থাকবে হুক ও বড়শিসমূহ, সেগুলো
পাকড়াও করবে আল্লাহ যাকে চাইবেন তাকে, অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা মুনাফিকদের নূর নিভিয়ে দিবেন, মুমিনগণ নাজাত
পাবে, প্রথম দলটি নাজাত পাবে তাদের চেহারা হবে চৌদ্দ তারিখের চাঁদের ন্যায়, শত্তুর হাজার এমন হবে যাদের কোন হিসাব
নেয়া হবে না। অতঃপর তাদের পরবর্তীরা হবে আসমানের সবচেয়ে উজ্জল তারকার ন্যায়, অতঃপর অনুরূপ, অতঃপর সুপারিশ আরম্ভ
হবে এবং তারা সুপারিশ করবে, অবশেষে যে ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ বলেছে এবং যার অন্তরে গমের ওজন পরিমাণ কল্যাণ ছিল সেও জাহান্নাম
থেকে বের হবে। তাদেরকে জান্নাতের বারান্দায় রাখা হবে, জান্নাতিরা তাদের ওপর পানি ঢালতে থাকবে, অবশেষে তারা
পানি প্রবাহের স্থানে শস্য গজানোর ন্যায় বেড়ে উঠবে, তাদের পোড়াদাগ চলে যাবে, অতঃপর প্রার্থনা করা হবে, এমনকি
তাকে দুনিয়া ও দুনিয়ার সমান দশগুণ দেয়া হবে”। [মুসলিম ও আহমদ] হাদিসটি মওকুফ ও সহিহ।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর আল্লাহর নিয়ামত
-81 ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ- ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﺳﺄﻟﺖُ ﺭﺑﻲ ﻣﺴﺄﻟﺔً ﻭﺩﺩﺕ ﺃﻧﻲ ﻟﻢ ﺃﺳﺄﻟﻪ، ﻗﻠﺖ : ﻳﺎ ﺭﺏ ﻛﺎﻧﺖ ﻗﺒﻠﻲ ﺭﺳﻞٌ ﻣﻨﻬﻢ ﻣﻦ ﺳﺨﺮﺕ ﻟﻬﻢ ﺍﻟﺮﻳﺎﺡ، ﻭﻣﻨﻬﻢ ﻣﻦ ﻛﺎﻥ ﻳُﺤﻲ ﺍﻟﻤﻮﺗﻰ . ﻗﺎﻝ:
ﺃﻟﻢ ﺃﺟﺪﻙ ﻳﺘﻴﻤًﺎ ﻓﺄﻭﻳﺘﻚ؟ ﺃﻟﻢ ﺃﺟﺪﻙ ﺿﺎﻻً ﻓﻬﺪﻳﺘُﻚ؟ ﺃﻟﻢ ﺃﺟﺪﻙ ﻋﺎﺋﻼً ﻓﺄﻏﻨﻴﺘُﻚ؟ ﺃﻟﻢ ﺃﺷﺮﺡ ﻟﻚ ﺻﺪﺭﻙ؟ ﻭﻭﺿﻌﺖ ﻋﻨﻚ ﻭﺯﺭﻙ؟ ﻗﺎﻝ: ﻗﻠﺖ: ﺑﻠﻰ ﻳﺎ ﺭﺏ » . ( ﻃﺐ ) ﺣﺴﻦ
৮১. ইব্ন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমি আমার রবকে
একটি বিষয় জিজ্ঞাসা করেছি, আফসোস আমি যদি তা জিজ্ঞাসা না করতাম। আমি বলেছি: হে আমার রব আমার পূর্বে অনেক
রাসূল ছিল, তাদের কারো জন্য বাতাস অনুগত করে দেয়া হয়েছে, তাদের কেউ মৃতদের জীবিত করত। আল্লাহ্ বলেন: আমি কি
তোমাকে ইয়াতিম পাই নি অতঃপর আশ্রয় দিয়েছি? আমি কি তোমাকে পথভোলা পাই নি অতঃপর পথ দেখিয়েছি? আমি কি
তোমাকে অভাবী পাই নি অতঃপর তোমাকে সচ্ছল করেছি? আমি কি তোমার বক্ষ উন্মুক্ত করি নি? আমি কি তোমার থেকে
বোঝা দূর করি নি? রাসূল বলেন: আমি বলেছি: অবশ্যই হে আমার রব”। [তাবরানি] হাদিসটি হাসান।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাউজ
-82 ﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲٍ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ - ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﻟَﻴَﺮِﺩَﻥَّ ﻋَﻠَﻲَّ ﻧَﺎﺱٌ ﻣِﻦْ ﺃَﺻْﺤَﺎﺑِﻲ ﺍﻟْﺤَﻮْﺽَ، ﺣَﺘَّﻰ ﻋَﺮَﻓْﺘُﻬُﻢْ ﺍﺧْﺘُﻠِﺠُﻮﺍ ﺩُﻭﻧِﻲ ﻓَﺄَﻗُﻮﻝُ: ﺃَﺻْﺤَﺎﺑِﻲ , ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻟَﺎ ﺗَﺪْﺭِﻱ ﻣَﺎ ﺃَﺣْﺪَﺛُﻮﺍ ﺑَﻌْﺪَﻙَ » . ( ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
৮২. আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “অবশ্যই আমার কতক লোক
হাউজে আমার নিকট হাজির হবে, অবশেষে যখন আমি তাদেরকে চিনব আমার পিছন থেকে তাদেরকে ছো মেরে নেয়া হবে,
আমি বলব: আমার লোক। আমাকে (আল্লাহ্) বলবেন: আপনি জানেন না আপনার পর তারা কি আবিষ্কার করেছে”। [বুখারি ও
মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
-83 ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ - ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ - ﻗﺎﻟﺖ: ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﻭَﻫُﻮَ ﺑَﻴْﻦَ ﻇَﻬْﺮَﺍﻧَﻲْ ﺃَﺻْﺤَﺎﺑِﻪِ: « ﺇِﻧِّﻲ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﺤَﻮْﺽِ ﺃَﻧْﺘَﻈِﺮُ ﻣَﻦْ ﻳَﺮِﺩُ ﻋَﻠَﻲَّ ﻣِﻨْﻜُﻢْ ﻓَﻮَﺍﻟﻠَّﻪِ ﻟَﻴُﻘْﺘَﻄَﻌَﻦَّ ﺩُﻭﻧِﻲ ﺭِﺟَﺎﻝٌ ﻓَﻠَﺄَﻗُﻮﻟَﻦَّ: ﺃَﻱْ ﺭَﺏِّ ﻣِﻨِّﻲ ﻭَﻣِﻦْ
ﺃُﻣَّﺘِﻲ . ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﺇِﻧَّﻚَ ﻟَﺎ ﺗَﺪْﺭِﻱ ﻣَﺎ ﻋَﻤِﻠُﻮﺍ ﺑَﻌْﺪَﻙَ ﻣَﺎ ﺯَﺍﻟُﻮﺍ ﻳَﺮْﺟِﻌُﻮﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻋْﻘَﺎﺑِﻬِﻢْ » . ( ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
৮৩. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে
শুনেছি, যখন তিনি তার সাথীদের মাঝে ছিলেন: “আমি হাউজের ওপর থাকব, অপেক্ষা করব তার জন্য যে তোমাদের থেকে
আমার কাছে আসবে। আল্লাহর শপথ আমার থেকে কতক লোক বিচ্ছিন্ন করা হবে, আমি বলব: হে আমার রব (তারা) আমার ও আমার
উম্মতের অন্তর্ভুক্ত, তিনি বলবেন: তুমি জান না তোমার পর তারা কি করেছে, তারা তাদের পশ্চাতেই ধাবিত ছিল”। [মুসলিম]
হাদিসটি সহিহ।
হাউজে কাউসার
-84 ﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲِ ﺑْﻦِ ﻣَﺎﻟِﻚٍ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ - ﻗَﺎﻝَ: ﺑَﻴْﻨَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺫَﺍﺕَ ﻳَﻮْﻡٍ ﺑَﻴْﻦَ ﺃَﻇْﻬُﺮِﻧَﺎ ﺇِﺫْ ﺃَﻏْﻔَﻰ ﺇِﻏْﻔَﺎﺀَﺓً ﺛُﻢَّ ﺭَﻓَﻊَ ﺭَﺃْﺳَﻪُ ﻣُﺘَﺒَﺴِّﻤًﺎ، ﻓَﻘُﻠْﻨَﺎ: ﻣَﺎ ﺃَﺿْﺤَﻜَﻚَ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ؟! ﻗَﺎﻝَ: « ﺃُﻧْﺰِﻟَﺖْ ﻋَﻠَﻲَّ ﺁﻧِﻔًﺎ ﺳُﻮﺭَﺓٌ ﻓَﻘَﺮَﺃَ: ﺑِﺴْﻢِ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢِ ﴿ﺇِﻧَّﺎٓ ﺃَﻋۡﻄَﻴۡﻨَٰﻚَ ﭐﻟۡﻜَﻮۡﺛَﺮَ ١ ﻓَﺼَﻞِّ ﻟِﺮَﺑِّﻚَ ﻭَﭐﻧۡﺤَﺮۡ ٢ ﺇِﻥَّ ﺷَﺎﻧِﺌَﻚَ ﻫُﻮَ ﭐﻟۡﺄَﺑۡﺘَﺮُ ٣﴾ ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻝَ : ﺃَﺗَﺪْﺭُﻭﻥَ ﻣَﺎ ﺍﻟْﻜَﻮْﺛَﺮُ؟» ﻓَﻘُﻠْﻨَﺎ: ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟُﻪُ ﺃَﻋْﻠَﻢُ ﻗَﺎﻝَ: « ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻧَﻬْﺮٌ ﻭَﻋَﺪَﻧِﻴﻪِ ﺭَﺑِّﻲ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ - ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺧَﻴْﺮٌ ﻛَﺜِﻴﺮٌ ﻫُﻮَ ﺣَﻮْﺽٌ ﺗَﺮِﺩُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﺁﻧِﻴَﺘُﻪُ ﻋَﺪَﺩُ ﺍﻟﻨُّﺠُﻮﻡِ ﻓَﻴُﺨْﺘَﻠَﺞُ ﺍﻟْﻌَﺒْﺪُ ﻣِﻨْﻬُﻢْ ﻓَﺄَﻗُﻮﻝُ : ﺭَﺏِّ ﺇِﻧَّﻪُ ﻣِﻦْ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻣَﺎ ﺗَﺪْﺭِﻱ ﻣَﺎ ﺃَﺣْﺪَﺛَﺖْ ﺑَﻌْﺪَﻙَ » . ( ﻡ , ﺩ ) ﺻﺤﻴﺢ
৮৪. আনাস ইব্ন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
আমাদের মাঝে ছিলেন, হঠাৎ তিনি তন্দ্রা গেলেন, অতঃপর হাসতে হাসতে মাথা তুললেন। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল
কিসে আপনাকে হাসাচ্ছে?! তিনি বললেন: “এ মুহূর্তে আমার ওপর একটি সূরা নাযিল করা হয়েছে, অতঃপর তিনি পড়লেন:
﴿ﺇِﻧَّﺎٓ ﺃَﻋۡﻄَﻴۡﻨَٰﻚَ ﭐﻟۡﻜَﻮۡﺛَﺮَ ١ ﻓَﺼَﻞِّ ﻟِﺮَﺑِّﻚَ ﻭَﭐﻧۡﺤَﺮۡ ٢ ﺇِﻥَّ ﺷَﺎﻧِﺌَﻚَ ﻫُﻮَ ﭐﻟۡﺄَﺑۡﺘَﺮُ ٣﴾ [ ﺍﻟﻜﻮﺛﺮ: ١، ٤ ]
“নিশ্চয় আমি তোমাকে আল-কাউসার দান করেছি। অতএব তোমার রবের উদ্দেশ্যেই সালাত পড় এবং নহর কর। নিশ্চয় তোমার
প্রতি শত্রুতা পোষণকারীই নির্বংশ”। [30] অতঃপর তিনি বললেন: “তোমরা জান কাউসার কি?” আমরা বললাম: আল্লাহ ও তার
রাসূল ভাল জানেন। তিনি বললেন: “এটা একটা নহর, এর ওয়াদা আল্লাহ আমার নিকট করেছেন, তাতে রয়েছে প্রচুর কল্যাণ। এটা এক
হাউজ তাতে আমার উম্মত গমন করবে, তার পাত্রগুলো নক্ষত্রের সংখ্যার ন্যায়, তাদের থেকে এক বান্দাকে ছো মেরে নেয়া
হবে, আমি বলব: হে আমার রব, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত, তিনি বলবেন: তুমি জান না তোমার পর তারা কি আবিষ্কার
করেছে”। [মুসলিম ও আবু দাউদ] হাদিসটি সহিহ।
সুপারিশের হাদিস
-85 ﻋَﻦْ ﻣَﻌْﺒَﺪُ ﺑْﻦُ ﻫِﻠَﺎﻝٍ ﺍﻟْﻌَﻨَﺰِﻱُّ ﻗَﺎﻝَ: ﺍﺟْﺘَﻤَﻌْﻨَﺎ -ﻧَﺎﺱٌ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﺒَﺼْﺮَﺓِ - ﻓَﺬَﻫَﺒْﻨَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺃَﻧَﺲِ ﺑْﻦِ ﻣَﺎﻟِﻚٍ- ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ -، ﻭَﺫَﻫَﺒْﻨَﺎ ﻣَﻌَﻨَﺎ ﺑِﺜَﺎﺑِﺖٍ ﺍﻟْﺒُﻨَﺎﻧِﻲِّ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻳَﺴْﺄَﻟُﻪُ ﻟَﻨَﺎ ﻋَﻦْ ﺣَﺪِﻳﺚِ ﺍﻟﺸَّﻔَﺎﻋَﺔِ، ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻫُﻮَ ﻓِﻲ ﻗَﺼْﺮِﻩِ ﻓَﻮَﺍﻓَﻘْﻨَﺎﻩُ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﺍﻟﻀُّﺤَﻰ
ﻓَﺎﺳْﺘَﺄْﺫَﻧَّﺎ ﻓَﺄَﺫِﻥَ ﻟَﻨَﺎ ﻭَﻫُﻮَ ﻗَﺎﻋِﺪٌ ﻋَﻠَﻰ ﻓِﺮَﺍﺷِﻪِ، ﻓَﻘُﻠْﻨَﺎ ﻟِﺜَﺎﺑِﺖٍ : ﻟَﺎ ﺗَﺴْﺄَﻟْﻪُ ﻋَﻦْ ﺷَﻲْﺀٍ ﺃَﻭَّﻝَ ﻣِﻦْ ﺣَﺪِﻳﺚِ ﺍﻟﺸَّﻔَﺎﻋَﺔِ ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﻳَﺎ ﺃَﺑَﺎ ﺣَﻤْﺰَﺓَ ﻫَﺆُﻟَﺎﺀِ ﺇِﺧْﻮَﺍﻧُﻚَ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﺒَﺼْﺮَﺓِ ﺟَﺎﺀُﻭﻙَ ﻳَﺴْﺄَﻟُﻮﻧَﻚَ ﻋَﻦْ ﺣَﺪِﻳﺚِ ﺍﻟﺸَّﻔَﺎﻋَﺔِ ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪٌ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﺇِﺫَﺍ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻮْﻡُ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻣَﺎﺝَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﺑَﻌْﻀُﻬُﻢْ ﻓِﻲ ﺑَﻌْﺾٍ ﻓَﻴَﺄْﺗُﻮﻥَ ﺁﺩَﻡَ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ : ﺍﺷْﻔَﻊْ ﻟَﻨَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﺑِّﻚَ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻟَﺴْﺖُ ﻟَﻬَﺎ، ﻭَﻟَﻜِﻦْ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺑِﺈِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢَ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﺧَﻠِﻴﻞُ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ، ﻓَﻴَﺄْﺗُﻮﻥَ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢَ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻟَﺴْﺖُ ﻟَﻬَﺎ، ﻭَﻟَﻜِﻦْ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺑِﻤُﻮﺳَﻰ
ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻛَﻠِﻴﻢُ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﻓَﻴَﺄْﺗُﻮﻥَ ﻣُﻮﺳَﻰ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ : ﻟَﺴْﺖُ ﻟَﻬَﺎ، ﻭَﻟَﻜِﻦْ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺑِﻌِﻴﺴَﻰ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﺭُﻭﺡُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻛَﻠِﻤَﺘُﻪُ، ﻓَﻴَﺄْﺗُﻮﻥَ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ : ﻟَﺴْﺖُ ﻟَﻬَﺎ، ﻭَﻟَﻜِﻦْ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺑِﻤُﺤَﻤَّﺪٍ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ، ﻓَﻴَﺄْﺗُﻮﻧِﻲ ﻓَﺄَﻗُﻮﻝُ: ﺃَﻧَﺎ ﻟَﻬَﺎ ﻓَﺄَﺳْﺘَﺄْﺫِﻥُ ﻋَﻠَﻰ ﺭَﺑِّﻲ ﻓَﻴُﺆْﺫَﻥُ ﻟِﻲ
ﻭَﻳُﻠْﻬِﻤُﻨِﻲ ﻣَﺤَﺎﻣِﺪَ ﺃَﺣْﻤَﺪُﻩُ ﺑِﻬَﺎ ﻟَﺎ ﺗَﺤْﻀُﺮُﻧِﻲ ﺍﻟْﺂﻥَ، ﻓَﺄَﺣْﻤَﺪُﻩُ ﺑِﺘِﻠْﻚَ ﺍﻟْﻤَﺤَﺎﻣِﺪِ ﻭَﺃَﺧِﺮُّ ﻟَﻪُ ﺳَﺎﺟِﺪًﺍ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ : ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺍﺭْﻓَﻊْ ﺭَﺃْﺳَﻚَ، ﻭَﻗُﻞْ ﻳُﺴْﻤَﻊْ ﻟَﻚَ، ﻭَﺳَﻞْ ﺗُﻌْﻂَ، ﻭَﺍﺷْﻔَﻊْ ﺗُﺸَﻔَّﻊْ، ﻓَﺄَﻗُﻮﻝُ: ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﺍﻧْﻄَﻠِﻖْ ﻓَﺄَﺧْﺮِﺝْ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﻣَﻦْ ﻛَﺎﻥَ ﻓِﻲ
ﻗَﻠْﺒِﻪِ ﻣِﺜْﻘَﺎﻝُ ﺷَﻌِﻴﺮَﺓٍ ﻣِﻦْ ﺇِﻳﻤَﺎﻥٍ، ﻓَﺄَﻧْﻄَﻠِﻖُ ﻓَﺄَﻓْﻌَﻞُ، ﺛُﻢَّ ﺃَﻋُﻮﺩُ ﻓَﺄَﺣْﻤَﺪُﻩُ ﺑِﺘِﻠْﻚَ ﺍﻟْﻤَﺤَﺎﻣِﺪِ ﺛُﻢَّ ﺃَﺧِﺮُّ ﻟَﻪُ ﺳَﺎﺟِﺪًﺍ ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ: ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺍﺭْﻓَﻊْ ﺭَﺃْﺳَﻚَ، ﻭَﻗُﻞْ ﻳُﺴْﻤَﻊْ ﻟَﻚَ، ﻭَﺳَﻞْ ﺗُﻌْﻂَ، ﻭَﺍﺷْﻔَﻊْ ﺗُﺸَﻔَّﻊْ، ﻓَﺄَﻗُﻮﻝُ: ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﺍﻧْﻄَﻠِﻖْ ﻓَﺄَﺧْﺮِﺝْ ﻣِﻨْﻬَﺎ
ﻣَﻦْ ﻛَﺎﻥَ ﻓِﻲ ﻗَﻠْﺒِﻪِ ﻣِﺜْﻘَﺎﻝُ ﺫَﺭَّﺓٍ ﺃَﻭْ ﺧَﺮْﺩَﻟَﺔٍ ﻣِﻦْ ﺇِﻳﻤَﺎﻥٍ، ﻓَﺄَﺧْﺮِﺟْﻪُ ﻓَﺄَﻧْﻄَﻠِﻖُ ﻓَﺄَﻓْﻌَﻞُ ﺛُﻢَّ ﺃَﻋُﻮﺩُ ﻓَﺄَﺣْﻤَﺪُﻩُ ﺑِﺘِﻠْﻚَ ﺍﻟْﻤَﺤَﺎﻣِﺪِ ﺛُﻢَّ ﺃَﺧِﺮُّ ﻟَﻪُ ﺳَﺎﺟِﺪًﺍ , ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺍﺭْﻓَﻊْ ﺭَﺃْﺳَﻚَ، ﻭَﻗُﻞْ ﻳُﺴْﻤَﻊْ ﻟَﻚَ، ﻭَﺳَﻞْ ﺗُﻌْﻂَ، ﻭَﺍﺷْﻔَﻊْ ﺗُﺸَﻔَّﻊْ، ﻓَﺄَﻗُﻮﻝُ ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﺃُﻣَّﺘِﻲ
ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﺍﻧْﻄَﻠِﻖْ ﻓَﺄَﺧْﺮِﺝْ ﻣَﻦْ ﻛَﺎﻥَ ﻓِﻲ ﻗَﻠْﺒِﻪِ ﺃَﺩْﻧَﻰ ﺃَﺩْﻧَﻰ ﺃَﺩْﻧَﻰ ﻣِﺜْﻘَﺎﻝِ ﺣَﺒَّﺔِ ﺧَﺮْﺩَﻝٍ ﻣِﻦْ ﺇِﻳﻤَﺎﻥٍ، ﻓَﺄَﺧْﺮِﺟْﻪُ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻓَﺄَﻧْﻄَﻠِﻖُ ﻓَﺄَﻓْﻌَﻞُ » . ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺧَﺮَﺟْﻨَﺎ ﻣِﻦْ ﻋِﻨْﺪِ ﺃَﻧَﺲٍ ﻗُﻠْﺖُ ﻟِﺒَﻌْﺾِ ﺃَﺻْﺤَﺎﺑِﻨَﺎ: ﻟَﻮْ ﻣَﺮَﺭْﻧَﺎ ﺑِﺎﻟْﺤَﺴَﻦِ ﻭَﻫُﻮَ ﻣُﺘَﻮَﺍﺭٍ ﻓِﻲ ﻣَﻨْﺰِﻝِ ﺃَﺑِﻲ ﺧَﻠِﻴﻔَﺔَ
ﻓَﺤَﺪَّﺛْﻨَﺎﻩُ ﺑِﻤَﺎ ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺃَﻧَﺲُ ﺑْﻦُ ﻣَﺎﻟِﻚٍ ﻓَﺄَﺗَﻴْﻨَﺎﻩُ ﻓَﺴَﻠَّﻤْﻨَﺎ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻓَﺄَﺫِﻥَ ﻟَﻨَﺎ ﻓَﻘُﻠْﻨَﺎ ﻟَﻪُ: ﻳَﺎ ﺃَﺑَﺎ ﺳَﻌِﻴﺪٍ ﺟِﺌْﻨَﺎﻙَ ﻣِﻦْ ﻋِﻨْﺪِ ﺃَﺧِﻴﻚَ ﺃَﻧَﺲِ ﺑْﻦِ ﻣَﺎﻟِﻚٍ ﻓَﻠَﻢْ ﻧَﺮَ ﻣِﺜْﻞَ ﻣَﺎ ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟﺸَّﻔَﺎﻋَﺔِ , ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﻫِﻴﻪْ , ﻓَﺤَﺪَّﺛْﻨَﺎﻩُ ﺑِﺎﻟْﺤَﺪِﻳﺚِ ﻓَﺎﻧْﺘَﻬَﻰ ﺇِﻟَﻰ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟْﻤَﻮْﺿِﻊِ, ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﻫِﻴﻪْ ,
ﻓَﻘُﻠْﻨَﺎ: ﻟَﻢْ ﻳَﺰِﺩْ ﻟَﻨَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻫَﺬَﺍ ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﻟَﻘَﺪْ ﺣَﺪَّﺛَﻨِﻲ ﻭَﻫُﻮَ ﺟَﻤِﻴﻊٌ ﻣُﻨْﺬُ ﻋِﺸْﺮِﻳﻦَ ﺳَﻨَﺔً ﻓَﻠَﺎ ﺃَﺩْﺭِﻱ ﺃَﻧَﺴِﻲَ ﺃَﻡْ ﻛَﺮِﻩَ ﺃَﻥْ ﺗَﺘَّﻜِﻠُﻮﺍ , ﻗُﻠْﻨَﺎ: ﻳَﺎ ﺃَﺑَﺎ ﺳَﻌِﻴﺪٍ ﻓَﺤَﺪِّﺛْﻨَﺎ , ﻓَﻀَﺤِﻚَ، ﻭَﻗَﺎﻝَ: ﺧُﻠِﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧْﺴَﺎﻥُ ﻋَﺠُﻮﻻً، ﻣَﺎ ﺫَﻛَﺮْﺗُﻪُ ﺇِﻟَّﺎ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﺃُﺭِﻳﺪُ ﺃَﻥْ ﺃُﺣَﺪِّﺛَﻜُﻢْ، ﺣَﺪَّﺛَﻨِﻲ ﻛَﻤَﺎ ﺣَﺪَّﺛَﻜُﻢْ
ﺑِﻪِ ﻗَﺎﻝَ: « ﺛُﻢَّ ﺃَﻋُﻮﺩُ ﺍﻟﺮَّﺍﺑِﻌَﺔَ ﻓَﺄَﺣْﻤَﺪُﻩُ ﺑِﺘِﻠْﻚَ ﺍﻟْﻤَﺤَﺎﻣِﺪِ ﺛُﻢَّ ﺃَﺧِﺮُّ ﻟَﻪُ ﺳَﺎﺟِﺪًﺍ ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ: ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺍﺭْﻓَﻊْ ﺭَﺃْﺳَﻚَ، ﻭَﻗُﻞْ ﻳُﺴْﻤَﻊْ، ﻭَﺳَﻞْ ﺗُﻌْﻄَﻪْ، ﻭَﺍﺷْﻔَﻊْ ﺗُﺸَﻔَّﻊْ، ﻓَﺄَﻗُﻮﻝُ: ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﺍﺋْﺬَﻥْ ﻟِﻲ ﻓِﻴﻤَﻦْ ﻗَﺎﻝَ: ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ، ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ : ﻭَﻋِﺰَّﺗِﻲ ﻭَﺟَﻠَﺎﻟِﻲ ﻭَﻛِﺒْﺮِﻳَﺎﺋِﻲ
ﻭَﻋَﻈَﻤَﺘِﻲ ﻟَﺄُﺧْﺮِﺟَﻦَّ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﻣَﻦْ ﻗَﺎﻝَ ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ » . ( ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
৮৫. মা‘বাদ ইব্ন হিলাল আনাজি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা বসরার কতক লোক একসাথে আনাস ইব্ন মালেকের নিকট
গেলাম। আমরা আমাদের সাথে সাবেত আল-বুনানিকে নিয়ে গেলাম, যেন সে আমাদের পক্ষে তাকে সুপারিশের হাদিস
সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তিনি বাড়িতেই ছিলেন, আমরা তাকে দোহা (চাশতে)র সালাত আদায় করতে পেলাম। আমরা
অনুমতি চাইলাম, তিনি আমাদেরকে অনুমতি দিলেন, তিনি বিছানায় উপবিষ্ট ছিলেন। আমরা সাবেতকে বললাম: সুপারিশের
হাদিসের পূর্বে কোন বিষয় সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করবেন না, তিনি বললেন: হে আবু হামযাহ, তারা আপনার ভাই বসরার
অধিবাসী, তারা আপনার নিকট এসেছে সুপারিশের হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য। অতঃপর তিনি বললেন: মুহাম্মদ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন: “যখন কিয়ামতের দিন হবে মানুষ ভীড়ে ঠাসাঠাসি করবে, অতঃপর
তারা আদম আলাইহিস সালামের নিকট আসবে ও বলবে: আমাদের জন্য আপনার রবের নিকট সুপারিশ করুন, তিনি বলবেন: আমি এর
উপযুক্ত নই, তবে তোমরা ইবরাহিমের নিকট যাও, কারণ তিনি রহমানের খলিল। তারা ইবরাহিমের নিকট আসবে, তিনি বলবেন:
আমি এ জন্য নই, তবে তোমরা মুসার নিকট যাও, কারণ তিনি আল্লাহর সাথে কথোপকথনকারী। তারা মুসার নিকট আসবে, তিনি
বলবেন: আমি এ জন্য নই, তবে তোমরা ঈসার নিকট যাও, কারণ তিনি আল্লাহর (পক্ষ থেকে বিশেষ) রূহ ও তার বাণী। তারা ঈসার
নিকট আসবে, অতঃপর তিনি বলবেন: আমি এ জন্য নই, তবে তোমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যাও,
অতঃপর তারা আমার নিকট আসবে, আমি বলব: আমি এ জন্য, আমি আমার রবের নিকট অনুমতি প্রার্থনা করব, আমাকে অনুমতি
দেয়া হবে, তিনি আমাকে প্রশংসার বাক্য শিক্ষা দিবেন যা দ্বারা আমি তার প্রশংসা করব, যা এখন আমার স্মরণ নেই। আমি
তার প্রশংসা করব ও সেজদায় লুটিয়ে পড়ব, তিনি বলবেন: হে মুহাম্মদ মাথা উঠাও, তুমি বল তোমার কথা শোনা হবে, তুমি চাও
তোমাকে দেয়া হবে, তুমি সুপারিশ কর তোমার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। আমি বলব: হে আমার রব, আমার উম্মত, আমার উম্মত।
তিনি বলবেন: যাও, সেখান থেকে বের কর যার অন্তরে গমের ওজন বরাবর ঈমান রয়েছে, আমি যাব ও অনুরূপ করব। অতঃপর ফিরে
আসব ও সে প্রশংসার বাক্য দ্বারা তার প্রশংসা করব, অতঃপর তার সেজদায় লুটিয়ে পড়ব, অতঃপর বলা হবে: হে মুহাম্মদ মাথা
উঠাও, বল তোমার কথা শোনা হবে, চাও তোমাকে দেয়া হবে, সুপারিশ কর তোমার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। আমি বলব: হে আমার
রব, আমার উম্মত, আমার উম্মত। তিনি বলবেন: যাও, সেখান থেকে বের কর যার অন্তরে অণু অথবা সরিষা পরিমান ঈমান রয়েছে,
আমি যাব ও অনুরূপ করব। অতঃপর ফিরে এসে সে বাক্য দ্বারা তার প্রশংসা করব অতঃপর সেজদায় লুটিয়ে পড়ব, বলা হবে: হে
মুহাম্মদ মাথা উঠাও, বল তোমার কথা শোনা হবে, চাও তোমাকে দেয়া হবে, সুপারিশ কর কবুল করা হবে, অতঃপর আমি বলব: হে
আমার রব, আমার উম্মত, আমার উম্মত। তিনি বলবেন: যাও, বের কর যার অন্তরে সরিষার অণু অণু অণু পরিমাণ ঈমান রয়েছে, অতএব
আমি তাকে জাহান্নাম থেকে বের করব, আমি যাব ও অনুরূপ করব”। আমরা যখন আনাসের কাছ থেকে প্রস্থান করলাম, আমি
আমাদের কতক সাথীকে বললাম: আমরা যদি হাসান বসরি হয়ে যাই, তার নিকট আনাসের হাদিস বর্ণনা করি! তখন তিনি আবু
খলিফার ঘরে আত্মগোপন করে ছিলেন, আমরা তার নিকট আসলাম, তাকে সালাম করলাম, তিনি আমাদেরকে অনুমতি দিলেন,
আমরা তাকে বললাম: হে আবু সায়িদ, আমরা আপনার নিকট আপনার ভাই আনাস ইব্ন মালেকের কাছ থেকে এসেছি, তিনি
আমাদেরকে সুপারিশ সম্পর্কে যা শুনিয়েছেন তা কখনো শুনেনি। তিনি বললেন: বল, আমরা তাকে হাদিস বললাম, এখানে এসে
শেষ করলাম। তিনি বললেন: বল, আমরা বললাম এরচেয়ে বেশী বলেন নি। তিনি বললেন: তিনি আমাকে বলেছেন পূর্ণ বিশ বছর
পূর্বে, জানি না তিনি ভুলে গেছেন বা তোমাদের (পক্ষ থেকে কম আমলের উপর) নির্ভর করে থাকাকে অপছন্দ করেছেন। আমরা
বললাম: হে আবু সায়িদ আপনি আমাদেরকে বলুন, তিনি হাসলেন ও বললেন: মানুষকে তড়িৎ প্রবণ করে সৃষ্টি করা হয়েছে, আমি তো
তোমাদেরকে বলার জন্যই বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন যেমন তোমাদেরকে তা বলেছেন। তিনি বলেন: “অতঃপর আমি
চতুর্থবার ফিরব এবং সে বাক্য দ্বারা তার প্রশংসা করব, অতঃপর তার সেজদায় লুটিয়ে পড়ব, বলা হবে: হে মুহাম্মদ, মাথা উঠাও,
বল শোনা হবে, চাও দেয়া হবে, সুপারিশ কর কবুল করা হবে। আমি বলব: হে আমার রব, যারা বলেছে ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ তাদের ব্যাপারে
আমাকে অনুমতি দিন। তিনি বলবেন: আমার ইজ্জত, বড়ত্ব, মহত্ত্ব ও সম্মানের কসম, অবশ্যই আমি তাকে বের করব, ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ যে
বলেছে”। [বুখারি ও মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
উম্মতে মুহাম্মাদির ফযিলত
-86 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺳَﻌِﻴﺪٍ ﺍﻟْﺨُﺪْﺭِﻱِّ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ- ﻗَﺎﻝَ: ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﻳُﺪْﻋَﻰ ﻧُﻮﺡٌ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻟَﺒَّﻴْﻚَ ﻭَﺳَﻌْﺪَﻳْﻚَ ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ , ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻫَﻞْ ﺑَﻠَّﻐْﺖَ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻧَﻌَﻢْ، ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ ﻟِﺄُﻣَّﺘِﻪِ: ﻫَﻞْ ﺑَﻠَّﻐَﻜُﻢْ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ : ﻣَﺎ
ﺃَﺗَﺎﻧَﺎ ﻣِﻦْ ﻧَﺬِﻳﺮٍ، ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻣَﻦْ ﻳَﺸْﻬَﺪُ ﻟَﻚَ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻣُﺤَﻤَّﺪٌ ﻭَﺃُﻣَّﺘُﻪُ , ﻓَﺘَﺸْﻬَﺪُﻭﻥَ ﺃَﻧَّﻪُ ﻗَﺪْ ﺑَﻠَّﻎَ - ﻭَﻳَﻜُﻮﻥَ ﺍﻟﺮَّﺳُﻮﻝُ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺷَﻬِﻴﺪًﺍ - ﻓَﺬَﻟِﻚَ ﻗَﻮْﻟُﻪُ ﺟَﻞَّ ﺫِﻛْﺮُﻩُ : ﴿ﻭَﻛَﺬَٰﻟِﻚَ ﺟَﻌَﻠۡﻨَٰﻜُﻢۡ ﺃُﻣَّﺔٗ ﻭَﺳَﻄٗﺎ ﻟِّﺘَﻜُﻮﻧُﻮﺍْ ﺷُﻬَﺪَﺍٓﺀَ ﻋَﻠَﻰ ﭐﻟﻨَّﺎﺱِ ﻭَﻳَﻜُﻮﻥَ ﭐﻟﺮَّﺳُﻮﻝُ ﻋَﻠَﻴۡﻜُﻢۡ ﺷَﻬِﻴﺪٗﺍۗ
﴾ ( ﻭَﺍﻟْﻮَﺳَﻂُ ﺍﻟْﻌَﺪْﻝُ ». ( ﺥ , ﺕ , ﺟﻪ ) ﺻﺤﻴﺢ
৮৬. আবু সায়িদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কিয়ামতের
দিন নুহ আলাইহিস সালামকে ডাকা হবে, তিনি বলবেন: সদা উপস্থিত, আপনার সন্তুষ্টি বিধানে আমি সদা তৎপর হে আমার রব,
তিনি বলবেন: তুমি পৌঁছিয়েছ? তিনি বলবেন: হ্যাঁ, তার উম্মতকে বলা হবে: সে তোমাদের পৌঁছিয়েছে? তারা বলবে: আমাদের
নিকট কোন সতর্ককারী আসে নি। তিনি বলবেন: তোমার জন্য কে সাক্ষী দিবে? তিনি বলবেন: মুহাম্মদ ও তার উম্মত, অতঃপর
তারা সাক্ষ্য দিবে যে, নিশ্চয় তিনি পৌঁছিয়েছেন, আর রাসূল হবেন তোমাদের সাক্ষী। এ হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
﴿ ﻭَﻛَﺬَٰﻟِﻚَ ﺟَﻌَﻠۡﻨَٰﻜُﻢۡ ﺃُﻣَّﺔٗ ﻭَﺳَﻄٗﺎ ﻟِّﺘَﻜُﻮﻧُﻮﺍْ ﺷُﻬَﺪَﺍٓﺀَ ﻋَﻠَﻰ ﭐﻟﻨَّﺎﺱِ ﻭَﻳَﻜُﻮﻥَ ﭐﻟﺮَّﺳُﻮﻝُ ﻋَﻠَﻴۡﻜُﻢۡ ﺷَﻬِﻴﺪٗﺍۗ ١٤٣ ﴾ [ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ: ١٤٣ ] ( ﻭَﺍﻟْﻮَﺳَﻂُ ﺍﻟْﻌَﺪْﻝُ » .
“আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী উম্মত বানিয়েছি, যাতে তোমরা মানুষের উপর সাক্ষী হও এবং রাসূল সাক্ষী হন
তোমাদের উপর”। [31] ওয়াসাত অর্থ ইনসাফপূর্ণ পথ বা মধ্যমপন্থার অনুসারী”। [বুখারি, তিরমিযি ও ইব্ন মাজাহ] হাদিসটি সহিহ।
-87 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻣُﻮﺳَﻰ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ- ﻗَﺎﻝَ: ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﺇِﺫَﺍ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻮْﻡُ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﺩَﻓَﻊَ ﺍﻟﻠَّﻪُ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ- ﺇِﻟَﻰ ﻛُﻞِّ ﻣُﺴْﻠِﻢٍ ﻳَﻬُﻮﺩِﻳًّﺎ ﺃَﻭْ ﻧَﺼْﺮَﺍﻧِﻴًّﺎ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻫَﺬَﺍ ﻓِﻜَﺎﻛُﻚَ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ». ( ﻡ , ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ
৮৭. আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন কিয়ামতের দিন
হবে আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক মুসলিমের নিকট একজন ইহুদি অথবা খৃস্টান দিবেন, অতঃপর বলবেন: এ হচ্ছে তোমার জাহান্নাম
থেকে মুক্তির বিনিময় [32] ”। [মুসলিম ও আহমদ] হাদিসটি সহিহ।
-88 ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻣﻮﺳﻰ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ- ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﺗُﺤْﺸَﺮُ ﻫﺬﻩ ﺍﻷﻣﺔُ ﻋﻠﻰ ﺛﻼﺛﺔِ ﺃﺻﻨﺎﻑٍ: ( ﺻﻨﻒ ) ﻳﺪﺧُﻠﻮﻥ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺑﻐﻴﺮ ﺣﺴﺎﺏٍ ( ﻭﺻﻨﻒٍ ) ﻳُﺤﺎﺳﺒﻮﻥ ﺣﺴﺎﺑًﺎ ﻳﺴﻴﺮًﺍ ﺛﻢ ﻳَﺪْﺧﻠﻮﻥ ﺍﻟﺠﻨﺔ، ( ﻭﺻﻨﻒ )
ﻳﺠﻴﺌﻮﻥ ﻋﻠﻰ ﻇﻬﻮﺭﻫﻢ ﺃﻣﺜﺎﻝُ ﺍﻟﺠﺒﺎﻝِ ﺍﻟﺮﺍﺳﻴﺎﺕِ ﺫُﻧﻮﺑًﺎ ﻓﻴﺴﺄﻝُ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻢ ﻭﻫﻮ ﺃﻋﻠﻢ ﺑﻬﻢ ﻓﻴﻘﻮﻝ: ﻣﺎ ﻫﺆﻻﺀ؟ ﻓﻴﻘﻮﻟﻮﻥ: ﻫﺆﻻﺀ ﻋﺒﻴﺪٌ ﻣﻦ ﻋﺒﺎﺩِﻙ، ﻓﻴﻘﻮﻝ: ﺣُﻄُّﻮﻫﺎ ﻋﻨﻬﻢ ﻭﺍﺟﻌﻠﻮﻫﺎ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻴﻬﻮﺩِ ﻭﺍﻟﻨَّﺼﺎﺭﻯ ﻭﺃﺩْﺧِﻠﻮﻫﻢ ﺑﺮﺣﻤﺘﻲ ﺍﻟﺠﻨَّﺔ
» . ( ﻙ ) ﺣﺴﻦ
৮৮. আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “এ উম্মতকে তিন ভাগে
উপস্থিত করা হবে: প্রথম ভাগ বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। দ্বিতীয় ভাগ থেকে সামান্য হিসেব নেয়া হবে, অতঃপর
তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। তৃতীয় ভাগ নিজেদের পিঠের ওপর বড় পাহাড়ের ন্যায় পাপসহ উপস্থিত হবে, অতঃপর আল্লাহ
তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবেন, অথচ তিনি তাদের সম্পর্কে অধিক জানেন: এরা কারা? তারা বলবে: এরা আপনার কতক বান্দা।
তিনি বলবেন: এসব তাদের থেকে হটাও, এগুলো ইহুদি ও খৃস্টানদের ওপর রাখ এবং তাদেরকে আমার রহমতে জান্নাতে প্রবেশ
করাও”। [হাকেম] হাদিসটি হাসান।
-89 ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺃﻣﺎﻣﺔ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ- ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: «ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻳﻮﻡُ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﻗﺎﻣﺖ ﺛُﻠﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﻨَّﺎﺱ ﻳﺴﺪﻭﻥ ﺍﻷﻓﻖ ﻧﻮﺭﻫﻢ ﻛﺎﻟﺸﻤﺲ، ﻓﻴﻘﺎﻝ : ﺍﻟﻨﺒﻲُّ ﺍﻷﻣﻲ ﻓﻴﺘﺤﺴﺲ ﻟﻬﺎ ﻛﻞُّ ﻧَﺒﻲٍّ ﻓﻴُﻘَﺎﻝُ : ﻣﺤﻤﺪ ﻭﺃﻣﺘﻪ، ﺛﻢ
ﺗﻘﻮﻡ ﺛُﻠَّﺔٌ ﺃﺧﺮﻯ ﻳَﺴﺪُّ ﻣﺎ ﺑﻴﻦ ﺍﻷﻓﻖ ﻧُﻮﺭﻫﻢ ﻛﺎﻟﻘﻤﺮ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺒﺪﺭ، ﻓﻴﻘﺎﻝ: ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺍﻷﻣﻲ، ﻓﻴﺘﺤﺴﺲ ﻟﻬﺎ ﻛﻞ ﺷﻲﺀٍ، ﻓﻴﻘﺎﻝ: ﻣﺤﻤﺪٌ ﻭﺃﻣﺘﻪ، ﺛﻢ ﺗﻘﻮﻡ ﺛُﻠﺔٌ ﺃﺧﺮﻯ ﻳﺴﺪ ﻣﺎ ﺑﻴﻦ ﺍﻷﻓﻖ ﻧﻮﺭﻫﻢ ﻣﺜﻞ ﻛﻮﻛﺐ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ، ﻓﻴﻘﺎﻝ: ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺍﻷﻣﻲ،
ﻓﻴﺘﺤﺴﺲ ﻟﻬﺎ ﻛﻞ ﺷﻲﺀٍ، ﻓﻴﻘﺎﻝ : ﻣﺤﻤﺪٌ ﻭﺃﻣﺘﻪ، ﺛﻢ ﻳﺤﺜﻲ ﺣﺜﻴﺘﻴﻦ ﻓﻴﻘﻮﻝ: ﻫﺬﺍ ﻟﻚ ﻳﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﻭﻫﺬﺍ ﻣﻨﻲ ﻟﻚ ﻳﺎ ﻣﺤﻤﺪ , ﺛﻢ ﻳﻮﺿﻊ ﺍﻟﻤﻴﺰﺍﻥُ ﻭﻳﺆُﺧﺬ ﻓﻲ ﺍﻟﺤﺴﺎﺏ » . ( ﻃﺐ ) ﺣﺴﻦ
৮৯. আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন কিয়ামতের
দিন হবে একদল মানুষ দাঁড়াবে, তাদের নূর সূর্যের ন্যায় দিগন্ত ঢেকে ফেলবে, অতঃপর বলা হবে: উম্মী নবী, প্রত্যেক নবী এ
জন্য প্রস্তুত হবেন। অতঃপর বলা হবে: মুহাম্মদ ও তার উম্মত। অতঃপর একদল দাঁড়াবে তাদের নূর চৌদ্দ তারিখের চাঁদের ন্যায়
দিগন্তের মধ্যবর্তী সব ঢেকে ফেলবে, বলা হবে: উম্মী নবী, প্রত্যেকেই এ জন্য প্রস্তুত হবেন, অতঃপর বলা হবে: মুহাম্মদ ও তার
উম্মত। অতঃপর একদল দাঁড়াবে তাদের নূর আসমানের তারকার ন্যায় দিগন্তের মধ্যবর্তী সব ঢেকে ফেলবে, বলা হবে: উম্মী নবী,
প্রত্যেকেই এ জন্য প্রস্তুত হবেন, অতঃপর বলা হবে: মুহাম্মদ ও তার উম্মত। অতঃপর দু’ মুষ্টি উঠাবেন ও বলবেন: এটা তোমার জন্য হে
মুহাম্মদ ও এটা আমার পক্ষ থেকে তোমার জন্য হে মুহাম্মদ। অতঃপর মীযান কায়েম করা হবে এবং হিসাব আরম্ভ হবে”।
[তাবরানি] হাদিসটি হাসান।
-90 ﻋﻦ ﺃﻧﺲ ﺑﻦ ﻣﺎﻟﻚ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ- ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: « ﺃﺗﺎﻧﻲ ﺟﺒﺮﻳﻞُ ﺑﻤﺜﻞ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﻤﺮﺁﺓ ﺍﻟﺒﻴﻀﺎﺀ ﻓﻴﻬﺎ ﻧُﻜْﺘﺔ ﺳﻮﺩﺍﺀ، ﻗﻠﺖ: ﻳﺎ ﺟﺒﺮﻳﻞُ ﻣﺎ ﻫﺬﻩ؟ ﻗﺎﻝ : ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺠُﻤُﻌﺔ ﺟﻌﻠﻬﺎ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻴﺪًﺍ ﻟﻚ ﻭﻷﻣﺘﻚ ﻓﺄﻧﺘﻢ
ﻗﺒﻞ ﺍﻟﻴﻬﻮﺩ ﻭﺍﻟﻨﺼﺎﺭﻯ، ﻓﻴﻬﺎ ﺳﺎﻋﺔٌ ﻻ ﻳﻮﺍﻓﻘﻬﺎ ﻋﺒﺪٌ ﻳﺴﺄﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻴﻬﺎ ﺧﻴﺮًﺍ ﺇﻻ ﺃﻋﻄﺎﻩُ ﺇﻳﺎﻩ، ﻗﺎﻝ: ﻗﻠﺖ: ﻣﺎ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﻨُﻜْﺘﺔُ ﺍﻟﺴﻮﺩﺍﺀ؟ ﻗﺎﻝ: ﻫﺬﺍ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﺗَﻘُﻮﻡ ﻓﻲ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ، ﻭﻧﺤﻦ ﻧﺪﻋﻮﻩ ﻋﻨﺪﻧﺎ ( ﺍﻟﻤﺰﻳﺪ ) ﻗﺎﻝ: ﻗﻠﺖ: ﻣﺎ ﻳﻮﻡُ
ﺍﻟﻤﺰﻳﺪ؟ ﻗﺎﻝ: ﺇﻥَّ ﺍﻟﻠﻪ ﺟﻌﻞ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻭﺍﺩﻳًﺎ ﺃﻓﻴﺢ، ﻭﺟﻌﻞ ﻓﻴﻪ ﻛُﺜْﺒﺎﻧًﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺴﻚ ﺍﻷﺑﻴﺾ، ﻓﺈﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻳﻮﻡُ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﻳﻨﺰﻝُ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻴﻪ ﻓﻮﺿﻌﺖ ﻓﻴﻪ ﻣﻨﺎﺑﺮ ﻣﻦ ﺫﻫﺐ ﻟﻸﻧﺒﻴﺎﺀ ﻭﻛﺮﺍﺳﻲ ﻣﻦ ﺩﺭٍّ ﻟﻠﺸﻬﺪﺍﺀٍ، ﻭﻳﻨﺰﻟﻦ ﺍﻟﺤﻮﺭُ ﺍﻟﻌﻴﻦُ ﻣﻦ ﺍﻟﻐُﺮﻑ
ﻓﺤﻤﺪﻭﺍ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻣَﺠَّﺪﻭﻩ، ﻗﺎﻝ: ﺛﻢ ﻳﻘﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ: ﺍﻛﺴﻮﺍ ﻋﺒﺎﺩﻱ ﻓﻴﻜﺴﻮﻥ، ﻭﻳﻘﻮﻝ: ﺃﻃﻌﻤﻮﺍ ﻋﺒﺎﺩﻱ ﻓﻴﻄﻌﻤﻮﻥ، ﻭﻳﻘﻮﻝ : ﺍﺳﻘﻮﺍ ﻋﺒﺎﺩﻱ ﻓﻴﺴﻘﻮﻥ، ﻭﻳﻘﻮﻝ: ﻃﻴِّﺒﻮﺍ ﻋﺒﺎﺩﻱ ﻓﻴﻄﻴﺒﻮﻥ، ﺛﻢ ﻳﻘﻮﻝ: ﻣﺎﺫﺍ ﺗُﺮﻳﺪﻭﻥ؟ ﻓﻴﻘﻮﻟﻮﻥ: ﺭﺑﻨﺎ ﺭﺿﻮﺍﻧﻚ، ﻗﺎﻝ:
ﻳﻘﻮﻝ: ﺭﺿﻴﺖ ﻋﻨﻜﻢ ﺛﻢ ﻳﺄﻣﺮﻫﻢ ﻓﻴﻨﻄﻠﻘﻮﻥ ﻭﺗﺼﻌﺪُ ﺍﻟﺤﻮﺭُ ﺍﻟﻌﻴﻦ ﺍﻟﻐﺮﻑَ، ﻭﻫﻲ ﻣﻦ ﺯﻣﺮﺩﺓٍ ﺧﻀﺮﺍﺀ ﻭﻣﻦ ﻳﺎﻗﻮﺗﺔٍ ﺣﻤﺮﺍﺀ » . ( ﻳﻊ ) ﺻﺤﻴﺢ
৯০. আনাস ইব্ন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সাদা এ
আয়নার ন্যায় অনুরূপ আয়না নিয়ে জিবরিল আমার নিকট এসেছে তাতে কালো একটি ফোঁটা। আমি বললাম: হে জিবরিল এটা কি?
তিনি বললেন: এ হচ্ছে জুমা, আল্লাহ যা তোমার ও তোমার উম্মতের জন্য ঈদ বানিয়েছেন, তোমরাই ইহুদি ও খৃস্টানদের পূর্বে,
(অর্থাৎ তাদের সাপ্তাহিক ঈদের পূর্বদিন তোমাদের ঈদের দিন) তাতে একটি মুহূর্ত রয়েছে, সে সময় বান্দা আল্লাহর নিকট কোন
কল্যাণ প্রার্থনা করবে না, যা তিনি তাকে দিবেন না। তিনি বলেন: আমি বললাম: এ কালো ফোঁটা কি? তিনি বললেন: এ হচ্ছে
কিয়ামত জুমার দিন কায়েম হবে, আমরা একে মাযিদ বলি। তিনি বলেন: আমি বললাম: ইয়াওমুল মাযিদ কি? তিনি বললেন:
আল্লাহ জান্নাতে প্রশস্ত ময়দান তৈরি করেছেন, সেখানে তিনি সাদা মিশকের স্তূপ রেখেছেন, যখন জুমার দিন হয় আল্লাহ
সেখানে অবতরণ করবেন, সেখানে নবীদের জন্য স্বর্ণের মিম্বার রাখা হয়, আর শহীদদের জন্য মুক্তোর চেয়ার এবং (জান্নাতের)
প্রাসাদসমূহ থেকে ‘হূরুল ঈন’ বা ডাগর নয়না হূর অবতরণ করে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ-গান করবে। তিনি বলেন: অতঃপর আল্লাহ
বলবেন: আমার বান্দাদের কাপড় পরিধান করাও, তাদের কাপড় পরিধান করানো হবে। তিনি বলবেন: আমার বান্দাদের খাদ্য দাও,
তাদের খাদ্য দেয়া হবে। তিনি বলবেন: আমার বান্দাদের পান করাও, তাদের পান করানো হবে। তিনি বলবেন: আমার বান্দাদের
সুগন্ধি দাও, তাদের সুগন্ধি দেয়া হবে। অতঃপর বলবেন: তোমরা কি চাও? তারা বলবে: হে আমাদের রব তোমার সন্তুষ্টি। তিনি
বলেন: তিনি বলবেন: আমি তোমাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছি, অতঃপর তাদেরকে নির্দেশ দিবেন, তারা যাবে ও ‘হূরল ঈন’
প্রাসাদসমূহে প্রবেশ করবে যা সবুজ মণি-মুক্তা ও লাল ইয়াকুত পাথরের তৈরি”। [আবু ইয়ালা] হাদিসটি সহিহ।
-91 ﻋَﻦْ ﺍﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ- ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺑَﻘَﺎﺅُﻛُﻢْ ﻓِﻴﻤَﻦْ ﺳَﻠَﻒَ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﺄُﻣَﻢِ ﻛَﻤَﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﺻَﻠَﺎﺓِ ﺍﻟْﻌَﺼْﺮِ ﺇِﻟَﻰ ﻏُﺮُﻭﺏِ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲِ , ﺃُﻭﺗِﻲَ ﺃَﻫْﻞُ ﺍﻟﺘَّﻮْﺭَﺍﺓِ ﺍﻟﺘَّﻮْﺭَﺍﺓَ ﻓَﻌَﻤِﻠُﻮﺍ ﺑِﻬَﺎ ﺣَﺘَّﻰ ﺍﻧْﺘَﺼَﻒَ ﺍﻟﻨَّﻬَﺎﺭُ ﺛُﻢَّ
ﻋَﺠَﺰُﻭﺍ ﻓَﺄُﻋْﻄُﻮﺍ ﻗِﻴﺮَﺍﻃًﺎ ﻗِﻴﺮَﺍﻃًﺎ، ﺛُﻢَّ ﺃُﻭﺗِﻲَ ﺃَﻫْﻞُ ﺍﻟْﺈِﻧْﺠِﻴﻞِ ﺍﻟْﺈِﻧْﺠِﻴﻞَ ﻓَﻌَﻤِﻠُﻮﺍ ﺑِﻪِ ﺣَﺘَّﻰ ﺻُﻠِّﻴَﺖْ ﺍﻟْﻌَﺼْﺮُ ﺛُﻢَّ ﻋَﺠَﺰُﻭﺍ ﻓَﺄُﻋْﻄُﻮﺍ ﻗِﻴﺮَﺍﻃًﺎ ﻗِﻴﺮَﺍﻃًﺎ، ﺛُﻢَّ ﺃُﻭﺗِﻴﺘُﻢْ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻓَﻌَﻤِﻠْﺘُﻢْ ﺑِﻪِ ﺣَﺘَّﻰ ﻏَﺮَﺑَﺖْ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲُ ﻓَﺄُﻋْﻄِﻴﺘُﻢْ ﻗِﻴﺮَﺍﻃَﻴْﻦِ ﻗِﻴﺮَﺍﻃَﻴْﻦِ، ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺃَﻫْﻞُ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ
ﻫَﺆُﻟَﺎﺀِ ﺃَﻗَﻞُّ ﻣِﻨَّﺎ ﻋَﻤَﻼً ﻭَﺃَﻛْﺜَﺮُ ﺃَﺟْﺮًﺍ، ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ: ﻫَﻞْ ﻇَﻠَﻤْﺘُﻜُﻢْ ﻣِﻦْ ﺣَﻘِّﻜُﻢْ ﺷَﻴْﺌًﺎ؟ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ: ﻟَﺎ، ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﻬُﻮَ ﻓَﻀْﻠِﻲ ﺃُﻭﺗِﻴﻪِ ﻣَﻦْ ﺃَﺷَﺎﺀُ » . ( ﺥ ) ﺻﺤﻴﺢ
৯১. ইব্ন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের পূর্বের
উম্মতের তুলনায় তোমাদের স্থায়িত্ব হচ্ছে আসর সালাত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। আহলে তাওরাতকে তাওরাত প্রদান করা
হয়েছে, তারা তার ওপর দিনের অর্ধেক আমল করে অতঃপর অক্ষমতা প্রকাশ করেছে, তাই তাদেরকে এক কিরাত [33] এক কিরাত
দেয়া হয়েছে। অতঃপর আহলে ইঞ্জিলকে ইঞ্জিল দেয়া হয়েছে, তারা তার ওপর আমল করেছে আসর সালাত পর্যন্ত, অতঃপর তারা
অক্ষমতা প্রকাশ করেছে, তাই তাদেরকে এক কিরাত এক কিরাত দেয়া হয়েছে। অতঃপর তোমাদেরকে কুরআন দেয়া হয়েছে,
তোমরা তার ওপর আমল করেছ সূর্যাস্ত পর্যন্ত, তাতেই তোমাদেরকে দুই কিরাত দুই কিরাত প্রদান করা হয়েছে। কিতাবিরা বলল:
তারা আমাদের তুলনায় আমলে কম, কিন্তু সওয়াবে অধিক। আল্লাহ বললেন: আমি কি তোমাদের হক থেকে সামান্য বঞ্চিত
করেছি? তারা বলল: না, তিনি বললেন: এটা আমার অনুগ্রহ, আমি যাকে চাই দান করি”। [বুখারি] হাদিসটি সহিহ।
-92 ﻋَﻦْ ﺛَﻮْﺑَﺎﻥَ- ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ - ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: « ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺯَﻭَﻯ ﻟِﻲ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽَ ﻓَﺮَﺃَﻳْﺖُ ﻣَﺸَﺎﺭِﻗَﻬَﺎ ﻭَﻣَﻐَﺎﺭِﺑَﻬَﺎ، ﻭَﺇِﻥَّ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﺳَﻴَﺒْﻠُﻎُ ﻣُﻠْﻜُﻬَﺎ ﻣَﺎ ﺯُﻭِﻱَ ﻟِﻲ ﻣِﻨْﻬَﺎ، ﻭَﺃُﻋْﻄِﻴﺖُ ﺍﻟْﻜَﻨْﺰَﻳْﻦِ ﺍﻟْﺄَﺣْﻤَﺮَ ﻭَﺍﻟْﺄَﺑْﻴَﺾَ، ﻭَﺇِﻧِّﻲ ﺳَﺄَﻟْﺖُ
ﺭَﺑِّﻲ ﻟِﺄُﻣَّﺘِﻲ ﺃَﻥْ ﻟَﺎ ﻳُﻬْﻠِﻜَﻬَﺎ ﺑِﺴَﻨَﺔٍ ﻋَﺎﻣَّﺔٍ، ﻭَﺃَﻥْ ﻟَﺎ ﻳُﺴَﻠِّﻂَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻋَﺪُﻭًّﺍ ﻣِﻦْ ﺳِﻮَﻯ ﺃَﻧْﻔُﺴِﻬِﻢْ ﻓَﻴَﺴْﺘَﺒِﻴﺢَ ﺑَﻴْﻀَﺘَﻬُﻢْ، ﻭَﺇِﻥَّ ﺭَﺑِّﻲ ﻗَﺎﻝَ: ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺇِﻧِّﻲ ﺇِﺫَﺍ ﻗَﻀَﻴْﺖُ ﻗَﻀَﺎﺀً ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻟَﺎ ﻳُﺮَﺩُّ، ﻭَﺇِﻧِّﻲ ﺃَﻋْﻄَﻴْﺘُﻚَ ﻟِﺄُﻣَّﺘِﻚَ ﺃَﻥْ ﻟَﺎ ﺃُﻫْﻠِﻜَﻬُﻢْ ﺑِﺴَﻨَﺔٍ ﻋَﺎﻣَّﺔٍ، ﻭَﺃَﻥْ ﻟَﺎ ﺃُﺳَﻠِّﻂَ
ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻋَﺪُﻭًّﺍ ﻣِﻦْ ﺳِﻮَﻯ ﺃَﻧْﻔُﺴِﻬِﻢْ ﻳَﺴْﺘَﺒِﻴﺢُ ﺑَﻴْﻀَﺘَﻬُﻢْ ﻭَﻟَﻮْ ﺍﺟْﺘَﻤَﻊَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻣَﻦْ ﺑِﺄَﻗْﻄَﺎﺭِﻫَﺎ -ﺃَﻭْ ﻗَﺎﻝَ: ﻣَﻦْ ﺑَﻴْﻦَ ﺃَﻗْﻄَﺎﺭِﻫَﺎ- ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﻜُﻮﻥَ ﺑَﻌْﻀُﻬُﻢْ ﻳُﻬْﻠِﻚُ ﺑَﻌْﻀًﺎ ﻭَﻳَﺴْﺒِﻲ ﺑَﻌْﻀُﻬُﻢْ ﺑَﻌْﻀًﺎ ». ( ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
৯২. সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা
আমার জন্য জমিন ঘুচিয়ে দিলেন ফলে আমি তার পূর্ব-পশ্চিম দেখেছি, নিশ্চয় আমার উম্মতের রাজত্ব পৌঁছবে যতটুকু আমার
সামনে পেশ করা হয়েছে। আমাকে লাল ও সাদা দু’টি ভাণ্ডার [34] প্রদান করা হয়েছে, আমি আমার রবের নিকট আমার উম্মতের
জন্য প্রার্থনা করেছি যেন, তাদেরকে ব্যাপক দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে ধ্বংস করা না হয়, যেন তাদের ওপর তাদের ব্যতীত কোন দুশমন
চাপিয়ে দেয়া না হয়, যে তাদের সমূলে ধ্বংস করবে। আমার রব আমাকে বলেছেন: হে মুহাম্মদ আমি যখন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ
করি, তা প্রত্যাখ্যান করা হয় না, আমি তোমার উম্মতের জন্য তোমাকে প্রদান করলাম যে, তাদেরকে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ দ্বারা
ধ্বংস করব না। তাদের ওপর তাদের ব্যতীত কোন দুশমন চাপিয়ে দেব না যারা তাদের সমূলে ধ্বংস করবে, যদিও দুনিয়ার প্রান্ত
থেকে এসে একত্র হয়, অথবা বলেছেন: দিগন্তের মধ্য থেকে এসে, তবে তারা একে অপরকে ধ্বংস করবে, একে অপরকে বন্দি করবে”।
[মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
-93 ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻋَﻤْﺮِﻭ ﺑْﻦِ ﺍﻟْﻌَﺎﺹِ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ- ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺗَﻠَﺎ ﻗَﻮْﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ - ﻓِﻲ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢَ : ﴿ﺭَﺏِّ ﺇِﻧَّﻬُﻦَّ ﺃَﺿۡﻠَﻠۡﻦَ ﻛَﺜِﻴﺮٗﺍ ﻣِّﻦَ ﭐﻟﻨَّﺎﺱِۖ ﻓَﻤَﻦ ﺗَﺒِﻌَﻨِﻲ ﻓَﺈِﻧَّﻪُۥ ﻣِﻨِّﻲۖ﴾ ﺍﻟْﺂﻳَﺔَ، ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡ : ﴿ﺇِﻥ ﺗُﻌَﺬِّﺑۡﻬُﻢۡ ﻓَﺈِﻧَّﻬُﻢۡ ﻋِﺒَﺎﺩُﻙَۖ ﻭَﺇِﻥ ﺗَﻐۡﻔِﺮۡ ﻟَﻬُﻢۡ ﻓَﺈِﻧَّﻚَ ﺃَﻧﺖَ ﭐﻟۡﻌَﺰِﻳﺰُ ﭐﻟۡﺤَﻜِﻴﻢُ ١١٨﴾ ، ﻓَﺮَﻓَﻊَ ﻳَﺪَﻳْﻪِ ﻭَﻗَﺎﻝَ: «ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﺃُﻣَّﺘِﻲ» ﻭَﺑَﻜَﻰ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ: « ﻳَﺎ ﺟِﺒْﺮِﻳﻞُ ﺍﺫْﻫَﺐْ ﺇِﻟَﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ -ﻭَﺭَﺑُّﻚَ ﺃَﻋْﻠَﻢُ- ﻓَﺴَﻠْﻪُ ﻣَﺎ ﻳُﺒْﻜِﻴﻚَ، ﻓَﺄَﺗَﺎﻩُ ﺟِﺒْﺮِﻳﻞُ
ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡ ﻓَﺴَﺄَﻟَﻪُ ﻓَﺄَﺧْﺒَﺮَﻩُ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺑِﻤَﺎ ﻗَﺎﻝَ: ﻭَﻫُﻮَ ﺃَﻋْﻠَﻢُ , ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ: ﻳَﺎ ﺟِﺒْﺮِﻳﻞُ ﺍﺫْﻫَﺐْ ﺇِﻟَﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ﻓَﻘُﻞْ: ﺇِﻧَّﺎ ﺳَﻨُﺮْﺿِﻴﻚَ ﻓِﻲ ﺃُﻣَّﺘِﻚَ ﻭَﻟَﺎ ﻧَﺴُﻮﺀُﻙَ » . ( ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
৯৩. আব্দুল্লাহ ইব্ন আমর ইব্ন আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবরাহিম
আলাইহিস সালাম সম্পর্কে আল্লাহর এ বাণী তিলাওয়াত করেন:
﴿ﺭَﺏِّ ﺇِﻧَّﻬُﻦَّ ﺃَﺿۡﻠَﻠۡﻦَ ﻛَﺜِﻴﺮٗﺍ ﻣِّﻦَ ﭐﻟﻨَّﺎﺱِۖ ﻓَﻤَﻦ ﺗَﺒِﻌَﻨِﻲ ﻓَﺈِﻧَّﻪُۥ ﻣِﻨِّﻲۖ ٣٦﴾ [ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ:٣٦ ]
“হে আমার রব, নিশ্চয় এসব মূর্তি অনেক মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে, সুতরাং যে আমার অনুসরণ করেছে, নিশ্চয় সে আমার দলভুক্ত”।
[35] ঈসা আলাইহিস সালাম বলেছেন:
﴿ ﺇِﻥ ﺗُﻌَﺬِّﺑۡﻬُﻢۡ ﻓَﺈِﻧَّﻬُﻢۡ ﻋِﺒَﺎﺩُﻙَۖ ﻭَﺇِﻥ ﺗَﻐۡﻔِﺮۡ ﻟَﻬُﻢۡ ﻓَﺈِﻧَّﻚَ ﺃَﻧﺖَ ﭐﻟۡﻌَﺰِﻳﺰُ ﭐﻟۡﺤَﻜِﻴﻢُ ١١٨ ﴾ [ﺍﻟﻤﺎﺋﺪﺓ: ١١٨ ]
“যদি আপনি তাদেরকে শাস্তি প্রদান করেন তবে তারা আপনারই বান্দা, আর তাদেরকে যদি ক্ষমা করেন, তবে নিশ্চয় আপনি
পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়”। [36] অতঃপর তিনি হাত উঠিয়ে বলেন: “হে আল্লাহ আমর উম্মত, আমার উম্মত” এবং ক্রন্দন করেন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “হে জিবরিল মুহাম্মদের নিকট যাও, -নিশ্চয় তোমার রব অধিক জ্ঞাত,- তাকে জিজ্ঞাসা কর কি জন্য
কাঁদ? জিবরিল আলাইহিস সালাম এসে তাকে জিজ্ঞাসা করেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে
বললেন: তিনিই ভাল জানেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: হে জিবরিল মুহাম্মদের নিকট যাও, তাকে বল: নিশ্চয় আমি তোমার
উম্মতের ব্যাপারে তোমাকে সন্তুষ্ট করব, তোমাকে অসন্তুষ্ট করব না”। [মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
-94 ﻋَﻦْ ﻣَﺎﻟِﻚِ ﺑْﻦِ ﺻَﻌْﺼَﻌَﺔَ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ- ﻗَﺎﻝَ: ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ... ﻓﺬﻛﺮ ﺣﺪﻳﺚ ﺍﻟﻤﻌﺮﺍﺝ ﻭﻓﻴﻪ : « ﺛُﻢَّ ﻓُﺮِﺿَﺖْ ﻋَﻠَﻲَّ ﺧَﻤْﺴُﻮﻥَ ﺻَﻠَﺎﺓً ﻓَﺄَﻗْﺒَﻠْﺖُ ﺣَﺘَّﻰ ﺟِﺌْﺖُ ﻣُﻮﺳَﻰ، ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﻣَﺎ ﺻَﻨَﻌْﺖَ، ﻗُﻠْﺖُ: ﻓُﺮِﺿَﺖْ ﻋَﻠَﻲَّ ﺧَﻤْﺴُﻮﻥَ
ﺻَﻠَﺎﺓً، ﻗَﺎﻝَ : ﺃَﻧَﺎ ﺃَﻋْﻠَﻢُ ﺑِﺎﻟﻨَّﺎﺱِ ﻣِﻨْﻚَ ﻋَﺎﻟَﺠْﺖُ ﺑَﻨِﻲ ﺇِﺳْﺮَﺍﺋِﻴﻞَ ﺃَﺷَﺪَّ ﺍﻟْﻤُﻌَﺎﻟَﺠَﺔِ، ﻭَﺇِﻥَّ ﺃُﻣَّﺘَﻚَ ﻟَﺎ ﺗُﻄِﻴﻖُ ﻓَﺎﺭْﺟِﻊْ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﺑِّﻚَ ﻓَﺴَﻠْﻪُ، ﻓَﺮَﺟَﻌْﺖُ ﻓَﺴَﺄَﻟْﺘُﻪُ ﻓَﺠَﻌَﻠَﻬَﺎ ﺃَﺭْﺑَﻌِﻴﻦَ ﺛُﻢَّ ﻣِﺜْﻠَﻪُ، ﺛُﻢَّ ﺛَﻠَﺎﺛِﻴﻦَ ﺛُﻢَّ ﻣِﺜْﻠَﻪُ ﻓَﺠَﻌَﻞَ ﻋِﺸْﺮِﻳﻦَ، ﺛُﻢَّ ﻣِﺜْﻠَﻪُ ﻓَﺠَﻌَﻞَ ﻋَﺸْﺮًﺍ، ﻓَﺄَﺗَﻴْﺖُ ﻣُﻮﺳَﻰ
ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﻣِﺜْﻠَﻪُ ﻓَﺠَﻌَﻠَﻬَﺎ ﺧَﻤْﺴًﺎ، ﻓَﺄَﺗَﻴْﺖُ ﻣُﻮﺳَﻰ ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﻣَﺎ ﺻَﻨَﻌْﺖَ؟ ﻗُﻠْﺖُ : ﺟَﻌَﻠَﻬَﺎ ﺧَﻤْﺴًﺎ، ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﻣِﺜْﻠَﻪُ ﻗُﻠْﺖُ ﺳَﻠَّﻤْﺖُ ﺑِﺨَﻴْﺮٍ ﻓَﻨُﻮﺩِﻱَ: ﺇِﻧِّﻲ ﻗَﺪْ ﺃَﻣْﻀَﻴْﺖُ ﻓَﺮِﻳﻀَﺘِﻲ ﻭَﺧَﻔَّﻔْﺖُ ﻋَﻦْ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ ﻭَﺃَﺟْﺰِﻱ ﺍﻟْﺤَﺴَﻨَﺔَ ﻋَﺸْﺮًﺍ» . ( ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
৯৪. মালিক ইব্ন সা‘সা‘ থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ... এখানে তিনি মেরাজের হাদিস
বর্ণনা করেন, তাতে রয়েছে, “অতঃপর আমার ওপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়, অতঃপর আমি এগিয়ে মুসা পর্যন্ত আসি,
তিনি বলেন: কি করেছ? আমি বললাম: আমার ওপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়েছে। তিনি বলেন: মানুষ সম্পর্কে তোমার
চেয়ে আমি বেশী জানি, আমি বনি ইসরাইলকে কঠিনভাবে পরীক্ষা করেছি, তোমার উম্মত পারবে না, ফিরে যাও তোমার
রবকে বল। আমি ফিরে যাই, অতঃপর তাকে বলি, তিনি তা চল্লিশ ওয়াক্ত করে দেন, অতঃপর অনুরূপ ঘটে, ফলে ত্রিশ করে দেন,
অতঃপর অনুরূপ ঘটে, ফলে বিশ করে দেন, অতঃপর অনুরূপ ঘটে, ফলে দশ করে দেন, অতঃপর মুসার নিকট আসি, তিনি অনুরূপ বলেন, ফলে
তা পাঁচ করে দেয়া হয়। অতঃপর মুসার নিকট আসি, তিনি বলেন: কি করেছ? আমি বললাম: পাঁচ ওয়াক্ত করে দিয়েছেন, তিনি অনুরূপ
বলেন। আমি বললাম: আমি সন্তুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করেছি। অতঃপর ঘোষণা দেয়া হয়: নিশ্চয় আমি আমার ফরয বাস্তবায়ন করেছি,
আমার বান্দাদের থেকে হালকা করেছি, আমি এক নেকির প্রতিদান দিব দশ”। [বুখারি ও মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
-95 ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻣَﺴْﻌُﻮﺩٍ ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ " : ﻋُﺮِﺿَﺖْ ﻋَﻠَﻲَّ ﺍﻷُﻣَﻢُ ﺑِﺎﻟْﻤَﻮْﺳِﻢِ، ﻓَﺮَﺃَﻳْﺖُ ﺃُﻣَّﺘِﻲ، ﻓَﺄَﻋْﺠَﺒَﺘْﻨِﻲ ﻛَﺜْﺮَﺗُﻬُﻢْ، ﻭَﻫَﻴْﺌَﺘُﻬُﻢْ، ﻗَﺪْ ﻣَﻠَﺌُﻮﺍ ﺍﻟﺴَّﻬْﻞَ ﻭَﺍﻟْﺠَﺒَﻞَ، ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ، ﺃَﺭَﺿِﻴﺖَ؟ ﻗُﻠْﺖُ: ﻧَﻌَﻢْ ﺃَﻱْ ﺭَﺏِّ، ﻗَﺎﻝَ: ﻭَﻣَﻊَ
ﻫَﺆُﻻﺀِ ﺳَﺒْﻌُﻮﻥَ ﺃَﻟْﻔًﺎ ﻳَﺪْﺧُﻠُﻮﻥَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﺑِﻐَﻴْﺮِ ﺣِﺴَﺎﺏٍ، ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻻ ﻳَﺴْﺘَﺮْﻗُﻮﻥَ، ﻭَﻻ ﻳَﻜْﺘَﻮُﻭﻥَ، ﻭَﻻ ﻳَﺘَﻄَﻴَّﺮُﻭﻥَ، ﻭَﻋَﻠَﻰ ﺭَﺑِّﻬِﻢْ ﻳَﺘَﻮَﻛَّﻠُﻮﻥَ " ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻋُﻜَّﺎﺷَﺔُ: ﺍﺩْﻉُ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺃَﻥْ ﻳَﺠْﻌَﻠَﻨِﻲ ﻣِﻨْﻬُﻢْ، ﻗَﺎﻝَ : " ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺍﺟْﻌَﻠْﻪُ ﻣِﻨْﻬُﻢْ " ، ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺟُﻞٌ ﺁﺧَﺮُ: ﺍﺩْﻉُ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺃَﻥْ
ﻳَﺠْﻌَﻠَﻨِﻲ ﻣِﻨْﻬُﻢْ، ﻗَﺎﻝَ: " ﺳَﺒَﻘَﻚَ ﺑِﻬَﺎ ﻋُﻜَّﺎﺷَﺔُ " ( ﺣﻢ , ﺣﺐ ) ﺻﺤﻴﺢ
৯৫. ইব্ন মাসউদ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “(হজের [37] ) মৌসুমে সকল উম্মত আমার
সামনে পেশ করা হয়েছে, ফলে আমি আমার উম্মত দেখেছি, তাদের আধিক্য ও হালত আমাকে খুশি করেছে, তারা সমতল ও পাহাড়
সর্বত্র পূর্ণ ছিল। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ তুমি কি সন্তুষ্ট হয়েছ? আমি বললাম: হ্যাঁ, হে রব। তিনি বললেন: তাদের সাথে শত্তুর
হাজার বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবে, যারা ঝাঁড়-ফুঁক চায় না, জ্বলন্ত লোহার সেক দেয়ার চিকিৎসা গ্রহণ করে না এবং অশুভ
লক্ষণ নেয় না, বরং তারা তাদের রবের ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা করে। উক্কাশা বলেন: দো‘আ করেন যেন আল্লাহ আমাকে
তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বলেন: “হে আল্লাহ তাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন”। অতঃপর অপর ব্যক্তি বলে: আমার জন্য দো‘আ
করুন যেন আল্লাহ আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন, তিনি বলেন: “উক্কাশা তোমাকে অতিক্রম করে গেছে”। [আহমদ, ইব্ন
হিব্বান] হাদিসটি সহিহ।
-96 ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ - ﻗَﺎﻝَ: « ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻗُﺮَﻳْﺶٌ ﻟِﻠﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ﺍﺩْﻉُ ﻟَﻨَﺎ ﺭَﺑَّﻚَ ﺃَﻥْ ﻳَﺠْﻌَﻞَ ﻟَﻨَﺎ ﺍﻟﺼَّﻔَﺎ ﺫَﻫَﺒًﺎ ﻭَﻧُﺆْﻣِﻦُ ﺑِﻚَ، ﻗَﺎﻝَ: ﻭَﺗَﻔْﻌَﻠُﻮﻥَ؟ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻧَﻌَﻢْ . ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺪَﻋَﺎ ﻓَﺄَﺗَﺎﻩُ ﺟِﺒْﺮِﻳﻞُ ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻚَ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ-
ﻳَﻘْﺮَﺃُ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡَ، ﻭَﻳَﻘُﻮﻝُ: ﺇِﻥْ ﺷِﺌْﺖَ ﺃَﺻْﺒَﺢَ ﻟَﻬُﻢْ ﺍﻟﺼَّﻔَﺎ ﺫَﻫَﺒًﺎ، ﻓَﻤَﻦْ ﻛَﻔَﺮَ ﺑَﻌْﺪَ ﺫَﻟِﻚَ ﻣِﻨْﻬُﻢْ ﻋَﺬَّﺑْﺘُﻪُ ﻋَﺬَﺍﺑًﺎ ﻟَﺎ ﺃُﻋَﺬِّﺑُﻪُ ﺃَﺣَﺪًﺍ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻌَﺎﻟَﻤِﻴﻦَ، ﻭَﺇِﻥْ ﺷِﺌْﺖَ ﻓَﺘَﺤْﺖُ ﻟَﻬُﻢْ ﺑَﺎﺏَ ﺍﻟﺘَّﻮْﺑَﺔِ ﻭَﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﺔِ، ﻗَﺎﻝَ : ﺑَﻞْ ﺑَﺎﺏُ ﺍﻟﺘَّﻮْﺑَﺔِ ﻭَﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﺔِ » . ( ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ
৯৬. ইব্ন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “কুরাইশরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল:
তুমি তোমার রবের নিকট দো‘আ কর যেন ‘সাফা’কে আমাদের জন্য স্বর্ণ বানিয়ে দেন, তাহলে আমরা তোমার ওপর ঈমান আনব।
তিনি বললেন: তোমরা তাই করবে? তারা বলল: হ্যাঁ। ইব্ন আব্বাস বলেন: অতঃপর তিনি দো‘আ করেন, ফলে তার নিকট জিবরিল
আগমন করেন ও বলেন: তোমার রব তোমাকে সালাম করেছেন, তিনি বলছেন: যদি তুমি চাও তাহলে ‘সাফা’কে তাদের জন্য স্বর্ণ
বানিয়ে দিব, অতঃপর যে কুফরি করবে, তাকে আমি এমন আযাব দিব যা দুনিয়ার কাউকে দিব না। যদি চাও আমি তাদের জন্য
তওবা ও রহমতের দরজা খুলে দিব। তিনি বলেন: বরং তওবা ও রহমতের দরজা”। [আহমদ] হাদিসটি সহিহ।
-97 ﻋَﻦْ ﻋُﺒَﺎﺩَﺓَ ﺑْﻦِ ﺍﻟﺼَّﺎﻣِﺖِ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ- ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﻘَﺪَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻟَﻴْﻠَﺔً ﺃَﺻْﺤَﺎﺑُﻪُ، ﻭَﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﺇِﺫَﺍ ﻧَﺰَﻟُﻮﺍ ﺃَﻧْﺰَﻟُﻮﻩُ ﺃَﻭْﺳَﻄَﻬُﻢْ ﻓَﻔَﺰِﻋُﻮﺍ، ﻭَﻇَﻨُّﻮﺍ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ - ﺗَﺒَﺎﺭَﻙَ ﻭَﺗَﻌَﺎﻟَﻰ - ﺍﺧْﺘَﺎﺭَ ﻟَﻪُ ﺃَﺻْﺤَﺎﺑًﺎ ﻏَﻴْﺮَﻫُﻢْ، ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻫُﻢْ ﺑِﺨَﻴَﺎﻝِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓَﻜَﺒَّﺮُﻭﺍ ﺣِﻴﻦَ ﺭَﺃَﻭْﻩُ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ: ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﺷْﻔَﻘْﻨَﺎ ﺃَﻥْ ﻳَﻜُﻮﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪُ - ﺗَﺒَﺎﺭَﻙَ ﻭَﺗَﻌَﺎﻟَﻰ- ﺍﺧْﺘَﺎﺭَ ﻟَﻚَ ﺃَﺻْﺤَﺎﺑًﺎ ﻏَﻴْﺮَﻧَﺎ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﻟَﺎ، ﺑَﻞْ ﺃَﻧْﺘُﻢْ ﺃَﺻْﺤَﺎﺑِﻲ ﻓِﻲ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﻭَﺍﻟْﺂﺧِﺮَﺓِ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ
ﺃَﻳْﻘَﻈَﻨِﻲ ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺇِﻧِّﻲ ﻟَﻢْ ﺃَﺑْﻌَﺚْ ﻧَﺒِﻴًّﺎ ﻭَﻟَﺎ ﺭَﺳُﻮﻻً ﺇِﻟَّﺎ ﻭَﻗَﺪْ ﺳَﺄَﻟَﻨِﻲ ﻣَﺴْﺄَﻟَﺔً ﺃَﻋْﻄَﻴْﺘُﻬَﺎ ﺇِﻳَّﺎﻩُ ﻓَﺎﺳْﺄَﻝْ ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺗُﻌْﻂَ . ﻓَﻘُﻠْﺖُ: ﻣَﺴْﺄَﻟَﺘِﻲ ﺷَﻔَﺎﻋَﺔٌ ﻟِﺄُﻣَّﺘِﻲ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ » ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺃَﺑُﻮ ﺑَﻜْﺮٍ : ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭَﻣَﺎ ﺍﻟﺸَّﻔَﺎﻋَﺔُ؟
ﻗَﺎﻝَ: «ﺃَﻗُﻮﻝُ : ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﺷَﻔَﺎﻋَﺘِﻲ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﺍﺧْﺘَﺒَﺄْﺕُ ﻋِﻨْﺪَﻙَ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﺮَّﺏُّ ﺗَﺒَﺎﺭَﻙَ ﻭَﺗَﻌَﺎﻟَﻰ: ﻧَﻌَﻢْ ﻓَﻴُﺨْﺮِﺝُ ﺭَﺑِّﻲ - ﺗَﺒَﺎﺭَﻙَ ﻭَﺗَﻌَﺎﻟَﻰ- ﺑَﻘِﻴَّﺔَ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻓَﻴَﻨْﺒِﺬُﻫُﻢْ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ» (ﺣﻢ ) ﺣﺴﻦ
৯৭. উবাদাহ ইব্ন সামেত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “কোন এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথীগণ
তাকে হারিয়ে ফেলেন, সাধারণত তারা কোথাও অবতরণ করলে তাকে তাদের মাঝে রাখতেন, তাই তারা চিন্তিত হল, তারা
ধারণা করল আল্লাহ তার জন্য না তাদের ব্যতীত অন্য সম্প্রদায় মনোনীত করলেন! এভাবেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামকে নিয়ে চিন্তা করতে লাগল, হঠাৎ তাকে দেখে তাকবীর বলে উঠল, তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আশঙ্কা
করছিলাম যে, আল্লাহ না আপনার জন্য আমাদের ব্যতীত অন্যদের মনোনীত করেন! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বললেন: না, বরং তোমরা আমার দুনিয়া ও আখেরাতের সাথী। আল্লাহ তা‘আলা আমাকে জাগ্রত করে বলেন: হে
মুহাম্মদ, আমি এমন কোন নবী ও রাসূল প্রেরণ করি নি যে আমার নিকট একটি বস্তু প্রার্থনা করেছে আমি তাকে দেই নি। হে
মুহাম্মদ, তুমি চাও, দেয়া হবে। আমি বললাম: আমার চাওয়া হচ্ছে কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের জন্য সুপারিশ করা”। আবু বকর
বললেন: হে আল্লাহর রাসূল সুপারিশ কি? তিনি বললেন: “আমি বলব: হে আমার রব, আমার সুপারিশ চাই যা আপনার নিকট আমি
গোপনে জমা রেখেছি। আল্লাহ বলবেন: হ্যাঁ। অতঃপর আমার রব জাহান্নাম থেকে আমার অবশিষ্ট উম্মত বের করবেন, অতঃপর
তাদেরকে জান্নাতে নিক্ষেপ করবেন”। [আহমদ] হাদিসটি হাসান।
বদরি সাহাবিদের ফযিলত
-98 ﻋَﻦْ ﻋَﻠِﻲٍّ ( ﻗَﺎﻝَ: ﺑَﻌَﺜَﻨِﻲ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭَﺃَﺑَﺎ ﻣَﺮْﺛَﺪٍ ﺍﻟْﻐَﻨَﻮِﻱَّ ﻭَﺍﻟﺰُّﺑَﻴْﺮَ ﺑْﻦَ ﺍﻟْﻌَﻮَّﺍﻡِ ﻭَﻛُﻠُّﻨَﺎ ﻓَﺎﺭِﺱٌ، ﻗَﺎﻝَ: « ﺍﻧْﻄَﻠِﻘُﻮﺍ ﺣَﺘَّﻰ ﺗَﺄْﺗُﻮﺍ ﺭَﻭْﺿَﺔَ ﺧَﺎﺥٍ ﻓَﺈِﻥَّ ﺑِﻬَﺎ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓً ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻤُﺸْﺮِﻛِﻴﻦَ ﻣَﻌَﻬَﺎ ﺻَﺤِﻴﻔَﺔٌ ﻣِﻦْ ﺣَﺎﻃِﺐِ ﺑْﻦِ ﺃَﺑِﻲ ﺑَﻠْﺘَﻌَﺔَ
ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﻤُﺸْﺮِﻛِﻴﻦَ » ﻓَﺄَﺩْﺭَﻛْﻨَﺎﻫَﺎ ﺗَﺴِﻴﺮُ ﻋَﻠَﻰ ﺑَﻌِﻴﺮٍ ﻟَﻬَﺎ؛ ﺣَﻴْﺚُ ﻗَﺎﻝَ ﻟﻨﺎ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓَﻘُﻠْﻨَﺎ: ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏُ، ﻓَﻘَﺎﻟَﺖْ: ﻣَﺎ ﻣﻌﻨﺎ ﻛِﺘَﺎﺏٌ، ﻓَﺄَﻧَﺨْﻨَﺎﻫَﺎ ﻓَﺎﻟْﺘَﻤَﺴْﻨَﺎ ﻓَﻠَﻢْ ﻧَﺮَ ﻛِﺘَﺎﺑًﺎ، ﻓَﻘُﻠْﻨَﺎ: ﻣَﺎ ﻛَﺬَﺏَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ،
ﻟَﺘُﺨْﺮِﺟِﻦَّ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏَ ﺃَﻭْ ﻟَﻨُﺠَﺮِّﺩَﻧَّﻚِ ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺭَﺃَﺕْ ﺍﻟْﺠِﺪَّ ﺃَﻫْﻮَﺕْ ﺇِﻟَﻰ ﺣُﺠْﺰَﺗِﻬَﺎ -ﻭَﻫِﻲَ ﻣُﺤْﺘَﺠِﺰَﺓٌ ﺑِﻜِﺴَﺎﺀٍ- ﻓَﺄَﺧْﺮَﺟَﺘْﻪُ ﻓَﺎﻧْﻄَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺑِﻬَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﻋُﻤَﺮُ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻗَﺪْ ﺧَﺎﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟَﻪُ ﻭَﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻓَﺪَﻋْﻨِﻲ ﻓَﻠِﺄَﺿْﺮِﺏَ
ﻋُﻨُﻘَﻪُ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : «ﻣَﺎ ﺣَﻤَﻠَﻚَ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﺎ ﺻَﻨَﻌْﺖَ؟» ﻗَﺎﻝَ ﺣَﺎﻃِﺐٌ: ﻭَﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣَﺎ ﺑِﻲ ﺃَﻥْ ﻟَﺎ ﺃَﻛُﻮﻥَ ﻣُﺆْﻣِﻨًﺎ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟِﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ، ﺃَﺭَﺩْﺕُ ﺃَﻥْ ﻳَﻜُﻮﻥَ ﻟِﻲ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟْﻘَﻮْﻡِ ﻳَﺪٌ ﻳَﺪْﻓَﻊُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻬَﺎ ﻋَﻦْ ﺃَﻫْﻠِﻲ ﻭَﻣَﺎﻟِﻲ، ﻭَﻟَﻴْﺲَ
ﺃَﺣَﺪٌ ﻣِﻦْ ﺃَﺻْﺤَﺎﺑِﻚَ ﺇِﻟَّﺎ ﻟَﻪُ ﻫُﻨَﺎﻙَ ﻣِﻦْ ﻋَﺸِﻴﺮَﺗِﻪِ ﻣَﻦْ ﻳَﺪْﻓَﻊُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻪِ ﻋَﻦْ ﺃَﻫْﻠِﻪِ ﻭَﻣَﺎﻟِﻪِ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﺻَﺪَﻕَ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﻘُﻮﻟُﻮﺍ ﻟَﻪُ ﺇِﻟَّﺎ ﺧَﻴْﺮًﺍ » , ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻋُﻤَﺮُ: ﺇِﻧَّﻪُ ﻗَﺪْ ﺧَﺎﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟَﻪُ ﻭَﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻓَﺪَﻋْﻨِﻲ ﻓَﻠِﺄَﺿْﺮِﺏَ ﻋُﻨُﻘَﻪُ. ﻓَﻘَﺎﻝَ:
«ﺃَﻟَﻴْﺲَ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻞِ ﺑَﺪْﺭٍ، ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﻟَﻌَﻞَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺍﻃَّﻠَﻊَ ﻋﻠﻰ ﺃَﻫْﻞِ ﺑَﺪْﺭٍ، ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺍﻋْﻤَﻠُﻮﺍ ﻣَﺎ ﺷِﺌْﺘُﻢْ ﻓَﻘَﺪْ ﻭَﺟَﺒَﺖْ ﻟَﻜُﻢْ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔُ -ﺃَﻭْ ﻓَﻘَﺪْ ﻏَﻔَﺮْﺕُ ﻟَﻜُﻢْ-» . ﻓَﺪَﻣَﻌَﺖْ ﻋَﻴْﻨَﺎ ﻋُﻤَﺮَ ﻭَﻗَﺎﻝَ : ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟُﻪُ ﺃَﻋْﻠَﻢُ . ( ﺥ , ﻡ , ﺩ ) ﺻﺤﻴﺢ
৯৮. আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু মুরসিদ গনভি,
যুবায়ের ও আমাকে প্রেরণ করেন, আমরা সবাই ছিলাম ঘোড় সওয়ার, তিনি বলেন: “তোমরা যাও, ‘রওদাতা খাখ’ এ পৌঁছ, সেখানে
এক মুশরিক নারী রয়েছে, তার সাথে হাতেব ইব্ন আবি বালতা‘আর পক্ষ থেকে মুশরিকদের প্রতি লেখা চিঠি আছে”। আমরা
তাকে সেখানেই পেলাম যার কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন, সে উঠে চড়ে যাচ্ছিল,
আমরা বললাম: চিঠি, সে বলল: আমার সাথে চিঠি নেই। আমরা তাকে নামিয়ে তালাশ করলাম কিন্তু কোন চিঠি পেলাম না।
আমরা বললাম: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিথ্যা বলেন নি, তুমি অবশ্যই চিঠি বের করবে অথবা আমরা
তোমাকে উলঙ্গ করব, যখন সে পীড়াপীড়ি দেখল, তার কোমরের ফিতার দিকে নজর দিল, -চিঠিটি কাপড়ে মোড়ানো ছিল,-
অতঃপর সে তা বের করল, আমরা চিঠি নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য ছুটলাম। অতঃপর ওমর
রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: হে আল্লাহর রাসূল সে আল্লাহ, রাসূল ও মুমিনদের সাথে খিয়ানত করেছে, আমাকে ছাড়ুন আমি তার
গর্দান উড়িয়ে দেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হাতেবকে) বললেন: “যা করেছ কেন করেছ?” হাতেব বলল: আল্লাহর
কসম, আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি বেঈমান হওয়ার কোন কারণ নেই, আমি চেয়েছি তাদের নিকট আমার একটা হাত থাক, যার
বিনিময়ে আল্লাহ আমার পরিবার ও সম্পদের সুরক্ষা দিবেন, আপনার সাথীদের এমন কেউ নেই যার বংশের কোন লোক সেখানে
নেই, যার দ্বারা আল্লাহ তার পরিবার ও সম্পদ রক্ষা করেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “সে সত্য
বলেছে, তার ব্যাপারে ভালো ব্যতীত মন্দ বল না”। ওমর বললেন: সে আল্লাহ, রাসূল ও মুমিনদের খিয়ানত করেছে, আমাকে অনুমতি
দিন আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “সে কি বদরি নয়? অতঃপর বললেন:
নিশ্চয় আল্লাহ বদরিদের ব্যাপারে অবগত হয়েছেন, অতঃপর বলেছেন: তোমরা যা ইচ্ছা কর, তোমাদের জন্য জান্নাত ওয়াজিব,
অথবা তোমাদের আমি ক্ষমা করে দিয়েছি”। অতঃপর ওমরের দু’চোখ অশ্রু সিক্ত হয়ে গেল, তিনি বলেন: আল্লাহ ও তার রাসূলই
অধিক জানেন। [বুখারি, মুসলিম ও আবু দাউদ] হাদিসটি সহিহ।
সালাত ফরজ হওয়া ও মেরাজের হাদিস
-99 ﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲِ ﺑْﻦِ ﻣَﺎﻟِﻚٍ ( ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﺃُﺗِﻴﺖُ ﺑِﺎﻟْﺒُﺮَﺍﻕِ ﻭَﻫُﻮَ ﺩَﺍﺑَّﺔٌ ﺃَﺑْﻴَﺾُ ﻃَﻮِﻳﻞٌ ﻓَﻮْﻕَ ﺍﻟْﺤِﻤَﺎﺭِ ﻭَﺩُﻭﻥَ ﺍﻟْﺒَﻐْﻞِ ﻳَﻀَﻊُ ﺣَﺎﻓِﺮَﻩُ ﻋِﻨْﺪَ ﻣُﻨْﺘَﻬَﻰ ﻃَﺮْﻓِﻪِ، ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺮَﻛِﺒْﺘُﻪُ ﺣَﺘَّﻰ ﺃَﺗَﻴْﺖُ ﺑَﻴْﺖَ ﺍﻟْﻤَﻘْﺪِﺱِ ﻗَﺎﻝَ ﻓَﺮَﺑَﻄْﺘُﻪُ ﺑِﺎﻟْﺤَﻠْﻘَﺔِ
ﺍﻟَّﺘِﻲ ﻳَﺮْﺑِﻂُ ﺑِﻬﺎ ﺍﻟْﺄَﻧْﺒِﻴَﺎﺀُ، ﻗَﺎﻝَ : ﺛُﻢَّ ﺩَﺧَﻠْﺖُ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪَ ﻓَﺼَﻠَّﻴْﺖُ ﻓِﻴﻪِ ﺭَﻛْﻌَﺘَﻴْﻦِ ﺛُﻢَّ ﺧَﺮَﺟْﺖُ ﻓَﺠَﺎﺀَﻧِﻲ ﺟِﺒْﺮِﻳﻞُ -ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡ- ﺑِﺈِﻧَﺎﺀٍ ﻣِﻦْ ﺧَﻤْﺮٍ، ﻭَﺇِﻧَﺎﺀٍ ﻣِﻦْ ﻟَﺒَﻦٍ ﻓَﺎﺧْﺘَﺮْﺕُ ﺍﻟﻠَّﺒَﻦَ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺟِﺒْﺮِﻳﻞُ: ﺍﺧْﺘَﺮْﺕَ ﺍﻟْﻔِﻄْﺮَﺓَ ﺛُﻢَّ ﻋَﺮَﺝَ ﺑِﻨَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ » ... ﻓﺬﻛﺮ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ
ﻭﻓﻴﻪ: « ﻓَﻠَﻢْ ﺃَﺯَﻝْ ﺃَﺭْﺟِﻊُ ﺑَﻴْﻦَ ﺭَﺑِّﻲ - ﺗَﺒَﺎﺭَﻙَ ﻭَﺗَﻌَﺎﻟَﻰ - ﻭَﺑَﻴْﻦَ ﻣُﻮﺳَﻰ -ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡ- ﺣَﺘَّﻰ ﻗَﺎﻝَ: ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺇِﻧَّﻬُﻦَّ ﺧَﻤْﺲُ ﺻَﻠَﻮَﺍﺕٍ ﻛُﻞَّ ﻳَﻮْﻡٍ ﻭَﻟَﻴْﻠَﺔٍ ﻟِﻜُﻞِّ ﺻَﻠَﺎﺓٍ ﻋَﺸْﺮٌ ﻓَﺬَﻟِﻚَ ﺧَﻤْﺴُﻮﻥَ ﺻَﻠَﺎﺓً، ﻭَﻣَﻦْ ﻫَﻢَّ ﺑِﺤَﺴَﻨَﺔٍ ﻓَﻠَﻢْ ﻳَﻌْﻤَﻠْﻬَﺎ ﻛُﺘِﺒَﺖْ ﻟَﻪُ ﺣَﺴَﻨَﺔً ﻓَﺈِﻥْ
ﻋَﻤِﻠَﻬَﺎ ﻛُﺘِﺒَﺖْ ﻟَﻪُ ﻋَﺸْﺮًﺍ، ﻭَﻣَﻦْ ﻫَﻢَّ ﺑِﺴَﻴِّﺌَﺔٍ ﻓَﻠَﻢْ ﻳَﻌْﻤَﻠْﻬَﺎ ﻟَﻢْ ﺗُﻜْﺘَﺐْ ﺷَﻴْﺌًﺎ ﻓَﺈِﻥْ ﻋَﻤِﻠَﻬَﺎ ﻛُﺘِﺒَﺖْ ﺳَﻴِّﺌَﺔً ﻭَﺍﺣِﺪَﺓً، ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﻨَﺰَﻟْﺖُ ﺣَﺘَّﻰ ﺍﻧْﺘَﻬَﻴْﺖُ ﺇِﻟَﻰ ﻣُﻮﺳَﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓَﺄَﺧْﺒَﺮْﺗُﻪُ ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﺍﺭْﺟِﻊْ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﺑِّﻚَ ﻓَﺎﺳْﺄَﻟْﻪُ ﺍﻟﺘَّﺨْﻔِﻴﻒَ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ﻓَﻘُﻠْﺖُ ﻗَﺪْ ﺭَﺟَﻌْﺖُ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﺑِّﻲ ﺣَﺘَّﻰ ﺍﺳْﺘَﺤْﻴَﻴْﺖُ ﻣِﻨْﻪُ » . ( ﻡ , ﺥ ) ﺻﺤﻴﺢ
ﻭﻓﻲ ﺣﺪﻳﺚ ﺃﺑﻲ ﺫﺭ ( ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃﻥ ﺍﻟﻠﻪ -ﻋﺰ ﻭﺟﻞ - ﻗﺎﻝ: « ﻫِﻲَ ﺧَﻤْﺲٌ ﻭَﻫِﻲَ ﺧَﻤْﺴُﻮﻥَ ﻻ ﻳُﺒَﺪَّﻝُ ﺍﻟْﻘَﻮْﻝُ ﻟَﺪَﻱَّ » . ( ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
৯৯. আনাস ইব্ন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমার
নিকট বোরাক নিয়ে আসা হল, বোরাক হচ্ছে চতুষ্পদ জন্তু সাদা, লম্বা, গাধার চেয়ে বড় ও খচ্চর থেকে ছোট, তার দৃষ্টির শেষ
প্রান্তে সে তার পা রাখে, তিনি বলেন: আমি তাতে সওয়ার হলাম, অবশেষে আমাকে বায়তুল মাকদিস নিয়ে আসা হল, তিনি
বলেন: আমি তাকে সে খুঁটির সাথে বাঁধলাম যার সাথে নবীগণ বাঁধেন। তিনি বলেন: অতঃপর আমি মসজিদে প্রবেশ করি, তাতে
দু’রাকাত সালাত আদায় করি, অতঃপর বের হই। অতঃপর জিবরিল আমার নিকট মদের ও দুধের পাত্র নিয়ে আসেন, আমি দুধের পাত্র
গ্রহণ করি, জিবরিল আমাকে বলেন: তুমি ফিতরাত (স্বভাব) গ্রহণ করেছ, অতঃপর আমাদের নিয়ে আসমানে চড়েন ...”। তিনি
হাদিস উল্লেখ করেন, তাতে রয়েছে: “আমি আমার রব ও মুসা আলাইহিস সালামের মাঝে যাওয়া-আসা করতে ছিলাম, অবশেষে
তিনি বলেন: হে মুহাম্মদ, প্রতি রাত-দিনে এ হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, প্রত্যেক সালাতের জন্য দশ, এভাবে পঞ্চাশ ওয়াক্ত
সালাত। যে নেক কাজ করার ইচ্ছা করল কিন্তু তা করেনি, আমি তার জন্য একটি নেকি লেখি, যদি সে তা করে তার জন্য দশটি
লেখা হয়। যে পাপ করার ইচ্ছা করে কিন্তু সে তা করে নি, তার জন্য কিছু লেখা হয় না, যদি সে তা করে তবে তার জন্য একটি পাপ
লেখা হয়। তিনি বলেন: অতঃপর আমি অবতরণ করে মুসা আলাইহিস সালামের নিকট পৌঁছলাম এবং তাকে সংবাদ দিলাম, তিনি
আমাকে বললেন: তোমার রবের নিকট ফিরে যাও, তার নিকট হ্রাসের দরখাস্ত কর, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি বললাম আমি আমার রবের নিকট বারবার গিয়েছি এখন লজ্জা করছি”। [বুখারি ও মুসলিম] হাদিসটি
সহিহ।
আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, আল্লাহ
তা‘আলা বলেছেন: “এ হচ্ছে পাঁচ, অথচ তা পঞ্চাশ [38] , আমার নিকট কথার (সিদ্ধান্তের) কোন পরিবর্তন নেই”। [বুখারি ও মুসলিম]
হাদিসটি সহিহ। অর্থাৎ কর্মে পাঁচ কিন্তু সাওয়াবে পঞ্চাশ।
আরাফার দিনের ফযিলত ও হাজিদের নিয়ে আল্লাহর গর্ব করা
-100 ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔُ - ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ- ﺇِﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ : «ﻣَﺎ ﻣِﻦْ ﻳَﻮْﻡٍ ﺃَﻛْﺜَﺮَ ﻣِﻦْ ﺃَﻥْ ﻳُﻌْﺘِﻖَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻓِﻴﻪِ ﻋَﺒْﺪًﺍ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻣِﻦْ ﻳَﻮْﻡِ ﻋَﺮَﻓَﺔَ، ﻭَﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﻴَﺪْﻧُﻮ ﺛُﻢَّ ﻳُﺒَﺎﻫِﻲ ﺑِﻬِﻢْ ﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔَ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻣَﺎ ﺃَﺭَﺍﺩَ ﻫَﺆُﻟَﺎﺀِ » . ( ﻡ )
ﺻﺤﻴﺢ
১০০. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আরাফার দিন ব্যতীত কোন
দিন নেই যেখানে আল্লাহ তা‘আলা অধিক বান্দাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করেন। তাতে তিনি নিকটবর্তী হন
অতঃপর ফেরেশতাদের সাথে গর্ব করেন ও বলেন: তারা কি চায়?” [মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
-101 ﻋﻦ ﺟﺎﺑﺮ ( ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭَﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﻣﺎ ﻣِﻦْ ﺃﻳﺎﻡٍ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﻠﻪ ﺃَﻓْﻀَﻞ ﻣِﻦْ ﻋَﺸْﺮِ ﺫِﻱ ﺍﻟﺤِﺠَﺔ» ، ﻗَﺎﻝ: ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺭَﺟُﻞٌ: ﻳﺎ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪ ﻫُﻦّ ﺃَﻓْﻀَﻞُ ﺃﻡْ ﻋَﺪَﺩَﻫُﻦَّ ﺟِﻬَﺎﺩًﺍ ﻓﻲ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠﻪ؟ ﻗﺎﻝ: « ﻫُﻦَّ ﺃَﻓْﻀَﻞ ﻣِﻦْ ﻋَﺪَﺩُﻫْﻦَّ
ﺟِﻬﺎﺩًﺍ ﻓﻲ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠﻪ، ﻭﻣَﺎَ ﻣِﻦْ ﻳَﻮْﻡ ﺃﻓْﻀَﻞُ ﻋِﻨْﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻣِﻦْ ﻳَﻮﻡ ﻋَﺮَﻓﺔَ : ﻳَﻨْﺰِﻝُ ﺍﻟﻠﻪ - ﺗَﺒَﺎﺭْﻙَ ﻭﺗَﻌَﺎﻟﻰ- ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺴْﻤَﺎﺀِ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ﻓَﻴُﺒﺎﻫﻲ ﺑِﺄﻫْﻞِ ﺍﻷﺭﺽ ﺃﻫَﻞْ ﺍﻟﺴْﻤَﺎﺀِ، ﻓﻴﻘﻮﻝ : ﺍﻧْﻈُﺮﻭﺍ ﺇﻟﻰ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ ﺟَﺎﺀﻭﺍ ﺷُﻌْﺜًﺎ ﻏُﺒْﺮًﺍ ﺣَﺎﺟِﻴﻦ ﺟَﺎﺀْﻭﺍ ﻣِﻦْ ﻛُﻞِ ﻓﺞٍّ ﻋَﻤِﻴﻖْ
ﻳَﺮﺟُﻮﻥَ ﺭَﺣْﻤَﺘﻲ ﻭﻟﻢ ﻳَﺮﻭﺍ ﻋَﺬَﺍﺑﻲ، ﻓَﻠَﻢ ﻳُﺮَ ﻳﻮﻡٌ ﺃﻛﺜﺮ ﻋﺘﻴﻘًﺎ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﺎﺭ ﻣِﻦْ ﻳَﻮﻡ ﻋَﺮَﻓْﺔ» . ( ﺣﺐ ) ﺣﺴﻦ ﻟﻐﻴﺮﻩ
১০১. জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যিলহজ মাসের দশ দিন
থেকে উত্তম আল্লাহর নিকট কোন দিন নেই”। তিনি বলেন: এক ব্যক্তি বলে: হে আল্লাহর রাসূল, এ দিনগুলোই উত্তম, না এ দিনগুলো
আল্লাহর রাস্তায় জিহাদসহ উত্তম? তিনি বললেন: “জিহাদ ছাড়াই এগুলো উত্তম। আল্লাহর নিকট আরাফার দিন থেকে উত্তম
কোন দিন নেই, আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন অতঃপর জমিনে বাসকারীদের নিয়ে আসমানে বাসকারীদের সাথে
গর্ব করেন। তিনি বলেন: আমার বান্দাদের দেখ, তারা হজের জন্য এলোমেলো চুল ও ধূলিময় অবস্থায় দূর-দিগন্ত থেকে এসেছে।
তারা আমার রহমত আশা করে, অথচ তারা আমার আযাব দেখে নি। সুতরাং এমন কোনো দিন দেখা যায় না যাতে আরাফার
দিনের তুলনায় জাহান্নাম থেকে অধিক মুক্তি পায়”। [ইব্ন হিব্বান] হাদিসটি হাসান লি গায়রিহি।
-102 ﻋَﻦْ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ( ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: « ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻳُﺒَﺎﻫِﻲ ﺑِﺄَﻫْﻞ ﻋَﺮَﻓَﺎﺕْ ﻣَﻠَﺎﺋِﻜَﺔ ﺍﻟﺴْﻤَﺎﺀِ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﺍﻧْﻈُﺮُﻭﺍ ﺇِﻟَﻰ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ ﺟَﺎَﺀُﻭﻧِﻲ ﺷُﻌْﺜًﺎ ﻏُﺒْﺮًﺍ» . ( ﺣﺐ ) ﺻﺤﻴﺢ ﻟﻐﻴﺮﻩ
১০২. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা
আরাফার লোকদের নিয়ে আসমানের ফেরেশতাদের সাথে গর্ব করেন, তিনি বলেন: আমার বান্দাদের দেখ তারা এলোমেলো চুল
ও ধূলিময় অবস্থায় আমার কাছে এসেছে”। [ইব্ন হিব্বান] হাদিসটি সহিহ লি গায়রিহি।
সিয়ামের ফযিলত
-103 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﺃﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﻗَﺎَﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ: ﻛُﻞُّ ﻋَﻤَﻞِ ﺍﺑْﻦِ ﺁﺩَﻡَ ﻟَﻪُ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﺼِّﻴَﺎﻡَ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻟِﻲ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﺃَﺟْﺰِﻱ ﺑِﻪِ» . (ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
১০৩. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা
বলেন: সিয়াম ব্যতীত বনি আদমের প্রত্যেক আমলই তার জন্য, কারণ তা আমার জন্য, আমিই তার প্রতিদান দেব”। [বুখারি ও মুসলিম]
হাদিসটি সহিহ।
সন্তান মারা যাওয়ার পর সওয়াবের আশায় ধৈর্যধারণ করার ফজিলত
-104 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﻳَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ: ﻣَﺎ ﻟِﻌَﺒْﺪِﻱ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻦِ ﻋِﻨْﺪِﻱ ﺟَﺰَﺍﺀٌ ﺇِﺫَﺍ ﻗَﺒَﻀْﺖُ ﺻَﻔِﻴَّﻪُ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﺛُﻢَّ ﺍﺣْﺘَﺴَﺒَﻪُ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔُ ». ( ﺥ ) ﺻﺤﻴﺢ
১০৪. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা
বলেন: আমার মুমিন বান্দার জন্য আমার নিকট জান্নাত ব্যতীত কোন প্রতিদান নেই যখন আমি দুনিয়া থেকে তার কলিজার টুকরা
[39] গ্রহণ করি, আর সে তার জন্য সওয়াবের আশা করে ধৈর্য ধারণ করে”। [বুখারি] হাদিসটি সহিহ।
-105 ﻋَﻦْ ﺷُﺮَﺣْﺒِﻴﻞُ ﺍﺑْﻦُ ﺷُﻔْﻌَﺔَ ﻋَﻦْ ﺑَﻌْﺾِ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ؛ ﺃَﻧَّﻪُ ﺳَﻤِﻊَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ: «ﻳُﻘَﺎﻝُ ﻟِﻠْﻮِﻟْﺪَﺍﻥِ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ : ﺍﺩْﺧُﻠُﻮﺍ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ » ﻗَﺎﻝَ: «ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ : ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺪْﺧُﻞَ ﺁﺑَﺎﺅُﻧَﺎ ﻭَﺃُﻣَّﻬَﺎﺗُﻨَﺎ» ﻗَﺎﻝَ:
«ﻓَﻴَﺄْﺗُﻮﻥَ » ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ: «ﻣَﺎ ﻟِﻲ ﺃَﺭَﺍﻫُﻢْ ﻣُﺤْﺒَﻨْﻄِﺌِﻴﻦَ ﺍﺩْﺧُﻠُﻮﺍ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ» ﻗَﺎﻝَ: «ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﺁﺑَﺎﺅُﻧَﺎ ﻭَﺃُﻣَّﻬَﺎﺗُﻨَﺎ » ﻗَﺎﻝَ: « ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﺍﺩْﺧُﻠُﻮﺍ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﺃَﻧْﺘُﻢْ ﻭَﺁﺑَﺎﺅُﻛُﻢْ» . ( ﺣﻢ ) ﺣﺴﻦ
১০৫. শুরাহবিল ইব্ন শুফ‘আহ থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক সাহাবি সূত্রে বর্ণনা করেন,
তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: “কিয়ামতের দিন বাচ্চাদের বলা হবে জান্নাতে প্রবেশ
কর”। তিনি বলেন: “তারা বলবে: যতক্ষণ না আমাদের পিতা-মাতা প্রবেশ না করেন”। তিনি বলেন: “অতঃপর তারা আসবে”।
তিনি বলেন: আল্লাহ বলবেন: “কি ব্যাপার তাদেরকে কেন নারাজ দেখছি, জান্নাতে প্রবেশ কর”। তিনি বলেন: “অতঃপর তারা
বলবে: হে আমার রব, আমাদের পিতা-মাতা”! তিনি বলেন: “অতঃপর তিনি বলবেন: “তোমরা ও তোমাদের পিতা-মাতা
জান্নাতে প্রবেশ কর”। [আহমদ] হাদিসটি হাসান।
-106 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺃُﻣَﺎﻣَﺔَ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ- ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: «ﻳَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺳُﺒْﺤَﺎﻧَﻪ ﻭﺗﻌﺎﻟﻰ: ﺍﺑْﻦَ ﺁﺩَﻡَ ﺇِﻥْ ﺻَﺒَﺮْﺕَ ﻭَﺍﺣْﺘَﺴَﺒْﺖَ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﺼَّﺪْﻣَﺔِ ﺍﻟْﺄُﻭﻟَﻰ ﻟَﻢْ ﺃَﺭْﺽَ ﻟَﻚَ ﺛَﻮَﺍﺑًﺎ ﺩُﻭﻥَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ». ( ﺟﻪ ) ﺣﺴﻦ
১০৬. আবু উমামা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: হে বনি আদম, যদি
তুমি ধৈর্যধারণ কর ও প্রথম দুঃখের সময় অধৈর্য না হয়ে তাতে সওয়াবের আশা কর, তাহলে আমি তোমার জন্য জান্নাত ব্যতীত
কোন প্রতিদানে সন্তুষ্ট হব না”। [ইব্ন মাজাহ] হাদিসটি হাসান।
-107 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻣُﻮﺳَﻰ ﺍﻟْﺄَﺷْﻌَﺮِﻱِّ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ- ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﺇِﺫَﺍ ﻣَﺎﺕَ ﻭَﻟَﺪُ ﺍﻟْﻌَﺒْﺪِ ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟِﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺘِﻪِ: ﻗَﺒَﻀْﺘُﻢْ ﻭَﻟَﺪَ ﻋَﺒْﺪِﻱ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﻧَﻌَﻢْ , ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ : ﻗَﺒَﻀْﺘُﻢْ ﺛَﻤَﺮَﺓَ ﻓُﺆَﺍﺩِﻩِ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﻧَﻌَﻢْ , ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ:
ﻣَﺎﺫَﺍ ﻗَﺎﻝَ ﻋَﺒْﺪِﻱ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﺣَﻤِﺪَﻙَ ﻭَﺍﺳْﺘَﺮْﺟَﻊَ، ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ: ﺍﺑْﻨُﻮﺍ ﻟِﻌَﺒْﺪِﻱ ﺑَﻴْﺘًﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﻭَﺳَﻤُّﻮﻩُ ﺑَﻴْﺖَ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪِ » . ( ﺕ , ﺣﺐ ) ﺣﺴﻨﻪ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ
১০৭. আবু মুসা আশ‘আরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “বান্দার
যখন সন্তান মারা যায় আল্লাহ তার ফেরেশতাদের বলেন: তোমরা আমার বান্দার সন্তান কব্জা করেছ? তারা বলে: হ্যাঁ। তিনি
বলেন: তোমরা আমার বান্দার অন্তরের নির্যাস গ্রহণ করেছ? তারা বলে: হ্যাঁ। তিনি বলেন: আমার বান্দা কি বলেছে? তারা
বলে: আপনার প্রশংসা করেছে ও ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজেউন পড়েছে। (অর্থাৎ আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং
আমরা তার কাছেই ফেরৎ যাব এটা বলেছে।) অতঃপর আল্লাহ বলেন: তোমরা আমার বান্দার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ কর,
তার নাম রাখ বায়তুল হামদ”। [তিরমিযি ও ইব্ন হিব্বান] হাদিসটি শায়খ আলবানি হাসান বলেছেন।
আল্লাহর রাস্তায় খরচ করা ও উৎসাহ প্রদানের ফযিলত
-108 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ- ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: «ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ: ﺃَﻧْﻔِﻖْ ﻳَﺎ ﺍﺑْﻦَ ﺁﺩَﻡَ ﺃُﻧْﻔِﻖْ ﻋَﻠَﻴْﻚَ» . ( ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
১০৮. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা
বলেন: হে বনি আদম, তুমি খরচ কর, আমি তোমার ওপর খরচ করব”। [বুখারি ও মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
-109 ﻋَﻦْ ﻋَﺪِﻱَّ ﺑْﻦَ ﺣَﺎﺗِﻢٍ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ -، ﻳَﻘُﻮﻝُ: " ﻛُﻨْﺖُ ﻋِﻨْﺪَ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻘَﺎَﻝَ: « ...ﺛُﻢَّ ﻟَﻴَﻘِﻔَﻦَّ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ ﺑَﻴْﻦَ ﻳَﺪَﻱْ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻟَﻴْﺲَ ﺑَﻴْﻨَﻪُ ﻭَﺑَﻴْﻨَﻪُ ﺣِﺠَﺎﺏٌ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺮْﺟُﻤَﺎﻥٌ ﻳُﺘَﺮْﺟِﻢُ ﻟَﻪُ، ﺛُﻢَّ ﻟَﻴَﻘُﻮﻟَﻦَّ ﻟَﻪُ : ﺃَﻟَﻢْ ﺃُﻭﺗِﻚَ ﻣَﺎﻻً؟ ﻓَﻠَﻴَﻘُﻮﻟَﻦَّ:
ﺑَﻠَﻰ، ﺛُﻢَّ ﻟَﻴَﻘُﻮﻟَﻦَّ: ﺃَﻟَﻢْ ﺃُﺭْﺳِﻞْ ﺇِﻟَﻴْﻚَ ﺭَﺳُﻮﻻً؟ ﻓَﻠَﻴَﻘُﻮﻟَﻦَّ: ﺑَﻠَﻰ، ﻓَﻴَﻨْﻈُﺮُ ﻋَﻦْ ﻳَﻤِﻴﻨِﻪِ ﻓَﻠَﺎ ﻳَﺮَﻯ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻨَّﺎﺭَ، ﺛُﻢَّ ﻳَﻨْﻈُﺮُ ﻋَﻦْ ﺷِﻤَﺎﻟِﻪِ ﻓَﻠَﺎ ﻳَﺮَﻯ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻨَّﺎﺭَ ﻓَﻠْﻴَﺘَّﻘِﻴَﻦَّ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ ﺍﻟﻨَّﺎﺭَ ﻭَﻟَﻮْ ﺑِﺸِﻖِّ ﺗَﻤْﺮَﺓٍ ﻓَﺈِﻥْ ﻟَﻢْ ﻳَﺠِﺪْ ﻓَﺒِﻜَﻠِﻤَﺔٍ ﻃَﻴِّﺒَﺔٍ» . ( ﺥ ) ﺻﺤﻴﺢ
১০৯. আদি ইব্ন হাতেম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
নিকট ছিলাম, তিনি বলেন: “... অতঃপর তোমাদের প্রত্যেকে আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হবে, তার ও আল্লাহর মাঝে কোন
পর্দা থাকবে না, দুভাষীও না যে তার জন্য অনুবাদ করবে। অতঃপর তিনি বলবেন: আমি কি তোমাকে সম্পদ দেই নাই? সে বলবে:
অবশ্যই, অতঃপর বলবেন: আমি কি তোমার নিকট রাসূল প্রেরণ করিনি? সে বলবে: অবশ্যই, সে তার ডানে তাকাবে আগুন ব্যতীত
কিছুই দেখবে না, অতঃপর তার বামে তাকাবে আগুন ব্যতীত কিছুই দেখবে না, অতএব তোমাদের প্রত্যেকের উচিত জাহান্নামের
আগুন থেকে সুরক্ষা গ্রহণ করা, যদিও সেটা একটি খেজুরের অংশের বিনিময়ে হয়, যদি তার সামর্থ্য না থাকে তাহলে সুন্দর বাক্য
দ্বারা”। [বুখারি] হাদিসটি সহিহ।
-110 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻭَﺍﻗِﺪٍ ﺍﻟﻠَّﻴْﺜِﻲِّ ﻗَﺎﻝَ: ﻛُﻨَّﺎ ﻧَﺄْﺗِﻲ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺇِﺫَﺍ ﺃُﻧْﺰِﻝَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻓَﻴُﺤَﺪِّﺛُﻨَﺎ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻨَﺎ ﺫَﺍﺕَ ﻳَﻮْﻡٍ: « ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ- ﻗَﺎﻝَ: ﺇِﻧَّﺎ ﺃَﻧْﺰَﻟْﻨَﺎ ﺍﻟْﻤَﺎﻝَ ﻟِﺈِﻗَﺎﻡِ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ ﻭَﺇِﻳﺘَﺎﺀِ ﺍﻟﺰَّﻛَﺎﺓِ، ﻭَﻟَﻮْ ﻛَﺎﻥَ ﻟِﺎﺑْﻦِ ﺁﺩَﻡَ ﻭَﺍﺩٍ ﻟَﺄَﺣَﺐَّ ﺃَﻥْ ﻳَﻜُﻮﻥَ
ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﺛَﺎﻥٍ، ﻭَﻟَﻮْ ﻛَﺎﻥَ ﻟَﻪُ ﻭَﺍﺩِﻳَﺎﻥِ ﻟَﺄَﺣَﺐَّ ﺃَﻥْ ﻳَﻜُﻮﻥَ ﺇِﻟَﻴْﻬِﻤَﺎ ﺛَﺎﻟِﺚٌ، ﻭَﻟَﺎ ﻳَﻤْﻠَﺄُ ﺟَﻮْﻑَ ﺍﺑْﻦِ ﺁﺩَﻡَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﺘُّﺮَﺍﺏُ، ﺛُﻢَّ ﻳَﺘُﻮﺏُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﻦْ ﺗَﺎﺏَ» . ( ﺣﻢ ) ﺣﺴﻦ
১১০. আবু ওয়াকেদ লাইসি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
নিকট আসতাম, যখন তার ওপর কিছু নাযিল হত তিনি আমাদের বলতেন, একদা তিনি আমাদের বলেন: “আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:
আমি সম্পদ নাযিল করেছি সালাত কায়েম করা ও যাকাত প্রদান করার জন্য, যদি বনি আদম একটি উপত্যকার মালিক হয়, সে পছন্দ
করবে তার জন্য দ্বিতীয়টি হোক। যদি তার দু’টি উপত্যকা হয়, সে চাইবে তার জন্য তৃতীয়টি হোক। মাটি ব্যতীত কোন বস্তু বনি
আদমের উদর পূর্ণ করবে না, অতঃপর যে তওবা করে আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন”। [আহমদ] হাদিসটি হাসান।
-111 ﻋَﻦْ ﺑُﺴْﺮِ ﺑْﻦِ ﺟَﺤَّﺎﺵٍ ﺍﻟْﻘُﺮَﺷِﻲِّ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ- ﻗَﺎﻝَ: ﺑَﺰَﻕَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓِﻲ ﻛَﻔِّﻪِ، ﺛُﻢَّ ﻭَﺿَﻊَ ﺃُﺻْﺒُﻌَﻪُ ﺍﻟﺴَّﺒَّﺎﺑَﺔَ ﻭَﻗَﺎﻝَ: «ﻳَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ: ﺃَﻧَّﻰ ﺗُﻌْﺠِﺰُﻧِﻲ ﺍﺑْﻦَ ﺁﺩَﻡَ، ﻭَﻗَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﺘُﻚَ ﻣِﻦْ ﻣِﺜْﻞِ ﻫَﺬِﻩِ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺑَﻠَﻐَﺖْ ﻧَﻔْﺴُﻚَ
ﻫَﺬِﻩِ ( ﻭَﺃَﺷَﺎﺭَ ﺇِﻟَﻰ ﺣَﻠْﻘِﻪِ( ﻗُﻠْﺖَ: ﺃَﺗَﺼَﺪَّﻕُ: ﻭَﺃَﻧَّﻰ ﺃَﻭَﺍﻥُ ﺍﻟﺼَّﺪَﻗَﺔِ ». ( ﺟﻪ , ﺣﻢ ) ﺣﺴﻦ
১১১. বুসর ইব্ন জাহাশ আল-কুরাশি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাতের তালুতে থু থু
ফেললেন, অতঃপর তাতে শাহাদাত আঙ্গুল রাখলেন ও বললেন: আল্লাহ তা‘আলা বলেন: হে বনি আদম তুমি আমাকে কিভাবে
অক্ষম করবে, অথচ আমি তোমাকে এরূপ বস্তু থেকে সৃষ্টি করেছি, যখন তোমার রূহ এখানে পৌঁছে, (গলার দিকে ইশারা করলেন), বল:
আমি সদকা করব: আর কখন সদকা করার সময়”! [ইব্ন মাজাহ ও আহমদ] হাদিসটি হাসান।
রাতে ওযু করার ফযিলত
-112ﻋَﻦْ ﻋُﻘْﺒَﺔَ ﺑْﻦَ ﻋَﺎﻣِﺮٍ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ- ﻳَﻘُﻮﻝُ: ﻟَﺎ ﺃَﻗُﻮﻝُ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ ﻋَﻠَﻰ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣَﺎ ﻟَﻢْ ﻳَﻘُﻞْ، ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ: «ﻣَﻦْ ﻛَﺬﺏَ ﻋَﻠَﻲَّ ﻣﺘﻌﻤﺪًﺍ ﻓَﻠْﻴَﺘَﺒَﻮَّﺃْ ﺑَﻴْﺘًﺎ ﻣِﻦْ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ » ﻭَﺳَﻤِﻌْﺘﻪ
ﻳَﻘُﻮﻝُ: « ﻳَﻘُﻮﻡُ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻣﻦ ﺃﻣﺘﻲ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻓَﻴُﻌَﺎﻟِﺞُ ﻧَﻔْﺴَﻪُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻄَّﻬُﻮﺭِ ﻭَﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻋُﻘَﺪ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻭَﺿَّﺄَ ﻳَﺪَﻳْﻪِ ﺍﻧْﺤَﻠَّﺖْ ﻋُﻘْﺪَﺓٌ، ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻭَﺿَّﺄَ ﻭَﺟْﻬَﻪُ ﺍﻧْﺤَﻠَّﺖْ ﻋُﻘْﺪَﺓٌ، ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻣَﺴَﺢَ ﺭَﺃْﺳَﻪُ ﺍﻧْﺤَﻠَّﺖْ ﻋُﻘْﺪَﺓٌ، ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻭَﺿَّﺄَ ﺭِﺟْﻠَﻴْﻪِ ﺍﻧْﺤَﻠَّﺖْ ﻋُﻘْﺪَﺓٌ، ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ-
ﻟِﻠَّﺬِﻳﻦَ ﻭَﺭَﺍﺀَ ﺍﻟْﺤِﺠَﺎﺏِ: ﺍﻧْﻈُﺮُﻭﺍ ﺇِﻟَﻰ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﻫَﺬَﺍ ﻳُﻌَﺎﻟِﺞُ ﻧَﻔْﺴَﻪُ ﻳَﺴْﺄﻟُﻨﻲ، ﻣَﺎ ﺳَﺄَﻟَﻨِﻲ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﻫَﺬَﺍ ﻓَﻬُﻮَ ﻟَﻪُ » ( ﺣﺐ , ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ
১১২. উকবা ইব্ন আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আজ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
সম্পর্কে বলব না যা তিনি বলেননি, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যে আমার ওপর
স্বেচ্ছায় মিথ্যা বলে, সে যেন জাহান্নামে ঘর বানিয়ে নেয়”। তাকে আরো বলতে শুনেছি: “আমার উম্মতের কোন ব্যক্তি রাতে
উঠে, অতঃপর নিজেকে পবিত্রতার জন্য প্রস্তুত করে, তার ওপর থাকে অনেক গিরা, যখন সে দু’হাত ধৌত করে একটি গিরা খুলে
যায়, যখন সে চেহারা ধৌত করে একটি গিরা খুলে যায়, যখন সে তার মাথা মাসেহ করে একটি গিরা খুলে যায়, যখন সে তার পা
ধৌত করে একটি গিরা খুলে যায়। আল্লাহ তা‘আলা পর্দার আড়ালে অবস্থানকারীদের বলেন: আমার বান্দাকে দেখ, সে আমার
নিকট প্রার্থনারত হয়ে নিজ নফসকে কষ্ট দিচ্ছে, আমার এ বান্দা যা চাইবে তা তার জন্যই”। [ইব্ন হিব্বান ও আহমদ] হাদিসটি
সহিহ।
শেষ রাতে দো‘আ ও সালাত আদায়ের ফযিলত
-113 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ - ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﻳَﻨْﺰِﻝُ ﺭَﺑُّﻨَﺎ - ﺗَﺒَﺎﺭَﻙَ ﻭَﺗَﻌَﺎﻟَﻰ- ﻛُﻞَّ ﻟَﻴْﻠَﺔٍ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﺣِﻴﻦَ ﻳَﺒْﻘَﻰ ﺛُﻠُﺚُ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﺍﻟْﺂﺧِﺮُ ﻳَﻘُﻮﻝُ: ﻣَﻦْ ﻳَﺪْﻋُﻮﻧِﻲ ﻓَﺄَﺳْﺘَﺠِﻴﺐَ ﻟَﻪُ، ﻣَﻦْ ﻳَﺴْﺄَﻟُﻨِﻲ ﻓَﺄُﻋْﻄِﻴَﻪُ،
ﻣَﻦْ ﻳَﺴْﺘَﻐْﻔِﺮُﻧِﻲ ﻓَﺄَﻏْﻔِﺮَ ﻟَﻪُ» . (ﺥ , ﻡ , ﺕ , ﺟﻪ , ﻥ ) ﺻﺤﻴﺢ
১১৩. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমাদের রব
প্রত্যেক রাতে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন যখন রাতের এক তৃতীয়াংশ বাকি থাকে, তিনি বলেন: কে আমাকে আহ্বান করবে
আমি তার ডাকে সাড়া দিব, কে আমার নিকট প্রার্থনা করবে আমি তাকে প্রদান করব, কে আমার নিকট ক্ষমা চাইবে আমি
তাকে ক্ষমা করব”। [বুখারি, মুসলিম, তিরমিযি, ইব্ন মাজাহ ও নাসায়ি] হাদিসটি সহিহ।
দুই ব্যক্তিকে দেখে আমাদের রব আশ্চর্য হন
-114 ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻣَﺴْﻌُﻮﺩٍ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ - ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﻋَﺠِﺐَ ﺭَﺑُّﻨَﺎ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ- ﻣِﻦْ ﺭَﺟُﻠَﻴْﻦِ , ﺭَﺟُﻞٍ ﺛَﺎﺭَ ﻋَﻦْ ﻭِﻃَﺎﺋِﻪِ ﻭَﻟِﺤَﺎﻓِﻪِ ﻣِﻦْ ﺑَﻴْﻦِ ﺃَﻫْﻠِﻪِ ﻭَﺣَﻴِّﻪِ ﺇِﻟَﻰ ﺻَﻠَﺎﺗِﻪِ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺭَﺑُّﻨَﺎ: ﺃَﻳَﺎ ﻣَﻠَﺎﺋِﻜَﺘِﻲ ﺍﻧْﻈُﺮُﻭﺍ ﺇِﻟَﻰ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﺛَﺎﺭَ
ﻣِﻦْ ﻓِﺮَﺍﺷِﻪِ ﻭَﻭِﻃَﺎﺋِﻪِ ﻭَﻣِﻦْ ﺑَﻴْﻦِ ﺣَﻴِّﻪِ ﻭَﺃَﻫْﻠِﻪِ ﺇِﻟَﻰ ﺻَﻠَﺎﺗِﻪِ؛ ﺭَﻏْﺒَﺔً ﻓِﻴﻤَﺎ ﻋِﻨْﺪِﻱ ﻭَﺷَﻔَﻘَﺔً ﻣِﻤَّﺎ ﻋِﻨْﺪِﻱ، ﻭَﺭَﺟُﻞٍ ﻏَﺰَﺍ ﻓِﻲ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ- ﻓَﺎﻧْﻬَﺰَﻣُﻮﺍ ﻓَﻌَﻠِﻢَ ﻣَﺎ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻔِﺮَﺍﺭِ ﻭَﻣَﺎ ﻟَﻪُ ﻓِﻲ ﺍﻟﺮُّﺟُﻮﻉِ، ﻓَﺮَﺟَﻊَ ﺣَﺘَّﻰ ﺃُﻫَﺮِﻳﻖَ ﺩَﻣُﻪُ؛ ﺭَﻏْﺒَﺔً ﻓِﻴﻤَﺎ ﻋِﻨْﺪِﻱ
ﻭَﺷَﻔَﻘَﺔً ﻣِﻤَّﺎ ﻋِﻨْﺪِﻱ , ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ- ﻟِﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺘِﻪِ : ﺍﻧْﻈُﺮُﻭﺍ ﺇِﻟَﻰ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﺭَﺟَﻊَ ﺭَﻏْﺒَﺔً ﻓِﻴﻤَﺎ ﻋِﻨْﺪِﻱ ﻭَﺭَﻫْﺒَﺔً ﻣِﻤَّﺎ ﻋِﻨْﺪِﻱ ﺣَﺘَّﻰ ﺃُﻫَﺮِﻳﻖَ ﺩَﻣُﻪُ » . ( ﺣﻢ , ﺩ ) ﺣﺴﻦ
১১৪. ইব্ন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমাদের রব দুই ব্যক্তিকে
দেখে আশ্চর্য হন: এক ব্যক্তি যে তার বিছানা ও লেপ ছেড়ে পরিবার ও প্রিয়জনদের থেকে ওঠে সালাতে দাঁড়াল, আমাদের রব
বলেন: হে আমাদের ফেরেশতারা, আমার বান্দাকে দেখ বিছানা ও লেপ ছেড়ে পরিবার ও প্রিয়জনদের থেকে তার সালাতের
জন্য ওঠেছে, আমার নিকট যা রয়েছে তার আশা ও আমার শাস্তির ভয়ে। অপর ব্যক্তি যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করল, তবে
তারা পরাস্ত হল, সে মনে করল পলায়নে কি শাস্তি ও ফিরে যাওয়ায় কি পুরষ্কার, অতঃপর সে ফিরে গেল অবশেষে তার রক্ত
ঝরানো হল, আমার নিকট যা রয়েছে তার আশা ও আমার শাস্তির ভয়ে, আল্লাহ তার ফেরেশতাদের বলেন: আমার বান্দাকে দেখ,
আমার নিকট যা রয়েছে তার আশা ও আমার শাস্তির ভয়ে ফিরে এসেছে, অবশেষে তার রক্ত প্রবাহিত করা হল”। [আহমদ ও আবু
দাউদ] হাদিসটি হাসান।
নফল সালাতের ফযিলত
-115 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ - ﻋَﻦْ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﺃَﻭَّﻝُ ﻣَﺎ ﻳُﺤَﺎﺳَﺐُ ﺑِﻪِ ﺍﻟْﻌَﺒْﺪُ ﺻَﻠَﺎﺗُﻪُ ﻓَﺈِﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﺃَﻛْﻤَﻠَﻬَﺎ ﻭَﺇِﻟَّﺎ ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ: ﺍﻧْﻈُﺮُﻭﺍ ﻟِﻌَﺒْﺪِﻱ ﻣِﻦْ ﺗَﻄَﻮُّﻉٍ؛ ﻓَﺈِﻥْ ﻭُﺟِﺪَ ﻟَﻪُ ﺗَﻄَﻮُّﻉٌ ﻗَﺎﻝَ: ﺃَﻛْﻤِﻠُﻮﺍ ﺑِﻪِ
ﺍﻟْﻔَﺮِﻳﻀَﺔَ » . (ﻥ ) ﺻﺤﻴﺢ
১১৫. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “বান্দাকে যে
বিষয়ে সর্বপ্রথম জবাবদিহি করা হবে তার সালাত, যদি সে তা পূর্ণ করে থাকে, অন্যথায় আল্লাহ বলবেন: আমার বান্দার নফল
দেখ, যদি তার নফল পাওয়া যায়, বলবেন: এর দ্বারা ফরয পূর্ণ কর”। [নাসায়ি] হাদিসটি সহিহ।
মুয়াজ্জিনের ফযিলত
-116 ﻋﻦ ﻋﻘﺒﺔ ﺑﻦ ﻋﺎﻣﺮ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ- ﻗﺎﻝ ﺳﻤﻌﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻘﻮﻝ: « ﻳﻌﺠﺐ ﺭﺑﻜﻢ ﻣﻦ ﺭﺍﻋﻲ ﻏﻨﻢ ﻓﻲ ﺭﺃﺱ ﺷﻈﻴﺔ ﺑﺠﺒﻞ ﻳﺆﺫﻥ ﺑﺎﻟﺼﻼﺓ ﻭﻳﺼﻠﻲ ﻓﻴﻘﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ: ﺍﻧﻈﺮﻭﺍ ﺇﻟﻰ ﻋﺒﺪﻱ ﻫﺬﺍ ﻳﺆﺫﻥ
ﻭﻳﻘﻴﻢ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻳﺨﺎﻑ ﻣﻨﻲ ﻗﺪ ﻏﻔﺮﺕ ﻟﻌﺒﺪﻱ ﻭﺃﺩﺧﻠﺘﻪ ﺍﻟﺠﻨﺔ» . ( ﺩ , ﻥ ) ﺻﺤﻴﺢ
১১৬. উকবা ইব্ন আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে
বলতে শুনেছি: “তোমাদের রব পাহাড়ের চুড়ায় বকরির রাখালকে দেখে আশ্চর্য হন, যে সালাতের আযান দেয় ও সালাত আদায়
করে, আল্লাহ তা‘আলা বলেন: আমার এ বান্দাকে দেখ আযান দেয় ও সালাত কায়েম করে, আমাকে ভয় করে, আমি আমার
বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালাম”। [আবু দাউদ ও নাসায়ি] হাদিসটি সহিহ।
আসর ও ফজর সালাতের ফযিলত
-117 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ - ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝ: « ﻳَﺘَﻌَﺎﻗَﺒُﻮﻥَ ﻓِﻴﻜُﻢْ ﻣَﻠَﺎﺋِﻜَﺔٌ ﺑِﺎﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻭَﻣَﻠَﺎﺋِﻜَﺔٌ ﺑِﺎﻟﻨَّﻬَﺎﺭِ، ﻭَﻳَﺠْﺘَﻤِﻌُﻮﻥَ ﻓِﻲ ﺻَﻠَﺎﺓِ ﺍﻟْﻔَﺠْﺮِ ﻭَﺻَﻠَﺎﺓِ ﺍﻟْﻌَﺼْﺮِ، ﺛُﻢَّ ﻳَﻌْﺮُﺝُ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺑَﺎﺗُﻮﺍ ﻓِﻴﻜُﻢْ ﻓَﻴَﺴْﺄَﻟُﻬُﻢْ -ﻭَﻫُﻮَ ﺃَﻋْﻠَﻢُ
ﺑِﻬِﻢْ- ﻛَﻴْﻒَ ﺗَﺮَﻛْﺘُﻢْ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ : ﺗَﺮَﻛْﻨَﺎﻫُﻢْ ﻭَﻫُﻢْ ﻳُﺼَﻠُّﻮﻥَ ﻭَﺃَﺗَﻴْﻨَﺎﻫُﻢْ ﻭَﻫُﻢْ ﻳُﺼَﻠُّﻮﻥَ ». ( ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
১১৭. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “পালাবদল করে
রাত ও দিনের ফেরেশতাগণ তোমাদের নিকট আগমন করে এবং তারা ফজর ও আসর সালাতে একত্র হয়। অতঃপর তোমাদের মাঝে
রাত যাপনকারীগণ ওপরে ওঠে, আল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, অথচ তিনি তাদের চেয়ে বেশী জানেন, আমার বান্দাদের
কিভাবে রেখে এসেছে? তারা বলে: আমরা তাদেরকে সালাত পড়া অবস্থায় রেখে এসেছি, যখন গিয়েছি তারা সালাত আদায়
করছিল”। [বুখারি ও মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
মাগরিব থেকে এশা পর্যন্ত মসজিদে থাকার ফযিলত
-118 ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻋَﻤْﺮٍﻭ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ- ﻗَﺎﻝَ: ﺻَﻠَّﻴْﻨَﺎ ﻣَﻊَ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻟْﻤَﻐْﺮِﺏَ ﻓَﺮَﺟَﻊَ ﻣَﻦْ ﺭَﺟَﻊَ ﻭَﻋَﻘَّﺐَ ﻣَﻦْ ﻋَﻘَّﺐَ ﻓَﺠَﺎﺀَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣُﺴْﺮِﻋًﺎ ﻗَﺪْ ﺣَﻔَﺰَﻩُ ﺍﻟﻨَّﻔَﺲُ ﻭَﻗَﺪْ ﺣَﺴَﺮَ ﻋَﻦْ ﺭُﻛْﺒَﺘَﻴْﻪِ
ﻓَﻘَﺎﻝَ: « ﺃَﺑْﺸِﺮُﻭﺍ ﻫَﺬَﺍ ﺭَﺑُّﻜُﻢْ ﻗَﺪْ ﻓَﺘَﺢَ ﺑَﺎﺑًﺎ ﻣِﻦْ ﺃَﺑْﻮَﺍﺏِ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ ﻳُﺒَﺎﻫِﻲ ﺑِﻜُﻢْ ﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔَ ﻳَﻘُﻮﻝُ: ﺍﻧْﻈُﺮُﻭﺍ ﺇِﻟَﻰ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ ﻗَﺪْ ﻗَﻀَﻮْﺍ ﻓَﺮِﻳﻀَﺔً ﻭَﻫُﻢْ ﻳَﻨْﺘَﻈِﺮُﻭﻥَ ﺃُﺧْﺮَﻯ ».
( ﺟﻪ , ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ
১১৮. আব্দুল্লাহ ইব্ন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের সাথে মাগরিব আদায় করলাম, অতঃপর যারা ফিরে যাবার ফিরে গেল এবং যারা থাকার থাকল, পরক্ষণেই
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্রুত ফিরে আসলেন, তার নিশ্বাস জোরে পড়ছিল, তার হাঁটুর কাপড় উঠে
যাচ্ছিল, তিনি বললেন: “তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর, তোমাদের রব আসমানের একটি দরজা খুলে তোমাদের নিয়ে ফেরেশতাদের
সাথে গর্ব করছেন, তিনি বলছেন: আমার বান্দাদের দেখ, তারা এক ফরয শেষ করে অপর ফরযের অপেক্ষা করছে”। [ইব্ন মাজাহ ও
আহমদ] হাদিসটি সহিহ।
দিনের শুরুতে সুরক্ষা গ্রহণ করা
-119 ﻋَﻦْ ﻧُﻌَﻴْﻢِ ﺑْﻦِ ﻫَﻤَّﺎﺭٍ ﺍﻟْﻐَﻄَﻔَﺎﻧِﻲِّ ﺃَﻧَّﻪُ ﺳَﻤِﻊَ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ: « ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ: ﻳَﺎ ﺍﺑْﻦَ ﺁﺩَﻡَ ﻟَﺎ ﺗَﻌْﺠِﺰْ ﻋَﻦْ ﺃَﺭْﺑَﻊِ ﺭَﻛَﻌَﺎﺕٍ ﻣِﻦْ ﺃَﻭَّﻝِ ﺍﻟﻨَّﻬَﺎﺭِ ﺃَﻛْﻔِﻚَ ﺁﺧِﺮَﻩُ» . ( ﺣﻢ , ﺩ , ﺣﺐ ) ﺻﺤﻴﺢ
১১৯. নু‘আইম ইব্ন হাম্মার আল-গাতফানি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা বলেন: হে বনি আদম দিনের শুরুতে চার রাকাত সালাত আদায়ে অপারগ হয়ো
না, আমি দিন শেষে তোমার জন্য যথেষ্ট হব”। [আহমদ, আবু দাউদ ও ইব্ন হিব্বান] হাদিসটি সহিহ।
জান্নাতের খাজানা
-120 ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ، ﺃَﻥّ َﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: " ﺃَﻻ ﺃُﻋَﻠِّﻤُﻚَ، ﺃَﻭْ ﻗَﺎﻝَ: ﺃَﻻ ﺃَﺩُﻟُّﻚَ ﻋَﻠَﻰ ﻛَﻠِﻤَﺔٍ ﻣِﻦْ ﺗَﺤْﺖِ ﺍﻟْﻌَﺮْﺵِ ﻣِﻦْ ﻛَﻨْﺰِ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ؟، ﺗَﻘُﻮﻝُ: ﻻ ﺣَﻮْﻝَ ﻭَﻻ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻻ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ، ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ –ﻋﺰ ﻭﺟﻞ- : ﺃَﺳْﻠَﻢَ
ﻋَﺒْﺪِﻱ ﻭَﺍﺳْﺘَﺴْﻠَﻢَ ." ( ﻙ ) ﺣﺴﻦ
১২০. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমি কি তোমাকে
শিক্ষা দিব না, অথবা বলেছেন: আমি কি তোমাকে আরশের নিচে জান্নাতের গুপ্তধন একটি কালিমার কথা বলব না? তুমি বল: ﻻَ
ﺣَﻮْﻝَ ﻭﻟَﺎ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻟَّﺎ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ (অর্থাৎ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া সৎকাজ করার শক্তি ও অসৎ কাজ থেকে বাঁচার কোন উপায় নেই) আল্লাহ বলবেন:
আমার বান্দা মেনে নিলো ও আনুগত্য করল”। [হাকেম] হাদিসটি হাসান।
সন্তানের পিতা-মাতার জন্য ইস্তেগফার করার ফযিলত
-121 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ- ﻟَﻴَﺮْﻓَﻊُ ﺍﻟﺪَّﺭَﺟَﺔَ ﻟِﻠْﻌَﺒْﺪِ ﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺢِ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﺃَﻧَّﻰ ﻟِﻲ ﻫَﺬِﻩِ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﺑِﺎﺳْﺘِﻐْﻔَﺎﺭِ ﻭَﻟَﺪِﻙَ ﻟَﻚَ» . ( ﺣﻢ ) ﺇﺳﻨﺎﺩﻩ ﺣﺴﻦ
১২১. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয় আল্লাহ
তা‘আলা নেক বান্দার মর্তবা জান্নাতে বুলন্দ করবেন, সে বলবে: হে আমার রব এটা আমার জন্য কিভাবে হল? তিনি বলবেন:
তোমার জন্য তোমার সন্তানের ইস্তেগফারের কারণে”। [আহমদ] এ হাদিসের সনদ হাসান।
বিসমিল্লাহ না বললে শয়তান খানায় অংশ গ্রহণ করে
-122 ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ- ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: « ﻗﺎﻝ ﺇﺑﻠﻴﺲ: ﻳﺎ ﺭﺏ , ﻟﻴﺲ ﺃﺣﺪ ﻣﻦ ﺧﻠﻘﻚ ﺇﻻ ﺟﻌﻠﺖ ﻟﻪ ﺭﺯﻗًﺎ ﻭﻣﻌﻴﺸﺔ ﻓﻤﺎ ﺭﺯﻗﻲ؟ ﻗﺎﻝ: ﻣﺎ ﻟﻢ ﻳﺬﻛﺮ ﺍﺳﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ» . ( ﺃﺑﻮ ﻧﻌﻴﻢ ) ﺇﺳﻨﺎﺩﻩ ﺻﺤﻴﺢ
১২২. ইব্ন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “ইবলিস বলেছে: হে
আমার রব, আপনার কোন মখলুক নেই যার রিযক ও জীবিকা নির্বাহ আপনি নির্ধারিত করেন নি, কিন্তু আমার রিযক কি? তিনি
বললেন: যেসব খাদ্যে আল্লাহর নাম নেয়া হয় না”। [আবু নু‘আইম] এ হাদিসের সনদ সহিহ।
আল্লাহর সর্বপ্রথম মখলুক
-123 ﻋَﻦْ ﻋُﺒَﺎﺩَﺓُ ﺑْﻦُ ﺍﻟﺼَّﺎﻣِﺖِ ( ﻗﺎﻝ : ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ : « ﺇِﻥَّ ﺃَﻭَّﻝَ ﻣَﺎ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟْﻘَﻠَﻢَ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻪُ: ﺍﻛْﺘُﺐْ، ﻗَﺎﻝَ: ﺭَﺏِّ ﻭَﻣَﺎﺫَﺍ ﺃَﻛْﺘُﺐُ؟ ﻗَﺎﻝَ: ﺍﻛْﺘُﺐْ ﻣَﻘَﺎﺩِﻳﺮَ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲْﺀٍ ﺣَﺘَّﻰ ﺗَﻘُﻮﻡَ ﺍﻟﺴَّﺎﻋَﺔُ » . ( ﺩ , ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ
ﻟﻐﻴﺮﻩ
১২৩. উবাদাহ ইব্ন সামেত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “আল্লাহ তা‘আলা সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন কলম [40] , তিনি বলেন: লেখ। সে বলল: হে আমার রব,
কি লিখব? তিনি বলেন: কিয়ামত পর্যন্ত প্রত্যেক জিনিসের তাকদির লিখ”। [আবু দাউদ ও আহমদ] হাদিসটি সহিহ লি গায়রিহি।
লেখা ও সাক্ষী রাখার সূচনা
-124 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﻗَﺎﻝَ: ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﻟَﻤَّﺎ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺁﺩَﻡَ ﻭَﻧَﻔَﺦَ ﻓِﻴﻪِ ﺍﻟﺮُّﻭﺡَ ﻋَﻄَﺲَ ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ، ﻓَﺤَﻤِﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺑِﺈِﺫْﻥِ ﺍﻟﻠﻪ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﺭَﺑُّﻪُ: ﻳَﺮْﺣَﻤُﻚَ ﺭﺑﻚ ﻳَﺎ ﺁﺩَﻡُ، ﺍﺫْﻫَﺐْ ﺇِﻟَﻰ ﺃُﻭﻟَﺌِﻚَ ﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔِ ﺇِﻟَﻰ ﻣَﻠَﺈٍ
ﻣِﻨْﻬُﻢْ ﺟُﻠُﻮﺱٍ ﻓﺴﻠﻢ ﻋﻠﻴﻬﻢ , ﻓﻘﺎﻝ : ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ، ﻓﻘَﺎﻟُﻮﺍ: ﻭَﻋَﻠَﻴْﻚَ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻭَﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﺛُﻢَّ ﺭَﺟَﻊَ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﺑِّﻪِ ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﻫَﺬِﻩِ ﺗَﺤِﻴَّﺘُﻚَ ﻭَﺗَﺤِﻴَّﺔُ ﺑَﻨِﻴﻚَ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻢْ، ﻭﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ - ﺟﻼ ﻭﻋﻼ - ﻭَﻳَﺪَﺍﻩُ ﻣَﻘْﺒُﻮﺿَﺘَﺎﻥِ : ﺍﺧْﺘَﺮْ ﺃَﻳَّﻬُﻤَﺎ ﺷِﺌْﺖَ ﻗَﺎﻝَ: ﺍﺧْﺘَﺮْﺕُ ﻳَﻤِﻴﻦَ ﺭَﺑِّﻲ ﻭَﻛِﻠْﺘَﺎ
ﻳَﺪَﻱْ ﺭَﺑِّﻲ ﻳَﻤِﻴﻦٌ ﻣُﺒَﺎﺭَﻛَﺔٌ ﺛُﻢَّ ﺑَﺴَﻄَﻬَﺎ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺁﺩَﻡُ ﻭَﺫُﺭِّﻳَّﺘُﻪُ ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺃَﻱْ ﺭَﺏِّ: ﻣَﺎ ﻫَﺆُﻟَﺎﺀِ؟ ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﻫَﺆُﻟَﺎﺀِ ﺫُﺭِّﻳَّﺘُﻚَ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻛُﻞُّ ﺇِﻧْﺴَﺎﻥٍ ﻣَﻜْﺘُﻮﺏٌ ﻋُﻤْﺮُﻩُ ﺑَﻴْﻦَ ﻋَﻴْﻨَﻴْﻪِ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻓِﻴﻬِﻢْ ﺭَﺟُﻞٌ ﺃَﺿْﻮَﺅُﻫُﻢْ -ﺃَﻭْ ﻣِﻦْ ﺃَﺿْﻮَﺋِﻬِﻢْ ﻟَﻢْ ﻳُﻜْﺘَﺐْ ﻟَﻪُ ﺇﻟَّﺎ ﺃَﺭﺑَﻌُﻮﻥَ ﺳَﻨَﺔٍ- ﻗَﺎﻝَ: ﻳَﺎ
ﺭَﺏِّ ﻣَﻦْ ﻫَﺬَﺍ؟ ﻗَﺎﻝَ : ﻫَﺬَﺍ ﺍﺑْﻨُﻚَ ﺩَﺍﻭُﺩُ ﻭﻗَﺪْ ﻛَﺘَﺒْﺖُ ﻟَﻪُ ﻋُﻤْﺮَ ﺃَﺭْﺑَﻌِﻴﻦَ ﺳَﻨَﺔً، ﻗَﺎﻝَ: ﺃﻱ ﺭَﺏِّ ﺯِﺩْﻩُ ﻓِﻲ ﻋُﻤْﺮِﻩِ , ﻗَﺎﻝَ: ﺫَﺍﻙَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻛَﺘَﺒْﺖُ ﻟَﻪُ، ﻗَﺎﻝَ: ﺃَﻱْ ﺭَﺏِّ ﻓَﺈِﻧِّﻲ ﻗَﺪْ ﺟَﻌَﻠْﺖُ ﻟَﻪُ ﻣِﻦْ ﻋُﻤْﺮِﻱ ﺳِﺘِّﻴﻦَ ﺳَﻨَﺔً ﻗَﺎﻝَ: ﺃَﻧْﺖَ ﻭَﺫَﺍﻙَ، ﺃُﺳْﻜِﻦَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﻣَﺎ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ، ﺛُﻢَّ
ﺃُﻫْﺒِﻂَ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﻓَﻜَﺎﻥَ ﺁﺩَﻡُ ﻳَﻌُﺪُّ ﻟِﻨَﻔْﺴِﻪِ، ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺄَﺗَﺎﻩُ ﻣَﻠَﻚُ ﺍﻟْﻤَﻮْﺕِ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﺁﺩَﻡُ : ﻗَﺪْ ﻋَﺠَّﻠْﺖَ، ﻗَﺪْ ﻛُﺘِﺐَ ﻟِﻲ ﺃَﻟْﻒُ ﺳَﻨَﺔٍ؟ ﻗَﺎﻝَ: ﺑَﻠَﻰ ﻭَﻟَﻜِﻨَّﻚَ ﻗﺪ ﺟَﻌَﻠْﺖَ ﻟِﺎﺑْﻨِﻚِ ﺩَﺍﻭُﺩَ ﻣﻨﻬﺎ ﺳِﺘِّﻴﻦَ ﺳَﻨَﺔً، ﻓَﺠَﺤَﺪَ ﻓَﺠَﺤَﺪَﺕْ ﺫُﺭِّﻳَّﺘُﻪُ، ﻭَﻧَﺴِﻲَ ﻓَﻨَﺴِﻴَﺖْ ﺫُﺭِّﻳَّﺘُﻪُ، ﻗَﺎﻝَ : ﻓَﻤِﻦْ ﻳَﻮْﻣِﺌِﺬٍ
ﺃُﻣِﺮَ ﺑِﺎﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﻭَﺍﻟﺸُّﻬُﻮﺩِ» . ( ﺣﺐ , ﻙ , ﻋﺎ ) ﺻﺤﻴﺢ ﻟﻐﻴﺮﻩ
১২৪. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ যখন
আদমকে সৃষ্টি করেন ও তার মধ্যে রূহ সঞ্চার করেন তখন সে হাঁচি দেয়। অতঃপর বলে: আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর নির্দেশে সে
আল্লাহর প্রশংসা করল, তার রব তাকে বললেন: হে আদম তোমার রব তোমাকে রহম করুন, ঐ ফেরেশতাদের বসে থাকা দলটির কাছে
যাও, তাদেরকে সালাম কর। তিনি বললেন: ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ তারা বলল: ﻭَﻋَﻠَﻴْﻚَ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻭَﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠَّﻪِ অতঃপর তিনি তার রবের নিকট ফিরে আসেন,
তিনি বলেন: এ হচ্ছে তোমার ও তোমার সন্তানের পরস্পর অভিবাদন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তখন তার দু’হাত মুষ্টিবদ্ধ ছিল: দু’টো
থেকে যেটা ইচ্ছা গ্রহণ কর, তিনি বললেন: আমি আমার রবের ডান গ্রহণ করলাম, আমার রবের উভয় হাতই ডান ও বরকতপূর্ণ, অতঃপর
তিনি তা প্রসারিত করলেন, তাতে ছিল আদম ও তার সন্তান। তিনি বললেন: হে আমার রব, এরা কারা? তিনি বললেন: এ হচ্ছে
তোমার সন্তান, সেখানে প্রত্যেক মানুষের বয়স তার চোখের সামনে লিখা ছিল, তাদের মধ্যে একজন ছিল সবচেয়ে উজ্জ্বল,
অথবা তাদের থেকে একজন অতি উজ্জ্বল ছিল, যার জন্য শুধু চল্লিশ বছর লিখা ছিল, তিনি বললেন: হে আমার রব এ কে? তিনি
বললেন: এ হচ্ছে তোমার সন্তান দাউদ, তার জন্য আমি চল্লিশ বছর লিখেছি। তিনি বললেন: হে আমার রব তার বয়স বৃদ্ধি করুন,
তিনি বললেন: এটাই আমি তার জন্য লিখেছি। তিনি বললেন: হে আমার রব, আমি তার জন্য আমার বয়স থেকে ষাট বছর দান করলাম,
তিনি বললেন: এটা তোমার ও তার বিষয়। আল্লাহর যতদিন ইচ্ছা ছিল তিনি জান্নাতে অবস্থান করেন, অতঃপর সেখান থেকে
অবতরণ করানো হয়, এরপর থেকে তিনি নিজের বয়স হিসেব করতেন। রাসূল বলেন: তার নিকট মালাকুল মউত আসল, আদম তাকে বলেন:
দ্রুত চলে এসেছ, আমার জন্য এক হাজার বছর লিখা হয়েছে। তিনি বললেন, অবশ্যই; কিন্তু তোমার ছেলে দাউদের জন্য তার থেকে
ষাট বছর দান করেছ। আদম তা অস্বীকার করল। সে অস্বীকার করেছে তাই তার সন্তানও অস্বীকার করে, তিনি ভুলে গেছেন তাই
তার সন্তানও ভুলে যায়। তিনি বলেন: সে দিন থেকে লিখা ও সাক্ষী রাখার নির্দেশ দেয়া হয়”। ইব্ন হিব্বান, হাকেম ও আবু
আসেম] হাদিসটি সহিহ লি গায়রিহি।
নবী আদমকে আল্লাহ বললেন:
ﻳﺮﺣﻤُﻚَ ﺍﻟﻠﻪ
-125 ﻋﻦ ﺃﻧﺲ ﺑﻦ ﻣﺎﻟﻚ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: « ﻟﻤَّﺎ ﻧَﻔَﺦَ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻲ ﺁﺩَﻡْ ﺍﻟﺮُﻭْﺡ ﻓَﺒَﻠَﻎَ ﺍﻟﺮُﻭﺡُ ﺭَﺃْﺳَﻪُ ﻋَﻄَﺲَ ﻓَﻘَﺎَﻝَ: ﺍﻟﺤﻤﺪُ ﻟﻠﻪ ﺭَﺏِّ ﺍﻟﻌَﺎﻟَﻤِﻴْﻦ . ﻓَﻘَﺎَﻝَ ﻟﻪ ﺗَﺒَﺎﺭﻙْ ﻭﺗﻌﺎﻟﻰ: ﻳَﺮْﺣَﻤُﻚَ ﺍﻟﻠﻪ» . ( ﺣﺐ ) ﺻﺤﻴﺢ
১২৫. আনাস ইব্ন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ
যখন আদমের মধ্যে রূহ সঞ্চার করেন, অতঃপর রূহ যখন তার মাথায় পৌঁছে তিনি হাঁচি দেন, তারপর বলেন: ﺍﻟﺤﻤﺪُ ﻟﻠﻪ ﺭَﺏِّ ﺍﻟﻌَﺎﻟَﻤِﻴْﻦ আল্লাহ
তাকে বলেন: ﻳَﺮْﺣَﻤُﻚَ ﺍﻟﻠﻪ [ইব্ন হিব্বান] হাদিসটি সহিহ।
মুসলিমদের সালাম
-126 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺁﺩَﻡَ ﻋَﻠَﻰ ﺻُﻮﺭَﺗِﻪِ ﻃُﻮﻟُﻪُ ﺳِﺘُّﻮﻥَ ﺫِﺭَﺍﻋًﺎ، ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺧَﻠَﻘَﻪُ ﻗَﺎﻝَ: ﺍﺫْﻫَﺐْ ﻓَﺴَﻠِّﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﺃُﻭﻟَﺌِﻚَ ﺍﻟﻨَّﻔَﺮِ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔِ ﺟُﻠُﻮﺱٌ، ﻓَﺎﺳْﺘَﻤِﻊْ ﻣَﺎ ﻳُﺤَﻴُّﻮﻧَﻚَ؛ ﻓَﺈِﻧَّﻬَﺎ ﺗَﺤِﻴَّﺘُﻚَ ﻭَﺗَﺤِﻴَّﺔُ
ﺫُﺭِّﻳَّﺘِﻚَ , ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ , ﻓَﻘَﺎﻟُﻮﺍ: ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻭَﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﻓَﺰَﺍﺩُﻭﻩُ ﻭَﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﻓَﻜُﻞُّ ﻣَﻦْ ﻳَﺪْﺧُﻞُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﻋَﻠَﻰ ﺻُﻮﺭَﺓِ ﺁﺩَﻡَ ﻓَﻠَﻢْ ﻳَﺰَﻝْ ﺍﻟْﺨَﻠْﻖُ ﻳَﻨْﻘُﺺُ ﺑَﻌْﺪُ ﺣَﺘَّﻰ ﺍﻟْﺂﻥَ » .
( ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
১২৬. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা
আদমকে তার আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন, তার দৈর্ঘ্য ছিল ষাট হাত, তিনি তাকে সৃষ্টি করে বলেন: যাও সেখানে বসে থাকা
ফেরেশতাদের দলকে সালাম কর, খেয়াল করে শোন তারা তোমাকে কি অভিবাদন জানায়, কারণ তা-ই হচ্ছে তোমার ও তোমার
সন্তানের অভিবাদন। তিনি বললেন: ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ তারা বলল: ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻭَﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠَّﻪِ তারা অতিরিক্ত বলল। সুতরাং যে কেউ জান্নাতে যাবে
সে আদমের আকৃতিতে যাবে, আর তারপর থেকে মানুষ ছোট হওয়া আরম্ভ করছে, এখন পর্যন্ত তা হচ্ছে”। [বুখারি ও মুসলিম] হাদিসটি
সহিহ।
আল্লাহর নবী ইউনুস আলাইহিস সালামের ঘটনা
-127 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃَﻧَّﻪُ ﻗَﺎﻝَ- ﻳَﻌْﻨِﻲ: ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺗَﺒَﺎﺭَﻙَ ﻭَﺗَﻌَﺎﻟَﻰ:- «ﻟَﺎ ﻳَﻨْﺒَﻐِﻲ ﻟِﻌَﺒْﺪٍ ﻟِﻲ (ﻭ ﻗَﺎﻝَ ﺍﺑْﻦُ ﺍﻟْﻤُﺜَﻨَّﻰ: ﻟِﻌَﺒْﺪِﻱ ) ﺃَﻥْ ﻳَﻘُﻮﻝَ : ﺃَﻧَﺎ ﺧَﻴْﺮٌ ﻣِﻦْ ﻳُﻮﻧُﺲَ ﺑْﻦِ ﻣَﺘَّﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡ » . ( ﻡ , ﺥ )ﺻﺤﻴﺢ
১২৭. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা
বলেছেন: আমার কোন বান্দার জন্য (বর্ণনাকারী ইব্ন মুসান্না বলেছেন: আমার বান্দার জন্য) এমন বলা সমীচীন নয়: আমি ইউনুস
ইব্ন মাত্তা আলাইহিস সালাম থেকে উত্তম [41] ”। [বুখারি ও মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
মুসা ও খিদির আলাইহিমাস সালামের ঘটনা
-128 ﻋَﻦْ ﺳَﻌِﻴﺪُ ﺑْﻦُ ﺟُﺒَﻴْﺮٍ ﻗَﺎﻝَ: ﻗُﻠْﺖُ ﻟِﺎﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ ﺇِﻥَّ ﻧَﻮْﻓًﺎ ﺍﻟْﺒَﻜَﺎﻟِﻲَّ ﻳَﺰْﻋُﻢُ ﺃَﻥَّ ﻣُﻮﺳَﻰ ﺻَﺎﺣِﺐَ ﺍﻟْﺨَﻀِﺮِ ﻟَﻴْﺲَ ﻫُﻮَ ﻣُﻮﺳَﻰ ﺑَﻨِﻲ ﺇِﺳْﺮَﺍﺋِﻴﻞَ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻫُﻮَ ﻣُﻮﺳَﻰ ﺁﺧَﺮُ، ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﻛَﺬَﺏَ ﻋَﺪُﻭُّ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺃُﺑَﻲُّ ﺑْﻦُ ﻛَﻌْﺐٍ ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ
: «ﺃَﻥَّ ﻣُﻮﺳَﻰ ﻗَﺎﻡَ ﺧَﻄِﻴﺒًﺎ ﻓِﻲ ﺑَﻨِﻲ ﺇِﺳْﺮَﺍﺋِﻴﻞَ ﻓَﺴُﺌِﻞَ ﺃَﻱُّ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﺃَﻋْﻠَﻢُ؟ ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺃَﻧَﺎ » , ﻓَﻌَﺘَﺐَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺇِﺫْ ﻟَﻢْ ﻳَﺮُﺩَّ ﺍﻟْﻌِﻠْﻢَ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻪُ: « ﺑَﻠَﻰ ﻟِﻲ ﻋَﺒْﺪٌ ﺑِﻤَﺠْﻤَﻊِ ﺍﻟْﺒَﺤْﺮَﻳْﻦِ ﻫُﻮَ ﺃَﻋْﻠَﻢُ ﻣِﻨْﻚَ, ﻗَﺎﻝَ: "ﺃَﻱْ ﺭَﺏِّ ﻭَﻣَﻦْ ﻟِﻲ ﺑِﻪِ؟ -ﻭَﺭُﺑَّﻤَﺎ ﻗَﺎﻝَ ﺳُﻔْﻴَﺎﻥُ: ﺃَﻱْ
ﺭَﺏِّ ﻭَﻛَﻴْﻒَ ﻟِﻲ ﺑِﻪ؟ِ- ﻗَﺎﻝَ: ﺗَﺄْﺧُﺬُ ﺣُﻮﺗًﺎ ﻓَﺘَﺠْﻌَﻠُﻪُ ﻓِﻲ ﻣِﻜْﺘَﻞٍ ﺣَﻴْﺜُﻤَﺎ ﻓَﻘَﺪْﺕَ ﺍﻟْﺤُﻮﺕَ ﻓَﻬُﻮَ ﺛَﻢَّ» .. ﻓﺬﻛﺮ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ . ( ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
১২৮. সায়িদ ইব্ন জুবায়ের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইব্ন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললাম ‘নাউফ আল-বাকালি’র
ধারণা ‘খিদির’ এর সাথী ‘মুসা’ বনি ইসরাইলের ‘মুসা’ নয়, তিনি অন্য ‘মুসা’। তিনি বললেন: আল্লাহর দুশমন মিথ্যা বলেছে। উবাই
ইব্ন কা‘ব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদেরকে বর্ণনা করেন: “একদা মুসা আলাইহিস সালাম বনি
ইসরাইলে খুতবা দেয়ার জন্য দাঁড়ালে তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, কে সবচেয়ে বেশী জানে? তিনি বললেন: আমি”। এ জন্য আল্লাহ
তাকে তিরস্কার করলেন, কারণ তিনি বেশী জানার জ্ঞান আল্লাহর নিকট সোপর্দ করেন নি। তাকে তিনি বললেন: “দুই সমুদ্রের
মিলনস্থলে আমার এক বান্দা রয়েছে, সে তোমার চেয়ে অধিক জানে। তিনি বললেন: হে আমার রব, তার নিকট পৌঁছার জন্য
আমার কে আছে? অথবা সুফিয়ান বলেছেন: হে আমার রব, আমি কিভাবে তার কাছে পৌঁছব? তিনি বললেন: একটি মাছ নাও,
অতঃপর তা পাত্রে রাখ, যেখানে মাছটি হারাবে সেখানেই সে...” অতঃপর পূর্ণ হাদিস উল্লেখ করেন। [বুখারি ও মুসলিম]
হাদিসটি সহিহ।
মালাকুল মউতের সাথে মুসা আলাইহিস সালামের ঘটনা
-129 ﻋَﻦْ ﺃﺑﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﺃﻥْ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎَﻝ: « ﺟَﺎﺀَ ﻣَﻠَﻚُ ﺍﻟْﻤَﻮْﺕِ ﺇِﻟَﻰ ﻣُﻮﺳَﻰ -ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡ- ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻪُ : ﺃَﺟِﺐْ ﺭَﺑَّﻚَ , ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﻠَﻄَﻢَ ﻣُﻮﺳَﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡ ﻋَﻴْﻦَ ﻣَﻠَﻚِ ﺍﻟْﻤَﻮْﺕِ ﻓَﻔَﻘَﺄَﻫَﺎ , ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺮَﺟَﻊَ ﺍﻟْﻤَﻠَﻚُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺇِﻧَّﻚَ ﺃَﺭْﺳَﻠْﺘَﻨِﻲ ﺇِﻟَﻰ ﻋَﺒْﺪٍ ﻟَﻚَ ﻟَﺎ ﻳُﺮِﻳﺪُ ﺍﻟْﻤَﻮْﺕَ ﻭَﻗَﺪْ ﻓَﻘَﺄَ ﻋَﻴْﻨِﻲ , ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺮَﺩَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻋَﻴْﻨَﻪُ ﻭَﻗَﺎﻝَ : ﺍﺭْﺟِﻊْ ﺇِﻟَﻰ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﻓَﻘُﻞْ: ﺍﻟْﺤَﻴَﺎﺓَ ﺗُﺮِﻳﺪُ؟ ﻓَﺈِﻥْ ﻛُﻨْﺖَ ﺗُﺮِﻳﺪُ ﺍﻟْﺤَﻴَﺎﺓَ ﻓَﻀَﻊْ ﻳَﺪَﻙَ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﺘْﻦِ ﺛَﻮْﺭٍ ﻓَﻤَﺎ ﺗَﻮَﺍﺭَﺕْ ﻳَﺪُﻙَ ﻣِﻦْ ﺷَﻌْﺮَﺓٍ ﻓَﺈِﻧَّﻚَ ﺗَﻌِﻴﺶُ
ﺑِﻬَﺎ ﺳَﻨَﺔً ﻗَﺎﻝَ: ﺛُﻢَّ ﻣَﻪْ؟ ﻗَﺎﻝَ : ﺛُﻢَّ ﺗَﻤُﻮﺕُ ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺎﻟْﺂﻥَ ﻣِﻦْ ﻗَﺮِﻳﺐٍ ﺭَﺏِّ ﺃَﻣِﺘْﻨِﻲ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﺍﻟْﻤُﻘَﺪَّﺳَﺔِ ﺭَﻣْﻴَﺔً ﺑِﺤَﺠَﺮٍ» . ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : «ﻭَﺍﻟﻠَّﻪِ ﻟَﻮْ ﺃَﻧِّﻲ ﻋِﻨْﺪَﻩُ ﻟَﺄَﺭَﻳْﺘُﻜُﻢْ ﻗَﺒْﺮَﻩُ ﺇِﻟَﻰ ﺟَﺎﻧِﺐِ ﺍﻟﻄَّﺮِﻳﻖِ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟْﻜَﺜِﻴﺐِ ﺍﻟْﺄَﺣْﻤَﺮِ » . ( ﻡ ,
ﺥ ) ﺻﺤﻴﺢ
১২৯. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মালাকুল মউত
মুসা আলাইহিস সালামের নিকট এসে তাকে বলেন: আপনার রবের ডাকে সাড়া দিন। তিনি বলেন: অতঃপর মুসা আলাইহিস
সালাম মালাকুল মউতকে থাপ্পড় মেরে তার চোখ উপড়ে ফেলেন। তিনি বলেন: অতঃপর মালাকুল মউত আল্লাহর নিকট ফিরে গেল
এবং বলল: আপনি আমাকে আপনার এমন বান্দার নিকট প্রেরণ করেছেন যে মরতে চায় না, সে আমার চোখ উপড়ে ফেলেছে, তিনি
বলেন: আল্লাহ তার চোখ তাকে ফিরিয়ে দেন, আর বলেন: আমার বান্দার নিকট ফিরে যাও এবং বল: আপনি হায়াত চান? যদি
আপনি হায়াত চান তাহলে ষাঁড়ের পিঠে হাত রাখুন, আপনার হাত যে পরিমাণ চুল ঢেকে নিবে তার সমান বছর আপনি জীবিত
থাকবেন। তিনি বলেন: অতঃপর? মালাকুল মউত বলল: অতঃপর মৃত্যু বরণ করবেন। তিনি বলেন: তাহলে এখনি দ্রুত কর। হে আমার রব,
পবিত্র ভূমির সন্নিকটে পাথর নিক্ষেপের দূরত্বে আমাকে মৃত্যু দান কর”। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
“আল্লাহর শপথ আমি যদি তার নিকট হতাম, তাহলে রাস্তার পাশে লাল বালুর স্তূপের নিকট তার কবর দেখিয়ে দিতাম”। [বুখারি
ও মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
আইয়ূব আলাইহিস সালামের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ
-130 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: «ﺑَﻴْﻨَﻤَﺎ ﺃَﻳُّﻮﺏُ ﻳَﻐْﺘَﺴِﻞُ ﻋُﺮْﻳَﺎﻧًﺎ ﺧَﺮَّ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺭِﺟْﻞُ ﺟَﺮَﺍﺩٍ ﻣِﻦْ ﺫَﻫَﺐٍ ﻓَﺠَﻌَﻞَ ﻳَﺤْﺜِﻲ ﻓِﻲ ﺛَﻮْﺑِﻪِ ﻓَﻨَﺎﺩَﺍﻩُ ﺭَﺑُّﻪُ: ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻮﺏُ ﺃَﻟَﻢْ ﺃَﻛُﻦْ ﺃَﻏْﻨَﻴْﺘُﻚَ ﻋَﻤَّﺎ ﺗَﺮَﻯ؟ ﻗَﺎﻝَ: ﺑَﻠَﻰ ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﻭَﻟَﻜِﻦْ ﻟَﺎ ﻏِﻨَﻰ ﻟِﻲ
ﻋَﻦْ ﺑَﺮَﻛَﺘِﻚَ» . ( ﺥ , ﻥ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৩০. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “একদা আইয়ূব উলঙ্গ গোসল
করছিল, তার ওপর এক পাল স্বর্ণের টিড্ডি পড়ল, তিনি তা মুষ্টি মুষ্টি করে কাপড়ে তুলছিলেন। এমতাবস্থায় তার রব তাকে ডাক
দিলেন: হে আইয়ূব, আমি কি তোমাকে অমুখাপেক্ষী করে দেই-নি যা দেখছ তা থেকে? তিনি বললেন: অবশ্যই হে আমার রব, তবে
আপনার বরকত থেকে আমার অমুখাপেক্ষীতা নেই”। [বুখারি ও নাসায়ি] হাদিসটি সহিহ।
জাহেলী যুগের প্রথার অনিষ্ট
131 ﻋَﻦْ ﺃُﺑَﻲِّ ﺑْﻦِ ﻛَﻌْﺐٍ ( ﻗَﺎﻝَ: ﺍﻧْﺘَﺴَﺐَ ﺭَﺟُﻠَﺎﻥِ ﻋَﻠَﻰ ﻋَﻬْﺪِ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺃَﺣَﺪُﻫُﻤَﺎ : ﺃَﻧَﺎ ﻓُﻠَﺎﻥُ ﺑْﻦُ ﻓُﻠَﺎﻥٍ ﻓَﻤَﻦْ ﺃَﻧْﺖَ ﻟَﺎ ﺃُﻡَّ ﻟَﻚَ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﺍﻧْﺘَﺴَﺐَ ﺭَﺟُﻠَﺎﻥِ ﻋَﻠَﻰ ﻋَﻬْﺪِ ﻣُﻮﺳَﻰ -ﻋَﻠَﻴْﻪِ
ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡ- ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺃَﺣَﺪُﻫُﻤَﺎ: ﺃَﻧَﺎ ﻓُﻠَﺎﻥُ ﺑْﻦُ ﻓُﻠَﺎﻥٍ ﺣَﺘَّﻰ ﻋَﺪَّ ﺗِﺴْﻌَﺔً ﻓَﻤَﻦْ ﺃَﻧْﺖَ ﻟَﺎ ﺃُﻡَّ ﻟَﻚَ، ﻗَﺎﻝَ: ﺃَﻧَﺎ ﻓُﻠَﺎﻥُ ﺑْﻦُ ﻓُﻠَﺎﻥٍ ﺍﺑْﻦُ ﺍﻟْﺈِﺳْﻠَﺎﻡِ. ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺄَﻭْﺣَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺇِﻟَﻰ ﻣُﻮﺳَﻰ -ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡ :- ﺃَﻥَّ ﻫَﺬَﻳْﻦِ ﺍﻟْﻤُﻨْﺘَﺴِﺒَﻴْﻦِ ﺃَﻣَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟْﻤُﻨْﺘَﻤِﻲ ﺃَﻭْ ﺍﻟْﻤُﻨْﺘَﺴِﺐُ ﺇِﻟَﻰ ﺗِﺴْﻌَﺔٍ
ﻓِﻲ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻓَﺄَﻧْﺖَ ﻋَﺎﺷِﺮُﻫُﻢْ، ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ ﻳَﺎ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟْﻤُﻨْﺘَﺴِﺐُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﺛْﻨَﻴْﻦِ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﻓَﺄَﻧْﺖَ ﺛَﺎﻟِﺜُﻬُﻤَﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ» . ( ﺣﻢ , ﻥ ) ﺇﺳﻨﺎﺩﻩ ﺻﺤﻴﺢ
১৩১. উবাই ইব্ন কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে
দু’জন ব্যক্তি বংশের উল্লেখ করল, একজন বলল: আমি অমুকের সন্তান অমুক তুমি কে, তুমি মা হারা হও। অতঃপর রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: মুসা আলাইহিস সালামের যুগে দু’ ব্যক্তি বংশ পরিচয় উল্লেখ করেছিল, তাদের
একজন বলে: আমি অমুকের সন্তান অমুক এভাবে সে নয়জন গণনা করে, অতএব তুমি কে, তুমি মা হারা হও। সে বলল: আমি অমুকের
সন্তান অমুক ইব্ন ইসলাম। তিনি বলেন: আল্লাহ তা‘আলা মুসা আলাইহিস সালামের নিকট ওহি প্রেরণ করলেন, এ দু’জন বংশ পরিচয়
উল্লেখকারী: হে নয়জন উল্লেখকারী তুমি জাহান্নামে, তুমি তাদের দশম ব্যক্তি। হে দু’জন উল্লেখকারী তুমি জান্নাতে, তুমি
তাদের তৃতীয়জন”। [আহমদ ও নাসায়ি] হাদিসটির সনদ সহিহ।
শয়তানের ওয়াসওয়াসা
-132 ﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲِ ﺑْﻦِ ﻣَﺎﻟِﻚٍ ( ﻋَﻦْ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ: ﺇِﻥَّ ﺃُﻣَّﺘَﻚَ ﻟَﺎ ﻳَﺰَﺍﻟُﻮﻥَ ﻳَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ : ﻣَﺎ ﻛَﺬَﺍ؟ ﻣَﺎ ﻛَﺬَﺍ؟ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﻘُﻮﻟُﻮﺍ : ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟْﺨَﻠْﻖَ ﻓَﻤَﻦْ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﻠَّﻪَ؟» ( ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৩২. আনাস ইব্ন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ
তা‘আলা বলেন: তোমার উম্মত বলতে থাকবে: এটা কিভাবে? এটা কিভাবে? অবশেষে বলবে: আল্লাহ মখলুক সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু
আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে?” [মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদের ফযিলত
-133 ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺑْﻦِ ﻋَﻮْﻑٍ ( ﻗَﺎﻝَ: ﺧَﺮَﺝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓَﺎﺗَّﺒَﻌْﺘُﻪُ ﺣَﺘَّﻰ ﺩَﺧَﻞَ ﻧَﺨْﻼً ﻓَﺴَﺠَﺪَ ﻓَﺄَﻃَﺎﻝَ ﺍﻟﺴُّﺠُﻮﺩَ ﺣَﺘَّﻰ ﺧِﻔْﺖُ ﺃَﻭْ ﺧَﺸِﻴﺖُ ﺃَﻥْ ﻳَﻜُﻮﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻗَﺪْ ﺗَﻮَﻓَّﺎﻩُ ﺃَﻭْ ﻗَﺒَﻀَﻪُ، ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺠِﺌْﺖُ ﺃَﻧْﻈُﺮُ ﻓَﺮَﻓَﻊَ ﺭَﺃْﺳَﻪُ ﻓَﻘَﺎﻝَ: «ﻣَﺎ
ﻟَﻚَ ﻳَﺎ ﻋَﺒْﺪَ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤﻦِ؟ » ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺬَﻛَﺮْﺕُ ﺫَﻟِﻚَ ﻟَﻪُ ﻓَﻘَﺎﻝَ: « ﺇِﻥَّ ﺟِﺒْﺮِﻳﻞَ -ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡ- ﻗَﺎﻝَ ﻟِﻲ: ﺃَﻟَﺎ ﺃُﺑَﺸِّﺮُﻙَ، ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ - ﻳَﻘُﻮﻝُ ﻟَﻚَ: ﻣَﻦْ ﺻَﻠَّﻰ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﺻَﻠَّﻴْﺖُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﻣَﻦْ ﺳَﻠَّﻢَ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﺳَﻠَّﻤْﺖُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ » . ( ﺣﻢ , ﻫﻖ , ﻳﻊ ) ﺣﺴﻦ ﻟﻐﻴﺮﻩ
১৩৩. আব্দুর রহমান ইব্ন আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বের হলেন, আমি তার অনুগামী হলাম, তিনি একটি খেজুর বাগানে ঢুকে সেজদা করলেন, সেজদা এত দীর্ঘ করলেন যে আমি
আশঙ্কা করলাম আল্লাহ তাকে তো মৃত্যু দেন নি! তিনি বলেন: আমি দেখার জন্য আসলাম, অতঃপর তিনি মাথা তুললেন, তিনি
বললেন: “হে আব্দুর রহমান কি হয়েছে তোমার?” তিনি বলেন: আমি তাকে তা শোনালাম, অতঃপর তিনি বললেন: “জিবরিল
(আলাইহিস সালাম) আমাকে বলেছেন: আমি কি তোমাকে সুসংবাদ দেব না, আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে বলেন: যে ব্যক্তি
তোমার ওপর দরূদ পাঠ করবে আমি তার ওপর দরূদ পাঠ করব, যে তোমার ওপর সালাম পাঠ করবে আমি তার ওপর সালাম প্রেরণ করব”।
[আহমদ, বায়হাকি ও আবু ইয়ালা] হাদিসটি হাসান লি গায়রিহি।
ভালোর নির্দেশ দেয়া ও খারাপ থেকে বিরত রাখা
-134 ﻋَﻦْ ﺃﺑﻲ ﺳَﻌِﻴﺪٍ ﺍﻟْﺨُﺪْﺭِﻱَّ ( ﻳَﻘُﻮﻝُ: ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ: «ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻟَﻴَﺴْﺄَﻝُ ﺍﻟْﻌَﺒْﺪَ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﻘُﻮﻝَ : ﻣَﺎ ﻣَﻨَﻌَﻚَ ﺇِﺫْ ﺭَﺃَﻳْﺖَ ﺍﻟْﻤُﻨْﻜَﺮَ ﺃَﻥْ ﺗُﻨْﻜِﺮَﻩُ؟ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻟَﻘَّﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺒْﺪًﺍ ﺣُﺠَّﺘَﻪُ ﻗَﺎﻝَ: ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﺭَﺟَﻮْﺗُﻚَ ﻭَﻓَﺮِﻗْﺖُ
ﻣِﻦ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ» . ( ﺟﻪ , ﺣﺐ ) ﺣﺴﻦ
১৩৪. আবু সায়িদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে
বলতে শুনেছি: “আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন বান্দাকে জিজ্ঞেস করবেন, এক পর্যায়ে বলবেন: তুমি যখন খারাপ কর্ম দেখেছ
কেন বাঁধা দাওনি? আল্লাহ যখন বান্দাকে তার উত্তর শিক্ষা দিবেন, সে বলবে: হে আমার রব, তোমার মাগফেরাত আশা করেছি
ও মানুষকে ভয় করেছি”। [ইব্ন মাজাহ ও ইব্ন হিব্বান] হাদিসটি হাসান।
ফাতেহার ফযিলত
-135 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﺃﻥ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ : ﻗَﺴَﻤْﺖُ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓَ ﺑَﻴْﻨِﻲ ﻭَﺑَﻴْﻦَ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﻧِﺼْﻔَﻴْﻦِ ﻭَﻟِﻌَﺒْﺪِﻱ ﻣَﺎ ﺳَﺄَﻝَ , ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟْﻌَﺒْﺪُ: ﴿ﭐﻟۡﺤَﻤۡﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﺭَﺏِّ ﭐﻟۡﻌَٰﻠَﻤِﻴﻦَ﴾ ، ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ: ﺣَﻤِﺪَﻧِﻲ ﻋَﺒْﺪِﻱ .
ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻗَﺎﻝَ: ﴿ﭐﻟﺮَّﺣۡﻤَٰﻦِ ﭐﻟﺮَّﺣِﻴﻢِ﴾، ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ: ﺃَﺛْﻨَﻰ ﻋَﻠَﻲَّ ﻋَﺒْﺪِﻱ . ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻗَﺎﻝَ: ﴿ﻣَٰﻠِﻚِ ﻳَﻮۡﻡِ ﭐﻟﺪِّﻳﻦِ﴾ ﻗَﺎﻝَ: ﻣَﺠَّﺪَﻧِﻲ ﻋَﺒْﺪِﻱ (ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻣَﺮَّﺓً: ﻓَﻮَّﺽَ ﺇِﻟَﻲَّ ﻋَﺒْﺪِﻱ ) ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻗَﺎﻝَ: ﴿ﺇِﻳَّﺎﻙَ ﻧَﻌۡﺒُﺪُ ﻭَﺇِﻳَّﺎﻙَ ﻧَﺴۡﺘَﻌِﻴﻦُ﴾ ﻗَﺎﻝَ : ﻫَﺬَﺍ ﺑَﻴْﻨِﻲ ﻭَﺑَﻴْﻦَ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﻭَﻟِﻌَﺒْﺪِﻱ ﻣَﺎ
ﺳَﺄَﻝَ , ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻗَﺎﻝَ : ﴿ﭐﻫۡﺪِﻧَﺎ ﭐﻟﺼِّﺮَٰﻁَ ﭐﻟۡﻤُﺴۡﺘَﻘِﻴﻢَ ٦ ﺻِﺮَٰﻁَ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃَﻧۡﻌَﻤۡﺖَ ﻋَﻠَﻴۡﻬِﻢۡ ﻏَﻴۡﺮِ ﭐﻟۡﻤَﻐۡﻀُﻮﺏِ ﻋَﻠَﻴۡﻬِﻢۡ ﻭَﻟَﺎ ﭐﻟﻀَّﺎٓﻟِّﻴﻦَ ٧ ﴾، ﻗَﺎﻝَ: ﻫَﺬَﺍ ﻟِﻌَﺒْﺪِﻱ ﻭَﻟِﻌَﺒْﺪِﻱ ﻣَﺎ ﺳَﺄَﻝَ» . ( ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৩৫. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা
বলেন: আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মাঝে দু’ভাগে ভাগ করেছি, আমার বান্দার জন্য সে যা চাইবে। বান্দা যখন
বলে: ﴿ﭐﻟۡﺤَﻤۡﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﺭَﺏِّ ﭐﻟۡﻌَٰﻠَﻤِﻴﻦَ﴾ “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিকুলের রব”। আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে।
বান্দা যখন বলে: ﴿ﭐﻟﺮَّﺣۡﻤَٰﻦِ ﭐﻟﺮَّﺣِﻴﻢِ﴾ “দয়াময়, পরম দয়ালু”। আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার গুণগান করেছে। বান্দা যখন বলে: ﴿ﻣَٰﻠِﻚِ ﻳَﻮۡﻡِ ﭐﻟﺪِّﻳﻦِ
﴾ “বিচার দিবসের মালিক”। আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করেছে। (একবার বলেছেন: আমার বান্দা
তাকে আমার ওপর ন্যাস্ত করেছে), বান্দা যখন বলে: ﴿ﺇِﻳَّﺎﻙَ ﻧَﻌۡﺒُﺪُ ﻭَﺇِﻳَّﺎﻙَ ﻧَﺴۡﺘَﻌِﻴﻦُ﴾ “আপনারই আমরা ইবাদাত করি এবং আপনারই নিকট আমরা
সাহায্য চাই”। আল্লাহ বলেন: এটা আমার ও আমার বান্দার মাঝে, আর আমার বান্দার জন্য যা সে চাইবে। যখন বান্দা বলে:
﴿ﭐﻫۡﺪِﻧَﺎ ﭐﻟﺼِّﺮَٰﻁَ ﭐﻟۡﻤُﺴۡﺘَﻘِﻴﻢَ ٦ ﺻِﺮَٰﻁَ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃَﻧۡﻌَﻤۡﺖَ ﻋَﻠَﻴۡﻬِﻢۡ ﻏَﻴۡﺮِ ﭐﻟۡﻤَﻐۡﻀُﻮﺏِ ﻋَﻠَﻴۡﻬِﻢۡ ﻭَﻟَﺎ ﭐﻟﻀَّﺎٓﻟِّﻴﻦَ ٧ ﴾ [ﺍﻟﻔﺎﺗﺤﺔ: 1، 7]
“আমাদেরকে সরল পথের হিদায়াত দিন তাদের পথ, যাদের উপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন। যাদেরকে নিয়ামত দিয়েছেন। যাদের
উপর (আপনার) ক্রোধ আপতিত হয়নি এবং যারা পথভ্রষ্টও নয়”। আল্লাহ বলেন: এটা আমার বান্দার জন্য, আমার বান্দার জন্য যা সে
চাইবে”। [মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
ঊর্ধ্বজগতে ফেরেশতাদের তর্ক
-136 ﻋَﻦْ ﻣُﻌَﺎﺫِ ﺑْﻦِ ﺟَﺒَﻞٍ ( ﻗَﺎﻝَ: ﺍﺣْﺘُﺒِﺲَ ﻋَﻨَّﺎ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺫَﺍﺕَ ﻏَﺪَﺍﺓٍ ﻋَﻦْ ﺻَﻠَﺎﺓِ ﺍﻟﺼُّﺒْﺢِ ﺣَﺘَّﻰ ﻛِﺪْﻧَﺎ ﻧَﺘَﺮَﺍﺀَﻯ ﻋَﻴْﻦَ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲِ، ﻓَﺨَﺮَﺝَ ﺳَﺮِﻳﻌًﺎ ﻓَﺜُﻮِّﺏَ ﺑِﺎﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ، ﻓَﺼَﻠَّﻰ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭَﺗَﺠَﻮَّﺯَ ﻓِﻲ
ﺻَﻠَﺎﺗِﻪِ ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺳَﻠَّﻢَ ﺩَﻋَﺎ ﺑِﺼَﻮْﺗِﻪِ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻨَﺎ: «ﻋَﻠَﻰ ﻣَﺼَﺎﻓِّﻜُﻢْ ﻛَﻤَﺎ ﺃَﻧْﺘُﻢْ» ﺛُﻢَّ ﺍﻧْﻔَﺘَﻞَ ﺇِﻟَﻴْﻨَﺎ ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻝَ: «ﺃَﻣَﺎ ﺇِﻧِّﻲ ﺳَﺄُﺣَﺪِّﺛُﻜُﻢْ ﻣَﺎ ﺣَﺒَﺴَﻨِﻲ ﻋَﻨْﻜُﻢْ ﺍﻟْﻐَﺪَﺍﺓَ، ﺇﻧِّﻲ ﻗُﻤْﺖُ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻓَﺘَﻮَﺿَّﺄْﺕُ ﻭَﺻَﻠَّﻴْﺖُ ﻣَﺎ ﻗُﺪِّﺭَ ﻟِﻲ ﻓَﻨَﻌَﺴْﺖُ ﻓِﻲ ﺻَﻠَﺎﺗِﻲ ﺣﺘﻰ ﺍﺳْﺘَﺜْﻘَﻠْﺖُ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺃَﻧَﺎ
ﺑِﺮَﺑِّﻲ - ﺗَﺒَﺎﺭَﻙَ ﻭَﺗَﻌَﺎﻟَﻰ- ﻓِﻲ ﺃَﺣْﺴَﻦِ ﺻُﻮﺭَﺓٍ، ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ , ﻗُﻠْﺖُ: ﻟَﺒَّﻴْﻚَ ﺭَﺏِّ . ﻗَﺎﻝَ: ﻓِﻴﻢَ ﻳَﺨْﺘَﺼِﻢُ ﺍﻟْﻤَﻠَﺄُ ﺍﻟْﺄَﻋْﻠَﻰ؟ ﻗُﻠْﺖُ: ﻟَﺎ ﺃَﺩْﺭِﻱ ﺭَﺏِّ- ﻗَﺎﻟَﻬَﺎ ﺛَﻠَﺎﺛًﺎ- ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺮَﺃَﻳْﺘُﻪُ ﻭَﺿَﻊَ ﻛَﻔَّﻪُ ﺑَﻴْﻦَ ﻛَﺘِﻔَﻲَّ ﺣَﺘَّﻰ ﻭَﺟَﺪْﺕُ ﺑَﺮْﺩَ ﺃَﻧَﺎﻣِﻠِﻪِ ﺑَﻴْﻦَ ﺛَﺪْﻳَﻲَّ ﻓَﺘَﺠَﻠَّﻰ ﻟِﻲ ﻛُﻞُّ
ﺷَﻲْﺀٍ ﻭَﻋَﺮَﻓْﺖُ . ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ، ﻗُﻠْﺖُ: ﻟَﺒَّﻴْﻚَ ﺭَﺏِّ، ﻗَﺎﻝَ: ﻓِﻴﻢَ ﻳَﺨْﺘَﺼِﻢُ ﺍﻟْﻤَﻠَﺄُ ﺍﻟْﺄَﻋْﻠَﻰ؟ ﻗُﻠْﺖُ: ﻓِﻲ ﺍﻟْﻜَﻔَّﺎﺭَﺍﺕِ، ﻗَﺎﻝَ: ﻣَﺎ ﻫُﻦَّ؟ ﻗُﻠْﺖُ: ﻣَﺸْﻲُ ﺍﻟْﺄَﻗْﺪَﺍﻡِ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﺠَﻤَﺎﻋَﺎﺕِ ﻭَﺍﻟْﺠُﻠُﻮﺱُ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﺴَﺎﺟِﺪِ ﺑَﻌْﺪَ ﺍﻟﺼَّﻠَﻮَﺍﺕِ، ﻭَﺇِﺳْﺒَﺎﻍُ ﺍﻟْﻮُﺿُﻮﺀِ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﻜْﺮُﻭﻫَﺎﺕِ،
ﻗَﺎﻝَ: ﺛﻢ ﻓِﻴﻢ؟َ ﻗُﻠْﺖُ : ﺇِﻃْﻌَﺎﻡُ ﺍﻟﻄَّﻌَﺎﻡِ، ﻭَﻟِﻴﻦُ ﺍﻟْﻜَﻠَﺎﻡِ ﻭَﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓُ ﺑِﺎﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻭَﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻧِﻴَﺎﻡٌ، ﻗَﺎﻝَ: ﺳَﻞْ، ﻗُﻠْﺖُ: ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﺳْﺄَﻟُﻚَ ﻓِﻌْﻞَ ﺍﻟْﺨَﻴْﺮَﺍﺕِ ﻭَﺗَﺮْﻙَ ﺍﻟْﻤُﻨْﻜَﺮَﺍﺕِ ﻭَﺣُﺐَّ ﺍﻟْﻤَﺴَﺎﻛِﻴﻦِ ﻭَﺃَﻥْ ﺗَﻐْﻔِﺮَ ﻟِﻲ ﻭَﺗَﺮْﺣَﻤَﻨِﻲ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺃَﺭَﺩْﺕَ ﻓِﺘْﻨَﺔَ ﻗَﻮْﻡٍ ﻓَﺘَﻮَﻓَّﻨِﻲ ﻏَﻴْﺮَ
ﻣَﻔْﺘُﻮﻥٍ، ﺃَﺳْﺄَﻟُﻚَ ﺣُﺒَّﻚَ ﻭَﺣُﺐَّ ﻣَﻦْ ﻳُﺤِﺒُّﻚَ، ﻭَﺣُﺐَّ ﻋَﻤَﻞٍ ﻳُﻘَﺮِّﺏُ ﺇِﻟَﻰ ﺣُﺒِّﻚَ ». ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ِ « ﺇِﻧَّﻬَﺎ ﺣَﻖٌّ ﻓَﺎﺩْﺭُﺳُﻮﻫَﺎ ﺛُﻢَّ ﺗَﻌَﻠَّﻤُﻮﻫَﺎ ». ( ﺕ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৩৬. মুয়ায ইব্ন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা ফজর সালাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বিলম্ব করলেন, আমরা প্রায় সূর্যের অগ্রভাগ দেখার কাছাকাছি ছিলাম, অতঃপর তিনি দ্রুত বের হলেন, সালাতের
ঘোষণা দেয়া হল, তিনি দ্রুত সালাত আদায় করলেন, যখন সালাম ফিরালেন উচ্চ স্বরে আমাদেরকে বললেন: “তোমরা তোমাদের
কাতারে থাক যেরূপ আছ”। অতঃপর আমাদের দিকে ফিরে বললেন: “আমি অবশ্যই তোমাদের বলব কি কারণে আজ আমার বিলম্ব
হয়েছে। আমি রাতে উঠে ওযু করেছি অতঃপর যা তাওফিক হয়েছে সালাত আদায় করেছি, সালাতে আমার তন্দ্রা এসে যায় তাই
আমার কষ্ট হচ্ছিল, হঠাৎ দেখি আমার রব আমার সামনে সর্বোত্তম আকৃতিতে। তিনি আমাকে বললেন: হে মুহাম্মদ, আমি বললাম:
লাব্বাইক আমার রব। তিনি বললেন: ঊর্ধ্বজগতের ফেরেশতারা কি নিয়ে তর্ক করছে? আমি বললাম: হে আমার রব আমি জানি না,
-তিনি তা তিনবার বললেন- রাসূল বলেন: আমি দেখলাম তিনি (আল্লাহ) নিজ হাতের তালু আমার ঘাড়ের ওপর রাখলেন, এমনকি
আমি তার আঙ্গুলের শীতলতা আমার বুকের মধ্যে অনুভব করেছি, ফলে আমার সামনে প্রত্যেক বস্তু জাহির হল ও আমি চিনলাম।
অতঃপর বললেন: হে মুহাম্মদ, আমি বললাম: লাব্বাইক হে আমার রব। তিনি বললেন: ঊর্ধ্ব জগতের ফেরেশতারা কি নিয়ে তর্ক
করছে? আমি বললাম: কাফফারা সম্পর্কে। তিনি বললেন: তা কি? আমি বললাম: জামাতের জন্য হাঁটা, সালাতের পর মসজিদে
বসে থাকা, কষ্টের সময় পূর্ণরূপে ওযু করা। তিনি বলেন: অতঃপর কোন বিষয়ে? আমি বললাম: পানাহার করানো, সুন্দর কথা বলা,
মানুষের ঘুমিয়ে থাকাবস্থায় রাতে সালাত আদায় করা। তিনি (আল্লাহ) বললেন: তুমি চাও, আমি বললাম:
ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﺳْﺄَﻟُﻚَ ﻓِﻌْﻞَ ﺍﻟْﺨَﻴْﺮَﺍﺕِ ﻭَﺗَﺮْﻙَ ﺍﻟْﻤُﻨْﻜَﺮَﺍﺕِ ﻭَﺣُﺐَّ ﺍﻟْﻤَﺴَﺎﻛِﻴﻦِ ﻭَﺃَﻥْ ﺗَﻐْﻔِﺮَ ﻟِﻲ ﻭَﺗَﺮْﺣَﻤَﻨِﻲ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺃَﺭَﺩْﺕَ ﻓِﺘْﻨَﺔَ ﻗَﻮْﻡٍ ﻓَﺘَﻮَﻓَّﻨِﻲ ﻏَﻴْﺮَ ﻣَﻔْﺘُﻮﻥٍ، ﺃَﺳْﺄَﻟُﻚَ ﺣُﺒَّﻚَ ﻭَﺣُﺐَّ ﻣَﻦْ ﻳُﺤِﺒُّﻚَ، ﻭَﺣُﺐَّ ﻋَﻤَﻞٍ ﻳُﻘَﺮِّﺏُ ﺇِﻟَﻰ ﺣُﺒِّﻚَ
“হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে কল্যাণের কাজ করার তৌফিক চাই, খারাপ কাজ ছেড়ে দেয়ার তৌফিক চাই, অভাবীদের জন্য
ভালোবাসা, আর আপনি যেন আমাকে ক্ষমা করেন ও আমার প্রতি রহম করেন। আর যখন আপনি কোন কাওমকে ফিতনা তথা
পরীক্ষায় নিপতিত করতে চান, তখন আমাকে পরীক্ষায় নিপতিত না করে মৃত্যু দিন। আমি আপনার কাছে আপনার ভালোবাসা,
আপনাকে যে ভালোবাসে তার ভালবাসা এবং এমন আমলের ভালোবাসা চাই যা আমাকে আপনার ভালোবাসার নিকটে নিয়ে
যাবে।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: নিশ্চয় এ বাক্যগুলো সত্য, তোমরা এগুলো শিখ ও শিক্ষা দাও”।
[তিরমিযি] হাদিসটি সহিহ।
আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হারাম
-137 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ : « ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟْﺨَﻠْﻖَ ﺣَﺘَّﻰ ﺇِﺫَﺍ ﻓَﺮَﻍَ ﻣِﻦْ ﺧَﻠْﻘِﻪِ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﺍﻟﺮَّﺣِﻢُ : ﻫَﺬَﺍ ﻣَﻘَﺎﻡُ ﺍﻟْﻌَﺎﺋِﺬِ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻘَﻄِﻴﻌَﺔِ، ﻗَﺎﻝَ: ﻧَﻌَﻢْ، ﺃَﻣَﺎ ﺗَﺮْﺿَﻴْﻦَ ﺃَﻥْ ﺃَﺻِﻞَ ﻣَﻦْ ﻭَﺻَﻠَﻚِ ﻭَﺃَﻗْﻄَﻊَ ﻣَﻦْ ﻗَﻄَﻌَﻚِ؟ ﻗَﺎﻟَﺖْ:
ﺑَﻠَﻰ ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﻗَﺎﻝَ : ﻓَﻬُﻮَ ﻟَﻚِ » . ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : «ﻓَﺎﻗْﺮَﺀُﻭﺍ ﺇِﻥْ ﺷِﺌْﺘُﻢْ ﻓَﻬَﻞْ ﻋَﺴَﻴْﺘُﻢْ ﺇِﻥْ ﺗَﻮَﻟَّﻴْﺘُﻢْ ﺃَﻥْ ﺗُﻔْﺴِﺪُﻭﺍ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﻭَﺗُﻘَﻄِّﻌُﻮﺍ ﺃَﺭْﺣَﺎﻣَﻜُﻢْ » . ( ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৩৭. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা মখলুক
সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর যখন তিনি তার সৃষ্টি সম্পন্ন করেন তখন ‘রাহেম’[42] বলে: এ হচ্ছে তোমার নিকট বিচ্ছিন্নতা থেকে আশ্রয়
চাওয়ার স্থান, তিনি বলেন: হ্যাঁ। তুমি কি সন্তুষ্ট নও যে, তোমাকে যে রক্ষা করবে আমি তাকে রক্ষা করব, তোমাকে যে ছিন্ন
করবে আমি তাকে ছিন্ন করব? ‘রাহেম’ বলল: অবশ্যই হে রব, তিনি বলেন: এটাই তোমার জন্য”। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বললেন: “যদি তোমরা চাও তাহলে তিলাওয়াত কর:
﴿ﻓَﻬَﻞۡ ﻋَﺴَﻴۡﺘُﻢۡ ﺇِﻥ ﺗَﻮَﻟَّﻴۡﺘُﻢۡ ﺃَﻥ ﺗُﻔۡﺴِﺪُﻭﺍْ ﻓِﻲ ﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِ ﻭَﺗُﻘَﻄِّﻌُﻮٓﺍْ ﺃَﺭۡﺣَﺎﻣَﻜُﻢۡ ٢٢ ﴾ [ ﻣﺤﻤﺪ : ٢٢]
“সুতরাং অবাধ্য হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিলে সম্ভবত তোমরা যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে।”?।
[বুখারি ও মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
হাদিসে কুদসিতে আল্লাহর বাণী:
ﻛَﺬَّﺑﻨﻲ ﺍﺑﻦُ ﺁﺩَﻡَ ﻭﺷَﺘَﻤَﻨﻲ ﺍﺑﻦُ ﺁﺩﻡَ
-138 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ : « ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ: ﻛَﺬَّﺑَﻨِﻲ ﺍﺑْﻦُ ﺁﺩَﻡَ، ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﻜُﻦْ ﻟَﻪُ ﺫﻟﻚ , ﻭَﺷَﺘَﻤَﻨِﻲ ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﻜُﻦْ ﻟﻪ ﺫﻟﻚ , ﻓﺄَﻣَّﺎ ﺗَﻜْﺬِﻳﺒُﻪُ ﺇِﻳَّﺎﻱ ﻓَﻘَﻮْﻟُﻪُ: ﻟَﻦ ﻳﻌِﻴﺪﻧﻲ ﻛَﻤَﺎ ﺑَﺪَﺃُْﻧﻲ، ﻭَﻟَﻴْﺲَ ﺃﻭﻝ ﺍﻟْﺨَﻠْﻖِ ﺑِﺄﻫﻮﻥ ﻋَﻠَﻲَّ ﻣِﻦْ
ﺇﻋﺎﺩﺗﻪ، ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﺷَﺘْﻤُﻪُ ﺇِﻳَّﺎﻱَ ﻓَﻘَﻮْﻟُﻪُ: ﺍﺗَّﺨَﺬَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻟَﺪًﺍ , ﻭَﺃَﻧَﺎ ﺍﻟْﺄَﺣَﺪُ ﺍﻟﺼَّﻤَﺪُ ﻟَﻢْ ﺃَﻟِﺪْ ﻭَﻟَﻢْ ﺃُﻭﻟَﺪْ ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﻜُﻦْ ﻟِﻲ ﻛُﻔُﺌًﺎ ﺃَﺣَﺪٌ ». ( ﺥ , ﻥ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৩৮. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
বনি আদম আমার উপর মিথ্যারোপ করেছে, অথচ এটা তার অধিকার ছিল না। সে আমাকে গালি দিয়েছে অথচ এটা তার অধিকার
ছিল না। আমাকে তার মিথ্যারোপ করার অর্থ তার বলা: তিনি আমাকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন না যেরূপ প্রথম সৃষ্টি করেছেন, অথচ
প্রথমবার সৃষ্টি করা পুনরায় সৃষ্টি করা থেকে সহজ নয়। আমাকে তার গালি হচ্ছে তার কথা: আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন, অথচ
আমি এক ও অমুখাপেক্ষী, আমি জন্ম দেই-নি আমাকে জন্ম দেয়া হয় নি, আর আমার সমকক্ষ কেউ নয়”। [বুখারি ও নাসায়ি]
হাদিসটি সহিহ।
যুগকে গালি দেয়া হারাম
-139 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: « ﻗﺎﻝ: ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ: ﻳُﺆْﺫِﻳﻨِﻲ ﺍﺑْﻦُ ﺁﺩَﻡَ ﻳَﺴُﺐُّ ﺍﻟﺪَّﻫْﺮَ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﺍﻟﺪَّﻫْﺮُ , ﺃُﻗَﻠِّﺐُ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞَ ﻭَﺍﻟﻨَّﻬَﺎﺭَ » .
( ﻡ , ﺩ , ﻥ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৩৯. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা
বলেন: বনি আদম আমাকে কষ্ট দেয়, সে যুগকে গালি দেয় অথচ আমিই যুগ[43] , আমিই রাত ও দিন পরিবর্তন করি”। [মুসলিম, আবু দাউদ ও
নাসায়ি] হাদিসটি সহিহ।
অহংকার হারাম
-140 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺳَﻌِﻴﺪٍ ﺍﻟْﺨُﺪْﺭِﻱِّ ﻭَﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ- ﻗَﺎﻟَﺎ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﺍﻟْﻌِﺰُّ ﺇِﺯَﺍﺭُﻩُ ﻭَﺍﻟْﻜِﺒْﺮِﻳَﺎﺀُ ﺭِﺩَﺍﺅُﻩُ ﻓَﻤَﻦْ ﻳُﻨَﺎﺯِﻋُﻨِﻲ ﻋَﺬَّﺑْﺘُﻪُ» . ( ﻡ , ﺟﻪ , ﺩ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৪০. আবু সায়িদ খুদরি ও আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তারা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “ইজ্জত তার লুঙ্গি ও অহংকার তার চাদর, অতএব যে আমার সাথে টানাহেঁচড়া করবে আমি তাকে শাস্তি
দিব”। [মুসলিম, ইব্ন মাজাহ ও আবু দাউদ] হাদিসটি সহিহ।
যুলম হারাম
-141 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺫَﺭٍّ ( ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓِﻴﻤَﺎ ﺭَﻭَﻯ ﻋَﻦْ ﺍﻟﻠَّﻪِ - ﺗَﺒَﺎﺭَﻙَ ﻭَﺗَﻌَﺎﻟَﻰ- ﺃَﻧَّﻪُ ﻗَﺎﻝَ: « ﻳَﺎ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ! ﺇِﻧِّﻲ ﺣَﺮَّﻣْﺖُ ﺍﻟﻈُّﻠْﻢَ ﻋَﻠَﻰ ﻧَﻔْﺴِﻲ ﻭَﺟَﻌَﻠْﺘُﻪُ ﺑَﻴْﻨَﻜُﻢْ ﻣُﺤَﺮَّﻣًﺎ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﻈَﺎﻟَﻤُﻮﺍ، ﻳَﺎ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ! ﻛُﻠُّﻜُﻢْ ﺿَﺎﻝٌّ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﻦْ ﻫَﺪَﻳْﺘُﻪُ
ﻓَﺎﺳْﺘَﻬْﺪُﻭﻧِﻲ ﺃَﻫْﺪِﻛُﻢْ، ﻳَﺎ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ! ﻛُﻠُّﻜُﻢْ ﺟَﺎﺋِﻊٌ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﻦْ ﺃَﻃْﻌَﻤْﺘُﻪُ ﻓَﺎﺳْﺘَﻄْﻌِﻤُﻮﻧِﻲ ﺃُﻃْﻌِﻤْﻜُﻢْ، ﻳَﺎ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ! ﻛُﻠُّﻜُﻢْ ﻋَﺎﺭٍ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﻦْ ﻛَﺴَﻮْﺗُﻪُ ﻓَﺎﺳْﺘَﻜْﺴُﻮﻧِﻲ ﺃَﻛْﺴُﻜُﻢْ، ﻳَﺎ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ! ﺇِﻧَّﻜُﻢْ ﺗُﺨْﻄِﺌُﻮﻥَ ﺑِﺎﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻭَﺍﻟﻨَّﻬَﺎﺭِ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﺃَﻏْﻔِﺮُ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ﺟَﻤِﻴﻌًﺎ ﻓَﺎﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُﻭﻧِﻲ ﺃَﻏْﻔِﺮْ
ﻟَﻜُﻢْ، ﻳَﺎ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ! ﺇِﻧَّﻜُﻢْ ﻟَﻦْ ﺗَﺒْﻠُﻐُﻮﺍ ﺿَﺮِّﻱ ﻓَﺘَﻀُﺮُّﻭﻧِﻲ، ﻭَﻟَﻦْ ﺗَﺒْﻠُﻐُﻮﺍ ﻧَﻔْﻌِﻲ ﻓَﺘَﻨْﻔَﻌُﻮﻧِﻲ، ﻳَﺎ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ! ﻟَﻮْ ﺃَﻥَّ ﺃَﻭَّﻟَﻜُﻢْ ﻭَﺁﺧِﺮَﻛُﻢْ ﻭَﺇِﻧْﺴَﻜُﻢْ ﻭَﺟِﻨَّﻜُﻢْ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﺗْﻘَﻰ ﻗَﻠْﺐِ ﺭَﺟُﻞٍ ﻭَﺍﺣِﺪٍ ﻣِﻨْﻜُﻢْ ﻣَﺎ ﺯَﺍﺩَ ﺫَﻟِﻚَ ﻓِﻲ ﻣُﻠْﻜِﻲ ﺷَﻴْﺌًﺎ، ﻳَﺎ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ! ﻟَﻮْ ﺃَﻥَّ ﺃَﻭَّﻟَﻜُﻢْ
ﻭَﺁﺧِﺮَﻛُﻢْ ﻭَﺇِﻧْﺴَﻜُﻢْ ﻭَﺟِﻨَّﻜُﻢْ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻓْﺠَﺮِ ﻗَﻠْﺐِ ﺭَﺟُﻞٍ ﻭَﺍﺣِﺪٍ ﻣَﺎ ﻧَﻘَﺺَ ﺫَﻟِﻚَ ﻣِﻦْ ﻣُﻠْﻜِﻲ ﺷَﻴْﺌًﺎ، ﻳَﺎ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ ! ﻟَﻮْ ﺃَﻥَّ ﺃَﻭَّﻟَﻜُﻢْ ﻭَﺁﺧِﺮَﻛُﻢْ ﻭَﺇِﻧْﺴَﻜُﻢْ ﻭَﺟِﻨَّﻜُﻢْ ﻗَﺎﻣُﻮﺍ ﻓِﻲ ﺻَﻌِﻴﺪٍ ﻭَﺍﺣِﺪٍ ﻓَﺴَﺄَﻟُﻮﻧِﻲ ﻓَﺄَﻋْﻄَﻴْﺖُ ﻛُﻞَّ ﺇِﻧْﺴَﺎﻥٍ ﻣَﺴْﺄَﻟَﺘَﻪُ ﻣَﺎ ﻧَﻘَﺺَ ﺫَﻟِﻚَ ﻣِﻤَّﺎ ﻋِﻨْﺪِﻱ ﺇِﻟَّﺎ
ﻛَﻤَﺎ ﻳَﻨْﻘُﺺُ ﺍﻟْﻤِﺨْﻴَﻂُ ﺇِﺫَﺍ ﺃُﺩْﺧِﻞَ ﺍﻟْﺒَﺤْﺮَ، ﻳَﺎ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ ! ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻫِﻲَ ﺃَﻋْﻤَﺎﻟُﻜُﻢْ ﺃُﺣْﺼِﻴﻬَﺎ ﻟَﻜُﻢْ، ﺛُﻢَّ ﺃُﻭَﻓِّﻴﻜُﻢْ ﺇِﻳَّﺎﻫَﺎ، ﻓَﻤَﻦْ ﻭَﺟَﺪَ ﺧَﻴْﺮًﺍ ﻓَﻠْﻴَﺤْﻤَﺪْ ﺍﻟﻠَّﻪَ، ﻭَﻣَﻦْ ﻭَﺟَﺪَ ﻏَﻴْﺮَ ﺫَﻟِﻚَ ﻓَﻠَﺎ ﻳَﻠُﻮﻣَﻦَّ ﺇِﻟَّﺎ ﻧَﻔْﺴَﻪُ » . ( ﻡ , ﺕ , ﺟﻪ ) ﺻﺤﻴﺢ
ﻗَﺎﻝَ ﺳَﻌِﻴﺪٌ: ﻭﻛَﺎﻥَ ﺃَﺑُﻮ ﺇِﺩْﺭِﻳﺲَ ﺍﻟْﺨَﻮْﻟَﺎﻧِﻲُّ ﺇِﺫَﺍ ﺣَﺪَّﺙَ ﺑِﻬَﺬَﺍ ﺍﻟْﺤَﺪِﻳﺚِ ﺟَﺜَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺭُﻛْﺒَﺘَﻴْﻪِ.
১৪১. আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে বর্ণনা করেন,
তিনি বলেছেন: “হে আমার বান্দাগণ! নিশ্চয় আমি আমার ওপর যুলম হারাম করেছি, আমি তোমাদের মাঝেও তা হারাম করেছি
অতএব তোমরা যুলম কর না। হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের প্রত্যেকেই গোমরাহ তবে আমি যাকে হিদায়েত দেই, অতএব আমার
কাছে হিদায়েত তলব কর আমি তোমাদেরকে হিদায়েত দিব। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা সকলে ক্ষুধার্ত তবে আমি যাকে খাদ্য
দেই, অতএব আমার নিকট খাদ্য তলব কর আমি তোমাদেরকে খাদ্য দিব। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা সকলে বিবস্ত্র তবে আমি
যাকে বস্ত্র দান করি, অতএব আমার নিকট বস্ত্র তালাশ কর আমি তোমাদেরকে বস্ত্র দিব। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা রাত ও
দিনে ভুল কর, আমি তোমাদের সকল পাপ মোচন করি, অতএব আমার নিকট ক্ষমা চাও আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করব। হে আমার
বান্দাগণ! তোমরা আমার ক্ষতি পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না যে আমার ক্ষতি করবে। আর না তোমরা আমার উপকার পর্যন্ত পৌঁছতে
পারবে যে আমার উপকার করবে। যদি তোমাদের পূর্বপুরুষ ও পরবর্তী পুরুষ এবং মানুষ ও জিন সকলে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে
নেককার ব্যক্তির মত হয়ে যাও, তাও আমার রাজত্ব সামান্য বৃদ্ধি করবে না। হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের পূর্বপুরুষ ও
পরবর্তী পুরুষ এবং মানুষ ও জিন সকলে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ লোকের মত হয়ে যাও, তাও আমার রাজত্ব সামান্য হ্রাস
করবে না। হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের পূর্বপুরুষ ও পরবর্তী পুরুষ এবং মানুষ ও জিন এক ময়দানে দাঁড়িয়ে আমার নিকট
প্রার্থনা করে, অতঃপর আমি প্রত্যেককে তার প্রার্থিত বস্তু প্রদান করি, তাও আমার নিকট যা রয়েছে তা হ্রাস করতে পারবে
না, তবে সুই যে পরিমাণ পানি হ্রাস করে যখন তা সমুদ্রে প্রবেশ করানো হয়। হে আমার বান্দাগণ! এ তো তোমাদের আমল যা
আমি তোমাদের জন্য সংরক্ষণ করি, অতঃপর তোমাদের তা পূর্ণ করে দেব। অতএব যে ভাল কিছু পেল সে যেন আল্লাহর প্রশংসা
করে, যে অন্য কিছু পেল সে যেন নিজেকে ভিন্ন কাউকে দোষারোপ না করে”। [মুসলিম, তিরমিযি ও ইব্ন মাজাহ] হাদিসটি
সহিহ।
আবু সায়িদ বলেন: আবু ইদরিস খাউলানি যখন এ হাদিস বলতেন: হাঁটু গেড়ে বসতেন।
-142 ﻋَﻦْ ﺟَﺎﺑِﺮَ ﺑْﻦَ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ - ﻗَﺎﻝَ: ﺑَﻠَﻐَﻨِﻲ ﺣَﺪِﻳﺚٌ ﻋَﻦْ ﺭَﺟُﻞٍ ﺳَﻤِﻌَﻪُ ﻣِﻦْ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓَﺎﺷْﺘَﺮَﻳْﺖُ ﺑَﻌِﻴﺮًﺍ ﺛُﻢَّ ﺷَﺪَﺩْﺕُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺭَﺣْﻠِﻲ , ﻓَﺴِﺮْﺕُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﺷَﻬْﺮًﺍ ﺣَﺘَّﻰ ﻗَﺪِﻣْﺖُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺸَّﺎﻡَ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦُ
ﺃُﻧَﻴْﺲٍ .
ﻓَﻘُﻠْﺖُ ﻟِﻠْﺒَﻮَّﺍﺏِ: ﻗُﻞْ ﻟَﻪُ : ﺟَﺎﺑِﺮٌ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﺒَﺎﺏِ، ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺍﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ؟ ﻗُﻠْﺖُ: ﻧَﻌَﻢْ . ﻓَﺨَﺮَﺝَ ﻳَﻄَﺄُ ﺛَﻮْﺑَﻪُ ﻓَﺎﻋْﺘَﻨَﻘَﻨِﻲ ﻭَﺍﻋْﺘَﻨَﻘْﺘُﻪُ ﻓَﻘُﻠْﺖُ: ﺣَﺪِﻳﺜًﺎ ﺑَﻠَﻐَﻨِﻲ ﻋَﻨْﻚَ ﺃَﻧَّﻚَ ﺳَﻤِﻌْﺘَﻪُ ﻣِﻦْ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻘِﺼَﺎﺹِ ﻓَﺨَﺸِﻴﺖُ ﺃَﻥْ ﺗَﻤُﻮﺕَ ﺃَﻭْ ﺃَﻣُﻮﺕَ
ﻗَﺒْﻞَ ﺃَﻥْ ﺃَﺳْﻤَﻌَﻪُ , ﻗَﺎﻝَ : ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ: « ﻳُﺤْﺸَﺮُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ -ﺃَﻭْ ﻗَﺎﻝَ: ﺍﻟْﻌِﺒَﺎﺩُ - ﻋُﺮَﺍﺓً ﻏُﺮْﻻً ﺑُﻬْﻤًﺎ »، ﻗَﺎﻝَ: ﻗُﻠْﻨَﺎ: ﻭَﻣَﺎ ﺑُﻬْﻤًﺎ؟ ﻗَﺎﻝَ: «ﻟَﻴْﺲَ ﻣَﻌَﻬُﻢْ ﺷَﻲْﺀٌ ﺛُﻢَّ ﻳُﻨَﺎﺩِﻳﻬِﻢْ ﺑِﺼَﻮْﺕٍ ﻳَﺴْﻤَﻌُﻪُ ﻣِﻦْ ﻗُﺮْﺏٍ: ﺃَﻧَﺎ
ﺍﻟْﻤَﻠِﻚُ ﺃَﻧَﺎ ﺍﻟﺪَّﻳَّﺎﻥُ , ﻭَﻟَﺎ ﻳَﻨْﺒَﻐِﻲ ﻟِﺄَﺣَﺪٍ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﺃَﻥْ ﻳَﺪْﺧُﻞَ ﺍﻟﻨَّﺎﺭَ ﻭَﻟَﻪُ ﻋِﻨْﺪَ ﺃَﺣَﺪٍ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﺣَﻖٌّ ﺣَﺘَّﻰ ﺃَﻗُﺼَّﻪُ ﻣِﻨْﻪُ , ﻭَﻟَﺎ ﻳَﻨْﺒَﻐِﻲ ﻟِﺄَﺣَﺪٍ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﺃَﻥْ ﻳَﺪْﺧُﻞَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ، ﻭَﻟِﺄَﺣَﺪٍ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻋِﻨْﺪَﻩُ ﺣَﻖٌّ ﺣَﺘَّﻰ ﺃَﻗُﺼَّﻪُ ﻣِﻨْﻪُ ﺣَﺘَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻄْﻤَﺔُ» ،
ﻗَﺎﻝَ: ﻗُﻠْﻨَﺎ: ﻛَﻴْﻒَ ﻭَﺇِﻧَّﺎ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻧَﺄْﺗِﻲ ﺍﻟﻠَّﻪَ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ- ﻋُﺮَﺍﺓً ﻏُﺮْﻻً ﺑُﻬْﻤًﺎ؟ ﻗَﺎﻝَ : « ﺑِﺎﻟْﺤَﺴَﻨَﺎﺕِ ﻭَﺍﻟﺴَّﻴِّﺌَﺎﺕِ » . ( ﺣﻢ , ﺑﺦ , ﻋﺎ , ﻙ ) ﺣﺴﻦ ﻟﻐﻴﺮﻩ
১৪২. জাবের ইব্ন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার নিকট একটি হাদিসের সংবাদ পৌঁছেছে,
যা কোন এক ব্যক্তির নিকট রয়েছে যে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে শুনেছে। অতঃপর আমি
একটি উট খরিদ করি ও তাতে সফর করি, অতঃপর একমাস সফর করে শামে গিয়ে তার সাক্ষাত লাভ করি, দেখলাম তিনি আব্দুল্লাহ
ইব্ন উনাইস।
আমি দারোয়ানকে বললাম: তাকে বল: জাবের দরজায় অপেক্ষা করছে। তিনি বললেন: (জাবের) ইব্ন আব্দুল্লাহ? আমি বললাম: হ্যাঁ,
তিনি নিজ কাপড় হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে বের হলেন, অতঃপর আমার সাথে আলিঙ্গন করলেন, আমিও তার সাথে আলিঙ্গন করলাম।
আমি বললাম: আপনার কাছ থেকে আমার নিকট কিসাস সম্পর্কে একটি হাদিস পৌঁছেছে যে, আপনি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট শ্রবণ করেছেন, আমি আশঙ্কা করছিলাম, হয় আপনি মারা যাবেন, অথবা আমিই মারা যাব তা
শ্রবণ করার আগে। তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “কিয়ামতের দিন
মানুষদের অথবা বলেছেন: বান্দাদের, হাজির করা হবে, (উরাত) উলঙ্গ, (গুরলান) খৎনা বিহীন, (বুহমান) খালি হাত অবস্থায়”।
তিনি বলেন: আমরা বললাম: বুহমান কি? তিনি বললেন: “তাদের সাথে কিছু থাকবে না। অতঃপর তিনি তাদেরকে নির্দিষ্ট
আওয়াজ দ্বারা ডাক দিবেন যা নিকট থেকে শুনা যাবে: আমিই বাদশাহ, আমি প্রতিদান দানকারী, কোন জাহান্নামী যার
কোন জান্নাতির নিকট হক রয়েছে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না আমি তার থেকে তাকে কিসাস পাইয়ে দিব। কোন
জান্নাতি যার নিকট কোন জাহান্নামীর হক রয়েছে জান্নাতে প্রবেশ করবে না যতক্ষণ না আমি তার থেকে তাকে কিসাস
পাইয়ে দিব, এমনকি চড় পর্যন্ত”। তিনি বলেন: আমরা বললাম: কিভাবে তা সম্ভব হবে, আমরা তো তখন আল্লাহর নিকট উলঙ্গ,
গুরলান বুহমান হাজির হব?[44] তিনি বললেন: নেকি ও পাপের মাধ্যমে”। [আহমদ, বুখারি ফিল আদাবুল মুফরাদ, আবু আসেম, হাকেম]
হাদিসটি হাসান লি গায়রিহি]
জীবের ছবি অঙ্কন করা হারাম ও চিত্রকরদের প্রতি কঠোর হুশিয়ারি
-143 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ : « ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ: ﻭَﻣَﻦْ ﺃَﻇْﻠَﻢُ ﻣِﻤَّﻦْ ﺫَﻫَﺐَ ﻳَﺨْﻠُﻖُ ﻛَﺨَﻠْﻘِﻲ ﻓَﻠْﻴَﺨْﻠُﻘُﻮﺍ ﺫَﺭَّﺓً ﺃَﻭْ ﻟِﻴَﺨْﻠُﻘُﻮﺍ ﺣَﺒَّﺔً ﺃَﻭْ ﺷَﻌِﻴﺮَﺓً » . ( ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৪৩. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা
বলেন: তার চেয়ে বড় জালেম কে যে আমার সৃষ্টির ন্যায় সৃষ্টি করে, সে যেন একটি অণু অথবা শস্য দানা অথবা গমের দানা সৃষ্টি
করে”। [বুখারি ও মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
ঝগড়াকারীদের শাস্তি
-144 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﻗَﺎﻝَ: ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: «ﺗُﻔْﺘَﺢُ ﺃَﺑْﻮَﺍﺏُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﻓِﻲ ﻛُﻞِّ ﺍﺛْﻨَﻴْﻦِ ﻭَﺧَﻤِﻴﺲٍ» . ﻗَﺎﻝَ ﻣَﻌْﻤَﺮٌ : ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻏَﻴْﺮُ ﺳُﻬَﻴْﻞٍ : « ﻭَﺗُﻌْﺮَﺽُ ﺍﻟْﺄَﻋْﻤَﺎﻝُ ﻓِﻲ ﻛُﻞِّ ﺍﺛْﻨَﻴْﻦِ ﻭَﺧَﻤِﻴﺲٍ , ﻓَﻴَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠَّﻪُ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ- ﻟِﻜُﻞِّ ﻋَﺒْﺪٍ ﻟَﺎ
ﻳُﺸْﺮِﻙُ ﺑِﻪِ ﺷَﻴْﺌًﺎ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟْﻤُﺘَﺸَﺎﺣِﻨَﻴْﻦِ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟِﻠْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔِ: ﺫَﺭُﻭﻫُﻤَﺎ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺼْﻄَﻠِﺤَﺎ ». ( ﺃﺣﻤﺪ ) ﺣﺴﻦ
১৪৪. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “প্রত্যেক সোম ও
বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজা খোলা হয়”। মা‘মার বলেন: সুহাইল ব্যতীত অন্যরা বলেছেন: “প্রত্যেক সোম ও বৃহস্পতিবার আমল
পেশ করা হয়, অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক বান্দাকে ক্ষমা করে দেন যারা আল্লাহর সাথে শরীক করে না, তবে
ঝগড়াকারী দুই ব্যক্তি ব্যতীত, আল্লাহ তা‘আলা ফেরেশতাদের বলেন: এদেরকে অবকাশ দাও, যতক্ষণ না তারা মীমাংসা করে
নেয়”। [আহমদ] হাদিসটি হাসান।
জ্বর ও রোগ-ব্যাধি কাফফারা
-145 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﻋَﻦْ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ﺃَﻧَّﻪُ ﻋَﺎﺩَ ﻣَﺮِﻳﻀًﺎ - ﻭَﻣَﻌَﻪُ ﺃَﺑُﻮ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ- ﻣِﻦْ ﻭَﻋْﻚٍ ﻛَﺎﻥَ ﺑِﻪِ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﺃَﺑْﺸِﺮْ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻳَﻘُﻮﻝُ: ﻧَﺎﺭِﻱ ﺃُﺳَﻠِّﻄُﻬَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻦِ ﻓِﻲ
ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﻟِﺘَﻜُﻮﻥَ ﺣَﻈَّﻪُ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺂﺧِﺮَﺓِ ». ( ﺣﻢ , ﺟﻪ , ﺕ ) ﺣﺴﻦ
১৪৫. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলেন: তিনি এক রোগীকে দেখতে
যান, যে জ্বরের কারণে অসুস্থ ছিল, -আবু হুরায়রা ছিলেন তার সাথে- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে
বলেন: “সুসংবাদ গ্রহণ কর, আল্লাহ বলেন: আমার আগুন[45] দুনিয়াতে আমি আমার মুমিন বান্দার ওপর প্রবল করি, যেন তা
আখেরাতের আগুনের বিনিময় হয়ে যায়”। [আহমদ, ইব্ন মাজাহ ও তিরমিযি] হাদিসটি হাসান।
বান্দা অসুস্থ হলে তার জন্য সেরূপ আমল লেখা হয় যেরূপ সে সুস্থ অবস্থায় করত
-146 ﻋﻦْ ﻋُﻘْﺒَﺔَ ﺑْﻦَ ﻋَﺎﻣِﺮٍ ( ﺃﻥ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﻟَﻴْﺲَ ﻣِﻦْ ﻋَﻤَﻞِ ﻳَﻮْﻡٍ ﺇِﻟَّﺎ ﻭَﻫُﻮَ ﻳُﺨْﺘَﻢُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ، ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻣَﺮِﺽَ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻦُ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔُ: ﻳَﺎ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻋَﺒْﺪُﻙَ ﻓُﻠَﺎﻥٌ ﻗَﺪْ ﺣَﺒَﺴْﺘَﻪُ , ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﺮَّﺏُّ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ : ﺍﺧْﺘِﻤُﻮﺍ ﻟَﻪُ ﻋَﻠَﻰ ﻣِﺜْﻞِ
ﻋَﻤَﻠِﻪِ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺒْﺮَﺃَ ﺃَﻭْ ﻳَﻤُﻮﺕَ» . ( ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৪৬. উকবা ইব্ন আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: দিনের এমন
আমল নেই যার ওপর মোহর এঁটে দেয়া হয় না, বান্দা যখন অসুস্থ হয় ফেরেশতারা বলে: হে আমাদের রব, আপনার অমুক বান্দাকে
আপনি অসুস্থ করে দিয়েছেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন: তার জন্য তার অনুরূপ আমল লিখতে থাক, যতক্ষণ না সে ভাল হয় অথবা মারা
যায়”। [আহমদ] হাদিসটি সহিহ।
-147 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺍﻟْﺄَﺷْﻌَﺚِ ﺍﻟﺼَّﻨْﻌَﺎﻧِﻲِّ ﺃَﻧَّﻪُ ﺭَﺍﺡَ ﺇِﻟَﻰ ﻣَﺴْﺠِﺪِ ﺩِﻣَﺸْﻖَ ﻭَﻫَﺠَّﺮَ ﺑِﺎﻟﺮَّﻭَﺍﺡِ ﻓَﻠَﻘِﻲَ ﺷَﺪَّﺍﺩَ ﺑْﻦَ ﺃَﻭْﺱٍ ﻭَﺍﻟﺼُّﻨَﺎﺑِﺤِﻲُّ ﻣَﻌَﻪُ , ﻓَﻘُﻠْﺖُ: ﺃَﻳْﻦَ ﺗُﺮِﻳﺪَﺍﻥِ -ﻳَﺮْﺣَﻤُﻜُﻤَﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ - ﻗَﺎﻟَﺎ: ﻧُﺮِﻳﺪُ ﻫَﺎﻫُﻨَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺃَﺥٍ ﻟَﻨَﺎ ﻣَﺮِﻳﺾٍ ﻧَﻌُﻮﺩُﻩُ , ﻓَﺎﻧْﻄَﻠَﻘْﺖُ ﻣَﻌَﻬُﻤَﺎ ﺣَﺘَّﻰ ﺩَﺧَﻠَﺎ
ﻋَﻠَﻰ ﺫَﻟِﻚَ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞِ، ﻓَﻘَﺎﻟَﺎ ﻟَﻪُ: ﻛَﻴْﻒَ ﺃَﺻْﺒَﺤْﺖَ ﻗَﺎﻝَ : ﺃَﺻْﺒَﺤْﺖُ ﺑِﻨِﻌْﻤَﺔٍ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﺷَﺪَّﺍﺩٌ: ﺃَﺑْﺸِﺮْ ﺑِﻜَﻔَّﺎﺭَﺍﺕِ ﺍﻟﺴَّﻴِّﺌَﺎﺕِ ﻭَﺣَﻂِّ ﺍﻟْﺨَﻄَﺎﻳَﺎ ﻓَﺈِﻧِّﻲ ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ: « ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ - ﻳَﻘُﻮﻝُ: ﺇِﻧِّﻲ ﺇِﺫَﺍ ﺍﺑْﺘَﻠَﻴْﺖُ ﻋَﺒْﺪًﺍ ﻣِﻦْ
ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ ﻣُﺆْﻣِﻨًﺎ ﻓَﺤَﻤِﺪَﻧِﻲ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﺎ ﺍﺑْﺘَﻠَﻴْﺘُﻪُ؛ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻳَﻘُﻮﻡُ ﻣِﻦْ ﻣَﻀْﺠَﻌِﻪِ ﺫَﻟِﻚَ ﻛَﻴَﻮْﻡِ ﻭَﻟَﺪَﺗْﻪُ ﺃُﻣُّﻪُ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﺨَﻄَﺎﻳَﺎ , ﻭَﻳَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﺮَّﺏُّ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ: ﺃَﻧَﺎ ﻗَﻴَّﺪْﺕُ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﻭَﺍﺑْﺘَﻠَﻴْﺘُﻪُ ﻭَﺃَﺟْﺮُﻭﺍ ﻟَﻪُ ﻛَﻤَﺎ ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﺗُﺠْﺮُﻭﻥَ ﻟَﻪُ ﻭَﻫُﻮَ ﺻَﺤِﻴﺢٌ» . ( ﺣﻢ ) ﺣﺴﻦ ﻟﻐﻴﺮﻩ
১৪৭. আবুল আশআস সান‘আনি থেকে বর্ণিত, তিনি দামেস্কের মসজিদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ‘রাওয়াহ’ নামক স্থানে দুপুরে
অবস্থান করেন, সেখানে তিনি সাদ্দাদ ইব্ন আউসের সাথে সাক্ষাত করেন, (তার সাথী) ‘সুনাবিহি’ তার সাথেই ছিল। আমি
বললাম: কোথায় যাচ্ছেন, আল্লাহ আপনাদের ওপর রহম করুন, তারা বলল: এখানে আমাদের এক অসুস্থ ভাইয়ের সাথে সাক্ষাতের
ইচ্ছা করছি, আমরা তাকে দেখতে যাব। আমি তাদের সাথে চললাম, অবশেষে তারা ঐ ব্যক্তির নিকট গেল। তারা তাকে বলল:
কিরূপ সকাল করলেন? সে বলল: আল্লাহর নিয়ামতসহ। সাদ্দাদ তাকে বলল: গুনাহের কাফফারা ও পাপ মোচনের সুসংবাদ গ্রহণ করুন,
কারণ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “আমি যখন আমার কোন মুমিন বান্দাকে পরীক্ষা
করি, অতঃপর সে আমার মুসিবতের ওপর আমার প্রশংসা করে, নিশ্চয় সে ঐ বিছানা থেকে উঠে সে দিনের মত যে দিন তার মা
তাকে বেগুনা জন্ম দিয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: আমি আমার বান্দাকে আটকে রেখেছি, আমি তাকে মুসিবত দিয়েছি,
অতএব তোমরা তার জন্য সওয়াব লিখতে থাক, যেমন তার সওয়াব লিখতে তার সুস্থ অবস্থায়”। [আহমদ] হাদিসটি হাসান লি
গায়রিহি।
চোখের দৃষ্টি হারানোর পর ধৈর্যধারণকারী ও সওয়াবের আশা পোষণকারীর জন্য জান্নাত
-148 ﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲِ ﺑْﻦِ ﻣَﺎﻟِﻚٍ ( ﻗَﺎﻝَ: ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ: « ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻗَﺎﻝَ: ﺇِﺫَﺍ ﺍﺑْﺘَﻠَﻴْﺖُ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﺑِﺤَﺒِﻴﺒَﺘَﻴْﻪِ ﻓَﺼَﺒَﺮَ ﻋَﻮَّﺿْﺘُﻪُ ﻣِﻨْﻬُﻤَﺎ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ» . ﻳُﺮِﻳﺪُ ﻋَﻴْﻨَﻴْﻪِ . ( ﺥ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৪৮. আনাস ইব্ন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “আল্লাহ বলেন: আমি আমার বান্দাকে যখন তার দু’টি প্রিয় বস্তু[46] দ্বারা পরীক্ষা করি, অতঃপর
সে ধৈর্যধারণ করে, আমি তার বিনিময়ে তাকে জান্নাত দান করি”। [বুখারি] হাদিসটি সহিহ।
-149 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﺭﻓَﻌُﻪُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: «ﻳَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺰّ ﻭَﺟَﻞّ: ﻣَﻦْ ﺃَﺫْﻫَﺒْﺖُ ﺣَﺒِﻴﺒَﺘَﻴْﻪِ ﻓَﺼَﺒَﺮَ ﻭَﺍﺣْﺘَﺴَﺐَ ﻟَﻢْ ﺃَﺭْﺽَ ﻟَﻪُ ﺑِﺜَﻮَﺍﺏٍ ﺩُﻭﻥَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ» . ( ﺕ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৪৯. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মারফু সনদে বর্ণনা করেন, তিনি
বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা বলেন: আমি যার দু’টি প্রিয় বস্তু নিয়ে নেই, অতঃপর সে ধৈর্যধারণ করে ও সওয়াবের আশা করে, আমি
তার জন্য জান্নাত ব্যতীত কোন প্রতিদানে সন্তুষ্ট হই না”। [তিরমিযি] হাদিসটি সহিহ।
-150 ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ - ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﻳﻘﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﺒﺎﺭﻙ ﻭﺗﻌﺎﻟﻰ: ﺇﺫﺍ ﺃﺧﺬﺕ ﻛﺮﻳﻤﺘﻲ ﻋﺒﺪﻱ ﻓﺼﺒﺮ ﻭﺍﺣﺘﺴﺐ ﻟﻢ ﺃﺭﺽ ﻟﻪ ﺛﻮﺍﺑًﺎ ﺩﻭﻥ ﺍﻟﺠﻨﺔ» . ( ﺣﺐ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৫০. ইব্ন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“আল্লাহ তা‘আলা বলেন: আমি যখন আমার বান্দার প্রিয় দু’টি বস্তু গ্রহণ করি, অতঃপর সে সবর করে ও ধৈর্যধারণ করে, আমি তার
জন্য জান্নাত ব্যতীত কোন সওয়াবে সন্তুষ্ট হব না”। [ইব্ন হিব্বান] হাদিসটি সহিহ।
অভাবের ফযিলত
-151 ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻋَﻤْﺮِﻭ ﺑْﻦِ ﺍﻟﻌَﺎﺹِ ﻋَﻦْ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﻫَﻞْ ﺗَﺪْﺭُﻭﻥَ ﺃَﻭَّﻝَ ﻣَﻦْ ﻳَﺪْﺧُﻞُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﻣِﻦْ ﺧَﻠْﻖِ ﺍﻟﻠَّﻪِ؟» ﻗَﺎﻟُﻮﺍ: ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟُﻪُ ﺃَﻋْﻠَﻢُ . ﻗَﺎﻝَ : « ﺃَﻭَّﻝُ ﻣَﻦْ ﻳَﺪْﺧُﻞُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﻣِﻦْ ﺧَﻠْﻖِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟْﻔُﻘَﺮَﺍﺀُ ﻭَﺍﻟْﻤُﻬَﺎﺟِﺮُﻭﻥَ
ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺗُﺴَﺪُّ ﺑِﻬِﻢْ ﺍﻟﺜُّﻐُﻮﺭُ ﻭَﻳُﺘَّﻘَﻰ ﺑِﻬِﻢْ ﺍﻟْﻤَﻜَﺎﺭِﻩُ، ﻭَﻳَﻤُﻮﺕُ ﺃَﺣَﺪُﻫُﻢْ ﻭَﺣَﺎﺟَﺘُﻪُ ﻓِﻲ ﺻَﺪْﺭِﻩِ ﻟَﺎ ﻳَﺴْﺘَﻄِﻴﻊُ ﻟَﻬَﺎ ﻗَﻀَﺎﺀً , ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ- ﻟِﻤَﻦْ ﻳَﺸَﺎﺀُ ﻣِﻦْ ﻣَﻠَﺎﺋِﻜَﺘِﻪِ : ﺍﺋْﺘُﻮﻫُﻢْ ﻓَﺤَﻴُّﻮﻫُﻢْ، ﻓَﺘَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔُ: ﻧَﺤْﻦُ ﺳُﻜَّﺎﻥُ ﺳَﻤَﺎﺋِﻚَ ﻭَﺧِﻴﺮَﺗُﻚَ ﻣِﻦْ ﺧَﻠْﻘِﻚَ
ﺃَﻓَﺘَﺄْﻣُﺮُﻧَﺎ ﺃَﻥْ ﻧَﺄْﺗِﻲَ ﻫَﺆُﻟَﺎﺀِ ﻓَﻨُﺴَﻠِّﻢَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ؟!! ﻗَﺎﻝَ: ﺇِﻧَّﻬُﻢْ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻋِﺒَﺎﺩًﺍ ﻳَﻌْﺒُﺪُﻭﻧِﻲ ﻟَﺎ ﻳُﺸْﺮِﻛُﻮﻥَ ﺑِﻲ ﺷَﻴْﺌًﺎ، ﻭَﺗُﺴَﺪُّ ﺑِﻬِﻢْ ﺍﻟﺜُّﻐُﻮﺭُ، ﻭَﻳُﺘَّﻘَﻰ ﺑِﻬِﻢْ ﺍﻟْﻤَﻜَﺎﺭِﻩُ، ﻭَﻳَﻤُﻮﺕُ ﺃَﺣَﺪُﻫُﻢْ ﻭَﺣَﺎﺟَﺘُﻪُ ﻓِﻲ ﺻَﺪْﺭِﻩِ ﻟَﺎ ﻳَﺴْﺘَﻄِﻴﻊُ ﻟَﻬَﺎ ﻗَﻀَﺎﺀً، ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺘَﺄْﺗِﻴﻬِﻢُ ﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔُ ﻋِﻨْﺪَ ﺫَﻟِﻚَ
ﻓَﻴَﺪْﺧُﻠُﻮﻥَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻣِﻦْ ﻛُﻞِّ ﺑَﺎﺏٍ ﺳَﻠَﺎﻡٌ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺑِﻤَﺎ ﺻَﺒَﺮْﺗُﻢْ ﻓَﻨِﻌْﻢَ ﻋُﻘْﺒَﻰ ﺍﻟﺪَّﺍﺭِ» . ( ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ ﻟﻐﻴﺮﻩ
১৫১. আব্দুল্লাহ ইব্ন আমর ইব্ন আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“তোমরা কি জান আল্লাহর মখলুকের মধ্যে কে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে? তারা বলল: আল্লাহ এবং তার রাসূল ভাল
জানেন। তিনি বললেন: আল্লাহর মখলুকের মধ্যে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে অভাবী ও মুহাজির, যাদের দ্বারা সীমান্তের
ঝুঁকিপূর্ণ স্থান পূর্ণ করা হয় ও যাদেরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাদের কেউ মারা যায় কিন্তু তার ইচ্ছা তার অন্তরেই
থাকে পূর্ণ করতে পারে না। আল্লাহ তা‘আলা তার ফেরেশতাদের থেকে যাকে ইচ্ছা বলবেন: তাদের কাছে যাও, তাদেরকে
সালাম কর, অতঃপর ফেরেশতারা বলে: আমরা আপনার আসমানের অধিবাসী, আপনার সর্বোত্তম মখলুক, আপনি আমাদের
নির্দেশ দিচ্ছেন তাদের কাছ যাব এবং তাদেরকে সালাম করব?! তিনি বলেন: তারা এমন বান্দা যারা আমার ইবাদত করত আমার
সাথে কাউকে শরীক করত না। তাদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে রাখা হত, তাদেরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হত, তাদের কেউ
মারা যেত কিন্তু তার প্রয়োজন তার অন্তরেই থাকত সে তা পূর্ণ করতে পারত না। তিনি বলেন: অতঃপর তখন তাদের নিকট
ফেরেশতাগণ আসেন, প্রত্যেক দরজা দিয়ে তাদের নিকট প্রবেশ করেন: তোমাদের ওপর সালাম, কারণ তোমরা ধৈর্যধারণ করেছে,
আখেরাতের প্রতিদান খুবই সুন্দর!”। [আহমদ] হাদিসটি হাসান লি গায়রিহি।
আত্মহত্যা থেকে হুশিয়ারি
-152 ﻋَﻦْ ﺟُﻨْﺪَﺏُ ﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ( ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : «ﻛَﺎﻥَ ﻓِﻴﻤَﻦْ ﻛَﺎﻥَ ﻗَﺒْﻠَﻜُﻢْ ﺭَﺟُﻞٌ ﺑِﻪِ ﺟُﺮْﺡٌ ﻓَﺠَﺰِﻉَ ﻓَﺄَﺧَﺬَ ﺳِﻜِّﻴﻨًﺎ ﻓَﺤَﺰَّ ﺑِﻬَﺎ ﻳَﺪَﻩُ ﻓَﻤَﺎ ﺭَﻗَﺄَ ﺍﻟﺪَّﻡُ ﺣَﺘَّﻰ ﻣَﺎﺕَ، ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ : ﺑَﺎﺩَﺭَﻧِﻲ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﺑِﻨَﻔْﺴِﻪِ ﺣَﺮَّﻣْﺖُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ».
( ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৫২. জুনদুব ইব্ন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের পূর্ববর্তীদের
মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল, যার হাতে ছিল জখম, সে অস্থির হয়ে ছুরি নেয় ও তা দ্বারা হাত কেটে ফেলে, অতঃপর রক্ত বন্ধ হয়নি ফলে
সে মারা যায়”। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: আমার বান্দা তার নিজের ব্যাপারে জলদি করেছে, আমি তার ওপর জান্নাত হারাম
করে দিলাম”। [বুখারি ও মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
অন্যায়ভাবে হত্যাকারীর পাপ
-153 ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻣَﺴْﻌُﻮﺩٍ ( ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﻳَﺠِﻲﺀُ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞُ ﺁﺧِﺬًﺍ ﺑِﻴَﺪِ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞِ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﻫَﺬَﺍ ﻗَﺘَﻠَﻨِﻲ . ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟَﻪُ : ﻟِﻢَ ﻗَﺘَﻠْﺘَﻪُ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻗَﺘَﻠْﺘُﻪُ ﻟِﺘَﻜُﻮﻥَ ﺍﻟْﻌِﺰَّﺓُ ﻟَﻚَ . ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻓَﺈِﻧَّﻬَﺎ ﻟِﻲ، ﻭَﻳَﺠِﻲﺀُ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞُ
ﺁﺧِﺬًﺍ ﺑِﻴَﺪِ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞِ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ : ﺇِﻥَّ ﻫَﺬَﺍ ﻗَﺘَﻠَﻨِﻲ . ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟَﻪُ: ﻟِﻢَ ﻗَﺘَﻠْﺘَﻪُ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻟِﺘَﻜُﻮﻥَ ﺍﻟْﻌِﺰَّﺓُ ﻟِﻔُﻠَﺎﻥٍ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﺇِﻧَّﻬَﺎ ﻟَﻴْﺴَﺖْ ﻟِﻔُﻠَﺎﻥٍ ﻓَﻴَﺒُﻮﺀُ ﺑِﺈِﺛْﻤِﻪِ» . ( ﻥ ) ﺻﺤﻴﺢ ﻟﻤﺎ ﺑﻌﺪﻩ
১৫৩. আব্দুল্লাহ ইব্ন মাসউদ থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির হাত ধরে
উপস্থিত হবে এবং বলবে: হে আমার রব: এ ব্যক্তি আমাকে হত্যা করেছে। আল্লাহ বললেন: কেন তাকে হত্যা করেছ? সে বলবে: আমি
তাকে এ জন্য হত্যা করেছি যেন আপনার সম্মান বুলন্দ হয়। তিনি বলবেন: হ্যাঁ তা আমার জন্য। অপর ব্যক্তি অপর ব্যক্তির হাত ধরে
উপস্থিত হবে এবং বলবে: এ ব্যক্তি আমাকে হত্যা করেছে। আল্লাহ তাকে বলবেন কেন হত্যা করেছ? সে বলবে: যেন অমুকের সম্মান
বুলন্দ হয়। তিনি বলবেন: তার জন্য সম্মান নয়, ফলে সে তার পাপ বহন করবে”। [নাসায়ি] পরবর্তী হাদিসের বিবেচনায় সহিহ।
-154 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻋِﻤْﺮَﺍﻥَ ﺍﻟﺠﻮﻧﻲ ﻗَﺎﻝَ: ﻗُﻠْﺖُ ﻟِﺠُﻨْﺪُﺏٍ : ﺇِﻧِّﻲ ﺑَﺎﻳَﻌْﺖُ ﻫَﺆُﻟَﺎﺀِ -ﻳَﻌْﻨِﻲ ﺍﺑْﻦَ ﺍﻟﺰُّﺑَﻴْﺮِ- ﻭَﺇِﻧَّﻬُﻢْ ﻳُﺮِﻳﺪُﻭﻥَ ﺃَﻥْ ﺃَﺧْﺮُﺝَ ﻣَﻌَﻬُﻢْ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺸَّﺎﻡِ ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺃَﻣْﺴِﻚْ . ﻓَﻘُﻠْﺖُ: ﺇِﻧَّﻬُﻢْ ﻳَﺄْﺑَﻮْﻥَ ﻋَﻠَﻲ، ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺍﻓْﺘَﺪِ ﺑِﻤَﺎﻟِﻚَ. ﻗَﺎﻝَ: ﻗُﻠْﺖُ: ﺇِﻧَّﻬُﻢْ ﻳَﺄْﺑَﻮْﻥَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻥْ
ﺃُﻗَﺎَﺗِﻞْ ﻣَﻌَﻬُﻢْ ﺑِﺎﻟﺴَّﻴْﻒِ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺟُﻨْﺪُﺏٌ: ﺣَﺪَّﺛَﻨِﻲ ﻓُﻠَﺎﻥٌ ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﻳَﺠِﻲﺀُ ﺍﻟْﻤَﻘْﺘُﻮﻝُ ﺑِﻘَﺎﺗِﻠِﻪِ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﺳَﻞْ ﻫَﺬَﺍ ﻓِﻴﻢَ ﻗَﺘَﻠَﻨِﻲ » ﻗَﺎﻝَ ﺷُﻌْﺒَﺔُ: ﻓَﺄَﺣْﺴِﺒُﻪُ ﻗَﺎﻝَ : «ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻋَﻠَﺎﻡَ ﻗَﺘَﻠْﺘَﻪُ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ : ﻗَﺘَﻠْﺘُﻪُ
ﻋَﻠَﻰ ﻣُﻠْﻚِ ﻓُﻠَﺎﻥ» . ﻗَﺎﻝَ : ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺟُﻨْﺪُﺏٌ: ﻓَﺎﺗَّﻘِﻬَﺎ . ( ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৫৪. ইমরান আল-জাওনি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি জুনদুবকে বললাম: আমি তাদের নিকট বায়‘আত হয়েছি, অর্থাৎ
আব্দুল্লাহ ইব্ন জুবায়ের এর হাতে, তারা চায় আমি তাদের সাথে শামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই, তিনি বললেন: বিরত থাক। আমি
বললাম: তারা আমাকে পীড়াপীড়ি করে। তিনি বললেন: তোমার সম্পদ দিয়ে বিরত থাক। তিনি বলেন: আমি বললাম: আমি
তাদের সাথে তলোয়ার দ্বারা যুদ্ধ করব এ ছাড়া কিছুতেই তারা রাজি হয় না। অতঃপর জুনদুব বললেন: অমুকে আমার নিকট বলেছে
যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কিয়ামতের দিন নিহত ব্যক্তি তার হত্যাকারীকে নিয়ে
উপস্থিত হবে, অতঃপর সে বলবে: তাকে জিজ্ঞাসা কর কেন আমাকে হত্যা করেছে”। শু‘বা বলেন: আমার মনে হয় তিনি বলেছেন:
“সে বলবে: কিসের ওপর আমাকে হত্যা করেছে? সে বলবে: অমুকের নেতৃত্বে আমি তাকে হত্যা করেছি”। তিনি বলেন: অতঃপর
জুনদুব বলল: সুতরাং তুমি বিরত থাক। [আহমদ] হাদিসটি সহিহ।
পিপড়া হত্যার নিষেধাজ্ঞা
-155 ﻋَﻦْ ﺃَﺑﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﻗَﺎﻝَ: ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ: « ﻗَﺮَﺻَﺖْ ﻧَﻤْﻠَﺔٌ ﻧَﺒِﻴًّﺎ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﺄَﻧْﺒِﻴَﺎﺀِ ﻓَﺄَﻣَﺮَ ﺑِﻘَﺮْﻳَﺔِ ﺍﻟﻨَّﻤْﻞِ ﻓَﺄُﺣْﺮِﻗَﺖْ ﻓَﺄَﻭْﺣَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ: ﺃَﻥْ ﻗَﺮَﺻَﺘْﻚَ ﻧَﻤْﻠَﺔٌ ﺃَﺣْﺮَﻗْﺖَ ﺃُﻣَّﺔً ﻣِﻦَ ﺍﻷُﻣَﻢِ ﺗُﺴَﺒِّﺢُ ﺍﻟﻠﻪ » . ( ﺥ , ﻡ , ﺩ , ﻥ ,
ﺟﻪ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৫৫. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে
শুনেছি: “একটি পিপড়া কোন এক নবীকে কামড় দেয়, তিনি পিপড়ার গ্রামের নির্দেশ দিলেন ফলে তা জ্বালিয়ে দেয়া হল,
আল্লাহ তাকে ওহি করলেন: একটি পিপড়া তোমাকে কামড় দিয়েছে, আর তুমি একটি জাতি জ্বালিয়ে দিলে যারা আল্লাহর
প্রশংসা করত”! [বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ি ও ইব্ন মাজাহ] হাদিসটি সহিহ।
তাকদির অধ্যায়
-156 ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ - ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﺃَﺧَﺬَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟْﻤِﻴﺜَﺎﻕَ ﻣِﻦْ ﻇَﻬْﺮِ ﺁﺩَﻡَ ﺑِﻨَﻌْﻤَﺎﻥَ - ﻳَﻌْﻨِﻲ ﻋَﺮَﻓَﺔَ- ﻓَﺄَﺧْﺮَﺝَ ﻣِﻦْ ﺻُﻠْﺒِﻪِ ﻛُﻞَّ ﺫُﺭِّﻳَّﺔٍ ﺫَﺭَﺃَﻫَﺎ ﻓَﻨَﺜَﺮَﻫُﻢْ ﺑَﻴْﻦَ ﻳَﺪَﻳْﻪِ ﻛَﺎﻟﺬَّﺭِّ ﺛُﻢَّ ﻛَﻠَّﻤَﻬُﻢْ ﻗِﺒَﻼً ﻗَﺎﻝَ : ﴿ ﻭَﺇِﺫۡ ﺃَﺧَﺬَ
ﺭَﺑُّﻚَ ﻣِﻦۢ ﺑَﻨِﻲٓ ﺀَﺍﺩَﻡَ ﻣِﻦ ﻇُﻬُﻮﺭِﻫِﻢۡ ﺫُﺭِّﻳَّﺘَﻬُﻢۡ ﻭَﺃَﺷۡﻬَﺪَﻫُﻢۡ ﻋَﻠَﻰٰٓ ﺃَﻧﻔُﺴِﻬِﻢۡ ﺃَﻟَﺴۡﺖُ ﺑِﺮَﺑِّﻜُﻢۡۖ ﻗَﺎﻟُﻮﺍْ ﺑَﻠَﻰٰ ﺷَﻬِﺪۡﻧَﺎٓۚ ﺃَﻥ ﺗَﻘُﻮﻟُﻮﺍْ ﻳَﻮۡﻡَ ﭐﻟۡﻘِﻴَٰﻤَﺔِ ﺇِﻧَّﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻋَﻦۡ ﻫَٰﺬَﺍ ﻏَٰﻔِﻠِﻴﻦَ ١٧٢ ﴾ [ﺍﻻﻋﺮﺍﻑ: ١٧١ ] . ( ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৫৬. ইব্ন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা
না‘মান নামক স্থানে (অর্থাৎ আরাফায়) আদমের পিঠে থাকাবস্থায় অঙ্গিকার গ্রহণ করেছেন, তিনি তার পিঠ থেকে প্রত্যেক
সন্তান বের করেন যা সে জন্ম দিবে, অতঃপর তাদেরকে সামনে অণুর ন্যায় রাখেন, অতঃপর তাদের মুখোমুখি হয়ে কথা বলেন:
তিনি বলেন:
﴿ ﻭَﺇِﺫۡ ﺃَﺧَﺬَ ﺭَﺑُّﻚَ ﻣِﻦۢ ﺑَﻨِﻲٓ ﺀَﺍﺩَﻡَ ﻣِﻦ ﻇُﻬُﻮﺭِﻫِﻢۡ ﺫُﺭِّﻳَّﺘَﻬُﻢۡ ﻭَﺃَﺷۡﻬَﺪَﻫُﻢۡ ﻋَﻠَﻰٰٓ ﺃَﻧﻔُﺴِﻬِﻢۡ ﺃَﻟَﺴۡﺖُ ﺑِﺮَﺑِّﻜُﻢۡۖ ﻗَﺎﻟُﻮﺍْ ﺑَﻠَﻰٰ ﺷَﻬِﺪۡﻧَﺎٓۚ ﺃَﻥ ﺗَﻘُﻮﻟُﻮﺍْ ﻳَﻮۡﻡَ ﭐﻟۡﻘِﻴَٰﻤَﺔِ ﺇِﻧَّﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻋَﻦۡ ﻫَٰﺬَﺍ ﻏَٰﻔِﻠِﻴﻦَ ١٧٢ ﴾ [ﺍﻻﻋﺮﺍﻑ: ١٧١ ]
“আর স্মরণ কর, যখন তোমার রব বনী-আদমের পৃষ্ঠদেশ হতে তাদের বংশধরকে বের করলেন এবং তাদেরকে তাদের নিজদের উপর
সাক্ষী করলেন যে, ‘আমি কি তোমাদের রব নই’? তারা বলল, ‘হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিলাম।’ যাতে কিয়ামতের দিন তোমরা বলতে
না পার যে, নিশ্চয় আমরা এ বিষয়ে অনবহিত ছিলাম”। [47] [আহমদ] হাদিসটি সহিহ।
-157 ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺑْﻦِ ﻗَﺘَﺎﺩَﺓَ ﺍﻟﺴُّﻠَﻤِﻲِّ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ- ﺃَﻧَّﻪُ ﻗَﺎﻝَ : ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ : « ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ - ﺧَﻠَﻖَ ﺁﺩَﻡَ ﺛُﻢَّ ﺃَﺧَﺬَ ﺍﻟْﺨَﻠْﻖَ ﻣِﻦْ ﻇَﻬْﺮِﻩِ ﻭَﻗَﺎﻝَ : ﻫَﺆُﻟَﺎﺀِ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﻭَﻟَﺎ ﺃُﺑَﺎﻟِﻲ، ﻭَﻫَﺆُﻟَﺎﺀِ ﻓِﻲ
ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻭَﻟَﺎ ﺃُﺑَﺎﻟِﻲ » . ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻗَﺎﺋِﻞٌ : ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻓَﻌَﻠَﻰ ﻣَﺎﺫَﺍ ﻧَﻌْﻤَﻞُ؟ ﻗَﺎﻝَ : « ﻋَﻠَﻰ ﻣَﻮَﺍﻗِﻊِ ﺍﻟْﻘَﺪَﺭِ » . (ﺣﻢ ) ﺣﺴﻦ
১৫৭. আব্দুর রহমান ইব্ন কাতাদা আসসুলামি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “নিশ্চয় আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেন, অতঃপর তার পিঠ থেকে মখলুক বের করেন ও বলেন: এরা
জান্নাতি আমি কোন পরোয়া করি না, এরা জাহান্নামী আমি কোন পরোয়া করি না। তিনি বলেন এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর
রাসূল তাহলে কিসের ওপর আমল করব”? তিনি বললেন: “তাকদিরে নির্ধারিত স্থানে” [48] । [আহমদ] হাদিসটি হাসান।
-158 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻧَﻀْﺮَﺓَ ﺃَﻥَّ ﺭَﺟُﻼً ﻣِﻦْ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳُﻘَﺎﻝُ ﻟَﻪُ: ﺃَﺑُﻮ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺩَﺧَﻞَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺃَﺻْﺤَﺎﺑُﻪُ ﻳَﻌُﻮﺩُﻭﻧَﻪُ ﻭَﻫُﻮَ ﻳَﺒْﻜِﻲ ﻓَﻘَﺎﻟُﻮﺍ ﻟَﻪُ: ﻣَﺎ ﻳُﺒْﻜِﻴﻚَ ﺃَﻟَﻢْ ﻳَﻘُﻞْ ﻟَﻚَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﺧُﺬْ ﻣِﻦْ ﺷَﺎﺭِﺑِﻚَ ﺛُﻢَّ
ﺃَﻗِﺮَّﻩُ ﺣَﺘَّﻰ ﺗَﻠْﻘَﺎﻧِﻲ » , ﻗَﺎﻝَ: ﺑَﻠَﻰ ﻭَﻟَﻜِﻨِّﻲ ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ: « ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ- ﻗَﺒَﺾَ ﺑِﻴَﻤِﻴﻨِﻪِ ﻗَﺒْﻀَﺔً ﻭَﺃُﺧْﺮَﻯ ﺑِﺎﻟْﻴَﺪِ ﺍﻟْﺄُﺧْﺮَﻯ ﻭَﻗَﺎﻝَ : ﻫَﺬِﻩِ ﻟِﻬَﺬِﻩِ , ﻭَﻫَﺬِﻩِ ﻟِﻬَﺬِﻩِ، ﻭَﻟَﺎ ﺃُﺑَﺎﻟِﻲ» . ﻓَﻠَﺎ ﺃَﺩْﺭِﻱ ﻓِﻲ ﺃَﻱِّ ﺍﻟْﻘَﺒْﻀَﺘَﻴْﻦِ
ﺃَﻧَﺎ . ( ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৫৮. আবু নাদরাহ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক সাহাবি যাকে আবু আব্দুল্লাহ বলা হয়,
তাকে দেখার জন্য তার সাথীবৃন্দ আসেন, তিনি কাঁদতে ছিলেন, তারা বলল: আপনি কি জন্য কাঁদছেন, আপনাকে কি রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেননি: “তুমি তোমার মোচ ছাট, অতঃপর তার ওপর স্থির থাক, যতক্ষণ না আমার সাথে
সাক্ষাত কর”। তিনি বলেন: অবশ্যই, কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “আল্লাহ
তা‘আলা তার ডান হাতে এক মুষ্টি ও অপর হাতে অপর মুষ্টি গ্রহণ করেন, অতঃপর বলেন: এরা হচ্ছে এর জন্য এবং এরা হচ্ছে এর জন্য,
আমি কোন পরোয়া করি না”। আমি জানি না আমি কোন মুষ্টির অন্তর্ভুক্ত। [আহমদ] হাদিসটি সহিহ।
-159 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺍﻟﺪَّﺭْﺩَﺍﺀِ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ - ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺁﺩَﻡَ ﺣِﻴﻦَ ﺧَﻠَﻘَﻪُ، ﻓَﻀَﺮَﺏَ ﻛَﺘِﻔَﻪُ ﺍﻟْﻴُﻤْﻨَﻰ، ﻓَﺄَﺧْﺮَﺝَ ﺫُﺭِّﻳَّﺔً ﺑَﻴْﻀَﺎﺀَ ﻛَﺄَﻧَّﻬُﻢْ ﺍﻟﺬَّﺭُّ، ﻭَﺿَﺮَﺏَ ﻛَﺘِﻔَﻪُ ﺍﻟْﻴُﺴْﺮَﻯ، ﻓَﺄَﺧْﺮَﺝَ ﺫُﺭِّﻳَّﺔً ﺳَﻮْﺩَﺍﺀَ. ﻛَﺄَﻧَّﻬُﻢْ ﺍﻟْﺤُﻤَﻢُ،
ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟِﻠَّﺬِﻱ ﻓِﻲ ﻳَﻤِﻴﻨِﻪِ: ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﻭَﻟَﺎ ﺃُﺑَﺎﻟِﻲ، ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻟِﻠَّﺬِﻱ ﻓِﻲ ﻛَﻔِّﻪِ ﺍﻟْﻴُﺴْﺮَﻯ : ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻭَﻟَﺎ ﺃُﺑَﺎﻟِﻲ » . ( ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৫৯. আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা আদমকে
সৃষ্টি করেন যখন সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তার ডান কাঁধে হাত মারেন ও ধবধবে সাদা এক প্রজন্ম বের করেন যেন তারা পতঙ্গ,
অতঃপর বাম কাঁধে হাত মারেন ও কালো এক প্রজন্ম বের করেন যেন তারা জ্বলন্ত ছাই। অতঃপর ডান হাতের তালুর দিকে লক্ষ্য
করে বলেন: এগুলো জান্নাতের জন্য আমি কোন পরোয়া করি না, বাম হাতের তালুর দিকে লক্ষ্য করে বলেন: এগুলো জাহান্নামের
জন্য আমি কোন পরোয়া করি না”। [আহমদ] হাদিসটি সহিহ।
মান্নত অধ্যায়
-160 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ- ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: «ﻟَﺎ ﻳَﺄْﺕِ ﺍﺑْﻦَ ﺁﺩَﻡَ ﺍﻟﻨَّﺬْﺭُ ﺑِﺸَﻲْﺀٍ ﻟَﻢْ ﻳَﻜُﻦْ ﻗَﺪْ ﻗَﺪَّﺭْﺗُﻪُ , ﻭَﻟَﻜِﻦْ ﻳُﻠْﻘِﻴﻪِ ﺍﻟْﻘَﺪَﺭُ ﻭَﻗَﺪْ ﻗَﺪَّﺭْﺗُﻪُ ﻟَﻪُ ﺃَﺳْﺘَﺨْﺮِﺝُ ﺑِﻪِ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﺒَﺨِﻴﻞِ » . ( ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৬০. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “বনি আদমের নিকট
মান্নত কোন জিনিস নিয়ে আসে না যা আমি তার জন্য নির্ধারণ করি নি, কিন্তু তাকদির তাকে পেয়ে বসে [49] , আমি তার জন্য
নির্ধারণ করে রেখেছি এর দ্বারা কৃপণ থেকে সম্পদ বের করব”। [বুখারি ও মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
কিয়ামতের বড় আলামত
-161 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺫَﺭٍّ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ- ﻗَﺎﻝَ: ﻛُﻨْﺖُ ﻣَﻊَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻋَﻠَﻰ ﺣِﻤَﺎﺭٍ ﻭَﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺑَﺮْﺫَﻋَﺔٌ ﺃَﻭْ ﻗَﻄِﻴﻔَﺔٌ ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺬَﺍﻙَ ﻋِﻨْﺪَ ﻏُﺮُﻭﺏِ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲِ , ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟِﻲ: «ﻳَﺎ ﺃَﺑَﺎ ﺫَﺭٍّ ﻫَﻞْ ﺗَﺪْﺭِﻱ ﺃَﻳْﻦَ ﺗَﻐِﻴﺐُ ﻫَﺬِﻩِ؟» ﻗَﺎﻝَ: ﻗُﻠْﺖُ: ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟُﻪُ
ﺃَﻋْﻠَﻢُ. ﻗَﺎﻝَ: « ﻓَﺈِﻧَّﻬَﺎ ﺗَﻐْﺮُﺏُ ﻓِﻲ ﻋَﻴْﻦٍ ﺣَﺎﻣِﺌَﺔٍ ﺗَﻨْﻄَﻠِﻖُ ﺣَﺘَّﻰ ﺗَﺨِﺮَّ ﻟِﺮَﺑِّﻬَﺎ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ- ﺳَﺎﺟِﺪَﺓً ﺗَﺤْﺖَ ﺍﻟْﻌَﺮْﺵِ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺣَﺎﻥَ ﺧُﺮُﻭﺟُﻬَﺎ ﺃَﺫِﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟَﻬَﺎ ﻓَﺘَﺨْﺮُﺝُ ﻓَﺘَﻄْﻠُﻊُ، ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺃَﺭَﺍﺩَ ﺃَﻥْ ﻳُﻄْﻠِﻌَﻬَﺎ ﻣِﻦْ ﺣَﻴْﺚُ ﺗَﻐْﺮُﺏُ ﺣَﺒَﺴَﻬَﺎ ﻓَﺘَﻘُﻮﻝُ : ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﺇِﻥَّ ﻣَﺴِﻴﺮِﻱ ﺑَﻌِﻴﺪٌ،
ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﻟَﻬَﺎ: ﺍﻃْﻠُﻌِﻲ ﻣِﻦْ ﺣَﻴْﺚُ ﻏِﺒْﺖِ ﻓَﺬَﻟِﻚَ ﺣِﻴﻦَ ﻟَﺎ ﻳَﻨْﻔَﻊُ ﻧَﻔْﺴًﺎ ﺇِﻳﻤَﺎﻧُﻬَﺎ » . ( ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৬১. আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি একটি গাধার ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
সাথে ছিলাম। তখন তার উপর একটি পাড়যুক্ত চাদর ছিল। তিনি বলেন: এটা ছিল সূর্যাস্তের সময়, তিনি আমাকে বলেন: “হে আবু যর
তুমি জান এটা কোথায় অস্ত যায়?” তিনি বলেন: আমি বললাম: আল্লাহ এবং তার রাসূল ভাল জানেন। তিনি বলেন: সূর্যাস্ত যায়
একটি কর্দমাক্ত ঝর্ণায় [50] , সে চলতে থাকে অবশেষে আরশের নিচে তার রবের জন্য সেজদায় লুটিয়ে পড়ে, যখন বের হওয়ার সময়
আল্লাহ তাকে অনুমতি দেন, ফলে সে বের হয় ও উদিত হয়। তিনি যখন তাকে যেখানে অস্ত গিয়েছে সেখান থেকে উদিত করার
ইচ্ছা করবেন আটকে দিবেন, সে বলবে: হে আমার রব আমার পথ তো দীর্ঘ, আল্লাহ বলবেন: যেখান থেকে ডুবেছে সেখান থেকেই
উদিত হও, এটাই সে সময় যখন ব্যক্তিকে তার ঈমান উপকার করবে না” [51] । [আহমদ] হাদিসটি সহিহ।
দজ্জালের ফিতনা
-162 ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﻮَّﺍﺱِ ﺑْﻦِ ﺳَﻤْﻌَﺎﻥَ ( ﻗَﺎﻝَ: ﺫَﻛَﺮَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻟﺪَّﺟَّﺎﻝَ ﺫَﺍﺕَ ﻏَﺪَﺍﺓٍ ﻓَﺨَﻔَّﺾَ ﻓِﻴﻪِ ﻭَﺭَﻓَّﻊَ ﺣَﺘَّﻰ ﻇَﻨَﻨَّﺎﻩُ ﻓِﻲ ﻃَﺎﺋِﻔَﺔِ ﺍﻟﻨَّﺨْﻞِ ﻓَﻘَﺎﻝَ: « ﻏَﻴْﺮُ ﺍﻟﺪَّﺟَّﺎﻝِ ﺃَﺧْﻮَﻓُﻨِﻲ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ، ﺇِﻥْ ﻳَﺨْﺮُﺝْ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻓِﻴﻜُﻢْ ﻓَﺄَﻧَﺎ ﺣَﺠِﻴﺠُﻪُ ﺩُﻭﻧَﻜُﻢْ، ﻭَﺇِﻥْ
ﻳَﺨْﺮُﺝْ ﻭَﻟَﺴْﺖُ ﻓِﻴﻜُﻢْ ﻓَﺎﻣْﺮُﺅٌ ﺣَﺠِﻴﺞُ ﻧَﻔْﺴِﻪِ , ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻠِﻴﻔَﺘِﻲ ﻋَﻠَﻰ ﻛُﻞِّ ﻣُﺴْﻠِﻢٍ , ﺇِﻧَّﻪُ ﺷَﺎﺏٌّ ﻗَﻄَﻂٌ ﻋَﻴْﻨُﻪُ ﻃَﺎﻓِﺌَﺔٌ ﻛَﺄَﻧِّﻲ ﺃُﺷَﺒِّﻬُﻪُ ﺑِﻌَﺒْﺪِ ﺍﻟْﻌُﺰَّﻯ ﺑْﻦِ ﻗَﻄَﻦٍ ﻓَﻤَﻦْ ﺃَﺩْﺭَﻛَﻪُ ﻣِﻨْﻜُﻢْ ﻓَﻠْﻴَﻘْﺮَﺃْ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻓَﻮَﺍﺗِﺢَ ﺳُﻮﺭَﺓِ ﺍﻟْﻜَﻬْﻒِ، ﺇِﻧَّﻪُ ﺧَﺎﺭِﺝٌ ﺧَﻠَّﺔً ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟﺸَّﺎْﻡِ ﻭَﺍﻟْﻌِﺮَﺍﻕِ، ﻓَﻌَﺎﺙَ
ﻳَﻤِﻴﻨًﺎ ﻭَﻋَﺎﺙَ ﺷِﻤَﺎﻻً ﻳَﺎ ﻋِﺒَﺎﺩَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻓَﺎﺛْﺒُﺘُﻮﺍ »، ﻗُﻠْﻨَﺎ: ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻣَﺎ ﻟَﺒْﺜُﻪُ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ؟ ﻗَﺎﻝَ : «ﺃَﺭْﺑَﻌُﻮﻥَ ﻳَﻮْﻣًﺎ ﻳَﻮْﻡٌ ﻛَﺴَﻨَﺔٍ ﻭَﻳَﻮْﻡٌ ﻛَﺸَﻬْﺮٍ ﻭَﻳَﻮْﻡٌ ﻛَﺠُﻤُﻌَﺔٍ ﻭَﺳَﺎﺋِﺮُ ﺃَﻳَّﺎﻣِﻪِ ﻛَﺄَﻳَّﺎﻣِﻜُﻢْ» . ﻗُﻠْﻨَﺎ: ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻓَﺬَﻟِﻚَ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻛَﺴَﻨَﺔٍ ﺃَﺗَﻜْﻔِﻴﻨَﺎ ﻓِﻴﻪِ ﺻَﻠَﺎﺓُ
ﻳَﻮْﻡٍ؟ ﻗَﺎﻝَ: « ﻟَﺎ، ﺍﻗْﺪُﺭُﻭﺍ ﻟَﻪُ ﻗَﺪْﺭَﻩُ» ، ﻗُﻠْﻨَﺎ : ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻣَﺎ ﺇِﺳْﺮَﺍﻋُﻪُ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ؟ ﻗَﺎﻝَ: «ﻛَﺎﻟْﻐَﻴْﺚِ ﺍﺳْﺘَﺪْﺑَﺮَﺗْﻪُ ﺍﻟﺮِّﻳﺢُ، ﻓَﻴَﺄْﺗِﻲ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻘَﻮْﻡِ ﻓَﻴَﺪْﻋُﻮﻫُﻢْ ﻓَﻴُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ ﺑِﻪِ ﻭَﻳَﺴْﺘَﺠِﻴﺒُﻮﻥَ ﻟَﻪُ، ﻓَﻴَﺄْﻣُﺮُ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀَ ﻓَﺘُﻤْﻄِﺮُ ﻭَﺍﻟْﺄَﺭْﺽَ ﻓَﺘُﻨْﺒِﺖُ ﻓَﺘَﺮُﻭﺡُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ
ﺳَﺎﺭِﺣَﺘُﻬُﻢْ ﺃَﻃْﻮَﻝَ ﻣَﺎ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﺫُﺭًﺍ، ﻭَﺃَﺳْﺒَﻐَﻪُ ﺿُﺮُﻭﻋًﺎ، ﻭَﺃَﻣَﺪَّﻩُ ﺧَﻮَﺍﺻِﺮَ، ﺛُﻢَّ ﻳَﺄْﺗِﻲ ﺍﻟْﻘَﻮْﻡَ ﻓَﻴَﺪْﻋُﻮﻫُﻢْ ﻓَﻴَﺮُﺩُّﻭﻥَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻗَﻮْﻟَﻪُ ﻓَﻴَﻨْﺼَﺮِﻑُ ﻋَﻨْﻬُﻢْ ﻓَﻴُﺼْﺒِﺤُﻮﻥَ ﻣُﻤْﺤِﻠِﻴﻦَ ﻟَﻴْﺲَ ﺑِﺄَﻳْﺪِﻳﻬِﻢْ ﺷَﻲْﺀٌ ﻣِﻦْ ﺃَﻣْﻮَﺍﻟِﻬِﻢْ, ﻭَﻳَﻤُﺮُّ ﺑِﺎﻟْﺨَﺮِﺑَﺔِ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﻟَﻬَﺎ: ﺃَﺧْﺮِﺟِﻲ ﻛُﻨُﻮﺯَﻙِ ﻓَﺘَﺘْﺒَﻌُﻪُ
ﻛُﻨُﻮﺯُﻫَﺎ ﻛَﻴَﻌَﺎﺳِﻴﺐِ ﺍﻟﻨَّﺤْﻞِ ﺛُﻢَّ ﻳَﺪْﻋُﻮ ﺭَﺟُﻼً ﻣُﻤْﺘَﻠِﺌًﺎ ﺷَﺒَﺎﺑًﺎ ﻓَﻴَﻀْﺮِﺑُﻪُ ﺑِﺎﻟﺴَّﻴْﻒِ ﻓَﻴَﻘْﻄَﻌُﻪُ ﺟَﺰْﻟَﺘَﻴْﻦِ ﺭَﻣْﻴَﺔَ ﺍﻟْﻐَﺮَﺽِ ﺛُﻢَّ ﻳَﺪْﻋُﻮﻩُ ﻓَﻴُﻘْﺒِﻞُ ﻭَﻳَﺘَﻬَﻠَّﻞُ ﻭَﺟْﻬُﻪُ ﻳَﻀْﺤَﻚُ، ﻓَﺒَﻴْﻨَﻤَﺎ ﻫُﻮَ ﻛَﺬَﻟِﻚَ ﺇِﺫْ ﺑَﻌَﺚَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟْﻤَﺴِﻴﺢَ ﺍﺑْﻦَ ﻣَﺮْﻳَﻢَ ﻓَﻴَﻨْﺰِﻝُ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟْﻤَﻨَﺎﺭَﺓِ ﺍﻟْﺒَﻴْﻀَﺎﺀِ ﺷَﺮْﻗِﻲَّ
ﺩِﻣَﺸْﻖَ ﺑَﻴْﻦَ ﻣَﻬْﺮُﻭﺩَﺗَﻴْﻦِ ﻭَﺍﺿِﻌًﺎ ﻛَﻔَّﻴْﻪِ ﻋَﻠَﻰ ﺃﺟْﻨِﺤَﺔِ ﻣَﻠَﻜَﻴﻦِ، ﺇِﺫَ ﻃَﺄْﻃﺄَ ﺭَﺃْﺳَﻪُ ﻗَﻄَﺮَ، ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺭَﻓَﻌَﻪُ ﺗَﺤَﺪَّﺭَ ﻣِﻨْﻪُ ﺟُﻤَﺎﻥٌ ﻛَﺎﻟﻠُّﺆْﻟُﺆِ ﻓَﻠَﺎ ﻳَﺤِﻞُّ ﻟِﻜَﺎﻓِﺮٍ ﻳَﺠِﺪُ ﺭِﻳﺢَ ﻧَﻔَﺴِﻪِ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﺎﺕَ ﻭَﻧَﻔَﺴُﻪُ ﻳَﻨْﺘَﻬِﻲ ﺣَﻴْﺚُ ﻳَﻨْﺘَﻬِﻲ ﻃَﺮْﻓُﻪُ، ﻓَﻴَﻄْﻠُﺒُﻪُ ﺣَﺘَّﻰ ﻳُﺪْﺭِﻛَﻪُ ﺑِﺒَﺎﺏِ ﻟُﺪٍّ ﻓَﻴَﻘْﺘُﻠُﻪُ، ﺛُﻢَّ
ﻳَﺄْﺗِﻲ ﻋِﻴﺴَﻰ ﺍﺑْﻦَ ﻣَﺮْﻳَﻢَ ﻗَﻮْﻡٌ ﻗَﺪْ ﻋَﺼَﻤَﻬُﻢْ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣِﻨْﻪُ ﻓَﻴَﻤْﺴَﺢُ ﻋَﻦْ ﻭُﺟُﻮﻫِﻬِﻢْ ﻭَﻳُﺤَﺪِّﺛُﻬُﻢْ ﺑِﺪَﺭَﺟَﺎﺗِﻬِﻢْ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ، ﻓَﺒَﻴْﻨَﻤَﺎ ﻫُﻮَ ﻛَﺬَﻟِﻚَ ﺇِﺫْ ﺃَﻭْﺣَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺇِﻟَﻰ ﻋِﻴﺴَﻰ ﺇِﻧِّﻲ ﻗَﺪْ ﺃَﺧْﺮَﺟْﺖُ ﻋِﺒَﺎﺩًﺍ ﻟِﻲ ﻟَﺎ ﻳَﺪَﺍﻥِ ﻟِﺄَﺣَﺪٍ ﺑِﻘِﺘَﺎﻟِﻬِﻢْ ﻓَﺤَﺮِّﺯْ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻄُّﻮﺭِ، ﻭَﻳَﺒْﻌَﺚُ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻳَﺄْﺟُﻮﺝَ ﻭَﻣَﺄْﺟُﻮﺝَ ﻭَﻫُﻢْ ﻣِﻦْ ﻛُﻞِّ ﺣَﺪَﺏٍ ﻳَﻨْﺴِﻠُﻮﻥَ ﻓَﻴَﻤُﺮُّ ﺃَﻭَﺍﺋِﻠُﻬُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﺑُﺤَﻴْﺮَﺓِ ﻃَﺒَﺮِﻳَّﺔَ ﻓَﻴَﺸْﺮَﺑُﻮﻥَ ﻣَﺎ ﻓِﻴﻬَﺎ، ﻭَﻳَﻤُﺮُّ ﺁﺧِﺮُﻫُﻢْ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﻟَﻘَﺪْ ﻛَﺎﻥَ ﺑِﻬَﺬِﻩِ ﻣَﺮَّﺓً ﻣَﺎﺀٌ، ﻭَﻳُﺤْﺼَﺮُ ﻧَﺒِﻲُّ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻭَﺃَﺻْﺤَﺎﺑُﻪُ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﻜُﻮﻥَ ﺭَﺃْﺱُ ﺍﻟﺜَّﻮْﺭِ ﻟِﺄَﺣَﺪِﻫِﻢْ ﺧَﻴْﺮًﺍ ﻣِﻦْ ﻣِﺎﺋَﺔِ
ﺩِﻳﻨَﺎﺭٍ ﻟِﺄَﺣَﺪِﻛُﻢْ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ، ﻓَﻴَﺮْﻏَﺐُ ﻧَﺒِﻲُّ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻭَﺃَﺻْﺤَﺎﺑُﻪُ ﻓَﻴُﺮْﺳِﻞُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺍﻟﻨَّﻐَﻒَ ﻓِﻲ ﺭِﻗَﺎﺑِﻬِﻢْ ﻓَﻴُﺼْﺒِﺤُﻮﻥَ ﻓَﺮْﺳَﻰ ﻛَﻤَﻮْﺕِ ﻧَﻔْﺲٍ ﻭَﺍﺣِﺪَﺓٍ ﺛُﻢَّ ﻳَﻬْﺒِﻂُ ﻧَﺒِﻲُّ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻭَﺃَﺻْﺤَﺎﺑُﻪُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﻓَﻠَﺎ ﻳَﺠِﺪُﻭﻥَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﻣَﻮْﺿِﻊَ ﺷِﺒْﺮٍ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﻠَﺄَﻩُ
ﺯَﻫَﻤُﻬُﻢْ ﻭَﻧَﺘْﻨُﻬُﻢْ , ﻓَﻴَﺮْﻏَﺐُ ﻧَﺒِﻲُّ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻭَﺃَﺻْﺤَﺎﺑُﻪُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻓَﻴُﺮْﺳِﻞُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻃَﻴْﺮًﺍ ﻛَﺄَﻋْﻨَﺎﻕِ ﺍﻟْﺒُﺨْﺖِ ﻓَﺘَﺤْﻤِﻠُﻬُﻢْ ﻓَﺘَﻄْﺮَﺣُﻬُﻢْ ﺣَﻴْﺚُ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ، ﺛُﻢَّ ﻳُﺮْﺳِﻞُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣَﻄَﺮًﺍ ﻟَﺎ ﻳَﻜُﻦُّ ﻣِﻨْﻪُ ﺑَﻴْﺖُ ﻣَﺪَﺭٍ ﻭَﻟَﺎ ﻭَﺑَﺮٍ ﻓَﻴَﻐْﺴِﻞُ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽَ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺘْﺮُﻛَﻬَﺎ ﻛَﺎﻟﺰَّﻟَﻔَﺔِ، ﺛُﻢَّ ﻳُﻘَﺎﻝُ
ﻟِﻠْﺄَﺭْﺽِ: ﺃَﻧْﺒِﺘِﻲ ﺛَﻤَﺮَﺗَﻚِ ﻭَﺭُﺩِّﻱ ﺑَﺮَﻛَﺘَﻚِ ﻓَﻴَﻮْﻣَﺌِﺬٍ ﺗَﺄْﻛُﻞُ ﺍﻟْﻌِﺼَﺎﺑَﺔُ ﻣِﻦْ ﺍﻟﺮُّﻣَّﺎﻧَﺔِ، ﻭَﻳَﺴْﺘَﻈِﻠُّﻮﻥَ ﺑِﻘِﺤْﻔِﻬَﺎ ﻭَﻳُﺒَﺎﺭَﻙُ ﻓِﻲ ﺍﻟﺮِّﺳْﻞِ ﺣَﺘَّﻰ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠِّﻘْﺤَﺔَ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﺈِﺑِﻞِ ﻟَﺘَﻜْﻔِﻲ ﺍﻟْﻔِﺌَﺎﻡَ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ، ﻭَﺍﻟﻠِّﻘْﺤَﺔَ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﺒَﻘَﺮِ ﻟَﺘَﻜْﻔِﻲ ﺍﻟْﻘَﺒِﻴﻠَﺔَ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ، ﻭَﺍﻟﻠِّﻘْﺤَﺔَ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻐَﻨَﻢِ
ﻟَﺘَﻜْﻔِﻲ ﺍﻟْﻔَﺨِﺬَ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ، ﻓَﺒَﻴْﻨَﻤَﺎ ﻫُﻢْ ﻛَﺬَﻟِﻚَ ﺇِﺫْ ﺑَﻌَﺚَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺭِﻳﺤًﺎ ﻃَﻴِّﺒَﺔً ﻓَﺘَﺄْﺧُﺬُﻫُﻢْ ﺗَﺤْﺖَ ﺁﺑَﺎﻃِﻬِﻢْ ﻓَﺘَﻘْﺒِﺾُ ﺭُﻭﺡَ ﻛُﻞِّ ﻣُﺆْﻣِﻦٍ ﻭَﻛُﻞِّ ﻣُﺴْﻠِﻢٍ، ﻭَﻳَﺒْﻘَﻰ ﺷِﺮَﺍﺭُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻳَﺘَﻬَﺎﺭَﺟُﻮﻥَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺗَﻬَﺎﺭُﺝَ ﺍﻟْﺤُﻤُﺮِ ﻓَﻌَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺗَﻘُﻮﻡُ ﺍﻟﺴَّﺎﻋَﺔُ » . ( ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৬২. নাওয়াস ইব্ন সাম‘আন বলেন, কোন এক সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জালের উল্লেখ করলেন,
তাতে তিনি আওয়াজ নিচু ও উঁচু করছিলেন, এমনকি আমরা তাকে (দাজ্জালকে) প্রতিবেশীর খেজুর বাগানে ধারণা করেছিলাম।
অতঃপর তিনি বললেন: “আমি তোমাদের ওপর দাজ্জাল ব্যতীত অন্য কিছুর আশঙ্কা করছি, যদি সে বের হয় আর আমি তোমাদের
মাঝে থাকি, তাহলে আমিই তাকে মোকাবিলা করব তোমাদের পরিবর্তে। যদি সে বের হয় আর আমি তোমাদের মাঝে না
থাকি, তাহলে প্রত্যেকে তার নিজের জিম্মাদার, আর আমার অবর্তমানে আল্লাহ প্রত্যেক মুসলিমের জিম্মাদার। দাজ্জাল
কোঁকড়ানো চুল বিশিষ্ট যুবক, তার চোখ ওপরে উঠানো, আমি তার উদাহরণ পেশ করছি আব্দুল উজ্জা ইব্ন কুতনকে। তোমাদের থেকে
যে তাকে পাবে সে যেন তার ওপর সূরা কাহাফের প্রথম আয়াতগুলো পড়ে, নিশ্চয় সে বের হবে শাম ও ইরাকের মধ্যবর্তী স্থান
থেকে, সে ডানে ও বামে ধ্বংসযজ্ঞ চালাবে, হে আল্লাহর বান্দাগণ তোমরা দৃঢ় থাক”। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল,
যমীনে তার অবস্থান কি পরিমাণ হবে? তিনি বললেন: “চল্লিশ দিন, একদিন এক বছর সমান, অতঃপর একদিন এক মাসের সমান,
অতঃপর একদিন এক জুমার সমান, অতঃপর তার অন্যান্য দিনগুলো তোমাদের দিনের ন্যায়”। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, যে
দিনটি এক বছরের ন্যায় সেখানে কি একদিনের সালাত যথেষ্ট? তিনি বললেন: “না, তোমরা তার পরিমাণ করবে”। আমরা বললাম:
হে আল্লাহর রাসূল যমীনে তার গতি কিরূপ হবে? তিনি বললেন: “মেঘের মত, যাকে বাতাস হাঁকিয়ে নিয়ে যায়, সে এক কওমের
নিকট আসবে তাদেরকে আহ্বান করবে, ফলে তারা তার ওপর ঈমান আনবে ও তার ডাকে সাড়া দিবে, অতঃপর সে আসমানকে
নির্দেশ করবে আসমান বৃষ্টিপাত করবে, যমীনকে নির্দেশ করবে যমীন শস্য জন্মাবে, এবং তাদের জন্তুগুলো সন্ধ্যায় বাড়ি
ফিরবে উঁচু চুটি, দুধে পরিপূর্ণ ও দীর্ঘ দেহ নিয়ে। অতঃপর এক কওমের নিকট আসবে তাদেরকে দাওয়াত দিবে, কিন্তু তারা তার
দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করবে, সে তাদের থেকে চলে যাবে ফলে তারা দুর্ভিক্ষে পতিত হবে তাদের হাতে তাদের সম্পদের কিছুই
থাকবে না। সে ধ্বংস স্তূপের পাশ দিয়ে যাবে অতঃপর তাকে বলবে: তোমার সম্পদ তুমি বের কর, ফলে তার সম্পদ তার অনুগামী
হবে মক্ষী রাণীর ন্যায়, অতঃপর সে পূর্ণ এক যুবককে ডাকবে ও তলোয়ারের আঘাতে দু’টুকরো করে ঢিলার দূরত্ব পরিমাণ দুই ধারে
নিক্ষেপ করবে, অতঃপর তাকে ডাকবে সে এগিয়ে আসবে ও হাসিতে তার চেহারা উজ্জ্বল থাকবে। দাজ্জাল এরূপ করতে থাকবে,
এমতাবস্থায় আল্লাহ মাসিহ ইব্ন মারইয়ামকে প্রেরণ করবেন, তিনি দামেস্কের পূর্ব দিকে সাদা মিনারের কাছে অবতরণ
করবেন দু’টি কাপড় পরিহিত অবস্থায় ফেরেশতাদের ডানার ওপর তার দু’হাত রেখে। যখন তিনি মাথা নিচু করবেন (বৃষ্টির ন্যায়)
পানি টপকাবে, যখন তিনি মাথা উঁচু করবেন মুক্তোর ন্যায় শ্বেত পাথর পড়বে, (অর্থাৎ পরিষ্কার পানি)। কোন কাফের এর পক্ষে
সম্ভব হবে না তার শ্বাসের গন্ধ পাবে আর বেচে থাকবে, তার শ্বাস সেখানে যাবে যেখানে তার দৃষ্টি পৌঁছবে। তিনি তাকে
সন্ধান করবেন অবশেষে ‘লুদ্দ’ নামক দরজার নিকট তাকে পাবেন, অতঃপর তাকে হত্যা করবেন। অতঃপর ঈসা আলাইহিস সালাম
এক কওমের নিকট আসবেন, যাদেরকে আল্লাহ দাজ্জাল থেকে নিরাপদ রেখেছেন, তিনি তাদের চেহারায় হাত ভুলিয়ে দিবেন
এবং জান্নাতে তাদের মর্তবা সম্পর্কে তাদেরকে বলবেন। এমতাবস্থায় আল্লাহ তার নিকট ওহি করবেন, আমি আমার এমন
বান্দাদের বের করেছি যাদের সাথে যুদ্ধ করার সাধ্য কারো নেই, অতএব তুমি আমার বান্দাদের নিয়ে তুরে আশ্রয় গ্রহণ কর,
আল্লাহ ইয়াজুজ ও মাজুজকে প্রেরণ করবেন, তারা প্রত্যেক উঁচু স্থান থেকে ছুটে আসবে। তাদের প্রথমাংশ পানিতে পূর্ণ নদীর
পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে, তারা তার পানি পান করে ফেলবে। তাদের শেষাংশ অতিক্রম করবে ও বলবে: এখানে কখনো পানি
ছিল। আল্লাহর নবী ঈসা ও তার সাথীগণ তুরে আটকা পড়বেন, অবশেষে গরুর একটি মাথা তাদের নিকট বর্তমানে তোমাদের
একশো দিনার থেকে উত্তম হবে। অতঃপর আল্লাহর নবী ঈসা ও তার সাথীগণ আল্লাহর নিকট মনোনিবেশ করবেন, ফলে আল্লাহ
তাদের (ইয়াজুজ-মাজুজের) গ্রীবায় গুটির রোগ সৃষ্টি করবেন, ফলে তারা সবাই এক ব্যক্তির মৃতের ন্যায় মৃত পড়ে থাকবে। অতঃপর
আল্লাহর নবী ঈসা ও তার সাথীগণ যমীনে অবতরণ করবেন, তারা যমীনে এক বিঘত জায়গা পাবে না যেখানে তাদের মৃত দেহ ও
লাশ নাই। অতঃপর আল্লাহর নবী ঈসা ও তার সাথীগণ আল্লাহর নিকট দো‘আ করবেন, ফলে তিনি উটের গর্দানের ন্যায় পাখি
প্রেরণ করবেন, তারা এদেরকে বহন করে আল্লাহর যেখানে ইচ্ছা নিক্ষেপ করবে। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বৃষ্টি বর্ষণ করবেন,
কাঁচা-পাকা কোন ঘর অবশিষ্ট থাকবে না যেখানে সে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করবে না, যমীন ধৌত করে অবশেষে আয়নার মত করে
দিবে। অতঃপর যমীনকে বলা হবে: তোমার ফল তুমি জন্মাও, তোমার বরকত তুমি ফেরৎ দাও, ফলে সেদিন এক দল লোক একটি আনার
ভক্ষণ করবে এবং তার ছিলকা দ্বারা ছায়া গ্রহণ করবে, দুধে বরকত দেয়া হবে ফলে এক উটের দুধ কয়েক গ্রুপ মানুষের জন্য যথেষ্ট
হবে। এক গরুর দুগ্ধ এক গ্রামের জন্য যথেষ্ট হবে। এক বকরির দুগ্ধ এক পরিবারের জন্য যথেষ্ট হবে। তারা এভাবেই জীবন যাপন করবে,
এমতাবস্থায় আল্লাহ পবিত্র বাতাস প্রবাহিত করবেন, যা তাদের বগলের নিচ স্পর্শ করবে, ফলে সে প্রত্যেক মুমিন ও মুসলিমের রূহ
কব্জা করবে, তখন কেবল সবচেয়ে খারাপ লোকগুলো অবশিষ্ট থাকবে, তারা গাধার ন্যায় (সবার সামনে) যৌনাচারে লিপ্ত হবে,
অতঃপর তাদের ওপরই কিয়ামত কায়েম হবে”। [মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
আল্লাহর প্রশংসামূলক কতক বাক্যের ফযিলত
-163 ﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲٍ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ- ﻗَﺎﻝَ: ﺟَﺎﺀَ ﺭَﺟُﻞٌ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓِﻲ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﺣَﻤْﺪًﺍ ﻛَﺜِﻴﺮًﺍ ﻃَﻴِّﺒًﺎ ﻣُﺒَﺎﺭَﻛًﺎ ﻓِﻴﻪِ، ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﻗَﻀَﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓَ ﻗَﺎﻝَ: ﺃَﻳُّﻜُﻢْ ﺍﻟْﻘَﺎﺋِﻞُ ﻛَﺬَﺍ ﻭَﻛَﺬَﺍ، ﻗَﺎﻝَ:
ﻓَﺄَﺭَﻡَّ ﺍﻟْﻘَﻮْﻡُ . ﻗَﺎﻝَ ﻓَﺄَﻋَﺎﺩَﻫَﺎ ﺛَﻠَﺎﺙَ ﻣَﺮَّﺍﺭ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺭَﺟُﻞٌ: ﺃَﻧَﺎ ﻗُﻠْﺘُﻬَﺎ ﻭَﻣَﺎ ﺃَﺭَﺩْﺕُ ﺑِﻬَﺎ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟْﺨَﻴْﺮَ، ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﻟَﻘَﺪْ ﺍﺑْﺘَﺪَﺭَﻫَﺎ ﺍﺛْﻨَﺎ ﻋَﺸَﺮَ ﻣَﻠَﻜًﺎ ﻓَﻤَﺎ ﺩَﺭَﻭْﺍ ﻛَﻴْﻒَ ﻳَﻜْﺘُﺒُﻮﻧَﻬَﺎ ﺣَﺘَّﻰ ﺳَﺄَﻟُﻮﺍ ﺭَﺑَّﻬُﻢْ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞ -، ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺍﻛْﺘُﺒُﻮﻫَﺎ
ﻛَﻤَﺎ ﻗَﺎﻝَ ﻋَﺒْﺪِﻱ» . (ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৬৩. আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সালাত অবস্থায়
হাজির হয়ে বলল: ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﺣَﻤْﺪًﺍ ﻛَﺜِﻴﺮًﺍ ﻃَﻴِّﺒًﺎ ﻣُﺒَﺎﺭَﻛًﺎ ﻓِﻴﻪِ، নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করে বললেন: তোমাদের মধ্যে কে
অমুক বাক্য পাঠকারী? সকলে চুপ রইল। তিনি বলেন: তিনি তিনবার তা বললেন, অতঃপর এক ব্যক্তি বলল: আমি তা বলেছি, আমি
ভাল ব্যতীত অন্য কিছু উদ্দেশ্য করিনি। তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “বারোজন ফেরেশতা
তাকে গ্রহণ করার জন্য দ্রুত ছুটে এসেছে, তারা বুঝতে পারছিল না কিভাবে তা লিখবে, অবশেষে তাদের রবের নিকট জিজ্ঞাসা
করে, অতঃপর তিনি বলেন: আমার বান্দা যেরূপ বলেছে সেরূপ লিখ”। [আহমদ] হাদিসটি সহিহ।
সমাপ্ত
[1] এ থেকে প্রমাণ হয় যে, পাপ ত্যাগ করাও নেকি, যদি তা আল্লাহর জন্য হয়।
[2] এ মর্যাদা শুধু আল্লাহর ভয়ে পাপ ত্যাগকারীর জন্য।
[3] সূরা বাকারা: (২৮৬)
[4] সূরা বাকারা: (২৮৪)
[5] সূরা বাকারা : (১৮৫)
[6] এ থেকে প্রমাণ হয় দেখানো ব্যক্তির আমল বিনষ্ট, তাতে কোন সওয়াব নেই।
[7] অর্থাৎ সে রাতে বৃষ্টি হয়েছিল।
[8] অথাৎ দুনিয়াতে আমরা নিজেদের দাবি নিয়ে যে পরিমাণ ঝগড়া ও তর্কে লিপ্ত হই, আখেরাতে মুমিনগণ আল্লাহর সাথে
তার চেয়ে অধিক ঝগড়া ও তর্কে লিপ্ত হবে তাদের ভাইদের মুক্ত করানোর জন্য, যাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করানো হয়েছে।
[9] এর অর্থ এই নয় যে, কেউ অন্যায় ও গুনাহ করবে আর অন্য কেউ তার প্রতিবাদ করবে না। এ ব্যাপারে প্রতিবাদ হচ্ছে তিন
প্রকারের, হাতে, মুখে বা অন্তরের ঘৃণা। তাকে হাত দিয়ে বাধা, মুখ দিয়ে নিষেধ আর সক্ষম না হলেও অন্তরে তার কর্মকাণ্ডকে
ঘৃণা করাই হচ্ছে প্রতিবাদে ভাষা। কিন্তু তার বাইরে প্রতিবাদের সীমা ছড়িয়ে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না, বলাই
অগ্রহণযোগ্য কাজ। যার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ আকারে দেখা দিয়েছে। [সম্পাদক]
[10] আল্লাহ তার আমল নষ্ট করে দেয়ার কারণ হচ্ছে, সে ব্যক্তি আল্লাহ সম্পর্কে খারাপ ধারণা করেছে। আল্লাহকে তাঁর সঠিক
মর্যাদায় অভিষিক্ত করেনি। মানুষ আল্লাহ সম্পর্কে যখন খারাপ ধারণা করে, তখন সে নিরাশ হয় বা অপরকে আল্লাহর রহমত
থেকে নিরাশ করে দেয়, এটি কুফরির পর্যায়ে। তাই তার আমর বিনষ্ট হয়ে যায়। [সম্পাদক]
[11] হাদীসটির ﺃﻫﻠﻜﻬﻢ শব্দে কাফ এর উপর উচ্চারণভেদে দু’টি অর্থ হয়। এক. সে তাদের মধ্যে অধিক ধ্বংসপ্রাপ্ত। দুই. সে তাদেরকে
ধ্বংস হয়ে গেছে বলে মনে করেছে। বাস্তবে তারা ধ্বংস হয়েছে এমন নয়। আলেমগণ বলেন, “মানুষ ধ্বংস হয়েছে” এ কথাটি বলা ঐ
সময় নিষিদ্ধ, যখন সেটা মানুষদেরকে অসম্মান ও অবজ্ঞা করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব বুঝানো ও তাদের নিকৃষ্ট করার জন্য বলা হবে।
কিন্তু যদি কোন মানুষ নিজের ও অন্যান্য মানুষের মধ্যে দ্বীনদারির অভাব দেখে আফসোস করে বলে যে, “মানুষ ধ্বংস হয়ে
গেছে” তখন সেটা নিষেধের আওতায় পড়বে না। [সম্পাদক]
[12] আল্লাহ তাকে তাকে পাবে না, এটা তার বিশ্বাস থাকলে তার ঈমান থাকার কথা নয়, আর ঈমান না থাকলে জান্নাত
পাওয়া যাবে না। সুতরাং এখানে এটাই মানতে হবে যে, লোকটি তার অজ্ঞতাবশত: আল্লাহ সম্পর্কে এ ধারণা করে থাকতে
পারে। তাই তার অজ্ঞতার কারণে আল্লাহ তাকে এর জন্য পাকড়াও না করে আল্লাহকে ভয় করার কারণে তাকে ক্ষমা করে দেন।
[সম্পাদক]
[13] ইমাম আহমদের এক বর্ণনায় রয়েছে: “যদি সে আমার সম্পর্কে ভাল ধারণা করে তার জন্যই ভাল, যদি সে আমার সম্পর্কে
খারাপ ধারণা করে তার জন্যই খারাপ।
[14] সাথে থাকার অর্থ, তার অবস্থা জানা ও তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করা। [সম্পাদক]
[15] এখানে সাথে থাকার অর্থ, তার সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত থাকা ও তাকে সহায্য-সহযোগিতা করা। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা
তাঁর আরশের উপর রয়েছেন। [সম্পাদক]
[16] সূরা যুখরুফ: (১৩)
[17] এর অর্থ এই নয় যে, আল্লাহ তা‘আলা তার বান্দার শরীরের অঙ্গ পরিণত হয়ে যায়, বরং এর অর্থ এই যে, সে তখন আল্লাহর
সন্তুষ্টির বাইরে সে লোক আর চলতে পারে না। বরং আল্লাহর সন্তুষ্টিই তার সন্তুষ্টিতে পরিণত হয়ে যায়। এর প্রমাণ হাদীসের
বাকী অংশে। [সম্পাদক]
[18] কেউ এ হাদিসকে মওকুফ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।
[19] সূরা আলিফ লাম মিম সাজদাহ: (১৭)
[20] অর্থাৎ এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘সুপারিশকারীগণ’ –অথবা ‘মুনাফিকরা’ এ দু’য়ের কোন
শব্দটি ব্যবহার করেছেন, এ ব্যাপারে হাদীসের এক বর্ণনাকারী সন্দেহ করেছেন। মূল হাদীসে নয়। [সম্পাদক]
[21] “সা‘দান” শব্দের অর্থ কাঁটা বা বড় কাঁটাদার গাছ।
[22] সূরা আলে ইমরান: (১৬৯)
[23] সূরা আলে ইমরান: (১৬৯)
[24] সূরা আলে ইমরান: (১৬৯)
[25] কারণ ভেজা উল সাধারণত: লোহার সাথে লেগে থাকে। তখন তা ছাড়িয়ে নেয়া কষ্টকর হয়। [সম্পাদক]
[26] সূরা আরাফ: (৪০)
[27] সূরা হজ: (৩১)
[28] যারা বিকৃতি করা ব্যতীত তাদের সঠিক দ্বীনে বহাল ছিল। এ সময়টা হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে
প্রেরণ করার পূর্বে।
[29] সূরা নিসা: (৪০)
[30] সূরা কাউসার: (১-৩)
[31] সূরা বাকারা: (১৪৩)
[32] কারণ প্রতিটি মানুষের জন্য জাহান্নামে একটি স্থান রয়েছে। যখন মুসলিম জাহান্নামে গেল না, আর খৃষ্টান ও ইয়াহূদী
জাহান্নামে গেল, তখন সে যেন মুসলিমের স্থান দখল করে নিল। আর মুসলিম যেন কাফেরকে তার স্থলাভিষিক্ত করল। [সম্পাদক]
[33] দীনার মুদ্রা মানের ক্ষুদ্র অংশকে কিরাত বলা হয়। [সম্পাদক]
[34] অর্থাৎ স্বর্ণ ও রৌপ্য। [সম্পাদক]
[35] সূরা ইবরাহিম: (৩৬)
[36] সূরা মায়েদা: (১১৮)
[37] ইমাম বুখারীর আল-আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে তা স্পষ্ট করা হয়েছে। [সম্পাদক]
[38] কার্যত পাঁচ ওয়াক্ত, কিন্তু সওয়াব পঞ্চাশ ওয়াক্তের।
[39] কলিজার টুকরোর মত সন্তানকে মৃত্যু দিয়ে গ্রহণ করি। [সম্পাদক]
[40] সর্বপ্রথম সৃষ্টি কি? তা নির্ধারণে কয়েকটি মত রয়েছে। এ হাদীস থেকে বাহ্যতঃ বোঝা যায় যে, কলম-ই প্রথম সৃষ্টি। অন্য
হাদীস থেকে বোঝা যায় যে, আরশ প্রথম সৃষ্টি। আবার কোনো কোনো হাদীস থেকে বুঝা যায় যে, পানিই প্রথম সৃষ্টি।
অধিকাংশ সত্যনিষ্ঠ আলেম আরশকেই সর্বপ্রথম সৃষ্টি হিসেবে মনে করে থাকেন। তারা অন্যান্য সৃষ্টি যেমন কলম ও পানি
সেগুলোকে প্রাথমিক সৃষ্ট বিষয় বলে সামঞ্জস্য বিধান করে থাকেন। তবে সর্বপ্রথম সৃষ্টি হচ্ছে আরশ। [সম্পাদক]
[41] অর্থাৎ ইউনুস আলাইহিস সালামের ঘটনা শুনে হয়ত কেউ মনে করতে পারে যে, ইউনুস আলাইহিস সালাম ধৈর্য ধারণ করতে
পারেন নি, আমি তার থেকে উত্তম। এ জাতীয় কোনো কথা বলে নিজেকে নিয়ে অহংকার যেন কেউ না করে। কারণ, নবীগণ
অন্যান্য সকল মানুষ থেকে উত্তম। তাদের সাথে আর কারও তুলনা চলে না। আর তাদের মান-মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তোলার তো
কোনো সুযোগই নেই। সুতরাং কেউ যেন এটা বলে না বসে যে, সে ইউনুস আলাইহিস সালাম থেকে ভালো। [সম্পাদক]
[42] অর্থাৎ আত্মীয়তার সম্পর্ক। আত্মীয়তার সম্পর্ক কিভাবে কথা বলল সেটা আমরা জানি না, তবে রাসূল বলেছেন, তাই
আমাদেরকে এর উপর ঈমান আনতে হবে। যে আল্লাহ আমাদেরকে কথা বলিয়েছেন, তিনি সব কিছুকেই কথা বলাতে পারেন।
[সম্পাদক]
[43] হাদীসের পরবর্তী অংশই প্রমাণ করে যে, আল্লাহর নাম ‘দাহর’ বা যুগ নয়। কারণ, রাত-দিনের মূল কথা হচ্ছে, সময়। আর সময়ের
পরিবর্তন আল্লাহ্ই করে থাকেন। সুতরাং কেউ যদি সময়কে গালি দেয়, সে প্রকারান্তরে আল্লাহ্কেই গালি দিল; কারণ, সময়ে যা
কিছু ঘটে, তার সবই আল্লাহ্র অনুমতি বা নির্দেশে সংঘটিত হয়ে থাকে। সুতরাং হাদীসের পরবর্তী অংশ পূর্বাংশের তাফসীর।
কেউ যেন সময়, যুগ বা কালকে গালি না দেয়। [সম্পাদক]
[44] অর্থাৎ কিভাবে পরস্পরের হক আদান-প্রদান করব, আমাদের সাথে তো কিছুই থাকবে না? তার জবাবে বলা হয়েছে যে এ
আদান-প্রদান ও কিসাস হবে সৎ কাজ ও অসৎ কাজের মাধ্যমে। সুতরাং কারও ভালো কাজ থাকলে, দুনিয়াতে কারও উপর যুলুম করে
থাকলে সে ভালো কাজ তাকে দিয়ে দেওয়া হবে, আর না থাকলে তার উপর অপরের গোনাহ চাপিয়ে দেওয়া হবে। [সম্পাদক]
[45] অর্থাৎ জ্বরটি হচ্ছে একটি আগুন, যার মাধ্যমে মুমিন বান্দার আখেরাতের গোনাহের বিনিময় হয়ে যায়। [সম্পাদক]
[46] এখানে দু’টি প্রিয় বস্তু বলে দু’চোখ বোঝানো হয়েছে। [সম্পাদক]
[47] সূরা আরাফ: (১৭১)
[48] অর্থাৎ আমল করার বিষয়টিও তাকদীরে লেখা আছে। যদি ভালো আমল করার সৌভাগ্য হয়, তবে সেটাও তার তাকদীরে লেখা
আছে। সুতরাং তাকদীরে কী আছে তা খুজে বের করার চেষ্টায় আমল করা পরিত্যাগ করা যাবে না, বরং সর্বদা ভালো আমল
করার প্রচেষ্টায় লেগে থাকতে হবে, আর তখনই তার জন্য সে ভালো আমলটি করা সহজ করে দেয়া হবে। একজন মুমিন এ কাজটিই
করে এবং করা উচিত। মুমিন কখনো তাকদীরের দোহাই দিয়ে নেক আমল করা থেকে বিরত থাকে না। যারা কাফের ও বদকার
তারাই শুধু তাকদীরের দোহাই দিয়ে নেক আমল করা থেকে বিরত থাকে এবং বলে যদি আল্লাহ চাইত তবে আমি অবশ্যই নেক
আমল করতে সমর্থ হতাম। বস্তুত: এ ধরনের কথা বলে নেক আমল থেকে বিরত থাকা আরবের মুশরিকদের কাজ। মোটকথা: মুমিনের
দায়িত্ব হচ্ছে, নেক আমলের জন্য সদা সচেষ্ট থাকা। যাতে করে তার তাকদীরের লেখা অনুসারে সে ভালো কাজ করতে পারে।
আর আল্লাহও তার জন্য তা সহজ করে দেন। এটাই বিভিন্ন হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে
বর্ণিত হয়েছে। [সম্পাদক]
[49] অর্থাৎ কখনও কখনও মানুষ মান্নত দ্বারা কোন জিনিস পায়, এটা আসলে মান্নতের মাধ্যমে পাওয়া নয়; বরং এটাই আমি তার
তাকদীরে লিখেছি। কিন্তু সে যেহেতু আল্লাহর জন্য কিছু দিতে চায় না, কৃপণতা করে, তখন সে মনে মান্নতের মাধ্যমে পাওয়া
যাবে, আর এভাবে মান্নত করার কারণে আল্লাহ তা‘আলা এর মাধ্যমে কিছু জিনিস তার থেকে বের করে আনেন। [সম্পাদক]
[50] এর অর্থ, মানুষের দৃষ্টিতে যখন কোন সূর্য অস্ত যায়, আর সে যখন সাগরের পারে থাকে, তখন দেখতে পায় যেন সূর্য কর্দমাক্ত
ঝর্ণায় ডুবে গেল। এর পরবর্তী অংশই প্রমাণ করে যে, সূর্য তারপরও চলতে থাকে। [সম্পাদক]
[51] অর্থাৎ এর পর আর কারও ঈমান গ্রহণ করা হবে না। [সম্পাদক]
____________________________________________________________________________________________________________
সংকলন : আবু আব্দুল্লাহ মুস্তফা আল-আদাভি
অনুবাদক : সানাউল্লাহ নজির আহমদ
সম্পাদনা : ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
সূত্র : ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ, সৌদিআরব
আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
( ﻭﺍﻷﺭْﺽُ ﺟَﻤﻴﻌًﺎ ﻗَﺒْﻀَﺘُﻪُ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔِ ﻭﺍﻟﺴَّﻤﺎﻭﺍﺕُ ﻣَﻄﻮِﻳَّﺎﺕٌ ﺑِﻴَﻤِﻴﻨِﻪ )
-73 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﻗَﺎﻝَ: ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ: «ﻳَﻘْﺒِﺾُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽَ ﻭَﻳَﻄْﻮِﻱ ﺍﻟﺴَّﻤَﻮَﺍﺕِ ﺑِﻴَﻤِﻴﻨِﻪِ ﺛُﻢَّ ﻳَﻘُﻮﻝُ: ﺃَﻧَﺎ ﺍﻟْﻤَﻠِﻚُ ﺃَﻳْﻦَ ﻣُﻠُﻮﻙُ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ» . ( ﺥ , ﻡ , ﺟﻪ ) ﺻﺤﻴﺢ
৭৩. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে
বলতে শুনেছি: আল্লাহ তা‘আলা জমিন তাঁর হাতের মুঠোয় গ্রহণ করবেন, আর আসমান তার ডান হাতে মুড়িয়ে নিবেন, অতঃপর
বলবেন: আমিই বাদশাহ, দুনিয়ার বাদশাহরা কোথায়?”। [বুখারি, মুসলিম ও ইব্ন মাজাহ] হাদিসটি সহিহ।
-74 ﻋَﻦْ ﺍﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ- ﻋَﻦْ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃَﻧَّﻪُ ﻗَﺎﻝَ: «ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻳَﻘْﺒِﺾُ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽَ، ﻭَﺗَﻜُﻮﻥُ ﺍﻟﺴَّﻤَﻮَﺍﺕُ ﺑِﻴَﻤِﻴﻨِﻪِ ﺛُﻢَّ ﻳَﻘُﻮﻝُ : ﺃَﻧَﺎ ﺍﻟْﻤَﻠِﻚُ» . ( ﺥ ) ﺻﺤﻴﺢ
৭৪. ইব্ন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কিয়ামতের দিন
আল্লাহ জমিন হাতের মুঠোয় গ্রহণ করবেন, আর আসমান তার ডান হাতে থাকবে, অতঃপর তিনি বলবেন: আমিই বাদশাহ”।
[বুখারি] হাদিসটি সহিহ।
-75 ﻋَﻦْ ﻋُﺒَﻴْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻣِﻘْﺴَﻢٍ ﺃَﻧَّﻪُ ﻧَﻈَﺮَ ﺇِﻟَﻰ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ- ﻛَﻴْﻒَ ﻳَﺤْﻜِﻲ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: «ﻳَﺄْﺧُﺬُ ﺍﻟﻠَّﻪُ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ- ﺳَﻤَﺎﻭَﺍﺗِﻪِ ﻭَﺃَﺭَﺿِﻴﻪِ ﺑِﻴَﺪَﻳْﻪِ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ : ﺃَﻧَﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ (ﻭَﻳَﻘْﺒِﺾُ ﺃَﺻَﺎﺑِﻌَﻪُ ﻭَﻳَﺒْﺴُﻄُﻬَﺎ )
ﺃَﻧَﺎ ﺍﻟْﻤَﻠِﻚُ » ﺣَﺘَّﻰ ﻧَﻈَﺮْﺕُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﻤِﻨْﺒَﺮِ ﻳَﺘَﺤَﺮَّﻙُ ﻣِﻦْ ﺃَﺳْﻔَﻞِ ﺷَﻲْﺀٍ ﻣِﻨْﻪُ ﺣَﺘَّﻰ ﺇِﻧِّﻲ ﻟَﺄَﻗُﻮﻝُ ﺃَﺳَﺎﻗِﻂٌ ﻫُﻮَ ﺑِﺮَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ . ( ﻡ , ﺟﻪ , ﻥ ) ﺻﺤﻴﺢ
৭৫. উবাইদুল্লাহ ইব্ন মিকসাম থেকে বর্ণিত, সে আব্দুল্লাহ ইব্ন ওমরকে লক্ষ্য করেছে কিভাবে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বর্ণনা দেন, তিনি (নবী-সা.) বলেন: “আল্লাহ তা‘আলা আসমান ও জমিন তার দু’হাতে পাকড়াও করবেন,
অতঃপর বলবেন: আমি আল্লাহ, (তিনি হাতের আঙুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ ও প্রসারিত করছিলেন), আমিই বাদশাহ”। আমি মিম্বারের
দিকে দেখলাম একেবারে নিচ থেকে নড়ছে, এমনকি মনে হচ্ছিল মিম্বার কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে
নিয়ে পড়ে যাবে”। মুসলিম, ইব্ন মাজাহ ও নাসায়ি] হাদিসটি সহিহ।
কতক জাহান্নামীর জাহান্নাম থেকে বের হওয়া
-76 ﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲِ ﺑْﻦِ ﻣَﺎﻟِﻚٍ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ- ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﻳَﺨْﺮُﺝُ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﺃَﺭْﺑَﻌَﺔٌ ﻳُﻌْﺮَﺿُﻮﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ - ﻓَﻴَﺄْﻣُﺮُ ﺑِﻬِﻢْ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ، ﻓَﻴَﻠْﺘَﻔِﺖُ ﺃَﺣَﺪُﻫُﻢْ، ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﺃَﻱْ ﺭَﺏِّ ﻗَﺪْ ﻛُﻨْﺖُ ﺃَﺭْﺟُﻮ ﺇِﻥْ ﺃَﺧْﺮَﺟْﺘَﻨِﻲ
ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺃَﻥْ ﻟَﺎ ﺗُﻌِﻴﺪَﻧِﻲ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻓَﻠَﺎ ﻧُﻌِﻴﺪُﻙَ ﻓِﻴﻬَﺎ » . ( ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ
৭৬. আনাস ইব্ন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“জাহান্নাম থেকে চারজন বের হবে, তাদেরকে আল্লাহর সামনে হাজির করা হবে, অতঃপর তিনি তাদেরকে জাহান্নামের
নির্দেশ দিবেন, ফলে তাদের একজন পিছন ফিরে তাকাবে এবং বলবে: হে আমার রব, আমি আশা করেছিলাম যদি সেখান থেকে
আমাকে বের করেন, সেখানে আমাকে ফিরিয়ে দিবেন না, ফলে তিনি বলবেন: আমি তোমাকে সেখানে ফিরিয়ে দিব না”।
[আহমদ] হাদিসটি সহিহ।
কিয়ামতের দিন নিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ
-77 ﻋَﻦْ ﺃَﺑَﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ - ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﺇِﻥَّ ﺃَﻭَّﻝَ ﻣَﺎ ﻳُﺴْﺄَﻝُ ﻋَﻨْﻪُ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ - ﻳَﻌْﻨِﻲ ﺍﻟْﻌَﺒْﺪَ - ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﻌِﻴﻢِ ﺃَﻥْ ﻳُﻘَﺎﻝَ ﻟَﻪُ: ﺃَﻟَﻢْ ﻧُﺼِﺢَّ ﻟَﻚَ ﺟِﺴْﻤَﻚَ، ﻭَﻧُﺮْﻭِﻳَﻚَ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻤَﺎﺀِ ﺍﻟْﺒَﺎﺭِﺩِ » . ( ﺕ )
ﺻﺤﻴﺢ
৭৭. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, -অর্থাৎ বান্দাকে- তা হচ্ছে নিয়ামত, তাকে বলা হবে যে: আমি
কি তোমার শরীর সুস্থ করিনি, আমি কি তোমাকে ঠাণ্ডা পানি পান করাই নি”। [তিরমিযি] হাদিসটি সহিহ।
পরকালের আমলে অলসতাকারীর জন্য হুশিয়ারি
-78 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻭَﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺳَﻌِﻴﺪ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ - ﻗَﺎﻟَﺎ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﻳُﺆْﺗَﻰ ﺑِﺎﻟْﻌَﺒْﺪِ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟَﻪُ: ﺃَﻟَﻢْ ﺃَﺟْﻌَﻞْ ﻟَﻚَ ﺳَﻤْﻌًﺎ ﻭَﺑَﺼَﺮًﺍ ﻭَﻣَﺎﻻً ﻭَﻭَﻟَﺪًﺍ، ﻭَﺳَﺨَّﺮْﺕُ ﻟَﻚَ ﺍﻟْﺄَﻧْﻌَﺎﻡَ ﻭَﺍﻟْﺤَﺮْﺙَ،
ﻭَﺗَﺮَﻛْﺘُﻚَ ﺗَﺮْﺃَﺱُ ﻭَﺗَﺮْﺑَﻊُ، ﻓَﻜُﻨْﺖَ ﺗَﻈُﻦُّ ﺃَﻧَّﻚَ ﻣُﻠَﺎﻗِﻲ ﻳَﻮْﻣَﻚَ ﻫَﺬَﺍ؟ » ﻗَﺎﻝَ: « ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﻟَﺎ . ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﻟَﻪُ: ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ ﺃَﻧْﺴَﺎﻙَ ﻛَﻤَﺎ ﻧَﺴِﻴﺘَﻨِﻲ » . ( ﺕ ) ﺣﺴﻦ
৭৮. আবু হুরায়রা ও আবু সায়িদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তারা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কিয়ামতের দিন বান্দাকে উপস্থিত করা হবে, অতঃপর আল্লাহ তাকে বলবেন: আমি কি তোমাকে কান,
চোখ, সম্পদ ও সন্তান দেই নি? এবং তোমার জন্য চতুষ্পদ জন্তু ও কৃষি অনুগত করে দিয়েছি। আর তোমাকে দিয়েছি নেতৃত্ব দেয়া ও
ভোগ করার সুযোগ, (এত কিছুর পর) তুমি কি চিন্তা করেছ তোমার এ দিনে আমার সাথে সাক্ষাত করবে?” রাসূল বলেন: “সে বলবে:
না, অতঃপর তিনি তাকে বলবেন: আজ আমি তোমাকে ছেড়ে যাব, যেমন তুমি আমাকে ভুলে গিয়েছিলে”। [তিরমিযি] হাদিসটি
হাসান।
আখেরাতে মুমিনগণ রবের দর্শন লাভ করবে
-79 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺳَﻌِﻴﺪٍ ﺍﻟْﺨُﺪْﺭِﻱِّ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ- ﻗَﺎﻝ: ﻗُﻠْﻨَﺎ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻫَﻞْ ﻧَﺮَﻯ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ؟ ﻗَﺎﻝَ : « ﻫَﻞْ ﺗُﻀَﺎﺭُﻭﻥَ ﻓِﻲ ﺭُﺅْﻳَﺔِ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲِ ﻭَﺍﻟْﻘَﻤَﺮِ ﺇِﺫَﺍ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﺻَﺤْﻮًﺍ؟ » ﻗُﻠْﻨَﺎ: ﻟَﺎ . ﻗَﺎﻝَ : « ﻓَﺈِﻧَّﻜُﻢْ ﻟَﺎ ﺗُﻀَﺎﺭُﻭﻥَ ﻓِﻲ ﺭُﺅْﻳَﺔِ ﺭَﺑِّﻜُﻢْ ﻳَﻮْﻣَﺌِﺬٍ ﺇِﻟَّﺎ
ﻛَﻤَﺎ ﺗُﻀَﺎﺭُﻭﻥَ ﻓِﻲ ﺭُﺅْﻳَﺘِﻬِﻤَﺎ» ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻝَ: «ﻳُﻨَﺎﺩِﻱ ﻣُﻨَﺎﺩٍ: ﻟِﻴَﺬْﻫَﺐْ ﻛُﻞُّ ﻗَﻮْﻡٍ ﺇِﻟَﻰ ﻣَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳَﻌْﺒُﺪُﻭﻥَ؛ ﻓَﻴَﺬْﻫَﺐُ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏُ ﺍﻟﺼَّﻠِﻴﺐِ ﻣَﻊَ ﺻَﻠِﻴﺒِﻬِﻢْ، ﻭَﺃَﺻْﺤَﺎﺏُ ﺍﻟْﺄَﻭْﺛَﺎﻥِ ﻣَﻊَ ﺃَﻭْﺛَﺎﻧِﻬِﻢْ، ﻭَﺃَﺻْﺤَﺎﺏُ ﻛُﻞِّ ﺁﻟِﻬَﺔٍ ﻣَﻊَ ﺁﻟِﻬَﺘِﻬِﻢْ، ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺒْﻘَﻰ ﻣَﻦْ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻌْﺒُﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻣِﻦْ ﺑَﺮٍّ ﺃَﻭْ
ﻓَﺎﺟِﺮٍ ﻭَﻏُﺒَّﺮَﺍﺕٌ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ، ﺛُﻢَّ ﻳُﺆْﺗَﻰ ﺑِﺠَﻬَﻨَّﻢَ ﺗُﻌْﺮَﺽُ ﻛَﺄَﻧَّﻬَﺎ ﺳَﺮَﺍﺏٌ ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ ﻟِﻠْﻴَﻬُﻮﺩِ: ﻣَﺎ ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﺗَﻌْﺒُﺪُﻭﻥَ؟ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ: ﻛُﻨَّﺎ ﻧَﻌْﺒُﺪُ ﻋُﺰَﻳْﺮًﺍ ﺍﺑْﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ: ﻛَﺬَﺑْﺘُﻢْ ﻟَﻢْ ﻳَﻜُﻦْ ﻟِﻠَّﻪِ ﺻَﺎﺣِﺒَﺔٌ ﻭَﻟَﺎ ﻭَﻟَﺪٌ ﻓَﻤَﺎ ﺗُﺮِﻳﺪُﻭﻥَ؟ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ: ﻧُﺮِﻳﺪُ ﺃَﻥْ ﺗَﺴْﻘِﻴَﻨَﺎ ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ: ﺍﺷْﺮَﺑُﻮﺍ
ﻓَﻴَﺘَﺴَﺎﻗَﻄُﻮﻥَ ﻓِﻲ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ، ﺛُﻢَّ ﻳُﻘَﺎﻝُ: ﻟِﻠﻨَّﺼَﺎﺭَﻯ ﻣَﺎ ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﺗَﻌْﺒُﺪُﻭﻥَ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﻛُﻨَّﺎ ﻧَﻌْﺒُﺪُ ﺍﻟْﻤَﺴِﻴﺢَ ﺍﺑْﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ : ﻛَﺬَﺑْﺘُﻢْ ﻟَﻢْ ﻳَﻜُﻦْ ﻟِﻠَّﻪِ ﺻَﺎﺣِﺒَﺔٌ ﻭَﻟَﺎ ﻭَﻟَﺪٌ ﻓَﻤَﺎ ﺗُﺮِﻳﺪُﻭﻥَ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﻧُﺮِﻳﺪُ ﺃَﻥْ ﺗَﺴْﻘِﻴَﻨَﺎ ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ: ﺍﺷْﺮَﺑُﻮﺍ، ﻓَﻴَﺘَﺴَﺎﻗَﻄُﻮﻥَ ﻓِﻲ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﺣَﺘَّﻰ
ﻳَﺒْﻘَﻰ ﻣَﻦْ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻌْﺒُﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻣِﻦْ ﺑَﺮٍّ ﺃَﻭْ ﻓَﺎﺟِﺮٍ ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ ﻟَﻬُﻢْ: ﻣَﺎ ﻳَﺤْﺒِﺴُﻜُﻢْ ﻭَﻗَﺪْ ﺫَﻫَﺐَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﻓَﺎﺭَﻗْﻨَﺎﻫُﻢْ ﻭَﻧَﺤْﻦُ ﺃَﺣْﻮَﺝُ ﻣِﻨَّﺎ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ، ﻭَﺇِﻧَّﺎ ﺳَﻤِﻌْﻨَﺎ ﻣُﻨَﺎﺩِﻳًﺎ ﻳُﻨَﺎﺩِﻱ : ﻟِﻴَﻠْﺤَﻖْ ﻛُﻞُّ ﻗَﻮْﻡٍ ﺑِﻤَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳَﻌْﺒُﺪُﻭﻥَ، ﻭَﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻧَﻨْﺘَﻈِﺮُ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﻴَﺄْﺗِﻴﻬِﻢْ ﺍﻟْﺠَﺒَّﺎﺭُ
ﻓِﻲ ﺻُﻮﺭَﺓٍ ﻏَﻴْﺮِ ﺻُﻮﺭَﺗِﻪِ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﺭَﺃَﻭْﻩُ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺃَﻭَّﻝَ ﻣَﺮَّﺓٍ، ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﺃَﻧَﺎ ﺭَﺑُّﻜُﻢْ، ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﺃَﻧْﺖَ ﺭَﺑُّﻨَﺎ ﻓَﻠَﺎ ﻳُﻜَﻠِّﻤُﻪُ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟْﺄَﻧْﺒِﻴَﺎﺀُ، ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻫَﻞْ ﺑَﻴْﻨَﻜُﻢْ ﻭَﺑَﻴْﻨَﻪُ ﺁﻳَﺔٌ ﺗَﻌْﺮِﻓُﻮﻧَﻪُ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﺍﻟﺴَّﺎﻕُ ﻓَﻴَﻜْﺸِﻒُ ﻋَﻦْ ﺳَﺎﻗِﻪِ ﻓَﻴَﺴْﺠُﺪُ ﻟَﻪُ ﻛُﻞُّ ﻣُﺆْﻣِﻦٍ، ﻭَﻳَﺒْﻘَﻰ ﻣَﻦْ ﻛَﺎﻥَ
ﻳَﺴْﺠُﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﺭِﻳَﺎﺀً ﻭَﺳُﻤْﻌَﺔً ﻓَﻴَﺬْﻫَﺐُ ﻛَﻴْﻤَﺎ ﻳَﺴْﺠُﺪَ ﻓَﻴَﻌُﻮﺩُ ﻇﻬْﺮُﻩُ ﻃﺒَﻘًﺎ ﻭﺍﺣِﺪًﺍ ﺛُﻢَّ ﻳُﺆْﺗَﻰ ﺑِﺎﻟْﺠَﺴْﺮِ ﻓَﻴُﺠْﻌَﻞُ ﺑَﻴْﻦَ ﻇَﻬْﺮَﻱْ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ» ﻗُﻠْﻨَﺎ: ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻣَﺎ ﺍﻟْﺠَﺴْﺮُ؟ ﻗَﺎﻝَ: « ﻣَﺪْﺣَﻀَﺔٌ ﻣَﺰِﻟَّﺔٌ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺧَﻄَﺎﻃِﻴﻒُ ﻭَﻛَﻠَﺎﻟِﻴﺐُ ﻭَﺣَﺴَﻜَﺔٌ ﻣُﻔَﻠْﻄَﺤَﺔٌ ﻟَﻬَﺎ ﺷَﻮْﻛَﺔٌ ﻋُﻘَﻴْﻔَﺎﺀُ
ﺗَﻜُﻮﻥُ ﺑِﻨَﺠْﺪٍ ﻳُﻘَﺎﻝُ ﻟَﻬَﺎ : ﺍﻟﺴَّﻌْﺪَﺍﻥُ، ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻦُ ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ ﻛَﺎﻟﻄَّﺮْﻑِ ﻭَﻛَﺎﻟْﺒَﺮْﻕِ ﻭَﻛَﺎﻟﺮِّﻳﺢِ ﻭَﻛَﺄَﺟَﺎﻭِﻳﺪِ ﺍﻟْﺨَﻴْﻞِ ﻭَﺍﻟﺮِّﻛَﺎﺏِ ﻓَﻨَﺎﺝٍ ﻣُﺴَﻠَّﻢٌ، ﻭَﻧَﺎﺝٍ ﻣَﺨْﺪُﻭﺵٌ، ﻭَﻣَﻜْﺪُﻭﺱٌ ﻓِﻲ ﻧَﺎﺭِ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ، ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﻤُﺮَّ ﺁﺧِﺮُﻫُﻢْ ﻳُﺴْﺤَﺐُ ﺳَﺤْﺒًﺎ ﻓَﻤَﺎ ﺃَﻧْﺘُﻢْ ﺑِﺄَﺷَﺪَّ ﻟِﻲ ﻣُﻨَﺎﺷَﺪَﺓً ﻓِﻲ ﺍﻟْﺤَﻖِّ- ﻗَﺪْ
ﺗَﺒَﻴَّﻦَ ﻟَﻜُﻢْ - ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻦِ ﻳَﻮْﻣَﺌِﺬٍ ﻟِﻠْﺠَﺒَّﺎﺭِ، ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺭَﺃَﻭْﺍ ﺃَﻧَّﻬُﻢْ ﻗَﺪْ ﻧَﺠَﻮْﺍ ﻓِﻲ ﺇِﺧْﻮَﺍﻧِﻬِﻢْ، ﻳَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﺇِﺧْﻮَﺍﻧُﻨَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳُﺼَﻠُّﻮﻥَ ﻣَﻌَﻨَﺎ ﻭَﻳَﺼُﻮﻣُﻮﻥَ ﻣَﻌَﻨَﺎ، ﻭَﻳَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ ﻣَﻌَﻨَﺎ، ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ: ﺍﺫْﻫَﺒُﻮﺍ ﻓَﻤَﻦْ ﻭَﺟَﺪْﺗُﻢْ ﻓِﻲ ﻗَﻠْﺒِﻪِ ﻣِﺜْﻘَﺎﻝَ ﺩِﻳﻨَﺎﺭٍ ﻣِﻦْ ﺇِﻳﻤَﺎﻥٍ
ﻓَﺄَﺧْﺮِﺟُﻮﻩُ، ﻭَﻳُﺤَﺮِّﻡُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺻُﻮَﺭَﻫُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ، ﻓَﻴَﺄْﺗُﻮﻧَﻬُﻢْ ﻭَﺑَﻌْﻀُﻬُﻢْ ﻗَﺪْ ﻏَﺎﺏَ ﻓِﻲ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﺇِﻟَﻰ ﻗَﺪَﻣِﻪِ، ﻭَﺇِﻟَﻰ ﺃَﻧْﺼَﺎﻑِ ﺳَﺎﻗَﻴْﻪِ، ﻓَﻴُﺨْﺮِﺟُﻮﻥَ ﻣَﻦْ ﻋَﺮَﻓُﻮﺍ ﺛُﻢَّ ﻳَﻌُﻮﺩُﻭﻥَ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﺫْﻫَﺒُﻮﺍ ﻓَﻤَﻦْ ﻭَﺟَﺪْﺗُﻢْ ﻓِﻲ ﻗَﻠْﺒِﻪِ ﻣِﺜْﻘَﺎﻝَ ﻧِﺼْﻒِ ﺩِﻳﻨَﺎﺭٍ ﻓَﺄَﺧْﺮِﺟُﻮﻩُ ﻓَﻴُﺨْﺮِﺟُﻮﻥَ ﻣَﻦْ
ﻋَﺮَﻓُﻮﺍ ﺛُﻢَّ ﻳَﻌُﻮﺩُﻭﻥَ، ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﺍﺫْﻫَﺒُﻮﺍ ﻓَﻤَﻦْ ﻭَﺟَﺪْﺗُﻢْ ﻓِﻲ ﻗَﻠْﺒِﻪِ ﻣِﺜْﻘَﺎﻝَ ﺫَﺭَّﺓٍ ﻣِﻦْ ﺇِﻳﻤَﺎﻥٍ ﻓَﺄَﺧْﺮِﺟُﻮﻩُ ﻓَﻴُﺨْﺮِﺟُﻮﻥَ ﻣَﻦْ ﻋَﺮَﻓُﻮﺍ» ﻗَﺎﻝَ ﺃَﺑُﻮ ﺳَﻌِﻴﺪٍ : ﻓَﺈِﻥْ ﻟَﻢْ ﺗُﺼَﺪِّﻗُﻮﻧِﻲ ﻓَﺎﻗْﺮَﺀُﻭﺍ: ﴿ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻟَﺎ ﻳَﻈۡﻠِﻢُ ﻣِﺜۡﻘَﺎﻝَ ﺫَﺭَّﺓٖۖ ﻭَﺇِﻥ ﺗَﻚُ ﺣَﺴَﻨَﺔٗ ﻳُﻀَٰﻌِﻔۡﻬَﺎ﴾ ﻓَﻴَﺸْﻔَﻊُ ﺍﻟﻨَّﺒِﻴُّﻮﻥَ
ﻭَﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔُ ﻭَﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟْﺠَﺒَّﺎﺭُ: ﺑَﻘِﻴَﺖْ ﺷَﻔَﺎﻋَﺘِﻲ ﻓَﻴَﻘْﺒِﺾُ ﻗَﺒْﻀَﺔً ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻓَﻴُﺨْﺮِﺝُ ﺃَﻗْﻮَﺍﻣًﺎ ﻗَﺪْ ﺍﻣْﺘُﺤِﺸُﻮﺍ ﻓَﻴُﻠْﻘَﻮْﻥَ ﻓِﻲ ﻧَﻬَﺮٍ ﺑِﺄَﻓْﻮَﺍﻩِ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ، ﻳُﻘَﺎﻝُ ﻟَﻪُ: ﻣَﺎﺀُ ﺍﻟْﺤَﻴَﺎﺓِ؛ ﻓَﻴَﻨْﺒُﺘُﻮﻥَ ﻓِﻲ ﺣَﺎﻓَﺘَﻴْﻪِ ﻛَﻤَﺎ ﺗَﻨْﺒُﺖُ ﺍﻟْﺤِﺒَّﺔُ ﻓِﻲ ﺣَﻤِﻴﻞِ ﺍﻟﺴَّﻴْﻞِ ﻗَﺪْ ﺭَﺃَﻳْﺘُﻤُﻮﻫَﺎ
ﺇِﻟَﻰ ﺟَﺎﻧِﺐِ ﺍﻟﺼَّﺨْﺮَﺓِ ﻭَﺇِﻟَﻰ ﺟَﺎﻧِﺐِ ﺍﻟﺸَّﺠَﺮَﺓِ، ﻓَﻤَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲِ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﺃَﺧْﻀَﺮَ، ﻭَﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻈِّﻞِّ ﻛَﺎﻥَ ﺃَﺑْﻴَﺾَ، ﻓَﻴَﺨْﺮُﺟُﻮﻥَ ﻛَﺄَﻧَّﻬُﻢْ ﺍﻟﻠُّﺆْﻟُﺆُ ﻓَﻴُﺠْﻌَﻞُ ﻓِﻲ ﺭِﻗَﺎﺑِﻬِﻢْ ﺍﻟْﺨَﻮَﺍﺗِﻴﻢُ ﻓَﻴَﺪْﺧُﻠُﻮﻥَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺃَﻫْﻞُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ: ﻫَﺆُﻟَﺎﺀِ ﻋُﺘَﻘَﺎﺀُ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ
ﺃَﺩْﺧَﻠَﻬُﻢْ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﺑِﻐَﻴْﺮِ ﻋَﻤَﻞٍ ﻋَﻤِﻠُﻮﻩُ ﻭَﻟَﺎ ﺧَﻴْﺮٍ ﻗَﺪَّﻣُﻮﻩُ، ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ ﻟَﻬُﻢْ: ﻟَﻜُﻢْ ﻣَﺎ ﺭَﺃَﻳْﺘُﻢْ ﻭَﻣِﺜْﻠَﻪُ ﻣَﻌَﻪُ» . ( ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
৭৯. আবু সায়িদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল কিয়ামতের দিন আমরা
কি আমাদের রবকে দেখব? তিনি বলেন: “তোমরা কি সূর্য ও চাঁদ দেখায় সন্দেহ কর যখন আসমান পরিষ্কার থাকে?”, আমরা বললাম:
না, তিনি বললেন: “নিশ্চয় সেদিন তোমরা তোমাদের রবকে দেখায় সন্দেহ করবে না, যেমন চাঁদ-সূর্য উভয়কে দেখায় সন্দেহ কর
না”। অতঃপর বললেন: “একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবে: প্রত্যেক সম্প্রদায় যেন তার নিকট যায়, যার তারা ইবাদত করত, ক্রুসের
অনুসারীরা তাদের ক্রুসের সাথে যাবে; মূর্তিপূজকরা তাদের মূর্তির সাথে যাবে; এবং প্রত্যেক মাবুদের ইবাদতকারীরা তাদের
মাবুদের সাথে যাবে। অবশেষে আল্লাহকে ইবাদতকারী নেককার অথবা বদকার লোকেরা অবশিষ্ট থাকবে এবং কতক কিতাবি,
অতঃপর জাহান্নাম হাজির করা হবে যেন তা মরীচিকা। অতঃপর ইহুদিদের বলা হবে: তোমরা কার ইবাদত করতে? তারা বলবে:
আমরা আল্লাহর ছেলে উযাইর এর ইবাদত করতাম, অতঃপর তাদেরকে বলা হবে: তোমরা মিথ্যা বলেছ, আল্লাহর কোন স্ত্রী ও
সন্তান নেই, তোমরা কি চাও? তারা বলবে: আমরা চাই আমাদেরকে পানি পান করান, বলা হবে: তোমরা পান কর, ফলে তারা
জাহান্নামে ছিটকে পড়বে। অতঃপর খৃস্টানদের বলা হবে: তোমরা কার ইবাদত করতে? তারা বলবে: আমরা আল্লাহর ছেলে ঈসার
ইবাদত করতাম, বলা হবে: তোমরা মিথ্যা বলেছ, আল্লাহর কোন স্ত্রী ও সন্তান নেই, তোমরা কি চাও? তারা বলবে: আমরা চাই
আমাদের পানি পান করান। বলা হবে: পান কর, ফলে তারা জাহান্নামে ছিটকে পড়বে, অবশেষে আল্লাহকে ইবাদতকারী
নেককার ও বদকার অবশিষ্ট থাকবে, তাদেরকে বলা হবে: কে তোমাদেরকে আটকে রেখেছে অথচ লোকেরা চলে গেছে? তারা
বলবে: আমরা তাদেরকে (দুনিয়াতে) ত্যাগ করেছি, আজ আমরা তার (আমাদের রবের) বেশী মুখাপেক্ষী, আমরা এক
ঘোষণাকারীকে ঘোষণা করতে শুনেছি: প্রত্যেক কওম যেন তার সাথেই মিলিত হয়, যার তারা ইবাদত করত, তাই আমরা আমাদের
রবের অপেক্ষা করছি। তিনি বলেন: অতঃপর আল্লাহ তাদের নিকট আসবেন ভিন্ন সুরুতে, যে সুরুতে প্রথমবার তারা তাকে
দেখেনি। তিনি বলবেন: আমি তোমাদের রব। তারা বলবে: আপনি আমাদের রব, নবীগণ ব্যতীত তার সাথে কেউ কথা বলবে না।
তিনি বলবেন: তোমাদের ও তার মাঝে কোন নিদর্শন আছে যা তোমরা চিন? তারা বলবে: পায়ের গোছা, ফলে তিনি তার গোছা
উন্মুক্ত করবেন, প্রত্যেক মুমিন তাকে সেজদা করবে, তবে যে লোকদেখানো কিংবা লোকদের শোনানোর জন্য সেজদা করত সে
অবশিষ্ট থাকবে। সে সেজদা করতে চাইবে কিন্তু তার পিঠ উল্টো সোজা খাড়া হয়ে যাবে। অতঃপর পুল আনা হবে এবং তা
জাহান্নামের ওপর রাখা হবে। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল পুল কি? তিনি বললেন: পদস্খলনের স্থান, তার ওপর রয়েছে ছো
মারা হুক, পেরেক, বিশাল বড়শি যার রয়েছে বড় কাঁটা যেরূপ নজদ এলাকায় হয়, যা সা‘দান বলা হয়। তার ওপর দিয়ে মুমিনগণ
চোখের পলক, বিদ্যুৎ, বাতাস, শক্তিশালী ঘোড়া ও পায়দল চলার ন্যায় পার হবে, কেউ নিরাপদে নাজাত পাবে, কেউ ক্ষতবিক্ষত
হয়ে নাজাত পাবে এবং কেউ জাহান্নামে নিক্ষেপ হবে, অবশেষে যখন তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি অতিক্রম করবে তখন তাকে টেনে
হিছড়ে পার করা হবে। আর কোন সত্য বিষয়ে তোমরা আমার নিকট এতটা পীড়াপীড়ি কর না, -তোমাদের নিকট যা স্পষ্ট হয়েছে-
মুমিনগণ সেদিন আল্লাহর নিকট যতটা পীড়াপীড়ি করবে, যখন দেখবে যে তাদের ভাইদের মধ্যে শুধু তারাই নাজাত পেয়েছে,
তারা বলবে: হে আমাদের রব, আমাদের ভাইয়েরা আমাদের সাথে সালাত আদায় করত, আমাদের সাথে সিয়াম পালন করত এবং
আমাদের সাথে আমল করত। আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: যাও যার অন্তরে তোমরা দিনার পরিমাণ ঈমান দেখ তাকে বের কর।
আল্লাহ তাদের আকৃতিকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দিবেন। তারা তাদের নিকট আসবে, তাদের কেউ পা পর্যন্ত অদৃশ্য হয়ে
গেছে, কেউ গোছার অর্ধেক পর্যন্ত, তারা যাদেরকে চিনবে বের করে আনবে। অতঃপর ফিরে আসবে, আল্লাহ বলবেন: যাও, যার
অন্তরে তোমরা অর্ধেক দিনার পরিমাণ ঈমান দেখ তাকে বের কর, তারা যাকে চিনবে বের করে আনবে। অতঃপর ফিরে আসবে,
আল্লাহ বলবেন: যাও যার অন্তরে তোমরা অণু পরিমাণ ঈমান দেখ তাকে বের কর, ফলে তারা যাকে চিনবে বের করবে”। আবু সায়িদ
বলেন: যদি তোমরা আমাকে সত্য জ্ঞান না কর, তাহলে পড়:
﴿ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻟَﺎ ﻳَﻈۡﻠِﻢُ ﻣِﺜۡﻘَﺎﻝَ ﺫَﺭَّﺓٖۖ ﻭَﺇِﻥ ﺗَﻚُ ﺣَﺴَﻨَﺔٗ ﻳُﻀَٰﻌِﻔۡﻬَﺎ ٤٠ ﴾ [ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ : ٤٠ ]
“নিশ্চয় আল্লাহ অণু পরিমাণও যুলম করেন না। আর যদি সেটি ভাল কাজ হয়, তিনি তাকে দ্বিগুণ করে দেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে
মহা প্রতিদান প্রদান করেন”। [29] অতঃপর নবী, ফেরেশতা ও মুমিনগণ সুপারিশ করবেন। আল্লাহ বলবেন: আমার সুপারিশ বাকি
রয়েছে, অতঃপর জাহান্নাম থেকে এক মুষ্টি গ্রহণ করবেন, ফলে এমন লোক বের করবেন যারা জ্বলে গিয়েছে, তাদেরকে
জান্নাতের দরজার নিকট অবস্থিত নহরে নিক্ষেপ করা হবে, যাকে বলা হয় সঞ্জীবনী পানি, ফলে তার দু’পাশে গজিয়ে উঠবে
যেমন প্রবাহিত পানির উর্বর মাটিতে শস্য গজিয়ে উঠে, যা তোমরা দেখেছ পাথর ও গাছের পাশে, তার থেকে যা সূর্যের দিকে
তা সবুজ এবং যা ছায়ার আড়ালে তা সাদা, অতঃপর তারা মুক্তোর ন্যায় বের হবে। অতঃপর তাদের গর্দানে সীলমোহর দয়া হবে,
অতঃপর তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে, জান্নাতিরা বলবে: তারা হচ্ছে রহমানের নাজাতপ্রাপ্ত, তাদেরকে তিনি জান্নাতে
প্রবেশ করিয়েছেন কোন আমলের বিনিময়ে নয়, যা তারা করেছে, বা কোন কল্যাণের বিনিময়ে নয় যা তারা অগ্রে প্রেরণ
করেছে। অতঃপর তাদেরকে বলা হবে: তোমাদের জন্য তোমরা যা দেখেছ তা এবং তার সাথে তার অনুরূপ”। [বুখারি ও মুসলিম]
হাদিসটি সহিহ।
80 - ﻋَﻦْ ﺃﺑﻲ ﺍﻟﺰُّﺑَﻴْﺮِ ﺃَﻧَّﻪُ ﺳَﻤِﻊَ ﺟَﺎﺑِﺮَ ﺑْﻦَ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ- ﻳُﺴْﺄَﻝُ ﻋَﻦْ ﺍﻟْﻮُﺭُﻭﺩِ ﻓَﻘَﺎﻝَ: « ﻧَﺠِﻲﺀُ ﻧَﺤْﻦُ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻋَﻦْ ﻛَﺬَﺍ ﻭَﻛَﺬَﺍ ﺍﻧْﻈُﺮْ ﺃَﻱْ ﺫَﻟِﻚَ ﻓَﻮْﻕَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ، ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺘُﺪْﻋَﻰ ﺍﻟْﺄُﻣَﻢُ ﺑِﺄَﻭْﺛَﺎﻧِﻬَﺎ ﻭَﻣَﺎ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﺗَﻌْﺒُﺪُ، ﺍﻟْﺄَﻭَّﻝُ ﻓَﺎﻟْﺄَﻭَّﻝُ ﺛُﻢَّ
ﻳَﺄْﺗِﻴﻨَﺎ ﺭَﺑُّﻨَﺎ ﺑَﻌْﺪَ ﺫَﻟِﻚَ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻣَﻦْ ﺗَﻨْﻈُﺮُﻭﻥَ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﻧَﻨْﻈُﺮُ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﺃَﻧَﺎ ﺭَﺑُّﻜُﻢْ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﺣَﺘَّﻰ ﻧَﻨْﻈُﺮَ ﺇِﻟَﻴْﻚَ ﻓَﻴَﺘَﺠَﻠَّﻰ ﻟَﻬُﻢْ ﻳَﻀْﺤَﻚُ» . ﻗَﺎﻝَ: « ﻓَﻴَﻨْﻄَﻠِﻖُ ﺑِﻬِﻢْ ﻭَﻳَﺘَّﺒِﻌُﻮﻧَﻪُ، ﻭَﻳُﻌْﻄَﻰ ﻛُﻞُّ ﺇِﻧْﺴَﺎﻥٍ ﻣِﻨْﻬُﻢْ - ﻣُﻨَﺎﻓِﻖٍ ﺃَﻭْ ﻣُﺆْﻣِﻦٍ - ﻧُﻮﺭًﺍ ﺛُﻢَّ ﻳَﺘَّﺒِﻌُﻮﻧَﻪُ،
ﻭَﻋَﻠَﻰ ﺟِﺴْﺮِ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﻛَﻠَﺎﻟِﻴﺐُ ﻭَﺣَﺴَﻚٌ ﺗَﺄْﺧُﺬُ ﻣَﻦْ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺛُﻢَّ ﻳُﻄْﻔَﺄُ ﻧُﻮﺭُ ﺍﻟْﻤُﻨَﺎﻓِﻘِﻴﻦَ، ﺛُﻢَّ ﻳَﻨْﺠُﻮ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ ﻓَﺘَﻨْﺠُﻮ ﺃَﻭَّﻝُ ﺯُﻣْﺮَﺓٍ ﻭُﺟُﻮﻫُﻬُﻢْ ﻛَﺎﻟْﻘَﻤَﺮِ ﻟَﻴْﻠَﺔَ ﺍﻟْﺒَﺪْﺭِ، ﺳَﺒْﻌُﻮﻥَ ﺃَﻟْﻔًﺎ ﻟَﺎ ﻳُﺤَﺎﺳَﺒُﻮﻥَ ﺛُﻢَّ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳَﻠُﻮﻧَﻬُﻢْ ﻛَﺄَﺿْﻮَﺇِ ﻧَﺠْﻢٍ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ، ﺛُﻢَّ ﻛَﺬَﻟِﻚَ ﺛُﻢَّ ﺗَﺤِﻞُّ
ﺍﻟﺸَّﻔَﺎﻋَﺔُ، ﻭَﻳَﺸْﻔَﻌُﻮﻥَ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺨْﺮُﺝَ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻣَﻦْ ﻗَﺎﻝَ : ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻓِﻲ ﻗَﻠْﺒِﻪِ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﺨَﻴْﺮِ ﻣَﺎ ﻳَﺰِﻥُ ﺷَﻌِﻴﺮَﺓً، ﻓَﻴُﺠْﻌَﻠُﻮﻥَ ﺑِﻔِﻨَﺎﺀِ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ، ﻭَﻳَﺠْﻌَﻞُ ﺃَﻫْﻞُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﻳَﺮُﺷُّﻮﻥَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺍﻟْﻤَﺎﺀَ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﻨْﺒُﺘُﻮﺍ ﻧَﺒَﺎﺕَ ﺍﻟﺸَّﻲْﺀِ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻴْﻞِ ﻭَﻳَﺬْﻫَﺐُ ﺣُﺮَﺍﻗُﻪُ ﺛُﻢَّ
ﻳَﺴْﺄَﻝُ ﺣَﺘَّﻰ ﺗُﺠْﻌَﻞَ ﻟَﻪُ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﻭَﻋَﺸَﺮَﺓُ ﺃَﻣْﺜَﺎﻟِﻬَﺎ ﻣَﻌَﻬَﺎ» . ( ﻡ , ﺣﻢ ) ﻣﻮﻗﻮﻑ ﺻﺤﻴﺢ
৮০. আবু যুবায়ের থেকে বর্ণিত, তিনি জাবের ইব্ন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে শুনেছেন, তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল
‘ওরুদ’ (বা জাহান্নামে নামা) সম্পর্কে, তিনি বলেন: আমরা কিয়ামতের দিন অমুক অমুক স্থান থেকে হাজির হব, দেখ অর্থাৎ
মানুষের ওপরে, তিনি বলেন: লোকদেরকে তাদের মূর্তিসহ ডাকা হবে এবং তারা যার ইবাদত করত। প্রথম অতঃপর প্রথম
ধারাবাহিকভাবে, অতঃপর আমাদের রব আসবেন এবং বলবেন: তোমরা কার অপেক্ষা করছ? তারা বলবেন: আমরা আমাদের রবের
অপেক্ষা করছি, তিনি বলবেন: আমি তোমাদের রব, তারা বলবে: যতক্ষণ না আমরা আপনাকে দেখব, ফলে তিনি তাদের সামনে
জাহির হবেন সহাস্যে”। রাসূল বলেন: “অতঃপর তিনি তাদের নিয়ে চলবেন, তারাও তার অনুসরণ করবে। তাদের প্রত্যেক ব্যক্তিকে
নূর দেয়া হবে, কি মুনাফিক কি মুমিন, অতঃপর তারা তার অনুসরণ করবে, জাহান্নামের পুলে থাকবে হুক ও বড়শিসমূহ, সেগুলো
পাকড়াও করবে আল্লাহ যাকে চাইবেন তাকে, অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা মুনাফিকদের নূর নিভিয়ে দিবেন, মুমিনগণ নাজাত
পাবে, প্রথম দলটি নাজাত পাবে তাদের চেহারা হবে চৌদ্দ তারিখের চাঁদের ন্যায়, শত্তুর হাজার এমন হবে যাদের কোন হিসাব
নেয়া হবে না। অতঃপর তাদের পরবর্তীরা হবে আসমানের সবচেয়ে উজ্জল তারকার ন্যায়, অতঃপর অনুরূপ, অতঃপর সুপারিশ আরম্ভ
হবে এবং তারা সুপারিশ করবে, অবশেষে যে ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ বলেছে এবং যার অন্তরে গমের ওজন পরিমাণ কল্যাণ ছিল সেও জাহান্নাম
থেকে বের হবে। তাদেরকে জান্নাতের বারান্দায় রাখা হবে, জান্নাতিরা তাদের ওপর পানি ঢালতে থাকবে, অবশেষে তারা
পানি প্রবাহের স্থানে শস্য গজানোর ন্যায় বেড়ে উঠবে, তাদের পোড়াদাগ চলে যাবে, অতঃপর প্রার্থনা করা হবে, এমনকি
তাকে দুনিয়া ও দুনিয়ার সমান দশগুণ দেয়া হবে”। [মুসলিম ও আহমদ] হাদিসটি মওকুফ ও সহিহ।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর আল্লাহর নিয়ামত
-81 ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ- ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﺳﺄﻟﺖُ ﺭﺑﻲ ﻣﺴﺄﻟﺔً ﻭﺩﺩﺕ ﺃﻧﻲ ﻟﻢ ﺃﺳﺄﻟﻪ، ﻗﻠﺖ : ﻳﺎ ﺭﺏ ﻛﺎﻧﺖ ﻗﺒﻠﻲ ﺭﺳﻞٌ ﻣﻨﻬﻢ ﻣﻦ ﺳﺨﺮﺕ ﻟﻬﻢ ﺍﻟﺮﻳﺎﺡ، ﻭﻣﻨﻬﻢ ﻣﻦ ﻛﺎﻥ ﻳُﺤﻲ ﺍﻟﻤﻮﺗﻰ . ﻗﺎﻝ:
ﺃﻟﻢ ﺃﺟﺪﻙ ﻳﺘﻴﻤًﺎ ﻓﺄﻭﻳﺘﻚ؟ ﺃﻟﻢ ﺃﺟﺪﻙ ﺿﺎﻻً ﻓﻬﺪﻳﺘُﻚ؟ ﺃﻟﻢ ﺃﺟﺪﻙ ﻋﺎﺋﻼً ﻓﺄﻏﻨﻴﺘُﻚ؟ ﺃﻟﻢ ﺃﺷﺮﺡ ﻟﻚ ﺻﺪﺭﻙ؟ ﻭﻭﺿﻌﺖ ﻋﻨﻚ ﻭﺯﺭﻙ؟ ﻗﺎﻝ: ﻗﻠﺖ: ﺑﻠﻰ ﻳﺎ ﺭﺏ » . ( ﻃﺐ ) ﺣﺴﻦ
৮১. ইব্ন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমি আমার রবকে
একটি বিষয় জিজ্ঞাসা করেছি, আফসোস আমি যদি তা জিজ্ঞাসা না করতাম। আমি বলেছি: হে আমার রব আমার পূর্বে অনেক
রাসূল ছিল, তাদের কারো জন্য বাতাস অনুগত করে দেয়া হয়েছে, তাদের কেউ মৃতদের জীবিত করত। আল্লাহ্ বলেন: আমি কি
তোমাকে ইয়াতিম পাই নি অতঃপর আশ্রয় দিয়েছি? আমি কি তোমাকে পথভোলা পাই নি অতঃপর পথ দেখিয়েছি? আমি কি
তোমাকে অভাবী পাই নি অতঃপর তোমাকে সচ্ছল করেছি? আমি কি তোমার বক্ষ উন্মুক্ত করি নি? আমি কি তোমার থেকে
বোঝা দূর করি নি? রাসূল বলেন: আমি বলেছি: অবশ্যই হে আমার রব”। [তাবরানি] হাদিসটি হাসান।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাউজ
-82 ﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲٍ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ - ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﻟَﻴَﺮِﺩَﻥَّ ﻋَﻠَﻲَّ ﻧَﺎﺱٌ ﻣِﻦْ ﺃَﺻْﺤَﺎﺑِﻲ ﺍﻟْﺤَﻮْﺽَ، ﺣَﺘَّﻰ ﻋَﺮَﻓْﺘُﻬُﻢْ ﺍﺧْﺘُﻠِﺠُﻮﺍ ﺩُﻭﻧِﻲ ﻓَﺄَﻗُﻮﻝُ: ﺃَﺻْﺤَﺎﺑِﻲ , ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻟَﺎ ﺗَﺪْﺭِﻱ ﻣَﺎ ﺃَﺣْﺪَﺛُﻮﺍ ﺑَﻌْﺪَﻙَ » . ( ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
৮২. আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “অবশ্যই আমার কতক লোক
হাউজে আমার নিকট হাজির হবে, অবশেষে যখন আমি তাদেরকে চিনব আমার পিছন থেকে তাদেরকে ছো মেরে নেয়া হবে,
আমি বলব: আমার লোক। আমাকে (আল্লাহ্) বলবেন: আপনি জানেন না আপনার পর তারা কি আবিষ্কার করেছে”। [বুখারি ও
মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
-83 ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ - ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ - ﻗﺎﻟﺖ: ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﻭَﻫُﻮَ ﺑَﻴْﻦَ ﻇَﻬْﺮَﺍﻧَﻲْ ﺃَﺻْﺤَﺎﺑِﻪِ: « ﺇِﻧِّﻲ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﺤَﻮْﺽِ ﺃَﻧْﺘَﻈِﺮُ ﻣَﻦْ ﻳَﺮِﺩُ ﻋَﻠَﻲَّ ﻣِﻨْﻜُﻢْ ﻓَﻮَﺍﻟﻠَّﻪِ ﻟَﻴُﻘْﺘَﻄَﻌَﻦَّ ﺩُﻭﻧِﻲ ﺭِﺟَﺎﻝٌ ﻓَﻠَﺄَﻗُﻮﻟَﻦَّ: ﺃَﻱْ ﺭَﺏِّ ﻣِﻨِّﻲ ﻭَﻣِﻦْ
ﺃُﻣَّﺘِﻲ . ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﺇِﻧَّﻚَ ﻟَﺎ ﺗَﺪْﺭِﻱ ﻣَﺎ ﻋَﻤِﻠُﻮﺍ ﺑَﻌْﺪَﻙَ ﻣَﺎ ﺯَﺍﻟُﻮﺍ ﻳَﺮْﺟِﻌُﻮﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻋْﻘَﺎﺑِﻬِﻢْ » . ( ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
৮৩. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে
শুনেছি, যখন তিনি তার সাথীদের মাঝে ছিলেন: “আমি হাউজের ওপর থাকব, অপেক্ষা করব তার জন্য যে তোমাদের থেকে
আমার কাছে আসবে। আল্লাহর শপথ আমার থেকে কতক লোক বিচ্ছিন্ন করা হবে, আমি বলব: হে আমার রব (তারা) আমার ও আমার
উম্মতের অন্তর্ভুক্ত, তিনি বলবেন: তুমি জান না তোমার পর তারা কি করেছে, তারা তাদের পশ্চাতেই ধাবিত ছিল”। [মুসলিম]
হাদিসটি সহিহ।
হাউজে কাউসার
-84 ﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲِ ﺑْﻦِ ﻣَﺎﻟِﻚٍ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ - ﻗَﺎﻝَ: ﺑَﻴْﻨَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺫَﺍﺕَ ﻳَﻮْﻡٍ ﺑَﻴْﻦَ ﺃَﻇْﻬُﺮِﻧَﺎ ﺇِﺫْ ﺃَﻏْﻔَﻰ ﺇِﻏْﻔَﺎﺀَﺓً ﺛُﻢَّ ﺭَﻓَﻊَ ﺭَﺃْﺳَﻪُ ﻣُﺘَﺒَﺴِّﻤًﺎ، ﻓَﻘُﻠْﻨَﺎ: ﻣَﺎ ﺃَﺿْﺤَﻜَﻚَ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ؟! ﻗَﺎﻝَ: « ﺃُﻧْﺰِﻟَﺖْ ﻋَﻠَﻲَّ ﺁﻧِﻔًﺎ ﺳُﻮﺭَﺓٌ ﻓَﻘَﺮَﺃَ: ﺑِﺴْﻢِ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢِ ﴿ﺇِﻧَّﺎٓ ﺃَﻋۡﻄَﻴۡﻨَٰﻚَ ﭐﻟۡﻜَﻮۡﺛَﺮَ ١ ﻓَﺼَﻞِّ ﻟِﺮَﺑِّﻚَ ﻭَﭐﻧۡﺤَﺮۡ ٢ ﺇِﻥَّ ﺷَﺎﻧِﺌَﻚَ ﻫُﻮَ ﭐﻟۡﺄَﺑۡﺘَﺮُ ٣﴾ ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻝَ : ﺃَﺗَﺪْﺭُﻭﻥَ ﻣَﺎ ﺍﻟْﻜَﻮْﺛَﺮُ؟» ﻓَﻘُﻠْﻨَﺎ: ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟُﻪُ ﺃَﻋْﻠَﻢُ ﻗَﺎﻝَ: « ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻧَﻬْﺮٌ ﻭَﻋَﺪَﻧِﻴﻪِ ﺭَﺑِّﻲ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ - ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺧَﻴْﺮٌ ﻛَﺜِﻴﺮٌ ﻫُﻮَ ﺣَﻮْﺽٌ ﺗَﺮِﺩُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﺁﻧِﻴَﺘُﻪُ ﻋَﺪَﺩُ ﺍﻟﻨُّﺠُﻮﻡِ ﻓَﻴُﺨْﺘَﻠَﺞُ ﺍﻟْﻌَﺒْﺪُ ﻣِﻨْﻬُﻢْ ﻓَﺄَﻗُﻮﻝُ : ﺭَﺏِّ ﺇِﻧَّﻪُ ﻣِﻦْ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻣَﺎ ﺗَﺪْﺭِﻱ ﻣَﺎ ﺃَﺣْﺪَﺛَﺖْ ﺑَﻌْﺪَﻙَ » . ( ﻡ , ﺩ ) ﺻﺤﻴﺢ
৮৪. আনাস ইব্ন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
আমাদের মাঝে ছিলেন, হঠাৎ তিনি তন্দ্রা গেলেন, অতঃপর হাসতে হাসতে মাথা তুললেন। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল
কিসে আপনাকে হাসাচ্ছে?! তিনি বললেন: “এ মুহূর্তে আমার ওপর একটি সূরা নাযিল করা হয়েছে, অতঃপর তিনি পড়লেন:
﴿ﺇِﻧَّﺎٓ ﺃَﻋۡﻄَﻴۡﻨَٰﻚَ ﭐﻟۡﻜَﻮۡﺛَﺮَ ١ ﻓَﺼَﻞِّ ﻟِﺮَﺑِّﻚَ ﻭَﭐﻧۡﺤَﺮۡ ٢ ﺇِﻥَّ ﺷَﺎﻧِﺌَﻚَ ﻫُﻮَ ﭐﻟۡﺄَﺑۡﺘَﺮُ ٣﴾ [ ﺍﻟﻜﻮﺛﺮ: ١، ٤ ]
“নিশ্চয় আমি তোমাকে আল-কাউসার দান করেছি। অতএব তোমার রবের উদ্দেশ্যেই সালাত পড় এবং নহর কর। নিশ্চয় তোমার
প্রতি শত্রুতা পোষণকারীই নির্বংশ”। [30] অতঃপর তিনি বললেন: “তোমরা জান কাউসার কি?” আমরা বললাম: আল্লাহ ও তার
রাসূল ভাল জানেন। তিনি বললেন: “এটা একটা নহর, এর ওয়াদা আল্লাহ আমার নিকট করেছেন, তাতে রয়েছে প্রচুর কল্যাণ। এটা এক
হাউজ তাতে আমার উম্মত গমন করবে, তার পাত্রগুলো নক্ষত্রের সংখ্যার ন্যায়, তাদের থেকে এক বান্দাকে ছো মেরে নেয়া
হবে, আমি বলব: হে আমার রব, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত, তিনি বলবেন: তুমি জান না তোমার পর তারা কি আবিষ্কার
করেছে”। [মুসলিম ও আবু দাউদ] হাদিসটি সহিহ।
সুপারিশের হাদিস
-85 ﻋَﻦْ ﻣَﻌْﺒَﺪُ ﺑْﻦُ ﻫِﻠَﺎﻝٍ ﺍﻟْﻌَﻨَﺰِﻱُّ ﻗَﺎﻝَ: ﺍﺟْﺘَﻤَﻌْﻨَﺎ -ﻧَﺎﺱٌ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﺒَﺼْﺮَﺓِ - ﻓَﺬَﻫَﺒْﻨَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺃَﻧَﺲِ ﺑْﻦِ ﻣَﺎﻟِﻚٍ- ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ -، ﻭَﺫَﻫَﺒْﻨَﺎ ﻣَﻌَﻨَﺎ ﺑِﺜَﺎﺑِﺖٍ ﺍﻟْﺒُﻨَﺎﻧِﻲِّ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻳَﺴْﺄَﻟُﻪُ ﻟَﻨَﺎ ﻋَﻦْ ﺣَﺪِﻳﺚِ ﺍﻟﺸَّﻔَﺎﻋَﺔِ، ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻫُﻮَ ﻓِﻲ ﻗَﺼْﺮِﻩِ ﻓَﻮَﺍﻓَﻘْﻨَﺎﻩُ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﺍﻟﻀُّﺤَﻰ
ﻓَﺎﺳْﺘَﺄْﺫَﻧَّﺎ ﻓَﺄَﺫِﻥَ ﻟَﻨَﺎ ﻭَﻫُﻮَ ﻗَﺎﻋِﺪٌ ﻋَﻠَﻰ ﻓِﺮَﺍﺷِﻪِ، ﻓَﻘُﻠْﻨَﺎ ﻟِﺜَﺎﺑِﺖٍ : ﻟَﺎ ﺗَﺴْﺄَﻟْﻪُ ﻋَﻦْ ﺷَﻲْﺀٍ ﺃَﻭَّﻝَ ﻣِﻦْ ﺣَﺪِﻳﺚِ ﺍﻟﺸَّﻔَﺎﻋَﺔِ ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﻳَﺎ ﺃَﺑَﺎ ﺣَﻤْﺰَﺓَ ﻫَﺆُﻟَﺎﺀِ ﺇِﺧْﻮَﺍﻧُﻚَ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﺒَﺼْﺮَﺓِ ﺟَﺎﺀُﻭﻙَ ﻳَﺴْﺄَﻟُﻮﻧَﻚَ ﻋَﻦْ ﺣَﺪِﻳﺚِ ﺍﻟﺸَّﻔَﺎﻋَﺔِ ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪٌ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﺇِﺫَﺍ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻮْﻡُ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻣَﺎﺝَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﺑَﻌْﻀُﻬُﻢْ ﻓِﻲ ﺑَﻌْﺾٍ ﻓَﻴَﺄْﺗُﻮﻥَ ﺁﺩَﻡَ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ : ﺍﺷْﻔَﻊْ ﻟَﻨَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﺑِّﻚَ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻟَﺴْﺖُ ﻟَﻬَﺎ، ﻭَﻟَﻜِﻦْ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺑِﺈِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢَ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﺧَﻠِﻴﻞُ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ، ﻓَﻴَﺄْﺗُﻮﻥَ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢَ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻟَﺴْﺖُ ﻟَﻬَﺎ، ﻭَﻟَﻜِﻦْ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺑِﻤُﻮﺳَﻰ
ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻛَﻠِﻴﻢُ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﻓَﻴَﺄْﺗُﻮﻥَ ﻣُﻮﺳَﻰ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ : ﻟَﺴْﺖُ ﻟَﻬَﺎ، ﻭَﻟَﻜِﻦْ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺑِﻌِﻴﺴَﻰ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﺭُﻭﺡُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻛَﻠِﻤَﺘُﻪُ، ﻓَﻴَﺄْﺗُﻮﻥَ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ : ﻟَﺴْﺖُ ﻟَﻬَﺎ، ﻭَﻟَﻜِﻦْ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺑِﻤُﺤَﻤَّﺪٍ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ، ﻓَﻴَﺄْﺗُﻮﻧِﻲ ﻓَﺄَﻗُﻮﻝُ: ﺃَﻧَﺎ ﻟَﻬَﺎ ﻓَﺄَﺳْﺘَﺄْﺫِﻥُ ﻋَﻠَﻰ ﺭَﺑِّﻲ ﻓَﻴُﺆْﺫَﻥُ ﻟِﻲ
ﻭَﻳُﻠْﻬِﻤُﻨِﻲ ﻣَﺤَﺎﻣِﺪَ ﺃَﺣْﻤَﺪُﻩُ ﺑِﻬَﺎ ﻟَﺎ ﺗَﺤْﻀُﺮُﻧِﻲ ﺍﻟْﺂﻥَ، ﻓَﺄَﺣْﻤَﺪُﻩُ ﺑِﺘِﻠْﻚَ ﺍﻟْﻤَﺤَﺎﻣِﺪِ ﻭَﺃَﺧِﺮُّ ﻟَﻪُ ﺳَﺎﺟِﺪًﺍ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ : ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺍﺭْﻓَﻊْ ﺭَﺃْﺳَﻚَ، ﻭَﻗُﻞْ ﻳُﺴْﻤَﻊْ ﻟَﻚَ، ﻭَﺳَﻞْ ﺗُﻌْﻂَ، ﻭَﺍﺷْﻔَﻊْ ﺗُﺸَﻔَّﻊْ، ﻓَﺄَﻗُﻮﻝُ: ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﺍﻧْﻄَﻠِﻖْ ﻓَﺄَﺧْﺮِﺝْ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﻣَﻦْ ﻛَﺎﻥَ ﻓِﻲ
ﻗَﻠْﺒِﻪِ ﻣِﺜْﻘَﺎﻝُ ﺷَﻌِﻴﺮَﺓٍ ﻣِﻦْ ﺇِﻳﻤَﺎﻥٍ، ﻓَﺄَﻧْﻄَﻠِﻖُ ﻓَﺄَﻓْﻌَﻞُ، ﺛُﻢَّ ﺃَﻋُﻮﺩُ ﻓَﺄَﺣْﻤَﺪُﻩُ ﺑِﺘِﻠْﻚَ ﺍﻟْﻤَﺤَﺎﻣِﺪِ ﺛُﻢَّ ﺃَﺧِﺮُّ ﻟَﻪُ ﺳَﺎﺟِﺪًﺍ ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ: ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺍﺭْﻓَﻊْ ﺭَﺃْﺳَﻚَ، ﻭَﻗُﻞْ ﻳُﺴْﻤَﻊْ ﻟَﻚَ، ﻭَﺳَﻞْ ﺗُﻌْﻂَ، ﻭَﺍﺷْﻔَﻊْ ﺗُﺸَﻔَّﻊْ، ﻓَﺄَﻗُﻮﻝُ: ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﺍﻧْﻄَﻠِﻖْ ﻓَﺄَﺧْﺮِﺝْ ﻣِﻨْﻬَﺎ
ﻣَﻦْ ﻛَﺎﻥَ ﻓِﻲ ﻗَﻠْﺒِﻪِ ﻣِﺜْﻘَﺎﻝُ ﺫَﺭَّﺓٍ ﺃَﻭْ ﺧَﺮْﺩَﻟَﺔٍ ﻣِﻦْ ﺇِﻳﻤَﺎﻥٍ، ﻓَﺄَﺧْﺮِﺟْﻪُ ﻓَﺄَﻧْﻄَﻠِﻖُ ﻓَﺄَﻓْﻌَﻞُ ﺛُﻢَّ ﺃَﻋُﻮﺩُ ﻓَﺄَﺣْﻤَﺪُﻩُ ﺑِﺘِﻠْﻚَ ﺍﻟْﻤَﺤَﺎﻣِﺪِ ﺛُﻢَّ ﺃَﺧِﺮُّ ﻟَﻪُ ﺳَﺎﺟِﺪًﺍ , ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺍﺭْﻓَﻊْ ﺭَﺃْﺳَﻚَ، ﻭَﻗُﻞْ ﻳُﺴْﻤَﻊْ ﻟَﻚَ، ﻭَﺳَﻞْ ﺗُﻌْﻂَ، ﻭَﺍﺷْﻔَﻊْ ﺗُﺸَﻔَّﻊْ، ﻓَﺄَﻗُﻮﻝُ ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﺃُﻣَّﺘِﻲ
ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﺍﻧْﻄَﻠِﻖْ ﻓَﺄَﺧْﺮِﺝْ ﻣَﻦْ ﻛَﺎﻥَ ﻓِﻲ ﻗَﻠْﺒِﻪِ ﺃَﺩْﻧَﻰ ﺃَﺩْﻧَﻰ ﺃَﺩْﻧَﻰ ﻣِﺜْﻘَﺎﻝِ ﺣَﺒَّﺔِ ﺧَﺮْﺩَﻝٍ ﻣِﻦْ ﺇِﻳﻤَﺎﻥٍ، ﻓَﺄَﺧْﺮِﺟْﻪُ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻓَﺄَﻧْﻄَﻠِﻖُ ﻓَﺄَﻓْﻌَﻞُ » . ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺧَﺮَﺟْﻨَﺎ ﻣِﻦْ ﻋِﻨْﺪِ ﺃَﻧَﺲٍ ﻗُﻠْﺖُ ﻟِﺒَﻌْﺾِ ﺃَﺻْﺤَﺎﺑِﻨَﺎ: ﻟَﻮْ ﻣَﺮَﺭْﻧَﺎ ﺑِﺎﻟْﺤَﺴَﻦِ ﻭَﻫُﻮَ ﻣُﺘَﻮَﺍﺭٍ ﻓِﻲ ﻣَﻨْﺰِﻝِ ﺃَﺑِﻲ ﺧَﻠِﻴﻔَﺔَ
ﻓَﺤَﺪَّﺛْﻨَﺎﻩُ ﺑِﻤَﺎ ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺃَﻧَﺲُ ﺑْﻦُ ﻣَﺎﻟِﻚٍ ﻓَﺄَﺗَﻴْﻨَﺎﻩُ ﻓَﺴَﻠَّﻤْﻨَﺎ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻓَﺄَﺫِﻥَ ﻟَﻨَﺎ ﻓَﻘُﻠْﻨَﺎ ﻟَﻪُ: ﻳَﺎ ﺃَﺑَﺎ ﺳَﻌِﻴﺪٍ ﺟِﺌْﻨَﺎﻙَ ﻣِﻦْ ﻋِﻨْﺪِ ﺃَﺧِﻴﻚَ ﺃَﻧَﺲِ ﺑْﻦِ ﻣَﺎﻟِﻚٍ ﻓَﻠَﻢْ ﻧَﺮَ ﻣِﺜْﻞَ ﻣَﺎ ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟﺸَّﻔَﺎﻋَﺔِ , ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﻫِﻴﻪْ , ﻓَﺤَﺪَّﺛْﻨَﺎﻩُ ﺑِﺎﻟْﺤَﺪِﻳﺚِ ﻓَﺎﻧْﺘَﻬَﻰ ﺇِﻟَﻰ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟْﻤَﻮْﺿِﻊِ, ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﻫِﻴﻪْ ,
ﻓَﻘُﻠْﻨَﺎ: ﻟَﻢْ ﻳَﺰِﺩْ ﻟَﻨَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻫَﺬَﺍ ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﻟَﻘَﺪْ ﺣَﺪَّﺛَﻨِﻲ ﻭَﻫُﻮَ ﺟَﻤِﻴﻊٌ ﻣُﻨْﺬُ ﻋِﺸْﺮِﻳﻦَ ﺳَﻨَﺔً ﻓَﻠَﺎ ﺃَﺩْﺭِﻱ ﺃَﻧَﺴِﻲَ ﺃَﻡْ ﻛَﺮِﻩَ ﺃَﻥْ ﺗَﺘَّﻜِﻠُﻮﺍ , ﻗُﻠْﻨَﺎ: ﻳَﺎ ﺃَﺑَﺎ ﺳَﻌِﻴﺪٍ ﻓَﺤَﺪِّﺛْﻨَﺎ , ﻓَﻀَﺤِﻚَ، ﻭَﻗَﺎﻝَ: ﺧُﻠِﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧْﺴَﺎﻥُ ﻋَﺠُﻮﻻً، ﻣَﺎ ﺫَﻛَﺮْﺗُﻪُ ﺇِﻟَّﺎ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﺃُﺭِﻳﺪُ ﺃَﻥْ ﺃُﺣَﺪِّﺛَﻜُﻢْ، ﺣَﺪَّﺛَﻨِﻲ ﻛَﻤَﺎ ﺣَﺪَّﺛَﻜُﻢْ
ﺑِﻪِ ﻗَﺎﻝَ: « ﺛُﻢَّ ﺃَﻋُﻮﺩُ ﺍﻟﺮَّﺍﺑِﻌَﺔَ ﻓَﺄَﺣْﻤَﺪُﻩُ ﺑِﺘِﻠْﻚَ ﺍﻟْﻤَﺤَﺎﻣِﺪِ ﺛُﻢَّ ﺃَﺧِﺮُّ ﻟَﻪُ ﺳَﺎﺟِﺪًﺍ ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ: ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺍﺭْﻓَﻊْ ﺭَﺃْﺳَﻚَ، ﻭَﻗُﻞْ ﻳُﺴْﻤَﻊْ، ﻭَﺳَﻞْ ﺗُﻌْﻄَﻪْ، ﻭَﺍﺷْﻔَﻊْ ﺗُﺸَﻔَّﻊْ، ﻓَﺄَﻗُﻮﻝُ: ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﺍﺋْﺬَﻥْ ﻟِﻲ ﻓِﻴﻤَﻦْ ﻗَﺎﻝَ: ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ، ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ : ﻭَﻋِﺰَّﺗِﻲ ﻭَﺟَﻠَﺎﻟِﻲ ﻭَﻛِﺒْﺮِﻳَﺎﺋِﻲ
ﻭَﻋَﻈَﻤَﺘِﻲ ﻟَﺄُﺧْﺮِﺟَﻦَّ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﻣَﻦْ ﻗَﺎﻝَ ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ » . ( ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
৮৫. মা‘বাদ ইব্ন হিলাল আনাজি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা বসরার কতক লোক একসাথে আনাস ইব্ন মালেকের নিকট
গেলাম। আমরা আমাদের সাথে সাবেত আল-বুনানিকে নিয়ে গেলাম, যেন সে আমাদের পক্ষে তাকে সুপারিশের হাদিস
সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তিনি বাড়িতেই ছিলেন, আমরা তাকে দোহা (চাশতে)র সালাত আদায় করতে পেলাম। আমরা
অনুমতি চাইলাম, তিনি আমাদেরকে অনুমতি দিলেন, তিনি বিছানায় উপবিষ্ট ছিলেন। আমরা সাবেতকে বললাম: সুপারিশের
হাদিসের পূর্বে কোন বিষয় সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করবেন না, তিনি বললেন: হে আবু হামযাহ, তারা আপনার ভাই বসরার
অধিবাসী, তারা আপনার নিকট এসেছে সুপারিশের হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য। অতঃপর তিনি বললেন: মুহাম্মদ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন: “যখন কিয়ামতের দিন হবে মানুষ ভীড়ে ঠাসাঠাসি করবে, অতঃপর
তারা আদম আলাইহিস সালামের নিকট আসবে ও বলবে: আমাদের জন্য আপনার রবের নিকট সুপারিশ করুন, তিনি বলবেন: আমি এর
উপযুক্ত নই, তবে তোমরা ইবরাহিমের নিকট যাও, কারণ তিনি রহমানের খলিল। তারা ইবরাহিমের নিকট আসবে, তিনি বলবেন:
আমি এ জন্য নই, তবে তোমরা মুসার নিকট যাও, কারণ তিনি আল্লাহর সাথে কথোপকথনকারী। তারা মুসার নিকট আসবে, তিনি
বলবেন: আমি এ জন্য নই, তবে তোমরা ঈসার নিকট যাও, কারণ তিনি আল্লাহর (পক্ষ থেকে বিশেষ) রূহ ও তার বাণী। তারা ঈসার
নিকট আসবে, অতঃপর তিনি বলবেন: আমি এ জন্য নই, তবে তোমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যাও,
অতঃপর তারা আমার নিকট আসবে, আমি বলব: আমি এ জন্য, আমি আমার রবের নিকট অনুমতি প্রার্থনা করব, আমাকে অনুমতি
দেয়া হবে, তিনি আমাকে প্রশংসার বাক্য শিক্ষা দিবেন যা দ্বারা আমি তার প্রশংসা করব, যা এখন আমার স্মরণ নেই। আমি
তার প্রশংসা করব ও সেজদায় লুটিয়ে পড়ব, তিনি বলবেন: হে মুহাম্মদ মাথা উঠাও, তুমি বল তোমার কথা শোনা হবে, তুমি চাও
তোমাকে দেয়া হবে, তুমি সুপারিশ কর তোমার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। আমি বলব: হে আমার রব, আমার উম্মত, আমার উম্মত।
তিনি বলবেন: যাও, সেখান থেকে বের কর যার অন্তরে গমের ওজন বরাবর ঈমান রয়েছে, আমি যাব ও অনুরূপ করব। অতঃপর ফিরে
আসব ও সে প্রশংসার বাক্য দ্বারা তার প্রশংসা করব, অতঃপর তার সেজদায় লুটিয়ে পড়ব, অতঃপর বলা হবে: হে মুহাম্মদ মাথা
উঠাও, বল তোমার কথা শোনা হবে, চাও তোমাকে দেয়া হবে, সুপারিশ কর তোমার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। আমি বলব: হে আমার
রব, আমার উম্মত, আমার উম্মত। তিনি বলবেন: যাও, সেখান থেকে বের কর যার অন্তরে অণু অথবা সরিষা পরিমান ঈমান রয়েছে,
আমি যাব ও অনুরূপ করব। অতঃপর ফিরে এসে সে বাক্য দ্বারা তার প্রশংসা করব অতঃপর সেজদায় লুটিয়ে পড়ব, বলা হবে: হে
মুহাম্মদ মাথা উঠাও, বল তোমার কথা শোনা হবে, চাও তোমাকে দেয়া হবে, সুপারিশ কর কবুল করা হবে, অতঃপর আমি বলব: হে
আমার রব, আমার উম্মত, আমার উম্মত। তিনি বলবেন: যাও, বের কর যার অন্তরে সরিষার অণু অণু অণু পরিমাণ ঈমান রয়েছে, অতএব
আমি তাকে জাহান্নাম থেকে বের করব, আমি যাব ও অনুরূপ করব”। আমরা যখন আনাসের কাছ থেকে প্রস্থান করলাম, আমি
আমাদের কতক সাথীকে বললাম: আমরা যদি হাসান বসরি হয়ে যাই, তার নিকট আনাসের হাদিস বর্ণনা করি! তখন তিনি আবু
খলিফার ঘরে আত্মগোপন করে ছিলেন, আমরা তার নিকট আসলাম, তাকে সালাম করলাম, তিনি আমাদেরকে অনুমতি দিলেন,
আমরা তাকে বললাম: হে আবু সায়িদ, আমরা আপনার নিকট আপনার ভাই আনাস ইব্ন মালেকের কাছ থেকে এসেছি, তিনি
আমাদেরকে সুপারিশ সম্পর্কে যা শুনিয়েছেন তা কখনো শুনেনি। তিনি বললেন: বল, আমরা তাকে হাদিস বললাম, এখানে এসে
শেষ করলাম। তিনি বললেন: বল, আমরা বললাম এরচেয়ে বেশী বলেন নি। তিনি বললেন: তিনি আমাকে বলেছেন পূর্ণ বিশ বছর
পূর্বে, জানি না তিনি ভুলে গেছেন বা তোমাদের (পক্ষ থেকে কম আমলের উপর) নির্ভর করে থাকাকে অপছন্দ করেছেন। আমরা
বললাম: হে আবু সায়িদ আপনি আমাদেরকে বলুন, তিনি হাসলেন ও বললেন: মানুষকে তড়িৎ প্রবণ করে সৃষ্টি করা হয়েছে, আমি তো
তোমাদেরকে বলার জন্যই বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন যেমন তোমাদেরকে তা বলেছেন। তিনি বলেন: “অতঃপর আমি
চতুর্থবার ফিরব এবং সে বাক্য দ্বারা তার প্রশংসা করব, অতঃপর তার সেজদায় লুটিয়ে পড়ব, বলা হবে: হে মুহাম্মদ, মাথা উঠাও,
বল শোনা হবে, চাও দেয়া হবে, সুপারিশ কর কবুল করা হবে। আমি বলব: হে আমার রব, যারা বলেছে ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ তাদের ব্যাপারে
আমাকে অনুমতি দিন। তিনি বলবেন: আমার ইজ্জত, বড়ত্ব, মহত্ত্ব ও সম্মানের কসম, অবশ্যই আমি তাকে বের করব, ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ যে
বলেছে”। [বুখারি ও মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
উম্মতে মুহাম্মাদির ফযিলত
-86 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺳَﻌِﻴﺪٍ ﺍﻟْﺨُﺪْﺭِﻱِّ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ- ﻗَﺎﻝَ: ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﻳُﺪْﻋَﻰ ﻧُﻮﺡٌ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻟَﺒَّﻴْﻚَ ﻭَﺳَﻌْﺪَﻳْﻚَ ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ , ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻫَﻞْ ﺑَﻠَّﻐْﺖَ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻧَﻌَﻢْ، ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ ﻟِﺄُﻣَّﺘِﻪِ: ﻫَﻞْ ﺑَﻠَّﻐَﻜُﻢْ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ : ﻣَﺎ
ﺃَﺗَﺎﻧَﺎ ﻣِﻦْ ﻧَﺬِﻳﺮٍ، ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻣَﻦْ ﻳَﺸْﻬَﺪُ ﻟَﻚَ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻣُﺤَﻤَّﺪٌ ﻭَﺃُﻣَّﺘُﻪُ , ﻓَﺘَﺸْﻬَﺪُﻭﻥَ ﺃَﻧَّﻪُ ﻗَﺪْ ﺑَﻠَّﻎَ - ﻭَﻳَﻜُﻮﻥَ ﺍﻟﺮَّﺳُﻮﻝُ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺷَﻬِﻴﺪًﺍ - ﻓَﺬَﻟِﻚَ ﻗَﻮْﻟُﻪُ ﺟَﻞَّ ﺫِﻛْﺮُﻩُ : ﴿ﻭَﻛَﺬَٰﻟِﻚَ ﺟَﻌَﻠۡﻨَٰﻜُﻢۡ ﺃُﻣَّﺔٗ ﻭَﺳَﻄٗﺎ ﻟِّﺘَﻜُﻮﻧُﻮﺍْ ﺷُﻬَﺪَﺍٓﺀَ ﻋَﻠَﻰ ﭐﻟﻨَّﺎﺱِ ﻭَﻳَﻜُﻮﻥَ ﭐﻟﺮَّﺳُﻮﻝُ ﻋَﻠَﻴۡﻜُﻢۡ ﺷَﻬِﻴﺪٗﺍۗ
﴾ ( ﻭَﺍﻟْﻮَﺳَﻂُ ﺍﻟْﻌَﺪْﻝُ ». ( ﺥ , ﺕ , ﺟﻪ ) ﺻﺤﻴﺢ
৮৬. আবু সায়িদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কিয়ামতের
দিন নুহ আলাইহিস সালামকে ডাকা হবে, তিনি বলবেন: সদা উপস্থিত, আপনার সন্তুষ্টি বিধানে আমি সদা তৎপর হে আমার রব,
তিনি বলবেন: তুমি পৌঁছিয়েছ? তিনি বলবেন: হ্যাঁ, তার উম্মতকে বলা হবে: সে তোমাদের পৌঁছিয়েছে? তারা বলবে: আমাদের
নিকট কোন সতর্ককারী আসে নি। তিনি বলবেন: তোমার জন্য কে সাক্ষী দিবে? তিনি বলবেন: মুহাম্মদ ও তার উম্মত, অতঃপর
তারা সাক্ষ্য দিবে যে, নিশ্চয় তিনি পৌঁছিয়েছেন, আর রাসূল হবেন তোমাদের সাক্ষী। এ হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
﴿ ﻭَﻛَﺬَٰﻟِﻚَ ﺟَﻌَﻠۡﻨَٰﻜُﻢۡ ﺃُﻣَّﺔٗ ﻭَﺳَﻄٗﺎ ﻟِّﺘَﻜُﻮﻧُﻮﺍْ ﺷُﻬَﺪَﺍٓﺀَ ﻋَﻠَﻰ ﭐﻟﻨَّﺎﺱِ ﻭَﻳَﻜُﻮﻥَ ﭐﻟﺮَّﺳُﻮﻝُ ﻋَﻠَﻴۡﻜُﻢۡ ﺷَﻬِﻴﺪٗﺍۗ ١٤٣ ﴾ [ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ: ١٤٣ ] ( ﻭَﺍﻟْﻮَﺳَﻂُ ﺍﻟْﻌَﺪْﻝُ » .
“আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী উম্মত বানিয়েছি, যাতে তোমরা মানুষের উপর সাক্ষী হও এবং রাসূল সাক্ষী হন
তোমাদের উপর”। [31] ওয়াসাত অর্থ ইনসাফপূর্ণ পথ বা মধ্যমপন্থার অনুসারী”। [বুখারি, তিরমিযি ও ইব্ন মাজাহ] হাদিসটি সহিহ।
-87 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻣُﻮﺳَﻰ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ- ﻗَﺎﻝَ: ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﺇِﺫَﺍ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻮْﻡُ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﺩَﻓَﻊَ ﺍﻟﻠَّﻪُ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ- ﺇِﻟَﻰ ﻛُﻞِّ ﻣُﺴْﻠِﻢٍ ﻳَﻬُﻮﺩِﻳًّﺎ ﺃَﻭْ ﻧَﺼْﺮَﺍﻧِﻴًّﺎ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻫَﺬَﺍ ﻓِﻜَﺎﻛُﻚَ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ». ( ﻡ , ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ
৮৭. আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন কিয়ামতের দিন
হবে আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক মুসলিমের নিকট একজন ইহুদি অথবা খৃস্টান দিবেন, অতঃপর বলবেন: এ হচ্ছে তোমার জাহান্নাম
থেকে মুক্তির বিনিময় [32] ”। [মুসলিম ও আহমদ] হাদিসটি সহিহ।
-88 ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻣﻮﺳﻰ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ- ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﺗُﺤْﺸَﺮُ ﻫﺬﻩ ﺍﻷﻣﺔُ ﻋﻠﻰ ﺛﻼﺛﺔِ ﺃﺻﻨﺎﻑٍ: ( ﺻﻨﻒ ) ﻳﺪﺧُﻠﻮﻥ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺑﻐﻴﺮ ﺣﺴﺎﺏٍ ( ﻭﺻﻨﻒٍ ) ﻳُﺤﺎﺳﺒﻮﻥ ﺣﺴﺎﺑًﺎ ﻳﺴﻴﺮًﺍ ﺛﻢ ﻳَﺪْﺧﻠﻮﻥ ﺍﻟﺠﻨﺔ، ( ﻭﺻﻨﻒ )
ﻳﺠﻴﺌﻮﻥ ﻋﻠﻰ ﻇﻬﻮﺭﻫﻢ ﺃﻣﺜﺎﻝُ ﺍﻟﺠﺒﺎﻝِ ﺍﻟﺮﺍﺳﻴﺎﺕِ ﺫُﻧﻮﺑًﺎ ﻓﻴﺴﺄﻝُ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻢ ﻭﻫﻮ ﺃﻋﻠﻢ ﺑﻬﻢ ﻓﻴﻘﻮﻝ: ﻣﺎ ﻫﺆﻻﺀ؟ ﻓﻴﻘﻮﻟﻮﻥ: ﻫﺆﻻﺀ ﻋﺒﻴﺪٌ ﻣﻦ ﻋﺒﺎﺩِﻙ، ﻓﻴﻘﻮﻝ: ﺣُﻄُّﻮﻫﺎ ﻋﻨﻬﻢ ﻭﺍﺟﻌﻠﻮﻫﺎ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻴﻬﻮﺩِ ﻭﺍﻟﻨَّﺼﺎﺭﻯ ﻭﺃﺩْﺧِﻠﻮﻫﻢ ﺑﺮﺣﻤﺘﻲ ﺍﻟﺠﻨَّﺔ
» . ( ﻙ ) ﺣﺴﻦ
৮৮. আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “এ উম্মতকে তিন ভাগে
উপস্থিত করা হবে: প্রথম ভাগ বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। দ্বিতীয় ভাগ থেকে সামান্য হিসেব নেয়া হবে, অতঃপর
তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। তৃতীয় ভাগ নিজেদের পিঠের ওপর বড় পাহাড়ের ন্যায় পাপসহ উপস্থিত হবে, অতঃপর আল্লাহ
তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবেন, অথচ তিনি তাদের সম্পর্কে অধিক জানেন: এরা কারা? তারা বলবে: এরা আপনার কতক বান্দা।
তিনি বলবেন: এসব তাদের থেকে হটাও, এগুলো ইহুদি ও খৃস্টানদের ওপর রাখ এবং তাদেরকে আমার রহমতে জান্নাতে প্রবেশ
করাও”। [হাকেম] হাদিসটি হাসান।
-89 ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺃﻣﺎﻣﺔ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ- ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: «ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻳﻮﻡُ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﻗﺎﻣﺖ ﺛُﻠﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﻨَّﺎﺱ ﻳﺴﺪﻭﻥ ﺍﻷﻓﻖ ﻧﻮﺭﻫﻢ ﻛﺎﻟﺸﻤﺲ، ﻓﻴﻘﺎﻝ : ﺍﻟﻨﺒﻲُّ ﺍﻷﻣﻲ ﻓﻴﺘﺤﺴﺲ ﻟﻬﺎ ﻛﻞُّ ﻧَﺒﻲٍّ ﻓﻴُﻘَﺎﻝُ : ﻣﺤﻤﺪ ﻭﺃﻣﺘﻪ، ﺛﻢ
ﺗﻘﻮﻡ ﺛُﻠَّﺔٌ ﺃﺧﺮﻯ ﻳَﺴﺪُّ ﻣﺎ ﺑﻴﻦ ﺍﻷﻓﻖ ﻧُﻮﺭﻫﻢ ﻛﺎﻟﻘﻤﺮ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺒﺪﺭ، ﻓﻴﻘﺎﻝ: ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺍﻷﻣﻲ، ﻓﻴﺘﺤﺴﺲ ﻟﻬﺎ ﻛﻞ ﺷﻲﺀٍ، ﻓﻴﻘﺎﻝ: ﻣﺤﻤﺪٌ ﻭﺃﻣﺘﻪ، ﺛﻢ ﺗﻘﻮﻡ ﺛُﻠﺔٌ ﺃﺧﺮﻯ ﻳﺴﺪ ﻣﺎ ﺑﻴﻦ ﺍﻷﻓﻖ ﻧﻮﺭﻫﻢ ﻣﺜﻞ ﻛﻮﻛﺐ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ، ﻓﻴﻘﺎﻝ: ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺍﻷﻣﻲ،
ﻓﻴﺘﺤﺴﺲ ﻟﻬﺎ ﻛﻞ ﺷﻲﺀٍ، ﻓﻴﻘﺎﻝ : ﻣﺤﻤﺪٌ ﻭﺃﻣﺘﻪ، ﺛﻢ ﻳﺤﺜﻲ ﺣﺜﻴﺘﻴﻦ ﻓﻴﻘﻮﻝ: ﻫﺬﺍ ﻟﻚ ﻳﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﻭﻫﺬﺍ ﻣﻨﻲ ﻟﻚ ﻳﺎ ﻣﺤﻤﺪ , ﺛﻢ ﻳﻮﺿﻊ ﺍﻟﻤﻴﺰﺍﻥُ ﻭﻳﺆُﺧﺬ ﻓﻲ ﺍﻟﺤﺴﺎﺏ » . ( ﻃﺐ ) ﺣﺴﻦ
৮৯. আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন কিয়ামতের
দিন হবে একদল মানুষ দাঁড়াবে, তাদের নূর সূর্যের ন্যায় দিগন্ত ঢেকে ফেলবে, অতঃপর বলা হবে: উম্মী নবী, প্রত্যেক নবী এ
জন্য প্রস্তুত হবেন। অতঃপর বলা হবে: মুহাম্মদ ও তার উম্মত। অতঃপর একদল দাঁড়াবে তাদের নূর চৌদ্দ তারিখের চাঁদের ন্যায়
দিগন্তের মধ্যবর্তী সব ঢেকে ফেলবে, বলা হবে: উম্মী নবী, প্রত্যেকেই এ জন্য প্রস্তুত হবেন, অতঃপর বলা হবে: মুহাম্মদ ও তার
উম্মত। অতঃপর একদল দাঁড়াবে তাদের নূর আসমানের তারকার ন্যায় দিগন্তের মধ্যবর্তী সব ঢেকে ফেলবে, বলা হবে: উম্মী নবী,
প্রত্যেকেই এ জন্য প্রস্তুত হবেন, অতঃপর বলা হবে: মুহাম্মদ ও তার উম্মত। অতঃপর দু’ মুষ্টি উঠাবেন ও বলবেন: এটা তোমার জন্য হে
মুহাম্মদ ও এটা আমার পক্ষ থেকে তোমার জন্য হে মুহাম্মদ। অতঃপর মীযান কায়েম করা হবে এবং হিসাব আরম্ভ হবে”।
[তাবরানি] হাদিসটি হাসান।
-90 ﻋﻦ ﺃﻧﺲ ﺑﻦ ﻣﺎﻟﻚ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ- ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: « ﺃﺗﺎﻧﻲ ﺟﺒﺮﻳﻞُ ﺑﻤﺜﻞ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﻤﺮﺁﺓ ﺍﻟﺒﻴﻀﺎﺀ ﻓﻴﻬﺎ ﻧُﻜْﺘﺔ ﺳﻮﺩﺍﺀ، ﻗﻠﺖ: ﻳﺎ ﺟﺒﺮﻳﻞُ ﻣﺎ ﻫﺬﻩ؟ ﻗﺎﻝ : ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺠُﻤُﻌﺔ ﺟﻌﻠﻬﺎ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻴﺪًﺍ ﻟﻚ ﻭﻷﻣﺘﻚ ﻓﺄﻧﺘﻢ
ﻗﺒﻞ ﺍﻟﻴﻬﻮﺩ ﻭﺍﻟﻨﺼﺎﺭﻯ، ﻓﻴﻬﺎ ﺳﺎﻋﺔٌ ﻻ ﻳﻮﺍﻓﻘﻬﺎ ﻋﺒﺪٌ ﻳﺴﺄﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻴﻬﺎ ﺧﻴﺮًﺍ ﺇﻻ ﺃﻋﻄﺎﻩُ ﺇﻳﺎﻩ، ﻗﺎﻝ: ﻗﻠﺖ: ﻣﺎ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﻨُﻜْﺘﺔُ ﺍﻟﺴﻮﺩﺍﺀ؟ ﻗﺎﻝ: ﻫﺬﺍ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﺗَﻘُﻮﻡ ﻓﻲ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ، ﻭﻧﺤﻦ ﻧﺪﻋﻮﻩ ﻋﻨﺪﻧﺎ ( ﺍﻟﻤﺰﻳﺪ ) ﻗﺎﻝ: ﻗﻠﺖ: ﻣﺎ ﻳﻮﻡُ
ﺍﻟﻤﺰﻳﺪ؟ ﻗﺎﻝ: ﺇﻥَّ ﺍﻟﻠﻪ ﺟﻌﻞ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻭﺍﺩﻳًﺎ ﺃﻓﻴﺢ، ﻭﺟﻌﻞ ﻓﻴﻪ ﻛُﺜْﺒﺎﻧًﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺴﻚ ﺍﻷﺑﻴﺾ، ﻓﺈﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻳﻮﻡُ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﻳﻨﺰﻝُ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻴﻪ ﻓﻮﺿﻌﺖ ﻓﻴﻪ ﻣﻨﺎﺑﺮ ﻣﻦ ﺫﻫﺐ ﻟﻸﻧﺒﻴﺎﺀ ﻭﻛﺮﺍﺳﻲ ﻣﻦ ﺩﺭٍّ ﻟﻠﺸﻬﺪﺍﺀٍ، ﻭﻳﻨﺰﻟﻦ ﺍﻟﺤﻮﺭُ ﺍﻟﻌﻴﻦُ ﻣﻦ ﺍﻟﻐُﺮﻑ
ﻓﺤﻤﺪﻭﺍ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻣَﺠَّﺪﻭﻩ، ﻗﺎﻝ: ﺛﻢ ﻳﻘﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ: ﺍﻛﺴﻮﺍ ﻋﺒﺎﺩﻱ ﻓﻴﻜﺴﻮﻥ، ﻭﻳﻘﻮﻝ: ﺃﻃﻌﻤﻮﺍ ﻋﺒﺎﺩﻱ ﻓﻴﻄﻌﻤﻮﻥ، ﻭﻳﻘﻮﻝ : ﺍﺳﻘﻮﺍ ﻋﺒﺎﺩﻱ ﻓﻴﺴﻘﻮﻥ، ﻭﻳﻘﻮﻝ: ﻃﻴِّﺒﻮﺍ ﻋﺒﺎﺩﻱ ﻓﻴﻄﻴﺒﻮﻥ، ﺛﻢ ﻳﻘﻮﻝ: ﻣﺎﺫﺍ ﺗُﺮﻳﺪﻭﻥ؟ ﻓﻴﻘﻮﻟﻮﻥ: ﺭﺑﻨﺎ ﺭﺿﻮﺍﻧﻚ، ﻗﺎﻝ:
ﻳﻘﻮﻝ: ﺭﺿﻴﺖ ﻋﻨﻜﻢ ﺛﻢ ﻳﺄﻣﺮﻫﻢ ﻓﻴﻨﻄﻠﻘﻮﻥ ﻭﺗﺼﻌﺪُ ﺍﻟﺤﻮﺭُ ﺍﻟﻌﻴﻦ ﺍﻟﻐﺮﻑَ، ﻭﻫﻲ ﻣﻦ ﺯﻣﺮﺩﺓٍ ﺧﻀﺮﺍﺀ ﻭﻣﻦ ﻳﺎﻗﻮﺗﺔٍ ﺣﻤﺮﺍﺀ » . ( ﻳﻊ ) ﺻﺤﻴﺢ
৯০. আনাস ইব্ন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সাদা এ
আয়নার ন্যায় অনুরূপ আয়না নিয়ে জিবরিল আমার নিকট এসেছে তাতে কালো একটি ফোঁটা। আমি বললাম: হে জিবরিল এটা কি?
তিনি বললেন: এ হচ্ছে জুমা, আল্লাহ যা তোমার ও তোমার উম্মতের জন্য ঈদ বানিয়েছেন, তোমরাই ইহুদি ও খৃস্টানদের পূর্বে,
(অর্থাৎ তাদের সাপ্তাহিক ঈদের পূর্বদিন তোমাদের ঈদের দিন) তাতে একটি মুহূর্ত রয়েছে, সে সময় বান্দা আল্লাহর নিকট কোন
কল্যাণ প্রার্থনা করবে না, যা তিনি তাকে দিবেন না। তিনি বলেন: আমি বললাম: এ কালো ফোঁটা কি? তিনি বললেন: এ হচ্ছে
কিয়ামত জুমার দিন কায়েম হবে, আমরা একে মাযিদ বলি। তিনি বলেন: আমি বললাম: ইয়াওমুল মাযিদ কি? তিনি বললেন:
আল্লাহ জান্নাতে প্রশস্ত ময়দান তৈরি করেছেন, সেখানে তিনি সাদা মিশকের স্তূপ রেখেছেন, যখন জুমার দিন হয় আল্লাহ
সেখানে অবতরণ করবেন, সেখানে নবীদের জন্য স্বর্ণের মিম্বার রাখা হয়, আর শহীদদের জন্য মুক্তোর চেয়ার এবং (জান্নাতের)
প্রাসাদসমূহ থেকে ‘হূরুল ঈন’ বা ডাগর নয়না হূর অবতরণ করে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ-গান করবে। তিনি বলেন: অতঃপর আল্লাহ
বলবেন: আমার বান্দাদের কাপড় পরিধান করাও, তাদের কাপড় পরিধান করানো হবে। তিনি বলবেন: আমার বান্দাদের খাদ্য দাও,
তাদের খাদ্য দেয়া হবে। তিনি বলবেন: আমার বান্দাদের পান করাও, তাদের পান করানো হবে। তিনি বলবেন: আমার বান্দাদের
সুগন্ধি দাও, তাদের সুগন্ধি দেয়া হবে। অতঃপর বলবেন: তোমরা কি চাও? তারা বলবে: হে আমাদের রব তোমার সন্তুষ্টি। তিনি
বলেন: তিনি বলবেন: আমি তোমাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছি, অতঃপর তাদেরকে নির্দেশ দিবেন, তারা যাবে ও ‘হূরল ঈন’
প্রাসাদসমূহে প্রবেশ করবে যা সবুজ মণি-মুক্তা ও লাল ইয়াকুত পাথরের তৈরি”। [আবু ইয়ালা] হাদিসটি সহিহ।
-91 ﻋَﻦْ ﺍﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ- ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺑَﻘَﺎﺅُﻛُﻢْ ﻓِﻴﻤَﻦْ ﺳَﻠَﻒَ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﺄُﻣَﻢِ ﻛَﻤَﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﺻَﻠَﺎﺓِ ﺍﻟْﻌَﺼْﺮِ ﺇِﻟَﻰ ﻏُﺮُﻭﺏِ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲِ , ﺃُﻭﺗِﻲَ ﺃَﻫْﻞُ ﺍﻟﺘَّﻮْﺭَﺍﺓِ ﺍﻟﺘَّﻮْﺭَﺍﺓَ ﻓَﻌَﻤِﻠُﻮﺍ ﺑِﻬَﺎ ﺣَﺘَّﻰ ﺍﻧْﺘَﺼَﻒَ ﺍﻟﻨَّﻬَﺎﺭُ ﺛُﻢَّ
ﻋَﺠَﺰُﻭﺍ ﻓَﺄُﻋْﻄُﻮﺍ ﻗِﻴﺮَﺍﻃًﺎ ﻗِﻴﺮَﺍﻃًﺎ، ﺛُﻢَّ ﺃُﻭﺗِﻲَ ﺃَﻫْﻞُ ﺍﻟْﺈِﻧْﺠِﻴﻞِ ﺍﻟْﺈِﻧْﺠِﻴﻞَ ﻓَﻌَﻤِﻠُﻮﺍ ﺑِﻪِ ﺣَﺘَّﻰ ﺻُﻠِّﻴَﺖْ ﺍﻟْﻌَﺼْﺮُ ﺛُﻢَّ ﻋَﺠَﺰُﻭﺍ ﻓَﺄُﻋْﻄُﻮﺍ ﻗِﻴﺮَﺍﻃًﺎ ﻗِﻴﺮَﺍﻃًﺎ، ﺛُﻢَّ ﺃُﻭﺗِﻴﺘُﻢْ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻓَﻌَﻤِﻠْﺘُﻢْ ﺑِﻪِ ﺣَﺘَّﻰ ﻏَﺮَﺑَﺖْ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲُ ﻓَﺄُﻋْﻄِﻴﺘُﻢْ ﻗِﻴﺮَﺍﻃَﻴْﻦِ ﻗِﻴﺮَﺍﻃَﻴْﻦِ، ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺃَﻫْﻞُ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ
ﻫَﺆُﻟَﺎﺀِ ﺃَﻗَﻞُّ ﻣِﻨَّﺎ ﻋَﻤَﻼً ﻭَﺃَﻛْﺜَﺮُ ﺃَﺟْﺮًﺍ، ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ: ﻫَﻞْ ﻇَﻠَﻤْﺘُﻜُﻢْ ﻣِﻦْ ﺣَﻘِّﻜُﻢْ ﺷَﻴْﺌًﺎ؟ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ: ﻟَﺎ، ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﻬُﻮَ ﻓَﻀْﻠِﻲ ﺃُﻭﺗِﻴﻪِ ﻣَﻦْ ﺃَﺷَﺎﺀُ » . ( ﺥ ) ﺻﺤﻴﺢ
৯১. ইব্ন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের পূর্বের
উম্মতের তুলনায় তোমাদের স্থায়িত্ব হচ্ছে আসর সালাত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। আহলে তাওরাতকে তাওরাত প্রদান করা
হয়েছে, তারা তার ওপর দিনের অর্ধেক আমল করে অতঃপর অক্ষমতা প্রকাশ করেছে, তাই তাদেরকে এক কিরাত [33] এক কিরাত
দেয়া হয়েছে। অতঃপর আহলে ইঞ্জিলকে ইঞ্জিল দেয়া হয়েছে, তারা তার ওপর আমল করেছে আসর সালাত পর্যন্ত, অতঃপর তারা
অক্ষমতা প্রকাশ করেছে, তাই তাদেরকে এক কিরাত এক কিরাত দেয়া হয়েছে। অতঃপর তোমাদেরকে কুরআন দেয়া হয়েছে,
তোমরা তার ওপর আমল করেছ সূর্যাস্ত পর্যন্ত, তাতেই তোমাদেরকে দুই কিরাত দুই কিরাত প্রদান করা হয়েছে। কিতাবিরা বলল:
তারা আমাদের তুলনায় আমলে কম, কিন্তু সওয়াবে অধিক। আল্লাহ বললেন: আমি কি তোমাদের হক থেকে সামান্য বঞ্চিত
করেছি? তারা বলল: না, তিনি বললেন: এটা আমার অনুগ্রহ, আমি যাকে চাই দান করি”। [বুখারি] হাদিসটি সহিহ।
-92 ﻋَﻦْ ﺛَﻮْﺑَﺎﻥَ- ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ - ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: « ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺯَﻭَﻯ ﻟِﻲ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽَ ﻓَﺮَﺃَﻳْﺖُ ﻣَﺸَﺎﺭِﻗَﻬَﺎ ﻭَﻣَﻐَﺎﺭِﺑَﻬَﺎ، ﻭَﺇِﻥَّ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﺳَﻴَﺒْﻠُﻎُ ﻣُﻠْﻜُﻬَﺎ ﻣَﺎ ﺯُﻭِﻱَ ﻟِﻲ ﻣِﻨْﻬَﺎ، ﻭَﺃُﻋْﻄِﻴﺖُ ﺍﻟْﻜَﻨْﺰَﻳْﻦِ ﺍﻟْﺄَﺣْﻤَﺮَ ﻭَﺍﻟْﺄَﺑْﻴَﺾَ، ﻭَﺇِﻧِّﻲ ﺳَﺄَﻟْﺖُ
ﺭَﺑِّﻲ ﻟِﺄُﻣَّﺘِﻲ ﺃَﻥْ ﻟَﺎ ﻳُﻬْﻠِﻜَﻬَﺎ ﺑِﺴَﻨَﺔٍ ﻋَﺎﻣَّﺔٍ، ﻭَﺃَﻥْ ﻟَﺎ ﻳُﺴَﻠِّﻂَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻋَﺪُﻭًّﺍ ﻣِﻦْ ﺳِﻮَﻯ ﺃَﻧْﻔُﺴِﻬِﻢْ ﻓَﻴَﺴْﺘَﺒِﻴﺢَ ﺑَﻴْﻀَﺘَﻬُﻢْ، ﻭَﺇِﻥَّ ﺭَﺑِّﻲ ﻗَﺎﻝَ: ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺇِﻧِّﻲ ﺇِﺫَﺍ ﻗَﻀَﻴْﺖُ ﻗَﻀَﺎﺀً ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻟَﺎ ﻳُﺮَﺩُّ، ﻭَﺇِﻧِّﻲ ﺃَﻋْﻄَﻴْﺘُﻚَ ﻟِﺄُﻣَّﺘِﻚَ ﺃَﻥْ ﻟَﺎ ﺃُﻫْﻠِﻜَﻬُﻢْ ﺑِﺴَﻨَﺔٍ ﻋَﺎﻣَّﺔٍ، ﻭَﺃَﻥْ ﻟَﺎ ﺃُﺳَﻠِّﻂَ
ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻋَﺪُﻭًّﺍ ﻣِﻦْ ﺳِﻮَﻯ ﺃَﻧْﻔُﺴِﻬِﻢْ ﻳَﺴْﺘَﺒِﻴﺢُ ﺑَﻴْﻀَﺘَﻬُﻢْ ﻭَﻟَﻮْ ﺍﺟْﺘَﻤَﻊَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻣَﻦْ ﺑِﺄَﻗْﻄَﺎﺭِﻫَﺎ -ﺃَﻭْ ﻗَﺎﻝَ: ﻣَﻦْ ﺑَﻴْﻦَ ﺃَﻗْﻄَﺎﺭِﻫَﺎ- ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﻜُﻮﻥَ ﺑَﻌْﻀُﻬُﻢْ ﻳُﻬْﻠِﻚُ ﺑَﻌْﻀًﺎ ﻭَﻳَﺴْﺒِﻲ ﺑَﻌْﻀُﻬُﻢْ ﺑَﻌْﻀًﺎ ». ( ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
৯২. সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা
আমার জন্য জমিন ঘুচিয়ে দিলেন ফলে আমি তার পূর্ব-পশ্চিম দেখেছি, নিশ্চয় আমার উম্মতের রাজত্ব পৌঁছবে যতটুকু আমার
সামনে পেশ করা হয়েছে। আমাকে লাল ও সাদা দু’টি ভাণ্ডার [34] প্রদান করা হয়েছে, আমি আমার রবের নিকট আমার উম্মতের
জন্য প্রার্থনা করেছি যেন, তাদেরকে ব্যাপক দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে ধ্বংস করা না হয়, যেন তাদের ওপর তাদের ব্যতীত কোন দুশমন
চাপিয়ে দেয়া না হয়, যে তাদের সমূলে ধ্বংস করবে। আমার রব আমাকে বলেছেন: হে মুহাম্মদ আমি যখন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ
করি, তা প্রত্যাখ্যান করা হয় না, আমি তোমার উম্মতের জন্য তোমাকে প্রদান করলাম যে, তাদেরকে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ দ্বারা
ধ্বংস করব না। তাদের ওপর তাদের ব্যতীত কোন দুশমন চাপিয়ে দেব না যারা তাদের সমূলে ধ্বংস করবে, যদিও দুনিয়ার প্রান্ত
থেকে এসে একত্র হয়, অথবা বলেছেন: দিগন্তের মধ্য থেকে এসে, তবে তারা একে অপরকে ধ্বংস করবে, একে অপরকে বন্দি করবে”।
[মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
-93 ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻋَﻤْﺮِﻭ ﺑْﻦِ ﺍﻟْﻌَﺎﺹِ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ- ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺗَﻠَﺎ ﻗَﻮْﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ - ﻓِﻲ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢَ : ﴿ﺭَﺏِّ ﺇِﻧَّﻬُﻦَّ ﺃَﺿۡﻠَﻠۡﻦَ ﻛَﺜِﻴﺮٗﺍ ﻣِّﻦَ ﭐﻟﻨَّﺎﺱِۖ ﻓَﻤَﻦ ﺗَﺒِﻌَﻨِﻲ ﻓَﺈِﻧَّﻪُۥ ﻣِﻨِّﻲۖ﴾ ﺍﻟْﺂﻳَﺔَ، ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡ : ﴿ﺇِﻥ ﺗُﻌَﺬِّﺑۡﻬُﻢۡ ﻓَﺈِﻧَّﻬُﻢۡ ﻋِﺒَﺎﺩُﻙَۖ ﻭَﺇِﻥ ﺗَﻐۡﻔِﺮۡ ﻟَﻬُﻢۡ ﻓَﺈِﻧَّﻚَ ﺃَﻧﺖَ ﭐﻟۡﻌَﺰِﻳﺰُ ﭐﻟۡﺤَﻜِﻴﻢُ ١١٨﴾ ، ﻓَﺮَﻓَﻊَ ﻳَﺪَﻳْﻪِ ﻭَﻗَﺎﻝَ: «ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﺃُﻣَّﺘِﻲ» ﻭَﺑَﻜَﻰ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ: « ﻳَﺎ ﺟِﺒْﺮِﻳﻞُ ﺍﺫْﻫَﺐْ ﺇِﻟَﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ -ﻭَﺭَﺑُّﻚَ ﺃَﻋْﻠَﻢُ- ﻓَﺴَﻠْﻪُ ﻣَﺎ ﻳُﺒْﻜِﻴﻚَ، ﻓَﺄَﺗَﺎﻩُ ﺟِﺒْﺮِﻳﻞُ
ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡ ﻓَﺴَﺄَﻟَﻪُ ﻓَﺄَﺧْﺒَﺮَﻩُ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺑِﻤَﺎ ﻗَﺎﻝَ: ﻭَﻫُﻮَ ﺃَﻋْﻠَﻢُ , ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ: ﻳَﺎ ﺟِﺒْﺮِﻳﻞُ ﺍﺫْﻫَﺐْ ﺇِﻟَﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ﻓَﻘُﻞْ: ﺇِﻧَّﺎ ﺳَﻨُﺮْﺿِﻴﻚَ ﻓِﻲ ﺃُﻣَّﺘِﻚَ ﻭَﻟَﺎ ﻧَﺴُﻮﺀُﻙَ » . ( ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
৯৩. আব্দুল্লাহ ইব্ন আমর ইব্ন আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবরাহিম
আলাইহিস সালাম সম্পর্কে আল্লাহর এ বাণী তিলাওয়াত করেন:
﴿ﺭَﺏِّ ﺇِﻧَّﻬُﻦَّ ﺃَﺿۡﻠَﻠۡﻦَ ﻛَﺜِﻴﺮٗﺍ ﻣِّﻦَ ﭐﻟﻨَّﺎﺱِۖ ﻓَﻤَﻦ ﺗَﺒِﻌَﻨِﻲ ﻓَﺈِﻧَّﻪُۥ ﻣِﻨِّﻲۖ ٣٦﴾ [ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ:٣٦ ]
“হে আমার রব, নিশ্চয় এসব মূর্তি অনেক মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে, সুতরাং যে আমার অনুসরণ করেছে, নিশ্চয় সে আমার দলভুক্ত”।
[35] ঈসা আলাইহিস সালাম বলেছেন:
﴿ ﺇِﻥ ﺗُﻌَﺬِّﺑۡﻬُﻢۡ ﻓَﺈِﻧَّﻬُﻢۡ ﻋِﺒَﺎﺩُﻙَۖ ﻭَﺇِﻥ ﺗَﻐۡﻔِﺮۡ ﻟَﻬُﻢۡ ﻓَﺈِﻧَّﻚَ ﺃَﻧﺖَ ﭐﻟۡﻌَﺰِﻳﺰُ ﭐﻟۡﺤَﻜِﻴﻢُ ١١٨ ﴾ [ﺍﻟﻤﺎﺋﺪﺓ: ١١٨ ]
“যদি আপনি তাদেরকে শাস্তি প্রদান করেন তবে তারা আপনারই বান্দা, আর তাদেরকে যদি ক্ষমা করেন, তবে নিশ্চয় আপনি
পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়”। [36] অতঃপর তিনি হাত উঠিয়ে বলেন: “হে আল্লাহ আমর উম্মত, আমার উম্মত” এবং ক্রন্দন করেন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “হে জিবরিল মুহাম্মদের নিকট যাও, -নিশ্চয় তোমার রব অধিক জ্ঞাত,- তাকে জিজ্ঞাসা কর কি জন্য
কাঁদ? জিবরিল আলাইহিস সালাম এসে তাকে জিজ্ঞাসা করেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে
বললেন: তিনিই ভাল জানেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: হে জিবরিল মুহাম্মদের নিকট যাও, তাকে বল: নিশ্চয় আমি তোমার
উম্মতের ব্যাপারে তোমাকে সন্তুষ্ট করব, তোমাকে অসন্তুষ্ট করব না”। [মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
-94 ﻋَﻦْ ﻣَﺎﻟِﻚِ ﺑْﻦِ ﺻَﻌْﺼَﻌَﺔَ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ- ﻗَﺎﻝَ: ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ... ﻓﺬﻛﺮ ﺣﺪﻳﺚ ﺍﻟﻤﻌﺮﺍﺝ ﻭﻓﻴﻪ : « ﺛُﻢَّ ﻓُﺮِﺿَﺖْ ﻋَﻠَﻲَّ ﺧَﻤْﺴُﻮﻥَ ﺻَﻠَﺎﺓً ﻓَﺄَﻗْﺒَﻠْﺖُ ﺣَﺘَّﻰ ﺟِﺌْﺖُ ﻣُﻮﺳَﻰ، ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﻣَﺎ ﺻَﻨَﻌْﺖَ، ﻗُﻠْﺖُ: ﻓُﺮِﺿَﺖْ ﻋَﻠَﻲَّ ﺧَﻤْﺴُﻮﻥَ
ﺻَﻠَﺎﺓً، ﻗَﺎﻝَ : ﺃَﻧَﺎ ﺃَﻋْﻠَﻢُ ﺑِﺎﻟﻨَّﺎﺱِ ﻣِﻨْﻚَ ﻋَﺎﻟَﺠْﺖُ ﺑَﻨِﻲ ﺇِﺳْﺮَﺍﺋِﻴﻞَ ﺃَﺷَﺪَّ ﺍﻟْﻤُﻌَﺎﻟَﺠَﺔِ، ﻭَﺇِﻥَّ ﺃُﻣَّﺘَﻚَ ﻟَﺎ ﺗُﻄِﻴﻖُ ﻓَﺎﺭْﺟِﻊْ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﺑِّﻚَ ﻓَﺴَﻠْﻪُ، ﻓَﺮَﺟَﻌْﺖُ ﻓَﺴَﺄَﻟْﺘُﻪُ ﻓَﺠَﻌَﻠَﻬَﺎ ﺃَﺭْﺑَﻌِﻴﻦَ ﺛُﻢَّ ﻣِﺜْﻠَﻪُ، ﺛُﻢَّ ﺛَﻠَﺎﺛِﻴﻦَ ﺛُﻢَّ ﻣِﺜْﻠَﻪُ ﻓَﺠَﻌَﻞَ ﻋِﺸْﺮِﻳﻦَ، ﺛُﻢَّ ﻣِﺜْﻠَﻪُ ﻓَﺠَﻌَﻞَ ﻋَﺸْﺮًﺍ، ﻓَﺄَﺗَﻴْﺖُ ﻣُﻮﺳَﻰ
ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﻣِﺜْﻠَﻪُ ﻓَﺠَﻌَﻠَﻬَﺎ ﺧَﻤْﺴًﺎ، ﻓَﺄَﺗَﻴْﺖُ ﻣُﻮﺳَﻰ ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﻣَﺎ ﺻَﻨَﻌْﺖَ؟ ﻗُﻠْﺖُ : ﺟَﻌَﻠَﻬَﺎ ﺧَﻤْﺴًﺎ، ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﻣِﺜْﻠَﻪُ ﻗُﻠْﺖُ ﺳَﻠَّﻤْﺖُ ﺑِﺨَﻴْﺮٍ ﻓَﻨُﻮﺩِﻱَ: ﺇِﻧِّﻲ ﻗَﺪْ ﺃَﻣْﻀَﻴْﺖُ ﻓَﺮِﻳﻀَﺘِﻲ ﻭَﺧَﻔَّﻔْﺖُ ﻋَﻦْ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ ﻭَﺃَﺟْﺰِﻱ ﺍﻟْﺤَﺴَﻨَﺔَ ﻋَﺸْﺮًﺍ» . ( ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
৯৪. মালিক ইব্ন সা‘সা‘ থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ... এখানে তিনি মেরাজের হাদিস
বর্ণনা করেন, তাতে রয়েছে, “অতঃপর আমার ওপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়, অতঃপর আমি এগিয়ে মুসা পর্যন্ত আসি,
তিনি বলেন: কি করেছ? আমি বললাম: আমার ওপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়েছে। তিনি বলেন: মানুষ সম্পর্কে তোমার
চেয়ে আমি বেশী জানি, আমি বনি ইসরাইলকে কঠিনভাবে পরীক্ষা করেছি, তোমার উম্মত পারবে না, ফিরে যাও তোমার
রবকে বল। আমি ফিরে যাই, অতঃপর তাকে বলি, তিনি তা চল্লিশ ওয়াক্ত করে দেন, অতঃপর অনুরূপ ঘটে, ফলে ত্রিশ করে দেন,
অতঃপর অনুরূপ ঘটে, ফলে বিশ করে দেন, অতঃপর অনুরূপ ঘটে, ফলে দশ করে দেন, অতঃপর মুসার নিকট আসি, তিনি অনুরূপ বলেন, ফলে
তা পাঁচ করে দেয়া হয়। অতঃপর মুসার নিকট আসি, তিনি বলেন: কি করেছ? আমি বললাম: পাঁচ ওয়াক্ত করে দিয়েছেন, তিনি অনুরূপ
বলেন। আমি বললাম: আমি সন্তুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করেছি। অতঃপর ঘোষণা দেয়া হয়: নিশ্চয় আমি আমার ফরয বাস্তবায়ন করেছি,
আমার বান্দাদের থেকে হালকা করেছি, আমি এক নেকির প্রতিদান দিব দশ”। [বুখারি ও মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
-95 ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻣَﺴْﻌُﻮﺩٍ ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ " : ﻋُﺮِﺿَﺖْ ﻋَﻠَﻲَّ ﺍﻷُﻣَﻢُ ﺑِﺎﻟْﻤَﻮْﺳِﻢِ، ﻓَﺮَﺃَﻳْﺖُ ﺃُﻣَّﺘِﻲ، ﻓَﺄَﻋْﺠَﺒَﺘْﻨِﻲ ﻛَﺜْﺮَﺗُﻬُﻢْ، ﻭَﻫَﻴْﺌَﺘُﻬُﻢْ، ﻗَﺪْ ﻣَﻠَﺌُﻮﺍ ﺍﻟﺴَّﻬْﻞَ ﻭَﺍﻟْﺠَﺒَﻞَ، ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ، ﺃَﺭَﺿِﻴﺖَ؟ ﻗُﻠْﺖُ: ﻧَﻌَﻢْ ﺃَﻱْ ﺭَﺏِّ، ﻗَﺎﻝَ: ﻭَﻣَﻊَ
ﻫَﺆُﻻﺀِ ﺳَﺒْﻌُﻮﻥَ ﺃَﻟْﻔًﺎ ﻳَﺪْﺧُﻠُﻮﻥَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﺑِﻐَﻴْﺮِ ﺣِﺴَﺎﺏٍ، ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻻ ﻳَﺴْﺘَﺮْﻗُﻮﻥَ، ﻭَﻻ ﻳَﻜْﺘَﻮُﻭﻥَ، ﻭَﻻ ﻳَﺘَﻄَﻴَّﺮُﻭﻥَ، ﻭَﻋَﻠَﻰ ﺭَﺑِّﻬِﻢْ ﻳَﺘَﻮَﻛَّﻠُﻮﻥَ " ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻋُﻜَّﺎﺷَﺔُ: ﺍﺩْﻉُ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺃَﻥْ ﻳَﺠْﻌَﻠَﻨِﻲ ﻣِﻨْﻬُﻢْ، ﻗَﺎﻝَ : " ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺍﺟْﻌَﻠْﻪُ ﻣِﻨْﻬُﻢْ " ، ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺟُﻞٌ ﺁﺧَﺮُ: ﺍﺩْﻉُ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺃَﻥْ
ﻳَﺠْﻌَﻠَﻨِﻲ ﻣِﻨْﻬُﻢْ، ﻗَﺎﻝَ: " ﺳَﺒَﻘَﻚَ ﺑِﻬَﺎ ﻋُﻜَّﺎﺷَﺔُ " ( ﺣﻢ , ﺣﺐ ) ﺻﺤﻴﺢ
৯৫. ইব্ন মাসউদ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “(হজের [37] ) মৌসুমে সকল উম্মত আমার
সামনে পেশ করা হয়েছে, ফলে আমি আমার উম্মত দেখেছি, তাদের আধিক্য ও হালত আমাকে খুশি করেছে, তারা সমতল ও পাহাড়
সর্বত্র পূর্ণ ছিল। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ তুমি কি সন্তুষ্ট হয়েছ? আমি বললাম: হ্যাঁ, হে রব। তিনি বললেন: তাদের সাথে শত্তুর
হাজার বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবে, যারা ঝাঁড়-ফুঁক চায় না, জ্বলন্ত লোহার সেক দেয়ার চিকিৎসা গ্রহণ করে না এবং অশুভ
লক্ষণ নেয় না, বরং তারা তাদের রবের ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা করে। উক্কাশা বলেন: দো‘আ করেন যেন আল্লাহ আমাকে
তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বলেন: “হে আল্লাহ তাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন”। অতঃপর অপর ব্যক্তি বলে: আমার জন্য দো‘আ
করুন যেন আল্লাহ আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন, তিনি বলেন: “উক্কাশা তোমাকে অতিক্রম করে গেছে”। [আহমদ, ইব্ন
হিব্বান] হাদিসটি সহিহ।
-96 ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ - ﻗَﺎﻝَ: « ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻗُﺮَﻳْﺶٌ ﻟِﻠﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ﺍﺩْﻉُ ﻟَﻨَﺎ ﺭَﺑَّﻚَ ﺃَﻥْ ﻳَﺠْﻌَﻞَ ﻟَﻨَﺎ ﺍﻟﺼَّﻔَﺎ ﺫَﻫَﺒًﺎ ﻭَﻧُﺆْﻣِﻦُ ﺑِﻚَ، ﻗَﺎﻝَ: ﻭَﺗَﻔْﻌَﻠُﻮﻥَ؟ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻧَﻌَﻢْ . ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺪَﻋَﺎ ﻓَﺄَﺗَﺎﻩُ ﺟِﺒْﺮِﻳﻞُ ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻚَ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ-
ﻳَﻘْﺮَﺃُ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡَ، ﻭَﻳَﻘُﻮﻝُ: ﺇِﻥْ ﺷِﺌْﺖَ ﺃَﺻْﺒَﺢَ ﻟَﻬُﻢْ ﺍﻟﺼَّﻔَﺎ ﺫَﻫَﺒًﺎ، ﻓَﻤَﻦْ ﻛَﻔَﺮَ ﺑَﻌْﺪَ ﺫَﻟِﻚَ ﻣِﻨْﻬُﻢْ ﻋَﺬَّﺑْﺘُﻪُ ﻋَﺬَﺍﺑًﺎ ﻟَﺎ ﺃُﻋَﺬِّﺑُﻪُ ﺃَﺣَﺪًﺍ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻌَﺎﻟَﻤِﻴﻦَ، ﻭَﺇِﻥْ ﺷِﺌْﺖَ ﻓَﺘَﺤْﺖُ ﻟَﻬُﻢْ ﺑَﺎﺏَ ﺍﻟﺘَّﻮْﺑَﺔِ ﻭَﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﺔِ، ﻗَﺎﻝَ : ﺑَﻞْ ﺑَﺎﺏُ ﺍﻟﺘَّﻮْﺑَﺔِ ﻭَﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﺔِ » . ( ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ
৯৬. ইব্ন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “কুরাইশরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল:
তুমি তোমার রবের নিকট দো‘আ কর যেন ‘সাফা’কে আমাদের জন্য স্বর্ণ বানিয়ে দেন, তাহলে আমরা তোমার ওপর ঈমান আনব।
তিনি বললেন: তোমরা তাই করবে? তারা বলল: হ্যাঁ। ইব্ন আব্বাস বলেন: অতঃপর তিনি দো‘আ করেন, ফলে তার নিকট জিবরিল
আগমন করেন ও বলেন: তোমার রব তোমাকে সালাম করেছেন, তিনি বলছেন: যদি তুমি চাও তাহলে ‘সাফা’কে তাদের জন্য স্বর্ণ
বানিয়ে দিব, অতঃপর যে কুফরি করবে, তাকে আমি এমন আযাব দিব যা দুনিয়ার কাউকে দিব না। যদি চাও আমি তাদের জন্য
তওবা ও রহমতের দরজা খুলে দিব। তিনি বলেন: বরং তওবা ও রহমতের দরজা”। [আহমদ] হাদিসটি সহিহ।
-97 ﻋَﻦْ ﻋُﺒَﺎﺩَﺓَ ﺑْﻦِ ﺍﻟﺼَّﺎﻣِﺖِ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ- ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﻘَﺪَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻟَﻴْﻠَﺔً ﺃَﺻْﺤَﺎﺑُﻪُ، ﻭَﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﺇِﺫَﺍ ﻧَﺰَﻟُﻮﺍ ﺃَﻧْﺰَﻟُﻮﻩُ ﺃَﻭْﺳَﻄَﻬُﻢْ ﻓَﻔَﺰِﻋُﻮﺍ، ﻭَﻇَﻨُّﻮﺍ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ - ﺗَﺒَﺎﺭَﻙَ ﻭَﺗَﻌَﺎﻟَﻰ - ﺍﺧْﺘَﺎﺭَ ﻟَﻪُ ﺃَﺻْﺤَﺎﺑًﺎ ﻏَﻴْﺮَﻫُﻢْ، ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻫُﻢْ ﺑِﺨَﻴَﺎﻝِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓَﻜَﺒَّﺮُﻭﺍ ﺣِﻴﻦَ ﺭَﺃَﻭْﻩُ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ: ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﺷْﻔَﻘْﻨَﺎ ﺃَﻥْ ﻳَﻜُﻮﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪُ - ﺗَﺒَﺎﺭَﻙَ ﻭَﺗَﻌَﺎﻟَﻰ- ﺍﺧْﺘَﺎﺭَ ﻟَﻚَ ﺃَﺻْﺤَﺎﺑًﺎ ﻏَﻴْﺮَﻧَﺎ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﻟَﺎ، ﺑَﻞْ ﺃَﻧْﺘُﻢْ ﺃَﺻْﺤَﺎﺑِﻲ ﻓِﻲ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﻭَﺍﻟْﺂﺧِﺮَﺓِ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ
ﺃَﻳْﻘَﻈَﻨِﻲ ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺇِﻧِّﻲ ﻟَﻢْ ﺃَﺑْﻌَﺚْ ﻧَﺒِﻴًّﺎ ﻭَﻟَﺎ ﺭَﺳُﻮﻻً ﺇِﻟَّﺎ ﻭَﻗَﺪْ ﺳَﺄَﻟَﻨِﻲ ﻣَﺴْﺄَﻟَﺔً ﺃَﻋْﻄَﻴْﺘُﻬَﺎ ﺇِﻳَّﺎﻩُ ﻓَﺎﺳْﺄَﻝْ ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺗُﻌْﻂَ . ﻓَﻘُﻠْﺖُ: ﻣَﺴْﺄَﻟَﺘِﻲ ﺷَﻔَﺎﻋَﺔٌ ﻟِﺄُﻣَّﺘِﻲ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ » ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺃَﺑُﻮ ﺑَﻜْﺮٍ : ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭَﻣَﺎ ﺍﻟﺸَّﻔَﺎﻋَﺔُ؟
ﻗَﺎﻝَ: «ﺃَﻗُﻮﻝُ : ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﺷَﻔَﺎﻋَﺘِﻲ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﺍﺧْﺘَﺒَﺄْﺕُ ﻋِﻨْﺪَﻙَ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﺮَّﺏُّ ﺗَﺒَﺎﺭَﻙَ ﻭَﺗَﻌَﺎﻟَﻰ: ﻧَﻌَﻢْ ﻓَﻴُﺨْﺮِﺝُ ﺭَﺑِّﻲ - ﺗَﺒَﺎﺭَﻙَ ﻭَﺗَﻌَﺎﻟَﻰ- ﺑَﻘِﻴَّﺔَ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻓَﻴَﻨْﺒِﺬُﻫُﻢْ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ» (ﺣﻢ ) ﺣﺴﻦ
৯৭. উবাদাহ ইব্ন সামেত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “কোন এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথীগণ
তাকে হারিয়ে ফেলেন, সাধারণত তারা কোথাও অবতরণ করলে তাকে তাদের মাঝে রাখতেন, তাই তারা চিন্তিত হল, তারা
ধারণা করল আল্লাহ তার জন্য না তাদের ব্যতীত অন্য সম্প্রদায় মনোনীত করলেন! এভাবেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামকে নিয়ে চিন্তা করতে লাগল, হঠাৎ তাকে দেখে তাকবীর বলে উঠল, তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আশঙ্কা
করছিলাম যে, আল্লাহ না আপনার জন্য আমাদের ব্যতীত অন্যদের মনোনীত করেন! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বললেন: না, বরং তোমরা আমার দুনিয়া ও আখেরাতের সাথী। আল্লাহ তা‘আলা আমাকে জাগ্রত করে বলেন: হে
মুহাম্মদ, আমি এমন কোন নবী ও রাসূল প্রেরণ করি নি যে আমার নিকট একটি বস্তু প্রার্থনা করেছে আমি তাকে দেই নি। হে
মুহাম্মদ, তুমি চাও, দেয়া হবে। আমি বললাম: আমার চাওয়া হচ্ছে কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের জন্য সুপারিশ করা”। আবু বকর
বললেন: হে আল্লাহর রাসূল সুপারিশ কি? তিনি বললেন: “আমি বলব: হে আমার রব, আমার সুপারিশ চাই যা আপনার নিকট আমি
গোপনে জমা রেখেছি। আল্লাহ বলবেন: হ্যাঁ। অতঃপর আমার রব জাহান্নাম থেকে আমার অবশিষ্ট উম্মত বের করবেন, অতঃপর
তাদেরকে জান্নাতে নিক্ষেপ করবেন”। [আহমদ] হাদিসটি হাসান।
বদরি সাহাবিদের ফযিলত
-98 ﻋَﻦْ ﻋَﻠِﻲٍّ ( ﻗَﺎﻝَ: ﺑَﻌَﺜَﻨِﻲ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭَﺃَﺑَﺎ ﻣَﺮْﺛَﺪٍ ﺍﻟْﻐَﻨَﻮِﻱَّ ﻭَﺍﻟﺰُّﺑَﻴْﺮَ ﺑْﻦَ ﺍﻟْﻌَﻮَّﺍﻡِ ﻭَﻛُﻠُّﻨَﺎ ﻓَﺎﺭِﺱٌ، ﻗَﺎﻝَ: « ﺍﻧْﻄَﻠِﻘُﻮﺍ ﺣَﺘَّﻰ ﺗَﺄْﺗُﻮﺍ ﺭَﻭْﺿَﺔَ ﺧَﺎﺥٍ ﻓَﺈِﻥَّ ﺑِﻬَﺎ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓً ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻤُﺸْﺮِﻛِﻴﻦَ ﻣَﻌَﻬَﺎ ﺻَﺤِﻴﻔَﺔٌ ﻣِﻦْ ﺣَﺎﻃِﺐِ ﺑْﻦِ ﺃَﺑِﻲ ﺑَﻠْﺘَﻌَﺔَ
ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﻤُﺸْﺮِﻛِﻴﻦَ » ﻓَﺄَﺩْﺭَﻛْﻨَﺎﻫَﺎ ﺗَﺴِﻴﺮُ ﻋَﻠَﻰ ﺑَﻌِﻴﺮٍ ﻟَﻬَﺎ؛ ﺣَﻴْﺚُ ﻗَﺎﻝَ ﻟﻨﺎ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓَﻘُﻠْﻨَﺎ: ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏُ، ﻓَﻘَﺎﻟَﺖْ: ﻣَﺎ ﻣﻌﻨﺎ ﻛِﺘَﺎﺏٌ، ﻓَﺄَﻧَﺨْﻨَﺎﻫَﺎ ﻓَﺎﻟْﺘَﻤَﺴْﻨَﺎ ﻓَﻠَﻢْ ﻧَﺮَ ﻛِﺘَﺎﺑًﺎ، ﻓَﻘُﻠْﻨَﺎ: ﻣَﺎ ﻛَﺬَﺏَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ،
ﻟَﺘُﺨْﺮِﺟِﻦَّ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏَ ﺃَﻭْ ﻟَﻨُﺠَﺮِّﺩَﻧَّﻚِ ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺭَﺃَﺕْ ﺍﻟْﺠِﺪَّ ﺃَﻫْﻮَﺕْ ﺇِﻟَﻰ ﺣُﺠْﺰَﺗِﻬَﺎ -ﻭَﻫِﻲَ ﻣُﺤْﺘَﺠِﺰَﺓٌ ﺑِﻜِﺴَﺎﺀٍ- ﻓَﺄَﺧْﺮَﺟَﺘْﻪُ ﻓَﺎﻧْﻄَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺑِﻬَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﻋُﻤَﺮُ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻗَﺪْ ﺧَﺎﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟَﻪُ ﻭَﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻓَﺪَﻋْﻨِﻲ ﻓَﻠِﺄَﺿْﺮِﺏَ
ﻋُﻨُﻘَﻪُ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : «ﻣَﺎ ﺣَﻤَﻠَﻚَ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﺎ ﺻَﻨَﻌْﺖَ؟» ﻗَﺎﻝَ ﺣَﺎﻃِﺐٌ: ﻭَﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣَﺎ ﺑِﻲ ﺃَﻥْ ﻟَﺎ ﺃَﻛُﻮﻥَ ﻣُﺆْﻣِﻨًﺎ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟِﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ، ﺃَﺭَﺩْﺕُ ﺃَﻥْ ﻳَﻜُﻮﻥَ ﻟِﻲ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟْﻘَﻮْﻡِ ﻳَﺪٌ ﻳَﺪْﻓَﻊُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻬَﺎ ﻋَﻦْ ﺃَﻫْﻠِﻲ ﻭَﻣَﺎﻟِﻲ، ﻭَﻟَﻴْﺲَ
ﺃَﺣَﺪٌ ﻣِﻦْ ﺃَﺻْﺤَﺎﺑِﻚَ ﺇِﻟَّﺎ ﻟَﻪُ ﻫُﻨَﺎﻙَ ﻣِﻦْ ﻋَﺸِﻴﺮَﺗِﻪِ ﻣَﻦْ ﻳَﺪْﻓَﻊُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻪِ ﻋَﻦْ ﺃَﻫْﻠِﻪِ ﻭَﻣَﺎﻟِﻪِ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﺻَﺪَﻕَ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﻘُﻮﻟُﻮﺍ ﻟَﻪُ ﺇِﻟَّﺎ ﺧَﻴْﺮًﺍ » , ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻋُﻤَﺮُ: ﺇِﻧَّﻪُ ﻗَﺪْ ﺧَﺎﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟَﻪُ ﻭَﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻓَﺪَﻋْﻨِﻲ ﻓَﻠِﺄَﺿْﺮِﺏَ ﻋُﻨُﻘَﻪُ. ﻓَﻘَﺎﻝَ:
«ﺃَﻟَﻴْﺲَ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻞِ ﺑَﺪْﺭٍ، ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﻟَﻌَﻞَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺍﻃَّﻠَﻊَ ﻋﻠﻰ ﺃَﻫْﻞِ ﺑَﺪْﺭٍ، ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺍﻋْﻤَﻠُﻮﺍ ﻣَﺎ ﺷِﺌْﺘُﻢْ ﻓَﻘَﺪْ ﻭَﺟَﺒَﺖْ ﻟَﻜُﻢْ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔُ -ﺃَﻭْ ﻓَﻘَﺪْ ﻏَﻔَﺮْﺕُ ﻟَﻜُﻢْ-» . ﻓَﺪَﻣَﻌَﺖْ ﻋَﻴْﻨَﺎ ﻋُﻤَﺮَ ﻭَﻗَﺎﻝَ : ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟُﻪُ ﺃَﻋْﻠَﻢُ . ( ﺥ , ﻡ , ﺩ ) ﺻﺤﻴﺢ
৯৮. আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু মুরসিদ গনভি,
যুবায়ের ও আমাকে প্রেরণ করেন, আমরা সবাই ছিলাম ঘোড় সওয়ার, তিনি বলেন: “তোমরা যাও, ‘রওদাতা খাখ’ এ পৌঁছ, সেখানে
এক মুশরিক নারী রয়েছে, তার সাথে হাতেব ইব্ন আবি বালতা‘আর পক্ষ থেকে মুশরিকদের প্রতি লেখা চিঠি আছে”। আমরা
তাকে সেখানেই পেলাম যার কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন, সে উঠে চড়ে যাচ্ছিল,
আমরা বললাম: চিঠি, সে বলল: আমার সাথে চিঠি নেই। আমরা তাকে নামিয়ে তালাশ করলাম কিন্তু কোন চিঠি পেলাম না।
আমরা বললাম: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিথ্যা বলেন নি, তুমি অবশ্যই চিঠি বের করবে অথবা আমরা
তোমাকে উলঙ্গ করব, যখন সে পীড়াপীড়ি দেখল, তার কোমরের ফিতার দিকে নজর দিল, -চিঠিটি কাপড়ে মোড়ানো ছিল,-
অতঃপর সে তা বের করল, আমরা চিঠি নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য ছুটলাম। অতঃপর ওমর
রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: হে আল্লাহর রাসূল সে আল্লাহ, রাসূল ও মুমিনদের সাথে খিয়ানত করেছে, আমাকে ছাড়ুন আমি তার
গর্দান উড়িয়ে দেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হাতেবকে) বললেন: “যা করেছ কেন করেছ?” হাতেব বলল: আল্লাহর
কসম, আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি বেঈমান হওয়ার কোন কারণ নেই, আমি চেয়েছি তাদের নিকট আমার একটা হাত থাক, যার
বিনিময়ে আল্লাহ আমার পরিবার ও সম্পদের সুরক্ষা দিবেন, আপনার সাথীদের এমন কেউ নেই যার বংশের কোন লোক সেখানে
নেই, যার দ্বারা আল্লাহ তার পরিবার ও সম্পদ রক্ষা করেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “সে সত্য
বলেছে, তার ব্যাপারে ভালো ব্যতীত মন্দ বল না”। ওমর বললেন: সে আল্লাহ, রাসূল ও মুমিনদের খিয়ানত করেছে, আমাকে অনুমতি
দিন আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “সে কি বদরি নয়? অতঃপর বললেন:
নিশ্চয় আল্লাহ বদরিদের ব্যাপারে অবগত হয়েছেন, অতঃপর বলেছেন: তোমরা যা ইচ্ছা কর, তোমাদের জন্য জান্নাত ওয়াজিব,
অথবা তোমাদের আমি ক্ষমা করে দিয়েছি”। অতঃপর ওমরের দু’চোখ অশ্রু সিক্ত হয়ে গেল, তিনি বলেন: আল্লাহ ও তার রাসূলই
অধিক জানেন। [বুখারি, মুসলিম ও আবু দাউদ] হাদিসটি সহিহ।
সালাত ফরজ হওয়া ও মেরাজের হাদিস
-99 ﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲِ ﺑْﻦِ ﻣَﺎﻟِﻚٍ ( ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﺃُﺗِﻴﺖُ ﺑِﺎﻟْﺒُﺮَﺍﻕِ ﻭَﻫُﻮَ ﺩَﺍﺑَّﺔٌ ﺃَﺑْﻴَﺾُ ﻃَﻮِﻳﻞٌ ﻓَﻮْﻕَ ﺍﻟْﺤِﻤَﺎﺭِ ﻭَﺩُﻭﻥَ ﺍﻟْﺒَﻐْﻞِ ﻳَﻀَﻊُ ﺣَﺎﻓِﺮَﻩُ ﻋِﻨْﺪَ ﻣُﻨْﺘَﻬَﻰ ﻃَﺮْﻓِﻪِ، ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺮَﻛِﺒْﺘُﻪُ ﺣَﺘَّﻰ ﺃَﺗَﻴْﺖُ ﺑَﻴْﺖَ ﺍﻟْﻤَﻘْﺪِﺱِ ﻗَﺎﻝَ ﻓَﺮَﺑَﻄْﺘُﻪُ ﺑِﺎﻟْﺤَﻠْﻘَﺔِ
ﺍﻟَّﺘِﻲ ﻳَﺮْﺑِﻂُ ﺑِﻬﺎ ﺍﻟْﺄَﻧْﺒِﻴَﺎﺀُ، ﻗَﺎﻝَ : ﺛُﻢَّ ﺩَﺧَﻠْﺖُ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪَ ﻓَﺼَﻠَّﻴْﺖُ ﻓِﻴﻪِ ﺭَﻛْﻌَﺘَﻴْﻦِ ﺛُﻢَّ ﺧَﺮَﺟْﺖُ ﻓَﺠَﺎﺀَﻧِﻲ ﺟِﺒْﺮِﻳﻞُ -ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡ- ﺑِﺈِﻧَﺎﺀٍ ﻣِﻦْ ﺧَﻤْﺮٍ، ﻭَﺇِﻧَﺎﺀٍ ﻣِﻦْ ﻟَﺒَﻦٍ ﻓَﺎﺧْﺘَﺮْﺕُ ﺍﻟﻠَّﺒَﻦَ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺟِﺒْﺮِﻳﻞُ: ﺍﺧْﺘَﺮْﺕَ ﺍﻟْﻔِﻄْﺮَﺓَ ﺛُﻢَّ ﻋَﺮَﺝَ ﺑِﻨَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ » ... ﻓﺬﻛﺮ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ
ﻭﻓﻴﻪ: « ﻓَﻠَﻢْ ﺃَﺯَﻝْ ﺃَﺭْﺟِﻊُ ﺑَﻴْﻦَ ﺭَﺑِّﻲ - ﺗَﺒَﺎﺭَﻙَ ﻭَﺗَﻌَﺎﻟَﻰ - ﻭَﺑَﻴْﻦَ ﻣُﻮﺳَﻰ -ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡ- ﺣَﺘَّﻰ ﻗَﺎﻝَ: ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺇِﻧَّﻬُﻦَّ ﺧَﻤْﺲُ ﺻَﻠَﻮَﺍﺕٍ ﻛُﻞَّ ﻳَﻮْﻡٍ ﻭَﻟَﻴْﻠَﺔٍ ﻟِﻜُﻞِّ ﺻَﻠَﺎﺓٍ ﻋَﺸْﺮٌ ﻓَﺬَﻟِﻚَ ﺧَﻤْﺴُﻮﻥَ ﺻَﻠَﺎﺓً، ﻭَﻣَﻦْ ﻫَﻢَّ ﺑِﺤَﺴَﻨَﺔٍ ﻓَﻠَﻢْ ﻳَﻌْﻤَﻠْﻬَﺎ ﻛُﺘِﺒَﺖْ ﻟَﻪُ ﺣَﺴَﻨَﺔً ﻓَﺈِﻥْ
ﻋَﻤِﻠَﻬَﺎ ﻛُﺘِﺒَﺖْ ﻟَﻪُ ﻋَﺸْﺮًﺍ، ﻭَﻣَﻦْ ﻫَﻢَّ ﺑِﺴَﻴِّﺌَﺔٍ ﻓَﻠَﻢْ ﻳَﻌْﻤَﻠْﻬَﺎ ﻟَﻢْ ﺗُﻜْﺘَﺐْ ﺷَﻴْﺌًﺎ ﻓَﺈِﻥْ ﻋَﻤِﻠَﻬَﺎ ﻛُﺘِﺒَﺖْ ﺳَﻴِّﺌَﺔً ﻭَﺍﺣِﺪَﺓً، ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﻨَﺰَﻟْﺖُ ﺣَﺘَّﻰ ﺍﻧْﺘَﻬَﻴْﺖُ ﺇِﻟَﻰ ﻣُﻮﺳَﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓَﺄَﺧْﺒَﺮْﺗُﻪُ ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﺍﺭْﺟِﻊْ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﺑِّﻚَ ﻓَﺎﺳْﺄَﻟْﻪُ ﺍﻟﺘَّﺨْﻔِﻴﻒَ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ﻓَﻘُﻠْﺖُ ﻗَﺪْ ﺭَﺟَﻌْﺖُ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﺑِّﻲ ﺣَﺘَّﻰ ﺍﺳْﺘَﺤْﻴَﻴْﺖُ ﻣِﻨْﻪُ » . ( ﻡ , ﺥ ) ﺻﺤﻴﺢ
ﻭﻓﻲ ﺣﺪﻳﺚ ﺃﺑﻲ ﺫﺭ ( ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃﻥ ﺍﻟﻠﻪ -ﻋﺰ ﻭﺟﻞ - ﻗﺎﻝ: « ﻫِﻲَ ﺧَﻤْﺲٌ ﻭَﻫِﻲَ ﺧَﻤْﺴُﻮﻥَ ﻻ ﻳُﺒَﺪَّﻝُ ﺍﻟْﻘَﻮْﻝُ ﻟَﺪَﻱَّ » . ( ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
৯৯. আনাস ইব্ন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমার
নিকট বোরাক নিয়ে আসা হল, বোরাক হচ্ছে চতুষ্পদ জন্তু সাদা, লম্বা, গাধার চেয়ে বড় ও খচ্চর থেকে ছোট, তার দৃষ্টির শেষ
প্রান্তে সে তার পা রাখে, তিনি বলেন: আমি তাতে সওয়ার হলাম, অবশেষে আমাকে বায়তুল মাকদিস নিয়ে আসা হল, তিনি
বলেন: আমি তাকে সে খুঁটির সাথে বাঁধলাম যার সাথে নবীগণ বাঁধেন। তিনি বলেন: অতঃপর আমি মসজিদে প্রবেশ করি, তাতে
দু’রাকাত সালাত আদায় করি, অতঃপর বের হই। অতঃপর জিবরিল আমার নিকট মদের ও দুধের পাত্র নিয়ে আসেন, আমি দুধের পাত্র
গ্রহণ করি, জিবরিল আমাকে বলেন: তুমি ফিতরাত (স্বভাব) গ্রহণ করেছ, অতঃপর আমাদের নিয়ে আসমানে চড়েন ...”। তিনি
হাদিস উল্লেখ করেন, তাতে রয়েছে: “আমি আমার রব ও মুসা আলাইহিস সালামের মাঝে যাওয়া-আসা করতে ছিলাম, অবশেষে
তিনি বলেন: হে মুহাম্মদ, প্রতি রাত-দিনে এ হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, প্রত্যেক সালাতের জন্য দশ, এভাবে পঞ্চাশ ওয়াক্ত
সালাত। যে নেক কাজ করার ইচ্ছা করল কিন্তু তা করেনি, আমি তার জন্য একটি নেকি লেখি, যদি সে তা করে তার জন্য দশটি
লেখা হয়। যে পাপ করার ইচ্ছা করে কিন্তু সে তা করে নি, তার জন্য কিছু লেখা হয় না, যদি সে তা করে তবে তার জন্য একটি পাপ
লেখা হয়। তিনি বলেন: অতঃপর আমি অবতরণ করে মুসা আলাইহিস সালামের নিকট পৌঁছলাম এবং তাকে সংবাদ দিলাম, তিনি
আমাকে বললেন: তোমার রবের নিকট ফিরে যাও, তার নিকট হ্রাসের দরখাস্ত কর, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি বললাম আমি আমার রবের নিকট বারবার গিয়েছি এখন লজ্জা করছি”। [বুখারি ও মুসলিম] হাদিসটি
সহিহ।
আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, আল্লাহ
তা‘আলা বলেছেন: “এ হচ্ছে পাঁচ, অথচ তা পঞ্চাশ [38] , আমার নিকট কথার (সিদ্ধান্তের) কোন পরিবর্তন নেই”। [বুখারি ও মুসলিম]
হাদিসটি সহিহ। অর্থাৎ কর্মে পাঁচ কিন্তু সাওয়াবে পঞ্চাশ।
আরাফার দিনের ফযিলত ও হাজিদের নিয়ে আল্লাহর গর্ব করা
-100 ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔُ - ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ- ﺇِﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ : «ﻣَﺎ ﻣِﻦْ ﻳَﻮْﻡٍ ﺃَﻛْﺜَﺮَ ﻣِﻦْ ﺃَﻥْ ﻳُﻌْﺘِﻖَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻓِﻴﻪِ ﻋَﺒْﺪًﺍ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻣِﻦْ ﻳَﻮْﻡِ ﻋَﺮَﻓَﺔَ، ﻭَﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﻴَﺪْﻧُﻮ ﺛُﻢَّ ﻳُﺒَﺎﻫِﻲ ﺑِﻬِﻢْ ﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔَ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻣَﺎ ﺃَﺭَﺍﺩَ ﻫَﺆُﻟَﺎﺀِ » . ( ﻡ )
ﺻﺤﻴﺢ
১০০. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আরাফার দিন ব্যতীত কোন
দিন নেই যেখানে আল্লাহ তা‘আলা অধিক বান্দাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করেন। তাতে তিনি নিকটবর্তী হন
অতঃপর ফেরেশতাদের সাথে গর্ব করেন ও বলেন: তারা কি চায়?” [মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
-101 ﻋﻦ ﺟﺎﺑﺮ ( ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭَﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﻣﺎ ﻣِﻦْ ﺃﻳﺎﻡٍ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﻠﻪ ﺃَﻓْﻀَﻞ ﻣِﻦْ ﻋَﺸْﺮِ ﺫِﻱ ﺍﻟﺤِﺠَﺔ» ، ﻗَﺎﻝ: ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺭَﺟُﻞٌ: ﻳﺎ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪ ﻫُﻦّ ﺃَﻓْﻀَﻞُ ﺃﻡْ ﻋَﺪَﺩَﻫُﻦَّ ﺟِﻬَﺎﺩًﺍ ﻓﻲ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠﻪ؟ ﻗﺎﻝ: « ﻫُﻦَّ ﺃَﻓْﻀَﻞ ﻣِﻦْ ﻋَﺪَﺩُﻫْﻦَّ
ﺟِﻬﺎﺩًﺍ ﻓﻲ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠﻪ، ﻭﻣَﺎَ ﻣِﻦْ ﻳَﻮْﻡ ﺃﻓْﻀَﻞُ ﻋِﻨْﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻣِﻦْ ﻳَﻮﻡ ﻋَﺮَﻓﺔَ : ﻳَﻨْﺰِﻝُ ﺍﻟﻠﻪ - ﺗَﺒَﺎﺭْﻙَ ﻭﺗَﻌَﺎﻟﻰ- ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺴْﻤَﺎﺀِ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ﻓَﻴُﺒﺎﻫﻲ ﺑِﺄﻫْﻞِ ﺍﻷﺭﺽ ﺃﻫَﻞْ ﺍﻟﺴْﻤَﺎﺀِ، ﻓﻴﻘﻮﻝ : ﺍﻧْﻈُﺮﻭﺍ ﺇﻟﻰ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ ﺟَﺎﺀﻭﺍ ﺷُﻌْﺜًﺎ ﻏُﺒْﺮًﺍ ﺣَﺎﺟِﻴﻦ ﺟَﺎﺀْﻭﺍ ﻣِﻦْ ﻛُﻞِ ﻓﺞٍّ ﻋَﻤِﻴﻖْ
ﻳَﺮﺟُﻮﻥَ ﺭَﺣْﻤَﺘﻲ ﻭﻟﻢ ﻳَﺮﻭﺍ ﻋَﺬَﺍﺑﻲ، ﻓَﻠَﻢ ﻳُﺮَ ﻳﻮﻡٌ ﺃﻛﺜﺮ ﻋﺘﻴﻘًﺎ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﺎﺭ ﻣِﻦْ ﻳَﻮﻡ ﻋَﺮَﻓْﺔ» . ( ﺣﺐ ) ﺣﺴﻦ ﻟﻐﻴﺮﻩ
১০১. জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যিলহজ মাসের দশ দিন
থেকে উত্তম আল্লাহর নিকট কোন দিন নেই”। তিনি বলেন: এক ব্যক্তি বলে: হে আল্লাহর রাসূল, এ দিনগুলোই উত্তম, না এ দিনগুলো
আল্লাহর রাস্তায় জিহাদসহ উত্তম? তিনি বললেন: “জিহাদ ছাড়াই এগুলো উত্তম। আল্লাহর নিকট আরাফার দিন থেকে উত্তম
কোন দিন নেই, আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন অতঃপর জমিনে বাসকারীদের নিয়ে আসমানে বাসকারীদের সাথে
গর্ব করেন। তিনি বলেন: আমার বান্দাদের দেখ, তারা হজের জন্য এলোমেলো চুল ও ধূলিময় অবস্থায় দূর-দিগন্ত থেকে এসেছে।
তারা আমার রহমত আশা করে, অথচ তারা আমার আযাব দেখে নি। সুতরাং এমন কোনো দিন দেখা যায় না যাতে আরাফার
দিনের তুলনায় জাহান্নাম থেকে অধিক মুক্তি পায়”। [ইব্ন হিব্বান] হাদিসটি হাসান লি গায়রিহি।
-102 ﻋَﻦْ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ( ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: « ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻳُﺒَﺎﻫِﻲ ﺑِﺄَﻫْﻞ ﻋَﺮَﻓَﺎﺕْ ﻣَﻠَﺎﺋِﻜَﺔ ﺍﻟﺴْﻤَﺎﺀِ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﺍﻧْﻈُﺮُﻭﺍ ﺇِﻟَﻰ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ ﺟَﺎَﺀُﻭﻧِﻲ ﺷُﻌْﺜًﺎ ﻏُﺒْﺮًﺍ» . ( ﺣﺐ ) ﺻﺤﻴﺢ ﻟﻐﻴﺮﻩ
১০২. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা
আরাফার লোকদের নিয়ে আসমানের ফেরেশতাদের সাথে গর্ব করেন, তিনি বলেন: আমার বান্দাদের দেখ তারা এলোমেলো চুল
ও ধূলিময় অবস্থায় আমার কাছে এসেছে”। [ইব্ন হিব্বান] হাদিসটি সহিহ লি গায়রিহি।
সিয়ামের ফযিলত
-103 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﺃﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﻗَﺎَﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ: ﻛُﻞُّ ﻋَﻤَﻞِ ﺍﺑْﻦِ ﺁﺩَﻡَ ﻟَﻪُ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﺼِّﻴَﺎﻡَ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻟِﻲ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﺃَﺟْﺰِﻱ ﺑِﻪِ» . (ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
১০৩. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা
বলেন: সিয়াম ব্যতীত বনি আদমের প্রত্যেক আমলই তার জন্য, কারণ তা আমার জন্য, আমিই তার প্রতিদান দেব”। [বুখারি ও মুসলিম]
হাদিসটি সহিহ।
সন্তান মারা যাওয়ার পর সওয়াবের আশায় ধৈর্যধারণ করার ফজিলত
-104 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﻳَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ: ﻣَﺎ ﻟِﻌَﺒْﺪِﻱ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻦِ ﻋِﻨْﺪِﻱ ﺟَﺰَﺍﺀٌ ﺇِﺫَﺍ ﻗَﺒَﻀْﺖُ ﺻَﻔِﻴَّﻪُ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﺛُﻢَّ ﺍﺣْﺘَﺴَﺒَﻪُ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔُ ». ( ﺥ ) ﺻﺤﻴﺢ
১০৪. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা
বলেন: আমার মুমিন বান্দার জন্য আমার নিকট জান্নাত ব্যতীত কোন প্রতিদান নেই যখন আমি দুনিয়া থেকে তার কলিজার টুকরা
[39] গ্রহণ করি, আর সে তার জন্য সওয়াবের আশা করে ধৈর্য ধারণ করে”। [বুখারি] হাদিসটি সহিহ।
-105 ﻋَﻦْ ﺷُﺮَﺣْﺒِﻴﻞُ ﺍﺑْﻦُ ﺷُﻔْﻌَﺔَ ﻋَﻦْ ﺑَﻌْﺾِ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ؛ ﺃَﻧَّﻪُ ﺳَﻤِﻊَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ: «ﻳُﻘَﺎﻝُ ﻟِﻠْﻮِﻟْﺪَﺍﻥِ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ : ﺍﺩْﺧُﻠُﻮﺍ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ » ﻗَﺎﻝَ: «ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ : ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺪْﺧُﻞَ ﺁﺑَﺎﺅُﻧَﺎ ﻭَﺃُﻣَّﻬَﺎﺗُﻨَﺎ» ﻗَﺎﻝَ:
«ﻓَﻴَﺄْﺗُﻮﻥَ » ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ: «ﻣَﺎ ﻟِﻲ ﺃَﺭَﺍﻫُﻢْ ﻣُﺤْﺒَﻨْﻄِﺌِﻴﻦَ ﺍﺩْﺧُﻠُﻮﺍ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ» ﻗَﺎﻝَ: «ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﺁﺑَﺎﺅُﻧَﺎ ﻭَﺃُﻣَّﻬَﺎﺗُﻨَﺎ » ﻗَﺎﻝَ: « ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﺍﺩْﺧُﻠُﻮﺍ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﺃَﻧْﺘُﻢْ ﻭَﺁﺑَﺎﺅُﻛُﻢْ» . ( ﺣﻢ ) ﺣﺴﻦ
১০৫. শুরাহবিল ইব্ন শুফ‘আহ থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক সাহাবি সূত্রে বর্ণনা করেন,
তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: “কিয়ামতের দিন বাচ্চাদের বলা হবে জান্নাতে প্রবেশ
কর”। তিনি বলেন: “তারা বলবে: যতক্ষণ না আমাদের পিতা-মাতা প্রবেশ না করেন”। তিনি বলেন: “অতঃপর তারা আসবে”।
তিনি বলেন: আল্লাহ বলবেন: “কি ব্যাপার তাদেরকে কেন নারাজ দেখছি, জান্নাতে প্রবেশ কর”। তিনি বলেন: “অতঃপর তারা
বলবে: হে আমার রব, আমাদের পিতা-মাতা”! তিনি বলেন: “অতঃপর তিনি বলবেন: “তোমরা ও তোমাদের পিতা-মাতা
জান্নাতে প্রবেশ কর”। [আহমদ] হাদিসটি হাসান।
-106 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺃُﻣَﺎﻣَﺔَ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ- ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: «ﻳَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺳُﺒْﺤَﺎﻧَﻪ ﻭﺗﻌﺎﻟﻰ: ﺍﺑْﻦَ ﺁﺩَﻡَ ﺇِﻥْ ﺻَﺒَﺮْﺕَ ﻭَﺍﺣْﺘَﺴَﺒْﺖَ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﺼَّﺪْﻣَﺔِ ﺍﻟْﺄُﻭﻟَﻰ ﻟَﻢْ ﺃَﺭْﺽَ ﻟَﻚَ ﺛَﻮَﺍﺑًﺎ ﺩُﻭﻥَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ». ( ﺟﻪ ) ﺣﺴﻦ
১০৬. আবু উমামা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: হে বনি আদম, যদি
তুমি ধৈর্যধারণ কর ও প্রথম দুঃখের সময় অধৈর্য না হয়ে তাতে সওয়াবের আশা কর, তাহলে আমি তোমার জন্য জান্নাত ব্যতীত
কোন প্রতিদানে সন্তুষ্ট হব না”। [ইব্ন মাজাহ] হাদিসটি হাসান।
-107 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻣُﻮﺳَﻰ ﺍﻟْﺄَﺷْﻌَﺮِﻱِّ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ- ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﺇِﺫَﺍ ﻣَﺎﺕَ ﻭَﻟَﺪُ ﺍﻟْﻌَﺒْﺪِ ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟِﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺘِﻪِ: ﻗَﺒَﻀْﺘُﻢْ ﻭَﻟَﺪَ ﻋَﺒْﺪِﻱ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﻧَﻌَﻢْ , ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ : ﻗَﺒَﻀْﺘُﻢْ ﺛَﻤَﺮَﺓَ ﻓُﺆَﺍﺩِﻩِ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﻧَﻌَﻢْ , ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ:
ﻣَﺎﺫَﺍ ﻗَﺎﻝَ ﻋَﺒْﺪِﻱ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﺣَﻤِﺪَﻙَ ﻭَﺍﺳْﺘَﺮْﺟَﻊَ، ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ: ﺍﺑْﻨُﻮﺍ ﻟِﻌَﺒْﺪِﻱ ﺑَﻴْﺘًﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﻭَﺳَﻤُّﻮﻩُ ﺑَﻴْﺖَ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪِ » . ( ﺕ , ﺣﺐ ) ﺣﺴﻨﻪ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ
১০৭. আবু মুসা আশ‘আরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “বান্দার
যখন সন্তান মারা যায় আল্লাহ তার ফেরেশতাদের বলেন: তোমরা আমার বান্দার সন্তান কব্জা করেছ? তারা বলে: হ্যাঁ। তিনি
বলেন: তোমরা আমার বান্দার অন্তরের নির্যাস গ্রহণ করেছ? তারা বলে: হ্যাঁ। তিনি বলেন: আমার বান্দা কি বলেছে? তারা
বলে: আপনার প্রশংসা করেছে ও ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজেউন পড়েছে। (অর্থাৎ আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং
আমরা তার কাছেই ফেরৎ যাব এটা বলেছে।) অতঃপর আল্লাহ বলেন: তোমরা আমার বান্দার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ কর,
তার নাম রাখ বায়তুল হামদ”। [তিরমিযি ও ইব্ন হিব্বান] হাদিসটি শায়খ আলবানি হাসান বলেছেন।
আল্লাহর রাস্তায় খরচ করা ও উৎসাহ প্রদানের ফযিলত
-108 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ- ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: «ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ: ﺃَﻧْﻔِﻖْ ﻳَﺎ ﺍﺑْﻦَ ﺁﺩَﻡَ ﺃُﻧْﻔِﻖْ ﻋَﻠَﻴْﻚَ» . ( ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
১০৮. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা
বলেন: হে বনি আদম, তুমি খরচ কর, আমি তোমার ওপর খরচ করব”। [বুখারি ও মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
-109 ﻋَﻦْ ﻋَﺪِﻱَّ ﺑْﻦَ ﺣَﺎﺗِﻢٍ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ -، ﻳَﻘُﻮﻝُ: " ﻛُﻨْﺖُ ﻋِﻨْﺪَ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻘَﺎَﻝَ: « ...ﺛُﻢَّ ﻟَﻴَﻘِﻔَﻦَّ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ ﺑَﻴْﻦَ ﻳَﺪَﻱْ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻟَﻴْﺲَ ﺑَﻴْﻨَﻪُ ﻭَﺑَﻴْﻨَﻪُ ﺣِﺠَﺎﺏٌ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺮْﺟُﻤَﺎﻥٌ ﻳُﺘَﺮْﺟِﻢُ ﻟَﻪُ، ﺛُﻢَّ ﻟَﻴَﻘُﻮﻟَﻦَّ ﻟَﻪُ : ﺃَﻟَﻢْ ﺃُﻭﺗِﻚَ ﻣَﺎﻻً؟ ﻓَﻠَﻴَﻘُﻮﻟَﻦَّ:
ﺑَﻠَﻰ، ﺛُﻢَّ ﻟَﻴَﻘُﻮﻟَﻦَّ: ﺃَﻟَﻢْ ﺃُﺭْﺳِﻞْ ﺇِﻟَﻴْﻚَ ﺭَﺳُﻮﻻً؟ ﻓَﻠَﻴَﻘُﻮﻟَﻦَّ: ﺑَﻠَﻰ، ﻓَﻴَﻨْﻈُﺮُ ﻋَﻦْ ﻳَﻤِﻴﻨِﻪِ ﻓَﻠَﺎ ﻳَﺮَﻯ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻨَّﺎﺭَ، ﺛُﻢَّ ﻳَﻨْﻈُﺮُ ﻋَﻦْ ﺷِﻤَﺎﻟِﻪِ ﻓَﻠَﺎ ﻳَﺮَﻯ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻨَّﺎﺭَ ﻓَﻠْﻴَﺘَّﻘِﻴَﻦَّ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ ﺍﻟﻨَّﺎﺭَ ﻭَﻟَﻮْ ﺑِﺸِﻖِّ ﺗَﻤْﺮَﺓٍ ﻓَﺈِﻥْ ﻟَﻢْ ﻳَﺠِﺪْ ﻓَﺒِﻜَﻠِﻤَﺔٍ ﻃَﻴِّﺒَﺔٍ» . ( ﺥ ) ﺻﺤﻴﺢ
১০৯. আদি ইব্ন হাতেম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
নিকট ছিলাম, তিনি বলেন: “... অতঃপর তোমাদের প্রত্যেকে আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হবে, তার ও আল্লাহর মাঝে কোন
পর্দা থাকবে না, দুভাষীও না যে তার জন্য অনুবাদ করবে। অতঃপর তিনি বলবেন: আমি কি তোমাকে সম্পদ দেই নাই? সে বলবে:
অবশ্যই, অতঃপর বলবেন: আমি কি তোমার নিকট রাসূল প্রেরণ করিনি? সে বলবে: অবশ্যই, সে তার ডানে তাকাবে আগুন ব্যতীত
কিছুই দেখবে না, অতঃপর তার বামে তাকাবে আগুন ব্যতীত কিছুই দেখবে না, অতএব তোমাদের প্রত্যেকের উচিত জাহান্নামের
আগুন থেকে সুরক্ষা গ্রহণ করা, যদিও সেটা একটি খেজুরের অংশের বিনিময়ে হয়, যদি তার সামর্থ্য না থাকে তাহলে সুন্দর বাক্য
দ্বারা”। [বুখারি] হাদিসটি সহিহ।
-110 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻭَﺍﻗِﺪٍ ﺍﻟﻠَّﻴْﺜِﻲِّ ﻗَﺎﻝَ: ﻛُﻨَّﺎ ﻧَﺄْﺗِﻲ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺇِﺫَﺍ ﺃُﻧْﺰِﻝَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻓَﻴُﺤَﺪِّﺛُﻨَﺎ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻨَﺎ ﺫَﺍﺕَ ﻳَﻮْﻡٍ: « ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ- ﻗَﺎﻝَ: ﺇِﻧَّﺎ ﺃَﻧْﺰَﻟْﻨَﺎ ﺍﻟْﻤَﺎﻝَ ﻟِﺈِﻗَﺎﻡِ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ ﻭَﺇِﻳﺘَﺎﺀِ ﺍﻟﺰَّﻛَﺎﺓِ، ﻭَﻟَﻮْ ﻛَﺎﻥَ ﻟِﺎﺑْﻦِ ﺁﺩَﻡَ ﻭَﺍﺩٍ ﻟَﺄَﺣَﺐَّ ﺃَﻥْ ﻳَﻜُﻮﻥَ
ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﺛَﺎﻥٍ، ﻭَﻟَﻮْ ﻛَﺎﻥَ ﻟَﻪُ ﻭَﺍﺩِﻳَﺎﻥِ ﻟَﺄَﺣَﺐَّ ﺃَﻥْ ﻳَﻜُﻮﻥَ ﺇِﻟَﻴْﻬِﻤَﺎ ﺛَﺎﻟِﺚٌ، ﻭَﻟَﺎ ﻳَﻤْﻠَﺄُ ﺟَﻮْﻑَ ﺍﺑْﻦِ ﺁﺩَﻡَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﺘُّﺮَﺍﺏُ، ﺛُﻢَّ ﻳَﺘُﻮﺏُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﻦْ ﺗَﺎﺏَ» . ( ﺣﻢ ) ﺣﺴﻦ
১১০. আবু ওয়াকেদ লাইসি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
নিকট আসতাম, যখন তার ওপর কিছু নাযিল হত তিনি আমাদের বলতেন, একদা তিনি আমাদের বলেন: “আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:
আমি সম্পদ নাযিল করেছি সালাত কায়েম করা ও যাকাত প্রদান করার জন্য, যদি বনি আদম একটি উপত্যকার মালিক হয়, সে পছন্দ
করবে তার জন্য দ্বিতীয়টি হোক। যদি তার দু’টি উপত্যকা হয়, সে চাইবে তার জন্য তৃতীয়টি হোক। মাটি ব্যতীত কোন বস্তু বনি
আদমের উদর পূর্ণ করবে না, অতঃপর যে তওবা করে আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন”। [আহমদ] হাদিসটি হাসান।
-111 ﻋَﻦْ ﺑُﺴْﺮِ ﺑْﻦِ ﺟَﺤَّﺎﺵٍ ﺍﻟْﻘُﺮَﺷِﻲِّ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ- ﻗَﺎﻝَ: ﺑَﺰَﻕَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓِﻲ ﻛَﻔِّﻪِ، ﺛُﻢَّ ﻭَﺿَﻊَ ﺃُﺻْﺒُﻌَﻪُ ﺍﻟﺴَّﺒَّﺎﺑَﺔَ ﻭَﻗَﺎﻝَ: «ﻳَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ: ﺃَﻧَّﻰ ﺗُﻌْﺠِﺰُﻧِﻲ ﺍﺑْﻦَ ﺁﺩَﻡَ، ﻭَﻗَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﺘُﻚَ ﻣِﻦْ ﻣِﺜْﻞِ ﻫَﺬِﻩِ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺑَﻠَﻐَﺖْ ﻧَﻔْﺴُﻚَ
ﻫَﺬِﻩِ ( ﻭَﺃَﺷَﺎﺭَ ﺇِﻟَﻰ ﺣَﻠْﻘِﻪِ( ﻗُﻠْﺖَ: ﺃَﺗَﺼَﺪَّﻕُ: ﻭَﺃَﻧَّﻰ ﺃَﻭَﺍﻥُ ﺍﻟﺼَّﺪَﻗَﺔِ ». ( ﺟﻪ , ﺣﻢ ) ﺣﺴﻦ
১১১. বুসর ইব্ন জাহাশ আল-কুরাশি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাতের তালুতে থু থু
ফেললেন, অতঃপর তাতে শাহাদাত আঙ্গুল রাখলেন ও বললেন: আল্লাহ তা‘আলা বলেন: হে বনি আদম তুমি আমাকে কিভাবে
অক্ষম করবে, অথচ আমি তোমাকে এরূপ বস্তু থেকে সৃষ্টি করেছি, যখন তোমার রূহ এখানে পৌঁছে, (গলার দিকে ইশারা করলেন), বল:
আমি সদকা করব: আর কখন সদকা করার সময়”! [ইব্ন মাজাহ ও আহমদ] হাদিসটি হাসান।
রাতে ওযু করার ফযিলত
-112ﻋَﻦْ ﻋُﻘْﺒَﺔَ ﺑْﻦَ ﻋَﺎﻣِﺮٍ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ- ﻳَﻘُﻮﻝُ: ﻟَﺎ ﺃَﻗُﻮﻝُ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ ﻋَﻠَﻰ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣَﺎ ﻟَﻢْ ﻳَﻘُﻞْ، ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ: «ﻣَﻦْ ﻛَﺬﺏَ ﻋَﻠَﻲَّ ﻣﺘﻌﻤﺪًﺍ ﻓَﻠْﻴَﺘَﺒَﻮَّﺃْ ﺑَﻴْﺘًﺎ ﻣِﻦْ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ » ﻭَﺳَﻤِﻌْﺘﻪ
ﻳَﻘُﻮﻝُ: « ﻳَﻘُﻮﻡُ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻣﻦ ﺃﻣﺘﻲ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻓَﻴُﻌَﺎﻟِﺞُ ﻧَﻔْﺴَﻪُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻄَّﻬُﻮﺭِ ﻭَﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻋُﻘَﺪ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻭَﺿَّﺄَ ﻳَﺪَﻳْﻪِ ﺍﻧْﺤَﻠَّﺖْ ﻋُﻘْﺪَﺓٌ، ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻭَﺿَّﺄَ ﻭَﺟْﻬَﻪُ ﺍﻧْﺤَﻠَّﺖْ ﻋُﻘْﺪَﺓٌ، ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻣَﺴَﺢَ ﺭَﺃْﺳَﻪُ ﺍﻧْﺤَﻠَّﺖْ ﻋُﻘْﺪَﺓٌ، ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻭَﺿَّﺄَ ﺭِﺟْﻠَﻴْﻪِ ﺍﻧْﺤَﻠَّﺖْ ﻋُﻘْﺪَﺓٌ، ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ-
ﻟِﻠَّﺬِﻳﻦَ ﻭَﺭَﺍﺀَ ﺍﻟْﺤِﺠَﺎﺏِ: ﺍﻧْﻈُﺮُﻭﺍ ﺇِﻟَﻰ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﻫَﺬَﺍ ﻳُﻌَﺎﻟِﺞُ ﻧَﻔْﺴَﻪُ ﻳَﺴْﺄﻟُﻨﻲ، ﻣَﺎ ﺳَﺄَﻟَﻨِﻲ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﻫَﺬَﺍ ﻓَﻬُﻮَ ﻟَﻪُ » ( ﺣﺐ , ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ
১১২. উকবা ইব্ন আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আজ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
সম্পর্কে বলব না যা তিনি বলেননি, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যে আমার ওপর
স্বেচ্ছায় মিথ্যা বলে, সে যেন জাহান্নামে ঘর বানিয়ে নেয়”। তাকে আরো বলতে শুনেছি: “আমার উম্মতের কোন ব্যক্তি রাতে
উঠে, অতঃপর নিজেকে পবিত্রতার জন্য প্রস্তুত করে, তার ওপর থাকে অনেক গিরা, যখন সে দু’হাত ধৌত করে একটি গিরা খুলে
যায়, যখন সে চেহারা ধৌত করে একটি গিরা খুলে যায়, যখন সে তার মাথা মাসেহ করে একটি গিরা খুলে যায়, যখন সে তার পা
ধৌত করে একটি গিরা খুলে যায়। আল্লাহ তা‘আলা পর্দার আড়ালে অবস্থানকারীদের বলেন: আমার বান্দাকে দেখ, সে আমার
নিকট প্রার্থনারত হয়ে নিজ নফসকে কষ্ট দিচ্ছে, আমার এ বান্দা যা চাইবে তা তার জন্যই”। [ইব্ন হিব্বান ও আহমদ] হাদিসটি
সহিহ।
শেষ রাতে দো‘আ ও সালাত আদায়ের ফযিলত
-113 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ - ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﻳَﻨْﺰِﻝُ ﺭَﺑُّﻨَﺎ - ﺗَﺒَﺎﺭَﻙَ ﻭَﺗَﻌَﺎﻟَﻰ- ﻛُﻞَّ ﻟَﻴْﻠَﺔٍ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﺣِﻴﻦَ ﻳَﺒْﻘَﻰ ﺛُﻠُﺚُ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﺍﻟْﺂﺧِﺮُ ﻳَﻘُﻮﻝُ: ﻣَﻦْ ﻳَﺪْﻋُﻮﻧِﻲ ﻓَﺄَﺳْﺘَﺠِﻴﺐَ ﻟَﻪُ، ﻣَﻦْ ﻳَﺴْﺄَﻟُﻨِﻲ ﻓَﺄُﻋْﻄِﻴَﻪُ،
ﻣَﻦْ ﻳَﺴْﺘَﻐْﻔِﺮُﻧِﻲ ﻓَﺄَﻏْﻔِﺮَ ﻟَﻪُ» . (ﺥ , ﻡ , ﺕ , ﺟﻪ , ﻥ ) ﺻﺤﻴﺢ
১১৩. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমাদের রব
প্রত্যেক রাতে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন যখন রাতের এক তৃতীয়াংশ বাকি থাকে, তিনি বলেন: কে আমাকে আহ্বান করবে
আমি তার ডাকে সাড়া দিব, কে আমার নিকট প্রার্থনা করবে আমি তাকে প্রদান করব, কে আমার নিকট ক্ষমা চাইবে আমি
তাকে ক্ষমা করব”। [বুখারি, মুসলিম, তিরমিযি, ইব্ন মাজাহ ও নাসায়ি] হাদিসটি সহিহ।
দুই ব্যক্তিকে দেখে আমাদের রব আশ্চর্য হন
-114 ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻣَﺴْﻌُﻮﺩٍ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ - ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﻋَﺠِﺐَ ﺭَﺑُّﻨَﺎ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ- ﻣِﻦْ ﺭَﺟُﻠَﻴْﻦِ , ﺭَﺟُﻞٍ ﺛَﺎﺭَ ﻋَﻦْ ﻭِﻃَﺎﺋِﻪِ ﻭَﻟِﺤَﺎﻓِﻪِ ﻣِﻦْ ﺑَﻴْﻦِ ﺃَﻫْﻠِﻪِ ﻭَﺣَﻴِّﻪِ ﺇِﻟَﻰ ﺻَﻠَﺎﺗِﻪِ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺭَﺑُّﻨَﺎ: ﺃَﻳَﺎ ﻣَﻠَﺎﺋِﻜَﺘِﻲ ﺍﻧْﻈُﺮُﻭﺍ ﺇِﻟَﻰ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﺛَﺎﺭَ
ﻣِﻦْ ﻓِﺮَﺍﺷِﻪِ ﻭَﻭِﻃَﺎﺋِﻪِ ﻭَﻣِﻦْ ﺑَﻴْﻦِ ﺣَﻴِّﻪِ ﻭَﺃَﻫْﻠِﻪِ ﺇِﻟَﻰ ﺻَﻠَﺎﺗِﻪِ؛ ﺭَﻏْﺒَﺔً ﻓِﻴﻤَﺎ ﻋِﻨْﺪِﻱ ﻭَﺷَﻔَﻘَﺔً ﻣِﻤَّﺎ ﻋِﻨْﺪِﻱ، ﻭَﺭَﺟُﻞٍ ﻏَﺰَﺍ ﻓِﻲ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ- ﻓَﺎﻧْﻬَﺰَﻣُﻮﺍ ﻓَﻌَﻠِﻢَ ﻣَﺎ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻔِﺮَﺍﺭِ ﻭَﻣَﺎ ﻟَﻪُ ﻓِﻲ ﺍﻟﺮُّﺟُﻮﻉِ، ﻓَﺮَﺟَﻊَ ﺣَﺘَّﻰ ﺃُﻫَﺮِﻳﻖَ ﺩَﻣُﻪُ؛ ﺭَﻏْﺒَﺔً ﻓِﻴﻤَﺎ ﻋِﻨْﺪِﻱ
ﻭَﺷَﻔَﻘَﺔً ﻣِﻤَّﺎ ﻋِﻨْﺪِﻱ , ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ- ﻟِﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺘِﻪِ : ﺍﻧْﻈُﺮُﻭﺍ ﺇِﻟَﻰ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﺭَﺟَﻊَ ﺭَﻏْﺒَﺔً ﻓِﻴﻤَﺎ ﻋِﻨْﺪِﻱ ﻭَﺭَﻫْﺒَﺔً ﻣِﻤَّﺎ ﻋِﻨْﺪِﻱ ﺣَﺘَّﻰ ﺃُﻫَﺮِﻳﻖَ ﺩَﻣُﻪُ » . ( ﺣﻢ , ﺩ ) ﺣﺴﻦ
১১৪. ইব্ন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমাদের রব দুই ব্যক্তিকে
দেখে আশ্চর্য হন: এক ব্যক্তি যে তার বিছানা ও লেপ ছেড়ে পরিবার ও প্রিয়জনদের থেকে ওঠে সালাতে দাঁড়াল, আমাদের রব
বলেন: হে আমাদের ফেরেশতারা, আমার বান্দাকে দেখ বিছানা ও লেপ ছেড়ে পরিবার ও প্রিয়জনদের থেকে তার সালাতের
জন্য ওঠেছে, আমার নিকট যা রয়েছে তার আশা ও আমার শাস্তির ভয়ে। অপর ব্যক্তি যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করল, তবে
তারা পরাস্ত হল, সে মনে করল পলায়নে কি শাস্তি ও ফিরে যাওয়ায় কি পুরষ্কার, অতঃপর সে ফিরে গেল অবশেষে তার রক্ত
ঝরানো হল, আমার নিকট যা রয়েছে তার আশা ও আমার শাস্তির ভয়ে, আল্লাহ তার ফেরেশতাদের বলেন: আমার বান্দাকে দেখ,
আমার নিকট যা রয়েছে তার আশা ও আমার শাস্তির ভয়ে ফিরে এসেছে, অবশেষে তার রক্ত প্রবাহিত করা হল”। [আহমদ ও আবু
দাউদ] হাদিসটি হাসান।
নফল সালাতের ফযিলত
-115 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ - ﻋَﻦْ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﺃَﻭَّﻝُ ﻣَﺎ ﻳُﺤَﺎﺳَﺐُ ﺑِﻪِ ﺍﻟْﻌَﺒْﺪُ ﺻَﻠَﺎﺗُﻪُ ﻓَﺈِﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﺃَﻛْﻤَﻠَﻬَﺎ ﻭَﺇِﻟَّﺎ ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ: ﺍﻧْﻈُﺮُﻭﺍ ﻟِﻌَﺒْﺪِﻱ ﻣِﻦْ ﺗَﻄَﻮُّﻉٍ؛ ﻓَﺈِﻥْ ﻭُﺟِﺪَ ﻟَﻪُ ﺗَﻄَﻮُّﻉٌ ﻗَﺎﻝَ: ﺃَﻛْﻤِﻠُﻮﺍ ﺑِﻪِ
ﺍﻟْﻔَﺮِﻳﻀَﺔَ » . (ﻥ ) ﺻﺤﻴﺢ
১১৫. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “বান্দাকে যে
বিষয়ে সর্বপ্রথম জবাবদিহি করা হবে তার সালাত, যদি সে তা পূর্ণ করে থাকে, অন্যথায় আল্লাহ বলবেন: আমার বান্দার নফল
দেখ, যদি তার নফল পাওয়া যায়, বলবেন: এর দ্বারা ফরয পূর্ণ কর”। [নাসায়ি] হাদিসটি সহিহ।
মুয়াজ্জিনের ফযিলত
-116 ﻋﻦ ﻋﻘﺒﺔ ﺑﻦ ﻋﺎﻣﺮ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ- ﻗﺎﻝ ﺳﻤﻌﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻘﻮﻝ: « ﻳﻌﺠﺐ ﺭﺑﻜﻢ ﻣﻦ ﺭﺍﻋﻲ ﻏﻨﻢ ﻓﻲ ﺭﺃﺱ ﺷﻈﻴﺔ ﺑﺠﺒﻞ ﻳﺆﺫﻥ ﺑﺎﻟﺼﻼﺓ ﻭﻳﺼﻠﻲ ﻓﻴﻘﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ: ﺍﻧﻈﺮﻭﺍ ﺇﻟﻰ ﻋﺒﺪﻱ ﻫﺬﺍ ﻳﺆﺫﻥ
ﻭﻳﻘﻴﻢ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻳﺨﺎﻑ ﻣﻨﻲ ﻗﺪ ﻏﻔﺮﺕ ﻟﻌﺒﺪﻱ ﻭﺃﺩﺧﻠﺘﻪ ﺍﻟﺠﻨﺔ» . ( ﺩ , ﻥ ) ﺻﺤﻴﺢ
১১৬. উকবা ইব্ন আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে
বলতে শুনেছি: “তোমাদের রব পাহাড়ের চুড়ায় বকরির রাখালকে দেখে আশ্চর্য হন, যে সালাতের আযান দেয় ও সালাত আদায়
করে, আল্লাহ তা‘আলা বলেন: আমার এ বান্দাকে দেখ আযান দেয় ও সালাত কায়েম করে, আমাকে ভয় করে, আমি আমার
বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালাম”। [আবু দাউদ ও নাসায়ি] হাদিসটি সহিহ।
আসর ও ফজর সালাতের ফযিলত
-117 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ - ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝ: « ﻳَﺘَﻌَﺎﻗَﺒُﻮﻥَ ﻓِﻴﻜُﻢْ ﻣَﻠَﺎﺋِﻜَﺔٌ ﺑِﺎﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻭَﻣَﻠَﺎﺋِﻜَﺔٌ ﺑِﺎﻟﻨَّﻬَﺎﺭِ، ﻭَﻳَﺠْﺘَﻤِﻌُﻮﻥَ ﻓِﻲ ﺻَﻠَﺎﺓِ ﺍﻟْﻔَﺠْﺮِ ﻭَﺻَﻠَﺎﺓِ ﺍﻟْﻌَﺼْﺮِ، ﺛُﻢَّ ﻳَﻌْﺮُﺝُ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺑَﺎﺗُﻮﺍ ﻓِﻴﻜُﻢْ ﻓَﻴَﺴْﺄَﻟُﻬُﻢْ -ﻭَﻫُﻮَ ﺃَﻋْﻠَﻢُ
ﺑِﻬِﻢْ- ﻛَﻴْﻒَ ﺗَﺮَﻛْﺘُﻢْ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ : ﺗَﺮَﻛْﻨَﺎﻫُﻢْ ﻭَﻫُﻢْ ﻳُﺼَﻠُّﻮﻥَ ﻭَﺃَﺗَﻴْﻨَﺎﻫُﻢْ ﻭَﻫُﻢْ ﻳُﺼَﻠُّﻮﻥَ ». ( ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
১১৭. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “পালাবদল করে
রাত ও দিনের ফেরেশতাগণ তোমাদের নিকট আগমন করে এবং তারা ফজর ও আসর সালাতে একত্র হয়। অতঃপর তোমাদের মাঝে
রাত যাপনকারীগণ ওপরে ওঠে, আল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, অথচ তিনি তাদের চেয়ে বেশী জানেন, আমার বান্দাদের
কিভাবে রেখে এসেছে? তারা বলে: আমরা তাদেরকে সালাত পড়া অবস্থায় রেখে এসেছি, যখন গিয়েছি তারা সালাত আদায়
করছিল”। [বুখারি ও মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
মাগরিব থেকে এশা পর্যন্ত মসজিদে থাকার ফযিলত
-118 ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻋَﻤْﺮٍﻭ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ- ﻗَﺎﻝَ: ﺻَﻠَّﻴْﻨَﺎ ﻣَﻊَ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻟْﻤَﻐْﺮِﺏَ ﻓَﺮَﺟَﻊَ ﻣَﻦْ ﺭَﺟَﻊَ ﻭَﻋَﻘَّﺐَ ﻣَﻦْ ﻋَﻘَّﺐَ ﻓَﺠَﺎﺀَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣُﺴْﺮِﻋًﺎ ﻗَﺪْ ﺣَﻔَﺰَﻩُ ﺍﻟﻨَّﻔَﺲُ ﻭَﻗَﺪْ ﺣَﺴَﺮَ ﻋَﻦْ ﺭُﻛْﺒَﺘَﻴْﻪِ
ﻓَﻘَﺎﻝَ: « ﺃَﺑْﺸِﺮُﻭﺍ ﻫَﺬَﺍ ﺭَﺑُّﻜُﻢْ ﻗَﺪْ ﻓَﺘَﺢَ ﺑَﺎﺑًﺎ ﻣِﻦْ ﺃَﺑْﻮَﺍﺏِ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ ﻳُﺒَﺎﻫِﻲ ﺑِﻜُﻢْ ﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔَ ﻳَﻘُﻮﻝُ: ﺍﻧْﻈُﺮُﻭﺍ ﺇِﻟَﻰ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ ﻗَﺪْ ﻗَﻀَﻮْﺍ ﻓَﺮِﻳﻀَﺔً ﻭَﻫُﻢْ ﻳَﻨْﺘَﻈِﺮُﻭﻥَ ﺃُﺧْﺮَﻯ ».
( ﺟﻪ , ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ
১১৮. আব্দুল্লাহ ইব্ন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের সাথে মাগরিব আদায় করলাম, অতঃপর যারা ফিরে যাবার ফিরে গেল এবং যারা থাকার থাকল, পরক্ষণেই
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্রুত ফিরে আসলেন, তার নিশ্বাস জোরে পড়ছিল, তার হাঁটুর কাপড় উঠে
যাচ্ছিল, তিনি বললেন: “তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর, তোমাদের রব আসমানের একটি দরজা খুলে তোমাদের নিয়ে ফেরেশতাদের
সাথে গর্ব করছেন, তিনি বলছেন: আমার বান্দাদের দেখ, তারা এক ফরয শেষ করে অপর ফরযের অপেক্ষা করছে”। [ইব্ন মাজাহ ও
আহমদ] হাদিসটি সহিহ।
দিনের শুরুতে সুরক্ষা গ্রহণ করা
-119 ﻋَﻦْ ﻧُﻌَﻴْﻢِ ﺑْﻦِ ﻫَﻤَّﺎﺭٍ ﺍﻟْﻐَﻄَﻔَﺎﻧِﻲِّ ﺃَﻧَّﻪُ ﺳَﻤِﻊَ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ: « ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ: ﻳَﺎ ﺍﺑْﻦَ ﺁﺩَﻡَ ﻟَﺎ ﺗَﻌْﺠِﺰْ ﻋَﻦْ ﺃَﺭْﺑَﻊِ ﺭَﻛَﻌَﺎﺕٍ ﻣِﻦْ ﺃَﻭَّﻝِ ﺍﻟﻨَّﻬَﺎﺭِ ﺃَﻛْﻔِﻚَ ﺁﺧِﺮَﻩُ» . ( ﺣﻢ , ﺩ , ﺣﺐ ) ﺻﺤﻴﺢ
১১৯. নু‘আইম ইব্ন হাম্মার আল-গাতফানি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা বলেন: হে বনি আদম দিনের শুরুতে চার রাকাত সালাত আদায়ে অপারগ হয়ো
না, আমি দিন শেষে তোমার জন্য যথেষ্ট হব”। [আহমদ, আবু দাউদ ও ইব্ন হিব্বান] হাদিসটি সহিহ।
জান্নাতের খাজানা
-120 ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ، ﺃَﻥّ َﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: " ﺃَﻻ ﺃُﻋَﻠِّﻤُﻚَ، ﺃَﻭْ ﻗَﺎﻝَ: ﺃَﻻ ﺃَﺩُﻟُّﻚَ ﻋَﻠَﻰ ﻛَﻠِﻤَﺔٍ ﻣِﻦْ ﺗَﺤْﺖِ ﺍﻟْﻌَﺮْﺵِ ﻣِﻦْ ﻛَﻨْﺰِ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ؟، ﺗَﻘُﻮﻝُ: ﻻ ﺣَﻮْﻝَ ﻭَﻻ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻻ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ، ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ –ﻋﺰ ﻭﺟﻞ- : ﺃَﺳْﻠَﻢَ
ﻋَﺒْﺪِﻱ ﻭَﺍﺳْﺘَﺴْﻠَﻢَ ." ( ﻙ ) ﺣﺴﻦ
১২০. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমি কি তোমাকে
শিক্ষা দিব না, অথবা বলেছেন: আমি কি তোমাকে আরশের নিচে জান্নাতের গুপ্তধন একটি কালিমার কথা বলব না? তুমি বল: ﻻَ
ﺣَﻮْﻝَ ﻭﻟَﺎ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻟَّﺎ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ (অর্থাৎ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া সৎকাজ করার শক্তি ও অসৎ কাজ থেকে বাঁচার কোন উপায় নেই) আল্লাহ বলবেন:
আমার বান্দা মেনে নিলো ও আনুগত্য করল”। [হাকেম] হাদিসটি হাসান।
সন্তানের পিতা-মাতার জন্য ইস্তেগফার করার ফযিলত
-121 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ- ﻟَﻴَﺮْﻓَﻊُ ﺍﻟﺪَّﺭَﺟَﺔَ ﻟِﻠْﻌَﺒْﺪِ ﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺢِ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﺃَﻧَّﻰ ﻟِﻲ ﻫَﺬِﻩِ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﺑِﺎﺳْﺘِﻐْﻔَﺎﺭِ ﻭَﻟَﺪِﻙَ ﻟَﻚَ» . ( ﺣﻢ ) ﺇﺳﻨﺎﺩﻩ ﺣﺴﻦ
১২১. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয় আল্লাহ
তা‘আলা নেক বান্দার মর্তবা জান্নাতে বুলন্দ করবেন, সে বলবে: হে আমার রব এটা আমার জন্য কিভাবে হল? তিনি বলবেন:
তোমার জন্য তোমার সন্তানের ইস্তেগফারের কারণে”। [আহমদ] এ হাদিসের সনদ হাসান।
বিসমিল্লাহ না বললে শয়তান খানায় অংশ গ্রহণ করে
-122 ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ- ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: « ﻗﺎﻝ ﺇﺑﻠﻴﺲ: ﻳﺎ ﺭﺏ , ﻟﻴﺲ ﺃﺣﺪ ﻣﻦ ﺧﻠﻘﻚ ﺇﻻ ﺟﻌﻠﺖ ﻟﻪ ﺭﺯﻗًﺎ ﻭﻣﻌﻴﺸﺔ ﻓﻤﺎ ﺭﺯﻗﻲ؟ ﻗﺎﻝ: ﻣﺎ ﻟﻢ ﻳﺬﻛﺮ ﺍﺳﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ» . ( ﺃﺑﻮ ﻧﻌﻴﻢ ) ﺇﺳﻨﺎﺩﻩ ﺻﺤﻴﺢ
১২২. ইব্ন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “ইবলিস বলেছে: হে
আমার রব, আপনার কোন মখলুক নেই যার রিযক ও জীবিকা নির্বাহ আপনি নির্ধারিত করেন নি, কিন্তু আমার রিযক কি? তিনি
বললেন: যেসব খাদ্যে আল্লাহর নাম নেয়া হয় না”। [আবু নু‘আইম] এ হাদিসের সনদ সহিহ।
আল্লাহর সর্বপ্রথম মখলুক
-123 ﻋَﻦْ ﻋُﺒَﺎﺩَﺓُ ﺑْﻦُ ﺍﻟﺼَّﺎﻣِﺖِ ( ﻗﺎﻝ : ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ : « ﺇِﻥَّ ﺃَﻭَّﻝَ ﻣَﺎ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟْﻘَﻠَﻢَ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻪُ: ﺍﻛْﺘُﺐْ، ﻗَﺎﻝَ: ﺭَﺏِّ ﻭَﻣَﺎﺫَﺍ ﺃَﻛْﺘُﺐُ؟ ﻗَﺎﻝَ: ﺍﻛْﺘُﺐْ ﻣَﻘَﺎﺩِﻳﺮَ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲْﺀٍ ﺣَﺘَّﻰ ﺗَﻘُﻮﻡَ ﺍﻟﺴَّﺎﻋَﺔُ » . ( ﺩ , ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ
ﻟﻐﻴﺮﻩ
১২৩. উবাদাহ ইব্ন সামেত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “আল্লাহ তা‘আলা সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন কলম [40] , তিনি বলেন: লেখ। সে বলল: হে আমার রব,
কি লিখব? তিনি বলেন: কিয়ামত পর্যন্ত প্রত্যেক জিনিসের তাকদির লিখ”। [আবু দাউদ ও আহমদ] হাদিসটি সহিহ লি গায়রিহি।
লেখা ও সাক্ষী রাখার সূচনা
-124 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﻗَﺎﻝَ: ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﻟَﻤَّﺎ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺁﺩَﻡَ ﻭَﻧَﻔَﺦَ ﻓِﻴﻪِ ﺍﻟﺮُّﻭﺡَ ﻋَﻄَﺲَ ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ، ﻓَﺤَﻤِﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺑِﺈِﺫْﻥِ ﺍﻟﻠﻪ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﺭَﺑُّﻪُ: ﻳَﺮْﺣَﻤُﻚَ ﺭﺑﻚ ﻳَﺎ ﺁﺩَﻡُ، ﺍﺫْﻫَﺐْ ﺇِﻟَﻰ ﺃُﻭﻟَﺌِﻚَ ﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔِ ﺇِﻟَﻰ ﻣَﻠَﺈٍ
ﻣِﻨْﻬُﻢْ ﺟُﻠُﻮﺱٍ ﻓﺴﻠﻢ ﻋﻠﻴﻬﻢ , ﻓﻘﺎﻝ : ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ، ﻓﻘَﺎﻟُﻮﺍ: ﻭَﻋَﻠَﻴْﻚَ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻭَﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﺛُﻢَّ ﺭَﺟَﻊَ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﺑِّﻪِ ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﻫَﺬِﻩِ ﺗَﺤِﻴَّﺘُﻚَ ﻭَﺗَﺤِﻴَّﺔُ ﺑَﻨِﻴﻚَ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻢْ، ﻭﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ - ﺟﻼ ﻭﻋﻼ - ﻭَﻳَﺪَﺍﻩُ ﻣَﻘْﺒُﻮﺿَﺘَﺎﻥِ : ﺍﺧْﺘَﺮْ ﺃَﻳَّﻬُﻤَﺎ ﺷِﺌْﺖَ ﻗَﺎﻝَ: ﺍﺧْﺘَﺮْﺕُ ﻳَﻤِﻴﻦَ ﺭَﺑِّﻲ ﻭَﻛِﻠْﺘَﺎ
ﻳَﺪَﻱْ ﺭَﺑِّﻲ ﻳَﻤِﻴﻦٌ ﻣُﺒَﺎﺭَﻛَﺔٌ ﺛُﻢَّ ﺑَﺴَﻄَﻬَﺎ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺁﺩَﻡُ ﻭَﺫُﺭِّﻳَّﺘُﻪُ ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺃَﻱْ ﺭَﺏِّ: ﻣَﺎ ﻫَﺆُﻟَﺎﺀِ؟ ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﻫَﺆُﻟَﺎﺀِ ﺫُﺭِّﻳَّﺘُﻚَ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻛُﻞُّ ﺇِﻧْﺴَﺎﻥٍ ﻣَﻜْﺘُﻮﺏٌ ﻋُﻤْﺮُﻩُ ﺑَﻴْﻦَ ﻋَﻴْﻨَﻴْﻪِ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻓِﻴﻬِﻢْ ﺭَﺟُﻞٌ ﺃَﺿْﻮَﺅُﻫُﻢْ -ﺃَﻭْ ﻣِﻦْ ﺃَﺿْﻮَﺋِﻬِﻢْ ﻟَﻢْ ﻳُﻜْﺘَﺐْ ﻟَﻪُ ﺇﻟَّﺎ ﺃَﺭﺑَﻌُﻮﻥَ ﺳَﻨَﺔٍ- ﻗَﺎﻝَ: ﻳَﺎ
ﺭَﺏِّ ﻣَﻦْ ﻫَﺬَﺍ؟ ﻗَﺎﻝَ : ﻫَﺬَﺍ ﺍﺑْﻨُﻚَ ﺩَﺍﻭُﺩُ ﻭﻗَﺪْ ﻛَﺘَﺒْﺖُ ﻟَﻪُ ﻋُﻤْﺮَ ﺃَﺭْﺑَﻌِﻴﻦَ ﺳَﻨَﺔً، ﻗَﺎﻝَ: ﺃﻱ ﺭَﺏِّ ﺯِﺩْﻩُ ﻓِﻲ ﻋُﻤْﺮِﻩِ , ﻗَﺎﻝَ: ﺫَﺍﻙَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻛَﺘَﺒْﺖُ ﻟَﻪُ، ﻗَﺎﻝَ: ﺃَﻱْ ﺭَﺏِّ ﻓَﺈِﻧِّﻲ ﻗَﺪْ ﺟَﻌَﻠْﺖُ ﻟَﻪُ ﻣِﻦْ ﻋُﻤْﺮِﻱ ﺳِﺘِّﻴﻦَ ﺳَﻨَﺔً ﻗَﺎﻝَ: ﺃَﻧْﺖَ ﻭَﺫَﺍﻙَ، ﺃُﺳْﻜِﻦَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﻣَﺎ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ، ﺛُﻢَّ
ﺃُﻫْﺒِﻂَ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﻓَﻜَﺎﻥَ ﺁﺩَﻡُ ﻳَﻌُﺪُّ ﻟِﻨَﻔْﺴِﻪِ، ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺄَﺗَﺎﻩُ ﻣَﻠَﻚُ ﺍﻟْﻤَﻮْﺕِ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﺁﺩَﻡُ : ﻗَﺪْ ﻋَﺠَّﻠْﺖَ، ﻗَﺪْ ﻛُﺘِﺐَ ﻟِﻲ ﺃَﻟْﻒُ ﺳَﻨَﺔٍ؟ ﻗَﺎﻝَ: ﺑَﻠَﻰ ﻭَﻟَﻜِﻨَّﻚَ ﻗﺪ ﺟَﻌَﻠْﺖَ ﻟِﺎﺑْﻨِﻚِ ﺩَﺍﻭُﺩَ ﻣﻨﻬﺎ ﺳِﺘِّﻴﻦَ ﺳَﻨَﺔً، ﻓَﺠَﺤَﺪَ ﻓَﺠَﺤَﺪَﺕْ ﺫُﺭِّﻳَّﺘُﻪُ، ﻭَﻧَﺴِﻲَ ﻓَﻨَﺴِﻴَﺖْ ﺫُﺭِّﻳَّﺘُﻪُ، ﻗَﺎﻝَ : ﻓَﻤِﻦْ ﻳَﻮْﻣِﺌِﺬٍ
ﺃُﻣِﺮَ ﺑِﺎﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﻭَﺍﻟﺸُّﻬُﻮﺩِ» . ( ﺣﺐ , ﻙ , ﻋﺎ ) ﺻﺤﻴﺢ ﻟﻐﻴﺮﻩ
১২৪. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ যখন
আদমকে সৃষ্টি করেন ও তার মধ্যে রূহ সঞ্চার করেন তখন সে হাঁচি দেয়। অতঃপর বলে: আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর নির্দেশে সে
আল্লাহর প্রশংসা করল, তার রব তাকে বললেন: হে আদম তোমার রব তোমাকে রহম করুন, ঐ ফেরেশতাদের বসে থাকা দলটির কাছে
যাও, তাদেরকে সালাম কর। তিনি বললেন: ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ তারা বলল: ﻭَﻋَﻠَﻴْﻚَ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻭَﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠَّﻪِ অতঃপর তিনি তার রবের নিকট ফিরে আসেন,
তিনি বলেন: এ হচ্ছে তোমার ও তোমার সন্তানের পরস্পর অভিবাদন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তখন তার দু’হাত মুষ্টিবদ্ধ ছিল: দু’টো
থেকে যেটা ইচ্ছা গ্রহণ কর, তিনি বললেন: আমি আমার রবের ডান গ্রহণ করলাম, আমার রবের উভয় হাতই ডান ও বরকতপূর্ণ, অতঃপর
তিনি তা প্রসারিত করলেন, তাতে ছিল আদম ও তার সন্তান। তিনি বললেন: হে আমার রব, এরা কারা? তিনি বললেন: এ হচ্ছে
তোমার সন্তান, সেখানে প্রত্যেক মানুষের বয়স তার চোখের সামনে লিখা ছিল, তাদের মধ্যে একজন ছিল সবচেয়ে উজ্জ্বল,
অথবা তাদের থেকে একজন অতি উজ্জ্বল ছিল, যার জন্য শুধু চল্লিশ বছর লিখা ছিল, তিনি বললেন: হে আমার রব এ কে? তিনি
বললেন: এ হচ্ছে তোমার সন্তান দাউদ, তার জন্য আমি চল্লিশ বছর লিখেছি। তিনি বললেন: হে আমার রব তার বয়স বৃদ্ধি করুন,
তিনি বললেন: এটাই আমি তার জন্য লিখেছি। তিনি বললেন: হে আমার রব, আমি তার জন্য আমার বয়স থেকে ষাট বছর দান করলাম,
তিনি বললেন: এটা তোমার ও তার বিষয়। আল্লাহর যতদিন ইচ্ছা ছিল তিনি জান্নাতে অবস্থান করেন, অতঃপর সেখান থেকে
অবতরণ করানো হয়, এরপর থেকে তিনি নিজের বয়স হিসেব করতেন। রাসূল বলেন: তার নিকট মালাকুল মউত আসল, আদম তাকে বলেন:
দ্রুত চলে এসেছ, আমার জন্য এক হাজার বছর লিখা হয়েছে। তিনি বললেন, অবশ্যই; কিন্তু তোমার ছেলে দাউদের জন্য তার থেকে
ষাট বছর দান করেছ। আদম তা অস্বীকার করল। সে অস্বীকার করেছে তাই তার সন্তানও অস্বীকার করে, তিনি ভুলে গেছেন তাই
তার সন্তানও ভুলে যায়। তিনি বলেন: সে দিন থেকে লিখা ও সাক্ষী রাখার নির্দেশ দেয়া হয়”। ইব্ন হিব্বান, হাকেম ও আবু
আসেম] হাদিসটি সহিহ লি গায়রিহি।
নবী আদমকে আল্লাহ বললেন:
ﻳﺮﺣﻤُﻚَ ﺍﻟﻠﻪ
-125 ﻋﻦ ﺃﻧﺲ ﺑﻦ ﻣﺎﻟﻚ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: « ﻟﻤَّﺎ ﻧَﻔَﺦَ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻲ ﺁﺩَﻡْ ﺍﻟﺮُﻭْﺡ ﻓَﺒَﻠَﻎَ ﺍﻟﺮُﻭﺡُ ﺭَﺃْﺳَﻪُ ﻋَﻄَﺲَ ﻓَﻘَﺎَﻝَ: ﺍﻟﺤﻤﺪُ ﻟﻠﻪ ﺭَﺏِّ ﺍﻟﻌَﺎﻟَﻤِﻴْﻦ . ﻓَﻘَﺎَﻝَ ﻟﻪ ﺗَﺒَﺎﺭﻙْ ﻭﺗﻌﺎﻟﻰ: ﻳَﺮْﺣَﻤُﻚَ ﺍﻟﻠﻪ» . ( ﺣﺐ ) ﺻﺤﻴﺢ
১২৫. আনাস ইব্ন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ
যখন আদমের মধ্যে রূহ সঞ্চার করেন, অতঃপর রূহ যখন তার মাথায় পৌঁছে তিনি হাঁচি দেন, তারপর বলেন: ﺍﻟﺤﻤﺪُ ﻟﻠﻪ ﺭَﺏِّ ﺍﻟﻌَﺎﻟَﻤِﻴْﻦ আল্লাহ
তাকে বলেন: ﻳَﺮْﺣَﻤُﻚَ ﺍﻟﻠﻪ [ইব্ন হিব্বান] হাদিসটি সহিহ।
মুসলিমদের সালাম
-126 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺁﺩَﻡَ ﻋَﻠَﻰ ﺻُﻮﺭَﺗِﻪِ ﻃُﻮﻟُﻪُ ﺳِﺘُّﻮﻥَ ﺫِﺭَﺍﻋًﺎ، ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺧَﻠَﻘَﻪُ ﻗَﺎﻝَ: ﺍﺫْﻫَﺐْ ﻓَﺴَﻠِّﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﺃُﻭﻟَﺌِﻚَ ﺍﻟﻨَّﻔَﺮِ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔِ ﺟُﻠُﻮﺱٌ، ﻓَﺎﺳْﺘَﻤِﻊْ ﻣَﺎ ﻳُﺤَﻴُّﻮﻧَﻚَ؛ ﻓَﺈِﻧَّﻬَﺎ ﺗَﺤِﻴَّﺘُﻚَ ﻭَﺗَﺤِﻴَّﺔُ
ﺫُﺭِّﻳَّﺘِﻚَ , ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ , ﻓَﻘَﺎﻟُﻮﺍ: ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻭَﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﻓَﺰَﺍﺩُﻭﻩُ ﻭَﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﻓَﻜُﻞُّ ﻣَﻦْ ﻳَﺪْﺧُﻞُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﻋَﻠَﻰ ﺻُﻮﺭَﺓِ ﺁﺩَﻡَ ﻓَﻠَﻢْ ﻳَﺰَﻝْ ﺍﻟْﺨَﻠْﻖُ ﻳَﻨْﻘُﺺُ ﺑَﻌْﺪُ ﺣَﺘَّﻰ ﺍﻟْﺂﻥَ » .
( ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
১২৬. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা
আদমকে তার আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন, তার দৈর্ঘ্য ছিল ষাট হাত, তিনি তাকে সৃষ্টি করে বলেন: যাও সেখানে বসে থাকা
ফেরেশতাদের দলকে সালাম কর, খেয়াল করে শোন তারা তোমাকে কি অভিবাদন জানায়, কারণ তা-ই হচ্ছে তোমার ও তোমার
সন্তানের অভিবাদন। তিনি বললেন: ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ তারা বলল: ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻭَﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠَّﻪِ তারা অতিরিক্ত বলল। সুতরাং যে কেউ জান্নাতে যাবে
সে আদমের আকৃতিতে যাবে, আর তারপর থেকে মানুষ ছোট হওয়া আরম্ভ করছে, এখন পর্যন্ত তা হচ্ছে”। [বুখারি ও মুসলিম] হাদিসটি
সহিহ।
আল্লাহর নবী ইউনুস আলাইহিস সালামের ঘটনা
-127 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃَﻧَّﻪُ ﻗَﺎﻝَ- ﻳَﻌْﻨِﻲ: ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺗَﺒَﺎﺭَﻙَ ﻭَﺗَﻌَﺎﻟَﻰ:- «ﻟَﺎ ﻳَﻨْﺒَﻐِﻲ ﻟِﻌَﺒْﺪٍ ﻟِﻲ (ﻭ ﻗَﺎﻝَ ﺍﺑْﻦُ ﺍﻟْﻤُﺜَﻨَّﻰ: ﻟِﻌَﺒْﺪِﻱ ) ﺃَﻥْ ﻳَﻘُﻮﻝَ : ﺃَﻧَﺎ ﺧَﻴْﺮٌ ﻣِﻦْ ﻳُﻮﻧُﺲَ ﺑْﻦِ ﻣَﺘَّﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡ » . ( ﻡ , ﺥ )ﺻﺤﻴﺢ
১২৭. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা
বলেছেন: আমার কোন বান্দার জন্য (বর্ণনাকারী ইব্ন মুসান্না বলেছেন: আমার বান্দার জন্য) এমন বলা সমীচীন নয়: আমি ইউনুস
ইব্ন মাত্তা আলাইহিস সালাম থেকে উত্তম [41] ”। [বুখারি ও মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
মুসা ও খিদির আলাইহিমাস সালামের ঘটনা
-128 ﻋَﻦْ ﺳَﻌِﻴﺪُ ﺑْﻦُ ﺟُﺒَﻴْﺮٍ ﻗَﺎﻝَ: ﻗُﻠْﺖُ ﻟِﺎﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ ﺇِﻥَّ ﻧَﻮْﻓًﺎ ﺍﻟْﺒَﻜَﺎﻟِﻲَّ ﻳَﺰْﻋُﻢُ ﺃَﻥَّ ﻣُﻮﺳَﻰ ﺻَﺎﺣِﺐَ ﺍﻟْﺨَﻀِﺮِ ﻟَﻴْﺲَ ﻫُﻮَ ﻣُﻮﺳَﻰ ﺑَﻨِﻲ ﺇِﺳْﺮَﺍﺋِﻴﻞَ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻫُﻮَ ﻣُﻮﺳَﻰ ﺁﺧَﺮُ، ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﻛَﺬَﺏَ ﻋَﺪُﻭُّ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺃُﺑَﻲُّ ﺑْﻦُ ﻛَﻌْﺐٍ ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ
: «ﺃَﻥَّ ﻣُﻮﺳَﻰ ﻗَﺎﻡَ ﺧَﻄِﻴﺒًﺎ ﻓِﻲ ﺑَﻨِﻲ ﺇِﺳْﺮَﺍﺋِﻴﻞَ ﻓَﺴُﺌِﻞَ ﺃَﻱُّ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﺃَﻋْﻠَﻢُ؟ ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺃَﻧَﺎ » , ﻓَﻌَﺘَﺐَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺇِﺫْ ﻟَﻢْ ﻳَﺮُﺩَّ ﺍﻟْﻌِﻠْﻢَ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻪُ: « ﺑَﻠَﻰ ﻟِﻲ ﻋَﺒْﺪٌ ﺑِﻤَﺠْﻤَﻊِ ﺍﻟْﺒَﺤْﺮَﻳْﻦِ ﻫُﻮَ ﺃَﻋْﻠَﻢُ ﻣِﻨْﻚَ, ﻗَﺎﻝَ: "ﺃَﻱْ ﺭَﺏِّ ﻭَﻣَﻦْ ﻟِﻲ ﺑِﻪِ؟ -ﻭَﺭُﺑَّﻤَﺎ ﻗَﺎﻝَ ﺳُﻔْﻴَﺎﻥُ: ﺃَﻱْ
ﺭَﺏِّ ﻭَﻛَﻴْﻒَ ﻟِﻲ ﺑِﻪ؟ِ- ﻗَﺎﻝَ: ﺗَﺄْﺧُﺬُ ﺣُﻮﺗًﺎ ﻓَﺘَﺠْﻌَﻠُﻪُ ﻓِﻲ ﻣِﻜْﺘَﻞٍ ﺣَﻴْﺜُﻤَﺎ ﻓَﻘَﺪْﺕَ ﺍﻟْﺤُﻮﺕَ ﻓَﻬُﻮَ ﺛَﻢَّ» .. ﻓﺬﻛﺮ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ . ( ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
১২৮. সায়িদ ইব্ন জুবায়ের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইব্ন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললাম ‘নাউফ আল-বাকালি’র
ধারণা ‘খিদির’ এর সাথী ‘মুসা’ বনি ইসরাইলের ‘মুসা’ নয়, তিনি অন্য ‘মুসা’। তিনি বললেন: আল্লাহর দুশমন মিথ্যা বলেছে। উবাই
ইব্ন কা‘ব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদেরকে বর্ণনা করেন: “একদা মুসা আলাইহিস সালাম বনি
ইসরাইলে খুতবা দেয়ার জন্য দাঁড়ালে তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, কে সবচেয়ে বেশী জানে? তিনি বললেন: আমি”। এ জন্য আল্লাহ
তাকে তিরস্কার করলেন, কারণ তিনি বেশী জানার জ্ঞান আল্লাহর নিকট সোপর্দ করেন নি। তাকে তিনি বললেন: “দুই সমুদ্রের
মিলনস্থলে আমার এক বান্দা রয়েছে, সে তোমার চেয়ে অধিক জানে। তিনি বললেন: হে আমার রব, তার নিকট পৌঁছার জন্য
আমার কে আছে? অথবা সুফিয়ান বলেছেন: হে আমার রব, আমি কিভাবে তার কাছে পৌঁছব? তিনি বললেন: একটি মাছ নাও,
অতঃপর তা পাত্রে রাখ, যেখানে মাছটি হারাবে সেখানেই সে...” অতঃপর পূর্ণ হাদিস উল্লেখ করেন। [বুখারি ও মুসলিম]
হাদিসটি সহিহ।
মালাকুল মউতের সাথে মুসা আলাইহিস সালামের ঘটনা
-129 ﻋَﻦْ ﺃﺑﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﺃﻥْ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎَﻝ: « ﺟَﺎﺀَ ﻣَﻠَﻚُ ﺍﻟْﻤَﻮْﺕِ ﺇِﻟَﻰ ﻣُﻮﺳَﻰ -ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡ- ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻪُ : ﺃَﺟِﺐْ ﺭَﺑَّﻚَ , ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﻠَﻄَﻢَ ﻣُﻮﺳَﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡ ﻋَﻴْﻦَ ﻣَﻠَﻚِ ﺍﻟْﻤَﻮْﺕِ ﻓَﻔَﻘَﺄَﻫَﺎ , ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺮَﺟَﻊَ ﺍﻟْﻤَﻠَﻚُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺇِﻧَّﻚَ ﺃَﺭْﺳَﻠْﺘَﻨِﻲ ﺇِﻟَﻰ ﻋَﺒْﺪٍ ﻟَﻚَ ﻟَﺎ ﻳُﺮِﻳﺪُ ﺍﻟْﻤَﻮْﺕَ ﻭَﻗَﺪْ ﻓَﻘَﺄَ ﻋَﻴْﻨِﻲ , ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺮَﺩَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻋَﻴْﻨَﻪُ ﻭَﻗَﺎﻝَ : ﺍﺭْﺟِﻊْ ﺇِﻟَﻰ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﻓَﻘُﻞْ: ﺍﻟْﺤَﻴَﺎﺓَ ﺗُﺮِﻳﺪُ؟ ﻓَﺈِﻥْ ﻛُﻨْﺖَ ﺗُﺮِﻳﺪُ ﺍﻟْﺤَﻴَﺎﺓَ ﻓَﻀَﻊْ ﻳَﺪَﻙَ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﺘْﻦِ ﺛَﻮْﺭٍ ﻓَﻤَﺎ ﺗَﻮَﺍﺭَﺕْ ﻳَﺪُﻙَ ﻣِﻦْ ﺷَﻌْﺮَﺓٍ ﻓَﺈِﻧَّﻚَ ﺗَﻌِﻴﺶُ
ﺑِﻬَﺎ ﺳَﻨَﺔً ﻗَﺎﻝَ: ﺛُﻢَّ ﻣَﻪْ؟ ﻗَﺎﻝَ : ﺛُﻢَّ ﺗَﻤُﻮﺕُ ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺎﻟْﺂﻥَ ﻣِﻦْ ﻗَﺮِﻳﺐٍ ﺭَﺏِّ ﺃَﻣِﺘْﻨِﻲ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﺍﻟْﻤُﻘَﺪَّﺳَﺔِ ﺭَﻣْﻴَﺔً ﺑِﺤَﺠَﺮٍ» . ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : «ﻭَﺍﻟﻠَّﻪِ ﻟَﻮْ ﺃَﻧِّﻲ ﻋِﻨْﺪَﻩُ ﻟَﺄَﺭَﻳْﺘُﻜُﻢْ ﻗَﺒْﺮَﻩُ ﺇِﻟَﻰ ﺟَﺎﻧِﺐِ ﺍﻟﻄَّﺮِﻳﻖِ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟْﻜَﺜِﻴﺐِ ﺍﻟْﺄَﺣْﻤَﺮِ » . ( ﻡ ,
ﺥ ) ﺻﺤﻴﺢ
১২৯. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মালাকুল মউত
মুসা আলাইহিস সালামের নিকট এসে তাকে বলেন: আপনার রবের ডাকে সাড়া দিন। তিনি বলেন: অতঃপর মুসা আলাইহিস
সালাম মালাকুল মউতকে থাপ্পড় মেরে তার চোখ উপড়ে ফেলেন। তিনি বলেন: অতঃপর মালাকুল মউত আল্লাহর নিকট ফিরে গেল
এবং বলল: আপনি আমাকে আপনার এমন বান্দার নিকট প্রেরণ করেছেন যে মরতে চায় না, সে আমার চোখ উপড়ে ফেলেছে, তিনি
বলেন: আল্লাহ তার চোখ তাকে ফিরিয়ে দেন, আর বলেন: আমার বান্দার নিকট ফিরে যাও এবং বল: আপনি হায়াত চান? যদি
আপনি হায়াত চান তাহলে ষাঁড়ের পিঠে হাত রাখুন, আপনার হাত যে পরিমাণ চুল ঢেকে নিবে তার সমান বছর আপনি জীবিত
থাকবেন। তিনি বলেন: অতঃপর? মালাকুল মউত বলল: অতঃপর মৃত্যু বরণ করবেন। তিনি বলেন: তাহলে এখনি দ্রুত কর। হে আমার রব,
পবিত্র ভূমির সন্নিকটে পাথর নিক্ষেপের দূরত্বে আমাকে মৃত্যু দান কর”। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
“আল্লাহর শপথ আমি যদি তার নিকট হতাম, তাহলে রাস্তার পাশে লাল বালুর স্তূপের নিকট তার কবর দেখিয়ে দিতাম”। [বুখারি
ও মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
আইয়ূব আলাইহিস সালামের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ
-130 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: «ﺑَﻴْﻨَﻤَﺎ ﺃَﻳُّﻮﺏُ ﻳَﻐْﺘَﺴِﻞُ ﻋُﺮْﻳَﺎﻧًﺎ ﺧَﺮَّ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺭِﺟْﻞُ ﺟَﺮَﺍﺩٍ ﻣِﻦْ ﺫَﻫَﺐٍ ﻓَﺠَﻌَﻞَ ﻳَﺤْﺜِﻲ ﻓِﻲ ﺛَﻮْﺑِﻪِ ﻓَﻨَﺎﺩَﺍﻩُ ﺭَﺑُّﻪُ: ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻮﺏُ ﺃَﻟَﻢْ ﺃَﻛُﻦْ ﺃَﻏْﻨَﻴْﺘُﻚَ ﻋَﻤَّﺎ ﺗَﺮَﻯ؟ ﻗَﺎﻝَ: ﺑَﻠَﻰ ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﻭَﻟَﻜِﻦْ ﻟَﺎ ﻏِﻨَﻰ ﻟِﻲ
ﻋَﻦْ ﺑَﺮَﻛَﺘِﻚَ» . ( ﺥ , ﻥ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৩০. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “একদা আইয়ূব উলঙ্গ গোসল
করছিল, তার ওপর এক পাল স্বর্ণের টিড্ডি পড়ল, তিনি তা মুষ্টি মুষ্টি করে কাপড়ে তুলছিলেন। এমতাবস্থায় তার রব তাকে ডাক
দিলেন: হে আইয়ূব, আমি কি তোমাকে অমুখাপেক্ষী করে দেই-নি যা দেখছ তা থেকে? তিনি বললেন: অবশ্যই হে আমার রব, তবে
আপনার বরকত থেকে আমার অমুখাপেক্ষীতা নেই”। [বুখারি ও নাসায়ি] হাদিসটি সহিহ।
জাহেলী যুগের প্রথার অনিষ্ট
131 ﻋَﻦْ ﺃُﺑَﻲِّ ﺑْﻦِ ﻛَﻌْﺐٍ ( ﻗَﺎﻝَ: ﺍﻧْﺘَﺴَﺐَ ﺭَﺟُﻠَﺎﻥِ ﻋَﻠَﻰ ﻋَﻬْﺪِ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺃَﺣَﺪُﻫُﻤَﺎ : ﺃَﻧَﺎ ﻓُﻠَﺎﻥُ ﺑْﻦُ ﻓُﻠَﺎﻥٍ ﻓَﻤَﻦْ ﺃَﻧْﺖَ ﻟَﺎ ﺃُﻡَّ ﻟَﻚَ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﺍﻧْﺘَﺴَﺐَ ﺭَﺟُﻠَﺎﻥِ ﻋَﻠَﻰ ﻋَﻬْﺪِ ﻣُﻮﺳَﻰ -ﻋَﻠَﻴْﻪِ
ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡ- ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺃَﺣَﺪُﻫُﻤَﺎ: ﺃَﻧَﺎ ﻓُﻠَﺎﻥُ ﺑْﻦُ ﻓُﻠَﺎﻥٍ ﺣَﺘَّﻰ ﻋَﺪَّ ﺗِﺴْﻌَﺔً ﻓَﻤَﻦْ ﺃَﻧْﺖَ ﻟَﺎ ﺃُﻡَّ ﻟَﻚَ، ﻗَﺎﻝَ: ﺃَﻧَﺎ ﻓُﻠَﺎﻥُ ﺑْﻦُ ﻓُﻠَﺎﻥٍ ﺍﺑْﻦُ ﺍﻟْﺈِﺳْﻠَﺎﻡِ. ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺄَﻭْﺣَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺇِﻟَﻰ ﻣُﻮﺳَﻰ -ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡ :- ﺃَﻥَّ ﻫَﺬَﻳْﻦِ ﺍﻟْﻤُﻨْﺘَﺴِﺒَﻴْﻦِ ﺃَﻣَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟْﻤُﻨْﺘَﻤِﻲ ﺃَﻭْ ﺍﻟْﻤُﻨْﺘَﺴِﺐُ ﺇِﻟَﻰ ﺗِﺴْﻌَﺔٍ
ﻓِﻲ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻓَﺄَﻧْﺖَ ﻋَﺎﺷِﺮُﻫُﻢْ، ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ ﻳَﺎ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟْﻤُﻨْﺘَﺴِﺐُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﺛْﻨَﻴْﻦِ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﻓَﺄَﻧْﺖَ ﺛَﺎﻟِﺜُﻬُﻤَﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ» . ( ﺣﻢ , ﻥ ) ﺇﺳﻨﺎﺩﻩ ﺻﺤﻴﺢ
১৩১. উবাই ইব্ন কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে
দু’জন ব্যক্তি বংশের উল্লেখ করল, একজন বলল: আমি অমুকের সন্তান অমুক তুমি কে, তুমি মা হারা হও। অতঃপর রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: মুসা আলাইহিস সালামের যুগে দু’ ব্যক্তি বংশ পরিচয় উল্লেখ করেছিল, তাদের
একজন বলে: আমি অমুকের সন্তান অমুক এভাবে সে নয়জন গণনা করে, অতএব তুমি কে, তুমি মা হারা হও। সে বলল: আমি অমুকের
সন্তান অমুক ইব্ন ইসলাম। তিনি বলেন: আল্লাহ তা‘আলা মুসা আলাইহিস সালামের নিকট ওহি প্রেরণ করলেন, এ দু’জন বংশ পরিচয়
উল্লেখকারী: হে নয়জন উল্লেখকারী তুমি জাহান্নামে, তুমি তাদের দশম ব্যক্তি। হে দু’জন উল্লেখকারী তুমি জান্নাতে, তুমি
তাদের তৃতীয়জন”। [আহমদ ও নাসায়ি] হাদিসটির সনদ সহিহ।
শয়তানের ওয়াসওয়াসা
-132 ﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲِ ﺑْﻦِ ﻣَﺎﻟِﻚٍ ( ﻋَﻦْ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ: ﺇِﻥَّ ﺃُﻣَّﺘَﻚَ ﻟَﺎ ﻳَﺰَﺍﻟُﻮﻥَ ﻳَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ : ﻣَﺎ ﻛَﺬَﺍ؟ ﻣَﺎ ﻛَﺬَﺍ؟ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﻘُﻮﻟُﻮﺍ : ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟْﺨَﻠْﻖَ ﻓَﻤَﻦْ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﻠَّﻪَ؟» ( ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৩২. আনাস ইব্ন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ
তা‘আলা বলেন: তোমার উম্মত বলতে থাকবে: এটা কিভাবে? এটা কিভাবে? অবশেষে বলবে: আল্লাহ মখলুক সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু
আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে?” [মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদের ফযিলত
-133 ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺑْﻦِ ﻋَﻮْﻑٍ ( ﻗَﺎﻝَ: ﺧَﺮَﺝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓَﺎﺗَّﺒَﻌْﺘُﻪُ ﺣَﺘَّﻰ ﺩَﺧَﻞَ ﻧَﺨْﻼً ﻓَﺴَﺠَﺪَ ﻓَﺄَﻃَﺎﻝَ ﺍﻟﺴُّﺠُﻮﺩَ ﺣَﺘَّﻰ ﺧِﻔْﺖُ ﺃَﻭْ ﺧَﺸِﻴﺖُ ﺃَﻥْ ﻳَﻜُﻮﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻗَﺪْ ﺗَﻮَﻓَّﺎﻩُ ﺃَﻭْ ﻗَﺒَﻀَﻪُ، ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺠِﺌْﺖُ ﺃَﻧْﻈُﺮُ ﻓَﺮَﻓَﻊَ ﺭَﺃْﺳَﻪُ ﻓَﻘَﺎﻝَ: «ﻣَﺎ
ﻟَﻚَ ﻳَﺎ ﻋَﺒْﺪَ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤﻦِ؟ » ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺬَﻛَﺮْﺕُ ﺫَﻟِﻚَ ﻟَﻪُ ﻓَﻘَﺎﻝَ: « ﺇِﻥَّ ﺟِﺒْﺮِﻳﻞَ -ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡ- ﻗَﺎﻝَ ﻟِﻲ: ﺃَﻟَﺎ ﺃُﺑَﺸِّﺮُﻙَ، ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ - ﻳَﻘُﻮﻝُ ﻟَﻚَ: ﻣَﻦْ ﺻَﻠَّﻰ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﺻَﻠَّﻴْﺖُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﻣَﻦْ ﺳَﻠَّﻢَ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﺳَﻠَّﻤْﺖُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ » . ( ﺣﻢ , ﻫﻖ , ﻳﻊ ) ﺣﺴﻦ ﻟﻐﻴﺮﻩ
১৩৩. আব্দুর রহমান ইব্ন আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বের হলেন, আমি তার অনুগামী হলাম, তিনি একটি খেজুর বাগানে ঢুকে সেজদা করলেন, সেজদা এত দীর্ঘ করলেন যে আমি
আশঙ্কা করলাম আল্লাহ তাকে তো মৃত্যু দেন নি! তিনি বলেন: আমি দেখার জন্য আসলাম, অতঃপর তিনি মাথা তুললেন, তিনি
বললেন: “হে আব্দুর রহমান কি হয়েছে তোমার?” তিনি বলেন: আমি তাকে তা শোনালাম, অতঃপর তিনি বললেন: “জিবরিল
(আলাইহিস সালাম) আমাকে বলেছেন: আমি কি তোমাকে সুসংবাদ দেব না, আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে বলেন: যে ব্যক্তি
তোমার ওপর দরূদ পাঠ করবে আমি তার ওপর দরূদ পাঠ করব, যে তোমার ওপর সালাম পাঠ করবে আমি তার ওপর সালাম প্রেরণ করব”।
[আহমদ, বায়হাকি ও আবু ইয়ালা] হাদিসটি হাসান লি গায়রিহি।
ভালোর নির্দেশ দেয়া ও খারাপ থেকে বিরত রাখা
-134 ﻋَﻦْ ﺃﺑﻲ ﺳَﻌِﻴﺪٍ ﺍﻟْﺨُﺪْﺭِﻱَّ ( ﻳَﻘُﻮﻝُ: ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ: «ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻟَﻴَﺴْﺄَﻝُ ﺍﻟْﻌَﺒْﺪَ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﻘُﻮﻝَ : ﻣَﺎ ﻣَﻨَﻌَﻚَ ﺇِﺫْ ﺭَﺃَﻳْﺖَ ﺍﻟْﻤُﻨْﻜَﺮَ ﺃَﻥْ ﺗُﻨْﻜِﺮَﻩُ؟ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻟَﻘَّﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺒْﺪًﺍ ﺣُﺠَّﺘَﻪُ ﻗَﺎﻝَ: ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﺭَﺟَﻮْﺗُﻚَ ﻭَﻓَﺮِﻗْﺖُ
ﻣِﻦ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ» . ( ﺟﻪ , ﺣﺐ ) ﺣﺴﻦ
১৩৪. আবু সায়িদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে
বলতে শুনেছি: “আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন বান্দাকে জিজ্ঞেস করবেন, এক পর্যায়ে বলবেন: তুমি যখন খারাপ কর্ম দেখেছ
কেন বাঁধা দাওনি? আল্লাহ যখন বান্দাকে তার উত্তর শিক্ষা দিবেন, সে বলবে: হে আমার রব, তোমার মাগফেরাত আশা করেছি
ও মানুষকে ভয় করেছি”। [ইব্ন মাজাহ ও ইব্ন হিব্বান] হাদিসটি হাসান।
ফাতেহার ফযিলত
-135 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﺃﻥ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ : ﻗَﺴَﻤْﺖُ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓَ ﺑَﻴْﻨِﻲ ﻭَﺑَﻴْﻦَ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﻧِﺼْﻔَﻴْﻦِ ﻭَﻟِﻌَﺒْﺪِﻱ ﻣَﺎ ﺳَﺄَﻝَ , ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟْﻌَﺒْﺪُ: ﴿ﭐﻟۡﺤَﻤۡﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﺭَﺏِّ ﭐﻟۡﻌَٰﻠَﻤِﻴﻦَ﴾ ، ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ: ﺣَﻤِﺪَﻧِﻲ ﻋَﺒْﺪِﻱ .
ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻗَﺎﻝَ: ﴿ﭐﻟﺮَّﺣۡﻤَٰﻦِ ﭐﻟﺮَّﺣِﻴﻢِ﴾، ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ: ﺃَﺛْﻨَﻰ ﻋَﻠَﻲَّ ﻋَﺒْﺪِﻱ . ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻗَﺎﻝَ: ﴿ﻣَٰﻠِﻚِ ﻳَﻮۡﻡِ ﭐﻟﺪِّﻳﻦِ﴾ ﻗَﺎﻝَ: ﻣَﺠَّﺪَﻧِﻲ ﻋَﺒْﺪِﻱ (ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻣَﺮَّﺓً: ﻓَﻮَّﺽَ ﺇِﻟَﻲَّ ﻋَﺒْﺪِﻱ ) ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻗَﺎﻝَ: ﴿ﺇِﻳَّﺎﻙَ ﻧَﻌۡﺒُﺪُ ﻭَﺇِﻳَّﺎﻙَ ﻧَﺴۡﺘَﻌِﻴﻦُ﴾ ﻗَﺎﻝَ : ﻫَﺬَﺍ ﺑَﻴْﻨِﻲ ﻭَﺑَﻴْﻦَ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﻭَﻟِﻌَﺒْﺪِﻱ ﻣَﺎ
ﺳَﺄَﻝَ , ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻗَﺎﻝَ : ﴿ﭐﻫۡﺪِﻧَﺎ ﭐﻟﺼِّﺮَٰﻁَ ﭐﻟۡﻤُﺴۡﺘَﻘِﻴﻢَ ٦ ﺻِﺮَٰﻁَ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃَﻧۡﻌَﻤۡﺖَ ﻋَﻠَﻴۡﻬِﻢۡ ﻏَﻴۡﺮِ ﭐﻟۡﻤَﻐۡﻀُﻮﺏِ ﻋَﻠَﻴۡﻬِﻢۡ ﻭَﻟَﺎ ﭐﻟﻀَّﺎٓﻟِّﻴﻦَ ٧ ﴾، ﻗَﺎﻝَ: ﻫَﺬَﺍ ﻟِﻌَﺒْﺪِﻱ ﻭَﻟِﻌَﺒْﺪِﻱ ﻣَﺎ ﺳَﺄَﻝَ» . ( ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৩৫. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা
বলেন: আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মাঝে দু’ভাগে ভাগ করেছি, আমার বান্দার জন্য সে যা চাইবে। বান্দা যখন
বলে: ﴿ﭐﻟۡﺤَﻤۡﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﺭَﺏِّ ﭐﻟۡﻌَٰﻠَﻤِﻴﻦَ﴾ “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিকুলের রব”। আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে।
বান্দা যখন বলে: ﴿ﭐﻟﺮَّﺣۡﻤَٰﻦِ ﭐﻟﺮَّﺣِﻴﻢِ﴾ “দয়াময়, পরম দয়ালু”। আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার গুণগান করেছে। বান্দা যখন বলে: ﴿ﻣَٰﻠِﻚِ ﻳَﻮۡﻡِ ﭐﻟﺪِّﻳﻦِ
﴾ “বিচার দিবসের মালিক”। আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করেছে। (একবার বলেছেন: আমার বান্দা
তাকে আমার ওপর ন্যাস্ত করেছে), বান্দা যখন বলে: ﴿ﺇِﻳَّﺎﻙَ ﻧَﻌۡﺒُﺪُ ﻭَﺇِﻳَّﺎﻙَ ﻧَﺴۡﺘَﻌِﻴﻦُ﴾ “আপনারই আমরা ইবাদাত করি এবং আপনারই নিকট আমরা
সাহায্য চাই”। আল্লাহ বলেন: এটা আমার ও আমার বান্দার মাঝে, আর আমার বান্দার জন্য যা সে চাইবে। যখন বান্দা বলে:
﴿ﭐﻫۡﺪِﻧَﺎ ﭐﻟﺼِّﺮَٰﻁَ ﭐﻟۡﻤُﺴۡﺘَﻘِﻴﻢَ ٦ ﺻِﺮَٰﻁَ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃَﻧۡﻌَﻤۡﺖَ ﻋَﻠَﻴۡﻬِﻢۡ ﻏَﻴۡﺮِ ﭐﻟۡﻤَﻐۡﻀُﻮﺏِ ﻋَﻠَﻴۡﻬِﻢۡ ﻭَﻟَﺎ ﭐﻟﻀَّﺎٓﻟِّﻴﻦَ ٧ ﴾ [ﺍﻟﻔﺎﺗﺤﺔ: 1، 7]
“আমাদেরকে সরল পথের হিদায়াত দিন তাদের পথ, যাদের উপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন। যাদেরকে নিয়ামত দিয়েছেন। যাদের
উপর (আপনার) ক্রোধ আপতিত হয়নি এবং যারা পথভ্রষ্টও নয়”। আল্লাহ বলেন: এটা আমার বান্দার জন্য, আমার বান্দার জন্য যা সে
চাইবে”। [মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
ঊর্ধ্বজগতে ফেরেশতাদের তর্ক
-136 ﻋَﻦْ ﻣُﻌَﺎﺫِ ﺑْﻦِ ﺟَﺒَﻞٍ ( ﻗَﺎﻝَ: ﺍﺣْﺘُﺒِﺲَ ﻋَﻨَّﺎ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺫَﺍﺕَ ﻏَﺪَﺍﺓٍ ﻋَﻦْ ﺻَﻠَﺎﺓِ ﺍﻟﺼُّﺒْﺢِ ﺣَﺘَّﻰ ﻛِﺪْﻧَﺎ ﻧَﺘَﺮَﺍﺀَﻯ ﻋَﻴْﻦَ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲِ، ﻓَﺨَﺮَﺝَ ﺳَﺮِﻳﻌًﺎ ﻓَﺜُﻮِّﺏَ ﺑِﺎﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ، ﻓَﺼَﻠَّﻰ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭَﺗَﺠَﻮَّﺯَ ﻓِﻲ
ﺻَﻠَﺎﺗِﻪِ ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺳَﻠَّﻢَ ﺩَﻋَﺎ ﺑِﺼَﻮْﺗِﻪِ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻨَﺎ: «ﻋَﻠَﻰ ﻣَﺼَﺎﻓِّﻜُﻢْ ﻛَﻤَﺎ ﺃَﻧْﺘُﻢْ» ﺛُﻢَّ ﺍﻧْﻔَﺘَﻞَ ﺇِﻟَﻴْﻨَﺎ ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻝَ: «ﺃَﻣَﺎ ﺇِﻧِّﻲ ﺳَﺄُﺣَﺪِّﺛُﻜُﻢْ ﻣَﺎ ﺣَﺒَﺴَﻨِﻲ ﻋَﻨْﻜُﻢْ ﺍﻟْﻐَﺪَﺍﺓَ، ﺇﻧِّﻲ ﻗُﻤْﺖُ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻓَﺘَﻮَﺿَّﺄْﺕُ ﻭَﺻَﻠَّﻴْﺖُ ﻣَﺎ ﻗُﺪِّﺭَ ﻟِﻲ ﻓَﻨَﻌَﺴْﺖُ ﻓِﻲ ﺻَﻠَﺎﺗِﻲ ﺣﺘﻰ ﺍﺳْﺘَﺜْﻘَﻠْﺖُ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺃَﻧَﺎ
ﺑِﺮَﺑِّﻲ - ﺗَﺒَﺎﺭَﻙَ ﻭَﺗَﻌَﺎﻟَﻰ- ﻓِﻲ ﺃَﺣْﺴَﻦِ ﺻُﻮﺭَﺓٍ، ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ , ﻗُﻠْﺖُ: ﻟَﺒَّﻴْﻚَ ﺭَﺏِّ . ﻗَﺎﻝَ: ﻓِﻴﻢَ ﻳَﺨْﺘَﺼِﻢُ ﺍﻟْﻤَﻠَﺄُ ﺍﻟْﺄَﻋْﻠَﻰ؟ ﻗُﻠْﺖُ: ﻟَﺎ ﺃَﺩْﺭِﻱ ﺭَﺏِّ- ﻗَﺎﻟَﻬَﺎ ﺛَﻠَﺎﺛًﺎ- ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺮَﺃَﻳْﺘُﻪُ ﻭَﺿَﻊَ ﻛَﻔَّﻪُ ﺑَﻴْﻦَ ﻛَﺘِﻔَﻲَّ ﺣَﺘَّﻰ ﻭَﺟَﺪْﺕُ ﺑَﺮْﺩَ ﺃَﻧَﺎﻣِﻠِﻪِ ﺑَﻴْﻦَ ﺛَﺪْﻳَﻲَّ ﻓَﺘَﺠَﻠَّﻰ ﻟِﻲ ﻛُﻞُّ
ﺷَﻲْﺀٍ ﻭَﻋَﺮَﻓْﺖُ . ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ، ﻗُﻠْﺖُ: ﻟَﺒَّﻴْﻚَ ﺭَﺏِّ، ﻗَﺎﻝَ: ﻓِﻴﻢَ ﻳَﺨْﺘَﺼِﻢُ ﺍﻟْﻤَﻠَﺄُ ﺍﻟْﺄَﻋْﻠَﻰ؟ ﻗُﻠْﺖُ: ﻓِﻲ ﺍﻟْﻜَﻔَّﺎﺭَﺍﺕِ، ﻗَﺎﻝَ: ﻣَﺎ ﻫُﻦَّ؟ ﻗُﻠْﺖُ: ﻣَﺸْﻲُ ﺍﻟْﺄَﻗْﺪَﺍﻡِ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﺠَﻤَﺎﻋَﺎﺕِ ﻭَﺍﻟْﺠُﻠُﻮﺱُ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﺴَﺎﺟِﺪِ ﺑَﻌْﺪَ ﺍﻟﺼَّﻠَﻮَﺍﺕِ، ﻭَﺇِﺳْﺒَﺎﻍُ ﺍﻟْﻮُﺿُﻮﺀِ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﻜْﺮُﻭﻫَﺎﺕِ،
ﻗَﺎﻝَ: ﺛﻢ ﻓِﻴﻢ؟َ ﻗُﻠْﺖُ : ﺇِﻃْﻌَﺎﻡُ ﺍﻟﻄَّﻌَﺎﻡِ، ﻭَﻟِﻴﻦُ ﺍﻟْﻜَﻠَﺎﻡِ ﻭَﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓُ ﺑِﺎﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻭَﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻧِﻴَﺎﻡٌ، ﻗَﺎﻝَ: ﺳَﻞْ، ﻗُﻠْﺖُ: ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﺳْﺄَﻟُﻚَ ﻓِﻌْﻞَ ﺍﻟْﺨَﻴْﺮَﺍﺕِ ﻭَﺗَﺮْﻙَ ﺍﻟْﻤُﻨْﻜَﺮَﺍﺕِ ﻭَﺣُﺐَّ ﺍﻟْﻤَﺴَﺎﻛِﻴﻦِ ﻭَﺃَﻥْ ﺗَﻐْﻔِﺮَ ﻟِﻲ ﻭَﺗَﺮْﺣَﻤَﻨِﻲ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺃَﺭَﺩْﺕَ ﻓِﺘْﻨَﺔَ ﻗَﻮْﻡٍ ﻓَﺘَﻮَﻓَّﻨِﻲ ﻏَﻴْﺮَ
ﻣَﻔْﺘُﻮﻥٍ، ﺃَﺳْﺄَﻟُﻚَ ﺣُﺒَّﻚَ ﻭَﺣُﺐَّ ﻣَﻦْ ﻳُﺤِﺒُّﻚَ، ﻭَﺣُﺐَّ ﻋَﻤَﻞٍ ﻳُﻘَﺮِّﺏُ ﺇِﻟَﻰ ﺣُﺒِّﻚَ ». ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ِ « ﺇِﻧَّﻬَﺎ ﺣَﻖٌّ ﻓَﺎﺩْﺭُﺳُﻮﻫَﺎ ﺛُﻢَّ ﺗَﻌَﻠَّﻤُﻮﻫَﺎ ». ( ﺕ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৩৬. মুয়ায ইব্ন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা ফজর সালাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বিলম্ব করলেন, আমরা প্রায় সূর্যের অগ্রভাগ দেখার কাছাকাছি ছিলাম, অতঃপর তিনি দ্রুত বের হলেন, সালাতের
ঘোষণা দেয়া হল, তিনি দ্রুত সালাত আদায় করলেন, যখন সালাম ফিরালেন উচ্চ স্বরে আমাদেরকে বললেন: “তোমরা তোমাদের
কাতারে থাক যেরূপ আছ”। অতঃপর আমাদের দিকে ফিরে বললেন: “আমি অবশ্যই তোমাদের বলব কি কারণে আজ আমার বিলম্ব
হয়েছে। আমি রাতে উঠে ওযু করেছি অতঃপর যা তাওফিক হয়েছে সালাত আদায় করেছি, সালাতে আমার তন্দ্রা এসে যায় তাই
আমার কষ্ট হচ্ছিল, হঠাৎ দেখি আমার রব আমার সামনে সর্বোত্তম আকৃতিতে। তিনি আমাকে বললেন: হে মুহাম্মদ, আমি বললাম:
লাব্বাইক আমার রব। তিনি বললেন: ঊর্ধ্বজগতের ফেরেশতারা কি নিয়ে তর্ক করছে? আমি বললাম: হে আমার রব আমি জানি না,
-তিনি তা তিনবার বললেন- রাসূল বলেন: আমি দেখলাম তিনি (আল্লাহ) নিজ হাতের তালু আমার ঘাড়ের ওপর রাখলেন, এমনকি
আমি তার আঙ্গুলের শীতলতা আমার বুকের মধ্যে অনুভব করেছি, ফলে আমার সামনে প্রত্যেক বস্তু জাহির হল ও আমি চিনলাম।
অতঃপর বললেন: হে মুহাম্মদ, আমি বললাম: লাব্বাইক হে আমার রব। তিনি বললেন: ঊর্ধ্ব জগতের ফেরেশতারা কি নিয়ে তর্ক
করছে? আমি বললাম: কাফফারা সম্পর্কে। তিনি বললেন: তা কি? আমি বললাম: জামাতের জন্য হাঁটা, সালাতের পর মসজিদে
বসে থাকা, কষ্টের সময় পূর্ণরূপে ওযু করা। তিনি বলেন: অতঃপর কোন বিষয়ে? আমি বললাম: পানাহার করানো, সুন্দর কথা বলা,
মানুষের ঘুমিয়ে থাকাবস্থায় রাতে সালাত আদায় করা। তিনি (আল্লাহ) বললেন: তুমি চাও, আমি বললাম:
ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﺳْﺄَﻟُﻚَ ﻓِﻌْﻞَ ﺍﻟْﺨَﻴْﺮَﺍﺕِ ﻭَﺗَﺮْﻙَ ﺍﻟْﻤُﻨْﻜَﺮَﺍﺕِ ﻭَﺣُﺐَّ ﺍﻟْﻤَﺴَﺎﻛِﻴﻦِ ﻭَﺃَﻥْ ﺗَﻐْﻔِﺮَ ﻟِﻲ ﻭَﺗَﺮْﺣَﻤَﻨِﻲ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺃَﺭَﺩْﺕَ ﻓِﺘْﻨَﺔَ ﻗَﻮْﻡٍ ﻓَﺘَﻮَﻓَّﻨِﻲ ﻏَﻴْﺮَ ﻣَﻔْﺘُﻮﻥٍ، ﺃَﺳْﺄَﻟُﻚَ ﺣُﺒَّﻚَ ﻭَﺣُﺐَّ ﻣَﻦْ ﻳُﺤِﺒُّﻚَ، ﻭَﺣُﺐَّ ﻋَﻤَﻞٍ ﻳُﻘَﺮِّﺏُ ﺇِﻟَﻰ ﺣُﺒِّﻚَ
“হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে কল্যাণের কাজ করার তৌফিক চাই, খারাপ কাজ ছেড়ে দেয়ার তৌফিক চাই, অভাবীদের জন্য
ভালোবাসা, আর আপনি যেন আমাকে ক্ষমা করেন ও আমার প্রতি রহম করেন। আর যখন আপনি কোন কাওমকে ফিতনা তথা
পরীক্ষায় নিপতিত করতে চান, তখন আমাকে পরীক্ষায় নিপতিত না করে মৃত্যু দিন। আমি আপনার কাছে আপনার ভালোবাসা,
আপনাকে যে ভালোবাসে তার ভালবাসা এবং এমন আমলের ভালোবাসা চাই যা আমাকে আপনার ভালোবাসার নিকটে নিয়ে
যাবে।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: নিশ্চয় এ বাক্যগুলো সত্য, তোমরা এগুলো শিখ ও শিক্ষা দাও”।
[তিরমিযি] হাদিসটি সহিহ।
আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হারাম
-137 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ : « ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟْﺨَﻠْﻖَ ﺣَﺘَّﻰ ﺇِﺫَﺍ ﻓَﺮَﻍَ ﻣِﻦْ ﺧَﻠْﻘِﻪِ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﺍﻟﺮَّﺣِﻢُ : ﻫَﺬَﺍ ﻣَﻘَﺎﻡُ ﺍﻟْﻌَﺎﺋِﺬِ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻘَﻄِﻴﻌَﺔِ، ﻗَﺎﻝَ: ﻧَﻌَﻢْ، ﺃَﻣَﺎ ﺗَﺮْﺿَﻴْﻦَ ﺃَﻥْ ﺃَﺻِﻞَ ﻣَﻦْ ﻭَﺻَﻠَﻚِ ﻭَﺃَﻗْﻄَﻊَ ﻣَﻦْ ﻗَﻄَﻌَﻚِ؟ ﻗَﺎﻟَﺖْ:
ﺑَﻠَﻰ ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﻗَﺎﻝَ : ﻓَﻬُﻮَ ﻟَﻚِ » . ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : «ﻓَﺎﻗْﺮَﺀُﻭﺍ ﺇِﻥْ ﺷِﺌْﺘُﻢْ ﻓَﻬَﻞْ ﻋَﺴَﻴْﺘُﻢْ ﺇِﻥْ ﺗَﻮَﻟَّﻴْﺘُﻢْ ﺃَﻥْ ﺗُﻔْﺴِﺪُﻭﺍ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﻭَﺗُﻘَﻄِّﻌُﻮﺍ ﺃَﺭْﺣَﺎﻣَﻜُﻢْ » . ( ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৩৭. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা মখলুক
সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর যখন তিনি তার সৃষ্টি সম্পন্ন করেন তখন ‘রাহেম’[42] বলে: এ হচ্ছে তোমার নিকট বিচ্ছিন্নতা থেকে আশ্রয়
চাওয়ার স্থান, তিনি বলেন: হ্যাঁ। তুমি কি সন্তুষ্ট নও যে, তোমাকে যে রক্ষা করবে আমি তাকে রক্ষা করব, তোমাকে যে ছিন্ন
করবে আমি তাকে ছিন্ন করব? ‘রাহেম’ বলল: অবশ্যই হে রব, তিনি বলেন: এটাই তোমার জন্য”। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বললেন: “যদি তোমরা চাও তাহলে তিলাওয়াত কর:
﴿ﻓَﻬَﻞۡ ﻋَﺴَﻴۡﺘُﻢۡ ﺇِﻥ ﺗَﻮَﻟَّﻴۡﺘُﻢۡ ﺃَﻥ ﺗُﻔۡﺴِﺪُﻭﺍْ ﻓِﻲ ﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِ ﻭَﺗُﻘَﻄِّﻌُﻮٓﺍْ ﺃَﺭۡﺣَﺎﻣَﻜُﻢۡ ٢٢ ﴾ [ ﻣﺤﻤﺪ : ٢٢]
“সুতরাং অবাধ্য হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিলে সম্ভবত তোমরা যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে।”?।
[বুখারি ও মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
হাদিসে কুদসিতে আল্লাহর বাণী:
ﻛَﺬَّﺑﻨﻲ ﺍﺑﻦُ ﺁﺩَﻡَ ﻭﺷَﺘَﻤَﻨﻲ ﺍﺑﻦُ ﺁﺩﻡَ
-138 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ : « ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ: ﻛَﺬَّﺑَﻨِﻲ ﺍﺑْﻦُ ﺁﺩَﻡَ، ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﻜُﻦْ ﻟَﻪُ ﺫﻟﻚ , ﻭَﺷَﺘَﻤَﻨِﻲ ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﻜُﻦْ ﻟﻪ ﺫﻟﻚ , ﻓﺄَﻣَّﺎ ﺗَﻜْﺬِﻳﺒُﻪُ ﺇِﻳَّﺎﻱ ﻓَﻘَﻮْﻟُﻪُ: ﻟَﻦ ﻳﻌِﻴﺪﻧﻲ ﻛَﻤَﺎ ﺑَﺪَﺃُْﻧﻲ، ﻭَﻟَﻴْﺲَ ﺃﻭﻝ ﺍﻟْﺨَﻠْﻖِ ﺑِﺄﻫﻮﻥ ﻋَﻠَﻲَّ ﻣِﻦْ
ﺇﻋﺎﺩﺗﻪ، ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﺷَﺘْﻤُﻪُ ﺇِﻳَّﺎﻱَ ﻓَﻘَﻮْﻟُﻪُ: ﺍﺗَّﺨَﺬَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻟَﺪًﺍ , ﻭَﺃَﻧَﺎ ﺍﻟْﺄَﺣَﺪُ ﺍﻟﺼَّﻤَﺪُ ﻟَﻢْ ﺃَﻟِﺪْ ﻭَﻟَﻢْ ﺃُﻭﻟَﺪْ ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﻜُﻦْ ﻟِﻲ ﻛُﻔُﺌًﺎ ﺃَﺣَﺪٌ ». ( ﺥ , ﻥ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৩৮. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
বনি আদম আমার উপর মিথ্যারোপ করেছে, অথচ এটা তার অধিকার ছিল না। সে আমাকে গালি দিয়েছে অথচ এটা তার অধিকার
ছিল না। আমাকে তার মিথ্যারোপ করার অর্থ তার বলা: তিনি আমাকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন না যেরূপ প্রথম সৃষ্টি করেছেন, অথচ
প্রথমবার সৃষ্টি করা পুনরায় সৃষ্টি করা থেকে সহজ নয়। আমাকে তার গালি হচ্ছে তার কথা: আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন, অথচ
আমি এক ও অমুখাপেক্ষী, আমি জন্ম দেই-নি আমাকে জন্ম দেয়া হয় নি, আর আমার সমকক্ষ কেউ নয়”। [বুখারি ও নাসায়ি]
হাদিসটি সহিহ।
যুগকে গালি দেয়া হারাম
-139 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: « ﻗﺎﻝ: ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ: ﻳُﺆْﺫِﻳﻨِﻲ ﺍﺑْﻦُ ﺁﺩَﻡَ ﻳَﺴُﺐُّ ﺍﻟﺪَّﻫْﺮَ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﺍﻟﺪَّﻫْﺮُ , ﺃُﻗَﻠِّﺐُ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞَ ﻭَﺍﻟﻨَّﻬَﺎﺭَ » .
( ﻡ , ﺩ , ﻥ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৩৯. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা
বলেন: বনি আদম আমাকে কষ্ট দেয়, সে যুগকে গালি দেয় অথচ আমিই যুগ[43] , আমিই রাত ও দিন পরিবর্তন করি”। [মুসলিম, আবু দাউদ ও
নাসায়ি] হাদিসটি সহিহ।
অহংকার হারাম
-140 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺳَﻌِﻴﺪٍ ﺍﻟْﺨُﺪْﺭِﻱِّ ﻭَﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ- ﻗَﺎﻟَﺎ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﺍﻟْﻌِﺰُّ ﺇِﺯَﺍﺭُﻩُ ﻭَﺍﻟْﻜِﺒْﺮِﻳَﺎﺀُ ﺭِﺩَﺍﺅُﻩُ ﻓَﻤَﻦْ ﻳُﻨَﺎﺯِﻋُﻨِﻲ ﻋَﺬَّﺑْﺘُﻪُ» . ( ﻡ , ﺟﻪ , ﺩ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৪০. আবু সায়িদ খুদরি ও আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তারা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “ইজ্জত তার লুঙ্গি ও অহংকার তার চাদর, অতএব যে আমার সাথে টানাহেঁচড়া করবে আমি তাকে শাস্তি
দিব”। [মুসলিম, ইব্ন মাজাহ ও আবু দাউদ] হাদিসটি সহিহ।
যুলম হারাম
-141 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺫَﺭٍّ ( ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓِﻴﻤَﺎ ﺭَﻭَﻯ ﻋَﻦْ ﺍﻟﻠَّﻪِ - ﺗَﺒَﺎﺭَﻙَ ﻭَﺗَﻌَﺎﻟَﻰ- ﺃَﻧَّﻪُ ﻗَﺎﻝَ: « ﻳَﺎ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ! ﺇِﻧِّﻲ ﺣَﺮَّﻣْﺖُ ﺍﻟﻈُّﻠْﻢَ ﻋَﻠَﻰ ﻧَﻔْﺴِﻲ ﻭَﺟَﻌَﻠْﺘُﻪُ ﺑَﻴْﻨَﻜُﻢْ ﻣُﺤَﺮَّﻣًﺎ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﻈَﺎﻟَﻤُﻮﺍ، ﻳَﺎ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ! ﻛُﻠُّﻜُﻢْ ﺿَﺎﻝٌّ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﻦْ ﻫَﺪَﻳْﺘُﻪُ
ﻓَﺎﺳْﺘَﻬْﺪُﻭﻧِﻲ ﺃَﻫْﺪِﻛُﻢْ، ﻳَﺎ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ! ﻛُﻠُّﻜُﻢْ ﺟَﺎﺋِﻊٌ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﻦْ ﺃَﻃْﻌَﻤْﺘُﻪُ ﻓَﺎﺳْﺘَﻄْﻌِﻤُﻮﻧِﻲ ﺃُﻃْﻌِﻤْﻜُﻢْ، ﻳَﺎ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ! ﻛُﻠُّﻜُﻢْ ﻋَﺎﺭٍ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﻦْ ﻛَﺴَﻮْﺗُﻪُ ﻓَﺎﺳْﺘَﻜْﺴُﻮﻧِﻲ ﺃَﻛْﺴُﻜُﻢْ، ﻳَﺎ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ! ﺇِﻧَّﻜُﻢْ ﺗُﺨْﻄِﺌُﻮﻥَ ﺑِﺎﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻭَﺍﻟﻨَّﻬَﺎﺭِ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﺃَﻏْﻔِﺮُ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ﺟَﻤِﻴﻌًﺎ ﻓَﺎﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُﻭﻧِﻲ ﺃَﻏْﻔِﺮْ
ﻟَﻜُﻢْ، ﻳَﺎ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ! ﺇِﻧَّﻜُﻢْ ﻟَﻦْ ﺗَﺒْﻠُﻐُﻮﺍ ﺿَﺮِّﻱ ﻓَﺘَﻀُﺮُّﻭﻧِﻲ، ﻭَﻟَﻦْ ﺗَﺒْﻠُﻐُﻮﺍ ﻧَﻔْﻌِﻲ ﻓَﺘَﻨْﻔَﻌُﻮﻧِﻲ، ﻳَﺎ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ! ﻟَﻮْ ﺃَﻥَّ ﺃَﻭَّﻟَﻜُﻢْ ﻭَﺁﺧِﺮَﻛُﻢْ ﻭَﺇِﻧْﺴَﻜُﻢْ ﻭَﺟِﻨَّﻜُﻢْ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﺗْﻘَﻰ ﻗَﻠْﺐِ ﺭَﺟُﻞٍ ﻭَﺍﺣِﺪٍ ﻣِﻨْﻜُﻢْ ﻣَﺎ ﺯَﺍﺩَ ﺫَﻟِﻚَ ﻓِﻲ ﻣُﻠْﻜِﻲ ﺷَﻴْﺌًﺎ، ﻳَﺎ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ! ﻟَﻮْ ﺃَﻥَّ ﺃَﻭَّﻟَﻜُﻢْ
ﻭَﺁﺧِﺮَﻛُﻢْ ﻭَﺇِﻧْﺴَﻜُﻢْ ﻭَﺟِﻨَّﻜُﻢْ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻓْﺠَﺮِ ﻗَﻠْﺐِ ﺭَﺟُﻞٍ ﻭَﺍﺣِﺪٍ ﻣَﺎ ﻧَﻘَﺺَ ﺫَﻟِﻚَ ﻣِﻦْ ﻣُﻠْﻜِﻲ ﺷَﻴْﺌًﺎ، ﻳَﺎ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ ! ﻟَﻮْ ﺃَﻥَّ ﺃَﻭَّﻟَﻜُﻢْ ﻭَﺁﺧِﺮَﻛُﻢْ ﻭَﺇِﻧْﺴَﻜُﻢْ ﻭَﺟِﻨَّﻜُﻢْ ﻗَﺎﻣُﻮﺍ ﻓِﻲ ﺻَﻌِﻴﺪٍ ﻭَﺍﺣِﺪٍ ﻓَﺴَﺄَﻟُﻮﻧِﻲ ﻓَﺄَﻋْﻄَﻴْﺖُ ﻛُﻞَّ ﺇِﻧْﺴَﺎﻥٍ ﻣَﺴْﺄَﻟَﺘَﻪُ ﻣَﺎ ﻧَﻘَﺺَ ﺫَﻟِﻚَ ﻣِﻤَّﺎ ﻋِﻨْﺪِﻱ ﺇِﻟَّﺎ
ﻛَﻤَﺎ ﻳَﻨْﻘُﺺُ ﺍﻟْﻤِﺨْﻴَﻂُ ﺇِﺫَﺍ ﺃُﺩْﺧِﻞَ ﺍﻟْﺒَﺤْﺮَ، ﻳَﺎ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ ! ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻫِﻲَ ﺃَﻋْﻤَﺎﻟُﻜُﻢْ ﺃُﺣْﺼِﻴﻬَﺎ ﻟَﻜُﻢْ، ﺛُﻢَّ ﺃُﻭَﻓِّﻴﻜُﻢْ ﺇِﻳَّﺎﻫَﺎ، ﻓَﻤَﻦْ ﻭَﺟَﺪَ ﺧَﻴْﺮًﺍ ﻓَﻠْﻴَﺤْﻤَﺪْ ﺍﻟﻠَّﻪَ، ﻭَﻣَﻦْ ﻭَﺟَﺪَ ﻏَﻴْﺮَ ﺫَﻟِﻚَ ﻓَﻠَﺎ ﻳَﻠُﻮﻣَﻦَّ ﺇِﻟَّﺎ ﻧَﻔْﺴَﻪُ » . ( ﻡ , ﺕ , ﺟﻪ ) ﺻﺤﻴﺢ
ﻗَﺎﻝَ ﺳَﻌِﻴﺪٌ: ﻭﻛَﺎﻥَ ﺃَﺑُﻮ ﺇِﺩْﺭِﻳﺲَ ﺍﻟْﺨَﻮْﻟَﺎﻧِﻲُّ ﺇِﺫَﺍ ﺣَﺪَّﺙَ ﺑِﻬَﺬَﺍ ﺍﻟْﺤَﺪِﻳﺚِ ﺟَﺜَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺭُﻛْﺒَﺘَﻴْﻪِ.
১৪১. আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে বর্ণনা করেন,
তিনি বলেছেন: “হে আমার বান্দাগণ! নিশ্চয় আমি আমার ওপর যুলম হারাম করেছি, আমি তোমাদের মাঝেও তা হারাম করেছি
অতএব তোমরা যুলম কর না। হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের প্রত্যেকেই গোমরাহ তবে আমি যাকে হিদায়েত দেই, অতএব আমার
কাছে হিদায়েত তলব কর আমি তোমাদেরকে হিদায়েত দিব। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা সকলে ক্ষুধার্ত তবে আমি যাকে খাদ্য
দেই, অতএব আমার নিকট খাদ্য তলব কর আমি তোমাদেরকে খাদ্য দিব। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা সকলে বিবস্ত্র তবে আমি
যাকে বস্ত্র দান করি, অতএব আমার নিকট বস্ত্র তালাশ কর আমি তোমাদেরকে বস্ত্র দিব। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা রাত ও
দিনে ভুল কর, আমি তোমাদের সকল পাপ মোচন করি, অতএব আমার নিকট ক্ষমা চাও আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করব। হে আমার
বান্দাগণ! তোমরা আমার ক্ষতি পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না যে আমার ক্ষতি করবে। আর না তোমরা আমার উপকার পর্যন্ত পৌঁছতে
পারবে যে আমার উপকার করবে। যদি তোমাদের পূর্বপুরুষ ও পরবর্তী পুরুষ এবং মানুষ ও জিন সকলে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে
নেককার ব্যক্তির মত হয়ে যাও, তাও আমার রাজত্ব সামান্য বৃদ্ধি করবে না। হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের পূর্বপুরুষ ও
পরবর্তী পুরুষ এবং মানুষ ও জিন সকলে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ লোকের মত হয়ে যাও, তাও আমার রাজত্ব সামান্য হ্রাস
করবে না। হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের পূর্বপুরুষ ও পরবর্তী পুরুষ এবং মানুষ ও জিন এক ময়দানে দাঁড়িয়ে আমার নিকট
প্রার্থনা করে, অতঃপর আমি প্রত্যেককে তার প্রার্থিত বস্তু প্রদান করি, তাও আমার নিকট যা রয়েছে তা হ্রাস করতে পারবে
না, তবে সুই যে পরিমাণ পানি হ্রাস করে যখন তা সমুদ্রে প্রবেশ করানো হয়। হে আমার বান্দাগণ! এ তো তোমাদের আমল যা
আমি তোমাদের জন্য সংরক্ষণ করি, অতঃপর তোমাদের তা পূর্ণ করে দেব। অতএব যে ভাল কিছু পেল সে যেন আল্লাহর প্রশংসা
করে, যে অন্য কিছু পেল সে যেন নিজেকে ভিন্ন কাউকে দোষারোপ না করে”। [মুসলিম, তিরমিযি ও ইব্ন মাজাহ] হাদিসটি
সহিহ।
আবু সায়িদ বলেন: আবু ইদরিস খাউলানি যখন এ হাদিস বলতেন: হাঁটু গেড়ে বসতেন।
-142 ﻋَﻦْ ﺟَﺎﺑِﺮَ ﺑْﻦَ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ - ﻗَﺎﻝَ: ﺑَﻠَﻐَﻨِﻲ ﺣَﺪِﻳﺚٌ ﻋَﻦْ ﺭَﺟُﻞٍ ﺳَﻤِﻌَﻪُ ﻣِﻦْ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓَﺎﺷْﺘَﺮَﻳْﺖُ ﺑَﻌِﻴﺮًﺍ ﺛُﻢَّ ﺷَﺪَﺩْﺕُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺭَﺣْﻠِﻲ , ﻓَﺴِﺮْﺕُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﺷَﻬْﺮًﺍ ﺣَﺘَّﻰ ﻗَﺪِﻣْﺖُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺸَّﺎﻡَ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦُ
ﺃُﻧَﻴْﺲٍ .
ﻓَﻘُﻠْﺖُ ﻟِﻠْﺒَﻮَّﺍﺏِ: ﻗُﻞْ ﻟَﻪُ : ﺟَﺎﺑِﺮٌ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﺒَﺎﺏِ، ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺍﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ؟ ﻗُﻠْﺖُ: ﻧَﻌَﻢْ . ﻓَﺨَﺮَﺝَ ﻳَﻄَﺄُ ﺛَﻮْﺑَﻪُ ﻓَﺎﻋْﺘَﻨَﻘَﻨِﻲ ﻭَﺍﻋْﺘَﻨَﻘْﺘُﻪُ ﻓَﻘُﻠْﺖُ: ﺣَﺪِﻳﺜًﺎ ﺑَﻠَﻐَﻨِﻲ ﻋَﻨْﻚَ ﺃَﻧَّﻚَ ﺳَﻤِﻌْﺘَﻪُ ﻣِﻦْ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻘِﺼَﺎﺹِ ﻓَﺨَﺸِﻴﺖُ ﺃَﻥْ ﺗَﻤُﻮﺕَ ﺃَﻭْ ﺃَﻣُﻮﺕَ
ﻗَﺒْﻞَ ﺃَﻥْ ﺃَﺳْﻤَﻌَﻪُ , ﻗَﺎﻝَ : ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ: « ﻳُﺤْﺸَﺮُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ -ﺃَﻭْ ﻗَﺎﻝَ: ﺍﻟْﻌِﺒَﺎﺩُ - ﻋُﺮَﺍﺓً ﻏُﺮْﻻً ﺑُﻬْﻤًﺎ »، ﻗَﺎﻝَ: ﻗُﻠْﻨَﺎ: ﻭَﻣَﺎ ﺑُﻬْﻤًﺎ؟ ﻗَﺎﻝَ: «ﻟَﻴْﺲَ ﻣَﻌَﻬُﻢْ ﺷَﻲْﺀٌ ﺛُﻢَّ ﻳُﻨَﺎﺩِﻳﻬِﻢْ ﺑِﺼَﻮْﺕٍ ﻳَﺴْﻤَﻌُﻪُ ﻣِﻦْ ﻗُﺮْﺏٍ: ﺃَﻧَﺎ
ﺍﻟْﻤَﻠِﻚُ ﺃَﻧَﺎ ﺍﻟﺪَّﻳَّﺎﻥُ , ﻭَﻟَﺎ ﻳَﻨْﺒَﻐِﻲ ﻟِﺄَﺣَﺪٍ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﺃَﻥْ ﻳَﺪْﺧُﻞَ ﺍﻟﻨَّﺎﺭَ ﻭَﻟَﻪُ ﻋِﻨْﺪَ ﺃَﺣَﺪٍ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﺣَﻖٌّ ﺣَﺘَّﻰ ﺃَﻗُﺼَّﻪُ ﻣِﻨْﻪُ , ﻭَﻟَﺎ ﻳَﻨْﺒَﻐِﻲ ﻟِﺄَﺣَﺪٍ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﺃَﻥْ ﻳَﺪْﺧُﻞَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ، ﻭَﻟِﺄَﺣَﺪٍ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻋِﻨْﺪَﻩُ ﺣَﻖٌّ ﺣَﺘَّﻰ ﺃَﻗُﺼَّﻪُ ﻣِﻨْﻪُ ﺣَﺘَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻄْﻤَﺔُ» ،
ﻗَﺎﻝَ: ﻗُﻠْﻨَﺎ: ﻛَﻴْﻒَ ﻭَﺇِﻧَّﺎ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻧَﺄْﺗِﻲ ﺍﻟﻠَّﻪَ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ- ﻋُﺮَﺍﺓً ﻏُﺮْﻻً ﺑُﻬْﻤًﺎ؟ ﻗَﺎﻝَ : « ﺑِﺎﻟْﺤَﺴَﻨَﺎﺕِ ﻭَﺍﻟﺴَّﻴِّﺌَﺎﺕِ » . ( ﺣﻢ , ﺑﺦ , ﻋﺎ , ﻙ ) ﺣﺴﻦ ﻟﻐﻴﺮﻩ
১৪২. জাবের ইব্ন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার নিকট একটি হাদিসের সংবাদ পৌঁছেছে,
যা কোন এক ব্যক্তির নিকট রয়েছে যে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে শুনেছে। অতঃপর আমি
একটি উট খরিদ করি ও তাতে সফর করি, অতঃপর একমাস সফর করে শামে গিয়ে তার সাক্ষাত লাভ করি, দেখলাম তিনি আব্দুল্লাহ
ইব্ন উনাইস।
আমি দারোয়ানকে বললাম: তাকে বল: জাবের দরজায় অপেক্ষা করছে। তিনি বললেন: (জাবের) ইব্ন আব্দুল্লাহ? আমি বললাম: হ্যাঁ,
তিনি নিজ কাপড় হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে বের হলেন, অতঃপর আমার সাথে আলিঙ্গন করলেন, আমিও তার সাথে আলিঙ্গন করলাম।
আমি বললাম: আপনার কাছ থেকে আমার নিকট কিসাস সম্পর্কে একটি হাদিস পৌঁছেছে যে, আপনি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট শ্রবণ করেছেন, আমি আশঙ্কা করছিলাম, হয় আপনি মারা যাবেন, অথবা আমিই মারা যাব তা
শ্রবণ করার আগে। তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “কিয়ামতের দিন
মানুষদের অথবা বলেছেন: বান্দাদের, হাজির করা হবে, (উরাত) উলঙ্গ, (গুরলান) খৎনা বিহীন, (বুহমান) খালি হাত অবস্থায়”।
তিনি বলেন: আমরা বললাম: বুহমান কি? তিনি বললেন: “তাদের সাথে কিছু থাকবে না। অতঃপর তিনি তাদেরকে নির্দিষ্ট
আওয়াজ দ্বারা ডাক দিবেন যা নিকট থেকে শুনা যাবে: আমিই বাদশাহ, আমি প্রতিদান দানকারী, কোন জাহান্নামী যার
কোন জান্নাতির নিকট হক রয়েছে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না আমি তার থেকে তাকে কিসাস পাইয়ে দিব। কোন
জান্নাতি যার নিকট কোন জাহান্নামীর হক রয়েছে জান্নাতে প্রবেশ করবে না যতক্ষণ না আমি তার থেকে তাকে কিসাস
পাইয়ে দিব, এমনকি চড় পর্যন্ত”। তিনি বলেন: আমরা বললাম: কিভাবে তা সম্ভব হবে, আমরা তো তখন আল্লাহর নিকট উলঙ্গ,
গুরলান বুহমান হাজির হব?[44] তিনি বললেন: নেকি ও পাপের মাধ্যমে”। [আহমদ, বুখারি ফিল আদাবুল মুফরাদ, আবু আসেম, হাকেম]
হাদিসটি হাসান লি গায়রিহি]
জীবের ছবি অঙ্কন করা হারাম ও চিত্রকরদের প্রতি কঠোর হুশিয়ারি
-143 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ : « ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ: ﻭَﻣَﻦْ ﺃَﻇْﻠَﻢُ ﻣِﻤَّﻦْ ﺫَﻫَﺐَ ﻳَﺨْﻠُﻖُ ﻛَﺨَﻠْﻘِﻲ ﻓَﻠْﻴَﺨْﻠُﻘُﻮﺍ ﺫَﺭَّﺓً ﺃَﻭْ ﻟِﻴَﺨْﻠُﻘُﻮﺍ ﺣَﺒَّﺔً ﺃَﻭْ ﺷَﻌِﻴﺮَﺓً » . ( ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৪৩. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা
বলেন: তার চেয়ে বড় জালেম কে যে আমার সৃষ্টির ন্যায় সৃষ্টি করে, সে যেন একটি অণু অথবা শস্য দানা অথবা গমের দানা সৃষ্টি
করে”। [বুখারি ও মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
ঝগড়াকারীদের শাস্তি
-144 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﻗَﺎﻝَ: ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: «ﺗُﻔْﺘَﺢُ ﺃَﺑْﻮَﺍﺏُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﻓِﻲ ﻛُﻞِّ ﺍﺛْﻨَﻴْﻦِ ﻭَﺧَﻤِﻴﺲٍ» . ﻗَﺎﻝَ ﻣَﻌْﻤَﺮٌ : ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻏَﻴْﺮُ ﺳُﻬَﻴْﻞٍ : « ﻭَﺗُﻌْﺮَﺽُ ﺍﻟْﺄَﻋْﻤَﺎﻝُ ﻓِﻲ ﻛُﻞِّ ﺍﺛْﻨَﻴْﻦِ ﻭَﺧَﻤِﻴﺲٍ , ﻓَﻴَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠَّﻪُ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ- ﻟِﻜُﻞِّ ﻋَﺒْﺪٍ ﻟَﺎ
ﻳُﺸْﺮِﻙُ ﺑِﻪِ ﺷَﻴْﺌًﺎ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟْﻤُﺘَﺸَﺎﺣِﻨَﻴْﻦِ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟِﻠْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔِ: ﺫَﺭُﻭﻫُﻤَﺎ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺼْﻄَﻠِﺤَﺎ ». ( ﺃﺣﻤﺪ ) ﺣﺴﻦ
১৪৪. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “প্রত্যেক সোম ও
বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজা খোলা হয়”। মা‘মার বলেন: সুহাইল ব্যতীত অন্যরা বলেছেন: “প্রত্যেক সোম ও বৃহস্পতিবার আমল
পেশ করা হয়, অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক বান্দাকে ক্ষমা করে দেন যারা আল্লাহর সাথে শরীক করে না, তবে
ঝগড়াকারী দুই ব্যক্তি ব্যতীত, আল্লাহ তা‘আলা ফেরেশতাদের বলেন: এদেরকে অবকাশ দাও, যতক্ষণ না তারা মীমাংসা করে
নেয়”। [আহমদ] হাদিসটি হাসান।
জ্বর ও রোগ-ব্যাধি কাফফারা
-145 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﻋَﻦْ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ﺃَﻧَّﻪُ ﻋَﺎﺩَ ﻣَﺮِﻳﻀًﺎ - ﻭَﻣَﻌَﻪُ ﺃَﺑُﻮ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ- ﻣِﻦْ ﻭَﻋْﻚٍ ﻛَﺎﻥَ ﺑِﻪِ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﺃَﺑْﺸِﺮْ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻳَﻘُﻮﻝُ: ﻧَﺎﺭِﻱ ﺃُﺳَﻠِّﻄُﻬَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻦِ ﻓِﻲ
ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﻟِﺘَﻜُﻮﻥَ ﺣَﻈَّﻪُ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺂﺧِﺮَﺓِ ». ( ﺣﻢ , ﺟﻪ , ﺕ ) ﺣﺴﻦ
১৪৫. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলেন: তিনি এক রোগীকে দেখতে
যান, যে জ্বরের কারণে অসুস্থ ছিল, -আবু হুরায়রা ছিলেন তার সাথে- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে
বলেন: “সুসংবাদ গ্রহণ কর, আল্লাহ বলেন: আমার আগুন[45] দুনিয়াতে আমি আমার মুমিন বান্দার ওপর প্রবল করি, যেন তা
আখেরাতের আগুনের বিনিময় হয়ে যায়”। [আহমদ, ইব্ন মাজাহ ও তিরমিযি] হাদিসটি হাসান।
বান্দা অসুস্থ হলে তার জন্য সেরূপ আমল লেখা হয় যেরূপ সে সুস্থ অবস্থায় করত
-146 ﻋﻦْ ﻋُﻘْﺒَﺔَ ﺑْﻦَ ﻋَﺎﻣِﺮٍ ( ﺃﻥ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﻟَﻴْﺲَ ﻣِﻦْ ﻋَﻤَﻞِ ﻳَﻮْﻡٍ ﺇِﻟَّﺎ ﻭَﻫُﻮَ ﻳُﺨْﺘَﻢُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ، ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻣَﺮِﺽَ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻦُ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔُ: ﻳَﺎ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻋَﺒْﺪُﻙَ ﻓُﻠَﺎﻥٌ ﻗَﺪْ ﺣَﺒَﺴْﺘَﻪُ , ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﺮَّﺏُّ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ : ﺍﺧْﺘِﻤُﻮﺍ ﻟَﻪُ ﻋَﻠَﻰ ﻣِﺜْﻞِ
ﻋَﻤَﻠِﻪِ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺒْﺮَﺃَ ﺃَﻭْ ﻳَﻤُﻮﺕَ» . ( ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৪৬. উকবা ইব্ন আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: দিনের এমন
আমল নেই যার ওপর মোহর এঁটে দেয়া হয় না, বান্দা যখন অসুস্থ হয় ফেরেশতারা বলে: হে আমাদের রব, আপনার অমুক বান্দাকে
আপনি অসুস্থ করে দিয়েছেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন: তার জন্য তার অনুরূপ আমল লিখতে থাক, যতক্ষণ না সে ভাল হয় অথবা মারা
যায়”। [আহমদ] হাদিসটি সহিহ।
-147 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺍﻟْﺄَﺷْﻌَﺚِ ﺍﻟﺼَّﻨْﻌَﺎﻧِﻲِّ ﺃَﻧَّﻪُ ﺭَﺍﺡَ ﺇِﻟَﻰ ﻣَﺴْﺠِﺪِ ﺩِﻣَﺸْﻖَ ﻭَﻫَﺠَّﺮَ ﺑِﺎﻟﺮَّﻭَﺍﺡِ ﻓَﻠَﻘِﻲَ ﺷَﺪَّﺍﺩَ ﺑْﻦَ ﺃَﻭْﺱٍ ﻭَﺍﻟﺼُّﻨَﺎﺑِﺤِﻲُّ ﻣَﻌَﻪُ , ﻓَﻘُﻠْﺖُ: ﺃَﻳْﻦَ ﺗُﺮِﻳﺪَﺍﻥِ -ﻳَﺮْﺣَﻤُﻜُﻤَﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ - ﻗَﺎﻟَﺎ: ﻧُﺮِﻳﺪُ ﻫَﺎﻫُﻨَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺃَﺥٍ ﻟَﻨَﺎ ﻣَﺮِﻳﺾٍ ﻧَﻌُﻮﺩُﻩُ , ﻓَﺎﻧْﻄَﻠَﻘْﺖُ ﻣَﻌَﻬُﻤَﺎ ﺣَﺘَّﻰ ﺩَﺧَﻠَﺎ
ﻋَﻠَﻰ ﺫَﻟِﻚَ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞِ، ﻓَﻘَﺎﻟَﺎ ﻟَﻪُ: ﻛَﻴْﻒَ ﺃَﺻْﺒَﺤْﺖَ ﻗَﺎﻝَ : ﺃَﺻْﺒَﺤْﺖُ ﺑِﻨِﻌْﻤَﺔٍ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﺷَﺪَّﺍﺩٌ: ﺃَﺑْﺸِﺮْ ﺑِﻜَﻔَّﺎﺭَﺍﺕِ ﺍﻟﺴَّﻴِّﺌَﺎﺕِ ﻭَﺣَﻂِّ ﺍﻟْﺨَﻄَﺎﻳَﺎ ﻓَﺈِﻧِّﻲ ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ: « ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ - ﻳَﻘُﻮﻝُ: ﺇِﻧِّﻲ ﺇِﺫَﺍ ﺍﺑْﺘَﻠَﻴْﺖُ ﻋَﺒْﺪًﺍ ﻣِﻦْ
ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ ﻣُﺆْﻣِﻨًﺎ ﻓَﺤَﻤِﺪَﻧِﻲ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﺎ ﺍﺑْﺘَﻠَﻴْﺘُﻪُ؛ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻳَﻘُﻮﻡُ ﻣِﻦْ ﻣَﻀْﺠَﻌِﻪِ ﺫَﻟِﻚَ ﻛَﻴَﻮْﻡِ ﻭَﻟَﺪَﺗْﻪُ ﺃُﻣُّﻪُ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﺨَﻄَﺎﻳَﺎ , ﻭَﻳَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﺮَّﺏُّ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ: ﺃَﻧَﺎ ﻗَﻴَّﺪْﺕُ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﻭَﺍﺑْﺘَﻠَﻴْﺘُﻪُ ﻭَﺃَﺟْﺮُﻭﺍ ﻟَﻪُ ﻛَﻤَﺎ ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﺗُﺠْﺮُﻭﻥَ ﻟَﻪُ ﻭَﻫُﻮَ ﺻَﺤِﻴﺢٌ» . ( ﺣﻢ ) ﺣﺴﻦ ﻟﻐﻴﺮﻩ
১৪৭. আবুল আশআস সান‘আনি থেকে বর্ণিত, তিনি দামেস্কের মসজিদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ‘রাওয়াহ’ নামক স্থানে দুপুরে
অবস্থান করেন, সেখানে তিনি সাদ্দাদ ইব্ন আউসের সাথে সাক্ষাত করেন, (তার সাথী) ‘সুনাবিহি’ তার সাথেই ছিল। আমি
বললাম: কোথায় যাচ্ছেন, আল্লাহ আপনাদের ওপর রহম করুন, তারা বলল: এখানে আমাদের এক অসুস্থ ভাইয়ের সাথে সাক্ষাতের
ইচ্ছা করছি, আমরা তাকে দেখতে যাব। আমি তাদের সাথে চললাম, অবশেষে তারা ঐ ব্যক্তির নিকট গেল। তারা তাকে বলল:
কিরূপ সকাল করলেন? সে বলল: আল্লাহর নিয়ামতসহ। সাদ্দাদ তাকে বলল: গুনাহের কাফফারা ও পাপ মোচনের সুসংবাদ গ্রহণ করুন,
কারণ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “আমি যখন আমার কোন মুমিন বান্দাকে পরীক্ষা
করি, অতঃপর সে আমার মুসিবতের ওপর আমার প্রশংসা করে, নিশ্চয় সে ঐ বিছানা থেকে উঠে সে দিনের মত যে দিন তার মা
তাকে বেগুনা জন্ম দিয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: আমি আমার বান্দাকে আটকে রেখেছি, আমি তাকে মুসিবত দিয়েছি,
অতএব তোমরা তার জন্য সওয়াব লিখতে থাক, যেমন তার সওয়াব লিখতে তার সুস্থ অবস্থায়”। [আহমদ] হাদিসটি হাসান লি
গায়রিহি।
চোখের দৃষ্টি হারানোর পর ধৈর্যধারণকারী ও সওয়াবের আশা পোষণকারীর জন্য জান্নাত
-148 ﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲِ ﺑْﻦِ ﻣَﺎﻟِﻚٍ ( ﻗَﺎﻝَ: ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ: « ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻗَﺎﻝَ: ﺇِﺫَﺍ ﺍﺑْﺘَﻠَﻴْﺖُ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﺑِﺤَﺒِﻴﺒَﺘَﻴْﻪِ ﻓَﺼَﺒَﺮَ ﻋَﻮَّﺿْﺘُﻪُ ﻣِﻨْﻬُﻤَﺎ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ» . ﻳُﺮِﻳﺪُ ﻋَﻴْﻨَﻴْﻪِ . ( ﺥ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৪৮. আনাস ইব্ন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “আল্লাহ বলেন: আমি আমার বান্দাকে যখন তার দু’টি প্রিয় বস্তু[46] দ্বারা পরীক্ষা করি, অতঃপর
সে ধৈর্যধারণ করে, আমি তার বিনিময়ে তাকে জান্নাত দান করি”। [বুখারি] হাদিসটি সহিহ।
-149 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﺭﻓَﻌُﻪُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: «ﻳَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺰّ ﻭَﺟَﻞّ: ﻣَﻦْ ﺃَﺫْﻫَﺒْﺖُ ﺣَﺒِﻴﺒَﺘَﻴْﻪِ ﻓَﺼَﺒَﺮَ ﻭَﺍﺣْﺘَﺴَﺐَ ﻟَﻢْ ﺃَﺭْﺽَ ﻟَﻪُ ﺑِﺜَﻮَﺍﺏٍ ﺩُﻭﻥَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ» . ( ﺕ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৪৯. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মারফু সনদে বর্ণনা করেন, তিনি
বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা বলেন: আমি যার দু’টি প্রিয় বস্তু নিয়ে নেই, অতঃপর সে ধৈর্যধারণ করে ও সওয়াবের আশা করে, আমি
তার জন্য জান্নাত ব্যতীত কোন প্রতিদানে সন্তুষ্ট হই না”। [তিরমিযি] হাদিসটি সহিহ।
-150 ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ - ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﻳﻘﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﺒﺎﺭﻙ ﻭﺗﻌﺎﻟﻰ: ﺇﺫﺍ ﺃﺧﺬﺕ ﻛﺮﻳﻤﺘﻲ ﻋﺒﺪﻱ ﻓﺼﺒﺮ ﻭﺍﺣﺘﺴﺐ ﻟﻢ ﺃﺭﺽ ﻟﻪ ﺛﻮﺍﺑًﺎ ﺩﻭﻥ ﺍﻟﺠﻨﺔ» . ( ﺣﺐ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৫০. ইব্ন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“আল্লাহ তা‘আলা বলেন: আমি যখন আমার বান্দার প্রিয় দু’টি বস্তু গ্রহণ করি, অতঃপর সে সবর করে ও ধৈর্যধারণ করে, আমি তার
জন্য জান্নাত ব্যতীত কোন সওয়াবে সন্তুষ্ট হব না”। [ইব্ন হিব্বান] হাদিসটি সহিহ।
অভাবের ফযিলত
-151 ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻋَﻤْﺮِﻭ ﺑْﻦِ ﺍﻟﻌَﺎﺹِ ﻋَﻦْ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﻫَﻞْ ﺗَﺪْﺭُﻭﻥَ ﺃَﻭَّﻝَ ﻣَﻦْ ﻳَﺪْﺧُﻞُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﻣِﻦْ ﺧَﻠْﻖِ ﺍﻟﻠَّﻪِ؟» ﻗَﺎﻟُﻮﺍ: ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟُﻪُ ﺃَﻋْﻠَﻢُ . ﻗَﺎﻝَ : « ﺃَﻭَّﻝُ ﻣَﻦْ ﻳَﺪْﺧُﻞُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﻣِﻦْ ﺧَﻠْﻖِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟْﻔُﻘَﺮَﺍﺀُ ﻭَﺍﻟْﻤُﻬَﺎﺟِﺮُﻭﻥَ
ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺗُﺴَﺪُّ ﺑِﻬِﻢْ ﺍﻟﺜُّﻐُﻮﺭُ ﻭَﻳُﺘَّﻘَﻰ ﺑِﻬِﻢْ ﺍﻟْﻤَﻜَﺎﺭِﻩُ، ﻭَﻳَﻤُﻮﺕُ ﺃَﺣَﺪُﻫُﻢْ ﻭَﺣَﺎﺟَﺘُﻪُ ﻓِﻲ ﺻَﺪْﺭِﻩِ ﻟَﺎ ﻳَﺴْﺘَﻄِﻴﻊُ ﻟَﻬَﺎ ﻗَﻀَﺎﺀً , ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ- ﻟِﻤَﻦْ ﻳَﺸَﺎﺀُ ﻣِﻦْ ﻣَﻠَﺎﺋِﻜَﺘِﻪِ : ﺍﺋْﺘُﻮﻫُﻢْ ﻓَﺤَﻴُّﻮﻫُﻢْ، ﻓَﺘَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔُ: ﻧَﺤْﻦُ ﺳُﻜَّﺎﻥُ ﺳَﻤَﺎﺋِﻚَ ﻭَﺧِﻴﺮَﺗُﻚَ ﻣِﻦْ ﺧَﻠْﻘِﻚَ
ﺃَﻓَﺘَﺄْﻣُﺮُﻧَﺎ ﺃَﻥْ ﻧَﺄْﺗِﻲَ ﻫَﺆُﻟَﺎﺀِ ﻓَﻨُﺴَﻠِّﻢَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ؟!! ﻗَﺎﻝَ: ﺇِﻧَّﻬُﻢْ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻋِﺒَﺎﺩًﺍ ﻳَﻌْﺒُﺪُﻭﻧِﻲ ﻟَﺎ ﻳُﺸْﺮِﻛُﻮﻥَ ﺑِﻲ ﺷَﻴْﺌًﺎ، ﻭَﺗُﺴَﺪُّ ﺑِﻬِﻢْ ﺍﻟﺜُّﻐُﻮﺭُ، ﻭَﻳُﺘَّﻘَﻰ ﺑِﻬِﻢْ ﺍﻟْﻤَﻜَﺎﺭِﻩُ، ﻭَﻳَﻤُﻮﺕُ ﺃَﺣَﺪُﻫُﻢْ ﻭَﺣَﺎﺟَﺘُﻪُ ﻓِﻲ ﺻَﺪْﺭِﻩِ ﻟَﺎ ﻳَﺴْﺘَﻄِﻴﻊُ ﻟَﻬَﺎ ﻗَﻀَﺎﺀً، ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺘَﺄْﺗِﻴﻬِﻢُ ﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔُ ﻋِﻨْﺪَ ﺫَﻟِﻚَ
ﻓَﻴَﺪْﺧُﻠُﻮﻥَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻣِﻦْ ﻛُﻞِّ ﺑَﺎﺏٍ ﺳَﻠَﺎﻡٌ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺑِﻤَﺎ ﺻَﺒَﺮْﺗُﻢْ ﻓَﻨِﻌْﻢَ ﻋُﻘْﺒَﻰ ﺍﻟﺪَّﺍﺭِ» . ( ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ ﻟﻐﻴﺮﻩ
১৫১. আব্দুল্লাহ ইব্ন আমর ইব্ন আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“তোমরা কি জান আল্লাহর মখলুকের মধ্যে কে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে? তারা বলল: আল্লাহ এবং তার রাসূল ভাল
জানেন। তিনি বললেন: আল্লাহর মখলুকের মধ্যে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে অভাবী ও মুহাজির, যাদের দ্বারা সীমান্তের
ঝুঁকিপূর্ণ স্থান পূর্ণ করা হয় ও যাদেরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাদের কেউ মারা যায় কিন্তু তার ইচ্ছা তার অন্তরেই
থাকে পূর্ণ করতে পারে না। আল্লাহ তা‘আলা তার ফেরেশতাদের থেকে যাকে ইচ্ছা বলবেন: তাদের কাছে যাও, তাদেরকে
সালাম কর, অতঃপর ফেরেশতারা বলে: আমরা আপনার আসমানের অধিবাসী, আপনার সর্বোত্তম মখলুক, আপনি আমাদের
নির্দেশ দিচ্ছেন তাদের কাছ যাব এবং তাদেরকে সালাম করব?! তিনি বলেন: তারা এমন বান্দা যারা আমার ইবাদত করত আমার
সাথে কাউকে শরীক করত না। তাদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে রাখা হত, তাদেরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হত, তাদের কেউ
মারা যেত কিন্তু তার প্রয়োজন তার অন্তরেই থাকত সে তা পূর্ণ করতে পারত না। তিনি বলেন: অতঃপর তখন তাদের নিকট
ফেরেশতাগণ আসেন, প্রত্যেক দরজা দিয়ে তাদের নিকট প্রবেশ করেন: তোমাদের ওপর সালাম, কারণ তোমরা ধৈর্যধারণ করেছে,
আখেরাতের প্রতিদান খুবই সুন্দর!”। [আহমদ] হাদিসটি হাসান লি গায়রিহি।
আত্মহত্যা থেকে হুশিয়ারি
-152 ﻋَﻦْ ﺟُﻨْﺪَﺏُ ﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ( ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : «ﻛَﺎﻥَ ﻓِﻴﻤَﻦْ ﻛَﺎﻥَ ﻗَﺒْﻠَﻜُﻢْ ﺭَﺟُﻞٌ ﺑِﻪِ ﺟُﺮْﺡٌ ﻓَﺠَﺰِﻉَ ﻓَﺄَﺧَﺬَ ﺳِﻜِّﻴﻨًﺎ ﻓَﺤَﺰَّ ﺑِﻬَﺎ ﻳَﺪَﻩُ ﻓَﻤَﺎ ﺭَﻗَﺄَ ﺍﻟﺪَّﻡُ ﺣَﺘَّﻰ ﻣَﺎﺕَ، ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ : ﺑَﺎﺩَﺭَﻧِﻲ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﺑِﻨَﻔْﺴِﻪِ ﺣَﺮَّﻣْﺖُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ».
( ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৫২. জুনদুব ইব্ন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের পূর্ববর্তীদের
মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল, যার হাতে ছিল জখম, সে অস্থির হয়ে ছুরি নেয় ও তা দ্বারা হাত কেটে ফেলে, অতঃপর রক্ত বন্ধ হয়নি ফলে
সে মারা যায়”। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: আমার বান্দা তার নিজের ব্যাপারে জলদি করেছে, আমি তার ওপর জান্নাত হারাম
করে দিলাম”। [বুখারি ও মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
অন্যায়ভাবে হত্যাকারীর পাপ
-153 ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻣَﺴْﻌُﻮﺩٍ ( ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﻳَﺠِﻲﺀُ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞُ ﺁﺧِﺬًﺍ ﺑِﻴَﺪِ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞِ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﻫَﺬَﺍ ﻗَﺘَﻠَﻨِﻲ . ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟَﻪُ : ﻟِﻢَ ﻗَﺘَﻠْﺘَﻪُ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻗَﺘَﻠْﺘُﻪُ ﻟِﺘَﻜُﻮﻥَ ﺍﻟْﻌِﺰَّﺓُ ﻟَﻚَ . ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻓَﺈِﻧَّﻬَﺎ ﻟِﻲ، ﻭَﻳَﺠِﻲﺀُ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞُ
ﺁﺧِﺬًﺍ ﺑِﻴَﺪِ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞِ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ : ﺇِﻥَّ ﻫَﺬَﺍ ﻗَﺘَﻠَﻨِﻲ . ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟَﻪُ: ﻟِﻢَ ﻗَﺘَﻠْﺘَﻪُ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻟِﺘَﻜُﻮﻥَ ﺍﻟْﻌِﺰَّﺓُ ﻟِﻔُﻠَﺎﻥٍ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﺇِﻧَّﻬَﺎ ﻟَﻴْﺴَﺖْ ﻟِﻔُﻠَﺎﻥٍ ﻓَﻴَﺒُﻮﺀُ ﺑِﺈِﺛْﻤِﻪِ» . ( ﻥ ) ﺻﺤﻴﺢ ﻟﻤﺎ ﺑﻌﺪﻩ
১৫৩. আব্দুল্লাহ ইব্ন মাসউদ থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির হাত ধরে
উপস্থিত হবে এবং বলবে: হে আমার রব: এ ব্যক্তি আমাকে হত্যা করেছে। আল্লাহ বললেন: কেন তাকে হত্যা করেছ? সে বলবে: আমি
তাকে এ জন্য হত্যা করেছি যেন আপনার সম্মান বুলন্দ হয়। তিনি বলবেন: হ্যাঁ তা আমার জন্য। অপর ব্যক্তি অপর ব্যক্তির হাত ধরে
উপস্থিত হবে এবং বলবে: এ ব্যক্তি আমাকে হত্যা করেছে। আল্লাহ তাকে বলবেন কেন হত্যা করেছ? সে বলবে: যেন অমুকের সম্মান
বুলন্দ হয়। তিনি বলবেন: তার জন্য সম্মান নয়, ফলে সে তার পাপ বহন করবে”। [নাসায়ি] পরবর্তী হাদিসের বিবেচনায় সহিহ।
-154 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻋِﻤْﺮَﺍﻥَ ﺍﻟﺠﻮﻧﻲ ﻗَﺎﻝَ: ﻗُﻠْﺖُ ﻟِﺠُﻨْﺪُﺏٍ : ﺇِﻧِّﻲ ﺑَﺎﻳَﻌْﺖُ ﻫَﺆُﻟَﺎﺀِ -ﻳَﻌْﻨِﻲ ﺍﺑْﻦَ ﺍﻟﺰُّﺑَﻴْﺮِ- ﻭَﺇِﻧَّﻬُﻢْ ﻳُﺮِﻳﺪُﻭﻥَ ﺃَﻥْ ﺃَﺧْﺮُﺝَ ﻣَﻌَﻬُﻢْ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺸَّﺎﻡِ ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺃَﻣْﺴِﻚْ . ﻓَﻘُﻠْﺖُ: ﺇِﻧَّﻬُﻢْ ﻳَﺄْﺑَﻮْﻥَ ﻋَﻠَﻲ، ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺍﻓْﺘَﺪِ ﺑِﻤَﺎﻟِﻚَ. ﻗَﺎﻝَ: ﻗُﻠْﺖُ: ﺇِﻧَّﻬُﻢْ ﻳَﺄْﺑَﻮْﻥَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻥْ
ﺃُﻗَﺎَﺗِﻞْ ﻣَﻌَﻬُﻢْ ﺑِﺎﻟﺴَّﻴْﻒِ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺟُﻨْﺪُﺏٌ: ﺣَﺪَّﺛَﻨِﻲ ﻓُﻠَﺎﻥٌ ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﻳَﺠِﻲﺀُ ﺍﻟْﻤَﻘْﺘُﻮﻝُ ﺑِﻘَﺎﺗِﻠِﻪِ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﺳَﻞْ ﻫَﺬَﺍ ﻓِﻴﻢَ ﻗَﺘَﻠَﻨِﻲ » ﻗَﺎﻝَ ﺷُﻌْﺒَﺔُ: ﻓَﺄَﺣْﺴِﺒُﻪُ ﻗَﺎﻝَ : «ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﻋَﻠَﺎﻡَ ﻗَﺘَﻠْﺘَﻪُ؟ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ : ﻗَﺘَﻠْﺘُﻪُ
ﻋَﻠَﻰ ﻣُﻠْﻚِ ﻓُﻠَﺎﻥ» . ﻗَﺎﻝَ : ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺟُﻨْﺪُﺏٌ: ﻓَﺎﺗَّﻘِﻬَﺎ . ( ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৫৪. ইমরান আল-জাওনি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি জুনদুবকে বললাম: আমি তাদের নিকট বায়‘আত হয়েছি, অর্থাৎ
আব্দুল্লাহ ইব্ন জুবায়ের এর হাতে, তারা চায় আমি তাদের সাথে শামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই, তিনি বললেন: বিরত থাক। আমি
বললাম: তারা আমাকে পীড়াপীড়ি করে। তিনি বললেন: তোমার সম্পদ দিয়ে বিরত থাক। তিনি বলেন: আমি বললাম: আমি
তাদের সাথে তলোয়ার দ্বারা যুদ্ধ করব এ ছাড়া কিছুতেই তারা রাজি হয় না। অতঃপর জুনদুব বললেন: অমুকে আমার নিকট বলেছে
যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কিয়ামতের দিন নিহত ব্যক্তি তার হত্যাকারীকে নিয়ে
উপস্থিত হবে, অতঃপর সে বলবে: তাকে জিজ্ঞাসা কর কেন আমাকে হত্যা করেছে”। শু‘বা বলেন: আমার মনে হয় তিনি বলেছেন:
“সে বলবে: কিসের ওপর আমাকে হত্যা করেছে? সে বলবে: অমুকের নেতৃত্বে আমি তাকে হত্যা করেছি”। তিনি বলেন: অতঃপর
জুনদুব বলল: সুতরাং তুমি বিরত থাক। [আহমদ] হাদিসটি সহিহ।
পিপড়া হত্যার নিষেধাজ্ঞা
-155 ﻋَﻦْ ﺃَﺑﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ( ﻗَﺎﻝَ: ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ: « ﻗَﺮَﺻَﺖْ ﻧَﻤْﻠَﺔٌ ﻧَﺒِﻴًّﺎ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﺄَﻧْﺒِﻴَﺎﺀِ ﻓَﺄَﻣَﺮَ ﺑِﻘَﺮْﻳَﺔِ ﺍﻟﻨَّﻤْﻞِ ﻓَﺄُﺣْﺮِﻗَﺖْ ﻓَﺄَﻭْﺣَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ: ﺃَﻥْ ﻗَﺮَﺻَﺘْﻚَ ﻧَﻤْﻠَﺔٌ ﺃَﺣْﺮَﻗْﺖَ ﺃُﻣَّﺔً ﻣِﻦَ ﺍﻷُﻣَﻢِ ﺗُﺴَﺒِّﺢُ ﺍﻟﻠﻪ » . ( ﺥ , ﻡ , ﺩ , ﻥ ,
ﺟﻪ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৫৫. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে
শুনেছি: “একটি পিপড়া কোন এক নবীকে কামড় দেয়, তিনি পিপড়ার গ্রামের নির্দেশ দিলেন ফলে তা জ্বালিয়ে দেয়া হল,
আল্লাহ তাকে ওহি করলেন: একটি পিপড়া তোমাকে কামড় দিয়েছে, আর তুমি একটি জাতি জ্বালিয়ে দিলে যারা আল্লাহর
প্রশংসা করত”! [বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ি ও ইব্ন মাজাহ] হাদিসটি সহিহ।
তাকদির অধ্যায়
-156 ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ - ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﺃَﺧَﺬَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟْﻤِﻴﺜَﺎﻕَ ﻣِﻦْ ﻇَﻬْﺮِ ﺁﺩَﻡَ ﺑِﻨَﻌْﻤَﺎﻥَ - ﻳَﻌْﻨِﻲ ﻋَﺮَﻓَﺔَ- ﻓَﺄَﺧْﺮَﺝَ ﻣِﻦْ ﺻُﻠْﺒِﻪِ ﻛُﻞَّ ﺫُﺭِّﻳَّﺔٍ ﺫَﺭَﺃَﻫَﺎ ﻓَﻨَﺜَﺮَﻫُﻢْ ﺑَﻴْﻦَ ﻳَﺪَﻳْﻪِ ﻛَﺎﻟﺬَّﺭِّ ﺛُﻢَّ ﻛَﻠَّﻤَﻬُﻢْ ﻗِﺒَﻼً ﻗَﺎﻝَ : ﴿ ﻭَﺇِﺫۡ ﺃَﺧَﺬَ
ﺭَﺑُّﻚَ ﻣِﻦۢ ﺑَﻨِﻲٓ ﺀَﺍﺩَﻡَ ﻣِﻦ ﻇُﻬُﻮﺭِﻫِﻢۡ ﺫُﺭِّﻳَّﺘَﻬُﻢۡ ﻭَﺃَﺷۡﻬَﺪَﻫُﻢۡ ﻋَﻠَﻰٰٓ ﺃَﻧﻔُﺴِﻬِﻢۡ ﺃَﻟَﺴۡﺖُ ﺑِﺮَﺑِّﻜُﻢۡۖ ﻗَﺎﻟُﻮﺍْ ﺑَﻠَﻰٰ ﺷَﻬِﺪۡﻧَﺎٓۚ ﺃَﻥ ﺗَﻘُﻮﻟُﻮﺍْ ﻳَﻮۡﻡَ ﭐﻟۡﻘِﻴَٰﻤَﺔِ ﺇِﻧَّﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻋَﻦۡ ﻫَٰﺬَﺍ ﻏَٰﻔِﻠِﻴﻦَ ١٧٢ ﴾ [ﺍﻻﻋﺮﺍﻑ: ١٧١ ] . ( ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৫৬. ইব্ন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা
না‘মান নামক স্থানে (অর্থাৎ আরাফায়) আদমের পিঠে থাকাবস্থায় অঙ্গিকার গ্রহণ করেছেন, তিনি তার পিঠ থেকে প্রত্যেক
সন্তান বের করেন যা সে জন্ম দিবে, অতঃপর তাদেরকে সামনে অণুর ন্যায় রাখেন, অতঃপর তাদের মুখোমুখি হয়ে কথা বলেন:
তিনি বলেন:
﴿ ﻭَﺇِﺫۡ ﺃَﺧَﺬَ ﺭَﺑُّﻚَ ﻣِﻦۢ ﺑَﻨِﻲٓ ﺀَﺍﺩَﻡَ ﻣِﻦ ﻇُﻬُﻮﺭِﻫِﻢۡ ﺫُﺭِّﻳَّﺘَﻬُﻢۡ ﻭَﺃَﺷۡﻬَﺪَﻫُﻢۡ ﻋَﻠَﻰٰٓ ﺃَﻧﻔُﺴِﻬِﻢۡ ﺃَﻟَﺴۡﺖُ ﺑِﺮَﺑِّﻜُﻢۡۖ ﻗَﺎﻟُﻮﺍْ ﺑَﻠَﻰٰ ﺷَﻬِﺪۡﻧَﺎٓۚ ﺃَﻥ ﺗَﻘُﻮﻟُﻮﺍْ ﻳَﻮۡﻡَ ﭐﻟۡﻘِﻴَٰﻤَﺔِ ﺇِﻧَّﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻋَﻦۡ ﻫَٰﺬَﺍ ﻏَٰﻔِﻠِﻴﻦَ ١٧٢ ﴾ [ﺍﻻﻋﺮﺍﻑ: ١٧١ ]
“আর স্মরণ কর, যখন তোমার রব বনী-আদমের পৃষ্ঠদেশ হতে তাদের বংশধরকে বের করলেন এবং তাদেরকে তাদের নিজদের উপর
সাক্ষী করলেন যে, ‘আমি কি তোমাদের রব নই’? তারা বলল, ‘হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিলাম।’ যাতে কিয়ামতের দিন তোমরা বলতে
না পার যে, নিশ্চয় আমরা এ বিষয়ে অনবহিত ছিলাম”। [47] [আহমদ] হাদিসটি সহিহ।
-157 ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺑْﻦِ ﻗَﺘَﺎﺩَﺓَ ﺍﻟﺴُّﻠَﻤِﻲِّ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ- ﺃَﻧَّﻪُ ﻗَﺎﻝَ : ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ : « ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ - ﺧَﻠَﻖَ ﺁﺩَﻡَ ﺛُﻢَّ ﺃَﺧَﺬَ ﺍﻟْﺨَﻠْﻖَ ﻣِﻦْ ﻇَﻬْﺮِﻩِ ﻭَﻗَﺎﻝَ : ﻫَﺆُﻟَﺎﺀِ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﻭَﻟَﺎ ﺃُﺑَﺎﻟِﻲ، ﻭَﻫَﺆُﻟَﺎﺀِ ﻓِﻲ
ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻭَﻟَﺎ ﺃُﺑَﺎﻟِﻲ » . ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻗَﺎﺋِﻞٌ : ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻓَﻌَﻠَﻰ ﻣَﺎﺫَﺍ ﻧَﻌْﻤَﻞُ؟ ﻗَﺎﻝَ : « ﻋَﻠَﻰ ﻣَﻮَﺍﻗِﻊِ ﺍﻟْﻘَﺪَﺭِ » . (ﺣﻢ ) ﺣﺴﻦ
১৫৭. আব্দুর রহমান ইব্ন কাতাদা আসসুলামি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “নিশ্চয় আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেন, অতঃপর তার পিঠ থেকে মখলুক বের করেন ও বলেন: এরা
জান্নাতি আমি কোন পরোয়া করি না, এরা জাহান্নামী আমি কোন পরোয়া করি না। তিনি বলেন এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর
রাসূল তাহলে কিসের ওপর আমল করব”? তিনি বললেন: “তাকদিরে নির্ধারিত স্থানে” [48] । [আহমদ] হাদিসটি হাসান।
-158 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻧَﻀْﺮَﺓَ ﺃَﻥَّ ﺭَﺟُﻼً ﻣِﻦْ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳُﻘَﺎﻝُ ﻟَﻪُ: ﺃَﺑُﻮ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺩَﺧَﻞَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺃَﺻْﺤَﺎﺑُﻪُ ﻳَﻌُﻮﺩُﻭﻧَﻪُ ﻭَﻫُﻮَ ﻳَﺒْﻜِﻲ ﻓَﻘَﺎﻟُﻮﺍ ﻟَﻪُ: ﻣَﺎ ﻳُﺒْﻜِﻴﻚَ ﺃَﻟَﻢْ ﻳَﻘُﻞْ ﻟَﻚَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﺧُﺬْ ﻣِﻦْ ﺷَﺎﺭِﺑِﻚَ ﺛُﻢَّ
ﺃَﻗِﺮَّﻩُ ﺣَﺘَّﻰ ﺗَﻠْﻘَﺎﻧِﻲ » , ﻗَﺎﻝَ: ﺑَﻠَﻰ ﻭَﻟَﻜِﻨِّﻲ ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ: « ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ- ﻗَﺒَﺾَ ﺑِﻴَﻤِﻴﻨِﻪِ ﻗَﺒْﻀَﺔً ﻭَﺃُﺧْﺮَﻯ ﺑِﺎﻟْﻴَﺪِ ﺍﻟْﺄُﺧْﺮَﻯ ﻭَﻗَﺎﻝَ : ﻫَﺬِﻩِ ﻟِﻬَﺬِﻩِ , ﻭَﻫَﺬِﻩِ ﻟِﻬَﺬِﻩِ، ﻭَﻟَﺎ ﺃُﺑَﺎﻟِﻲ» . ﻓَﻠَﺎ ﺃَﺩْﺭِﻱ ﻓِﻲ ﺃَﻱِّ ﺍﻟْﻘَﺒْﻀَﺘَﻴْﻦِ
ﺃَﻧَﺎ . ( ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৫৮. আবু নাদরাহ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক সাহাবি যাকে আবু আব্দুল্লাহ বলা হয়,
তাকে দেখার জন্য তার সাথীবৃন্দ আসেন, তিনি কাঁদতে ছিলেন, তারা বলল: আপনি কি জন্য কাঁদছেন, আপনাকে কি রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেননি: “তুমি তোমার মোচ ছাট, অতঃপর তার ওপর স্থির থাক, যতক্ষণ না আমার সাথে
সাক্ষাত কর”। তিনি বলেন: অবশ্যই, কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “আল্লাহ
তা‘আলা তার ডান হাতে এক মুষ্টি ও অপর হাতে অপর মুষ্টি গ্রহণ করেন, অতঃপর বলেন: এরা হচ্ছে এর জন্য এবং এরা হচ্ছে এর জন্য,
আমি কোন পরোয়া করি না”। আমি জানি না আমি কোন মুষ্টির অন্তর্ভুক্ত। [আহমদ] হাদিসটি সহিহ।
-159 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺍﻟﺪَّﺭْﺩَﺍﺀِ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ - ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: « ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺁﺩَﻡَ ﺣِﻴﻦَ ﺧَﻠَﻘَﻪُ، ﻓَﻀَﺮَﺏَ ﻛَﺘِﻔَﻪُ ﺍﻟْﻴُﻤْﻨَﻰ، ﻓَﺄَﺧْﺮَﺝَ ﺫُﺭِّﻳَّﺔً ﺑَﻴْﻀَﺎﺀَ ﻛَﺄَﻧَّﻬُﻢْ ﺍﻟﺬَّﺭُّ، ﻭَﺿَﺮَﺏَ ﻛَﺘِﻔَﻪُ ﺍﻟْﻴُﺴْﺮَﻯ، ﻓَﺄَﺧْﺮَﺝَ ﺫُﺭِّﻳَّﺔً ﺳَﻮْﺩَﺍﺀَ. ﻛَﺄَﻧَّﻬُﻢْ ﺍﻟْﺤُﻤَﻢُ،
ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟِﻠَّﺬِﻱ ﻓِﻲ ﻳَﻤِﻴﻨِﻪِ: ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﻭَﻟَﺎ ﺃُﺑَﺎﻟِﻲ، ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻟِﻠَّﺬِﻱ ﻓِﻲ ﻛَﻔِّﻪِ ﺍﻟْﻴُﺴْﺮَﻯ : ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻭَﻟَﺎ ﺃُﺑَﺎﻟِﻲ » . ( ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৫৯. আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা আদমকে
সৃষ্টি করেন যখন সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তার ডান কাঁধে হাত মারেন ও ধবধবে সাদা এক প্রজন্ম বের করেন যেন তারা পতঙ্গ,
অতঃপর বাম কাঁধে হাত মারেন ও কালো এক প্রজন্ম বের করেন যেন তারা জ্বলন্ত ছাই। অতঃপর ডান হাতের তালুর দিকে লক্ষ্য
করে বলেন: এগুলো জান্নাতের জন্য আমি কোন পরোয়া করি না, বাম হাতের তালুর দিকে লক্ষ্য করে বলেন: এগুলো জাহান্নামের
জন্য আমি কোন পরোয়া করি না”। [আহমদ] হাদিসটি সহিহ।
মান্নত অধ্যায়
-160 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ- ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ: «ﻟَﺎ ﻳَﺄْﺕِ ﺍﺑْﻦَ ﺁﺩَﻡَ ﺍﻟﻨَّﺬْﺭُ ﺑِﺸَﻲْﺀٍ ﻟَﻢْ ﻳَﻜُﻦْ ﻗَﺪْ ﻗَﺪَّﺭْﺗُﻪُ , ﻭَﻟَﻜِﻦْ ﻳُﻠْﻘِﻴﻪِ ﺍﻟْﻘَﺪَﺭُ ﻭَﻗَﺪْ ﻗَﺪَّﺭْﺗُﻪُ ﻟَﻪُ ﺃَﺳْﺘَﺨْﺮِﺝُ ﺑِﻪِ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﺒَﺨِﻴﻞِ » . ( ﺥ , ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৬০. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “বনি আদমের নিকট
মান্নত কোন জিনিস নিয়ে আসে না যা আমি তার জন্য নির্ধারণ করি নি, কিন্তু তাকদির তাকে পেয়ে বসে [49] , আমি তার জন্য
নির্ধারণ করে রেখেছি এর দ্বারা কৃপণ থেকে সম্পদ বের করব”। [বুখারি ও মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
কিয়ামতের বড় আলামত
-161 ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺫَﺭٍّ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ- ﻗَﺎﻝَ: ﻛُﻨْﺖُ ﻣَﻊَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻋَﻠَﻰ ﺣِﻤَﺎﺭٍ ﻭَﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺑَﺮْﺫَﻋَﺔٌ ﺃَﻭْ ﻗَﻄِﻴﻔَﺔٌ ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺬَﺍﻙَ ﻋِﻨْﺪَ ﻏُﺮُﻭﺏِ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲِ , ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟِﻲ: «ﻳَﺎ ﺃَﺑَﺎ ﺫَﺭٍّ ﻫَﻞْ ﺗَﺪْﺭِﻱ ﺃَﻳْﻦَ ﺗَﻐِﻴﺐُ ﻫَﺬِﻩِ؟» ﻗَﺎﻝَ: ﻗُﻠْﺖُ: ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟُﻪُ
ﺃَﻋْﻠَﻢُ. ﻗَﺎﻝَ: « ﻓَﺈِﻧَّﻬَﺎ ﺗَﻐْﺮُﺏُ ﻓِﻲ ﻋَﻴْﻦٍ ﺣَﺎﻣِﺌَﺔٍ ﺗَﻨْﻄَﻠِﻖُ ﺣَﺘَّﻰ ﺗَﺨِﺮَّ ﻟِﺮَﺑِّﻬَﺎ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ- ﺳَﺎﺟِﺪَﺓً ﺗَﺤْﺖَ ﺍﻟْﻌَﺮْﺵِ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺣَﺎﻥَ ﺧُﺮُﻭﺟُﻬَﺎ ﺃَﺫِﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟَﻬَﺎ ﻓَﺘَﺨْﺮُﺝُ ﻓَﺘَﻄْﻠُﻊُ، ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺃَﺭَﺍﺩَ ﺃَﻥْ ﻳُﻄْﻠِﻌَﻬَﺎ ﻣِﻦْ ﺣَﻴْﺚُ ﺗَﻐْﺮُﺏُ ﺣَﺒَﺴَﻬَﺎ ﻓَﺘَﻘُﻮﻝُ : ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﺇِﻥَّ ﻣَﺴِﻴﺮِﻱ ﺑَﻌِﻴﺪٌ،
ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﻟَﻬَﺎ: ﺍﻃْﻠُﻌِﻲ ﻣِﻦْ ﺣَﻴْﺚُ ﻏِﺒْﺖِ ﻓَﺬَﻟِﻚَ ﺣِﻴﻦَ ﻟَﺎ ﻳَﻨْﻔَﻊُ ﻧَﻔْﺴًﺎ ﺇِﻳﻤَﺎﻧُﻬَﺎ » . ( ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৬১. আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি একটি গাধার ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
সাথে ছিলাম। তখন তার উপর একটি পাড়যুক্ত চাদর ছিল। তিনি বলেন: এটা ছিল সূর্যাস্তের সময়, তিনি আমাকে বলেন: “হে আবু যর
তুমি জান এটা কোথায় অস্ত যায়?” তিনি বলেন: আমি বললাম: আল্লাহ এবং তার রাসূল ভাল জানেন। তিনি বলেন: সূর্যাস্ত যায়
একটি কর্দমাক্ত ঝর্ণায় [50] , সে চলতে থাকে অবশেষে আরশের নিচে তার রবের জন্য সেজদায় লুটিয়ে পড়ে, যখন বের হওয়ার সময়
আল্লাহ তাকে অনুমতি দেন, ফলে সে বের হয় ও উদিত হয়। তিনি যখন তাকে যেখানে অস্ত গিয়েছে সেখান থেকে উদিত করার
ইচ্ছা করবেন আটকে দিবেন, সে বলবে: হে আমার রব আমার পথ তো দীর্ঘ, আল্লাহ বলবেন: যেখান থেকে ডুবেছে সেখান থেকেই
উদিত হও, এটাই সে সময় যখন ব্যক্তিকে তার ঈমান উপকার করবে না” [51] । [আহমদ] হাদিসটি সহিহ।
দজ্জালের ফিতনা
-162 ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﻮَّﺍﺱِ ﺑْﻦِ ﺳَﻤْﻌَﺎﻥَ ( ﻗَﺎﻝَ: ﺫَﻛَﺮَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻟﺪَّﺟَّﺎﻝَ ﺫَﺍﺕَ ﻏَﺪَﺍﺓٍ ﻓَﺨَﻔَّﺾَ ﻓِﻴﻪِ ﻭَﺭَﻓَّﻊَ ﺣَﺘَّﻰ ﻇَﻨَﻨَّﺎﻩُ ﻓِﻲ ﻃَﺎﺋِﻔَﺔِ ﺍﻟﻨَّﺨْﻞِ ﻓَﻘَﺎﻝَ: « ﻏَﻴْﺮُ ﺍﻟﺪَّﺟَّﺎﻝِ ﺃَﺧْﻮَﻓُﻨِﻲ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ، ﺇِﻥْ ﻳَﺨْﺮُﺝْ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻓِﻴﻜُﻢْ ﻓَﺄَﻧَﺎ ﺣَﺠِﻴﺠُﻪُ ﺩُﻭﻧَﻜُﻢْ، ﻭَﺇِﻥْ
ﻳَﺨْﺮُﺝْ ﻭَﻟَﺴْﺖُ ﻓِﻴﻜُﻢْ ﻓَﺎﻣْﺮُﺅٌ ﺣَﺠِﻴﺞُ ﻧَﻔْﺴِﻪِ , ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻠِﻴﻔَﺘِﻲ ﻋَﻠَﻰ ﻛُﻞِّ ﻣُﺴْﻠِﻢٍ , ﺇِﻧَّﻪُ ﺷَﺎﺏٌّ ﻗَﻄَﻂٌ ﻋَﻴْﻨُﻪُ ﻃَﺎﻓِﺌَﺔٌ ﻛَﺄَﻧِّﻲ ﺃُﺷَﺒِّﻬُﻪُ ﺑِﻌَﺒْﺪِ ﺍﻟْﻌُﺰَّﻯ ﺑْﻦِ ﻗَﻄَﻦٍ ﻓَﻤَﻦْ ﺃَﺩْﺭَﻛَﻪُ ﻣِﻨْﻜُﻢْ ﻓَﻠْﻴَﻘْﺮَﺃْ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻓَﻮَﺍﺗِﺢَ ﺳُﻮﺭَﺓِ ﺍﻟْﻜَﻬْﻒِ، ﺇِﻧَّﻪُ ﺧَﺎﺭِﺝٌ ﺧَﻠَّﺔً ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟﺸَّﺎْﻡِ ﻭَﺍﻟْﻌِﺮَﺍﻕِ، ﻓَﻌَﺎﺙَ
ﻳَﻤِﻴﻨًﺎ ﻭَﻋَﺎﺙَ ﺷِﻤَﺎﻻً ﻳَﺎ ﻋِﺒَﺎﺩَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻓَﺎﺛْﺒُﺘُﻮﺍ »، ﻗُﻠْﻨَﺎ: ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻣَﺎ ﻟَﺒْﺜُﻪُ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ؟ ﻗَﺎﻝَ : «ﺃَﺭْﺑَﻌُﻮﻥَ ﻳَﻮْﻣًﺎ ﻳَﻮْﻡٌ ﻛَﺴَﻨَﺔٍ ﻭَﻳَﻮْﻡٌ ﻛَﺸَﻬْﺮٍ ﻭَﻳَﻮْﻡٌ ﻛَﺠُﻤُﻌَﺔٍ ﻭَﺳَﺎﺋِﺮُ ﺃَﻳَّﺎﻣِﻪِ ﻛَﺄَﻳَّﺎﻣِﻜُﻢْ» . ﻗُﻠْﻨَﺎ: ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻓَﺬَﻟِﻚَ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻛَﺴَﻨَﺔٍ ﺃَﺗَﻜْﻔِﻴﻨَﺎ ﻓِﻴﻪِ ﺻَﻠَﺎﺓُ
ﻳَﻮْﻡٍ؟ ﻗَﺎﻝَ: « ﻟَﺎ، ﺍﻗْﺪُﺭُﻭﺍ ﻟَﻪُ ﻗَﺪْﺭَﻩُ» ، ﻗُﻠْﻨَﺎ : ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻣَﺎ ﺇِﺳْﺮَﺍﻋُﻪُ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ؟ ﻗَﺎﻝَ: «ﻛَﺎﻟْﻐَﻴْﺚِ ﺍﺳْﺘَﺪْﺑَﺮَﺗْﻪُ ﺍﻟﺮِّﻳﺢُ، ﻓَﻴَﺄْﺗِﻲ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻘَﻮْﻡِ ﻓَﻴَﺪْﻋُﻮﻫُﻢْ ﻓَﻴُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ ﺑِﻪِ ﻭَﻳَﺴْﺘَﺠِﻴﺒُﻮﻥَ ﻟَﻪُ، ﻓَﻴَﺄْﻣُﺮُ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀَ ﻓَﺘُﻤْﻄِﺮُ ﻭَﺍﻟْﺄَﺭْﺽَ ﻓَﺘُﻨْﺒِﺖُ ﻓَﺘَﺮُﻭﺡُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ
ﺳَﺎﺭِﺣَﺘُﻬُﻢْ ﺃَﻃْﻮَﻝَ ﻣَﺎ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﺫُﺭًﺍ، ﻭَﺃَﺳْﺒَﻐَﻪُ ﺿُﺮُﻭﻋًﺎ، ﻭَﺃَﻣَﺪَّﻩُ ﺧَﻮَﺍﺻِﺮَ، ﺛُﻢَّ ﻳَﺄْﺗِﻲ ﺍﻟْﻘَﻮْﻡَ ﻓَﻴَﺪْﻋُﻮﻫُﻢْ ﻓَﻴَﺮُﺩُّﻭﻥَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻗَﻮْﻟَﻪُ ﻓَﻴَﻨْﺼَﺮِﻑُ ﻋَﻨْﻬُﻢْ ﻓَﻴُﺼْﺒِﺤُﻮﻥَ ﻣُﻤْﺤِﻠِﻴﻦَ ﻟَﻴْﺲَ ﺑِﺄَﻳْﺪِﻳﻬِﻢْ ﺷَﻲْﺀٌ ﻣِﻦْ ﺃَﻣْﻮَﺍﻟِﻬِﻢْ, ﻭَﻳَﻤُﺮُّ ﺑِﺎﻟْﺨَﺮِﺑَﺔِ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﻟَﻬَﺎ: ﺃَﺧْﺮِﺟِﻲ ﻛُﻨُﻮﺯَﻙِ ﻓَﺘَﺘْﺒَﻌُﻪُ
ﻛُﻨُﻮﺯُﻫَﺎ ﻛَﻴَﻌَﺎﺳِﻴﺐِ ﺍﻟﻨَّﺤْﻞِ ﺛُﻢَّ ﻳَﺪْﻋُﻮ ﺭَﺟُﻼً ﻣُﻤْﺘَﻠِﺌًﺎ ﺷَﺒَﺎﺑًﺎ ﻓَﻴَﻀْﺮِﺑُﻪُ ﺑِﺎﻟﺴَّﻴْﻒِ ﻓَﻴَﻘْﻄَﻌُﻪُ ﺟَﺰْﻟَﺘَﻴْﻦِ ﺭَﻣْﻴَﺔَ ﺍﻟْﻐَﺮَﺽِ ﺛُﻢَّ ﻳَﺪْﻋُﻮﻩُ ﻓَﻴُﻘْﺒِﻞُ ﻭَﻳَﺘَﻬَﻠَّﻞُ ﻭَﺟْﻬُﻪُ ﻳَﻀْﺤَﻚُ، ﻓَﺒَﻴْﻨَﻤَﺎ ﻫُﻮَ ﻛَﺬَﻟِﻚَ ﺇِﺫْ ﺑَﻌَﺚَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟْﻤَﺴِﻴﺢَ ﺍﺑْﻦَ ﻣَﺮْﻳَﻢَ ﻓَﻴَﻨْﺰِﻝُ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟْﻤَﻨَﺎﺭَﺓِ ﺍﻟْﺒَﻴْﻀَﺎﺀِ ﺷَﺮْﻗِﻲَّ
ﺩِﻣَﺸْﻖَ ﺑَﻴْﻦَ ﻣَﻬْﺮُﻭﺩَﺗَﻴْﻦِ ﻭَﺍﺿِﻌًﺎ ﻛَﻔَّﻴْﻪِ ﻋَﻠَﻰ ﺃﺟْﻨِﺤَﺔِ ﻣَﻠَﻜَﻴﻦِ، ﺇِﺫَ ﻃَﺄْﻃﺄَ ﺭَﺃْﺳَﻪُ ﻗَﻄَﺮَ، ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺭَﻓَﻌَﻪُ ﺗَﺤَﺪَّﺭَ ﻣِﻨْﻪُ ﺟُﻤَﺎﻥٌ ﻛَﺎﻟﻠُّﺆْﻟُﺆِ ﻓَﻠَﺎ ﻳَﺤِﻞُّ ﻟِﻜَﺎﻓِﺮٍ ﻳَﺠِﺪُ ﺭِﻳﺢَ ﻧَﻔَﺴِﻪِ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﺎﺕَ ﻭَﻧَﻔَﺴُﻪُ ﻳَﻨْﺘَﻬِﻲ ﺣَﻴْﺚُ ﻳَﻨْﺘَﻬِﻲ ﻃَﺮْﻓُﻪُ، ﻓَﻴَﻄْﻠُﺒُﻪُ ﺣَﺘَّﻰ ﻳُﺪْﺭِﻛَﻪُ ﺑِﺒَﺎﺏِ ﻟُﺪٍّ ﻓَﻴَﻘْﺘُﻠُﻪُ، ﺛُﻢَّ
ﻳَﺄْﺗِﻲ ﻋِﻴﺴَﻰ ﺍﺑْﻦَ ﻣَﺮْﻳَﻢَ ﻗَﻮْﻡٌ ﻗَﺪْ ﻋَﺼَﻤَﻬُﻢْ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣِﻨْﻪُ ﻓَﻴَﻤْﺴَﺢُ ﻋَﻦْ ﻭُﺟُﻮﻫِﻬِﻢْ ﻭَﻳُﺤَﺪِّﺛُﻬُﻢْ ﺑِﺪَﺭَﺟَﺎﺗِﻬِﻢْ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ، ﻓَﺒَﻴْﻨَﻤَﺎ ﻫُﻮَ ﻛَﺬَﻟِﻚَ ﺇِﺫْ ﺃَﻭْﺣَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺇِﻟَﻰ ﻋِﻴﺴَﻰ ﺇِﻧِّﻲ ﻗَﺪْ ﺃَﺧْﺮَﺟْﺖُ ﻋِﺒَﺎﺩًﺍ ﻟِﻲ ﻟَﺎ ﻳَﺪَﺍﻥِ ﻟِﺄَﺣَﺪٍ ﺑِﻘِﺘَﺎﻟِﻬِﻢْ ﻓَﺤَﺮِّﺯْ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻄُّﻮﺭِ، ﻭَﻳَﺒْﻌَﺚُ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻳَﺄْﺟُﻮﺝَ ﻭَﻣَﺄْﺟُﻮﺝَ ﻭَﻫُﻢْ ﻣِﻦْ ﻛُﻞِّ ﺣَﺪَﺏٍ ﻳَﻨْﺴِﻠُﻮﻥَ ﻓَﻴَﻤُﺮُّ ﺃَﻭَﺍﺋِﻠُﻬُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﺑُﺤَﻴْﺮَﺓِ ﻃَﺒَﺮِﻳَّﺔَ ﻓَﻴَﺸْﺮَﺑُﻮﻥَ ﻣَﺎ ﻓِﻴﻬَﺎ، ﻭَﻳَﻤُﺮُّ ﺁﺧِﺮُﻫُﻢْ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﻟَﻘَﺪْ ﻛَﺎﻥَ ﺑِﻬَﺬِﻩِ ﻣَﺮَّﺓً ﻣَﺎﺀٌ، ﻭَﻳُﺤْﺼَﺮُ ﻧَﺒِﻲُّ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻭَﺃَﺻْﺤَﺎﺑُﻪُ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﻜُﻮﻥَ ﺭَﺃْﺱُ ﺍﻟﺜَّﻮْﺭِ ﻟِﺄَﺣَﺪِﻫِﻢْ ﺧَﻴْﺮًﺍ ﻣِﻦْ ﻣِﺎﺋَﺔِ
ﺩِﻳﻨَﺎﺭٍ ﻟِﺄَﺣَﺪِﻛُﻢْ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ، ﻓَﻴَﺮْﻏَﺐُ ﻧَﺒِﻲُّ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻭَﺃَﺻْﺤَﺎﺑُﻪُ ﻓَﻴُﺮْﺳِﻞُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺍﻟﻨَّﻐَﻒَ ﻓِﻲ ﺭِﻗَﺎﺑِﻬِﻢْ ﻓَﻴُﺼْﺒِﺤُﻮﻥَ ﻓَﺮْﺳَﻰ ﻛَﻤَﻮْﺕِ ﻧَﻔْﺲٍ ﻭَﺍﺣِﺪَﺓٍ ﺛُﻢَّ ﻳَﻬْﺒِﻂُ ﻧَﺒِﻲُّ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻭَﺃَﺻْﺤَﺎﺑُﻪُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﻓَﻠَﺎ ﻳَﺠِﺪُﻭﻥَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﻣَﻮْﺿِﻊَ ﺷِﺒْﺮٍ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﻠَﺄَﻩُ
ﺯَﻫَﻤُﻬُﻢْ ﻭَﻧَﺘْﻨُﻬُﻢْ , ﻓَﻴَﺮْﻏَﺐُ ﻧَﺒِﻲُّ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻭَﺃَﺻْﺤَﺎﺑُﻪُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻓَﻴُﺮْﺳِﻞُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻃَﻴْﺮًﺍ ﻛَﺄَﻋْﻨَﺎﻕِ ﺍﻟْﺒُﺨْﺖِ ﻓَﺘَﺤْﻤِﻠُﻬُﻢْ ﻓَﺘَﻄْﺮَﺣُﻬُﻢْ ﺣَﻴْﺚُ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ، ﺛُﻢَّ ﻳُﺮْﺳِﻞُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣَﻄَﺮًﺍ ﻟَﺎ ﻳَﻜُﻦُّ ﻣِﻨْﻪُ ﺑَﻴْﺖُ ﻣَﺪَﺭٍ ﻭَﻟَﺎ ﻭَﺑَﺮٍ ﻓَﻴَﻐْﺴِﻞُ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽَ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺘْﺮُﻛَﻬَﺎ ﻛَﺎﻟﺰَّﻟَﻔَﺔِ، ﺛُﻢَّ ﻳُﻘَﺎﻝُ
ﻟِﻠْﺄَﺭْﺽِ: ﺃَﻧْﺒِﺘِﻲ ﺛَﻤَﺮَﺗَﻚِ ﻭَﺭُﺩِّﻱ ﺑَﺮَﻛَﺘَﻚِ ﻓَﻴَﻮْﻣَﺌِﺬٍ ﺗَﺄْﻛُﻞُ ﺍﻟْﻌِﺼَﺎﺑَﺔُ ﻣِﻦْ ﺍﻟﺮُّﻣَّﺎﻧَﺔِ، ﻭَﻳَﺴْﺘَﻈِﻠُّﻮﻥَ ﺑِﻘِﺤْﻔِﻬَﺎ ﻭَﻳُﺒَﺎﺭَﻙُ ﻓِﻲ ﺍﻟﺮِّﺳْﻞِ ﺣَﺘَّﻰ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠِّﻘْﺤَﺔَ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﺈِﺑِﻞِ ﻟَﺘَﻜْﻔِﻲ ﺍﻟْﻔِﺌَﺎﻡَ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ، ﻭَﺍﻟﻠِّﻘْﺤَﺔَ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﺒَﻘَﺮِ ﻟَﺘَﻜْﻔِﻲ ﺍﻟْﻘَﺒِﻴﻠَﺔَ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ، ﻭَﺍﻟﻠِّﻘْﺤَﺔَ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻐَﻨَﻢِ
ﻟَﺘَﻜْﻔِﻲ ﺍﻟْﻔَﺨِﺬَ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ، ﻓَﺒَﻴْﻨَﻤَﺎ ﻫُﻢْ ﻛَﺬَﻟِﻚَ ﺇِﺫْ ﺑَﻌَﺚَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺭِﻳﺤًﺎ ﻃَﻴِّﺒَﺔً ﻓَﺘَﺄْﺧُﺬُﻫُﻢْ ﺗَﺤْﺖَ ﺁﺑَﺎﻃِﻬِﻢْ ﻓَﺘَﻘْﺒِﺾُ ﺭُﻭﺡَ ﻛُﻞِّ ﻣُﺆْﻣِﻦٍ ﻭَﻛُﻞِّ ﻣُﺴْﻠِﻢٍ، ﻭَﻳَﺒْﻘَﻰ ﺷِﺮَﺍﺭُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻳَﺘَﻬَﺎﺭَﺟُﻮﻥَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺗَﻬَﺎﺭُﺝَ ﺍﻟْﺤُﻤُﺮِ ﻓَﻌَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺗَﻘُﻮﻡُ ﺍﻟﺴَّﺎﻋَﺔُ » . ( ﻡ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৬২. নাওয়াস ইব্ন সাম‘আন বলেন, কোন এক সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জালের উল্লেখ করলেন,
তাতে তিনি আওয়াজ নিচু ও উঁচু করছিলেন, এমনকি আমরা তাকে (দাজ্জালকে) প্রতিবেশীর খেজুর বাগানে ধারণা করেছিলাম।
অতঃপর তিনি বললেন: “আমি তোমাদের ওপর দাজ্জাল ব্যতীত অন্য কিছুর আশঙ্কা করছি, যদি সে বের হয় আর আমি তোমাদের
মাঝে থাকি, তাহলে আমিই তাকে মোকাবিলা করব তোমাদের পরিবর্তে। যদি সে বের হয় আর আমি তোমাদের মাঝে না
থাকি, তাহলে প্রত্যেকে তার নিজের জিম্মাদার, আর আমার অবর্তমানে আল্লাহ প্রত্যেক মুসলিমের জিম্মাদার। দাজ্জাল
কোঁকড়ানো চুল বিশিষ্ট যুবক, তার চোখ ওপরে উঠানো, আমি তার উদাহরণ পেশ করছি আব্দুল উজ্জা ইব্ন কুতনকে। তোমাদের থেকে
যে তাকে পাবে সে যেন তার ওপর সূরা কাহাফের প্রথম আয়াতগুলো পড়ে, নিশ্চয় সে বের হবে শাম ও ইরাকের মধ্যবর্তী স্থান
থেকে, সে ডানে ও বামে ধ্বংসযজ্ঞ চালাবে, হে আল্লাহর বান্দাগণ তোমরা দৃঢ় থাক”। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল,
যমীনে তার অবস্থান কি পরিমাণ হবে? তিনি বললেন: “চল্লিশ দিন, একদিন এক বছর সমান, অতঃপর একদিন এক মাসের সমান,
অতঃপর একদিন এক জুমার সমান, অতঃপর তার অন্যান্য দিনগুলো তোমাদের দিনের ন্যায়”। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, যে
দিনটি এক বছরের ন্যায় সেখানে কি একদিনের সালাত যথেষ্ট? তিনি বললেন: “না, তোমরা তার পরিমাণ করবে”। আমরা বললাম:
হে আল্লাহর রাসূল যমীনে তার গতি কিরূপ হবে? তিনি বললেন: “মেঘের মত, যাকে বাতাস হাঁকিয়ে নিয়ে যায়, সে এক কওমের
নিকট আসবে তাদেরকে আহ্বান করবে, ফলে তারা তার ওপর ঈমান আনবে ও তার ডাকে সাড়া দিবে, অতঃপর সে আসমানকে
নির্দেশ করবে আসমান বৃষ্টিপাত করবে, যমীনকে নির্দেশ করবে যমীন শস্য জন্মাবে, এবং তাদের জন্তুগুলো সন্ধ্যায় বাড়ি
ফিরবে উঁচু চুটি, দুধে পরিপূর্ণ ও দীর্ঘ দেহ নিয়ে। অতঃপর এক কওমের নিকট আসবে তাদেরকে দাওয়াত দিবে, কিন্তু তারা তার
দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করবে, সে তাদের থেকে চলে যাবে ফলে তারা দুর্ভিক্ষে পতিত হবে তাদের হাতে তাদের সম্পদের কিছুই
থাকবে না। সে ধ্বংস স্তূপের পাশ দিয়ে যাবে অতঃপর তাকে বলবে: তোমার সম্পদ তুমি বের কর, ফলে তার সম্পদ তার অনুগামী
হবে মক্ষী রাণীর ন্যায়, অতঃপর সে পূর্ণ এক যুবককে ডাকবে ও তলোয়ারের আঘাতে দু’টুকরো করে ঢিলার দূরত্ব পরিমাণ দুই ধারে
নিক্ষেপ করবে, অতঃপর তাকে ডাকবে সে এগিয়ে আসবে ও হাসিতে তার চেহারা উজ্জ্বল থাকবে। দাজ্জাল এরূপ করতে থাকবে,
এমতাবস্থায় আল্লাহ মাসিহ ইব্ন মারইয়ামকে প্রেরণ করবেন, তিনি দামেস্কের পূর্ব দিকে সাদা মিনারের কাছে অবতরণ
করবেন দু’টি কাপড় পরিহিত অবস্থায় ফেরেশতাদের ডানার ওপর তার দু’হাত রেখে। যখন তিনি মাথা নিচু করবেন (বৃষ্টির ন্যায়)
পানি টপকাবে, যখন তিনি মাথা উঁচু করবেন মুক্তোর ন্যায় শ্বেত পাথর পড়বে, (অর্থাৎ পরিষ্কার পানি)। কোন কাফের এর পক্ষে
সম্ভব হবে না তার শ্বাসের গন্ধ পাবে আর বেচে থাকবে, তার শ্বাস সেখানে যাবে যেখানে তার দৃষ্টি পৌঁছবে। তিনি তাকে
সন্ধান করবেন অবশেষে ‘লুদ্দ’ নামক দরজার নিকট তাকে পাবেন, অতঃপর তাকে হত্যা করবেন। অতঃপর ঈসা আলাইহিস সালাম
এক কওমের নিকট আসবেন, যাদেরকে আল্লাহ দাজ্জাল থেকে নিরাপদ রেখেছেন, তিনি তাদের চেহারায় হাত ভুলিয়ে দিবেন
এবং জান্নাতে তাদের মর্তবা সম্পর্কে তাদেরকে বলবেন। এমতাবস্থায় আল্লাহ তার নিকট ওহি করবেন, আমি আমার এমন
বান্দাদের বের করেছি যাদের সাথে যুদ্ধ করার সাধ্য কারো নেই, অতএব তুমি আমার বান্দাদের নিয়ে তুরে আশ্রয় গ্রহণ কর,
আল্লাহ ইয়াজুজ ও মাজুজকে প্রেরণ করবেন, তারা প্রত্যেক উঁচু স্থান থেকে ছুটে আসবে। তাদের প্রথমাংশ পানিতে পূর্ণ নদীর
পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে, তারা তার পানি পান করে ফেলবে। তাদের শেষাংশ অতিক্রম করবে ও বলবে: এখানে কখনো পানি
ছিল। আল্লাহর নবী ঈসা ও তার সাথীগণ তুরে আটকা পড়বেন, অবশেষে গরুর একটি মাথা তাদের নিকট বর্তমানে তোমাদের
একশো দিনার থেকে উত্তম হবে। অতঃপর আল্লাহর নবী ঈসা ও তার সাথীগণ আল্লাহর নিকট মনোনিবেশ করবেন, ফলে আল্লাহ
তাদের (ইয়াজুজ-মাজুজের) গ্রীবায় গুটির রোগ সৃষ্টি করবেন, ফলে তারা সবাই এক ব্যক্তির মৃতের ন্যায় মৃত পড়ে থাকবে। অতঃপর
আল্লাহর নবী ঈসা ও তার সাথীগণ যমীনে অবতরণ করবেন, তারা যমীনে এক বিঘত জায়গা পাবে না যেখানে তাদের মৃত দেহ ও
লাশ নাই। অতঃপর আল্লাহর নবী ঈসা ও তার সাথীগণ আল্লাহর নিকট দো‘আ করবেন, ফলে তিনি উটের গর্দানের ন্যায় পাখি
প্রেরণ করবেন, তারা এদেরকে বহন করে আল্লাহর যেখানে ইচ্ছা নিক্ষেপ করবে। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বৃষ্টি বর্ষণ করবেন,
কাঁচা-পাকা কোন ঘর অবশিষ্ট থাকবে না যেখানে সে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করবে না, যমীন ধৌত করে অবশেষে আয়নার মত করে
দিবে। অতঃপর যমীনকে বলা হবে: তোমার ফল তুমি জন্মাও, তোমার বরকত তুমি ফেরৎ দাও, ফলে সেদিন এক দল লোক একটি আনার
ভক্ষণ করবে এবং তার ছিলকা দ্বারা ছায়া গ্রহণ করবে, দুধে বরকত দেয়া হবে ফলে এক উটের দুধ কয়েক গ্রুপ মানুষের জন্য যথেষ্ট
হবে। এক গরুর দুগ্ধ এক গ্রামের জন্য যথেষ্ট হবে। এক বকরির দুগ্ধ এক পরিবারের জন্য যথেষ্ট হবে। তারা এভাবেই জীবন যাপন করবে,
এমতাবস্থায় আল্লাহ পবিত্র বাতাস প্রবাহিত করবেন, যা তাদের বগলের নিচ স্পর্শ করবে, ফলে সে প্রত্যেক মুমিন ও মুসলিমের রূহ
কব্জা করবে, তখন কেবল সবচেয়ে খারাপ লোকগুলো অবশিষ্ট থাকবে, তারা গাধার ন্যায় (সবার সামনে) যৌনাচারে লিপ্ত হবে,
অতঃপর তাদের ওপরই কিয়ামত কায়েম হবে”। [মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
আল্লাহর প্রশংসামূলক কতক বাক্যের ফযিলত
-163 ﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲٍ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ- ﻗَﺎﻝَ: ﺟَﺎﺀَ ﺭَﺟُﻞٌ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓِﻲ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﺣَﻤْﺪًﺍ ﻛَﺜِﻴﺮًﺍ ﻃَﻴِّﺒًﺎ ﻣُﺒَﺎﺭَﻛًﺎ ﻓِﻴﻪِ، ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﻗَﻀَﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓَ ﻗَﺎﻝَ: ﺃَﻳُّﻜُﻢْ ﺍﻟْﻘَﺎﺋِﻞُ ﻛَﺬَﺍ ﻭَﻛَﺬَﺍ، ﻗَﺎﻝَ:
ﻓَﺄَﺭَﻡَّ ﺍﻟْﻘَﻮْﻡُ . ﻗَﺎﻝَ ﻓَﺄَﻋَﺎﺩَﻫَﺎ ﺛَﻠَﺎﺙَ ﻣَﺮَّﺍﺭ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺭَﺟُﻞٌ: ﺃَﻧَﺎ ﻗُﻠْﺘُﻬَﺎ ﻭَﻣَﺎ ﺃَﺭَﺩْﺕُ ﺑِﻬَﺎ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟْﺨَﻴْﺮَ، ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : « ﻟَﻘَﺪْ ﺍﺑْﺘَﺪَﺭَﻫَﺎ ﺍﺛْﻨَﺎ ﻋَﺸَﺮَ ﻣَﻠَﻜًﺎ ﻓَﻤَﺎ ﺩَﺭَﻭْﺍ ﻛَﻴْﻒَ ﻳَﻜْﺘُﺒُﻮﻧَﻬَﺎ ﺣَﺘَّﻰ ﺳَﺄَﻟُﻮﺍ ﺭَﺑَّﻬُﻢْ -ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞ -، ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺍﻛْﺘُﺒُﻮﻫَﺎ
ﻛَﻤَﺎ ﻗَﺎﻝَ ﻋَﺒْﺪِﻱ» . (ﺣﻢ ) ﺻﺤﻴﺢ
১৬৩. আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সালাত অবস্থায়
হাজির হয়ে বলল: ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﺣَﻤْﺪًﺍ ﻛَﺜِﻴﺮًﺍ ﻃَﻴِّﺒًﺎ ﻣُﺒَﺎﺭَﻛًﺎ ﻓِﻴﻪِ، নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করে বললেন: তোমাদের মধ্যে কে
অমুক বাক্য পাঠকারী? সকলে চুপ রইল। তিনি বলেন: তিনি তিনবার তা বললেন, অতঃপর এক ব্যক্তি বলল: আমি তা বলেছি, আমি
ভাল ব্যতীত অন্য কিছু উদ্দেশ্য করিনি। তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “বারোজন ফেরেশতা
তাকে গ্রহণ করার জন্য দ্রুত ছুটে এসেছে, তারা বুঝতে পারছিল না কিভাবে তা লিখবে, অবশেষে তাদের রবের নিকট জিজ্ঞাসা
করে, অতঃপর তিনি বলেন: আমার বান্দা যেরূপ বলেছে সেরূপ লিখ”। [আহমদ] হাদিসটি সহিহ।
সমাপ্ত
[1] এ থেকে প্রমাণ হয় যে, পাপ ত্যাগ করাও নেকি, যদি তা আল্লাহর জন্য হয়।
[2] এ মর্যাদা শুধু আল্লাহর ভয়ে পাপ ত্যাগকারীর জন্য।
[3] সূরা বাকারা: (২৮৬)
[4] সূরা বাকারা: (২৮৪)
[5] সূরা বাকারা : (১৮৫)
[6] এ থেকে প্রমাণ হয় দেখানো ব্যক্তির আমল বিনষ্ট, তাতে কোন সওয়াব নেই।
[7] অর্থাৎ সে রাতে বৃষ্টি হয়েছিল।
[8] অথাৎ দুনিয়াতে আমরা নিজেদের দাবি নিয়ে যে পরিমাণ ঝগড়া ও তর্কে লিপ্ত হই, আখেরাতে মুমিনগণ আল্লাহর সাথে
তার চেয়ে অধিক ঝগড়া ও তর্কে লিপ্ত হবে তাদের ভাইদের মুক্ত করানোর জন্য, যাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করানো হয়েছে।
[9] এর অর্থ এই নয় যে, কেউ অন্যায় ও গুনাহ করবে আর অন্য কেউ তার প্রতিবাদ করবে না। এ ব্যাপারে প্রতিবাদ হচ্ছে তিন
প্রকারের, হাতে, মুখে বা অন্তরের ঘৃণা। তাকে হাত দিয়ে বাধা, মুখ দিয়ে নিষেধ আর সক্ষম না হলেও অন্তরে তার কর্মকাণ্ডকে
ঘৃণা করাই হচ্ছে প্রতিবাদে ভাষা। কিন্তু তার বাইরে প্রতিবাদের সীমা ছড়িয়ে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না, বলাই
অগ্রহণযোগ্য কাজ। যার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ আকারে দেখা দিয়েছে। [সম্পাদক]
[10] আল্লাহ তার আমল নষ্ট করে দেয়ার কারণ হচ্ছে, সে ব্যক্তি আল্লাহ সম্পর্কে খারাপ ধারণা করেছে। আল্লাহকে তাঁর সঠিক
মর্যাদায় অভিষিক্ত করেনি। মানুষ আল্লাহ সম্পর্কে যখন খারাপ ধারণা করে, তখন সে নিরাশ হয় বা অপরকে আল্লাহর রহমত
থেকে নিরাশ করে দেয়, এটি কুফরির পর্যায়ে। তাই তার আমর বিনষ্ট হয়ে যায়। [সম্পাদক]
[11] হাদীসটির ﺃﻫﻠﻜﻬﻢ শব্দে কাফ এর উপর উচ্চারণভেদে দু’টি অর্থ হয়। এক. সে তাদের মধ্যে অধিক ধ্বংসপ্রাপ্ত। দুই. সে তাদেরকে
ধ্বংস হয়ে গেছে বলে মনে করেছে। বাস্তবে তারা ধ্বংস হয়েছে এমন নয়। আলেমগণ বলেন, “মানুষ ধ্বংস হয়েছে” এ কথাটি বলা ঐ
সময় নিষিদ্ধ, যখন সেটা মানুষদেরকে অসম্মান ও অবজ্ঞা করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব বুঝানো ও তাদের নিকৃষ্ট করার জন্য বলা হবে।
কিন্তু যদি কোন মানুষ নিজের ও অন্যান্য মানুষের মধ্যে দ্বীনদারির অভাব দেখে আফসোস করে বলে যে, “মানুষ ধ্বংস হয়ে
গেছে” তখন সেটা নিষেধের আওতায় পড়বে না। [সম্পাদক]
[12] আল্লাহ তাকে তাকে পাবে না, এটা তার বিশ্বাস থাকলে তার ঈমান থাকার কথা নয়, আর ঈমান না থাকলে জান্নাত
পাওয়া যাবে না। সুতরাং এখানে এটাই মানতে হবে যে, লোকটি তার অজ্ঞতাবশত: আল্লাহ সম্পর্কে এ ধারণা করে থাকতে
পারে। তাই তার অজ্ঞতার কারণে আল্লাহ তাকে এর জন্য পাকড়াও না করে আল্লাহকে ভয় করার কারণে তাকে ক্ষমা করে দেন।
[সম্পাদক]
[13] ইমাম আহমদের এক বর্ণনায় রয়েছে: “যদি সে আমার সম্পর্কে ভাল ধারণা করে তার জন্যই ভাল, যদি সে আমার সম্পর্কে
খারাপ ধারণা করে তার জন্যই খারাপ।
[14] সাথে থাকার অর্থ, তার অবস্থা জানা ও তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করা। [সম্পাদক]
[15] এখানে সাথে থাকার অর্থ, তার সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত থাকা ও তাকে সহায্য-সহযোগিতা করা। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা
তাঁর আরশের উপর রয়েছেন। [সম্পাদক]
[16] সূরা যুখরুফ: (১৩)
[17] এর অর্থ এই নয় যে, আল্লাহ তা‘আলা তার বান্দার শরীরের অঙ্গ পরিণত হয়ে যায়, বরং এর অর্থ এই যে, সে তখন আল্লাহর
সন্তুষ্টির বাইরে সে লোক আর চলতে পারে না। বরং আল্লাহর সন্তুষ্টিই তার সন্তুষ্টিতে পরিণত হয়ে যায়। এর প্রমাণ হাদীসের
বাকী অংশে। [সম্পাদক]
[18] কেউ এ হাদিসকে মওকুফ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।
[19] সূরা আলিফ লাম মিম সাজদাহ: (১৭)
[20] অর্থাৎ এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘সুপারিশকারীগণ’ –অথবা ‘মুনাফিকরা’ এ দু’য়ের কোন
শব্দটি ব্যবহার করেছেন, এ ব্যাপারে হাদীসের এক বর্ণনাকারী সন্দেহ করেছেন। মূল হাদীসে নয়। [সম্পাদক]
[21] “সা‘দান” শব্দের অর্থ কাঁটা বা বড় কাঁটাদার গাছ।
[22] সূরা আলে ইমরান: (১৬৯)
[23] সূরা আলে ইমরান: (১৬৯)
[24] সূরা আলে ইমরান: (১৬৯)
[25] কারণ ভেজা উল সাধারণত: লোহার সাথে লেগে থাকে। তখন তা ছাড়িয়ে নেয়া কষ্টকর হয়। [সম্পাদক]
[26] সূরা আরাফ: (৪০)
[27] সূরা হজ: (৩১)
[28] যারা বিকৃতি করা ব্যতীত তাদের সঠিক দ্বীনে বহাল ছিল। এ সময়টা হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে
প্রেরণ করার পূর্বে।
[29] সূরা নিসা: (৪০)
[30] সূরা কাউসার: (১-৩)
[31] সূরা বাকারা: (১৪৩)
[32] কারণ প্রতিটি মানুষের জন্য জাহান্নামে একটি স্থান রয়েছে। যখন মুসলিম জাহান্নামে গেল না, আর খৃষ্টান ও ইয়াহূদী
জাহান্নামে গেল, তখন সে যেন মুসলিমের স্থান দখল করে নিল। আর মুসলিম যেন কাফেরকে তার স্থলাভিষিক্ত করল। [সম্পাদক]
[33] দীনার মুদ্রা মানের ক্ষুদ্র অংশকে কিরাত বলা হয়। [সম্পাদক]
[34] অর্থাৎ স্বর্ণ ও রৌপ্য। [সম্পাদক]
[35] সূরা ইবরাহিম: (৩৬)
[36] সূরা মায়েদা: (১১৮)
[37] ইমাম বুখারীর আল-আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে তা স্পষ্ট করা হয়েছে। [সম্পাদক]
[38] কার্যত পাঁচ ওয়াক্ত, কিন্তু সওয়াব পঞ্চাশ ওয়াক্তের।
[39] কলিজার টুকরোর মত সন্তানকে মৃত্যু দিয়ে গ্রহণ করি। [সম্পাদক]
[40] সর্বপ্রথম সৃষ্টি কি? তা নির্ধারণে কয়েকটি মত রয়েছে। এ হাদীস থেকে বাহ্যতঃ বোঝা যায় যে, কলম-ই প্রথম সৃষ্টি। অন্য
হাদীস থেকে বোঝা যায় যে, আরশ প্রথম সৃষ্টি। আবার কোনো কোনো হাদীস থেকে বুঝা যায় যে, পানিই প্রথম সৃষ্টি।
অধিকাংশ সত্যনিষ্ঠ আলেম আরশকেই সর্বপ্রথম সৃষ্টি হিসেবে মনে করে থাকেন। তারা অন্যান্য সৃষ্টি যেমন কলম ও পানি
সেগুলোকে প্রাথমিক সৃষ্ট বিষয় বলে সামঞ্জস্য বিধান করে থাকেন। তবে সর্বপ্রথম সৃষ্টি হচ্ছে আরশ। [সম্পাদক]
[41] অর্থাৎ ইউনুস আলাইহিস সালামের ঘটনা শুনে হয়ত কেউ মনে করতে পারে যে, ইউনুস আলাইহিস সালাম ধৈর্য ধারণ করতে
পারেন নি, আমি তার থেকে উত্তম। এ জাতীয় কোনো কথা বলে নিজেকে নিয়ে অহংকার যেন কেউ না করে। কারণ, নবীগণ
অন্যান্য সকল মানুষ থেকে উত্তম। তাদের সাথে আর কারও তুলনা চলে না। আর তাদের মান-মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তোলার তো
কোনো সুযোগই নেই। সুতরাং কেউ যেন এটা বলে না বসে যে, সে ইউনুস আলাইহিস সালাম থেকে ভালো। [সম্পাদক]
[42] অর্থাৎ আত্মীয়তার সম্পর্ক। আত্মীয়তার সম্পর্ক কিভাবে কথা বলল সেটা আমরা জানি না, তবে রাসূল বলেছেন, তাই
আমাদেরকে এর উপর ঈমান আনতে হবে। যে আল্লাহ আমাদেরকে কথা বলিয়েছেন, তিনি সব কিছুকেই কথা বলাতে পারেন।
[সম্পাদক]
[43] হাদীসের পরবর্তী অংশই প্রমাণ করে যে, আল্লাহর নাম ‘দাহর’ বা যুগ নয়। কারণ, রাত-দিনের মূল কথা হচ্ছে, সময়। আর সময়ের
পরিবর্তন আল্লাহ্ই করে থাকেন। সুতরাং কেউ যদি সময়কে গালি দেয়, সে প্রকারান্তরে আল্লাহ্কেই গালি দিল; কারণ, সময়ে যা
কিছু ঘটে, তার সবই আল্লাহ্র অনুমতি বা নির্দেশে সংঘটিত হয়ে থাকে। সুতরাং হাদীসের পরবর্তী অংশ পূর্বাংশের তাফসীর।
কেউ যেন সময়, যুগ বা কালকে গালি না দেয়। [সম্পাদক]
[44] অর্থাৎ কিভাবে পরস্পরের হক আদান-প্রদান করব, আমাদের সাথে তো কিছুই থাকবে না? তার জবাবে বলা হয়েছে যে এ
আদান-প্রদান ও কিসাস হবে সৎ কাজ ও অসৎ কাজের মাধ্যমে। সুতরাং কারও ভালো কাজ থাকলে, দুনিয়াতে কারও উপর যুলুম করে
থাকলে সে ভালো কাজ তাকে দিয়ে দেওয়া হবে, আর না থাকলে তার উপর অপরের গোনাহ চাপিয়ে দেওয়া হবে। [সম্পাদক]
[45] অর্থাৎ জ্বরটি হচ্ছে একটি আগুন, যার মাধ্যমে মুমিন বান্দার আখেরাতের গোনাহের বিনিময় হয়ে যায়। [সম্পাদক]
[46] এখানে দু’টি প্রিয় বস্তু বলে দু’চোখ বোঝানো হয়েছে। [সম্পাদক]
[47] সূরা আরাফ: (১৭১)
[48] অর্থাৎ আমল করার বিষয়টিও তাকদীরে লেখা আছে। যদি ভালো আমল করার সৌভাগ্য হয়, তবে সেটাও তার তাকদীরে লেখা
আছে। সুতরাং তাকদীরে কী আছে তা খুজে বের করার চেষ্টায় আমল করা পরিত্যাগ করা যাবে না, বরং সর্বদা ভালো আমল
করার প্রচেষ্টায় লেগে থাকতে হবে, আর তখনই তার জন্য সে ভালো আমলটি করা সহজ করে দেয়া হবে। একজন মুমিন এ কাজটিই
করে এবং করা উচিত। মুমিন কখনো তাকদীরের দোহাই দিয়ে নেক আমল করা থেকে বিরত থাকে না। যারা কাফের ও বদকার
তারাই শুধু তাকদীরের দোহাই দিয়ে নেক আমল করা থেকে বিরত থাকে এবং বলে যদি আল্লাহ চাইত তবে আমি অবশ্যই নেক
আমল করতে সমর্থ হতাম। বস্তুত: এ ধরনের কথা বলে নেক আমল থেকে বিরত থাকা আরবের মুশরিকদের কাজ। মোটকথা: মুমিনের
দায়িত্ব হচ্ছে, নেক আমলের জন্য সদা সচেষ্ট থাকা। যাতে করে তার তাকদীরের লেখা অনুসারে সে ভালো কাজ করতে পারে।
আর আল্লাহও তার জন্য তা সহজ করে দেন। এটাই বিভিন্ন হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে
বর্ণিত হয়েছে। [সম্পাদক]
[49] অর্থাৎ কখনও কখনও মানুষ মান্নত দ্বারা কোন জিনিস পায়, এটা আসলে মান্নতের মাধ্যমে পাওয়া নয়; বরং এটাই আমি তার
তাকদীরে লিখেছি। কিন্তু সে যেহেতু আল্লাহর জন্য কিছু দিতে চায় না, কৃপণতা করে, তখন সে মনে মান্নতের মাধ্যমে পাওয়া
যাবে, আর এভাবে মান্নত করার কারণে আল্লাহ তা‘আলা এর মাধ্যমে কিছু জিনিস তার থেকে বের করে আনেন। [সম্পাদক]
[50] এর অর্থ, মানুষের দৃষ্টিতে যখন কোন সূর্য অস্ত যায়, আর সে যখন সাগরের পারে থাকে, তখন দেখতে পায় যেন সূর্য কর্দমাক্ত
ঝর্ণায় ডুবে গেল। এর পরবর্তী অংশই প্রমাণ করে যে, সূর্য তারপরও চলতে থাকে। [সম্পাদক]
[51] অর্থাৎ এর পর আর কারও ঈমান গ্রহণ করা হবে না। [সম্পাদক]
____________________________________________________________________________________________________________
সংকলন : আবু আব্দুল্লাহ মুস্তফা আল-আদাভি
অনুবাদক : সানাউল্লাহ নজির আহমদ
সম্পাদনা : ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
সূত্র : ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ, সৌদিআরব
Posted via Sharif


আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url