রোযা | শরিফ গাজী অফিসিয়াল

রোযা

রমজান পরিচিতি
চাই চোখের, মনের সম্ভ্রমের হেফাজত
চাই শুধু দিনে রাতে আল্লাহর ইবাদত
ছুড়ে সব হিংসা ক্রোধ চাই মজবুত ঈমান
আহলান সাহেলান মাহে রমাজান
রমযান হল ইসলামিক বর্ষপঞ্জিকা অনুসারে নবম মাস, যে মাসে বিশ্বব্যাপী মুসলিমগণ ইসলামিক উপবাস সাওম পালন করে থাকে।রমজান মাসে রোজাপালন ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে তৃতীয়তম।রমজান মাস চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে ২৯ অথবা ত্রিশ দিনে হয়ে থাকে যা নির্ভরযোগ্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এই মাসে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম ব্যক্তির উপর সাওম পালন ফরয, কিন্তু অসুস্থ, গর্ভবতী, ডায়বেটিক রোগী, ঋতুবর্তী নারীদের ক্ষেত্রে তা শিথিল করা হয়েছে।
রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস মাহে রমাজান। মহান আল্লাহ পাক অপার করুণায় সয়লাব এ পবিত্র মাস, অধিকহারে বান্দার পাপরাশির মোচন হয়; বান্দা পায় মুক্তি ও পরিত্রাণের কাঙ্খিত সফলতা। রমাজান মাসের রোজা মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের অন্যতম মাধ্যম।
মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন- " হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা মুত্তাকী অর্জন করতে পারো।"
রোজা ইসলামের ৫ টি মূলভিত্তির একটি। কেউ রমাজান মাসের রোজাকে ফরয হিসেবে অস্বীকার করলে কিংবা রোজার প্রতি উপহাস বা বিদ্রুপ প্রকাশ করলে সে ঈমানহারা কাফির হয়ে যাবে। আর যে শয়তানের ধোঁকায় পড়ে রোজা পালন করবে না, সে ফাসিক বা মস্তবড় গুনাহগার সাব্যস্ত হবে।
নিয়ত ও দোয়া
রোযার আরবি নিয়ত
نويت ان اصوم غدا من شهر رمضان المبارك فرضا لك ياالله فتقبل منى انك انت السميع العليم.
রোজার নিয়তের বাংলা উচ্চারন
নাওয়াইতু আন আছুমা গদাম মিং শাহরি রমাদ্বানাল মুবারকি ফারদ্বল্লাকা ইয়া আল্লাহু ফাতাক্বব্বাল মিন্নী ইন্নাকা আংতাস সামীউল আলীম।
রোজার বাংলা নিয়ত
আয় আল্লাহ পাক! আপনার সন্তুষ্টির জন্য আগামীকালের রমাদ্বান শরীফ-এর ফরয রোযা রাখার নিয়ত করছি। আমার তরফ থেকে আপনি তা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা , সর্বজ্ঞাত।
রোযার ইংরেজী নিয়ত
Nawaitu An Asuma Gadal'Lillahi Ta'aala Min Farzy RAMAZAN.
ইফতারের এর আরবী দোয়া
اللهم لك صمت و على رزقك افطرت.
ইফতারের দোয়ার বাংলা উচ্চারন
আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া তাওয়াক্কালতু আ'লা রিজক্বিকা ওয়া আফতারতু বি রাহমাতিকা ইয়া আর্ হামার রা-হিমীন।
ইফতারের বাংলা দোয়া
হে আল্লাহ তায়ালা আমি আপনার নির্দেশিত মাহে রমাজানের ফরয রোজা শেষে আপনারই নির্দেশিত আইন মেনেই রোজার পরিসমাপ্তি করছি ও রহমতের আশা নিয়ে ইফতার আরম্ভ করিতেছি। তারপর "বিসমিল্লাহি ওয়া'আলা বারাকাতিল্লাহ" বলে ইফতার করা।
রোযার সুন্নাতসমূহ
১. শেষ রাতে সাহরী খাওয়া।
এ সর্ম্পকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- "তোমরা সাহরী খাও। কেননা, সাহরীর ভিতরে বরকত রয়েছে।" (মিশকাত শরীফ)
২. শেষ রাতে বিলম্বে সাহরী খাওয়া সুন্নাত। তবে এমন দেরি করবে না যাতে সুবহে সাদিক প্রকাশ পাওয়ার আশংকা হয়।
৩. সূর্য অস্ত যাওয়া মাত্রই তাড়াতাড়ি ইফতার করা।
৪. কোন খেজুর কিংবা ফলমূল দ্বারা ইফতার করা সুন্নাত।
৫. "বিসমিল্লাহি ওয়া'আলা বারাকাতিল্লাহ" বলে ইফতার করা।
রোযা ভঙ্গের কারনসমূহ
১. ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে।
২ স্ত্রী সহবাস করলে ।
৩. কুলি করার সময় হলকের নিচে পানি চলে গেলে।
৪. ইচ্ছকৃত মুখভরে বমি করলে।
৫. নাকে বা কানে ওষধ বা তৈল প্রবেশ করালে।
৬. জবরদস্তি করে কেহ রোজা ভাঙ্গালে ।
৭. ইনজেকশান বা স্যালাইনের মাধ্যমে দেহে ঔষধ পৌছালে।
৮. কংকর পাথর বা ফলের বিচি গিলে ফেললে।
৯. সূর্যাস্ত হয়েছে মনে করে ইফতার করার পর দেখা গেল সুর্যাস্ত হয়নি।
১০. পুরা রমজান মাস রোজার নিয়ত না করলে।
১১. দাঁত হতে ছোলা পরিমান খাদ্য-দ্রব্য গিলে ফেললে।
১২. ইচ্ছাকৃত লোবান বা আগরবাতি জ্বালায়ে ধোয়া গ্রহন করলে।
১৩. মুখ ভর্তি বমি গিলে ফেললে ।
১৪. রাত্রি আছে মনে করে সোবহে সাদিকের পর পানাহার করলে।
নিয়ত সংক্রান্ত মাসালাহ
রমজানের নিয়ত সংক্রান্ত অনেক মাসালাহ প্রচলিত, রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ। আসুন হাদিসের কথাগুলো জেনে নিইঃ
১. রোযার নিয়ত করা ফরয। নিয়তের অর্থ অন্তরের সংকল্প। যেমন মনে মনে এভাবে বলবে-‘‘আমি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আগামীকাল রোযা রাখব’’। নিয়তের জন্য অন্তরের সংকল্পই যথেষ্ট, মুখে বলা জরুরি নয়। তবে মুখেও বলে নেওয়া ভালো।-বাদায়েউস সানায়ে ২/২২৫
২. আরবী নিয়ত জরুরি নয়, উত্তমও নয়। আরবী নিয়তে পৃথক কোনো সওয়াবও নেই। যারা আরবী জানে না তাদের জন্য বাংলাতেই নিয়ত করা উচিত। আর যারা আরবী জানে ও বুঝে, তারা আরবীতেও নিয়ত করতে পারবে।
৩. রোযার উদ্দেশ্যে সাহরী খেলে সেটিই রোযার নিয়তের জন্য যথেষ্ট।-আলমাবসূত ৩/৫৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৫
৪. রমযানের রোযার নিয়ত রাতে করাই উত্তম। তবে সূর্য ঢলার (মধ্যাহ্ন) আগে আগে নিয়ত করলেও রোযা হয়ে যাবে।-বাদায়েউস সানায়ে ২/২২৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৬
৫. পুরো রমানের জন্য একত্রে নিয়ত করা যথেষ্ট নয়; বরং প্রত্যেক রোযার জন্য প্রতিদিন পৃথক পৃথক নিয়ত করতে হবে। কারণ প্রতিটি রোযা ভিন্ন ভিন্ন ইবাদত। আর প্রতিটি আমলের জন্যই নিয়ত জরুরি। হাদীস শরীফে আছে, সকল আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল।-সহীহ বুখারী ১/২; মাবসূত, সারাখসী ৩/৬০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৫
৬. রাতে রোযার নিয়ত করার পরও সুবহে সাদিক পর্যন্ত খাওয়া দাওয়া ও স্ত্রী মিলন জায়েয। এতে নিয়তের কোনো ক্ষতি হবে না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে রমযানের রাতে স্বীয় স্ত্রীর সাথে প্রবৃত্ত হওয়া।-সূরা বাকারা (২) : ১৮৭
৭. নিয়তের সময় শুরু হয় পূর্বের দিনের সূর্যাস্তের পর থেকে। যেমন-মঙ্গল বারের রোযার নিয়তের সময় সোমবার দিবাগত রাত তথা সূর্যাস্তের পর থেকে আরম্ভ হয়। সুতরাং সোমবার সূর্যাস্তের আগে মঙ্গলবারের রোযার নিয়ত করা যথেষ্ট নয়। কেননা হাদীসে রাতে নিয়ত করার কথা বলা হয়েছে।-আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৪৩; ফাতাওয়া শামী ২/৩৭৭
৮. রোযার নিয়ত করার আগেই যদি কেউ অজ্ঞান অথবা পাগল হয়ে যায় এবং নিয়তের শেষ সময় (রোযার দিন সূর্য ঢলা পর্যন্ত) সুস্থ না হয় তাহলে তার অনাহারে থাকা রোযা হিসেবে ধর্তব্য হবে না। পরবর্তীতে এ রোযার কাযা করতে হবে।-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৬
রোযা মাকরূহের কারন
১. অনাবশ্যক কোনো জিনিস চিবানো বা চাখা।
২. কোনো দ্রব্য মুখে দিয়ে রাখা।
৩. গড়গড় করা বা নাকের ভেতর পানি টেনে নেয়া কিন্তু পানি যদি নাক দিয়ে গলায় পৌঁছে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে।
৪. ইচ্ছাকৃত মুখে থুথু জমা করে গলাধঃকরণ করা।
৫. গীবত, গালা-গালি ও ঝগড়া-ফাসাদ করা।কেউ গায়ে পড়ে ঝগড়া-ফাসাদ করতে এলে বলবে, আমি রোজাদার তোমাকে প্রত্যুত্থর দিতে অক্ষম ।
৬. সারা দিন নাপাক অবস্থায় থাকা। এটি অত্যন্ত গুনাহের কাজ ।।
৭. অস্থিরতা ও কাতরতা প্রকাশ করা ।
৮. কয়লা চিবিয়ে অথবা পাউডার, পেস্ট ও মাজন ইত্যাদি দ্বারা দাঁত পরিষ্কার করা ।
ইফতারের ফযীলত
সারাদিন রোযা রাখার পরে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা অনেক ছাওয়াবের বিষয়। ইফতার দ্বারা যেভাবে সমস্ত দিবসের ক্ষুধা-তৃষ্ণা দূরীভূত হয়ে যায়। তদ্রুপ অসংখ্য ছাওয়াবও লাভ হয়। হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছেঃ
বাংলা উচ্চারনঃ মান্‌ আফ্‌তারা ছোয়া-ইমান্‌ কা-না মাগ্‌ফিরাতাল লিয্‌যুনুবি ওয়া ইত্বকাম্‌ মিনান্না-রি বিরহ্‌মাতি মিনাল্লা-হি।
অর্থঃ "কোন ব্যক্তি যদি রমযানে কোন রোযাদার ব্যক্তিকে ইফতার করায়, তবে তার সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যায়। আর সে ব্যক্তি জাহান্নামের আগুন হতে আল্লাহর রহমতে নাজাত পাবে।"
আর অন্য এক হাদীসে বর্নিত আছে, রমযান মাসে কোন ব্যক্তি যদি কোন রোযাদারকে খেজুর কিংবা মিষ্টি, শরবত অথবা অল্প পরিমান দুধ দ্বারাও ইফতারী করায়, তবে তার জন্য রমযান মাসের প্রথম অংশে আল্লাহর রহমত ও করূণা, দ্বিতীয় অংশে ক্ষমা এবং তৃতীয় অংশে জাহান্নামের আজাব হতে নাজাতের সুসংবাদ রয়েছে।
, রোযার ফযীলত
সিয়াম পালনের ফযিলত অগণিত। সিয়াম পালনকারীকে আল্লাহ নিজে যথার্থ পুরস্কার দেবেন। সিয়াম পালনকারীকে যেসব পুরস্কার ও প্রতিদান আল্লাহতায়ালা দেবেন তার কিছু অংশ এখানে উল্লেখ করা হলো :
১. আল্লাহ স্বয়ং নিজে সিয়ামের প্রতিদান দেবেন। হাদীসে কুদসীতে আছে, আল্লাহতায়ালা বলেন, "মানুষের প্রতিটি ভাল কাজ নিজের জন্য হয়ে থাকে, কিন্তু সিয়াম শুধুমাত্র আমার জন্য, অতএব আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।" বুখারী)
২. সিয়াম অতি উত্তম নেক আমল। আবু হুরাইরাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম'র একটি হাদীসে তিনি বলেছিলেন, ‘‘হে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমাকে একটি অতি উত্তম নেক আমলের নির্দেশ দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি সিয়াম পালন কর। কেননা, এর সমমর্যাদা সম্পন্ন কোন আমল নেই।’’ (নাসাঈ)
অন্যান্য ইবাদত মানুষ দেখতে পায়। কিন্তু সিয়ামের মধ্যে তা নেই। লোক দেখানোর কোন আলামত সিয়াম পালনে থাকে না। শুধুই আল্লাহকে খুশী করার জন্য তা করা হয়। তাই এ ইবাদতের মধ্যে রয়েছে বিশুদ্ধ ইখলাস। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘‘সিয়াম পালনকারী শুধুমাত্র আমাকে খুশী করার জন্যই পানাহার ও যৌন উপভোগ পরিহার করে।’’
৩. জান্নাত লাভ সহজ হয়ে যাবে। সহীহ ইবনু হিববান কিতাবে আছে আবু উমামা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন, আবু উমামা রাদিআল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি আমল বলে দিন যার কারণে আমি জান্নাতে যেতে পারি। তিনি বললেন, তুমি সিয়াম পালন কর। কেননা এর সমমর্যাদাসম্পন্ন কোন ইবাদাত নেই। (নাসাঈ)
৪. সিয়াম পালনকারীকে বিনা হিসেবে প্রতিদান দেয়া হয়। অন্যান্য ইবাদতের প্রতিদান আল্লাহতায়ালা তার দয়ার বদৌলতে ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন। কিন্তু সিয়ামের প্রতিদান ও তার সাওয়াব এর চেয়েও বেহিসেবী সংখ্যা দিয়ে গুণ দিয়ে বাড়িয়ে দেয়া হবে। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ বলেন, ‘‘মানব সন্তানের প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান দশ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়ে থাকে। আল্লাহতায়ালা বলেন, কিন্তু সিয়ামের বিষয়টি ভিন্ন। কেননা সিয়াম শুধুমাত্র আমার জন্য, আমিই এর প্রতিদান দেব।’’ (মুসলিম)
৫. জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সিয়াম ঢাল স্বরূপ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘সিয়াম ঢাল স্বরূপ। এ দ্বারা বান্দা তার নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করতে পার।’’ (আহমাদ)
৬. জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য সিয়াম একটি মজবুত দুর্গ। হাদীসে আছে, ‘‘সিয়াম ঢালস্বরূপ এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচার এক মজবুত দুর্গ।’’
৭. ইফতারের সময় বহু লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। হাদীসে আছে, ইফতারের মুহূর্তে আল্লাহ রাববুল ‘আলামীন বহু লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। মুক্তির এ প্রক্রিয়াটি রমযানের প্রতি রাতেই চলতে থাকে। (আহমাদ)
৮. সিয়াম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশ্কের চেয়েও উত্তম (সুগন্ধিতে পরিণত হয়)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার হাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম'র জীবন সে সত্তার শপথ করে বলছি, সিয়াম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহতায়ালার কাছে মিশকের ঘ্রাণের চেয়েও প্রিয় হয়ে যায়। (বুখারী ও মুসলিম)
৯. সিয়াম পালনকারীর জন্য রয়েছে দু'টি বিশেষ আনন্দ মুহূর্ত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সিয়াম পালনকারীর জন্য দু'টো বিশেষ আনন্দ মুহূর্ত রয়েছে : একটি হল ইফতারের সময়, আর দ্বিতীয়টি হলো তার রবের সাথে সাক্ষাতের সময়। (বুখারী ও মুসলিম)
১০. সিয়াম কিয়ামাতের দিন সুপারিশ করবে। হাদীসে আছে, সিয়াম ও কুরআন কেয়ামতের দিন মানুষের জন্য এভাবে সুপারিশ করবে যে, সিয়াম বলবে হে আমার রব, আমি দিনের বেলায় তাকে (এ সিয়াম পালনকারীকে) পানাহার ও যৌনতা থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল কর। অনুরূপভাবে কুরআন বলবে, হে আমার রব, আমাকে অধ্যয়নরত থাকায় রাতের ঘুম থেকে আমি তাকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল কর। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অতঃপর উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে। (আহমাদ)
১১. সিয়াম হল গুনাহের কাফফারা। আল্লাহতায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই নেক আমল পাপরাশি দূর করে দেয়। (সূরা হুদ : ১১৪) । নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পরিবার পরিজন, ধন-সম্পদ ও প্রতিবেশীদের নিয়ে জীবন চলার পথে যেসব গোনাহ মানুষের হয়ে যায় সালাত, সিয়াম ও দান খয়রাত সেসব গোনাহ মুছে ফেলে দেয়। (বুখারী ও মুসলিম)
১২. সিয়াম পালনকারীর এক রমযান থেকে পরবর্তী রমযানের মধ্যবর্তী সময়ে হয়ে যাওয়া ছগীরা গোনাহগুলোকে মাফ করে দেয়া হয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, "তোমরা যদি নিষিদ্ধ কবীরা গোনাহ থেকে বিরত থাক তাহলে তোমাদের ছগীরা গোনাহগুলোকে মুছে দেব এবং (জান্নাতে) তোমাদেরকে সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করাব।" (সূরা নিসা : ৩১)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এর মধ্যবর্তী সময় ও এক জুমা থেকে অপর জুমা এবং এক রমযান থেকে অপর রমযান পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে হয়ে যাওয়া ছগীরা গোনাহগুলোকে (উল্লেখিত ইবাদতের) কাফ্ফারাস্বরূপ মুছে দেয়া হয় সে যদি কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে। (মুসলিম)
১৩. সিয়াম পালনকারীর পূর্বেকার গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াব হাসিলের আশায় রমযানে সিয়াম পালন করবে, তার অতীতের সব গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (বুখারী ও মুসলিম)
১৪. সিয়াম যৌন প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে রাখে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যে যে সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে। কেননা বিবাহ দৃষ্টি ও লজ্জাস্থানের হেফাযতকারী। আর যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ্য রাখে না সে যেন সিয়াম পালন করে। কারণ এটা তার জন্য নিবৃতকারী। (অর্থাৎ সিয়াম পালন যৌন প্রবৃত্তি নিবৃত করে রাখে) (বুখারী ও মুসলিম)
১৫. সিয়াম পালনকারীরা রাইয়ান নামক মহিমান্বিত এক দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে। যার নাম রাইয়্যান। কেয়ামতের দিন শুধু সিয়াম পালনকারীরা ঐ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া অন্য কেউ সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।(বুখারী ও মুসলিম)
তাই আসুন, আমরা রোজা পালনের মাধ্যমে আমাদের গুনাহসমুহ মুছে ফেলি এবং মহান আল্লাহতালার সন্তুস্টি অর্জন করি।
তারাবীহ নামাজ
তারাবীহ-র ফজিলত
রাসূল (সাঃ) বলেন, "(হে আমার উম্মতগন), তোমরা জেনে রেখ আল্লাহ তোমাদের উপর রমজানের রোজা ফরজ করেছেন এবং উহার রাত্রে তারাবীহের নামাজ সুন্নাত করেছেন। অতএব, যে ব্যক্তি খালেস নিয়তে ঈমানের সাথে কেবল সোয়াবের আশায় এ মাসে দিনের বেলায় রীতিমত রোজা রাখবে এবং রাত্রিতে রীতিমত তারাবীহের নামাজ পড়বে তার বিগত সব সগীরা গুনাহ মিটিয়ে দেয়া হবে।"
অতএব, এ পবিত্র মাসে অধিক নেকী সঞ্চয় করে লওয়া উচিৎ। এ মাসের একটি ফরজ অন্য মাসের ৭০টি ফরজের সমান নেকী পাওয়া যায়।
তারাবীহ নামাজের সময়
রমজান মাসের প্রথম তারিখের চাঁদ দেখা হইতে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার পূর্ব রাত্রি পর্যন্ত প্রতিদিন এশার নামাজের পরে বিতর নামাজের পূর্বে দুই রাকআত করে মোট বিশ রাকাত নামাজ আদায় করতে হয়। তারাবীহর নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা।
তারাবীহ নামাজের জামায়াত
রাসুল (সাঃ) রমজানে তিন রাত ২৩, ২৫ এবং ২৭ শে রাত তারাবীহ নামাজ জামায়াতে পড়িয়েছিলেন। তারপর তিনি যখন সাহাবীদের মধ্যে বিরাট উৎসাহ উদ্দীপনা ও অনুরাগ দেখলেন তখন মসজিদে এলেন না। সাহাবাগন তখন তাঁ দরজায় আওয়াজ দিতে লাগলেন। তখন নবীজি বললেন, আল্লাহ তোমাদের উৎসাহ উদ্দীপনায় আরও বরকত দিন । আমি এ আশংকায় মসজিদে যাইনি যে, এ নামাজ তোমাদের উপর ফরজ হয়ে না যায় এবং সর্বদা তোমরা তা পালন করতে না পার। কারণ, নফল নামাজ ঘরে পড়াতে বেশী সওয়াব ও বরকতের জারণ হয় (বুখারী)।
এ হাদিস থেকে প্রমানিত হয় যে, রাসূল (সাঃ) ৩ রাত জামায়াতের পরে দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রাঃ) রীতিমত জামায়াত কায়েম করেন এবং সাহাবায়ে কিরাম তা মেনে নেন। পরবর্তীকালে কোন খলিফাই এ সুন্নতের বিরোধিতা করেননি। এ জন্য আলেম সমাজ এ নামাজকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ কিফায়া বলেছেন।
তারাবীহ নামাজের নিয়ত
আরবীতে উচ্চারণঃ নাওয়াইতুয়্যান উছাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা রাকাতাই ছালাতিত তারাবীহ, ইক্তুদাইতু বিহাযাল ইমাম(** ইক্তুদাইতু বিহাযাল ইমাম -- এই অংশটুকু শুধুমাত্র জামায়াতের সাথে নামাজ পড়ার সময় পড়বেন, নিজে ঘরে পড়লে এটা বাদ দিয়ে পড়বেন।) সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তায়ালা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা'বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।
বাংলায় নিয়াতঃ কিবলামুখী হয়ে দু'রাকায়াত তারাবীর নামাজ এই ইমামের পিছনে আদায় করছি "আল্লাহু আকবার"।
চার রাকাআতের পরের দোয়া
আরবীতে উচ্চারণঃ সুবহানাযিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা যিল ইজ্জাতি, ওয়াল আজমাতে, ওয়াল হায়বাতি,ওয়াল কুদরাতি, ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়া জাবারুত। সুবহানাল মালিকিল হায়্যিল্লাযী লা ইয়ানামু ওয়ালা ইয়ামুতু আবাদান আবাদা, সুববুহুন ক্কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালা-ইকাতি ওয়ার রূহ ।
বাংলায় নিয়াতঃ পবিত্রতে ঘোষণা করছি তাঁর, যিনি ইহজগত, ফেরেশতা জগতের প্রভু সেই আল্লাহর মহিমা বর্ণনা করছি যিনি মহিমাময় বিরাট, ভীতিপূর্ণ, শক্তিময়, গৌরবময় এবং বভত্তর। আমি সে প্রতিপালকের গুনগান করছি, যিনি চিরঞ্জীব, যিনি কখনও নিদ্রা যান না এবং যাঁর কখনও মৃত্যু ঘটে না। পুতঃপবিত্র তিনি। তিনি আমাদের পালনকর্তা, ফেরেশতাকুল এবং আত্মাসমূহের পালনকর্তা। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, আমরা আপনার কাছে বেহেশত চাচ্ছি এবং দোযখ থেকে মুক্তি চাচ্ছি ।
তারাবীহ-র মোনাজাত
আরবীতে উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্না নাসয়ালুকাল জান্নাতা ওয়া নাউযুবিকা মিনান্নারি ইয়া খালিকাল জান্নাতি ওয়ান্নারি, বিরাহমাতিকা ইয়া আজিজু, ইয়া গাফফারু, ইয়া কারিমু, ইয়া সাত্তারু, ইয়া রাহিমু, ইয়া জাব্বারু, ইয়া খালীকু, ইয়া বার। আল্লাহুম্মা আযিরনা মিনান্নারি, ইয়া মুজিরু, ইয়া মুজিরু, ইয়া মুজিরু, বিরাহমাতিকা ইয়া আর হামার রাহিমীন ।
বাংলায় নিয়াতঃ হে আল্লাহ, আপনারই সমীপে জান্নাত প্রার্থনা করছি এবং আপনারই কাছে জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাচ্ছি। হে জান্নাত এবং জাহান্নামের সৃষ্টিকর্তা ! আপনি নিজ কৃপায়, হে প্রাক্রমশালী, হে ক্ষমাশীল, হে মহান, হে দোষ গোপনকারী, হে দয়ালু, হে সৃষ্টিকর্তা পুন্যময়, হে আশ্রয় দাতা, হে আশ্রয় দাতা, হে আশ্রয় দাতা, নিজ কৃপায় হে আল্লাহ ! পরম দয়ালু করুণাময়, আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচান।
,***********************************************
৩০ রোযার দোয়া
১ম রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! আমার আজকের রোজাকে প্রকৃত রোজাদারদের রোজা হিসেবে গ্রহণ কর। আমার নামাজকে কবুল কর প্রকৃত নামাজীদের নামাজ হিসেবে। আমাকে জাগিয়ে তোলো গাফিলতির ঘুম থেকে। হে জগত সমূহের প্রতিপালক! এদিনে আমার সব গুনাহ মাফ করে দাও। ক্ষমা করে দাও আমার যাবতীয় অপরাধ। হে অপরাধীদের অপরাধ ক্ষমাকারী।
২য় রোযার দোয়া
হে আল্লাহ! তোমার রহমতের উসিলায় আজ আমাকে তোমার সন্তুষ্টির কাছাকাছি নিয়ে যাও। দূরে সরিয়ে দাও তোমার ক্রোধ আর গজব থেকে । আমাকে তৌফিক দাও তোমার পবিত্র কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করার । হে দয়াবানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়াময়।
৩য় রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! আজকের দিনে আমাকে সচেতনতা ও বিচক্ষণতা দান কর। আমাকে দূরে রাখ অজ্ঞতা , নির্বুদ্ধিতা ও ভ্রান্ত কাজ-কর্ম থেকে। এ দিনে যত ধরণের কল্যাণ দান করবে তার প্রত্যেকটি থেকে তোমার দয়ার উসিলায় আমাকে উপকৃত কর। হে দানশীলদের মধ্যে সর্বোত্তম দানশীল।
৪ র্থ রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! এ দিনে আমাকে তোমার নির্দেশ পালনের শক্তি দাও। তোমার জিকিরের মাধুর্য আমাকে আস্বাদন করাও। তোমার অপার করুণার মাধ্যমে আমাকে তোমার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জন্য প্রস্তুত কর । হে দৃষ্টিমানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দৃষ্টিমান। আমাকে এ দিনে তোমারই আশ্রয় ও হেফাজতে রক্ষা কর।
৫ম রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! এই দিনে আমাকে ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের অন্তর্ভূক্ত কর। আমাকে শামিল কর তোমার সৎ ও অনুগত বান্দাদের কাতারে । হে আল্লাহ ! মেহেরবানী করে আমাকে তোমার নৈকট্যলাভকারী বন্ধু হিসেবে গ্রহণ কর। হে দয়াবানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়াবান ।
৬ ষষ্ঠ রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! তোমার নির্দেশ অমান্য করার কারণে এ দিনে আমায় লাঞ্চিত ও অপদস্থ করোনা । তোমার ক্রোধের চাবুক দিয়ে আমাকে শাস্তি দিওনা । সৃষ্টির প্রতি তোমার অসীম অনুগ্রহ আর নিয়ামতের শপথ করে বলছি তোমার ক্রোধ সৃষ্টিকারী কাজ থেকে আমাকে দূরে রাখো । হে আবেদনকারীদের আবেদন কবুলের চূড়ান্ত উৎস ।
৭ম রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! এ দিনে আমাকে রোজা পালন ও নামাজ কায়েমে সাহায্য কর । আমাকে অন্যায় কাজ ও সব গুনাহ থেকে রক্ষা করো । তোমার তৌফিক ও শক্তিতে সবসময় আমাকে তোমার স্মরণে থাকার সুযোগ দাও । হে পথ হারাদের পথ প্রদর্শনকারী ।
৮ম রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! তোমার উদারতার উসিলায় এ দিনে আমাকে এতিমদের প্রতি দয়া করার, ক্ষুধার্তদের খাদ্য দান করার, শান্তি প্রতিষ্ঠা করার ও সৎ ব্যক্তিদের সাহায্য লাভ করার তৌফিক দাও । হে আকাঙ্খাকারীদের আশ্রয়স্থল ।
৯ম রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! এদিনে আমাকে তোমার রহমতের অধিকারী কর । আমাকে পরিচালিত কর তোমার উজ্জ্বল প্রমাণের দিকে । হে আগ্রহীদের লক্ষ্যস্থল । তোমার ভালোবাসা ও মহব্বতের উসিলায় আমাকে তোমার পূর্ণাঙ্গ সন্তুষ্টির দিকে নিয়ে যাও ।
১০ তম রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! তোমার প্রতি যারা ভরসা করেছে আমাকে সেই ভরসাকারীদের অন্তর্ভূক্ত কর । তোমার অনুগ্রহের মাধ্যমে আমাকে শামিল করো সফলকামদের মধ্যে এবং আমাকে তোমার নৈকট্যলাভকারী বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত করে নাও । হে অনুসন্ধানকারীদের শেষ গন্তব্য ।
১১ তম রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! এ দিনে সৎ কাজকে আমার কাছে প্রিয় করে দাও আর অন্যায় ও নাফরমানীকে অপছন্দনীয় কর । তোমার অনুগ্রহের উসিলায় আমার জন্য তোমার ক্রোধ ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি হারাম করে দাও । হে আবেদনকারীদের আবেদন শ্রবণকারী ।
১২ তম রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! এদিনে আমাকে আত্মিক পবিত্রতার অলঙ্কারে ভূষিত কর । অল্পে তুষ্টি ও পরিতৃপ্তির পোশাকে আবৃত্ত কর । ন্যায় ও ইনসাফে আমাকে সুসজ্জিত কর । তোমার পবিত্রতার উসিলায় আমাকে ভীতিকর সবকিছু থেকে নিরাপদে রাখ । হে খোদা ভীরুদের রক্ষাকারী ।
১৩ তম রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! এদিনে আমাকে কলুষতা ও অপবিত্রতা থেকে পবিত্র কর । যা কিছু তকদীর অনুযায়ী হয় তা মেনে চলার ধৈর্য আমাকে দান কর । তোমার বিশেষ অনুগ্রহে আমাকে তাকওয়া অর্জন এবং সৎ কর্মশীলদের সাহচর্যে থাকার তৌফিক দাও । হে অসহায়দের আশ্রয়দাতা ।
১৪ তম রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! এদিনে আমাকে আমার ভ্রান্তির জন্যে জিজ্ঞাসাবাদ করো না । আমার দোষ-ত্রুটিকে হিসেবের মধ্যে ধরো না ।তোমার মর্যাদার উসিলায় আমাকে বিপদ-আপদ ও দুর্যোগের লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত করো না । হে মুসলমানদের মর্যাদা দানকারী।
১৫ তম রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! এদিনে আমাকে তোমার বিনয়ী বান্দাদের মতো আনুগত্য করার তৌফিক দাও । তোমার আশ্রয় ও হেফাজতের উসিলায় আমার অন্তরকে প্রশস্ত করে খোদাভীরু ও বিনয়ী বান্দাদের অন্তরে পরিণত কর । হে খোদাভীরু মুত্তাকীদের আশ্রয়দাতা ।
১৬ তম রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! এ দিনে আমাকে তোমার সৎবান্দাদের সাহচর্য লাভের তৌফিক দাও। আমাকে মন্দ লোকদের সাথে বন্ধুত্ব থেকে দূরে সরিয়ে রাখো। তোমার খোদায়ীত্বের শপথ করে বলছি, আমাকে তোমার রহমতের বেহেশতে স্থান দাও। হে জগতসমূহের প্রতিপালক।
১৭ তম রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! এ দিনে আমাকে সৎকাজের দিকে পরিচালিত কর। হে মহান সত্ত্বা যার কাছে প্রয়োজনের কথা বলার ও ব্যাখ্যা দেয়ার দরকার হয় না । আমার সব প্রয়োজন ও আশা-আকাঙ্খা পূরণ করে দাও। হে তাবত দুনিয়ার রহস্যজ্ঞানী ! হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এবং তাঁর পবিত্র বংশধরদের ওপর রহমত বষর্ণ কর।
১৮ তম রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! এ দিনে আমাকে সেহরীর বরকতের উসিলায় সচেতন ও জাগ্রত করে তোল। সেহরীর নূরের ঔজ্জ্বল্যে আমার অন্তরকে আলোকিত করে দাও। তোমার নূরের উসিলায় আমার প্রত্যেক অঙ্গ প্রত্যঙ্গে তোমার নূরের প্রভাব বিকশিত কর। হে সাধকদের অন্তর আলোকিতকারী !
১৯ তম রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! আমাকে এ মাসের বরকতের অধিকারী কর। এর কল্যাণ অজর্নের পথ আমার জন্য সহজ করে দাও। এ মাসের কল্যাণ লাভ থেকে আমাকে বঞ্চিত করো না। হে স্পষ্ট সত্যের দিকে পথো নির্দেশকারী।
২০ তম রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! এ দিনে আমার জন্যে বেহেশতের দরজাগুলো খুলে দাও এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দাও। আমাকে কোরআন তেলাওয়াতের তৌফিক দান কর। হে ঈমানদারদের অন্তরে প্রশান্তি দানকারী।
২১ তম রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! এ দিনে আমাকে তোমার সন্তুষ্টির দিকে পরিচালিত কর। শয়তানদের আমার উপর আধিপত্য বিস্তার করতে দিওনা। জান্নাতকে আমার গন্তব্যে পরিণত কর। হে প্রার্থনাকারীদের অভাব মোচনকারী ।
২২ তম রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! আজ তোমার করুণা ও রহমতের দরজা আমার সামনে খুলে দাও এবং বরকত নাজিল কর । আমাকে তোমার সন্তুষ্টি অর্জনের তৌফিক দাও। তোমার বেহেশতের বাগানের মাঝে আমাকে স্থান করে দাও। হে অসহায়দের দোয়া কবুলকারী।
২৩ তম রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! আমার সকল গুনাহ ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে দাও। আমাকে সব দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র কর। তাকওয়া ও খোদাভীতির মাধ্যমে আমার অন্তরকে সকল পরিক্ষায় উত্তীর্ণ কর। হে অপরাধীদের ভুল-ত্রুটি মার্জনাকারী।
২৪ তম রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! আজ তোমার কাছে ঐসব আবেদন করছি যার মধ্যে তোমার সন্তুষ্টি রয়েছে। যা কিছু তোমার কাছে অপছন্দনীয় তা থেকে তোমার আশ্রয় চাই। তোমারই আনুগত্য করার এবং তোমার নাফরমানী থেকে বিরত থাকার তৌফিক দাও। হে প্রার্থীদের প্রতি দানশীল।
২৫ তম রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! এ দিনে আমাকে তোমার বন্ধুদের বন্ধু এবং তোমার শত্রুদের শত্রু করে দাও। তোমার আখেরী নবীর সুন্নত ও পথ অনুযায়ী চলার তৌফিক আমাকে দান কর। হে নবীদের অন্তরের পবিত্রতা রক্ষাকারী।
২৬ তম রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! এ দিনে আমার প্রচেষ্টাকে গ্রহণ করে নাও। আমার সব গুনাহ মাফ করে দাও। আমার সব আমল কাজ কবুল করো এবং সব দোষ-ত্রু টি ঢেকে রাখ। হে সর্বশ্রেষ্ঠ শ্রোতা।
২৭ তম রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! আজকের দিনে আমাকে শবেকদরের ফজিলত দান কর। আমার কাজ কর্মকে কঠিন থেকে সহজের দিকে নিয়ে যাও। আমার অক্ষমতা কবুল কর এবং ক্ষমা করে দাও আমার সব অপরাধ। হে যোগ্য বান্দাদের প্রতি মেহেরবান।
২৮ তম রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! এ দিনে আমাকে নফল এবাদতের পর্যাপ্ত সুযোগ দাও। ধর্মীয় শিক্ষার মর্যাদায় আমাকে ভূষিত কর। তোমার নৈকট্য লাভের পথকে আমার জন্যে সহজ করে দাও। হে পবিত্র সত্ত্বা ! যাকে, অনুরোধকারীদের কোন আবেদন নিবেদন , ন্যায়বিচার থেকে টলাতে পারে না।
২৯ তম রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! আজ আমাকে তোমার রহমত দিয়ে ঢেকে দাও। গুনাহ থেকে মুক্তিসহ আমাকে সাফল্য দান কর। আমার অন্তরকে মুক্ত কর অভিযোগ ও সন্দেহের কালিমা থেকে । হে ঈমানদার বান্দাদের প্রতি দয়াবান।
৩০ তম রোযার দোয়া
হে আল্লাহ ! তুমি ও তোমার রাসুল ঠিক যেমনিভাবে খুশি হবে তেমনি করে আমার রোজাকে পুরস্কৃত কর এবং কবুল করে নাও। আমাদের নেতা হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ও তার পবিত্র বংশধরদের উসিলায় আমার সব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আমলকে মূল এবাদতের সাথে যোগ করে শক্তিশালী কর। আর সব প্রশংসা ও স্তুতি জগতসমূহের প্রতিপালক একমাত্র আল্লাহর।
.
ফযিলতের দোয়াসমূহ
রহমতের ১০ দিনে পঠিত দোয়া
রমজানের ১ম ১০ দিন রহমত নাজিল হয়।
দোয়াঃ “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ”
এই ১০ দিন প্রতিদিন (১০০০) বার এই দু’আ পড়িতে হয়।
মাগফিরাতের ১০ দিনে পঠিত দোয়া
রমজানের ২য় ১০ দিন মাগফিরাত নাজিল হয়।
দোয়াঃ “আস্তাগফিরুল্লাহ্ রব্বিমিন্ কুল্লি জাম্বিউ ওয়াতুবু ইলাইহি লা হাওলা ওয়া-লা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল্ আলিয়্যিল্ আযিম্।
এই দোয়া (১০০০) বার প্রতিদিন পড়িতে হয়।
নাজাআতের ১০ দিনে পঠিত দোয়া
রমজানের ৩য় ১০ দিন দোজখের আগুন হইতে নাজাত চাওয়া।
দোয়াঃ “আল্ল-হুমা ইন্নি নাস্ আলুকাল্ জান্নাতাল্ ফির্ দৌস”
(১০০০) বার প্রতিদিন পড়িতে হইবে
শেষ তিন দিনে পঠিত দোয়া
“আল্ল-হু আকবার, আল্ল-হু আকবার,আল্ল-হু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্ল-হু আকবার, আল্ল-হু আকবার ওয়া লিল্লাহি হিল হামদ্” -১১ বার করিয়া প্রতিদিন পড়িতে হইবে
“লা হাওলা ওয়া-লা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল্ আলিয়্যিল্ আযিম্”। ইহা প্রতিদিন ১০০ বার করিয়া পড়িলে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়।
শবে ক্বদরের দোয়া ও ফযীলত
হাদীসে বর্নিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি চার রাকায়াত নামায ক্বদরের রাতে আদায় করবে এবং উক্ত নামাযের প্রতি রাকায়াতে সূরা ফাতিহার পরে ২১ বার সূরা ইখলাস পাঠ করবে, আল্লাহ তা'লা তাকে সদ্য ভূমিষ্ট শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ করে দেবেন। এবং বেহেশতের মধ্যে এক সহস্র মনোমুগ্ধকর মহল তৈরী করে দেবেন।
আর এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন যে ব্যক্তি ক্বদরের রাতে চার রাকায়াত নামায আদায় করবে এবং তার প্রতি রাকায়াতে সূরা ফাতিহার পরে সূরা ক্বদর ও সূরা ইখলাছ তিনবার করে পাঠ করবে, নামায শেষে সিজদায় গিয়ে নিন্মের দোয়াটি কিছু সময় পাঠ করে আল্লাহর দরবারে যাহাই প্রার্থনা করবে তিনি তাই কবূল করবেন এবং তার প্রতি অসংখ্য রহমত বর্ষন করবেন।
দোয়াটি হলোঃ --- বাংলায় উচ্চারনঃ সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লা-হু ওয়াল্লা-হু আকবার।
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমযান মাসের ২৭ তারিখের রজনীকে জীবিত রাখবে, অর্থাৎ সমস্ত রজণি জেগে ইবাদত করে কাটিয়ে দিবে তার আমলনামায় আল্লাহ তালা সাতাশ হাজার বছরের ইবাদতের তুল্য ছওয়াব প্রদান করবেন এবং বেহেশতের মধ্যে অসংখ্য মনোরম বালাখানা নির্মান করবেন যার সংখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউই অবগত নন।
ক্বদরের রাতে নামাজ আদায়ের নিয়ম হলো, এশার নামাযের পরে তারাবীহ নামায আদায় করতঃ বিতের নামায বাদ রেখে দু দু রাকায়াতের নিয়তে যত বেশি সম্ভব নামায আদায় করবে। সেহরীর পূর্বে বিতের নামায আদায় করে সেহরী খেয়ে কিছু সময় তসবীহ তাহলীল ও যিকির করবে। তৎপর ফজরের নামাজ আদায় করবে। এই রাতে প্রতি রাকায়াত অন্তর নিন্মের দোয়াটি ১০০ বার পাঠ করবেঃ
বাংলা উচ্চারনঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন তুহিব্বুল আফ্‌ওয়া ফা'ফু আন্নী।
অন্য এক হাদীসে আছে, ক্বদরের রজনীতে প্রতি চার রাকায়াত নামযের পরে নিন্মের দোয়াটিও একশত বার পাঠ করলে অসংখ্য ছওয়াব লাভ হবে।
বাংলা উচ্চারনঃ আল্লাহুম্মা আনতা আফুয়্যুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা'ফূ আন্নী ইয়া- গাফূরু ইয়া গাফূরু।
এছাড়া সারা রাত বেশী বেশী পরিমান নফল ইবাদত করুন তাতেও অসংখ্য ছওয়াব লাভ হবে। আল্লাহ আমাদের সকল কে এই রাতের ফযীলত পাওয়ার তৌফিক দান করুন, আমীন।।
** রমজানের খাদ্যাভাস
বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় রমজান মাসে খাদ্যাভ্যাস জনিত কারণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। সারাদিন রোযা রাখার পর ইফতারিতে অতিরিক্ত ক্যালরি ও তৈল-মসলাযুক্ত খাবারের ফলে এ সমস্যা হয়ে থাকে। তাই এসময় খাবার গ্রহণের দিক থেকে কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। সারাদিন রোযা পালনের ফলে সারাদিনের খাবার একবারে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভালো নয়। অন্যান্য সময় প্রতি বেলায় যতটুকু খাবার খাওয়া হতো রোযার সময়ও তা মেনে চলতে হবে। একজন লোকের সারাদিনে যতটুকু ক্যালরি প্রয়োজন হয় ইফতারিতেই তার সম্পূর্ণটা পূরণ হয় যায়। কেননা ইফতারিতে যেসকল খাবার খাওয়া হয় তার সবগুলোই ক্যালরিবহুল। যেমন –
২৫ গ্রাম ছোলা ভাজা ৯২ ক্যালরি
পেঁয়াজু দুটি ১০০ ক্যালরি
এক কাপ হালিম ২০০ ক্যালরি
১০০ গ্রামের একটি কাবাব ১৭০ ক্যালরি
জিলাপি একটি বড় ২০৩ ক্যালরি
এক গ্লাস শরবত ৮০-১০০ ক্যালরি
এক কাপ মুড়ি ৬০ ক্যালোরি
দুটি খেজুর ১৪৪ ক্যালরি
উপরোক্ত তথ্য অনুযায়ী শুধুমাত্র ইফতারিতেই ১১০০ থেকে ১২০০ ক্যালরি আমরা গ্রহণ করি। এত ক্যালরি বহুল খাবার ওজন বাড়ানো ছাড়াও পেটের নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য ইফতারিতে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া উচিত। অনেকে ভাবেন ইফতারিতে বেশি করে খেয়ে সন্ধ্যা রাতে আর খাবেন না। এ ভাবনা ঠিক নয়। এতে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের হাইপোগ্রাইসেমিয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। আবার অনেকে ইফতারি খাওয়ার রাত ১ টা ২ টার দিকে খেয়ে শুয়ে পড়েন। সেহরির সময় হলে এক গ্লাস পানি খেয়ে শুয়ে পড়েন। ইসলামিক দৃষ্টিকোণ ও ডাক্তারী মত কোনোটাই এটিকে সমর্থন করে না। সুস্থ্য থাকতে হলে তিন বেলাই খেতে হবে।
রোযার দিনে পানিশূন্যতার সমস্যাটি বেশি দেখা দেয়। তাই ইফতারে পানির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের শরবত পান করলে সারাদিনের পানিশূন্যতার অভাব দূর হয়। সরবতের উপকরণগুলোর মধ্যে রয়েছে হলো কাগজি লেবু, বেল, ফলের রস, স্কোয়াশ, তেঁতুল, দই, চিঁড়া, ইসপগুল ইত্যাদি। ডাবের পানিও শরবত হিসেবে খাওয়া যায়। তোকমা ও ইসপগুলের শরবত বেশ ঠান্ডা। এগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য, অন্ত্র ও পাকস্থলীর প্রদাহ, পেটের গোলমাল ইত্যাদিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। বেলের শরবতও ভালো। এতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-সি রয়েছে প্রচুর। যেকোনো ফলের রস ভিটামিন ও খনিজ লবণের অভাব মেটাতে পারে।
ইফতারিতে ডালের তৈরি বিভিন্ন ধরনের খাবারের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়। যেমন – মটর, ছোলা, বেসন, ডালের বড়া,হালিম প্রভৃতি। এগুলো প্রচুর প্রোটিন, খাদ্যশক্তি ও শর্করা সমৃদ্ধ। ঠিক একই খাদ্যগুণ রয়েছে মাছ ও মাংসে। অনেকে মনে করেন সেহরিতে মাছ, মাংস না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়বে। এর ফলে অনেকেই প্রতিদিন সেহরিতে মাছ, মাংস খেয়ে থাকে। কিন্তু এ ধারণা ভুল। ইফতারিতেই আমরা প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান খেয়ে থাকি। তাই মাছ, মাংসের পাশাপাশি সবুজ-শাকসবজিও খাওয়া একান্ত জরুরি।
সর্বোপরি অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার কমিয়ে দিয়ে সহজপাচ্য ও জলীয় খাবার খেতে পারলে ভালো হয়। এ সময় অনেকের মধ্যে পানিশূন্যতা দেখা যায়। এ জন্য ইফতারিতে ভেজা চিঁড়া, দই, চিঁড়ার পোলাও, দুধ-সেমাই, পায়েস, নরম খিচুড়ি খেলে ভালো হয়। পাশে দুটি তালিকা দেওয়া হলো।
ক্যালরী ১৪০০ঃ
ইফতার:
ছোলা ভাজা আধা কাপ = ৮০ গ্রাম
পেঁয়াজু দুটি ছোট
বেগুনি একটি
মুড়ি এক কাপ
খেজুর দুটি
ফল যেকোনো একটি
শরবত এক গ্লাস
হালিম এক বাটি (সুপের)
আলুর চপ দুটি
সন্ধ্যা রাতে:
ভাত এক কাপ = ১২০ গ্রাম,
মাছ অথবা মাংস এক টুকরা = ৩০ গ্রাম,
সবজি ইচ্ছামতো
সেহরিতে:
ভাত দুই কাপ
মাছ অথবা মাংস এক টুকরা = ৩০ গ্রাম
ডাল এক কাপ
সবজি ইচ্ছেমতো
দুধ আধা কাপ
ক্যালোরি—2000 :
ইফতার:
ছোলা ভাজা ৩/৪ কাপ = ১২০ গ্রাম
পেঁয়াজু তিনটি ছোট
বেগুনি দুটি
মুড়ি দুই কাপ
খেজুর দুটি
শরবত এক গ্লাস
ফল যেকোনো একটি
হালিম দুই বাটি (সুপের)
আলুর চপ দুটি
সন্ধ্যা রাতে:
ভাত আড়াই কাপ = ৩০০ গ্রাম
মাছ অথবা মাংস দুই টুকরা = ৬০ গ্রাম
সবজি ইচ্ছেমতো
সেহরিতে:
ভাত তিন কাপ = ৩৬০ গ্রাম
মাছ অথবা মাংস দুই টুকরা = ৬০ গ্রাম
ডাল এক কাপ
সবজি ইচ্ছেমতো
দুধ এক কাপ
রোযা
রোযা

Price : *Happy Shopping
Order via whatsapp Order via Email

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Content copy is disabled! Default text copied.