দো‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কতিপয় দো‘আর নমুনা
দো‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য
এবং নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কতিপয়
দো‘আর নমুনা
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ﴿ ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺭَﺑُّﻜُﻢُ ﭐﺩۡﻋُﻮﻧِﻲٓ ﺃَﺳۡﺘَﺠِﺐۡ ﻟَﻜُﻢۡۚ
٦٠ ﴾ ( ﻏﺎﻓﺮ: ٦٠ )
“তোমাদের প্রতিপালক বলেন,
তোমরা আমাকে ডাক আমি তোমাদের
ডাকে সাড়া দেব।” (সূরা গাফের ৬০ আয়াত)
তিনি বলেন, ﴿ ﭐﺩۡﻋُﻮﺍْ ﺭَﺑَّﻜُﻢۡ ﺗَﻀَﺮُّﻋٗﺎ ﻭَﺧُﻔۡﻴَﺔًۚ ﺇِﻧَّﻪُۥ ﻟَﺎ ﻳُﺤِﺐُّ ﭐﻟۡﻤُﻌۡﺘَﺪِﻳﻦَ ٥٥
﴾ (ﺍﻻﻋﺮﺍﻑ: ٥٤ )
“তোমরা কাকুতি-মিনতি সহকারে ও
সংগোপনে তোমাদের প্রতিপালককে ডাক, নিশ্চয়
তিনি সীমালংঘন কারীদেরকে পছন্দ করেন না।”
(সূরা আ’রাফ ৫৫ অয়াত)
তিনি আরও বলেন, ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺳَﺄَﻟَﻚَ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ ﻋَﻨِّﻲ ﻓَﺈِﻧِّﻲ ﻗَﺮِﻳﺐٌۖ ﺃُﺟِﻴﺐُ ﺩَﻋۡﻮَﺓَ
ﭐﻟﺪَّﺍﻉِ ﺇِﺫَﺍ ﺩَﻋَﺎﻥِۖ ١٨٦ ﴾ ( ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ: ١٨٦ )
“আর আমার দাসগণ যখন আমার
সম্বন্ধে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন তুমি বল,
আমি তো কাছেই আছি। যখন কোন
প্রার্থনাকারী আমাকে ডাকে, আমি তার
ডাকে সাড়া দিই।” (সূরা বাক্বারাহ১৮৬ আয়াত)
তিনি অন্যত্র বলেছেন,
﴿ ﺃَﻣَّﻦ ﻳُﺠِﻴﺐُ ﭐﻟۡﻤُﻀۡﻄَﺮَّ ﺇِﺫَﺍ ﺩَﻋَﺎﻩُ ﻭَﻳَﻜۡﺸِﻒُ ﭐﻟﺴُّﻮٓﺀَ ﴾ [ﺍﻟﻨﻤﻞ : ٦٢]
“অথবা (উপাস্য) তিনি, যিনি আর্তের
আহবানে সাড়া দেন যখন
সে তাঁকে ডাকে এবং বিপদ-আপদ দূরীভূত করেন।”
(সূরা নামল ৬২ আয়াত)
1/1473 ﻭَﻋَﻦْ ﺍﻟﻨُّﻌْﻤَﺎﻥِ ﺑﻦِ ﺑَﺸِﻴﺮٍ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﻨﻬُﻤَﺎ، ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ، ﻗَﺎﻝَ: « ﺍﻟﺪُّﻋَﺎﺀُ ﻫُﻮَ ﺍﻟﻌِﺒَﺎﺩَﺓُ » . ﺭﻭﺍﻩ ﺃَﺑُﻮ ﺩﺍﻭﺩ ﻭﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ، ﻭﻗﺎﻝ: ﺣﺪﻳﺚ ﺣﺴﻦ ﺻﺤﻴﺢ
১/১৪৭৩। নু’মান ইবনে বাশীর রাদিয়াল্লাহু
আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “দো‘আই হল (মূল)
ইবাদত।” (আবূ দাউদ তিরমিযী হাসান সহীহ) [1]
2/1474 ﻭَﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨﻬَﺎ، ﻗَﺎﻟَﺖْ: ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﺴْﺘَﺤِﺐُّ ﺍﻟﺠَﻮَﺍﻣِﻊَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺪُّﻋَﺎﺀِ، ﻭَﻳَﺪَﻉُ ﻣَﺎ ﺳِﻮَﻯ ﺫَﻟِﻚَ . ﺭﻭﺍﻩ ﺃَﺑُﻮ ﺩﺍﻭﺩ ﺑﺈﺳﻨﺎﺩ ﺟﻴﺪٍ
২/১৪৭৪। আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)
হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অল্প
শব্দে বহুল অর্থবোধক দো‘আ পছন্দ করতেন
এবং তা ছাড়া অন্য দো‘আ পরিহার করতেন।’ (আবূ
দাউদ, উত্তম সানাদে) [2]
3/1475 ﻭَﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲٍ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗَﺎﻝَ: ﻛَﺎﻥَ ﺃَﻛﺜَﺮُ ﺩُﻋَﺎﺀِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ: « ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺁﺗِﻨَﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﺣَﺴَﻨَﺔً، ﻭَﻓِﻲ ﺍﻵﺧِﺮَﺓِ ﺣَﺴَﻨَﺔً، ﻭَﻗِﻨَﺎ ﻋَﺬَﺍﺏَ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ » ﻣﺘﻔﻖٌ ﻋَﻠَﻴْﻪِ .
ﺯﺍﺩ ﻣﺴﻠﻢ ﻓﻲ ﺭﻭﺍﻳﺘﻪِ ﻗَﺎﻝَ: ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺃَﻧَﺲٌ ﺇِﺫَﺍ ﺃَﺭَﺍﺩَ ﺃَﻥْ ﻳَﺪْﻋُﻮَ ﺑِﺪَﻋْﻮَﺓٍ ﺩَﻋَﺎ ﺑِﻬَﺎ، ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺃَﺭَﺍﺩَ
ﺃَﻥْ ﻳَﺪْﻋُﻮَ ﺑِﺪُﻋَﺎﺀٍ ﺩَﻋَﺎ ﺑِﻬَﺎ ﻓِﻴﻪِ.
৩/১৪৭৫। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,
তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধিকাংশ দো‘আ এই
হত, ‘আল্লাহুম্মা আ-তিনা ফিদ্দুন্য়্যা হাসানাহ,
অফিল আ-খিরাতে হাসানাহ,
অক্বিনা আযাবান্নার।’ অর্থাৎ হে আল্লাহ!
আমাদেরকে ইহকালে কল্যাণ দাও এবং পরকালেও
কল্যাণ দাও। আর জাহান্নামের আযাব
থেকে আমাদেরকে বাঁচাও। (বুখারী ও মুসলিম)[3]
মুসলিমের অন্য বর্ণনায় বর্ধিত আকারে আছে,
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন একটি দো‘আ করার
ইচ্ছা করতেন, তখন ঐ দো‘আ করতেন। আবার যখন
(বিভিন্ন) দো‘আ করার ইচ্ছা করতেন, তখন তার
মাঝেও ঐ দো‘আ করতেন।
4/1476 ﻭَﻋَﻦِ ﺍﺑﻦِ ﻣَﺴﻌُﻮﺩ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ: ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛَﺎﻥَ
ﻳَﻘُﻮﻝُ: «ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﺳْﺄَﻟُﻚَ ﺍﻟﻬُﺪَﻯ، ﻭَﺍﻟﺘُّﻘَﻰ، ﻭَﺍﻟﻌَﻔَﺎﻑَ، ﻭَﺍﻟﻐِﻨَﻰ » . ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ
৪/১৪৭৬। ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দো‘আ করতেন,
‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল
হুদা অত্তুক্বা অলআফা-ফা অলগিনা।’
অর্থাৎ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট
হেদায়েত, পরহেজগারি,
অশ্লীলতা হতে পবিত্রতা এবং সচ্ছলতা প্রার্থনা
করছি। (মুসলিম) [4]
5/1477 ﻭَﻋَﻦْ ﻃَﺎﺭِﻕِ ﺑﻦِ ﺃَﺷْﻴَﻢَ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗَﺎﻝَ: ﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞُ ﺇِﺫَﺍ ﺃَﺳْﻠَﻢَ ﻋَﻠَّﻤَﻪُ
ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓَ ﺛُﻢَّ ﺃَﻣَﺮَﻩُ ﺃَﻥْ ﻳَﺪْﻋُﻮَ ﺑِﻬَﺆﻻَﺀِ ﺍﻟﻜَﻠِﻤَﺎﺕِ : «ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ،
ﻭَﺍﺭْﺣَﻤْﻨِﻲ، ﻭَﺍﻫْﺪِﻧﻲ، ﻭَﻋَﺎﻓِﻨﻲ، ﻭَﺍﺭْﺯُﻗْﻨِﻲ » . ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ
ﻭﻓﻲ ﺭﻭﺍﻳﺔٍ ﻟﻪ ﻋﻦ ﻃﺎﺭﻕ: ﺃﻧَّﻪ ﺳَﻤِﻊَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ، ﻭَﺃَﺗَﺎﻩُ ﺭَﺟُﻞٌ ﻓَﻘَﺎﻝَ:
ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ، ﻛَﻴْﻒَ ﺃَﻗُﻮﻝُ ﺣِﻴْﻦَ ﺃَﺳْﺄَﻝُ ﺭَﺑِّﻲ ؟ ﻗَﺎﻝَ: «ﻗُﻞْ : ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ، ﻭَﺍﺭْﺣَﻤْﻨِﻲ،
ﻭَﻋَﺎﻓِﻨﻲ، ﻭﺍﺭْﺯُﻗْﻨِﻲ، ﻓَﺈِﻥَّ ﻫَﺆُﻻَﺀِ ﺗَﺠْﻤَﻊُ ﻟَﻚَ ﺩُﻧْﻴَﺎﻙَ ﻭَﺁﺧِﺮَﺗَﻚَ » .
৫/১৪৭৭। ত্বারেক ইবনে আশ্য়্যাম রাদিয়াল্লাহু
আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কেউ ইসলাম
ধর্মে দীক্ষিত হলে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নামায শিখাতেন।
তারপর তাকে এই দো‘আ পাঠ করতে আদেশ করতেন,
‘আল্লা-হুম্মাগ্ফিরলী, অরহামনী, অহদিনী, অ আ-
ফিনী, অরযুক্বনী।’
অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর, আমার
প্রতি দয়া কর, আমাকে সঠিক পথ দেখাও,
আমাকে নিরাপত্তা দান কর
এবং আমাকে জীবিকা দাও। (মুসলিম) [5]
অন্য এক বর্ণনায় আছে, ত্বারেক
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-
কে বলতে শুনেছেন, যখন তাঁর নিকটে একটি লোক
এসে নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রসূল! যখন
আমি আমার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করব, তখন কি
বলব?’ তখন তিনি বললেন, “বল, ‘আল্লাহুম্মাগ
ফিরলী---।’ কারণ, এই শব্দগুলিতে তোমার ইহকাল-
পরকাল উভয়ই শামিল রয়েছে।”
6/1478 ﻭَﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺑﻦِ ﻋَﻤﺮِﻭ ﺑﻦِ ﺍﻟﻌَﺎﺹِ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨﻬُﻤَﺎ، ﻗَﺎﻝَ: ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ
ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : «ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﻣُﺼَﺮِّﻑَ ﺍﻟﻘُﻠُﻮْﺏِ ﺻَﺮِّﻑْ ﻗُﻠُﻮْﺑَﻨَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻃَﺎﻋَﺘِﻚَ » . ﺭﻭﺍﻩ
ﻣﺴﻠﻢ
৬/১৪৭৮। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস
রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ
দো‘আ পড়তেন, ‘আল্লা-হুম্মা মুসার্রিফাল
ক্বুলূবি স্বার্রিফ ক্বুলূবানা আলা ত্বা-আ’তিক।’
অর্থ:- হে আল্লাহ!
হে হৃদয়সমূহকে আবর্তনকারী! তুমি আমাদের
হৃদয়সমূহকে তোমার আনুগত্যের উপর আবর্তিত কর।
(মুসলিম) [6]
7/1479 ﻭَﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳﺮَﺓَ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ، ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ،
ﻗَﺎﻝَ: «ﺗَﻌَﻮَّﺫُﻭﺍ ﺑِﺎﻟﻠﻪِ ﻣِﻦْ ﺟَﻬْﺪِ ﺍﻟﺒَﻼَﺀِ، ﻭَﺩَﺭَﻙِ ﺍﻟﺸَّﻘَﺎﺀِ، ﻭَﺳُﻮْﺀِ ﺍﻟﻘَﻀَﺎﺀِ، ﻭَﺷَﻤَﺎﺗَﺔِ ﺍﻷَﻋْﺪَﺍﺀِ ».
ﻣﺘﻔﻖ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
ﻭﻓﻲ ﺭﻭﺍﻳﺔٍ ﻗَﺎﻝَ ﺳُﻔﻴَﺎﻥُ : ﺃَﺷُﻚُّ ﺃﻧِّﻲ ﺯِﺩْﺕُ ﻭَﺍﺣِﺪَﺓً ﻣِﻨْﻬَﺎ .
৭/১৪৭৯। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত, নবী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন,
তোমরা আল্লাহর কাছে পানাহ চেয়ে বল, ‘(আল্লা-
হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা) মিন জাহদিল বালা-ই
অদারাকিশ শাক্বা-ই অসূইল ক্বাযবা-ই অশামা-
তাতিল আ’দা-’।’
অর্থাৎ হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট
কঠিন দুরবস্থা (অল্প ধনে জনের আধিক্য),
দুর্ভাগ্যের নাগাল, মন্দ ভাগ্য এবং দুশমন-
হাসি থেকে রক্ষা কামনা করছি। (মুসলিম) [7]
এক বর্ণনায় সুফিয়ান বলেছেন, ‘আমার সন্দেহ হয়
যে, ঐ কথাগুলির
মধ্যে একটি কথা আমি বাড়িয়ে দিয়েছি।’
8/1480 ﻭَﻋَﻨْﻪُ، ﻗَﺎﻝَ: ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ: « ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺃَﺻْﻠِﺢْ
ﻟِﻲ ﺩِﻳﻨِﻲَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻫُﻮَ ﻋِﺼْﻤَﺔُ ﺃَﻣْﺮِﻱ، ﻭَﺃَﺻْﻠِﺢْ ﻟِﻲ ﺩُﻧْﻴَﺎﻱَ ﺍﻟَّﺘﻲ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻣَﻌَﺎﺷِﻲ، ﻭَﺃَﺻْﻠِﺢْ ﻟِﻲ
ﺁﺧِﺮﺗِﻲَ ﺍﻟَّﺘﻲ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻣَﻌَﺎﺩِﻱ، ﻭَﺍﺟْﻌَﻞِ ﺍﻟﺤَﻴَﺎﺓَ ﺯِﻳَﺎﺩَﺓً ﻟِﻲ ﻓِﻲ ﻛُﻞِّ ﺧَﻴْﺮٍ، ﻭَﺍﺟْﻌَﻞِ ﺍﻟﻤَﻮﺕَ ﺭَﺍﺣَﺔً ﻟِﻲ
ﻣِﻦْ ﻛُﻞِّ ﺷَﺮٍّ» . ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ
৮/১৪৮০। উক্ত রাবী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এই দো‘আ পড়তেন,
‘আল্লা-হুম্মা আস্বলিহ
লী দীনিয়াল্লাযী হুয়া ইসমাতু আমরী, অ আস্ব্লিহ
লী দুন্য়্যা-য়্যাল্লাতী ফীহা মাআ-শী, অ
আস্ব্লিহ লী আ-খিরাতিয়াল্লাতী ফীহা মাআ-
দী। অজআলিল হায়া-তা যিয়া-দাতাল
লী ফী কুলি খাইর্। অজআলিল মাউতা রা-হাতাল
লী মিন কুলি শার্র্।’
অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমার
দ্বীনকে শুধরে দাও, যা আমার সকল কর্মের
হিফাযতকারী। আমার পার্থিব
জীবনকে শুধরে দাও, যাতে আমার
জীবিকা রয়েছে। আমার পরকালকে শুধরে দাও,
যাতে আমার প্রত্যাবর্তন হবে। আমার জন্য
হায়াতকে প্রত্যেক কল্যাণে বৃদ্ধি কর
এবং মওতকে প্রত্যেক অকল্যাণ থেকে আরামদায়ক
কর। (মুসলিম) [8]
8/1481 ﻭَﻋَﻦْ ﻋَﻠِﻲٍّ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗَﺎﻝَ: ﻗَﺎﻝَ ﻟِﻲ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ: «ﻗُﻞْ : ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺍﻫْﺪِﻧِﻲ، ﻭَﺳَﺪِّﺩْﻧِﻲ» .
ﻭﻓﻲ ﺭﻭﺍﻳﺔ: « ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺇﻧِّﻲ ﺃَﺳْﺄَﻟُﻚَ ﺍﻟﻬُﺪَﻯ ﻭَﺍﻟﺴَّﺪَﺍﺩَ » . ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ
৯/১৪৮১। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত,
তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, “তুমি বল,
‘আল্লাহুম্মাহদিনী অসাদ্দিদনী।’ অর্থাৎ
হে আল্লাহ! আমাকে হিদায়েত কর ও
সোজাভাবে রাখ।
অন্য এক বর্ণনায় আছে,
‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল হুদা অস্সাদা-দ’
অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট হেদায়েত
ও সরল পথ কামনা করছি। (মুসলিম) [9]
10/1482 ﻭَﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲٍ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗَﺎﻝَ: ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ
ﻳَﻘُﻮﻝُ: «ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺇﻧِّﻲ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻌَﺠْﺰِ، ﻭَﺍﻟﻜَﺴَﻞِ، ﻭَﺍﻟﺠُﺒْﻦِ، ﻭَﺍﻟﻬَﺮَﻡِ، ﻭَﺍﻟﺒُﺨْﻞِ، ﻭَﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ
ﻣِﻦْ ﻋَﺬَﺍﺏِ ﺍﻟﻘَﺒْﺮِ، ﻭَﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﻓِﺘْﻨَﺔِ ﺍﻟﻤَﺤْﻴَﺎ ﻭَﺍﻟﻤَﻤَﺎﺕِ» .
ﻭﻓﻲ ﺭﻭﺍﻳﺔ: «ﻭَﺿَﻠَﻊِ ﺍﻟﺪَّﻳْﻦِ، ﻭَﻏَﻠَﺒَﺔِ ﺍﻟﺮِّﺟَﺎﻝِ » . ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ
১০/১৪৮২। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দো‘আ পড়তেন,
‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল
আজ্যি অল-কাসালি অল-জুব্নি অল-হারামি অল-
বুখ্ল, অ আঊযু বিকা মিন আযাবিল ক্বাবরি, অ আঊযু
বিকা মিন ফিতনাতিল মাহ্য়্যা অল-মামাতি, (অ
যবালাইদ্ দাইনি অ গালাবাতির রিজা-ল।)’
অর্থ- হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট
অক্ষমতা, অলসতা, ভীরুতা, স্থবিরতা ও
কৃপণতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আশ্রয়
প্রার্থনা করছি কবরের আযাব থেকে, আশ্রয়
কামনা করছি জীবন ও মৃত্যুর
ফিতনা থেকে (এবং ঋণের ভার ও মানুষের প্রতাপ
থেকে)।
অপর বর্ণনায় (যুক্ত) আছে, অদ্বাল‘ইদ-দাইনি অ
গালাবাতির রিজা-ল। (মুসলিম) [ 10]
11/1483 ﻭَﻋَﻦْ ﺃَﺑﻲ ﺑَﻜﺮٍ ﺍﻟﺼِّﺪِّﻳﻖ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ : ﺃَﻧَّﻪ ﻗَﺎﻝَ ﻟِﺮَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ
ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: ﻋَﻠِّﻤْﻨِﻲ ﺩُﻋَﺎﺀً ﺃَﺩْﻋُﻮْ ﺑِﻪِ ﻓِﻲ ﺻَﻼَﺗِﻲ، ﻗَﺎﻝَ: « ﻗُﻞْ: ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺇِﻧِّﻲ ﻇَﻠَﻤْﺖُ ﻧَﻔْﺴِﻲ
ﻇُﻠْﻤﺎً ﻛَﺜِﻴﺮﺍً، ﻭَﻻَ ﻳَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ﺇِﻻَّ ﺃَﻧْﺖَ، ﻓَﺎﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﻣَﻐْﻔِﺮَﺓً ﻣِﻦْ ﻋِﻨْﺪِﻙَ، ﻭَﺍﺭْﺣَﻤْﻨِﻲ، ﺇِﻧَّﻚَ ﺃَﻧْﺖَ
ﺍﻟﻐَﻔُﻮﺭُ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢُ ». ﻣﺘﻔﻖ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
ﻭﻓﻲ ﺭﻭﺍﻳﺔٍ: « ﻭَﻓِﻲ ﺑَﻴﺘِﻲْ » ﻭَﺭُﻭِﻱَ: « ﻇُﻠﻤﺎً ﻛَﺜِﻴﺮﺍً » ﻭَﺭُﻭِﻱ: «ﻛَﺒِﻴﺮﺍً » ﺑﺎﻟﺜﺎﺀ ﺍﻟﻤﺜﻠﺜﺔ
ﻭﺑﺎﻟﺒﺎﺀ ﺍﻟﻤﻮﺣﺪﺓ ؛ ﻓﻴﻨﺒﻐﻲ ﺃﻥْ ﻳﺠﻤﻊ ﺑﻴﻨﻬﻤﺎ ﻓﻴﻘﺎﻝ : ﻛَﺜِﻴﺮﺍً ﻛَﺒِﻴﺮﺍً .
১১/১৪৮৩। আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, ‘আমাকে এমন
দো‘আ শিখিয়ে দিন, যা দিয়ে আমি আমার
নামাযে প্রার্থনা করব।’ তিনি বললেন, “তুমি বল,
‘আল্লাহুম্মা ইন্নী যালামতু নাফসী যুলমান
কাসীরাঁউ অলা য়্যাগফিরুয
যুনূবা ইল্লা আন্তা ফাগফিরলী মাগফিরাতাম
মিন ইন্দিকা অরহামনী, ইন্নাকা আন্তাল গাফুরুর
রাহীম। (বুখারী-মুসলিম) [11]
এক বর্ণনায় আছে, ‘(যা দিয়ে আমি আমার
নামাযে) এবং আমার ঘরে (প্রার্থনা করব।)’
‘যুলমান কাসীরান’-এর স্থলে কোন কোন বর্ণনায়
‘যুলমান কাবীরান’ও বর্ণনা করা হয়েছে।
সুতরাং উচিত হল, উভয় বর্ণনা একত্র করে ‘যুলমান
কাসীরান কাবীরান’ বলা।
12/1484 ﻭَﻋَﻦْ ﺃَﺑﻲ ﻣُﻮﺳَﻰ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ، ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ:
ﺃَﻧَّﻪ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﺪْﻋُﻮ ﺑِﻬَﺬَﺍ ﺍﻟﺪُّﻋَﺎﺀِ : «ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﺧَﻄِﻴﺌَﺘِﻲ ﻭَﺟَﻬْﻠِﻲ، ﻭَﺇِﺳﺮَﺍﻓِﻲ ﻓِﻲ ﺃَﻣْﺮِﻱ، ﻭَﻣَﺎ
ﺃَﻧْﺖَ ﺃَﻋْﻠَﻢُ ﺑِﻪِ ﻣِﻨّﻲ، ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﺟِﺪِّﻱ ﻭَﻫَﺰْﻟِﻲ ؛ ﻭَﺧَﻄَﺌِﻲ ﻭَﻋَﻤْﺪِﻱ ؛ ﻭَﻛُﻞُّ ﺫَﻟِﻚَ ﻋِﻨْﺪِﻱ،
ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﻣَﺎ ﻗَﺪَّﻣْﺖُ ﻭَﻣَﺎ ﺃَﺧَّﺮْﺕُ، ﻭَﻣَﺎ ﺃَﺳْﺮَﺭْﺕُ ﻭَﻣَﺎ ﺃَﻋْﻠَﻨْﺖُ، ﻭَﻣَﺎ ﺃَﻧﺖَ ﺃَﻋْﻠَﻢُ ﺑِﻪِ ﻣِﻨِّﻲ، ﺃَﻧْﺖَ
ﺍﻟﻤُﻘَﺪِّﻡُ، ﻭَﺃَﻧْﺖَ ﺍﻟﻤُﺆَﺧِّﺮُ، ﻭَﺃَﻧْﺖَ ﻋَﻠَﻰ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻗَﺪِﻳﺮٌ » . ﻣﺘﻔﻖ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
১২/১৪৮৪। আবূ মুসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দো‘আ পড়তেন,
‘আল্লা-হুম্মাগফির
লী খাত্বীআতী অজাহলী অইসরা-ফী ফী আমরী,
অমা আন্তা আ‘লামু বিহী মিন্নী। আল্লা-
হুম্মাগফির লী জিদ্দী অহাযলী অখাত্বাঈ
অআম্দী, অকুল্লু যা-লিকা ইন্দী। আল্লা-
হুম্মাগফিরলী মা ক্বাদ্দামতু অমা আখ্খারতু
অমা আসরারতু অমা আ’লানতু অমা আন্তা আ’লামু
বিহী মিন্নী, আন্তাল মুক্বাদ্দিমু অ আন্তাল
মুআখ্খিরু অআন্তা আলা কুলি শাইয়িন ক্বাদীর।’
অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমার পাপ, মুর্খামি,
কর্মে সীমালঙ্ঘনকে এবং যা তুমি আমার
চেয়ে অধিক জান, তা আমার জন্য ক্ষমা করে দাও।
আল্লাহ গো! তুমি আমার অযথার্থ ও যথার্থ,
অনিচ্ছাকৃত ও ইচ্ছাকৃত-
ভাবে করা পাপসমূহকে মার্জনা করে দাও। আর এই
প্রত্যেকটি পাপ আমার আছে।
হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মার্জনা কর,
যে অপরাধ আমি পূর্বে করেছি এবং যা পরে করেছি,
যা গোপনে করেছি এবং যা প্রকাশ্যে করেছি এবং
যা তুমি অধিক জান। তুমিই অগ্র-সরকারী ও তুমিই
পশ্চাদপদকারী এবং তুমি প্রতিটি বস্তুর উপর
ক্ষমতাবান। (বুখারী ও মুসলিম)[12]
13/1485 ﻭَﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨﻬَﺎ: ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛَﺎﻥَ
ﻳَﻘُﻮﻝُ ﻓِﻲ ﺩُﻋَﺎﺋِﻪِ: «ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﻋَﻤِﻠْﺖُ ﻭَﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﻟَﻢْ ﺃَﻋْﻤَﻞْ » . ﺭﻭﺍﻩ
ﻣﺴﻠﻢ
১৩/১৪৮৫। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা
হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ দো‘আতে এই
শব্দগুলি বলতেন,
‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন
শার্রি মা ‘আমিলতু অ মিন শার্রি মা লাম
আ‘মাল।’
অর্থাৎ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট
আমার কৃত (পাপের) অনিষ্ট হতে এবং অকৃত (পুণ্যের)
মন্দ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (অথবা অপরের
কৃত পাপের ব্যাপক শাস্তি থেকে আশ্রয়
প্রার্থনা করছি।) (মুসলিম) [13]
14/1486 ﻭَﻋَﻦِ ﺍﺑﻦِ ﻋُﻤَﺮَ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨﻬُﻤَﺎ، ﻗَﺎﻝَ : ﻛَﺎﻥَ ﻣِﻦ ﺩُﻋَﺎﺀِ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ
ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: « ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺯَﻭَﺍﻝِ ﻧِﻌْﻤَﺘِﻚَ، ﻭَﺗَﺤَﻮُّﻝِ ﻋَﺎﻓِﻴَﺘِﻚَ، ﻭَﻓُﺠَﺎﺀَﺓِ ﻧِﻘْﻤَﺘِﻚَ،
ﻭَﺟَﻤِﻴﻊِ ﺳَﺨَﻄِﻚَ» . ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ
১৪/১৪৮৬। ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি দো‘আ ছিল,
‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন যাওয়া-
লি নি’মাতিকা অতাহাউবুলি আ-
ফিয়াতিকা অফুজাআতি নিক্বমাতিকা অজামী-
ই সাখাত্বিক।’
অর্থাৎ হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট
তোমার অনুগ্রহের অপসরণ, নিরাপত্তার
প্রত্যাবর্তন, আকস্মিক পাকড়াও এবং যাবতীয়
অসন্তোষ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (মুসলিম)
[14]
15/1487 ﻭَﻋَﻦْ ﺯَﻳﺪِ ﺑﻦِ ﺃَﺭْﻗَﻢَ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ، ﻗَﺎﻝَ: ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ، ﻳَﻘُﻮﻝُ: «ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻌَﺠْﺰِ ﻭَﺍﻟﻜَﺴَﻞِ، ﻭَﺍﻟﺒُﺨْﻞِ ﻭَﺍﻟﻬَﺮَﻡِ، ﻭَﻋَﺬَﺍﺏِ
ﺍﻟﻘَﺒْﺮِ، ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺁﺕِ ﻧَﻔْﺴِﻲ ﺗَﻘْﻮَﺍﻫَﺎ، ﻭَﺯَﻛِّﻬﺎ ﺃَﻧْﺖَ ﺧَﻴْﺮُ ﻣَﻦْ ﺯَﻛَّﺎﻫَﺎ، ﺃَﻧْﺖَ ﻭَﻟِﻴُّﻬَﺎ ﻭَﻣَﻮْﻻَﻫَﺎ، ﺍَﻟﻠﻬﻢ
ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﻋِﻠْﻢٍ ﻻَ ﻳَﻨْﻔَﻊُ؛ ﻭَﻣِﻦْ ﻗَﻠْﺐٍ ﻻَ ﻳَﺨْﺸَﻊُ، ﻭَﻣِﻦْ ﻧَﻔْﺲٍ ﻻَ ﺗَﺸْﺒَﻊُ ؛ ﻭَﻣِﻦْ ﺩَﻋْﻮَﺓٍ ﻻَ
ﻳُﺴْﺘَﺠﺎﺏُ ﻟَﻬَﺎ » .ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ
১৫/১৪৮৭। যায়েদ ইবনে আরক্বাম রাদিয়াল্লাহু
আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দো‘আ পাঠ
করতেন,
“আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল
আজ্যি অলকাসালি অলবুখ্লি অলহারামি অ আযা-
বিল ক্বাব্র্। আল্লা-হুম্মা আ-
তি নাফসী তাক্বওয়া-
হা অযাক্কিহা আন্তা খাইরু মান যাক্কা-হা,
আন্তা অলিয়্যুহা অমাউলা-হা। আল্লা-
হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন ইলমিল লা য়্যানফা’,
অমিন ক্বালবিল লা য়্যাখশা’, অমিন নাফসিল
লা তাশবা’, অমিন দা’ওয়াতিল লা য়্যুস্তাজা-বু
লাহা।”
অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি তোমার
নিকটে অক্ষমতা, অলসতা, কৃপণতা,
স্থবিরতা এবং কবরের আযাব থেকে পানাহ
চাচ্ছি। হে আল্লাহ আমার আত্মায় তোমার
ভীতি প্রদান কর এবং তাকে পবিত্র কর, তুমিই
শ্রেষ্ঠ পবিত্রকারী। তুমিই তার অভিভাবক ও প্রভু।
হে আল্লাহ আমি তোমার নিকট সেই ইলম
থেকে পানাহ চাচ্ছি, যা কোন উপকারে আসে না।
সেই হৃদয় থেকে পানাহ চাচ্ছি , যা বিনয়ী হয় না।
সেই আত্মা থেকে পানাহ চাচ্ছি, যা তৃপ্ত হয়
না এবং সেই দো‘আ থেকে পানাহ চাচ্ছি , যা কবুল
হয় না। (মুসলিম) [15]
16/1488 ﻭَﻋَﻦِ ﺍﺑﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨﻬُﻤَﺎ: ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻘُﻮﻝُ : «ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﻟَﻚَ ﺃَﺳْﻠَﻤْﺖُ، ﻭَﺑِﻚَ ﺁﻣَﻨْﺖُ، ﻭَﻋَﻠَﻴْﻚَ ﺗَﻮَﻛَّﻠْﺖُ، ﻭﺇﻟَﻴْﻚَ ﺃﻧَﺒْﺖُ، ﻭَﺑِﻚَ
ﺧَﺎﺻَﻤْﺖُ، ﻭﺇﻟَﻴْﻚَ ﺣَﺎﻛَﻤْﺖُ . ﻓَﺎﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﻣَﺎ ﻗَﺪَّﻣْﺖُ، ﻭَﻣَﺎ ﺃَﺧَّﺮْﺕُ، ﻭَﻣَﺎ ﺃَﺳْﺮَﺭْﺕُ، ﻭَﻣَﺎ ﺃﻋْﻠَﻨْﺖُ، ﺃﻧﺖَ
ﺍﻟﻤُﻘَﺪِّﻡُ، ﻭﺃَﻧْﺖَ ﺍﻟﻤُﺆَﺧِّﺮُ، ﻻ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻻَّ ﺃﻧْﺖَ » . ﺯَﺍﺩَ ﺑَﻌْﺾُ ﺍﻟﺮُّﻭَﺍﺓِ: «ﻭَﻻَ ﺣَﻮْﻝَ ﻭَﻻَ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻻَّ
ﺑﺎﻟﻠﻪِ» . ﻣﺘﻔﻖ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
১৬/১৪৮৮। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দো‘আটি পড়তেন,
‘আল্লা-হুম্মা লাকা আসলামতু অবিকা আ-
মানতু, অ আলাইকা তাওয়াক্কালতু, অ
ইলাইকা আনাবতু, অবিকা খা-স্বামতু অ
ইলাইকা হা-কামতু ফাগ্ফিরলী মা ক্বাদ্দামতু
অমা আখ্খারতু অমা আসরারতু অমা আ’লানতু
আন্তাল মুক্বাদ্দিমু অআন্তাল মুআখ্খিরু লা ইলা-
হা
ইল্লা আন্তা (অলা হাওলা অলা ক্বুউওয়াতা ইল্লা
বিল্লাহ।)’
অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি তোমারই নিকট
আত্মসমর্পণ করেছি, তোমার উপরেই ঈমান
(বিশ্বাস) রেখেছি, তোমার উপরেই ভরসা করেছি,
তোমার দিকে অভিমুখী হয়েছি, তোমারই
সাহায্যে বিতর্ক করেছি, তোমারই নিকট বিচার
প্রার্থী হয়েছি। অতএব তুমি আমার পূর্বের, পরের,
গুপ্ত ও প্রকাশ্য পাপকে মাফ করে দাও। তুমিই অগ্র-
সরকারী ও তুমিই পশ্চাদপদকারী। তুমি ছাড়া কোন
সত্য উপাস্য নেই। (কোন কোন বর্ণনাকারীর বর্ধিত
বর্ণনা) তোমার তওফীক ছাড়া পাপ থেকে ফিরার
ও সৎকাজ করার সাধ্য নেই। (বুখারী ও মুসলিম) [16]
17/1489 ﻭَﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨﻬَﺎ: ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛَﺎﻥَ
ﻳَﺪﻋُﻮ ﺑِﻬَﺆُﻻَﺀِ ﺍﻟﻜَﻠِﻤَﺎﺕِ: «ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺇﻧِّﻲ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﻓِﺘْﻨَﺔِ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ، ﻭَﻋَﺬَﺍﺏِ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ، ﻭَﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﺍﻟﻐِﻨَﻰ
ﻭَﺍﻟﻔَﻘْﺮِ » . ﺭﻭﺍﻩ ﺃَﺑُﻮ ﺩﺍﻭﺩ ﻭﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ، ﻭﻗﺎﻝ: ﺣﺪﻳﺚ ﺣﺴﻦ ﺻﺤﻴﺢ ؛ ﻭﻫﺬﺍ ﻟﻔﻆ ﺃَﺑﻲ ﺩﺍﻭﺩ .
১৭/১৪৮৯। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে
বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এই শব্দাবলী যোগে দো‘আ করতেন,
‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন
ফিতনাতিন্নারি অআযাবিন্নারি, অমিন শার্রিল
গিনা অলফাক্ব্র।’
অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি জাহান্নামের
ফিতনা থেকে, জাহান্নামের আযাব
থেকে এবং ধনবত্তা ও দারিদ্র্যের মন্দ
থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (আবূ দাউদ,
তিরমিযী হাসান সহীহ, এ-শব্দগুলি আবূ দাউদের)
[17]
18/1490 ﻭَﻋَﻦْ ﺯِﻳَﺎﺩِ ﺑﻦِ ﻋِﻼَﻗَﺔَ ﻋَﻦ ﻋَﻤِّﻪِ، ﻭَﻫُﻮَ ﻗُﻄْﺒَﺔُ ﺑﻦُ ﻣﺎﻟِﻚٍ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ،
ﻗَﺎﻝَ: ﻛَﺎﻥ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ: « ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺇﻧِّﻲ ﺃﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﻣُﻨْﻜَﺮَﺍﺕِ ﺍﻷﺧْﻼَﻕِ،
ﻭَﺍﻷﻋْﻤَﺎﻝِ، ﻭﺍﻷﻫْﻮﺍﺀِ» . ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ، ﻭﻗﺎﻝ: ﺣﺪﻳﺚ ﺣﺴﻦ
১৮/১৪৯০। যিয়াদ ইবনে ইলাক্বাহ স্বীয়
চাচা কুত্ববাহ ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দো‘আ পড়তেন, “আল্লা-
হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন মুনকারা-তিল
আখলা-ক্বি অলআ’মা-লি অলআহওয়া-’।”
অর্থাৎ হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট
দুশ্চরিত্র, অসৎ কর্ম ও কু-প্রবৃত্তি থেকে আশ্রয়
চাচ্ছি। (তিরমিযী হাসান) [18]
19/1491 ﻭَﻋَﻦْ ﺷَﻜَﻞِ ﺑﻦِ ﺣُﻤَﻴﺪٍ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗَﺎﻝَ: ﻗُﻠﺖُ: ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ،
ﻋﻠِّﻤْﻨِﻲ ﺩُﻋَﺎﺀً، ﻗَﺎﻝَ: «ﻗُﻞْ : ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﺳَﻤْﻌِﻲ، ﻭَﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﺑَﺼَﺮِﻱ، ﻭَﻣِﻦْ
ﺷَﺮِّ ﻟِﺴَﺎﻧِﻲ، ﻭَﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻗَﻠْﺒِﻲ، ﻭَﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﻨِﻴِّﻲ» . ﺭﻭﺍﻩ ﺃَﺑُﻮ ﺩﺍﻭﺩ ﻭﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ، ﻭﻗﺎﻝ: ﺣﺪﻳﺚ
ﺣﺴﻦ
১৯/১৪৯১। শাকাল ইবনে হুমাইদ রাদিয়াল্লাহু
আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি নিবেদন
করলাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাকে একটি দো‘আ
শিখিয়ে দিন।’ তিনি বললেন, “বল,
‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন
শার্রি সাম্য়ী, অমিন শার্রি বাস্বারী, অমিন
শার্রি লিসানী, অমিন শার্রি ক্বালবী, অমিন
শার্রি মানিইয়্যী।”
অর্থাৎ হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট
আমার কর্ণ, চক্ষু, রসনা, অন্তর এবং বীর্য
(যৌনাঙ্গে)র অনিষ্ট থেকে শরণ চাচ্ছি। (আবূ দাউদ,
তিরমিযী, হাসান) [19]
20/1492 ﻭَﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲٍ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ: ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻘُﻮﻝُ:
«ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺇﻧِّﻲ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺒَﺮَﺹِ، ﻭَﺍﻟﺠُﻨُﻮﻥِ، ﻭَﺍﻟﺠُﺬَﺍﻡِ، ﻭَﺳَﻴِّﻲﺀِ ﺍﻷَﺳْﻘَﺎﻡِ » . ﺭﻭﺍﻩ ﺃَﺑُﻮ ﺩﺍﻭﺩ
ﺑﺈﺳﻨﺎﺩ ﺻﺤﻴﺢٍ
২০/১৪৯২। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দো‘আ পড়তেন, ‘আল্লা-
হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল
বারাস্বি অলজুনূনি অলজুযা-মি অমিন সাইয়্যিইল
আসক্বা-ম।’
অর্থাৎ হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট
ধবল, উন্মাদ, কুষ্ঠরোগ এবং সকল প্রকার কঠিন
ব্যাধি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (আবূ দাউদ
বিশুদ্ধ সানাদ) [20]
21/1493 ﻭَﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳﺮَﺓَ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗَﺎﻝَ: ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ : «ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺇﻧِّﻲ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺠُﻮﻉِ، ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﺑِﺌْﺲَ ﺍﻟﻀَّﺠِﻴﻊُ، ﻭَﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣﻦَ ﺍﻟﺨِﻴَﺎﻧَﺔِ،
ﻓَﺈِﻧَّﻬَﺎ ﺑِﺌْﺴَﺖِ ﺍﻟﺒِﻄَﺎﻧَﺔُ » . ﺭﻭﺍﻩ ﺃَﺑُﻮ ﺩﺍﻭﺩ ﺑﺈﺳﻨﺎﺩ ﺻﺤﻴﺢ
২১/১৪৯৩। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দো‘আটি পাঠ করতেন,
‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল জূ-’,
ফাইন্নাহু বি’সায্ যবাজী-’। অ আঊযু বিকা মিনাল
খিয়ানাহ, ফাইন্নাহা বি’সাতিল বিত্বা-নাহ।’
অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট
ক্ষুধা থেকে পানাহ চাচ্ছি, কারণ তা নিকৃষ্ট শয়ন-
সাথী। আর আমি খেয়ানত থেকেও পানাহ চাচ্ছি,
কারণ তা নিকৃষ্ট সহচর। (আবূ দাউদ বিশুদ্ধ সানাদ)
[21]
22/1494 ﻭَﻋَﻦْ ﻋَﻠﻲٍّ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ: ﺃَﻥَّ ﻣُﻜَﺎﺗِﺒﺎً ﺟَﺎﺀَﻩُ ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺇِﻧِّﻲ ﻋَﺠَﺰْﺕُ ﻋَﻦْ
ﻛِﺘَﺎﺑَﺘِﻲ ﻓَﺄَﻋِﻨِّﻲ، ﻗَﺎﻝَ: ﺃﻻَ ﺃُﻋَﻠِّﻤُﻚَ ﻛَﻠِﻤَﺎﺕٍ ﻋَﻠَّﻤَﻨِﻴﻬﻦَّ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ، ﻟَﻮْ
ﻛَﺎﻥَ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻣِﺜْﻞُ ﺟَﺒَﻞٍ ﺩَﻳْﻨﺎً ﺃَﺩَّﺍﻩُ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨْﻚَ؟ ﻗُﻞْ: «ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺍﻛْﻔِﻨِﻲ ﺑِﺤَﻼَﻟِﻚَ ﻋَﻦْ ﺣَﺮَﺍﻣِﻚَ، ﻭَﺃَﻏْﻨِﻨِﻲ
ﺑِﻔَﻀْﻠِﻚَ ﻋَﻤَّﻦْ ﺳِﻮَﺍﻙَ» . ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ، ﻭﻗﺎﻝ : ﺣﺪﻳﺚ ﺣﺴﻦ
২২/১৪৯৪। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু
থেকে বর্ণিত, একজন ‘মুকাতিব’ (লিখিত
চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ
দিতে প্রতিশ্রুতি-বদ্ধ কৃতদাস) তাঁর নিকট
এসে নিবেদন করল, ‘আমি আমার নির্ধারিত অর্থ
দিতে অপারগ, অতএব আপনি আমাকে সাহায্য
করুন।’ (এ কথা শুনে) তিনি বললেন,
‘তোমাকে কি এমন দো‘আ শিখিয়ে দিব না,
যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শিখিয়েছিলেন?
যদি তোমার উপর পর্বত সমপরিমাণ ঋণও থাকে,
তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তোমার পক্ষ
থেকে তা পরিশোধ করে দেবেন। বল, ‘আল্লা-
হুম্মাকফিনী বিহালা-লিকা আন হারা-মিক,
অআগনিনী বিফাযবলিকা আম্মান সিওয়া-ক।’
অর্থাৎ হে আল্লাহ! তোমার হালাল
রুযী দিয়ে হারাম রুযী থেকে আমার জন্য যথেষ্ট কর
এবং তুমি ছাড়া অন্য সকল
থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী কর।
(তিরমিযী হাসান) [22]
23/1495 ﻭﻋَﻦْ ﻋِﻤْﺮﺍﻥَ ﺑﻦِ ﺍﻟﺤُﺼﻴﻦِ ﺭَﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋﻨْﻬُﻤَﺎ، ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻋﻠَّﻢ ﺃَﺑﺎﻩُ ﺣُﺼﻴْﻨﺎً ﻛَﻠِﻤﺘَﻴْﻦِ ﻳﺪﻋُﻮ ﺑﻬﻤﺎ: «ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃَﻟﻬِﻤْﻨﻲ ﺭُﺷْﺪِﻱ، ﻭﺃَﻋِﺬﻧﻲ ﻣِﻦ ﺷَﺮِّ
ﻧﻔﺴﻲ» . ﺭﻭﺍﻩُ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱُّ ﻭﻗَﺎﻝَ: ﺣﺪﻳﺚٌ ﺣﺴﻦٌ
২৩/১৪৯৫। ইমরান ইবনুল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু
আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর (রাবী)
পিতা হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু-
কে দু’টি কালিমা শিখিয়েছেন
যা দিয়ে তিনি দো‘আ করতেন: “হে আল্লাহ!
আমার অন্তকরণে হিদায়েত পৌঁছাও, আর হৃদয়ের
অনিষ্ঠটা থেকে আমাকে রক্ষা কর।” (তিরমিযী
হাদিসটিকে হাসান বলেছেন) [23]
24/1496 ﻭَﻋَﻦْ ﺃَﺑﻲ ﺍﻟﻔَﻀﻞِ ﺍﻟﻌَﺒَّﺎﺱِ ﺑﻦِ ﻋَﺒﺪِ ﺍﻟﻤُﻄَّﻠِﺐِ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻘَﺎﻝَ: ﻗُﻠْﺖُ:
ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﻋَﻠِّﻤْﻨِﻲ ﺷَﻴْﺌﺎً ﺃَﺳْﺄﻟُﻪُ ﺍﻟﻠﻪَ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ، ﻗَﺎﻝَ: «ﺳَﻠﻮﺍ ﺍﻟﻠﻪَ ﺍﻟﻌَﺎﻓِﻴَﺔَ » ﻓَﻤَﻜَﺜْﺖُ ﺃَﻳَّﺎﻣﺎً، ﺛُﻢَّ
ﺟِﺌْﺖُ ﻓَﻘُﻠﺖُ: ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﻋَﻠِّﻤْﻨِﻲ ﺷَﻴْﺌﺎً ﺃَﺳْﺄﻟُﻪُ ﺍﻟﻠﻪ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ، ﻗَﺎﻝَ ﻟﻲ: «ﻳَﺎ ﻋَﺒَّﺎﺱُ، ﻳَﺎ ﻋَﻢَّ
ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ، ﺳَﻠُﻮﺍ ﺍﻟﻠﻪَ ﺍﻟﻌَﺎﻓِﻴَﺔَ ﻓﻲ ﺍﻟﺪُّﻧﻴَﺎ ﻭَﺍﻵﺧِﺮَﺓِ » . ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ،
ﻭﻗﺎﻝ: ﺣﺪﻳﺚ ﺣﺴﻦ ﺻﺤﻴﺢ
২৪/১৪৯৬। আবূল ফায্ল আব্বাস ইবনে আব্দুল
মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন, একদা আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল!
আমাকে এমন জিনিস শিক্ষা দান করুন, যা মহান
আল্লাহর কাছে চেয়ে নেব।’ তিনি বললেন,
“আল্লাহর নিকট নিরাপত্তা চাও।” অতঃপর
আমি কিছুদিন থেমে থাকার পর পুনরায়
এসে বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন
জিনিস শিখিয়ে দিন, যা আল্লাহর
কাছে চেয়ে নেব।’ তিনি আমাকে বললেন,
“হে আব্বাস! হে আল্লাহর রসূলের চাচা! আল্লাহর
কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের
নিরাপত্তা প্রার্থনা কর।” (তিরমিযী হাসান
সহীহ)[24]
25/1497 ﻭَﻋَﻦْ ﺷَﻬْﺮِ ﺑﻦِ ﺣَﻮﺷَﺐٍ، ﻗَﺎﻝَ : ﻗُﻠْﺖُ ﻷُﻡِّ ﺳَﻠَﻤَﺔَ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨﻬَﺎ، ﻳَﺎ ﺃُﻡَّ
ﺍﻟﻤُﺆﻣِﻨِﻴﻦَ، ﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﺃَﻛﺜَﺮُ ﺩُﻋَﺎﺀِ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ، ﺇِﺫَﺍ ﻛَﺎﻥَ ﻋِﻨْﺪَﻙِ ؟ ﻗَﺎﻟَﺖْ:
ﻛَﺎﻥَ ﺃَﻛْﺜَﺮُ ﺩُﻋَﺎﺋِﻪِ: « ﻳَﺎ ﻣُﻘَﻠِّﺐَ ﺍﻟﻘُﻠُﻮﺏِ ﺛَﺒِّﺖْ ﻗَﻠْﺒِﻲ ﻋَﻠَﻰ ﺩِﻳﻨِﻚَ » . ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ، ﻭﻗﺎﻝ: ﺣﺪﻳﺚ
ﺣﺴﻦ
২৫/১৪৯৭। শাহর ইবনে হাওশাব
হতে রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত, তিনি বলেন,
আমি উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা
কে বললাম, হে মুমিন জননী! আল্লাহর রসূল যখন
আপনার নিকট অবস্থান করতেন, তখন কোন দো‘আ
তিনি অধিক মাত্রায় পাঠ করতেন? তিনি বললেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
অধিকাংশ এই দো‘আ পড়তেন, ‘ইয়া মুক্বাল্লিবাল
ক্বুলূবি ষাবিবত ক্বালবী আলা দীনিক।’ অর্থাৎ
হে হৃদয়সমূহকে বিবর্তনকারী! আমার
হৃদয়কে তোমার দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ।
(তিরমিযী, হাসান) [25]
26/1498 ﻭَﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲْ ﺍﻟﺪَّﺭﺩَﺍﺀِ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ، ﻗَﺎﻝَ: ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ
ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : «ﻛَﺎﻥَ ﻣِﻦْ ﺩُﻋَﺎﺀِ ﺩَﺍﻭُﺩَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺴَﻠَﺎﻡ : «ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺇِﻧِّﻲْ ﺃَﺳْﺄَﻟُﻚَ ﺣُﺒَّﻚَ، ﻭَﺣُﺐَّ
ﻣَﻦْ ﻳُّﺤِﺒُّﻚَ، ﻭَﺍﻟْﻌَﻤَﻞَ ﺍﻟﺬِّﻱْ ﻳُﺒَﻠِّﻐُﻨِﻲْ ﺣُﺒَّﻚَ ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺍﺟْﻌَﻞْ ﺣُﺒَّﻚَ ﺃَﺣَﺐَّ ﺇِﻟَﻲَّ ﻣِﻦ ﻧَّﻔْﺴِﻲْ، ﻭَﺃَﻫْﻠِﻲْ،
ﻭَﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤَﺎﺀِ ﺍﻟْﺒَﺎﺭِﺩِ» ﺭﻭَﺍﻩُ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱُّ ﻭَﻗَﺎﻝَ : ﺣﺪﻳﺚٌ ﺣﺴﻦٌ
২৬/১৪৯৮। আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: দাউদ (আঃ)-এর
এতটি দো‘আ ছিল:
“আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা হুববাকা ওয়া হুববা
মাইয়্যুহিববুকা ওয়াল
‘আমালাল্লাযী ইউবাল্লিগুনী হুববাকা,
আল্লাহুম্মাজআল
হুববাকা আহাববা ইলাইয়্যা মিন
নাফসী ওয়া আহলী ওয়া মিনাল মাইল
বারিদ” (হে আল্লাহ! তোমার
কাছে আমি তোমার ভালবাসা চাচ্ছি এবং সেই
লোকের ভালবাসা চাচ্ছি,
যে তোমাকে ভালবাসে, আর এমন আমল চাচ্ছি,
যা আমাকে তোমার ভালবাসার নিকট
পৌঁছিয়ে দিবে। হে আল্লাহ! আমার
কাছে তোমার ভালবাসাকে আমার জীবন,
আমার পরিবার-পরিজন ও ঠাণ্ডা পানির
চেয়ে অধিক প্রিয় কর)।
(তিরমিযী হাদিসটিকে হাসান বলেছেন) [26]
27/1499 ﻭَﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲٍ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗَﺎﻝَ: ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ : «ﺃَﻟِﻈُّﻮﺍ ﺑـ ( ﻳَﺎﺫﺍ ﺍﻟﺠَﻼَﻝِ ﻭﺍﻹﻛْﺮﺍﻡِ ) ». ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ، ﻭﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ ﻣﻦ ﺭﻭﺍﻳﺔ
ﺭﺑﻴﻌﺔ ﺑﻦ ﻋﺎﻣِﺮٍ ﺍﻟﺼﺤﺎﺑﻲ، ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﺤﺎﻛﻢ: ﺣﺪﻳﺚ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻹﺳﻨﺎﺩ
২৭/১৪৯৯। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ইয়া যাল
জালালি অলইকরাম!’ বাক্যটি আবশ্যিকভাবে বড্ড
গুরুত্ব দাও।” (তিরমিযী,নাসায়ী সাহাবী রাবীআহ
ইবন আমের থেকে বর্ণনা করেছেন। হাকেম
বলেছেন, হাদিসটির সনদ সহীহ)। [27]
28/1500 ﻭَﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲْ ﺃُﻣَﺎﻣَﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗَﺎﻝَ: ﺩَﻋَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺑِﺪُﻋَﺎﺀٍ ﻛَﺜِﻴْﺮٍ، ﻟَﻢْ ﻧَﺤْﻔَﻆْ ﻣِﻨْﻪُ ﺷَﻴْﺌﺎً، ﻗُﻠْﻨَﺎ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮْﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺩَﻋَﻮْﺕَ ﺑِﺪُﻋَﺎﺀٍ ﻛَﺜِﻴﺮٍْ ﻟَﻢْ
ﻧَﺤْﻔَﻆْ ﻣِﻨْﻪُ ﺷَﻴْﺌﺎً، ﻓَﻘَﺎﻝَ: « ﺃَﻟَﺎ ﺃَﺩُﻟُّﻜُﻢْ ﻋَﻠﻰٰ ﻣَﺎ ﻳَﺠْﻤَﻊُ ﺫَﻟِﻚَ ﻛُﻠَّﻪُ ؟ ﺗَﻘُﻮْﻝُ : «ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺇِﻧِّﻲْ ﺃَﺳْﺄَﻟُﻚَ
ﻣِﻦْ ﺧَﻴْﺮِﻣَﺎ ﺳَﺄَﻟَﻚَ ﻣِﻨْﻪُ ﻧَﺒِﻴُّﻚَ ﻣُﺤَﻤَّﺪٌ، َﻭﺃَﻋُﻮْﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﺍﺳْﺘَﻌَﺎﺫَ ﻣِﻨْﻪُ ﻧَﺒِﻴُّﻚَ ﻣُﺤﻤَّﺪٌ، ﻭَﺃَﻧْﺖَ
ﺍﻟﻤُﺴْﺘَﻌَﺎﻥُ، ﻭَﻋَﻠَﻴْﻚَ ﺍﻟْﺒَﻠَﺎﻍُ، ﻭَﻟَﺎ ﺣَﻮْﻝَ ﻭَﻟَﺎ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻻَّ ﺑِﺎﻟﻠﻪِ » ﺭﻭﺍﻩُ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱُّ ﻭﻗَﺎﻝَ: ﺣﺪﻳﺚٌ
ﺣَﺴَﻦٌ .
২৮/১৫০০। আবূ উমামাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম অগণিত দো‘আ
করেছিলেন, তার কোনটি আমরা স্মরণ
রাখতে পারলাম না। আমরা বললাম, হে আল্লাহর
রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম !
আপনি অধিক সংখ্যক দো‘আ করেছেন, তার কিছুই
আমরা মনে রাখতে পারিনি। তিনি বললেন:
তোমাদেরকে আমি কি এরূপ একটি দো‘আ
শিখিয়ে দেব না, যা সব দো‘আকে সংযুক্ত করবে?
তোমরা বল: “আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন
খাইরি মা সাআলাকা মিনহু
নাবিয়্যুকা মুহাম্মাদুন সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ওয়া আ‘উযু বিকা মিন
শাররি মাস্তা‘আযাকা মিনহু
নাবিয়্যুকা মুহাম্মাদুন সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ওয়া আনতাল মুসতা‘আনু
ওয়া আলাইকাল বালাগ,
ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা,
ইল্লা বিল্লাহ” (হে আল্লাহ! তোমার নিকট সেই
সকল কল্যাণ কামনা করছি, যা তোমার
নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার নিকট
প্রার্থনা করেছেন। আর তোমার নিকট সেই সকল
অকল্যাণ হতে আশ্রয় কামনা করছি যে সকল
অকল্যাণ হতে তোমার নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশ্রয়
প্রার্থনা করেছেন। তুমিই সাহায্যকারী।
তোমার নিকট সব পৌঁছে যাবে এবং তোমার
সাহায্য ছাড়া গুনাহ থেকে বিরত থাকার ও পুণ্য
করার ক্ষমতা কারো নেই।
(তিরমিযী হাদিসটিকে হাসান বলেছেন) [28]
29/1501 ﻭَﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻣَﺴﻌُﻮﺩ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ، ﻗَﺎﻝَ : ﻛَﺎﻥَ ﻣِﻦْ ﺩُﻋَﺎﺀِ ﺭَﺳُﻮْﻝِ
ﺍﻟﻠﻪﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: «ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺇِﻧِّﻲْ ﺃَﺳْﺄَﻟُﻚَ ﻣُﻮْﺟِﺒَﺎﺕِ ﺭَﺣْﻤَﺘِﻚَ، ﻭَﻋَﺰَﺍﺋِﻢَ ﻣَﻐْﻔِﺮَﺗِﻚَ،
ﻭَﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻣَﺔَ ﻣِﻦْ ﻛُﻞِّ ﺇِﺛْﻢٍ، ﻭَﺍﻟْﻐَﻨِﻴْﻤَﺔَ ﻣِﻦْ ﻛُﻞِّ ﺑِﺮٍّ، ﻭَﺍﻟﻔَﻮْﺯَ ﺑِﺎﻟْﺠَﻨَّﺔِ، ﻭَﺍﻟﻨَّﺠَﺎﺓَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ» .
২৯/১৫০১। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ
রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর
একটি দো‘আ ছিল:
“আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মুজিবাতি
রহমাতিকা, ওয়া ‘আযাইমা মাগফিরাতিকা,
ওয়াস সালামাতা মিন কুলি ইসমিন ওয়াল
গনীমাতা মিন কুলি বিররিন, ওয়াল ফাওযা বিল
জান্নাতি ওয়ান নাজাতা মিনান
নার” (হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি তোমার
রহমত নির্ধারণকারী বিষয় প্রার্থনা করছি,
তোমার মাগফিরাতের কার্যকারণসমূহ
প্রার্থনা করছি, আর (প্রার্থনা করছি)
প্রতিটি গুনাহ হতে দূরে থাকা ও
প্রতিটি নেকী লাভ করা এবং জান্নাতের
সাফল্য ও জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি) [29]
[1] তিরমিযী ৩৩৭২, ২৯৬৯, ৩২৪৭, ইবনু মাজাহ ৩৮২৮
[2] আবূ দাউদ ১৪৮২, আহমাদ ২৭৬৫০, ২৭৬৪৯
[3] সহীহুল বুখারী ৪৫২২, ৬৩৮৯, মুসলিম ২৬৮৮,
তিরমিযী ৩৪৮৩, আবূ দাউদ ১৫১৯, আহমাদ ১১৫৭০,
১১৫৩৮, ১২৭৫১, ১২৭৭৪, ১৩১৬৮, ১৩৫২৪, ১৩৬৫৩
[4] মুসলিম ২৭২১, তিরমিযী ৩৪৮৯, ইবনু মাজাহ ৩৮৩২,
আহমাদ ৩৬৮৪, ৩৮৯৪, ৩৯৪০, ৪১২৪, ৪১৫১, ৪২২১
[5] মুসলিম ২৬৯৭, ইবনু মাজাহ ৩৮৪৫, আহমাদ ১৫৪৪৮,
২৫৬৭০
[6] মুসলিম ২৬৫৪, আহমাদ ৬৫৩৩, ৬৫৭৩
[7] সহীহুল বুখারী ৬৩৪৭, ৬৬১৬, মুসলিম ২৭০৭,
নাসায়ী ৫৪৯১, ৫৪৯২, ৭৩০৮
[8] মুসলিম ২৭২০
[9] মুসলিম ২৭২৫, নাসায়ী ৫২১০, ৫২১২, ৫৩৭৬, আবূ দাউদ
৪২২৫, আহমাদ ৬৬৬, ১১৬৬, ১৩২৩
[10] সহীহুল বুখারী ২৮২৩, ৪৭০৭, ৬৩৬৭, ৬৩৬৯, ৬৩৭১,
মুসলিম ২৭০৬, তিরমিযী ৩৪৮৪, ৩৪৮৫,
নাসায়ী ৫৪৪৮-৫৪৫২, ৫৪৫৭, ৫৪৫৯, ৫৪৭৬, ৫৪৯৫, ৫৫০৩,
আবূ দাউদ ১৫৪০, ৩৯৭২, আহমাদ ১১৭০৩, ১১৭৫৬, ১১৮১৬,
১২৪২২, ১৩৬৬৩, ১২৭২০, ১২৭৬০, ১২৮২১, ১২৮৯১
[11] সহীহুল বুখারী ৮৩৪, ৬৩২৬, ৭৩৮৮, মুসলিম ২৭০৫,
তিরমিযী ৩৫৩১, নাসায়ী ১৩০২, ইবনু মাজাহ
৩৮৩৫, আহমাদ ৮, ২৯
[12] সহীহুল বুখারী ৬৩৯৮, ৬৩৯৯, মুসলিম ২৭১৯,
আহমাদ ১৯২৩৯
[13] মুসলিম ২৭১৬, নাসায়ী ১৩০৭, ৫৫২৩, ৫৫২৪
থেকে ৫৫২৮, আবূ দাউদ ১৫৫০, ইবনু মাজাহ ৩৮৩৯,
আহমাদ ২৩৫১৩, ২৪৫৬১, ২৫২৫৬, ২৫৬৭৩, ২৫৮৩৬
[14] মুসলিম ২৭৩৯, আবূ দাউদ ১৫৪৫
[15] মুসলিম ২৭২২, তিরমিযী ৩৫৭২, নাসায়ী ৫৪৫৮,
৫৫৩৮
[16] সহীহুল বুখারী ১১২০, ৬৩১৭, ৭৩৮৫, ৭৪৪২, ৭৪৯৯,
মুসলিম ৭৬৯, তিরমিযী ৩৪১৮, নাসায়ী ১৬১৯, আবূ
দাউদ ৭৭১, ইবনু মাজাহ ১৩৫৫, আহমাদ ২৭০৫, ২৭৪৩,
২৮০৮, ৩৩৫৮, ৩৪৪৮, মুওয়াত্তা মালিক ৫০০,
দারেমী ১৪৮৬
[17] সহীহুল বুখারী ৮৩৩, ২৩৯৭, ৬৩৬৮, ৬৩৭৫, ৬৩৭৬,
৬৩৭৭, ৭১২৯, মুসলিম ৫৮৭, ৫৮৯, নাসায়ী ১৩০৯, ৫৪৫৪,
৫৪৬৬, ৫৪৭২, ৫৪৭৭, ৫৪০৪, ইবনু মাজাহ ৩৮৩৮, আহমাদ
২৪০৫৭, ২৪০৬১, ২৫৭৯৫, আবূ দাউদ ১৫৪৩,
তিরমিযী ৩৪৮৯
[18] তিরমিযী ৩৫৯১
[19] তিরমিযী ৩৪৯২, নাসায়ী ৫৪৫৫, ৫৪৫৬, আবূ দাউদ
১৫৫১
[20] আবূ দাউদ ১৫৫৪, নাসায়ী ৫৪৯৩, আহমাদ ১২৫৯২
[21] আবূ দাউদ ১৫৪৭, নাসায়ী ৫৪৬৮, ৫৪৬৯
[22] তিরমিযী ৩৫৬৩, আহমাদ ১৩২১
[23] আমি (আলবানী) বলছিঃ ইমাম
তিরমিযী এরূপই বলেছেন। সম্ভবত (এরূপ হাসান
বলাটা) তিরমিযীর কোন কোন কপিতে এসেছে।
কিন্তু বূলাক ছাপায় (২/২৬১)
তিনি বলেনঃ হাদীসটি গারীব। অর্থাৎ দুর্বল।
এর সনদের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এরূপ হওয়াই
উচিত। কারণ এর
সনদে বিচ্ছিন্নতা এবং দুর্বলতা রয়েছে। (এর
বর্ণনাকারী শাবীবকে হাফিয যাহাবী দুর্বল
আখ্যা দিয়েছেন)। এটিকে ইবনু হিববান (২৪৩১) ও
আহমাদ (৪/৪৪৪) অন্য সূত্রে ﺍﻟﻠﻬﻢ ﻗﻨﻲ ﺷﺮ ﻧﻔﺴﻲ ﻭﺍﻋﺰﻡ ﻋﻠﻰ
ﺭﺷﺪﻱ ﺃﻣﺮﻱ ভাষায় বর্ণনা করেছেন। এ ভাষার
সনদটি শাইখাইনের (বুখারী এবং মুসলিমের)
শর্তানুযায়ী সহীহ্।
আর ইমাম আহমাদ (৪/২১৭) বর্ণনা করেছেন যে, রসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম বলেছেনঃ ﺍَﻟﻠﻬﻢ
ﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟِـﻰ ﺫَﻧْﺒِﻰ ﺧَﻄَـﺌِﻰ ﻭَﻋَﻤْﺪِﻯ ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺇِﻧِّﻰ ﺃَﺳْﺘَﻬْﺪِﻳﻚَ ﻷَﺭْﺷَﺪِ ﺃَﻣْﺮِﻯ ﻭَﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ
ﻧَﻔْﺴِﻰ এর সনদটিও ভালো।
[24] তিরমিযী ৩৫৯৪
[25] তিরমিযী ৩৫২২, আহমাদ ২৫৯৮০, ২৬০৩৬, ২৬১৩৯
[26] আমি (আলবানী) বলছিঃ ইমাম
তিরমিযী এরূপই বলেছেন। অথচ এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট
বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। কারণ হাদীসটির
সনদে আব্দুল্লাহ্ ইবনু রাবী‘য়াহ্
দেমাস্কী রয়েছেন। আর তিনি হচ্ছেন মাজহূল
যেমনটি হাফিয ইবনু হাজার বলেছেন।
[27] তিরমিযী ৩৫২৪, ৩৫২৫
[28] এ হাদীসটি দুর্বল। লাইস ইবনু আবী সুলাইমের
মস্তিষ্ক বিকৃত ঘটার কারণে। দেখুন “য‘ঈফা
” (৩৩৫৬), “য‘ঈফু তিরমিযী” (৩৫২১) ও “য‘ঈফু
আদাবিল মুফরাদ” (৬৭৯)।
[29] আমি (আলবানী) বলছিঃ হাকিম এরূপই
বলেছেন অথচ এর সনদের মধ্যে এমন
ব্যক্তি রয়েছেন যার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল।
বিস্তারিত জানতে দেখুন “য‘ঈফা” (২৯০৮)। তিনি
“য‘ঈফা” হাদীসটিকে খুবই দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।
এর বর্ণনাকারী খালাফ ইবনু খালীফাহ্ হেফযের
দিক থেকে বিতর্কিত ব্যক্তি। কেউ কেউ
তাকে মিথ্যা বর্ণনা করার
দোষে দোষী করেছেন। হাফিয যাহাবী তাকে
“আয্যু‘য়াফা” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর ইবনু
ওয়াইনাহ্ বলেছেনঃ তিনি মিথ্যা বলেন।
হাফিয ইবনু হাজার “আত্তাক্বরীব”
গ্রন্থে বলেনঃ তিনি সত্যবাদী তবে শেষ
বয়সে মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল। দু‘আটির
শুধুমাত্র প্রথম ( ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺇﻧﻲ ﺃﺳﺄﻟﻚ ﻣﻮﺟﺒﺎﺕ ﺭﺣﻤﺘﻚ ﻭﻋﺰﺍﺋﻢ ﻣﻐﻔﺮﺗﻚ ) এ
অংশের সাথে মিল রয়েছে অবশিষ্ট অংশের
মিল নেই এরূপ সহীহ্ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। দেখুন
“সহীহাহ্” (৩২২৮)
দো‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কতিপয় দো‘আর নমুনা
Price : *Happy Shopping

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url