নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলী | শরিফ গাজী অফিসিয়াল

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলী


ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি
পরিপূর্ণতার গুণাবলী দ্বারা অনুগ্রহ করেছেন এবং তাদের
একের উপর অন্যের মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন; যাতে
তাদেরকে পরীক্ষা করা যায় সেসব বৈশিষ্ট্যের
ব্যাপারে, যা থেকে তাদেরকে দেয়া হয়েছে; আর আমি
সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোন হক ইলাহ নেই, তিনি
একক, তাঁর কোন শরীক নেই, তার রয়েছে বিরাট রাজত্ব, আর
তিনি সুউচ্চ; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল,
যাঁকে প্রেরণ করা হয়েছে সর্বোত্তম চরিত্র ও সুন্দর
কর্মের পরিপূর্ণতা বিধান করার জন্য; রাত-দিন আল্লাহ
রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন তাঁর প্রতি, তাঁর পরিবার-
পরিজনের প্রতি, তাঁর সাহাবীগণের প্রতি এবং তাঁদের
সর্বোত্তম অনুসরণকারী তাবে‘য়ীগণের প্রতি ...।
অতঃপর:
আল্লাহ তা‘আলা মহান রিসালাতের দায়িত্ব মুহাম্মদ
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অর্পণ
করেছেন; আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:
﴿ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻋۡﻠَﻢُ ﺣَﻴۡﺚُ ﻳَﺠۡﻌَﻞُ ﺭِﺳَﺎﻟَﺘَﻪُۥۗ ﴾ ‏[ :ﻡﺎﻌﻧﻻﺍ ٤٢١‏]
“আল্লাহ তাঁর রিসালাত কোথায় অর্পণ করবেন তা তিনিই
ভাল জানেন”। - [ আল-আন‘আম: ১২৪ ]। তিনি তা এমন এক
ব্যক্তির নিকট অর্পণ করেছেন, যাঁকে তিনি সৃষ্টিগত,
চরিত্রগত[1] ও আকৃতি-প্রকৃতিগতভাবে পূর্ণতা দান
করেছেন, যাতে তিনি এই মহান রিসালাতের দায়িত্ব বহন
করতে পারেন; সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লাম সৃষ্টিগত ও চরিত্রগতভাবে সবচেয়ে পরিপূর্ণ
মানুষ ছিলেন।
* * *
প্রথম অধ্যায়
তাঁর সৃষ্টিগত গুণাবলী
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টিকে পরিপূর্ণ করেছেন, যেমন
তাঁর শরীরের বর্ণনায় এসেছে যে, তাঁর শরীরের গঠন ছিল
সামঞ্জস্যপূর্ণ সুদর্শন সুন্দর [2] ; সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষদের মধ্যে মধ্যম আকৃতির[3]
ছিলেন; তিনি খুব বেশি লম্বাও ছিলেন না, আবার বেঁটেও
ছিলেন না[4] ; তাঁর উভয় কাঁধের দূরত্ব ছিল অল্প বেশি [5] ;
তিনি ছিলেন স্থূলাকার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অধিকারী [6] ,
ভারসাম্যপূর্ণ; বিস্তৃত বুকের অধিকারী[7] ; আর তিনি
ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম চেহারার [8] অধিকারী;
তিনি ছিলেন দুধে আলতার মত ফর্সা উজ্জ্বল বর্ণের[9] ;
চেহারা গোলাকৃতির[10] ; সাথে চিবুকদ্বয় ছিল সাবলীল
[11] ; চক্ষুদ্বয় ছিল গভীর কৃষ্ণতা বিশিষ্ট ডাগর ডাগর
[12] ; মনোরম ভ্রূ, যা উভয়ের মাঝে সংযোগ বিহীন [13] ; সরু
নাক [14] ; সুন্দর মুখ [15] ; প্রশস্ত দাঁত, সামনের দাঁতগুলো
উজ্জ্বল চকচকে[16] ; ঘন সুন্দর দাঁড়ি [17] ।
আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন: আল্লাহর
রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন
মারা যান, তখন তাঁর মাথা ও দাঁড়ির মধ্যে বিশটি চুলও
সাদা ছিল না; আর তাও কিছু সাদা ছিল তাঁর নিম্ন ঠোঁটের
নীচের ছোট দাঁড়িতে, আর কিছু ছিল কানপট্টিতে এবং
মাথার মধ্যে ছিল সামান্য কয়টি[18] ; তাঁর মাথার চুল দুই
কানের লতি থেকে দুই কাঁধের মাঝামাঝি পৌঁছে যেত [19] ;
তিনি (কপালের উপর চুল) ঝুলিয়ে রাখতেন, অতঃপর তিনি
তাকে সিঁথি কাটার দিকে পরিবর্তন করেন[20] ; ফলে
তিনি মাথার দুই পাশের মাঝ বরাবর সিঁথি কাটতেন।
এই হল নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের
সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্যাবলী, যা পূরুষ ব্যক্তিদের পরিপূর্ণ
গুণাবলীর সমাহার, আমি সেসব গুণাবলী আপনাদের
উদ্দেশ্যে বর্ণনা করেছি, যাতে তা আপনাদের জন্য
নিদর্শন বা চিহ্ন হতে পারে ঐ সময়ে, যখন আপনারা
তাঁকে স্বপ্নের মধ্যে দেখতে পাবেন; কারণ, যে ব্যক্তি
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর ব্যাপারে
প্রমাণিত বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলীর আলোকে স্বপ্নের মধ্যে
দেখতে পাবে, সে ব্যক্তি সত্যি সত্যি তাঁকে দেখেছে;
কেননা শয়তান তাঁর রূপ ধারণ করতে পারে না[21] ।
গ্রন্থের তাহকীককারী বলেন,
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের (সৃষ্টিগত)
বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্যতম হচ্ছে,
১. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কেশ
মুবারক:
কাতাদা র. বলেন:
‏« ﻗُﻠْﺖُ ﻷَﻧَﺲِ ﺑْﻦِ ﻣَﺎﻟِﻚٍ ﻛَﻴْﻒَ ﻛَﺎﻥَ ﺷَﻌَﺮُ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ؟ :َﻝﺎَﻗ ‏« ﻛَﺎﻥَ ﺷَﻌَﺮًﺍ ﺭَﺟِﻼً ﻟَﻴْﺲَ ﺑِﺎﻟْﺠَﻌْﺪِ ﻭَﻻَ ﺍﻟﺴَّﺒِﻂِ
ﺑَﻴْﻦَ ﺃُﺫُﻧَﻴْﻪِ ﻭَﻋَﺎﺗِﻘِﻪِ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ
ﻣﺴﻠﻢ ‏) .
“আমি আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে জিজ্ঞাসা
করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের
কেশ মুবারক কেমন ছিল? জবাবে তিনি বললেন: মধ্যম
প্রকৃতির ছিল; খুব কোঁকড়ানো ছিল না, আবার একেবারে
সোজাও ছিল না; তা ছিল দুই কাঁধ ও দুই কানের মাঝ
বরাবর।”  [মুসলিম, আস-সহীহ: ফাযায়েল / ২৬, হাদিস নং-
২৩৩৮, ৪ / ১৮১৯ ]।
" ﺭَﺟِﻼ " অর্থ: কোঁকড়ানো ও সোজা অবস্থার মাঝামাঝি
অবস্থা। — [ ইমাম নববীর ব্যাখ্যাসহ সহীহ মুসলিম: ১৫ /
৯২ ]।
" " ﺪﻌﺠﻟﺍ অর্থ: বস্তুর মধ্যে বক্রতা বা কুঞ্চিত হওয়া; বলা
হয়: " ﺷﻌﺮ ﺟﻌﺪ " (কোঁকড়ানো চুল); আর ﺪﻌﺟ শব্দটি ﺳﺒﻂ
(সোজা) শব্দের বিপরীত। — দেখুন: আল-কামূসুল মুহীত, মূল
অক্ষর: (ﺪﻌﺟ), পৃ. ৩৪৮।
" ﺍﻟﺴﺒﻂ " অর্থ: সোজা হওয়া;
আর ﻂﺒﺳ শব্দটি  ﺪﻌﺟ (বক্রতা) শব্দের বিপরীত। — দেখুন:
আল-কামূসুল মুহীত, মূল অক্ষর: (ﻂﺒﺳ), পৃ. ৮৬৩
২. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন
সুরভীময় ও কোমল:
আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন:
‏« ﻣَﺎ ﺷَﻤِﻤْﺖُ ﻋَﻨْﺒَﺮًﺍ ﻗَﻂُّ , ﻭَﻻَ ﻣِﺴْﻜًﺎ , ﻭَﻻَ ﺷَﻴْﺌًﺎ ﺃَﻃْﻴَﺐَ ﻣِﻦْ ﺭِﻳﺢِ
ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ , ﻭَﻻَ ﻣَﺴِﺴْﺖُ ﺷَﻴْﺌًﺎ ﻗَﻂُّ
ﺩِﻳﺒَﺎﺟًﺎ ﻭَﻻَ ﺣَﺮِﻳﺮًﺍ ﺃَﻟْﻴَﻦَ ﻣَﺴًّﺎ ﻣِﻦْ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ ‏) .
“আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের
(মুবারক শরীরের) চেয়ে সুগন্ধিময় কোনো আম্বর, মিশক বা
অন্য কোনো বস্তুর ঘ্রাণ গ্রহণ করি নি
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের
(মুবারক শরীরের) চেয়ে কোমল কোনো রেশম বা মোলায়েম
কাপড় আমি স্পর্শ করি নি।”  [মুসলিম, আস-সহীহ:
ফাযায়েল / ২১, হাদিস নং- ২৩৩০, ৪ / ১৮১৪ - ১৮১৫]।
৩. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘামের
সুগন্ধি এবং তার দ্বারা বরকত লাভ:
আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন:
‏« ﺩَﺧَﻞَ ﻋَﻠَﻴْﻨَﺎ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰُّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻋِﻨْﺪَﻧَﺎ ﻓَﻌَﺮِﻕَ
ﻭَﺟَﺎﺀَﺕْ ﺃُﻣِّﻰ ﺑِﻘَﺎﺭُﻭﺭَﺓٍ ﻓَﺠَﻌَﻠَﺖْ ﺗَﺴْﻠُﺖُ ﺍﻟْﻌَﺮَﻕَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻓَﺎﺳْﺘَﻴْﻘَﻆَ
ﺍﻟﻨَّﺒِﻰُّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ :َﻝﺎَﻘَﻓ ‏« ﻳَﺎ ﺃُﻡَّ ﺳُﻠَﻴْﻢٍ ! ﻣَﺎ ﻫَﺬَﺍ
ﺍﻟَّﺬِﻯ ﺗَﺼْﻨَﻌِﻴﻦَ ؟ ‏». ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻫَﺬَﺍ ﻋَﺮَﻗُﻚَ ﻧَﺠْﻌَﻠُﻪُ ﻓِﻰ ﻃِﻴﺒِﻨَﺎ ﻭَﻫُﻮَ ﻣِﻦْ
ﺃَﻃْﻴَﺐِ ﺍﻟﻄِّﻴﺐِ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ ‏) .
“নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ঘরে
আসলেন এবং বিশ্রাম নিলেন; অতঃপর তিনি ঘামছিলেন,
আর আমার মা একটি শিশি নিয়ে তা মুছে মুছে তাতে ভরতে
লাগলেন; অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম
জেগে গেলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন: হে উম্মে সুলাইম!
একি করছ? জবাবে তিনি বললেন: এ আপনার ঘাম, যা আমরা
সুগন্ধির সাথে মিশ্রিত করি, আর এ তো সব সুগন্ধির সেরা
সুগন্ধি।”  [মুসলিম, আস-সহীহ: ফাযায়েল / ২২, হাদিস নং-
২৩৩১, ৪ / ১৮১৫]।
আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে আরও বর্ণিত
আছে, তিনি বলেন:
‏« ﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰُّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﺪْﺧُﻞُ ﺑَﻴْﺖَ ﺃُﻡِّ ﺳُﻠَﻴْﻢٍ ﻓَﻴَﻨَﺎﻡُ
ﻋَﻠَﻰ ﻓِﺮَﺍﺷِﻬَﺎ , ﻭَﻟَﻴْﺴَﺖْ ﻓِﻴﻪِ , :َﻝﺎَﻗ ﻓَﺠَﺎﺀَ ﺫَﺍﺕَ ﻳَﻮْﻡٍ ﻓَﻨَﺎﻡَ ﻋَﻠَﻰ
ﻓِﺮَﺍﺷِﻬَﺎ , ﻓَﺄُﺗِﻴَﺖْ , ﻓَﻘِﻴﻞَ ﻟَﻬَﺎ : ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰُّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ ﻧَﺎﻡَ ﻓِﻰ ﺑَﻴْﺘِﻚِ ﻋَﻠَﻰ ﻓِﺮَﺍﺷِﻚِ , ﻗَﺎﻝَ : ﻓَﺠَﺎﺀَﺕْ ﻭَﻗَﺪْ , َﻕِﺮَﻋ
ﻭَﺍﺳْﺘَﻨْﻘَﻊَ ﻋَﺮَﻗُﻪُ ﻋَﻠَﻰ ﻗِﻄْﻌَﺔِ ﺃَﺩِﻳﻢٍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻔِﺮَﺍﺵِ , ﻓَﻔَﺘَﺤَﺖْ
ﻋَﺘِﻴﺪَﺗَﻬَﺎ ﻓَﺠَﻌَﻠَﺖْ ﺗُﻨَﺸِّﻒُ ﺫَﻟِﻚَ ﺍﻟْﻌَﺮَﻕَ ﻓَﺘَﻌْﺼِﺮُﻩُ ﻓِﻰ ﻗَﻮَﺍﺭِﻳﺮِﻫَﺎ ,
ﻓَﻔَﺰِﻉَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰُّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ , :َﻝﺎَﻘَﻓ ‏« ﻣَﺎ ﺗَﺼْﻨَﻌِﻴﻦَ ﻳَﺎ ﺃُﻡَّ
ﺳُﻠَﻴْﻢٍ !؟ ‏» . ﻓَﻘَﺎﻟَﺖْ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻧَﺮْﺟُﻮ ﺑَﺮَﻛَﺘَﻪُ ﻟِﺼِﺒْﻴَﺎﻧِﻨَﺎ , :َﻝﺎَﻗ ‏«
ﺃَﺻَﺒْﺖِ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ ‏) .
“নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সুলাইমের
ঘরে যেতেন এবং তার বিছানায় ঘুমাতেন, এমতাবস্থায় যে
উম্মে সুলাইম তখন ঘরে থাকতেন না। আনাস রাদিয়াল্লাহু
‘আনহু বলেন, একদিন তিনি এলেন এবং তার বিছানায়
ঘুমালেন। অতঃপর তিনি (উম্মে সুলাইম) এলে তাকে বলা
হল, ইনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তোমার
ঘরে তোমার বিছানায় ঘুমিয়ে আছেন। আনাস রাদিয়াল্লাহু
‘আনহু বলেন, উম্মে সুলাইম ঘরে এলেন, নবী সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন ঘেমেছেন, আর তাঁর ঘাম
চামড়ার বিছানার উপর জমেছে। উম্মে সুলাইম তার কৌটা
খুললেন এবং সে ঘাম মুছে মুছে শিশিতে ভরতে লাগলেন।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্ত্রস্ত হয়ে ঘুম
থেকে উঠে তাকে বললেন, তুমি কী করছ, হে উম্মে সুলাইম!?
তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের শিশুদের
বরকতের উদ্দেশ্যে নিচ্ছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ভাল করেছ।” [মুসলিম, আস-
সহীহ: ফাযায়েল / ২২, হাদিস নং- ২৩৩২, ৪ / ১৮১৫ -
১৮১৬]।
৪. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুচকি
হাসি:
সকল হাদিস থেকে এই কথা পরিষ্কার যে,
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ
অবস্থায় মুচকি হাসি হাসতেন, তবে কখনও কখনও তিনি এর
উপর বৃদ্ধি করে সাধারণভাবে হাসতেন।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত আছে, তিনি
বলেন:
‏« ﻣﺎ ﺭﺃﻳﺖ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻣﺴﺘﺠﻤﻌﺎ ﻗﻂ ﺿﺎﺣﻜﺎ
ﺣﺘﻰ ﺃﺭﻯ ﻣﻨﻪ , ﻪﺗﺍﻮﻬﻟ ﺇﻧﻤﺎ ﻛﺎﻥ ﻳﺘﺒﺴﻢ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ
ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏) .
“আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মুখভরে
হাসতে দেখি নি যে তাঁর আলা জিহ্বা দেখা যাবে; তিনি
তো শুধু মুচকি হাসতেন।”  [বুখারী, আস-সহীহ: আদব / ৬৮,
৭ / ৯৪ - ৯৫]।
৫. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথাবার্তা:
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত আছে, তিনি
বলেন:
‏« ﺇﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻳﺴﺮﺩ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ
ﻛﺴﺮﺩﻛﻢ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏) .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের
কথা বলার মত করে অনবরত কথা বলতেন না।”  [বুখারী,
আস-সহীহ: মানাকিব / ২৩, ৪ / ১৬৪; তিরমিযী, আস-সুনান:
মানাকিব / ৯, হাদিস নং- ৩৬৩৯, ৫ / ৬০০]। আর
তিরমিযীর বর্ণনার মধ্যে অতিরিক্ত আছে:
‏« ﻟﻜﻨﻪ ﻛﺎﻥ ﻳﺘﻜﻠﻢ ﺑﻜﻼﻡ ﺑﻴﻨﻪ , ﻞﺼﻓ ﻳﺤﻔﻈﻪ ﻣﻦ ﺟﻠﺲ ﺇﻟﻴﻪ
‏» .
“বরং তিনি সুস্পষ্ট করে আলাদা আলাদাভাবে কথা
উচ্চারণ করতেন; ফলে যারা তাঁর কাছে বসা থাকত, তারা
তা সংরক্ষণ করতে পারত।”
৬. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের (হাঁটা)
পথচলা:
পূর্বোক্ত আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক
বর্ণিত হাদিসের মধ্যে আছে:
‏« ﺇِﺫﺍ ﻣﺸﻰ ﺗَﻜﻔَّﺎ . ﺎﻴِّﻔﻜﺗ ﻛﺄﻧﻤﺎ ﺍﻧﺤﻂّ ﻣﻦ ﺻﺒﺐ . ﻟﻢ ﺃﺭ ﻗﺒﻠﻪ ﻭﻻ
ﺑﻌﺪﻩ ﻣﺜﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ‏) .
“নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাঁটতেন, তখন
সামনের দিকে ঝুঁকে চলতেন, মনে হত যেন তিনি যমীনের
নীচু অংশে অবতরণ করছেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বে ও পরে তাঁর মত (এত অধিক
সুন্দর) আর কাউকে দেখি নি।” [ তিরমিযী, আস-সুনান:
মানাকিব / ৮, হাদিস নং- ৩৬৩৭; ৫ / ৫৯৮]।
আর আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে,
তিনি বলেন:
‏« ﻣﺎ ﺭﺃﻳﺖ ﺷﻴﺌﺎ ﺃﺣﺴﻦ ﻣﻦ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ
,ﻛﺄﻥ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﺗﺠﺮﻱ ﻓﻲ ﻭﺟﻬﻪ , ﻣﺎ ﺭﺃﻳﺖ ﺃﺣﺪﺍ ﺃﺳﺮﻉ ﻓﻲ
ﻣﺸﻴﻪ ﻣﻦ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ , ﻛﺄﻧﻤﺎ ﺍﻷﺭﺽ
ﺗﻄﻮﻯ ﻟﻪ , ﺇﻧﺎ ﻟﻨﺠﻬﺪ ﺃﻧﻔﺴﻨﺎ , ﻭﺇﻧﻪ ﻟﻐﻴﺮ ﻣﻜﺘﺮﺙ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ
ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ‏) .
“আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লাম থেকে সুন্দর কিছু দেখি নি; সূর্য যেন তাঁর
চেহারায় ছিল প্রবাহিত। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপেক্ষা দ্রুত হাঁটতে আমি কাউকে
দেখি নি, মনে হত যেন তাঁর জন্য যমীনকে সংকুচিত করে
দেয়া হয়েছে; আমরা তো খুবই চেষ্টা করতাম (তার সাথে
তাল মিলিয়ে চলতে); কিন্তু তিনি ছিলেন একেবারেই
নিঃস্পৃহ।” [তিরমিযী, আস-সুনান: মানাকিব / ১২, হাদিস
নং- ৩৬৪৮; ৫ / ৬০৪; আর তিনি বলেন: এই হাদিসটি গরীব
হাদিস]।
৭. মোহরে নবুয়তের বর্ণনা ও নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লামের দেহে তার অবস্থান:
সায়েব ইবন ইয়াযিদ র. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
‏« ﺫﻫﺒﺖ ﺑﻲ ﺧﺎﻟﺘﻲ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ
:ﺖﻟﺎﻘﻓ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ! ﺇﻥ ﺍﺑﻦ ﺃﺧﺘﻲ ﻭﺟﻊ , ﻓﻤﺴﺢ ﺭﺃﺳﻲ ,
ﻭﺩﻋﺎ ﻟﻲ , ﺔﻛﺮﺒﻟﺎﺑ ﺛﻢ ﺗﻮﺿﺄ ﻓﺸﺮﺑﺖ ﻣﻦ , ﻪﺋﻮﺿﻭ ﺛﻢ ﻗﻤﺖ ﺧﻠﻒ
ﻇﻬﺮﻩ ﻓﻨﻈﺮﺕ ﺇﻟﻰ ﺧﺎﺗﻢ ﺍﻟﻨﺒﻮﺓ ﺑﻴﻦ ﻛﺘﻔﻴﻪ , ﻣﺜﻞ ﺯﺭ ﺍﻟﺤﺠﻠﺔ
‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﻭ ﻣﺴﻠﻢ ‏) .
“আমার খালা আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে গেলেন, তারপর তিনি বললেন:
হে আল্লাহর রাসূল! এটি আমার বোনের ছেলে, সে অসুস্থ;
তখন তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং আমার
জন্য বরকতের দো‘আ করলেন; অতঃপর উযু করলেন, আর আমি
তাঁর উযুর পানি থেকে পান করলাম; অতঃপর তাঁর পেছনে
দাঁড়ালাম এবং তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে হাজেলার
বোতামের মত মোহরে নবুয়ত দেখতে পেলাম।”  [ বুখারী,
আস-সহীহ: মানাকিব / ২২, ৪ / ১৬৩; মুসলিম, আস-সহীহ:
ফাযায়েল / ৩০, হাদিস নং- ২৩৪৫, ৪ / ১৮২৩ ]।
" " ﺔﻠﺠﺤﻟﺍ : ‘হাজেলা’ হল তাঁবুর মত ঘর বিশেষ, যার কতগুলো
বড় বড় বোতাম রয়েছে এবং তা খোলামেলা। - [ ইমাম
নববীর ব্যাখ্যাসহ সহীহ মুসলিম: ১৫ / ৯৮ ]।
আর ‘আসেম র. থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ ইবন সারজিস
রা. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
‏« ﺭَﺃَﻳْﺖُ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭَﺃَﻛَﻠْﺖُ ﻣَﻌَﻪُ ﺧُﺒْﺰًﺍ , ﺎًﻤْﺤَﻟَﻭ
ﺃَﻭْ :َﻝﺎَﻗ ﺛَﺮِﻳﺪًﺍ , :َﻝﺎَﻗ ﻓَﻘُﻠْﺖُ :ُﻪَﻟ ﺃَﺳْﺘَﻐْﻔَﺮَ ﻟَﻚَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰُّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ؟ ﻗَﺎﻝَ ﻧَﻌَﻢْ , ﻭَﻟَﻚَ , ﺛُﻢَّ ﺗَﻼَ ﻫَﺬِﻩِ :َﺔَﻳﻵﺍ ‏(ﻭَﺍﺳْﺘَﻐْﻔِﺮْ
ﻟِﺬَﻧْﺒِﻚَ ﻭَﻟِﻠْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻭَﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨَﺎﺕِ‏) .
ﻗَﺎﻝَ ﺛُﻢَّ ﺩُﺭْﺕُ ﺧَﻠْﻔَﻪُ ﻓَﻨَﻈَﺮْﺕُ ﺇِﻟَﻰ ﺧَﺎﺗَﻢِ ﺍﻟﻨُّﺒُﻮَّﺓِ ﺑَﻴْﻦَ ﻛَﺘِﻔَﻴْﻪِ ﻋِﻨْﺪَ
ﻧَﺎﻏِﺾِ ﻛَﺘِﻔِﻪِ ﺍﻟْﻴُﺴْﺮَﻯ ﺟُﻤْﻌًﺎ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺧِﻴﻼَﻥٌ ﻛَﺄَﻣْﺜَﺎﻝِ ﺍﻟﺜَّﺂﻟِﻴﻞِ ‏» .
‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ ‏) .
“আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে
দেখেছি এবং তাঁর সাথে গোশত ও রুটি খেয়েছি, অথবা
বলেছেন ‘সারিদ’ (খেয়েছি)। আসেম বলেন: অতঃপর আমি
তাকে বললাম: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লাম কি আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন?
তিনি বললেন: হ্যাঁ, তোমার জন্যও। অতঃপর তিনি এই
আয়াতটি তিলাওয়াত করেন: ‏( ﻭَﺍﺳْﺘَﻐْﻔِﺮْ ﻟِﺬَﻧْﺒِﻚَ ﻭَﻟِﻠْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ
ﻭَﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨَﺎﺕِ‏) [ ক্ষমা প্রার্থনা কর তোমার পাপের জন্য এবং
মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্য]।”
আবদুল্লাহ বললেন: তারপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে গেলাম এবং মোহরে
নবুওয়ত দেখলাম তাঁর দুই কাঁধের মাঝে বাম পাশের বাহুর
হাড়ের কাছে অংগুলির মাথা একত্রিত করলে যেমন হয়
অনেকটা তেমন, যাতে তিলক আছে, মনে হয় যেন কতগুলো
বিচি এর সমষ্টি।” [ মুসলিম, আস-সহীহ: ফাযায়েল / ৩০,
হাদিস নং- ২৩৪৬, ৪ / ১৮২৩ – ১৮২৪ ]।
:  ﻧﺎﻏﺾ অধিকাংশ আলেম বলেন, " ﺍﻟﻨﻐﺾ " এবং " ﺍﻟﻨﺎﻏﺾ
"অর্থ হল: কাঁধের সর্বোচ্চ ভাগ; কেউ কেউ বলেন: তা হল
কাঁধের প্রান্তে অবস্থিত সূক্ষ্ম হাড়; আবার কেউ কেউ
বলেন: নড়াচড়ার সময় তার থেকে যা প্রকাশ হয়। - [ ইমাম
নববীর ব্যাখ্যাসহ সহীহ মুসলিম: ১৫ / ৯৮ ]।
:  ﺍﻟﺨِﻴﻼﻥ বহুবচন, একবচনে " ﺧﺎﻝ " , অর্থ হল: শরীরের
মধ্যে তিলক বা মাশা। - [ ইমাম নববীর ব্যাখ্যাসহ সহীহ
মুসলিম: ১৫ / ৯৯ ]।
কুরতবী বলেন: বিশুদ্ধ হাদিসসমূহের ঐক্যবদ্ধ রায় হল,
মোহরে নবুয়ত ছিল তাঁর বাম কাঁধের কাছে স্পষ্ট লাল
কিছু, যার পরিমাণ ছোট করে বুঝালে কবুতরের ডিমের
পরিমাণ। আর বড় করে বুঝালে তখন তা হাতের আঙ্গুলের
মাথা একত্রিত করলে যতটুকু হয় ততটুকু পরিমাণ হত।
আল্লাহই অধিক ভাল জানেন। [ফতহুল বারী: ৬ / ৫৬৩ ]।
৮. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কপাল
মুবারক:
হিন্দ ইবন আবি হালা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত
হাদিসের মধ্যে এসেছে:
‏« ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ .... ﺃﺯﻫﺮ ﺍﻟﻠﻮﻥ ،
ﻭﺍﺳﻊ ﺍﻟﺠﺒﻴﻦ ، ﺃﺯﺝ ﺍﻟﺤﻮﺍﺟﺐ ﺳﻮﺍﺑﻎ ﻓﻰ ﻏﻴﺮ ﻗﺮﻥ , ﺑﻴﻨﻬﻤﺎ ﻋﺮﻕ
ﻳﺪﺭﻩ ﺍﻟﻐﻀﺐ ، ﺃﻗﻨﻰ ﺍﻟﻌﺮﻧﻴﻦ , ﻟﻪ ﻧﻮﺭ ﻳﻌﻠﻮﻩ , ﻳﺤﺴﺒﻪ ﻣﻦ ﻟﻢ
ﻳﺘﺄﻣﻠﻪ ﺃﺷﻢ ، ﻛﺚ ﺍﻟﻠﺤﻴﺔ , ﺳﻬﻞ ... ﻦﻳﺪﺨﻟﺍ ‏» .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন ...
অতি প্রাঞ্জল বর্ণের অধিকারী; ললাটের উভয় পার্শ্ব ছিল
প্রশস্ততর; তাঁর ভ্রূযুগল বিমুক্ত বৃত্তাংশের ন্যায় বাঁকা,
খুব সূক্ষ্ম ঘন চুল বিশিষ্ট ছিল; আর ঐ ভ্রূযুগলের মাঝে এমন
একটি শিরা ছিল, যা রাগের সময় (অধিক রক্ত সঞ্চারিত
হওয়ার ফলে) ভেসে উঠত (প্রকাশ পেত); তাঁর নাসিকা
সুদীর্ঘ, অগ্রভাগ সরু ও মধ্যভাগ ন্যূজ্ব ছিল; তাঁর নাসিকায়
এমন নূর (জ্যোতি) ছিল, যা নাকের উপর বিকীর্ণ হত; কেউ
গভীর মনোযোগ সহকারে তাঁর নাকের প্রতি না তাকালে
অত্যুন্নত নাসা মনে করত; তাঁর দাঁড়ি ছিল বিস্তীর্ণ ও খুব
ঘন; গণ্ডদ্বয় ছিল মসৃণ; ...।”
৯. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাথা
মুবারক:
পূর্বে উল্লেখিত আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু
থেকে বর্ণিত হাদিসের মধ্যে আছে, তিনি বলেছেন:
‏« ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻟﻴﺲ ﺑﺎﻟﻄﻮﻳﻞ ﻭﻻ
ﺑﺎﻟﻘﺼﻴﺮ ﺿﺨﻢ ﺍﻟﺮﺃﺱ ... ﺔﻴﺤﻠﻟﺍﻭ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺃﺣﻤﺪ ‏) .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম লম্বাও
ছিলেন না, আবার বেঁটেও ছিলেন না (তিনি মধ্যম আকৃতির
ছিলেন); আর তিনি ছিলেন বড় মাথা ও দাঁড়ির
অধিকারী।” [ ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ: ১ / ৯৬; হাকেম,
আল-মুসতাদরাক: ২ / ৬০৬]।
১০. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কণ্ঠস্বর:
উম্মে মা‘বাদ রা. থেকে বর্ণিত হাদিসের মধ্যে আছে,
তিনি বলেছেন:
‏« ﻓﻲ ﺻﻮﺗﻪ ﺻﻬﻞ ‏» .
“তাঁর কণ্ঠস্বরের মধ্যে ছিল তীক্ষ্নতা ও বলিষ্ঠতা।”
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুচ্ছ
গুণাবলী
হুবাইশ ইবন খালিদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন:
‏« ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺣﻴﻦ ﺧﺮﺝ ﻣﻦ ﻣﻜﺔ ﺧﺮﺝ
ﻣﻨﻬﺎ ﻣﻬﺎﺟﺮﺍ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻤﺪﻳﻨﺔ , ﻫﻮ ﻭﺃﺑﻮ ﺑﻜﺮ ﻭﻣﻮﻟﻰ ﺃﺑﻲ ﺑﻜﺮ
ﻋﺎﻣﺮ ﺑﻦ ﻓﻬﻴﺮﺓ ، ﻭﺩﻟﻴﻠﻬﻤﺎ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﺃﺭﻳﻘﻂ ﺍﻟﻠﻴﺜﻲ , ﻓﻤﺮﻭﺍ
ﻋﻠﻰ ﺧﻴﻤﺘﻲ ﺃﻡ ﻣﻌﺒﺪ ﺍﻟﺨﺰﺍﻋﻴﺔ , ﻭﻛﺎﻧﺖ ﺑﺮﺯﺓ ﺟﻠﺪﺓ ﺗﺤﺘﺒﻲ
ﻭﺗﺠﻠﺲ ﺑﻔﻨﺎﺀ ﺍﻟﺨﻴﻤﺔ , ﺛﻢ ﺗﺴﻘﻲ ﻭﺗﻄﻌﻢ ، ﻓﺴﺄﻟﻮﻫﺎ ﻟﺤﻤﺎ
ﻭﺗﻤﺮﺍ ﻟﻴﺸﺘﺮﻭﻩ ﻣﻨﻬﺎ , ﻓﻠﻢ ﻳﺼﻴﺒﻮﺍ ﻋﻨﺪﻫﺎ ﺷﻴﺌﺎ ﻣﻦ ﺫﻟﻚ ،
ﻭﻛﺎﻥ ﺍﻟﻘﻮﻡ ﻣﺮﻣﻠﻴﻦ ﻣﺴﻨﺘﻴﻦ ﻓﻨﻈﺮ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ ﺇﻟﻰ ﺷﺎﺓ ﻓﻲ ﻛﺴﺮ ﺍﻟﺨﻴﻤﺔ ، ﻓﻘﺎﻝ : ‏« ﻣﺎ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﺸﺎﺓ
ﻳﺎ ﺃﻡ ﻣﻌﺒﺪ ؟ ‏» ﻗﺎﻟﺖ : ﺷﺎﺓ ﺧﻠﻔﻬﺎ ﺍﻟﺠﻬﺪ ﻣﻦ ﺍﻟﻐﻨﻢ :ﻝﺎﻗ ‏«
ﻫﻞ ﺑﻬﺎ ﻣﻦ ﻟﺒﻦ ؟ ‏» ﻗﺎﻟﺖ : ﻫﻲ ﺃﺟﻬﺪ ﻣﻦ ﺫﻟﻚ ﻗﺎﻝ : ‏«
ﺃﺗﺄﺫﻧﻴﻦ ﻟﻲ ﺃﻥ ﺃﺣﻠﺒﻬﺎ؟ ‏» : ﺖﻟﺎﻗ ﺑﺄﺑﻲ ﺃﻧﺖ ﻭﺃﻣﻲ ﻧﻌﻢ ﺇﻥ ﺭﺃﻳﺖ
ﺑﻬﺎ ﺣﻠﺒﺎ ﻓﺎﺣﻠﺐ ، ﻓﺪﻋﺎ ﺑﻬﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ
ﻓﻤﺴﺢ ﺑﻴﺪﻩ ﺿﺮﻋﻬﺎ , ﻭﺳﻤﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ , ﻭﺩﻋﺎ ﻟﻬﺎ ﻓﻲ
ﺷﺎﺗﻬﺎ , ﻓﺘﻔﺎﺟﺖ ﻋﻠﻴﻪ ، ﻭﺩﺭﺕ , ﻭﺍﺟﺘﺮﺕ , ﻭﺩﻋﺎ ﺑﺈﻧﺎﺀ ﻳﺮﺑﺾ
ﺍﻟﺮﻫﻂ ، ﻓﺤﻠﺐ ﻓﻴﻪ ﺛﺠﺎ ﺣﺘﻰ ﻋﻼﻩ ﺍﻟﺒﻬﺎﺀ , ﺛﻢ ﺳﻘﺎﻫﺎ ﺣﺘﻰ
ﺭﻭﻳﺖ ، ﻭﺳﻘﻰ ﺃﺻﺤﺎﺑﻪ ﺣﺘﻰ ﺭﻭﻭﺍ ، ﺛﻢ ﺷﺮﺏ ﺁﺧﺮﻫﻢ , ﺛﻢ ﺃﺭﺍﺿﻮﺍ
, ﺛﻢ ﺣﻠﺐ ﻓﻴﻪ ﺍﻟﺜﺎﻧﻴﺔ ﻋﻠﻰ ﻫﺪﺓ ﺣﺘﻰ ﻣﻸ ﺍﻹﻧﺎﺀ , ﺛﻢ
ﻏﺎﺩﺭﻩ ﻋﻨﺪﻫﺎ , ﻓﺒﺎﻳﻌﻬﺎ ﻭﺍﺭﺗﺤﻠﻮﺍ ﻋﻨﻬﺎ ، ﻓﻘﻠﻤﺎ ﻟﺒﺜﺖ ﺣﺘﻰ
ﺟﺎﺀﻫﺎ ﺯﻭﺟﻬﺎ ﺃﺑﻮ ﻣﻌﺒﺪ ﻳﺴﻮﻕ ﺃﻋﻨﺰﺍ ﻋﺠﺎﻓﺎ , ﻳﺘﺴﺎﻭﻛﻦ ﻫﺰﻻ
ﻣﺨﻬﻦ ﻗﻠﻴﻞ ، ﻓﻠﻤﺎ ﺭﺃﻯ ﺃﺑﻮ ﻣﻌﺒﺪ ﺍﻟﻠﺒﻦ ﻋﺠﺐ , ﻭﻗﺎﻝ : ﻣﻦ ﺃﻳﻦ
ﻟﻚ ﻫﺬﺍ ﻳﺎ ﺃﻡ ﻣﻌﺒﺪ ﻭﺍﻟﺸﺎﺓ ﻋﺎﺯﺏ ﺣﻴﺎﺋﻞ ﻭﻻ ﺣﻠﻮﺏ ﻓﻲ ﺍﻟﺒﻴﺖ ؟
ﻗﺎﻟﺖ : ﻻ ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺇﻻ ﺃﻧﻪ ﻣﺮ ﺑﻨﺎ ﺭﺟﻞ ﻣﺒﺎﺭﻙ ﻣﻦ ﺣﺎﻟﻪ ﻛﺬﺍ , ﺍﺬﻛﻭ
ﻗﺎﻝ : ﺻﻔﻴﻪ ﻟﻲ ﻳﺎ ﺃﻡ , ﺪﺒﻌﻣ ﻗﺎﻟﺖ : ﺭﺃﻳﺖ ﺭﺟﻼ ﻇﺎﻫﺮ ﺍﻟﻮﺿﺄﺓ ،
ﺃﺑﻠﺞ ﺍﻟﻮﺟﻪ ، ﺣﺴﻦ ﺍﻟﺨﻠﻖ , ﻟﻢ ﺗﻌﺒﻪ ﻧﺤﻠﺔ , ﻭﻟﻢ ﺗﺰﺭ ﺑﻪ ﺻﻘﻠﺔ ،
ﻭﺳﻴﻢ ﻗﺼﻴﻢ ، ﻓﻲ ﻋﻴﻨﻴﻪ ﺩﻋﺞ ، ﻭﻓﻲ ﺃﺷﻔﺎﺭﻩ ﻭﻃﻒ ، ﻭﻓﻲ
ﺻﻮﺗﻪ ﺻﻬﻞ ، ﻭﻓﻲ ﻋﻨﻘﻪ ﺳﻄﻊ ، ﻭﻓﻲ ﻟﺤﻴﺘﻪ ﻛﺜﺎﺛﺔ ، ﺃﺯﺝ
ﺃﻗﺮﻥ ، ﺇﻥ ﺻﻤﺖ ﻓﻌﻠﻴﻪ ﺍﻟﻮﻗﺎﺭ ، ﻭﺇﻥ ﺗﻜﻠﻢ ﺳﻤﺎﻩ ﻭﻋﻼﻩ , ﺀﺎﻬﺒﻟﺍ
ﺃﺟﻤﻞ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻭﺃﺑﻬﺎﻩ ﻣﻦ ﺑﻌﻴﺪ ﻭ ﺃﺟﻼﻩ ﻭﺃﺣﺴﻨﻪ ﻣﻦ ﻗﺮﻳﺐ , ﺣﻠﻮ
ﺍﻟﻤﻨﻄﻖ ، ﻓﺼﻞ ﻻ ﻧﺰﺭ ﻭﻻ ﻫﺰﺭ ، ﻛﺄﻥ ﻣﻨﻄﻘﻪ ﺧﺮﺯﺍﺕ ﻧﻈﻢ
ﻳﺘﺤﺪﺭﻥ ، ﺭﺑﻌﺔ ﻻ ﻳﺄﺱ ﻣﻦ ﻃﻮﻝ , ﻭﻻ ﺗﻘﺘﺤﻤﻪ ﻋﻴﻦ ﻣﻦ ﻗﺼﺮ ،
ﻏﺼﻦ ﺑﻴﻦ ﻏﺼﻨﻴﻦ ، ﻭﻫﻮ ﺃﻧﻈﺮ ﺍﻟﺜﻼﺛﺔ ﻣﻨﻈﺮﺍ ، ﻭﺃﺣﺴﻨﻬﻢ ﻗﺪﺭﺍ ،
ﻟﻪ ﺭﻓﻘﺎﺀ ﻳﺤﻔﻮﻥ ﺑﻪ ، ﺇﻥ ﻗﺎﻝ ﺃﻧﺼﺘﻮﺍ ﻟﻘﻮﻟﻪ ، ﻭﺇﻥ ﺃﻣﺮ ﺑﺎﺩﺭﻭﺍ
ﺇﻟﻰ ﺃﻣﺮﻩ ، ﻣﺤﻔﻮﺩ ﻣﺤﺸﻮﺩ , ﻻ ﻋﺎﺑﺲ ﻭﻻ ﻣﻔﻨﺪ , ﻗﺎﻝ ﺃﺑﻮ
ﻣﻌﺒﺪ : ﻫﻮ ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺻﺎﺣﺐ ﻗﺮﻳﺶ ﺍﻟﺬﻱ ﺫﻛﺮ ﻟﻨﺎ ﻣﻦ ﺃﻣﺮﻩ ﻣﺎ
ﺫﻛﺮﻩ ﺑﻤﻜﺔ ، ﻭﻟﻘﺪ ﻫﻤﻤﺖ ﺃﻥ ﺃﺻﺤﺒﻪ ، ﻭﻷﻓﻌﻠﻦ ﺇﻥ ﻭﺟﺪﺕ ﺇﻟﻰ
ﺫﻟﻚ ﺳﺒﻴﻼ ، ﻓﺄﺻﺒﺢ ﺻﻮﺕ ﺑﻤﻜﺔ ﻋﺎﻟﻴﺎ ﻳﺴﻤﻌﻮﻥ ﺍﻟﺼﻮﺕ ، ﻭﻻ
ﻳﺪﺭﻭﻥ ﻣﻦ ﺻﺎﺣﺒﻪ , ﻭﻫﻮ : ﻝﻮﻘﻳ
ﺟﺰﻯ ﺍﻟﻠﻪ ﺭﺏ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺧﻴﺮ ﺟﺰﺍﺋﻪ * ﺭﻓﻴﻘﻴﻦ ﻗﺎﻻ ﺧﻴﻤﺘﻲ ﺃﻡ ﻣﻌﺒﺪ
ﻫﻤﺎ ﻧﺰﻻﻫﺎ ﺑﺎﻟﻬﺪﻯ *  ﻪﺑ ﺕﺪﺘﻫﺍﻭ ﻓﻘﺪ ﻓﺎﺯ ﻣﻦ ﺃﻣﺴﻰ ﺭﻓﻴﻖ
ﻣﺤﻤﺪ
ﻓﻴﺎ ﻟﻘﺼﻲ ﻣﺎ ﺯﻭﻯ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻜﻢ * ﺑﻪ ﻣﻦ ﻓﻌﺎﻝ ﻻ ﺗﺠﺎﺯﻯ
ﻭﺳﺆﺩﺩ
ﻟﻴﻬﻦ ﺃﺑﺎ ﺑﻜﺮ ﺳﻌﺎﺩﺓ *  ﻩﺪـــــﺟ ﺑﺼﺤﺒﺔ ﻣﻦ ﻳﺴﻌﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﺴﻌﺪ
ﻟﻴﻬﻦ ﺑﻨﻲ ﻛﻌﺐ ﻣﻘﺎﻡ ﻓﺘﺎﺗﻬــﻢ * ﻭﻣﻘﻌﺪﻫﺎ ﻟﻠﻤﺆﻣﻨﻴﻦ ﺑﻤﺮﺻﺪ
ﺳﻠﻮﺍ ﺃﺧﺘﻜﻢ ﻋﻦ ﺷﺎﺗﻬﺎ *ﺎﻬﺋﺎﻧﺇﻭ ﻓﺈﻧﻜﻢ ﺇﻥ ﺗﺴﺄﻟﻮﺍ ﺍﻟﺸﺎﺓ
ﺗﺸﻬﺪ
ﺩﻋﺎﻫﺎ ﺑﺸﺎﺓ ﺣﺎﺋﻞ * ﺖﺒﻠﺤﺘﻓ ﻋﻠﻴﻪ ﺻﺮﻳﺤﺎ ﺿﺮﺓ ﺍﻟﺸﺎﺓ ﻣﺰﺑﺪ
ﻓﻐﺎﺩﺭﻫﺎ ﺭﻫﻨﺎ ﻟﺪﻳﻬﺎ ﻟﺤﺎﻟﺐ * ﻳﺮﺩﺩﻫﺎ ﻓﻲ ﻣﺼﺪﺭ ﺛﻢ ﻣﻮﺭﺩ
‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺤﺎﻛﻢ ‏) .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন
মক্কা থেকে বের করে দেয়া হয়, তখন হিজরতকারী
হিসেবে তিনি, আবূ বকর রা. এবং আবূ বকর রা. এর গোলাম
আমের ইবন ফুহায়রা ও তাঁদের উভয়ের পথপ্রদর্শক
আবদুল্লাহ ইবন ওরাইকিত আল-লাইসী মদীনার উদ্দেশ্যে
বের হয়ে পড়েন; তারা উম্মু মা‘বাদ আল-খুযা‘য়ীয়া’র তাঁবুর
পাশ দিয়ে পথ অতিক্রম করেন; আর সে ছিল পরিণত বয়সী
এক নারী, তাঁবুর আঙ্গিনায় কাপড় জড়িয়ে বসে থাকত; পানি
পান করাত ও খাবার দিত। অতঃপর তাঁরা তার নিকট থেকে
গোশত ও খেজুর ক্রয় করতে চাইল, কিন্তু তাঁরা তার নিকট
এই ধরনের কিছুই পেল না; কারণ, তখন তারা (উম্মে
মা‘বাদ এর গোষ্ঠী) ছিল রসদশূন্য দুর্ভিক্ষ কবলিত; অতঃপর
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁবুর
একপাশে একটি ছাগল দেখতে পেলেন এবং বললেন: হে উম্মু
মা‘বাদ! এই ছাগলটির অবস্থা কী? সে বলল: ছাগলের পাল
থেকে মূলত দুর্বলতাই এই ছাগলটিকে পিছনে ফেলে
দিয়েছে; তিনি বললেন: তার মধ্যে দুধ আছে কি? সে বলল:
এই ব্যাপারে ছাগলটি খুবই দুর্বল; (অর্থাৎ এর অবস্থা দুধ
দেওয়ার চেয়েও খারাপ) তিনি বললেন: তুমি কি আমাকে তা
দোহন করার অনুমতি দেবে? সে বলল: আমার পিতা ও মাতা
আপনার জন্য কুরবান হউক! আপনি যদি তা দোহন করতে চান,
তাহলে তা দোহন করুন; অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাগলটিকে ডেকে আনালেন, তারপর
তিনি তার ওলানে তাঁর হাত বুলালেন এবং আল্লাহ
তা‘আলার নাম বললেন; আর তার (উম্মু মা‘বাদের) জন্য তার
ছাগলের ব্যাপারে দো‘আ করলেন; অতঃপর বকরীটি দুধ
দোহনের সুবিধার্থে তার দু’পায়ের মাঝখানে ফাঁক করল,
তার দুধ অধিক হারে বৃদ্ধি পেল এবং সে জাবর কাটতে
লাগল; তারপর তিনি একটি পাত্র নিয়ে আসার জন্য
ডাকলেন যাতে কাফেলার সকলকে তৃপ্তি সহকারে দুধ পান
করাতে পারেন, তারপর তাতে দুধ দোহন করে দুধের প্রবাহ
সৃষ্টি করলেন, এমনকি তার উপর চকচকে ফেনা উঠল; অতঃপর
তিনি উম্মু মা‘বাদকে তৃপ্তি সহকারে দুধ পান করালেন,
আরও দুধ পান করালেন তাঁর সাথীদেরকে এবং তারাও
পরিতৃপ্ত হলেন; অতঃপর তাদের বাকীরা দুধ পান করল;
তারপর তারা সকলে দ্বিতীয়বার পান করল; অতঃপর তিনি
তাতে দ্বিতীয়বার দুধ দোহন করলেন, এমনকি দুধের পাত্র
পরিপূর্ণ হয়ে গেল; অতঃপর তিনি তা তার নিকট রেখে
দিলেন, তারপর তার সাথে (পুনরায় সাক্ষাতের)
প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেন এবং তার নিকট থেকে রওয়ানা
হলেন। তারপর অল্প কিছুক্ষণ অবস্থান করার পরেই তার
স্বামী আবূ মা‘বাদ তার নিকট কতগুলো দুর্বল শীর্ণকায়
বকরী তাড়িয়ে নিয়ে এসে উপস্থিত হল, বকরীগুলো
দুর্বলতার কারণে টলায়মান অবস্থায় হাটল; অতঃপর যখন
আবূ মা‘বাদ দুধ দেখতে পেলেন, তখন তিনি অবাক হলেন
এবং বললেন: হে উম্মু মা‘বাদ! তোমার নিকট এই দুধ কোথা
থেকে এল, অথচ বকরীগুলো ছিল দূরে চারণভূমিতে এবং
ঘরের মধ্যে কোন দুধ ছিল না? জবাবে সে বলল: না,
আল্লাহর কসম! তবে আমাদের নিকট দিয়ে এমন এক বরকতময়
ব্যক্তি চলে গেছেন, যাঁর অবস্থা এমন এমন; আবূ মা‘বাদ
বললেন: হে উম্মু মা‘বাদ! তুমি আমাকে তাঁর বৈশিষ্ট্য
বর্ণনা কর, তখন সে বলল: আমি এক ব্যক্তিকে দেখেছি, যার
অবস্থা হল- তিনি পরিষ্কার সুন্দর, উজ্জ্বল চেহারার
অধিকারী, তিনি শীর্ণতার দোষে দুষ্ট নন; নিন্দিত নন
ক্ষুদ্রতার অভিযোগে, তিনি ছিলেন উজ্জ্বল ফর্সা; তাঁর
চোখ ছিল গভীর কালো; তাঁর চোখের পাতার প্রান্তদেশ
ছিল লম্বা; তাঁর কণ্ঠস্বরের মধ্যে ছিল তীক্ষ্নতা ও
বলিষ্ঠতা; তাঁর গর্দান ছিল লম্বা; তাঁর দাঁড়ির মধ্যে
ঘনত্ব ছিল; ভ্রূ’র কিনারাসমূহ লম্বা হওয়ার সাথে ভ্রূ ছিল
ধনুকাকৃতির; যদি তিনি চুপ থাকতেন, তাহলে তাঁর মধ্যে
গাম্ভীর্যের ছাপ পরিলক্ষিত হত; আর যদি তিনি কথা
বলতেন, তখন তিনি তাঁর মাথাকে উঁচু করতেন এবং তাঁর
সাথীদের চেয়ে উঁচু হয়ে যেতেন; তিনি ছিলেন সবচেয়ে
সুন্দর মানুষ, দূর থেকে দেখতে তিনি সর্বাধিক
দীপ্তিমান, আর কাছ থেকে দেখতে তিনি অতি উত্তম; তিনি
ছিলেন মিষ্টভাষী ও স্পষ্টভাষী এবং মাঝামাঝি পর্যায়ে
কথা বলতেন, কমও বলতেন না, আবার বেশিও বলতেন না;
(বলার সময়) তাঁর কথা যেন মণিমুক্তা ও ছন্দোবদ্ধ
বাক্যের ন্যায় অবতীর্ণ হত; তিনি মধ্যম আকৃতির, দৃষ্টিকটু
লম্বা নন এবং এমন বেঁটেও নন, যার কারণে কোনো চোখ
তাঁকে অবজ্ঞা করতে পারে; তিনি ছিলেন দুই ডালের
মাঝামাঝি একটি ডাল; সুতরাং তিনি ছিলেন তাদের
তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর এবং আভিজাত্যের দিক
থেকে সবচেয়ে উত্তম; তাঁর সাথীগণ তাঁকে বেষ্টনী দিয়ে
রাখে, তিনি যদি কথা বলেন তারা তাঁর কথা শুনে এবং
তিনি যদি তাদের নির্দেশ দেন তারা তাঁর নির্দেশ
পালনে প্রতিযোগিতা শুরু করে; তাঁর নিকট তাঁর সঙ্গীগণ
সবসময় সমবেত থাকে; তিনি বিষণ্ন (বিরক্তি) চেহারার
অধিকারী নন এবং কথাবার্তায় অসংলগ্ন নন[21]। (বর্ণনা
শোনার পর) আবূ মা‘বাদ বললেন: আল্লাহর কসম! তিনি
কুরাইশ বংশের মহামান্য ব্যক্তি, আমার নিকট তাঁর
ব্যাপারে যা আলোচনা করা হল, তা মক্কাতেও আলোচনা হয়;
আমার প্রবল অভিপ্রায় হল, আমি তাঁর সঙ্গী হব এবং এর
জন্য আমি কোনো পথ পেলে অবশ্যই আমি সেই পথ ধরব। আর
মক্কাতে একটি আওয়াজ সুউচ্চ হল, তারা আওয়াজটি শোনল
কিন্তু কে আওয়াজ করছে তা জানতে পারল না; আর সে
(আওয়াজকারী) বলছিল:
মানুষের প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলা দান করুন উত্তম
পুরস্কার
দুই বন্ধুকে, যাঁরা আগমন করেছেন দুই তাঁবুতে উম্মু
মা‘বাদের;
তাঁরা অবতরণ করেছে তার নিকট হিদায়াতসহ এবং সে
হয়েছে হিদায়েত প্রাপ্ত,
সুতরাং সেই ব্যক্তি সফলকাম হয়েছে, যে হয়েছে
মুহাম্মদের সঙ্গীতে পরিণত;
অতএব, হে কুসাই সম্প্রদায়! কি কারণে আল্লাহ তোমাদের
থেকে  দূর করলেন,
এমন কল্যাণ, শ্রেষ্ঠত্ব ও নেতৃত্ব, যার কোনো প্রতিদান হয়
না।
আবূ বকরের সৌভাগ্যের জন্য তাকে মুবারকবাদ, এ জন্য যে
তিনি এমন লোকের সাহচর্য নিয়েছেন, যার সাহচর্যে
আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন সৌভাগ্যমণ্ডিত করেন।
বনী কা‘বের কন্যার জন্যও মুবারকবাদ,  কারণ সে
মুমিনদের জন্য উঁৎ পেতে বসেছিল,
তোমরা তোমাদের বোনকে তার বকরী ও পাত্র সম্পর্কে
জিজ্ঞাসা কর,
কেননা তোমারা বকরীকে জিজ্ঞাসা করলে সে সাক্ষ্য
দিবে;
তিনি তার নিকটে ডেকে আনলেন দুধহীন বকরীকে, অতঃপর
সেটি ফোঁটা ফোঁটা দুধ ঝরাল
ফেনায়িত দুধ বকরীর স্তন স্পষ্টভাবে তাঁর নিকটে;
তারপর তিনি তাকে রেখে গেলেন বন্ধক হিসেবে তার
নিকটে দোহনকারীর জন্য
সে তাকে মূল উৎসে দুধ বের করবে, তারপর সরবরাহ
কেন্দ্রে।”
[হাকেম, আল-মুসতাদরাক: ৩ / ৯ - ১০ এবং তিনি বলেন, এই
হাদিসটির সনদ সহীহ, ইমাম বুখারী ও মুসলিম র.
হাদিসটি বর্ণনা করেন নি, আর ইমাম যাহাবী র.ও অনুরূপ
মত ব্যক্ত করেছেন; বাগবী, শরহুস সুন্নাহ ( ﺷﺮﺡ ﺍﻟﺴﻨﺔ ):
ফাদায়েল / নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের
সামগ্রীক গুণাবলী ( ﺟﺎﻣﻊ ﺻﻔﺎﺗﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ),
হাদিস নং-৩৭০৪, ১৩ / ২৬১ - ২৬৪ ]।
* * *
দ্বিতীয় অধ্যায়
তাঁর চারিত্রিক গুণাবলী
আর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের চারিত্রিক
গুণাবলী; তিনি ছিলেন সামগ্রিকভাবে উত্তম চারিত্রিক
গুণাবলীর ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ; দলিল
হিসেবে আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক তাঁকে দেয়া এই
সার্টিফিকেটই (চারিত্রিক সনদই) আপনার জন্য যথেষ্ট
হবে; আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ ﻭَﺇِﻧَّﻚَ ﻟَﻌَﻠَﻰٰ ﺧُﻠُﻖٍ ﻋَﻈِﻴﻢٖ ٤ ﴾ ‏[ :ﻢﻠﻘﻟﺍ ٤‏]
“আর নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের উপর রয়েছেন।” —
(সূরা আল-ক্বলম: ৪)
বদান্যতা ও দানশীলতার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সর্বাধিক উদার দানশীল
মানুষ, তিনি এত বেশি পরিমাণে দান করতেন, সে পর্যায়ে
কোনো রাজা-বাদশা পৌঁছতে পারে না; হাদিসের ভাষায়:
‏« ﻓَﺠَﺎﺀَﻩُ ﺭَﺟُﻞٌ ﻓَﺄَﻋْﻄَﺎﻩُ ﻏَﻨَﻤًﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﺟَﺒَﻠَﻴْﻦِ , ﻓَﺮَﺟَﻊَ ﺇِﻟَﻰ ﻗَﻮْﻣِﻪِ ,
:َﻝﺎَﻘَﻓ ﻳَﺎ ﻗَﻮْﻡِ ! ﺃَﺳْﻠِﻤُﻮﺍ ﻓَﺈِﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﻳُﻌْﻄِﻰ ﻋَﻄَﺎﺀً ﻻَ ﻳَﺨْﺸَﻰ
ﺍﻟْﻔَﺎﻗَﺔَ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ ‏) .
“এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লামের কাছে এলো; তিনি তাকে এত বেশি ছাগল
দিলেন যাতে দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ হয়ে
যাবে। তারপর সে ব্যক্তি তার সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে
তাদের বলল, হে আমার জাতি ভাইয়েরা! তোমরা ইসলাম
গ্রহণ কর; কেননা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লাম এত বেশি দান করেন যে, তিনি অভাবের ভয়
করেন না।” [22]
জাবির ইবন আবদিল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন:
‏« ﻣَﺎ ﺳُﺌِﻞَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺷَﻴْﺌًﺎ ﻗَﻂُّ :َﻝﺎَﻘَﻓ
ﻻَ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ ‏) .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে
কেউ কিছু চাইলে কোন দিন তিনি ‘না’ বলেন নি।” [23]
আর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম
হুনায়েনের যুদ্ধ থেকে ফিরে আসলেন, তখন আরব বেদুইনগণ
তাঁর পিছু নিতে লাগল তার কাছে চাওয়া আরম্ভ করল,
এমনকি তারা তাঁকে একটি গাছের নিকট আশ্রয় নিতে বাধ্য
করল; তারপর তিনি তাঁর বাহনের উপর থাকা অবস্থায়ই
তারা তাঁর চাদরটি ছিনিয়ে নিল, তখন তিনি বললেন:
‏« ﺭﺩﻭﺍ ﻋﻠﻲّ ﺭﺩﺍﺋﻲ ، ﺃﺗﺨﺸﻮﻥ ﻋﻠﻲّ ﺍﻟﺒﺨﻞ ؟ ﻓﻘﺎﻝ : ﻓﻮﺍﻟﻠﻪ ﻟﻮ
ﻛﺎﻥ ﻟﻲ ﻋﺪﺩ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﻌﻀﺎﺓ ﻧﻌﻤﺎً , ﻟﻘﺴﻤﺘﻪ ﺑﻴﻨﻜﻢ ، ﺛﻢ ﻻ
ﺗﺠﺪﻭﻧﻲ ﺑﺨﻴﻼً ﻭﻻ ﺟﺒﺎﻧﺎً ﻭﻻ ﻛﺬﺍﺑﺎً ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﻐﻮﻱ ‏) .
“তোমরা আমাকে আমার চাদরটি ফেরত দাও; তোমরা কি
আমার ব্যাপারে কৃপণতার আশঙ্কা কর? তারপর তিনি
বললেন: আল্লাহর শপথ! যদি আমার নিকট এই গাছপালার
সংখ্যা পরিমাণ উটও থাকে, তবে তা আমি তোমাদের মাঝে
বন্টন করে দিব; অতঃপর তোমরা আমাকে কৃপণ, কাপুরুষ ও
মিথ্যাবাদী হিসেবে পাবে না।” [24]
আর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিজের
উপর অপরকে প্রাধান্য দিতেন; ফলে তিনি দান করে
দিতেন, অথচ তাঁর উপর একমাস বা দুইমাস অতিবাহিত হয়ে
যেত, তাঁর ঘরে আগুন জ্বলত না[25] ।
জনৈক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের
খিদমতে একটি ঝালরসহ বোনা চাদর হাদিয়া (উপহার)
স্বরূপ দান করলেন এবং বললেন:
‏« ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﻛﺴﻮﻙ ﻫﺬﻩ , ﻓﺄﺧﺬﻫﺎ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭ ﺳﻠﻢ ﻣﺤﺘﺎﺟﺎ ﺇﻟﻴﻬﺎ , ﻓﻠﺒﺴﻬﺎ , ﻓﺮﺁﻫﺎ ﻋﻠﻴﻪ ﺭﺟﻞ ﻣﻦ ﺍﻟﺼﺤﺎﺑﺔ
, ﻓﻘﺎﻝ : ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ! ﻣﺎ ﺃﺣﺴﻦ ﻫﺬﻩ ﻓﺎﻛﺴﻨﻴﻬﺎ , : ﻝﺎﻘﻓ
ﻧﻌﻢ , . ﻓﻠﻤﺎ ﻗﺎﻡ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻻﻣﻪ , ﻪﺑﺎﺤﺻﺃ
ﻗﺎﻟﻮﺍ : ﻣﺎ ﺃﺣﺴﻨﺖ ﺣﻴﻦ ﺭﺃﻳﺖ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ
ﺃﺧﺬﻫﺎ ﻣﺤﺘﺎﺟﺎ ﺇﻟﻴﻬﺎ ﺛﻢ ﺳﺄﻟﺘﻪ ﺇﻳﺎﻫﺎ , ﻭﻗﺪ ﻋﺮﻓﺖ ﺃﻧﻪ ﻻ ﻳﺴﺄﻝ
ﺷﻴﺌﺎ ﻓﻴﻤﻨﻌﻪ , : ﻝﺎﻘﻓ ﺭﺟﻮﺕ ﺑﺮﻛﺘﻬﺎ ﺣﻴﻦ ﻟﺒﺴﻬﺎ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ
ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻟﻌﻠﻲ ﺃﻛﻔﻦ ﻓﻴﻬﺎ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏) .
“হে আল্লাহর রাসূল! আমি এটি আপনাকে পরিধানের জন্য
দিলাম; আর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম
চাদরখানা এমনভাবে গ্রহণ করলেন, যেন তাঁর এটির
দরকার ছিল। এরপর তিনি এটি পরিধান করলেন। তারপর
সাহাবীদের মধ্য থেকে একজন সেটি তাঁর দেহে দেখে
আবেদন করলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটা কতই না সুন্দর!
আপনি এটি আমাকে দিয়ে দিন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বললেন: হ্যাঁ (দিয়ে দেব)। অতঃপর যখন নবী
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে চলে গেলেন, তখন
অন্যান্য সাহাবীগণ তাঁকে দোষারোপ করে বললেন: তুমি
ভাল কাজ কর নি। যখন তুমি দেখলে যে, তিনি চাদরখানা
এমনভাবে গ্রহণ করেছেন, যেন এটি তাঁর প্রয়োজন ছিল;
এরপরও তুমি সেটা চেয়ে বসলে; অথচ তুমি অবশ্যই জান যে,
তাঁর কাছে যখনই কোন জিনিস চাওয়া হয়, তখন তিনি
কাউকে বিমুখ করেন না। তখন সেই ব্যক্তি বলল: যখন নবী
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি পরিধান
করেছেন, তখন তাঁর বরকত হাসিল করার আশায়ই আমি এই
কাজ করেছি, যেন আমি এ চাদরটাকে আমার কাফন বানাতে
পারি।”[26]
আর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বদান্যতা
বা দানশীলতা ছিল তার যথাযথ স্থানে; তিনি দান
করতেন আল্লাহর জন্যে এবং আল্লাহর নামে; হয় তিনি
ফকীর-মিসকীনকে দান করতেন অথবা অভাবীকে; অথবা
আল্লাহর পথে; অথবা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য;
অথবা উম্মতের জন্য শরী‘য়তের বিধিবিধান প্রবর্তনের
উদ্দেশ্যে।
আর বীরত্বের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লাম ছিলেন খুব সাহসী মানুষ এবং সিদ্ধান্ত ও
পদক্ষেপ গ্রহণে ছিলেন তাদের মধ্যে অধিকতর তীক্ষ্ন ও
মজবুত; জনগণ পালিয়ে যেত, অথচ তিনি সুদৃঢ়ভাবে অটল
থাকতেন। আব্বাস ইবন আবদিল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু
‘আনহু বলেন:
‏«ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺍﻟْﺘَﻘَﻰ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻤُﻮﻥَ ﻭَﺍﻟْﻜُﻔَّﺎﺭُ ‏( ﻳﻌﻨﻲ ﻓﻲ ﺣﻨﻴﻦ ‏) ﻭَﻟَّﻰ
ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻤُﻮﻥَ ﻣُﺪْﺑِﺮِﻳﻦَ , ﻓَﻄَﻔِﻖَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ
ﻳَﺮْﻛُﺾُ ﺑَﻐْﻠَﺘَﻪُ ﻗِﺒَﻞَ ﺍﻟْﻜُﻔَّﺎﺭِ , ﻗَﺎﻝَ ﻋَﺒَّﺎﺱٌ : ﻭَ ﺃَﻧَﺎ ﺁﺧِﺬٌ ﺑِﻠِﺠَﺎﻡِ ﺑَﻐْﻠَﺔِ
ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃَﻛُﻔُّﻬَﺎ ﺇِﺭَﺍﺩَﺓَ ﺃَﻥْ ﻻَ , َﻉِﺮْﺴُﺗ ﻭ
ﻛﺎﻥ ﻳﻘﻮﻝ : ﺬﺌﻨﻴﺣ ‏« ﺃﻧﺎ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﻻ ﻛﺬﺏ ﺃﻧﺎ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻤﻄﻠﺐ ‏» .
‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ ‏) .
“যখন (হুনায়েনের যুদ্ধে) মুসলিম ও কাফিরগণ পরস্পর
সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হল, তখন মুসলিমগণ (যুদ্ধের এক
পর্যায়ে) পিছনের দিকে পলায়ন করতে লাগলেন; আর
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয়
পায়ের গোড়ালী দ্বারা নিজের খচ্চরকে আঘাত করে
কাফিরদের দিকে ধাবিত করছিলেন। আব্বাস রাদিয়াল্লাহু
‘আনহু বলেন: আমি তাঁর খচ্চরের লাগাম ধরে রেখেছিলাম
এবং একে থামিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলাম যাতে দ্রুত
গতিতে অগ্রসর হতে না পারে; আর তখন তিনি বলছিলেন:
“আমি যে নবী তা তো নয় মিথ্যা,
আমি হলাম আবদুল মুত্তালিবের বেটা।” [27]
আর আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন:
‏« ﻛﻨﺎ ﺍﺫﺍ ﺍﺣﻤﺮ ﺍﻟﺒﺄﺱ , ﻭﻟﻘﻰ ﺍﻟﻘﻮﻡ ﺍﻟﻘﻮﻡ , ﺍﺗﻘﻴﻨﺎ
ﺑﺮﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻤﺎ ﻳﻜﻮﻥ
ﺍﺣﺪ ﺍﻗﺮﺏ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﻌﺪﻭ ﻣﻨﻪ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﻐﻮﻱ ‏) .
“যুদ্ধের উত্তেজনা যখন ঘোরতর হয়ে উঠত এবং এক দল
আরেক দলের মুখোমুখি হয়ে দাঁড়াতো, তখন আমরা রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে আত্মরক্ষা
করতাম; কারণ, কোনো ব্যক্তিই তাঁর চেয়ে শত্রুর অধিক
নিকটবর্তী হত না।” [28]
অনুরূপভাবে আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন:
‏« ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃَﺣْﺴَﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ , ﻭَﻛَﺎﻥَ
ﺃَﺟْﻮَﺩَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ , ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺃَﺷْﺠَﻊَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ , ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﻓَﺰِﻉَ ﺃَﻫْﻞُ ﺍﻟْﻤَﺪِﻳﻨَﺔِ ﺫَﺍﺕَ
ﻟَﻴْﻠَﺔٍ , ﻓَﺎﻧْﻄَﻠَﻖَ ﻧَﺎﺱٌ ﻗِﺒَﻞَ ﺍﻟﺼَّﻮْﺕِ , ﻓَﺘَﻠَﻘَّﺎﻫُﻢْ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ
ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺭَﺍﺟِﻌًﺎ ﻭَﻗَﺪْ ﺳَﺒَﻘَﻬُﻢْ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺼَّﻮْﺕِ ﻭَﻫُﻮَ ﻋَﻠَﻰ
ﻓَﺮَﺱٍ ﻷَﺑِﻰ ﻃَﻠْﺤَﺔَ ﻋُﺮْﻯٍ , ﻓِﻰ ﻋُﻨُﻘِﻪِ ﺍﻟﺴَّﻴْﻒُ ﻭَﻫُﻮَ ﻳَﻘُﻮﻝُ : ‏« ﻟَﻢْ
ﺗُﺮَﺍﻋُﻮﺍ ﻟَﻢْ ﺗُﺮَﺍﻋُﻮﺍ ‏» . : َﻝﺎَﻗ ‏« ﻭَﺟَﺪْﻧَﺎﻩُ ﺑَﺤْﺮًﺍ ﺃَﻭْ ﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﺒَﺤْﺮٌ ‏» . : َﻝﺎَﻗ
ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻓَﺮَﺳًﺎ ﻳُﺒَﻄَّﺄُ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ ‏) .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন
সকল মানুষের মধ্যে অতি সুন্দর, অতি দানশীল এবং শ্রষ্ঠ
বীর ছিলেন। কোন এক রাতে মদীনাবাসীগণ ঘাবড়িয়ে
গিয়েছিল; যে দিক থেকে শব্দ আসছিল, লোকেরা সেই দিকে
ছুটে চলল; এক পর্যায়ে পথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাদের সাক্ষাত হয়
এমতাবস্থায় যে, তখন তিনি ফিরে আসছিলেন; কারণ,
শব্দের দিকে প্রথম তিনিই ছুটে গিয়েছিলেন। তখন তিনি
আবূ তালহা (রা.) এর জিন বা গদিবিহীন ঘোড়ায় আরোহিত
হয়েছিলেন; তাঁর কাঁধে তরবারি ছিল; আর তিনি বলেন:
তোমরা ভীত হয়ো না, তোমরা ভীত হয়ো না। বর্ণনাকারী
(আনাস) আরও বললেন: আমি এই ঘোড়াকে পেয়েছি সমুদ্রের
মত, অথবা তিনি বললেন: এ তো সমুদ্র। অথচ ইতঃপূর্বে এই
ঘোড়ার গতি ছিল ধীর।” [29]
আর এই ধরনের মহাবীরত্ব থাকা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন
কোমল নম্র ভদ্র দয়াবান এক ব্যক্তি; আর তিনি
অশ্লীলভাষী ছিলেন না এবং অশ্লীল কথা বানিয়েও বলতে
পারতেন না[30] ; আর তিনি ছিলেন না বাজারের মধ্যে
হৈ-চৈকারী; আর তিনি মন্দের জবাব মন্দের মাধ্যমে
দিতেন না, বরং তিনি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখতেন;
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন:
‏« ﺧَﺪَﻣْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻋَﺸْﺮَ ﺳِﻨِﻴﻦَ , ﻭَﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻣَﺎ ﻗَﺎﻝَ ﻟِﻰ : ﺃُﻓًّﺎ ﻗَﻂُّ ﻭَﻻَ ﻗَﺎﻝَ ﻟِﻰ ﻟِﺸَﻰْﺀٍ : ﻟِﻢَ ﻓَﻌَﻠْﺖَ ﻛَﺬَﺍ ؟
ﻭَﻫَﻼَّ ﻓَﻌَﻠْﺖَ ﻛَﺬَﺍ ؟ ‏» ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ‏) .
“আমি দশ বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লামের খিদমত করেছি, আল্লাহর কসম! তিনি কখনও
আমাকে ‘উহ্’ শব্দও বলেন নি এবং কখনও কোনো বিষয়ে
আমাকে বলেন নি: তুমি কেন এটা করলে? কেন ওটা করলে
না?” [31]
আর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর
সাহাবীদের সাথে কৌতুক করতেন [32] ; তাঁদের সাথে
মিশতেন, আলাপ আলোচনা করতেন, তাঁদের শিশুদের সাথে
খেলাধুলা ও রসিকতা করতেন [33] এবং তাদেরকে কোলে
নিতেন; আর কখনও কখনও শিশুরা তাঁর কোলের মধ্যে
প্রশ্রাব করে দিত, কিন্তু তিনি তাকে তিরস্কার করতেন
না।
আর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বাধীন
ব্যক্তি, গোলাম, ধনী ও দরিদ্র সকলের দা‘ওয়াত গ্রহণ
করতেন[34] ; আর তিনি মদীনার প্রান্তে গিয়ে রোগীর
সেবা করতেন[35] ; তিনি ওযর পেশকারী ব্যক্তির ওযর
গ্রহণ করতেন; আর তিনি জনগণকে নিয়ে সালাত আদায় করা
অবস্থায় যখন শিশুর কান্না শুনতেন, তখন তিনি তার
মায়ের ফিতনায় পড়ার আশঙ্কায় সালাত দ্রুত শেষ করতেন
[36] ।
আর আবূ কাতাদা রা. বর্ণিত হাদিসের মধ্যে আছে:
‏« ﻛَﺎﻥَ ﻳُﺼَﻠِّﻰ ﻭَﻫُﻮَ ﺣَﺎﻣِﻞٌ ﺃُﻣَﺎﻣَﺔَ ﺑِﻨْﺖَ ﺯَﻳْﻨَﺐَ ﺑِﻨْﺖِ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭَﻷَﺑِﻰ ﺍﻟْﻌَﺎﺹِ ﺑْﻦِ ﺍﻟﺮَّﺑِﻴﻊِ , ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻗَﺎﻡَ
ﺣَﻤَﻠَﻬَﺎ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺳَﺠَﺪَ ﻭَﺿَﻌَﻬَﺎ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ ‏) .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর
কন্যা যয়নাবের কন্যা উমামাকে (আবূল ‘আস ইবন রাবী‘র
ঔরসজাত) স্বীয় কাঁধে উঠিয়ে সালাত আদায় করতেন। যখন
তিনি দাঁড়াতেন, তখন তাকে উঠিয়ে নিতেন; আর যখন তিনি
সিজদা করতেন, তখন তাকে নামিয়ে রাখতেন।” [37]
আবূ বুরায়দা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন:
‏« ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻳﺨﻄﺒﻨﺎ ﺇﺫ ﺟﺎﺀ
ﺍﻟﺤﺴﻦ ﻭ ﺍﻟﺤﺴﻴﻦ ﻋﻠﻴﻬﻤﺎ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻋﻠﻴﻬﻤﺎ ﻗﻤﻴﺼﺎﻥ ﺃﺣﻤﺮﺍﻥ
ﻳﻤﺸﻴﺎﻥ , ﻥﺍﺮﺜﻌﻳﻭ ﻓﻨﺰﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻣﻦ
ﺍﻟﻤﻨﺒﺮ ﻓﺤﻤﻠﻬﻤﺎ ﻭﻭﺿﻌﻬﻤﺎ ﺑﻴﻦ ﻳﺪﻳﻪ , ﺛﻢ ﻗﺎﻝ : ﺻﺪﻕ ﺍﻟﻠﻪ ﴿
ﺃَﻧَّﻤَﺂ ﺃَﻣۡﻮَٰﻟُﻜُﻢۡ ﻭَﺃَﻭۡﻟَٰﺪُﻛُﻢۡ ﻓِﺘۡﻨَﺔٞ ﴾ ‏[ :ﻝﺎﻔﻧﻻﺍ ٨٢‏] ﻓﻨﻈﺮﺕ ﺇﻟﻰ
ﻫﺬﻳﻦ ﺍﻟﺼﺒﻴﻴﻦ ﻳﻤﻴﺸﻴﺎﻥ ﻭﻳﻌﺜﺮﺍﻥ ﻓﻠﻢ ﺃﺻﺒﺮ ﺣﺘﻰ ﻗﻄﻌﺖ
ﺣﺪﻳﺜﻲ ﻭﺭﻓﻌﺘﻬﻤﺎ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ‏) .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাষণ
দিচ্ছিলেন এমন সময় হাসান ও হুসাইন রা. আসলেন; তাঁদের
গায়ে ছিল লাল জামা; তাঁরা হাঁটছিলেন আবার পড়ে
যাচ্ছিলেন; অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লাম মিম্বর থেকে নেমে এলেন এবং তাঁদের
দু’জনকে উঠিয়ে নিয়ে সামনে বসালেন; তারপর বললেন:
আল্লাহ তা‘আলা সত্যই বলেছেন: ﴿ ﺃَﻧَّﻤَﺂ ﺃَﻣۡﻮَٰﻟُﻜُﻢۡ ﻭَﺃَﻭۡﻟَٰﺪُﻛُﻢۡ
ﻓِﺘۡﻨَﺔٞ ﴾ [তোমাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি তো তোমাদের
জন্য ফিতনা (পরীক্ষা) স্বরূপ। - সূরা আল-আনফাল: ২৮]; এই
শিশু দু’টি হেঁটে আসছিল আর পড়ে যাচ্ছিল দেখে আমি আর
স্থির থাকতে পারলাম না, এমনকি কথা বন্ধ করে দিলাম
এবং এদেরকে উঠিয়ে নিলাম।” [38]
হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন: আমি আমার পিতাকে
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথীদের
মধ্যে তাঁর আচার-ব্যবহারের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
জবাবে তিনি বললেন:
‏« ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺩﺍﺋﻢ ﺍﻟﺒﺸﺮ , ﺳﻬﻞ
ﺍﻟﺨﻠﻖ , ﻟﻴﻦ ﺍﻟﺠﺎﻧﺐ , ﻟﻴﺲ ﺑﻔﻆ ﻭ ﻻ ﻏﻠﻴﻆ ﻭ ﻻ ﺻﺨﺎﺏ , ﻭ ﻻ
ﻓﺤﺎﺵ , ﻭ ﻻ , ﺏﺎﻴﻋ ﻭ ﻻ , ﺡﺎﺸﻣ ﻳﺘﻐﺎﻓﻞ ﻋﻤﺎ ﻻ , ﻲﻬﺘﺸﻳ ﻭ
ﻻ ﻳﻮﻳﺲ ﻣﻨﻪ ﻭ ﻻ ﻳﺠﻴﺐ , ﻪﻴﻓ ﻗﺪ ﺗﺮﻙ ﻧﻔﺴﻪ ﻣﻦ : ﺙﻼﺛ ﺍﻟﻤﺮﺍﺀ
ﻭﺍﻹﻛﺜﺎﺭ ﻭﻣﻤﺎ ﻻ ﻳﻌﻨﻴﻪ , ﻭ ﺗﺮﻙ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻣﻦ ﺛﻼﺙ : ﻛﺎﻥ ﻻ ﻳﺬﻡ
ﺃﺣﺪﺍ ﻭ ﻻ ﻳﻌﻴﺮﻩ , ﻭ ﻻ ﻳﻄﻠﺐ ﻋﻮﺭﺗﻪ , ﻭ ﻻ ﻳﺘﻜﻠﻢ ﺇﻻ ﺑﻤﺎ ﺭﺟﺎ
ﺛﻮﺍﺑﻪ , ﻭ ﺇﺫﺍ ﺗﻜﻠﻢ ﺃﻃﺮﻕ ﺟﻠﺴﺎﺅﻩ ﻛﺄﻧﻤﺎ ﻋﻠﻰ ﺭﺅﻭﺳﻬﻢ , ﺮﻴﻄﻟﺍ
ﻓﺈﺫﺍ ﺳﻜﺖ ﺗﻜﻠﻤﻮﺍ , ﻭ ﻻ ﻳﺘﻨﺎﺯﻋﻮﺍ ﻋﻨﺪﻩ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ , ﻭ ﻣﻦ ﺗﻜﻠﻢ
ﻋﻨﺪﻩ ﺃﻧﺼﺘﻮﺍ ﻟﻪ ﺣﺘﻰ ﻳﻔﺮﻍ , ﺣﺪﻳﺜﻬﻢ ﺣﺪﻳﺚ ﺃﻭﻟﻬﻢ , ﻳﻀﺤﻚ
ﻣﻤﺎ ﻳﻀﺤﻜﻮﻥ ﻣﻨﻪ , ﻭ ﻳﺘﻌﺠﺐ ﻣﻤﺎ ﻳﺘﻌﺠﺒﻮﻥ ﻣﻨﻪ , ﻭ ﻳﺼﺒﺮ
ﻟﻠﻐﺮﻳﺐ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺠﻔﻮﺓ ﻓﻲ ﻣﻨﻄﻘﻪ ﻭ ﻣﺴﺄﻟﺘﻪ ﺣﺘﻰ ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻥ
ﺃﺻﺤﺎﺑﻪ ﻟﻴﺴﺘﺠﻠﺒﻮﻧﻬﻢ , ﻭ ﻳﻘﻮﻝ : ﺇﺫﺍ ﺭﺃﻳﺘﻢ ﻃﺎﻟﺐ ﺍﻟﺤﺎﺟﺔ
ﻳﻄﻠﺒﻬﺎ ﻓﺎﺭﻓﺪﻭﻩ , ﻭ ﻻ ﻳﻘﺒﻞ ﺍﻟﺜﻨﺎﺀ ﻣﻦ ﻣﻜﺎﻓﺊ , ﻭ ﻻ ﻳﻘﻄﻊ
ﻋﻠﻰ ﺃﺣﺪ ﺣﺪﻳﺜﻪ ﺣﺘﻰ ﻳﺠﻮﺯ , ﻓﻴﻘﻄﻌﻪ ﺑﻨﻬﻲ ﺃﻭ ﻗﻴﺎﻡ ‏» .
‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ‏) .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন
সদাহাসিমুখ ও বিনম্র স্বভাবের অধিকারী; তিনি
রূঢ়ভাষী বা কঠিন হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন না; তিনি
উচ্চস্বরে কথা বলতেন না, অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করতেন
না, অপরের দোষ খুঁজে বেড়াতেন না এবং বখীল ছিলেন না।
যা চাইতেন না তা থেকে নির্লিপ্ত থাকতেন; কোনো
আশাকারীকে নিরাশ করতেন না, তেমনি কাউকে মিথ্যা
প্রতিশ্রুতিও দিতেন না। তিনটি বিষয় থেকে তিনি দূরে
থাকতেন: প্রদর্শনেচ্ছা, বেশী কথা ও অপ্রয়োজনীয়
কথাবার্তা বলা। আর তিনটি কাজ থেকে তিনি মানুষকে
মুক্ত রাখতেন: তিনি কাউকে নিন্দা করতেন না, কাউকে
অপবাদ দিতেন না এবং কারও দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান করতেন
না। আর যে কথায় সাওয়াব হয়, এমন কথা ছাড়া অন্য কোন
কথা বলতেন না। তিনি যখন কথা বলতেন, তখন উপস্থিত
শ্রোতাদের মনোযোগ এমনভাবে আকর্ষণ করতেন যে, তাদের
মাথায় যেন পাখি বসে আছে। যখন তিনি কথা বলা শেষ
করে নিরব হতেন, তখন অন্যরা কথা বলত এবং তাঁর নিকট
তারা কেউ বাদানুবাদ করত না। আর তাঁর নিকট কেউ কথা
বলা শুরু করলে তার কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্যদেরকে
চুপ থাকতে বলতেন। কোনো কথায় তারা হাসলে তিনিও
হাসতেন এবং তারা বিস্ময় প্রকাশ করলে তিনিও বিস্ময়
প্রকাশ করতেন। অপরিচিত লোকের রূঢ় আচরণ কিংবা কঠোর
উক্তি তিনি ধৈর্যের সাথে সহ্য করতেন, এমনকি
সাহাবীগণকে এমন লোকদের (অপরিচিত লোকদেরকে) নিয়ে
আসতে বলতেন। আরও বলতেন: যখন তোমরা কোনো প্রয়োজন
দেখা দেওয়া লোক দেখবে তখন তা সমাধা করতে তার
সাহায্য করবে। শুধু ভালোর বিনিময়ে প্রশংসা ব্যতীত
অন্য কোনো প্রকার প্রশংসা তিনি গ্রহণ করতেন না। কেউ
কথা বলতে থাকলে তাকে থামিয়ে দিয়ে তিনি নিজে কথা
বলা আরম্ভ করতেন না; অবশ্য কেউ সীমা লঙ্ঘন করলে তাকে
থামিয়ে দিতেন অথবা মজলিস থেকে উঠে যেতেন (যাতে
বক্তা নিজেই চুপ হয়ে যায়)।” [39]
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম
সাদাসিদে ও অনাড়াম্বর জীবনযাপনে চরম ধৈর্যশীল
মানুষ ছিলেন; তাঁর বালিশ ছিল যার অভ্যন্তরে ছিল
খেজুরের ছোবড়া। আনাস ইবন মালেক রা. কর্তৃক বর্ণিত
হাদিসের মধ্যে আছে, তিনি বলেন:
‏«ﺩﺧﻠﺖ ﻋﻠﻰ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻭﻫﻮ ﻋﻠﻰ
ﺳﺮﻳﺮ ﻣﻀﻄﺠﻊ ﻣﺮﻣﻞ ﺑﺸﺮﻳﻂ ﻭﺗﺤﺖ ﺭﺃﺳﻪ ﻭﺳﺎﺩﺓ ﻣﻦ ﺁﺩﻡ
ﺣﺸﻮﻫﺎ ﻟﻴﻒ , ﻓﺪﺧﻞ ﻋﻠﻴﻪ ﻧﻔﺮ ﻣﻦ ﺃﺻﺤﺎﺑﻪ ﻭﺩﺧﻞ ﻋﻤﺮ ,
ﻓﺎﻧﺤﺮﻑ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺍﻧﺤﺮﺍﻓﺔ , ﻓﻠﻢ ﻳﺮ
ﻋﻤﺮ ﺑﻴﻦ ﺟﻨﺒﻪ ﻭﺑﻴﻦ ﺍﻟﺸﺮﻳﻂ ﺛﻮﺑﺎ , ﻭﻗﺪ ﺃﺛﺮ ﺍﻟﺸﺮﻳﻂ ﺑﺠﻨﺐ ﺭﺳﻮﻝ
ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ , ﻓﺒﻜﻰ ﻋﻤﺮ , ﻓﻘﺎﻝ ﻟﻪ ﺍﻟﻨﺒﻲ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ : ﻣﺎ ﻳﺒﻜﻴﻚ ﻳﺎ ﻋﻤﺮ ؟ ﻗﺎﻝ : ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺍﻻ ﺃﻥ
ﺃﻛﻮﻥ ﺃﻋﻠﻢ ﺍﻧﻚ ﺃﻛﺮﻡ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰ ﻭ ﺟﻞ ﻣﻦ ﻛﺴﺮﻯ ﻭﻗﻴﺼﺮ ,
ﻭﻫﻤﺎ ﻳﻌﺒﺜﺎﻥ ﻓﻲ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻓﻴﻤﺎ ﻳﻌﺒﺜﺎﻥ ﻓﻴﻪ , ﻭﺃﻧﺖ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ
ﺑﺎﻟﻤﻜﺎﻥ ﺍﻟﺬﻱ ﺃﺭﻯ ! ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ : ﺃﻣﺎ
ﺗﺮﺿﻰ ﺍﻥ ﺗﻜﻮﻥ ﻟﻬﻢ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻭﻟﻨﺎ ﺍﻵﺧﺮﺓ ؟ ﻗﺎﻝ ﻋﻤﺮ : ﺑﻠﻰ ,
ﻗﺎﻝ : ﻓﺈﻧﻪ ﻛﺬﺍﻙ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺃﺣﻤﺪ ‏) .
“আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের
নিকট গিয়ে হাযির হলাম এমতাবস্থায় যে, তিনি শুয়ে
আছেন এমন এক খাটে, যা খেজুরের রশি দ্বারা তৈরি করা
এবং তাঁর মাথার নীচে ছিল তাম্রবর্ণের বালিশ, যা
খেজুর পাতার দ্বারা ভর্তি; অতঃপর তাঁর নিকট হাযির
হলে এক দল সাহাবী এবং সাথে ওমর রা. উপস্থিত হলেন;
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম
একবার মোড় নিলেন, তাতে ওমর রা. তাঁর পার্শ্বদেশ ও
খেজুরের রশির মাঝখানে (বিছানো) কোন কাপড় দেখতে
পেলেন না, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লামের পার্শ্বদেশে খেজুরের রশির চিহ্ন লেগে
ছিল; তা দেখে ওমর রা. কেঁদে পেললেন; অতঃপর তাঁকে
লক্ষ্য করে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বললেন: হে ওমর! তুমি কাঁদছ কেন? জবাবে ওমর রা.
বললেন: আল্লাহর কসম! আমি জানি যে, আপনি আল্লাহ
তা‘আলার নিকট কিসরা ও কায়সার থেকে অনেক বেশি
সম্মানিত ও প্রিয়; অথচ তারা দুনিয়ার মধ্যে আমোদ-
প্রমোদ করে যাচ্ছে; আর হে আল্লাহর রাসূল! আপনার
অবস্থান তো আমি দেখতেই পাচ্ছি! তখন নবী সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তুমি কি পছন্দ কর না যে,
তাদের জন্য (সমৃদ্ধ) হউক দুনিয়া, আর আমাদের জন্য (সমৃদ্ধ)
হউক আখিরাত? জবাবে ওমর রা. বললেন: হ্যাঁ, অবশ্যই;
তিনি বললেন: সুতরাং (প্রকৃত) বিষয়টি অনুরূপই।” [40]
এই হল নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের
চরিত্রের উজ্জ্বল কিছু মণি-মুক্তা; সুতরাং আপনারা তাকে
আপনাদের জন্য অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় মশাল বা পাঞ্জেরী
হিসেবে গ্রহণ করুন, তার প্রতি আস্থা রাখুন, তাকে গ্রহণ
করুন, তার উপর পথ চলুন এবং সঠিক পথের অনুসারী হউন;
আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে উত্তম চরিত্র দান করেছেন এবং
আমাদেরকে তাঁর অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন; আল্লাহ
তা‘আলা বলেছেন:
﴿ ﻓََٔﺎﻣِﻨُﻮﺍْ ﺑِﭑﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟِﻪِ ﭐﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﭐﻟۡﺄُﻣِّﻲِّ ﭐﻟَّﺬِﻱ ﻳُﺆۡﻣِﻦُ ﺑِﭑﻟﻠَّﻪِ
ﻭَﻛَﻠِﻤَٰﺘِﻪِۦ ﻭَﭐﺗَّﺒِﻌُﻮﻩُ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢۡ ﺗَﻬۡﺘَﺪُﻭﻥَ ٨٥١ ﴾ ‏[ :ﻑﺍﺮﻋﻻﺍ ٨٥١ ‏]
“কাজেই তোমরা ঈমান আন আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রাসূল
উম্মী নবীর প্রতি, যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহে ঈমান
রাখেন। আর তোমরা তার অনুসরণ কর, যাতে তোমরা
হিদায়াতপ্রাপ্ত হও।” – [সূরা আল-আ‘রাফ: ১৫৮]।
আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে এবং আপনাদেরকে এই নবী
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মহব্বত করার সুযোগ
দান করুন এবং আমাদেরকে আজীবন তাঁর সুন্নাহ ও
হিদায়েতের অনুসরণ করার তাওফীক দান করুন।
* * *
গ্রন্থপঞ্জি
১. ‘দালায়েলুন নবুয়াত ওয়া মা‘রেফাতু আহওয়ালি সাহেবিশ্
শরী‘য়াত’ ( ﺩﻻﺋﻞ ﺍﻟﻨﺒﻮﺓ ﻭ ﻣﻌﺮﻓﺔ ﺃﺣﻮﺍﻝ ﺻﺎﺣﺐ ﺍﻟﺸﺮﻳﻌﺔ ),
আহমদ ইবন হুসাইন আল-বায়হাকী; ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ
করেছেন: আবদুল মু‘তী কাল‘আজী, বৈরুত: দারুল কুতুবিল
‘ইলমিয়া, ১৪০৫ হি.
২. ‘আল-জামে‘উস সহীহ: সুনানুত তিরমিযী’ ( ﺍﻟﺠﺎﻣﻊ ﺍﻟﺼﺤﻴﺢ :
ﺳﻨﻦ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ), মুহাম্মদ ইবন ঈসা ইবন সূরা আত-
তিরমিযী, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেছেন: আহমদ শাকের ও
অন্যান্যগণ, তৃতীয় সংস্করণ, কায়রো: মুস্তফা আল-বাবী আল-
হালবী এবং তার সন্তানগণ, ১৩৯৮ হি.
৩. সুনানুন নাসায়ী বিশরহিল হাফেজ জালাল উদ্দিন আস-
সূয়ুতী ওয়া হাশিয়াতুল ইমাম আস-সিন্দী ( ﺳﻨﻦ ﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ
ﺑﺸﺮﺡ ﺟﻼﻝ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﺍﻟﺴﻴﻮﻃﻲ ﻭ ﺣﺎﺷﻴﺔ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺍﻟﺴﻨﺪﻱ );
পরিমার্জন, নম্বর বিন্যাস ও সূচীপত্র প্রণয়ন: আবদুল
ফাত্তাহ আবূ গুদ্দা, দ্বিতীয় সংস্করণ, হালব: মাকতাবাতুল
মাতবু‘আতিল ইসলামিয়া, ১৪০৯ হি.
৪. শরহুস সুন্নাহ ( ﺷﺮﺡ ﺍﻟﺴﻨﺔ ), হুসাইন ইবন মাস‘উদ আল-
ফারা আল-বাগবী, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেছেন: যুহাইর
শাবীশ ও শু‘য়াইব আল-আরনাউত, বৈরুত: আল-মাকতাবুল
ইসলামী, ১৩৯৯ হি.
৫. আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়া ( ﺍﻟﺸﻤﺎﺋﻞ ﺍﻟﻤﺤﻤﺪﻳﺔ
),মুহাম্মদ ইবন ঈসা ইবন সূরা আত-তিরমিযী, ব্যাখ্যা-
বিশ্লেষণ: মুহাম্মদ ‘আফীফ আয-যা‘বী, তৃতীয় সংস্করণ,
জেদ্দা: দারুল মাতবু‘আতিল হাদিসা, ১৪০৯ হি.
৬. সহীহুল বুখারী ( ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ), মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল
ইবন ইবরাহীম আল-বুখারী, ইস্তাম্বুল: আল-মাকতাবুল
ইসলামী।
৭. সহীহ মুসলিম ( ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ ), মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ
আল-কুশায়রী আন-নিসাবুরী, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ: মুহাম্মদ
ফুয়াদ আবদুল বাকী, রিয়াদ: রিয়াসাতু ইদারাতিল বাহুসিল
‘ইলমিয়া ওয়াল ইফতা ওয়াদ দা‘ওয়া ওয়াল ইরশাদ (ﺔﺳﺎﺋﺭ
ﺇﺩﺍﺭﺍﺕ ﺍﻟﺒﺤﻮﺙ ﺍﻟﻌﻠﻤﻴﺔ ﻭ ﺍﻹﻓﺘﺎﺀ ﻭ ﺍﻟﺪﻋﻮﺓ ﻭ ﺍﻹﺭﺷﺎﺩ ), ১৪০০
হি.
৮. নববীর ব্যখ্যাসহ সহীহ মুসলিম ( ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ ﺑﺸﺮﺡ
:দা়যির ,)ﺍﻟﻨﻮﻭﻱ রিয়াসাতু ইদারাতিল বাহুসিল ‘ইলমিয়া
ওয়াল ইফতা ওয়াদ দা‘ওয়া ওয়াল ইরশাদ ( ﺭﺋﺎﺳﺔ ﺇﺩﺍﺭﺍﺕ
ﺍﻟﺒﺤﻮﺙ ﺍﻟﻌﻠﻤﻴﺔ ﻭ ﺍﻹﻓﺘﺎﺀ ﻭ ﺍﻟﺪﻋﻮﺓ ﻭ ﺍﻹﺭﺷﺎﺩ ), ১৪০১ হি.
৯. আত-ত্ববাকাতুল কুবরা ( ﺍﻟﻄﺒﻘﺎﺕ ﺍﻟﻜﺒﺮﻯ ), ইবনু সা‘দ,
বৈরুত: দারু সাদির, তারিখ বিহীন।
১০. ফাতহুল বারী শরহু সহীহিল ইমাম আবি আবদিল্লাহ
মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল আল-বুখারী ( ﻓﺘﺢ ﺍﻟﺒﺎﺭﻱ ﺷﺮﺡ ﺻﺤﻴﺢ
ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺃﺑﻲ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺇﺳﻤﺎﻋﻴﻞ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ), আহমদ ইবন
আলী ইবন হাজার আল-‘আসকালানী, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ:
আবদুল আযীয ইবন আবদিল্লাহ ইবন বায; অধ্যায়, পরিচ্ছেদ
ও হাদিসের ক্রমিক নম্বর বিন্যাস: মুহাম্মদ ফুয়াদ আবদুল
বাকী, রিয়াদ: রিয়াসাতু ইদারাতিল বাহুসিল ‘ইলমিয়া
ওয়াল ইফতা ওয়াদ দা‘ওয়া ওয়াল ইরশাদ ( ﺭﺋﺎﺳﺔ ﺇﺩﺍﺭﺍﺕ
ﺍﻟﺒﺤﻮﺙ ﺍﻟﻌﻠﻤﻴﺔ ﻭ ﺍﻹﻓﺘﺎﺀ ﻭ ﺍﻟﺪﻋﻮﺓ ﻭ ﺍﻹﺭﺷﺎﺩ )।
১১. আল-কামুস আল-মুহীত ( ﺍﻟﻘﺎﻣﻮﺱ ﺍﻟﻤﺤﻴﻂ ), মুহাম্মদ ইবন
ইয়াকুব আল-ফিরোযাবাদী, দ্বিতীয় সংস্করণ, বৈরুত:
মুয়াস্সাসাতুর রিসালা ( ﻣﺆﺳﺴﺔ ﺍﻟﺮﺳﺎﻟﺔ ), ১৪০৭ হি.
১২. আল-মুসতাদরাকু ‘আলা আস-সহীহাইন ( ﺍﻟﻤﺴﺘﺪﺭﻙ ﻋﻠﻰ
,)ﺍﻟﺼﺤﻴﺤﻴﻦ হাকেম নিসাবুরী; তত্ত্ববধানে: ইউসূফ আবদুর
রহমান আল-মার‘আশালী, হাদিসসমূহের বর্ধিত সূচীপত্রসহ,
বৈরুত: দারুল মা‘আরেফত।
১৩. মুসনাদুল ইমাম আহমাদ ( ﻣﺴﻨﺪ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺃﺣﻤﺪ ), বৈরুত:
দারু সাদির।
* * *
তথ্যসূত্র:
[1] আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ ﻭَﺇِﻧَّﻚَ ﻟَﻌَﻠَﻰٰ ﺧُﻠُﻖٍ ﻋَﻈِﻴﻢٖ ٤ ﴾ ‏[ :ﻢﻠﻘﻟﺍ ٤‏]
“আর নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের উপর রয়েছেন।” (সূরা
আল-ক্বলম: ৪)।
আর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি
বলেছেন:
‏« ﻓَﺈِﻥَّ ﺧُﻠُﻖَ ﻧَﺒِﻰِّ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛَﺎﻥَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ‏» .
‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ ‏) .
“কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের
চরিত্র ছিল ‘আল-কুরআন’।” [মুসলিম, আস-সহীহ:
মুসাফিরগণের সালাত ( ﺻﻼﺓ ﺍﻟﻤﺴﺎﻓﺮﻳﻦ ) / ১৮, হাদিস নং-
৭৪৬, ১ / ৫১৩ ]।
আর বারা ইবন ‘আযেব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন:
‏« ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺃﺣﺴﻦ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻭﺟﻬﺎ
ﻭ ﺃﺣﺴﻦ ﺧُﻠﻘﺎ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﻭ ﻣﺴﻠﻢ ‏) .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন
মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর চেহারা ও উত্তম চরিত্রের
অধিকারী।” [ বুখারী, আস-সহীহ: মানাকিব / ২৩, ৪ / ১৬৫;
মুসলিম, আস-সহীহ: ফাদায়েল / ২৫, হাদিস নং- ২৩৩৭, ৪ /
১৮১৯ ]।
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন:
‏« ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺃﺣﺴﻦ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺧُﻠﻘﺎ
‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ ‏) .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন
মানুষের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম চরিত্রের
অধিকারী।” [মুসলিম, আস-সহীহ: ফাদায়েল / ১৩, হাদিস
নং- ২৩১০, ৪ / ১৮০৫ ]।
[2] বারা ইবন ‘আযেব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন:
‏« ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻣﺮﺑﻮﻋﺎ , ﺑﻌﻴﺪ ﻣﺎ ﺑﻴﻦ
ﺍﻟﻤﻨﻜﺒﻴﻦ , ﻟﻪ ﺷﻌﺮ ﻳﺒﻠﻎ ﺷﺤﻤﺔ ﺃﺫﻧﻴﻪ , ﺭﺃﻳﺘﻪ ﻓﻲ ﺣﻠﺔ , ﺀﺍﺮﻤﺣ
ﻟﻢ ﺃﺭ ﺷﻴﺌﺎ ﻗﻂ ﺃﺣﺴﻦ ﻣﻨﻪ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ
ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏) .
“নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মধ্যম
আকৃতির পুরুষ; তাঁর উভয় কাঁধের দূরত্ব ছিল অল্প বেশি; চুল
ছিল কানের লতিকা পর্যন্ত লম্বিত; আমি তাঁকে লাল
পোষাক পরিহিত অবস্থায় দেখেছি; তাঁর চেয়ে সুন্দর কিছু
আমি কখনও দেখি নি।” [ বুখারী, আস-সহীহ: মানাকিব /
২৩, ৪ /১৬৫; মুসলিম, আস-সহীহ: ফাদায়েল / ২৫, হাদিস
নং- ২৩৩৭, ৪ / ১৮১৮]।
জুরাইরী র. থেকে বর্ণিত, তিনি আবূ তোফায়েল রা. থেকে
বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
‏« :ُﺖْﻠُﻗ ﻟَﻪُ ﺃَﺭَﺃَﻳْﺖَ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ؟ :َﻝﺎَﻗ ﻧَﻌَﻢْ
, ﻛَﺎﻥَ ﺃَﺑْﻴَﺾَ , ﻣَﻠِﻴﺢَ ﺍﻟْﻮَﺟْﻪِ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ ‏) .
“আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, আপনি কি রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন? তিনি
বললেন: হ্যাঁ, তিনি ছিলেন ফর্সা, লাবণ্যময় চেহারার
অধিকারী।” [মুসলিম, আস-সহীহ: ফাদায়েল / ২৮, হাদিস
নং- ২৩৪০, ৪ / ১৮২০]।
আর উম্মে মা‘বাদ কর্তৃক বর্ণিত হাদিসের মধ্যে আছে:
‏« ﺭَﺃَﻳْﺖُ ﺭَﺟُﻼ ﻇَﺎﻫِﺮَ ﺍﻟْﻮَﺿَﺎﺀَﺓِ ، ﺃَﺑْﻠَﺞَ ﺍﻟْﻮَﺟْﻪِ ، ﻟَﻢْ ﺗَﻌِﺒْﻪُ ﻧُﺤْﻠَﺔٌ ، ﻭَﻟَﻢْ
ﺗُﺰْﺭِ ﺑِﻪِ ﺻُﻘْﻠَﺔٌ ، ﻭَﺳِﻴﻢٌ ﻗَﺴِﻴﻢٌ ... ﺃَﺟْﻤَﻞُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻭَﺃﺑْﻬَﺎﻩُ ﻣِﻦْ , ٍﺪﻴِﻌَﺑ
ﻭَﺃَﺟْﻼﻩُ ﻭَﺃَﺣْﺴَﻨُﻪُ ﻣِﻦْ ﻗَﺮِﻳﺐٍ
‏» .
“আমি এক ব্যক্তিকে দেখেছি, যার অবস্থা হল- তিনি
পরিষ্কার সুন্দর, উজ্জ্বল চেহারার অধিকারী, তিনি
শীর্ণতার দোষে দুষ্ট নন; নিন্দিত নন ক্ষুদ্রতার
অভিযোগে, উজ্জ্বল ফর্সা, হ্যাণ্ডসাম ... সবচেয়ে সুন্দর
মানুষ, দূর থেকে দেখতে তিনি সর্বাধিক দীপ্তিমান, আর
কাছ থেকে দেখতে তিনি অতি উজ্জ্বল ও সুন্দর।”
[3] হাদিসের মধ্যে তার ব্যখ্যা করা হয়েছে:
‏« ﻟَﻴْﺲَ ﺑِﺎﻟﻄَّﻮِﻳﻞِ ﺍﻟﺒﺎﺋﻦ , ﻭَﻻَ ﺑِﺎﻟْﻘَﺼِﻴﺮِ ‏» . (তিনি খুব বেশি
লম্বাও ছিলেন না, আবার বেঁটেও ছিলেন না)। [ ফতহুল
বারী: ৬ /৫৬৯ ]।
[4] রবী‘আ ইবন আবি আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি
বলেন:
‏« ﺳﻤﻌﺖ ﺃﻧﺲ ﺑﻦ ﻣﺎﻟﻚ ﻳﺼﻒ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ
:ﻝﺎﻗ ﻛﺎﻥ ﺭﺑﻌﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﻘﻮﻡ , ﻟﻴﺲ ﺑﺎﻟﻄﻮﻳﻞ , ﻭﻻ ﺑﺎﻟﻘﺼﻴﺮ ‏» .
‏( ﺭﻭﺍﻩ
ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏) .
“আমি আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে নবী
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের (শারীরিক)
গুণাবলী বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: “তিনি ছিলেন
সম্প্রদায়ের মধ্যে মধ্যম আকৃতির মানুষ; তিনি বেশি
লম্বাও ছিলেন না, আবার বেঁটেও ছিলেন না ।” [ বুখারী,
আস-সহীহ: মানাকিব / ২৩, ৪ /১৬৪]।
আর বারা ইবন ‘আযেব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত
হাদিসের মধ্যে আছে:
‏« ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ...  ﺎﻋﻮﺑﺮﻣ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ
ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏) .
“নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মধ্যম
আকৃতির পুরুষ ...।” [ বুখারী, আস-সহীহ: মানাকিব / ২৩,
৪ /১৬৫]।
[5] বারা ইবন ‘আযেব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন:
‏« ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻣﺮﺑﻮﻋﺎ , ﺑﻌﻴﺪ ﻣﺎ ﺑﻴﻦ
ﺍﻟﻤﻨﻜﺒﻴﻦ ... ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏) .
“নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মধ্যম
আকৃতির পুরুষ; তাঁর উভয় কাঁধের দূরত্ব ছিল অল্প বেশি;
...।” [বুখারী, আস-সহীহ: মানাকিব / ২৩, ৪ /১৬৫]।
[6] আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন:
‏« ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺑﺎﻟﻄﻮﻳﻞ ﻭﻻ ﺑﺎﻟﻘﺼﻴﺮ،
ﺷﺜﻦ ﺍﻟﻜﻔﻴﻦ ، ﻭﺍﻟﻘﺪﻣﻴﻦ ، ﺿﺨﻢ ﺍﻟﺮﺃﺱ , ﺿﺨﻢ ﺍﻟﻜﺮﺍﺩﻳﺲ ،
ﻃﻮﻳﻞ ﺍﻟﻤﺴﺮُﺑَﺔِ ، ﺇِﺫﺍ ﻣﺸﻰ ﺗَﻜﻔَّﺎ ﺗﻜﻔِّﻴﺎ . ﻛﺄﻧﻤﺎ ﺍﻧﺤﻂّ ﻣﻦ . ﺐﺒﺻ
ﻟﻢ ﺃﺭ ﻗﺒﻠﻪ ﻭﻻ ﺑﻌﺪﻩ ﻣﺜﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ
ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ‏) .
“নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম লম্বাও ছিলেন
না, আবার বেঁটেও ছিলেন না; তাঁর দুই হাতের তালু ও দুই
পায়ের তলা ছিল মাংসবহুল; মাথা ছিল বড় এবং
অস্থিগ্রন্থিগুলো ছিল মোটা; বক্ষদেশ থেকে নাভি পর্যন্ত
একটি সরু কেশ রেখা ছিল; যখন তিনি হাঁটতেন, তখন
সামনের দিকে ঝুঁকে চলতেন, মনে হত যেন তিনি যমীনের
নীচু অংশে অবতরণ করছেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বে ও পরে তাঁর মত(এত অধিক
সুন্দর) আর কাউকে দেখিনি।” [ তিরমিযী, আস-সুনান:
মানাকিব / ৮, হাদিস নং- ৩৬৩৭; ৫ / ৫৯৮। আর তিনি
বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান, সহীহ]।
" ﺷﺜﻦ " শব্দের অর্থ: হৃষ্টপুষ্ট আঙুলসমূহ। — [ কামূসুল
মুহীত, মূল অক্ষর " ﺷﺜﻦ " , পৃ. ১৫৯ ]।
" ﺍﻟﻜﺮﺍﺩﻳﺲ " শব্দটি বহুবচন, একবচনে " ﺍﻟﻜُﺮﺩﻭﺳﺔ " যার
অর্থ: এমন প্রত্যেক হাড়দ্বয়, যা একই গ্রন্থিতে মিলিত
হয়েছে; প্রত্যেক মোটা গোশত বিশিষ্ট হাড়। — [ কামূসুল
মুহীত, মূল অক্ষর " " ﺔﺳﻭﺩﺮﻜﻟﺍ ,পৃ. ৭৩৫ ]।
" " ﺔﺑﺮﺴﻤﻟﺍ শব্দের অর্থ: বক্ষদেশ থেকে নাভি পর্যন্ত সরু
কেশ রেখা। — [কামূসুল মুহীত, মূল অক্ষর " ﺳﺮﺏ " , পৃ.
১২৪]।
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
‏« ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺿﺨﻢ ﺍﻟﻴﺪﻳﻦ , ﻦﻴﻣﺪﻘﻟﺍﻭ
ﺣﺴﻦ ﺍﻟﻮﺟﻪ , ﻟﻢ ﺃﺭ ﺑﻌﺪﻩ ﻭﻻ ﻗﺒﻠﻪ ﻣﺜﻠﻪ , ﻭﻛﺎﻥ ﺑﺴﻂ ﺍﻟﻜﻔﻴﻦ
‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏) .
“নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই হাত ও দুই
পা ছিল মাংসবহুল; চেহারা ছিল সুন্দর; আমি তাঁর পরে ও
তাঁর আগে তাঁর মত (এত অধিক সুন্দর) আর কাউকে দেখিনি;
আর তাঁর হাতের তালু ছিল প্রশস্ত।” [ বুখারী, আস-সহীহ:
লিবাস (পোষাক-পরিচ্ছদ) / ৬৮, ৭ / ৫৮]।
[7] হিন্দ ইবন আবি হালা রা. বর্ণিত হাদিসের মধ্যে
আছে, যখন তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লামের গুণাবলী বর্ণনা করেন, তখন তিনি বলেন:
‏« ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﺨﻤﺎ ﻣﻔﺨﻤﺎ , ﻳﺘﻸﻷ
ﻭﺟﻬﻪ ﺗﻸﻷ ﺍﻟﻘﻤﺮ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺒﺪﺭ، ﺃﻃﻮﻝ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺮﺑﻮﻉ , ﻭﺃﻗﺼﺮ ﻣﻦ
ﺍﻟﻤﺸﺬﺏ ، ﻋﻈﻴﻢ ﺍﻟﻬﺎﻣﺔ ، ﺭﺟﻞ ﺍﻟﺸﻌﺮ , ﺇﻥ ﺍﻧﻔﺮﻗﺖ ﻋﻘﻴﻘﺘﻪ
ﻓﺮﻗﻬﺎ ﻭﺇﻻ ﻓﻼ ﻳﺠﺎﻭﺯ ﺷﻌﺮﻩ ﺷﺤﻤﺔ ﺃﺫﻧﻴﻪ. ﺇﺫﺍ ﻫﻮ ﻭﻓﺮﻩ ، ﺃﺯﻫﺮ
ﺍﻟﻠﻮﻥ ، ﻭﺍﺳﻊ ﺍﻟﺠﺒﻴﻦ ، ﺃﺯﺝ ﺍﻟﺤﻮﺍﺟﺐ ﺳﻮﺍﺑﻎ ﻓﻰ ﻏﻴﺮ ﻗﺮﻥ ,
ﺑﻴﻨﻬﻤﺎ ﻋﺮﻕ ﻳﺪﺭﻩ ﺍﻟﻐﻀﺐ ، ﺃﻗﻨﻰ ﺍﻟﻌﺮﻧﻴﻦ , ﻟﻪ ﻧﻮﺭ ﻳﻌﻠﻮﻩ ,
ﻳﺤﺴﺒﻪ ﻣﻦ ﻟﻢ ﻳﺘﺄﻣﻠﻪ ﺃﺷﻢ ، ﻛﺚ ﺍﻟﻠﺤﻴﺔ , ﺳﻬﻞ ﺍﻟﺨﺪﻳﻦ , ﺿﻠﻴﻊ
ﺍﻟﻔﻢ ، , ﻥﺎﻨﺳﻷﺍ  ﺞﻠﻔﻣ ﺩﻗﻴﻖ ﺍﻟﻤﺴﺮﺑﺔ ، ﻛﺄﻥ ﻋﻨﻘﻪ ﺟﻴﺪ ﺩﻣﻴﺔ
ﻓﻰ ﺻﻔﺎﺀ ﺍﻟﻔﻀﺔ ، ﻣﻌﺘﺪﻝ , ﻖﻠﺨﻟﺍ ﺑﺎﺩﻥ ﻣﺘﻤﺎﺳﻚ ، ﺳﻮﺍﺀ
ﺍﻟﺒﻄﻦ ﻭﺍﻟﺼﺪﺭ ، ﻋﺮﻳﺾ ﺍﻟﺼﺪﺭ ، ﺑﻌﻴﺪ ﻣﺎ ﺑﻴﻦ ... ﻦﻴﺒﻜﻨﻤﻟﺍ
‏» .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন
সম্মান ও মর্যাদার আধার; তাঁর চেহারা পূর্ণিমার রাতের
চাঁদের স্নিগ্ধ আলোর ন্যায় ঝলমল করত; তিনি মধ্যম
আকৃতির চেয়ে দীর্ঘদেহী এবং অতিশয় দীর্ঘকায় ব্যক্তির
চেয়ে খানিকটা খর্বকায় ছিলেন; তাঁর মাথা (তুলনামূলক)
বড় এবং কেশরাজি কিছুটা কোঁকড়ানো ছিল; সহসা সিঁথি
করা গেলে সিঁথি করতেন, নতুবা সিঁথি করতেন না; তিনি
তাঁর কেশরাজিকে যখন ‘অপরা’ করতেন, তখন তা উভয়
কানের লতি অতিক্রম করত; তাঁর বর্ণ অতি প্রাঞ্জল এবং
ললাটের উভয় পার্শ্ব প্রশস্ততর ছিল; তাঁর ভ্রূযুগল বিমুক্ত
বৃত্তাংশের ন্যায় বাঁকা, খুব সূক্ষ্ম ঘন চুল বিশিষ্ট ছিল;
আর ঐ ভ্রূযুগলের মাঝে এমন একটি শিরা ছিল, যা রাগের
সময় (অধিক রক্ত সঞ্চারিত হওয়ার ফলে) ভেসে উঠত
(প্রকাশ পেত); তাঁর নাসিকা সুদীর্ঘ, অগ্রভাগ সরু ও
মধ্যভাগ ন্যূজ্ব ছিল; তাঁর নাসিকায় এমন নূর (জ্যোতি)
ছিল, যা নাকের উপর বিকীর্ণ হত; কেউ গভীর মনোযোগ
সহকারে তাঁর নাকের প্রতি না তাকালে অত্যুন্নত নাসা
মনে করত; তাঁর দাঁড়ি ছিল বিস্তীর্ণ ও খুব ঘন; গণ্ডদ্বয়
মসৃণ এবং মুখমণ্ডল প্রশস্ত ছিল; সম্মুখের উপরের পাটির
দু’টি দাঁত ও নীচের পাটির দু’টি দাঁত আলাদা ছিল—
মিলিত ছিল না; বক্ষদেশ থেকে নাভি পর্যন্ত প্রলম্বিত
চুলের রেখাটি ছিল সরু; তাঁর গ্রীবা (ঘাড়) যেন হাতির
দাঁত দ্বারা নির্মিত মোতির গ্রীবা কিন্তু তার শুভ্রতা
রৌপ্যের ন্যায়; তাঁর দেহের গঠন ছিল সুসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং
মাংসপেশী ছিল সূদৃঢ় মজবুত; তাঁর পেট ও বক্ষ ছিল
(উচ্চতায়) সমান এবং বক্ষ ছিল প্রশস্ত; তাঁর এক কাঁধ
থেকে অন্য কাঁধ অপেক্ষাকৃত দূরত্বে ছিল: ...।”
আর ‘তাবাকাতে ইবনে সা‘আদ’ (১ / ৪১৫) –এর মধ্যে আছে,
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি
বলেন:
‏« ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺷﺜﻦ ﺍﻟﻘﺪﻣﻴﻦ
ﻭﺍﻟﻜﻔﻴﻦ , ﺿﺨﻢ ﺍﻟﺴﺎﻗﻴﻦ , ﻋﻈﻴﻢ ﺍﻟﺴﺎﻋﺪﻳﻦ , ﺿﺨﻢ , ﻦﻴﺒﻜﻨﻤﻟﺍ
ﺑﻌﻴﺪ ﻣﺎ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﻤﻨﻜﺒﻴﻦ , ﺭﺣﺐ ﺍﻟﺼﺪﺭ , ﺭﺟﻞ ﺍﻟﺮﺃﺱ , ﺃﻫﺪﺏ
ﺍﻟﻌﻴﻨﻴﻦ , ﺣﺴﻦ ﺍﻟﻔﻢ
‏» .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই
হাতের তালু ও দুই পায়ের তলা ছিল মাংসবহুল; তাঁর পায়ের
নলিযুগলও ছিল মাংসবহুল; বড় হাত বিশিষ্ট; মাংসবহুল
কাঁধের অধিকারী; তাঁর উভয় কাঁধের দূরত্ব ছিল অল্প বেশি;
প্রশস্ত বুকের অধিকারী; অতি কিঞ্চিত কোঁকড়ানো চুল
বিশিষ্ট মাথার অধিকারী; লম্বা ভ্রূ বিশিষ্ট চোখ ও
সুন্দর মুখের অধিকারী ।”
[8] আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি
বলেন:
‏« ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺿﺨﻢ ﺍﻟﻘﺪﻣﻴﻦ ﺣﺴﻦ
ﺍﻟﻮﺟﻪ ﻟﻢ ﺃﺭ ﺑﻌﺪﻩ ﻣﺜﻠﻪ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏) .
“নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই পা ছিল
মাংসবহুল, চেহারা ছিল সুন্দর; আমি তাঁর পরে (এত অধিক
সুন্দর) আর কাউকে দেখিনি।” [বুখারী, আস-সহীহ: লিবাস
(পোষাক-পরিচ্ছদ) / ৬৮, ৭ / ৫৮]।
পূর্বে উল্লেখিত বারা ইবন ‘আযেব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা
থেকে বর্ণিত হাদিসের মধ্যে আছে:
‏« ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺃﺣﺴﻦ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻭﺟﻬﺎ
... ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏) .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন
মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর চেহারার অধিকারী
...।” [ বুখারী, আস-সহীহ: মানাকিব]।
[9] আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন:
‏« ﻛﺎﻥ ﺭﺑﻌﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﻘﻮﻡ ﻟﻴﺲ ﺑﺎﻟﻄﻮﻳﻞ ﻭﻻ ﺑﺎﻟﻘﺼﻴﺮ , ﺃﺯﻫﺮ ﺍﻟﻠﻮﻥ
, ﻟﻴﺲ ﺑﺄﺑﻴﺾ ﺃﻣﻬﻖ ﻭﻻ ﺁﺩﻡ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏) .
“তিনি ছিলেন সম্প্রদায়ের মধ্যে মধ্যম আকৃতির মানুষ;
তিনি বেশি লম্বাও ছিলেন না, আবার বেঁটেও ছিলেন না;
তিনি ছিলেন ফর্সা উজ্জ্বল বর্ণের; তিনি ধবধবে সাদা
ছিলেন না, ছিলেন না খুব ধূসর বর্ণ।” [ বুখারী, আস-সহীহ:
মানাকিব / ২৩, ৪ /১৬৪]।
মুসলিম র. এর এক বর্ণনার মধ্যে আছে:
‏« ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃَﺯْﻫَﺮَ ﺍﻟﻠَّﻮْﻥِ ﻛَﺄَﻥَّ ﻋَﺮَﻗَﻪُ
ﺍﻟﻠُّﺆْﻟُﺆُ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ ‏) .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন
ফর্সা উজ্জ্বল বর্ণের; তাঁর ঘাম যেন মুক্তা।” [ মুসলিম,
আস-সহীহ: ফাযায়েল / ২১, হাদিস নং- ২৩৩০, ৪ / ১৮১৫]।
ইবনু হাজার র. ‘ফাতহুল বারী’ (৬ / ৫৬৯) –এর মধ্যে বলেন:
" ﺃَﺯْﻫَﺮَ ﺍﻟﻠَّﻮْﻥِ " অর্থ: আলতা মিশানো সাদা পানীয়।
আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন:
‏« ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻟﻴﺲ ﺑﺎﻟﻄﻮﻳﻞ , ﻭﻻ
ﺑﺎﻟﻘﺼﻴﺮ , ﺿﺨﻢ ﺍﻟﺮﺃﺱ ﻭﺍﻟﻠﺤﻴﺔ , ﺷﺜﻦ ﺍﻟﻜﻔﻴﻦ ﻭﺍﻟﻘﺪﻣﻴﻦ ,
ﻣﺸﺮﺏ ﻭﺟﻬﻪ ﺣﻤﺮﺓ ﻃﻮﻳﻞ ﺍﻟﻤﺴﺮﺑﺔ ... ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ
ﺃﺣﻤﺪ ‏) .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম লম্বাও
ছিলেন না, আবার বেঁটেও ছিলেন না (তিনি মধ্যম আকৃতির
ছিলেন); আর তিনি ছিলেন (তুলনামূলক) বড় মাথা ও দাঁড়ির
অধিকারী; তাঁর দুই হাতের তালু ও দুই পায়ের তলা ছিল
মাংসবহুল; তাঁর চেহারা ছিল লোহিতাভ শুভ্র প্রকৃতির;
বক্ষদেশ থেকে নাভি পর্যন্ত একটি সরু কেশ রেখা ছিল;
...।” [ ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ: ১ / ৯৬; হাকেম, আল-
মুসতাদরাক: ২ / ৬০৬ এবং তিনি বলেন, এই হাদিসটির
সনদ ইমাম মুসলিম র. এর শর্তের আলোকে সহীহ, তবে তারা
তা বর্ণনা করেননি, আর ইমাম যাহাবীও তার মতকে
সমর্থন করেছেন]।
[10] জাবির ইবন সামুরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে
বর্ণিত, তিনি বলেন:
‏« ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺪْ ﺷَﻤِﻂَ ﻣُﻘَﺪَّﻡُ ﺭَﺃْﺳِﻪِ
ﻭَﻟِﺤْﻴَﺘِﻪِ , ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺇِﺫَﺍ ﺍﺩَّﻫَﻦَ ﻟَﻢْ ﻳَﺘَﺒَﻴَّﻦْ , ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺷَﻌِﺚَ ﺭَﺃْﺳُﻪُ ﺗَﺒَﻴَّﻦَ ,
ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻛَﺜِﻴﺮَ ﺷَﻌْﺮِ ﺍﻟﻠِّﺤْﻴَﺔِ , ﻓَﻘَﺎﻝَ :ٌﻞُﺟَﺭ ﻭَﺟْﻬُﻪُ ﻣِﺜْﻞُ ﺍﻟﺴَّﻴْﻒِ ؟
:َﻝﺎَﻗ ﻻَ , ﺑَﻞْ ﻛَﺎﻥَ ﻣِﺜْﻞَ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲِ ﻭَﺍﻟْﻘَﻤَﺮِ , ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻣُﺴْﺘَﺪِﻳﺮًﺍ ‏» .
‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ ‏) .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুল ও
দাঁড়ির সম্মুখভাগ সাদা হয়ে গিয়েছিল। যখন তিনি তেল
দিতেন, তখন (সাদা চুল) দেখা যেত না; আর যখন চুল
এলোমেলো হত, তখন (শুভ্রতা) দেখা যেত। তাঁর দাঁড়ি খুব
ঘন ছিল। এক ব্যক্তি বলল: তাঁর চেহারা মুবারক ছিল
তলোয়ারের মত? জাবির রা. বললেন: না, তাঁর চেহারা
মুবারক ছিল সূর্য ও চন্দ্রের মত (উজ্জ্বল)
গোলাকার।” [ মুসলিম, আস-সহীহ: ফাযায়েল / ২৯, হাদিস
নং- ২৩৪৪, ৪ / ১৮২৩]।
হাদিসে উল্লেখিত " ﺷَﻤِﻂَ " শব্দের অর্থ: মাথার শুভ্রতা,
যার সাথে কালো মিশ্রিত হয়। [কামূসুল মুহীত: মূলবর্ণ
(ﻂﻤﺷ), পৃ. ৮৭০]।
আর আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের মধ্যে
আছে:
‏« ﻛﺎﻥ ﻓﻲ ﺍﻟﻮﺟﻪ ﺗﺪﻭﻳﺮ ﺃﺑﻴﺾ ﻣﺸﺮﺏ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ‏) .
“তাঁর চেহারা ছিল গোলাকৃতির; তাঁর রং ছিল লোহিতাভাব
শুভ্র।” [তিরমিযী, আস-সুনান: মানাকিব / ৮, হাদিস
নং-৩৬৩৮, ৫ / ৫৯৯; তিনি বলেন: এই হাদিসটি হাসান ও
গরীব, তার সনদ মুত্তাসিল নয়]।
[11] হিন্দ ইবন আবি হালা রা. থেকে বর্ণিত হাদিসের
মধ্যে বর্ণিত হয়েছে, যখন তিনি হাসান ইবন আলী রা. কে
উদ্দেশ্য করে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের
গুণাবলী বর্ণনা করেন:
‏« ﻛﺚ ﺍﻟﻠﺤﻴﺔ , ﺳﻬﻞ ﺍﻟﺨﺪﻳﻦ ‏» .
“তাঁর দাঁড়ি ছিল ঘন, চিবুকদ্বয় ছিল সরল সাবলীল।”
[12] শু‘বা র. থেকে বর্ণিত, তিনি সিমাক ইবন হারব র.
থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি জাবির ইবন সামুরা
রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বলতে শুনেছি:
‏« ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺿَﻠِﻴﻊَ ﺍﻟْﻔَﻢِ , ﺃَﺷْﻜَﻞَ
ﺍﻟْﻌَﻴْﻦِ , ﻣَﻨْﻬُﻮﺱَ ﺍﻟْﻌَﻘِﺒَﻴْﻦِ . ﻗَﺎﻝَ : ﻗُﻠْﺖُ ﻟِﺴِﻤَﺎﻙٍ : ﻣَﺎ ﺿَﻠِﻴﻊُ
ﺍﻟْﻔَﻢِ ؟ :َﻝﺎَﻗ ﻋَﻈِﻴﻢُ ﺍﻟْﻔَﻢِ . : َﻝﺎَﻗ : ُﺖْﻠُﻗ ﻣَﺎ ﺃَﺷْﻜَﻞُ ﺍﻟْﻌَﻴْﻦِ ؟ :َﻝﺎَﻗ
ﻃَﻮِﻳﻞُ ﺷَﻖِّ ﺍﻟْﻌَﻴْﻦِ . :َﻝﺎَﻗ ﻗُﻠْﺖُ : ﻣَﺎ ﻣَﻨْﻬُﻮﺱُ ﺍﻟْﻌَﻘِﺐِ ؟ ﻗَﺎﻝَ :
ﻗَﻠِﻴﻞُ ﻟَﺤْﻢِ ﺍﻟْﻌَﻘِﺐِ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ
ﻣﺴﻠﻢ ‏) .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন
প্রশস্ত মুখ, টানাটানা চোখ এবং সুষম গোড়ালী বিশিষ্ট।
বর্ণনাকারী শু‘বা র. বলেন: আমি সিমাক র. কে জিজ্ঞাসা
করলাম: প্রশস্ত মুখ কেমন? তিনি বললেন: বড় মুখ। শু‘বা র.
বলেন: আমি বললাম: টানাটানা চোখ কেমন? তিনি বললেন:
চোখ দু’টো দীঘল দীর্ঘ ডাগর। শু‘বা র. বলেন: আমি বললাম:
সুষম গোড়ালী কেমন? তিনি বললেন: হালকা
গোড়ালী।” [ মুসলিম, আস-সহীহ: ফাযায়েল / ২৭, হাদিস
নং- ২৩৩৯, ৪ / ১৮২০; তিরমিযী, মানকিব / ১২, হাদিস
নং- ৩৬৪৭, ৫ / ৬০৩]।
তবে ﺃﺷﻜﻞ ﺍﻟﻌﻴﻦ (টানাটানা চোখ) এর ব্যাখ্যায় সিমাক
যা বলেছেন, কাযী ইয়াদ তার বিরোধিতা করেছেন, তিনি
বলেন, সিমাক এটা ভ্রমবশত বলেছে। এটা প্রকাশ্য ভুল।
সঠিক হচ্ছে, যাতে আলেমগণ একমত, এবং আবু উবায়েদ ও
অন্যান্য শব্দার্থবিদদের করা অর্থ, আর তা হচ্ছে, শুভ্র
সাদা চোখে লালের আভা থাকা। দেখুন, সহীহ মুসলিম,
ইমাম নাওয়াওয়ীর ব্যাখ্যাসহ, ১৫/৯৩।
আর জাবির ইবন সামুরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন:
‏« ﻛﺎﻥ ﻓﻲ ﺳﺎﻗﻲ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺣﻤﻮﺷﺔ
, ﻭﻛﺎﻥ ﻻ ﻳﻀﺤﻚ ﺇﻻ ﺗﺒﺴﻤﺎ , ﻭﻛﻨﺖ ﺇﺫﺍ ﻧﻈﺮﺕ ﺇﻟﻴﻪ ﻗﻠﺖ : ﺃﻛﺤﻞ
ﺍﻟﻌﻴﻨﻴﻦ ﻭﻟﻴﺲ ﺑﺄﻛﺤﻞ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ‏)
.
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কদম
মুবারকের গোছা (নলা) খানিকটা সরু গোছের ছিল; আর
তিনি মুচকি হাসি ছাড়া হাসতেন না; আর আমি
(বর্ণনাকারী) যখন তাঁর দিকে তাকাতাম, তখন আমি
বলতাম: তিনি চোখ দু’টিতে সুরমার লাগিয়েছেন। অথচ
তিনি (তখন) সুরমা লাগানো অবস্থায় ছিলেন
না।” [তিরমিযী, মানকিব / ১২, হাদিস নং- ৩৬৪৫, ৫ /
৬০৩ এবং তিনি বলেন: এই হাদিসটি হাসান, গরীব, অপর
এক দৃষ্টিতে সহীহ]।
আর উম্মু মা‘বাদের হাদিসের মধ্যে আছে: ‏« ﻓﻲ ﻋﻴﻨﻪ ﺩﻋﺞ
‏» (তাঁর চক্ষু গভীর কালো); অচিরেই এর তথ্যসূত্র ও
বিশুদ্ধতা নিয়ে কথা আসবে।
আর " ﺍﻟﺪﻋﺞ " শব্দের অর্থ: চোখ ও অন্যান্য বস্তুর মধ্যে
গভীর কালো। [ শরহুস সুন্নাহ ( ﺷﺮﺡ ﺍﻟﺴﻨﺔ ): ১৩ / ২৬৭ ]।
আর আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ‏«
ﺃﺩﻋﺞ ﺍﻟﻌﻴﻨﻴﻦ , ﺃﻫﺪﺏ ﺍﻷﺷﻔﺎﺭ ‏» (তিনি ছিলেন গভীর কালো
ডাগর চোখের অধিকারী; চোখের পাতার প্রান্তদেশের
সাথে লম্বা ভ্রূ’র অধিকারী)। [তিরমিযী, আশ-শামায়েলুল
মুহাম্মাদীয়া ( ﺍﻟﺸﻤﺎﺋﻞ ﺍﻟﻤﺤﻤﺪﻳﺔ ), পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্য
প্রসঙ্গে যেসব বর্ণনা এসেছে ( ﺑﺎﺏ ﻣﺎ ﺟﺎﺀ ﻓﻲ ﺧﻠﻖ ﺭﺳﻮﻝ
ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ
,)ﺳﻠﻢ হাদিস নং- ৬, পৃ. ২০ ]।
[13] উম্মু মা‘বাদের হাদিসের মধ্যে বর্ণিত হয়েছে: ‏«
ﺃﺯﺝُّ ﺃﻗﺮﻥُ ‏» (চিকন ও ধনুকাকৃতির ভ্রূ, দুই ভ্রূ পরস্পর
মিলিত); আর " ﺍﻟﻘﺮﻥ " শব্দের অর্থ: দুই ভ্রূ’র মিলন বা
সংযোগ।
আর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলী
বর্ণনায় তার বিপরীত বর্ণনা করেন হিন্দ ইবন আবি
হালা রা.:
‏« ﺃﺯﺝ , ﺐﺟﺍﻮﺤﻟﺍ ﺳﻮﺍﺑﻎ ﻓﻰ ﻏﻴﺮ ﻗﺮﻥ ‏» .
“তাঁর ভ্রূযুগল বিমুক্ত বৃত্তাংশের ন্যায় বাঁকা, খুব সূক্ষ্ম ঘন
চুল বিশিষ্ট ছিল।”
[14] বায়হাকী তাঁর ‘দালায়েলুন নবুয়াত’ ( ﺩﻻﺋﻞ ﺍﻟﻨﺒﻮﺓ )
নামক গ্রন্থের ২৪৮ পৃষ্ঠা’র মধ্যে বর্ণনা করেছেন।
বাল‘য়াদাবীয়া’র জনৈক ব্যক্তি তার দাদা থেকে বর্ণনা
করেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের
গুণাবলী বর্ণনা করেন, তিনি তাতে বলেন:
‏« ... ﻓﺈﺫﺍ ﺭﺟﻞ ﺣﺴﻦ ﺍﻟﺠﺴﻢ , ﻋﻈﻴﻢ ﺍﻟﺠﺒﻬﺔ , ﺩﻗﻴﻖ , ﻒﻧﻷﺍ
ﺩﻗﻴﻖ ﺍﻟﺤﺎﺟﺒﻴﻦ , ﻭﺇﺫﺍ ﻣﻦ ﻟﺪﻥ ﻧﺤﺮﻩ ﺇﻟﻰ ﺳﺮﺗﻪ ﻛﺎﻟﺨﻴﻂ
ﺍﻟﻤﻤﺪﻭﺩ ﺷﻌﺮﻩ ‏» .
“ ... হঠাৎ দেখি এক ব্যক্তি, যার সুদর্শন শরীর, বড় কপাল,
সরু নাক ও চিকন ভ্রূ; আরও দেখি তার বুকের উপরিভাগ
থেকে নাভি পর্যন্ত প্রসারিত রেখার মত তার চুল।”
[15] পূর্বোক্ত জাবির ইবন সামুরা রা. কর্তৃক বর্ণিত
হাদিসের মধ্যে আছে:
‏« ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺿَﻠِﻴﻊَ ﺍﻟْﻔَﻢِ ... ﻗَﺎﻝَ
: ﻗُﻠْﺖُ ﻟِﺴِﻤَﺎﻙٍ : ﻣَﺎ ﺿَﻠِﻴﻊُ ﺍﻟْﻔَﻢِ ؟ :َﻝﺎَﻗ ﻋَﻈِﻴﻢُ ﺍﻟْﻔَﻢِ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ
ﻣﺴﻠﻢ ‏).
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন
প্রশস্ত মুখের অধিকারী ... বর্ণনাকারী শু‘বা র. বলেন:
আমি সিমাক র. কে জিজ্ঞাসা করলাম: প্রশস্ত মুখ কেমন?
তিনি বললেন: বড় মুখ।” [ মুসলিম, আস-সহীহ: ফাযায়েল /
২৭, হাদিস নং- ২৩৩৯, ৪ / ১৮২০; তিরমিযী, মানকিব /
১২, হাদিস নং- ৩৬৪৭, ৫ / ৬০৩]।
তারা বলে: আরবগণ এর দ্বারা – অর্থাৎ ‘প্রশস্ত মুখ’ (ُﻊﻴِﻠَﺿ
)ﺍﻟْﻔَﻢِ দ্বারা প্রশংসা করে এবং ‘ক্ষুদ্রাকার মুখ’ (ﺮﻴﻐﺻ
)ﺍﻟﻔﻢ বলে নিন্দা করে। আর সা‘লাবা " ﺿَﻠِﻴﻊُ ﺍﻟْﻔَﻢِ " এর
ব্যাখ্যায় " ﻭﺍﺳﻊ ﺍﻟﻔﻢ " (প্রশস্ত মুখ) বলেছেন। আর
‘শামির’ [ইবন হামদুইয়াহ্] " ﺿَﻠِﻴﻊُ ﺍﻟْﻔَﻢِ " এর ব্যাখ্যায় "
ﻋﻈﻴﻢ ﺍﻷﺳﻨﺎﻥ " (বড় দাঁত) বলেছেন। [ইমাম নববীর
ব্যাখ্যাসহ ‘সহীহ মুসলিম’: ১৫ / ৯৩]।
সা‘ঈদ ইবনুল মুসায়্যিব র. থেকে বর্ণিত, তিনি আবূ
হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলী বর্ণনা করতে শুনেছেন,
তিনি বলেছেন:
‏« ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃﺳﻮﺩ ﺍﻟﻠﺤﻴﺔ , ﺣﺴﻦ
ﺍﻟﺜﻐﺮ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻲ ‏).
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন
কৃষ্ণ কালো দাঁড়ি ও সুন্দর মুখের অধিকারী।” [বায়হাকী,
দালায়েলুন নবুয়াত ( ﺩﻻﺋﻞ ﺍﻟﻨﺒﻮﺓ ): পৃ. ২১৭]। আর পূর্বোক্ত
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত হাদিসের
মধ্যে আছে: ‏« ﺃﻫﺪﺏ ﺍﻟﻌﻴﻨﻴﻦ , ﺣﺴﻦ ﺍﻟﻔﻢ ‏» . [ তিনি
ছিলেন লম্বা ভ্রূ বিশিষ্ট চোখ ও সুন্দর মুখের
অধিকারী ]।
[16] আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে
বর্ণিত, তিনি বলেন:
‏« ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺃَﻓْﻠَﺞَ ﺍﻟﺜَّﻨِﻴَّﺘَﻴْﻦِ , ﺇِﺫَﺍ
ﺗَﻜَﻠَّﻢَ ﺭُﺋِﻲَ ﻛَﺎﻟﻨُّﻮﺭِ ﻳَﺨْﺮُﺝُ ﻣِﻦْ ﺑَﻴْﻦِ ﺛَﻨَﺎﻳَﺎﻩُ ‏» .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন
(সামনে) প্রশস্ত দুই দাঁতের অধিকারী; যখন তিনি কথা
বলতেন, তখন তাঁর দাঁতের মধ্য থেকে জ্যোতি বের হতে
দেখা যায়।” [বাগবী, শরহুস সুন্নাহ ( ﺷﺮﺡ ﺍﻟﺴﻨﺔ ):
ফাদায়েল / সিফাতুন্নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লাম, হাদিস নং- ৩৬৪৪, ১৩ / ২২৩; যে পদ্ধতিতে
তিরমিযী র. ‘শামায়েল’ এর মধ্যে বর্ণনা করেছেন।
হাদীসে বর্ণিত, ﺃﻓﻠﺞ শব্দটি ﻓﻠﺞ থেকে উদ্ভূত। তার অর্থ,
দু’ পায়ের মধ্যে দুরত্ব থাকা, ও দু’ দাতের মধ্যে ফাঁক
থাকা, এটাকেই বলা হয়, ﺃﻓﻠﺞ ﺍﻷﺳﻨﺎﻥ আল-কামূসুল মুহীত, পৃ.
২৫৮।
[17] পূর্বোক্ত জাবির ইবন সামুরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু
থেকে বর্ণিত হাদিসের মধ্যে আছে:
‏« ﻛَﺎﻥَ ﻛﺜﻴﺮ ﺷﻌﺮ ﺍﻟﻠﺤﻴﺔ ‏» .
(তিনি ছিলেন অধিক চুল বিশিষ্ট ঘন দাঁড়ির অধিকারী)।
আর আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে
বর্ণিত হাদিসের মধ্যে আছে:
‏« ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻟﻴﺲ ﺑﺎﻟﻄﻮﻳﻞ ﻭﻻ
ﺑﺎﻟﻘﺼﻴﺮ ﺿﺨﻢ ﺍﻟﺮﺃﺱ ... ﺔﻴﺤﻠﻟﺍﻭ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺃﺣﻤﺪ ‏) .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম লম্বাও
ছিলেন না, আবার বেঁটেও ছিলেন না (তিনি মধ্যম আকৃতির
ছিলেন); আর তিনি ছিলেন বড় মাথা ও দাঁড়ির
অধিকারী।” [ ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ: ১ / ৯৬; হাকেম,
আল-মুসতাদরাক: ২ / ৬০৬]।
আর উম্মু মা‘বাদের হাদিসের মধ্যে আছে: ‏« ﻭ ﻓﻲ ﻟﺤﻴﺘﻪ
ﻛﺜﺎﺛﺔ ‏» (তাঁর দাঁড়ির মধ্যে ঘনত্ব রয়েছে)।
আর পূর্বোক্ত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুক কর্তৃক
বর্ণিত হাদিসের মধ্যে রয়েছে:
‏« ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃﺳﻮﺩ ﺍﻟﻠﺤﻴﺔ ‏» .
‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻲ ‏).
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন
কৃষ্ণ কালো দাঁড়ির অধিকারী।” [ বায়হাকী, দালায়েলুন
নবুয়াত ( ﺩﻻﺋﻞ ﺍﻟﻨﺒﻮﺓ ): পৃ. ২১৭]।
[18] আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন:
‏« ﻛﺎﻥ ﺭﺑﻌﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﻘﻮﻡ ﻟﻴﺲ ﺑﺎﻟﻄﻮﻳﻞ ﻭﻻ ﺑﺎﻟﻘﺼﻴﺮ , ﺃﺯﻫﺮ ﺍﻟﻠﻮﻥ
ﻟﻴﺲ ﺑﺄﺑﻴﺾ ﺃﻣﻬﻖ ﻭﻻ ﺁﺩﻡ , ﻟﻴﺲ ﺑﺠﻌﺪ ﻗﻄﻂ ﻭﻻ , ﻂﺒﺳ ﺭﺟﻞ
ﺃﻧﺰﻝ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﻫﻮ ﺍﺑﻦ , ﻦﻴﻌﺑﺭﺃ ﻓﻠﺒﺚ ﺑﻤﻜﺔ ﻋﺸﺮ ﺳﻨﻴﻦ ﻳﻨﺰﻝ , ﻪﻴﻠﻋ
ﻭﺑﺎﻟﻤﺪﻳﻨﺔ ﻋﺸﺮ ﺳﻨﻴﻦ , ﻭﻗﺒﺾ ﻭﻟﻴﺲ ﻓﻲ ﺭﺃﺳﻪ ﻭﻟﺤﻴﺘﻪ
ﻋﺸﺮﻭﻥ ﺷﻌﺮﺓ ﺑﻴﻀﺎﺀ . ﻗﺎﻝ ﺭﺑﻴﻌﺔ ﻓﺮﺃﻳﺖ ﺷﻌﺮﺍ ﻣﻦ ﺷﻌﺮﻩ ﻓﺈﺫﺍ
ﻫﻮ ﺃﺣﻤﺮ , ﻓﺴﺄﻟﺖ :ﻞﻴﻘﻓ ﺍﺣﻤﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﻄﻴﺐ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ
ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏).
“তিনি ছিলেন সম্প্রদায়ের মধ্যে মধ্যম আকৃতির মানুষ;
তিনি বেশি লম্বাও ছিলেন না, আবার বেঁটেও ছিলেন না;
তিনি ছিলেন ফর্সা উজ্জ্বল বর্ণের; তিনি ধবধবে সাদা
ছিলেন না, ছিলেন না খুব ধূসর বর্ণ। তাঁর চুল অতিরিক্ত
কোঁকড়ানো ছিল না, আবার একেবারে সোজাও ছিল না। বরং
কিছুটা কোকড়ানো। চল্লিশ বছর বয়সে তাঁর উপর ওহী
নাযিল হয়, অতঃপর তিনি ওহী নাযিল অবস্থায় মক্কাতে
দশ বছর এবং মদীনাতে দশ বছর অবস্থান করেন; আর তাঁর
ইন্তিকাল হয় এমন অবস্থায় যে, তাঁর মাথায় ও দাঁড়িতে
বিশটি চুলও সাদা ছিল না। রবী‘আহ্ রা. বলেন: অতঃপর
আমি তাঁর চুলের মধ্য থেকে একটি লাল চুল দেখতে পেলাম,
তারপর তাঁকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, অতঃপর
জবাবে বলা হল: সুগন্ধি ব্যবহারের কারণে তা লাল
হয়েছে।” [ বুখারী, আস-সহীহ: মানাকিব / ২৩, ৪ /১৬৪]।
আর ইমাম মুসলিম র. এর এক বর্ণনায় আছে, তিনি (আনাস
ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) বলেন:
‏« ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﺨْﺘَﻀِﺐْ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻛَﺎﻥَ
ﺍﻟْﺒَﻴَﺎﺽُ ﻓِﻰ ﻋَﻨْﻔَﻘَﺘِﻪِ , ﻭَﻓِﻰ ﺍﻟﺼُّﺪْﻏَﻴْﻦِ , ﻭَﻓِﻰ ﺍﻟﺮَّﺃْﺱِ ﻧَﺒْﺬٌ ‏» .
‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ ‏).
“আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কলপ
দেননি। কিছু সাদা ছিল তাঁর নিম্ন ঠোঁটের নীচের ছোট
দাঁড়িতে, আর কিছু ছিল কানপট্টিতে এবং মাথার মধ্যে
ছিল কিছু।” [ মুসলিম, আস-সহীহ: ফাযায়েল / ২৯, হাদিস
নং- ২৩৪১, ৪ / ১৮২১]।
[19] আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন:
‏« ﻛﺎﻥ ﻳﻀﺮﺏ ﺷﻌﺮ ﺭﺃﺱ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻣﻨﻜﺒﻴﻪ
‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﻭ ﻣﺴﻠﻢ‏)
“নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাথার চুল দুই
কাঁধের মাঝামাঝি ঝুলে থাকত।” [ বুখারী, আস-সহীহ:
লিবাস (পোষাক-পরিচ্ছদ) / ৬৮, ৭ / ৫৮; মুসলিম, আস-সহীহ:
ফাযায়েল / ২৬, হাদিস নং- ২৩৩৮, ৪ / ১৮১৯]।
আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন:
‏« ﻛَﺎﻥَ ﺷَﻌَﺮُ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺇِﻟَﻰ ﺃَﻧْﺼَﺎﻑِ
ﺃُﺫُﻧَﻴْﻪِ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ ‏) .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কেশ
মুবারক কানের অর্ধেক পর্যন্ত ঝুলানো ছিল।” [মুসলিম, আস-
সহীহ: ফাযায়েল / ২৬, হাদিস নং- ২৩৩৯, ৪ / ১৮১৯]।
বারা ইবন ‘আযেব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন:
‏« ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻣﺮﺑﻮﻋﺎ , ﺑﻌﻴﺪ ﻣﺎ ﺑﻴﻦ
ﺍﻟﻤﻨﻜﺒﻴﻦ ﻟﻪ ﺷﻌﺮ ﻳﺒﻠﻎ ﺷﺤﻤﺔ ﺃﺫﻧﻴﻪ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏) .
“নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মধ্যম
আকৃতির পুরুষ; তাঁর উভয় কাঁধের দূরত্ব ছিল অল্প বেশি; তাঁর
মাথার চুল দুই কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছাতো।” [বুখারী, আস-
সহীহ: মানাকিব / ২৩, ৪ /১৬৫]।
আনাস রা. এর কথা- “তাঁর চুল দুই কানের লতি পর্যন্ত
পৌঁছত” এবং তাঁর কথা “চুল দুই কাঁধের মাঝামাঝি ঝুলে
থাকত” পরস্পর বিপরীত ও বিরোধপূর্ণ এবং তার জবাবে
বলা হয়, তাঁর অধিকাংশ চুল ছিল তাঁর কানের লতি পর্যন্ত
বিস্তৃত, আর তার থেকে যা প্রলম্বিত হয়, তা কাঁধ পর্যন্ত
সংযুক্ত; অথবা তা দুই অবস্থাকেই শামিল করে। [ ফতহুল
বারী: ৬ / ৫৭৩ ]।
[20] আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে
বর্ণিত, তিনি বলেন:
‏« ﻛَﺎﻥَ ﺃَﻫْﻞُ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﻳَﺴْﺪُﻟُﻮﻥَ ﺃَﺷْﻌَﺎﺭَﻫُﻢْ , ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺍﻟْﻤُﺸْﺮِﻛُﻮﻥَ
ﻳَﻔْﺮُﻗُﻮﻥَ ﺭُﺀُﻭﺳَﻬُﻢْ , ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ
ﻳُﺤِﺐُّ ﻣُﻮَﺍﻓَﻘَﺔَ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﻓِﻴﻤَﺎ ﻟَﻢْ ﻳُﺆْﻣَﺮْ ﺑِﻪِ , ﻓَﺴَﺪَﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ , ُﻪَﺘَﻴِﺻﺎَﻧ ﺛُﻢَّ ﻓَﺮَﻕَ ﺑَﻌْﺪُ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ
ﻣﺴﻠﻢ ‏).
“আহলে কিতাবরা তাদের কেশ ঝুলিয়ে রাখত, আর মুশরিকরা
সিঁথি কাটত। যে বিষযে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লামের প্রতি কোনো আদেশ আসতো না, সে বিষয়ে
তিনি আহলে কিতাবদের অনুসরণ করা পছন্দ করতেন; তাই
তিনি তাঁর কেশ মুবারক ঝুলিয়ে রাখেন; কিন্তু পরবর্তী
সময় তিনি সিঁথি কাটতেন।” [মুসলিম, আস-সহীহ:
ফাযায়েল / ২৪, হাদিস নং- ২৩৩৬, ৪ / ১৮১৭ – ১৮১৮ ]।
কাযী ‘আইয়ায বলেন: " ﺳﺪﻝ ﺍﻟﺸﻌﺮ " অর্থ হল: চুল ঝুলিয়ে
দেওয়া; তিনি বলেন: আলেমগণের মতে এখানে এর দ্বারা
উদ্দেশ্য হল, কপালের উপর চুল ঝুলিয়ে দেওয়া এবং তাকে
কপালের চুলের মত করে রেখে দেওয়া; বলা হয়:
" ﺳﺪﻝ ﺷﻌﺮﻩ ﻭ ﺛﻮﺑﻪ ﺇﺫﺍ ﺃﺭﺳﻠﻪ ﻭ ﻟﻢ ﻳﻀﻢ " ﻪﺒﻧﺍﻮﺟ (তার চুল
ও কাপড় ঝুলে গেছে, যখন সে তা ঝুলিয়ে দিয়েছে এবং তার
প্রান্তসমূহ মিলিয়ে রাখে নি)। আর ﻓَﺮﻕ মানে হল: চুলের
এক অংশকে অপর অংশ থেকে পৃথক করা, অর্থাৎ সিঁথি কাটা;
আলেমগণ বলেন: সিঁথি কাটা সুন্নাত, কেননা নবী
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকেই
প্রত্যাবর্তন করেছেন; তারা বলেন: পরিষ্কার কথা হল,
তিনি ওহীর কারণেই তার (সিঁথি কাটার) দিকে
প্রত্যাবর্তন করেছেন; এর দলিল হল তাঁর ( ইবনু ‘আব্বাস রা
এর) কথা: ‏« ﺃﻧﻪ ﻛَﺎﻥَ ﻳﻮﺍﻓﻖ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﻓِﻴﻤَﺎ ﻟَﻢْ ﻳُﺆْﻣَﺮْ ﺑِﻪِ ‏» .
[তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন
বিষয়ে আহলে কিতাবদের অনুসরণ করতেন, যে বিষয়ে তাঁর
প্রতি কোন আদেশ আসতো না]।
[21] আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন:
‏« ﻣﻦ ﺭﺁﻧﻲ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﻨﺎﻡ ﻓﻘﺪ ﺭﺁﻧﻲ , ﻓﺈﻥ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ ﻻ ﻳﺘﺨﻴﻞ
ﺑﻲ , ﻭﺭﺅﻳﺎ ﺍﻟﻤﺆﻣﻦ ﺟﺰﺀ ﻣﻦ ﺳﺘﺔ ﻭﺃﺭﺑﻌﻴﻦ ﺟﺰﺀﺍ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺒﻮﺓ ‏» .
‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ‏) .
“যে আমাকে স্বপ্নযোগে দেখল, সে আমাকেই দেখল। কারণ,
শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারে না। আর মুমিনের
স্বপ্ন নবুয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।” [ বুখারী, আস-
সহীহ: তা‘বীর (স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রদান) / ১০, ৮ / ৭১ –
৭২]।
[22] মুসলিম, আস-সহীহ: ফাযায়েল / ১৪, হাদিস নং- ২৩১২,
৪ / ১৮০৬
[23] মুসলিম, আস-সহীহ: ফাযায়েল / ১৪, হাদিস নং- ২৩১১,
৪ / ১৮০৫
[24] বাগবী, শরহুস সুন্নাহ ( ﺷﺮﺡ ﺍﻟﺴﻨﺔ ): ফাদায়েল / নবী
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দানশীলতা(ﻩﺩﻮﺟ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ), হাদিস নং- ৩৬৮৯, ১৩ / ২৫২, আর
তিনি বলেছেন: এই হাদিসটি সহীহ; আর ইমাম নাসায়ী র.
তাঁর ‘আস-সুনান’ গ্রন্থে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন: হিবা / ১,
৬ / ২৬৩ – ২৬৪।
ﺍﻟﻌﻀﺎﻩ : ছোট কাঁটাযুক্ত বৃক্ষ বিশেষ, যা শক্ত এবং
যমীনের মধ্যে বিদ্যমান থাকে। - [আল-কামূসুল মুহীত, মূল
অক্ষর ( ﻋﻀﺾ ), পৃ. ৮৩৫; আর ইমাম নাসায়ী র. এর বর্ণনার
মধ্যে এসেছে: ‏« ﻟﻮ ﺃﻥ ﻟﻜﻢ ﺷﺠﺮ ﺗﻬﺎﻣﺔ ﻧﻌﻤﺎ ... ‏» . [ যদি
তোমাদের জন্য মক্কা নগরীর গাছপালার সংখ্যা পরিমাণ
উট অর্জিত হত ...]।
[25] ‘উরওয়া র. থেকে বর্ণিত, তিনি ‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু
‘আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলতেন:
‏«ﻭَﺍﻟﻠَّﻪِ ﻳَﺎ ﺍﺑْﻦَ ﺃُﺧْﺘِﻰ , ﺇِﻥْ ﻛُﻨَّﺎ ﻟَﻨَﻨْﻈُﺮُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﻬِﻼَﻝِ ﺛُﻢَّ ﺍﻟْﻬِﻼَﻝِ ﺛُﻢَّ
ﺍﻟْﻬِﻼَﻝِ , ﺛَﻼَﺛَﺔَ ﺃَﻫِﻠَّﺔٍ ﻓِﻰ ﺷَﻬْﺮَﻳْﻦِ ﻭَﻣَﺎ ﺃُﻭﻗِﺪَ ﻓِﻰ ﺃَﺑْﻴَﺎﺕِ ﺭَﺳُﻮﻝِ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻧَﺎﺭٌ , ﻗَﺎﻝَ : ﻗُﻠْﺖُ : ﻳَﺎ ﺧَﺎﻟَﺔُ ﻓَﻤَﺎ ﻛَﺎﻥَ
ﻳُﻌَﻴِّﺸُﻜُﻢْ ؟ ﻗَﺎﻟَﺖِ : ﺍﻷَﺳْﻮَﺩَﺍﻥِ ﺍﻟﺘَّﻤْﺮُ ﻭَﺍﻟْﻤَﺎﺀُ , ﺇِﻻَّ ﺃَﻧَّﻪُ ﻗَﺪْ ﻛَﺎﻥَ
ﻟِﺮَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺟِﻴﺮَﺍﻥٌ ﻣِﻦَ ﺍﻷَﻧْﺼَﺎﺭِ , ﻭَﻛَﺎﻧَﺖْ
ﻟَﻬُﻢْ ﻣَﻨَﺎﺋِﺢُ , ﻓَﻜَﺎﻧُﻮﺍ ﻳُﺮْﺳِﻠُﻮﻥَ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ ﻣِﻦْ ﺃَﻟْﺒَﺎﻧِﻬَﺎ ﻓَﻴَﺴْﻘِﻴﻨَﺎﻩُ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ ‏) .
“আল্লাহর কসম! হে আমার বোনের ছেলে! আমরা (মাসের)
নতুন চাঁদ দেখতাম, অতঃপর আবার নতুন চাঁদ দেখতাম,
তারপর আবার নতুন চাঁদ দেখতাম; অর্থাৎ দুই মাসে তিনটি
নতুন চাঁদ দেখতাম। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো ঘরেই আগুন জ্বালানো হতো
না। তিনি (‘উরওয়া র.) বলেন: আমি জিজ্ঞাসা করলাম: হে
খালা! আপনারা তা হলে কিভাবে বেঁচে থাকতেন? তিনি
বললেন: দু’টি কালো জিনিস: খেজুর ও পানি; তবে কয়েক ঘর
আনসার পরিবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লামের প্রতিবেশী ছিল; তাঁদের কিছু দুধালো
উটনী ও বকরী ছিল। তাঁরা হাদিয়া হিসাবে রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য দুধ পাঠাতেন;
আর তিনি আমাদেরকে তা পান করতে দিতেন। - [মুসলিম,
আস-সহীহ: যুহুদ, হাদিস নং- ২৯৭২, ৪ / ২২৮৩ ]
[26] বুখারী, আস-সহীহ: আদব / ৩৯, ৭ / ৮২
[27] মুসলিম, আস-সহীহ: জিহাদ / ২৮, হাদিস নং- ১৭৭৫,
৩ / ১৩৯৮ এবং তাতে আছে:
‏« ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ‏« ﺃَﻯْ ﻋَﺒَّﺎﺱُ ﻧَﺎﺩِ
ﺃَﺻْﺤَﺎﺏَ ﺍﻟﺴَّﻤُﺮَﺓِ ‏» . [তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বললেন: হে আব্বাস! আসহাবে সমুরাকে
(গাছের নিছে বাই‘আতকারি সাহাবীদের) আহ্বান কর]।
আর তাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই
কথাটি বর্ণিত নেই: ‏« ﺃﻧﺎ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﻻ ﻛﺬﺏ ﺃﻧﺎ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻤﻄﻠﺐ
‏» [আমি যে নবী তা তো নয় মিথ্যা, আমি হলাম আবদুল
মুত্তালিবের বেটা।]। আর বারা রা. এর বর্ণনার মধ্যে তা
বর্ণিত হয়েছে; তাতে আছে:
‏« ... ﻓَﺄَﻗْﺒَﻠُﻮﺍ ﻫُﻨَﺎﻙَ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ , ﻢﻠﺳﻭ
ﻭَﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻋَﻠَﻰ ﺑَﻐْﻠَﺘِﻪِ ﺍﻟْﺒَﻴْﻀَﺎﺀِ ﻭَﺃَﺑُﻮ
ﺳُﻔْﻴَﺎﻥَ ﺑْﻦُ ﺍﻟْﺤَﺎﺭِﺙِ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟْﻤُﻄَّﻠِﺐِ ﻳَﻘُﻮﺩُ ﺑِﻪِ ﻓَﻨَﺰَﻝَ ﻓَﺎﺳْﺘَﻨْﺼَﺮَ
ﻭَﻗَﺎﻝَ : ‏« ﺃَﻧَﺎ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰُّ ﻻَ ﻛَﺬِﺏْ ﺃَﻧَﺎ ﺍﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟْﻤُﻄَّﻠِﺐْ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ
ﻣﺴﻠﻢ ‏) .
“... তখন তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লামের দিকে এগিয়ে এলেন, আর রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে সময় তাঁর সাদা
খচ্চরের উপর ছিলেন; আর আবূ সুফিয়ান ইবন আবদিল
মুত্তালিব রা. একে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। অতঃপর তিনি
অবতরণ করলেন এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলেন। আর
তিনি বললেন: “আমি অবশ্যই নবী, এ কথা মিথ্যা নয়; আমি
ইবন আবদিল মুত্তালিব।” - [মুসলিম, আস-সহীহ: জিহাদ /
২৮, হাদিস নং- ১৭৭৬, ৩ / ১৪০০]।
[28] বাগবী, শরহুস সুন্নাহ ( ﺷﺮﺡ ﺍﻟﺴﻨﺔ ): ফাদায়েল / নবী
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বীরত্ব (ﻪﺘﻋﺎﺠﺷ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ), হাদিস নং- ৩৬৯৮, ১৩ / ২৫৭
-২৫৮।
ইমাম মুসলিম র. বর্ণনা করেছেন, বারা রাদিয়াল্লাহু
‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
‏« ﻛُﻨَّﺎ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﺫَﺍ ﺍﺣْﻤَﺮَّ ﺍﻟْﺒَﺄْﺱُ ﻧَﺘَّﻘِﻰ ﺑِﻪِ , ﻭَﺇِﻥَّ ﺍﻟﺸُّﺠَﺎﻉَ ﻣِﻨَّﺎ ﻟَﻠَّﺬِﻯ
ﻳُﺤَﺎﺫِﻯ .ِﻪِﺑ ﻳَﻌْﻨِﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ
ﻣﺴﻠﻢ ‏) .
“আল্লাহর কসম! যুদ্ধের উত্তেজনা যখন ঘোরতর হয়ে উঠত,
তখন আমরা তাঁর মাধ্যমে আত্মরক্ষা করতাম। নিশ্চয়ই
আমাদের মাঝে বীরপুরুষ তিনিই, যে যুদ্ধে তাঁর বরাবর
থাকে, অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
(রাসূলের বরাবর কেউ দাঁড়ালে সে সাহসী হতো ও তার
বীরত্ব প্রকাশ পেত)।” [মুসলিম, আস-সহীহ: জিহাদ / ২৮,
হাদিস নং- ১৭৭৬, ৩ / ১৪০১]।
[29] মুসলিম, আস-সহীহ: ফাদায়েল / ১১, হাদিস নং- ২৩০৭,
৪ / ১৮০২ - ১৮০৩; আর এটা হল নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লামের মহা বীরত্ব ও আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ
ভরসার চূড়ান্ত প্রমাণ।
[30] আবদুল্লাহ ইবন ‘আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে
বর্ণিত, তিনি বলেন:
‏« ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻓﺎﺣﺸﺎ ﻭﻻ , ﺎﺸﺤﻔﺘﻣ
ﻭﻛﺎﻥ ﻳﻘﻮﻝ : ‏« ﺇﻥ ﻣﻦ ﺧﻴﺎﺭﻛﻢ ﺃﺣﺴﻨﻜﻢ ﺃﺧﻼﻗﺎ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ
ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏) .
“নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অশ্লীলভাষী
ছিলেন না এবং অশ্লীল কথা কষ্ট করেও বলতে পারতেন না;
তিনি বলতেন: “তোমাদের মধ্যে উত্তম সে ব্যক্তি, যার
চরিত্র ভাল।”[বুখারী, আস-সহীহ: মানকিব / ২৩, ৪ /
১৬৬]।
[31] মুসলিম, আস-সহীহ: ফাদায়েল / ১৩, হাদিস নং- ২৩০৯,
৪ / ১৮০৪.
[32] আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি
বলেন:
‏« ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺇﻧﻚ ﺗﺪﺍﻋﺒﻨﺎ , : ﻝﺎﻗ ﺇﻧﻲ ﻻ ﺃﻗﻮﻝ ﺇﻻ ﺣﻘﺎ
‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ‏) .
“তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের সাথে
রসিকতা করেন! তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আমি সত্য কথাই
বলি।” - [তিরমিযী, আস-সুনান: আল-বির্রু ( ﺍﻟﺒﺮ ) / ৫৭,
হাদিস নং- ১৯৯০, ৫ / ৩৭৫; আর তিনি বলেন: এই হাদিসটি
হাসান, সহীহ]।
আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন:
‏« ﺇﻥ ﺭﺟﻼ ﺍﺳﺘﺤﻤﻞ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ , ﻓﻘﺎﻝ
: ﺇﻧﻲ ﺣﺎﻣﻠﻚ ﻋﻠﻰ ﻭﻟﺪ ﺍﻟﻨﺎﻗﺔ , ﻓﻘﺎﻝ : ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ! ﻣﺎ
ﺃﺻﻨﻊ ﺑﻮﻟﺪ ﺍﻟﻨﺎﻗﺔ ؟ ﻓﻘﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ : ﻢﻠﺳ
ﻭﻫﻞ ﺗﻠﺪ ﺍﻹﺑﻞ ﺇﻻ ﺍﻟﻨﻮﻕ ؟ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ‏) .
“এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়াসাল্লামের কাছে বাহন চাইলে তিনি তাকে বললেন:
আমি তোমাকে বাহন হিসেবে একটি উটনীর বাচ্চা দিব; এ
কথা শুনে সে বলল: আমি উটনীর বাচ্চা দিয়ে কী করব?
জবাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বললেন: উটগুলো কি বাচ্চাই প্রসব করে না?” - [তিরমিযী,
আস-সুনান: আল-বির্রু ( ﺍﻟﺒﺮ ) / ৫৭, হাদিস নং- ১৯৯১, ৫ /
৩৭৫; আর তিনি বলেন: এই হাদিসটি সহীহ, গরীব]।
[33] আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন:
‏« ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻟﻴﺨﺎﻟﻄﻨﺎ ﺣﺘﻰ  ﺇﻥ
ﻛﺎﻥ ﻟﻴﻘﻮﻝ ﻷﺥ ﻟﻲ ﺻﻐﻴﺮ : ﻳﺎ ﺃﺑﺎ ﻋﻤﻴﺮ ﻣﺎ ﻓﻌﻞ ﺍﻟﻨﻐﻴﺮ ؟ ‏» .
‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ‏) .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের
সাথে মিশতেন, এমনকি তিনি আমার ছোট ভাইকে বলতেন:
হে আবূ ‘উমাইর! তোমার ‘নুগাইর’ (ছোট পাখি) কী করে?” -
[তিরমিযী, আস-সুনান: আল-বির্রু ( ﺍﻟﺒﺮ ) / ৫৭, হাদিস নং-
১৯৮৯, ৪ / ৩৫৭]।
[34] আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন:
‏« ﺭَﺃَﻳْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻳَﺮْﻛَﺐُ ﺍﻟْﺤِﻤَﺎﺭَ ﺍﻟْﻌُﺮْﻱَ ،
ﻭَﻳُﺠِﻴﺐُ ﺩَﻋْﻮَﺓَ ﺍﻟْﻤَﻤْﻠُﻮﻙِ، ﻭَﻳَﻨَﺎﻡُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻷَﺭْﺽِ ، ﻭَﻳَﺠْﻠِﺲُ ﻋَﻠَﻰ
ﺍﻷَﺭْﺽِ ، ﻭَﻳَﺄْﻛُﻞُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻷَﺭْﺽِ ، : ُﻝﻮُﻘَﻳَﻭ ﻟَﻮْ ﺩُﻋِﻴﺖُ ﺇِﻟَﻰ ﻛُﺮَﺍﻉٍ ﺟِﺌْﺖُ ،
ﻭَﻟَﻮْ ﺃُﻫْﺪِﻱَ ﺇِﻟَﻲَّ ﺫِﺭَﺍﻉٌ ﻟَﻘَﺒِﻠْﺖُ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﻐﻮﻱ ‏) .
“আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে
গদীবিহীন গাধার উপর আরোহন করতে দেখেছি; দেখেছি
ক্রীতদাসের আহ্বানে সাড়া দিতে; আরও দেখেছি মাটিতে
ঘুমাতে, মাটির উপর বসতে এবং মাটিতে বসে খাওয়া-
দাওয়া করতে; আর তিনি বলতেন: যদি আমাকে গরু-ছাগলের
খুর আহারের জন্য দাওয়াত দেয়া হয়, তাহলেও আমি আসব;
আর যদি (গরু-ছাগলের) একটি বাহু আমার নিকট উপহার
(হাদিয়া) হিসেবে পাঠানো হয়, তাহলে আমি তা গ্রহণ
করব।” - [বাগবী, শরহুস সুন্নাহ ( ﺷﺮﺡ ﺍﻟﺴﻨﺔ ): ফাদায়েল /
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নম্রতা
( ﺗﻮﺍﺿﻌﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ), হাদিস নং- ৩৬৭৪, ১৩ /
২৪২.]।
[35] আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন:
‏« ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻳﻌﻮﺩ ﺍﻟﻤﺮﻳﺾ ,
ﻭﻳﺸﻬﺪ ﺍﻟﺠﻨﺎﺯﺓ , ﻭﻳﺮﻛﺐ ﺍﻟﺤﻤﺎﺭ , ﻭﻳﺠﻴﺐ ﺩﻋﻮﺓ ﺍﻟﻌﺒﺪ ‏» .
‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ‏) .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোগীর
সেবা করতেন, জানাযার নামাযে শরীক হতেন, গাধায়
আরোহন করতেন এবং গোলামের দাওয়াত গ্রহণ করতেন।” -
[তিরমিযী, আস-সুনান: জানায়েয / ৩২, হাদিস নং- ১০১৭,
৩ / ৩২৮; আর তিনি বলেন: এই হাদিসটি আনাস রা. থেকে
মুসলিম— এই সনদে ব্যতীত অন্য কোন সনদে বর্ণিত হয়েছে
বলে আমরা জানি না; আর কানা মুসলিম, সে হল মুসলিম ইবন
কাইসান, যার ব্যাপারে কথা রয়েছে]।
[36] আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন:
‏« ﻣﺎ ﺻﻠﻴﺖ ﻭﺭﺍﺀ ﺇﻣﺎﻡ ﻗﻂ ﺃﺧﻒ ﺻﻼﺓ , ﻭﻻ ﺃﺗﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ
ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻭﺇﻥ ﻛﺎﻥ ﻟﻴﺴﻤﻊ ﺑﻜﺎﺀ ﺍﻟﺼﺒﻲ ﻓﻴﺨﻔﻒ
ﻣﺨﺎﻓﺔ ﺃﻥ ﺗﻔﺘﻦ ﺃﻣﻪ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏) .
“আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে
সংক্ষিপ্ত এবং পূর্ণাঙ্গ সালাত আর কোনো ইমামের পিছনে
কখনও পড়ি নি; আর তা এ জন্য যে, তিনি শিশুর কান্না
শুনতে পেতেন এবং তার মায়ের ফিতনায় পড়ার আশঙ্কায়
সংক্ষেপ করতেন।” - [বুখারী, আস-সহীহ: আযান / ৬৫, ১ /
১৭৩]।
[37] মুসলিম, আস-সহীহ: মাসাজিদ / ৯, হাদিস নং- ৫৪৩,
১ / ৩৮৫
[38] তিরমিযী, আস-সুনান: মানাকিব / ৩১, হাদিস নং-
৩৭৭৪, ৫ / ৬৫৮; আর তিনি বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান,
গরীব।
[39] তিরমিযী, আস-সুনান: শামাইলে মুহাম্মদ, পরিচ্ছেদ:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র
মাধুর্যের বিবরণ, হাদিস নং- ৩২৪, পৃ. ১৯৮ – ২০০;
বাগবী, শরহুস সুন্নাহ: ফাদায়েল / পরিচ্ছেদ: নবী
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমগ্রীক গুণাবলী
( ﺑﺎﺏ ﺟﺎﻣﻊ ﺻﻔﺎﺗﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ), হাদিস নং-
৩৭০৪, ১৩ / ৩৭০ - ৩৭৫, ইমাম তিরমিযীর সনদ অনুযায়ী;
বায়হাকী, আদ-দালায়েল ( ﺍﻟﺪﻻﺋﻞ ): পৃ. ২৮৫ - ২৮৯; এই
হাদিসটি একটি দীর্ঘ হাদিসের অংশবিশেষ, হিন্দ ইবন
আবি হালা রা. হাসান রা. কে জিজ্ঞাসা করেন, আর তিনি
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণ ও
চরিত্রের বর্ণনাকারী, এই হাদিসটি দুর্বল, কেননা তার
সনদে সুফিয়ান ইবন ওকী‘ নামে একজন দুর্বল বর্ণনাকারী
রয়েছে, অনুরূপভাবে তাতে জামী’ ইবন ‘উমায়ের নামে
একজন দুর্বল বর্ণনাকারী আছে, আর তাতে বনী তামীম
গোত্রের একজন অপরিচিত ব্যক্তি রয়েছে; তবে মতন তথা
মূল বক্তব্যের সমর্থনে সহীহ বর্ণনা রয়েছে।
[40] ইমাম আহমদ, মুসনাদ: ৩ / ১৩৯ - ১৪০
___________________________________________________________
______________________
সংকলন : শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-উসাইমীন রহ.
তাখরীজ ও বর্ধিত কলেবর করেছেন, ড. আহমাদ মু‘আয
হাক্কী
অনুবাদক : মোঃ আমিনুল ইসলাম
সম্পাদনা : ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
সূত্র : ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ, সৌদিআরব
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলী
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলী

Price : *Happy Shopping
Order via whatsapp Order via Email

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আজকের আইডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Content copy is disabled! Default text copied.